সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।
জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।
এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।
উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।
করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের কামড়ে মো. খোরশেদ বালা (৫০) নামের এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত খোরশেদ বালা সখিপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি এবং ওই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম বালার ছেলে। বুধবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. নাসির উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে খোরশেদ বালা চরসেনসাস বাজারে নিজের দোকানের কাজ শেষ করে পাশের অন্য একটি দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে রাস্তার পাশে থাকা একটি খড়ের স্তূপ থেকে হঠাৎ বিষধর সাপটি বের হয়ে তাকে কামড় দেয়। প্রথমে স্থানীয়রা তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, পরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে রাতেই স্বজনরা তাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. নাসির উদ্দিন জানান, সাপে কাটা রোগীকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাকে রাসেল ভাইপার সাপে কামড় দিয়েছিল।
সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মাসুম বালা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খোরশেদ বাজারে দোকান বন্ধ করে যাওয়ার পথে সাপের কামড়ের শিকার হন।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইনও সাপের কামড়ে যুবদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী সেচ প্রকল্পসংলগ্ন ৬৫ একর জমিতে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী আমের রাজ্য। এখানে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে প্রায় ১০২ জাতের আম। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে দেশি-বিদেশি নানা স্বাদের আম। এই বিশাল বাগানটি পরিচিত সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স নামে।
এক বাগানে শতাধিক আমের এক বিশাল রাজ্য গড়ার উদ্যোক্তা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান। ১৯৮৬ সালে অবসরের পর তিনি বিদেশমুখী না হয়ে বেছে নেন কৃষিকে। ১৯৯২ সালে মাত্র ৬ একর জমি ও তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন যাত্রা। ধীরে ধীরে সেই খামারই এখন ৬৫ একরের সমন্বিত কৃষি প্রকল্প। খামারে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার আমগাছ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত আমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান ও চীনের আম জাতও রয়েছে এখানে।
উদ্যোক্তা মেজর (অব.) সোলায়মানের দাবি, ‘শুধু মৌসুমে নয়, ১২ মাসই কোনো না কোনো জাতের আম পাওয়া যায় এই বাগানে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০-১০০ টন আম উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
এই বাগানে সাধারণ জাতের আম কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকা এবং বিশেষ কিছু জাত ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয়, বাগানের আম বাজারে নিতে হয় না, ক্রেতারাই খামারে এসে কিনে নিয়ে যান। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরিয়ার সার্ভিস ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আম পাঠানো হচ্ছে।
মেজর (অব.) সোলেমানের দাবি, খামারে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। বছরে মাত্র একবার মুকুল আসার আগে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, বাকি সময় ব্যবহার করা হয় জৈব সার। ব্যাগিং পদ্ধতিতেও আম উৎপাদন হচ্ছে। বাগানে স্থায়ী কর্মচারী আছেন ২৫ জন, আর দৈনিকভিত্তিতে আরও ১০ জন কাজ করেন।
খামার ম্যানেজার ও সাবেক সেনা সদস্য হেলাল হোসেন জানান, সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফরমালিনমুক্ত আমের চাহিদা ব্যাপক। প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে খামার থেকেই।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আসা ক্রেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এখানকার আম সুস্বাদু, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ। সন্তানদের জন্য নিশ্চিন্তে কিনতে পারি। তাই আমি প্রায়ই এই বাগানের আম কেনার জন্য আসি।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় খামারে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে।
উপপরিচালক মো. আতিক উল্যাহ জানান, এ মৌসুমে ১০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আম বাগানটির মালিক মেজর (অব.) সোলায়মান জানান, বিদেশে না গিয়ে আম চাষ করেও যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারে। নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন বলেই তিনি এখনো সুস্থ ও কর্মক্ষম। তার বিশ্বাস কৃষিকে সময় ও যত্ন দিলে কৃষিও সাফল্য ফিরিয়ে দেয়।
১০২ জাতের আমের এই বাগান শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয় এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক- যেখানে স্বপ্ন, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনায় কৃষিই হতে পারে সমৃদ্ধির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড; অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। আটককৃত ডাকাত আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬) সকলেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন কালিঞ্চি সুইচগেইট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর ওই তিন জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতদের তথ্যের ভিত্তিতে, উক্ত দিন রাত ১১ টায় শ্যামনগর থানাধীন হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ডাকাত দল দীর্ঘদিন যাবৎ জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের চলমান এ সকল কার্যকর অভিযানের ফলে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপপ্রচার সত্ত্বেও কোস্ট গার্ডের দস্যু দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে কৌশলে ডেকে নিয়ে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। আহত ওই সাংবাদিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কিসামত রণচণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আহত সাংবাদিক সাহেব আলী (৩৫) দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ-এ কর্মরত। গত ৮ জুন তিনি “কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।
পরদিন মঙ্গলবার সাংবাদিক সাহেব আলী ও ডিআরবির সাংবাদিক লিওন (২৬) মোটরসাইকেলে বড়ভিটা থেকে বেড়গাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪৮) কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় সাহেব আলীকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আলমগীর তাকে চেপে ধরেন এবং প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। অপর সাংবাদিক লিওন ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়।
পরে সাহেব আলীকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক সাহেব আলী বলেন, “প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, “নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, “সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে চোখ ধাঁধানো টর্চের আলো ফেলে ও মুখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গগন সেন বাড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী গৌতম চৌধুরী (৪৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৌতম চৌধুরীর উপজেলার শাকপুরা চৌমুহনী বাজারে ‘লোকনাথ ক্লথ স্টোর’ নামে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। ওই দোকানে তিনি মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবেও লেনদেন করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
গৌতম চৌধুরী জানান, গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে সারোয়াতলী ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তার গতিরোধ করে। এসময় তারা টর্চের আলো চোখে ফেলে বিভ্রান্ত করে এবং মুখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে দেয়। পরে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তার সঙ্গে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারীদের বয়স আনুমানিক ২৮ থেকে ৩০ বছর হবে। তারা রাস্তার পাশের ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে ছিল।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
আগামী ১৭ জুন মৌলভীবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সফরকালে তিনি জেলায় তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে সামনে রেখে জেলার শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলায় সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থল (ভেন্যু) পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিএনপি নেতারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন— মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল মুকিত, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম শেলুন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্বাস আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ভেন্যুগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে দুপুরে রাজনগর উপজেলা চত্বর এবং রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠ ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন। তবে অনুষ্ঠানস্থল এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারবাসীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরে জেলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণ হবে।
প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে নিশ্ছিদ্র ও সফল করতে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দফায় দফায় বৈঠক করছে। একই সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক সভা। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুত হচ্ছে মৌলভীবাজার।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া এলাকায় একটি গ্যারেজে ঢুকে গ্যারেজ মালিকের মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে ১৬টি অটোরিকশার প্রায় ৮০টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। গ্যারেজ মালিক মো. মবিন মিয়া জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল টিনের বেড়া টপকে গ্যারেজে প্রবেশ করে। এরপর তারা তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে চিৎকার না করার হুমকি দেয়। পরে গ্যারেজে থাকা ১৬টি অটোরিকশার অন্তত ৮০টি ব্যাটারি ও সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই মাস আগে একই এলাকার আরেকটি গ্যারেজ থেকেও ১৫-১৬টি অটোরিকশার ব্যাটারি লুটের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের অভিযোগ, আগের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল মিলঘর এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাড়ইল মিলঘর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
এসময় দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন কেশরহাট ইসলামী ব্যাংকের কর্মরত কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
এদিকে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত মারুফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে মোহনপুর থানায় নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় মোহনপুর থানার এসআই ইয়ামিন আলী জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে রাস্তার কাজ করা একটি ট্রাম ট্রাকের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক নিহত হন। এ সময় সিএনজিতে থাকা তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত অপর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহত ও আহতদের পরিচয় পাওয়া গেলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।