সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকাগামী বাসের চাপায় দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো অন্তত ছয় শ্রমিক। বুধবার (৩ জুন) কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকরা হলেন মাহফুজ (৩৫) ও জামাল (৩৬)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় একদল শ্রমিক কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি গাড়িতে বসে এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের চাপা দেয়। বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মাহফুজ ও জামাল নামের দুই শ্রমিক প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত হতাহতদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তরিত করেন।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন চান মিয়া (৪০), সেলিম (৩৫), বরকত (৩২) এবং জসিম (৩৫)। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর আদাবর–শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় একটি অপহরণ–ছিনতাই চক্রের ৯ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।
গ্রেপ্তাররা হলেন জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
পুলিশের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে সাদমান সাকিব রাত ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে। আসার পর তিন থেকে চারজন যুবক দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে থাকা মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের কাছে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাহিদ হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি জানান, চক্রটি মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকায় ভোরের দিকে যখন ব্যবসায়ীরা টাকা-পয়সা নিয়ে বিভিন্ন মালামাল আনতে বাজারে যান ওই সময়টায় তাদের টার্গেট করে অপহরণ করত। বিশেষ করে যারা একা থাকত তাদের টার্গেট করে অপহরণ করত। চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ। তিনিসহ আরও দুই আসামির নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ফজলুল করিম বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তারা আর কোথায় কোথায় একই ধরনের অপরাধ করেছে এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
নারী কারারক্ষীর সঙ্গে অনৈতিক প্রস্তাব ও কুরুচিপূর্ণ কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. দিদারুল আলমকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) কারা অধিদপ্তরের কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে মো. দিদারুল আলমকে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কারা প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কারাগারের হসপিটালাইজড প্রিজনার্স সিকিউরিটি ইউনিটের কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ারুল করিমকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের এক নারী কারারক্ষীর সঙ্গে জেল সুপার দিদারুল আলমের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
অডিওটিতে তিনি ওই নারী সহকর্মীর সঙ্গে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী (বার. এট-ল) পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে এসে কাপাসিয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে কাপাসিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিদর্শন করতে আসলে তাঁকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জেলা পরিষদ কর্তৃক কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ পরিদর্শনে আসেন প্রশাসক মহোদয়। সকাল ১০ টায় কাপাসিয়া সরকারি ডাকবাংলোয় পৌঁছালে তাঁকে প্রথমে অভ্যর্থনা জানান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম, আকরাম হোসেন রিপন, সফিকুল আলম সবুজ, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আনিসুল ইসলাম, তপন বিশ্বাস প্রমুখ।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীর আগমনে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে আসেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতা আফজাল হোসাইন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু,
বিআরডিবি চেয়ারম্যান ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন আরজু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলায়মান মোল্লা, বিএনপি নেতা মীর মাসুদ করিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মতিউর রহমান মতি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু, মহিবুর রহমান, মোঃ ফরিদ শেখ, আ ন ম সফিকুল ইসলাম জেকি, ছাত্রদল নেতা সোহাগ প্রমুখ। পরে তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের প্রকল্প গুলো পরিদর্শন করেন।
কক্সবাজারের চাকরিয়ায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশের অভিযোগে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)'র বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি, কক্সবাজারের এসপিকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিশেষত দৈনিক যুগান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় যে, ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি চকরিয়া থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ঘটনার জন্য চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির পরিচয়, ছবি কিংবা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা যা দ্বারা তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তা আইন, মানবাধিকার এবং ভিকটিম সুরক্ষার নীতিমালার পরিপন্থি। হাইকোর্ট বিভাগ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ভিকটিমদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
যদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থি, ভিকটিমের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারী এবং দায়িত্বহীন আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগীর মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এবিষয়ে চাকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ বলেন, ধর্ষণের শিকার এক মেয়ের ছবি চকরিয়া পুলিশ স্টেশন নামে একটি ফেইসবুক আইডিতে প্রকাশিত হয়েছে জানতে পেরেছি। এই যদি হয়ে থাকে তাহলে খুবই দুঃখজনক। আমি এখনো দেখিনি দেখে জানাচ্ছি।
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) মাজার সংলগ্ন পুকুর থেকে উদ্ধার করা মানুষ খেকো সেই কুমিরটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (০৩ জুন) দুপুরে কুমিরটিকে স্থানান্তর করা হয়।
জানতে চাইলে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল বলেন, পর্যবেক্ষণের জন্য দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি যৌথ দল বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৪ থেকে ৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
হস্তান্তরকালে খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান খান, বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বাগেরহাট জেলা প্রশাসনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল বুধবার (০৩ জুন) সকালে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।
“দলটি কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবে এবং এটিকে ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় ও প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে,” বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এর আগে, বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) মাজার সংলগ্ন পুকুরের কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তীর্থস্থানে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (০২ জুন) রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার পর মাজার এলাকার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুকুর থেকে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে, মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সোমবার (০১ জুন) রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন পুকুরে গোসল করার সময় ৮ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে তাকে জলের নিচে টেনে নিয়ে যায়।
পরে, মঙ্গলবার (০২ জুন) ভোরে মন্দির সংলগ্ন পুকুরের মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েন।
খুলনা নগরীর লবণচরা থানার এলাকার আলোচিত রাশেদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করছে। গত মঙ্গলবার (০২ জুন) খুলনার বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ।
এর আগে গত রাতে নিহতের বাবা আনিছুর কাজী বাদী হয়ে থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মন্টু হাওলাদার, মুসা গাজী ও মিরাজ।
লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (০২ জুন) রাতে নিহত রাশেদের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করেন। যারা এ হত্যা মিশনে অংশ নিয়ে ছিল। বাকী ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাতে এ মামলার এজাহার নামীয় তিনজন আসামিকে খুলনার বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
নিহতের ভাই রাইসুল কাজী বলেন, মাদক কারবারি ইমরান কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীকে রাশেদ বিয়ে করে। যা নিয়ে উভয়ের দ্বন্দ্ব ছিল চরমে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এর আগে একবার আমাদের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছিল ইমরান। সে সময় পরিবারের চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এর পরও থেমে থাকেনি ইমরান। একের পর এক পরিকল্পনা করতে থাকে রাশেদকে হত্যার জন্য।
মঙ্গলবার (০২ জুন) সকালেও এমন একটি ফাঁদ পাতে ইমরান। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ছোট ভাই খুন হয়।
তিনি আরও বলেন, ফার্মেসীতে দুঘর্টনায় তাদের এক বন্ধু আহত হয়েছে বলে নাটক সাজায়। যে রাস্তায় আমার ছোট ভাই রাশেদের যাওয়া নিষেধ সেই রাস্তায় রাশেদকে ডেকে নেয় তারই ছোট ভাই মুসা গাজী। সেখানে নেওয়ার পর ইমরানকে খবর দেয় উপস্থিত থাকা একটি গ্রুপ। রাশেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর শেষ সময় মিরাজ নামে এক যুবক ফোন করে রাশেদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানায়। ভাই আহতের ঘটনা শুনে আমি লবণচরা থানাধীন স্কুলভিটায় উপস্থিত হই।
সেখানে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ তাকে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু কোপানোর সময় কেউ তাকে ঠেকাতে এগিয়ে আসেনি। পুলিশ রাতে যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা সকলে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।
এদিকে বুধবার (০৩ জুন) দুপুরের পর রাশেদের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। আছরের নামজের পর জানাযা শেষে মরদেহ স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দেশজুড়ে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গায় জীবননগরে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার (৩ দিন) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলা জুড়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে জীবননগর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।
প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে অনেকেই একটু পরপর গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার (৩ দিন) দুপুর ৩টায় উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আগামী আরও কয়েক দিন এই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।
প্রচণ্ড রোদে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। বাইরে বের হলেও ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার কথা বলছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখার কথাও বলছেন চিকিৎসক।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় 'গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন' বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (৩ জুন) সকালে পরিষদ সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
"অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে-চলো যাই গ্রাম আদালতে" এই শ্লোগানের উপর জোর দিয়ে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাঃ তামান্না তাসনীম।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় ৬১ টি জেলার মধ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়ায় এ গ্রাম আদালত পরিচালিত হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তিতে কাপাসিয়া উপজেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী রুবি আক্তারের পরিচালনায় কর্মশালায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন, থানার এসআই শুভ চন্দ্র রায়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধি মালা রানী দাস, ইউএনও অফিস কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, কারিতাশ ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন শামীম, আব্দুল কাইয়ুম, সফিকুল আলম সবুজ, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আকরাম হোসেন রিপন, জাহাঙ্গীর আলম, হাসিব খানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জানানো হয় গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ফৌজদারী মামলার মধ্যে চুরি, ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, কোন নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, পশুহত্যা, ক্ষতি সাধন এবং দেওয়ানী মামলার মধ্যে পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত, অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায় সংক্রান্ত, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত, গবাদিপশুর মেরে ফেলা বা গবাদিপশুর ক্ষতি সংক্রান্ত, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া খোরপোষ আদায় ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় দেওয়ানজী ও ফৌজদারী বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।
বিরোধীয় পক্ষদের মনোনীত সমসংখ্যক সদস্য অর্থাৎ আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষ হতে ২ জন করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সহকারে মোট ৫ জন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠন করা হয়।
দেওয়ানী মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি দিতে হবে। মামলার শুনানির কার্যক্রম শুরু হবার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারলে অতিরিক্ত ৩৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১'শ ২০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল তাঁর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টুর অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
আজ বুধবার (৩ জুন) ভোর চারটার দিকে পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাবিব উদ্দিন মিন্টুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানাযায়, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় নিজ বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টু।ডাকাতির দিন তিনি পৌরসভার বাটাখালীস্থ তাঁর নবনির্মিত বসতবাড়িতে স্ত্রী সহ অবস্থান করছিলেন। তাঁর দুই সন্তান ও ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সে সুবাদে ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে । এরপর বাড়িতে থাকা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ, তাঁর সন্তান ও গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২ লাখ নগদ টাকা, ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টু বলেন, আমি চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালীস্থ নবনির্মিত বসতবাড়িতে স্ত্রী সহ অবস্থান করছিলাম। আমর দুই পুত্রসন্তানও বাড়ির বাইরে ছিলো। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুবাদে ডাকাতদল আমার বাড়িতে হানা দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এ এসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ডাকাতদের সনাক্ত পূর্বক দ্রুত গ্রেফতার করার আশ্বাস দেন। এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান।
পটুয়াখালীর লোহালিয়া ইউনিয়নের পাজাখালী গ্রামবাসীর সাথে মতবিনিময় করেছেন আসন্ন লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২ জুন ) সন্ধ্যায় পাজাখালী গ্রামে তার নিজ বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় লোহালিয়া ইউনিয়নের অনেক সম্মানিত ও রাজনীতিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সবসময় আপনাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকবো। আমি লোহালিয়া ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, মডেল ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমি সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি
‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে|
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়| র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়| পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা|
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যান্যরা|
সেসময় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি জন¯^াস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি| বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা| পাশাপাশি তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান বক্তারা|
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন|
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)| আটককৃক রফিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার নেপা বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামসুল মন্ডলের ছেলে|
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বাঘাডাঙ্গা বিওপির একটি নিয়মিত টহল দল সীমান্ত পিলার ৬০/৪১-আর থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঘাডাঙ্গা বেনাপোড়া মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে|
অভিযানকালে মো. রফিকুল ইসলামকে তার ঘাসক্ষেত থেকে আটক করা হয়| এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়|
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন| তিনি জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ম্যাগাজিনসহ আটক ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে|