সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) বলেছেন, ‘এই সরকার জনগণের জবাবদিহিমূলক সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলছে।’ সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে জনগণকে মুক্তচিন্তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সরকার কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
শনিবার বিকেলে লালমনিরহাট রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএম কাদের এ অভিযোগ করেন।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘দেশের মালিক জনগণ। অথচ সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে দেশের মালিক জনগণকে মুক্তচিন্তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এভাবে বর্তমান সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে এবং গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। এই সরকার জনগণের জবাবদিহিমূলক সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলছে। ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের সরকারের আজ্ঞাবহ থাকতে বাধ্য করবে। এ আইনের মাধ্যমে সব টিভি চ্যানেল শুধু ডকুমেন্টারি প্রচার করবে, তাছাড়া কিছু করতে পারবে না। এ আইন জনগণের জন্য ক্ষতিকর একটি আইন।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে জিএম কাদের বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। এককভাবে নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য দুর্নীতিমুক্ত ভালো প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। আপনারা জনগণের কাছে গিয়ে জাতীয় পার্টির উন্নয়নের কথা বলুন। জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯০ সালের পর থেকে যখনই যে ক্ষমতায় গেছে, জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার ষড়ন্ত্র করেছে। এই সরকারও জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু কেউই জনগণের হৃদয় থেকে জাতীয় পার্টিকে, লাঙ্গল প্রতীককে মুছে দিতে পারেনি। বরং আজকে সেই লাঙ্গল প্রতীক, জাতীয় পার্টি উজ্জীবিত হয়েছে, শক্তিশালী হয়েছে।’
জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে দুইভাগে বিভক্ত করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বৈষম্যের শিকার। দেশের মানুষ সরকারবান্ধব নয়। কৃষক, শ্রমিকবান্ধবও নয়।’
‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে’
লালমনিরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এই টাকার হিসাব দিতে হবে।’
বিএনপির এক দফা আন্দোলন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা কেমন আছেন আমরা জানি। এই বিএনপির আমলে বিদ্যুতের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে গুলিতে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির সরকার দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তারেক রহমান হাওয়া ভবন খুলে দেশে লুটপাট ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিল।’
সম্প্রতি ডিএমপির এডিসি ও রাষ্ট্রপতির এপিএস কাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির একদফা মানে তারেক রহমানকে মুক্ত করা। এইটা এ দেশের মানুষ চায় না। আর বিএনপি-আওয়ামী লীগের একই লক্ষ্য। তা হলো- ক্ষমতায় যাওয়া। দেশের মানুষ আর তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আগামী সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সরকার গঠনে জনগণ এক হয়েছে। এজন্য জাতীয় জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে।’
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘জিএম কাদের জনগণের অবস্থা বোঝেন। আগামীতে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। এমনও হতে পারে সরকারও গঠন করতে পারে জাতীয় পার্টি। তাই আমাদের সবকিছু ভুলে গিয়ে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে। সারাদেশে জাতীয় পার্টির গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’
দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের ১৭ কোটি জনগণকে জিম্মি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট লুটপাট করছে। এদের এক-দুইজনকে ফাঁসি দেন। কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। আমি সংসদেও এই স্পষ্ট কথা বলেছি।’
পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান বলেন, ‘রাজনীতি আজ রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। এই রাজনীতি চলছে, সুবিধাভোগী, হাইব্রিড ও ত্যাগীদের মধ্যে। জাতীয় পার্টির ত্যাগী নেতা-কর্মীরা জিএম কাদেরের নেতৃত্বে রয়েছে।’
লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শেরীফা কাদেরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জাপার কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল, লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব জাহিদ হাসান লিমন, লালমনিরহাট সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নজরুল ইসলাম, পাটগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাবীবুল হক বসুনীয়া প্রমুখ।
সম্মেলন শেষে লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পাার্টির সভাপতি হিসেবে শেরীফা কাদের এমপি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহিদ হাসান লিমনের নাম ঘোষণা করেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় গরুবোঝাই পিকআপের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় পিকআপে থাকা ছয়টি গরুরও মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া বাজারের কাছে কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পিকআপে থাকা নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার কুন্দাই গ্রামের বিল্লাল (৩৫), খুরশেদ (৬০) ও পিকআপের চালক খোকন (৩৯)।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি বাসের সঙ্গে সুখিয়া বাজারের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা গরুবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপে থাকা চালকসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পিকআপে থাকা ছয়টি গরুও মারা যায়। দুর্ঘটনায় পিকআপ ও বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গেছে।
পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন রকি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর বাড়ির উঠান থেকে এক গৃহবধূর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও তার চাচাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আলমগীর আলীর বাড়ির উঠান খুঁড়ে তার স্ত্রী জায়দা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জায়দা বেগম মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর আলী করিমপুর চা বাগানের মৃত নুর আলীর ছেলে।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, জায়দা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা গত ৩ জুন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই ঘটনার সূত্র ধরে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ১৭ জুন স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানের একপাশে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখেন। পরে তার দেখানো স্থানেই মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান জানান, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে চা শ্রমিক সন্তান আলমগীর আলীকে বিয়ে করেন তার মেয়ে জায়দা। পরে মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে পরিবার বিয়ে মেনে নেয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। আবার মিটমাট হয়ে যেত।
আব্দুল হান্নান আরও জানান, গত ১৮ জুন আলমগীর তাদের বাড়িতে এসে সাত বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দাবি করেন, জায়দা কাজের ভিসায় সৌদি আরব চলে গেছেন। কিন্তু এরপর কয়েক দিন মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে ৩ জুলাই রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আলমগীর আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জালালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জায়দা-আলমগীর দম্পতির সংসারে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এখন দ্রুতই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সোমবার (০৬ জুলাই) উপজেলা মৎস অফিসের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ৪২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১৫৬০ মিটার এবং বাজার মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন মিঠামইন থানা পুলিশ ও মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্রসহকারী।
পরবর্তীতে জব্দকৃত ক্ষতিকর জালগুলো স্থানীয় জনসাধারণের সম্মুখে পুড়িয়ে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করা হয় এবং উপস্থিত জনগণকে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে সচেতন করা হয়। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়, অবৈধ ইলেকট্রোফিশিং বন্ধকরণ এবং জলাশয়ের অবৈধ বাঁধ ও স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাশ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। এই পরিস্থিতিতে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে মৌসুমি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
নওগাঁয় মাদকাসক্ত ছেলের মারধরে বাবা মহাতাব সরকার (৬২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে নওগাঁ শহরের বনানীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে সুমন পলাতক রয়েছে। নিহত মহাতাব সরকার পেশায় একজন রিকশা চালক ছিলেন।
থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছেলে সুমন গত কয়েক বছর আগে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংসারে প্রায় ঝগড়া হতো এবং অশান্তি লেগেই থাকতো। মাদকাসক্তের কারণে গত এক বছর আগে সুমনকে রেখে তার স্ত্রী সুমা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চলে যায়। কয়েকদিন আগে সুমা বাড়িতে আসে। আবারও ঝগড়া হয়। সুমন রাগ করে রোববার রাত ১২ টার দিকে তার বাবার কাছে শুয়ে পড়ে। সুমনের ঘুম আসছিলো না দেখে বাবা মহাতাব সরকার দোয়া পড়ে তার ছেলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে আরো রেগে যায় সুমন। এক পর্যায়ে তার বাবার হাত ধরে জোর করে ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসে বাড়ির উঠানে কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরে কয়েকটি আঘাত করে এবং ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসলে সুমন পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেন।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে ঘাতক সুমন পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ৭৮ জন বঞ্চিত প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশে তাদের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না পেলে ওই তারিখেই যোগদান করতে হবে। কেউ নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগ দিতে সম্মত নন বলে ধরে নিয়ে নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তাদের ব্যাচের নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম যে তারিখে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, সেই তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে নিয়োগ আদেশ কার্যকর হবে। ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের যোগদানের তারিখ থেকে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এর ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরে ওই বছরের ৩০ জুন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে। দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৩ হাজার ২২৯ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়।
আগের মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট রিট করেন উত্তীর্ণরা। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সরকারের ওই সিদ্ধান্ত বৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন রিটকারীরা। গত বছরের ৭ নভেম্বর রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য গ্রহণের আদেশ দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফেরত দেওয়ার রায় দেন আপিল বিভাগ।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই দশক পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের ৬৭৩ জনকে ও গত ১৩ মে আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
দেশে গত জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু। নিহতদের মধ্যে ১৩৪ জন মোটরসাইকেলের আরোহী বা চালক, যা মোট প্রাণহানির ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সময়ে ৯টি নৌদুর্ঘটনায় ৭ জন এবং ২১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া ৯১ জন পথচারী (২০.৭৭ শতাংশ) এবং ৫৭ জন চালক ও সহকারী (১৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন, বাসের যাত্রী ২৭ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ৩৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১৪ জন, থ্রি-হুইলারের যাত্রী ১১২ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৫ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী ৮ জন।
দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৭টি শহরের সড়কে এবং ৬টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৬টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৫৩টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করার কারণে এবং ৭টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
মোট ৭১৩টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৫৭টি মোটরসাইকেল, ১৪১টি থ্রি-হুইলার, ১১৬টি বাস, ১০৭টি ট্রাক, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ২৮টি পিকআপ, ১৬টি মাইক্রোবাস, ১৩টি প্রাইভেটকার, ৪টি অ্যাম্বুলেন্স, ৪২টি স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন, ৭টি রিকশা, ৪টি বাইসাইকেল এবং ৩০টি অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে। এছাড়া ভোরে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বিকালে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং রাতে ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে রয়েছেন একজন পুলিশ সদস্য, চারজন শিক্ষক, দুইজন সাংবাদিক, একজন চিকিৎসক, তিনজন প্রকৌশলী, চারজন আইনজীবী, একজন চীনা নাগরিক, ১৩ জন ব্যাংক ও বিমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৭ জন এনজিও কর্মী, ২১ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৪ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, চারজন মসজিদের ইমাম বা খাদেম, ছয়জন পোশাক শ্রমিক, পাঁচজন নির্মাণ শ্রমিক, দুইজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতনের অভাব, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
এসব দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশন, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন সমন্বয়ে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করেছে।
কক্সবাজারে আছে এমন এক আধুনিক প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা, যেখানে পরিত্যক্ত পলিথিন বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে টেকসই আসবাবসহ নানা মূল্যবান পণ্য। যা পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন বাজার। এটি এই সেক্টরের প্রথম কারখানা। কারখানাটি এরই মধ্যে সর্বমহলে সাড়া ফেলেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পলিথিন–প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এ উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একটি মাইলফলক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটক ও বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপে কক্সবাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এক সমীক্ষার তথ্য মতে, কক্সবাজার শহরে দিনে প্রায় সাড়ে ৩৪ টন প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হয়। এর মধ্যে একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দেয়া প্লাস্টিক বা পলিথিন, পণ্যের মোড়ক, পলিপ্রোপিলিন এবং পাতলা পলিথিন ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলো পুনঃপ্রক্রিয়া করা খুবই কঠিন এবং এর কোনো বাজার মূল্য নেই। কক্সবাজারের এই রিসাইক্লিং কারখানায় এমন বর্জ্য থেকেই তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন সোফা, বেঞ্চসহ মজবুত খুঁটি।
ইউনাইটেড নেশনস অফিস অর প্রজেক্ট সার্ভিসেজের বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর মেইসন সালাম বলেন, এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত, যেখানে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে এবং নারীদের ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংক–ইউএনওপিএস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী বলেন, প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া (প্লিজ) প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্র্যাক কক্সবাজারকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই রি–সাইক্লিং কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারী, এসব বর্জ্য বিক্রির সঙ্গে যুক্ত মানুষ এবং কারখানার কর্মী থেকে শুরু করে এখানে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়কারী মিলে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক বলেন, এই রিসাইক্লিং কারখানার পাশাপাশি এখানে কঠিন বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানাটি ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউএনওপিএস’র সহায়তায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সাউথ এশিয়া কোঅপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম। কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই জেলায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে ব্র্যাক। প্লিজ প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়ায় প্লাস্টিক দূষণের গুরুতর সমস্যা মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।
৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট আয়তনের এই কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় ২০০ কেজি পর্যন্ত প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এখানে রয়েছে দৈনিক ২ হাজার লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ইটিপি), সোলার পাওয়ার জেনারেশন সিস্টেম, ফায়ার সেফটি সিস্টেম, একটি ইলেকট্রিক সাবস্টেশন এবং ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা।
এই কারখানাটি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের ক্ষমতায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি খাল–বিল ও উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণ কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জেলা থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। রোগী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত, মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সবার সহযোগিতায় আমাদের ডাক্তার নার্সদের সহযোগিতায় হামকে আমরা চতুর্দিক থেকে একটা পেরিফেরির ভেতরে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছি। একেবারে নির্মূল কোনও পৃথিবী করতে পারে নাই, লন্ডনের উদাহরণ দিলাম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরেই ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রতিটি জেলায় সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ এবং উড়ন্ত মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে কোনও রোগী স্যালাইনের সংকটে না পড়েন এবং গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
চিকিৎসকদের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসা-প্রোটোকল বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনদের কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগী পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়েই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সভায় এক পর্যায়ে শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচি, ভিটামিন ট্যাবলেট বিতরণ এবং টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকার এসব কর্মসূচি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে বদলি করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বদলি হওয়া ডিআইজি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেনকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি রাইহান মুহাম্মদ সালেহকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানকে ঢাকার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আর বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জের নতুন ডিআইজি করা হয়েছে।
অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে তিন পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। এতে সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার মোহাম্মাদ মিয়াজীকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার এবং ফরিদপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামকে সিআইডির পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে গ্রেপ্তার হওয়া ‘ঢাকা বাঁচাও’ সংগঠনের সভাপতি সোহানী শিফাকে প্রায় ২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ভাত বিক্রি শুরু করার কিছুক্ষণ পর শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে ভাত বিক্রির ভ্যানসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে ওই নারীকে পুলিশ আটক করেছিল। মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সামনের সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার দাবিতে কয়েকদিন ধরে সরব ছিলেন সোহানী শিফা। এরই অংশ হিসেবে রোববার (৫ জুলাই) সচিবালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী ভাতের হোটেল চালু করেন তিনি।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেছিলেন, ‘মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলের প্রতিবাদে রোববার (৫ জুলাই) থেকে সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল চালু করবেন। সেখানে ১০ টাকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তা দেওয়া হবে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ, মংলা পাইলট হাউস, ড্রেজার বেইজ, রূপসা ফেরিঘাট, খুলনা শিপইয়ার্ড লি. তদুপরি খুলনা ও নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) ও শনিবার (৪ জুলাই) এলাকার যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুবিধাদি দেখতে এ পরিদর্শন করেছেন তিনি।
পরিদর্শনকালে তিনি কর্তৃপক্ষের ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ (১ম পর্ব) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪টি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং ইয়ার্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন।
প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর কোড’ চালু করেছে সরকার।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি কার্যক্রমের গুণগত মান, নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন), অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর), এবং বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।