অবাধে মাদক কারবার করতে দেওয়ার জন্য সাত লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া রাজশাহী চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এক গৃহবধূর সঙ্গে আলাপচারিতার অডিও রেকর্ডে মাদক কারবারের জন্য ওই ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাকে এক আদেশে চারঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘুষ চাওয়ার অডিওটি গত শনিবার রাতে ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া অভিযোগসহ পেন ড্রাইভে করে সেই অডিও রেকর্ড পুলিশ সুপারের কাছে দাখিল করা হয়। পরে ওসি মাহবুবুল আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
রোববার রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে চারঘাট মডেল থানার ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার ওই অডিও সামাজি যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছয় মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সরাসরি ও ডাকযোগে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কাছেও পাঠানো হয়েছে।
ওই নারী চারঘাটের শলুয়া ইউনিয়নের চামটা গ্রামের আবদুল আলিম ওরফে কালুর স্ত্রী। কালু গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মামলায় ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দি।
ওই নারী অভিযোগপত্রে বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও র্যাবের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। চারঘাট উপজেলায় তার স্বামীর দেওয়া তথ্যে অনেক মাদক কারবারিকে র্যাব ও পুলিশ আটক করেছে। এতে তার স্বামী ও পরিবারের ওপরে চারঘাটের মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়। তার স্বামীকে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। ১২ সেপ্টেম্বর ওসিকে ফোন দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। পরের দিন ওসি থানায় আসতে বলেন। থানায় গেলে ওসি পাশেই তার কোয়ার্টারে ডেকে নেন ওই নারীকে। এ সময় ওসি তার সঙ্গে ওইসব কথা বলেন। তিনি তা কৌশলে রেকর্ড করে রাখেন।
ছয় মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ওই কথোপকথনে ওই নারীর উদ্দেশে ওসি মাহবুবুল আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘নির্বাচন করতে মন্ত্রী আমাকে গাইবান্ধা থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন। আমি তার কথা ছাড়া কারও কথা শুনি না।’ চারঘাট এলাকায় গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে মামলা দেওয়ার কারণে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসির সমালোচনা করেন তিনি। এরপর বলেন, ‘দুই লাখ টাকা দেন, কালকেই ডিবির ওসিকে বদলি করে দেব।’
এরপর গৃহবধূকে ওসি বলেন, ‘আপনার স্বামী আমার অনেক ক্ষতি করে গেছেন (ওসির বিরুদ্ধে এসপি অফিসে অভিযোগ করেছিলেন)। এবার আপনার পরিবারের কাউকে ধরলে ১০ লাখ টাকার কমে ছাড়াতে পারব না। ’
এরপর ওসি বলেন, ‘এখনো তোমার গায়ে আঁচড় দেইনি। বহুত ফাঁকি দিয়েছো। সাত লাখ টাকা লাগবে, কালকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে আসবা। এখন সে রকম সময় নয় যে কেউ পয়সা খায় না। সবাই পয়সা খাচ্ছে। এমন কেউ বাদ নেই যে পয়সা খাচ্ছে না। পুরো জেলা পয়সা খাচ্ছে। এখানে আমার থানা চালাতে মাসিক অনেক টাকা লাগছে। আমি স্যারকে কথা দিয়ে এসেছি। স্যারকে বলেছি, এখানে মাদক ছাড়া কিছু নেই। ’
ওসি আরও বলেন, ‘মুক্তা (চারঘাটের মাদক সম্রাট নামে পরিচিত) অ্যাকশন নিতে পারবে না, শুভ (ছাত্রলীগ নেতা ও মাদক কারবারি) অ্যাকশন নিতে পারবে না। তোমরা পাঁচ লাখ টাকা দিতে পারবা? ধরে ওদের চালান দিয়ে দেব। থাকি না থাকি ওদের সাইজ করব। তোমরা বাইরে থেকে ব্যবসা (মাদক ব্যবসা) করবে। ’
রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আতিকুর রেজা সরকার আতিকের আবারও সমালোচনা করে ওসিকে বলতে শোনা যায়, ‘নির্বাচনের আগে শুভকে ধরতে পারব না। কথা সব ভেঙে বলব না। কথা সব হয়ে গেল; যদি আতিকের বদলি চাও দুই লাখ টাকা দাও। কালকেই আতিকের বদলি হয়ে যাবে। ’
ওসি মাহবুবুল আরও বলেন, ‘পাঁচ লাখ আর দুই লাখ সাত লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করো। আতিক বাদ, ওই দুইজনকে (মুক্তা ও শুভ) ট্যাকেল দেওয়ার দায়িত্ব আমার। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে মন্ত্রীকে বলে ওই দুইজনকে ধরে অ্যারেস্ট করে চালান করে দেবো। আমার সব ওপরের লাইন। যে টাকা দিবা এই টাকাই ওপরে কাজ করবে।’
অডিওতে গৃহবধূর ‘সুন্দর চেহারা’ নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায় ওসি মাহবুবুল আলমকে।
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা ও জরুরি বিভাগে হাঁটুসমান পানি জমে চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও চিকিৎসকরা পানির মধ্যেই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর ও বাইরের আঙিনায় হাঁটুসমান পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগের কক্ষেও পানি ঢোকে পড়ায় চিকিৎসকরা পানির মধ্যেই রোগী দেখছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন বিভিন্ন রোগী।
উচ্চ রক্তচাপ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হোসনা আরা (৫৮) নামে এক নারীকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পূজা ভূমিক বলেন, ‘রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুন বলেন, ‘হাসপাতালটি রাস্তার তুলনায় নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার মধ্যেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।’
এদিকে টানা বর্ষণে নদীর তীরবর্তী কধুরখীল, পশ্চিম গোমদণ্ডী, চরখিদিরপুর, শাকপুরা ঘোষখীল, পশ্চিম শাকপুরা ও চরণদ্বীপ এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠোনেও হাঁটুসমান পানি জমে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
চরখিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, ‘চারদিকে পানি থইথই করছে। বাড়ির উঠোনসহ সব জায়গায় হাঁটুসমান পানি ওঠে যাওয়ায় চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, ‘প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত পানি নেমে গিয়ে জনদুর্ভোগ কমে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, ‘মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স ও নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনাও করা হচ্ছে।’
গত সোমবার (৬ জুলাই) সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জিএমপি হেডকোয়ার্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে জিএমপি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মামলা নিষ্পত্তি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।’
তিনি জানান, শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘গুজব ও অপপ্রচার সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জিএমপি কমিশনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। সভায় মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রম ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ১৮নং ওয়ার্ডের মাহাতাব উদ্দিন সড়কের শেষ প্রান্তে ময়ূর নদীর ওপর বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজটির বিষয়ে জনৈক সাংবাদিকের করা একটি প্রতিবেদন দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ব্রিজটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘জনসাধারণের চলাচলের ভোগান্তি দূর করতে বর্ণিত স্থানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।’ উপস্থিত সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘ময়ূর নদীতে একাধিক ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সংস্থাটি দুটি ব্রিজের নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে এই ব্রিজটি নাই। এই ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ এলজিইডি অপারগতা প্রকাশ করলে সিটি করপোরেশন উদ্যোগী হবে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া ময়ূর নদীতে বিদ্যমান কচুরিপানা দ্রুত পরিচ্ছন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, ১৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি, কাজী শফিকুল ইসলাম শফি, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, হুমায়ুন কবীরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গল্লামারী ব্রিজ সড়কের সম্প্রসারণ কাজসহ বাব এ সালাম আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়ক, ছবেদ আলী লেন, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, মাহতাব উদ্দিন সড়ক, খালিশপুরস্থ বাস্তুহারা কলোনির ড্রেনেজ, বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ পোর্ট কলোনির অভ্যন্তরে স্লুইচগেট নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের দীর্ঘদিনের মামলাজট কমাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন বিচারপতি এবং বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে অধস্তন আদালতের শূন্যপদ পূরণে ৫০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে প্রথমে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হতে হবে।
আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদেও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে এবং আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করবে। ফলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই; তবে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাজার মওকুফ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভের সুযোগ রয়েছে।
সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান তার প্রশ্নে জানতে চান মামলাজট কমাতে নতুন বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।
প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
নিম্ন আদালতের বিচারক সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোয় বর্তমানে মোট ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক।
খালি পদগুলো দ্রুত পূরণে সরকারের চলমান পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯তম ও ২০তম বিজেএস: এ ছাড়া ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এই চাহিদাপত্র অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলেও আইনমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শাহিন আলী (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
গত সোমবার (৬ জুলাই) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইসলামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শাহিন আলী শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের জালালিয়া রোডের শুক্কুর আলীর ছেলে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, অভিযুক্ত শাহিন আলী তার বাসায় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন এবং ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার কাছ থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করতেন। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ওই গৃহবধূ শাহিনের কাছ থেকে এক জোড়া জুতা কিনেন। জুতাটি ছোট হওয়ায় তা পরিবর্তন করতে ওই দিনই তিনি শাহিনের বাসায় যান। সে সময় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে শাহিন জোরপূর্বক গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন এবং গোপনে মোবাইলে তার ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
র্যাব আরও জানায়, পরবর্তীতে ওই আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি করে রাখেন শাহিন এবং তাকে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ করলে শাহিন তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিনকে ৫০ হাজার টাকা দিলেও, বাকি টাকার জন্য সে পুনরায় চাপ দিতে থাকে। পরবর্তীতে টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় গৃহবধূ শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহিন আলীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক সদর উপজেলার শত্রুজিতপুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিসিআইসি সার ডিলারকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মুদি দোকানসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে শত্রুজিতপুর বাজারে মেসার্স সনজিত কুমার সাহা নামক বিসিআইসি সারের দোকানে পরিদর্শনে গেলে নানা অনিয়ম পায়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানান, টিএসপি সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩৫০ টাকা বস্তা কিন্তু উক্ত প্রতিষ্ঠান বিক্রয় করেছেন ২২০০ টাকা প্রতি বস্তা। এছাড়া ডিএপি সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১০৫০ টাকা হলেও প্রতিষ্ঠানটি বিক্রয় করেছেন ১৭০০ টাকা বস্তা। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলেও ভাউচার কিংবা রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। দুজন কৃষকের সাথে ফোন করে কথা বলে জানা যায়, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোন ভাউচার প্রদান করা হয়নি। যা দেশের কৃষি ও কৃষকদের সাথে ভয়াবহ প্রতারণা। প্রতি বছর সরকার কৃষকদের নিকট ন্যায্যমূল্যে সার প্রদানের লক্ষ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে কিন্তু এসমস্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষদের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা চলে যায় সার বাবদ। কৃষি ও কৃষক নিয়ে এমন প্রতারণামূলক অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ও ৪০ ধারায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আইন অমান্যকারী কৃষকদের সাথে প্রতারণামূলক কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ খুলনা- ৭৬৪) অশান্ত ও মাদক সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করার অপরাধে সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদারকে বহিস্কার করা হয়েছে।
এরই জের ধরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শ্রমিক নেতা মিলন ও মিয়ারাজ ও বহিস্কৃত সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি বহিরাগত বাহিনী নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নে এসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালায়। ঘটনা সূত্রে জানাযায় গত দুইদিন পূর্বে দুপুরের দিকে সাতক্ষীরার শহরের প্রাণ কেন্দ্র নারকেলতলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে দুপক্ষের রক্ত ক্ষয়ির আশংকা ছিল দুই পক্ষের শ্রমিকের মধ্যে ।
তাৎক্ষণিক সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউনিয়নে তালা মেরে দেয় এবং ইউনিয়নের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দসহ উভয় পক্ষকে সাতক্ষীরা সদর থানায় হাজির হতে বলে। শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য বহিস্কারকৃত সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদারের বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়ারীর অভিযোগ আছে বলে জানান উক্ত সংগঠনের উপদেষ্টা শেখ শফিউল্লাহ মনি।
বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমাকে জোর পূর্বক ও অন্যয়ভাবে বহিষ্কার করেছে। আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে।
উক্ত শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা শেখ শফিউল্লাহ মনি বলেন মজনু সরদার সংগঠনের নামে বিভিন্ন জায়গা হতে টাকা উঠিয়ে তা তসরুপ, মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত হওয়ার অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদার ও সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মুহা: মাসুদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, উক্ত ট্রাক শ্রমিকরা তাদের কিছু বিষয় নিয়ে মনোক্ষুষণ্ন হয় এবং তার জের ধরে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার আশংকা ছিল কিন্তু পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের সংগঠন তারা যে ভাবে চালাতে চায় চালাক পুলিশের কোনো বাধা নেই তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় সেই বিষয় পুলিশ সজাগ আছে। শ্রমিক ইউনিয়ন এর তালার চাবি উভয় পক্ষ স্বইচ্ছায় আমার কাছে জমা রেখেছে এবং তারা সিনিয়র নেতৃন্দের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।
নীলফামারীর জলঢাকায় কলেজ শিক্ষার্থী কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন নিহতের বাবা কফদ্দি মাহমুদ, বড় বোন কেয়া লাবনী কনা, কুলসুম আক্তার, মামা খালেকুজ্জামান লেবু, মাহবুব আলম ও স্থানীয় সাইদুল ইসলামসহ অনেকে।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিহতের চাচার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১১ জুন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কিবরিয়া ইসলাম পিয়েলের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় চারজন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
সরকার অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) পেশাগত নিবন্ধন না পাওয়ায় ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
মেডিকেল এসিস্টেন্টদের ন্যায় ৪ বছর মেয়াদী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের কে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ১৫ ধারা ও ৫ম তফশীলে অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন প্রদানের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ জেলা শাখার উপদেষ্টা ইউনুস আলী, বদিউজ্জামান ও গোলাম কিবরিয়া রুবেল, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুল হাসান রিমন, অর্থ সম্পাদক আকতার হোসেন এবং সদস্য রবিউল ইসলাম রনি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারা ও পঞ্চম তপশিলে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৫ ধারা অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ এবং বিএমডিসির পেশাগত নিবন্ধন কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত কাজের পরিধি অনুযায়ী সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে ৫ আগস্ট সকাল নয়টায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। সুবিধাজনক সময়ে নগরীর শিববাড়ি মোড়, শহীদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা, জিরোপয়েন্ট, কুয়েটসংলগ্ন এলাকা, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তাসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। দুপুরে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে। সুবিধাজনক সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
এছাড়া বেলা ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে নিহত শহিদ পরিবারের সদস্য- আহত ছাত্র-জনতা-জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, জুলাই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রস্তুতি সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ ইমরান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মো. মমিনুর রহমান, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মেহেদী হাসান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাইযোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দেশের আদালতগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পাঁচ বছরের অধিক পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপের কথা দেশবাসীকে জানান। সংসদ অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।
লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা বন্দিদের মামলাগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল সরজমিনে পরিদর্শন, আলামত যথাযথভাবে জব্দ ও সংরক্ষণ, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ, ডিজিটাল বা ফরেনসিক ও বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট যথাসময়ে সংগ্রহসহ সামগ্রিক তদন্ত কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার জন্য কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে কঠোর তদারকি করছেন। এর আলোকেই পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো মামলাগুলোকে সবার আগে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি সুরাহা করার জন্য একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
আইনমন্ত্রী তাঁর জবাবে আরও জানান যে, শুধু বিচার বিভাগীয় নজরদারিই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা সভা এবং নিয়মিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের মাধ্যমেও বিচারাধীন বন্দিদের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব কটি আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে এবং সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
একের পর এক ব্যতিক্রমী কৃতিত্বের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন বরিশালের মেয়ে নুসরাত জাহান নিপা। কয়েন দিয়ে টাওয়ার নির্মাণ, চপস্টিক দিয়ে দ্রুততম সময়ে ভাত খাওয়া এবং সর্বশেষ কাগজ দিয়ে দ্রুততম সময়ে স্নো-ফ্লেক (তুষারকণা) তৈরি করে তৃতীয়বারের মতো নিজের নাম লিখিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রথম নারী, যার নাম তিনবার স্থান পেয়েছে গিনেস বিশ্বরেকর্ডের খাতায়। তার এ অর্জন শুধু বরিশাল নয়, পুরো দেশের জন্যই এক অনন্য গৌরব।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সর্বশেষ বিশ্বরেকর্ডটি গড়েন। ‘দ্রুততম সময়ে কাগজ দিয়ে স্নো-ফ্লেক তৈরি’ বিভাগে পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিল চীনের এক প্রতিযোগীর দখলে। তিনি ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরি করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে স্নো-ফ্লেক তৈরি করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন নিপা। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তার এই অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সনদপত্র প্রদান করেছে।
কাগজকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভাঁজ ও কেটে তুষারকণার আকৃতি তৈরি করেই এই বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিখুঁতভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে তাকে দীর্ঘদিন অনুশীলন করতে হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় ঘরে বসেই এক হাতে এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে প্রথমবারের মতো গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়েন নিপা। সে সময় তিনি ইতালির সিলভিও সাব্বার গড়া আগের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বরেকর্ডের মালিক হন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে চপস্টিক ব্যবহার করে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে দ্বিতীয়বারের মতো গিনেস বিশ্বরেকর্ড অর্জন করেন। এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেন।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী নুসরাত জাহান নিপা বর্তমানে বরিশালের একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে নুসরাত জাহান নিপা বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রম কিছু করার ইচ্ছা ছিল। আমার খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও বরিশালে মেয়েদের জন্য সুযোগ তুলনামূলক কম। তাই ঘরে বসেই এমন কিছু করার চেষ্টা করেছি, যা দেশ ও আমার শহর বরিশালকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি রেকর্ডের পেছনে অসংখ্য ঘণ্টার অনুশীলন ও পরিশ্রম রয়েছে। অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি, আবার নতুন করে চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশের পতাকা যখন বিশ্বমঞ্চে উঠে আসে, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হয়। ভবিষ্যতেও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
নিপার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিপা শুধু নিজের নয়, পুরো বরিশালের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের শহরের নাম পৌঁছে দেওয়ায় আমরা গর্বিত।’
স্থানীয় গৃহিণী রুবিনা আক্তার বলেন, ‘মেয়েরা চাইলে যে বিশ্বজয় করতে পারে, নিপা তার বড় উদাহরণ। তার সাফল্য আমাদের সন্তানদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
বিশেষজ্ঞরাও নিপার অর্জনকে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিশ্বরেকর্ড গড়তে যে একাগ্রতা, মনোযোগ, ধৈর্য ও আত্মনিবেদন প্রয়োজন, নিপা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কাজে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে নারীরা যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, নিপা তার জীবন্ত উদাহরণ। এ ধরনের প্রতিভাবানদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আরও অনেক তরুণ-তরুণী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে উৎসাহিত হবে।’
নুসরাত জাহান নিপার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। তিনি ইতোমধ্যে আরও কয়েকটি নতুন ক্যাটাগরিতে গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তার লক্ষ্য, বিশ্বের বুকে আরও বেশি সংখ্যক রেকর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরা।
পটুয়াখালী সদর থানার রিপন কাজী হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার এবং নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নিহতের স্বজন কর্তৃক পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত রিপন কাজীর মেজ ভাই মো. রাব্বি কাজী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৩০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজঘোনা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনের সড়কে মোটরসাইকেল থামিয়ে রিপন কাজীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালান রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী, রাহাত কাজী, আব্দুল আলিম মৃধা, মিজানুর রহমান ভুট্টু কাজী এবং রিয়াজ হাওলাদার। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত ২ জুলাই নিহতের মা আমেনা বেগম পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
রাব্বি কাজী বলেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামি রাসেল কাজী ও সোহাগ কাজীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে মামলার বাকি আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘পলাতক আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।’
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে হত্যা মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করা, নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ সময় নিহতের মা আমেনা বেগম (৫০), ছোট ভাই সাব্বির কাজী এবং ছোট বোন রাহিমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।