সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াকে একটি আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, বগুড়াকে দেশের অন্যতম ‘শিক্ষা হাব’ হিসেবে রূপান্তর করার লক্ষ্যেই বর্তমানে সরকারের উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন সঠিকভাবে পাঠদান নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
বিগত সময়ে উত্তরবঙ্গের শিক্ষা বিস্তারে সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মহাস্থানের অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, মোকামতলা মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।
এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম। মূলত বগুড়ার সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো বৃদ্ধিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের কথা এই সফরের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘোরাঘুরি ও জনসম্মুখে মাতলামির দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সৈয়দপুর থানা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সৈয়দপুর উপজেলার হাতাখানা এলাকার মৃত তোফাজ্জলের ছেলে মো. সুমন (৩৬), মাককুর ছেলে মো. জুম্মন (৩০) এবং আব্দুল মতিনের ছেলে মো. মুন্না (২৪)। এর মধ্যে মো. সুমনকে চার মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মো. জুম্মন ও মো. মুন্নাকে এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা করে জরিমানা প্রদান করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে এলাকায় নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ আসছিল। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন,“রেলওয়ে স্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় মাদকসেবীদের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধপ্রবণতা কমাতে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।”
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) আওতাধীন সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯০ মিটার ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে কামারখন্দ উপজেলায় ভদ্রঘাট ইউনিয়নে চরনূরনগর গ্রামে ফুলজোড় নদীর উপরে ব্রীজটি ভিক্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।
জানা যায়, পল্লী সড়ক গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প -২ আওতায় ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। কাজটি ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজটি পটুয়াখালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একেএ এবং এসভিএমসি জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সিরাজগঞ্জ থেকে নূরনগর গ্রামে ২৯০.৩০ মিটার ব্রীজ ও উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপাশা হায়াত, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক রেজাত রাব্বী উথান, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর বর্ষবরণের আয়োজন। বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় পুরো উপজেলা যেন রঙিন হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) (পহেলা বৈশাখ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষ উপজেলা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। নানা বয়সী মানুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন এ আনন্দ আয়োজনে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারীরা, পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত পুরুষরা আর শিশুদের রঙিন সাজে চারপাশে তৈরি হয় এক বর্ণিল পরিবেশ।
দিনের শুরুতেই বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয় উপজেলা চত্বর থেকে। শোভাযাত্রায় ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন প্রতীক শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও নববর্ষের তাৎপর্য। বিশেষ করে “এসো হে বৈশাখ” গানের সঙ্গে সমবেত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন বছরকে সামনে রেখে সবাইকে মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
উৎসব উপলক্ষে উপজেলা চত্বরে বসে বৈশাখী মেলা। সেখানে ছিল হস্তশিল্প, মাটির তৈরি পণ্যের দোকানসহ নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিনে এবারের বর্ষবরণ ছিল আনন্দঘন, বর্ণিল ও শান্তিপূর্ণ। নতুন বছরের শুরুতে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. আফজাল হোসেন নামে এক চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার এবাদুল্লাহ মসজিদ-মাদ্রাসা সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি ওয়ান শটারগান এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং তার সহযোগীদের ফেলে যাওয়া ডাকাতির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত ধারালো ছোরা ও কুড়াল সদৃশ অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আফজাল হোসেন স্থানীয় মধ্য গাজীরচট এলাকারই বাসিন্দা। ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম আজ দুপুরে এক বার্তায় জানান, আফজাল দীর্ঘকাল ধরে তার সহযোগীদের নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফজাল নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট নয়টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য ও দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব। স্থানীয় জনসাধারণ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা আনন্দঘন পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনটির সূচনা হয় সকাল ৯টায় এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে। উপজেলার কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। রঙিন ব্যানার, বৈশাখী পোশাক এবং ঢাক-ঢোলের তালে শোভাযাত্রাটি তুলে ধরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির রূপ।
এরপর গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা—রশি টানাটানি ও হাড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা। পরে উপজেলা চত্বরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা। এতে স্থানীয় শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তোলে বাংলা গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের প্রদর্শনী—পটচিত্র, আলপনা এবং ঢাকের বাদ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এমপি এরশাদ উল্লাহ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।” সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর আয়োজন করা হয় পান্তা উৎসব ও ব্যতিক্রমধর্মী পিঠা উৎসব। এতে স্থানীয় নারীরা বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও দেশীয় খাবার প্রস্তুত করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নিতে আসেন শত শত মানুষ। বর্ষবরণ উপলক্ষে পুরো উপজেলা চত্বরে বিরাজ করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
রূপগঞ্জে একই এলাকায় ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
সর্বশেষ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নিয়েছে দুর্ধর্ষ ডাকাত দল।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসান মিয়া জানান, ভোররাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল রামদা, চাপাতি ও ছুরিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা তাকে, তার স্ত্রী তন্নী আক্তার ও মা খুরশিদা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললে প্রাণনাশ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকায় গত দুই দিন আগেও লতিফ মিয়ার ছেলে আলমগীরের বাড়িতে একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানেও পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়।
এছাড়া এর আগে একই গ্রামের শিহাবদের বাড়ি থেকে গবাদিপশু লুটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পূর্বাচল ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন উর রশিদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী হিসেবে বর্তমান তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের এই কৃষি ভাবনা আজকের নয়। বরং দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে তিনি আমাদের কাছে তার পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করে আসছেন। তার এই পরিকল্পনাগুলো যে গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি তার বাবা শহীদ জিয়ার পথেই হাঁটছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশ রফতানিতে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। বিগত আওয়ামী শাসনামলে চাল আমদানি করতে হলেও তারেক রহমানের এই আধুনিক কৃষি উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির এ নেতা।
বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেকয়টি অঞ্চল আছে মানবপাচারের, সেখানে আমাদের টেকনাফ উখিয়া ও কক্সবাজারের নাম উঠে এসেছে। মাদক এখন একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা দেশের যুবসমাজকে মারাত্মকভাবে বিপথগামী করছে। এ কারণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, এদেশে মাদক একটা বিশাল সমস্যা। আপনারা সবাই সামাজিক সহযোগিতা শুরু করেন। বাংলাদেশ যাতে মাদকমুক্ত হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত 'কৃষক কার্ড' বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে একটি বাটন টিপলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে টেকনাফসহ সারা দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন প্রান্তিক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল আড়াই হাজার টাকা করে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে স্মার্ট 'কৃষক কার্ড' তুলে দেন। এর মাধ্যমে দেশে আধুনিক ও ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনার এক নতুন দিগন্ত সূচিত হলো। টেকনাফের ১ হাজার ৬ শত ৯৮ জন কৃষক আজ সরাসরি এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কৃষক কার্ড' চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান সরকার। এর আগে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড এবং খালখনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, এসব কার্ড চালু আমাদের জাতীয় জীবনের মহতী উদ্যোগ। এ দেশের কৃষককে মূল্যায়ন করার জন্য আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিল। খাল খনন কর্মসূচি, স্বনির্ভর বাংলাদেশ রূপান্তরের জন্য ও কৃষির সমৃদ্ধির জন্য তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারপর আমরা খাদ্য রপ্তানিকারক হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি বিশ্বের দরবারে।
জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুয়া এবং অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সেটা বন্ধ করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বের করা যায়।
মানবপাচার রোধে তিনি আরও বলেন, মানবপাচার রোধের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগ থাকবে। আপনারা সহযোগিতা করুন। এ বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আপনারা ইনফরমেশন দিবেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে আগাতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য আয়োজন আর উৎসবমুখর পরিবেশে নীলফামারীতে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি গার্ডেনে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঢাক-ঢোলের তালে, রঙিন মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রা শেষে ডিসি গার্ডেনের সামনে লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। মেলায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্য ও হস্তশিল্পের পসরা সাজানো হয়।
এছাড়াও পহেলা বৈশাখে নীলফামারী প্রেসক্লাবে ছিলো দিনভর নানা আয়োজন। বাঙ্গালি সংস্কৃতির নানা ঐতিহ্য তুলে ধরে সাজানো হয় প্রেসক্লাব চত্বর। পরে দই-চিড়া আর মিষ্টি মুখে অংশ নেন প্রেসক্লাবের সদস্য ও পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া কুইজ ও নারীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়ামের সভাপতিত্বে আগতদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বী প্রধান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, এআর জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ রউফুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন। দুপুরের মধ্যাহ্ণ ভোজে পান্তা, পাটশাকের ভাজি, আলু ও মাছের ভর্তা ছাড়া ইলিশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় সকলকে। আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রেসক্লাব সদস্যদের স্ত্রী ও সন্তানদের দেয়া হয় উপহার।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগামী দোসরা বৈশাখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। তবে এবারের নববর্ষ উদযাপন থেকে বিরত থেকে শিক্ষক রুনা'র নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ১৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন থাকলেও, আমাদের বিভাগ এই আনন্দ আয়োজনে অংশগ্রহণ করবে না। কোনো আনন্দ শোভাযাত্রা বা র্যালিতে অংশ নেবে না। কারণ আমাদের জন্য এবারের পহেলা বৈশাখ আনন্দের নয়—এটি ন্যায়ের দাবির দিন, প্রতিবাদের দিন। আমাদের পহেলা বৈশাখ মানেই—ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আমাদের ম্যামকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, ৪১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।
এ কর্মসূচিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, নির্মাণাধীন হল ম্যামের নামে নামকরণ করা ও
বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এই চারটি দাবি করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সকালে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে পথে বের হওয়া মানুষগুলো, ফিরলেন লাশ হয়ে।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক উল্টে সাত শ্রমিক নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জীবিকার সন্ধানে আসা এসব মানুষ খরচ বাঁচাতে পণ্যবাহী ট্রাকে উঠেছিলেন, আর সেই সিদ্ধান্তই হয়ে দাঁড়ায় তাদের জীবনের শেষ যাত্রা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে গেলে ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জন নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন এবং আহত হন আরও ছয়জন।
দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা হাইওয়ে ক্রসিং থানার লাশঘরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় নিহতদের মরদেহ। সেখানে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নিহত সুমনের ভাই সামিউল ইসলাম বেগুনি রঙের একটি টি-শার্ট হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই জামাটা আমি কিনে দিয়েছি। সুমন আর কোনোদিন এটা পরবে না। প্রতিবছর জীবিকার জন্য সে আমার কাছে কুমিল্লায় আসত, এবার এসে জীবনটাই হারালো।
জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় গ্রাম থেকে সুমনসহ ১৩ জন শ্রমিক সোমবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলে ধান কাটার কাজের জন্য আসছিলেন। বাসভাড়া বেশি হওয়ায় তারা চালবোঝাই ট্রাকে উঠে পড়েন।
একই ঘটনায় নিহত সোহরাব হোসেনের স্বজনরা জানান, সংসারের অভাব ঘোচাতে এবারই প্রথমবারের মতো শ্রমিকের কাজ করতে বের হয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী চম্পা আক্তার তাকে যেতে নিষেধ করলেও দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি সেই সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—তিনি আর জীবিত ফিরে যেতে পারলেন না।
নিহতের স্বজন জসিম উদ্দিন বলেন, “ওই এলাকায় এখন কাজকর্ম নেই। তাই ধান কাটার মৌসুমে কাজের আশায় কুমিল্লায় আসছিল। কিন্তু পথেই তার জীবন শেষ হয়ে গেল।”
নিরাপদ সড়ক চাই, দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, “দিনাজপুর থেকে কুমিল্লা আসতে বাসে জনপ্রতি প্রায় দেড় হাজার টাকা লাগে। খরচ বাঁচাতে তারা কয়েকশ টাকায় ট্রাকে ওঠেন। অভাবই তাদের এই ঝুঁকি নিতে বাধ্য করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকত, তাহলে হয়তো এত বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
আহতদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা টোলপ্লাজা পার হওয়ার পর চালকের আসনে হেল্পার বসেন। সেখান থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার যাওয়ার পরই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, সড়কের অবস্থা ভালো ছিল। সেক্ষেত্রে চালকের দক্ষতা, ক্লান্তি বা লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া এই শ্রমিকদের মৃত্যু আবারও সড়ক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। খরচ বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানোর এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আর কত প্রাণ ঝরতে হবে?
নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর বর্ষবরণের আয়োজন। বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় পুরো উপজেলা যেন রঙিন হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (পহেলা বৈশাখ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষ উপজেলা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। নানা বয়সী মানুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন এ আনন্দ আয়োজনে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারীরা, পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত পুরুষরা আর শিশুদের রঙিন সাজে চারপাশে তৈরি হয় এক বর্ণিল পরিবেশ।
দিনের শুরুতেই বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয় উপজেলা চত্বর থেকে। শোভাযাত্রায় ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন প্রতীক শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও নববর্ষের তাৎপর্য। বিশেষ করে “এসো হে বৈশাখ” গানের সঙ্গে সমবেত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন বছরকে সামনে রেখে সবাইকে মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
উৎসব উপলক্ষে উপজেলা চত্বরে বসে বৈশাখী মেলা। সেখানে ছিল হস্তশিল্প, মাটির তৈরি পণ্যের দোকানসহ নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিনে এবারের বর্ষবরণ ছিল আনন্দঘন, বর্ণিল ও শান্তিপূর্ণ। নতুন বছরের শুরুতে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।