মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

রূপগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

প্রতীকী ছবি
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৮:৩৮

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সুমন মিয়া নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত রোববার রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার রসুলপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

সুমন মিয়া রসুলপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে। তবে তিনি তার পালক বাবা হাজী করম আলীর কাছে থাকতেন।

সুমনের পরিবারের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, তারাব পৌরসভার রসুলপুর এলাকায় স্থানীয়রা ওই যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনকে কুপিয়ে হত্যার পর পালিয়ে যায় জানিয়ে আতাউর রহমান বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের চেষ্টা চলছে।


শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার কবরে অ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টে সরকার বা রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা লড়তে নতুন নিয়োগ দেওয়া আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সমাধি কমপ্লেক্সে গিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। কবর জিয়ারত, ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তারা দোয়া-মোনাজাতও করেন।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকও।

দোয়া-মোনাজাত শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইন, সংবিধান, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে ভূমিকা, সেটি আমরা যারা আইনজীবী তারা প্রতিদিন লক্ষ্য করি। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, ‘তারা যে নীতি-আদর্শ মেনে জীবন কাটিয়ে গেছেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেই নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার ও পেশাদারি বজায় রাখব। দেশের প্রত্যেকটা নাগরিক যেন তার আইনানুগ অধিকার পান, সেটি প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব।’অপতথ্য মোকাবেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা তুলে ধরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘গণতন্ত্রের পথে নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সুতরাং, যে কোনো ঠুনকো অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য বা খণ্ডিত তথ্য দিয়ে যেন আগামী দিনের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে, সে ব্যাপারে গণমাধ্যমের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে।

এর আগে, আগের সব নিয়োগ বাতিল করে গত ৩০ জুলাই পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) পদে এবং ১৭৯ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ দেয় সরকার। নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাদের নিয়ে গতকাল সমাধি কমপ্লেক্সে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান অ্যাটর্নি জেনারেল।


নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: ডিএনসিসি প্রশাসক

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা-১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মানিকদি ও উত্তর মানিকদি এলাকায় বিভিন্ন সড়কসহ সার্বিক উন্নয়নকাজের উদ্বোধনকালে ডিএনসিসি প্রশাসক এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘দেশে পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। নগরবাসীর দোরগোড়ায় সঠিক সেবা পৌঁছে দিতে ডিএনসিসি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

রাজধানীকে বাসযোগ্য ও সবুজ নগরীতে পরিণত করার ওপর জোর দিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৃক্ষরোপণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও মশক নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের অপরিকল্পিত নীতির কারণেই আজকের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতির টেকসই সমাধানে কাজ করছে, যেখানে নগরবাসীর সহযোগিতাও কাম্য।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রশাসক নির্দেশ দেন, বাসাবাড়ি বা ছাদবাগানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি যেন নিয়মিত ফেলে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ডিএনসিসির আওতাধীন দখল হওয়া খালগুলো পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করে খনন ও খালের দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে ঠিকাদারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন এবং নাগরিকদের নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের আহ্বান জানান।

ডিএনসিসির জোন-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকারনাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


ফুলবাড়িয়ায় থানায় দুইজনসহ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুর শাখার সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারকে নৃশংস হত্যা ঘটনায় এজাহার নামীয় দুইজনসহ অজ্ঞাত আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের কনিষ্ঠ ছেলে আবু রায়হান তালুকদার। বাংলদেশ কাস্টমস হাউস আইসিডি কমলাপুরে সিপাহী পদে কর্মরত ছিল। নিখোঁজের ১০ দিন পর গত রোববার (২ আগস্ট) বিকালে তার বাড়ির পাশে পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতকরা আবু রায়হানকে হত্যার পর দুই হাত ও দুই পা ১২ টুকরো, মস্তক ও বুক এবং পেট তিন টুকরো করে। নিখোঁজের পর তার বাড়ির কেয়ারটেকার পার্শ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামে গ্রামের ফজলু মির্জার ছেলে রাজু ও একই গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে তার বন্ধু সোহেল মির্জা জিতুল গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তারা দুই বন্ধু সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। উভয়েই মাদকাসক্ত।

প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে সুরাইয়া আক্তার সাথীকে বিয়ে করেন আবু রায়হান। এক কন্যাসন্তান থাকা অবস্থায় গত ৫ বছর আগে তাদের সংসার ভেঙে যায়। বৃদ্ধ মা রাহেলা খাতুন, বড় বোন হাসিনা খাতুনসহ বাড়ি ও জমিজমা দেখার জন্য পার্শ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামে রাজু নামের এক কিশোরকে বাড়ির কেয়ারটেকার রাখেন। গত ২৩ জুলাই রাতে আবু রায়হান কর্মস্থল থেকে গ্রামে আসেন। রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করেন রায়হান ও রাজু। পরের দিন আবু রায়হানকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে বড় ভাই রাজুর কাছে তার সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায় মোটরসাইকেলে করে কাহালগাঁও বাজারে দিয়ে আসছে, সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে ঢাকায় চলেগেছে। ২৬ জুলাই অফিস থেকে এক সহকর্মী বেদেনা খাতুন তার বাড়িতে ফোন করে জানায় আবু রায়হান অফিসে আসেনি। তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন রাজু ও জিতুল গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। লাশ উদ্ধারের তিন দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখানো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিখোঁজের পর চারবার আবু রায়হানের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

অনন্তপুর গ্রামের যুবক অপুর ভাষ্য, গত শনিবার সকালে বাজুয়া নদীসংলগ্ন জমিতে ৫ জন বেগুন উত্তোলন করার সময় দেখতে পায় জিতুল মির্জা একটি চাবির ছড়া নদীতে ছুড়ে ফেলে। এ ছাড়া দুটি এটিএম কার্ড ভেঙে টুকরো টুকরো করে বাজুয়া নদীতে ফেলে।

মামলার বাদী মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, আবু রায়হান সহজ-সরল ও মা ভক্ত ছিল। বৃদ্ধ মা ও জমিজমা দেখাশোনা করার জন্য দশম শ্রেণির ছাত্র রাজুকে পরিচার্যক হিসেবে রেখেছিলেন। সেই রাজু ও তার বন্ধু জিতুলসহ অজ্ঞাত আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ছোট ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে। লাশ উদ্ধারের তিন হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, আবু রায়হান হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই থানায় মামলা করেছেন। বাড়ির কেয়ারটেকার, তার বন্ধুসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। কেয়ারটেকার ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।


নরসিংদীতে অস্ত্র ও গুলিসহ ২ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

মাধবদী থানা পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নরসিংদী সদর থানার পাঁচদোনাস্থ নলুয়া নামক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাধবদী থানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) মো. আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক আড়াইটার সময় উল্লেখিত স্থানে এক ট্রাক চালক ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে।

এ সময় ছিনতাইকারীরা পিস্তলের ভয় দেখিয়ে ট্রাক চালকের নিকট থেকে ১০ হাজার পাঁচশত টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ট্রাক চালকের নিকট থেকে বিস্তারিত জেনে বিষয়টি নরসিংদী পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল ফারুক এর দিকনির্দেশনায় মাধবদী থানার এসআই আবু ইউসুফের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে শুভ (২২) পিতামৃত. মিজান ও ফাহিম (২৬) পিতা. হালিম মিয়া সর্ব সাং-পাঁচভাগ শ্রীনগর থানা মাধবদী জেলা নরসিংদীকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের নিকট থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি ও নগদ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মাধবদী থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে।


জাতীয় মৎস্য পক্ষ বাস্তবায়নে মাগুরায় প্রস্তুতিমূলক সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ বাস্তবায়ন উপলক্ষে মাগুরা জেলা পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক সভা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বীর আহমেদ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র সরকার মূল বিষয় সভায় উপস্থাপন করেন। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফিরোজ আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান, মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার বক্তব্য রাখেন। উপপরিচালক সমাজ সেবা অধিদপ্তর মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আব্দুল আওয়ালসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘মাছ চাষের সাথে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জাতীয় উন্নয়নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।’


আউশ ধান চাষাবাদ সম্প্রসারণে বিনা’র মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

আউশ ধানের উন্নত ও স্বল্পমেয়াদি জাত বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ এর চাষাবাদ সম্প্রসারণে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাওরের কান্দা ও বোরো-পরবর্তী অনাবাদি জমিতে আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এ আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে সাদকপুর এলাকায় এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ স্লোগানে সুনামগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র এর আয়োজনে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সদরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। বিসিসিটিএফের ‘পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে হাওর ও চরাঞ্চল অভিযোজন’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

মাঠ দিবসে কৃষকরা বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ এর চাষাবাদ, ফলন ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নেন। এ সময় কৃষকদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়।

কৃষক আব্দুল আকলিস বলেন, ‘আমি ভাবিনি আউশ ধানের ফলন এত ভালো হবে। বোরো ধান ডুবার পরে বিনা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে বিনাধানের বীজ দেন। পরে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করি। আল্লাহর রহমতে ফলন ভালো হয়েছে।’

জেলা বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, ‘বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ আউশ মৌসুমের উপযোগী স্বল্পমেয়াদি জাত। সুনামগঞ্জে আউশের আবাদ কম হলেও হাওরের কান্দা এলাকার জমিতে এ বছর কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে জাত দুটি চাষ করানো হয়েছে। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়। এতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘যেখানে ধান চাষের সুযোগ রয়েছে, সেখানে আবাদ বাড়াতে হবে। শুধু নিজেদের উৎপাদনের কথা না ভেবে দেশের খাদ্য চাহিদার কথাও বিবেচনা করতে হবে।’ কৃষকদের চাষাবাদে কোনো সমস্যা হলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘হাওরের যেসব জমিতে পানি ওঠেনি এবং বোরো ধান কাটার পর খালি থাকে, সেসব জমিতে আউশ ধান চাষের সুযোগ রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি জাত হওয়ায় ১০০-১২০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।


সাতক্ষীরায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে সদরের এল্লারচর চিংড়ি প্রদর্শনী খামারের হলরুমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা সদর এ কংগ্রেসের আয়োজন করে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চল। তিনি বলেন, ‘আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্ড স্কুল কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি, পুষ্টিসম্মত কৃষি চর্চা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলায় ২০ হাজার ১৮১ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৫৪২ জন।’ পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনি সরকার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জামাল উদ্দীন, আকবর আলী ফাউন্ডেশনের পরিচালক আবু সাঈদ এবং পার্টনার প্রকল্পের পরিচালক মোছাদ্দেক।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষাণ-কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সফল উদ্যোগ উপস্থাপন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পুষ্টিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


নাটোর পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল হাসান, নাটোর

নাটোর পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম, দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি। গত ১১ জুলাই দৈনিক বাংলায় অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ হলে গত সোমবার (৩ আগস্ট) অধিদপ্তরটির প্রধান কার্যালয়ের অফিস পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপপরিচালক ড. মো. হাফিজুর রহমান তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের নির্দেশে গত ৩০ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই মোতাবেক অফিসটির জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল হক, সকল কর্মকর্তা, কম্পিউটারের দোকানদার, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সাথে তার কার্যালয়ে দেখা করেন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে ওঠে আসে, নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দালালদের সক্রিয় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। পাসপোর্ট অফিসের বাইরে ও বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অধিকাংশ কম্পিউটারের দোকান হয়ে উঠেছে দালালচক্রের প্রাণকেন্দ্র। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পাসপোর্ট প্রতি পনেরশ টাকা ঘুষ না দিলে নানা অজুহাতে আবেদন ফর্ম ফেরত দেওয়া হয়।

তথ্যে আরও ওঠে আসে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাসিন্দা বিষ্ণু কুমার সরকারের ছেলে ও তার বন্ধুর পাসপোর্ট করতে এসে জটিলতায় পড়েন। ডাকঘরসংক্রান্ত ভুল দেখিয়ে পাসপোর্ট আবেদন দুটি ফেরত দেওয়া হয়। পরে কোনো উপায় না পেয়ে দালালের স্মরণাপন্ন হন তিনি। পরে দুই পাসপোর্টের জন্য দালাল সুলতান আহমেদের কাছে তিন হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে আবেদন জমা দেন।

বিষ্ণু কুমার সরকার জানান, তার ছেলে দীপ্ত সরকার কৌশিক ও তার বন্ধু শেফাত বিশ্বাসের পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে গত ৫ জুলাই নাটোর পাসপোর্ট অফিসের জমা কাউন্টারে যান। সেখানে ডাটা এন্ট্রি অফিসার কাউসার ইসলাম তাদের আবেদন দুটি জমা না নিয়ে জানান, ন্যাশনাল আইডিতে ডাকঘর ভাগনাগরকান্দি থাকলেও আবেদনে সিংড়া লেখা আছে। অনলাইনে আবেদনে ভাগনাগরকান্দি আসে না বলার পরও তিনি আবেদন দুটি জমা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি পাসপোর্ট অফিসের পাশে সুলতান কম্পিউটারের প্রোপ্রাইটর সুলতান আহমেদের কাছে গেলে তিনি জানান, এক একটি আবেদনের জন্য পনেরশ টাকা করে অতিরিক্ত দিলে কোনো ভুল ধরবে না পাসপোর্টে অফিসের কর্মকর্তারা। পরে সুলতানের কাছে তিন হাজার টাকা দেওয়ার পর তিনি আবেদন দুটিতে গোপন সংকেত লেখে দেন। কিছুক্ষণ পর আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া সেই ডাটা এন্ট্রি অফিসার কাউসার ইসলামই সেই আবেদন দুটি জমা নেন। পরে তারা ফিঙ্গার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

সেবাগ্রহীতা সেজে এই প্রতিবেদক সুলতানকে ফোন দিয়ে পাসপোর্ট প্রতি কত টাকা করে দিতে হবে এমন প্রশ্নে কোনো রাখঢাক না রেখেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থাৎ পাসপোর্ট প্রতি ১৫০০ টাকা ঘুষের কথা বলেন তিনি। সেই সাথে জানান, অতিরিক্ত টাকা দিলে পাসপোর্ট করতে কোনো বাড়তি ঝামেলা হবে না।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে দেখা মেলে সদর উপজেলার গুনারী গ্রামের বাসিন্দা অহেদ আলীর সাথে। তিনি জানান, উমরা হজ করার জন্য পাসপোর্ট করতে গিয়ে তিনি মহা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। আবেদনপত্রের সাথে কাবিননামা না থাকায় তার আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে না। ২৭ বছর আগে বিয়ে করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর কাবিননামা জোগার করতে এক সপ্তাহ ধরে ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি। এ রকম অসংখ্য অনিয়মের ঘটনা তদন্ত করছেন কমিটি।

এদিকে নাটোর পাসপোর্ট অফিসের ডাটা এন্ট্রি অফিসার কাউসার ইসলাম মুহূর্তেই সব অস্বীকার করে বলেন, ‘কাগজপত্র ঠিক না থাকলে কোনো আবেদন জমা হবে না।’ তিনি কোনো প্রকার দুর্নীতির সাথে জড়িত না। এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না বলে জোর গলায় বলেন তিনি।

সহকারী হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ আনসারুজ্জামান বলেন, ‘এখানে ইন্টারভিউ নিতে হলে স্যারের অনুমতি নিতে হবে।’ তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

সেবা কম্পিউটারের শফিকুল ইসলাম প্রথমে সব অস্বীকার করেন। পরে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও দেখালে তিনি থমকে যান। একইভাবে দালাল সুলতান ঘুষ চাওয়ার অডিও শুনেও থমকে যান। একপর্যায়ে সুলতান স্বীকার করেন তিনি নিজে তিনশ টাকা রেখে অফিসের কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট প্রতি ১২০০ টাকা দেন।

লাগামহীন দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার গৎবাঁধা আশ্বাস দেন পাসপোর্ট অফিসের সরকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘সকল অনিয়ম খতিয়ে দেখবেন।’

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, পাসপোর্ট অফিসের অনিয়মের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। বিষয় তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

বিষয়টি অবগত হয়ে নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকার দলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, এই অনিয়ম বন্ধে কার্যকর প্রদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

২০১৪ সালে নাটোর শহরের চকরামপুর এলাকায় নাটোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০২৩ সালে তা বড় হরিশপুর এলাকায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়।


পরকীয়ার অভিযোগে আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩০
অনলাইন ডেস্ক

নেত্রকোণায় পরকীয়ার অভিযোগে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে স্থানীয়দের মাধ্যমে আটকে রাখার ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে ভার্চুয়াল জগতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত সোমবার রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে রিপন মিয়াকে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে তাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত সালিশি বৈঠকের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত জীবনে রিপন মিয়া বিবাহিত এবং তার এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে যে, জনৈক এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় সালিশে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগ ও জরিমানার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো দাপ্তরিক মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। আলোচিত ভিডিওটির সত্যতাও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কার্যক্রম শুরু করেন এবং তার সিগনেচার সংলাপ "হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও" এবং "আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব" নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছিল। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত জীবনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


খুলনায় নৌযান শুমারি বিষয়ক জেলা পর্যায়ে অবহিতকরণ সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমানায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের ডাটাবেইজ প্রবর্তনের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট সময়ে নৌযান শুমারি, ২০২৬ পরিচালিত হবে।

এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নৌযান শুমারি উপলক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে নৌযান সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। নৌযান শুমারির এবারের প্রতিপাদ্য ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’।

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, সকল শুমারিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুমারির মাধ্যমে জেলে ও নৌ-শ্রমিকদের ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব পরিস্থিতি চিহ্নিত করা যাবে। দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু হতে যাচ্ছে। তাই নির্ভয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করে দেশের এ গুরুত্বপূর্ণ কাজে সকলের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অবহিতকরণ সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: আইয়ুব হোসেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নৌপরিবহন মালিক গ্রুপ, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, নৌ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নৌযান শুমারি, ২০২৬ এর উদ্দেশ্য নৌপরিবহন খাতে নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাস, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত জনবলের জীবনমান এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা। বাংলাদেশে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান বা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য কোন যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ নৌযানসমূহের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করা।

নৌযান শুমারির গুরুত্ব হলো, সরকারি-বেসরকারি কোন দপ্তর/প্রতিষ্ঠানের নিকট অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকা; নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত মালিক ও শ্রমিকদের নির্ভুল ডাটাবেজ ব্যবহারের মাধ্যমে নৌদুর্ঘটনা পরবর্তী প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছতার সাথে আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতকরণ; নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান; নৌপরিবহন ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি এবং শুমারির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ডাটাবেইজ বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক ন্যাশনাল ডাটা হিসেবে ব্যবহার।


রাজৈর উপজেলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করলেন রাজৈর-মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোখসানা খাইরুন নেছা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুল হক, রাজৈর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজৈর উপজেলা বিএনপি'র নেতা-কর্মী ও সমর্থকবৃন্দ। এসময় প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়াকে স্কুল গভর্নিংবডি , শিক্ষকমন্ডলী ও ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-ছাত্রী, অতিথিবৃন্দ ও গণ্যমান্য সহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এমপি জাহান্দার আলী বলেন, 'শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না"।

তিনি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের প্রতি এই খাতে যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্ধ রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ছাত্রীদের মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে সুনাগরিক হিসাবে নিজেদের তৈরীর মাধ্যমে নিজ, পরিবার-সমাজ এবং দেশের সেবায় আগামীর নেতৃত্ব দেয়ার দিক নির্দেশনা দেন। এছাড়াও শিক্ষকমন্ডলীদেরকে যত্নসহকারে তাদের পাঠদানের আহবান জানান।


ভোক্তার অভিযানে নওগাঁর দুই অটো রাইস মিলকে জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

সুগন্ধি আতপ চাল কেজি প্রতি ৯০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এর অবৈধ মজুত, সরবরাহ, বস্তার গায়ে মিলগেট দর না লেখাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে নওগাঁয় অটো রাইস মিলগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অভিযানে দুটি অটো রাইস মিলকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের সাহাপুর এলাকায় অবস্থিত বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেড এবং নওগাঁ শহরের হাপানিয়া জবার মোড় এলাকায় অবস্থিত টিকে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে চাল মজুতের সঠিক তথ্য দিতে না পারায় বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ২০ হাজার টাকা এবং একই কারণে টিকে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) রুবেল আহমেদ বলেন, কয়েকদিন ধরে সুগন্ধি আতপ চালের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। বাজারে অস্বাভাবিক চালের দাম লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা কিছুদিন আগে ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি আতপ চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। বেলকন এবং টিকে গ্রুপে অভিযান চালিয়ে দেখেছি সবকিছুই নিয়মের মধ্যে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরে নির্দেশনা রয়েছে চাল ১৫ দিনের বেশি রাখা যাবে না। বেলকন এবং টিকে গ্রুপ যে চালগুলো রেখেছে সেগুলো ১৫ দিনের বেশি কি না সে বিষয়ে তারা আমাদের সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। এ কারণে দুটি মিলকে জরিমানা করা হয়েছে।

রুবেল আহমেদ আরও বলেন, বাজারে এখন সুগন্ধি ধানের দুষ্প্রাপ্রতা রয়েছে। এ ছাড়া ধানের দাম মণপ্রতি এখন চার হাজার টাকার উপরে। এ কারণে তারা মিলগেট প্রাইস দিচ্ছেন ২০০ টাকার কাছাকাছি। যার কারণে খুচরা বাজারে ২১০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যত দিন পর্যন্ত চালের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসছে তত দিন আমাদের চালের মিল এবং বাজারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


এক পায়ে সাইকেল চালিয়ে জীবিকার লড়াইয়ে গোপী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

জন্ম থেকেই একটি পা অচল গোপী বিশ্বাসের (৩২)। হাঁটাচলা করতে হয় লাঠি ভর দিয়ে। ছোটোবেলা থেকে চেষ্টা করেছেন আত্মনির্ভরশীল হওয়ার। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন ইলেকট্রনিক পণ্য মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের কাজলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পানতিতা গ্রামের বাসিন্দা গোপী। বাবা নিতাই বিশ্বাস ও মা কল্পনা বিশ্বাসের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়ায় পড়াশোনার সুযোগ পাননি তিনি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর পারিবারিক অবস্থার কারণে স্কুল ছাড়তে হয় তাকে।

ছোটোবেলায় এলাকার এক দোকানে সহকারী হিসেবে কাজ শেখা শুরু করেন গোপী। টর্চ লাইট, গ্যাস লাইটসহ নানা বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র মেরামতের কাজ রপ্ত করেন তিনি। প্রায় ১৯ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছেন। কিন্তু একটানা এই পেশায় টিকে থাকা সম্ভব হয়নি। আয় কম হওয়ায় মাঝে মাঝে ভ্যান চালানো, চা বিক্রি, এমনকি ওয়েল্ডিংয়ের কাজও করতে হয়েছে তাকে। তবে প্রতিবন্ধকতা থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

শেষমেশ আবারও মেরামতের পেশায় ফিরেছেন তিনি। জেলা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে মুলিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে, মুলিয়া-বাহিরগ্রাম সড়কের এক পাশে ছোট একটি একচালা দোকান বসিয়েছেন। টিনের ছাউনি থাকলেও চারপাশে কোনো বেড়া নেই। সেখানেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে টর্চ লাইট, গ্যাস লাইট, এলইডি বাল্ব, স্প্রে মেশিন ও রাইস কুকারসহ নানা ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামত করেন।

চার সদস্যের পরিবার গোপীর ঘাড়ে। স্ত্রী, এক শিশুপুত্র এবং এক কন্যাসন্তান নিয়ে তার সংসার। বড় মেয়েটি বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন কাজ করে আয় হয় মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। ভালো দিন হলে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে এই টাকায় সংসার চালানো সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে ব্যাগে যন্ত্রপাতি ভরে এক পায়ে সাইকেল চালিয়ে পাশের তুলারামপুর হাটেও যান কাজের খোঁজে।

গোপী বিশ্বাস বলেন, ‘আজ একটু হলুদ কিনি, কাল একটু লবণ। ছেলেমেয়েকে মাছ খাওয়াতে পারি না। দেনা করে বাজার করতে হয়। তিন মাস পর প্রতিবন্ধী ভাতার কিছু টাকা পাই, তাও দেনা শোধে চলে যায়।’

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবন্ধী জীবনটাই যেন অভিশাপ। সংসার চালাব, না ছেলেমেয়েকে মানুষ করব—এই দুশ্চিন্তায় থাকি। সরকারের কাছে অনুরোধ, যেন আমাদের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়ায়, আমাদের সন্তানরা মানুষ হতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে। ওরা মানুষ হলে আমাদের কষ্টের কিছুটা হলেও সার্থকতা থাকবে।’

গোপীর কাজের প্রশংসা করেন স্থানীয়রাও। তারা জানান, তার মতো অভিজ্ঞ মেরামতকারীর কাজের ওপর অনেকেই নির্ভরশীল। তিনি না থাকলে এসব কাজের জন্য শহরে যেতে হতো, সময় ও অর্থ ব্যয় হতো বেশি।

গোপীর দোকানে লাইট মেরামত করতে আসা মিলন সরকার বলেন, ‘গোপীর কাজের মান ভালো হাওয়ায় তার নিকট আমরা ইলেকট্রনিক বিভিন্ন জিনিস মেরামত করতে আসি। তার কষ্ট দেখে খারাপ লাগে, কিন্তু আমরা নিজেরাও খুব বেশি কিছু করতে পারি না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই খুপড়ি ঘরে বসে ইলেকট্রনিক যন্ত্র মেরামত করে সংসার চালায় সে।’

কোড়গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ রায় বলেন, ‘গোপী দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে কাজ করছে। ভালো মানুষ, ভালো কাজ করে। আমরা তার ওপর ভরসা করি। যদি সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কেউ এই সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো গোপীর মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন আরেকটু সহজ হয়ে উঠবে।’

মুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, ‘গোপী বিশ্বাস একজন প্রতিবন্ধী হয়েও স্বাভাবিক মানুষের মতো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তার এই সংগ্রামী জীবন অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। তার মতো অনেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু তিনি কারো কাছে হাত পাতেন না। ছোট থেকেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। ইতোমধ্য সে প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধাভোগী। তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু পারা যায় সহযোগিতা করা হবে।’


banner close