বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

২ ভোটে হেরে মামলা, আড়াই বছর পর পুনর্গণনায় ৪ ভোটে জয়ী

ভোট পুনর্গণনায় মেয়র পদে জয়ী ফারুক আহমদ
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৮:৪৩

সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি। ওইদিন ভোটগ্রহণ শেষে মেয়র পদে আব্দুল আহাদকে দুই ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই ফলাফল মেনে নিতে পারেননি একই পদের পরাজিত প্রার্থী ফারুক আহমদ। ওই ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেন তিনি।

অবশেষে নির্বাচনের প্রায় আড়াই বছর পর ফারুক আহমদকেই চার ভোটে মেয়র পদে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন আদালত। সিলেট যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত এবং নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আরিফুজ্জামান বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।

আব্দুল আহাদ ও ফারুক আহমদ দুজনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী চৌধুরী বলেন, পাঁচটি ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার পুনরায় গণনা চেয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন ফারুক আহমদ। পরে আদালত বাদীপক্ষ ও বিবাদীপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করে ভোট পুনরায় গণনার নির্দেশ দেন। গণনায় ফারুক আহমদ চার ভোট বেশি পেয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়,উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে কয়েক দফায় আদালতে ভোট গণনা করা হয়। এতে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ফারুক আহমদের বৈধ ভোট দাঁড়ায় দুই হাজার ৭১, আর আব্দুল আহাদের বৈধ ভোট হয় দুই হাজার ৬৭। বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক ফারুক আহমদকে বিজয়ী ঘোষণা করে রায় দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদালতের ওয়েবসাইটে রায়ের তথ্য প্রকাশ হয়।

এর আগে ভোটের দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলে আব্দুল আহাদের বৈধ ভোট ঘোষণা করা হয় দুই হাজার ৮৩টি এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ফারুক আহমদের বৈধ ভোট ঘোষণা করা হয় দুই হাজার ৮১টি।

ওই সময় কারচুপির অভিযোগ তুলে জকিগঞ্জ সরকারি কলেজ, মধুদত্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল কেজি স্কুল কেছরী, মাইজকান্দি মাদ্রাসা ও জকিগঞ্জ গার্লস হাইস্কুল কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনার জন্য মামলা দায়ের করেন ফারুক আহমদ।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ী ফারুক আহমদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আদালত যে মানুষের শেষ ভরসা সেটাই আজ প্রমাণ হলো। রায়ে জনগণের বিজয় হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমি আইনি লড়াই করেছি। আমার আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুল আহাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে তার আইনজীবী সামসুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রায় প্রকাশের বিষয়ে আমি অবগত নই। আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে রায় গেলে তিনি পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন। যদি তিনি মনে করেন উচ্চ আদালতে যাবেন তাহলে সেটা তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন।’


কটিয়াদীতে তিতাসের পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ, ৫ কোটি টাকা ক্ষতির মামলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম মিলন নামের এক ইউপি সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ওই ইউপি সদস্যের ছত্রচ্ছায়া এবং তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধ গ্যাস সংযোগের একটি চক্র গড়ে ওঠে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাজহারুল ইসলাম মিলন। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, তদন্তে স্থানীয় একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গত ৩ আগস্ট রাতে দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কাজিরচরে একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন মসূয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন। তার সহযোগিতায় জমি ভাড়া, শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা এবং কারখানার কার্যক্রম শুরু হয়।

সূত্রটি জানায়, কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ স্থানীয় খোকন মিয়ার বাড়িতে থাকতেন। সেই থাকার ব্যবস্থাও করে দেন ইউপি সদস্য মিলন।

তবে তিতাস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ মামলায় উল্লেখিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে দুটি জমির মালিকের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের চুক্তি থাকলেও মামলায় একজনের নাম রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনকভাবে মামলা থেকে বাদ পড়েছে ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন ও তার ফুফাতো ভাই সুলতান উদ্দিনের নাম।

স্থানীয়রা জানান, কারখানার মালিকদের সঙ্গে প্রথম চুক্তিটি করেছিলেন কাজিরচর গ্রামের সুলতান উদ্দিন। পরে তার মাধ্যমে আরেকটি চুক্তি করেন তার চাচাতো ভাই সুমন মিয়া। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাজনা মহাল এলাকার দেলোয়ার হোসেনকে। অপর আসামি করা হয়েছে কাজিরচর গ্রামের সুমন মিয়াকে। তবে প্রথম চুক্তিকারী সুলতান উদ্দিনের নাম মামলায় নেই।

স্থানীয়দের দাবি, যেসব জমির নিচ দিয়ে অবৈধ গ্যাসলাইন নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মাজহারুল ইসলাম মিলন, সুলতান উদ্দিন ও সুমন মিয়ার জমিও রয়েছে। তাদের দাবি, জমির মালিকদের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া এভাবে মাটি খুঁড়ে গ্যাসলাইন স্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই তারা বিষয়টি জানতেন এবং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চুনাপাথরের কারখানার আড়ালে তিতাসের মূল পাইপলাইনে ছিদ্র করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস আগে পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিলেও তা গোপন রেখে মেরামতের চেষ্টা করা হয়। তাদের দাবি, তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লিকেজ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলেও এখনো পুরোপুরি লিকেজ বন্ধ করতে পারেনি। যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতাম এখানে একটি চুনাপাথরের কারখানা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে কাজ হওয়ায় কেউ বিস্তারিত বুঝতে পারেনি। পরে বর্ষায় নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা কাজ শুরু করে। তবে এখনো পুরোপুরি লিকেজ বন্ধ হয়নি। প্রায় দেড় মাস আগে লিকেজের ঘটনা ঘটলেও গত ১৫ দিন ধরে আরও বেশি গ্যাস বের হচ্ছে।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘জমির মালিকেরাই কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না। কয়েকদিন আগে বিষয়টি জানতে পারি। তবে এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলনও আমাকে কিছু জানাননি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি। তার নির্দেশে প্রয়োজনীয় চুক্তিপত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানাটির কোনো ট্রেড লাইসেন্সও নেওয়া হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের কেউ জড়িত থাকলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিতাস গ্যাসের কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘লিকেজের খবর পাওয়ার পরই মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিতাসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, ‘তদন্তে স্থানীয় একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


হোগলপাতিয়ায় অবৈধ ড্রেজারের আগ্রাসন, নিঃস্ব অর্ধশত পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে নদীর তীরবর্তী তলদেশ থেকে বালু ও মাটি কেটে নেয়ায় প্রায় অর্ধশত পরিবার তাদের ভিটেমাটি, বাড়িঘর ও ফসলি জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে রাতের আধারে বালু ও মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া ও চরহোগলপাতিয়ার আড়িয়ালখাঁ নদীর তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহকালে এমন দৃশ্য বাস্তবে দেখা গেছে।

সেখানকার ভুক্তভোগী অনেকগুলো পরিবার জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত দুই-তিনটি ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার লাগিয়ে বালু-মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল। প্রশাসন ও মানুষের চোখে ধোঁকা দিতে দিনের বেলায় উক্ত ড্রেজার মেশিন ও বালুমাটি টানা বোটগুলো অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়। কে বা কারা এগুলো কেটে নিচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেখানকার ভূক্তভোগীরা বলেন, ‘আমাদের ঘাড়ে কয়টি মাথা যে, আমরা ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী এসব অবৈধ ড্রেজার মালিকদের নাম বলে দিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করতে পারব? বরং নাম বলে দিলে আমাদের জীবনটা পর্যন্ত চলে যেতে পারে, আমাদের মেরে ফেলতে পারে’।

তারা আরও বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় দুই-তিনটি ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু কাটার কাজ এবং সেগুলো রাতের আঁধারেই ২৫/৩০টি ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে মাদারীপুর সদর সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জানান, চরহোগলপাতিয়ার চৌকিদার মাসুদ হাওলাদার, তার ভাই তৈয়ব হাওলাদার সহ পার্শ্ববর্তী মুজাম সরদার ও তাদের সাঙ্গ-পাঙ্গদের নেতৃত্বে এই ড্রেজার পরিচালিত হয়, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পাওয়া যাবে ড্রেজারমালিক গডফাদারদের পরিচয়।

ইতিমধ্যে অনেকের ঘরবাড়ি বহুবার ভাঙ্গণের মুখে পড়াসহ ফসলি জমি, কলাবাগান, আপেলকূল বাগান, সব্জির বাগান সহ দামী সব গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। ভিটামাটি হারিয়ে অনেকে অন্যত্র বাড়ীঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে আ. ছোবহান তালুকদার, ইউনুছ হাওলাদার, কুতুব আকন, এনামুল আকন, মোসলেম হাওলাদর, শহীদুল আকন সহ অন্যান্যরা জানান, এর আগেও তারা বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনকে জানিয়েছে কিন্তু প্রতিকার পায়নি। তারা আরও বলেন, অবৈধ এসব ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ না হলে যে কোনো সময় তাদের বর্তমান বাড়ীঘর সহ বাকী জমিজমাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এহেন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তারের কাছে একাধিক সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘বিষয়টি তাদের নজরেও এসেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এতদসংক্রান্ত মানবিক এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ব্যাপারে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহলকে তাকে সহযোগিতার অনুরোধ জানান।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বপ্নপূরণ অনুশ্রীর, মিলল হারমোনিয়াম উপহার

সচিবালয়ের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুশ্রীকে হারমোনিয়াম উপহার দেন। ছবি : পিএমও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে স্বপ্নপূরণ হলো রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশ্রী রায়ের।

অনুশ্রী রায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব নবনিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এবার জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতায় দেশের গানে প্রথম এবং নজরুল সংগীতে তৃতীয় স্থান লাভ করে অনুশ্রী।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুশ্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি হারমোনিয়াম উপহার দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ কথা জানান।

তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে পদক গ্রহণের সময় অনুশ্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর একজন কর্মকর্তার হাতে একটি চিঠি তুলে দেয়।

চিঠিতে ক্ষুদে এই শিক্ষার্থী সংগীতচর্চার প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে সংগীতচর্চায় সহযোগিতার জন্য একটি হারমোনিয়াম ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথাও জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী চিঠিটি পড়ে অনুশ্রী ও তার পরিবারকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দে আত্মহারা ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী জানায়, ‘কখনো বিশ্বাসই করতে পারিনি যে, আমার চিঠি প্রধানমন্ত্রী পড়বেন এবং সাক্ষাতের জন্য ডাকবেন।’

অনুশ্রী জানায়, ‘আমার সংগীতচর্চার জন্য একটি হারমোনিয়াম খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমার পরিবারের পক্ষে সেটি কেনার সামর্থ্য ছিল না। তাই চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের দিন সেসব লিখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছিলাম। তবে সেই চিঠি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতেও দিতে পারিনি; তাঁর একজন কর্মকর্তার হাতে দিয়েছিলাম। ভাবিনি, প্রধানমন্ত্রী আমার চিঠি পাবেন এবং পড়বেন। যখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একজন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন) আমাদের ফোন করে জানালেন যে প্রধানমন্ত্রী আমার লেখা সেই চিঠি পড়েছেন এবং আমাদের সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন, তখন যেন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এরপর আজ আমাদের অবাক করে দিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

অনুশ্রী জানায়, এ সময় স্নেহভরে তার সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার সংগীতচর্চার খোঁজ-খবর নেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তার সংগীতসাধনায় উৎসাহ দিতে চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাওয়া সেই হারমোনিয়ামও উপহার হিসেবে তার হাতে তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে একটি দেশাত্মবোধক গানও শোনান অনুশ্রী।

সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ায় অনুশ্রীর বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, ‘তার মেয়েকে প্রধানমন্ত্রী ডেকে উৎসাহ দেবেন; এটা তারা কখনো কল্পনাও করেননি।’

অনুশ্রীর বাবা বলেন, বিভিন্ন সময় মেয়েকে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গল্প বলতেন। এরপর থেকেই অনুশ্রীর বিশ্বাস জন্মায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলে হয়তো তাঁর কাছ থেকেও সাড়া পাওয়া যাবে। সেই বিশ্বাস থেকেই জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এসে সে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি চিঠি লেখে। কিন্তু সেই চিঠি যে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছাবে, তা জানতেন না। আর সেই চিঠি প্রধানমন্ত্রী পড়বেন; সেটাও ছিল অবিশ্বাস্য। আজ তারা কতটা খুশি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁর কাছ থেকে হারমোনিয়াম উপহার পেয়ে অনুশ্রী ও তার পরিবার গভীর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উৎসাহ তার সংগীতচর্চায় আরও অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং ভবিষ্যতে দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন পূরণে তাকে এগিয়ে যেতে সাহস দেবে বলে জানায় তার পরিবার।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাবিউল ইসলাম রাকিব নামে এক নিরাপত্তাকর্মী। রাকিব রাজধানীর কুড়িল-বিশ্বরোড এলাকায় একটি বেসরকারি ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন।

রাকিব জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের ভক্ত। তখন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। সেই আকক্সক্ষার কথা জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঢাকা ছাড়বেন না। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাকিব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার এলাকার দীর্ঘদিনের একটি জনদাবির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। নদী পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

রাকিব গত ৭ মাস ধরে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার নুরুল্লাহপুর শিকদারবাড়ি এলাকায়।

সূত্র: বাসস


বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, নতুন বাহিনীর খসড়া আইন প্রকাশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর একটি প্রাথমিক খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়াটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে জাতীয় সংসদে পাস হলে বিদ্যমান র‌্যাবের আইনি ভিত্তি পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে এবং নতুন এই বাহিনীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যার সুনির্দিষ্ট লোগো, পতাকা ও পোশাক থাকবে।

শুধু পুলিশ নয়, সেনা বা অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও ন্যূনতম দুই বছরের জন্য সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিটে নিয়োগ দেওয়া যাবে। সদস্যদের ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার এবং মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার, সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্ত করার মৌলিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রমের সুবিধার্থে নতুন এই বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানবাধিকার বা আইন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠাবে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা, ঘুষগ্রহণ, মাদকাসক্তি বা অস্ত্র অপব্যবহারের মতো অপরাধে জড়িত সদস্যদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে কঠোর বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুস্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে র‌্যাবের যাবতীয় জনবল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, তহবিল ও চলমান মামলার আইনি দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে এসআরবির অধীনে হস্তান্তরিত হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে গঠিত হয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত র‌্যাবের বিতর্কিত ভাবমূর্তি দূর করে একটি স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী পুনর্গঠনের কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে সরকারের এই পদক্ষেপকে বিবেচনা করা হচ্ছে।


সুখবর পেল বিএনপির ৬ নেতা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবেদনের প্রেক্ষিতে নড়াইল জেলার ছয়জন নেতার দলীয় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বহিষ্কৃত নেতাদের পুনরায় বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ আগের রাজনৈতিক অবস্থান ফিরিয়ে দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতিপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

অব্যাহতি পাওয়া এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন নড়াইল সদর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম।

এছাড়া লোহাগড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিলু শরীফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মশিয়ার রহমান সান্টু এবং নড়াইল সদর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম পলাশের ওপর থেকেও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের পর নিজ নিজ পদ ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নড়াইলের এই স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীরা।


অভিনব কায়দায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সরদার গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

নানা কৌশল অবলম্বন করে নড়াইলের আন্তজেলা ডাকাত দলের সরদার আরোজ আলী শেখকে গ্রেপ্তার করেছে কালিয়া থানা পুলিশ। গত বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে পরিকল্পিত এক অভিযানে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুচতুর ডাকাত দলের সরদার আরোজ আলী পুলিশের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর, কালিষা, খুলনার দিঘলিয়া, গোপালগঞ্জের সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি, অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তাকে গ্রেপ্তারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকশ দল গত দুই সপ্তাহ ধরে জোকারচর এলাকায় কখনো ভ্যানচালক, কখনো কৃষক, কখনো জামাকাপড় বিক্রেতা, কখনো মুদি দোকানী সেজে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

জানতে চাইলে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.ইদ্রিস আলী বলেন,তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। অস্ত্রধারী এই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি চৌকশ দল বেশ কিছুদিন ধরে নানা ধরণের অভিনব কৌশল করে তাকে নজরদারিতে রেখেছিল। তারা কখনো ভ্যানচালক, কখনো কৃষক, কখনো জামাকাপড় বিক্রেতা, কখনো মুদি দোকানী সেজে নজরদারি করে। পরিশেষে বুধবার দিবাগত রাতে তাকে জোকারচর গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।


নীলফামারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলা উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক, জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নীলফামারী জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী।

জেলা পরিষদের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের রাজস্ব বরাদ্দের আওতায় ডোমার ও ডিমলা উপজেলার মোট ২৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা ৭ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া চলাচলের সুবিধার্থে দুইজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির হাতে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দক্ষ, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্মই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


পটুয়াখালীর বাউফলে খাল পরিষ্কার অভিযান, স্বস্তিতে ৪ গ্রামের কৃষক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষিজমি চাষাবাদের উপযোগী করতে খাল পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে সমাজসেবক ইব্রাহীম হাওলাদারের উদ্যোগে এ খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তারা খাল থেকে জমে থাকা আগাছা, ময়লা-আবর্জনা ও পলি অপসারণ করেন।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন খালটি অপরিষ্কার থাকায় অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলতা ও ঝিলনা গ্রাম এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হোগলা ও কুম্ভখালী গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা জমিতে চাষাবাদ করতে পারছিলেন না।

স্থানীয় কৃষক সবুজ মল্লিক বলেছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার মধ্যে আছি। এ কারণে বীজতলা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অনেক কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। আমরা স্থানীয়রা বিষয়টি ইব্রাহীম ভাইকে জানাই। তিনি দ্রুত খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। এতে আমরা কৃষকরা অনেক খুশি।

উদ্যোক্তা সমাজসেবক ইব্রাহীম হাওলাদার বলেছেন, কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খালটি পরিষ্কার হলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিজমিতে সহজে পানি নামবে এবং কৃষকরা পুনরায় চাষাবাদ করতে পারবেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, খালটি পরিষ্কার হওয়ায় চার গ্রামের কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


তুরস্কে ক্যান্সার গবেষণায় উজ্জ্বল বাকৃবির ড. তালিমুর রেজা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে কাজ করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী ড. আবু মুসা মো. তালিমুর রেজা। বর্তমানে তিনি তুরস্কের Gebze Technical University-এর Department of Molecular Biology and Genetics-এ সহকারী অধ্যাপক এবং Non-coding RNAs Lab-এর প্রধান গবেষক। তার গবেষণার মূল বিষয় Non-coding RNA, বিশেষ করে transfer RNA (tRNA) এবং ক্যান্সার চিকিৎসায় এর সম্ভাব্য ব্যবহার। তুরস্কের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক গবেষণাগারে তিনি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করছেন।

প্রচলিতভাবে ক্যান্সার চিকিৎসায় নির্দিষ্ট জিন বা প্রোটিনকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও ড. তালিমুর রেজার গবেষণার ধারণা ভিন্ন। তার দল অনুসন্ধান করছে, ক্যান্সার কোষের প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট anticodon tRNA-এর প্রাপ্যতা সীমিত করা গেলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না।

তার মতে, ক্যান্সার একটি জটিল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। তাই কোন ধরনের ক্যান্সার কোন tRNA-এর ওপর বেশি নির্ভরশীল, তা শনাক্ত করে সেই সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি এখনো গবেষণাধীন একটি ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় চিকিৎসা কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তার গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো suppressor tRNA। এটি nonsense mutation-এর কারণে মাঝপথে থেমে যাওয়া প্রোটিন সংশ্লেষণ সম্পন্ন করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে p53-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ক্যান্সার চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

ড. তালিমুর রেজার গবেষণার যাত্রা শুরু হয় Polish Academy of Sciences-এ। সেখানে Polish National Science Centre-এর অনুদান লাভের পর তিনি তুরস্কে যোগ দেন এবং বর্তমানে TÜBİTAK 1001-সহ একাধিক গবেষণা তহবিলের সহায়তায় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার গবেষণাগারে মলিকুলার বায়োলজি ও টিস্যু কালচারের পৃথক ইউনিট রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণা সুবিধায় লাইভ অ্যানিমাল ইমেজিং, মাস স্পেকট্রোমেট্রি ও আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো ব্যবহার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

গবেষণার পাশাপাশি তার জীবনদর্শনও ব্যতিক্রমী। তিনি বলেন, নিরাপদ ও গতানুগতিক পেশাজীবন কখনোই তাকে আকৃষ্ট করেনি। নতুন পরিবেশ, নতুন ধারণা এবং নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই নিজেকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। বিদেশে গিয়ে সেখানেই নিজের অবস্থান তৈরি করার সিদ্ধান্তকেই তিনি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখেন।

বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, গবেষণায় সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার সংখ্যা অনেক বেশি। তার ভাষায়, প্রায় ৯৯ শতাংশ গবেষণাই প্রত্যাশিত ফল দেয় না। তবে সেই ব্যর্থতাই নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং নতুন জ্ঞানের পথ খুলে দেয়।

তিনি মনে করেন, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং সমাজে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখার মানসিকতা নিয়েই গবেষণায় আসা উচিত। একই সঙ্গে একাধিক গবেষণাগারে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন, ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া এবং ৩০ বছরের আগেই পিএইচডি সম্পন্ন করার পরামর্শও দেন তিনি।

গবেষণাগারের বাইরেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছেন ড. তালিমুর রেজা। বাংলাদেশে Miyawaki পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র পরিসরে বনায়ন, সাধারণ পাঠকের জন্য জেনেটিক্সবিষয়ক "Your DNA, Your Decisions" বই রচনা এবং নিজ গ্রামে Good Citizen Community Madrasa প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগে কাজ করছেন। আগামী দশকে tRNA therapeutics-কে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে দেখতে চান তিনি। একই সঙ্গে এমন কিছু রেখে যেতে চান, যা তার অনুপস্থিতিতেও মানুষের উপকারে আসবে। তার বিশ্বাস, জ্ঞান তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিতে পারে।


বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

* কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিরসন, ভূতুড়ে বিল বন্ধ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, কুমিল্লা মহানগরী। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিস রোজি আক্তারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তোফিক, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান, খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল, ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মু. কামারুজ্জামান সোহেল, মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক জাকির হোসেন, কাজী নজির আহম্মেদ, মোহাম্মদ হোসাইন এবং মাওলানা লুৎফুর রহমান খান মাসুমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপি প্রদান-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি ও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তারা ভূতুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের শিকার হচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভূতুড়ে বিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।


মাগুরায় বিদ্যুতের লোডশেডিং চরম দুর্ভোগে মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং মাগুরার গ্রাহকদেরকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মহিতুল ইসলাম জানান, জেলায় ২ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। সেখানে প্রতিদিন ৫০ মেগাওয়াট দিয়ে দিনরাত মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন ঘন্টা লোডশেডিং হয়েছে। তবে বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত কোন লোডশেডিং নেই বললেই চলে।

পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মিলন লস্কর ও আড়কান্দি গ্রামের সুজন কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি সপ্তাহে দিনে রাতে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ লোডশেডিং ছিল। তবে গতকাল একটু ভালো ছিল।

অন্যদিকে পৌর এলাকার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ঘোষ জানান, জেলায় তাদের ৪৩ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং এর পরিমাণ বেশি ছিল। তবে বুধবার থেকে আজকে লোডসেডিং কমে গেছে।

পারলা এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক জোহরা খাতুন জানান, গত ৪-৫ দিন বিদ্যুৎ কখন আসে কখন যায় কিছু বুঝতে পারছিনা। অধিকাংশ সময় থাকেনা।

কলেজ সড়কের চা বিক্রেতা কেরামত আলী জানান, লোডশেডিং এর কারণে চা বিক্রি কমে গেছে। দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

সাতদোহা পাড়ার দিপালী রানী জানান, বাড়িতে আমরা মাত্র তিনজন মানুষ। সবাই সারাদিন বাইরে থাকি চাকরির জন্য, তারপরেও এত বিল আসে কেন বুঝতে পারছি না। সারাদিন লাইট, ফ্যান সবকিছুই অফ থাকে তা শর্তেও ২০০০ থেকে ২৫ শো টাকা বিল আসে।এভাবে বিল বাড়তে থাকলে আমাদের মত সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

লোডশেডিং নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ মনোয়ার হোসেন খান জানান, ইতিমধ্যে বিদ্যুতের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বুধবার থেকে মাগুরা জেলার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে সিলিন্ডার গ্যাস তিন থেকে ৪০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হলেও পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।


অষ্টগ্রামে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পূর্বদুল ইউনিয়নের এলখাল গ্রামের বাসিন্দা মৃত ই্য়াকুব আলীর পুত্র মফিজ আলী (৬৫) ও ফরিদপুরের বোয়ালী উপজেলার চরপাড়া গুনবাহ গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইউনুস সিকদার উরফে ইউসুফ সিকদারের পুত্র সোহেল রানা উরফে হাফিজার (২৮)।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (০৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার পূর্বঅষ্টগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর ইকুরদিয়া ঘাট সংলগ্ন আসাদুজ্জামান এর খাবার হোটেলের সামনে পাকা রাস্তার ওপর অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘ দিন ধরে মাজারে অবস্থান করে মাদক পাচার করে আসছিল। কখনো তারা পাগল বা ভিক্ষুক, আবার কখনো লেংড়া (শারীরিক প্রতিবন্ধী) সেজে মানুষকে বিভ্রান্ত করে অত্যন্ত সুকৌশলে এই মাদক ব্যবসা ও পাচার চালিয়ে আসছিল।

এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৮, তারিখ- ০৫ আগস্ট, ২০২৬) রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি চলছে: ফটিকছড়িতে এসপি মাসুদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বুধবার (৫ আগস্ট) সফরস্থল, নির্মাণাধীন হেলিপ্যাড এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের পর তিনি এ কথা জানান।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মোড় এলাকায় হেলিপ্যাডের নির্মাণকাজ ও নিরাপত্তার সামগ্রিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন।

এ সময় তিনি উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যেন কোনো ধরনের ত্রুটি বা ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ভেন্যু ও যাতায়াতের সড়কগুলোকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিশেষ নজরদারি ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান এবং ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম খানসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


banner close