সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নদী ও সাগরে আবার বাড়ছে ইলিশের প্রাপ্যতা। জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ, ব্যস্ত হয়ে উঠছে মাছঘাট। সরবরাহ বাড়ায় দেশের বিভিন্ন মোকামে পাইকারি দামও কমেছে। বরিশালে বিভিন্ন আকারের ইলিশের দাম মণপ্রতি কমেছে ১৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। লক্ষ্মীপুরে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। তবে এক কেজি ওজনের মাছের দাম এখনো প্রায় ২ হাজার টাকা। ফলে সরবরাহ বাড়লেও সাধারণ ক্রেতার স্বস্তি পুরোপুরি ফেরেনি।
বাংলাদেশে ইলিশ মূলত নদী ও সাগর—দুই পরিবেশেই বিচরণ করে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মেঘনা, পদ্মা, তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁসহ বিভিন্ন নদী ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণ ও প্রজনন এলাকার সঙ্গে যুক্ত। চাঁদপুর থেকে লক্ষ্মীপুরের নিম্ন মেঘনা, ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া, পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক এবং শরীয়তপুরের নিম্ন পদ্মাসহ কয়েকটি এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রমও রয়েছে।
মৎস্য গবেষণা-সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের ২০ থেকে ২৫টি নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়। মেঘনা অববাহিকায় ইলিশের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি হলেও তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, পদ্মা ও পায়রাসহ অন্যান্য নদীতেও ইলিশ ধরা পড়ে। নদীর পাশাপাশি উপকূল ও সমুদ্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ আহরণ করা হয়।
লক্ষ্মীপুরে জালে ইলিশ, ঘাটে বেড়েছে ব্যস্ততা: মৌসুমের বড় একটি সময় প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় লক্ষ্মীপুরের অনেক জেলেকে অলস সময় কাটাতে হয়েছে। নৌকা পরিচালনা, জ্বালানি ও সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। গত কয়েক দিনে মেঘনায় ইলিশের পরিমাণ বাড়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। জেলার প্রায় ৩০টি মাছঘাটে বেড়েছে নৌকার আনাগোনা ও মাছ কেনাবেচা।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনার প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম। জেলার পাঁচ উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার জেলে এ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
মজুচৌধুরীরহাট মাছঘাটে গত বুধবার দেখা যায়, একের পর এক জেলে নৌকা ভিড়ছে। নৌকা থেকে মাছ নামানো, দরদাম ও কেনাবেচায় ব্যস্ত জেলে, আড়তদার ও পাইকারেরা। তবে জেলেদের ভাষ্য, মাছের পরিমাণ বাড়লেও তুলনামূলক ছোট ইলিশই বেশি ধরা পড়ছে।
মতিরহাটের জেলে লিটন মাঝি বলেন, নদীতে মাছ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন অলস সময় কাটাতে হয়েছে। সংসার চালাতে কষ্ট হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে জালে বেশি ইলিশ ধরা পড়ায় আবার নিয়মিত মাছ শিকারে যেতে পারছেন তারা।
সরবরাহ বাড়ায় কমেছে দাম: স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মজুচৌধুরীরহাটে এক কেজি ওজনের চারটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার টাকায়। তিন দিন আগে একই পরিমাণ মাছের দাম ছিল সাড়ে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা।
আকার ও প্রকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। তবে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম এখনো প্রায় ২ হাজার টাকা। ফলে বড় ইলিশ এখনো অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে।
বরিশালে আট দিনে এসেছে ১ হাজার ২৮০ মণ: দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ইলিশ বাণিজ্যকেন্দ্র বরিশালের পোর্ট রোড মাছ অবতরণকেন্দ্রেও সরবরাহ বেড়েছে। গত ২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট দিনে সেখানে ইলিশ এসেছে ১ হাজার ২৮০ মণ। প্রতিদিন গড়ে সরবরাহ ছিল ১৬০ মণ, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭৫ মণ। অর্থাৎ দৈনিক গড় সরবরাহ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
এর প্রভাবে বিভিন্ন আকারের ইলিশের পাইকারি দাম মণপ্রতি ১৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম মণপ্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে কমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হয়েছে। এক কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম নেমেছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ৯৬ হাজার টাকায়।
ভোলার নদীতেও বড় ইলিশ: উপকূলীয় জেলা ভোলাতেও সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের প্রাচুর্য দেখা গেছে। আগস্টের শেষ দিকে বাসসের প্রতিবেদনে জেলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবাদর, বেতুয়া, বুড়াগৌরঙ্গ ও ইলিশা নদীতে জেলেদের ইলিশ আহরণের কথা জানানো হয়। মনপুরা এলাকার মেঘনা নদীতেও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার তথ্য এসেছে।
ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর কয়েকটি অংশও ইলিশের অভয়াশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এ অঞ্চলের নদী ও সাগর মোহনা ইলিশের বিচরণ ও প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁদপুরে সরবরাহ বাড়লেও বড় মাছে চড়া দর: চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটেও সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরবরাহ বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা পোস্টের ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ মণ ইলিশ আসছিল।
তবে মাছঘাটে সরবরাহ বাড়লেই খুচরা বাজারে সমান হারে দাম কমে না। উৎপাদনস্থল থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পরিবহন, বরফ, সংরক্ষণ, আড়ত ও বিপণনের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় যুক্ত হয়। তাই পাইকারি দামের পতনের সুফল ক্রেতারা কতটা পাচ্ছেন, তা জানতে খুচরা বাজারের তথ্যও জরুরি।
বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জরুরি: ইলিশের দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও বাজার তদারকির ঘাটতি। তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে সরবরাহ, রপ্তানি এবং পাইকারি ও খুচরা দামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
সরবরাহ বাড়ার পরও কোনো পর্যায়ে অস্বাভাবিক মুনাফা হচ্ছে কি না, তা জানতে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ জরুরি। বিভিন্ন আকারের ইলিশের পাইকারি ও খুচরা দাম প্রকাশ এবং সরবরাহের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়তে পারে।
নিষেধাজ্ঞার আগে আয়ের শেষ সুযোগ: মৌসুমের শেষ সময়ে ইলিশের প্রাপ্যতা বাড়লেও সামনে প্রজনন রক্ষার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে জেলেদের মধ্যে। ভোলা ও বরগুনার কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মাছ বাড়তে শুরু করার পর আহরণ বন্ধ হলে প্রত্যাশিত আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা।
তবে ইলিশের প্রজননকাল পরিবর্তিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। জেলেদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তন করা যথেষ্ট নয়।
নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও কেনাবেচার ওপরও বিধিনিষেধ কার্যকর থাকে। এ সময় অবৈধ জাল অপসারণ, নদীতে অভিযান ও বাজার তদারকির পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের সরকারি খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
মৌসুমের শেষ সময়ে ইলিশের বাড়তি প্রাপ্তি জেলেদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে এবং পাইকারি দামের পতন খুচরা বাজারে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নদী ও সাগরে ইলিশের বিচরণ বাড়ার এই সময়ে একদিকে প্রজনন ও সম্পদ রক্ষা, অন্যদিকে জেলেদের জীবিকা এবং বাজারে ন্যায্য দাম—তিন দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন আমাদের লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা ও বরগুনা প্রতিনিধি।
বড় ভূমিকম্পে একটি ফায়ার স্টেশন কিংবা সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেন উদ্ধার তৎপরতা থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই নিজেদের সক্ষমতা ছড়িয়ে দিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এক জায়গায় জনবল, সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা কেন্দ্রীভূত না রেখে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হয়েছে। পূর্বাচলে গঠন করা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের বিশেষ রেসকিউ টিম। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ রেসকিউ টিম এবং ঢাকার বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে অধিদপ্তরের কমান্ড ব্যবস্থা সচল থাকে, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১০-এ নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বহুতল সদর দপ্তর। জাইকার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন ভবনটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ভবনটি ভেঙে পড়বে না। ২০২৮ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের বড় অংশের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম এতদিন সদর দপ্তরকেন্দ্রিক ছিল। বড় ভূমিকম্পে সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব সরঞ্জাম আটকে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হয়েছে।
ফলে কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও কাছাকাছি অন্য স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হবে।
বড় দুর্যোগে একটি স্টেশনের স্বাভাবিক জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক ভবনধস সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। এ জন্য পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি স্পেশাল রেসকিউ টিম রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিভিন্ন স্টেশন থেকে জনবল নিয়ে ২০ সদস্যের এসআরটি গঠন করা হয়েছে। এসব দলকে ধসে পড়া ভবনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় রাজধানীর বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মহানগরীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা জনবল-সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিলে এসব স্টেশন থেকে সহায়তা নেওয়া হবে।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সরঞ্জাম ও রেসকিউ টিম স্থানান্তরের বিষয়েও বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ চলছে।
ভূমিকম্পে মোবাইল টাওয়ার ও ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ধারকারী দলগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এ ঝুঁকি বিবেচনায় গত আগস্টে অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহযোগিতায় দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করেছে ফায়ার সার্ভিস। মোবাইল, ল্যান্ডফোন ও বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন—এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার মহড়া দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি। তাই প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে ভবনধস, অগ্নিকাণ্ড, গ্যাসলাইন দুর্ঘটনা ও বৈদ্যুতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। ঢাকার সরু সড়ক, যানজট ও ধ্বংসস্তূপও উদ্ধারকাজে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আটকে পড়াদের শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ই হবে প্রধান কাজ।
ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের সুযোগ সীমিত। তাই কখন ভূমিকম্প হবে, তার অপেক্ষায় নয়—আঘাতের পর যেন উদ্ধারব্যবস্থা অচল না হয়, সেই প্রস্তুতিকেই এখন গুরুত্ব দিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল’কে (আরএসজিটিআই) দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনা জারি করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে শুক্রবার (২ অক্টোবর)। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক একটি অপারেটরের মাধ্যমে নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি সরকারের নীতিগত অনুমোদন পায়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সিসিটির অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআই-এর নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের (আইবিএ) চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে আরএসজিটিআই-এর আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রকল্প দুটি হলো—সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল।
চিঠিতে বলা হয়, চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআই-এর নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইবিএ-কে অনুরোধ করা হচ্ছে।
সিসিটি পরিচালনায় দেশি ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব জমার পর এই অগ্রগতি এলো। টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ গত ৮ এপ্রিল এবং সৌদি আরবের ‘আরএসজিটিআই’ ২২ এপ্রিল আলাদা প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী ‘এমজিএইচ গ্রুপ’ও একটি প্রস্তাব জমা দেয়।
আরএসজিটিআই গত মে মাসে সাংবাদিকেদর নিশ্চিত করেছিল যে তারা সিসিটি এবং জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)—উভয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহী এবং নির্বাচিত হলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, সিসিটি টার্মিনালটি এনসিটি এবং জিসিবির মাঝখানে অত্যন্ত কৌশলগত স্থানে অবস্থিত। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কন্টেইনার পরিবহনের প্রায় ১৬ শতাংশ পরিচালিত হয়েছে এই সিসিটি দিয়ে। এছাড়া এনসিটিতে প্রায় ৪৪ শতাংশ, জিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ৪ শতাংশ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পাওয়া ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালটি ইতোমধ্যে পরিচালনা করছে আরএসজিটিআই।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে বড় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধা এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সময়েই সিসিটি নিয়ে এই নতুন পদক্ষেপ সামনে এলো। গত ১ অক্টোবর এনসিটি এবং ওসিওয়াই উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরকে ১৫ বছরের দায়িত্ব দিতে খসড়া চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প বিবরণীতে দুবাই সরকার মনোনীত দুবাইভিত্তিক 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'কে প্রস্তাবিত অপারেটর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পিপিপি চুক্তির আওতায় ডেনমার্কভিত্তিক ‘এপিএম টার্মিনালস’কে নতুন লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই নতুন নির্দেশনার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান আরেকটি বড় টার্মিনাল সিসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে যাওয়ার পথে রয়েছে, যেখানে দাপ্তরিক চিঠিতে আরএসজিটিআই-এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে সিসিটি পরিচালনার প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ, আর্থিক শর্ত কিংবা বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী পিপিপি এবং চুক্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব বিস্তারিত বিষয় নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলনের সময় ১টি পন্টুন, ১টি বাল্কহেড ও ২টি এস্কেভেটরসহ হাতেনাতে ধরল উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের মেঘনা নদীতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযান শেষে বাল্কহেডচালক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার বৈশ্বর গ্রামের জিন্নত আলীর ছেলে সুমন মিয়াকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আগানগর এলাকার মেঘনা নদীর তীরবর্তী নবাব ব্রিকফিল্ডের পাশে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে রাজধানী শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় বাল্কহেড ভর্তি করে মাটি পাচার করে আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে নদী থেকে মাটি উত্তোলনের সময়ে হাতেনাতে ১টি পন্টুন, ১টি বাল্কহেড ও ২টি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়। পরে অনুমতিবিহীন অবৈধভাবে নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলনের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় বাল্কহেডচালককে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় জব্দকৃত মালামাল নৌপুলিশের জিম্মায় রয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক জানান, আমাদের কাছে তথ্য ছিল একটি চক্র মেঘনা নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে। তারই সূত্রে ধরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার সময়ে হাতেনাতে এস্কেভেটর যন্ত্র ও বাল্কহেড জব্দ করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’
আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উচ্ছেদ হবে জানিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক আন্দোলনের যৌথ সমন্বয় প্রয়োজন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন অধিক কার্যকর’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কিশোররা স্কুলে যাবে, পড়ালেখা করবে, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা শিখবে, দক্ষ মানুষ হবে, তারা অস্ত্র চাপাতি নিয়ে ঘুরবে না। তিনি বলেন, আজকের কিশোর তরুণরাই আগামী দিনের কাণ্ডারী।
তিনি বলেন, সরকার যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সরকার ব্যর্থ হলে সেই দায় আমাদের। দায় চাপানোর রাজনীতি আমরা করি না। বিভিন্নভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কুচক্রী মহল সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপশক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিরোধী দল হিসেবে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
যুদ্ধে পরাজিত হয়ে রাজা-বাদশাহদের পালানোর ইতিহাস থাকলেও জনগণের তোপের মুখে রাজপ্রাসাদ ও বিশাল জমিদারি রেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল। বর্তমান টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগরের জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর বংশধরদের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল এমনই ঘটনা।
হেমচন্দ্র চৌধুরী ছিলেন প্রভাবশালী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসক, সাহিত্যিক ও বিদ্যানুরাগী। তবে তার শাসন ছিল কঠোর। কথিত আছে, মুসলমানদের গরু জবাই নিষিদ্ধ, তার বাড়ির সামনে প্রজাদের জুতা খুলে উল্টো করে হেঁটে যেতে বাধ্য করা ও ছাতা মাথায় দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন কঠোর নিয়ম এবং অধীনস্থ বিভিন্ন জমিদারের জোরপূর্বক খাজনা আদায়ে প্রজাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
হেমচন্দ্রের পিতামহ পদ্মলোচন রায় ১৮৪৮ সালে পুথুরিয়া পরগনার জমিদার ভৈরবচন্দ্রের কাছ থেকে দুই আনার তালুক কেনেন। পরে তার পিতা কালীচন্দ্র রায় ১৮৫৫ সালে নিলামে পরগনার আরও চার আনা তালুক কিনে নেন। পিতার মৃত্যুর পর হেমচন্দ্র রায় মুক্তাগাছার মহারাজা সূর্যকান্ত রায়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়েনশাহী পরগনার পাঁচ আনা আড়াই গন্ডা তালুক নিলামে কেনেন। এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৫ হাজার একর। পরে তিনি ‘রায়’ থেকে ‘চৌধুরী’ উপাধি লাভ করেন। তার জমিদারি আমবাড়িয়া থেকে উত্তর টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ একরে বিস্তৃত হয়।
১৮৮০ সালে মধুপুরের আমবাড়িয়া রাজবাড়ি পরিত্যাগ করে হেমচন্দ্র গোপালপুরের ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সুবর্ণখালি গ্রামে নতুন রাজবাড়ি নির্মাণ করেন। উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে যমুনার গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙনে সুবর্ণখালি বন্দর বিলীন হয়ে যায় এবং রাজবাড়িটিও নদীগর্ভে চলে যায়। বর্তমানে ওই এলাকার ঐতিহ্য সোনামুই গ্রাম নামে টিকে আছে।
সুবর্ণখালি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে শিমলাপাড়া মৌজায় ১৮৯০ সালে হেমচন্দ্র নির্মাণ করেন দ্বিতল রাজপ্রাসাদ ‘পরীর দালান’। প্রায় ৬০ একর জমির ওপর শতাধিক কক্ষের এ প্রাসাদটি দিল্লি ও কলকাতার কারিগরদের হাতে ইট-সুরকিতে নির্মিত। অগ্রভাগে ছিল দুটি পরীর ভাস্কর্য, আর চারপাশে লতাপাতার নকশা ও কারুকার্য। বিশাল প্রাঙ্গণে ছিল কূপ, চিড়িয়াখানা, পূজামণ্ডপ, হাতিশালা, ফুলের বাগান, পুকুর ও পাকা ঘাট। সামনে ছিল দ্বিতল নাটঘর। স্বজনদের জন্য আশপাশে দিঘী ও পাকা বাড়িঘরও নির্মাণ করা হয়। রাজবাড়ির দক্ষিণে গড়ে ওঠে বিশাল বাজার। হেমচন্দ্রের নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় হেমনগর। ১৯০০ সালে সৎ মায়ের নামে ২০ একর জমির ওপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন হেমনগর শশীমুখী উচ্চ ইংলিশ মিডিয়াম বিদ্যালয়। গোপালপুরের সুতী ভিএম পাইলট হাই স্কুল ও পিংনা হাইস্কুল প্রতিষ্ঠাতেও তিনি জমি ও অর্থ দান করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল স্কুল, ময়মনসিংহ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, পিংনা দাতব্য চিকিৎসালয়, গোপালপুর বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ সহায়তা দেন। আনন্দমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠার শিলালিপিতেও দাতা হিসেবে তার নাম রয়েছে।১৯২৫ সালে ভারতের কাশীতে হেমচন্দ্র চৌধুরীর মৃত্যু হয়।
এরপর তার বংশধরদের বিরুদ্ধে ১৯৪০ সালের পর কৃষক নেতা হাতেম আলী খাঁনের নেতৃত্বে শুরু হয় প্রজা বিদ্রোহ। কথিত আছে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনগণ জমিদারবাড়ির সামনে গরু জবাই করে। দেশভাগের আগে জমিদার পরিবারের সদস্যরা বিশাল প্রাসাদ ও ভূসম্পত্তি রেখে রাতের আঁধারে কলকাতায় চলে যান।
উত্থান-পতনের বহু ইতিহাসের সাক্ষী হেমনগরের পরীর দালান আজও দাঁড়িয়ে আছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণ করা হোক এবং এর পাশে একটি শিশু পার্ক গড়ে তোলা হোক।
জামায়াতের কাছে ক্ষমতা বড় হয়ে উঠেছে, আর বিএনপি জনমতের মর্যাদা দিয়ে নিজেদের সংসদ সদস্যের পদ শূন্য করেছে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘জামায়াতের কাছে ক্ষমতা বড়। তারা তাদের নৈতিক স্খলনজনিত দোষে দোষী সংসদ সদস্যের পদ শূন্য করেনি। অথচ বিএনপি পাবলিক পারসেপশনের মর্যাদা দিয়ে নিজেদের সংসদ সদস্যের পদ শূন্য করেছে। কারণ বিএনপি জানে, আইন সবার ঊর্ধ্বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি ও ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’ এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
খুলনা জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ শুভেচ্ছা সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে জেলা যুবদলের সভাপতি নাদিমুজ্জামান জনির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টুসহ অন্যান্য নেতারা।
এর আগে নগরীর রেলস্টেশন এলাকা থেকে কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় বাদ্যযন্ত্রের তালে নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। এ সময় চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলারও আয়োজন করা হয়।
ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ৪টি ড্রেজার ও ১টি বাল্কহেডসহ ৮ জন বালু উত্তোলনকারী আটক। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ভোলার সদর থানাধীন পশ্চিম ইলিশা মেঘনা নদীতে ২ অক্টোবর মধ্যরাত সাড়ে ১২টায় কোস্ট গার্ড বেইস ভোলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ৪টি ড্রেজার ও ১টি বাল্কহেডসহ ৮ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।’
পরবর্তীতে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট, ভোলা কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ড্রেজার ও বাল্কহেড মালিকদের ২ লাখ টাকা জরিমানা করে ৭ জন বালু উত্তোলনকারীকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। জরিমানাকৃত নগদ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান করা হয় এবং ড্রেজার ও বাল্কহেডের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বালুখেকোদের হাত থেকে নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি এবং বসতভিটে রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’
ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী পথেও এবার জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে আন্তনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ট্রেনটির আপ ও ডাউন দুই পথেই আক্কেলপুরে যাত্রাবিরতি কার্যকর হবে। এতে ঢাকা থেকে ফেরার পথে আক্কেলপুরের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় দপ্তরের বৃহস্পতিবারের (১ অক্টোবর) এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, মহাপরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ৮০৫ নম্বর চিলাহাটি এক্সপ্রেসের আক্কেলপুর স্টেশনে দুই মিনিট যাত্রাবিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫ অক্টোবর থেকে নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
রেলওয়ের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটি এক্সপ্রেস রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে আক্কেলপুরে পৌঁছাবে। এরপর চিলাহাটির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। জামালগঞ্জ থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত ট্রেনটির আগের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।
চিঠিতে আক্কেলপুর স্টেশনের বিপরীতে আসন বরাদ্দ এবং টিকিট বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে চিলাহাটি থেকে ঢাকাগামী পথে আক্কেলপুরে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু হয়। তবে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী পথে আক্কেলপুরে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে ফেরার পথে আক্কেলপুরের যাত্রীদের সান্তাহার অথবা জয়পুরহাটে নেমে বাড়ি ফিরতে হতো। এতে তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো।
আক্কেলপুর পৌর শহরের বাসিন্দা শামীম হোসেন বলেন, ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস শুধু ঢাকা যাওয়ার পথে আক্কেলপুরে থামত। ঢাকা থেকে ফেরার পথে থামত না। এ কারণে ফিরতি পথের যাত্রীদের সান্তাহার অথবা জয়পুরহাটে নেমে আক্কেলপুরে আসতে হতো। এখন ঢাকা থেকে ফেরার পথেও ট্রেনটি থামায় সেই দুর্ভোগ কমবে।’
আক্কেলপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ যাত্রাবিরতির চিঠি আজ পেয়েছি। এখন আপ-ডাউন দুটিই যাত্রাবিরতি করবে।’
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিঘলআটা গ্রামে ৮০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধ মো. আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় অনশনে বসেছেন ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একই গ্রামের মৃত সমসের আলীর ছেলে মো. আরশেদ আলী ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে ওই বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বাইরে নেন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পেছনের একটি নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ সময় বৃদ্ধার চিৎকার শুনে তার এক নাতি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযুক্ত আরশেদ আলীকে আটক করেন বলে জানান স্থানীয়রা।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবারের ১৫ থেকে ২০ জন লোক লাঠিসোটা নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে ও নাতিদের মারধর করে এবং অভিযুক্তকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।
পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজপতিরা ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে দফায় দফায় চেষ্টা করেও অভিযুক্তের পরিবারের অসহযোগিতার কারণে কোনো সমাধান হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সামর্থ্যও তাদের নেই। বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় অনশনে বসেছেন ওই বৃদ্ধা।
বৃদ্ধা জানান, বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি এই বাড়ি থেকে যাবেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আরশেদ আলীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে মো. আসলাম ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তার বাবা ওই বৃদ্ধার বাড়িতে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। পরে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ ব্যাচের রজতজয়ন্তী (পঁচিশ বছর পূর্তি) উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) কেইউ—০১ অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের আয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ উপলক্ষে বেলা ১১টায় প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এর আগে তিনি সমাবেত সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
এরপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, ‘আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দ এবং গর্বের দিন। এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাম্পাস হাজারো তরুণের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করে। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে জ্ঞান অর্জন করে দেশ ও দেশের বাইরে নিজেদের মেধার সাক্ষর রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালমনাইদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। এখানকার গ্র্যাজুয়েটরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধ করছেন যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ তিনি এ অনুষ্ঠানকে সুন্দর ও সফল করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান এবং উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান এবং ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, কেইউ—০১ অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের সভাপতি মো. মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত গুহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দ্য অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ও ০১ ব্যাচের সাবেক প্রফেসর ড. মো. আশিকুর রহমান এবং সাবরিনা আফতাব। এর আগে কেইউ—০১ অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে উপাচার্যের নিকট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য উপহার প্রদান করা হয়। এবং একটি কেক কাটা হয়। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে আরও রয়েছে ১ ব্যাচের যে সকল শিক্ষার্থী গত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বাদ জুম্মা মিলাদ মাহফিল এবং বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যায় সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা।
কৃষক কার্ডের আনন্দে যোগ হলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের তারাকান্দো গ্রামের সুমা বাড়ৈর মোবাইলে বিকাশ অ্যাকাউন্টে এলো আড়াই হাজার টাকা। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যে হঠাৎ পাওয়া এই অর্থে স্বস্তি ফিরেছে তার মুখে।
শুধু সুমা নন, একই সময়ে কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ২৫৫ কৃষকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পৌঁছেছে এই অর্থ।
‘কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রম শুরু হয়। ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন কোটালীপাড়ার কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুম থেকে কর্মকর্তারা, কৃষক প্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের নির্ধারিত কৃষকদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাঠানো হয়।
কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর কান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ২৫৫ জন কৃষক, কৃষক কার্ডের আর্থিক সুবিধা হিসেবে প্রত্যেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন।
কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকউজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আজম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া ও কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক প্রতিনিধি, সাংবাদিক নেতারা বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় তিন বছর ধরে পানিতে ডুবে থাকা যশোরের কেশবপুরের হাড়িয়াঘোপ বিলের প্রায় ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমি অবশেষে চাষাবাদের উপযোগী হচ্ছে। অবৈধভাবে পানি আটকে মাছ চাষের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযানে ভেড়িবাঁধ কেটে বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর জমিতে ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হাড়িয়াঘোপ বিলে অভিযান চালান উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস ও পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন। এ সময় অবৈধভাবে নির্মিত ভেড়িবাঁধ কেটে দেওয়া হয় এবং বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শিরাশুনি গ্রামের আবুবকর মলঙ্গীর ছেলে আতিয়ার মলঙ্গীসহ কয়েকজন গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে জোরপূর্বক পানি আটকে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ফলে জমির মালিকরা নিজেদের জমিতে বোরো ধান, আমন, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতে পারছিলেন না। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আবাদ ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে পতিত পড়ে ছিল বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি।
এ অবস্থায় সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা বিষয়টি জানিয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে হাড়িয়াঘোপ বিল এলাকায় যান। সেখানে অবৈধ বাঁধের কারণে পানি আটকে থাকার বিষয়টি পরিদর্শন করে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি কৃষকদের জমিতে জোরপূর্বক পানি আটকে রেখে মাছ চাষ করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করে অবৈধ বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন কৃষকরা তাদের জমিতে ফসল চাষ করতে পারবেন। কৃষকের স্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, মাছ চাষের নামে যাতে কৃষিজমির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। অবৈধভাবে পানি আটকে রাখার কারণে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে তা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর হাড়িয়াঘোপ বিলের জমিতে আবারও ফসল ফলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, পানি নেমে গেলে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন তারা। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও আবাদ বন্ধ থাকার সমস্যা কাটিয়ে কৃষিকাজে ফিরতে পারবেন স্থানীয় কয়েকশ কৃষক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক বাঁধ দিয়ে কৃষিজমিতে পানি আটকে রাখতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকবে।