বঙ্গবন্ধুকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেয়ায় লালমনিরহাট সদর থানার মামলায় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ। বিক্ষোভ মিছিল শেষে স্থানীয় মিশনমোড়ে দুলুর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন নেতাকর্মীরা।
সোমবার সন্ধ্যার আগে লালমনিরহাট জেলা ও পৌর ছাত্রলীগের আয়োজনে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকে বের হয়ে শহরের মূল মূল সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় মিশনমোড় গোল চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে বিএনপি নেতা দুলুর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয় এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ছাত্রলীগ নেতারা।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলুর নামে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মো. রকিবুল হাসান খান। অভিযোগটি আমলে নিয়ে লালমনিরহাট থানায় গত বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নথিভুক্ত হয়।
মামলার এজাহারে জানানো হয়েছে, জেলা বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলু বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নে বিকেল আনুমানিক ৫টায় বিএনপি অফিসের সামনে ও ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বক্তব্য দেন এবং প্রকাশ্যে বলেন- বঙ্গবন্ধু টঙ্গবন্ধু সব বঙ্গোপসাগরে ভেসে গেছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর জানাজায় মানুষের ঢল দেখে জানাজা করতেই দেয়া হয়নি ভয়ে। বঙ্গবন্ধুর জানাজায় ১৭ জন লোক উপস্থিত হয়েছিল আর সাঈদীর জানাজায় ১৭ লাখ লোক হয়েছে। এসব বক্তব্য বিএনপির মিডিয়া সেলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই সময় বক্তব্যটি লাইভ প্রচার করে জাতির পিতার বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গাত্বক অসম্মানজনক প্রচারণা চালায়।
এছাড়াও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে মিলন বাজার এলাকায় এক জনসভায় দুলু তার বক্তৃতায় বলেন, শেখ হাসিনার বাবাকে যত লোক না চেনে তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি চিনে ড. ইউনূসকে। তার এ বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে নিন্দার ঝড় তোলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদ জামান বিলাশ দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলু জাতির পিতাকে উদ্দেশ্য করে ব্যাঙ্গাত্বক অসম্মানজনক বক্তব্য, তাচ্ছিল্য করা, ড. ইউনুস ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর সাথে তুলনা করায় আমরা তাকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি গ্রেফতার করা না হয় তাহলে জেলা ছাত্রলীগ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
এ বিষয়ে রাতে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে থানায় দায়ের করা অভিযোগটি তদন্ত শেষে বুধবার রাতে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
চারিদিকে থইথই জলরাশি, আর তার বুক চিরে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিনন্দন অল-ওয়েদার রোড। বর্ষায় রূপকথার মতো সুন্দর আর শুকনো মৌসুমে ফসলের সবুজ গালিচায় মোড়ানো জেলা কিশোরগঞ্জের তিন হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম। কিন্তু এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নির্মম অর্থনৈতিক বাস্তবতা।
এখানকার প্রায় শতভাগ মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি ও মৎস্য। এই একমুখী অর্থনীতির কারণে বছরের পর বছর প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার কাছে জিম্মি হয়ে আছে লাখো মানুষের ভাগ্য। অতিবৃষ্টি, খরা, অকাল বন্যা, হঠাৎ শিলাবৃষ্টি কিংবা পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হলে এখানকার মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো বিকল্প পথ থাকে না। এই ভংগুর অর্থনৈতিক বৃত্ত ভাঙতে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য হাওরাঞ্চলে এখন এক নতুন শিল্পবিপ্লবের সময় এসেছে। আর সেই বিপ্লবের পথ দেখাতে পারে গাজীপুর ও নরসিংদীর সফল অর্থনৈতিক মডেল।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, একসময় নরসিংদী ও গাজীপুর অঞ্চলের বহু মানুষ জীবিকার তাগিদে কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষিশ্রমিক হিসেবে আসতেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে বস্ত্রশিল্প, তৈরি পোশাক খাত এবং বিভিন্ন মাঝারি ও ভারী শিল্পের প্রসারে সেখানে অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। শিল্পায়নের ফলে সেখানকার বেকারত্ব দূর হয়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। অথচ এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে হাওরে।
আজ এ অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবক কাজের সন্ধানে গাজীপুর, নরসিংদী কিংবা নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই বাস্তবতাই প্রমাণ করে একটি অঞ্চলের স্থায়ী অর্থনৈতিক মুক্তি ও দুর্যোগকালীন নিরাপত্তার জন্য শুধু কৃষির ওপর নির্ভর করে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। কৃষির পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নই হতে পারে একমাত্র রক্ষা কবচ।
অতীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে হাওরে শিল্পকারখানার কথা চিন্তা করাও ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। তবে বর্তমানে দৃষ্টিনন্দন অল-ওয়েদার রোড সেই স্থবিরতা অনেকটাই দূর করেছে।
ভৌগোলিক কারণে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার রূপ দুই ঋতুতে দুই রকম; শুকনো মৌসুমে অল-ওয়েদার রোডের কল্যাণে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি বর্ষাকালে চারপাশ পানিতে ভেসে গেলে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে দ্রুতগামী নৌযোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থায়ী ও যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে অষ্টগ্রাম-চাতলপাড় সংলগ্ন নদীতে নির্মাণাধীন নতুন সেতুর মাধ্যমে। দ্রুত এই সেতুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে বর্ষা বা শুকনো মৌসুমের সীমাবদ্ধতা আর থাকবে না। অষ্টগ্রাম থেকে চাতলপাড় হয়ে সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড লিঙ্ক ধরে সারা বছরই দেশের যেকোনো প্রান্তে দ্রুততম সময়ে সড়ক পথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। সড়ক ও নৌপথের এই অভূতপূর্ব মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়েই মূলত হাওর অঞ্চলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘অর্থনৈতিক হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ফলে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম এমন একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে যেখানে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য এবং আধুনিক পর্যটনের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটবে। এর ফলে এক বিশাল বহুমুখী সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, যা পুরো অঞ্চলের চেহারাই বদলে দেবে।
বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য কিশোরগঞ্জের এই হাওর অঞ্চল বর্তমানে অন্যতম আদর্শ একটি স্থান। কারণ, দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের তুলনায় এখানে শিল্প স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জমি রয়েছে, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও সস্তায় লিজ বা কেনা সম্ভব। এর চেয়েও বড় সুবিধা হলো এখানকার বিশাল ও কর্মক্ষম শ্রমশক্তি। হাওরে পর্যাপ্ত পরিমাণে কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিক রয়েছেন, যাদের খুব সহজেই এবং তুলনামূলক কম মজুরিতে কারখানার কাজে যুক্ত করা সম্ভব। এই সাশ্রয়ী জমি ও সস্তা শ্রমের মেলবন্ধন যেকোনো বড় শিল্পোদ্যোক্তার জন্য উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার এক দারুণ সুযোগ তৈরি করবে।
এই অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে হাওর অঞ্চলে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেড স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। সেখানে তৈরি পোশাক শিল্প বা হালকা প্রকৌশল শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থান হবে, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটবে। পাশাপাশি, হাওরের উদ্বৃত্ত ধান ও দেশীয় মাছের সঠিক বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য মেগা কোল্ড স্টোরেজ চেইন, আধুনিক অটো রাইস মিল এবং মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করাও জরুরি। আধুনিক হিমাগার থাকলে জেলেরা মাছ ধরার পর তা নষ্ট হওয়ার ভয়ে কম দামে বেচতে বাধ্য হবেন না। এছাড়া ধানের কুঁড়া থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদনের মতো উপজাত শিল্প এবং অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পনিরকে কেন্দ্র করে আধুনিক ডেইরি প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা গেলে তা আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারবে।
‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’ কবিতার লাইন দুটির সাথে আগেকার দিনের মিল থাকলেও বর্তমান সমাজের ছেলেমেয়েদের সাথে এর মিল খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। আগেকার দিনে গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে ছেলে মেয়েরা ছুটে যেত মামার বাড়িতে। সেখানে যেয়ে নানা রকম মৌসুমী ফল গাছে উঠে নিজ হাতে পেরে খাওয়ার একটা মজাই ছিল অন্যরকম। বর্তমানে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে দালান কোঠা তৈরি করাতে যেমন কমে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ তেমনি ব্যস্ততার কারণে ছেলেমেয়েরাও এখন আর আগের দিনের মতো পাকা আম ও জামের রসে মুখ রঙিন করতে পারে না।
তাইতো হাতের কাছেই যখন যে ফলটা পাওয়া যায় সেটা অধিক মূল্যে কিনে খেতে হয়। এখন চলছে মধুমাস,বাজারে নানা রকম ফলের সমাহার।
লিচু শেষ হতেই বাজারে আসতে শুরু করে আম, জাম, কাঁঠাল, লটকনসহ নানা রকম মৌসুম ফল। আর দেশি আম শেষ হতে না হতেই মাগুরা সদরের বিভিন্ন এলাকার হাটে- বাজারে, এখন মৌসুমী ফল কাঠলিচু বা আশফল আসতে শুরু করেছে। এই ফল ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাদামি রঙের খোসায় জড়ানো সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দেশীয় ফল কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।
মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কম থাকলেও বর্তমানে বাজারে আশফলের উপস্থিতি বেড়েছে। ফলে বেচাকেনাও জমে উঠেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীরা ঝুড়িতে সাজিয়ে ও খাচায় ঝুলিয়ে আঁশফল বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, আশফলের মিষ্টি স্বাদ সুগন্ধ এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে এটি পরিবারের সবার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে এই ফল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা লেগেই থাকে এমনকি রাতেও বিক্রি হয়। স্থানীয় বাগান থেকে আশায় তাজা আশফল সহজেই পাওয়া যায়।
ষাটোর্ধ্ব ফল বিক্রেতা মনি কুমার জানান, ৩০ বছর ধরে আমি ফল ব্যবসার সাথে জড়িত। আগের তুলনায় আঁশফলের কদর অনেকটাই বেড়ে গেছে। আমরা ছোটবেলায় কোনদিন এই ফল খাইনি। এগুলো ছিল পাখির খাবার। এইসব গাছ বনে জঙ্গলে এমনিতেই জন্মাতো। আমরা সারাদিন নানা রকমের ফল খেয়েই দিন কাটাতাম। কিন্তু এই আশফল যে খেতে হয় সেটা বুঝতাম না। আজকাল শহরে তো পড়ে থাক গ্রামেই তেমন ফলের গাছ দেখা যায় না। মাঝেমধ্যে বাড়ির আশেপাশে আর রাস্তার পাশে দুই একটা আশফলের গাছ দেখা যায়। কিন্তু ছোট ছেলে মেয়েরা সেগুলোকে পাকতে দেয় না তার আগেই পেরে খেয়ে ফেলে। এখন এই ফল ছোটো থেকে বুড়ো সবাই পছন্দ করে।
ক্রেতা আশিকুর রহমান বলেন, আগের তুলনায় আশপাশের চাহিদা এখন অনেক বেশি। স্কুলগামী ছেলে মেয়েরা আসা যাওয়ার পথেই আশফল দেখলেই কিনতে চায়। আমরা আগে ছোট ছোট আটি দশ বিশ টাকা করে কিনতাম, কিন্তু বর্তমানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে কেজি কিনতে হচ্ছে। লিচুর পরেই সুস্বাদু রসালো এই ফলটি ছেলেমেয়েরা অনেক পছন্দ করে। এই ফলের গাছ যেখানে সেখানেই জন্মায়। কোন যত্ন করা লাগেনা। পাখিরা মুখে করে বীজ নিয়ে যাওয়ার সময় যেখানে পড়ে সেখানেই এই গাছের জন্ম হয়।
তবে বাণিজ্যিকভাবে এই ফলের চাষ করা গেলে আরো ভালো হতো। মাগুরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা বিতরণ করা হয়, আমার মনে হয় সেইসব গাছের সাথে একটি করে আঁশফলের চারা লাগানোর প্রতি উৎসাহিত করলে আরো ভালো হয়।
কৃষিবিদদের মতে, আশফল বা কাঠ লিচু একটি পুষ্টিকর মৌসুমি ফল। এটি দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মে। এই গাছের কোন পরিচর্যা করা লাগেনা। এটা যেখানে সেখানে জন্মানোর কারণে সাধারণত মানুষ কষ্ট করে রোপণ করতে চায় না। তবে নিয়মিত এই গাছের সেচ, জৈব সার এবং আগাছা দমন করলে ফলন আরো বৃদ্ধি পায়।
ফলটিতে ভিটামিন ‘সি’, খাদ্য আঁশ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি অনেক স্বাস্থ্যকর একটি ফল। এর মানসম্মত চারা রোপণ করে রোগ ও পোকা নিয়মিত দমন করতে পারলে বাণিজ্যিকভাবে আশফল বেশ লাভজনক হতে পারে। আঁশফল একটি সম্ভাবনাময় দেশীয় ফল, যার বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে পারলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও দেশীয় ফলের বৈচিত্র রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
‘কত জায়গায় ঘুরলাম আমি, তোমার দেখা পেলাম না, কেন যে দৃষ্টি দিলেনা দয়াল...’ গানটি গাইতে গাইতে হঠাৎ থেমে যান কাজল মিত্র। কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকেন। তারপর মৃদু হেসে বলেন, ‘এই গানটা আমার নিজের লেখা, নিজের সুর করা।’ কথাগুলো বলার সময় তার মুখে হাসি থাকলেও কণ্ঠে ধরা পড়ে দীর্ঘদিনের এক না-পাওয়ার বেদনা।
জন্মের পর থেকেই তিনি দৃষ্টিহীন। পৃথিবীর রং, প্রিয়জনের মুখ কিংবা ভোরের প্রথম সূর্য-কোনোটিই কোনোদিন দেখা হয়নি তার। তবু অন্ধকারের কাছে হার মানেননি। বরং সুরকেই করেছেন জীবনের আলো। সেই আলোয় গত ৫৫ বছর ধরে গান গেয়ে শুধু নিজের জীবনই নয়, সংসারও টেনে নিয়ে চলেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের কাজল মিত্র।
১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া কাজল মিত্র ছিলেন পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই। জন্মের পরই পরিবার বুঝতে পারে, ছেলে চোখে দেখতে পায় না। চোখের আলো ফেরাতে দেশ-বিদেশে চিকিৎসাও করানো হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। চোখে আলো না ফিরলেও নিভে যায়নি তার স্বপ্ন।
দৃষ্টিহীন হওয়ায় কোনোদিন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসা হয়নি। বইয়ের অক্ষর চেনা হয়নি, খাতায় লেখা হয়নি নিজের নাম। কিন্তু জীবন তাকে শিখিয়েছে অন্য এক ভাষা—সংগীতের ভাষা।
মাত্র ১১ বা ১২ বছর বয়সে বাড়ির ঘাটের পাশে একটি আমগাছের নিচে বসে চাটগাঁইয়া ভাষার একটি গান গাইছিল ছোট্ট কাজল।
‘দইনুর বিল্যুত উড়েরে ঝাকে ঝাকে তোতা,আঁর মনত পরিগেয়্যি ছুডো হাইল্লা কথা...’
ঠিক তখনই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী লক্ষ্মীপদ আচার্য্য। শিশুটির কণ্ঠ শুনে থমকে দাঁড়ান তিনি। পরে কাজলের বাবার সঙ্গে কথা বলে গানের তালিমের ব্যবস্থা করে দেন। সেই একটি ঘটনাই বদলে দেয় কাজল মিত্রের জীবনের পথ।
এরপর একে একে কয়েকজন গুরুর কাছে সংগীত শিক্ষা নেন তিনি। ধীরে ধীরে গানই হয়ে ওঠে তার পরিচয়, পেশা আর বেঁচে থাকার শক্তি। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লালন, আধুনিক, দেশাত্মবোধক, ভক্তিমূলক কিংবা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান-সব ধরনের গানই সমান দক্ষতায় পরিবেশন করেন তিনি।
শুধু অন্যের গান নয়, নিজের অনুভূতি থেকেও লিখেছেন কয়েকটি গান, দিয়েছেন সুর। কিন্তু জীবনের দীর্ঘ পথচলায় কিছু স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ। একটি ভালো মানের হারমোনিয়াম কেনা এবং নিজের গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশের ইচ্ছা আজও পূরণ হয়নি।
বয়সের ভারে শরীরও আর আগের মতো সাড়া দেয় না। ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিন লড়াই করতে হয়। তবু সুযোগ পেলেই পুরোনো হারমোনিয়ামটি সামনে নিয়ে বসেন। কারণ, গানই তার বেঁচে থাকার শক্তি।
সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে একটি দোকানে চাকরি করেন। সীমিত আয়ের এই পরিবারে এখনও কাজল মিত্রের গানের আয় গুরুত্বপূর্ণ ভরসা।
কাজল মিত্র বলেন, ‘চোখে আলো পাইনি, কিন্তু গান আমাকে মানুষের ভালোবাসা দিয়েছে। যতদিন কণ্ঠে সুর থাকবে, ততদিন গান গেয়েই বাঁচতে চাই।’
চোখে আলো না থাকলেও সুরের আলোয় নিজের জীবনকে আলোকিত করেছেন কাজল মিত্র। আর সেই সুরই আজও ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয়।
নাটোরের বনপাড়া পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক, ড্রেন ও সড়কবাতি নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এ উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বনপাড়া পৌর প্রশাসক মো. জুবায়ের জাহাঙ্গীর, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হাফসা শারমিন, পৌর প্রকৌশলী মো. জুবায়ের মাহবুব, উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন কুমার শীল, উপসহকারী প্রকৌশলী রাউফুল ইসলাম, ৫নং মাঝগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক মো. আব্দুল আলিম।
বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ মোল্লা, বনপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান মেমন। জন প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্থানীয় সুধীজন।প্রকল্পের আওতায় মহিষভাঙ্গা কাশেম শাহের পুকুর থেকে মহিষভাঙ্গা বটতলা পর্যন্ত চারটি লিংক রোডসহ মোট ৩ হাজার ৫৬৬ মিটার সড়কে বিটুমিনাস কার্পেটিং, ২ হাজার ১৫৩ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সড়কে আধুনিক সড়কবাতি স্থাপন করা হবে।
প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৩ হাজার ৬২ টাকা ৮০ পয়সা। তবে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ২৮৩ টাকা ৭৩ পয়সা। মেসার্স হোসেন এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং বাস্তবায়ন করছে বনপাড়া পৌরসভা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহিষভাঙ্গা এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং নগরবাসীর চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো গড়ে ওঠার মাধ্যমে এলাকার সামগ্রিক নাগরিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন নাগরিকদের জন্য কাজ করে। সে কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নাগরিকদের সমস্যা ও চাহিদাসমূহ জানার চেষ্টা করেছি। সেগুলিই আগামীতে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নাগরিক ফোরাম’ কর্তৃক ‘প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশে সংস্থাটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস. এম ইকবাল হাসান তুহিন।
কেসিসি শিগগিরই বাজেট ঘোষণা করবে উল্লেখ করে প্রশাসক আরো বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় যে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে তা গঠনমূলক, বাস্তবসম্মত এবং অধিকাংশই বাস্তবায়নযোগ্য এবং প্রস্তাবনাসমূহ আমাদের পরিকল্পনার মধ্যেও আছে। এখন শুধু বাস্তবায়নের অপেক্ষা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপ্তি, জোয়ারের সময় বৃষ্টির পানি নিস্কাশনে পাম্প স্থাপন, বর্জ্য রিসাইকিং সেন্টার চালু, বাইরে থেকে নগরীতে ইজিবাইকের প্রবেশ বন্ধ, ফুটপথ দখলমুক্ত করা, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন ইত্যাদি কাজ বাস্তবায়ন করতে পারলে নাগরিক সমস্যা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সকল কাজে শতভাগ সফলতা অর্জনে তিনি বর্জ্য সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে ৮নং ওয়ার্ডের পিপলস মিলের পশ্চিম ও পূর্বপাশে স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণ, পাওয়ার হাউজ গেট থেকে পিপলস গেট এবং পিপলস গেট থেকে ক্রিসেন্ট গেট পর্যন্ত ড্রেন সংস্কার এবং পাওয়ার হাউজ গেটসংলগ্ন শৌচাগারে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।
নাগরিক ফোরাম চেয়ারপারসন রফিকুল ইসলাম খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ ও বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান। সমাপনী বক্তৃতা করেন নাগরিক ফোরাম কো-চেয়ারপার্সন সরদার আবু তাহের। কেসিসির ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও নাগরিক ফোরাম কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমবি টিভি বাংলার চেয়ারম্যান এস এম রুহুল আমিন মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী নেত্রী শামীমা সুলতানা শীলু ও দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক সরদার আবু তাহের প্রমুখ।
নাটোরে জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক করে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিকাশের সেলস অফিসার স্বাধীন হোসেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে সদর থানা চত্বরে এক বিফ্রিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের স্টেশন বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, গত পহেলা জুলাই বিভিন্ন এজেন্ট পয়েন্টে লেনদেনের জন্য বিকাশের সেলস অফিসার স্বাধীন হোসেনকে নগদ ২ লাখ টাকা এবং বিকাশ হিসাবের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ব্যালেন্স দেয়া হয়। সেই টাকা নিয়ে গিয়ে পরে স্বাধীন হোসেন দাবি করেন, সদর উপজেলার নারায়ণপাড়া এলাকায় অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে।
এ ঘটনায় জেলা বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের বিজনেস ম্যানেজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ঘটনার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে জানতে পারে, সেখানে কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি।
পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বাধীন হোসেন স্বীকার করেন, জুয়া খেলায় টাকা হারিয়ে আত্মসাতের ঘটনা গোপন করতেই তিনি নিজেই ছিনতাইয়ের মিথ্যা গল্প সাজিয়েছিলেন। আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দেশকে প্রযুক্তিগত ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে মেধা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজার, চুনিহাড়ী পশ্চিমপাড়ায় সোলেমান আলীর নিজস্ব উদ্ভাবনী সোলার সেচ পাম্প দেখে মুগ্ধ হয়ে " প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্ভাবনকে কৃষির উন্নয়নে কাজে লাগাতে উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর মতো তৈরি ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিবে সরকার। এ জন্য শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের প্রযুক্তিগতভাবে নতুন কিছু করতে এগিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী বলেন আরও বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্ভাবন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তিচালিত এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে। নতুন নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হলে দেশের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের আগে মন্ত্রী সোলার সেচপাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত চলছে। সীমান্তের ওপারে বিমান হামলার পর কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও সীমান্তপথে চোরাচালান ঠেকাতে স্থল ও নৌ টহল বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ-২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ টহল পরিচালিত হয়। একই সময়ে নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার করা হয়। এছাড়া টেকনাফ সদর থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘটতে না পারে।
এর আগে, গত বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার বিকট শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত ভেসে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকেও আবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে; মনে করে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাতে কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। গত বৃহস্পতিবার সকালেও একটি বিস্ফোরণের শব্দ হয়। পরে সীমান্তের ওপারে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নাফ নদীতে অনেক জেলেও মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে, একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডং এলাকার চারলাইন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, চলমান হামলার কারণে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ছাড়া সীমান্তে অহেতুক ঘোরাঘুরি না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। আর সীমান্তে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, টানা ১১ মাসের সংঘাতের পর ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং ও রাথেডং টাউনশিপসহ বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে দেয় আরাকান আর্মি। বর্তমানে এসব এলাকার বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা অবস্থিত। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে। একই সময়ে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্য সব ধরনের সেবা পর্যায়ক্রমে একটি ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক সেল আয়োজিত প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিদ্যমান সক্ষমতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও বিকশিত করা হবে। তারা যে পণ্য উৎপাদন করবেন, সেগুলোর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাও করা হবে।
ফারজানা শারমীন বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একই কমপ্লেক্সে একটি মাস্টার সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগ্রহীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করার সুযোগ পাবেন।
তিনি জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক লিগ্যাল এইড কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তারা বিভিন্ন আইনি জটিলতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনকে আরও সহজ করা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক ও সামাজিক চাপ কমিয়ে আনা।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি পাইলট প্রকল্পে এমন ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে কোনো অভিভাবক সন্তানকে স্কুলে রেখে অপেক্ষার সময় আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারেন। এ সময় শিশুদের চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি পরিবর্তন আনতে চাই, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেশের মূলধারায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে এবং তাদেরকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে।
তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট মনোনয়নের আহ্বান জানান। এতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও কার্যকর হবে এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। ফারজানা শারমীন আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
বুধবার রাতে নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের মালো পাড়ায় গরু চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামে এক মানষিক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে বেধে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। আনায়ার হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার বাসগ্রাম গ্রামের মৃত কাওছার মোল্যার ছেলে।
এই নারকীয় হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকেলে বাসগ্রাম বাজার এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধনে এলাকার কয়েকশ মানুষ অংশ নেয়। এ ঘটনায় সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে আনোয়ার মারা যান। নিহতের ময়নাতদন্ত শেষ হলে তার মরদেহ সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকা ছাড়া। মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকা প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের মা ছায়া রানী (ছদ্মনাম) দাবি করেন, আনোয়ার একটি ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। তার ছেলে চোর বলে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। কে বা কারা তাকে মারধর করেছেন, তা তিনি জানেন না। তার দাবি করেন, তার ছেলে আনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এক যুবককে মারধরের ঘটনার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। এছাড়া মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মোবারকদি এলাকা থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১১০ কার্টনে প্যাকেটিং ১১ লক্ষ নকল সিগারেট ও নকল ব্যান্ডরোল সহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ ও কাভার্ডভ্যানের চালকসহ ৩ জন-কে আটক করেছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ।
গত বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম এন্ড অবস্) ফারিহা রফিক ভাবনা এ তথ্য তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বুধবার ভোর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে সদর মডেল থানার মোবাইল টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার মোবারকদি এলাকায় একটি সন্দেহভাজন কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় কাভার্ড ভ্যান থেকে ১১০ কার্টনে প্রায় ১১ লাখ শলাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার মানসে নকল ব্যান্ডরোল সহ উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত নকল সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ৬৬ লাখ টাকা।
এছাড়া এসব সিগারেটের মাধ্যমে সরকারকে প্রায় ৫৪ লাখ টাকার রাজস্ব (ট্যাক্স) ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন সদর থানার এসআই জিয়াউর রহমান, এসআই আলমগীর হোসেন ও এএসআই মনোয়ারসহ মোবাইল টিমের অন্যান্য সদস্যরা।
আটকৃতদের মধ্যে মো. নাদিম মিয়া (২৭) কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচরের লোকমানখাঁরকান্দি গ্রামে বাসিন্দা, সোহেলরানা ওরফে বুলবুল আহমেদ (৪৫) রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাঠালবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি ‘জামিল গ্রুপ অফ কোম্পানীর’ রিজিওনাল ম্যানেজার (এ/পি), এছাড়া মো. আতাহার মিয়া (৬২) এর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ব্রাম্মনদি গ্রামে।
তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা মোগরাপাড়া চৌরাস্তা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই সংযোগস্থলের মারিখালী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। এ যেন ময়লার ভাগাড়। অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে বর্তমানে দুর্গন্ধে এই রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে চলা দায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষ অভিযোগ। দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা। দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে পরিবেশ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি কতৃপক্ষ। এদিকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত ১৮ জুন ওই এলাকায় পরিদর্শন গিয়ে ময়লা অপসারন করেন। এবং ওই এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্ত প্রশাননের এ নির্দেশ কেউই মানছেন না। বরং ময়লা ফেলা আরো বেড়ে চলছে। প্রশাসন বলছে, মূল সমস্যা আমাদের ময়লা ফেলার জায়গা নেই, আমরা জায়গা দেখে এর স্থায়ী সমাধানে আমরা কাজ করছি।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ে ব্যস্ততম এলাকা মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা বাজার সংলগ্ন মারীখালি সেতু। এ সেতুর নিচেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বাজারের লোকজন ময়লা ফেলে যেন ভাগাড়ে পরিনত করে। সেতুর নিচের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার পাশ জুড়ে জমে আছে ময়লার স্তূপ। পচনশীল এসব ময়লা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে। এ সেতুর নিচ দিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের জন্য ইউর্টান রয়েছে। এ পথে প্রতিনিয়ত অনেক পথচারী ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের আরোহীকে নাকে রুমাল কিংবা হাত চেপে এলাকা পার হতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে করে এখানে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ময়লার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।
মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, রমজান হাসান, বিল্লাল হোসেন বলেন, বর্তমানে এ এলাকায় ময়লায় দুর্গন্ধে এলাকায় থাকা যায় না। ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের সুনজর দেওয়া দরকার। তাদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়ানোও কঠিন। বৃষ্টি হলে ময়লার পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে।
পথচারীদের অনেকেই বলেন, জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের পাশে এমন বর্জ্যের স্তূপ অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। এটি শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, সোনারগাঁওয়ের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুন্ন করছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন জানান, এ এলাকায় যেন ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিনই ব্যাপকহারে ময়লা ফেলা হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লার পাশে পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিমালার পরিপন্থী। দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ প্রতিকারে আমরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেই। এছাড়া ময়লার গন্ধে দূষণ রোধে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ময়লার ভাগাড়ের পাশে সাইনবোর্ড ও ব্যানার ফেস্টুন টানানো হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা সোনারগাঁও উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। সেখানে ময়লার স্তুপ তৈরি হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। সমস্যাটি সমাধানে আমরা কাজ করছি। আমরা ইতিপূর্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয় এবং এ এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আমরা করছি। মূল সমস্যা আমাদের ময়লা ফেলার জায়গা নেই, আমরা জায়গা দেখছি। এ কাজ করতে একটি বড় ধরনের প্রকল্প করে নিতে হবে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠাবো। একটু সময় লাগবে। আবারো অভিযান করবো। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তিন ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমান ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য একটি নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সোনারগাঁ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শিক্ষকদের ভেতরে রেখে একাডেমিক ভবনের বাইরে তালা দিয়ে দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এসময় তাদের গেটে মুলা ঝুঁলিয়ে রাখতে দেখা যায়। হাসপাতাল চালু ও মেডিকেল কলেজে শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের ১১ তম দিনে বৃহস্পতিবার (জুলাই) বেলা ১১টা থেকে এই কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সকালে মেডিকেল কলেজের নোটিশ বোর্ড ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের পেইজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুধবারের সভার কার্যবিবরণি প্রচার হলে শিক্ষার্থীররা আরও বিক্ষুব্ধ হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এটি ‘ফেইক’ দাবি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এর আগেও একইভাবে আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেবার জন্য নানাভাবে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা হয়েছে। এবারও তাই হচ্ছে। কোন ধরণের বিভ্রান্তিতে নিজেদের যুক্ত না করার জন্য তাদেরকে সমর্থনকারী স্থানীয় জনসাধারণসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানান শিক্ষার্থী সংগঠকরা।
মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাক আহমদ বললেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কলেজের পক্ষ থেকে করা দীর্ঘ বৈঠকে সকল সমস্যা তুলে ধরা হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের প্রায় সকল দাবি যেমন শিক্ষক নিয়োগ দুই দফায় নয়জন প্রদান করা হয়। দুয়েক দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিচালক নিয়োগ এবং ছয় সপ্তাহের মধে হাসপাতালে বহি:বিভাগ এবং অক্টোবর থেকে অন্ত:বিভাগ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি বাস দেবারও সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এটি মানতে নারাজ। তারা তিন সপ্তাহের মধ্যে আউটডোর এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইনডোর চালু চায়। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি এসব ‘রোড ম্যাপ’ জানতে চায় তারা। আমাদের অনুরোধ ছিল সবকিছুই প্রশাসনিক নিয়ম কানুনের মধ্যে চলে, তারা এটি শুনতে নারাজ। তারা শিক্ষকদের তালাবদ্ধ রেখে ভালো করেনি বলে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ।
বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে রোড ম্যাপ বাস্তবায়নে লিখিতভাবে সুনিষ্টি কোন ধরণের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরে যাব না। দাবি দাওয়া বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।