সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লিবিয়ায় দালাল চক্রের খপ্পরে ৯ বাংলাদেশি, ফেরাতে স্বজনদের আকুতি

লিবিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে আটজন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:১২
প্রতিনিধি, আনোয়ারা ও বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, আনোয়ারা ও বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:১০

দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় লিবিয়ায় গিয়ে আটকে পড়েছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর নয়জন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনরা গত রোববার বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছেন।

আটকে পড়া নয়জন হলেন গন্ডামারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকার শহীদ উল্লাহের ছেলে রুকনুল ইসলাম, নুরুল আমিনের ছেলে মো. মোরশেদুল আলম, আহমদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ কাউছার মিয়া, আবদুল মোনাফের ছেলে আজগর হোসেন, আবদুল মজিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, মৃত অলি আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আশেক ও তার ভাই ইব্রাহিম খলিল, বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর জলদী ৫নং ওয়ার্ডের মৃত ওমর আলীর ছেলে আইয়ুব আলী ও কাথরিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বাগমারা এলাকার আবু আহমদের ছেলে মোহাম্মদ করিম।

আটকে পড়া নয়জনের পারিবারিক সূত্র জানায়, ভালো চাকরি ও কর্মসংস্থানের কথা বলে মানবপাচারকারী দালালেরা তাদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার সন্ত্রাসী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। লিবিয়ার সন্ত্রাসীরা তাদের সেখানে কোনো কাজকর্ম কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেনি, উল্টো তাদের বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন চালায় এবং দেশে স্বজনদের কাছে মোবাইলে মুক্তিপণ দাবি করে।

এদিকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে দেশীয় দালালদের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পাঠানো হলেও ওই নয়জনকে দেশে ফেরানোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বর্তমানে তারা বেনগাজীর শেরা অ্যালবাম নামক এলাকার পাহাড়ে দিন পার করছেন।

সূত্র জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নয়জনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনরা প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।

এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, দালালের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়ে নয়জন আটকে পড়ায় তাদের পরিবার প্রশাসনিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিয়ে কাজ করা হবে।

বিষয়:

পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিখোঁজ বাংলাদেশি ভারসাম্যহীন যুবককে ফেরত দিল ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সিমান্তের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার পাড়া) গ্রামের মানুষিক ভারসাম্যহীন যুবক বকুল মন্ডল (৩৫) বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কলকাতায় চলে যান। তিনি ওই এলাকার লুৎফর রহমান মন্ডলের ছেলে।

বিজিবি ও পরিবার সূত্রে জানাযায়, গত ৩ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বকুল। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১২ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কলকাতায় এক বাংলাদেশি যুবক অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা সেই ছবি দেখে বকুলকে শনাক্ত করেন।

পরে শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএসএফ তাকে আটক করে রাত ১০টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেইন পিলার ১৫৭/২-এস এর নিকট বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের চরচিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোশারফ হোসেন।

অন্যদিকে ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নিতিন কুমার। পরে আজ রোববার (১৭ মে) বেলা ১১ টায় বিজিবি তাকে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়।

ছেলের ফিরে আসা প্রসঙ্গে বকুলের বাবা লুৎফর রহমান মন্ডল বলেন, বকুল মানসিক প্রতিবন্ধী। ছেলেটা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ওকে আর ফিরে পাব না। ফেসবুকে ওর ছবি দেখে চিনতে পারি। বিজিবি ও স্থানীয় মেম্বারের সহায়তায় আমার কলিজার টুকরোকে ফিরে পেয়েছি। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, বকুল মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় অসাবধানতাবশত সীমান্ত পার হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি জানার পর থেকেই বিজিবির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বিজিবি'র চরচিলমারি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোশারফ হোসেন বলেন, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সমঝোতার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


বোয়ালখালীতে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রদর্শনী, পুকুরের উপকরণ বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) আওতায় প্রদর্শনী পুকুরের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৪টি বড় পুকুর ও ২টি গৃহস্থালি পুকুরের জন্য বিভিন্ন প্রদর্শনী উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া রাজস্ব বাজেটের আওতায় আরও একটি পুকুরে উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে ছিল ৪টি পুকুরের জন্য প্যাডেল হুইল এয়ারেটর এবং ২টি গৃহস্থালি পুকুরের জন্য মাছের খাদ্য, পোনা ও বীজ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমন তালুকদার, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা অলক চাকমা এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।

এসময় চেয়ারম্যান হামিদুল হক মন্নান, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।


নজরুল জয়ন্তীর উৎসব আমেজে ত্রিশাল: ২৫ মে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে দীর্ঘ কয়েক বছর পর এবার জাতীয় পর্যায়ে কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ) কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘ কয়েক বছর পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনে রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের নিরলস প্রচেষ্টা। জাতীয় সংসদে তাঁর জোরালো দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার এবার ত্রিশালে কবির জন্মবার্ষিকী জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে, ২৫ মে কবির মূল জন্মজয়ন্তী হলেও মে মাসের শেষের দিকে ঈদুল আজহার ছুটির কারণে এবার অনুষ্ঠানসূচিতে কিছুটা সমন্বয় আনা হয়েছে। আগামী ২১ মে থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এরপর ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জমকালো আয়োজনের আনুষ্ঠানিক মূল দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠের ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও জাতীয় পর্যায়ের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ত্রিশালজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ ও মঞ্চ সাজানোর কাজ এখন পুরোদমে চলছে।

সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রিশাল উপজেলা শাখা ও এর সকল অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন অনুষ্ঠানটি সফল করতে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।"

উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা, মাহবুবুর রহমান লিটনও ব্যস্ত সময় পার করছে। সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


রাজশাহী থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী প্রতিনিধি

জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবকট ঘোষিত কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন গতকাল রোববার কেন্দ্র থেকে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একাংশ। এ নিয়ে আজ সকাল থেকে তারা সকল রুটের বাস চলাচলে বন্ধের ঘোষণা দেয়।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানিয়েছেন, এই কমিটির অধীনে আমরা বাস চালাতে চাই না। এজন্য সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তবে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় মন্ত্রী এবং এমপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ফেডারেশন এই কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে কিছু শ্রমিক বাদ পড়েছে। তারাই মূলত বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শীঘ্রই বিষয়টি সমঝোতা করা হবে।


ঠাকুরগাঁওয়ে চাকরি মেলা উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

একটাই লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ কর্মে হবো যুক্ত এইস্লোগানকে সামনে রেখে বেকার সমস্যা নিরসনে ঠাকুরগাঁওয়ে চাকরি মেলা-২০২৬ উদ্বোধন হয়েছে।

সোমবার ১৮ মে সাড়ে ১২ টায় ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে এসেট প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসকের পক্ষে বেলুন উড়িয়ে এ চাকরি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট গোলাম ফেরদৌস।

মেলাতে ১৯ টি স্টলে জেলার বিভিন্ন কোম্পানি ও উদ্যোক্তারা এবং শত শত চাকরি প্রত্যাশী নারী পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।

পরে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষা ভূমিকা অন্যতম এ বিষয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর হলরুমে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো: সহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে চাকরি মেলার গুরত্ব তাৎপর্য তুলে ধরে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।


আসন্ন কোরবানির ঈদে রূপগঞ্জে ভোগান্তির আরেক নাম এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

“ভোগান্তির আরেক নাম এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এ সড়ক দুটিতে ভোগান্তি যেন রূপগঞ্জবাসীর ললাটের লিখন। এ ভোগান্তি থেকে এলাকাবাসী কবে যে নিস্তার পাবে আল্লাহই ভালো জানেন। সামনে ঈদ আসছে। যাত্রী সাধারণের পাশাপাশি ঈদে কোরবানির পশুও পরিবহন করা হবে এ রাস্তায়। এখনই যে অবস্থা, ঈদে না জানি কী হয়?” কথাগুলো বলছিলেন বাসযাত্রী ভুক্তভোগী সিয়াম মিয়া।

রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকায় এবারের কোরবানির ঈদে যাত্রী ও পশুবাহী যানবাহন চরম ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গাজীপুরের ভোগড়া থেকে মদনপুর চৌরাস্তা এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে ভুলতা পর্যন্ত সড়ক দুটিতে উন্নয়ন কাজ চলায় বেশ কিছু স্থানে যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং পশুবাহী যানবাহন যেন কোনো ভোগান্তিতে না পড়ে, সেজন্য হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সড়কে থাকবে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। এবার সড়কে বিপুল পরিমাণ স্বেচ্ছাসেবীও নিয়োজিত থাকবে।

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ উপজেলার এই দুটি মহাসড়কে গরুবোঝাই ট্রাকসহ বাড়তি যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানী থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলগামী আট জেলার মানুষের বাড়ি ফেরার একমাত্র পথ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এই সড়কের রূপগঞ্জ অংশের ১২ কিলোমিটারের পাঁচটি পয়েন্টে এবং এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের রূপগঞ্জ অংশের ১৪ কিলোমিটার সড়কে চার লেনের কাজ চলছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই মানুষজন যাতায়াত করছেন।

রাস্তার সংস্কার কাজের কারণে সড়ক সরু হয়ে পড়া এবং বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ায় দুই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মাত্র ২০ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সড়কের এই সংস্কার কাজের মাঝেই অপরিকল্পিতভাবে কাঞ্চন সেতুর টোল আদায়ের কারণে যানজটের তীব্রতা আরও বেড়েছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, রামপুরা-নগরপাড়া-ভুলতা সড়কের কাজ সম্পন্ন হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যেত। সড়কের যেসব স্থানে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে, দ্রুত সেখানে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না বাড়ালে ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষ, উত্তরবঙ্গ থেকে আসা পশুবাহী ট্রাক এবং চট্টগ্রাম থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হবে।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, “সংস্কার কাজের জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ঈদে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনসহ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের গাড়ি যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেজন্য ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করবে। জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিগত ঈদগুলোর মতো যানজট নিরসনে বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবে।”

তিনি আরও বলেন, “রামপুরা-নগরপাড়া-ভুলতা সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।”


বাড়ির আঙিনায় গাঁজার চাষাবাদ, আটক দুই ভাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বাড়ির আঙিনায় গাঁজার চাষাবাদের অভিযোগে আপন দুই ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের বসতবাড়ির পেছন থেকে ৪টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। সোমবার গভীর রাতে পরিচালিত এ অভিযানের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎আটককৃতরা হলেন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের বাটামারা ৬নং ওয়ার্ডের বকশী বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে সুমন (৩০) ও নোমান (২২)।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৮ মে) রাত ১ টার দিকে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের এস আই নিরস্ত্র নাজমুল হুদার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সুমনের বসতবাড়ির পেছনের আঙিনায় বিশেষ কৌশলে লাগানো কয়েকটি গাছ পুলিশের নজরে আসে। পরে সেগুলো যাচাই করে ৪টি গাঁজা গাছ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

‎পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই দুই ভাইকে আটক করে এবং গাছগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযানের সময় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই বাড়ির আঙিনায় এভাবে গাঁজার চাষাবাদের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন।

‎বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির আঙিনায় চাষ করা ৪টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।”

‎তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র মাদক চাষ, বিক্রি কিংবা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

‎পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রির উদ্দেশ্যেও তারা গাঁজার চাষ করছিল। তবে এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

‎স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে সমাজে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমে আসবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গোপনে মাদক চাষ ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় চকরিয়ায় দুই জনের মৃত্যু 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক দুইটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। চকরিয়ার কেবি জালালউদ্দিন সড়কের রামপুর মোড়ে প্রাডো (জিপ)এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেছে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী শওকত হোসেন রিয়াজের। অন্যদিকে, চকরিয়ার সীমান্ত এলাকার লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন মোস্তাকিম কামাল তামিম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।

জানা যায়, পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত দুইজনই শৈশবের বন্ধু। তাদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে বন্ধুদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

কেবি জালালউদ্দিন সড়কের রামপুরে দূর্ঘটনায় নিহত শওকত হোসেন রিয়াজ চকরিয়া পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আমিনের বড় ছেলে। সে চট্টগ্রাম কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত আছেন।

অপরদিকে, চকরিয়ার সীমান্ত এলাকার লোহাগাড়ায় বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল চকরিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের হালাকাকারার বাসিন্দা চকরিয়া পৌরসভার অফিস সহকারী রাশেদ কামালের ছেলে মোস্তাকিম কামাল তামিমের। নিহত মোস্তাকিম কামাল তামিম ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রোববার (১৭ মে) রাত ১০টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের উন্নয়ন কাজের অব্যবস্থাপনা ও সতর্কীকরণ চিহ্নের অভাবের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।


পাবনায় ১৩০০ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি আটক, সিএনজি জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজ আলী, পাবনা জেলা প্রতিনিধি 

পাবনা সদর থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক বিশেষ অভিযানে এক হাজার তিনশত পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

সোমবার (১৮ মে) রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে পাবনা সদর থানাধীন ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের জালালপুর বাজারস্থ মাওলানা কসিমুদ্দিন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের পাকা রাস্তার ওপর এ অভিযান চালানো হয়।

আটককৃতরা হলেন—সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার আলোকদিয়ার গ্রামের মৃত শহিদুল প্রামানিকের ছেলে মো. আব্দুল আলিম প্রামানিক (৪২) এবং একই উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের মৃত আবু জল সরকারের ছেলে মো. লিটন সরকার (৪০)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পাবনা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল জালালপুর বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে আসামিদের হেফাজত থেকে ১,৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সাথে অটোরিকশাটি জব্দ করে ডিএনসি দল।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর জানান, আটককৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিল।

তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পাবনা সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এই নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


পরীক্ষার হলে খাতা না দেখানোয় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী জেলা প্রতিনিধি

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় পরীক্ষার হলে খাতা না দেখানোকে কেন্দ্র করে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার বাংলা বাজার ছলেমা নজির উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

আহত পরীক্ষার্থীর নাম কাজী আহমেদ আশ্রাফী। তিনি হরিপুর আলি আকবর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বেত্রাবাগ শিলুয়া গ্রামের বাসিন্দা কাজী নুরুল আফছারের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়।

আহত শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের অভিযোগ, পরীক্ষার হলে খাতা দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাকিব হোসেন একই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। তিনি গতিয়া আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাপুর গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে।

আহত আশ্রাফী জানায়, পরীক্ষার হলে তার পেছনের বেঞ্চে বসেছিল রাকিব। পরীক্ষা চলাকালে রাকিব তার খাতা দেখতে চাইলে দেখায়নি। বিষয়টি নিয়ে ওই দিন পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে গালিগালাজ করে। তবে পরিস্থিতি পরে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

সে আরও জানায়, রবিবার ছিল এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর রাকিবসহ ৫ থেকে ৬ জন যুবক তার পথরোধ করে। প্রথমে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করে। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ কয়েকজন যুবক আশ্রাফীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিভাবকদের অনেকেই পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, কেন্দ্রের আশপাশে পর্যাপ্ত নজরদারি থাকলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া থানার এসআই শাহ আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন মিয়া বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গরু চুরি ঠেকাতে তৎপর তাড়াশ থানা পুলিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে খামারি ও কৃষকদের প্রধান আতঙ্কের নাম ‘গরু চুরি’। গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই গবাদিপশু রক্ষায় এবার কঠোর অবস্থানে নেমেছে তাড়াশ থানা পুলিশ। চোরের উপদ্রব শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

​পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে নৈশকালীন টহল, বসানো হয়েছে চেকপোস্ট এবং প্রত্যন্ত এলাকার পাহারাদারদের সাথে বাড়ানো হয়েছে সমন্বয়।

উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গ্রামীণ রাস্তা এবং উপজেলার সীমানা এলাকাগুলোতে পুলিশের রাত্রিকালীন মোবাইল টিম ও মোটরসাইকেল টহল জোরদার করা হয়েছে।

গভীর রাতে সন্দেহভাজন ট্রাক, নসিমন, করিমন বা পিকআপ ভ্যান তল্লাশি করতে কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আকস্মিক চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইউনিয়নে বিট অফিসারদের মাধ্যমে সাধারণ কৃষক ও খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে, যেন তারা গোয়ালঘরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেন এবং অচেনা কোনো ব্যক্তির আনাগোনা দেখলে পুলিশকে জানান।

​তাড়াশে গরু চুরি রোধে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো হাবিবুর রহমান বলেন, কৃষক ও খামারিদের সারাবছরের সম্বল এই গবাদিপশু। তাদের এই কষ্টার্জিত সম্পদ রক্ষা করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাড়াশ উপজেলাকে গরু চোর মুক্ত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ইতিপূর্বেই আমরা উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশদ্বার এবং ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের বিশেষ টহল ও নজরদারি জোরদার করেছি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের এই তৎপরতা সফল করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও জরুরি। আমরা খামারিদের অনুরোধ করছি, যেন তারা গোয়ালঘরে মজবুত তালা ব্যবহার করেন এবং রাতে সিসিটিভি ক্যামেরা বা আলোর সুব্যবস্থা রাখেন। গভীর রাতে কোনো এলাকায় সন্দেহভাজন গাড়ি বা ব্যক্তির চলাচল দেখলেই সাথে সাথে তাড়াশ থানাকে অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানান। অপরাধীদের দমনে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা মাঠে রয়েছে।"

​পুলিশের এই ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদারের পর এলাকার সাধারণ কৃষক ও বড় খামারিদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বেশ কয়েকজন খামারি জানান, পুলিশের নিয়মিত টহল ও রাতে সাইরেন বা বাঁশির আওয়াজ পাওয়ার পর থেকে তারা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেন বছরজুড়েই অব্যাহত থাকে, এমনটাই প্রত্যাশা তাড়াশবাসীর।


উপকূল জুড়ে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে আকন্দ ফুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

গ্রীষ্মের আবহে উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলার বিভিন্ন সড়ক ও বেড়িবাঁধজুড়ে ফুটতে শুরু করেছে আকন্দ ফুল। সাদা ও হালকা বেগুনি রঙের এই বুনো ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে। বিশেষ করে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধে জন্ম নেওয়া আকন্দ গাছগুলো যেন প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের এই সময়টাতে আকন্দ গাছে বেশি ফুল ফুটে। কোনো ধরনের বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছ উপকূলীয় প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য। সকাল কিংবা বিকেলে চলাচলের সময় পথচারীরা আকন্দ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

চালরায়েন্দার বাসিন্দা খোকন হাওলাদার বলেন, “আগে এই ফুলকে তেমন গুরুত্ব দিতাম না। এখন রাস্তার ধারে এত ফুল ফুটতে দেখে খুব ভালো লাগে। মনে হয় প্রকৃতি নিজেই উপকূলকে সাজিয়ে তুলেছে।"

উদ্ভিদপ্রেমী ও স্থানীয় শিক্ষক ইলিয়াস মিলন বলেন, “আকন্দ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি একটি ভেষজ গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন কাজে এর ব্যবহার রয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব দেশীয় উদ্ভিদের গুরুত্ব অনেক।"

প্রকৃতির আপন নিয়মে বেড়ে ওঠা আকন্দ ফুল এখন উপকূলের পথঘাটে ছড়িয়ে দিচ্ছে নীরব সৌন্দর্য। গ্রীষ্মের এই সময়টাতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠা আকন্দ গাছ যেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে এনে দিচ্ছে এক প্রশান্ত অনুভূতি।


​আলমডাঙ্গায় ভ্যান চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১৮ মে, ২০২৬ ১০:৫২
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুরে ভ্যান চুরির অভিযোগে দুদু (২৩) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাতে কুমার নদের আসাননগর ঘাট এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে হাউসপুর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা হাউসপুর বটতলা এলাকায় মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

​নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুরের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক। স্থানীয়দের দাবি, চুরির সূত্র ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্তর, সুমন, আশিকসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে দুদুর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

​আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। সামান্য চুরির অভিযোগে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


banner close