শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৪ মাঘ ১৪৩২

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


রোববার হাদি হত্যা তদন্তে জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে সরকার

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক  

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।

জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।


রোজার আগেই ভোগাচ্ছে মুরগি কাঁচামরিচ লেবু: স্বস্তি সবজি ও পেঁয়াজে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোজার বাকি আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকটা দিন; এর মধ্যেই ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগি ও কাঁচামরিচের দামও। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে সবজি ও পেঁয়াজের বাজারে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে বেশি চাহিদা থাকা লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে।

ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে এমন দাম বাড়ায় চাপ বাড়ছে পকেটে। কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোজা শুরুই হয়নি, এর মধ্যেই লেবুর দাম বাড়তি। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে অন্যান্য পণ্যের দামসহ খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।’

খুচরা বিক্রেতারা জানান, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই রোজার আগে লেবুর চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, এ সময় চাহিদা বেশি থাকে, সরবরাহও কমে যায়। তাই দাম একটু বাড়তি।

এদিকে, তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে সবজির বাজারে। প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।

পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজার করতে আসা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন মোটামুটি ঠিক আছে। যদি এমন থাকে, তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি।

তবে মুরগির বাজারে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা এবং লাল লেয়ার ৩০০ টাকা কেজি দরে।

বিক্রেতারা বলছেন, বিয়ে-শাদি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে। এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, এ সময় অনুষ্ঠান বেশি থাকে, চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দাম একটু বেশি।

রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা-যা গত বছর একই সময় ১১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬৫ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল।

পাশাপাশি প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সঙ্গে প্রতি কেজি মাঝারি আকারের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা। তবে গত বছরের তুলনায় চিনি কিনতে ক্রেতার কেজি প্রতি ২০ টাকা কম ব্যয় হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ১২৫ টাকা। আর গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডিপ্লোমা দুধ ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর রোজার আগে ৮৪০ টাকা ছিল।

রাজধানীর কাওরানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার শবেবরাতের আগে ও পরের দিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। তবে গত বছর রোজার আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তাই মনে শঙ্কা হচ্ছে সামনে কী হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের আইন প্রয়োগের বড় দুর্বলতা। এবার বাজারে যে পরিমাণ পণ্য সরবরাহ আছে, তাতে রোজায় দাম বাড়ার কথা নয়। আর গত বছরের তুলনায় কেন বেশি দাম, সে বিষয়ে তদারকি করতে হবে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের চেয়ে এবার নিত্যপণ্যের গড় আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি। এই সরবরাহ পরিস্থিতি ও পণ্যমূল্যের স্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এ বছরের রমজান স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গজারিয়া প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধসহ আহত ২

পুলিশ ক্যাম্পের জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়ায় হামলা দাবি আহতের স্বজনদের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন গুলিবিদ্ধসহ দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতের একজন গুয়াগাছিয়ায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, জামালপুর গ্রামের মৃত আহমেদ দেওয়ানের ছেলে কাইয়ুম দেওয়ান (৪২) এবং তার আত্মীয় ও বাউশিয়া ইউনিয়নের পুড়াচক বাউশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম প্রধানের ছেলে শরীফ প্রধান (৪১)। আহতদের মধ্যে কাইয়ুম দেওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত কাইয়ুমের ছোট ভাই মাইনুদ্দিন দেওয়ান জানান, কাইয়ুম দেওয়ান নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করেন। শুক্রবার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। আসর নামাজ শেষে বাবার কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার পথে চিহ্নিত নৌ-ডাকাত নয়ন, পিয়াস ও শাহাদাতসহ তাদের সহযোগীরা কাইয়ুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মাইনুদ্দিনের দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, ‘গুয়াগাছিয়ায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য আমার বড় ভাই কাইয়ুম দেওয়ান বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নৌ-ডাকাত বাহিনীর সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে। প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই সন্ত্রাসীরা এলাকায় নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হামলার সাহস পাচ্ছে।’

আহত শরীফ প্রধান অভিযোগ করে বলেন, "হামলার সময় পাশেই পুলিশ ক্যাম্প ছিল, কিন্তু তারা এগিয়ে আসেনি। মসজিদের মাইকে সাহায্য চাইলেও ডাকাতদের ভয়ে কেউ আমাদের বাঁচাতে আসেনি।"

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুন নাহার জানান, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। কাইয়ুম দেওয়ানের পায়ে গুলি জাতীয় কিছুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত শরীফকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, "ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


 ফেনীতে প্রার্থীর অনশনের মুখে এসিল্যান্ডকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনী-২ আসনের গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা অনশনে থাকার পর তাঁর দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই ঘোষণার পর ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া নিজে পানি খাইয়ে তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার অনশন ভাঙান।

জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া নিশ্চিত করেছেন যে, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং প্রার্থীকে হুমকির অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেছিলেন তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী মাঠ সবার জন্য সমান নয় এবং প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের হয়রানি করছেন।

দাবি আদায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি কোনো একক ব্যক্তির বিজয় নয়—এটি গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম, সাহসী ভূমিকা এবং সত্যের পক্ষে অবস্থানের সম্মিলিত বিজয়।’ এই অর্জনের জন্য তিনি ফেনী জেলার সচেতন নাগরিক এবং দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করার জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে জনগণের অধিকার রক্ষায় এই লড়াই অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন।


গাইবান্ধায় চোখের পলকে ৫ গরুর মৃত্যু, গ্রামজুরে আতঙ্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার একটি চরাঞ্চলে মুহূর্তের ব্যবধানে পাঁচটি গরু মারা যাওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। চোখের সামনে একের পর এক গরুর মৃত্যু দেখে হতবাক হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তার পরিবার।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার দত্ত।

এরআগে ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লার চর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ওই গ্রামের কৃষক মোস্তাক মিয়ার গোয়ালঘরে বাঁধা পাঁচটি গরু হঠাৎ ছটফট করতে শুরু করে এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও গাইবান্ধার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই গ্রামের কৃষক মোস্তাক মিয়ার গরুগুলোকে প্রতিদিনের মতো সেদিনও গরুগুলোকে ভুট্টার ঘাস খাওয়ানো হয়েছিল। এরপর গোয়ালঘরে বেঁধে রাখা হলে আচমকাই একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একে একে আরও চারটি গরু ছটফট করতে থাকে। পরিবারের লোকজন পানি খাওয়ানোসহ বিভিন্নভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সব গরুই মারা যায়।

কৃষক মোস্তাক জানান, ‘আমার ঘরে নয়টি গরু ছিল। গরুর বাছুরগুলো অন্য জায়গায় বাঁধা ছিল বলে বেঁচে গেছে। কিন্তু চোখের সামনে পাঁচটি গরু মারা যাওয়া সহ্য করার মতো নয়। এতে তার আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকেই গোপালপুর চরজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার অনেক খামারি জানান, তারাও নিয়মিত ভুট্টার ঘাস গরুকে খাওয়ান। ফলে খাদ্যজনিত কোনো বিষক্রিয়া হলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার দত্ত বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে এখনও অবস্থান করছেন। গরুগুলোর মুখ দিয়ে ফেনা এবং পেট ফুলে গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ন্ত কাঁচা ভুট্টার ঘাস খাওয়ার কারণে গরুগুলো ‘নাইট্রেট পয়জনিং’-এ আক্রান্ত হয়েছে। ভুট্টা গাছের নরম ডাঁটা ও পাতায় কখনো কখনো অতিরিক্ত নাইট্রেট জমে যায়, যা গবাদিপশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে।

এসময় চরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি ভুট্টার টগবগে কাঁচা ঘাস খাওয়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একই সাথে ইউরিয়া সারের ব্যবহার হয়েছে এমন জমির ঘাস কিছুটা রোদে শুকিয়ে খাওয়ানোরও পরামর্শ দেন।


নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজ নারী উদ্যোক্তার মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এলাকায় কামরুন নাহার ইতি নামে এক নারী উদ্যোক্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ‘পরী বিউটি পার্লার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই পার্লারের টয়লেটের ভেতর থেকে পুলিশ তাঁর মৃতদেহটি উদ্ধার করে। মৃত কামরুন নাহার ইতি গত ২৭ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন এবং এ ঘটনায় তাঁর ভাই ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

বিউটি পার্লারের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দিলে দরজা ভেঙে মরদেহটি বের করা হয়। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম এ প্রসঙ্গে বলেন, “ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে না।” নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অধিকতর নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতির স্বামী আনোয়ার হোসেন সেন্টুকে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আমতলীতে মাদক কারবারি আটক, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী এলাকা থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার বাড়ি থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট এ জেড এম জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে আমতলী থানা পুলিশের সমন্বয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোপখালী এলাকার নিজ বসতঘর থেকে মনির শরীফ (৪৫) নামের ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত সাত্তার শরীফের ছেলে। এ সময় তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩ পিস ইয়াবা ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, আটক মনির শরীফের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

পরবর্তীতে আটক আসামি ও উদ্ধার আলামতসমূহ রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


সিলেট রেঞ্জে সেরা সার্কেল ও থানার পুরস্কার পেল কুলাউড়া পুলিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

সিলেট রেঞ্জের চার জেলার অফিসারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার দুই পুলিশ কর্মকর্তা। জানুয়ারি মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন ও রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নির্বাচিত হয়েছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা।

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সিলেট রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান দুই কর্মকর্তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এ সময় মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদক ও চোরাচালান উদ্ধার, ক্লুলেস মামলা উদঘাটনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সন্তোষজনক কর্মদক্ষতা বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।


দৌলতদিয়ায় ৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি পদ্মায় নিখোঁজ যুবক রেজাউল, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলত‌দিয়ায় ফেরির পন্টুন হতে পড়ে পদ্মা নদীতে নি‌খোঁ‌জ যুবক রেজাউল শিকদারের (৩৫) সন্ধান মেলেনি শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত গত ৪ দিনেও।

সে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। রেজাউলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪ টি মাদক, ২টি ছিনতাই ও ১টি জুয়ার মামলা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দি‌কে দৌলত‌দিয়া ৩ নম্বর ফে‌রিঘা‌টে পল্টুনের উপর থেকে রেজাউল ফেরির অজ্ঞাত এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে। তখন ভুক্তভোগী যাত্রী তাকে জাপটে ধরেন। এ সময় ধ্বস্তাধস্তির এক পর্যায়ে দুজনেই নদীতে পড়ে যায়। পরে ওই যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠতে পারলেও রেজাউল পারেনি। সে পানিতেই ডুবে যায়।

তবে রেজাউলের পরিবারের দাবি তাকে নদীতে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

রেজাউলের বড় ভাই মোস্তফা শিকদার ও রবিউল শিকদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী আনু খা, আইয়ুব খা, ফারুক খা, তোতা খা, সোহেল খা, ইউনুস খা গংদের সাথে জমিজমা নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ছোট ভাই রেজাউলকে ফেরির পন্টুন হতে পানিতে ফেলে দিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে ডুবিয়ে দেয়। এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমরা এর বিচার চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনু খা ও তার ছোটভাই ফারুক খা বলেন, আমরা এলাকায় সুনামের সাথে ব্যবসা-বানিজ্য করে খাই। কোন অন্যায় অপরাধের সাথে জড়িত নই। রেজাউল একজন চিহ্নিত মাদক সেবী, ছিনতাইকারী ও ফেরিতে তিনতাস নামক জুয়ারী চক্রের সদস্য। তার অত্যাচারে সাধারণ যাত্রীসহ এলাকার মানুষও অতিষ্ঠ। আমরা যতটুকু জেনেছি ফেরির এক যাত্রীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে সে পালানোর সময় পন্টুন হতে নদীতে পড়ে যায়। কিন্তু নেশাগ্রস্ত থাকায় আর উপরে উঠতে পারেনি। এ সময় ছিনতাইকারী বলে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরাও তাকে উঠানোর চেষ্টা করেনি। অথচ এ বিষয়ে আমাদেরকে জড়িয়ে রেজাউলের ভাইয়েরা মিথ্যা কথা বলে চলেছে। তাদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে আদালতে মামলা ছিল। মামলায় তারা হেরেও গেছে। এতে উত্তেজিত হয়ে তারা কিছুদিন আগে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। সে বিষয়ে আমরা থানায় অভিযোগ দেই। কিন্তু রেজাউলের এ মর্মান্তিক পরিস্হিতির সাথে তারা কোনভাবেই জড়িত নই।

এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, পদ্মায় নিখোঁজ যুবক রেজাউলকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সাথে তারাও অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী নিখোঁজ রেজাউলের বিরুদ্ধে ৪ টি মাদক, ২টি ছিনতাই ও ১টি জুয়ার মামলা রয়েছে। এক যাত্রীর সাথে ধ্বস্তাধস্তি করে তার নদীতে পড়ে যাওয়া কথা জেনেছি। তবে প্রকৃত কারন জানতে আমরা কাজ করছি।


একমাত্র বিএনপিই দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা বলে :নূরুল ইসলাম মনি

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৯
বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনা-২(বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা একমাত্র বিএনপিই বলে। অতীতে আমি বামনার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকব। দল সরকারে এলে মানুষ যাতে ভালো থাকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বামনার শের-ই-বাংলা সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

জনসভায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ সভাস্থল নবীন-প্রবীণের আনন্দ -উল্লাসে ‘মনি ভাই- ধানের শীষ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে।



নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্র্যাক রেকর্ড আমরা অতীতে দেখেছি। তাদের কাছে কোনো পরিকল্পনা ছিলোনা এবং নেই। কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে রাষ্ট্র চলে না, জনগণের পেটের খাবার, কর্মসংস্থান, জনগণের অর্থের সংস্থান হয় না। এসব কিছুর জন্য পরিকল্পনা লাগে। জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে, কীভাবে আমরা দেশকে পরিচালনা করব, তাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করব। এসব পরিকল্পনার কথা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার বলেছেন। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে গৃহিণীদের মাসিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন, যাতে সংসার পরিচালনায় তারা স্বস্তি পান এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করার কথা বলেছেন। যে কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং বছরে অন্তত একটি ফসলের জন্য বিনামূল্যে উপকরণ দেওয়া হবে।

মনি বলেন, তরুণ বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রবাসগামীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন। কাজেই দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা একমাত্র বিএনপিই বলে।
তিনি জনসভায় উপস্থিত হাজারো জনতার কাছে প্রশ্ন রাখেন-এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা কি আপনারা অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন? এসময় জনতার কণ্ঠে ‘না’ ‘না’ আওয়াজে প্রকম্পিত হয় বিদ্যালয় মাঠ।
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, জামায়াতের কাছে উন্নয়নের কোনো প্রোগ্রাম নাই। সে জন্য তারা নিয়ে আসছে বেহেস্তে যাওয়ার প্রোগ্রাম। তিনি বলেন, তারা মা-বোনদের বোঝাচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেস্ত পেয়ে যাবে। আসলে তারা ইসলামের কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা উন্নয়নের কথা বলছে না। আমি এলাকার বিদ্যালয় বলেন, মাদ্রাসা বলেন, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ-সব উন্নয়নেই ছিলাম, আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ।


এলাকাবাসীকে নির্বিঘ্ন ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কোনো গুজবে কান দেবেন না। সকাল সকাল ভোট দিয়ে হিসাব বুঝে নেবেন। তার আগে ভোট কেন্দ্র থেকে বের হবেন না। প্রত্যেকে ভোট পাহারা দেবেন।
পরিশেষে বরাবরের মতোই পরম করুনাময় আল্লাহর দরবারে সবার শান্তি এবং কল্যাণ কামনার জন্য দোয়ার মধ্য দিয়ে জনসভা শেষ করেন তিনি।


জামায়াতকে যারা ইসলামী দল বলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে: চরমোনাই পীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছি এবং এতে শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। জামায়াতসহ অন্যান্য দলও ইশতেহার প্রকাশ করেছে। জামায়াত কিন্তু কোথাও ইসলামের কথা বলেনি। এরপরও যারা জামায়াতকে ইসলামী দল বলে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি ঈদগাহ মাঠে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের সময়েই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং বিদেশে গড়ে উঠেছে কুখ্যাত ‘বেগম পাড়া’।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতার মোহে একটি দল ঐক্য থেকে সরে গেছে।
চরমোনাই পীর জামায়াতকে সমালোচনা করে বলেন, জামায়াতের মতো এত বড় জানোয়ার, এত বড় শুয়োর এবং এত বড় মিথ্যাবাদী দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি নেই। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলাম বিষয়ক কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। তাই প্রকৃত অর্থে তারা ইসলামী দল নয়।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী এবং ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী।
ইসলামী আন্দোলন ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য দেন। নির্বাচনী জনসভায় দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।


আমির হামজার ফেসবুক পেজ বন্ধ করল মেটা কর্তৃপক্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়া সদর আসনে আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজটি ‘কপিরাইট স্ট্রাইক’ ও সাইবার হামলার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া শহর শাখার আমির এনামুল হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, মুফতি আমির হামজার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটি গত কয়েকদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির পরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল যার ধারাবাহিকতায় ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে পেজটি অপসারণ করেছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, এটি কোনো নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ ও ভুয়া রিপোর্টিংয়ের ফল।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনামুল হক বলেন, “আমাদের সকল অনুসারী, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মুফতি আমির হামজার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ গত কয়েকদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির পরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল।” ওই বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চিহ্নিত মহল এই ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- ফেসবুক থেকে একটি পেইজ সরিয়ে দিলেও মানুষের হৃদয় থেকে আমির হামজাকে সরানো যাবে না।”

দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে, পেজটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সংকটে সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে যেন তারা কোনো ভুয়া আইডি, গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় পা না দিয়ে ধৈর্য ও সচেতনতা বজায় রাখেন। এনামুল হক জানান যে, বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর পেজটি উধাও হয়ে যায় এবং এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মুফতি আমির হামজার অনুসারীরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে লক্ষ্যে আইনি ও কারিগরি সকল পদক্ষেপ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি

আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৭
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কুশাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্র থেকে দুটি সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মদ মমতাজ বেগম জানান, গত ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা বাড়িতে চলে যান। এরপর টানা তিন দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে ফিরে শিক্ষকরা দেখতে পান যে, নিচতলায় স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুটি ক্যামেরা যথাস্থানে নেই। দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে ক্যামেরা দুটি খুলে নিয়ে গেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং বুধবার সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান হাসিব এই চুরির ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা নির্বাচনে কারচুপি করতে চায় কিংবা ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে, এটি তাদেরই অপকর্ম হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। যারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, কেবল তারাই এমন অসৎ উদ্দেশ্যে ক্যামেরা সরিয়ে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইতিমধ্যে সদর থানায় এ সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মূলত নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরণের ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় এক ধরণের রহস্য ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।


banner close