কক্সবাজারে সপ্তাহব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভালের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর এ উৎসব ঘিরে থাকছে নানান আয়োজন। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ ছাড়ের ছড়াছড়ি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সপ্তাহব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল শুরু হবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে। তবে আজ ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় উন্মোচন হবে থিম সং। আর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিনই সকাল ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী চলবে সৈকত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ৬০ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় ১৫ শতাংশ, বাস ভাড়ায় ২০ শতাংশ, হেলিকপ্টার জয় রাইডে ১০ শতাংশ, টিউব ভাড়ায় ৩০ শতাংশ, কিটকট চেয়ার ভাড়ায় ৩৩ শতাংশ, ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলা ২ টাকা, প্যারাসেইলিং রাইডে ৩০ শতাংশ, জেটস্কি/বিচ বাইক রাইডে ৩৩ শতাংশ, চাঁদের গাড়ি ভাড়ায় বিশেষ ছাড়, লকার ভাড়ায় ৫০ শতাংশ, গাড়ি পার্কিংয়ে ৫০ শতাংশ, বিমান ভাড়ায় বিশেষ ছাড়, ফান গেমে ৫০ শতাংশ, বিনামূল্যে সার্কাস শোসহ বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারকে বিশ্বের কাছে পরিচিতি বাড়াতে এ পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভালের আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত থাকছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধন হবে পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে থাকছে বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে মহেশখালী জেটি পর্যন্ত চলবে নৌ শোভাযাত্রা। আর প্রতিদিন বিকেল ৩টায় বিনামূল্যে চলবে সার্কাস প্রদর্শনী। বিকেল সাড়ে ৪টায় বিচ বাইক শোভাযাত্রা, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এরপর ডিজে শো এবং আতশবাজি প্রদর্শনী।
২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় রোড শো, বিকেল সাড়ে ৪টায় জেটস্কি শো ও সেমিনার।
২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঘুড়ি উৎসব, বিকেল সাড়ে ৪টায় সেমিনার, সাড়ে ৫টায় ম্যাজিক শো, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ফায়ার স্পিন, সন্ধ্যা ৭টায় লাইফ গার্ড রেসকিউ প্রদর্শনী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৯টায় ফানুস উৎসব, রাত ১১টায় ডিজে শো।
৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সার্ফিং প্রদর্শনী, বিকেল ৩টায় ঘুড়ি উৎসব, বিকেল ৪টায় বিচ ম্যারাথন, বিকেল ৫টায় সেমিনার, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে শো।
১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় সেমিনার ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২ অক্টোবর বিকেল ৪টায় বিচ ভলিবল, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৮টায় বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাত ১১টায় ডিজে শো।
৩ অক্টোবর বিকেল ৩টায় সেমিনার, বিকেল ৪টায় পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্র্যান্ড সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট, রাত সাড়ে ১১টায় ডিজে শো ও রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে আতশবাজি প্রদর্শনী।
সৈকতের লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, জোরেশোরে চলছে পর্যটন মেলা আয়োজনের নানান প্রস্তুতি। লাবণী পয়েন্টের হোটেল কল্লোল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে ট্যুরিস্ট পুলিশের গেট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে তৈরি করা হচ্ছে দুই শতাধিক স্টল।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (টুয়াক)-এর সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির পাশা বলেন, কক্সবাজারে বিশ্ব পর্যটন মেলা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিশেষ ছাড়সহ নানান আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
হোটেল দি সি প্রিন্সেসের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার আব্দুল কাদের বলেন, ‘সপ্তাহব্যাপী বিশ্ব পর্যটন মেলা উপলক্ষে ৫০ শতাংশ ছাড় রেখেছি। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, বিশ্ব পর্যটন মেলায় নানান আয়োজন রয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোতে কক্সবাজারের পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া মেলায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সাদা পোশাকধারী পুলিশও নজরদারি রাখবে।
খুলনার রূপসা উপজেলায় বিদেশি পিস্তলসহ সুলতান মাহমুদ বাপ্পা (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাপ্পা গোপালগঞ্জ জেলার বেতগ্রাম এলাকার শেখ হাফিজুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, রূপসা থানার এসআই মশিউর রহমান সরকারি পিকআপে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় নৈহাটি গোডাউন মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সূত্রে খবর পান যে, জয়পুর গ্রামে এক ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে।
খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মীরসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়
সেখানে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে তার পরিহিত ট্রাউজারের পেছনের কোমর থেকে একটি খালি ম্যাগাজিনসহ বাটযুক্ত বিদেশি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
রূপসা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মীর বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুলতান মাহমুদ বাপ্পাকে খুলনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
মাদারীপুরের শিবচরে ট্রেনের ধাক্কায় শুকরন বেগম (৭৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের পাঁচ্চর তেলের পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শুকরন বেগম দত্তপাড়া ইউনিয়নের বাঁচামারা মোকশেদপুর এলাকার মোঃ মোকশেদ হাওলাদারের স্ত্রী।
মাদবরেরচর ইউনিয়ন মোল্লাবাজার সংলগ্ন রেল লাইনের পাশে এক নারীকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানান পরিবারের লোকজন।
শিবচর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে এবং এ ব্যাপারে রেল পুলিশ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
শনিবার (২০ জুন) বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠকের পর তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সীমান্ত পিলার ১৭৭-এর ২-এস এবং ১৭৮-এর এস-৩ পিলারের কাছে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বিএসএফ পুশইন করা ১১ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন শিশুকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এর আগে শনিবার (২০ জুন) সকালে চৌকা সীমান্ত দিয়ে ওই ২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারনে সেই চেষ্টা বার্থ হয়।
চলতি বাজেটকে একটি জনবান্ধব বাজেট উল্লেখ করে সরকার দলীয় হুইপ ও নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, দেশের তৃনমুল পর্যায়ের মানুষের জন্য যে বাজেট দরকার। ধান, চাল, তেল ও আটা থেকে শুরু করে মসলা পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রে কৃষক বান্ধব ও জনবান্ধব বাজেট পেশ করেছে সরকার। গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এমন সুন্দর বাজেট হয়নি।
শনিবার (২০ জুন) নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে প্রান্তিক কৃষকদোর মাঝে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, কৃষক, শ্রমিক রিক্সা চালক থেকে শুরু করে সকল মানুষের জীবনযাত্রা অতিবাহিত করার জন্য যে বাজেট প্রয়োজন সেই বাজেট ঘোষনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, সাইফুল ইসলাম আফতাব সহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, এর কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ-স্বচ্ছ যুবসমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে পিরোজপুরে ‘মাদকের বিস্তার-আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই সভার আয়োজন করা হয়।
পিরোজপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস. এম. রেজাউল ইসলাম শামিম।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।" জেলা প্রশাসক মাদকের তালিকা তৈরি করে তা প্রকাশ্যে টানিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তাদের সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।
তিনি আরও জানান, পিরোজপুরে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা জেলা প্রশাসনের রয়েছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পান্না লাল রায়, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত এবং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু।
বক্তারা বলেন, মাদক এখন পরিবারের শান্তি বিনষ্ট করছে, বাবা-ছেলের সম্পর্ক ধ্বংস করছে এবং তরুণ প্রজন্মকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এই আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সাংবাদিকবৃন্দ, স্থানীয় সুধীজন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই পিরোজপুরকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটিতে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে পিরোজপুরকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
প্রায় এক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই এই কবি শয্যাশায়ী ছিলেন। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যা ও হৃদরোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন।
কবিতা, উপন্যাস ও শিশুসাহিত্যে আল মুজাহিদীর অবদান অপরিসীম। ‘হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’ এবং ‘যুদ্ধ নাস্তি’-র মতো কালজয়ী কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকসহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩০০ কোটি টাকার বেশি) মূল্যের চারটি অত্যাধুনিক শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন পৌঁছালে আগামী জুলাই মাস থেকে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই বিশেষায়িত ক্রেনগুলো নিয়ে জাহাজ ‘এম.ভি. ল্যান হাই হং ইউন’ টার্মিনালের ভেড়ার অপেক্ষা করছি। নিরাপদ খালাস কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা টার্মিনালের আশেপাশে চলাচলকারী সকল সমুদ্রগামী জাহাজ, কোস্টার, ট্যাঙ্কার ও মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানকে জেটি থেকে অন্তত ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছে। এছাড়া কর্ণফুলী চ্যানেলের পূর্ব দিক দিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চীনের ‘স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি’র তৈরি এই চারটি ক্রেন টার্মিনালের জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত বছর ২৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৪টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল আরএসজিটি।
এ বিষয়ে আরএসজিটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ‘এই ক্রেনগুলো টার্মিনালের জন্য একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক। এটি আমাদের ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান কনটেইনার ট্রাফিক সামলানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।’
বড় জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি: নতুন এই ক্রেনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ১৬ সারি কনটেইনার বিশিষ্ট বড় জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে মূলত ১২ থেকে ১৩ সারির জাহাজ বেশি আসে।
সৈয়দ আরিফ সারোয়ার জানান, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে বড় আধুনিক জাহাজ ভেড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি ক্রেন একক কনটেইনার অপারেশনে ৪০ টন, টুইন-লিফট মোডে ৪৫ টন এবং বিশেষায়িত কার্গোর ক্ষেত্রে ৬০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে সক্ষম। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চতা সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও উচ্চ উৎপাদনশীলতা : এই ক্রেনগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত। আরএসজিটি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তির ফলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় থাকবে, যা পরিবেশ রক্ষায় এবং জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।
রেল ট্র্যাকে বসানো এই চারটি ক্রেন ব্যবহার করে টার্মিনালে একসাথে দুটি জাহাজে কাজ করা সম্ভব হবে। জাহাজ জেটিতে ভেড়ার পরপরই খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।
পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার প্রস্তুতি: পতেঙ্গা টার্মিনালটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস। তবে ২০২৫ সালে এখানে ১৫৪,৫৬৪ টিইইউস কনটেইনার এবং ৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যা মূল সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৯৩,৩৪০ টিইইউস এবং আমদানি ছিল ৬১,২২৪ টিইইউস।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে আমদানি কনটেইনার পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় স্ক্যানার না থাকায় কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা ছিল। পরবর্তীতে মে মাসে আরএসজিটি নিজস্ব অর্থায়নে ৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে স্ক্যানার স্থাপন করলে কার্যক্রমের গতি বাড়ে। এরপর গত বছরের আগস্ট মাসে টার্মিনালটি রেকর্ড ২৪,৫৯৯ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডেল করে।
সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ‘আমরা ইজারা চুক্তির প্রথম দুই বছর অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পেছনে ব্যয় করেছি যাতে আগামী ২০ বছর টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন এসটিএস ক্রেনগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে টার্মিনালটি তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২২ বছরের চুক্তিতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটি-র কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ২০২৪ সালের জুন থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী জেলা পুলিশ ও অধিকাংশ ইউনিটের সদস্যরা গাঢ় নীল রঙের শার্ট এবং খাকি রঙের ট্রাউজার পরবেন। তবে মহানগর পুলিশের (মেট্রোপলিটন) সদস্যদের জন্য শার্টের রং নির্ধারণ করা হয়েছে লাইট অলিভ।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ সংশোধন করে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ১২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এ সংশোধনী অনুমোদন করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগে নির্ধারিত আয়রন রঙের শার্টের পরিবর্তে জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল রঙের শার্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মহানগর পুলিশের সদস্যরা পরবেন লাইট অলিভ রঙের শার্ট। একই সঙ্গে কফি রঙের ট্রাউজারের পরিবর্তে খাকি রঙের ট্রাউজার পরিধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুধু শার্ট-ট্রাউজার নয়, শীতকালীন পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আয়রন রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভারের পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের পোশাক ব্যবহার করা হবে। তবে মহানগর পুলিশের জন্য জ্যাকেটের রংও লাইট অলিভ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও এসেছে পরিবর্তন। জেলা পুলিশসহ অধিকাংশ ইউনিটের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ি ও গাঢ় নীল ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মহানগর পুলিশের নারী সদস্যরা গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ রঙের ব্লাউজ পরবেন। অনুমোদিত হেড কভারও গাঢ় নীল রঙের হতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালায় গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট পরার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫০ ভাগ কমলেও কমছে না আক্রান্তের হার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৪ লাখের বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার পরও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। নতুন করে ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ জন। এতে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৭০ জনে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৭৭ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে দুটি শিশু মারা গেছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একটি করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭২ জন। তাদের মধ্যে ৩৬১টি শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (২১৬) ও বরিশাল (১৩২)।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ৮৯৩ জন হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছেন।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯৬ দিনে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৯০ হাজার ৯৮২ জনের মধ্যে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৫ হাজার ১৫৬ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৬৯ জনের। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯৬ জন।
চলতি বছরের শুরু থেকেই হামের রোগীর খবর আসতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মার্চ থেকে হাম নিয়ে জরুরি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ।
শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘শরীরে পুষ্টি ও ইমিউন সিস্টেমটা এত উইক যে টিকা দেওয়ার পর ইমিউন সিস্টেম অ্যাক্টিভেটেড হতে সময় লাগছে। সেই সঙ্গে যে অপুষ্টিতে ভুগছে তার হামে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ‘সব কিছু নির্ভর করবে বাচ্চার পুষ্টির ওপর। অপুষ্টির শিকার বাচ্চার অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগবে। এই শিশুদের নিয়ে বাবা–মায়ের পাশাপাশি সরকারও বিপদে আছে।’
মৃত্যু কিছুটা কমলেও সংক্রমণ কেন কমছে না, তা নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। টিকা দেওয়ার পরও কেন শিশুদের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হচ্ছে না এ জন্য গবেষণার তাগিদ তাদের।
ঈদের আগের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজি, মুরগি ও ডিমসহ বেশির ভাগ পণ্যের দাম কমলেও চাল-আটা, ডালসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।
এছাড়া মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ রসুন আদার দাম স্থিতিশীল থাকলেও হলুদ-মরিচের গুঁড়ার দাম বেড়েছে। সব ধরনের সবজির দাম নিম্নমুখী হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে। এছাড়া মাছের দামও কিছুটা বাড়তির দিকে। শুক্রবার (১৯ জুন) কারওয়ানবাজার, বাদামতলী, নয়াবাজার ও কেরানীগঞ্জের বৌবাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং মফস্বলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) ইসলামপুর বাদামতলীর মেসার্স ইসলাম রাইস এজেন্সির আমজাদ হোসেন বলেন, গত বছর বোরো মৌসুমের পর বড় বড় করপোরেট হাউসগুলো প্রতিযোগিতা করে বাজার থেকে ধান কিনে নিয়ে যা করেছিল, এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ঈদের আগের তুলনায় মিনিকেট চালের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এখন তারা বলছে, বাজারে ধানের সরবরাহ কম ও দাম বেশি। তাই চালের দাম বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের হাজী ইসমাইল রাইস এজেন্সির মইন উদ্দিন বলেন, মিনিকেট চালের দাম বস্তায় ১০০-১৫০ টাকা, নাজিরশাইল ১৫০-২০০ টাকা এবং আটাশ জাতের চালের দাম ১০০ টাকা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোলাও চালের দাম; বস্তায় ৯০০ টাকার মতো।
একই মার্কেটের নোয়াখালী রাইস ট্রেডার্সের শাওন বলেন, ঈদের আগের তুলনায় আটাশ ৩-৪ টাকা, মিনিকেট ৪-৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫-১০ টাকা আর পোলাও চাল ২৫-৩০ টাকা কেজিপ্রতি বেড়েছে।
দাম বাড়ার কথা জানিয়ে তেজগাঁও এলাকার সবচেয়ে বড় জনতা রাইস এজেন্সিসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে বাজেট ঘোষণার আগেই চালের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। দাম বেড়ে যাওয়ার পর এখন স্থিতিশীল রয়েছে।
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ফার্মগেট এলাকার রবিন গোমেজ নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে গিয়ে মন্ত্রীদের কথার বাস্তবতা খুঁজে পাচ্ছি না। সব ধরনের চালের দামই তো বাড়তি। ঈদের পরে পোলাও চালের দাম কেজিতে ২৫ টাকার বেশি বেড়ে যাওয়ার পর বলা হচ্ছে দাম বাড়েনি।
এদিকে বাদামতলী পাইকারি বাজার ও নয়াবাজারের খুচরা বাজার পরিদর্শনের পর বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, বাজারে চালের দামে বড় কোনো অস্থিতিশীলতা নেই। বাজারে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখিনি। কিছু ক্ষেত্রে মানভেদে ১-২ টাকার হেরফের হতে পারে, যা বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
মন্ত্রী আরো জানান, বাজার অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কিছু মিলমালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করেছিলেন। তবে বাজারে সেই উদ্যোগের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি এবং পরবর্তী সময়ে দাম আবার কমে এসেছে। বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘দেশের খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক। বর্তমানে সরকারের গুদামে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা আমাদের আপৎকালীন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে। ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারি মজুত বাড়ানো হচ্ছে। ফলে চালের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনে সরকার দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজসহ অন্তত ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপের ফলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে থাকবে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
চাল ছাড়াও ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আটা-ময়দার দামও কেজিতে পাঁচ টাকার মতো বেড়ে বর্তমানে দুই কেজির আটার প্যাকেট ১২০ এবং ময়দা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া চিনির দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ২০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা, ছোলা ১০ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা, খেসারি ও বুটের ডাল ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, দেশি মুগডাল ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, মোটা মুগডাল ২০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, গুঁড়া হলুদ ও মরিচ ১০০ টাকা বেড়ে ৩৫০ ও ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের আগেই সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনো সরবরাহ ঠিক নেই বলে জানান কারওয়ান বাজারে মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু। গতকাল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় কোনো কোনো সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
বাজার ও এলাকাভেদে কিছুটা দামে পার্থক্য থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ সবজির দাম ৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচা পেঁপের দাম। ঈদের আগের ১০০ টাকার পেঁপে এখন ২০-৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দামও কমে ৬০-৮০ টাকা হয়েছে। তবে সবজির মধ্যে আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে এখন ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম কমার প্রভাব পড়েছে ডিম ও মুরগির দামেও। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ২২০-২৪০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল ১১০-১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে দাম একটু বেশি।
সবজি, ডিম ও মুরগির দাম কমলেও প্রকারভেদে মাছের দাম কেজিতে ২০-৪০ টাকা বাড়তি বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের। তবে বর্ষায় বৃষ্টি হলে মাছের সরবরাহ বেড়ে কিছুদিন পর দাম কমতে পারে বলে জানান তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন আপনারা যান এবং এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসেন। যে আমি (তারেক রহমান) খুব শিগগিরই এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে একথা জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। এ সময় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সঙ্গে ছিলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আজকে এই এলাকায় এসেছি। সরেজমিনে দেখেছি। ইনশাল্লাহ পদ্মা ব্যারেজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শিগগিরই আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করার পর রিপোর্ট দিলে তিস্তা মহপরিকল্পনার কাজ একনেকে পাশ করানো হবে ইনশাআল্লাহ।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে পিছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি না আগাই তাহলে আমরা হোচট খেতে পারি। যার কারণে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছেন। আমরা সবার মতামত গ্রহণ করবো। প্রয়োজনে দুই চারটা দেশের বিশেষজ্ঞদেরও।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শিগগিরই এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজটা উদ্বোধন করতে পারেন, সেই কাজটাও সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এসময় পানি সম্পদ সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিনসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা ও ভিন্ন জেলার লোকজনকে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে জন্মসনদ ও ভোটার করার কাজে জড়িত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জানা যায়, উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি দুই ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত বাসিন্দা না হয়েও কিছু ব্যক্তি স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ব্যবহার করে এসব অনিয়ম পরিচালনা করছে। ফলে প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়া কিছু ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সনদপত্র পেয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালচক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জন্মনিবন্ধন এবং ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এক সাংবাদিককে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে ওই সাংবাদিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অন্য জেলা থেকে আসা এক নারী বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি তার বাবাসহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হন। নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তারা স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে একজন দালালও ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেবল নাগরিক পরিচয়ের দলিল নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কেউ যদি এসব নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা সুজন সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ভুয়া পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হলে পরবর্তীতে পাসপোর্ট গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, ভূমি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে জালিয়াতি, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় অনিয়ম প্রবেশ করলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বহুবার আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুশাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, বায়োমেট্রিক তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দালালচক্র ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু একটি উপজেলার আলোচনার বিষয় নয়; বরং জাতীয় পরিচয়ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জননিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
জাতীয় দৈনিক বাংলা’র তালা উপজেলা প্রতিনিধি ফারুক সাগরের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফারুক সাগর মৃত খোরশেদ আলমের ১ম পক্ষের সন্তান।
ফারুক সাগর বলেন, ‘আমার পিতা মৃত খোরশেদ আলমের ২য় পক্ষের একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সৌমিক সম্পত্তির অবৈধ দখল বজায় রাখতে এই হামলা করে। সেই সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না।’
ফারুক সাগরের মা আবিদা সুলতানা বলেন, ‘আমার ছেলে পেশাগত কাজে তালা উপজেলা পরিষদে সংবাদ সংগ্রহে যায়। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে এসে সৌমিক দা দিয়ে দরজায় এবং বাড়ির দেয়ালে কোপ দেয়।’
তার মায়ের অভিযোগ, আমি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে আক্রান্ত। আমার বয়স ৬০ এর বেশি। আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে সৌমিক।
প্রত্যক্ষদর্শী নবা গাজী বলেন, ‘পাশের বাড়ির উঠানে আমি কাজ করছিলাম। সৌমিক দা হাতে চিৎকার করতে করতে আসে এবং দরজায় ও বসতবাড়ির দেয়ালে দা দিয়ে কোপ দেয়।’
ফারুক সাগরের চাচাতো ভাই শাহনেওয়াজ বিশ্বাস বলেন, ‘সব জমি সৌমিক আগেই বিক্রি করেছে। এমনকি তার নিজের বসতবাড়ি তার ১ম পক্ষের ভাইবোনদের জমির উপর।’
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল শেখ বলেন, ‘পূর্বে আমরা এ বিষয়ে সালিশ করেছিলাম, তখন উভয় পক্ষ মেনে নেয়। পরে সৌমিক সালিশ না মেনে অবৈধভাবে ২০ শতাংশের একটি পুকুর দখল নেয়। পরেও আবার সালিশে বিষয়টি বিবেচনা করার কথা থাকলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে আসছে সৌমিক।’
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন (সৌমিক) বলেন, ‘আমি সালিশ মানি না। আমার যা ইচ্ছে তাই করব।’
তালা থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’