সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে HEAT-ATF এর একটি সাব প্রজেক্টের সহযোগিতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে ‘রিসার্চ মেথোডোলজি, ননইনভেসিভ টেকনোলজি ফর সীফুড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রাইটিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিপ্রবির ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সাজেদুল হক।
প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান আলী, প্রশিক্ষণ পরিচালক হিসেবে ছিলেন মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।
প্রথম অধিবেশনে সকাল ১০.০০-১১.৩০ পর্যন্ত গবেষণা পদ্ধতি ও ফিসারিজ সাইন্স বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ লোকমান আলী। দ্বিতীয় অধিবেশনে দুপুর ১২.০০- ১.০০ পর্যন্ত সামুদ্রিক খাবার বিশ্লেষণের জন্য ননইনভেসিভ টেকনোলজি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
তৃতীয় অধিবেশন দুপুর ২:০০-৩:৩০ টা পর্যন্ত দেশে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কারিগরি ফেলোশিপ/বৃত্তি বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ডিন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ (পিজিএস), পবিপ্রবি। চতুর্থ অধিবেশনে বিকাল ৩:৪০-বিকাল ৪:৩০ সাইন্টিফিক রাইটিং বিষয়ে সেশন নেয় অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
পরবর্তীতে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অংশগ্রহণকারী দের সার্টিফিকেট প্রদান ও পবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত হয়।
প্রশিক্ষণ পরিচালক ও মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, "ইউজিসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে HEAT পরিচালিত একটি সাব-প্রজেক্টের আওতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সীফুড অ্যানালাইসিস ও সায়েন্টিফিক রাইটিং বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সীফুডের গুণগত মান বজায় রাখা, সীফুড উৎপাদনে ব্যবহৃত আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারছে এবং বাস্তবভিত্তিক এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করবে।"
তিনি আরও বলেন, "নিরাপদ সামুদ্রিক খাদ্য ভোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বে নতুনভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ‘ফ্লোরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা খুব সহজে ও অল্প সময়ে সীফুডের নিরাপত্তা ও মান যাচাই করতে সহায়তা করে। পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য খাতে নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এসব আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাংলাদেশের মাৎস্য ও মাৎস্যজাত পন্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়।
পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, "রিসার্চ ভ্যালিডেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যেকোনো গবেষণার ক্ষেত্রেই ত্রুটি থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাসিক রিসার্চের ক্ষেত্রে হয়তো ৫ থেকে ১০ শতাংশ ত্রুটি নেগলিজিবল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে ভ্যালিডেশনের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এ সময় তিনি গবেষণা পদ্ধতি (রিসার্চ মেথডোলজি) অনুসরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণা বিষয়ক এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
শিক্ষাজীবন শেষে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার‘ বা চাকরি মেলার আয়োজন করেছে সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১ টায় সিরাজগঞ্জে সদরে নার্সিং ইনস্টিটিউটের হল রুমে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আকিকুর নাহার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন–ডেপুটি সিভিলে সার্জন রিয়াজুল ইসলাম ,নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ( সমন্বয় ও প্রশিক্ষক) ফরিদা ইয়াসমিন ও এসেক্ট প্রজেক্টের, মেন্টর, কাওসার আলম। এছাড়াও এসময় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও মেলায় আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আকিকুর নাহার বলেন, ‘জব ফেয়ার‘ হলো এক ধরণের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো জবের ক্ষেত্রে যারা নিয়োগ কর্তা, নিয়োগদাতা তাদের মধ্যে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। এজন্য জব ফেয়ারকে অনেক সময় বলা হয় ক্যারিয়ার এক্সপোর্ট। কাজেই এই জব ফেয়ার খুবই চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্ম, যা কাজের সুযোগ তৈরি করে।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুন বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, সবার থেকেই সাড়া পেয়েছি। জব ফেয়ারের স্টেকহোল্ডারদের কাছে আমরা স্টুডেন্টসদের সিভি দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরিপ্রার্থী উপযুক্ত নার্স ও মিডওয়াইফারিদের বাচাই করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে মেলায় স্টল দেয়া ও উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ‘জব ফেয়ারে‘ সিরাজগঞ্জ জেলায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। যাদের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টলও দিয়েছে।
নাটোরের সিংড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির কাচা মাল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বামিহাল বাজারে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অস্ত্র তৈরির তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আব্দুল্লাহ (২৯) নামে একজনকে আটক করা হয় ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে একটি দেশি অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির মালামাল উদ্ধার করে। পরে তাকে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত আব্দুল্লাহ ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের বকুলের পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুন নূর।
৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পাবনার সাঁথিয়য় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনার সাঁথিয়য় সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদের সামনে সাঁথিয়া এবং উপজেলা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম এর পরিচালনায় উক্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কেএম শামসুল হক, বোয়ালমারী কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর আব্দুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন রানা, সহকারী অধ্যাপক এম এ হাই, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক নাড়িয়াগোদাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, শালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম রিপন,সাঁথিয়া সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন, সাংগঠনিক বজলুর রহমান, ইসমাইল হোসেন কিরণ, আনিসুর রহমান লিটন , ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল হাদি, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ফার্মাসিস্ট রাসেল আহমেদ সোহাগ, প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, আরিফা আঞ্জুমান আরা, প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট জমা দিলেও অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে কালক্ষেপণ করছেন। ৬ তারিখের আগে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৬ তারিখের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো সমাবেশ থেকে।
এ সময় এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটির উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে গরুর গোস্ত বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর চাকামইয়া মীরা বাড়ির সামনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সোসাইটির পক্ষ থেকে একটি গরু জবাই করে স্থানীয় অসহায় দরিদ্র পরিবার ও মিয়া বাড়ি মসজিদে গোস্ত বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি তানজিল মীর ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম দফাদার ও সিনিয়র সহ সভাপতি মোসাঃ এমি এর নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিববুল্লা, কোষাধ্যক্ষ কাওসার সিকদার, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া মীর, এলী, সহ সভাপতি নোমান, হারুন মীর, হাকিম মুসুল্লি, ইদ্রিস, মহসিন, কামাল মীর, তামিম মীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। তারা বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটি নিয়মিতভাবে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, রমজানে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবিক উদ্যোগের কারণে সংগঠনটির কার্যক্রম এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক বিকাল ৪ ঘটিকায় সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া নামক স্থানে বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিসস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান।
অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত মেশিনটি অপসারণ করা হয়।
এছাড়াও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত পাইপ ভেঙে বিনষ্ট করা হয়। জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ঐ কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের হালদা নদীতে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় নদীতে মৃত অবস্থায় ভাসমান ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে তিনি নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে জানান।
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর রামদাস মুন্সির হাট এলাকা থেকেই আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার হয়েছিল; আঘাতের কারণে যেটির মৃত্যু হয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, নদীর মদুনাঘাটের দিক থেকে জোয়ারের সময় ডলফিনটি ভেসে এসেছিল। এটির দৈর্ঘ্য্ চার ফুট দুই ইঞ্চি এবং প্রস্ত এক ফুট। ওজন প্রায় ২৭ কেজি। বয়স আনুমানিক ২ বছর হতে পারে।
তিনি বলেন, তিন-চারদিন আগে ডলফিনটি মারা গেছে। জালে আটকা পড়ে অথবা শক্ত কিছুর সাথে আঘাতে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। শরীরে বড় কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পঁচন ধরেছিল। পরে সেটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
হালদা নদীর মদুনাঘাট অংশে কিছু ড্রেজার চলাচল করে জানিয়ে সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, গত বছর হালদায় চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। এই ডলফিনটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। স্বাভাবিক মৃত্যুর বয়স হয়নি।
হালদা নদীর গড়দুয়ারা, রামদাস মুন্সির হাট ও মাছুয়াঘোনা এলাকায় এখনো নিয়মিত ডলফিন দেখা যায়। কিন্তু নিয়মিতভাবে ডলফিনের মৃত্যু আশঙ্কাজনক। ডলফিন রক্ষায় সবার আরো সচতেন হওয়া উচিত।
হালদা নদীতে মারাত্নক দূষণ, ইঞ্জিত চালিত ড্রেজারের অবৈধ প্রবেশ, অবৈধ জাল এর ব্যবহারের কারণে ডলফিনের মৃত্যু বাড়ছে উল্লেখ করে বিষয়টি হালদা নদীর জীববৈচিত্রের জন্য হুমকি বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত হালদায় ৪৮টি ডলফিনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
এর আগে গত বছরের ২৫ অগাস্ট হালদা নদীর কাটাখালী খাল থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল। তার আগে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজার উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া খালে একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাউজান উপজেলার বিনাজুরি ইউনিয়নের সিপাহিঘাট এলাকায় হালদা নদী থেকে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়।
২০২৪ সালেও হালদায় মোট চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদী দেশের মিঠাপানির ডলফিনেরও অন্যতম প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র। এক সময় কর্ণফুলী নদীতেও ডলফিনের আনাগোনা ছিল। তবে দূষণের কারণে এখন তা খুবই কমে গেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মৌলভীবাজার জেলায় এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা কৌশলের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন যাচাই-বাছাই ও আধুনিক প্রশিক্ষণ কারিকুলামের মধ্য দিয়ে নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করেছেন। নির্বাচনী নিরাপত্তার কারিগরি দিক তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মোট ১৩ জন সদস্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৩ জন ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেকোনো তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দুইজন সদস্যকে বিশেষভাবে নির্বাচনী সুরক্ষা সফটওয়্যারে ‘End User’ বা প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সমাবেশে জানানো হয় যে, মৌলভীবাজার জেলার মোট ৫৫৪টি ভোটকেন্দ্রে ৭,২০২ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন এবং একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক তাঁর ভাষণে প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আনসার সদস্যদের শৃঙ্খলাবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে বাহিনীর নির্দেশনা যেন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। মূলত বাহিনীর এভিএমআইএস (AVMIS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সকল সদস্যের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং তরুণ শক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে যৌথবাহিনী। নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে এক বিশেষ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বাজার এলাকায় ব্রীজের নিচে যৌথবাহিনী একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পাকিস্তানে প্রস্তুতকৃত একটি রিভলবার, পাঁচটি ককটেল বোমা, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং একটি বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত বোমা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত বৈদ্যুতিক বোমাটি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম নিরাপদে ধ্বংস করে। অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযানে সেনাবাহিনীর ৫৪ জন সদস্য ও পুলিশের ২১ জন সদস্য অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, যৌথবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে অভিযানটি সম্পন্ন করেছে এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে যৌথবাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়। নির্বাচন ঘিরে মানিকগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপু ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ওয়ান শুটারগানসহ আকরামুজ্জামান সুমন (৪০) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সে ওই এলাকার মৃত মোস্তফা মাস্টারের ছেলে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০ সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের চৌকস আভিযানিক দল ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪ টার দিকে রাজবাড়ী সদর খানখানাপুর মল্লিকপাড়া এলাকার একটি বসত বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে হতে ১ টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান’সহ একজন আসামী’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর থানায় ১ টি মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র্যাব।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিঃ সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানান, এই অভিযান প্রমাণ করে যে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে র্যাব সদা প্রস্তুত ও সচেষ্ট। জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রিয় স্বার্থে র্যাব ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। র্যাব-১০ এর এই সফল অভিযানে দেশের জনগণ আরও একবার আশ্বস্ত হয়েছে যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে সক্রিয় ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরিঘাটে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পদ্মা নদীতে মোঃ রেজাউল শিকদার (৩৫) নামে এক ব্যাক্তি নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ ব্যাক্তি বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় ৩ নম্বর ফেরিঘাট হতে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজ ব্যাক্তির সন্ধানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ চলমান রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজুল শেখ নামে একজন জানান, নিখোঁজ রেজাউল ফেরির একজন যাত্রীর সাথে পন্টুনে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নদীতে লাফ দিলে যাত্রীও সাথে সাথে নদীতে লাফ দেয়। স্থানীয়রা এক পর্যায়ে যাত্রীকে উঠাতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ রেজাউল সাঁতরে পাড়ে উঠতে গিয়ে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা পরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন দেয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মানিকগঞ্জে ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
নিহতের বড় ভাই মোঃ হারুন শিকদার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়ত আমার ভাইকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। ভাইকে খুঁজে পাওয়ার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশনের লিডার মোঃ আব্দুল বাছেদ জানান, খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও আমরা ঘটনাস্থলে এসে মানিকগঞ্জ ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলমান থাকলেও মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতে উদ্ধার কাজ চলবে কিনা এ বিষয়ে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান আদালত পরিচালনা করে এই রায় দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে ফসলী জমি কেটে মাটি বিক্রি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সুজন খান (২৮) নাইমুল ইসলাম (২৪), মিজানুর রহমান (৪৩) ও ইকবাল হোসেন (৩২)নামে চার ব্যক্তি। এক পর্যায়ে ফসলি জমি নষ্ট করায় এবং আশেপাশের জমি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় এলাকার অন্যান্য জমির মালিকরা মাটি কাটতে বাধা দিলেও তোয়াক্কা করেনি এই চার ব্যক্তি।
এতে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে অভিযোগ করলে এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতে সুজনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা এবং অন্যদেরকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গত কয়েক দিনে এই চার ব্যক্তি লক্ষাধিক টাকার মাটি বিক্রি করেছেন বলে জানা যায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় এসব ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ফসলি জমি রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ বিষয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাবের তদন্তের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই– আর কত দিনে এই মামলার তদন্ত শেষ হবে?’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কোনো অগ্রগতির তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখাসহ স্বাক্ষর জাল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওসমান হাদিকে গুলির ৫৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত না হওয়ায় তিনি অভিযোগ করেন যে তদন্তের নামে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং এমতাবস্থায় লেবাননের রফিক হারিরি হত্যার নজির অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক তদন্তই একমাত্র সমাধান।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ব্যর্থতা প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘গত চার দিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তিনি যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?’ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে কেবল সিসি ক্যামেরায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত সম্ভব নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ হাজার কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে এবং পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অস্পষ্ট অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে হাদি হত্যার বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার দায়ভার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকেই বহন করতে হবে।