কক্সবাজারের অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ৫৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)
বুধবার কক্সবাজার সদরের লিংক রোডে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওই রোহিঙ্গাদের আটক করা হয়। ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ জহির উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
ডিবি জানায়, শরণার্থী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা বেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে কৌশলে পালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। এভাবে পালাতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধরা পড়ছে তারা। কাজের সন্ধানে তারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে।
ডিবি আরও জানায়, আটককৃত রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কাজের সন্ধানে বের হয়েছিল। কাঁটাতারের বেড়া ও ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ১০টি চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গারা দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে, এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।
আটক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে উখিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ইনচার্জের (সিআইসি) কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উৎপাদন নেই, তবুও থেমে নেই ব্যয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে সরকারের প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। বছরে এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮ কোটিরও বেশি, অথচ উৎপাদন থেকে সরকারের কোনো আয় নেই। এদিকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরছে, আর কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো শ্রমিক।
একসময় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত জাতীয় জুট মিলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান। জেলার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আজ বন্ধের তালায় বন্দি। ফলে শ্রমিক, কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিলটি দ্রুত চালুর দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
জানা যায়, ১৯৬০ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় প্রায় ৭৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় নর্দান পিপলস জুট মিল। স্বাধীনতার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কওমি জুট মিল, পরে যা জাতীয় জুট মিল নামে পরিচিতি পায়। একসময় প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ টন পাট সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য উৎপাদন করা হতো। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা হতো।
দীর্ঘদিন লাভজনকভাবে চললেও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে ২০০৭ সালে প্রথমবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে পুনরায় চালু হলেও সংকট কাটেনি। পরে ২০২০ সালের ১ জুন লোকসান, ঋণের বোঝা ও কাঁচামাল সংকটের অজুহাতে আবারও উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ ২০ বছরের জন্য মিলটি লিজ নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই ২০২৪ সালে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
জাতীয় জুট মিল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও মিলটির নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয়করণ, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই বারবার বন্ধের মুখে পড়েছে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তাদের মতে, দ্রুত মিলটি চালু করা গেলে যেমন হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে, তেমনি পাটচাষিরাও তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও ফিরে পাবে নতুন গতি।
সাবেক শ্রমিক রতন আলী বলেন, মিল চালু থাকাকালে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতেন। বর্তমানে ঘটকালি ও সামান্য কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতে হচ্ছে।
আরেক শ্রমিক বেলাল হোসেন বলেন, জুট মিলই ছিল পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। মিল বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন অস্থায়ী কাজ করে কষ্টে দিন কাটছে। মিল পুনরায় চালু হলে পুরনো শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি বিশা শেখ বলেন, জাতীয় জুট মিল শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি জেলার অর্থনীতি, পাটচাষি ও হাজারো শ্রমিকের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মিলটি চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
জাতীয় জুট মিলের মজদুর ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে মিলটি পুনরায় চালু করা। এতে শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় অর্থনীতি সবাই উপকৃত হবে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বাচ্ছু বলেন, জাতীয় জুট মিল জেলার অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি। দীর্ঘদিন ধরে মিলটি বন্ধ থাকায় শুধু হাজারো শ্রমিকই কর্মহীন হননি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি, ব্যবসায়ী, পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষ। বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ছে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় জুট মিল পুনরায় চালু করা। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে পাটচাষিরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সিরাজগঞ্জের অর্থনীতিও নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, মিলটি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে রয়েছে। বর্তমানে ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে নতুন করে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। উপযুক্ত বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া দেশের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পুনরায় চালুর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চার বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকা জাতীয় জুট মিল এখন শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, জীবিকা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার এক বড় পরীক্ষার নাম। এখন প্রশ্ন একটাই নতুন লিজের মাধ্যমে কি আবারও ঘুরবে জাতীয় জুট মিলের উৎপাদনের চাকা, নাকি কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি মরিচা ধরেই ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে?
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শনিবার (৪ জুলাই) খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ, রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্প এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খুলনা সার্কিট হাউসে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন। এর আগে তিনি সার্কিট হাউস চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে গত কয়েক দিন ধরে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। হঠাৎ এই অস্বাভাবিক গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন, বিশেষ করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। রিকশা-ভ্যানচালক, দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক ও নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ ফেলে ছুটছেন গাছের ছায়ায় কিংবা কোনো ঠাণ্ডা আশ্রয়ে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের দিকে শহরের প্রধান সড়ক ও বাজারগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে রিকশা-ভ্যানের ভিড় লেগে থাকে, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকজন চালক দেখা যাচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে সকাল ও বিকালের অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ সীমাবদ্ধ রাখছেন।
স্থানীয় এক ভ্যানচালক বলেন, ‘রোদের মধ্যে ভ্যান চালাতে গেলে শরীর যেন পুড়ে যায়। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাই দুপুরে কাজ বন্ধ রেখে গাছের নিচে বসে থাকি।’
কৃষি শ্রমিকদের অবস্থাও একই রকম। মাঠে কাজ করা শ্রমিকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম সময় কাজ করতে হচ্ছে তাদের, ফলে দৈনিক আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। একজন কৃষি শ্রমিক বলেন, ‘আগে সারা দিন মাঠে কাজ করতাম, এখন গরমের কারণে দুপুরের পর আর মাঠে থাকা যায় না। রোজগার কমে গেছে অনেকটাই।’
নির্মাণ শ্রমিকরাও পড়েছেন বিপাকে। ঝুঁকি নিয়েই অনেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জীবিকার তাগিদে, তবে ঘন ঘন বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকরা এই সময়ে অতিরিক্ত রোদে কাজ না করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এদিকে দিনমজুর শ্রেণির মানুষদের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে তাদের জন্য বিশ্রামাগার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।
স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. সামিউজ্জামান জানান, আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও জানান আগামী ২-৩ দিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
একের পর এক বিসিএসে সাফল্য অর্জন করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাসান মিয়া। ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার, ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর এবার ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে বিসিএসে হ্যাটট্রিক সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. সগির আহমেদের জ্যেষ্ঠ সন্তান হাসান মিয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। বিসিএসের পাশাপাশি এ পর্যন্ত মোট নয়টি সরকারি চাকরিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, শিক্ষাজীবন থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন হাসান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে প্রথম এবং মাস্টার্সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিজিপিএধারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তিনি অন্যতম ছিলেন।
হাসান জানান, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। সেই লক্ষ্য নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যান। তবে শিক্ষকতায় সুযোগ পাওয়ার পথ কঠিন বুঝতে পেরে তিনি বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পূর্ণোদ্যমে বিসিএস প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন। বরিশালে থাকাকালীন অনেকগুলো টিউশন করিয়েছি। টিউশন করানোর অভিজ্ঞতাই আমার প্রস্তুতিকে সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ করেছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যোগ দিলেও ৪৭তম ও ৪৯তম বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সাড়ে চার মাস পর চাকরি ছেড়ে দেন। পরে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিপিএটিসি-তে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
হাসান জানান, বিপিএটিসিতে যোগদানের মাত্র ছয় দিন পর ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পান। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানটির রেক্টরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিজের সাফল্যের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, যেদিন সাভার থেকে বরিশালে লিখিত পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলাম, সেদিনই ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয় এবং আমি প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। এরপরও সব পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সিদ্ধান্তই আমাকে আজ পররাষ্ট্র ক্যাডারে পৌঁছে দিয়েছে।
হাসান বলেন, আমার বাবা শূন্য থেকে নিজের পরিশ্রমে জীবন গড়েছেন। তার সংগ্রাম ও অধ্যবসায় আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। পাশাপাশি শিক্ষক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতাও পেয়েছি। সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা, একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগ এবং নিয়মিত টিউশন করানোর মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের কথা জানান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে হাসান আরো বলেন, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই। দেশের মর্যাদা, জাতীয় স্বার্থ ও আত্মসম্মান রক্ষায় কাজ করাই আমার লক্ষ্য।
হাসানের এই ব্যতিক্রমী অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা তার এ সাফল্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন ।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকের মদ্যপ অবস্থায় মাতলামির অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার নুকালি বহুপ্বার্শিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে মদ্যপ অবস্থায় বিদ্যালয়ে এসে অস্বাভাবিক আচরণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, সকাল ১০টার দিকে তিনি টলতে টলতে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন এসে তাকে টালমাটাল অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের পাশেই তার বাড়ি হওয়ায় পারিবারিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও তিনি বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসেই মদ্যপান ও অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন। তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না বলেও জানান স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলে সাময়িক পরীক্ষায় সময় আমি সকালে পরীক্ষার দায়িত্বে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় ছিলাম। প্রধান শিক্ষকের অফিসে ঠিক কী হয়েছে তা দেখিনি। তবে একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের চেয়ারে বসে মদ্যপান করেছেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, আমি বাইরে থেকে মদ্যপান করে বিদ্যালয়ে একটি কাগজ নেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। তখন কিছুটা মাতলামি হয়েছে। পরে আমার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম ও ছোট ভাই নুরুল ইসলাম আমাকে বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেব।
শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুল ইসলাম শেখ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে। ইউএনও শিক্ষা বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
মাত্র কয়েক মাস আগেও সংসারের স্বপ্ন বুনছিলেন প্রবাস ফেরত যুবক মাসুম বিল্লাহ (২৪)। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন রক্তাক্ত এক স্মৃতি। দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি এমনই অভিযোগ মায়ের।
তবে ঘটনার এক মাস পার হলেও মামলার অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন নিহতের স্বজনরা। বিচার পাওয়াতো দুরের কথা উল্টো প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাদের। এঘটনায় গত ১৬জুন রুমি আক্তার নওগাঁ সদর থানায় জিডি করেছেন।
সম্প্রতি মাসুম বিল্লাহ নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা রুমি আক্তার। এর আগে বিথি আক্তার নামের এক নারীর বাবা ও ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় তিনিও রয়েছেন আতঙ্কে। এভাবেই পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত জেরে দুটি পরিবারের তিন জনকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনাটি নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে। ওই গ্রামে পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত জেরে গত ৬ বছরে একে একে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র নিহতের লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল অন্য জেলায় সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত ভুক্তভোগী দুই পরিবারের দুই নারী। তাদের অভিযোগ পরপর দুটি হত্যা করার পর আসামিদের বিচার না হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬মে মাসুম বিল্লাহ নামের ওই যুবককে হত্যা করা হয়।
ভুক্তভোগী রুমি আক্তার বলেন, আমার ছেলে মাসুম বিল্লাহ গত ২৬ মে জয়পুরহাটের তিলকপুর বাজারে যান। রাতে বন্ধুর বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে খিরাহাটি রেলগেট এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় মৃত্যু হয়।
এদিকে মাসুমের নিথরদেহ উদ্ধার হয় জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার সীমানায়। সে কারণে নিহতের মা রুমি আক্তার বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড নয়। একই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরে একে একে নিহত হয়েছেন আরেকটি পরিবারের আরও দুই সদস্য। ফলে প্রথম হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
আসামিরা হলেন, নওগাঁর সদর উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে শিবলু (৩২), মৃত গোনা মন্ডল এর ছেলে মো. গোলাম মোস্তফা (৬৪), একই গ্রামের মোস্তফার ছেলে হানিফ (২২ ), আক্কেলপুর উপজেলার নওজোর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩৫), সদর উপজেলার ধোপাইকুড়ি গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে ইয়াছিন আলী নান্নু (৫৫), শ্রীধরপুর মৃত ফজলুর রহমান মন্ডল এর ছেলে মো. শাহাদৎ মন্ডল (৫৫) ও মো. আলম (৩৮) এবং একই গ্রামের মৃত আতিকুর রহমান এর ছেলে মো: অলি হোসেন (২২)।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমি আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে বারবার তাদের অবস্থান জানিয়েছি, কিন্তু কাউকে ধরছে না।
রুমি আক্তারের অভিযোগ, আমরা যেসব তথ্য পুলিশকে দিচ্ছি, সেগুলো কোনো না কোনোভাবে আসামিদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে তারা সহজেই স্থান পরিবর্তন করছে।
আরেক ভুক্তভোগী বিথি আক্তার জানান, জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালে তার বাবা ফজলুর রহমান নিহত হন। ওই মামলার বাদী ছিলেন তার ভাই রতন মণ্ডল। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাকেও হত্যা করা হয়। সর্বশেষ নিহত হয়েছেন তার প্রতিবেশী ভাতিজা মাসুম বিল্লাহ।
কান্নাভেজা কণ্ঠে বিথি বলেন, দুটি পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিলকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আলী নান্নু বলেন, আমি চক্রান্তের শিকার। তবে সকল হত্যার বিচার চাই। এই জন্য আমি জামিনে এসে সকলের সামনে মাসুম হত্যার সুষ্ঠু বিচারের জন্য বক্তব্যও দিয়েছি। অথচ নিহত মাসুম বিল্লাহকে নিয়ে এক রকম রাজনীতি শুরু করেছে। আওয়ামীলীগসহ আমার দলের কিছু লোক আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার এসআই খোরশেদ আলম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গনেশ চন্দ্র রায় বলেন, বাদী পক্ষের দেওয়া তথ্য আমরা যাচাই করে আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে এক আসামিকে ধরা হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, নিহত ও মামলার আসামিরা সবাই নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার রাতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক আসামি ইয়াছিন আলী নান্নু আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি আজ (শনিবার) খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি পরিদর্শনকালে প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ, রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্প এলাকার জনসাধারণের সাথে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খুলনা সার্কিট হাউজে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন সভায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি সার্কিট হাউজ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো: আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবানের থানচিতে অভিযান চালিয়ে বন্দুক ও ৫৫ রাউন্ড কার্তুজসহ জৌথান বম (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর পুলিশের নিকট হস্থান্তর করেছে সেনাবাহিনী।
শনিবার (৪ জুলাই) থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটক, জৌথান বম (৫৫) থানচি সদর পদ্ধ মৌজা শেরপা পাড়া এলাকার
লাল ফিয়ান বমের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অভিযানিক দল কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-মূল) একটি যৌথ গোপন আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে উভয়ের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
ওই সময় সন্ত্রাসীরা পালিতে যেতে স্বক্ষম হলেও এই ঘটনায় আশপাশের এলাকায় অভিযান অব্যাহত রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানের এক পর্যায়ে বন্দুক ও কার্তুজসহ জৌথান বমকে (৫৫) শেরকর পাড়া থেকে
আটকের পর আজ থানচি থানা পুলিশের নিকট তাকে হস্থান্তর করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানন সরকার বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে একটি অবৈধ বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন ও ৪৩ রাউন্ড গুলিসহ তিন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ হাসান ওরফে মেহেদী হাসান (২৭), মোঃ আল আমিন শেখ (২৬) এবং মোঃ আলী হোসেন (৪০)।
পুলিশ সূত্র জানায়, পিরোজপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার ও এসআই (নিঃ) রাধা রমন ভৌমিকসহ পুলিশের একটি দল গত রাতে কদমতলা বাজারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে হাসান ও আল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, তারা অবৈধ বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন এবং গুলি ৩০,০০০ টাকায় টোনা ইউনিয়নের তেজদাসকাঠী গ্রামের আলী হোসেনের কাছে বিক্রি করেছে।
প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশের একটি দল আলী হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে আলী হোসেনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার বসতবাড়ি থেকে ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০১টি ম্যাগাজিন ও ৪৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।
এই অভিযানের বিষয়ে শুক্রবার বেলা ১২:৩০ মিনিটে পিরোজপুর সদর থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের এই তথ্য প্রদান করেন। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, জেলা পুলিশের মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রয়েছে এবং জেলাকে নিরাপদ রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পিরোজপুর জেলা পুলিশ সূত্র আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আলী হোসেন ও আল আমিন শেখের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের (The Arms Act, 1878) ১৯-A ও ১৯-F ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ছয় মাসের এই সময়সীমাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনতেই ইসি এই মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনগুলোর ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। খবর ইসি সচিবালয় সূত্রের।
ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতায় নতুন কৌশল: এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কমিশন গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে স্থানীয় ভৌগোলিক পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. মনির হোসেনের তৈরি প্রতিবেদনে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল যেমন—সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জের একাংশে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে পানি বেশি থাকে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বাধা। আবার পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল (রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও উপকূলীয় দ্বীপসমূহ) নভেম্বরের আগে ভোটের জন্য কিছুটা প্রতিকূল। তাই কমিশন এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমতল এবং শহরাঞ্চলে বর্ষাকাল বাদে যেকোনো সময় নির্বাচন হলেও, দুর্গম ও চর এলাকাগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সূচি মানার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে সময়ের ব্যবধান: অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধাপগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো, ব্যালট পেপার পরিবহন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় দ্রুত স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতো।
এবার ইসি সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি ধাপের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাড়তি সময় নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তির মতো আইনি কার্যক্রমগুলো আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে। প্রতিটি ভোটের আগে অন্তত ৪৫ দিন সময় হাতে রেখে তফশিল ঘোষণা করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও শিক্ষার পরিবেশ: প্রতিটি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক একাডেমিক ক্যালেন্ডারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবার এমনভাবে নির্বাচনের ধাপগুলো সাজাচ্ছে যেন পরীক্ষার সময়সূচির সাথে ভোটের তারিখ কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক না হয়। পরীক্ষা এবং নির্বাচনের দিনগুলোতে যেন কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক ভোগান্তিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডসমূহের সাথে সমন্বয় করে দিন নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান: বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের একটি বিশাল অংশ প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য চ্যালেঞ্জিং।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দেশে মোট ৪,৫৮০টি ইউপি রয়েছে। এর মধ্যে ৩,৯৮১টি বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ধাপে ধাপে ভোটের আওতায় আসবে। মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। ১০টি পৌরসভায় আইনি জটিলতা থাকায় আপাতত সেগুলো বাদ রাখা হয়েছে। নতুন ৫টিসহ দেশের ৫০০টি উপজেলাই এখন নির্বাচন উপযোগী। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে গঠিত নতুন উপজেলাগুলোকেও ভোটের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনই এখন নির্বাচন উপযোগী। তবে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইউপি এবং উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি।
ভোটার তালিকা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের ওপর জোর দিচ্ছে। ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা কেন্দ্রভিত্তিক ভিড় কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়া, বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইন সংশোধনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কমিশনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রস্তুতি নিয়ে কমিশন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তফসিল ঘোষণা করা হবে। মূলত ইউপি নির্বাচন দিয়ে এই কর্মযজ্ঞ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন মানেই স্থানীয় পর্যায়ে শক্তির লড়াই ও মাঠ পর্যায়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাই প্রতিটি ধাপেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা ইসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অক্টোবর থেকে মার্চের এই সময়সীমা যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসনিক স্থবিরতা কেটে গিয়ে পুনরায় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা ফিরবে। সাধারণ নাগরিকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগের জন্য। এখন কেবল অপেক্ষার পালা, কবে আনুষ্ঠানিকভাবে তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন এই ভোটের উৎসবের যাত্রা শুরু করে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।
হত্যাকাণ্ডের শিকার কোহিনূর আক্তার মিঠামইন উপজেলার তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মিঠামইন কলেজপাড়া এলাকার মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় আটক দুইজন হলেন মিঠামইন উপজেলা সদরের মহরপুর বেরীবাঁধ এলাকার মাঈন উদ্দিনের ছেলে হৃদয় মিয়া (২০) ও তার ফুফাতো বোন জামাই ইমরান হোসেন (২৫)। ইমরান হোসেন কুমিল্লা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার আকুবপুর গ্রামের বাসিন্দা হান্দু মিয়ার ছেলে। তবে তিনি শ্বশুর বাড়িতেই দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন।
সরেজমিনে কোহিনূরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় জরাজীর্ণ একটি ঘরে পড়ার টেবিলে এখনো গুছিয়ে রাখা বই-খাতা ও তার আইডি কার্ড। আলনায়ও গুছিয়ে রাখা আছে জামা-কাপড়। কিন্তু সেই ঘরে আর ফিরবে না নবম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনুর আক্তার। মেয়ের স্কুলের আইডি কার্ড বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছেন মা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। প্রতিবেশীরাও এসে নির্বাক, কারও কাছে নেই এই শোক সইবার ভাষা।
স্বজনরা জানান, গত শনিবার বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় কোহিনুর। রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন রবিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হামিদপল্লী এলাকার নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পোশাক দেখে কোহিনুরকে শনাক্ত করেন তার মা ও এলাকাবাসী। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি নদীর স্রোতে ভেসে যায়।
নিহত কোহিনূরের মা নাহার বেগম বলেন, কিছুদিন ধরে পাশ্ব©বর্তী মহরপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক হৃদয় মিয়া (২০) তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তবে মেয়েকে লেখাপড়া করাতে চান জানিয়ে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। এরপর থেকেই হৃদয় বিভিন্নভাবে কোহিনূরকে ফুসলানোর চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহার বেগম বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয় কোহিনূর। অন্যদিন বিকেল ৪টার দিকে বের হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি ফিরলেও সেদিন আর ফেরেনি। রাত পর্যন্ত সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
তিনি আরও বলেন, রোববার আবদুল হামিদ পল্লীর উত্তর পাশে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখার খবর পান। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও দেখে সেটি তার মেয়ের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি স্রোতে ভেসে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহার বেগম বলেন, “আমার মেয়েটাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচার তো পরে, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের মরদেহটিই খুঁজে পাচ্ছি না।”
কোহিনূরের প্রতিবেশী ওমর ফারুক ও শাহিনুল ইসলাম বলেন, কোহিনূরের বাবা ফজলু মিয়া বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তার মা নাহার বেগম। অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল তার।
তাদের ভাষ্য, কোহিনূর ছিল অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের। তার এমন নির্মম মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকার কেউ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিঠামইনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে তারা দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
কোহিনূরের সহপাঠী আনিকা তাহরীন ইকরা ও নিশাত তাসনীম লাবণ্য বলেন, কোহিনূরের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এখন তাদের স্মৃতিতে ভেসে উঠছে। এমন প্রাণচঞ্চল, হাসিখুশি একটি মেয়ের এভাবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, কোহিনূর বিদ্যালয়ের নিয়মিত ও শান্ত স্বভাবের একজন ছাত্রী ছিল। তার মতো একজন শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই গভীরভাবে শোকাহত।
তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এ এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তার ভাষায়, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রোববার রাতে আবদুল হামিদ পল্লী এলাকায় নদীতে ভাসমান মরদেহটি প্রথম দেখেন স্থানীয় জেলে আল-আমিন। তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দা আকবর বাদশাহ বাবু ও মহরম আলী।
আকবর বাদশাহ বাবু ও মহরম আলী জানান, মরদেহটির দুই হাত ও দুই পা বাঁধা ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা দ্রুত মিঠামইন থানায় ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে থানার দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার হলেও পুলিশ আসতে দেরি হওয়ায় তারা দ্বিতীয়বারও ফোন করেন।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দুর্গন্ধের কারণে ঘটনাস্থলে থাকা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নদীর স্রোতে মরদেহটি ভেসে যায়। পুলিশ এসে আর মরদেহটি উদ্ধার করতে পারেনি।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। আটক দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। তাদের শুক্রবার (৩ জুলাই) আদালতে সোপর্দ করা হয়। একই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় নোয়াখালীর কবিরহাটে ২২০ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে কবিরহাট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এক অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের বিশেষ বরাদ্দ থেকে কবিরহাট উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১৪০ জন, কবিরহাট পৌরসভার ৪০ জন এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ও নেওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪০ জনসহ মোট ২২০ জন অসহায় নারীর হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
এ সময় কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজ মঞ্জু, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সৌরভ হোসেন কামালসহ বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং উপকারভোগীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত বেনাপোল বন্দর আবারও আলোচনায় এসেছে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি ও একের পর এক অনিয়মের ঘটনায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় হয়েছে অনেক কম। এতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে আদায় হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
একই সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। তুলনামূলক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন এবং রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।
ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানি কমে যাওয়া সরাসরি রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি নীতির পরিবর্তন এবং কিছু পণ্যে শুল্কহার সমন্বয়ের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি এসেছে।
বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আগের তুলনায় কম পণ্য আসায় রাজস্ব কমেছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় কাস্টমস আদায়ে বড় প্রভাব পড়েছে।
রাজস্ব ঘাটতির পাশাপাশি বন্দরে ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে কারচুপির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একটি দাপ্তরিক চিঠি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় একই দিনে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুটি আলাদা ওজন দেখানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, একটি তালিকায় ট্রাকটির ওজন ৪ হাজার ৮৮০ কেজি, অন্য তালিকায় ৪ হাজার ৯২০ কেজি। মাত্র ৪০ কেজির এই পার্থক্যও বড় চালানের ক্ষেত্রে রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালান আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের অভিযোগ, বন্দরের একটি অসাধু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাস করছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
তাদের দাবি, কিছু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এসব কাজ সহজ করে দিচ্ছেন। এতে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন রেখে কম শুল্কে ছাড়পত্র নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে বড় ধরনের পণ্য আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ‘সাফা ইমপেক্স’-এর নামে বেকিং পাউডার ঘোষণার আড়ালে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এর কয়েকদিন পর ২৬ নম্বর শেডে ‘টি এস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে ইরেজার ও পেনসিল ঘোষণার আড়ালে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার উচ্চ শুল্কের পণ্য জব্দ করা হয়।
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে বন্দরের অভ্যন্তরে শক্তিশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
জুন মাসজুড়ে শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য পাচারের অভিযোগে চারটি পৃথক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা, রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
এই মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে বন্দরের অভ্যন্তরে দুর্নীতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, শেড ইনচার্জদের অনেক ক্ষেত্রে মামলার বাইরে রাখা হচ্ছে, যা প্রশ্ন তৈরি করছে। তার মতে, শেড ইনচার্জের সহযোগিতা ছাড়া শেডের ভেতর থেকে কোনো পণ্য সরানো সম্ভব নয়।
অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, বর্তমানে বন্দরে অনিয়ম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, আনসার সদস্য, শেড ইনচার্জ এবং কর্মকর্তারা মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, ওজন নির্ধারণে সামান্য গরমিলও সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে তার মতে, চলতি অর্থবছরে আমদানি কম হওয়াও রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ওজনযন্ত্রে কারচুপি এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেছেন, সরকারের একটি টাকার রাজস্বও যাতে ফাঁকি না যায়, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা এবং ওজন জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য প্রবেশদ্বার। তাই এখানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও শুল্ক ফাঁকি রোধে কার্যকর নজরদারি জরুরি। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে রাজস্ব ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।
সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বেনাপোল বন্দরের অনিয়ম বন্ধ করে রাজস্ব আদায়ের স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনা।