শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস, তিন অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তিন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল এবং পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে। এই সময়ে ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার এবং সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং আগামীকাল রোববার সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।


আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রুটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একটি অননুমোদিত রুটির কারখানা বা বেকারির সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল ভবনের ভেতরে এমন কারখানার উপস্থিতি এবং সেখানকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটিতে কোনো ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াই দুটি বড় ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে ওই বেকারিটি চালানো হতো। কারখানার ভেতরে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা পাওয়া গেছে যা অত্যন্ত অনুচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বেকারিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকে ক্ষতিকারক কোনো গ্যাস নির্গত হয়েছিল কি না, এখন তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

মন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত কমিটির সদস্য সংখ্যা আরও তিন জন বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী ৩ জুন এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি হাসপাতালের দুজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের কাছ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ ও চালু করাকে কেন্দ্র করে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ডটিতে ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক ভর্তি ছিল। রাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগায় একজন মা নার্সকে এসি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখার পর পুনরায় তা চালু করা হলে, মুহূর্তের মধ্যেই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি এবং বুধবার সকালে ছয় নবজাতকেরই মৃত্যু হয়।

পরবর্তীতে গত বুধবার (২৭ মে) রাতে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ছয় নবজাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী এক নবজাতকের পরিবার।


ভারত-পাকিস্তানের মতো টেবিলে বসে আমাদের স্বাধীনতা আসেনি: ভূমিমন্ত্রী মিনু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মতো টেবিলে বসে আমাদের স্বাধীনতা আসেনি। সৎ ও সাহসী জাতি বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় অলংকার হলো সততা। আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নিপীড়নে গৃহহীন হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়েছেন অনেকে। বহু নেতাকর্মী জেলে ছিলেন। তাই দলের অভ্যন্তরীণ সব ভেদাভেদ ভুলে জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা বিএনপি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ এমপি, দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এমপি এবং নজরুল ইসলাম মণ্ডল এমপি


তাহিরপুরে পর্যটকবাহী নৌযান থেকে নদীতে পড়ে কিশোর নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পর্যটন স্পট টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে এসে নৌযান থেকে পাটলাই নদীতে পড়ে তামিম (১৫) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারের উত্তর পাশে পাটলাই নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ তামিম ধর্মপাশা উপজেলার গোল্লা গ্রামের মজিবুর মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ধর্মপাশা উপজেলা থেকে ৫০-৬০ জনের একটি দল পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের নিয়ে ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি পর্যটকবাহী নৌযানে করে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে আসেন। ভ্রমণের একপর্যায়ে অসতর্কতাবশত তামিম নৌযান থেকে নদীতে পড়ে যায়। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।”


রাষ্ট্র ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে আমাদের: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

আগামী দিনে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এই রাষ্ট্র ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

শনিবার (৩০ মে) বেলা ১১টায় সরকারি ভৈরব কেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে এসব কথা বলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো.শরীফুল আলম।

এসময় তিনি আরো বলেন, আজকে আমরা যদি মনে করি রাস্তা অনেক পরিস্কার না এটা সঠিক নয়। ষড়যন্ত্রকারী বসে নেই যারা পরাজিত শক্তি তারা আবারও মাথা ছাড়া দিয়ে উঠছে। আপনাদের অনেকেই অনেকের সাথে সখ্যতা আছে। রাতের আধারে অনেকেই অনেক ভাবে ঘুরাফেরা করছে। তারা কি গত ১৭ বছরে আপনাদের কোন ভাবে ছাড় দিয়েছে। কোন মামলা থেকে বাঁচিয়েছে। আজকে কেন আপনাদের এদের প্রতি এতো দরদ। তাদের কোন সখ্যতা করবে না তাহলে আমাদের ত্যাগী নেতারা যারা রক্ত দিয়ে দেশকে দ্বিতীয়বার ফ্যাসিবাদের কাছ থেকে মুক্ত করছে তাদের আত্মা কষ্ট পাবে। আমরা কোন ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়ানি করতে চাইনা। তবে তাদের বিরুদ্ধে সর্তক থাকতে হবে। তা না হলে আমাদের বড় ধরণের খেসারত দিতে হবে।

ভৈরব উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো.রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো.আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো.শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মো.মুজিবর রহমান প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল শেষে ১ হাজার ১শত হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


বাসাইলে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু “শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার”এই স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা-এ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাসাইল পৌরসভার প্রশাসক মো: ইকবাল হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদ-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌরসভা এলাকা ও স্থানীয় বাজারগুলোতে আজ আমরা জোরালোভাবে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পন্ন করেছি।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আমরা ঈদের পরদিনই সফল হয়েছি। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এই কার্যক্রম আগামী সপ্তাহগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।


আলমডাঙ্গায় ​আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আটকে বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আটকে শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির অত্যন্ত বেদনাদায়ক মৃত্যু হয়েছে।

​শনিবার (৩০ মে) সকালে উপজেলার ভাংবাড়ীয়া পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাসভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি এলাকায় সবার অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখ ছিলেন।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে নিজ বাড়িতে পাকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের অংশ (বা আঁটি) তাঁর শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং ছটফট করতে করতে তিনি নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৫৫ বছর।

​এদিকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভাংবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় প্রতিবেশীকে এভাবে আকস্মিক ও মর্মান্তিক উপায়ে হারাতে হবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।


ঐক্যবদ্ধ থাকলে কুলাউড়া হবে সিলেট বিভাগের রোল মডেল: মন্ত্রী আরিফুল হক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়াকে সিলেট বিভাগের অন্যতম মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে কুলাউড়ার একটি স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এই উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হতে পারে।

ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে ব্যক্তিগত সফরে কুলাউড়ায় এসে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের শহরস্থ বাসভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কুলাউড়ার সঙ্গে আমার অনেক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে কুলাউড়ার প্রতি তার আবেগ ও টান দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের মধ্যে রাজনৈতিক চর্চা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে কুলাউড়ার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এখানে বাম রাজনীতির পাশাপাশি বিএনপিও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কুলাউড়ার সংগঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন, যার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তারেক রহমান।

কুলাউড়ার চার লেন সড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এ বছরের মধ্যেই এসব কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, বিভিন্ন শর্ট কোর্স চালু এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। শিগগিরই প্রবাসী কার্ডও চালু হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কুলাউড়া সিলেট বিভাগের একটি মডেল উপজেলা হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুলাউড়াকে অনুসরণ করবে অন্য এলাকাগুলো। এ সময় সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম কুলাউড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করতে মন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহবায়ক মো. রেদোয়ান খান, বহির্বিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফোরাম কুলাউড়ার সভাপতি প্রফেসর ড. সাইফুল আলম চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


কুষ্টিয়ায় শিশুকে নদে ফেলে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, নিখোঁজ শিশু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় গড়াই নদে নিজের মাত্র চার মাস বয়সী অবুঝ শিশুসন্তানকে ফেলে দিয়ে এক মায়ের নিজেও নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নদে মাছ ধরায় নিয়োজিত স্থানীয় জেলেরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যমুনা (২২) নামের ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, চার মাসের শিশু হাদিকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল চারটার দিকে কুষ্টিয়া শহর-সংলগ্ন কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ টিম নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে নদে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ওই শিশুর মাকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলিমের সঙ্গে যমুনার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত পারিবারিক কলহ ও মানসিক দূরত্ব চলছিল। এই কলহের জের ধরে মাত্র দুই দিন আগে যমুনা তার চার মাসের সন্তানকে নিয়ে কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুর বেলতলা গ্রামে নিজের বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান।

এরপর শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে এসে হরিপুর সংযোগ সেতুর ওপর থেকে হঠাৎ করেই নিজের সন্তানকে নিচে চলন্ত নদীতে ফেলে দেন এবং মুহূর্তের মধ্যে নিজেও নদের পানিতে ঝাঁপ দেন।

কুষ্টিয়ার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরদেশ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা মাছ ধরা নৌকার মাঝিরা তৎপরতা চালিয়ে ওই নারীকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করেন। তবে শিশুটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে স্থানীয় অভিজ্ঞ ডুবুরি টিমের সহযোগিতায় নিখোঁজ শিশু হাদিকে উদ্ধারে গড়াই নদে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধার কাজে গতি আনতে এবং পেশাদার সহায়তার জন্য ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দলকে খুলনা থেকে তলব করা হয়েছে, যারা ইতিমধ্যে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বাবা আবদুল আলিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের চার মাসের সন্তানটি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ার বাইরে অন্য কোনো বড় শহরে যাওয়ার কথাও চূড়ান্ত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি গতকাল ফোনে তার স্ত্রী যমুনাকে বাবার বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু যমুনা তার কথায় সাড়া দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেননি।

এরপর বিকেলে হঠাৎ করেই লোকমুখে জানতে পারেন যে, নিজের ছেলেকে নদীতে ফেলে দিয়ে তার স্ত্রী নিজেও নদে ঝাঁপ দিয়েছেন। কেন এমনটা ঘটল, তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। থানায় এনে তাকে ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবে ওই নারী মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়ায় পুলিশের কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিচ্ছেন না; থানা হাজতে বসে তিনি কেবল অঝোরে কেঁদে চলেছেন। নদে নিখোঁজ হওয়া চার মাসের শিশুটিকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।


নিভৃতে মাদারীপুরের বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদুল্লাহ রাজার মহাপ্রয়াণ

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ০০:৩৪
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) টি,এম শহীদুল্লাহ রাজার জানাযার নামাজে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অফ অনার' প্রদানের মাধ্যমে তাকে চিরবিদায় জানালো মাদারীপুরের সর্বস্তরের মানুষ।

শুক্রবার (২৯ মে) জুমা'র নামাজ শেষে মাদারীপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে তার জানাযার নামাজ সম্পন্নের পরে তাকে শহরের ডাঃ তোতা সড়কের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে তিনি বিগত ২১শে মে/'২৬ ইং তারিখে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

পরবর্তীতে তার লাশ বিমানযোগে বাংলাদশে আসে। তার মৃত্যুতে মাদারীপুরে সকল মুক্তিযোদ্ধাসহ সবার মাঝে শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। ব্যক্তি জীবনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম রাজা তালুকদার একজন হাস্যোজ্বল ও সদালাপি মানুষ ছিলেন।

দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবীত পরপোকারী এই মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানসহ আমেরিকায়ও বসবাস করতেন। তার জানাযার নামাজে অংশগ্রহন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।


কিশোরগঞ্জে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে যাওয়ার পথে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাতের আঁধারে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (২৯মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কোদালিয়া-হোসেনপুর পাঁকা সড়কে শৈলজানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. জোবায়েদ (২৫) উপজেলার চরপলাশ গ্রামের মো. আলতাব উদ্দীনের ছেলে। তিনি পোল্ট্রি খামারি ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, জোবায়েদ রাত ৭টার দিকে কোদালিয়া বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে কোদালিয়া-হোসেনপুর পাকা সড়কের শৈলজানি এলাকায় পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন রাস্তার ওপরে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তাকে কে বা কারা কী কারণে কুপিয়ে হত্যা করেছে তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ কিশোরগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার দীর্ঘ প্রায় ৫ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গৌড়প্রসাদ দাশ পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকারী দল লাইনচ্যুত ওয়াগনটি সফলভাবে লাইনে ফিরিয়ে আনার পর রেলযোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট থেকে আখাউড়াগামী একটি তেলবাহী খালি ট্রেনের (ওয়াগন) একটি বগি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রেললাইনে লাইনচ্যুত হয়। বগিটি লাইনের বাইরে চলে যাওয়ায় সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রেলযোগাযোগ তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন (হাইড্রোলিক টুলব্যান) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ৮টার দিকে বগিটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন রেলওয়ের প্রকৌশলী ও কর্মীরা।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইন এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আটকা পড়া ট্রেনগুলো একে একে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।


বোরহানউদ্দিনে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাইনুদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটপাতা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মাইনুদ্দিনের বাবা নেছারউল্লাহর সঙ্গে একই এলাকার ফয়জুল্লাহ গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে মাইনুদ্দিনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাইনুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎নিহতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকায় নজরদারি জোরদার করেন।

‎এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটপাতা গ্রামের বজলুর রহমান (৫৫) নামে একজন কে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

‎বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

‎নিহতের বাবা নেছারউল্লাহ দাবি করেছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিকল্পনা করেই মাইনুদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

‎এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


banner close