সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামানকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত শাহরিয়ার জামানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এদিন রাত পৌনে ১০টার দিকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তিনি জানান, বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গচিহাটা বাজারে গিয়েছিলেন শাহরিয়ার জামান। এ সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান তিনি।
কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরৎকাল এলেও এখনো গরম কমেনি। মূলত, এই সময় কিছুটা শীতের আমেজ থাকে। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশের মানুষ শৈত্যপ্রবাহ দেখতে পারে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দেশের ওপর দিয়ে ছয়টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল চুরি ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খাদ্যগুদামের নথিতে প্রায় দেড় বছর আগে মারা যাওয়া ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মৃত নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে ১০৭ বস্তা, ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের সময় এ অসংগতি ধরা পড়ে। মৃত ব্যক্তির নামে সরকারি চাল গ্রহণের তথ্য সামনে আসায় খাদ্যগুদামের চাল বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির খাদ্য বিতরণের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিতে অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক কর্ম কর্তা।
দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ বলেন, বুধবার দুপুরে আমরা দৌলতপুর খাদ্যগুদামে অভিযান চালাই। অভিযানকালে খাদ্যগুদামের নানা বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিপত্রে অসংগতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপনগর ইউনিয়নের দুস্থ মহিলাদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণসংক্রান্ত নথি যাচাই করতে গিয়ে মৃত চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে চাল গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। নথিতে ১০৭ বস্তা বা ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল গত ১৩ অক্টোবর গ্রহণের উল্লেখ রয়েছে। অথচ তিনি প্রায় দেড় বছরের অধিক সময় আগে মারা গেছেন। ফলে তাঁর নামে কীভাবে চাল গ্রহণ দেখানো হয়েছে, কারা ওই চাল গ্রহণ করেছেন এবং চালের প্রকৃত গন্তব্য কোথায়—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসছে।
এর আগে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল বিতরণ ও সংরক্ষণে অনিয়ম এবং চাল চুরির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে খাদ্যগুদামের চাল বিতরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে মঙ্গলবার সকালে এক আদেশে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৃত ব্যক্তির নামে সরকারি চাল গ্রহণের তথ্য, খাদ্যগুদামের নথিপত্রে একাধিক অসংগতি এবং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের ঘটনায় দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামের সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুদকের তদন্তে এসব অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ঘাট থেকে নদী পেরিয়ে মির্জাগঞ্জ যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে চালু করা হয়েছে নতুন ট্রলার পারাপার সার্ভিস। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ট্রলার ঘাটের উদ্বোধন করা হয়।
প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কাজ, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার উদ্দেশে অসংখ্য মানুষকে এই নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। তবে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত নৌযান না থাকায় এতদিন যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের জন্য নদী পারাপার ছিল চরম কষ্টকর। নতুন এ উদ্যোগের ফলে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তারা জানান, পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ট্রলার ঘাট থেকে মির্জাগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত এ সার্ভিস পরিচালিত হবে। বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়মানুযায়ী এ রুটে প্রাথমিকভাবে চারটি সনদপ্রাপ্ত ও রুট পারমিটধারী বোট চলাচল করবে। পায়রাকুঞ্জ প্রান্তে মোহাম্মদ রাহাত এবং মির্জাগঞ্জ প্রান্তে শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পরপর ট্রলার চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ভাড়ায় এই সেবা পরিচালিত হবে। সেই সাথে যাত্রীদের সুরক্ষায় প্রতিটি বোটে লাইফ জ্যাকেট, বয়া, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।
ইজারাদার মোহাম্মদ রাহাত বলেন, ‘এটি কোনো দলীয় উদ্যোগ নয়, এলাকার মানুষের সেবার উদ্দেশ্যেই বিআইডব্লিউটিএ’র আওতায় নিয়ম মেনে ঘাটের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
নতুন এই সার্ভিসকে স্বাগত জানিয়ে ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী শাহ আলম জানান, সরকারি নিয়ম মেনে সেবা পরিচালিত হলে এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে নদী পারাপার হতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম সুনিশ্চিত করা গেলে এই সার্ভিসটি দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে নওগাঁর মাঠে মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে সবুজের সমারোহ। কোথাও সারি সারি ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা, কোথাও মাচাজুড়ে বেড়ে উঠছে শিমের লতা। আবার কোনো জমিতে বেগুন, মুলা ও পালংশাকসহ নানা জাতের শীতকালীন সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। মৌসুমের শুরুতেই বাজার ধরতে আগাম চাষাবাদে নেমেছেন তারা। এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন সবজি। আগাম ফসল বিক্রি করে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের চোখেমুখে এখন লাভের প্রত্যাশা। অন্যদিকে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম আরও কমার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতারা।
নওগাঁর কৃষিপ্রধান জনপদে এখন আগাম শীতকালীন সবজি ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য। জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, সার প্রয়োগ, সেচ থেকে শুরু করে আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। তাদের আশা, ফলন ভালো হলে এবং বাজারদর অনুকূলে থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মিলবে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা। তবে আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই ঝুঁকি মাথায় নিয়েই আগাম সবজি চাষে বিনিয়োগ করেছেন তারা।
নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল এলাকার কৃষক সাইদুল ইসলাম এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপির আবাদ করেছেন। তিনি জানান, সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক ও নিড়ানিসহ সব মিলিয়ে তার উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে ওই জমির বাঁধাকপি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন।
সাইদুল ইসলামের প্রত্যাশা, ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো অঙ্কের টাকা ঘরে তুলতে পারবেন। তার মতো অনেক কৃষকই আগাম সবজি চাষে লাভের হিসাব কষছেন।
একই উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক মুনছুর ইসলাম এক বিঘা জমিতে আগাম শীতকালীন শিমের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ৩৩ শতকে এক বিঘা হিসাবে তার জমিতে শিম চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে কিছু শিম বিক্রি করেছেন। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
তবে কৃষকের লাভের এই সম্ভাবনার বিপরীতে বাজারে ক্রেতাদের প্রত্যাশা কিছুটা ভিন্ন। আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় নওগাঁর বিভিন্ন বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজির দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তাদের প্রত্যাশা, বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।
শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় আগের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম কমেছে। তবে সবজিভেদে দামের পার্থক্য থাকায় ক্রেতাদের খরচের চাপ পুরোপুরি কমেনি।
শহরের পৌর কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা জামিলুর রহমান ও পারভীন আক্তার বলেন, কয়েক দিন আগেও বিভিন্ন সবজির দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। এখন কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে। তবে বর্তমান দামও সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের সামর্থ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
খুচরা সবজি বিক্রেতা ফিরোজ হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগেও বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম অনেক বেশি ছিল। তখন কিছু সবজি বর্তমান দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছে। এখন সরবরাহ বাড়ায় সবজিভেদে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। বাজারে সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাইকারি বিক্রেতা মিলন হোসেন বলেন, তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সবজি সংগ্রহ করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। তার দাবি, পাইকারি পর্যায়ে কেনাবেচায় খুচরা বাজারের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দামে সবজি সরবরাহ করা হয়। সামনে আরও সবজি বাজারে উঠবে। ফলে সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তারা ভালো লাভ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষাবাদ হচ্ছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৬নং ত্রিশাল ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামে অবস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জনবলসংকটে ধুঁকছে। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত দ্বিতল ভবন থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ছলিমপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সমাজসেবক মরহুম আবদুল আজিজ সরকার ও আফাজ উদ্দিন সরকার মানবসেবার জন্য প্রায় সাড়ে ৩২ শতাংশ জমি দান করেন। তাদের দানকৃত জমির ওপর নির্মিত হয় কেন্দ্রটির দ্বিতল ভবন। ২০০৬ সালের ৯ মে ভবনটি ত্রিশাল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু হস্তান্তরের ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল মঞ্জুরি না থাকায় কেন্দ্রটি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।
বর্তমানে উপজেলার অন্য ইউনিয়ন থেকে একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন আয়া ও একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে পালাক্রমে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনোরকম সেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমিত এই জনবল দিয়ে এলাকার বিপুল চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী মা, নবজাতক, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও সাধারণ রোগীরা। বাধ্য হয়ে অনেককে ৮-১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত ত্রুটিও প্রকট। ভবনের চারপাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই, নিরাপদ পানির জন্য সাবমারসিবল পাম্প নেই এবং ভবনটির বিভিন্ন স্থানে মেরামত প্রয়োজন।
ত্রিশাল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মাহমুদা ইসলাম দীপা বলেন, ‘সেন্টারটির বিদ্যুৎ সমস্যা আমরা সমাধান করেছি এবং বর্তমানে পানির লাইনসহ পূর্ণাঙ্গ মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জনবল। এই সেন্টারে কোনো পদই মঞ্জুর নেই। পদ না থাকায় স্থানীয়ভাবে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি এবং প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা সেন্টারটি বন্ধ রাখিনি। প্রতিদিনই কেউ না কেউ দায়িত্বে থাকেন এবং আমাদের পক্ষে যা যা করার আমরা সবই চেষ্টা করছি।’
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জনবল মঞ্জুরি দিয়ে শূন্য পদে নিয়োগ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন এবং পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, স্বাভাবিক প্রসব সেবাসহ পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা হোক। এটি চালু হলে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমবে এবং সরকারের প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ সফল হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ব্যস্ততম এ মহাসড়কে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, সাইনবোর্ড এলাকায় শ্রমিকেরা রাজপথে নেমে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে লাগাতার বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে আসছে। এসব সহিংসতায় পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এমনকি গতকালও আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গাড়ি ও সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি কারখানার গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
রাজধানীর কল্যাণপুরে একটি বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৩৮ মিনিটে কল্যাণপুর উত্তরপাড়ার নবাবের রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কল্যাণপুর ফায়ার স্টেশনের একটি দল এবং তারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, নিহত চারজনের মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় নতুন করে আর কেউ আহত হননি বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়েছে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে। পাশাপাশি শিল্প পুলিশের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. ইসরায়েল হাওলাদার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশকে পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে এসআরবির মহাপরিচালক এবং পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. সায়েদুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিনকে পুলিশ টেলিকম সংস্থায়, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।
আশুলিয়া ও সাভারের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
তিনি বলেন, বোরকা ও হেলমেট পরে কারা শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে, তা শনাক্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত আছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এসপি শামীমা পারভীন। তিনি বলেন, গত দুই দিন ধরে শ্রমিক পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি পোশাকশিল্প ধ্বংস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
শামীমা পারভীন বলেন, আপনারা জানেন, গত ১৭ বছর ধরে আমরা হেলমেট বাহিনীর সঙ্গে পরিচিত। একইভাবে, বোরকা বা হিজাব ব্যবহার করে যারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তাদের সম্পর্কেও আমরা অবগত। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।
এসপি বলেন, তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মূলত কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। যেকোনো দাবির একটি সূচনা ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকে। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়। কিন্তু কোনো ধরনের প্রক্রিয়া ছাড়াই দুই দিন আগে হঠাৎ শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়।
‘ঢাকা জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত। ইপিজেডেও পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আশুলিয়া ও সাভারের প্রতিটি কারখানা খোলা রয়েছে এবং শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছেন। হঠাৎ করেই শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হতে দেখা গেছে। তবে এরা প্রকৃত শ্রমিক নন। শ্রমিক পরিচয় ব্যবহার করে বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে’, বলেন তিনি।
এসপি আরও বলেন, বোরকা ও হেলমেট বাহিনীর বিষয়ে আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। কারা তাদের ইন্ধন দিচ্ছে, অর্থের জোগান দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, সে বিষয়েও আমাদের কাছে তথ্য আছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা অবশ্যই এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করব।
শিক্ষার্থীদের দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা বিকাশে এক যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগর ভবনে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় ডিএসসিসি এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণি বা সমমানের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রথম পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, “এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হলো। আমরা চাই, ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগে সাড়া দেওয়ায় আমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।।”
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, “পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, পরিবহন এবং খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে সংস্থাটি। অন্যদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গাইডেড ট্যুর, প্রদর্শনী পরিদর্শন, কুইজ, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনগ্রসর পরিবার ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রাথমিক অবস্থায় এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে মেয়াদ ও পরিধি বাড়ানো হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ খয়বর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনই ঢাকা বিভাগের।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৬৩ জনের মৃত্যু হল। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১৫৮ জন। বাকিরা মারা যাওয়া ১০৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৫ জন এবং বরিশাল বিভাগে একজন মারা গেছে।
এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ২০৩ জন, চট্টগ্রামে ১১২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৬৯, খুলনায় ৫৭ ও রংপুর বিভাগে ১৮ জন মারা গেছে।
সরকারের হাম বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৩১৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময় হাম শনাক্ত হয়েছে ৮২ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৬০ জন।
এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৮৯ জন, চট্টগ্রামে ২৩৬, সিলেটে ১৪০, বরিশালে ১৩২, খুলনায় ৯৪, ময়মনসিংহে ১০০, রংপুরে ৩৫ ও রাজশাহীতে ৩৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫২ জন। আর হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষের।
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে মাদক মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সিয়াম হাসান অক্ষয়সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন নিকলী সদরের পুকুরপাড় গ্রামের ফেরদৌস মিয়ার ছেলে মো. শাহরুখ (২৭) ও একই গ্রামের মিয়া হোসেনের ছেলে মো. হিমেল (২৭)।
সিয়াম হাসান অক্ষয় খালিসাহাটি গ্রামের বাহার উদ্দিন বাচ্চুর ছেলে। তিনি নিকলী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে নিকলী সদরের বড় তালাবপাড় গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে অক্ষয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহরুখ ও হিমেলকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অক্ষয়ের নেতৃত্বে শতাধিক কিশোরের একটি দল এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এই দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ১০টার দিকে নিকলী সদরের টিএন্ডটি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাকিল (২২) নামের এক যুবককে ৬ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির নগদ ৩ হাজার টাকাসহ আটক করে পুলিশ। এ খবর পেয়ে অক্ষয় ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে আটক শাকিলকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।
এ ঘটনায় নিকলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুষার বাদী হয়ে অক্ষয়সহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘মাদক, ইভটিজিং ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’