শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

পূবাইল থানা আ.লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ছেলের অভিযোগ

জেলার মানচিত্র
আপডেটেড
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২৩:৫২
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২৩:৪৪

গাজীপুরের পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান শিরিষের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জেলা প্রশাসক ও গাজীপুর পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তার বড় ছেলে হাসানুর রহমান রাসেল।

একই সময় রাসেল তার দুই ভাই মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাজিবুল হাসান রাজিব ও হোসাইনুর রহমান রুবেলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেক করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবৎ পুবাইল এলাকায় জমি দখলসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলেন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান শিরিষ ও তার দুই ছেলে। এসব বিষয় জানতে পেরে বড় ছেলে রাসেল তাদের বাধা দিলে তার উপর শুরু হয় শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন। বাবা আজিজুর রহনান শিরিষের নির্দেশে একাধিক বার জোরপূর্বক মাদকসেবী বানিয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) ভর্তি করায় ছোট ভাই রাজিব ও রুবেল। পরে বিভিন্ন ইনজেকশন দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।

রাসেলের দাবি তার বাবা আজিজুর রহমান শিরিষের লালসার শিকার হয়ে সংসার ছেড়েছিলেন তার প্রথম স্ত্রী। এছাড়া তার দুই ছোট ভাই প্রতিনিয়ত তাকে মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করার ঘৃন্য চেষ্টায় লিপ্ত আছে। বর্তমানে তিনি স্ত্রী সন্তানসহ রাসেল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুর রহমান শিরিষ বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অবান্তর। আমার বড় ছেলে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকাসক্ত। আমরা তাকে তিন বার রিহ্যাব সেন্টারে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে বের হয়ে সে আবার উল্টো-পাল্টা শুরু করেছে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছে আমরাও চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক।

বিষয়:

সাংগ্রাই জলউৎসবে শেষ হল বর্ণিল বর্ষবরণের আয়োজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলউৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের বর্ষবরণের আয়োজন। উৎসব ঘিরে পুরো শহরে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার, যেখানে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিত হয়ে অংশ নেন এক বর্ণিল আয়োজনে। রাঙামাটির চিংহ্লামং মারী স্টেডিয়ামে কড়া গোধূলির রোদ রাঙিয়ে দিয়েছে পাহাড়ের ভাঁজ। আর সেই রাঙা দিনে উৎসবের রঙে মেতেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’ উপলক্ষে পুরো রাঙামাটি শহরজুড়ে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার।

সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই মৈত্রী পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে যাবে গত বছরের সব। মঞ্চে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি রঙিন পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। এ ছাড়া শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। গতকাল শুক্রবারের এই উৎসবের আয়োজকরা বলছেন, উৎসবের মাধ্যমে সবার মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করা। তারা মনে করেন, জলকেলি বা সাংগ্রাই কেবল মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়, বরং এটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে মৈতী ও একতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ—সব বয়সি মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মহামিলনমেলায়। আয়োজকদের মতে, সাংগ্রাই শুধু মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধনের এক শক্তিশালী মাধ্যম।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, ‘পার্বত্যাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা জরুরি। কিছু জনগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে, তাদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সংস্কৃতিকে ধারণ ও সম্মান করার মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি। এই উৎসব এখন সকল সম্প্রদায়ের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি।’

মাসসর জলউৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পাইচিং মং মারমা বলেন, ‘পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে সকলের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করাই এই জলউৎসবের মূল উদ্দেশ্য।’


দখল আর অযত্নে বিলীনের পথে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি  

দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বন্ধ থাকা ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি এখন কেবলই স্মৃতি। এক সময়ের কর্মচঞ্চল এই রেললাইনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, ভূ-সম্পত্তি দখল এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অথচ এই পথটি পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

জানা যায়, ​ফেনী জেলার পিছিয়ে পড়া উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠির জেলা সদরের সাথে যাতায়াতের পাশাপাশি ত্রিপুরার বিলোনিয়া হয়ে বাংলাদেশের বিলোনিয়া দিয়ে ফেনী থেকে আসামের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ১৯২৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত ২৮ কি.মি. রেলপথ স্থাপনের জন্য ২৫ গ্রামের ২৭৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনের যোগাযোগ শুরু হয়। এ রেলপথে বন্ধুয়া দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবক্স মুন্সির হাট, নতুন মুন্সির হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনীয়াসহ ৮টি রেল স্টেশন স্থাপন করা হয়।

একসময় এই রেলপথটি ছিল এ এলাকার শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র মাধ্যম। স্বাধীনতার পর এ রেলপথের পাশে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কমতে থাকে এ রেলপথে যাত্রী ও আয়। লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার অজুহাতে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট রেল কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে রেলপথ ও সব স্টেশন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে স্থায়ী ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রেলের মূল্যবান স্লিপার, পাথর এবং লোহার পাত চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই। বন্দুয়া, দৌলতপুর, চিথলিয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম স্টেশনগুলোর ভবন এখন লতাপাতায় ঢাকা। কোনো কোনো স্টেশনের ইটও খুলে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকায় সবগুলো স্টেশানের বেহাল দশা। বন্ধ এ রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনগুলোর অবকাঠামো এখন ধবংসের পথে। এসব স্টেশনে বসছে মাদকের বেচাকেনা আর বখাটেদের নিয়মিত আড্ডা। স্টেশনগুলো দখলে নিয়েছে ভাসমান শ্রমিকরা।

স্থানীয় ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীর হাটের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, রেলের বিশাল ভূ-সম্পত্তির অধিকাংশ ইতোমধ্যে প্রভাবশালীরা দখল করে নানা ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এ রেলপথের দুপাশে বহু গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সব মিলিয়ে ফেনী-বিলোনীয় রেলপথের কোটি কোটি টাকার সম্পদ এখন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া বেশ কিছু রেললাইন উদ্ধারও করা হয়। এসব ঘটনায় লাকসাম জিআরপি থানাসহ আশাপাশের কয়েকটি থানায় মামলা হয়েছে অন্তত ৮টি।

চালু অবস্থায় এই রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্যাংওয়ে ও গ্যাং খালাসী থাকলেও রেলপথটি বন্ধ হওয়ার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন স্থানে বদলী করা হয়।

​ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি শুধু স্থানীয়দের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হতে পারে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকার তাদের অংশের বিলোনিয়া পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন সম্প্রসারণ করেছে। বাংলাদেশের এই ২৮ কিলোমিটার অংশ সংস্কার ও পুনরায় চালু করা হলে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মালামাল সরাসরি উত্তর-পূর্ব ভারতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফেনীর উত্তরাঞ্চলের (ফুলগাজী-পরশুরাম) মানুষের কর্মসংস্থান ও যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

​বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিগত বছরগুলোতে এই রেলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে একাধিকবার সমীক্ষা (Survey) চালানো হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এই লাইনটি সংস্কারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ এখনো শুরু হয়নি।

স্থানীয় পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা আবু ইউসুফ মিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বছরের পর বছর শুধু আশার কথা শুনি। সরকার যদি দ্রুত এই রেলপথটি উদ্ধার না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের নাম মুছে যাবে।

​ফেনী রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রেলের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবে এই রুটটি পুনরায় চালু করার বিষয়টি সম্পূর্ণ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী ইমরান ইমন বলেন, বন্ধ রেলপথটি পুনরায় চালু হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের পাশাপাশি বিলোনীয়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত দুদেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।

​সীমান্তবর্তী এই অবহেলিত জনপদের মানুষের দাবি—রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আবারও যেন ‘ঝকঝক’ শব্দে কেঁপে ওঠে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ফেনীর উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) সুজন ভট্টাচার্য্য বলেন, ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনটি ১৯৯৭ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটা চালু হয়েছিল ১৯২৯ সালে। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাতাশ কিলোমিটার। এ লাইনটিতে তখন ৮-৯ টি স্টেশন চালু ছিল। বর্তমানে লাইনটি বন্ধ আছে। যেহেতু এখানে একটি বৃহৎ স্থলবন্দর আছে পণ্য আনা-নেয়ার ব্যাপারে সাধারণ জনগণ অবশ্যই উপকৃত হতে পারে। এটি চালু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা অবশ্যই জনগণের চাওয়া পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে। এটা সরকারি একটা বিষয়, সরকারের উদ্যোগের বিষয়। জনগণ যদি চায় তাহলে এটা আবার পুনরায় চালু হতে পারে। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনটি অনেক পুরোনো একটি লাইন। দীর্ঘদিন আগে এটি বন্ধ হয়ে গেছে। এবার নির্বাচনের সময় আমরা মানুষকে বলেছি যে এই লাইনটা আমরা চালু করতে চাই। আমরা এ লাইনটি চালু করার জন্য কাজ করবো। কিন্তু ইতোমধ্যে এলাকার কিছু মানুষ বলছেন যে এটি চালু না করে বরং অন্য উন্নয়ন কাজ করতে। কারণ তারা বলছে যে রেললাইন করলে নাকি এটা লোকসান প্রজেক্ট। তারপরও আমরা যেহেতু প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমরা এখনো আছি। রেললাইনতো করবো মানুষের জন্য। মানুষ যদি মনে করে এটার প্রয়োজন আছে তাহলে করবো। যদি মনে করে এটার এখন প্রয়োজন নাই পরে তাহলে পরে করবো আগে অন্য উন্নয়ন কাজগুলো করবো।


দৌলত‌দিয়ার পদ্মায় জেলের জালে ৯১ হাজারের দুই কাতল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী দৌলত‌দিয়ার পদ্মা নদীতে দুই জেলের জালে সাড়ে ২৮ কেজি ও ১৮ কেজি ওজনের দুটি কাতল মাছ ধরা পড়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে দৌলত‌দিয়া মৎস্য আড়তে রেজাউল মন্ড‌ল ও আনু খা’র আড়ত থেকে মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ বিশাল আকৃ‌তির কাতল মাছ দুইটি কিনে নেন।

শাহজাহান জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে জেলে এরশাদ হলদার ও জীবন হলদার তাদের সহযোগীদের নদীতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় পৃথক স্থানে জাল ফেলেন। পরে ভোরের দিকে জাল টেনে তুলতেই দেখেন তাদের দুই জনের জালে এক‌টি করে বড় দুটি বিশাল আকৃ‌তির কাতল ধরা পড়ে। পরে মাছ‌ দুটি বিক্রির জন্য সকালে মৎস্য আড়তে আনলে উন্মুক্ত নিলামে উঠলে সাড়ে ২৮ কে‌জি ওজনের কাতল‌টি ২ হাজার ২০০ টাকা কে‌জি দরে ‌মোট ৬২ হাজার ৭০০ ও ১৮ কে‌জির কাতল‌টি ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ২৮ হাজার ৮০০ সহ মোট ৯১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন।

তিনি আরও জানান, মাছ দুটি বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্নস্থানে অনলাইনে যোগাযোগ করছি। কিছু লাভ পেলেই বিক্রি করে দিবো।


ঝিনাইদহে গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বয় সভা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদারের লক্ষ্যে ঝিনাইদহে এক সমন্বয় সভা হয়েছে। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর কুমার দাশ, স্থানীয় সরকারের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুন্সী ফিরোজা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলকিস আফরোজ প্রমুখ। এ সময় প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার রহিদুল ইসলাম, উপজেলা সমন্বয়কারী এবং প্রোগ্রাম ও ফিন্যান্স সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ঝিনাইদহ জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গ্রাম আদালতে মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের আউটরিচ কার্যক্রমের সঙ্গে গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রচার-প্রচারণা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।


৭০ টাকার বিদ্যুতে ৬৫ কিলোমিটার চলবে ফারহানের এই গাড়ি!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রামের তরুণ প্রকৌশলী কাসমিম আহমেদ ফারহান ‘মার্সেনারি’ নামে একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক কার তৈরি করেছেন। মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ৬০-৬৫ কি.মি. পথ পাড়ি দিতে সক্ষম এই গাড়িটির গতি ঘণ্টায় ৭০ কি.মি. এবং এটি ৬ জন যাত্রী ধারণ করতে পারে।

জানা যায়, নাটোরের বড়াইগ্রামের মাঝগ্রামের তরুণ কাসমিম আহমেদ ফারহান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে নিজ উদ্যোগে মার্সেনারি নামে একটি ইলেকট্রিক ক্রস ওভার কার তৈরি করেছেন। এখন গ্রামের মেঠোপথ ধরে ছুটে চলতে দেখা যায় গাড়িটিকে। গাড়িটির আবিস্কারক ফারহান তার তৈরি করা গাড়িটির নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।

সাশ্রয়ী প্রযুক্তি: গাড়িটি মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ৬৫-৭০ কিলোমিটার চলতে পারে, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে একটি বিশাল সাফল্য।

উন্নত গিয়ার সিস্টেম: এটি দেশে প্রচলিত সাধারণ ই-কারের চেয়ে আধুনিক। এতে ‘ডুয়েল পাত ফোর স্পিড গিয়ার বক্স’ রয়েছে, যার মাধ্যমে ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এবং ডিরেক্ট ড্রাইভ—উভয় মোডেই চালানো সম্ভব।

গতি ও ক্ষমতা: গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার এবং এতে ৬ জন যাত্রী বসার সুবিধা রয়েছে।

মেকানিক্যাল দক্ষতা: ফারহান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হওয়ায় তার কারিগরি জ্ঞানকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন।

ফারহানের দাবি, মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুত খরচে গাড়িটি ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার চলতে পারে-যা বর্তমান জ্বালানি সংকটে সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি অটোমোবাইল সেক্টরে কাজ করে নিজের প্রকল্পকে আরও উন্নত করতে চান তিনি। এক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি তার। স্থানীয়রা বলছেন, ফারহানের তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে অল্প বিদ্যুৎ খরচে চলতে সক্ষম। কম খরচে তৈরি এমন একটি গাড়ি যদি সরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা যায়। তবে তা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। ফারহানের তৈরি ইলেকট্রিক ক্রস ওভার কার বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।

ফারহানের মতো তরুণ উদ্ভাবকদের যদি সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে।


 ‘কৃষক কার্ড’ কৃষি খাতকে স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে: কৃষিমন্ত্রী

আপডেটেড ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৩২
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি  

কৃষি কার্ড দেশের কৃষি খাতকে স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে যিনি প্রধানমন্ত্রী আছেন, তিনিও মরহুম জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তাদের সেই আদর্শ ও বিশ্বাস ধারণ করেন যে- ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৪৫৮ কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আমিন উর রশিদ বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিপ্রেমী সরকার। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই কৃষি কার্ড। এই কার্ড দেশের কৃষি খাতকে আরও স্বাবলম্বী করে তুলবে এবং কৃষকের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করবে। কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা দ্রুত ও সরাসরি সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই কার্ড দেশের কৃষি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি প্রণোদনা পাঠানো হবে। মোট ৫টি শ্রেণিতে (ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়) এই কার্ড দেওয়া হলেও নগদ প্রণোদনা বা টাকা পাচ্ছেন মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা। তবে কার্ডধারী কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও বিমা সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে প্রাক্‌-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফার মধ্যে কৃষি কার্ডের কথা ছিল। অনেকে সমালোচনা করেছিলেন যে নির্বাচনের পর এটি কার্যকর হবে না। কিন্তু ভোটের কালির দাগ মোছার আগেই সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন শুরু করে। এখন কৃষি কার্ড বিতরণ করে নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কৃষিঋণ মওকুফ ও সারের ভর্তুকি দেওয়া শুরু করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ক্ষমতায় আসার পরপরই কৃষকদের স্বার্থে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, এ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষক, আর তাদের অর্থনীতি চাঙা হলেই দেশের অর্থনীতি চাঙা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবেন কৃষকেরা। তাই কার্ডটি যত্ন করে রাখবেন।’

মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কৃষকের ওপর অন্যায় করে এখন আর কেউ পার পাবে না। এ দেশ ১২ মাসের ফসলের দেশ; কৃষি শক্তিশালী হলে আমাদের আর কারও কাছে ভিক্ষা করার বা ঋণের জন্য হাত পাতার প্রয়োজন হবে না।’

অনুষ্ঠানে কৃষি কার্ড পেয়ে স্থানীয় গাজীপুর গ্রামের কৃষাণী সালমা আক্তার বলেন, ‘আমার ঘাম আর পরিশ্রমের একটা মূল্য আছে। আমি শুধু একজন গৃহিণী না, আমি দেশের খাদ্য উৎপাদনকারী একজন কৃষক। এই কার্ড যেন আমার পরিচয়পত্র হয়।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু), জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া প্রমুখ।


কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান: ২৪ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক তিনটি অভিযানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর আওতাধীন বিভিন্ন বিওপি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব না হলেও মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৬ এপ্রিল আনুমানিক দুপুর ১টা ২০ মিনিটে উদয়নগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আতারপাড়া খেয়াঘাটে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৮৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ১৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

এরপর ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে জামালপুর বিওপির শকুন্তলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ দশমিক ৬০০ কেজি গাঁজা এবং ৩৪ বোতল ট্রিপোলিডাইন হাইড্রোক্লোরাইড ও কোডেইন ফসফেট সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১৯ হাজার ২০০ টাকা।

একই দিন ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে চিলমারী বিওপির শান্তিপাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযানে ২০ বোতল মদ, ১ হাজার ৫০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ৪৯০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ও চোরাচালান রোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। জনস্বার্থে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গুলিবিদ্ধসহ ৩ ডাকাত গ্রেফতার, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘটিত ঘটনায় কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বাউরবাগ এলাকার একটি কবরস্থানে ৬-৭ সদস্যের একটি ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করলে ডাকাতরা গুলি ছোঁড়ে। এতে তাদেরই সদস্য সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় আতিককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আটক আতিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ এপ্রিল সিলেটের সিলামসহ হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়া (৪০) ও আশরাফ হোসেন আশরাফুল ওরফে আশাই (২৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।

একই দিন ভোরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ন্তি এলাকার একটি কলা বাগান থেকে দেশীয় তৈরি আরও একটি পাইপগান ও একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট দুটি পাইপগান, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়েরের নেতৃত্বে এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম অভিযানটি পরিচালনা করে।

সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১১টি এবং আতিকের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। আহত আতিক বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


দীর্ঘ ৫০ বছর পর পুনঃ খনন হতে যাচ্ছে শার্শা উপজেলার জিয়া খাল: প্রতিমন্ত্রী আজাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৫০ বছরপর পুনঃ খনন হতে যাচ্ছে জিয়া খাল। ২৭ এপ্রিল যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীতে জিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে উলাাশি এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আল ফরহাদ হোসেন আজাদ। এসময স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, পানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব একে এম শাহাবুদ্দিন।

যশোর জেলা প্রশাসক আশোক হাসান,জেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাডভোকোট সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ,, উপজেলা বিএনপির , সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনসহ প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান মন্ত্রী তারেক জিযাকে স্বাহত জানাতে ও উদ্বোধনের অপেক্ষায় খুশিতে পথচেয়ে বসে আছেন যশোরের শার্শায় দলীয় নেতা কর্মিরাসহ সর্বসাধারন। কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে।


জেলখানায় বসেই ডাকাতির পরিকল্পনা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ১৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ডাকাত দলের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালের একটি বড় অংশ এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৬ মে রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার খোর্দ্দ কাছুটিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। তারা সেখানে কর্তব্যরত চারজন নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ব্যাটারি লুট করে একটি ট্রাকে করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সিগনি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, এই ডাকাতির মূল সমন্বয়ক রুহুল আমিন ও সৈকত। তারা দুজন জেলখানায় বসেই এই চাঞ্চল্যকর ডাকাতির পরিকল্পনা করেন এবং জামিনে বেরিয়ে এসে সহযোগীদের নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন।

তিনি আরও বলেন, নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে টানা অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের একটি যৌথ দল।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুট হওয়া ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, ১০টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পেশাদার ডাকাত এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।


হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ও দুই শিশুর হামে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সবশেষ তথ্যে এ মৃত্যুর খবর জানা যায়।

একই সময়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৯১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৯২ জনের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা হামে আক্রান্ত।

দেশব্যাপী এই রোগের প্রাদুর্ভাব তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কাজনক তথ্য সামনে এলো।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৩৪ জন শিশু ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হাম সংক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া আরও ১৭২ জন শিশু এই রোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে মোট দুই হাজার ৭২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, এই সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুসারে, সারাদেশে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৩৫২ জন সম্ভাব্য হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।


একটি বাঁধেই বদলে যেতে পারে গঙ্গাচড়ার লক্ষাধিক মানুষের ভাগ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার দুই বিপরীত রূপে। শুষ্ক মৌসুমে নদী যেখানে পরিণত হয় ধূধূ বালুচরে, সেখানে বর্ষা মৌসুম এলেই তা ভয়াবহ বন্যা ও তীব্র নদীভাঙনের রূপ নেয়। এই দুই চরম অবস্থার মাঝখানে আটকে পড়ে সারা বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, ভাঙনে বসতভিটা হারানো এবং জীবিকার অনিশ্চয়তায় এই জনপদের মানুষ এখন চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশেষ করে নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার থেকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো আনন্দবাজার, বাগডহরা, মটুকপুর, বিনবিনা, ইচলি, শংকরদহ ও কাশিয়াবাড়ি, চরছালাপাক চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

শুষ্ক মৌসুম এলেই তিস্তার পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। অনেক স্থানে নদী শুকিয়ে গিয়ে বালুচরে পরিণত হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদীতে পানি না থাকায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, মাছের উৎপাদন কমে যায় এবং জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ কাজ হারিয়ে ফেলেন। কৃষকরাও সেচের পানির সংকটে পড়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন,শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না, জমিতে সেচ দেওয়া যায় না। এতে ফসল উৎপাদন কমে যায়।

অন্যদিকে বর্ষা এলেই তিস্তা নদী হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীর ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রতি বছর শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। কেউ হারাচ্ছেন বসতভিটা, কেউ বা হারাচ্ছেন জীবিকার শেষ সম্বল।

৭০ বছর বয়সি প্রবীণ আলতাফ হোসেন বলেন, আমার জীবনের সত্তর বছর তিস্তার ভাঙন আর বন্যা দেখে কেটে গেছে। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত একই চিত্র শুকনো মৌসুমে পানি নেই, আর বর্ষায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বহু সরকার এসেছে, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো স্থায়ী কাজ হয়নি। এখন বয়স হয়ে গেছে, আর বেশি কিছু চাই না। শুধু চাই,একটা বাঁধ নির্মাণ হোক, যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অন্তত শান্তিতে থাকতে পারে।

আউলীয়ার হাট এলাকার শফিকুল (৪৫) বলেন,আমি ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি তিস্তার ভাঙন। আমার বাবাকে নিজের হাতে নয়বার বাড়ি সরাতে হয়েছে। প্রতিবার নতুন করে ঘর বানিয়েছি, আবার নদী এসে তা নিয়ে গেছে। আমাদের জীবনে কোনো স্থায়িত্ব নেই। কখন যে ঘর ভেঙে যাবে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেক প্রতিবেশী এলাকা ছেড়ে চলে গেছে, কেউ শহরে, কেউ অন্য জেলায়। আমরা এখনো এখানে টিকে আছি কষ্ট করে। একটা বাঁধ হলে আমরা অন্তত নিরাপদে থাকতে পারতাম।

নোহালী চর আনন্দবাজার এলাকার স্নাতক শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, শুকনো মৌসুমে নদী হেঁটে পার হওয়া যায়, কিন্তু বর্ষায় নৌকা ছাড়া চলাচল সম্ভব নয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে যায়।

ইচলি গ্রামের স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার জানায়, আমাদের স্কুল নদীতে ভেঙে গেছে। এখন অনেক দূরে গিয়ে পড়তে হয়। বর্ষায় রাস্তা ভেঙে গেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী উন্নয়ন গড়ে ওঠেনি। প্রতি বছর বরাদ্দ এলেও তা টেকসই সমাধান দিতে পারছে না। বর্ষার পানিতে অনেক উন্নয়ন কাজই ভেসে যায়।মিনার বাজার থেকে মহিপুর পর্যন্ত একটি স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণই হতে পারে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একমাত্র সমাধান।

কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই একটি বাঁধ। এতে আমরা নিজেরাই চলতে পারব।

গঙ্গাচড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছি।

এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে নদীতীর রক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিস্তার শুকনো মৌসুমের পানি শূন্যতা এবং বর্ষার ভয়াবহ বন্যায় এই দুই বিপরীত চিত্রে দিশেহারা গঙ্গাচড়ার মানুষ এখন একটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায়। তাদের বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হলে বদলে যাবে এই জনপদের চিত্র, ফিরবে স্বস্তি ও নিরাপদ জীবন।


প্রভিডেন্ট ফান্ডের শত কোটি টাকা বকেয়া, অনিশ্চিত গন্তব্যে হাজারো চা শ্রমিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

দেশের চা-শিল্পের প্রাণ ভোমরা চা-শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার প্রধান অবলম্বন প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) এখন চরম সংকটে। ১৬৭টি চা-বাগানের মধ্যে ৫৮টি বাগানে শ্রমিকদের সঞ্চিত পিএফ-এর বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। ফলে অবসরের পর বা জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে চা-শ্রমিকদের মূল বেতনের ৭.৫% টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য কেটে নেওয়া হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ সমপরিমাণ অর্থাৎ আরও ৭.৫% অর্থ যোগ করে মোট ১৫% টাকা এই তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। এ ছাড়া প্রশাসনিক ব্যয় বাবদ এই মোট অর্থের ওপর আরও ১৫% অর্থ বাগান কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিকদের অংশ ঠিকই কেটে নেওয়া হচ্ছে, অথচ মালিকপক্ষ সেই টাকা সময়মতো তহবিলে জমা দিচ্ছে না।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকের টাকা কেটে নিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ তা দিয়ে ব্যবসা করছে। সময়মতো টাকা জমা না হওয়ায় শ্রমিকরা কেবল দুশ্চিন্তায় নেই, বরং তাদের প্রাপ্য সুদের অংকও কমছে।

ভবিষ্যত তহবিল নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২৮ ফেব্রুয়ারির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ৫৮টি চা-বাগানে পিএফ-এর টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার মেয়াদ বাগানভেদে ৩ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত। শ্রমিক নেতাদের মতে, বকেয়া অর্থের পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে সাম্প্রতিক তৎপরতায় প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।

আলীনগর চা-বাগানের শ্রমিক সত্য নারায়ন জানান, নিয়ম অনুযায়ী অবসরের ৩ মাসের মধ্যে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে ১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কুন্দ বলেন, স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য এই সঞ্চয়টুকুই শেষ ভরসা। সেটি অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বড় ধরনের জীবন সংকট তৈরি হবে।

বাগান মালিকদের পক্ষ থেকে সাতগাঁও চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের লোকসান এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় চায়ের দাম কম হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক (নিয়ন্ত্রক প্রভিডেন্ট) মহব্বত হোসাইন জানান, বকেয়া আদায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। তিনি বলেন, আমরা ৬টি বাগানের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা করেছি এবং ৫৮টি বাগানকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি চলছে।

শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড এই তহবিল পরিচালনা করে। শ্রমিকদের দাবি, তদারকি আরও জোরদার করে প্রতি মাসের টাকা প্রতি মাসেই জমা নিশ্চিত করা হোক, যাতে তাদের শেষ বয়সের সম্বলটুকু রক্ষা পায়।


banner close