দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় লিবিয়ায় গিয়ে আটকে পড়েছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর নয়জন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনরা গত রোববার বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছেন।
আটকে পড়া নয়জন হলেন গন্ডামারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকার শহীদ উল্লাহের ছেলে রুকনুল ইসলাম, নুরুল আমিনের ছেলে মো. মোরশেদুল আলম, আহমদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ কাউছার মিয়া, আবদুল মোনাফের ছেলে আজগর হোসেন, আবদুল মজিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, মৃত অলি আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আশেক ও তার ভাই ইব্রাহিম খলিল, বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর জলদী ৫নং ওয়ার্ডের মৃত ওমর আলীর ছেলে আইয়ুব আলী ও কাথরিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বাগমারা এলাকার আবু আহমদের ছেলে মোহাম্মদ করিম।
আটকে পড়া নয়জনের পারিবারিক সূত্র জানায়, ভালো চাকরি ও কর্মসংস্থানের কথা বলে মানবপাচারকারী দালালেরা তাদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার সন্ত্রাসী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। লিবিয়ার সন্ত্রাসীরা তাদের সেখানে কোনো কাজকর্ম কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেনি, উল্টো তাদের বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন চালায় এবং দেশে স্বজনদের কাছে মোবাইলে মুক্তিপণ দাবি করে।
এদিকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে দেশীয় দালালদের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পাঠানো হলেও ওই নয়জনকে দেশে ফেরানোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বর্তমানে তারা বেনগাজীর শেরা অ্যালবাম নামক এলাকার পাহাড়ে দিন পার করছেন।
সূত্র জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নয়জনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনরা প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, দালালের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়ে নয়জন আটকে পড়ায় তাদের পরিবার প্রশাসনিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিয়ে কাজ করা হবে।
প্রায় এক বছর বাংলাদেশে অবস্থানের পর কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের শিকার হওয়া এক শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিককে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তাদের বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং বিজিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত যাওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, এক যুবক, এক কিশোর ও এক শিশু। দীর্ঘদিন পর নিজ দেশে ফিরতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারই থানার ছয় বাসিন্দাকে বাংলাদেশি পরিচয়ে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন দুই নারী, দুই শিশু ও দুই পুরুষ।
পরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশ্রয় নেন। গত বছরের ২০ আগস্ট সদর থানা পুলিশ তাদের শহরের আলীনগর এলাকা থেকে আটক করে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠায়।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে গত ১২ ডিসেম্বর বিচারক স্থানীয় জিম্মাদার ফারুক হোসেনের জিম্মায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
সেদিন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন ও তার শিশু সন্তানকে সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে গ্রহণ করে বিএসএফ। তবে তার স্বামীসহ বাকি চারজনকে গ্রহণ না করায় তারা বাংলাদেশেই অবস্থান করছিলেন। অবশেষে প্রায় এক বছর পর বুধবার (৮ জুলাই) তাদেরও ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে অতি বর্ষণে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, দোকান ঘর ও আবাসিক এলাকার নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত একটানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পৌর শহরের নিচু এলাকার বসতবাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তার ওপর এক হাটু পানি জমে জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় ব্যাপক দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়। যানবাহনের স্বল্পতা ও রাস্তায় পানি থাকায় পরীক্ষার্থীদের কাপড় ভিজিয়েই পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হয়েছে।
মুক্তাগাছা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাই এ ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূল কারণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু স্থানে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক ও বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কমে গেছে। বিভিন্ন এলাকার রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তা ছাড়া ব্যটারিচালিত অটোরিকশাগুলো পানিতে চালাতে গিয়ে মটর বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে অটোরিকশাচালকরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব তানজীল জানান, পৌরসভার ড্রেন মেরামত ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য পৌর প্রশাসককে মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বিশেষ করে বড় মসজিদ রোডে হাজী শুকুর আলীর নির্মাণাধীন মার্কেট তৈরির নির্মাণসামগ্রী তিন বৎসর যাবৎ রাস্তায় রেখে মার্কেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বৃষ্টি হলেই মার্কেটে তৈরিতে ব্যবহৃত বালু ও সুরকি ভেসে গিয়ে ড্রেন ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তাগাছা বড় মসজিদ, দরিচারিআনী বাজার ও আটানী বাজার রোড এলাকায় রাস্তার ওপর পানি জমে যাওয়ায় মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া, সাধারণ মানুষের দরিচারআনী বাজার ও আটানী বাজারে যাওয়ায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসকের পক্ষে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাছাড়া একজন প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করার পর উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করাও অনেকটা কষ্টসাধ্য।
জলাবদ্ধতার নোংরা পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেন পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কে চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য ৫৫০টি প্লট এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ২৭৯ প্লট বরাদ্দ নির্ধারণ করে বিসিক শিল্প পার্ক কর্তৃপক্ষ।
তথ্য বলছে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিকট গত বছরের ২৮ জুন অধিকাংশ প্লট হস্তান্তর করা হলেও চীনা উদ্যোক্তারা আজও বুঝে নেয়নি প্লট।
দেশীয় উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পূর্ণ না হওয়ায় আজও শুরু করতে পারেনি শিল্প কারখানা স্থাপন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ঋণ ও প্লট বরাদ্দের কিস্তি পরিশোধ করে কারখানা স্থাপনে বিলম্ব হওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
এদিকে চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ধারিত প্লট বরাদ্দ নিয়ে সিরাজগঞ্জ শিল্প পার্কে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিরন্ময় বর্ধন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। ভিজুয়াল বক্তব্য দেওয়া নিষেধ রয়েছে।’ ভিজুয়াল বক্তব্যের বিষয়ে আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজিদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে বক্তব্য প্রদানে। আপনাকে হিরন্ময় বর্ধন বক্তব্য দিতে পারবে না। এ সময় তিনি আরও জানান, যারা এখনও শিল্প পার্ক স্থাপন করেনি, অতিদ্রুত শুরু না করলে, তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে।
এ সময় দেশীয় উদ্যোক্তা রনি জানায়, কেবল ৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে, নেই স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ। পানি, গ্যাস সংযোগ কোনো ব্যবস্থা নেই, প্লটগুলোর মাটির কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আগামী চার বছরেও কারখানা চালু করতে পারব কি না বলতে পারছি না। ব্যাংক ঋণ ও প্লট বরাদ্দের কিস্তি পরিশোধ করে কারখানা স্থাপন করে কীভাবে উৎপাদনে যাব এ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।
সূত্র বলছে, স্থানীয় উদ্যোক্তারা রয়েছে চরম হতাশায়। গত বছর ঘটা করে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিসিক শিল্প পার্কের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু একটা সময় চীনা কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও, সম্প্রতিক সময়ে আর কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি বিসিক কর্তৃপক্ষ।
বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের কাছে বর্তমানে চীনা উদ্যোক্তাদের কী অবস্থা, তাদের সঙ্গে প্লট বরাদ্দের কোনো চুক্তি হয়েছিল কি না, যদি না করা হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান অগ্রগতি কী? প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, একটা সময় তাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল, এজন্য প্লট নির্ধারণ ছিল। তারা প্লট নিবে কি না, তা জানার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তারা যদি প্লট না নেয় তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের দেওয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের প্লট এলাকার বিভিন্ন স্থানে গর্ত হয়ে আছে, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম এবং নকশার ত্রুটি থাকায় প্রকল্পের মাঝখানে ২০ একর পুকুর পড়ে আছে, কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করেও ইজারা হয়নি, প্রকল্প শেষের দুই বছরেও হয়নি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ লাইন।
ফ্যাসিস্ট আমলের প্রভাবশালী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরাফাত কনস্ট্রাকশনসহ একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি সত্ত্বেও শতভাগ বিল দেওয়া হয়; এতে প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন ও প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদের যোগসাজশ রয়েছে বলে বিসিকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। শিল্প পার্ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা তথ্য উঠে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ইউনুস সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামও। সূত্র বলছে, বিসিক চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্তৃপক্ষ।
তবে অনুসন্ধান বলছে, ২০২৪ সালে শিল্প পার্কের নির্মাণ কাজ নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। যেখানে হেরিং বোন বন্ডে নিম্নমানের অর্ধাংশ ইট ব্যবহার, নিম্নমানের ইট দিয়ে খোয়া তৈরি, টেন্ডার শর্তের বাইরে কাজ করা, কার্পেটিংয়ের কাজ ৭৫ মি.লি. ধরা থাকলেও কোথাও ৬০ মি.লি. থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ মি.লি. কার্পেটিং করার বিষয়টি উঠে আসে। সে সময় সাববেজের মান নিয়েও নানা অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বছরের ব্যবধানে ব্যবহারের আগেই প্রায় শত কোটি টাকার রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের জুন মাসে প্রায় ২শ কোটি টাকার বিল দেয় বিসিক কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্তে নামে দুদক এবং বিসিক। দুর্নীতি দমন কমিশন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। তবে ওই তদন্ত নিয়েও কিছু জানা যায়নি। ২০২৫ সালের ১৬ আগষ্ট বিসিক শিল্প পার্কের প্রধান পরিচালক আব্দুল মতিন ও বিসিক শিল্প পার্কের একাধিক কর্মকর্তা প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদেরকে বিসিকের ড্রেন, ড্রেনে ব্যবহৃত মালামাল, রাস্তার পুরুত্ব, রাস্তায় ব্যবহৃত মালামাল ও প্রকল্প এলাকার বালু ব্যবহার করে সাববেজ ও সোলডারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ সময় তড়িঘরি করে গাড়িতে উঠে চলে যান তারা।
সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ড্রেন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান ও রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স লি.-কে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ বাস্তবায়ন না করার কারণে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। যদিও তা আজও আদায় করতে পারেনি বিসিক।
যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজার অংশ নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্প পার্কটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েক দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি করে সর্বশেষ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। শিল্প পার্কের ৮২৯টি প্লটে কমপক্ষে ৫৭০টি শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে।
নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত ১১টি পরিবারকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটি) কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৪১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাজ্জাদুল হাসান, বিআরটিএ নরসিংদী সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বখতিয়ার উদ্দিন, মোটরযান পরিদর্শক মো. রাসেল আহমেদ, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মিনহাজ উদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহতের স্বজন ও আহতদের প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে অনুদানের টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিআরটি সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে ট্রাস্টি বোর্ড আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করে।
মেহেরপুরের গাংনীতে গরুবোঝাই একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) নামে ট্রলিচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রলিতে থাকা আরও ১০ জন আরোহী আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাইপুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উজ্জ্বল হোসেন মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
আহতরা হলেন, মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৪৫), সাবদার আলী (৫০), রফিকুল ইসলাম (৫০); চকশ্যামনগর গ্রামের কবির হোসেন (৫০), ওসমান আলী (৪৮), ইসরাফিল হোসেন (৫০); যাদবপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫), বামনপাড়া গ্রামের রাজা হোসেন (৪০), শহিদুল ইসলাম (৩৫) এবং রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আহমেদ (৩৫)।
আহত শহিদুল ইসলাম জানান, তারা মেহেরপুর থেকে গরুবোঝাই ট্রলি নিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পশুর হাটে যাচ্ছিলেন। পথে রাইপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং ২২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাধবখালী বিওপির হাবিলদার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল জীবননগর উপজেলার সীমান্ত পিলার ৭০/৬-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের জসিম উদ্দিনের বাঁশবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন এক চোরাকারবারীকে ধাওয়া করলে সে একটি প্লাস্টিকের নেটের বস্তা ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বস্তাটি তল্লাশি করে ২২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই বস্তার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের কারণে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সকল ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিরূপ আবহাওয়া, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের যাতায়াতে সৃষ্ট পরিবহন সংকট বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবারের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা আদেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিত হওয়া ক্লাস ও পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ঘিরে থাকা ১৫ নং পোল্ডারের আওতাধীন উপকুল রক্ষা বাঁধ থেকে ১২টি নাইনটি অপসারণ করেছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে গত মঙ্গলবার ও বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ডুমুরিয়া, চাদনীমুখা ও ৯ নং সোরা এলাকার বাঁধ হতে থেকে এসব নাইনটি অপসারণ করা হয়।
চিংড়ি ঘেরে নদীর লবন পানি সরবরাহের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্প্রতি উপরিভাগের ব্লক সরিয়ে বাঁধ কেটে ও ছিদ্র করে পাইপের সাহায্যে সেখানে এসব নাইনটি স্থাপন করেছিল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে সহকারী কমিশনার(ভুমি) রাশেদ হোসাইন, অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারের ভাষ্য এখনো পর্যন্ত গাবুরার চারপাশে টেকসই বাঁধ নির্মান কাজ শেষ হয়নি। অনেকে নৌকা আটকানোর জন্য খুঁটি স্থাপনের পাশাপাশি কয়েকজন রীতিমত নির্মানাধীন বাঁধ কেটে পাইপের সাহায্যে নাইনটি স্থাপন করেছে। বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে বাঁধের জন্য ক্ষতিকর নাইনটি গুলো অপসারণ করা হয়েছে।
জামালপুরে বিজিবির অভিযানে ৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে জামালপুর ৩৫ বিজিবির আওতাধীন বালিয়ামারী বিওপির বিজিবি সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকার পাগলা নদীর ঘাট থেকে এসব ইয়াবা জব্দ করেন।
এ সময় মানিক মিয়া (৩২) ও সাইফুল ইসলাম (৩৬) নামে দুই জনকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলায়।
বিজিবি জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে বালিয়ামারী বিওপির বিজিবির সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে পাগলা নদীর ঘাট থেকে ৬৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে ওই দুই জনকে আটক করে বিজিবি। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল (বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত), অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম।
জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির সময় ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেক বইয়ের কাউন্টারফয়েলে উল্লেখ থাকা অঙ্কের সঙ্গে ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ২৬টি চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর টাকার অঙ্ক ও কথায় লেখা পরিমাণ পরিবর্তন করে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কাউন্টারফয়েলে মূল অঙ্কই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে এ জালিয়াতি চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকে অতিরিক্ত সংখ্যা যোগ করে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে কথায় লেখা অঙ্কও পরিবর্তন করা হতো। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ মার্চ এভাবে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল বদলি হয়ে অন্য উপজেলায় যোগ দিলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হয়।
পরে সোমবার ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে কার্যালয়ে ডেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাদের ফুলগাজী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে এসআর দায়ের করা হয়েছে। বদলেজনিত কারণে আমাদের ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজগুলো রিকনসিলেশন করার সময় এটা ওনার চোখে পড়েছে। ঘটনাটা আসলে দুর্ভাগ্যজনক, এটা হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটা উচিত হয়নি।
মাদারীপুরে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে 'পদ্মা পাড়ের জীবনযুদ্ধ' শীর্ষক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারী সংস্থা 'শরীয়তপুর ডেপলপমেন্ট সোসাইটি' (এসডিএস) নামের একটি এনজিও। উক্ত সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় মহড়া অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।
পদ্মা পাড়ের মানুষের জীবনযাপন, সংগ্রাম, বন্যা পূর্বাভাস, দুর্যোগ মোকাবেলা ও সচেতনতা বাড়াতে এই আয়োজন বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ুর পরিবর্তনশীল ঝুঁকি মোকাবেলা ও নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে মহড়াটি সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন এসডিএস এর পরচালক ও শিবচর উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বৃদ্ধ- যুবক-তরুণ-কিশোরসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ মহড়াটি উপভোগ করেন। মহড়া থেকে অভিনয় করে দেখানো হয়- বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কিভাবে খাদ্য- পানীয় সহ জীবন ধারণে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী সংরক্ষণ ও রক্ষাণাবেক্ষণ করতে হয়।
এছাড়াও জরুরী চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ, যোগাযোগ, ত্রাণ তৎপরতা, জরুরী সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন সহ অন্যান্য বিষয়াদিও মহড়াটিতে তুলে ধরা হয়।
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে প্রায় ৫শ পর্যটক আটকা পড়েছেন। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় বুধবার (৮ জুলাই) থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, সাজেকের মাচালং এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০০ পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন। তবে রিসোর্টগুলোতে অবস্থানরত পর্যটকদের প্রয়োজনীয় খাবার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অপরদিকে, সাজেক সড়কের মাহিন্দ্রচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, দিঘীনালার কবাখালী, সাজেকের মাচালংসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, সাজেকের মাচালং, সীমানাছড়া ও দিঘীনালার কবাখালী এলাকায় সড়কের ওপর পানি ওঠায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে চারশ থেকে ৫০০ পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন। সড়ক থেকে পানি নেমে গেলে পর্যটকরা নিরাপদে গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি নেমে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হলে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জনগণ ও পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেকে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুষ্ক মৌসুমের অবসান ঘটিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে বর্ষার নতুন পানি। আর এই নতুন পানির আগমনেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে নদীকেন্দ্রিক জনপদে। উপজেলার আবেদের ঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন ঘাটে এখন চলছে উৎসবমুখর ব্যস্ততা। বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার প্রধান মাধ্যম নৌকা। তাই নদীতে পানি পুরোপুরি বাড়ার আগেই পুরোনো নৌকা সংস্কার, আলকাতরা লাগানো ও রং করার কাজে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঝি, জেলে ও কারিগরেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা হারানো পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে প্রায় আট মাস ধরে অলস পড়ে ছিল এসব নৌকা। কোথাও বালুচরে আটকে, আবার কোথাও কাত হয়ে পড়ে থাকা জীবিকার এই প্রধান বাহনগুলো এতদিনে ছিল অবহেলিত। তবে বর্ষার নতুন পানির ছোঁয়ায় আবারও জেগে উঠছে নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা।
আবেদের ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে রাখা নৌকাগুলোতে চলছে জোরেশোরে মেরামতের কাজ। কোথাও পচে যাওয়া কাঠ বদলে বসানো হচ্ছে নতুন পাটাতন, কোথাও আবার নৌকার তলা মজবুত করতে লাগানো হচ্ছে আলকাতরা ও নতুন রঙের প্রলেপ। হাতুড়ি, করাত আর পেরেকের ঠুকঠাক শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে যাত্রী পারাপার ও মাছ ধরার ধুম।
রাজশাহী থেকে আসা নৌকা মেরামতের কারিগর মাহাবুল বলেন, "প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে আমরা দৌলতপুরে এসে নৌকা মেরামতের কাজ করি। এ মৌসুমে ইতোমধ্যে ১০টি নৌকা মেরামত করেছি, আরও প্রায় ১০টির কাজ বাকি রয়েছে। দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে আমরা কাজ করি।"
আরেক কারিগর ফজলু জানান, দীর্ঘদিন চরে পড়ে থাকায় অনেক নৌকার কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো পুনর্নির্মাণ করেই তাদের সংসার চলে।
নৌকার মালিক রাজন বলেন, "নদীতে পর্যাপ্ত পানি হলে যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন শুরু হবে। আমরা বছরে মাত্র ৪ মাস নৌকা চালাতে পারি। বাকি সময় নাব্যতা সংকটের কারণে চর জেগে থাকে। এই ৪ মাসের আয় দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়।"
একই কথা জানালেন অপর নৌকার মালিক হোসেন মেম্বার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "বর্ষায় এই নৌকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। তবে বছর শেষে যা আয় হয়, তার বড় অংশই আবার নৌকা মেরামতে চলে যায়। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নদী খনন করে যেন স্থায়ী নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দৌলতপুর উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বর্ষাকালের একমাত্র ভরসা এই নৌপথ। থানা সদর, জেলা শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা বাজারে যেতে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে এই নৌকা ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই।
পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি আসার এই মুহূর্তে মাঝিদের চোখে-মুখে এখন নতুন আশার আলো। নৌ চলাচল স্বাভাবিক হলে একদিকে যেমন চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে, অন্যদিকে সচল হবে মাঝি, জেলে ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার চাকা।