বুধবার, ২০ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে এক দিনে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৭৫ জনে। এদিকে, উদ্বেগজনক হারে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলকসহ চিকিৎসায় পাঁচটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৯ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে— তিনজন করে।

এতে বলা হয়, দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫৬ হাজার ৫৮৬ জন। এছাড়া নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জন। মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯২৯ জনে। হামে আক্রান্ত সন্দেহে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৯৮৩ জন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়া পেয়েছে মোট ৪০ হাজার ৯০ রোগী।

এদিকে, হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলকসহ সরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসায় পাঁচটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কেবিন চালু করতে হবে। আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড দিতে হবে।

রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অভিভাবক বা দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় আলাদা ওয়ার্ড চালু ও আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ কমানো সহজ হবে।


সমাজের প্রতিটি স্তরের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশ ও সমাজের নানা স্তরের অসমতা দূর করতে অল পার্টি ককাস কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগণের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেছেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে তারা সমাজের পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এর শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান অভীষ্ট বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহায়তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যে অধিকার নিশ্চিতে ককাসের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন।


রাজধানীর পল্লবীতে শিশুর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সি শিশুর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পল্লবীর সেকশন-১১ নম্বর এলাকায় মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু রামিসা মিরপুরের পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সারে দশটার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজ করেও না পেয়ে ভবনে খোঁজাখুঁজি শুরু করতে থাকেন তার মা। ভবনের তৃতীয় তলায় রামিসাদের বাসার অপর পাশের ফ্ল্যাটের সামনে পাওয়া যায় রামিসার একটি স্যান্ডেল। এরপর পুরো ভবনে খোঁজাখুঁজি শেষে তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন রামিসার মা ও ভবনের অন্য বাসিন্দারা। কিছুতেই ভেতর থেকে দরজা খুলছিলেন না ফ্ল্যাটের কেউই। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর সোহেল রানার রুমের খাটের নিচে পাওয়া যায় শিশু রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ। পরে শিশুটির খণ্ডিত মাথা পাওয়া যায় ভবনের বাথরুমে একটি বালতিতে। ফ্ল্যাটটিতে তখন হত্যায় সন্দেহভাজন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না বেগম ছিলেন। রুমে প্রবেশ করে দেখা যায় পেশায় রিকশা মেকানিক সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পল্লবী থানার পুলিশ এবং মিরপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।


কেরানীগঞ্জে কারারক্ষী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ। এ সময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের নিয়োগ পরীক্ষায় বাদ পড়া কয়েকশ প্রার্থী কারাগারের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কারারক্ষী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তদবির বাণিজ্য হয়েছে। মেধার ভিত্তিতে নয়, প্রভাবশালীদের সুপারিশে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধ চলাকালে উত্তেজিত কয়েকজন আন্দোলনকারী সড়কে থাকা কিছু যানবাহনে ভাঙচুর চালান। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, নিয়োগ বাছাই প্রক্রিয়ায় বাদপড়া প্রার্থীদের মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, চার ধাপে বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এতে ৪৫০ জন পুরুষ ও ২২ জন নারী প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া হবে। শারীরিক পরীক্ষার মধ্যে থাকবে উচ্চতা ও অন্যান্য শারীরিক মাপজোক, দৌড়, পুরুষদের জন্য হাই-জাম্প ও পুশ-আপ, নারীদের জন্য লং জাম্প ও সিট-আপ এবং সবার জন্য রোপ ক্লাইম্বিং পরীক্ষা। এসব ধাপে উত্তীর্ণদের পরবর্তী ধাপে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হবে।


হাটের সীমানার বাইরে কোনো পশু রাখা যাবে না: ডিএমপি কমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যানজট মুক্ত রাস্তা নিশ্চিত করতে হাটের সীমানার বাইরে কোনো পশু রাখা যাবে না। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাটের বাইরে বা রাস্তায় পশুবাহী কোনো যানবাহন নিয়ে টানাটানি বা জোরজবরদস্তি করলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিপণন ও কাঁচা চামড়া বহনকারী যানবাহনের নিরাপত্তাসহ ঢাকা মহানগর এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিশেষ সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেছেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাল টাকা শনাক্তকরণের মেশিন ডিএমপির পক্ষ থেকে পশুর হাটে থাকবে। ঈদের এ সময়ে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

সমন্বয় সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের প্রতিনিধিরা, বাংলাদশ ব্যাংক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ডিপিডিসি, ডেসকো, ঢাকা জেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা, লবণ ব্যবসায়ী সমিতি, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পশুর হাটের ইজারাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমন্বয় সভার শুরুতে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এরপর সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেছেন।


বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদস্যদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাচ্চু মল্লিক, বাগেরহাট প্রতিনিধি 

বাগেরহাটে সদ্য যোগদানকৃত পুলিশ সুপারের সাথে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় এর কনফারেন্স রুমে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাগেরহাটের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসাইন লিটন, সহ-সাধারন সম্পাদক মোঃ ইয়ামিন আলী,সাবেক সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরফদার রবিউল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক এসএম সামছুর রহমান,অর্থ সম্পাদক এসএম আমিরুল হক বাবু, ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আকিন্জি, নির্বাহী সদস্য মোল্লা মাসুদুল হক, মোল্লা আঃ রব, সৈয়দ শওকত হোসেন ও সিনিয়র সদস্য শওকত আলী বাবু।

‎মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এসএম রাজ, সাবেক সভাপতি বাবুল সরদার, নির্বাহী সদস্য সোহেল রানা বাবু,নির্বাহী সদস্য এস এস সোহান, সিনিয়র সদস্য নকীব সিরাজুল ইসলাম,সিনিয়র সদস্য খন্দকার আকমল উদ্দীন সাখী, সিনিয়র সদস্য অলীপ ঘটক,আল আমিন খান সুমন নেয়ামুল হাদী রানা সহ বাগেরহাট জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন।

‎সভায় পুলিশ সুপার বাগেরহাটকে সন্ত্রাস, সাইবার সন্ত্রাস,মাদক,দখল, ইভটিজিং মুক্ত করতে জিরো টলারেন্স এর ঘোষনা দেন এবং সাংবাদিকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা কামনা করেন।

‎পরে তিনি বাগেরহাট প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন।


নাটোরে অস্ত্রসহ ২৪ মামলার আসামীসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুরে বিদেশী পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ ২৪ মামলার আসামী সোনামনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। সোমবার (১৮ মে) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার পালিদেহা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকার যুবদলের সদস্য মাহমুদ হাসান ওরফে সোনামনি (৪০), একই এলাকার কাজল (৪০) রাজশাহীর বাঘার সামাদ মোল্লা, নাটোরের লালপুর উপজেলার গৌরিপুরের মোঃ মনিরুজ্জামান (৩৯)।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যে ভিত্তিতে লালপুর উপজেলার পালিদেহা এলাকায় লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। এসময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার থেকে চারজনকে আটক করা হয়।

পরে তল্লাশী চালিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার ও প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাশকতার উদ্দেশ্যে তারা অস্ত্রসহ এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, গেঢতারকৃত সোনামনির বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন ২৪টি মামলা রয়েছে। যার মধে অন্যতম্য কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ট্রিপল মার্ডার মামলা এবং লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের উপর গুলির ঘটনায় মামলা।


নাটোরের বড়াইগ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রামে পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ণকলস গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ১১ বছর বয়সী আরাফাত রহমান একই গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও ১০ বছর বয়সী নূর মোহাম্মদ আলীএকই গ্রামের রাজুর ছেলে। তারা স্থানীয় পূর্ণকলস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে আরাফাত রহমান ও মোহাম্মদ আলী বাড়ীর পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও তারা বাড়ী ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজ শুরু করে। পুকুরের পাশে তাদের পরিহিত পোষাক দেখতে পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে পুকুরে তল্লাশী চালিয়ে তাদেরকে অচেতন অভস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করে।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনগত প্রক্রিয়াশেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ভাইকে মারধর, সংঘর্ষে সাবেক সেনাসদস্যসহ আহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বড় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছে ছোট ভাই। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ দুইজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের মিয়া বাড়ির সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, গজারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারেক বেপারীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তালহা (১৬)। আহতদের মধ্যে তালহাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সাইফুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নাসির উদ্দিনের ছেলে জেমস। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেমস মাদকাসক্ত এবং তার মাদক সেবনের একাধিক ছবিও রয়েছে। এই বিষয়ে জেমসের মা জামিলা মেম্বার ও বাবা নাসির উদ্দিনের কাছে একাধিকবার বিচার চেয়েও কোনো সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগীর পরিবার।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় মিয়া বাড়ির সামনের রাস্তায় জেমসের বাবা নাসির উদ্দিনের সামনে পড়ে ভুক্তভোগী তরুণীর ছোট ভাই তালহা। সেখানে সে পুনরায় জেমসের আচরণের প্রতিবাদ ও কৈফিয়ত চাইলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তালহাকে বেদম মারধর করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। এদিকে মারধরে তালহা মারা গেছে এলাকায় এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজন নাসির উদ্দিনের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তালহার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

আহত তালহা জানায়, "দীর্ঘদিন ধরে জেমস আমার বড় বোনকে বিরক্ত আসছিল। বিচার দিয়েও লাভ হয়নি। সোমবার জেমসের বাবার কাছে এর প্রতিকার চাইলে তিনি উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর শুরু করেন। আমার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে নাসির উদ্দিনকে গণপিটুনি দেয়।"

এদিকে প্রতিপক্ষের আহত নাসির উদ্দিনের দাবি ভিন্ন। হাসপাতাল শয্যায় তিনি অভিযোগ করেন, "এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় প্রভাবশালী সোহেল মিয়া, মনির ও মিলনের সঙ্গে আমার বিরোধ তৈরি হয়। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে বসে থাকার সময় তারা ২০-২২ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাকে বাঁচাতে এসে ছেলে জেমসও মারধরের শিকার হয়।"

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবেদ আহমেদ জানান, আহত দুজনের মধ্যে নাসির উদ্দিনের মাথা ও গালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাঁর মাথার দুই জায়গায় ও গালে সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাঁকে এই হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অপরদিকে তালহার হাতে এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে বারবার বমিও করছিল, তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী জানান, "খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


কালীগঞ্জে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ থানার মামলা নং-২১, তারিখ ১৯ মে ২০২৬ ইং অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার বাদী এসআই (নিঃ) মিজানুর রহমান।

গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন, মোঃ জসিম উদ্দিন (৩০)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার ধনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ আব্দুল রশিদ ও মাতার নাম জোসনা বেগম।

পুলিশ জানায়, কালীগঞ্জ থানাধীন মোক্তারপুর ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামে ২নং সাক্ষী মোঃ তাজুল ইসলাম (২৭) এর ডিজেল ও পেট্রোল তেল বিক্রির দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে মোট ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন ১ দশমিক ৪ গ্রাম এবং যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ হাজার ২০০ টাকা।

এ ঘটনায় এসআই (নিঃ) এমদাদুল হককে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।


আমতলীতে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে । মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পশ্চিম চিলা গ্রামের মুকুন্দ বাইনের ধানক্ষেতে প্রায় ৫৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে স্থানীয়রা আমতলী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয়দের দাবি, মৃত নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি। তিনি কীভাবে ওই এলাকায় এলেন কিংবা কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মৃত নারীর শরীরে প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলেন, ওই নারীকে এলাকার কেউ শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি কোথা থেকে এসেছেন, সেটিও জানা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ, সহকারী রেজিস্ট্রার বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের এক্সিকিউটিভ এমবিএ (ইএমবিএ) প্রোগ্রামের ফান্ড থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফায়েকুজ্জামানের ভাগ্নে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এসএম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাময়িক অব্যাহতির আদেশে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।

জানা গেছে, ইউসূফ রায়হান ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ইএমবিএ প্রোগ্রামের আর্থিক কার্যক্রম দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিসিপ্লিন প্রধান ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরের স্বাক্ষর জাল করে তিনি ব্যাংক থেকে ইএমবিএ প্রোগ্রামের টাকা উত্তোলন করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া সেমিস্টার ও পরীক্ষার ফির অর্থও ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত সোমবার (১১ মে), যখন ইএমবিএ শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান, তাদের জমা দেওয়া ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে প্রদর্শিত হচ্ছে না। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া অর্থ ব্যাংকে জমা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ইউসূফ রায়হান ২০১৭ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। তার নিয়োগের সময়ও স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।


ফুলবাড়িয়া খাদ্য গুদামে বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে ফুলবাড়িয়া মাছ বাজার সংলগ্ন খাদ্য গুদামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ধান-চাল সংগ্রহ মনিটরিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম সোহাগ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামরুল হাসান মিলন এমপি বলেছেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। কোন কৃষক যেনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারেও অনুরোধ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ শাহনাজ পারভীন,খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ছাইদুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ ,উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো: আবু রায়হান,আলম এশিয়া প্রাঃ লিঃ এর চেয়ারম্যান এস এম শাহজাহান,ব্যবসায়ি আবুল কালাম সরকার, বুলবুল প্রমুখ।

ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, এবার বোরো মৌসুমে ফুলবাড়িয়া খাদ্যগুদামে

৩ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল এবং ২ হাজার ৯০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা এবং প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হবে। এই সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী একযোগে চলবে।


banner close