বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


বুধবার সৌদির সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের ১৬ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন হবে

আপডেটেড ২৭ মে, ২০২৬ ০৩:০১
নিজস্ব প্রতিনিধি

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের তিনটি উপজেলার ১৬টি গ্রামে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।

জেলাটির সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার এসব গ্রামের সুরেশ্বরী ও কুতুববাগী তরিকার অনুসারী মুসল্লিরা প্রতি বছরের মতো এবারও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় এবং কোরবানি সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ইতিমধ্যে শেষ মুহূর্তের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি পরিবারগুলোতে কোরবানির পশু কেনার কাজও শেষ হয়েছে।

বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ আব্দুল করিম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শরিয়ত সম্মতভাবে সৌদি আরবের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন এবং এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই আগাম ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মাঝে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।


আকাঙ্ক্ষিত পর্যটক মিলবে কি? ঈদের আগে বুকিং সংকটে মৌলভীবাজারের পর্যটন পল্লী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে পর্যটকদের ঢল নামে। সবুজ চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত আর বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোর চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় এবার ম্লান হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এবং সড়ক ও রেলযোগাযোগের বেহাল দশার কারণে এবার ঈদ মৌসুমে পর্যটক সমাগম আশঙ্কাজনক হারে কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


সাধারণত ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এক মাস আগেই এখানকার হোটেল-রিসোর্টগুলোর প্রায় শতভাগ অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ঈদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন, তারা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ভ্রমণ স্থগিত করছেন।

শ্রীমঙ্গলের নভেম ইকো রিসোর্ট, বালিশিরা, চাওমিন এবং কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ও অরণ্য নিবাস রিসোর্টের মতো জনপ্রিয় থাকার জায়গাগুলোতে প্রতি ঈদে বুকিংয়ের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। তবে এবার এখনও সিংহভাগ কক্ষই খালি।

রাধানগর পর্যটন কল্যান পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নিসর্গ নিরব ইকো কটেজ এর মালিক কাজী সামছুল হক বলেন, "ঈদ একেবারে সন্নিকটে , অথচ এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। তবে ঈদের ছুটি চলাকালীন শেষ মুহূর্তে আরও কিছু বুকিং হতে পারে বলে আশা করছি।"

পর্যটক কমে যাওয়ার এই ধাক্কা শুধু হোটেল-রিসোর্টেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ট্যুর গাইডদের ওপরও। শ্রীমঙ্গল রাধানগরের চামুং রেস্টুরেন্টের মালিক তাপস দাস জানান, ঈদে পর্যটকদের কারণে তাদের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবার পর্যটক কমলে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। কারণ এই ঈদ মৌসুমের আয়ের ওপরই বছরের একটি বড় অংশের ব্যবসা নির্ভর করে।

ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন মন্দার পেছনে শুধু হাম আতঙ্কই একমাত্র কারণ নয়, এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনুন্নত অবকাঠামো ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজ এবং পর্যটন এলাকার সংযোগ সড়কগুলোর খারাপ অবস্থার কারণে সড়কপথে ভ্রমণ কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। ঢাকা-সিলেট রেলপথে চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেক কম। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় বিদেশী পর্যটকের আগমন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরের ব্যবস্থাপক সেলিম আহমেদ এবং পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইড অপারেটর এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও যানজটের কারণে দেশী-বিদেশী পর্যটকেরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

পর্যটক আগমন কম হওয়ার শঙ্কা থাকলেও, যারা আসবেন তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে মাঠে থাকবে। এছাড়া দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আশেপাশের সড়কগুলোতে যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে পর্যটন পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকরা আবারও চায়ের রাজধানীতে ফিরে আসবেন এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের পর্যটন শিল্প।


শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে ১০ বছর বয়সি দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১০টার দিকে মেডিক্যাল কলেজের সেন্ট্রাল মসজিদের সামনের দিঘি থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত মো. আরাফাত মল্লিক (১০) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চৈতা রঘুনাথপুর এলাকার বিপ্লব মল্লিকের ছেলে ও ঢাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র এবং মৃত আকাশ (১০) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা মো. বেল্লাল এর ছেলে ও বরিশাল নগরের ভাটারখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মৃত আকাশের চাচা মাসুদ জানান, মৃত আকাশ তাদের সাথে বরিশাল নগরের বান্দরোডস্থ চরের বাড়ি এলাকায় বসবাস করেন। দুপুরে পরিবারের সবার অজান্তে বাসা থেকে বের হয়, এরপর রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে আকাশের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাই।
অপরিদেক আরাফাত মল্লিক মামা সুরুজ জানান, আরাফাত বাবা মায়ের সাথে ঢাকায় থাকেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে গতকাল ঢাকা থেকে বরিশালে তার (মাম) বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। দুপুরে আকাশের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়। এরপর খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারি দুপুরে তারা গোসলের জন্য মেডিক্যাল কলেজের দীঘিতে আসছিল। এরপর সেই দিঘি থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার নজরুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘির ঘাটলাতে আসেন তারা। এরপর ডুবুরি শাহিনের নেতৃত্বে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর স্বজনরা মরদেহ বুঝে নিয়েছেন।


ঈদযাত্রায় স্থবির ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ৪০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কের এই বিশাল অংশে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।

মহাসড়কের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুর থেকে উত্তরাঞ্চলগামী বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জটলা। এর ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলো ছুটি হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকসহ সাধারণ যাত্রীদের ঢল নামে। এর ওপর দিনের বেলা মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার যাত্রী সড়কে আটকা পড়লে এক পর্যায়ে যানবাহনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। সন্ধ্যার পর থেকে যখন বড় বাস ও মালবাহী ট্রাকগুলো একযোগে সড়কে নামতে শুরু করে, তখন থেকেই যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্তও যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে মির্জাপুর থেকে কালিয়াকৈর অংশে যানজটের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করায় মহাসড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে প্রায় ২০ লাখ মানুষ গাজীপুর ছাড়ছেন, যার ফলে যানবাহনের এই বিশাল চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। যানজট নিরসনে এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ না কমা পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম।


ছাগলনাইয়ায় ড্রাম ট্রাক ও নোহার ভয়াবহ সংঘর্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী (ছাগলনাইয়া) প্রতিনিধি

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে মঙ্গলবার (২৬ মে) একটি বালু বোঝাই ড্রাম ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ভোর ৫টার দিকে সংঘটিত এই মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন চালকসহ ভেতরে থাকা তিন আরোহী। তারা সবাই সামান্য আঘাত পেলেও বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ড্রাম ট্রাকটির চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


বাসাইলে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ৮টার দিকে বাসাইল-ভাতকুড়া আঞ্চলিক সড়কের বিয়ালা পূর্বপাড়া ব্র্যাক অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসাইল-ভাতকুড়া সড়কের বিয়ালা পূর্বপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও সিএনজির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাহন দুটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেল আরোহী ও সিএনজি যাত্রীসহ মোট ৫ জন গুরুতর আহত হয়।

​দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

​অপর তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে তাদেরকেও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

​শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


পটুয়াখালীতে ১৪ লক্ষ টাকা মূল্যের সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা জব্দ, আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ হতে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

উক্ত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) ও মৎস্য অধিদপ্তর সমন্বয়ে আজ ২৬ মে ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় পটুয়াখালী সদর থানাধীন টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি পিকআপ তল্লাশি করে প্রায় ১৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ৭৫০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ ও ১৩০০ কেজি জাটকাসহ পিকআপ, চালক ও ২ জন হেল্পারকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিষিদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা পরিবহনের অপরাধে চালক এবং হেলপারদ্বয়কে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত মাছ পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পটুয়াখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্থানীয় মাদ্রাসা, গরীব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি পশু কুরবানি দেয়া হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি গবাদিপশু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কুমিল্লা মহানগরের নেউরা পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী জানান যে, কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রান্তিক চাষি ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একেবারে প্রান্তিক চাষি থেকে শুরু করে ক্রেতা পর্যন্ত কোরবানির পশুর ক্রয়-বিক্রয় যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়, সে জন্য সরকার সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”

মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আরও উল্লেখ করেন যে, কোরবানির পশু লালন-পালন বর্তমানে দেশের লাখো পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস এবং এটি একটি শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করছে। হাটের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন রয়েছে যারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করছে। এছাড়া জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন এবং চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় তদারকি অব্যাহত থাকবে।

পরিদর্শনকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু), জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। ঈদের আগমুহূর্ত পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারেন।


ঈদ-উল-আযহায় জননিরাপত্তায় বিশেষ সতর্ক অবস্থানে র‍্যাব-৫

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ২০:৫৫
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে এবং ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‍্যাব-৫, রাজশাহী। রাজশাহী মহানগরীসহ দায়িত্বপূর্ণ পাঁচটি জেলায় (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ এবং জয়পুরহাট) বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টায় সিটি হাটে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন র‍্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার মোঃ মাহমুদুর রহমান, পিএসসি।

তিনি বলেন ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষ যেন ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির কবলে না পড়েন, সেজন্য রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, সিটি হাট মোড়, নওহাটা ব্রিজ এবং বেলপুকুর বাইপাস এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে র‍্যাব।

তিনি আরেও জানান সিটি হাটসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পশুর হাটগুলোতে ছিনতাই, জাল টাকা লেনদেন ও চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও বর্তমান গরম আবহাওয়া ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় সিটি হাটে আগতদের জন্য র‍্যাব-৫ এর উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‍্যাব।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে র‍্যাবের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। গুজব শনাক্ত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৫ এর অধিনায়ক বলেন, “শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আসন্ন ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ঈদকেন্দ্রিক ছুটিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় র‍্যাব-৫ সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ র‍্যাব ক্যাম্প বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।


সাত বছরের শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মাহিগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস দেওয়ার কথা বলে পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বদিয়ার জামান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জের কলাবাড়ি এলাকায় চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেতে নির্যাতনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে বদিয়ার জামান দ্রুত পালিয়ে যান। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক রাতেই মাহিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান যে, “মামলার পরপরই মাহিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে একটি দল অভিযানে নামে।” পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছাড়লেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিঠাপুকুর উপজেলার রাধাবল্লভপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তার বদিয়ার জামান পেশায় একজন শ্রমিক এবং তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকলেও মাঝে মাঝে রংপুরে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ মতে, ওই ব্যক্তি এলাকায় লম্পট হিসেবে পরিচিত এবং তার একাধিক বিবাহের তথ্য পাওয়া গেছে। কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, “গ্রেপ্তার আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” ভুক্তভোগী পরিবার যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য পুলিশ আদালতে অতি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে


শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে ভৈরবের গরুর হাট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গরুর হাট। আর মাত্র একদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহর তালার সন্তুষ্টির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে ভৈরবের পশুর হাটগুলিতে ভীঁড় করছেন ক্রেতরা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে ভৈরব শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু সংলগ্ন বৈশাখী মেলার মাঠে আয়োজিত সবচেয়ে বড় পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভৈরব শহরের বাসিন্দারা কোরবানির জন্য পশু কিনতে বাজারে ভীঁড় করছেন। তারা তাদের সাধ্যের মধ্য পছন্দের পশু কিনতে দরদাম করছেন। কেউ পছন্দের পশু কিনে বাজার থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন৷ আবার কেউ পরিবারের স্বজনদের সাথে নিয়ে পশু কিনতে বৃষ্টি ভেজা কাঁদার মধ্যে ছুটছেন তারা।

এসময় কথা হয় স্থানীয় ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মো.শাহেদ আহমেদ বলেন, আমরা যারা শহরে বসবাস করে থাকি তারা তো ঈদের আগের দিনই কোরবানীর পশু কিনতে হয়। কারণ বেশি আগে কিনলে গরু রাখা ও লালন পালন করার মত পর্যাপ্ত জায়গা ও লোকজন না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই আজকে হাটে এসেছি দেখছি দরদাম করছি যদি কথাবার্তায় গরুর দাম ঠিক হয়ে যায় তাহলে কিনে নিয়ে যাবো।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, কোরবানীর জন্য পশু কিনতে দামের কথা চিন্তা না করাই ভালো। কারণ আল্লাহতালাকে সন্তুষ্টির জন্য আমরা কোরবানী দিয়ে থাকি। তবে প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানী দিয়ে থাকেন। এবছর বাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাড় গরু কিনেছি।

কালীপুর এলাকার খামারী মাহবুব মিয়া বলেন, ভৈরবের গরু বাজারে শেষ মুহুর্তের ভালো বেচাকেনা হয়ে থাকে। আজকে বিকালের পর হাটে ভালো গরু বেচাকেনা হয়েছে। আমার খামারের ১০টি গরু বিক্রি করেছি। এখনো আরো গরু বিক্রির বাকী রয়েছে। আশা করছি কালকের মধ্যে সকল গরু বিক্রি হয়ে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া থাকায় হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

নিহত ফিরোজ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী-কন্যা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদীতে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলো উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৯) ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাঁদের শিশুকন্যা জান্নাত আক্তার।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছিলেন ফিরোজ মাহমুদ। বাটাজোর এলাকায় যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় তিনজন।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো.

মিজানুর রহমান জানান, পেছন দিক থেকে ধাক্কা লাগায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে।


ছদ্মবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করলো র‍্যাব

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ১৮:০৯
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছদ্দবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধারসহ জাকির হোসেন (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্প সদস্যরা। সে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমানের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সড়ক পথে মাদকের একটি বড় চালান আসছে। তারই সুত্র ধরে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার জাকির হোসেন নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারির বসতবাড়িতে ছদ্দবেশে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। পরে মাদক কারবারির দোকান ঘরের ভিতরে খুঁড়খুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ৫ বস্তা (১১৬ কেজি) মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক কারবারি জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।

এবিষয়ে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তপন সরকার জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গরুর হাটসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সড়কপথে একটি চক্র সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা ছদ্দবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা নজরদারিতে কুখ্যাত মাদক কারবারি জাকির হোসেনের দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তায় ১১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কারবারিকে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে তিনি জানান।


banner close