সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’এখন নীরব; শূন্যতা চারদিকে। এই বাড়িতেই দীর্ঘদিন বাস করেছেন তিনি। ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল সড়কের যে বাড়িতে জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান ও পরে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ছিলেন, তার মৃত্যুর পর সেটিই ছিল খালেদা জিয়ার একমাত্র ঠিকানা। তবে এক-এগারোর পর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে সেই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হন খালেদা জিয়া। এরপর গুলশানের এই বাড়িটিই বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য ‘ফিরোজা’ নামে প্রস্তুত করা হয়।
২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার রায়ে পুরান ঢাকার আদালত থেকে সরাসরি কারাগারে যেতে হয় খালেদা জিয়াকে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় শেখ হাসিনার সরকার বিশেষ শর্তে সাময়িক মুক্তি দিলে হাসপাতাল থেকে ফিরোজাতেই ফেরেন তিনি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলেও ফিরোজার নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনো আগের মতোই রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মিত পাহারা দিচ্ছেন, প্রহরী চৌকিগুলোও অক্ষত রয়েছে।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের অসংখ্য স্মৃতি এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের আবেগ-অনুভূতিও ম্যাডামকে ঘিরে। অনেকেই আছেন, যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই ভালোবাসার পরশ নিয়ে এখনো ফিরোজার আশপাশে আছেন। চেয়ারপারসনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমিও সেই অনুভূতি উপলব্ধি করেছি। ভাষায় প্রকাশ করার মতো মানসিক অবস্থা এই মুহূর্তে নেই।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্ফের (সিএসএফ) এক সদস্য বলেন, ‘ম্যাডামের ডিউটি করতাম। আজ ম্যাডাম নেই—পুরো বাড়িটাই ফাঁকা। ভেতরে ঢুকলে এক ধরনের শূন্যতা আর নিস্তব্ধতা অনুভব হয়। এই কষ্টের ভাষা নেই। আল্লাহ যেন ম্যাডামকে পরপারে ভালো রাখেন।’
আরেক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘ম্যাডাম সব সময় আমাদের খোঁজখবর নিতেন। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছি কিনা জিজ্ঞেস করতেন। উনি ছিলেন আমাদের প্রাণের মা।’
ফিরোজায় দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীদের অনেককেই কালো ব্যাজ ধারণ করতে দেখা গেছে।
ফিরোজাসংলগ্ন বাড়িটি হলো ১৯৬ নম্বর। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সরকার বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেয়। কয়েক মাস আগে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ওই বাড়ির দলিল ও কাগজপত্র ফিরোজায় এসে খালেদা জিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে সেখানে বাস করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সেই বাড়ির সামনের নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া দেখা গেছে। গুলশান অ্যাভিনিউ ডিপ্লোম্যাটিক জোনের আওতায় থাকায় সেখানে বড় ধরনের ভিড় নেই। তবে আশপাশের বাসিন্দারা শোক প্রকাশ করতে আসছেন।
গুলশানের বাসিন্দা হাসানুজ্জামান খান বলেন, ‘এই এলাকাতেই থাকি। বিকেলে হাঁটতে বের হয়ে এসেছি। ম্যাডাম নেই—এটা শুধু পরিবারের শোক নয়, গণতন্ত্রপ্রিয় সব মানুষের শোক। এখন ভরসার জায়গা তারেক রহমান।’
এদিকে, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। খোলা হয়েছে শোক বই।
বৃহস্পতিবার শোক জানাতে আসেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুর্শিদ, যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন, ইরানের রাষ্ট্রদূত মনসুর চাভুশি, ছারছীনা দরবার শরিফের পীর মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছার উদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ অনেকে।
কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। বনানী যুবদলের কর্মী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘নেত্রী নেই, মনটা ভালো নেই। কত কষ্টের সময় তার কাছ থেকে শক্তি পেয়েছি। এই শোক কীভাবে কাটাবো জানি না।’
কৃষক দলের সহসভাপতি ও সাবেক ভিপি ইব্রাহিম বলেন, ‘ম্যাডামের চলে যাওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তার রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না। তিনি আমাদের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির সাথে নানা পেশা ধর্ম বর্ণ জাতিগোষ্ঠীর মানুষের এক নিবিড় সম্পর্ক। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে নানা সামাজিক সাংস্কৃতিক পার্বন ও পর্বে। আদি বিভিন্ন পেশার মানুষদের নানা আচার অনুষ্ঠান ও তাদের তৈরীকৃত তৈজসপত্র বাঙালির ঐতিহ্যকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি তাদের পেশাও সমৃদ্ধ হয়েছে। তবে আধুনিকতার কারণে অনেক লোকেরা তাদের বংশপরম্পরায় লালিত তাদের পেশা টিকে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। পালপাড়ায় গেল পহেলা বৈশাখে কোনো হৈচৈ পড়েনি। নেই তাদের আগ্রহ। কারিগর শ্রমিক আর নিজেদের মজুরি তোলাই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে বৈশাখের সৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করা হয়ে উঠেনি। শুধু এ বছরই নয়, কয়েক বছর যাবত চলছে তাদের এমন অবস্থা। এসব কারণে জৌলুস হারাচ্ছে তাদের বংশপরম্পরায় পাওয়া এ পেশা। টাঙ্গাইলের মধুপুরের জলছত্র পালপাড়ায় গিয়ে কুমারদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
মধুপুর শহর থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরে বেরিবাইদ ও অরণখোলা ইউনিয়নের জলছত্র গ্রামে পালদের ২৪-২৫ পরিবার কুমারদের বসবাস। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই আনারস বাজারের দুপাশে ৩০-৩৫ বছর যাবত তারা বাস করছে। পালপাড়ায় গিয়ে নারী-পুরুষদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের বাপদাদার পেশার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা।
এরা কেউ এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা নয়। তাদের পূর্ব পুরুষরা দুই-তিন যুগ আগে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বসতি গড়ে মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করে। এভাবে জলছত্র গ্রামে তাদের বসতি। স্থানীয় চাড়ালজানি হাওদাবিলসহ বিভিন্ন বিলের মাটি এনে তারা হাড়ি-পাতিলসহ নানা মাটির জিনিসপত্র বানাত। একসময় মাটি কিনতে না হলেও এখন কিনে আনতে হয়। শ্রমের মজুরি বেড়েছে। আনুপাতিক হারে বাড়েনি তাদের মাটির জিনিসের দাম। গ্রামে একসময় তাদের তৈরি মাটির জিনিসপত্রের কদর ও চাহিদা থাকলেও প্লাস্টিকের কারণে চাহিদা কমে গেছে। এখন শুধুই জীবিকা আর বাপদাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতেই এ মাটির কাজ করছে এমনটাই জানালেন তারা। তবে তাদের ছেলে-মেয়েরা এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। কেউ মিষ্টির দোকানে, কেউ বিপনি কেন্দ্রে। কেউবা আবার দিন মজুরির কাজে। তাদের মতে, বংশপরম্পরার এ পেশাকে টিকিয়ে রাখা এখন তাদের কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক মানের মাটির জিনিসপত্র তৈরির প্রশিক্ষণসহ বাজার ব্যবস্থা করতে পারলে বর্তমান সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে পারবে বলেও মনে করছে তারা।
এ গ্রামের সুদেব পাল (৩৫) জানালেন, মাটি কিনে ভ্যান ভাড়া দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসতে আগের চেয়ে খরচ অনেক বেশি। গ্রামে গ্রামে বিক্রি করাও কমে গেছে। চাহিদাও কম। সারা দিন ঘুরে ঘুরে বিক্রিত টাকায় পোষানো কঠিন।
পারুল রানী পাল (৩৫) জানালেন, তাদের দুটি এনজিওর সপ্তাহে কিস্তি। তাই এখন হাড়ি-পাতিল, পুতুল-খেলনা তৈরি না করে শুধু দইয়ের পাতিল তৈরি করে। অর্ডার নিয়ে তৈরি করে। শুধু তিনিই নয় তাদের পাড়ায় সবাই এই একই ধরনের কাজ করে। গেল বৈশাখের জন্য তারা কোনো শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করেনি।
সুমতি রানী পাল (৬০) জানালেন, নতুন করে কেউ এ কাজ করতে চায় না। যারা পুরোনো তারাই এ কাজ করছে। তারমতে, সব পেশার মানুষরা আয় উন্নতি করতে পারলেও তারা পারছে না। হাট-বাজারে এ সময় মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা থাকলেও সেখানে এখন প্লাস্টিকের চাহিদা বাড়ছে।
আরতি রানী পাল (৫৯) জানালেন, তারা বংশপরম্পরায় এ কাজ করে ভাসছে। এ সময় তাদের এ গ্রামেও চাক ঘুরিয়ে হাড়ি-পাতিল খেলনাসহ বাহারি জিনিসপত্র তৈরি হতো। এখন চাক ঘুরে না। পোষে না তাদের। তাদের মতে, প্রায় সবারই এনজিওর লোন নিয়েছে, তাদের কারও দুটা কারও একটা সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা গুণতে হয়। এভাবে কয়েক যুগেও তাদের পেশার কোনো গুণগত পরিবর্তন ঘটেনি।
তুলসী রানী পাল জানালেন, এ গ্রামে ২৪-২৫ ঘর কুমারদের সবার অবস্থা এমনই। শিক্ষা-দীক্ষায়ও তেমন এগিয়ে যেতে পারেনি। নারী-পুরুষদের মধ্যে বয়স্করা এ কাজেই আছে তবে নতুন বিভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কুমারদের পেশাও টিকে থাকবে এগিয়ে যেতে পারবে তারা এমনটাই মনে করছে এখানকার কুমার পল্লীর মানুষরা।
দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মার চর যেন রূপ নিয়েছে হলুদ ফুলের গালিচায়। চারদিকে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা পরিবেশ, ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জনে প্রকৃতি সেজেছে এক অপূর্ব রূপে। শীতের কুয়াশা ভেদ করে রোদের ঝিলিকে দোল খাচ্ছে সরিষার হলুদ ফুল- যা একদিকে যেমন চোখ জুড়াচ্ছে, তেমনি কৃষকের মনে জাগাচ্ছে আশার আলো।
চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারি ইউনিয়নের পদ্মার চরে মোট ৭৮৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এছাড়া পুরো উপজেলা জুড়ে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬০৮ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও এ বছর মোট ২ হাজার ৫৫৭ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরিষা চাষে উৎসাহ দিতে এ মৌসুমে উপজেলার প্রায় ২ হাজার ২০০ জন কৃষককে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার ফলে এবার প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ দশমিক ৫৮ টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষি অফিস আরও জানায়, চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে কৃষকের গড় খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ১১০ টাকা। ফলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ভালো লাভের মুখ দেখবেন কৃষকরা।
পদ্মার চরের স্থানি কৃষক রফিক সরকার জানান, খরচ ও সময় কম লাগে। পদ্মার চরের উর্বর জমি ও অনুকূল পরিবেশ সরিষা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
এদিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পোয়ালবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল কাশেম জানান, সরিষা চাষেরর জন্য তিনি সরকারের সহায়তা পেয়েছেন। ভালো ফলনের আশা তার।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার রেহেনা পারভিন বলেন, গত বছরের তুলোনায় ফলোন বেশি হওয়ায় লাভবান হবেন সরিষা চাষিরা।
এদিকে দৌলতপুরের পদ্মার চরে সরিষার হলুদ হাসি শুধু প্রকৃতিকে নয়, কৃষকের জীবনেও এনে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে বেশিরভাগ ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিতে বিদ্যুত সঞ্চালনের তার ঝুলে আছে। সড়ক, বাসা-বাড়ি, মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে বিপজ্জনক এসব হাই-ভোল্টেজ লাইনের নিচে দিয়ে দিনে-রাতে আতঙ্কে পথ চলেন পথচারীরা। এতে পথচারী ও অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দার মাঝে দুর্ঘটনার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গোয়ালন্দ বাজার রোড সহ বিভিন্ন স্থানে খুঁটিতে রয়েছে হাইভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তার। কোথাও আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ির ছাদ কিংবা জানালার পাশেই বিদ্যুতের লাইন ছুঁই ছুঁই করছে। পৌরসভার জনবহুল এই বাজার এলাকার বিদ্যুতের খুঁটির সাথে যেন তার নুয়ে পড়ছে। এতে মার্কেটের দোকানিরা দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন রিদয় সুপার মার্কেট ঘেঁষে দ্বিতীয় তলায় সাথে তারের জঞ্জালপূর্ণ খুঁটি থেকে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার বড় মসজিদ সংলগ্ন আলআমিন লাইব্রেরির পাশেই রয়েছে আরও একটি জঞ্জালপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি।
জরাজীর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন ছুঁই ছুঁই করা পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভবনের মালিক জানান, বিদ্যুত বিভাগ এগুলো দেখেও কোন ব্যবস্থা নেননা। আমরা বারবার বলার পরও কাজ হয়না। এ জন্য অভিযোগ করাই ছেড়ে দিয়েছেন তারা।
ওজোপাডিকো গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ সরবরাহর (ভারপ্রাপ্ত) আবাসিক প্রকৌশলী তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ভবন নির্মাণের পর এ ধরনের লাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক যাচাই-বাছাই করার কথা। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে লাইন টানা হতে পারে। বিদ্যুত আইনে হাইভোল্টেজের সঞ্চালন লাইনের নিচে কোন ঘরবাড়ি বা স্থাপনা থাকতে পারবে না, ডানে ও বামে কমপক্ষে ১০ ফুট ফাঁকা থাকতে হবে। অনেক আবাসিক এলাকায় নতুন নতুন বাসা হওয়ায় লাইনগুলোর সঙ্গে বাসার দূরত্ব কমে যাচ্ছে। তাছাড়া বাজার সহ আশপাশে বিভিন্ন খুঁটিতে বৈদ্যুতিক তারের জঞ্জালের বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, জরাজীর্ণ খুঁটি ও তারের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে অবগত করা হবে যেন তারা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করে। এদিকে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোয়ালন্দ পান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ক্রোকারিজের দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিন ব্যবসায়ীর প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বর্তমানে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে এক জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মাঠ পর্যায়ের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী ভূমিকা রেখে জনআস্থার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকা যেমন নীলফামারী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন, ফুটপাত, বাসটার্মিনালে অবস্থানরত, তিস্তার চরাঞ্চলে বসবাসকারী শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হঠাৎ পরিদর্শন, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন অগ্রগতি তদারকি এবং জরুরি অভিযোগের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের উচ্চ পদে থেকেও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন, সমস্যা শোনেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগও নেন। শহরের একজন বয়স্ক নাগরিক তসলিম উদ্দিন বাবু বলেন, ‘ওনি শুধু অফিসে বসে থাকেন না, মানুষের মধ্যে আসেন। এমন জেলা প্রশাসক আগে পাইনি।’ এছাড়া, বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা এবং দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যক্রমে তার সক্রিয় উপস্থিতি জেলার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি পেয়েছেন ‘জনবান্ধব প্রশাসক’ উপাধি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, ‘আমি প্রশাসক হিসেবে নয়, মানুষের সেবক হিসেবেই কাজ করতে চাই। নীলফামারীর প্রতিটি মানুষের সমস্যা ও উন্নয়নই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা-এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নীলফামারী উন্নয়ন ও মানবিক প্রশাসনের উদাহরণ হিসেবে সারাদেশে প্রশংসিত হবে।
ঝিনাইদহের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষজন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন।
জানা যায়, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ৬৭ টি ইউনিয়নের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে সরকার। এক বছর আগেও এসব ক্লিনিক থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথাসহ সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকে মাত্র ২ থেকে ৩ প্রকার ওষুধ রয়েছে, আবার কোথাও একেবারেই ওষুধ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। ওষুধ নিতে এসে দিনের পর দিন ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আজ কয়েক মাস ধরে এখানে এসে ওষুধ পাচ্ছি না। আগে তো সবরকম ওষুধ পাওয়া যেত। এখন আসলে শুধু কথা বলেই পাঠিয়ে দিচ্ছে।
রাশিদা খাতুন নামের আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, আমার ছোট ছেলেটার জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছে। আগেও এখান থেকে ফ্রি ওষুধ নিছি। আজ এসে শুনি ওষুধ নেই। গরিব মানুষের জন্য এই ক্লিনিক, কিন্তু এখন তো কোন উপকারই পাচ্ছি না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হলে তো ৪-৫’শ টাকা লাগবে।
কালুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রভাইডার মাজেদুল হক বলেন, আমাদের কাছে রোগী আসে, কিন্তু দেওয়ার মতো ওষুধ নেই। এতে রোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, আমরাও বিব্রত হচ্ছি। এখন রোগী আসলে শুধু স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমাদের তো কিছু করার নেই।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ একদম কমে গেছে। কবে নাগাদ ঠিক হবে তাও সিওর বলা যাচ্ছে না। আশা করছি দ্রুতই ওষুধ সরবরাহ ঠিক হলে এই সংকট কেটে যাবে।
দিনাজপুর ফল আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অভিষেক অনুষ্ঠান শহরের কালিতলা পৌর নিউমার্কেট অফিস রুমে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা ও দিনাজপুর ট্রাক ট্যাংলরি রেজি (২৪৫) সাধারণ সম্পাদক মো. সাদাকাতুল বারী সাদা, সংগঠনের উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শফি রুবেল, সংগঠনের উপদেষ্টা ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ দিনাজপুর ফল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. রাজু, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিম, ফল আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মোকারম হোসেন মুকুল ও মো. রুস্তম আলী।
অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনের প্রতি যদি কারও আন্তরিকতা বা টান না থাকে তাহলে সে প্রতিষ্ঠান প্রাণ পায় না। যার কারণে অনেক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হয়ে যায়। নিউমার্কেট তথা বাহাদুর বাজার অনেক প্রাচীনতম একটি বাজার। এ বাজারের ঐতিহ্য আগের তুলনায় অনেকটা হারিয়ে গেছে। তাই বাজারের ওই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ক্রেতা সাধারণের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে। পণ্যের মান বাড়াতে হবে এবং ন্যায্য মূল্য থাকতে হবে।
ওই অভিষেক অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের শপথ বাক্যপাঠ করান দিনাজপুর সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সাধুরাম রবিদাস, সহযোগী হিসেবে ছিলেন একই দপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মো. আলমগীর মিয়া।
নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা হলেন- সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ, সহসভাপতি মো. জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মো. বিপ্লবসহ সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মো. মমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক মো. আসাদ, প্রচার সম্পাদক মো. সুমন, নির্বাহী সদস্য আতাবুর রহমান, আব্দুল কাদের, মো. শাহিন ও মো. মাসুদ। এ সময় বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সমিতির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নেত্রকোনায় পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত তিন দিনব্যাপী ‘নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের ২২ তম ব্যাচ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোর্সে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। নেত্রকোনা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন কানাই লাল সরকার, কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার), আইটিসি, নেত্রকোনা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন ‘জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে হলে আমাদের দক্ষতা, আইনানুগ আচরণের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি, ভোটকেন্দ্র-সম্পর্কিত নিরাপত্তাব্যবস্থা, জনসম্পৃক্ততা, সংকট মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করবেন। আপনাদের সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বই জনগণের আস্থা অর্জনের প্রধান হাতিয়ার।’ তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের কৌশল, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, জনসংযোগ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদান ও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা কৌশল বিষয়ে বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রশিক্ষকরা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
‘এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজিয়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’ ফরিদপুরে নানা আয়োজনে পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ১২৩তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। পল্লীকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও ফরিদপুর জসীমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনটি উপলক্ষে ফরিদপুর শহরতলীর অম্বিকাপুর কবির সমাধিস্থলে সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসন, ফরিদপুর জেলা পুলিশ, ফরিদপুর প্রেসক্লাব, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ, ফরিদপুর জেলা শিক্ষা অফিস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আনসার উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও জসিম ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. কামরুল হাসান মোল্লা, ফরিদপুর পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম এ সামাদ, ফরিদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার বিষ্ণুপদ ঘোষাল, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাঞ্জলির পরে পল্লীকবির আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য পল্লীকবি জসীম উদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর সদর উপজেলায় কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে তার নানার বাড়ি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
পল্লীকবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর প্রভৃতি। তার সাহিত্যকর্ম বাংলার গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছে, যা তাকে ‘পল্লীকবি’ উপাধি এনে দিয়েছে। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।
প্রতিনিয়ত খুব ভোরে জিরো পয়েন্টে কিছুসংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও শুনশান নীরবতায় থাকে কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট। তবে নতুন বছরের প্রথম দিন এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোররাত থেকেই নতুন বছরের প্রথম দিনের নতুন সূর্য উদয় উপভোগ করতে সৈকতের বিভিন্ন স্পটে ভিড় জমিয়েছে পর্যটকরা।
বিশেষ করে সৈকতের জিরো পয়েন্ট, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি, চরগঙ্গামতি ও লাল কাঁকড়ার চড়ে পর্যটকদের বাড়তি আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে সূর্য উদয় উপভোগ করতে না পারলেও ঘন কুয়াশায় আবদ্ধ শিশিরে ভেজা এসব পর্যটন স্পট দেখে অনেকটা উচ্ছ্বসিত হন পর্যটকরা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) কুয়াকাটা তিন নদীর মোহনা, লেম্বুরবন ও শুঁটকি পল্লীতে বসে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া সূর্য অস্তের দৃশ্য উপভোগ করে অনেকটা মুগ্ধ হন তারা। তবে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যেকোনো অপ্রীতিকার ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি ট্যুরিস্ট পুলিশসহ প্রশাসন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক, আরমান জানান, আমি গতকালকে (বুধবার) শেষ বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপবোগ করেছি, আজ (বৃহস্পতিবার) প্রথম বছরের প্রথম সূর্য উপভোগ করলাম, তবে কুয়াশার কারণে সূর্যমামাকে স্পষ্ট দেখতে না পারলেও পরিবেশটি খুবই মনোরম ও আনন্দের। আবার আসব ইনশাআল্লাহ।’
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল মাস্টার বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় এ বছর পর্যটক কম। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন, আমার প্রানের নেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোখে কম। তার শোকে আজ সারাদেশ শোকাহত।’
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, ‘বছরের শেষ আর নতুন বছরর পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আমরা সকল প্রশাসন প্রস্তুত।’
গত ১৬ দিন ধরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ফার্মসিগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হওয়া রোগীরা ভ্যাকসিন না পাওয়ায় ভোগান্তির পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা।
রোগীদের অভিযোগ, বেশকিছু দিন ধরে কুকুর ও বিড়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে। পথ চলতে গেলেই কুকুর-বিড়াল মানুষ ও গবাদি পশুর উপর আক্রমণ করছে। ভ্যাকসিনের জন্য হাসপাতালে যাওয়া হলে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নাই। অথচ বেশকিছু দিন আগেও হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সব ডোজ দেওয়া হতো। এখন সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিদিন লোকজন হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। ফার্মেসিতেও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না ভ্যাকসিন। দোকানিরা বলছে, ভ্যাকসিন সরবরাহ নাই, পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও দুই একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে, দাম নিচ্ছে দ্বিগুণ।
তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরবরাহ না থাকলে আমাদর করার কি আছে? যতদিন ছিল, ততদিন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা বলছেন, ফ্যাক্টারিতে ভ্যাকসিনের কাঁচামাল না থাকায় আপাতত সরবরাহ বন্ধ আছে। তবে, খুব দ্রুত সরবরাহ হবে।
এরকম কয়েকজন ভুক্তভোগী রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জেলার বিভিন্ন ফার্মসিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে সরকারিভাবে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ আছে। আগে বিভিন্ন পৌরসভায় ভ্যাকসিন দেওয়া হত, এখন সেটাও বন্ধ করা হয়েছে। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন কোম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে ছাড়পত্র হাতে ধরে দিয়ে ফার্মেসিতে ক্রয় করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগীরা জীবন রক্ষা করতে এক ফার্মেসি থেকে আরেক ফার্মেসিতে ছুটাছুটি করছেন। তবে, দুই একটি ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও তারা সুযোগ বুঝে তা চড়া দামে রোগীদের কাছে বিক্রি করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে। সংকট নিরসন বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েও ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। গত অক্টাবর মাসে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের যা পরিমাণ চাহিদা ছিল নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দ্বিগুন পরিমাণ চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে, গত ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জলাতঙ্ক রোগীর পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরমধ্যে ডিসেম্বর মাসের ভ্যাকসিন এখনও হাসপাতাল পৌঁছায়নি। এজন্য রোগীদের বাহির থেকে ভ্যাকসিন কিনে পুশ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল দ্বিতীয় ডোজের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন সদর উপজলার হিচমি গ্রামের মো. আল-আমিন। তিনি বলেন, প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন হাসপাতালে না পেয়ে অনেক কষ্টে এক ফার্মেসির দোকান থেকে ৯০০ টাকায় সংগ্রহ করেছি। এখন দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিতে আসলে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। এখন ভ্যাকসিন করা নিয়ে চিন্তায় পড়ছি।
গত শনিবার রাতে কুকুরের কামড়ে আহত হয় কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার বাসিন্দা আলাল হোসেন (২৮)। তিনি বলেন, পরের দিন রোববার সকালে ভ্যাকসিন দিতে জয়পুরহাট জেনারল হাসপাতাল গিয়ে ভ্যাকসিন পাইনি। ডাক্টার প্রেসক্রিপশন দিয়ে বলে ফার্মসি থেকে কিনে নিয়ে করেন। পুরো জয়পুরহাট জুড়ে কোন ফার্মসিতে ভ্যাকসিন পাইনি। বাধ্য হয়ে বগুড়া থেকে এমআরপির চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে পুশ করেছি।
আক্কলপুর থেকে আসা রোগী বেলাল হোসেন (৪০) বলেন, বাজারে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর আঁচড় দেয়। সকালে সদর হাসপাতালে আসি। এখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নাই। চিকিৎসকরা জানান, বাহিরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে নিয়ে পুশ করতে।
জয়পুরহাট শহরের সওদাগর ফার্মসির স্বত্বাধিকারী বাবু সওদাগর বলেন, কোনো কোম্পানিরই ভ্যাকসিন সাপ্লাই নাই। যাদের কাছে আছে, হয়তো তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে আমার জানা নই।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাসের জয়পুরহাট প্রতিনিধি (সেলস প্রমোশন অফিসার) জাহিদ হোসেন বলেন, ফার্মেসিগুলোতে ভ্যাকসিনের ব্যাপক অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। ডিপোতে সরবরাহ না থাকায় তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কাঁচা মালের সংকটের কারণে ভ্যাকসিনের সংকট তৈরি হয়েছে।
জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়ল বলেন, হাসপাতালে এখন একেবারে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে। রোগীর চাপ সামলাতে একটি ভ্যাকসিন চারজনকও ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। যখন একবারে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, তখন বাহির থেকে সংগ্রহ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযাগও করা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিনের সংকট নিরসন হবে।
জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. মো. আল-মামুন বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে কোনো ভ্যাকসিন মজুত নেই। যখন ভ্যাকসিন মজুত ছিল প্রতিদিন গড় ২৫০-৩০০ রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। এরমধ্যে অধিকাংশই রোগী প্রশাসন পরিবারের। তাদের পোষ্য প্রাণীর আচঁড় দেওয়ায় তারা ভ্যাকসিন নিতে আসেন। প্রশাসনের ব্যক্তিদের বলা হয়েছে, আপনারা পোষ্য প্রাণী পালন করলে নিজ থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রাখবেন। একারণে প্রকৃত আক্রান্ত রোগীরা ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না। আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি ভাবে হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে যশোরের দুটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান এই যাচাই-বাছাই শেষে যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ মোট সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে তথ্যের ঘাটতি থাকায় আরও চারজন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে তাদের তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, যেখানে বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির ও শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়নে ভোটারদের স্বাক্ষরে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের মনোনয়নপত্রের সিদ্ধান্ত বর্তমানে পেন্ডিং রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমানের মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছে।
অন্যদিকে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের আবেদনে ভোটার তথ্যে ত্রুটি থাকায় সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বিএনএফ প্রার্থী শামসুল হক এবং জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহকে তাদের তথ্য হালনাগাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদের মনোনয়ন বৈধ রয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন যে, আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে জেলার বাকি আসনগুলোর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে এবং যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা বিধি অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ পাবেন।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বর্তমানে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য ও জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক আচরণের বাইরে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জনআস্থার এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি কেবল দাপ্তরিক কাজে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে আরও সুসংহত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র শীতের প্রকোপ বাড়লে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা যেমন—নীলফামারী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন, রাস্তার ফুটপাত, বাস টার্মিনাল এবং প্রত্যন্ত তিস্তার চরাঞ্চলে শীতার্ত মানুষের মাঝে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেছেন। মানবিক এই কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করছেন এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি সরাসরি তদারকি করছেন। কোনো জরুরি অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তিনি তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন, যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর জন্য একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের উচ্চপদে থেকেও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান যেভাবে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং সমস্যা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন, তা অত্যন্ত বিরল।
শহরের একজন বয়স্ক নাগরিক তসলিম উদ্দিন বাবু জেলা প্রশাসকের এই কর্মতৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান জেলা প্রশাসক কেবল এসিবলয়িত অফিসে বসে থাকেন না, বরং তিনি সাধারণ মানুষের কাতারে এসে তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হন। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, শিক্ষা সহায়তা এবং দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কার্যক্রমে তাঁর সরব উপস্থিতি পুরো জেলার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন অনন্য মানবিকতা প্রদর্শনের জন্য তিনি জেলাবাসীর কাছে ‘জনবান্ধব প্রশাসক’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান তাঁর কাজের দর্শন সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেকে প্রশাসক হিসেবে নয় বরং মানুষের সেবক হিসেবেই দেখতে পছন্দ করেন এবং নীলফামারীর প্রতিটি মানুষের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানই তাঁর দাপ্তরিক কাজের প্রধান অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই মানবিক ও সেবামূলক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নীলফামারী জেলা সারা দেশের জন্য একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।