সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর রেলস্টেশন এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নেজামপুর রেলস্টেশনের প্লাটফরমের উত্তরে রেললাইনের ৩০৮/২ নম্বর পিলারের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রহনপুর থেকে ছেড়ে আসা মহানন্দা ট্রেনের এক টিকিট পরীক্ষক (টিটি) রেললাইনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে নাচোল থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের এসআই আশীষ সরকার জানান, নেজামপুর রেলস্টেশনের প্লাটফরমের অদূরে রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যপ্রাণী পাচারের এক সদস্য আটক করেছে বনবিভাগ। সেই সাথে বিপন্ন প্রজাতির ১টি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ব্যাক্তির নাম মোঃ হাদিস রহমান (৪০)।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া হাদিস রহমান ঢাকা মিরপুর-১১ (রোড নং-৩, কাঁচাবাজার সংলগ্ন) এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে।
গোপন সূত্রে জানাযায়, চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকার একটি বাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু বন্যপ্রাণী মজুত করে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে বনবিভাগের একটি দল সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়িটি থেকে হনুমান ও কচ্ছপগুলো উদ্ধারসহ পাচারকারী হাদিসকে আটক করা হয়।
চক্রটির সন্ধানে গিয়ে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে আসছিল। পরে এগুলো ঢাকা হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হতো। আটক হাদিস রহমান এই চক্রেরই একজন সক্রিয় সদস্য।
চুনতী বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান "আটক হাদিস রহমানের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ জানান, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটক এবং পাচার করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এই আইনে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় এই ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর নিজ জন্মভূমি শিবচরে সফর করেছেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি ও শিবচরের কৃতি সন্তান রেজাউল করিম মল্লিক।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে শিবচরে পৌঁছে সফরের শুরুতেই তিনি পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এ সময় তাঁর মেঝো ভাই মো. আবুল কালাম মল্লিক, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রেজাউল করিম মল্লিক এর আগে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ডিআইজি পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে উন্নীত হন।
শিবচরের মল্লিক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতির খবরে এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাঁকে একনজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে অনেকেই ভিড় করেন।
পরে তিনি শিবচর থানায় পৌঁছালে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে তিনি কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন,“অপরাধ দমন, মাদক, সন্ত্রাস, দালালি, চাঁদাবাজি ও প্রতারণা বন্ধে জিরো টলারেন্স বজায় রাখতে হবে। জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি থানার আধুনিকায়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং নাগরিকবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি থানার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন কাদের, শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
সফরের শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম মল্লিক শিবচর থানা প্রাঙ্গণে একটি পরিবেশবান্ধব ফলজ বৃক্ষ অ্যাভোকাডো গাছ রোপণ করেন।
স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত আইজিপির এই সফর শিবচরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং জনসেবামূলক উদ্যোগে নতুন গতি ও অনুপ্রেরণা যোগাবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৯ বছরের এক শিশুকে ওজু শেখানোর কৌশলে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসানুর নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার দুপুরে উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ইসানুর সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার মাছিমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি রূপগঞ্জে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে শিশুদের আরবি পড়াতেন।
জানা গেছে, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিশুটি প্রতিদিনের মতো ওই শিক্ষকের কাছে পড়তে গিয়েছিল। পাঠদান চলাকালীন একপর্যায়ে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ওজু শেখানোর অজুহাতে শিশুটিকে বাথরুমে ডেকে নেন ইসানুর। সেখানে শিশুটিকে হেনস্তা ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে চিৎকার শুরু করে। বাচ্চার আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন এবং পরে থানা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।পুলিশ অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানায় গ্রেফতার হওয়া হত্যা মামলার আসামি আরিফ ও সবুজ নামে ০২ জন- কে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা ও সদর মডেল থানা অবরুদ্ধ-ঘেরাওয়ের অভিযোগে আরও ০৭ যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । সোমবার (৮,জুন) রাতে শহরের পুরাতন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে উল্লেখিত দু'জনকে আটক করার পর এহেন ঘটনা ঘটে। পরে আসামিপক্ষের লোকজন থানা অবরুদ্ধ ও ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে পুলিশ ও জেলার অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের বাদামতলা এলাকার সবুজ ও নতুন মাদারীপুর এলাকার আরিফ নামের এই দু'জনকে একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। আটকের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আরিফ চৌকিদারের বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট দেখতে চান। এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশ আটক দু'জনকে সদর থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার অভিযোগে আরও সাত জনকে থানার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,শান্ত ঢালী (২০),সালমান ঢালী (১৯),আবির ঢালী (১৯),আজিম ঢালী (১৮),সাহেব বেপারী (১৭) তাদের সকলের বাড়ি নতুন মাদারীপুর এলাকায়।
অপরদিকে আটক ব্যক্তিদের স্বজন ও সমর্থকরা সদর মডেল থানায় জড়ো হয়ে আসামিদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুরো থানা এলাকাকে নিরাপত্তার বেষ্টনীতে ঢেকে ফেললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয়রা জানান, মাদারীপুর পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। তাদের দাবি, তিন মাস আগে ডিশ ব্যবসায়ী নতুন মাদারীপুর এলাকার আলমগীরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় যাদের আটক করা হয়েছে- তাদের মধ্যে কয়েকজন আলমগীর হত্যা মামলার আসামি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর সার্কেলের কর্মকর্তা ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আরিফ ও সবুজ নামে দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খুলনা মহানগরী এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা গতকাল সোমবার নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের কর্মকর্তা, নগরীর বিভিন্ন বাজার, দোকান, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরাও কাজ শুরু করেছি।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এবং এডিস মশা নির্মূলে তিনি সভায় উপস্থিত সকলের পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বাজারসমূহের অভ্যন্তরীণ ড্রেনসমূহ ও জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করার পাশাপাশি বাজারসমূহে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পৃথক কমিটি গঠন, ইজিবাইকের ব্যাটারী সংক্রান্ত দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনাসহ কেসিসি’র সাথে বেসরকারি সংস্থাসমূহের কাজের সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সী বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে মহানগরীর প্রত্যেকটি বড় ড্রেন ও খালের পানি প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে এবং সকল প্রকার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মশক নিধনে ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে। ফলে নগরীর অনেক স্থানে মশা হ্রাস পেয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমও যে কোন সময়ের তুলনায় গতিশীল করা হয়েছে। তবে এখনো ২০ শতাংশ ছোট ড্রেন পরিষ্কারের কাজ বাকি আছে যা বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই পরিষ্কার করা হবে।
কেসিসি প্রশাসক ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। কেসিসি’র পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক লিফলেট ছাপানো হয়েছে তা বিতরণের পাশাপাশি এ বিষয়ে মাইকিংও করা হবে। আগামীতে মিনিবাস, বাস ও ট্রাক মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে সভা আয়োজনসহ সকলকে সাথে নিয়ে একেকদিনে একেকটা সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য এ্যাপ তৈরি ও হটলাইন চালু করা হবে বলে তিনি উলেখ করেন। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহীন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আখতারুজ্জামান, জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম, নৌ-বাহিনী হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার মোসাদ্দেকুল, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ প্রদীপ দেবনাথ ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ মোস্তফা আল মামুন।
অন্যান্যের মধ্যে কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মোঃ অহিদুজ্জামান খান, ভেটেরিনারী সার্জন ড. ওপরু গোপাল বিশ্বাস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ আহমেদ, নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব মোঃ ওমর ফারুক, কেসিসি পাইকারী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, রূপসা পাইকারী কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ জাহান আলী, রূপসা সন্ধ্যা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ মেহেদী হাসান লিটন, কেডিএ নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম অলিকসহ কেসিসি’র ওয়ার্ড ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে ভোররাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশে একটি বাঁশ বোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির মুরগি বহনকারী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মুরগি বোঝাই ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা সবাই মুরগি বহনকারী ট্রাকের চালক ও শ্রমিক ছিলেন। তারা হলেন—জামালপুরের বকশিগঞ্জের চালক নূরনবী (৬৪), নওগাঁর পত্মীতলার সহকারী রফিকুল ইসলাম (১৮), নেত্রকোনার কেন্দুয়ার সাগর (২২) এবং ভোলার সুমন (২৬)। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি বাঁশ বোঝাই ট্রাকটিতে ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে সখীপুর থানার এএসআই মো. আল মামুন জানান, “নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের লোকজন আসলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।” বর্তমানে নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা থানায় পৌঁছালে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভোররাতের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে উল্টে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন যাত্রী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরের দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৈশামোড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের মুন্সি আরশ আলী ও শিশু আলিফ, সদর উপজেলার পাইকপাড়ার মৌসুমী দাস, নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের সেতু মজুমদারের ছেলে তনয় কুমার মজুমদার।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবাহী লোকাল বাসটি মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বৈশ্বামোড়া এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন যাত্রী নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানান, হবিগঞ্জের মাধবপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মেড্ডা বাস স্ট্যান্ডে আসছিল। পথিমধ্যে বৈশ্বামোড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক চাপ দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চারযাত্রী নিহত হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল সরকার বলেন, আমাদের কাছে এখনো কোনো মরদেহ আসেনি। আহত ৬ জন এসেছে, তাদেরকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। সবার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
বাংলাদেশ বর্তমানে বহুমাত্রিক জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৫ কোটি কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ০.৪ শতাংশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন বক্তারা।
সোমবার (৮ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। জলবায়ু সংকট ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ: টেকসই ও ন্যায্য বাংলাদেশের পথে যাত্রা’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করেছে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ (এনএজেটিবি)।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বিএলএফ প্রোগ্রাম অফিসার মো. জুবায়ের আলম জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০২৬ সালেও অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রির ওপরে রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আগামী জুন-আগস্টে ৮০ শতাংশ সম্ভাবনায় এল নিনো পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে।
আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, তীব্র গরম, বিদ্যুৎ সংকট ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে শ্রমজীবী মানুষ ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমিকরা হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে নারীদের পুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা সতর্ক করেন, জলবায়ু পরিবর্তন শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থানের ধরন বদলে দিচ্ছে, ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশলে জলবায়ু সহনশীলতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি), জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যের সঙ্গে জলবায়ু কর্মকৌশলকে সমন্বয়ের আহ্বান জানান।
সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ সুলতান উদ্দিন, প্রধান সমন্বয়ক এন আহম্মদ, ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশের সমন্বয়ক নুরুল আমিন, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) কুতুবুদ্দিন আহমেদ, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) আবুল কালাম আজাদ এবং ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, দেশের শিল্পনীতি এখনো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকেন্দ্রিক, আর শ্রমিকরা জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা থেকে বহুলাংশে বাদ পড়ে আছেন।
ইউথনেট গ্লোবালে নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, তরুণরা জলবায়ু সংকট এবং ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার দুইয়েরই উত্তরাধিকারী হবে। সবুজ কর্মসংস্থান, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে তাপ সুরক্ষায় বিনিয়োগ জরুরি।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঞ্জু (৩৩) নামে এক লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
সোমবার সকাল দশটায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মঞ্জু স্থানীয় আলিফ কাচ্চি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন। তার পৈতৃক নিবাস গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ গ্রামে হলেও তার পরিবার নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে নিজ বাসার পাশের একটি নলকূপের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল শিশুটি। এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্জু পানি খাওয়ার অজুহাতে শিশুটির কাছে গিয়ে তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। শিশুটির মা বিষয়টি দেখে ফেলে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মঞ্জুকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মঞ্জু দাবি করেন, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ভবেরচর ঈদগাহ এলাকার আলিফ কাচ্চি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। সোমবার সকালে ডিউটি শেষে তিনি নয়াকান্দি গ্রামে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। নলকূপের পাশে শিশুটিকে একা পেয়ে নাম জিজ্ঞেস করতেই স্থানীয়রা তাকে মারধর শুরু করে। তিনি কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং স্থানীয়দের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে উদ্ধার করি। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জাতীয় বাজেটকে ঘিরে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক, কুয়াকাটার সমন্বিত উন্নয়ন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ এবং বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বরিশাল অঞ্চল এখনো অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ঢাকা থেকে বরিশালের দূরত্ব মাত্র ১৭০ কিলোমিটার হলেও ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। পদ্মা সেতু চালুর পর ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। ২০১৮ সালে জমি অধিগ্রহণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কার্যক্রম সম্পূর্ণ হয়নি। বর্তমানে মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত এই মহাসড়ক ব্যবহার করছে দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার মানুষ। একই সড়ক দিয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর ও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় যাতায়াত করতে হয়।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এবায়েদুল হক চান বলেন,পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশালে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী পিছিয়ে যাচ্ছেন। ছয় লেন মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে বরিশাল থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র দুই ঘণ্টা। এতে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দ্বিতীয় বড় দাবি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সমন্বিত উন্নয়ন। দেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়, সেই কুয়াকাটা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও ভাঙনের শিকার।
গত প্রায় তিন দশক ধরে উপকূলীয় ভাঙনে সৈকতসংলগ্ন ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠালেও পরিকল্পনা কমিশন তা অনুমোদন দেয়নি। সর্বশেষ প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটার উন্নয়ন শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন নয়, এটি পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। চলতি বাজেটে কুয়াকাটার জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
দীর্ঘদিন ধরে ভোলা জেলার মানুষের অন্যতম দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গ্যাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ভোলা জেলার মানুষ এখনো নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। সন্ধ্যা নামলেই অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতার বাস্তবতায় পড়তে হয় তাদের।
ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন,একটি সেতুর অভাবে পুরো ভোলা পিছিয়ে রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমরা বঞ্চিত। বর্তমান বাজেটে ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকবে বলে আমরা আশা করছি।
বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হলেও এখনো এখানে পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা গড়ে ওঠেনি। হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন হেমারেজ, জটিল অর্থোপেডিক সার্জারি, ওপেন হার্ট সার্জারি কিংবা হৃদরোগের রিং পরানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়।
বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন,বরিশাল সম্ভবত দেশের একমাত্র বিভাগীয় শহর যেখানে এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই। একটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক, কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়ন, ভোলা-বরিশাল সেতু এবং বরিশালে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ—এই চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এখন জাতীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তবায়নের পথেই হাঁটবে বহুল প্রতীক্ষিত এই চার প্রকল্প।
বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে ভারতে আটককৃত বাংলাদেশি জেলেদের গ্রহণ ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংলগ্ন ভারতীয় জলসীমায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণের অভিযোগে গত ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ২০ জানুয়ারি ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতীয় কোস্ট গার্ড ৪ টি বাংলাদেশি ফিশিং বোটসহ ৯১ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে।
পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলে ও ফিশিং বোটসমূহ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইন (IMBL)-এ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের নিকট হতে ৯১ জন বাংলাদেশি জেলেকে ৪টি ফিশিং বোটসহ গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের ফলে এ ধরনের প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সহজতর হয়েছে।
পরবর্তীতে সোমবার (৮ জুন) বেলা ১২টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলায় জেলেদের তাদের ফিশিং বোটসহ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাকমান্ডার শাহ্ কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও দেশের জেলেদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড ডকইয়ার্ড ও বেজসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে স্থানীয়রা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে শারীরিক গঠন দেখে পুলিশের ধারণা মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর হতে পারে।
এ বিষয়ে গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছি। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।