সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের তাগিদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি 

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া-ফুলতলা এবং যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর—এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জন্য 'জলাবদ্ধতা' আর কোনো সাময়িক বা মৌসুমি দুর্যোগ নয়; বরং এটি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চেপে বসা এক স্থায়ী অভিশাপ। স্থানীয় জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভবদহ স্লুইসগেট আজ দীর্ঘস্থায়ী এই মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের এক চরম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ভবদহ ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এই পলিজনিত কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে জীবনযাপন করছেন।

সম্প্রতি এই সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ, অতীতের সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপায় উঠে এসেছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল 'বিল ডাকাতিয়া'সহ ভবদহ অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি বছরের সিংহভাগ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী, হরি, ভদ্রা ও শালতা নদীর তলদেশ পলি জমে উঁচু হয়ে যাওয়ার ফলে বিল থেকে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে অঞ্চলটির সামগ্রিক কাঠামোর ওপর। ফসল, মাছের ঘের ও সবজি চাষ বিনষ্ট হয়ে ধসে পড়েছে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর প্লাবিত থাকছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং নিরাপদ পানির উৎস দূষিত হওয়ায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি।

১৯৬০-এর দশকে জোয়ার-ভাটা ও বন্যা থেকে সুরক্ষার জন্য নির্মিত পোল্ডার (বাঁধ-ঘেরা এলাকা) ব্যবস্থার কারণে জোয়ারের পলি প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফলে পলি সরাসরি নদীখাতে জমে নদীগুলোকে ভরাট করে ফেলেছে।

উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, অবৈধ নদী দখল, নদীর চরে ইটের ভাটা স্থাপন এবং বিলে অননুমোদিত নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাসের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভিন্ন সময়ে নেওয়া স্বল্পমেয়াদী খনন ও রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্পগুলো সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার অভাবে স্থায়ী ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতালব্ধ উদ্ভাবন টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (TRM) বা জোয়ারাধার পদ্ধতি হলো কারিগরিভাবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এতে সাময়িকভাবে পোল্ডারের বাঁধ কেটে জোয়ারের পলিযুক্ত পানি বিলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়; ফলে পলিতে বিল উঁচু হয় এবং নদীখাত পলি মুক্ত হয়ে নাব্য থাকে।

বিল ভায়না ও সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলে TRM-এর সাফল্য থাকলেও সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং বৈজ্ঞানিক মডেলিং মেনে সমন্বিতভাবে কাজ না করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-কে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভবদহ ও সংলগ্ন ৫টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননে সেনাবাহিনী তদারকি করছে। টেকসই TRM সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে সম্প্রতি স্থানীয় সংগঠনগুলো তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে।


নানা আয়োজনে নড়াইলে শিল্পী সুলতানের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

কাকডাকা ভোরে জেগে ওঠে নড়াইল। প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেই বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের সমাধিসৌধে সমবেত হতে থাকেন তার ভক্ত ও অনুরাগীরা। মুহূর্তের মধ্যেই ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শিল্পীর সমাধি।

সোমবার (১০ আগস্ট) দিনব্যাপী নানা ভাবগাম্ভীর্য ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে নড়াইলে পালিত হয় বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী।

দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল, শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি, কোরআনখানি ও তবারক বিতরণ, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব ও আর্টক্যাম্প, সুলতান পদক প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রতি বছর শিল্পীর জন্মদিনে চিত্রা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও, এবার তা না থাকায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মনে কিছুটা হতাশা দেখা গেছে।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চলের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সভায় মুখ্য আলোচক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম (চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস (সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. মো. আব্দাস সাত্তার (সুলতান সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত শিল্পী), রেজাউদ্দীন স্টালিন (বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি), কানিজ মওলা (সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়), মো. আতাউর রহমান, এমপি (নড়াইল-২), বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, এমপি (নড়াইল-১)

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘এস এম সুলতান পল্লী বাংলার আত্মার শিল্পী এবং গ্রামীণ জীবনের মহাকাব্যিক রূপকার। বাংলার মাটি, মানুষ, কৃষকের ঘাম, সংগ্রাম, শক্তি আর স্বপ্ন—সবকিছুই তার তুলির আঁচড়ে পেয়েছে এক অনন্য শিল্পরূপ। তিনি শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের জীবনবোধের এক অসাধারণ কারিগর। ক্যানভাসে তিনি যে অদম্য প্রাণশক্তি ও সৌন্দর্যের গল্প এঁকেছেন, তা কালজয়ী।’

নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালামের সভাপতিত্বে সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. জাকির হোসেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।


পীরগাছায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানা থেকে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন—পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। শনিবার রাতে তাদের রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক।

তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের কিশোরী মিমি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে এবং বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে পুলিশ ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিল। এ সময় ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যু হয়।

তবে নিহতের স্বজনরা মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং এই সময়ে মারা গেছে আরও ৫ শিশু।

সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৯৯২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৬৩ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনে। আর এই দীর্ঘ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ৩২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ১৩৯ জন শিশু সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৮০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


সরকারের আরও এক নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে জানানো হয়েছে যে, কমিটির মূল কাজ হবে পে কমিশনের প্রতিবেদনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা।

গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

এছাড়া ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এমপি এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের সুবিধার্থে বা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য কমিটি চাইলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ যেকোনো ব্যক্তিকে পরবর্তীতে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।


‘আমার দুই ধনকে বুকে এনে দে’ সৌদির আগুনে দুই সন্তান হারিয়ে মায়ের আহাজারি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রিফাত হোসাইন সবুজ, নওগাঁ প্রতিনিধি

‘বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হলো, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিন ছুটিতে বাড়ি আসতে পারেনি। ছাওয়ালটা কইতো—মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি। বাড়ির কাজ শুরু করছি, দেশে আইসা বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করমু। কিন্তু আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কী সর্বনাশ হয়ে গেল বাবা আমার!

কথাগুলো বলতে বলতে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন ময়না খাতুন। সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই সন্তান সুমন ও মোহনকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আকুতি আর বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের পরিবেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোহন ও সুমনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখেমুখেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে কর্মরত দুই ভাই মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিকসহ আত্রাই উপজেলার অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।

ময়না খাতুন বলেন, কাল সকালে মেজো ব্যাটার সঙ্গে কথা কইছি। কইল- মা, ভালো আছি। তুমি ভাত খাও, তুমি সুস্থ থাকো। ভাই মাল দিতে গেছে, মাল দিয়া আসবে।

এরপরই বদলে যায় সবকিছু। আগুন লাগার পর ছেলের পাঠানো ভয়েস মেসেজের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ময়না খাতুন বলেন, ‘ছাওয়াল ভয়েস মেসেজ দিয়া কইল,মা, দুইডা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না। আগুন লাগছে মা, পুড়ে যাচ্ছি, মরে যাচ্ছি মা।’

এই কথাগুলোই এখন মায়ের কাছে সন্তানের শেষ স্মৃতি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘হামার দুই বাবারে হামার বুকে এনে দাও বাবা। আমার বাবাদের একবার দেখে কলিজাটা ঠান্ডা করমু। আমার দুই ধনকে আমার বুকে এনে দে বাবা।’

মোহনের বিয়ের স্বপ্নের কথাও বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। তিনি বলেন, ‘মোহন কইতো—মা, দেশে আইসা বিয়া করমু। মেয়া-টিয়ে দেখো না। দশটা দেখে একটা পছন্দ কইরা বিয়া করমু মা। বাড়ির কাজটাও শেষ করমু।’

মায়ের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সংসার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া মোহনকে এখন ফিরতে হবে নিথর দেহ হয়ে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন,আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫), একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গাফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) এবং ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।

সৌদি আরবের কর্মস্থলে আগুনে একসঙ্গে এতজন স্বজন হারানোর ঘটনায় আত্রাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে এখন শোকের ছায়া। স্বজনদের একটাই আকুতি—প্রিয় মানুষগুলোর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো মায়ের কোলে ও স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হোক।


কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিতেই মেয়েরা এগিয়ে

ছবিগুলো কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ বছর এ বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩৭ হাজার ২০৩ জন ছেলে এবং ৫৮ হাজার ১৯৬ জন মেয়ে।

ফলাফলে দেখা যায়, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে জিপিএ-৫ অর্জনেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৮ জন মেয়ে এবং ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছেলে।

অর্থাৎ, মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

এদিকে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর বোর্ডে মোট পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।


সৌদি আরবে আগুনে মৃত্যু: পরিচয় মিলেছে নওগাঁর ১৩ জনের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫০
মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি

সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। নিহতদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই ও একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

নিহতরা হলেন, আত্রাই উপজেলার সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রােতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২) ও তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০), কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮)।


নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় নওগাঁর আত্রাই, সদর, নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করতেন। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় ওই কারখানার মধ্যে আটকে পড়া ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই ও সদর উপজেলায়। বাকি দুইজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।


সৌদির রিয়াদে থাকা অন্য বাংলাদেশি প্রবাসীদের বরাত দিয়ে ফরিদ শেখের চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকা-ের সময় ওই কারখানায় থাকা শ্রমিকেরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। ঘুমন্ত অবস্থায় কারখানায় আগুন লাগায় ফরিদ শেখসহ সেখানে থাকা সব শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ওই কারখানার শ্রমিকেরা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে থাকে এবং রাতে কারখানায় কাজ করতেন।


নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যাপারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের অব্যাহত রয়েছে।


কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারে শীর্ষে ফেনী জেলা

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে ফেনী। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ হলেও ফেনী জেলা ৭২.৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বোর্ডের দেওয়া আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ফেনীর ১৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ১৪ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮২১ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৪ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ১৩৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

কুমিল্লা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি জেলার জেলাওয়ারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনী জেলা ৭২.৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার প্রথমে রয়েছে। এর পরেই ৭১.৫০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় পাসের হার ৬৪.৭৮ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরে ৬৩.৯১ শতাংশ এবং চাঁদপুরে ৬৩.৬৩ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী জেলায় পাসের হার সবচেয়ে কম, যা ৫৯.৯৮ শতাংশ।

সাফল্যের এই ধারায় ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের কৃতিত্ব বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসের ধারা বজায় রেখেছে এবং তাদের মধ্যে ৫৫ জনই জিপিএ-৫ লাভ করেছে। বরাবরের মতো এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা বোর্ডের সেরা তালিকার শীর্ষ কাতারে নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।


নীলফামারীতে শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধি

পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, পোশাকের সঠিক ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রোববার সকাল ৯টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত এ কিট প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

কিট প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ ও পুলিশ সদস্যদের কিটসামগ্রী পরিদর্শন করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত কিটসামগ্রীর মান, যথাযথ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জিএস মার্ক প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া যেসব পুলিশ সদস্যের কিটসামগ্রী পাওনা রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কিটসামগ্রী সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

কিট পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।’ ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মেনে পোশাক পরিধান, নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে জনগণের সেবায় আরও আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন।

কিট প্যারেডে সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান, আরআই, পুলিশ লাইন্স নীলফামারীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।

দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল রোববার দুপুরে ইএসডিও থ্রাইভ প্রকল্প, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে ও হেকস্/ইপারের সহযোগিতায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

‘আদিবাসী ধাত্রীদের সন্মান-জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূর্বের স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

আদিবাসী পরিষদের সভাপতি যাকোব খালকোর সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা, ইমরান হোসেন চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা আদিবাসীদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের জীবন-জীবিকার সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।


‘চা-শ্রমিক’ পরিচয়ের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

চা-বাগানে বসবাসকারী মানুষকে সাধারণত একটি পরিচয়েই দেখা হয় ‘চা-শ্রমিক’। কিন্তু এই পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে রয়েছে বহু জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও শ্রমের চক্রে এসব স্বতন্ত্র পরিচয় ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের চানপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই নিজেদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-বাগানে কাজ করলেও জীবনমানের বড় পরিবর্তন আসেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংস্কৃতিক পরিচয় হারানোর আশঙ্কা।

প্রচণ্ড রোদ কিংবা ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও চা-বাগানের শ্রমিকদের কচি পাতা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের পর দিন একই শ্রম, সামান্য মজুরি আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে জীবন কাটে তাদের। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মতো বিষয়ও অনেকের কাছে অপরিচিত। তাদের কাছে প্রতিটি দিনই জীবিকা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম।

শ্রীমঙ্গলের হরিণছড়া চা-বাগানের শ্রমিক কৈশলা ঘাটোয়াল ১৪ বছর বয়সে চা-বাগানে কাজ শুরু করেন। তখন দৈনিক মজুরি ছিল ২০ টাকা। এখন মজুরি ১৮৭ টাকা হলেও তার মতে, এই আয় দিয়ে সংসারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাই কঠিন।

তিনি বলেন, ‘দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারি না। নিজের একটা ভালো ঘর করার স্বপ্ন দেখি; কিন্তু এই আয়ে সেটা কীভাবে সম্ভব? জমিটাও তো আমাদের নয়।’

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে কৈশলার উত্তর, ‘রাস্তায় মিছিল হয়, এটুকুই জানি।’

শুধু কৈশলা বা গৈারা নন, চা-বাগানের আরও অনেক শ্রমিকের অভিজ্ঞতাও একই। সপ্তাহজুড়ে কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা পান সামান্য মজুরি ও সীমিত রেশন। ছুটির আগের দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ছুটির দিনের মজুরিও কেটে নেওয়া হয়। অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার এখনো বাগানের লেবার লাইনে বসবাস করে। সেখানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও সীমিত।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-শিল্পে কাজ করেও শ্রমিকদের জীবনমানের বড় পরিবর্তন আসেনি।

তিনি বলেন, ‘মুখে হাসি লেগে থাকলেও তাদের দুঃখের শেষ নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শিল্পে কাজ করেও তারা জমির মালিক হতে পারেননি। চা-শিল্প এগিয়েছে; কিন্তু শ্রমিকদের জীবনমানের পরিবর্তন খুব একটা হয়নি।’

তবে সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়। চা-বাগানে বসবাসকারী স্বল্পপরিচিত অনেক জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিও হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাত্রকলা চা-বাগানের অধিকারকর্মী লিটন গঞ্জু জানান, চা-বাগানে ৩০-৩৫টি স্বল্পপরিচিত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। মণিপুরি, খাসিয়া বা গারোদের তুলনায় এসব জনগোষ্ঠী সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা কম। ফলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সাংস্কৃতিক সহায়তা থেকেও তারা পিছিয়ে আছেন।

লিটন গঞ্জুর মতে, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে মণিপুরি, খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেলেও চা-বাগানের স্বল্পপরিচিত জনগোষ্ঠীগুলো অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এমনকি অনেক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সরকারের কাছেও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

মৌলভীবাজারের দুর্বার উন্নয়ন সহায়ক সংস্থার (ডিইউএসএস) নির্বাহী পরিচালক তাপস ঘোষ জানান, বিভিন্ন উপজেলায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি অনুদান বিতরণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাসিয়া, গারো ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের সদস্যরা এসব সুবিধা পান। চা-বাগানের পিছিয়ে থাকা অনেক জনগোষ্ঠী এসব অনুদানের খবরই জানেন না।

তার সংস্থার পক্ষ থেকে কয়েকটি উপজেলায় চা-বাগানের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি সহায়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমতলে বসবাসকারী সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডা, গারো ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তুলনায় অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর চা-বাগানবাসী মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বেশি বঞ্চিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক অংশগ্রহণ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাদের পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা যায়।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সিলেট বিভাগের সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র বলেন, ‘চা-বাগানের অনেক মানুষ বাগানের সীমানার বাইরে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে তেমনভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। নিজেদের অধিকার ও জাতিগত পরিচয় সম্পর্কেও অনেকের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।’

তার দাবি, উত্তরবঙ্গে বসবাসের কারণে চা-বাগানের কিছু জনগোষ্ঠী আদিবাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও বাগানে বসবাসকারী অধিকাংশ জনগোষ্ঠী এখনো সেই স্বীকৃতি পায়নি। ফলে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চা-বাগানের মানুষের সংকটকে শুধু মজুরি ও কর্মপরিবেশের প্রশ্ন হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূমির নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক অধিকার এবং নিজস্ব পরিচয় টিকিয়ে রাখার লড়াই।

তারা আরও জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মাতৃভাষা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতিগত পরিচয় রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ না নেওয়া হলে বহু ভাষা ও ঐতিহ্য হয়তো আগামী প্রজন্মের কাছে আর পৌঁছাবে না।


দুর্ভোগের বাসে এবার স্বস্তির যাত্রা শিক্ষার্থীদের পাশে কুমিল্লার প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা শোনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের ব্যবহৃত বাসটি সংস্কার করে দিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

বাসটির প্রায় ৭০টি আসন সংস্কার করে পুরোনো প্লাস্টিকের সিটের পরিবর্তে লাগানো হয়েছে আরামদায়ক ফোমের সিট। সমাধান করা হয়েছে বাসের বিভিন্ন সমস্যা। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে ফ্রি Wi-Fi জোন। পাশাপাশি যাত্রাপথে তাদের জন্য সকালের নাশতা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জেনেছি। তাদের প্রায় ৭০ আসনের বাসটি সংস্কার করা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে সিটের সমস্যা ছিল। তাই নতুন করে সিট লাগানোর পাশাপাশি বাসে Wi-Fi জোনও তৈরি করে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। আমরাও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাব।’


banner close