শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইউপি চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ইউপি সদস্যদের অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: দৈনিক বাংলা
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২২ ২১:২৫

গাজীপুরে বরমী ইউপি চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিষদের ৯ সদস্য। বুধবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে তারা সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন আহমেদ। এ সময় ইউপি সদস্য মো. হারুন অর রশিদ, মো. রতন মিয়া, নাজমুল আকন্দ রনী, হাদিউল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সদস্য মনোয়ারা ইয়াসমিন, হাসিনা আক্তার ও আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে ইউপি সদস্য সুমন আহমেদ বলেন, বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন নামমাত্র প্রকল্প দেখিয়ে রাস্তা সংস্কারের নামে অর্ধ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। এ ছাড়াও তিনি একাধিক ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা, বৈঠক না করে তিনি রামরাজত্ব কায়েম করেছেন।

এদিকে, আটটি রাস্তা সংস্কারের নামে প্রকল্প দেখিয়ে অর্ধ কোটি টাকা লোপাটের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রকল্পের ফাইল পরিবর্তন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাও অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান করেছেন বলে অভিযোগ করেন ইউপি সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, গত বুধবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় পরিষদের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ওমর ফারুকের সহযোগিতায় প্রকল্পের ফাইল সরানো হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, এরপর বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আনোয়ার হোসেন ও অফিস কাম কম্পিউটার ওমর ফারুককে ফোন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের ফাইল ও নথি বই জমা দেয়ার নির্দেশ দেন ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ফেসবুকেও প্রকল্পের কয়েকটি রাস্তার নাম পরিবর্তন করে পোস্ট করতে দেখা গেছে।

গাজীপুর স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, তদন্তের স্বার্থে ওই প্রকল্পের ফাইলটি নিয়ে এসে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


নির্বাচিত

পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা সদর উপজেলায় বজ্রপাতে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা আরও দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতির বিলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সদর উপজেলারমালঞ্চি গজমতিকুন্ডা রবিউল ছেলে শাওন (২২), নলমুড়া ইসমাইলের ছেলে রব্বেল (২২), শাজাহানের ছেলে মিজান (১২), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১০), শাহাদুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৮), ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ওই বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় বিকেলে ৮ জন বৃষ্টির মধ্যে পড়ে বিলের একটি টঙ ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয় এবং দুইজন গুরুতর আহত হন। তারা বেশ কিছুক্ষণ টঙ ঘরেই পড়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে আশপাশে এলাকার মানুষ টের পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল দুর্গম এলাকা। পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

বাজারে শীতের সবজি, দামও চড়া

* নতুন আলু ১৬০, দেশি টমেটো ২২০ টাকা কেজি * মাছ-মুরগি-ডিমেও বাড়তি খরচ * চাপে সাধারণ ক্রেতা
শীতের সবজি। ছবি দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে রাজধানীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি সবজি। বাজারে দেখা মিলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলাসহ শীতকালীন নানা সবজির। তবে মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম এখনো বেশ চড়া। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা, আর দেশি টমেটোর দাম উঠেছে ২২০ টাকায়। বেশির ভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। ফলে শীতের সবজি বাজারে এলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তা এখনো স্বস্তির উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি।

শুধু সবজি নয়, মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশের দাম অনেকের নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামের মাছ ও সবজি কিনেও সংসারের বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আগাম শীতের সবজিতে চড়া দাম: বাজারে শীতের সবজির উপস্থিতি বাড়তে শুরু করলেও দাম এখনো উচ্চপর্যায়ে। প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে। ঝিঙা ১০০, লম্বা বেগুন ১০০, গোল বেগুন ১২০, কাঁকরোল ১০০ এবং শিম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কচুমুখী ৮০, মুলা ৭০, ঢ্যাঁড়স ৮০, গাজর ১৪০ এবং পটোল ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

টমেটোর বাজারেও চড়া ভাব। সাধারণ টমেটো কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি টমেটোর দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। নতুন আলু কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। কাঁচামরিচের দামও কম নয়, প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। তবে কিছু সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০, মিষ্টিকুমড়া ৪০, লাউ ৬০ থেকে ৮০ এবং পটোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘টেলিভিশনে দেখি, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দামই ১০০ টাকার আশপাশে। শীত এলে সাধারণত সবজির দাম কমার কথা, কিন্তু এবার দেখছি উল্টো চিত্র।’

সবজি ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন বলেন, বাজারে নতুন কোনো সবজি বা পণ্য উঠলে শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।

মাছের বাজারে বড় মাছের দাম আকাশছোঁয়া: সবজির পর মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ ও তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের দাম ৩৫০, পাবদা ৪০০, চাষের শিং ৪৫০ এবং বায়লা ৫৫০ টাকা।

অন্যদিকে বড় আকারের মাছ কিনতে গেলে খরচ আরও বেশি। কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। ট্যাংরা ৭০০, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছের দাম ১ হাজার টাকা। বড় আকারের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। সাগরের পাঙাশের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা।

ইলিশের বাজারও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়।

মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, সাগরের মাছের দাম সব সময়ই বেশি থাকে। হাজার টাকার নিচে অনেক মাছ বিক্রি করা যায় না। দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার ওপরে। আজ আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।

তবে ক্রেতা আজাদ রহমানের মতে, মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে মাছের দাম কিছুটা বেশি। তিনি বলেন, দাম বেশি হলেও এখানে তুলনামূলক তরতাজা মাছ পাওয়া যায়। এ কারণে অনেক ক্রেতা বাড়তি দাম দিয়েও এই বাজার থেকে মাছ কেনেন।

মুরগি ও ডিমেও বাড়তি খরচ: মাছের বিকল্প হিসেবে মুরগি কিনতে গেলেও খুব বেশি স্বস্তি নেই। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম আরও বেশি, কেজিপ্রতি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা।

ডিমের বাজারেও দামের পার্থক্য রয়েছে। প্রতি ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায়। ফলে মাছের পরিবর্তে মুরগি বা ডিম দিয়ে খাবারের আয়োজন করলেও আগের তুলনায় বেশি খরচ হচ্ছে।

শীতের বাজারে স্বস্তির অপেক্ষা: বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব ধরনের পণ্যের দাম সমানভাবে বেশি না হলেও নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি সবজি, মাছ ও প্রাণিজ আমিষের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে চার সদস্যের একটি পরিবারের দৈনন্দিন বাজারে সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

শীতের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে সাধারণত ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, গাজরসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ বাড়ে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দাম কমার সুযোগ থাকে। তবে আগাম সবজির উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়, সরবরাহের পরিমাণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শীতের সবজির সরবরাহ দ্রুত বাড়বে এবং বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু মৌসুমি সবজির উপস্থিতি নয়, সেগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসাটাই এখন বড় প্রত্যাশা। কারণ বাজারে নতুন সবজি উঠলেও দাম কম না হলে মৌসুম পরিবর্তনের সুফল সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে না।


নির্বাচিত

রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০ নতুন কোচ, বাদ পড়বে জরাজীর্ণগুলো

* নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী বাড়বে রেললাইন
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি  

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা বাড়াতে বহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ২০০টি নতুন কোচ। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ কোচ প্রতিস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছানো নতুন কোচের একটি অংশ দিয়ে প্রাথমিকভাবে নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে। পর্যায়ক্রমে বাকি কোচ দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নতুন ট্রেন চালু ও পুরোনো কোচ পরিবর্তনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।

তিনি বলেন, নতুন কোচ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও কোচ দেশে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালু এবং পুরোনো কোচ প্রতিস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে রেলসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতাও বাড়বে।

রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও যাত্রীসেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে মালামাল ওঠানো-নামানোর সুবিধা এবং যাত্রীদের চাহিদা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব স্টেশনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ বেশি, সেসব স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী রেললাইন সম্প্রসারণ, লুপ লাইন বৃদ্ধি এবং ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়। দেশের সব রেলপথ এখনো ব্রডগেজে রূপান্তরিত না হওয়ায় এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রেলপথগুলো ব্রডগেজে রূপান্তরের পাশাপাশি প্রস্তাবিত রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।

এদিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের বিষয়েও কথা বলেন রেলওয়ের মহাপরিচালক। তিনি জানান, আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের অংশেও রেলপথের সংযোগ প্রয়োজন। শুধু বাংলাদেশের অংশে রেললাইন নির্মাণ করলে প্রত্যাশিত আঞ্চলিক যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্মতি থাকলেই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন কোচ সংযোজন এবং পুরোনো কোচ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা অনুযায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার জাহিদ হাসানসহ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৬২

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৬২ জন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৮ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৩৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬৮ জন, খুলনা বিভাগে ১৩১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১১২ জন, রংপুর বিভাগে ৪৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১৮২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১১ জন রয়েছেন।

এ বছর এখন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭১৩ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। আর চলতি অক্টোবরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৭৩ জনের।


নির্বাচিত

মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ আটক ৮

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ আটজনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য জানান।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী চ্যানেলের ১৫ নম্বর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহজনক একটি কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ হাজার কেজি সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি বোটসহ আটজন পাচারকারীকে আটক করেছে।

জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’


নির্বাচিত

খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে একসঙ্গে প্রত্যাহার

ফাইল ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে শুরু করে এসআই পদ মর্যাদার সদস্যও রয়েছেন। শুদ্ধি অভিযান পুলিশের ভেতরে আগে শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার ৯, বাগেরহাটের ৯, যশোরের ২, ঝিনাইদহের ৩, কুষ্টিয়ার ৪ ও চুয়াডাঙ্গার একজন রয়েছেন। থানা ছাড়াও ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা এ তালিকায় রয়েছেন।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ কারণে প্রথমে বাহিনীর ভেতরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আইজিপিরও নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনও সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা নিলে তার প্রভাব পড়ে পুরো বাহিনীর ওপর। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অভিযান পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অর্থ বা অন্যকোনও সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অপরাধীরা সুযোগ পায়, পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে।

সূত্রটি জানায়, পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। কিন্তু এসব সুবিধা বাড়ানোর পরও কোনও সদস্য অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা ব্যক্তিগত অসততার পাশাপাশি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পুলিশের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।


নির্বাচিত

দেশের এক ইঞ্চি মাটির ওপরও কারো প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নরসিংদীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অনেক বন্ধু থাকবে, কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না। আমাদের দেশ আয়তনে ছোট হতে পারে, কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক।

বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটির ওপরও কারো প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না। দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নরসিংদীর মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অসহায় ও দুস্থ মহিলা, কর্মজীবী নারী ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।

এসব মিডওয়াইফ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানে ভূমিকা রাখবেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এ লক্ষ্যে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সরকার ইতোমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে।’

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাইলাতুল হোসেন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, যুগ্ম আহবায়ক মনিরুজ্জামান মনির, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আব্দুল হান্নান মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগসহ প্রমুখ।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩০০ জন অসহায় ও দুস্থ মহিলা, কর্মজীবী নারী ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও ফলদ বৃক্ষ বিতরণ করেন।


নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে এবার বরেন্দ্রের সংকট তুলে ধরার উদ্যোগ

* বরেন্দ্রের পানির হাহাকার পৌঁছাবে বিশ্বমঞ্চে
ছবি: নওগাঁর তরুণ জলবায়ুকর্মী মো. মামুনুর রেজা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নিজের শৈশব-কৈশোরে দেখা খরা, পানির জন্য মানুষের হাহাকার আর কৃষকের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবার তুলে ধরতে চান বিশ্বমঞ্চে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র অঞ্চলে তৈরি হওয়া সংকটের চিত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশ নিতে যাচ্ছেন নওগাঁর তরুণ জলবায়ুকর্মী মো. মামুনুর রেজা।

তার লক্ষ্য, বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার অংশ করে তোলা। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী খরা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং কৃষি ও জীবিকার ওপর এর বহুমুখী প্রভাব তুলে ধরতে চান তিনি।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামোগত সনদের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম সম্মেলন কপ-৩১ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, জলবায়ুবিশেষজ্ঞ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুনুর রেজা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত।

তিনি নওগাঁ ভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ভয়েস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক জাতীয় সংগঠন ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’-এর প্রচার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়ে ওঠার সুবাদে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত তার কাছে কেবল গবেষণার বিষয় নয়, বরং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার অংশ। এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীনতা, তাপপ্রবাহ এবং সেচের পানির সংকট কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকাকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা এবং পানির প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এই বাস্তবতা থেকেই আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন মামুনুর। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার যথাযথভাবে আলোচনায় আসা জরুরি।

কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান তিনি। একই সঙ্গে জলবায়ু তহবিলের অর্থ কীভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়েও জোরালো অবস্থান তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

মামুনুর রেজা বলেন, শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জলবায়ু সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সুরক্ষা, অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জলবায়ু তহবিলের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে তার। মামুনুর বলেন, অনুদানের বড় একটি অংশই প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক কাজে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু মাঠে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা পৌঁছায় না। বাংলাদেশ যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন আদায়ে জোরালো দাবি তোলা দরকার।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, তথ্য-উপাত্ত ও প্রাসঙ্গিক চিত্র সংকলনের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এসব তথ্য বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে দিতে চান তিনি, যাতে আন্তর্জাতিক আলোচনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনের প্রতিফলন ঘটে।

সম্মেলন শেষে অর্জিত অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনা থেকে পাওয়া দিকনির্দেশনা নওগাঁসহ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান মামুনুর। স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলাই তার প্রত্যাশা।

বিশ্ব জলবায়ু আলোচনার বিশাল পরিসরে বরেন্দ্রের পানিসংকট ও মানুষের জীবনসংগ্রামের কথা কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন নওগাঁর এই তরুণ জলবায়ুকর্মী।

নওগাঁর পরিবেশ অধিকার কর্মী নাইস পারভীন বলেন, মামুনুরের এই উদ্যোগের গুরুত্ব কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনায় তুলে ধরা এবং স্থানীয় মানুষের দাবি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করছি।


নির্বাচিত

মৌসুমের শুরুতেই ঘূর্ণিঝড়ের কবলে দুবলার শুঁটকি জেলেরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন দুবলারচরের শুঁটকিকরণ জেলেরা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দুবলার আলোরকোলে পৌঁছে জেলেদের নৌকা ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের খালে নিরাপদ আশ্রয় নিতে হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ো হাওয়া বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

দুবলার আলোরকোল থেকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, এবারের দুবলার শুঁটকি মৌসমের শুরুতেই জেলেরা দুর্যোগের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে রওয়ানা করে জেলে বহর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শেলারচরে পৌঁছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চরে নেমে জেলেরা তাদের থাকার অস্থায়ী ঘর ও মাছ রাখার গোলা বানাতে না পেরে তারা নৌকা ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের খালের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আছেন। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সাগরে বৃষ্টিপাতের সাথে ঝড়ো বাতাস ও প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, সাগরে মাছ ধরে শুঁটকিকরণ জেলেরা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দুবলারচরে এসেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন। জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলায় শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত সাত সহস্রাধিক জেলে দুবলারচরে সমবেত হয়েছেন। দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শেলারচর নিয়ে দুবলারচর গঠিত।

প্রতি বছর খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বাগেরহাট, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের প্রায় দশ সহস্রাধিক জেলে দুবলার এই চারটি চরে অবস্থান নিয়ে সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি করে থাকেন। পরে জেলে মহাজনরা শুঁটকি মাছ বাজারজাত করার জন্য খুলনা, সৈয়দপুর, রংপুর, ঢাকা, চট্রগাম, কক্সবাজারসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠায় বলে ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৩৫১ জন, দুই মাসে ৫২৪৬

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লায় মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী অভিযানে এক রাতে ৩৫১ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) লুৎফর রহমান।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন। মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, এমন স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র জানায়, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

গ্রেফতার এড়াতে ধান ক্ষেতে লুকালো আ.লীগ নেতা, হলো না শেষ রক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় গ্রেফতার এড়াতে ধানক্ষেতে আত্মগোপন করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মজনু সরকার (৪৬)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোররাতে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মজনু সরকার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই উপজেলার আলী গ্রামের মৃত নাসির সরকারের ছেলে। এ ছাড়া তিনি গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ধানক্ষেতে আত্মগোপন করেছিলেন মজনু সরকার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মজনু সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে গোবিন্দগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


নির্বাচিত

নারী চালকদের ভারী যানবাহন চালানোর প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) শিগগিরই বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য বিশেষায়িত ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) পিংক বাস চালু করতে যাচ্ছে। নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এসব বাস পরিচালনার জন্য দক্ষ নারী চালক তৈরির লক্ষ্যে বিআরটিসি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (আইসিডব্লিউএস ও প্রশিক্ষণ) প্রকৌশলী ফাতেমা বেগম।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত নারী চালকদের এক থেকে চার মাস মেয়াদি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারী যানবাহন চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘সরকার নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যেই বিআরটিসি ইতোমধ্যে নারীদের জন্য নারী চালক পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস চালু করেছে। এ সেবার পরিধি আরও বাড়াতে আমরা নারীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইভি পিংক বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, পিংক বাস সার্ভিস চালুর পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ সেবা কোনো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে না; বরং মহানগরীসহ সারাদেশে নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রক্ষণশীল পরিবারের সদস্যরাও তাদের পরিবারের নারীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণে উৎসাহিত করছেন, যাতে তারা দক্ষ চালক হিসেবে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বিআরটিসি বিশেষ করে তরুণদের দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশে ও বিদেশে সম্মানজনক পদমর্যাদা ও বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিসিপ) নামে দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় বিআরটিসি নতুনদের বিনামূল্যে হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের আওতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং তাদের অনেকেই দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারী চালকরা তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাপ্রধান সমাজে গণপরিবহনে নারী চালক ও সহকারী থাকলে নারী যাত্রীরা বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার পিংক বাস সার্ভিস চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।’

নারী চালকদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিআরটিসির গাজীপুর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ মশিউজ্জামান মুহাম্মদ মাশিউজ্জামান বাসস’কে বলেন, হালকা মোটরযানের লাইসেন্সধারী নারী চালকদের ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিআরটিসি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

প্রশিক্ষণ শেষে তারা ইভি পিংক বাস পরিচালনার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে রোড পারফরম্যান্স টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের করপোরেশনের বিদ্যমান প্রশাসনিক ও আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে দৈনিক মজুরিভিত্তিক চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে না। ভবিষ্যতে বিআরটিসির স্থায়ী চালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব প্রার্থী অগ্রাধিকার পাবেন।

বিআরটিসি প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশের ২১ থেকে ৩২ বছর বয়সী এবং কমপক্ষে পাঁচ ফুট উচ্চতার নারী প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। তবে অভিজ্ঞ চালকদের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত শিথিলযোগ্য।

আবেদনকারীদের কমপক্ষে এক বছর মেয়াদি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। এ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে গাজীপুরের বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় (গাড়ি চালনা) অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে।

প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ১৫ নভেম্বর বিকেলে বিআরটিসির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য মহিলা হোস্টেলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হবে।


নির্বাচিত

কালের বিবর্তনেও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কুমিল্লার ঐতিহাসিক পান বাজার

কুমিল্লার ঐতিহাসিক পান বাজার। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কালের বিবর্তনে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও এখনো স্বমহিমায় টিকে আছে কুমিল্লার ঐতিহাসিক পান বাজার। প্রতিদিনই এখানে বসে পানের বিশাল বেচাকেনার আসর। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন কোটি টাকার পান কেনাবেচা হয় এই বাজারে। কুমিল্লা নগরীর রাজাগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ পান বাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পান নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। দূরদূরান্তের পাইকারি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারণায় প্রতিদিনই মুখর থাকে বাজারটি।

পান বাজারের বৃহৎ আড়তগুলোতে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি পানের স্তূপ। বড় বড় ঝুড়ি ও বস্তায় সাজানো বিভিন্ন জাতের পানের পসরা। এখানে জীবন, নরেন্দ্র, নারায়ণসহ বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, পান বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে সামাজিক ও পারিবারিক নানা আয়োজনে পানের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা পান চাষের জন্য সুপরিচিত।

তাঁরা আরও জানান, একসময় কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর পানের বরজ দেখা গেলেও বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। তবে জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা, দেবিদ্বার, চান্দিনা ও বরুড়া এলাকায় এখনো পান চাষ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পানের পাশাপাশি তাঁদের আড়তে বরিশাল অঞ্চলের পান বেশি আসে। মান ও চাহিদার কারণে বরিশালের পানের বেচাকেনাও তুলনামূলক বেশি।

বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, বড় আকারের এক বিরা পান খুচরা পর্যায়ে প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি বিরা পান ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। পানের বেচাকেনায় বিরা ও পুনের প্রচলিত হিসাব অনুসরণ করা হয়।

রাজাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নিতাই ও নরেন্দ্র জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পান বিক্রির পরিমাণ ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমে আসছে। একসময় এ পেশার সঙ্গে অনেক পরিবার জড়িত ছিল। এখন গুটিকয়েক ব্যবসায়ী বংশপরম্পরায় পাওয়া এ পেশা ধরে রেখেছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা ঐতিহ্যবাহী পান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে পান চাষের বিস্তৃতি কমেছে। বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো অনেক পরিবার বংশপরম্পরায় পান চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পান চাষিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ ও সহায়তা প্রদান করছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পান চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া ও পরিবর্তিত বাজারব্যবস্থার মধ্যেও কুমিল্লার রাজাগঞ্জের ঐতিহাসিক পান বাজার এখনো তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। কয়েক প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় টিকে থাকা এ বাজার শুধু বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, কুমিল্লার ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। ব্যবসায়ীরা আরো জানান এই হাট কাক ডাকা ভোর বেলা বসে এখানে ৫০ লাখ টাকা থেকে কোটি টাকার পান বিক্রি হয়।


নির্বাচিত

banner close