সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দেশের উদ্যোক্তাদের সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণরা বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে এলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।’
বুধবার (১৫ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ পরিচালকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল (জুম) সভায় অংশগ্রহণ করে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভাগীয় পরিচালক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সারাদেশের খামারি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে।’
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘শিক্ষিত উদ্যোক্তা পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং লাভজনকতা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তালিকা প্রণয়নের পর বিভাগভিত্তিক খামারিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা হবে। এসব সভায় তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাস্তবসম্মত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।’
সরকার এই খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।’
খামারিদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ধারণ ও উদযাপনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় এই আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আর্টক্যাম্পে দেশের ৫৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণমানুষের সংগ্রাম এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ক্যানভাসে রূপায়িত করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বিগত সময়ে যে অনিয়ম-অবিচার হয়েছে, তা যেন আর না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এরই প্রেক্ষাপটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে উপজীব্য করে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এই আর্টক্যাম্পে যেসব শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন, তাদের তুলির ছোঁয়ায় ভেসে উঠবে সেই জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে জুলাই স্পিরিট জাগিয়ে রাখার একটা অংশ হচ্ছে এই আর্টক্যাম্প। যেখানে শিল্পীরা ছবি আঁকবেন এই জুলাইকে কেন্দ্র করে। জুলাইয়ের নানা দিক আছে, ঘটনা আছে, স্পিরিট আছে—নানাভাবে আমরা এটাকে তুলে ধরতে চাই। যত রকম আর্ট ফর্ম আছে সেগুলোর মাধ্যমে আমরা জুলাইকে ধারণ করতে চাই, জুলাইকে ছড়িয়ে দিতে চাই ও জুলাইকে জাগিয়ে রাখতে চাই।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পী ও অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতাপের চর এলাকায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে রফিকুল ইসলামের সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ খবরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন বিশাল প্যান্ডেল করে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানা প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। এ নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুপক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তর্কবির্তক, হাতাহাতি ও উত্তেজনা চলছে। গতকাল বুধবার বিকেলে রফিকুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নির্বাচনী সভা উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ বিষয়টি জানতে পেরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন গতকাল বুধবার দুপুরে তড়িঘড়ি করে সভা ডেকে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সভা বন্ধ করে দেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের সভা পন্ড করার জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি তাদের সভা অন্যত্র করার জন্য অনুরোধ করার পরও তারা ভূড়িভোজের আয়োজন করে আমাদের ওপর হামলা করার পাঁয়তারা করে। তারা বড় বড় পাতিল এনে রান্না-বান্নার আয়োজন করছিল। তিনি দাবি করেন, মাসুম রানা সমর্থক ইকবাল হোসেন একজন মাদকের ডিলার। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা জানান, আমরা ১৫ দিন আগেই এ নির্বাচনী সভার আহ্বান করেছি। মা, বোন, কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন ছিল। হঠাৎ রফিকুল ইসলাম একই জায়গায় সভা ডেকেছেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ এসে দু’জনের সভাই বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আমার সমর্থক ইকবাল হোসেনকে নিয়ে মাদকের সম্পৃক্তার বিষয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা সত্য নয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী একই স্থানে সভা করার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা করার বিষয়ে জানেন না। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছেন।’
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বন্যার কারণে যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কুরমাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিজিবির পক্ষ থেকে একটি জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সাথে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মাঝে রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন পানিবাহিত ও অন্যান্য রোগব্যাধির ঝুঁকি বিবেচনা করে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে বিজিবির চারজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। তারা দিনব্যাপী প্রায় ৪৫০ জন নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেন। চিকিৎসাদানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন পরামর্শও দেওয়া হয়।
শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বন্যার কারণে চরম দুর্ভোগে থাকা ১০০টি পরিবারের মাঝে রান্না করা দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়। কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকা পরিবারগুলো বিজিবির এই মানবিক সহায়তায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
কার্যক্রম চলাকালে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ। এ সময় তার সাথে বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাদের কষ্ট লাঘব এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিজিবি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্যাকবলিত এলাকায় আমাদের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। নদীর প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতি বছর নদীভাঙনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিংঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার ওপর দিয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ বলেন, ‘কয়েকদফায় নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। এখন বসতবাড়িটুকুই আমার শেষ সম্বল।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে চাকলার চর থেকে এই এলাকায় তার বাপ-দাদারা এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। শেষ সম্বল বাড়িটুকু হারিয়ে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
তবে সেটিও আগামী কিছুদিনের মধ্যে মধ্যে নদীতে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় কাটছে তার প্রতিটি নির্ঘুম রাত।
আফতাবুল সরদার (৭০) জানান, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বেচাকেনা করলেও মানতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো সবই গেছে পানির নিচে।
শুধু আফতাবুর সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু সচ্ছল পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষ একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টা আরও দেখভাল করলে ভালো হতো।
পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে এই ভাঙনের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিওব্যাগ নদীতে ফেলে দিলেও তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেসব বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
তারা জানান, সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে; কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না।
অনেক নেতাই বারবার এসে প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পরপর দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় এক প্রসূতি নারী ও তার নবজাতক কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন তাদের পাশে দাঁড়ান এবং চিকিৎসার ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কেশবপুর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তার ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নবজাতক কন্যাশিশুর জন্মের খবর পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা প্রসূতি মা ও শিশুটিকে ক্লিনিকে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসহায় ওই নারীর বাবা নেই। আর্থিক সংকটের কারণে তার মাও দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে পারেননি। ফলে অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় সেবা, পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক সমর্থন ছাড়াই নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হয় তাকে। এমনকি খাবার ও অর্থের অভাবে অন্যের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করছিলেন তিনি।
ঘটনার বিষয়টি ইউএনও রেকসোনা খাতুন জানতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। প্রসূতি নারীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কেশবপুরে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ইউএনওর অনুরোধে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশনসহ চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ করে। পরবর্তীতে মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তার মায়ের বাড়িতে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি তার মাতৃগৃহে অবস্থান করছে। তবে কন্যাসন্তান জন্মের কারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘প্রসূতি মা ও নবজাতকের দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমরা দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি। একজন মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়ে তাকে এভাবে পরিত্যাগ করা অত্যন্ত অমানবিক। সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেশবপুর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহযোগিতায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এখন মা ও শিশুকে নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে সম্মতি জানিয়েছে।’
রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বিজ্ঞান ও সভ্যতার এই যুগে দাঁড়িয়ে কন্যাসন্তান জন্মকে অপরাধ হিসেবে দেখা চরম মানসিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়। ছেলে-মেয়ে নয়, প্রত্যেক সন্তানই সমান মর্যাদা ও ভালোবাসার দাবিদার। সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠুক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে কন্যাসন্তান নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক মানসিকতা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রাম, ইটন, মিঠামইন, নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার কিছু অংশ প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের এক বিশাল আধার। কিন্তু বর্তমানে এই হাওরগুলোতে অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জাল এবং মশারি জালের অবাধ ব্যবহারে হাওরের জলজ পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এই জালগুলোর সূক্ষ্ম বুননের কারণে রেনু ও পোনা মাছও রেহাই পাচ্ছে না, ফলে মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া পানির নিচে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা চায়না দুয়ারি জাল মাছ চলাচলের পথ রুদ্ধ করে নির্বিচারে সব ধরনের মাছনিধন করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মূল কারিগর এই নিষিদ্ধ জালগুলো এখন স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। অষ্টগ্রামের আদমপুর বাজার ও নাসিরনগরের চাতলপার বাজারসহ হাওর এলাকার বিভিন্ন বাজারে এগুলো অবাধে বেচাকেনা চলছে। সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে অসাধু চক্র সহজেই এই মরণফাঁদ সংগ্রহ করতে পারছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও জাল পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নিলেও, আইনি জটিলতার কারণে এটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল আনতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিষিদ্ধ জাল বন্ধ করতে হলে মূলত এর উৎপাদন ও আমদানির উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর, লৌহজং ও গজারিয়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি ঘরে এসব জাল তৈরির কারখানা রয়েছে। তারা আইনি জটিলতা বা উচ্চ আদালতের রিটের দোহাই দিয়ে সারাদেশে এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে, যা আমাদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গত বছর পাকুন্দিয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ জালের একটি বিশাল চালান আটক করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা উচ্চ আদালতের এমন একটি আদেশের কপি দেখান, যেখানে সারাদেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকার কথা বলা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবগত মুচলেকা নেওয়া হয়, ওই ব্যবসায়ীরা কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় কোনোভাবেই এই নিষিদ্ধ জাল বিক্রি করবেন না। এই মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মূলত আইনি কৌশলের কাছে প্রশাসন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় হাট-বাজারে জাল বিক্রির বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় বাজারে গিয়ে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয় না। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমরা অবশ্যই অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। হাওরের নদী ও খালগুলোতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাওরের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। শুধু হাওরে অভিযান না চালিয়ে জাল উৎপাদনকারী মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও মৎস্যজীবীদের নিয়ে প্রতিটি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম গড়ার মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপই পারে এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করে হাওরের মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করতে।
টানা ৭ দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাগুরার জনজীবন। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে পানিতে। কোনো কোনো এলাকার সড়ক এবং সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়াই ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। টানা সাত দিন বৃষ্টি নামার পর মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সূর্যের দেখা মিললেও রাস্তায় পানি কাদার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাগুরাবাসীকে।
গত শুক্রবার (১১ জুলাই) ভারি বর্ষণের কারণে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কের ছোট্ট সেতুটি পানির প্রবল চাপে ভেঙে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে আশেপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচল ছিল। বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাচলে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না এমনকি কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসীরা জানান,ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য সেতুটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া শর্তেও কোনো কাজ হয়নি অনেক যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এর উপর দিয়ে চলাচল করতো টানা বৃষ্টিতে ব্রিজের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পড়েছে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
এদিকে মাগুরার চারটি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা, কুমার, ফটকি ও মধুমতি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে।
এছাড়াও মাগুরা সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা যেমন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কলেজপাড়া, আলামিন স্কুল সংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন নিম্নাঅঞ্চল সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো এলাকার পানি নেমে গেলেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কের। যেমন পলি ক্লিনিক সংলগ্ন সড়ক, শুভেচ্ছা প্রিপারেটরি স্কুল সংলগ্ন সড়কের বেহাল দশার জন্য রিক্সা এবং অটো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে যাওয়াই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ফলে প্রায় সময় নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটে। শহরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও ময়লা আবর্জনার কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
বিশেষ করে কলেজ পাড়ায় বিভিন্ন কোচিং সেন্টার হওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে এই সড়ক ব্যবহার করে। বিভিন্ন জায়গায় ড্রেনের মুখ খোলা থাকায় প্রায় সময় ড্রেনের মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থীদের জামা কাপড় নোংরা হয়ে যায়। তাছাড়া ভারি বর্ষণের কারণে সময় মত কোনো যানবাহন না পাওয়ায় সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা অফিস আদালতে বা বিদ্যালয় যেতে পারছেন না। এদিকে সারাদেশে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা সেই সাথে হাইস্কুলগুলোতে শুরু হয়েছে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। কিছু কিছু এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না অনেকেই। পরীক্ষার জন্য বৃষ্টিতে ভিজেই শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে পরীক্ষা দিতে। অধিকাংশ সময় বৃষ্টির জন্য যানবাহন না পাওয়ার কারণে কলেজ ও বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
তবে এ ব্যাপারে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়াদ্দার একটি বিশেষ পন্থা অবলম্বন করেছেন। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে তিনি পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের থেকে ১৫ - ২০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিভাবকরা বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টানা সাতদিন বৃষ্টিতে ঘর থেকেই বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য আমাদেরকে এই বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পানি জমে থাকায় আমাদের জুতা অনেক সময় ভিজে যায় এতে চুলকানি সহ নানা ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়। আবার অনেক সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে আমাদের কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
শহরের সততা কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা বলেন, টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে মাগুরার বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘর রাস্তা, মাঠঘাট পানিতে তলায় গেছে। সেজন্যি বিভিন্ন শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর যেগুলো আছে রাস্তায় পানি কাঁদার জন্যি যানবাহন না পাওয়ায় সেগুলো আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারে সবজির পরিমাণ খুবই কম। এতে আমাদের মতো ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।
মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান বারী জানান, শহরে পানি জমার প্রধান কারণ হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপব্যবহার। পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে কলেজপাড়া একটি ব্যস্ততম এলাকা এখানে ঘনবসতি হওয়ায় বাসা বাড়ির সমস্ত ময়লা প্রতিনিয়ত পলিথিনে করে ড্রেনের মধ্যে ফেলা হয়। নিষেধ করলেও কেউ শোনে না আর প্রতিনিয়ত এই ময়লা ফেলার কারণে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে মাদারীপুরে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার ঝাউদী ইউনিয়নের ২২ নং টুবিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার উদ্দেশে গাছের চারা রোপণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ২২ নং টুবিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম আকরাম খান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান, মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন দুলাল কাজী, জেলা তাতীদলের সভাপতি জাকির হোসেন মোল্লা, সমাজসেবক জাহাঙ্গীর খান, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি লিজা আক্তার, অভিভাবক সদস্য শওকত মাতুববরসহ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। বৃক্ষরোপণের সময় বক্তরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে তারা এই কর্মূসূচি পালন করছেন।
২৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা বাক-প্রতিবন্ধী রুবি বেগম (ওহেদা বেগম)-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) মহানগরের সাতমাথায় বগুড়া মূক-বধির সংঘের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বগুড়া মূক বধির সংঘের সভাপতি আইনজীবী রায়হান আহম্মেদ রানা, কোষাধ্যক্ষ ইমামুল হাসান, নির্বাহী সদস্য আরিফুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাকসহ প্রমুখ। এসময় তারা নিহত রুবির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে ২০০২ সালের দিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ধোন শাতঘটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বাক-প্রতিবন্ধী রুবি বেগম। এরপর ৩ থেকে ৪ বছর ধরে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পরিবার তার খোঁজার আশা ছেড়ে দেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা রুবিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। নিখোঁজ হওয়ার পর রুবি বেগম নরসিংদী জেলার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ ২৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে যখন রুবির সন্ধান পাওয়া গেল। তখন জানা যায়, সামান্য কিছু টাকার লোভের কারণে নরসিংদীর মেথিকান্দা রেল স্টেশন এলাকায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ফরিদপুর সদর উপজেলার ১০০নং ভাটিলক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার বাড়ৈর সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণচন্দ্র চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
এ সময় ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কমিটির সূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ ঘোষাল, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম তৌফিকুর রহমান, সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
এই সময় বক্তারা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিদ্যালয়কে সবুজে ঘেরা পরিবেশে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।
মাত্র আট বছর বয়সে ডান (আক্রান্ত) পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে শুরু করেছিল। প্রথমে পরিবার বিষয়টিকে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পায়ের আকার ও ওজন বাড়তে থাকে। এখন ২৫ বছর বয়সি আবু বক্করের জন্য স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাই হয়ে উঠেছে কঠিন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি বিরল শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন তিনি।
আবু বক্করের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের আমলাতুলি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলামের একমাত্র ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলেকে সুস্থ করার আশায় জেলা ও বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও কোনো আশানুরূপ সুফল মেলেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত পায়ের আকার আরও বড় হয়েছে। পরিবারের দাবি, আগের কিছু চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে।
আবু বক্করের বাবা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলের চিকিৎসার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ২০২২ সালে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হবে। আমাদের মতো পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব।’
বর্তমানে আবু বক্কর বাড়িতেই থাকেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সংসারের ছোটখাটো কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। তবে পায়ের অতিরিক্ত ওজনের কারণে নিয়মিত চলাফেরা, কাজ করা কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন—সবকিছুই তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো আমার ছেলেটা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।’
স্থানীয়দেরও আশা, সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা মিললে আবু বক্করের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের এই দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।
শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রোগীকে নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের পরামর্শক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট যোগাযোগ করলে সহায়তা করা হবে।’
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাডামস ফাউন্ডেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মাল্টি অ্যাক্টর পার্টনারশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতার উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে জাতীয় কৌশল প্রণয়নে সহযোগিতা কার্যক্রম শীর্ষক প্রকল্পের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা বুধবার (১৫ জুলাই) খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসিফুর রহমান।
কর্মশালায় অতিথিরা বলেন, ‘জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন ও বন্যার কারণে জলবায়ু দিন দিন পরির্তন হচ্ছে ও ক্ষয়-ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
অ্যাডমস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এস এম আলী আসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মুজিবুর রহমান ও কুয়েটের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (আইডিএম)-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. আঞ্জুম তাসনুভা। কর্মশালায় খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম, উপপরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম, উপপরিচালক মিহির লাল সরদার, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মেহেদী হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন অ্যাডামস ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ।
কর্মশালায় পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লিখিত প্রকল্পটি স্থানীয় পর্যায়ে অ্যাডামস ফাউন্ডেশন জাতীয় পর্যায়ে আইক্যাড ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জার্মানওয়াচ বাস্তবায়ন করছে। কর্মশালার উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এর ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। কর্মশালায় জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তনে অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক বিষয়াদি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা, ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপগুলো, বাংলাদেশে ক্ষয়-ক্ষতির জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নবিষয়গুলো এবং ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আমাদের দায়িত্বগুলো সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।