শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে নভেম্বর থেকেই ছয় রুটে নতুন বাসব্যবস্থা

* বাসস্টপেজ নির্ধারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত ও পুরোনো বাস অপসারণের পরিকল্পনা * ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে চলবে বাস * ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন * অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা * বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমিয়ে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব
রাজধানীর গণপরিবহন । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট কমানো এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলাচল। একই সড়কে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমিয়ে নির্ধারিত রুট ও স্টপেজের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে গণপরিবহন পরিচালনা এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

এ পরিকল্পনার আওতায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন, রাজধানীর ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশা চলাচলে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাসস্টপেজ নির্ধারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগ জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে পর্যাপ্ত বাস, নিয়মিত সময়সূচি, কার্যকর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

ছয় রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল: ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলমের তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনটি সার্কুলার রুটে বাস চালুর প্রস্তুতি চলছে, যা শুরু হতে আরও প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে।

প্রাথমিক ছয়টি রুট হলো গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী-ডেমরা, দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট, ঘাটারচর-ডেমরা, ঘাটারচর-কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২-মাওয়া।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলবে। গাবতলী-ডেমরা রুটে শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান-১ ও রামপুরা যুক্ত থাকবে। দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট রুটে শ্যামলী, সায়েন্সল্যাব ও আজিমপুর হয়ে বাস চলাচল করবে।

অন্যদিকে, ঘাটারচর-ডেমরা রুটে মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা এবং ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে শাহবাগ, পল্টন, যাত্রাবাড়ী ও সাইনবোর্ড হয়ে বাস চলার পরিকল্পনা রয়েছে। মিরপুর-১২ থেকে মাওয়া রুটে ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও কেরানীগঞ্জ হয়ে বাস চলবে। পরবর্তী পর্যায়ে ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুর-পলাশী এবং কদম চত্বর-পঞ্চবটি সার্কুলার রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাসের প্রতিযোগিতা কমানোই লক্ষ্য: বর্তমানে একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাস যাত্রী ওঠানোর জন্য প্রতিযোগিতা করে। আগে যাওয়ার চেষ্টা, হঠাৎ লেন পরিবর্তন এবং নির্ধারিত স্থানের বাইরে বাস থামানোর কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। নতুন ব্যবস্থায় রুটভিত্তিক পরিচালনা, নির্ধারিত স্টপেজ এবং সমন্বিত সময়সূচি চালু করা গেলে এসব সমস্যা কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজের মতে, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুটভিত্তিক পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি রুটে কোম্পানি নির্ধারণ করলেই হবে না; বাসের সংখ্যা, চলাচলের বিরতি, স্টপেজে থামা এবং নিয়মিত তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রী চাহিদার তুলনায় বাস কম হলে অপেক্ষার সময় ও ভিড় বাড়তে পারে।

পুরোনো বাস ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন: রাজধানীর ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি সড়ক নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পুরোনো বাস অপসারণের পাশাপাশি বিকল্প যানবাহন যুক্ত করা এবং যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ফিটনেস, যান্ত্রিক অবস্থা ও পরিবেশগত মান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ কমাতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আন্তঃজেলা বাসের সঙ্গে নগর পরিবহনের সংযোগ, পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা, মেট্রোরেল স্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

স্টপেজ, ফুটপাত ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে জোর: নতুন বাসব্যবস্থা কার্যকর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও দুই সিটি করপোরেশনকে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন এবং ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলমের মতে, নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানো এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও ডিটিসিএ, পুলিশ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন ও নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাসের রুট নির্ধারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত যানবাহন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ফুটপাত এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি কার্যকর হতে পারে। সমন্বিত বাস্তবায়নই রাজধানীর যাতায়াতব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব করার প্রধান শর্ত।


পুকুরের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক

* ত্রিশালে ২৫ পুকুরের পলিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক * ছয় প্রজাতির ১৫০ মাছ পরীক্ষা করে ৯০ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত * সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে সরপুঁটি মাছে
গ্রাফিক্স ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক ও ময়মনসিংহ ব্যুরো  

এবার বাংলাদেশের মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, মাছ চাষের পুকুরে এসব কণা কীভাবে জমা হচ্ছে এবং মাছের মাধ্যমে জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, তা বোঝার ক্ষেত্রে গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছ নিয়ে এ ধরনের সমন্বিত গবেষণা এটিই প্রথম।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় গবেষণাটি চালানো হয়। সব কটি পুকুরের পলির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। মাছের নমুনাতেও মিলেছে এসব ক্ষুদ্র কণা। এ ফলাফল মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ চাষের পরও পুকুরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে প্রবেশ করছে, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

গবেষণাটির শিরোনাম ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার: এভিডেন্স অব সেডিমেন্ট–ফিশ ট্রান্সফার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড ইকোলজিক্যাল রিস্ক ইন বাংলাদেশ’। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম। এটি দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ত্রিশালের ২৫টি পুকুরে গবেষণা: গবেষণার মাঠপর্যায়ের কাজ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। এলাকাটি মিঠাপানির মাছ চাষের অন্যতম অঞ্চল। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনের জন্য নিবিড় ও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। গবেষকেরা শীতকালে নির্বাচিত ২৫টি মাছ চাষের খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম। এটি দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল মাছ চাষের পুকুরের তলদেশের পলি ও মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা। পাশাপাশি মাছের দেহের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্পর্ক, প্লাস্টিকের রাসায়নিক গঠন এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন।

গবেষণায় পুকুরের তলদেশের পলিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ১১ দশমিক ০৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পলিতে দূষণের মাত্রা মূল্যায়নে ব্যবহৃত পলিউশন লোড ইনডেক্স বা দূষণভার সূচকের মান ছিল ১ থেকে ৪ দশমিক ৫। এ সূচকের ভিত্তিতে অধিকাংশ নমুনা সংগ্রহস্থলকে মাঝারি থেকে উচ্চ দূষণযুক্ত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন গবেষকেরা।

গবেষকেরা ছয় প্রজাতির মোট ১৫০টি চাষের মাছ পরীক্ষা করেছেন। এসব মাছের নমুনায় মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। প্রতিটি মাছে গড় কণার সংখ্যা ছিল শূন্য দশমিক ৬০।

প্রজাতিভেদে কণা গ্রহণের পার্থক্য ছিল উল্লেখযোগ্য। সরপুঁটি মাছের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। রুই ও মৃগেলের ক্ষেত্রে এ গড় ছিল শূন্য দশমিক ৬৮। অন্যদিকে কাতলা, কমন কার্প ও পাঙাশ মাছের নমুনায় তুলনামূলক কম কণা পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মাছের বসবাসের স্তর বিবেচনায় তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মোট শনাক্ত কণার ৫২ শতাংশ পাওয়া গেছে। তলদেশ ও পানির মধ্যবর্তী স্তরে চলাচলকারী মাছের ক্ষেত্রে এ হার ৩৫ শতাংশ এবং পানির উপরিভাগের কাছাকাছি বসবাসকারী মাছের ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ।

গবেষক অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান বলেন, ‘মাছকে প্রচুর ফিড খাওয়ানো হয়। সব ফিড যে খারাপ, তা বলছি না। তবে কিছু ফিডে এসব থাকে। অনেক সময় বন্যার পানিতে অন্য স্থানের মাইক্রোপ্লাস্টিক পুকুরে চলে আসে। মাছের পরিপাকতন্ত্রে আমরা মূলত এর উপস্থিতি দেখেছি।

প্রজাতিভেদে কণা গ্রহণের পার্থক্য ছিল উল্লেখযোগ্য। সরপুঁটি মাছের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। রুই ও মৃগেলের ক্ষেত্রে এ গড় ছিল শূন্য দশমিক ৬৮।

গবেষণায় পলিথিন (পিই) ও পলিপ্রপিলিন (পিপি) প্রধান মাইক্রোপ্লাস্টিক পলিমার হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। পলিথিন সাধারণত প্লাস্টিকের ব্যাগ, মোড়ক ও প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত হয়। পলিপ্রপিলিন ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন পাত্র, প্যাকেজিং, দড়ি ও অন্য প্লাস্টিক পণ্যে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সহযোগী বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্যবিদ মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। এটা কোথায় ফেলা হবে, এর কোনো সঠিক জায়গা নেই। প্রক্রিয়াজাত প্রায় হচ্ছেই না। মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আমরা দেখেছি। মাছ থেকে তাই এটি মানুষের শরীরে পৌঁছাবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মাছের পুকুরের পাড়ে পোলট্রির জন্য মাছ চাষে দূষণের ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। ইতোমধ্যে একটি পুকুরের পাশ থেকে মুরগির খামার তুলে দেওয়া হয়েছে। মাছে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাছ ভাজা বা রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক নষ্ট হয়ে যায় কি না, এমন প্রশ্নও আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিমুল হালদার বলেন, পলিথিন অসংখ্য অণুর সমন্বয়ে গঠিত। তাই রান্নার তাপেও এটি সহজে নষ্ট হয় না। মাছের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তার মতে, এসব কণা যকৃত ও কিডনির কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

মাছ চাষের পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়া উদ্বেগের বিষয়, এ কথা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, তবে দূষণের মাত্রা, মাছের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


দেশের সব সার-কারখানা দ্রুত চালু করতে চায় সরকার: বিসিআইসি চেয়ারম্যান

আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শনে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সবকটি সার কারখানার উৎপাদন চালুর মাধ্যমে ইউরিয়া সার আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

গ্যাস সংকটে গত বছরের ১ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে আশুগঞ্জ সার কারখানা। তবে চলতি বছরই গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সার কারখানার উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে আশা বিসিআইসি চেয়ারম্যানের।

তিনি বলেন, বিসিআইসির কারখানাগুলোকে আমরা সচল করতে চাই। আমাদের ২৬-২৭ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়। আমাদের কারখানাগুলো যদি সচল থাকে, আমরা যদি কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পাই, তাহলে আমরা দেশের চাহিদার পরিমাণ উৎপাদন করেও রপ্তানি করার সক্ষমতা রাখি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে গ্যাসের সংকট। তবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে আমাদের কারখানাগুলো চালু করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। কারখানাগুলো চালু করতে পারলে আমাদের আর সার আমদানি করতে হবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. আলী আশরাফ ও উপ মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ কারখানার অন্যান্য কর্মকর্তারা।


সিঁদুর খেলতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তন্নি

নববধূর তন্নির মর্মান্তিক মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

বিয়ের মাত্র চার মাস, নতুন সংসারের স্বপ্ন ও বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ এক নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে তন্নি দে (২০) নামের এক নববধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তার এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের একমাত্র মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম দুর্গোৎসব।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি। সেখানে অন্যান্য নারীদের সঙ্গে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার আনন্দঘন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তিনি হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই আকস্মিক ঘটনায় বিসর্জনস্থলের পুরো উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। যে উৎসবে সিঁদুরের রঙে রঙিন হওয়ার কথা ছিল বিজয়ার শেষ বিকেল, সেখানে নেমে আসে মাতম ও কান্নার আবহ। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা মহাদেব দেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার ও স্থানীয় সূত্রে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


রুমায় বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রুমা প্রতিনিধি

বান্দরবানের রুমায় বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীর রুমা জোনের উপঅধিনায়ক মেজর মো. নেয়ামুল নাসির সিদ্দিকী।

গত ৪ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে যুবকরা মোবাইল ফোন মেরামতের বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সনদ এবং উপহার সামগ্রী তুলে দেন। প্রশিক্ষনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ২ জন শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান অতিথি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন আবুল বাশার মো. শাকিল শিপু, ৩৬ বীর, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা, মো. ইদ্রিস মিয়া, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও প্রিন মিডিয়া সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, ‘এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ পাহাড়ি অঞ্চলের যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এদিকে পরবর্তীতেও স্থানীয় বেকার যুবকদের আয় বর্ধনমূলক এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য রুমা জোনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতারা।


বোদার ইটভাটায় পুড়ছে জ্বালানি কাঠ, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশ আইন ও সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া চন্দনবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘এ অ্যান্ড এ অটো ব্রিকস’ ইটভাটায় দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ ও কাঠের গুঁড়া। কয়লার সংকটের অজুহাতে প্রতি রাতেই ট্রাকে করে আনা কাঠের খড়ি এবং বিপুল পরিমাণ কাঠের গুঁড়া কয়লার সাথে মিশিয়ে চুল্লিতে দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সব সময় নয়, মাঝে মাঝে কিছু কাঠের খড়ি ব্যবহার করা হয়।’

দেখা যায়, ভাটার এক কোণে শত শত বস্তা কাঠের গুঁড়া এবং স্তূপ করে রাখা হয়েছে বনের গাছের খড়ি। দিনের বেলা কিছুটা আড়ালে রাখা হলেও গভীর রাত হলেই এসব কাঠ ও গুঁড়া কয়লার বিকল্প হিসেবে চুল্লিতে ঢোকানো হয়। এতে আশপাশের ফসলি জমি, ফলদ গাছপালা এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া পুরো এলাকার পরিবেশ দূষিত করছে।

চিকিৎসক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইটভাটায় কাঠ ও গুঁড়া ব্যবহারের ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম ছাই সরাসরি মানুষের ফুসফুসে ঢুকে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টের মতো ক্রনিক রোগ তৈরি করছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। ধোঁয়ার কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কাঠ পুরোপুরি না পুড়লে বাতাসে ‘বেনজো-এ-পাইরিন’ নামক ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান ছড়ায়, যা ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য দায়ী। এই দূষিত বাতাস গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে, ফলে জন্ম নিচ্ছে কম ওজনের ও শারীরিক জটিলতাযুক্ত শিশু। বাতাসে ভাসমান ছাইয়ের কারণে চোখ জ্বালাপোড়া, চোখের স্থায়ী ক্ষতি এবং নানাবিধ চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জানান, ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষত এর ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি বয়স্ক ও শিশুদের জীবন হুমকিতে ফেলে দেয়। বন ধ্বংস করে ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ানো আইনিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যেখানে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে এইসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক (ডিসি) শুকরিয়া পারভীন জানান, পরিবেশ ধ্বংস করে এ রূপ যেকোনো কিছুর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। এই ইটভাটার বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, সাকোয়া এ অ্যান্ড এ অটোব্রিকস ইটের কারখানায় কাঠের গুঁড়া ও কাঠের খড়ি বেআইনিভাবে পোড়ানোর বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

একই বিষয়ে পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল গফুর জানান, কাঠ পোড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইটভাটায় কোনোভাবেই কাঠের গুঁড়া কিংবা খড়ি পোড়াতে পারবে না। আমরা দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।


মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মিঠামইনে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নরিছলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সাফিউর রহমান শাফি, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ ৭টি ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক নারী-পুরুষ।

সভায় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যুবসমাজ আজ মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে আমাদেরকেই হাল ধরতে হবে। পরিবার থেকে সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। আমাদেরও উচিত প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তারা অধিক মুনাফার লোভে যুব সমাজকে মাদকের দিকে আসক্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করছি। ৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, এখন শেষ বয়সে এসে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেমেছি। শুধু যুব সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য।’

সভায় বক্তারা মিঠামইনকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


সাইবার নিরাপত্তাসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ বিষয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিজের সংসদীয় আসন ভোলা-১-এর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য আইন আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করছি। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, তাদের সঙ্গে বসছি। বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি, কীভাবে বিষয়টি এগিয়ে নেয়া যায়। যাতে আপনারা (সাংবাদিক), আমরা এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পান। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করি, সামনে এ বিষয়ে ভালো কিছু আসবে।’

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে থেকেই এ বিষয়ে কথা বলে আসছেন তিনি। এবার হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।’

এদিকে নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সাংবাদিক না, এটা যে কারোই যদি ঘটনা হয়ে থাকলে, তাহলে প্রচলিত আইনে যা আছে সেভাবেই হবে।’

এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিজেপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব হলো: মীর শাহে আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বাংলাদশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি আলাদা অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‌‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরাম।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দুধর্মের ভাইদের পকেটের লোক মনে করত। সেখান থেকে তারা বের হয়ে এসে আমাদের প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে, আমাদের বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে হাজারো (৩৩,৮৫১টি) পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালন হয়েছে। এটা আমাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে, বিশ্বাস রেখেছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য তারেক রহমানের জনগণের সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আমরা দিতে পেরেছি।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রশাসন এবং বিএনপির লোকজন একসঙ্গে পূজামণ্ডপগুলো পাহারা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের এ বড় উৎসবকে আমরা সমাপ্ত করতে পেরেছি।’


আগামী ১০ বছরেও হাসিনার দেশে ফেরা সম্ভব না: স্পিকার

ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে অনুধাবন করা যায়, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপরও তার আস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় নিজের সংসদীয় আসনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘সমাজের নিকৃষ্ট যে লোকটা, সেটাই এমপি-মন্ত্রী হয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন স্পিকার। বৃহস্পতিবার ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি এসব কথা বলেছেন। তাদের আমলে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে সমাজের ভালো মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ অবস্থার অবসান হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা নেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি পদ্ধতি নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে দেশের মোট গ্যাসের মজুতের সমপরিমাণ গ্যাস ইতোমধ্যে ভোলায় পাওয়া যাচ্ছে। তার আশা, সেখানে আরও বিপুল গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে।

স্পিকার বলেন, ভোলার গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে সরকার বিদেশে যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহজ বিকল্প ভোলাতেই রয়েছে। ভোলার গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর ও ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ফরিদগঞ্জের এসিল্যান্ডকে আদালতের শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে (এসিল্যান্ড) কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন এ নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন ১৭ তারিখ এই আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তদন্ত করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় সময় দেন। এরপরও প্রতিবেদন না পাওয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আবারও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে একটি দরখাস্তের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের অগ্রগতি জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তদন্ত করতে পারবেন না বলে জানান।

পরবর্তী সময়ে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেননি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বারবার সময় দেওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়া আদালতের আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও আদালতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। এতে বিচারপ্রার্থীর দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

এ অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৮৫ ধারার বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ আদেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়:

ভোটের পাঁচ দিন আগে স্থগিত বাইশিমাসের নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটের মাত্র পাঁচ দিন আগে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ ছাড়াই সব নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি শুরুর ঠিক আগের শেষ কার্যদিবসের রাতে নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে নির্বাচন বন্ধের পেছনে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হয়নি। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ভোটের চূড়ান্ত মুহূর্তে কোনো নিয়মনীতি না মেনে একতরফাভাবে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা বাণিজ্য সংগঠন আইনের পরিপন্থি এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার স্পষ্ট অপচেষ্টা।

নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের পর তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সদস্য ও প্রার্থীরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছেন এবং অবিলম্বে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। প্রার্থীদের মতে, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণার পর একেবারে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই ব্যবসায়ী সংগঠনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনমুখী খাতের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হলো হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) শিল্প। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাইশিমাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন এভাবে স্থগিত হওয়ায় সংগঠনের সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্ব নির্বাচন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অবিলম্বে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


মাসে ২২ ডিজে পার্টি, অংশ নিতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-ব্যাংকাররাও

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এ তথ্য জানান।

ইলিয়াস কবির বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ভবনটিতে প্রবেশের পর ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল।’

ডিসি ইলিয়াস কবির আরও দাবি করেন, পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারও ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন।’

ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, ‘এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন।’

প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই বাড়ি থেকে আটক ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে এই কর্মকর্তা জানান, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।


banner close