সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে জানান, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, তারা মূলত ফ্যাসিবাদের অনুসারীদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সকল গণতন্ত্রকামী ও বৈষম্যবিরোধী শক্তিকে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও জেলা বিএনপির শীর্ষনেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী টুকু জোর দিয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান একক কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নয়, এটি পুরো দেশের গণমানুষের অর্জন। বিনা ইস্যুতে দেশকে বিশৃঙ্খল করার যেকোনো চেষ্টা স্বৈরাচারী চক্রকে লাভবান করবে।
বিগত ১৭ বছরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে দলটি সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও আহতদের সংবর্ধনা প্রদান শেষে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, জুলাইয়ের আসল চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, সুশাসিত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণের অঙ্গীকার পূরণে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন মিঠাপানিরছড়া এলাকায় গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ১০ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৬ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
বুধবার (০৫ আগস্ট) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
অপরদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৭ এর একটি বসত বাড়িতে আজ ৫ আগস্ট ২০২৬ বুধবার মধ্যরাত ২ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ ও এপিবিএন এর সমন্বয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত বসত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এসময় মাদক কারবারিরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জব্দকৃত ইয়াবার পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার পঞ্চম শ্রেনী পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্থানীয় একটি বাগান এলাকায় নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা কৌশলে ওই ছাত্রীকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখানে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে আইনগত সহায়তার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত তিন আসামি রাহাত, সিয়াম, ইমন কে গতরাতে গ্রেপ্তার করে আজ তাদের আদালতে পাঠায়।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রামাণ্যচিত্র প্রতিযোগিতা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, দোয়া মাহফিল।
এ উপলক্ষে ৫ আগস্ট, বুধবার সকালে চুয়েট এর একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আসিফুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন প্রভোস্টদের পক্ষে কিউ.কে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এম.কে. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, কর্মচারী সমিতি/স্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: জামাল উদ্দীন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিএসই বিভাগের ২০ ব্যাচের আদিল রায়হান, ওয়াটার রির্সোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২১ ব্যাচের আসাদুল্লাহ আল গালিব প্রমুখ।
সঞ্চালনায় ছিলেন উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ও কাউন্সিল শাখার সেকশন অফিসার মীর মোহাম্মদ রাতুল হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্য ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেছেন,“ইতিহাসের কিছু বাঁক বদল ঘটে তরুণদের বুকের তাজা রক্তে, যা একটি সাধারণ আন্দোলনকে রূপান্তরিত করে স্বৈরাচারের পতন ডেকে আনে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমনই এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদের প্রতি প্রদ্ধা জানাচ্ছি, স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিমসহ সকল বীরকে। আমি তাদের আতœার মাগফিরাত কামনা করছি।
নারায়ণগঞ্জ শহরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া সহ দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তারা লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের অন্তত সাত জন আহত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে চাষাঢ়া ও কলেজরোড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম, অর্থ সম্পাদক জুবায়েদ, শিবির কর্মী মনির, ইসমাইল, ছাত্রদল নেতা তুহিন আহমেদ সহ আরও একজন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। সেখানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এর জের ধরে শহরের কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান উভয় পক্ষ। এ সময় দুপক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়। এছাড়া তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ছাত্রদল ঘটিয়েছে। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।”
সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া অভিযোগ করেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক বক্তব্য দিলে আমরা প্রতিবাদ জানাই। এর পরপরই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে ধারালো অস্ত্র সহ লাঠিসোঠা ব্যবহার করে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় ছাত্র শিবিরের সভাপতির কোন এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এতে উভয় পক্ষের ৩-৪ জন আহতে হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলবুল বাড়িতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ১ টার দিকে দুর্বৃত্তরা ২টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এসময় যুবদল নেতা পরিবারের সদস্যদের সাথে শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলো। দুর্বৃত্তদের ১টি পেট্রোল বোমা বসত ঘরের গ্রিলে লেগে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনার পর পর খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত জব্দ করে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ যোবায়ের আহমেদ, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোঃ বাছেদ, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন আরজু, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বাবুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এব্যাপারে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচি শেষে সূর্য নারায়ণপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত প্রায় ১টার দিকে শয়নকক্ষের বাইরে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে সেভেন আপের কাঁচের বোতল সদৃশ দুইটি পেট্রোল বোমা পড়ে থাকতে দেখেন। রাতেই থানা পুলিশে খবর দিলে তা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এবিষয়ে এএসপি সার্কেল আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপস্থিত এলাকাবাসীকে আতংকিত না হওয়ার আহ্বান জানান। তদন্তপূর্বক দোষীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস প্রদান করেন।
এঘটনায় যুবদল নেতা ফরিদুল আলম বুলু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।
উল্লেখ্য, এ ঘটনার এক সপ্তাহ আগে উপজেলার ভাকোয়াদী গ্রামে উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানার বসতবাড়িতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সবকিছু ছাই করে দেয়। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ জলদস্যুদের হামলার শিকার হয়েছে ‘এফবি মিম’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার। এ সময় জলদস্যুদের বেধড়ক মারধরে ট্রলারের মাঝি আইউব আলীসহ ১২ জন জেলে আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ট্রলারে থাকা লক্ষাধিক টাকার মাছ, জাল, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দস্যুরা।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোররাত ৫টার দিকে কুয়াকাটা থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে গভীর বঙ্গোপসাগরের খাম্বা বয়া বাতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুরুতর আহত ট্রলারের মাঝি আইউব মাঝি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকার আবুল কালামের ছেলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অন্য জেলেরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।
জলদস্যুদের কবলে পড়া এফবি মিম ট্রলারের ভুক্তভোগী জেলে ইব্রাহীম জানান, সাগরে মাছ শিকার শেষে তীরে ফিরে আসার সময় দুটি কালো পতাকা টানানো একটি হলুদ রঙের ট্রলারে প্রায় ২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তাদের ঘিরে ফেলে। এ সময় ট্রলারে থাকা ১৬ জন জেলের মধ্যে ১২ জনকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ট্রলারে থাকা মাছ, জাল, ডিজেল, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা ফজলু গাজী বলেন,বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্রে জলদস্যুদের উপস্থিতি না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে গভীর সমুদ্রে তাদের তৎপরতা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।” তিনি দ্রুত ডাকাতদের গ্রেফতার এবং সমুদ্রে নৌ-টহল জোরদার করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিষয়টি এখনও আমরা শুনিনি। আমি অভিযানে আছি, আপনারা গোয়েন্দা শাখায় কথা বলুন।
পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ নয়ন তারকুন বলেন, “বিষয়টি আমরা মাত্রই জেনেছি এবং খোঁজখবর নিচ্ছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ময়মনসিংহ নগরীর গাঙ্গিনাপাড় এলাকার রামবাবু রোডে ‘নূরজাহান ভিলা’ নামে একটি বহুতল ভবনে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে সৃষ্ট আগুনে ময়মুনা (৭০) নামের এক বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় নিহত ময়মুনা মুক্তাগাছা উপজেলার খিলবাড়ি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের সাথে তিনি ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভবনের নিচতলার সিঁড়িকোঠায় থাকা বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা দ্রুত পাশে থাকা মোটরসাইকেল ও দ্বিতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বাসিন্দারা দ্রুত ভবনের ওপরের দিকে ছুটতে থাকেন। নিহতের পুত্রবধূ সন্তানদের নিয়ে দ্রুত পাঁচ তলায় উঠতে সক্ষম হলেও অসুস্থ বৃদ্ধা ময়মুনা চার তলায় ওঠার আকুল চেষ্টার সময় ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সিঁড়িতেই লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অগ্নিকাণ্ডে দুইটি মোটরসাইকেল ভস্মীভূত হয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও ফায়ার সার্ভিস প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল রক্ষা করতে সমর্থ হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পেছনে বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলাকে দায়ী করছেন ভবনের অধিবাসীরা। তাঁদের দাবি, বিদ্যুতের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে বারবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করে প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, তাঁরা এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি এবং অতিরিক্ত লোডের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধার মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’-এর সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের এই সভা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলাকালে লক্ষ্মীপুর শহর শিবিরের নেতা সারোয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন।
এ সময় সভাকক্ষে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে মুহূর্তেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের হট্টগোলে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং হস্তক্ষেপর মাধ্যমে দুই পক্ষকে শান্ত করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনেন। হট্টগোলের কারণে জেলা প্রশাসনের সূচিমাফিক অনুষ্ঠান কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে নিরাপত্তা জোরদার করে তা পুনরায় শুরু করা হয়।
এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান যে, বক্তব্যের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং কোনো বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হয়নি।
নেত্রকোণায় কিশোরীকে সাথে নিয়ে ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা এনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় এই নিয়মিত মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন। ঘটনার পর থেকেই রিপন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে স্কুলছাত্রীটি বাড়িতে একা থাকাকালীন রিপন মিয়া সেখানে যান এবং তাকে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। অভিযোগ উঠেছে যে, রিপন আগে থেকেই ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে রিপন নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে জানা গেছে। সালিসে রিপনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া সালিসে উপস্থিত সবার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছেন এবং বলছেন, "ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।" তবে আইনি ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে স্থানীয়ভাবে এমন সালিস আয়োজনের সমালোচনাও উঠেছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান দাবি করেছেন, ভুক্তভোগী পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছেন। অন্যদিকে, রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার তাঁর স্বামীকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে। মামলার পর থেকে পলাতক রিপন মিয়াকে খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, কাঠমিস্ত্রি থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়া রিপন মিয়া "আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব" সংলাপের মাধ্যমে ফেসবুকে ১৯ লাখ ফলোয়ার অর্জন করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। বর্তমানে এই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত জনপ্রিয়তা ও ক্যারিয়ার বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরে আসবেন বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সরাইল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশেরই একজন নাগরিক এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর ও তাঁর দলের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। তাঁর পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছিল অন্যতম।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি যদি দেশে ফিরে না আসেন, তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং তাঁর নিজের এতদিনের রাজনৈতিক ইতিহাসের কী হবে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। সাধারণ রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধি ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই দেশে ফিরে আসবেন।
গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সবার হাতেই গণমাধ্যম রয়েছে, ফলে নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে আসলে কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না। এর আগে বিগত সরকারের আমলে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করার বিষয়টি যদি অগণতান্ত্রিক হয়ে থাকে, তবে বর্তমান সরকারের এই একই সিদ্ধান্তও গণতন্ত্রের পরিপন্থি।
বক্তব্যের শেষভাগে সম্প্রতি ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকেই নির্দেশ করে। একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলো যে তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং দেশ পুনরায় পুরোনো বিশৃঙ্খল রাজনীতির ধারাতেই ফিরে যাচ্ছে—এই ঘটনাগুলো তারই স্পষ্ট সংকেত দেয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অমর শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দেশের অর্জিত গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। বুধবার সকালে বরিশালের নগরীর আমতলার মোড় এলাকায় নবনির্মিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মন্ত্রী প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ একে একে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “যেই বীর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তাঁদের রক্তের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক লড়াইয়ের প্রধান লক্ষ্যই ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সরকারের মূল অভীষ্ট হলো শহীদদের এই মহান ত্যাগকে সার্থক করতে রাষ্ট্রীয় সকল স্তরে গণতন্ত্রের চর্চাকে স্থায়ী রূপ দেওয়া।
এই বিশেষ দিবসটি উদযাপনে বরিশালের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সাধারণ নাগরিকরা শহীদদের স্বপ্নের সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এবং আহত যোদ্ধারা অংশ নিয়ে তাঁদের অকুতোভয় সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দিনব্যাপী জেলাজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে স্মরণ করা হচ্ছে। মূলত আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রসারে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ একযোগে কাজ করছে।
সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) কোম্পানির দুটি বড় তামাকের গুদামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে আশুলিয়ার নলাম এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অগ্নিনির্বাপণ কাজে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি বিশেষ ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশের চারটি দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।
খবর পাওয়ার পরপরই প্রথমে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে তামাকের শুকনো পাতার কারণে আগুনের তীব্রতা দ্রুত বেড়ে গেলে পরবর্তীতে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি এবং পার্শ্ববর্তী অন্য একটি ইউনিটও অভিযানে যুক্ত হয়। আগুনের ভয়াবহতা দেখে আশপাশের বাসিন্দারাও ঝুঁকির আশঙ্কায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। গুদাম দুটিতে প্রচুর পরিমাণে তামাক মজুত থাকায় আগুন পুরোপুরি আয়ত্তে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ বেগ পেতে হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন যে, সাড়ে সাতটা থেকে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে তামাকজাত দ্রব্যের প্রকৃতির কারণে আগুন নেভাতে বেশ সময় লাগছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং শিল্প পুলিশ পুরো এলাকা কর্ডন করে রেখেছে। আগুন পুরোপুরি নির্বাপিত হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মূলত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।