শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৩ মাঘ ১৪৩২

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


একমাত্র বিএনপিই দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা বলে :নূরুল ইসলাম মনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনা-২(বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা একমাত্র বিএনপিই বলে। অতীতে আমি বামনার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকব। দল সরকারে এলে মানুষ যাতে ভালো থাকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বামনার শের-ই-বাংলা সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

জনসভায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ সভাস্থল নবীন-প্রবীণের আনন্দ -উল্লাসে ‘মনি ভাই- ধানের শীষ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে।



নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্র্যাক রেকর্ড আমরা অতীতে দেখেছি। তাদের কাছে কোনো পরিকল্পনা ছিলোনা এবং নেই। কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে রাষ্ট্র চলে না, জনগণের পেটের খাবার, কর্মসংস্থান, জনগণের অর্থের সংস্থান হয় না। এসব কিছুর জন্য পরিকল্পনা লাগে। জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে, কীভাবে আমরা দেশকে পরিচালনা করব, তাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করব। এসব পরিকল্পনার কথা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার বলেছেন। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে গৃহিণীদের মাসিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন, যাতে সংসার পরিচালনায় তারা স্বস্তি পান এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করার কথা বলেছেন। যে কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং বছরে অন্তত একটি ফসলের জন্য বিনামূল্যে উপকরণ দেওয়া হবে।

মনি বলেন, তরুণ বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রবাসগামীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন। কাজেই দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা একমাত্র বিএনপিই বলে।
তিনি জনসভায় উপস্থিত হাজারো জনতার কাছে প্রশ্ন রাখেন-এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা কি আপনারা অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন? এসময় জনতার কণ্ঠে ‘না’ ‘না’ আওয়াজে প্রকম্পিত হয় বিদ্যালয় মাঠ।
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, জামায়াতের কাছে উন্নয়নের কোনো প্রোগ্রাম নাই। সে জন্য তারা নিয়ে আসছে বেহেস্তে যাওয়ার প্রোগ্রাম। তিনি বলেন, তারা মা-বোনদের বোঝাচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেস্ত পেয়ে যাবে। আসলে তারা ইসলামের কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা উন্নয়নের কথা বলছে না। আমি এলাকার বিদ্যালয় বলেন, মাদ্রাসা বলেন, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ-সব উন্নয়নেই ছিলাম, আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ।


এলাকাবাসীকে নির্বিঘ্ন ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কোনো গুজবে কান দেবেন না। সকাল সকাল ভোট দিয়ে হিসাব বুঝে নেবেন। তার আগে ভোট কেন্দ্র থেকে বের হবেন না। প্রত্যেকে ভোট পাহারা দেবেন।
পরিশেষে বরাবরের মতোই পরম করুনাময় আল্লাহর দরবারে সবার শান্তি এবং কল্যাণ কামনার জন্য দোয়ার মধ্য দিয়ে জনসভা শেষ করেন তিনি।


জামায়াতকে যারা ইসলামী দল বলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে: চরমোনাই পীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছি এবং এতে শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। জামায়াতসহ অন্যান্য দলও ইশতেহার প্রকাশ করেছে। জামায়াত কিন্তু কোথাও ইসলামের কথা বলেনি। এরপরও যারা জামায়াতকে ইসলামী দল বলে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি ঈদগাহ মাঠে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের সময়েই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং বিদেশে গড়ে উঠেছে কুখ্যাত ‘বেগম পাড়া’।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতার মোহে একটি দল ঐক্য থেকে সরে গেছে।
চরমোনাই পীর জামায়াতকে সমালোচনা করে বলেন, জামায়াতের মতো এত বড় জানোয়ার, এত বড় শুয়োর এবং এত বড় মিথ্যাবাদী দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি নেই। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলাম বিষয়ক কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। তাই প্রকৃত অর্থে তারা ইসলামী দল নয়।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী এবং ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী।
ইসলামী আন্দোলন ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য দেন। নির্বাচনী জনসভায় দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।


আমির হামজার ফেসবুক পেজ বন্ধ করল মেটা কর্তৃপক্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়া সদর আসনে আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজটি ‘কপিরাইট স্ট্রাইক’ ও সাইবার হামলার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া শহর শাখার আমির এনামুল হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, মুফতি আমির হামজার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটি গত কয়েকদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির পরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল যার ধারাবাহিকতায় ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে পেজটি অপসারণ করেছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, এটি কোনো নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ ও ভুয়া রিপোর্টিংয়ের ফল।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনামুল হক বলেন, “আমাদের সকল অনুসারী, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মুফতি আমির হামজার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ গত কয়েকদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির পরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল।” ওই বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চিহ্নিত মহল এই ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- ফেসবুক থেকে একটি পেইজ সরিয়ে দিলেও মানুষের হৃদয় থেকে আমির হামজাকে সরানো যাবে না।”

দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে, পেজটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সংকটে সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে যেন তারা কোনো ভুয়া আইডি, গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় পা না দিয়ে ধৈর্য ও সচেতনতা বজায় রাখেন। এনামুল হক জানান যে, বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর পেজটি উধাও হয়ে যায় এবং এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মুফতি আমির হামজার অনুসারীরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে লক্ষ্যে আইনি ও কারিগরি সকল পদক্ষেপ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি

আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৭
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কুশাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্র থেকে দুটি সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মদ মমতাজ বেগম জানান, গত ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা বাড়িতে চলে যান। এরপর টানা তিন দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে ফিরে শিক্ষকরা দেখতে পান যে, নিচতলায় স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুটি ক্যামেরা যথাস্থানে নেই। দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে ক্যামেরা দুটি খুলে নিয়ে গেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং বুধবার সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান হাসিব এই চুরির ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা নির্বাচনে কারচুপি করতে চায় কিংবা ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে, এটি তাদেরই অপকর্ম হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। যারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, কেবল তারাই এমন অসৎ উদ্দেশ্যে ক্যামেরা সরিয়ে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইতিমধ্যে সদর থানায় এ সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মূলত নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরণের ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় এক ধরণের রহস্য ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।


পল্লবীতে বিহারি ক্যাম্পে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে একটি বাসা থেকে দুই শিশু ও এক দম্পতিসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ৩ নম্বর ওয়াপদা ভবন বিহারি ক্যাম্পের একটি কক্ষ থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করার পাশাপাশি ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।

নিহতরা হলেন মাসুম (৩০), তাঁর স্ত্রী সুমী (২৫) এবং তাঁদের দুই সন্তান ৪ বছর বয়সী মিনহাজ ও ২ বছরের আসহাব। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পল্লবী থানা পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো হেফাজতে নেয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

পল্লবী থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) শাহীন আলম জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল নাকি অন্য কোনোভাবে কেউ প্রবেশ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ অনুযায়ী, এটি একটি করুণ আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে শিশুদের শ্বাসরোধ করে বা অন্য কোনোভাবে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী নিজেরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এটি কেবল প্রাথমিক অনুমান এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এই পরিবারটির মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয়ে মনোমালিন্য চলছিল। দীর্ঘদিনের কলহের জের ধরেই এই ভয়াবহ পরিণতির দিকে তাঁরা ধাবিত হতে পারেন বলে অনেকের ধারণা। মিরপুর এলাকার বিহারি ক্যাম্পে বসবাসকারী এই পরিবারটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পুলিশ বর্তমানে নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা তৃতীয় কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি অপমৃত্যু বা নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


জামায়াত নেতার নির্দেশে ‘ভোটের সিল’ বানান, আদালতে স্বীকারোক্তি প্রেসমালিকের

আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া প্রেস মালিক ও ব্যবসায়ী সোহেল রানা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে ছয়টি জাল সিল তৈরির ঘটনায় আটক প্রিন্টিং প্রেসের মালিক সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতের বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া এই জবানবন্দিতে তিনি সিলগুলো তৈরির মূল নির্দেশদাতা হিসেবে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার নাম প্রকাশ করেন। সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং শহরের পুরোনো আদালত রোডে অবস্থিত ‘মারইয়াম প্রেস’-এর স্বত্বাধিকারী। পুলিশের অভিযানে তাঁর প্রেস থেকে উদ্ধার হওয়া সিলগুলো মূলত ভোটগ্রহণের সময় ব্যালটে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের পুরোনো আদালত রোডের ওই প্রেসে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ভোটে ব্যবহারের উপযোগী ছয়টি জাল সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মুঠোফোনসহ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফের নির্দেশে তিনি এসব সিল তৈরি করেছেন। গত ৩০ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শরীফ এই সিলগুলো তৈরির কার্যাদেশ দেন এবং সেই অনুযায়ী সোহেল রানা সেগুলো প্রস্তুত করেন। বর্তমানে শরীফ আত্মগোপনে থাকলেও এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।

লক্ষ্মীপুরে উদ্ধার করা ভোটের সিল
লক্ষ্মীপুরে উদ্ধার করা ভোটের সিল

জাল সিল উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রার্থীর পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর এটি স্পষ্ট যে এর পেছনে বড় ধরনের নির্বাচনী কারচুপির ষড়যন্ত্র বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ছক ছিল। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত নেতা ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের ‘ভোট দেওয়া’ শেখানোর জন্য বা মহড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সিলগুলো বানিয়েছিলেন, যা ছিল একটি দায়িত্বহীন কাজ। জামায়াত শুরুতে এই ঘটনার সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সিল তৈরির পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা ও পলাতক জামায়াত নেতা শরীফের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে দুটি দিককে সামনে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে—প্রথমত, এই সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণের আড়ালে কারচুপির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না এবং দ্বিতীয়ত, এই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে আরও প্রভাবশালী কেউ জড়িত আছে কি না। জব্দ করা আলামতগুলো ফরেনসিক পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই ধরণের জাল জালিয়াতির ঘটনা ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।


কালীগঞ্জে যুবক হত্যা মামলায় নারী গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে যুবক ইমন শেখ ওরফে ইলিয়াস শেখ (২৪) হত্যা মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণবাগ এলাকার উত্তরপাড়া কুড়িলটেক ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার পশ্চিম পাশে জনৈক শামিম মিয়ার ধানক্ষেতে হাঁটু পানির মধ্যে থেকে নিহত ইমন শেখ ওরফে ইলিয়াস শেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমন শেখ কালীগঞ্জ উপজেলার ছৈলাদী গ্রামের শরীফ শেখ ও লাইলী বেগমের ছেলে।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় এফআইআর নং-০৩, তারিখ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি হানিফা কাজী (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকার বাসিন্দা।

পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানাধীন দোলন বাজারে তার দোকান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে গাজীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় মদ ও নিষিদ্ধ ট্যাবলেট উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাদক কারবারিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে সিমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ ও নিষিদ্ধ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতপুর আল্লার দরগাহ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে শফি (৩৫) নামের এক মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ১৪ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে শফিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত গাঁজা ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

অপরদিকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে চিলমারী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী মরারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।

গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চরচিলমারী বিওপির টহল দল ডিগ্রীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০০ পিস ভারতীয় সিলডিনাফিল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এসব ট্যাবলেটের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি জানান, মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ব্যাটালিয়ন সিজার স্টোরে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান জোরদার রয়েছে বলে তিনি জানান।


রায়পুরায় ২ গ্রুপের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, গুলিবিদ্ধ ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ গ্রুপের সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম মোস্তাকিম (১৪)। সে সায়দাবাদ গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৪) নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়ার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দুপক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে কিশোর মোস্তাকিম গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তিনি আরও জানান, আহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


তারেক খাঁনের উদ্যোগে মানবিক ঘর পেলেন সেই নাসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মানবসেবা শুধু কর্তব্য নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিকতার গভীরতম প্রকাশ। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক দীর্ঘ ১২ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে বাঁশঝাড়ের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করা চর-চতিলা ফারাজিপাড়ার নাসির উদ্দিনের জন্য নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি “মানবিক ঘর”, যা এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দোচালা টিনের ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নাসির উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, সমাজের সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে অসহায়দের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।

এর আগে “তীব্র শীতেও খোলা আকাশের নিচে ঘুমায় নাসির” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান টিন ও আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি প্রবাসী মো. শফিকুল ইসলাম চৌকি, মশারি, তোশক ও বালিশ উপহার দেন।

তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক বলেন, আমার কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি নাসির ভাইকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি আল্লাহর সন্তুষ্টিরঅর্জনের জন্য। মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বিভিন্নস্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করে দিয়েছি।

স্থানীয়দের মতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং অন্যদেরও এমন কাজে উৎসাহিত করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

কিছুটা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত দিনমজুর নাসির উদ্দিন নতুন ঘর পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।


নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামে এক রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে মরদেহটি পিকআপ থেকে ফেলে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন চালক ও তার সহযোগী (হেলপার)। নিহত জুনায়েদ বরিশাল জেলার পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা রাজস্ব বোর্ডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ।

জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেন যোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দ্যেশ্যে আসছিলেন জুনায়েদ। তবে ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভোর সাড়ে ৫টায় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ২৫০ শয্যা নওগাঁ হাসপাতালের সামনে এসে ফেলে রেখে পালয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে অজ্ঞাত অবস্থ্যায় উদ্ধার করে জরুরী বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুনায়েদকে মৃত ঘোষণা করেন।

নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ বলেন, সান্তাহার থেকে নওগাঁ আসার পথে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তারাও হাসপাতালে এসেছিলো। থানা পুলিশ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রেহনুমা মুনমুন বলেন, মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।


ফেনীর এস.এ কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ, আটক ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর মহিপাল কুরিয়ার সার্ভিস এস এ পরিবহনে বিজিবি-সেনাবাহিনী-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান ভারতীয় চোরাচালানী মালামালসহ ২ জনকে আটক করেছে। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য এক কোটি দুই লক্ষ পনের হাজার আটশত টাকা। এ সময় এস.এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রী পিস, তেল, বডি স্প্রে, সাবান, টুথপেস্ট, ফেশওয়াশ, আতশবাজি জব্দ করে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার আতিকুর রহমানকে বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের এস.এ পরিবহনে বিজিবি অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের সময় ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মোশারফ হোসেন, ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চয়ন বড়ুয়া, বিজিবি সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করে ফেনী জায়লকরস্থ বিজিবি হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যায়।

ওখানে জব্দকৃত মালামাল সিজার লিস্ট করা হয় ।মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ফেনী সদর মডেল থানার সোপর্দ করা হয়েছে।

ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মোশারফ হোসেন বলেন, বিজিবি বর্তমানে নির্বাচন ডিউটিতে মোতায়েন থেকেও একই সাথে সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) কর্তৃক আভিযানিক কর্মকান্ড ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


‘ভোটের সিল’ উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াত নেতাসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মঙ্গলবার সিলসহ গ্রেফতারকৃত ব্যবসায়ী। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ৬টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাসহ দুজনের নামে মামলা করা হয়েছে এবং সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে (৪০) গতকাল বিকেলে অবৈধ সিল, একটি কম্পিউটার ও মুঠোফোনসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি হলেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪), যার বিরুদ্ধে ওই সিলগুলো তৈরির অর্ডার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, সৌরভ হোসেন ছয়টি ভোটের সিল তৈরির জন্য ব্যবসায়ী সোহেল রানার দোকানে অর্ডার দেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা সৌরভের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থীর একাধিক ছবির সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছেন। তবে বর্তমানে সৌরভ হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং পুলিশ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। যদিও লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ দাবি করেছেন যে, ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “সিলসহ সোহেল রানা নামে যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি জামায়াতের কর্মী বলে জানতে পেরেছি। হয়তো তাঁর পদ-পদবিও রয়েছে। একটি কম্পিউটারসহ ছয়টা সিল জব্দ করা হয়েছে। সিলগুলো যিনি বা যাঁরা বানিয়েছেন, নিশ্চয়ই এর পেছনে অনেক কলকবজা রয়েছে, একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হিসাব-নিকাশ রয়েছে।” তিনি এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা ইন্ধনদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সিলের পাশাপাশি ব্যালট ছাপানোর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপির এই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী এবং সেখানে দলের প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, “ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতকে জড়িয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতীতের মতোই আরেকটি দলের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল জামায়াতের কেউ নন। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত রয়েছে, প্রশাসন তদন্ত করে বের করবে। এ রকম একটি ঘৃণিত ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সৌরভ হোসেনের অর্ডার অনুযায়ী তিনি এসব সিল তৈরি করছিলেন। উদ্ধার হওয়া সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণ বা মহড়া দেওয়ার জন্য নাকি নির্বাচনের দিন ভোট কারচুপির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, পুলিশ তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। সিল তৈরির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


banner close