রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

হাতীবান্ধায় আ. লীগ- বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১

সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২৩:২৪

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম লিমন (২৮) আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বিএনপির দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত শাহরিয়ার ইসলাম লিমন ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিছনদই গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি'র আহবায়ক আনোয়ারুল কবির ওয়াসিম জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলুর বিরুদ্ধে মিথ্যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে বিএনপির আন্দোলন দমানোর অপচেষ্টা করছে সরকার। এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ১২ ইউনিয়নে বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। কিন্তু ডাউয়াবাড়িতে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ বাধা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক আলিম হোসেন বলেন, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ চলছে। আকস্মিকভাবে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশটি ফাঁকা পেয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম লিমনের ওপর হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে সে গুরুতর আহত হলে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহা আলম বলেন, বিএনপির দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


বাংলাদেশের সীমান্তে ভাসছিল বিএসএফ সদস্যের মরদেহ

শনিবার সকালে ইছামতি নদীর চর থেকে বিএসএফ সদস্যর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:৫১
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা দেবহাটা উপজেলার হাড়দ্দহায় ইছামতি নদীর চর থেকে এক ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) সদস্যর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার সকালে বিএসএফ সদস্যের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিজিবিকে খবর দেন স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরার শাখরা বিওপি ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নায়েক সুবেদার আনিসুর রহমান জানান, নিহত বিএসএফ সদস্যের নাম মোহাম্মাদ রিয়াজ উদ্দীন (৩০)। তিনি ভারতের ৮৫ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের আওতাধীন সোবাহাম বিএসএফ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নদী ইছামতিতে টহলে বের হন। ওই সময় ঝড় ও বৃষ্টির কবলে পড়ে নৌকাটি উল্টে যায়। টহলে থাকা অন্য তিন সদস্য সাঁতার কেটে কুলে উঠতে পারলেও রিয়াজ ডুবে মারা যান। পরবর্তীতে ইছামতির বাংলাদেশ সীমান্তের পাড়ে মরদেহ ভাসতে থাকে। বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ উদ্যোগে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিএসএফ সদস্যদের কাছে মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সানবির হাসান মজুমদারও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়:

গজারিয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় নারী পথচারী নিহত

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৮
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সড়কের গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াদ হোসেন।

নিহতের নাম সীমা আক্তার (২৮)। তিনি গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের টেংগারচর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার মিয়ার মেয়ে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দ্রুত গতির একটি অটোরিকশা পথচারী সীমা আক্তারকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই রিয়াদ বলেন, ‘মরদেহ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আমরা অটোরিকশাটি শনাক্তের চেষ্টা করছি।’


নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় শারমীন আক্তার (৩০) নামে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়নে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শারমিন আক্তার সাটুরিয়ায় ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি এলাকার মো. মনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার দিকে সাটুরিয়া কৃষি ইনস্টিটিউটের পাশে শারমীন আক্তারের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের গলায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্যা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে তাকে জবাই করে হত্যা করা হতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিষয়:

মোংলায় ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবোচরে আটকা লাইটার জাহাজ

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:২৪
বাগেরহাট প্রতিনিধি

মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকায় ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে তলা ফেটে ডুবোচরে আটকা পড়েছে এমভি ইশরা মাহমুদ নামক একটি লাইটার জাহাজ।

জাহাজটি কয়লা বোঝাই করে শনিবার সকালে যশোরের নোয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে মোংলার পশুর নদীর কানাইনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসময় জাহাজটির চালক নৌযানটিকে নদীর তীরে উঠিয়ে দেয়ায় জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সহ-সভাপতি মাইনুল হোসেন মিন্টু জানান, মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া-৬ নম্বর এলাকায় অবস্থানরত এমভি পারস নামক একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে এমভি ইশরা মাহমুদ লাইটারটি। শনিবার সকালে লাইটারটি ছেড়ে যায় নোয়াপাড়ার উদ্দেশে। পশুর চ্যানেলের কানাইনগর এলাকায় ডুবোচরে আটকে তলা ফেঁটে যায় লাইটারটির। দ্রুত চালক নৌযানটিকে নদীর তীরে উঠিয়ে দেয়। এতে লাইটারটি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপটেন শাহীন মজিদ জানান, লাইটার জাহাজটি পশুর নদীর জাহাজ চলাচলের মূল চ্যানেলের বাইরে থাকায় অন্যান্য জাহাজ বা নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বিষয়:

ভালো নেই মৃৎশিল্পের কারিগররা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাজুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া)

কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন ব্যবহার কমছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মাটির তৈরি এসব জিনিসের বদলে বাজার দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকসহ অন্যসব সামগ্রী। তাই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক পণ্যই হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাটির তৈরি কিছু তৈজসপত্র এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। শহরবাসীর দালান-কোটা সাজাতে মাটির তৈরি নানা ফুলদানির কদর রয়েছে এখনো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার যমুনা তীরবর্তী ধাপ এলাকার ওই পল্লীর গোপাল চন্দ্র পালের স্ত্রী শ্রীমতি সন্ধ্যা রানী ও অমিল চন্দ্র পালের উঠানজুড়ে রয়েছে হাঁড়ি-পাতিল, কড়াই, মাটির ব্যাংক, পিঠা ভাজার খাঁচ, দইয়ের বাটিসহ ছোট-বড় নানা রকমের পাত্র। একাধিক বয়স্ক নারী-পুরুষ কারিগররা তাদের নিজ হাতে মাটি দিয়ে তৈরি করে শিল্পকর্মগুলো খুব যত্নসহকারে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ তাতে রঙের কাজও করছেন। আর তাদের সাহায্য করছে পাড়ার ছোট ছোট বাচ্চারা। এ সময় কথা হয় গোপল চন্দ্র পালের সঙ্গে তিনি এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। অল্প কাজ করতেই হাঁপিয়ে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, ২০ বছর আগেও এ উপজেলায় মৃৎশিল্পের দাপট ও কদর ছিল। তখন উপজেলার অনেক পরিবার মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করত। ওই সময় গোটা উত্তরাঞ্চলে চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাটির তৈরি এসব তৈজসপত্র সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে এ উপজেলায় ধাপ এলাকার পাঁচ-সাত ঘর পরিবার মৃৎশিল্পের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। আগের মতো চাহিদা আর পারিশ্রমিকের ন্যায্যমূল্য না থাকায় এ পেশার লোকজন অত্যন্ত দুঃখ-দুর্দশা আর হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় অন্য পেশায় তেমন খাপ খাওয়াতে পারছেন না তারা। কম লাভ জেনেও শুধু পারিশ্রমিকের আসায় বাপ-দাদার পুরানো ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো মাটি দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের হাঁড়ি, সরা, কলস, বাসন, মুড়ি ভাজার খোলা, কোলা, ভাটি, পিঠা তৈরির খাঁজ ইত্যাদি।

তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী পাল বলেন, আগের তুলনায় মাটির হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা কম। কম তৈরি করছেন, বিক্রিও কম। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ কাজ করে রোজগারের টাকা বাঁচিয়ে তিনি তার এক কন্যাসন্তানকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করিয়েছেন। এখন অর্থের অভাবে পরবর্তী শিক্ষা শেষ করাতে পারবেন কি না তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি কিংবা স্থানীয় মেয়র-কাউন্সিলরদের কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অমিল চন্দ্র পাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, জন্ম থেকেই তিনি এ পেশায় জড়িত আছেন। বাপ-দাদার পেশাকে ধরে রাখতেই তারা এ পেশাকে আঁকড়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, আগে কলাগাছের পাতা দিয়ে মাটির তৈরি তৈজসপত্র পোড়ানো হতো। কিন্তু এখন তা আর পাওয়া যায় না। কাঠের গুঁড়া দিয়ে তাদের পোড়ানোর কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে। তা ছাড়া যে মাটি এক হাজার টাকায় কিনত বর্তমানে সেই মাটি ও জ্বালানির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। শুধু বাড়েনি কুমোরদের পারিশ্রমিক। এখন তাদের টিকে থাকার আর কোনো রাস্তা নেই। এই কাজে হাড়ভাঙা খাটুনি অথচ আয় নামমাত্র। খরচ বাদ দিয়ে যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে খেয়েপরে বেঁচে আছেন। পরবর্তী বংশধরদের জন্য যে কিছু রেখে যাবেন, সে ব্যবস্থাও নেই তাদের। সন্তানরা এখন শিক্ষিত হয়ে এ পেশাকে পরিবর্তন করে জড়িয়ে যাচ্ছে অন্য পেশায়। তারপরও তারা তাদের এই পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন।

কথা হয় ইবুতি মোহন পালের স্ত্রী চায়নার সঙ্গে। তিনি বলেন, নিজের এলাকায় মৃৎশিল্প তৈরির মাটি না পাওয়ায় বগুড়ার মাটিডালি থেকে মাটি সংগ্রহ করতে প্রতি ট্রাকের খরচ হিসেবে আট হাজার টাকা দিতে হয়। তবে পণ্যের চাহিদা কম থাকায় এনজিও থেকে বেশি সুধে ঋণ নিয়ে তারা কোনোমতে নুনভাত খেয়ে বেঁচে আছেন।

শ্রী অমিল চন্দ্র পালের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র উজ্জ্বল কুমার পাল বলেন, তিনি কাজীপুর সরকারি মুনসুর আলী কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র। তার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে তার পড়াশোনার খরচ দিয়েছেন। লেখাপড়া শেষ করে বাপ-দাদার পেশাকে বাদ দিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চান।


রৌমারি: ১০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষক ৫ জন

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:৫৭
মাসুদ রানা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দের অর্থ কাজ না করে আত্মসাৎ, সভাপতির স্বাক্ষর জাল করা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পাঠদানে অনীহা, প্রতিষ্ঠাতার নাম পরিবর্তন ও বিদ্যালয় অন্যত্র নেওয়ার পাঁয়তারাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলমের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ঘটনাটি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলার ধনারচর সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলম প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী শিক্ষক। পরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পদ পেয়ে নানা অনিয়ম করে আসছেন। এসব অনিয়মের অভিযোগ দিলেও আমলে না নিয়ে অর্থের মাধ্যমে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামছুল আলমের পক্ষে সাফাই গাইছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নানা অভিযোগ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। এর ফলে সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ১২ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, ২য় শ্রেণিতে ১৪ জন, ৩য় শ্রেণিতে ১০ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৯ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন, এখন পর্যন্ত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬১ জন রয়েছে; কিন্তু বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। আর তাদের পড়ানোর জন্য বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোছা. হোসনে আরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দের স্লিপ, রুটিন মেইনটেন্স, ক্ষুদ্র-মেরামতের অর্থ দিয়ে কাজ না করে আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলম। আমার স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সময়ে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে কাজ না করে আত্মসাৎ করেন। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে হুমকিসহ সভাপতি পদ বাতিল করবেন বলে জানায় প্রধান শিক্ষক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেন না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে তিন দিন উপস্থিত হন। বাকি দিনগুলো তিনি বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকেন। তিনি উপস্থিতি না হয়েও হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর করেন বলে আমাকে অভিযোগ করেছে শিক্ষকরা। আমি নিজেও দেখেছি তিনি স্কুলে উপস্থিত থাকেন না; কিন্তু এসব অভিযোগের সঠিক তদন্ত না হওয়ায় তিনি এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং তার এমন অপকর্মের জন্য স্কুলে দিন দিন ছাত্রছাত্রী কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রী জীবন নাহার একই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে থাকায় তারা ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকে সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাশের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যা শূন্যের কোঠায়। বর্তমানে সব ক্লাস মিলে উপস্থিতি হয় ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী। তাই দ্রুত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রীকে বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করে দেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রপ্ত) শামছুল আলম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে নানা সময়ে সহকারী শিক্ষকরা এবং কিছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও সভাপতি মিথ্যা রটাচ্ছেন। আমার ব্যক্তিগত কারণে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ায় শিক্ষার্থী কমছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি দূরবর্তী হওয়ায় উপস্থিতি কমছে। আর বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করিনি বরং সঠিকভাবে কাজ করেছি। কারও স্বাক্ষর জাল করেনি।’

কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না এ বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়টি সরেজিমন গিয়ে দেখেছিলাম এবং সমস্যাগুলোর কথা শুনেছি। এখন দেখেশুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, তাদের পারিবারিক সমস্যা বেশি। কারণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি, তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক ও ভাতিজি সহকারী শিক্ষক এবং সভাপতি ভাতিজার স্ত্রী। এসব কারণে তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার আমলে এসব বরাদ্দ হয়নি। তাই বলতে পারব না।’

বিষয়:

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় চলছে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)

১০০ শয্যাবিশিষ্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোর উন্নয়ন দেখলে মনে হবে ভেতরে বেশ ভালোই চলছে এর চিকিৎসাসেবা। তবে সেখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসছেন, তাদের বেশিরভাগ বাড়ি ফিরছেন মুখ ভার করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য সরকার চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সবকিছুর জোগান দিলেও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের উদাসীনতা, সময়মতো না আসা, অনিয়মিতভাবে ডিউটি করার কারণে রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। এ ছাড়াও রয়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য। যন্ত্রপাতি থাকলেও এখানে হয় না প্যাথলজির পরীক্ষা। কোটি টাকা দিয়ে সরকারের কিনে দেওয়া ডিজিটাল এক্সরে মেশিন আছে বাক্সবন্দি, একই অবস্থা কোটি টাকার অত্যাধুনিক জেনারেটর মেশিনটিরও- সেটিও রয়েছে বাক্সবন্দি অবস্থায়। হাসপাতালে রোগীদের টয়লেটের অবস্থা নাজুক। দুটি টয়লেট তালাবদ্ধ রাখায় একটিতেই যেতে হচ্ছে নারী-পুরুষ রোগীদের। রোগীদের দুর্দশা ও ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার হওয়ায় হাসপাতালটিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় চিকিৎসার সব আধুনিক সরঞ্জামাদি। অন্যান্য ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে জনবলও এখানে অনেক বেশি। ধাপে ধাপে চিকিৎসক বাড়িয়ে এখন কর্মরত রয়েছেন ২৪ জন চিকিৎসক। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলেও আছেন কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, মেডিসিন, গাইনি, শিশু বিভাগের চিকিৎসকসহ অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ। আছেন দাঁতের চিকিৎসক। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিন কোটালীপাড়া হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ২৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি চিকিৎসকদের এক সপ্তাহেও দেখা পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দুই-তৃতীয়াংশ চিকিৎসক একসঙ্গে কী করে অনুপস্থিত থাকেন, মেলেনি তার কোনো সদুত্তর।

চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীরা অসহায় : গত রোববার সকালে সরেজমিনে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লেবার ওয়ার্ডে গিয়ে কথা হয় আঁখি ঢালী নামে এক সন্তানসম্ভবা রোগীর সঙ্গে। তার বাড়ি উত্তর কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দি গ্রামে। এর দুদিন আগে শুক্রবার সকালে গর্ভকালীন জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ে কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি। দুদিন ধরে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন। আঁখির স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ডাক্তারের সাক্ষাৎ পাননি। তারা বলেন, শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করে হাসপাতালের বাইরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ঝুমা পালের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।

একই অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি কোটালীপাড়ার শুয়াগ্রামের চম্পা মজুমদারের স্বামী বিভূতি বল্লভ। তিনি বলেন, ডাক্তাররা ওয়ার্ডে আসেন না। কোনো সমস্যা দেখা দিলে রোগীদের নিচতলায় জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করে গত শনিবার ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান উপজেলার বান্ধাবাড়ী গ্রামের খাদিজা বেগম। খাদিজা বেগমের স্বামী গাউস গোলদার জানান, দুদিন হলো ভর্তি হয়েছি। তেমন কোনো সেবা পাচ্ছি না। ওষুধ ও টেস্ট সব বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। তেমন কোনো উন্নতিও হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি থেকে কী লাভ? তাই নিজেরাই নাম কেটে চলে যাচ্ছি।

গত রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে গাইনি ওয়ার্ডে ছুটে আসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রাজিব রায়। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

হাসপাতালটিতে কর্মরত ৩২ জন নার্স। বেশিরভাগ নার্সই ঠিকমতো ডিউটি করেন না বলে অভিযোগ রোগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা বলেন, নার্সদের ডাকলেও সময়মতো পাওয়া যায় না। একাধিকবার ডাকলে তারা বিরক্তি প্রকাশ করেন।

চিকিৎসাসেবায় মানা হচ্ছে না সময়সূচি

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আউটডোরে রোগী দেখার নিয়ম থাকলেও সাড়ে নয়টার আগে খোলা হয় না টিকিট কাউন্টার। ডাক্তাররাও আসেন আরও পরে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসককে (জুনিয়ার কনসালট্যান্ট মেডিসিন) ডেঙ্গুকালীন সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন হাসপাতালে প্রেষণে পাঠানো হয়। রোববার সরেজমিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায় মাত্র ৫-৬ জন চিকিৎসককে রোগী দেখার কাজে নিয়োজিত। রোগীর চাপ থাকায় এসব চিকিৎসককে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছিল। কোটালীপাড়ায় ১১টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দূরবর্তী ৮টি কেন্দ্রে চিকিৎসক পদায়ন আছে। কিন্তু ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদায়নকৃত চিকিৎসকরা কখনও যান না। ইউনিয়নের কেউ কখনও ওইসব উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা পান না বলে ইউনিয়নবাসী অনেকের অভিযোগ।

একটি সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চিকিৎসকরা কেবল কাগজে-কলমে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্তব্য পালন করছেন বলে দেখাচ্ছেন। বাস্তবে তারা এসব উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বরাবরই অনুপস্থিত থাকেন।

শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যজ্ঞেশ্বর বৈদ্য অনুপ অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা সেখানে আসেন না। পদায়নকৃত চিকিৎসকরা স্ব স্ব উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিৎসা দিলে দরিদ্র অসহায় মানুষদের দূর-দূরান্ত থেকে অর্থ ব্যয় ও কষ্ট করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হতে হতো না।

এসব বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেন গুপ্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে বাক্সবন্দি

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক যুগ আগের এনালগ এক্সরে মেশিনে সনাতনি পদ্ধতিতে নামমাত্র চলছে এক্সরের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তবে রোগীদের অভিযোগ, প্রায় সময় নষ্ট থাকে মেশিনটি। কোনো রিপোর্ট দেওয়া হয় না। রোগীদের ধরিয়ে দেওয়া হয় শুধু এক্সরে ফিল্ম। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে কোটি টাকা মূল্যের পোর্টেবল ডিজিট্যাল এক্সরে মেশিন। সেই অত্যাধুনিক মেশিনটি ৬-৭ বছর ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে, যা কোনো কাজে লাগছে না। এক্সরে করার জন্য নিয়োজিত রয়েছে ২ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও অ্যান্ড ইমেজিং)। একই অবস্থা ডিজিটাল জেনারেটর মেশিনেরও। কোটি টাকা মূল্যের জেনারেটর মেশিনটি ব্যবহার না করে বাক্সবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে বছরের পর বছর। এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতালে ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী কর্মচারীর অভিযোগ, তার ধারণা- জেনারেটর ব্যবহার না করলেও ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে তেলের বিল তোলা হচ্ছে। তবে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডেন্টাল ইউনিটটি তেমনভাবে কার্যকর নয়। ডেন্টাল সার্জন ডা. নাজিয়া ইয়াসমিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে যন্ত্রপাতিহীন একটি ফাঁকা কক্ষে বসে চিকিৎসা দেন। অথচ পুরাতন ভবনে দাঁতের চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ একটি ডেন্টাল ইউনিট রয়েছে। তবে সেটি বর্তমানে স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বন্ধ রয়েছে প্যাথলজি পরীক্ষা

১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে প্যাথলজি পরীক্ষার যন্ত্রপাতিসহ সব উপকরণ থাকলেও বন্ধ রয়েছে এই সেবা। শুধু থেরোলজি কিছু পরীক্ষা হচ্ছে নামমাত্র। যেকোনো রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য প্যাথলজির সিবিসি, আরবিএস, এইচবিএস এজি, ইউরিন আরই, ভিডিআরএল, ক্রস ম্যাচিংয়ের মতো নরমাল রোগ নির্ণয় পরীক্ষাও এখানে না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রোগীরা। এখানে সব সুবিধা থাকার পরও তা কার্যকর না থাকায় প্যাথলজির সব টেস্ট হাসপাতালের সামনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করতে হচ্ছে। অথচ এখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) হিসেবেও ৩ জন টেকনিশিয়ান কর্মরত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে এখানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) কনিকা রায় বলেন, আসবাবপত্রের অভাবে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্যাথলজির সরঞ্জামাদি স্থাপন করতে না পারায় বন্ধ রয়েছে এই সেবা। তবে রোগীদের অভিযোগ, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

নামমাত্র চলে অপারেশন থিয়েটার

গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট থাকলেও তারা নিয়মিত অফিস করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যানুযায়ী জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে দুই দিন ওটি করা হয়। জানুয়ারি মাসে ৯টি সিজারিয়ান অপরেশন ও ২৭টি নরমাল ডেলিভারি করা হয়। সাধারণ দরিদ্র রোগীরা হাসপাতালে ওটির সুযোগ পান না। সাধারণত বিশেষ শ্রেণির মানুষ ও হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিচিতজনরা এ সুবিধা পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বামী জানান, অনেক চেষ্টা করেও এখানে সিজার করাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে তার স্ত্রীকে সিজার করাতে হয়েছে।

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪টি প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে গড়ে প্রতিমাসে প্রায় ২০০-এর অধিক সিজার অপারেশন হয়। হাসপাতালের কর্মকর্তার যোগসাজশ ও দালালদের দৌরাত্ম্যের ফলে রোগীরা হাসপাতালে সিজার অপারেশনের সুযোগ পায় না বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।

রোগীদের টয়লেটের বেহাল দশা

হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪ তলায় রয়েছে পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড। এই ৩ ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য রয়েছে ৪টি টয়লেট। তবে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় দুটি টয়লেট রয়েছে স্থায়ী তালাবদ্ধ। একটি টয়লেট হাসপাতালের স্টাফরা ব্যবহার করেন। এটিও তালাবদ্ধ থাকে। অপর ১টি মাত্র টয়লেট পুরুষ-মহিলা সব রোগীকে একসঙ্গে ব্যবহার করতে দেখা যায়। রোগীদের ব্যবহারের টয়লেটটি ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর দেখা যায়। মনে হবে একটি ডাস্টবিনের ভাগাড়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা রোগী আক্ষেপ করে বলেন, অনেক মহিলা পর্দা করেন। তারা পুরুষদের সঙ্গে একই টয়লেটে কীভাবে যাবে? তাছাড়া টয়লেটটি ঠিকমতো পরিষ্কার না থাকায় দুর্গন্ধে যাওয়া যায় না। তাই অনেক মহিলা রোগী বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বাড়িতে যায়।

এ ব্যপারে ডিউটিরত একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, দুই মাস ধরে টয়লেট দুটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইউএইচএফপিও ম্যাডাম বলতে পারবেন।

রোগীদের টয়লেট তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালপ্রধান (ইউএইচএফপিও) ডা. নন্দা সেন গুপ্তা বলেন, রোগীরা ঠিকমতো টয়লেট ব্যবহার করতে জানে না। টয়লেট দুটি তাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এখনো এগুলো পরিষ্কার করতে না পারার কারণে ২ মাস ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে রয়েছে অনিয়ম

সরকারি নিয়ম অনুসারে হাসপাতালের সব বিল অটোমেশন পদ্ধতিতে হওয়ার কথা। তবে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানা হচ্ছে না সে নিয়ম। শুধু রোগীদের টিকিট অটোমেশন পদ্ধতিতে হলেও রোগীদের কেবিন ভাড়া, এক্সরে, আলটাসনোগ্রাফি, ইসিজি ইত্যাদি পরীক্ষার বিল নেওয়া হয় হাতে লেখা রশিদের মাধ্যমে। এ ছাড়া হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুবিধার জন্য ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে ১৫ মিনিট সময় কমিয়ে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

কোটালীপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ দাড়িয়া অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেন। এরপর ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করা হয়। ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগের থেকে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সবকিছু থাকার পরও চিকিৎসকদের উদাসীনতার কারণে রোগীরা সেবা না পেয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে ও জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যারা আছেন তারা বাসা ও প্রাইভেট ক্লিনিকে প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেক রোগী জানেন না, কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। হৃদরোগের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন- আমি নিজেও জানি না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সব ব্যবস্থা করলেও এ যেন কাজির গরু কিতাবে আছে, কিন্তু গোয়ালে নেই এমন অবস্থা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার অদক্ষতাকে এ জন্য দায়ী করেন তিনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী এলাকায় ২টি ১০০ শয্যার হাসপাতাল। একটি টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় অন্যটি কোটালীপাড়া উপজেলায়। টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা হাসপাতালে ওখানকার রোগীরা যে সেবা পাচ্ছে, আমরা তার ছিটেফোঁটাও পাই না। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভোটারদের চিকিৎসাসেবার জন্য কোটালীপাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ দিয়েছেন। শুধু একজন স্বেচ্ছাচারী ও অদক্ষ কর্মকর্তার কারণে সাধারণ রোগীরা বঞ্চিত রয়েছেন সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে।

এসব অভিযোগের বাইরে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেন গুপ্তা বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার বিষয়ে ইতোমধ্যে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি বাক্সবন্দি থাকার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা চলমান থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। রোগীদের অভিযোগ ও গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ পাত্তা দিতে নারাজ তিনি।

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয় অবগত রয়েছেন কি না জানতে চাইলে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জিল্লুর রহমান জানান, কোটালীপাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও হাসপাতালপ্রধানের দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

বিষয়:

৪৩ জনকে নিয়ে উল্টে গেল পিকনিক বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:১৫
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ৪৩ আরোহী নিয়ে একটি পিকনিক বাস উল্টে গেছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের এলাকাধীন ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া নামক স্থানের স্টিল ব্রিজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম।

স্থানীয়রা জানান, স্টিল ব্রিজের সামনে একটি পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপরে উল্টে যায়। এতে ওই বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১৩ জন যাত্রী আহত হন। এসময় সড়কের উভয় পাশে যানজট লাগে। বাসের যাত্রীরা সকলেই চট্টগ্রাম মহানগর হতে কাপ্তাইয়ে পিকনিক করতে যাচ্ছিলেন।

ওসি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বাসে ৪০ থেকে ৪৩ জনের মতো যাত্রী থাকতে পারে। আহত হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কাপ্তাই নৌবাহিনী হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালের নেয়া হয়েছে।’


চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে চাঁপাইনবাগঞ্জ পৌরসভার বটতলাহাট মালোপাড়া এলাকায় রাস্তাপারাপারের সময় বালুবাহী ট্রাকে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান খায়রুন নেসা (৬৫) নামে এক নারী।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ সড়কের শিবতলা মোড়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে ৮ বছর বয়সী রাফি নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মিন্টু রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আইনী প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।


আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাজ্জাদ হোসেন শিমুল, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য রাসেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রাসেল উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি পরমতলা গ্রামের মৃত সফিকুল ইসলাম (সফু) মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার পরমতলা গ্রামের মোহাম্মদ আলী চট্টগ্রামে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘর না থাকায় তিনি চট্টগ্রামে বস্তিতে বসবাস করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়া হচ্ছে শুনে মুরাদনগর গ্রামের বাড়িতে আসেন এবং ইউপি সদস্য রাসেল মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাসেল ঘর দেওয়ার কথা বলে মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেন। এরপর ঘর দেব, দিচ্ছি বলে রাসেল মুন্সী এক বছর ধরে নানান তাল-বাহানা করে আসছেন।

অবশেষে আশ্রয়ণের ঘর না পেয়ে গত ৩০ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোহাম্মদ আলী।

টাকা লেনদেনের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাসেল মুন্সি বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি। মোহাম্মদ আলী আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণের ঘর দেওয়ার নামে রাসেল মেম্বারের টাকা নেওয়ার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

অন্যদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের টাকা না দেওয়ায় নিলুফা আক্তারকে ঘর বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে ধামঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে।

নিলুফা আক্তার বলেন, ‘আমি ঘরের জন্য টাকা দিতে না পারায় আমার নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও ঘর পাইনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি ভূমিহীন অসহায় পরিবার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির যতগুলো আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দিয়েছেন, প্রতিটি ঘর থেকে ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। টাকা ছাড়া কাউকে কোনো ঘর তিনি দেননি। এ বিষয়ে আব্দুল কাদিরের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মুরাদনগর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাসরিন সুলতানা নীপা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


কোটালীপাড়ায় পরীক্ষামূলক বার্লি চাষ

হতে পারে গমের বিকল্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া

গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জেলাগুলোতে গমের বিকল্প খাদ্য হিসেবে বার্লি চাষের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড)।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অবস্থিত বাপার্ড এ বিষয়ে নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে বাপার্ড তাদের একাডেমির কৃষি প্লটে পরীক্ষামূলকভাবে বার্লি চাষের ওপর প্রায়োগিক গবেষণা শুরু করেছে।

বাপার্ডের যুগ্ম পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ তোজাম্মেদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি বার্লি-৫, বারি বার্লি-৬, বারি বার্লি-৭, বারি বার্লি-৮ ও বারি বার্লি-৯ এই ৫ জাতের বার্লি আরসিবিডি পদ্ধতিতে ছোট আকারে ২০টি প্লটে বিভিন্ন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ট্রায়াল দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই ট্রায়ালে আমরা সফল হয়েছি। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খায়, কোন জাতটিতে পোকা-মাকড় রোগ-ব্যাধি কম এবং ফলন বেশি হয় আমরা সে জাতটি বেছে নেব। এই জাতের বার্লি চাষাবাদে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করব।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের কৃষিকে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত কৃষি থেকে কৃষকদের নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

বাপার্ডের পরিচালক (কৃষি) মো. মাহমুদুন্নবী বলেন, বার্লি কিছুটা লবণাক্ততা সহনশীল ফসল। রবি মৌসুমে বার্লির চাষ করা হয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে শীতকাল কম স্থায়ী হয়। এই শীতকালে অন্যান্য ফসল কম হলেও বার্লির চাষ ভালো হয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বার্লির চাষ বাড়ানো সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি এ অঞ্চলে বার্লিনির্ভর অনেক শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু ও মাটি বার্লি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কারণ বার্লি রবি মৌসুমের ফসল। এই বার্লি অনুর্বর জমিতেও চাষ করা যায়। ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই চাষিরা বার্লি ঘরে তুলতে পারেন। এটি চাষাবাদে খরচও কম। তাই বার্লি চাষে কৃষকদের এগিয়ে আসা উচিত।

বাপার্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বোরহানুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের বিলুপ্ত প্রজাতির ফসলগুলো গবেষণার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ পালনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বার্লি চাষের জন্য আমরা প্রায়োগিক গবেষণা শুরু করেছি। ইতোমধ্যে অনেকটা সফলও হয়েছি। আমরা আমাদের সফলতা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেব।’


দেবীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি সেতুর নিচ থেকে আঞ্জুয়ারা বেগম (৫৯) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠি হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের পাবনাল সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, মৃত আঞ্জুয়ারা ঠাকুরগাঁও সদরের গড়েয়া নাপাঘাট গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আঞ্জুয়ারা মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী ও ভবঘুরে ছিলেন। সকালে স্থানীয়রা মাঠে কাজ করতে গিয়ে সেতুর নিচে ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে থানায় নেয়। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্যে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

বিষয়:

ঘাটাইলে গ্যারেজ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নাহিদ হাসান (২৩) নামে এক গ্যারেজ মিস্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার জামুরিয়া ইউপির বীর ঘাটাইল এলাকার একটি মোটর সাইকেল গ্যারেজের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাহিদ উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউপির পোয়াকোলাহা গ্রামের ধলা মিয়ার ছেলে। তিনি মেসার্স মনির ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ নামে একটি গ্যারেজের মিস্ত্রী ছিলেন।

স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সকালে ভেকুর কাজ করছিলাম। নাট খোলার জন্য একটি যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। নাহিদের গ্যারেজ বন্ধ দেখে দোকানের কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করি। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হঠাৎ খেয়াল করে দেখি গ্যারেজের একটি শার্টার একটু ওঠানো। শার্টার পুরোটা উঠিয়ে নাহিদের কাছে গিয়ে ডাক দিলে সাড়া মেলেনি। শরীরে হাত দিয়ে ধাক্কা দিলে শরীর শক্ত লাগে। এরপর আশেপাশের লোকদের ডাক দিলে তারা এসে দেখেন নাহিদ মারা গেছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।’

গ্যারেজ মালিক মনির হোসেন ব্যবসার কাজে চট্টগ্রাম অবস্থান করছেন। তার বড় ভাই মনসুর আলী বলেন, ‘নাহিদ তিনমাস ধরে এই গ্যারেজে কাজ করছেন। ঘটনাস্থলে দেখা যায় মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাস ও নম্বর প্লেট পড়ে আছে। স্থানীয়দের ধারণা রাতের কোনো এক সময় চোর মোটরসাইকেল চুরি করে নেয়ার সময় নাহিদ দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হতে পারে।’

ঘাটাইল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু না। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বিষয়:

banner close