বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কক্সবাজারে পর্যটন মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ

আশরাফ বিন ইউছুপ, কক্সবাজার
প্রকাশিত
আশরাফ বিন ইউছুপ, কক্সবাজার
প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১০:২৫

কক্সবাজারে সপ্তাহব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভালের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর এ উৎসব ঘিরে থাকছে নানান আয়োজন। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ ছাড়ের ছড়াছড়ি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সপ্তাহব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল শুরু হবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে। তবে আজ ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় উন্মোচন হবে থিম সং। আর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিনই সকাল ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী চলবে সৈকত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ৬০ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় ১৫ শতাংশ, বাস ভাড়ায় ২০ শতাংশ, হেলিকপ্টার জয় রাইডে ১০ শতাংশ, টিউব ভাড়ায় ৩০ শতাংশ, কিটকট চেয়ার ভাড়ায় ৩৩ শতাংশ, ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলা ২ টাকা, প্যারাসেইলিং রাইডে ৩০ শতাংশ, জেটস্কি/বিচ বাইক রাইডে ৩৩ শতাংশ, চাঁদের গাড়ি ভাড়ায় বিশেষ ছাড়, লকার ভাড়ায় ৫০ শতাংশ, গাড়ি পার্কিংয়ে ৫০ শতাংশ, বিমান ভাড়ায় বিশেষ ছাড়, ফান গেমে ৫০ শতাংশ, বিনামূল্যে সার্কাস শোসহ বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারকে বিশ্বের কাছে পরিচিতি বাড়াতে এ পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভালের আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত থাকছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধন হবে পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে থাকছে বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে মহেশখালী জেটি পর্যন্ত চলবে নৌ শোভাযাত্রা। আর প্রতিদিন বিকেল ৩টায় বিনামূল্যে চলবে সার্কাস প্রদর্শনী। বিকেল সাড়ে ৪টায় বিচ বাইক শোভাযাত্রা, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এরপর ডিজে শো এবং আতশবাজি প্রদর্শনী।

২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় রোড শো, বিকেল সাড়ে ৪টায় জেটস্কি শো ও সেমিনার।

২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঘুড়ি উৎসব, বিকেল সাড়ে ৪টায় সেমিনার, সাড়ে ৫টায় ম্যাজিক শো, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ফায়ার স্পিন, সন্ধ্যা ৭টায় লাইফ গার্ড রেসকিউ প্রদর্শনী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৯টায় ফানুস উৎসব, রাত ১১টায় ডিজে শো।

৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সার্ফিং প্রদর্শনী, বিকেল ৩টায় ঘুড়ি উৎসব, বিকেল ৪টায় বিচ ম্যারাথন, বিকেল ৫টায় সেমিনার, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে শো।

১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় সেমিনার ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

২ অক্টোবর বিকেল ৪টায় বিচ ভলিবল, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৮টায় বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাত ১১টায় ডিজে শো।

৩ অক্টোবর বিকেল ৩টায় সেমিনার, বিকেল ৪টায় পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্র্যান্ড সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট, রাত সাড়ে ১১টায় ডিজে শো ও রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে আতশবাজি প্রদর্শনী।

সৈকতের লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, জোরেশোরে চলছে পর্যটন মেলা আয়োজনের নানান প্রস্তুতি। লাবণী পয়েন্টের হোটেল কল্লোল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে ট্যুরিস্ট পুলিশের গেট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে তৈরি করা হচ্ছে দুই শতাধিক স্টল।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (টুয়াক)-এর সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির পাশা বলেন, কক্সবাজারে বিশ্ব পর্যটন মেলা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিশেষ ছাড়সহ নানান আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হোটেল দি সি প্রিন্সেসের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার আব্দুল কাদের বলেন, ‘সপ্তাহব্যাপী বিশ্ব পর্যটন মেলা উপলক্ষে ৫০ শতাংশ ছাড় রেখেছি। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, বিশ্ব পর্যটন মেলায় নানান আয়োজন রয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোতে কক্সবাজারের পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া মেলায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সাদা পোশাকধারী পুলিশও নজরদারি রাখবে।

বিষয়:

বিশাল অঙ্কের টাকায় রফাদফায় আবার চালু হাসপাতাল

আলো জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৩
ইমরোজ খন্দকার বাপ্পি,পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া আলো জেনারেল হাসপাতাল আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে হাসপাতালটি চালু করে দেওয়া হয়েছে। তবে রফাদফার বিষয়টি রোগীর স্বজনরা স্বীকার করলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অস্বীকার করেছেন।

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ফজলে রাব্বির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অন্তরা খাতুনকে আলো জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই সন্ধ্যায় হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. মাসুমা আঞ্জুমা ডানা এবং তার স্বামী ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা ডা. শফিকুল ইসলাম শামীমের তত্ত্বাবধানে সিজার অপারেশন করা হয়। এ সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কজনক হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিচার চেয়ে গত ১০ জানুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন তারা। হাসপাতালের সামনে ওই মানববন্ধনে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক কর্মচারীর নেতৃত্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন এবং মারধর করেন।

পরে ঈশ্বরদী থানা ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। ওই দিনই বিষয়টি নজরে এলে হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করেন পাবনা সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে গঠন হওয়া পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ওই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ পায়। তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণার মাত্র দেড় মাসের মাথায় এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালটি আবার খুলে দেওয়া হয়। অপারেশন ছাড়া সব কার্যক্রমই চলছে সেখানে। আদালতে মামলা দায়েরের মাত্র এক মাস পরেই আবার মামলা তুলে নেওয়া এবং কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই হাসপাতালটি খুলে দেওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলেন, মাঝেমধ্যেই এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এবার হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আশপাশের লোকজন স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আবার চালু হয়ে গেছে। হাসপাতালের লোকজন বলছে, অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে হাসপাতালটি চালু করা হয়েছে। টাকা-পয়সা নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকারও করছেন রোগীর স্বজনরা।

বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনের মাধ্যমে মামলা দায়েরের পর কেন মামলা তুলে নিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি মামলার বাদী মৃত রোগীর শাশুড়ি জান্নাতুল ফেরদৌস রুনু। তবে রফাদফার বিষয়টি স্বীকার করেন মৃত রোগীর স্বামী ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ নানান ব্যক্তিরা চাপ দিচ্ছিল। নানান কারণে নানা ঝামেলা মনে করে মীমাংসা করেছি। আমার শাশুড়িকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছে আর হাসপাতালের ৪০% আমার মেয়ের নামে লিখে দেবে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হাসপাতালটিতে গেলেও কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে অভিযুক্ত ডা. শফিকুল ইসলাম শামীমের কার্যালয়ে গেলে সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে তিনি দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও স্থানীয় সংসদ সদস্য গালিবুর রহমান শরীফের মন্তব্য নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

এদিকে টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পাবনা সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান। তিনি বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। আর হাসপাতালটি সাময়িকভাবে যে বন্ধ রেখেছিল সেটা খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই ডাক্তারদের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আর বলে দেওয়া হয়েছে, তারা কোন কোন কাজ করতে পারবে আর পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু সমস্যা তো আছেই, তা না হলে তো আর অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হতো না, ওদের গাফিলতি ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া তো আর আমার হাতে থাকে না। ওগুলো স্বাস্থ্য বিভাগ দেখবে। লেনদেনের বিষয়টা মিথ্যা আর অভিযোগকারী নারীর মামলা তুলে নেওয়ার স্ট্যাম্প আমাদের কাছে আছে। মামলা কেন তুলে নিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি বাদী।’


নেত্রকোণায় আগুনে প্রাণ গেল ৮ গরুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:০০
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

নেত্রকোণায় এক কৃষকের গোয়াল ঘরে আগুন লেগে আটটি গরু পুড়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ থাকা প্রতিবেশীদের দায়ী করছেন গরুর মালিক।

সোমবার রাতে জেলার বারহাট্টা উপজেলার আসমা গ্রামে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আসমা গ্রামের শেখ হাবিবুর রহমান ও শেখ আতিকুর রহমান দুই ভাই। তাদের আটটি গরু একই গোয়াল ঘরে রাখেন। রাতে হঠাৎ করে গোয়ালে আগুন দেখে চিৎকার দেন তারা। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে গোয়ালে শুকনো খড় থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। ততক্ষণে গোয়াল ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে গোয়ালে থাকা আটটি গরু পুড়ে মারা যায়।

জেলার বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিবেশী যাদের সঙ্গে পূর্ববিরোধ রয়েছে এ ঘটনায় তাদের হাত আছে বলে সন্দেহ করছেন ভুক্তভোগীরা। যদি এমনটা হয় তাহলে তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়। এছাড়াও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুবিবেচনা করা হবে।’

বিষয়:

নওগাঁয় পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও বিক্রি চক্রের ৩ জন আটক

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৫
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাট থেকে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও বিক্রয় চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

আটকরা হলেন, ধামইরহাট উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের নিত্য সরকার (২৪) এবং জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার বিল্লা গ্রামের শহিদ হোসেন (২২) ও দোগাছী গ্রামের সিফাত হোসেন (১৮)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারের দোকান থেকে স্থানীয় কিশোর ও স্কুল পডুয়া ছাত্রদের কাছে পর্নোগ্রাফি ভিডিও সরবরাহ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অশ্লীল সিনেমা ও গানের ভিডিও ক্লিপ আপলোড ব্যবসার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি সরবরাহের বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তে এর সত্যতা পায় র‌্যাব-৫ গোয়েন্দা দল। মঙ্গলবার ভোরে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট এর সদস্যরা। এসময় নিত্য সরকার, শহিদ হোসেন ও সিফাত হোসেনকে তাদের দোকান থেকে আটক করা হয়। তারা তাদের নিজস্ব কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে অশ্লীল সিনেমা ও গানের ভিডিও ক্লিপ আপলোডের ব্যবসা করত। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ধামইরহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বিষয়:

শীতল পাটির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একটি পরিবার

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৪১
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)

বাঙালির প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী এক শিল্প হলো শীতল পাটি। মুর্তাগাছের বেত দিয়ে নয়নাভিরাম বুননের মাধ্যমে তৈরি হয় মসৃণ এই মাদুর।

একটা সময় সর্বত্র ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল এই শীতল পাটি। শীতল পাটি ছাড়া গ্রামের বিয়ে ছিল কল্পনাতীত। তীব্র গরমে এই পাটি পেতে ঘুমানো ছিল পরম প্রশান্তির। কালের পরিক্রমায়, আধুনিক চাকচিক্যের আড়ালে শীতল পাটির জনপ্রিয়তায় খানিকটা ভাটা পড়েছে। পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচর্যার অভাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যারা পাটি বানাতেন তাদের স্থানীয়ভাবে বলা হতো পাইততা। নগদা শিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল গ্রামে প্রায় ২৫০টি হিন্দু পাইততা পরিবারের বসবাস ছিল। তারাই মূলত ছিল শীতল পাটির কারিগর।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাইশকাইলের পাইততা পাড়ায় গণহত্যা চালায়। যে কজন বেঁচে ছিল, তারাও আতঙ্কে দেশ ছাড়ে চলে যায়।

সেই পাইততা পাড়ায় এখন বৃদ্ধ নরেশ চন্দ্র চন্দ (৮৫) কেবল পূর্ব-পুরুষের পাটি বানানোর পেশা ধরে রেখেছেন। আর এ পাটি বুননের কাজে তাকে সহায়তা করেন স্ত্রী কমলা রানী (৮০)। সেই পাটি হাট-বাজারে বিক্রি করেন তাদের একমাত্র ছেলে মন্তোস চন্দ্র চন্দ (৪৫)। একটি শীতল পাটি বানাতে সময় লাগে ৬-৭ দিন। এগুলো দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এই একটি পরিবারের হাত ধরেই এখানে টিকে আছে শীতল পাটির গৌরব। তবে তারাও যেকোনো সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান।

বৃদ্ধা কমলা রানী বলেন, ‘আমরা একটি পরিবার হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। উৎসব, পূজা, পার্বণ একাই করতে হয়। কেউ মারা গেলে দাহ করার মানুষ পাই না। আমাদের অনেক জমি বেদখল হয়ে আছে, কিছুদিন আগে গণভবনে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়নি, তবে লিখিত আবেদন দিয়ে এসেছি।’

বৃদ্ধ নরেশ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘সরাসরি আমাদের কেউ কিছু না বললেও, এখানকার একমাত্র হিন্দু পরিবার হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাড়ির সীমানা নিয়েও বিভিন্নভাবে আমাদের মানসিক চাপে রাখা হয়। আমাদের সমস্যার সমাধান হলে আমরা এখানেই থাকতেই চাই।’

গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘বাইশকাইল গ্রামে আমাদের পূর্ব-পুরুষের বাড়ি ছিল। গণহত্যার পর থেকেই মূলত হিন্দু পরিবারগুলো বিভিন্ন স্থানে যেতে থাকে। আমরাও গোপালপুর চলে আসি। ওই পরিবারটি একা হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়ে গেছে। গোপালপুর উপজেলায় একটিমাত্র পরিবার পূর্ব-পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তারা চলে গেলে গোপালপুরে পাটি বানানোর ঐতিহ্য পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ঐতিহ্যটি টিকিয়ে রাখতে এবং গণহত্যার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের গোপালপুর শাখার সভাপতি হরিপদ দেব মঙ্গল বলেন, পরিবারটি একা হয়ে যাওয়ায় ওখানে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। তাদের জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান। তাই এখন পর্যন্ত তারা সেখানে রয়েছে।

নগদা শিমলা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সোহেল বলেন, ডিজিটালের ছোঁয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় মূলত বিভিন্ন পেশায় স্থানান্তরিত হয়েছে শীতল পাটির কারিগররা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নরেশ চন্দ্রের পরিবারটিকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। সরকার যদি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আলাদাভাবে কোনো সহযোগিতা করে, তবে তা অবশ্যই তাদের নিকট পৌঁছানো হবে।

উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা এখলাছ মিয়া বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের উপজেলায় কোনো প্রকল্প চালু নেই। নরেশ চন্দ্র চন্দকে বয়স্ক ভাতার আওতায় এনে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।’

ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাব।’

বিষয়:

দেড় দশকে কমেছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:০৮
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

মাছচাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জে পুকুর কাটার হিড়িক পড়েছে। যে জমিতে বছরে তিনবার ফসল ফলত, সে জমিও এখন কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলা হচ্ছে।

জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধানের আবাদ হয় তাড়াশে। এই উপজেলায় এক্সকাভেটর দিয়ে জমি কেটে পুকুর খনন করার ফলে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে বছর শেষে ফসলি জমির পরিমাণ ভয়ংকরভাবে হ্রাস পাবে।

এ জেলায় প্রচুর পরিমাণ ধান, গম, খিরা, শসা, পাট, বেগুন, ডাল, রসুন, কাঁচা মরিচ, আখসহ বিভিন্ন রকমের ফসল উৎপাদিত হয়, যার উদ্বৃত্ত অংশ দেশের অন্যত্র বিক্রি হয়। কিন্তু অচিরেই খাদ্যে উদ্বৃত্ত এই জেলায় খাদ্য সংকট দেখা দেবে। এর প্রভাব পড়বে সারা দেশেও।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে ২ হাজার ৫৩৯টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এই দেড় দশকে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে। শুধু কৃষি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, মাটি বহনকারী ডাম ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক-মহাসড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেল-জরিমানা করেও পুকুর খনন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ধানের উৎপাদন কমে আসবে। দ্রুত এর অবসান না হলে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন হাজি বাবু নামে একজন। ভায়াট গ্রামের আলামিন জমি ইজারা নিয়ে পুকুর খনন করছেন। লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের উত্তর মাঠে একটি বড় পুকুর খনন করছেন খোকা নামে এক ব্যক্তি। সরকারি অফিসের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ রকম অধিকাংশ গ্রামে রাতের আঁধারে কৃষিজমির এমন ধ্বংসযজ্ঞ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চললেও কৃষিজমিসহ নদী ও খাসজমি দখল করে চলছে পুকুর খনন।

বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পুকুর খননকারী হাজি বাবু ও আলামিন জানান, কয়েক বছর ধরে তাড়াশের বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তাই তারাও করছেন। সবারটা বন্ধ হলে তারাও আর খনন করবেন না।

কালিদাসনিলি গ্রামের তারিকুল ইসলাম, শাজাহান আলী ও আখতার হোসেন জানান, হাজি বাবু বাঁশবাড়িয়া গ্রামে আবাদযোগ্য জমিতে ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে একটি পুকুর খনন করছেন। পুকুরটির খনন শেষ হলে উত্তর ও দক্ষিণের মাঠের পানি নামতে পারবে না। তখন জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

একই ইউনিয়নের জহুরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, ‘আমার ১০ কাঠা জমি ছিল। সলঙ্গা থানার কুমার গাইলজানি গ্রামের সাচ্চু নামের একজন মাঠের ১৫ জন কৃষকের জমি ইজারা নিয়েছেন পুকুর খননের জন্য। শেষমেশ আমিও দিতে বাধ্য হই। নয়তো আমার ওইটুকু জমি পুকুরের এক কোণায় পানিতে তলিয়ে থাকত।’

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুকুর খনন করার অপরাধে গত এক মাসে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ৮টি, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ১০টি এবং সাধারণ কৃষকরা বাদী হয়ে ২টি মামলা করেছে।

তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান বলেন, পুকুর খননের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেশ কয়েকজনকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাড়াশের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে বছরে তিন ফসলিসহ বিভিন্ন জাতের ধান ও রবিশস্যের আবাদ হয়। তারপরও কৃষকরা তাদের জমি কেটে পুকুর খনন করছেন। মূলত মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র কৃষকের সব দায়ভার নিয়ে পুকুর খনন করে দিতে উৎসাহিত করছেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (উপ-পরিচালক) বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, এই জেলার মতো উর্বর এবং তিন থেকে চার ফসলি জমি দেশের খুব কম এলাকায় আছে। সে কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত। ভবিষ্যতে সেই সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হবে না। মানুষ বুঝতে চাচ্ছে না, আবাদি জমি কমে গেলে তাদের জীবন সংকটাপন্ন হবে। ফসলি জমিতে পুকুর খনন বা শিল্পায়ন কঠোর হাতে দমন করা জরুরি।

বিষয়:

শ্রীমঙ্গলে মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচলে সড়কের অচলাবস্থা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৪৭
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আবাসিক এলাকায় মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচলের ফলে কাঁচা সড়কের বেহাল অবস্থা। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এ সড়কের পাশে সরকারিভাবে নির্মিত গাইড ওয়ালটিও বিভিন্ন জায়গায় হেলে পড়েছে ও ভেঙে গেছে।

উপজেলার ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের সবুজবাগ এলাকার সরকারপাড়া থেকে হাইল হাওর যাওয়ার সড়কে এমনটাই দেখা যায়। এ বিষয়ে গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারপাড়া থেকে হাইল হাওরে যাওয়ার পথে পীযুষ পালের বাড়ির উঠোন ও একটি জলাশয় ভরাট করার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছিল। মাটি বোঝাই ট্রাকের কারণে চলাচলের রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও কাদামাটি তৈরি হওয়ায় স্থানীয়রা ট্রাকচালক ও মাটি ভরাটের কাজের ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে এই সড়ক নষ্ট না করার জন্য অনুরোধ জানায়; কিন্তু ঠিকাদার বলের, তিনি নাকি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন। সড়কের কোথাও যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে পুরো সড়কটি তিনি ঠিক করে দেবেন। মাটির সড়কের ওপর মাটি বোঝাই ট্রাক চালানোর ফলে এখন সড়কের পাশের সরকারিভাবে নির্মিত গাইড ওয়ালটির বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে ও হেলে পড়েছে। সড়কের অনেক গর্ত তৈরি হয়েছে। এখন এই সড়ক ব্যবহার করে কেউ হাঁটাচলা করতে পারছে না। কোনো রোগী অসুস্থ হলে বাসা থেকে বের করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে ঠিকাদার এলেই প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে রাস্তা নষ্ট করে জলাশয় ভরাট করেছে কি না সেটা স্থানীয়দের জানা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সন্দ্বীপ তালুকদার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে একাধিকবার ফোন দিয়েছি। তিনি ফোন ধরেননি। আমরা বিষয়টি দেখছি। আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে যাবে; প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’


কক্সবাজারে ভাইয়ের হা‌তে ভাই খুন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:০৭
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে চাচাত ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়ার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হোসেন।

নিহত ছৈয়দ করিম (৪৫) জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তবে ঘটনায় অভিযুক্ত ছালামত উল্লাহকে (৩৮) এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ওসি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া গ্রামের স্থানীয় স্টেশন থেকে ছৈয়দ করিম বাড়ী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তেতুলতলা নামক স্থানে পৌঁছলে আপন চাচাত ভাই ছালামত উল্লাহ আকস্মিক তার উপর হামলে পড়ে। এক পর্যায়ে ছৈয়দ করিমের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এসময় হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ওসি বলেন, ‘কী কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তা নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছালামত উল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গে ছৈয়দ করিমের পরকীয়া রয়েছে এমন সন্দেহে এ ঘটনা ঘটেছে।’

নিহতের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বলেন, ‘একটা সময় তার বাবা ও চাচার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। পরে তা সামাজিক সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এ নিয়ে তার বাবার প্রতিপক্ষরা মনে মনে ক্ষুদ্ধ ছিল। এই ক্ষুদ্ধতাবশত গত ২-৩ বছর আগেও তাকে (মিজানুর) মাথায় ছুরিকাঘাত করেছিল ছালামত উল্লাহ। পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।’

ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে রয়েছে বলে জানান ওসি শামীম হোসেন।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।


পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ উদ্বোধন করেছেন।

এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট দেশ, শান্তি ও প্রগতির বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী খোলা জিপে চড়ে বাংলাদেশ পুলিশের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন পুলিশ বাহিনী বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সাহসী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম-বীরত্ব) এবং ৬০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-বীরত্ব) প্রদান করেন।

এছাড়া ৯৫ জন পুলিশ সদস্য বিপিএম সেবা পদক এবং ২১০ জন পিপিএম সেবা পদক পেয়েছেন।

সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দৈনিক সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে এবং টিভি চ্যানেলগুলো পুলিশ সপ্তাহে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন তাঁকে স্বাগত জানান।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।


স্যালাইন-ট্যাং পানের পর শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৩

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:৪১
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইনের পানি পানের পর জিম খাতুন (৩) বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই শিশুর মাসহ আরও তিনজন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোকানদার ও সেলসম্যানসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার রাতে বেলকুচি উপজেলার বেলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু জিম খাতুন উপজেলার বেলগাছি গ্রামের কায়েম উদ্দিনের মেয়ে। অসুস্থরা হলেন, জিমের মা পারভিন খাতুন, বোন রিয়া ও মিথিলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় শবে বরাতের নফল রোজা রেখে ইফতারিতে খাওয়ার স্যালাইন ও ইস্পি ট্যাংয়ের মিশ্রণ গুলিয়ে পান করেন পারভিন খাতুন। এ সময় তার তিন সন্তান জিম, রিয়া ও মিথিলা ওই পানীয় পান করে। ইফতার শেষে পারভিন ও তার তিন শিশু সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন জানান, অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাদের সিরাজগঞ্জের প্রেরণ করেন। এখানে আসার পর জিম খাতুন নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য অসুস্থ অপর তিনজনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জিমের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দোকানদার আমিনুল ইসলাম, স্যালাইনের সেলসম্যান আনিছুর রহমান, হাফিজ শেখ ও সাগর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য থানায় আনা হয়েছে।’

বেলকুচি থানার ওসি - তদন্ত মো. আব্দুল বারিক বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে ওরস্যালাইন এবং ইস্পি ট্যাংয়ের খালি প্যাকেট ও মিশ্রণের পানি সংগ্রহ করেছি। এতে দেখা গেছে, ওরস্যালাইনের প্যাকেটের মেয়াদ নেই আর ইস্পি ট্যাংয়ের মেয়াদ স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওরস্যালাইনের যেহেতু মেয়াদ নেই এটা থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে। তবে ডাক্তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ল্যাব টেষ্ট করে রিপোর্ট দিলে সঠিকটা জানা যাবে।’

বিষয়:

'বঙ্গবন্ধু বিচ' নয়,সৈকতের নাম সুগন্ধাই থাকছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ ও কলাতলী ও সুগন্ধা বিচের মাঝখানের এলাকাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণনালয়। সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধা বিচ’ নামের আরেকটি নতুন নামকরণের সিদ্ধান্ত দিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

গতকাল রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব মোঃ সাহেব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্বে পাঠানো নির্দেশনার উপর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশনাক্রমে অনুরোধ করা হলো। একই সাথে পূর্বে পাঠানো পত্রটি বাতিল বলে গণ্য করা হলো।

উল্লেখ্য, সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সোলায়মান মিয়া এ বিষয়ে আবেদন করেছিলো। পরে তা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির ১৩ তম সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হলে মন্ত্রণালয় সেটি বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলো।


পটুয়াখালীতে মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

শহরের পৌরসভা মোড়, সিঙ্গারা পয়েন্ট, কলেজ রোড, জুবিলী স্কুল সড়কসহ বেশকিছু সড়কে জগ মার্কার মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিনের পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে আচারণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। পলিথিন মোড়ানো পোষ্টার টানানোর ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না তিনি। অন্যান্য প্রার্থীরা পলিথিন ব্যবহার না করলেও মেয়র মহিউদ্দিন সেটি করছেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রায় সকল প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী পোষ্টার ব্যবহার করছেন। তবে এরইমধ্যে নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অমান্য করে শহরের পৌরসভা মোড়, সিঙ্গারা পয়েন্ট, কলেজ রোড, জুবিলী স্কুল সড়কসহ বেশকিছু সড়কে জগ মার্কার মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিনের পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে দেখা গেছে। যা নিয়ে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র ২এর ২১নং ক্রমিকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক প্রচার প্রচালনা পরিচালনায় এবং নির্বাচনী প্রচারনায় পোষ্টার ব্যবহারে প্লাষ্টিক দিয়ে মোড়ানো বা পোষ্টার প্লাষ্টিক পলিথিন লেমেনিটিং করে ব্যবহার না করাসহ ইতিপূর্বে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে’। এই ধারা উল্লেখ করে প্রতিক বরাদ্দের দিন জেলা নির্বাচন অফিসার পলিথিন মোড়ানো পোস্টার না লাগাতে নির্দেশনা দেন ’।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রোববার রাত থেকে মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ পলিথিন মোড়ানো পোষ্টার সাঁটিয়েছেন গোটা শহরে। বিষয়টি অন্যান্য সকল প্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কারণ ২৩ তারিখ থেকে গত রাত পর্যন্ত অন্যান্য প্রার্থীদের পলিথিন ছাড়া টানানো পোষ্টার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর কুয়াশায় নষ্ট হয়েছে কয়েকবার। অথচ শহরের পৌরসভা মোড়, সিঙ্গারা পয়েন্ট, কলেজ রোড, জুবিলী স্কুল সড়কসহ বেশকিছু সড়কে জগ মার্কার মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিনের টানানো পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

মেয়র প্রার্থী ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পোস্টার লাগানো হলেও বিকালে হাল্কা বৃষ্টি হওয়ার কারনে সেই পোষ্টার নষ্ট হয়ে যায়। তাই পরেরদিন সকালে আবার পোষ্টার লাগাই, তবুও নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করিনি। কিন্তু একজন প্রার্থী কেন তার পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করবে? এগুলো কি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেখেন না? আমার মতে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দেখার।

পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ জাহিদ হোসেন জানান, প্রতীক বরাদ্দের দিন জেলা নির্বাচন অফিস থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছে পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করা যাবেনা। পোষ্টারে পলিথিন লাগানো আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। যে কারণে আমরা পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করিনি।

৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ খলিলুর রহমান জানান, নির্বাচন অফিসের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পোষ্টারে পলিথিন লাগাইনি। দেযালে পোষ্টার আঠা পলিথিন লাগানো সম্পূর্ন নিষেধ।

এ ব্যাপারে জগ মার্কার মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওগুলো ভুলে লাগানো হয়েছে। যারা লাগিয়েছে তারা ভুল করেছে। আমি তাদেরকে সরিয়ে ফেলতে বলেছি।

পটুয়াখালী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর খান জানান, নির্বাচনী আচরণবিধিতে বলা হয়েছে কোন প্রার্থী তাদের পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কেউ পলিথিন ব্যবহার করে থাকে তবে আমাদের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।


 গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠানে কনেকে চুমু, ‘প্রেমিক’ গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথির সামনে কনেকে চুমু দেয়ায় ‘প্রেমিক’কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়ে‌ছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় দরিদ্র পরিবারের বাবাহারা মেয়েটির বিয়ে ভেঙে গেছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই কিশোরী স্কুলে পড়ার সময় উজিরপুর উপজেলার ছত্তার হাওলাদারের ছেলে জিহাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর জিহাদ হাওলাদার অন্যত্র বিয়ে করেন।

এদিকে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কনের বাড়িতে গায়ে-হলুদ দিতে আসে বর পক্ষের লোকজন। অনুষ্ঠান চলাকালে জিহাদ ওই বাড়িতে এসে উপস্থিত লোকজনের সামনে ওই কিশোরীকে চুমু দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা ‘প্রেমিক’ জিহাদকে ধরে মারধর করে ওই রাতেই আগৈলঝাড়া থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

এদিকে এ ঘটনার পর বর পক্ষ বেঁকে বসে। তারা এই বিয়েতে রাজি নয় বলে মেয়ের পরিবারকে জানিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় কনের মা বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ওই ‘প্রেমিক’কে গ্রেপ্তার করে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

ওই কিশোরীর মা বলেন, ‘আমাদের জায়গা-জমি নেই। আমার স্বামী একজন দরিদ্র কৃষক ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ৯ বছর ধরে অন্যের সাহায্যে এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে চারজনের সংসার কষ্টের মধ্যে চালিয়ে আসছি। এখন মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় মহাবিপদে পড়েছি।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্ত যুবক জিহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আর বরপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ভেঙে যাওয়া বিয়ে পুনরায় আয়োজনের চেষ্টা করছি।’


নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৮
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছায় নিখোঁজের দুই দিন পর উম্মে হাবিবা (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার চালুনিয়া বিলের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হাবিবা উপজেলার চালুনিয়া পানাতিপারা গ্রামের আব্দুল হাকিমের মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় উম্মে হাবিবা। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান পাননি পরিবারের লোকজন। সোমবার সকালে বাড়ির পাশের চালুনিয়া বিলের একটি পুকুরে শিশু উম্মে হাবিবার মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বিষয়:

banner close