মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
৩ চৈত্র ১৪৩২

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাকৃবির মাইলফলক, দুই গোল্ডসহ ৪ পুরস্কার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং অঙ্গনে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর শিক্ষার্থীরা। কৃষি ও বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি ও জৈবব্যবস্থা প্রকৌশলের আন্তর্জাতিক কমিশন’ (সিআইজিআর) আয়োজিত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬-এ চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে জয়লাভ করেছে বাকৃবির চারটি পৃথক দল।

আমেরিকা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ঘানা, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা দুটি গোল্ড (প্রথম স্থান) এবং দুটি ব্রোঞ্জ (তৃতীয় স্থান) পদক লাভের গৌরব অর্জন করেছে।

প্রতিযোগিতার ফলাফলে দেখা যায়, ‘এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৪) ক্যাটাগরিতে কৃষিতে জ্বালানি ও শক্তি ব্যবহারের আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করে প্রথম স্থান (গোল্ড) অধিকার করে বাকৃবির একটি দল। দলের সদস্যরা হলেন- মো. আবু হোরায়রা আল রেজন, আমিনা আরিফ রিয়া এবং শোয়াইব আহমেদ সতেজ।

খামার ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনা অপ্টিমাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৫) বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাকৃবির আরও একটি দল। স্বর্ণপদক জয়ী এই দলের সদস্যরা হলেন- তানভীর হোসেন, খৈরম অনন্ত অনি এবং নুসরাত জাহান মুমু।

সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ব্রোঞ্জ পদক জয়েও উজ্জ্বল ছিল বাকৃবির নাম। স্থাপত্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৌশল সমাধানের লক্ষ্যে ‘স্ট্রাকচারস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-২) ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন সাবিদুর রহমান শেজান এবং নুসরাত জাহান জুঁই।

এ ছাড়া ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে এম. রাহাত মিয়া এবং খন্দকার জুনায়েদ আহমেদের দল।

আন্তর্জাতিক এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ গোল্ড মেডেল জয়ী বাকৃবির দুটি দলের প্রত্যেকটি ৫০০ মার্কিন ডলার এবং ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী বাকি দুটি দলের প্রত্যেকটি ২০০ মার্কিন ডলার করে অর্থ পুরস্কার ও সনদপত্র লাভ করবে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসে ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘সিআইজিআর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।


মাদারীপুরে বেসরকারি সংগঠনের ঈদ বস্ত্র পেয়ে খুশীতে আত্মহারা সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাদারীপুরে গরীব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করল বেসরকারি সামিজক সংগঠন ‘তারুণ্য পরিবার’। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে মাদারীপুর বণিক সমিতির কার্যালয়ে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সোহাগ হাসানের পরিচালনায় ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজের সঞ্চালনা এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত থেকে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার গোলাম সরোয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা শাখার সভাপতি এনায়েত নান্নু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সমাজকর্মী রেজাউল ইসলাম রেজা প্রমুখ।

ওই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এসব গরীব ও অসহায়দের মাঝে এরুপ মহৎ কাজ তথা ঈদ বস্ত্র বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

এ সময় অর্ধশতাধিক শিশুদের মাঝে তাদের মায়েদের উপস্থিতিতে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখে অনেক হাসি ফোটে। তারুণ্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোহাগ হাসান সহ তাদের কর্মকর্তারা বলেন, সকলের ভালোবাসায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


খাগড়াছড়িতে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ‘ঈদ উপহার’ সামগ্রী বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় গরিব, অসহায় ও দুঃস্থ শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক বিগ্রেডের আওতাধীন ৩০ বীর খাগড়াছড়ি সদর জোন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে জোন সদরে থেকে টহলকারী টিম ঈদ সামগ্রী নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা সদরের শাল বাগান, আদর্শপাড়া, দয়ানগর, গরু গাড়ি টিলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও বিধবাসহ শতাধিক মানুষের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাগড়াছড়ি সদর জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলামের নির্দেশে সদর উপজেলার দারিদ্র্য পরিবারগুলোকে চিহ্নত করে শতাধিক মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সেনাবাহিনীর পক্ষে থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে। তিনি আরো জানান, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রুহুল আমিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা:

সবাইকে ছাপিয়ে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে জোড় আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপি নেতা মোঃ রুহুল আমিন শরীফ। রবিবার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এতে বরগুনা বাদে বরিশাল বিভাগের পাঁচটি জেলাই নতুন প্রশাসক পেয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইতোপূর্বে বরগুনায় যাদের নাম আলোচনায় ছিল, বর্তমানে তাদের সম্ভাবনা কম। যদি তাদের মধ্যে কেউকে প্রশাসক করা হতো, তাহলে প্রথম পর্বের তালিকায় আসতো। যেহেতু সেটা হযনি, তাই নতুন কাউকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে এমনটাই ভবছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পপতি মোঃ রুহুল আমিন শরীফের নাম। গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে বিষয়টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোঃ রুহুল আমিন শরীফের বাড়ি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ছিলেন বামনা উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য। বরগুনার বিএনপিতে একজন সৎ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি বামনায় দলের একজন নির্ভরযোগ্য কান্ডারী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাসহ সবধরনের সহযোগিতা করেছেন তিনি। বিশেষকরে ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আস্থার পাত্র তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি মাইক্রোটেক্স ডিজাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রিটেক্স ফ্যাশন ও ক্রিয়েটি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান, প্লাটিনাম ফ্যাশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বিজিএমইএ'র সদস্য এবং বিজিবিএ'র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতি ও ব্যবসার পাশাপাশি নির্বাচনেও তার রয়েছে ব্যাপক দক্ষতা। তিনি বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম মণির নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ে তিনি নূরুল ইসলাম মণির একান্ত সচিব ছিলেন এবং বর্তমানে তার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাকে নিয়েই জোড় গুঞ্জন চলছে। বিশেষভাবে তার সততা ও গ্রহনযোগ্যতা এক্ষেত্রে তাকে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ রুহুল আমিন শরীফ বলেন, আমি সারা জীবন বিএনপির জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। দলের কঠিন সময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি। কিন্তু কখনও কিছু চাইনি। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনও দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছি।

উল্লেখ্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক মাস্টার, সদস্য সচিব এসএম হুমায়ূন হাসান শাহিন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এজেডএম সালেহ ফারুক অন্যতম।


যমুনা সেতুতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ, ২৪ ঘণ্টায় আয় ৩ কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

ঈদ সামনে রেখে যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারের চাপ বেড়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) থেকে সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা ।

রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেতু দিয়ে গাড়ি পারাপার করেছে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি।

জানা গেছে, প্রতি ঈদেই যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারে চাপ বাড়ে এবং টোল আদায় হয়ে থাকে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে।

এতে পূর্ব পাড় থেকে ১ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার ৫৫০ টাকা এবং পশ্চিম পাড় থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। পূর্ব পাড়ে গাড়ি পার হয়েছে ২০ হাজার ৭৫টি এবং পশ্চিম পাড়ে গাড়ি পার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৮৩টি।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদ উপলক্ষে গাড়ি পারাপারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। আগামী দুই দিন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


ভোটের কালির দাগ শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল জেলা প্রতিনিধি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ শুকানোর আগেই নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনও এক মাসও হয়নি। ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ এখনও শুকায়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনের সময় দেওয়া পাঁচটি প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ইমামদের ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। আজকের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সরকারের আরেকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলো।

গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল হবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের পরপরই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃষি বিপ্লব এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূ-পৃষ্ঠের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের পার্থক্য হলো-তারেক রহমান যা বলেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল জেলার নবাগত পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বিএডিসি বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব এবং বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী সাহেদ আহম্মেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ, গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনছার উদ্দিন, জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।


ব্যর্থতা স্বীকার করে দায়িত্ব ছাড়লেন শাহ আলম, দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লা সিটির দায়িত্ব নিলেন টিপু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সোমবার সকাল ১১টায় তিনি সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ শাহ আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন।

দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সাবেক প্রশাসক শাহ আলম নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি তার দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেন নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “আমার প্রথম কাজ হবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা। পাশাপাশি আগামীকাল থেকেই যানজট নিরসন এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারে মাঠে নামব। আশা করি কুমিল্লাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে এটি তৃতীয়বারের মতো প্রশাসক পরিবর্তন হলো।


খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে দিনাজপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’-এর উদ্বোধন করতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুর থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থল দিনাজপুর যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন।

এ উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গতকাল পাঠানো সফরসূচি অনুযায়ী, ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানেই আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসভা শেষে বিকেলে জেলার শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে শায়িত তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


সৈয়দপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পোঁছান। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসযোগে তিনি সৈয়দপুর শহর হয়ে দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।

সৈয়দপুর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রধানমনন্ত্রীর আগমন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে।


ভেড়ামারায় বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

এলপিজি ও নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট কমানো এবং দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি নেই। খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দাম, ডিলারদের কারসাজি এবং আইন বাস্তবায়নে গাফিলতির কারণে ভোক্তারা সুফল পাচ্ছেন না। এলপিজি সিলিন্ডারসহ অনেক পণ্যে সরকার ভ্যাট কমালেও বাজারে দাম চড়া।

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর থেকে ভ্যাট কমানো হলেও সাধারণ ক্রেতারা এর সুফল পাচ্ছেন না। ভেড়ামারায় এখনো বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সেই দাম মানা হচ্ছে না। অনেক দোকানিরা পরিবহন খরচ বা সরবরাহে সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। এতে মাসের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

কাঠের পুলের বাসিন্দা রবিউল বলেন, সিলিন্ডার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। কিনতে গেলে তো কম দামে পাই না। দুদিন আগেও ১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। শুধু শুনি দাম কমেছে, কিন্তু কিনতে গেলেই বেশি দাম রাখে।

কাচারি পাড়ার বাসিন্দা নুরজাজান বেগম বলেন, সরকারি রেটের চাইতে বেশি দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এগুলো দেখার কি কেউ নেই? এমনিতেই সংসারে খরচ বেশি, তারপরও সিলিন্ডার কিনতে হয় বেশি দামে।

গ্যাসের ওপর ভ্যাট হ্রাসবাজার স্থিতিশীল এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি রাখতে সরকার এলপি গ্যাসের ওপর সামগ্রিক ভ্যাট হ্রাস করে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।এতে বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রযোজ্য ছিল এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) পরিশোধ করতে হতো।শিল্পকারখানা ও গৃহস্থলি- উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজিকে একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে জনস্বার্থে কর কাঠামো যৌক্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এলপিজির আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এটা কার্যকর থাকবে।

এই পুনর্বিন্যাসের ফলে আমদানির পর স্থানীয় উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর আর কোনো ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার ভ্যাট আরোপের পরিবর্তে এখন কেবল আমদানি পর্যায়েই একবার কর আদায় করা হবে।

এনবিআর জানিয়েছিল, প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের কাঠামোর তুলনায় ভোক্তাদের ওপর সামগ্রিক ভ্যাটের চাপ প্রায় ২০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বাড়তি দাম দিয়েই ভোক্তাদের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।


মৌলভীবাজারে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসে র‍্যালি, আলোচনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ পণ্য সরবরাহ এবং প্রতারণামুক্ত বাজার ব্যবস্থার দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান প্রদর্শন করেন।

র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে ভেজাল, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভোক্তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হলে বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। তাই যেকোনো অনিয়ম বা প্রতারণার ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।


নরসিংদীতে প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নিখোঁজের এক দিন পর প্রতিবেশীর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে আবদুর রহমান (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চর-মরজাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুর রহমান মরজাল ইউনিয়নের চর মরজাল গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শক্কুর আলীর ছেলে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে আবদুর রহমান মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মজা খাওয়ার জন্য দোকানে যায়। এরপর থেকে আবদুর রহমানকে আর খুজে পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। রোববার সকাল ১০টার দিকে প্রতিবেশী ইদ্রিস মিয়া তার নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে পানি দিতে গেলে সেখানে আবদুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজন ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের জানান। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত আবদুর রহমানের মা বলেন, রোববার সকালে প্রতিবেশীর ছাদে আমার ছেলে আবদুর রহমানের মরদেহ পাই। আমাদের কোনো শত্রু নেই। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। রায়পুরা থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। মরদেহের সুরতাল রিপোর্টের কাজ চলছে। শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। আর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংসদকে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু করতে পারলে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে: ডেপুটি স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেছেন, একটি যুগসন্ধিক্ষণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জাতীয় সংসদকে সব রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদ্য নির্বাচিত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এ কথা বলেন। পরে সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

কায়সার কামাল আরও বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন হয় না। যখন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থাকবে, তখন ‘রোল অব ল’ অর্থাৎ আইনের শাসন কায়েম হবে। আর যখন আইনের শাসন কায়েম হবে, তখন মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।

নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রফিক মুহাম্মদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক আব্দুল বারী ড্যানিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজন ও সাংবাদিকেরা।


banner close