বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


নির্বাচিত

মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মিঠামইনে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নরিছলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সাফিউর রহমান শাফি, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ ৭টি ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক নারী-পুরুষ।

সভায় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যুবসমাজ আজ মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে আমাদেরকেই হাল ধরতে হবে। পরিবার থেকে সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। আমাদেরও উচিত প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তারা অধিক মুনাফার লোভে যুব সমাজকে মাদকের দিকে আসক্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করছি। ৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, এখন শেষ বয়সে এসে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেমেছি। শুধু যুব সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য।’

সভায় বক্তারা মিঠামইনকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

সাইবার নিরাপত্তাসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ বিষয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিজের সংসদীয় আসন ভোলা-১-এর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য আইন আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করছি। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, তাদের সঙ্গে বসছি। বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি, কীভাবে বিষয়টি এগিয়ে নেয়া যায়। যাতে আপনারা (সাংবাদিক), আমরা এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পান। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করি, সামনে এ বিষয়ে ভালো কিছু আসবে।’

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে থেকেই এ বিষয়ে কথা বলে আসছেন তিনি। এবার হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।’

এদিকে নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সাংবাদিক না, এটা যে কারোই যদি ঘটনা হয়ে থাকলে, তাহলে প্রচলিত আইনে যা আছে সেভাবেই হবে।’

এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিজেপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব হলো: মীর শাহে আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বাংলাদশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি আলাদা অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‌‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরাম।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দুধর্মের ভাইদের পকেটের লোক মনে করত। সেখান থেকে তারা বের হয়ে এসে আমাদের প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে, আমাদের বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে হাজারো (৩৩,৮৫১টি) পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালন হয়েছে। এটা আমাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে, বিশ্বাস রেখেছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য তারেক রহমানের জনগণের সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আমরা দিতে পেরেছি।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রশাসন এবং বিএনপির লোকজন একসঙ্গে পূজামণ্ডপগুলো পাহারা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের এ বড় উৎসবকে আমরা সমাপ্ত করতে পেরেছি।’


নির্বাচিত

আগামী ১০ বছরেও হাসিনার দেশে ফেরা সম্ভব না: স্পিকার

ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে অনুধাবন করা যায়, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপরও তার আস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় নিজের সংসদীয় আসনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘সমাজের নিকৃষ্ট যে লোকটা, সেটাই এমপি-মন্ত্রী হয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন স্পিকার। বৃহস্পতিবার ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি এসব কথা বলেছেন। তাদের আমলে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে সমাজের ভালো মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ অবস্থার অবসান হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা নেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি পদ্ধতি নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে দেশের মোট গ্যাসের মজুতের সমপরিমাণ গ্যাস ইতোমধ্যে ভোলায় পাওয়া যাচ্ছে। তার আশা, সেখানে আরও বিপুল গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে।

স্পিকার বলেন, ভোলার গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে সরকার বিদেশে যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহজ বিকল্প ভোলাতেই রয়েছে। ভোলার গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর ও ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ফরিদগঞ্জের এসিল্যান্ডকে আদালতের শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে (এসিল্যান্ড) কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন এ নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন ১৭ তারিখ এই আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তদন্ত করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় সময় দেন। এরপরও প্রতিবেদন না পাওয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আবারও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে একটি দরখাস্তের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের অগ্রগতি জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তদন্ত করতে পারবেন না বলে জানান।

পরবর্তী সময়ে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেননি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বারবার সময় দেওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়া আদালতের আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও আদালতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। এতে বিচারপ্রার্থীর দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

এ অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৮৫ ধারার বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ আদেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ভোটের পাঁচ দিন আগে স্থগিত বাইশিমাসের নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটের মাত্র পাঁচ দিন আগে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ ছাড়াই সব নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি শুরুর ঠিক আগের শেষ কার্যদিবসের রাতে নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে নির্বাচন বন্ধের পেছনে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হয়নি। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ভোটের চূড়ান্ত মুহূর্তে কোনো নিয়মনীতি না মেনে একতরফাভাবে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা বাণিজ্য সংগঠন আইনের পরিপন্থি এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার স্পষ্ট অপচেষ্টা।

নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের পর তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সদস্য ও প্রার্থীরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছেন এবং অবিলম্বে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। প্রার্থীদের মতে, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণার পর একেবারে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই ব্যবসায়ী সংগঠনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনমুখী খাতের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হলো হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) শিল্প। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাইশিমাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন এভাবে স্থগিত হওয়ায় সংগঠনের সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্ব নির্বাচন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অবিলম্বে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

মাসে ২২ ডিজে পার্টি, অংশ নিতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-ব্যাংকাররাও

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এ তথ্য জানান।

ইলিয়াস কবির বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ভবনটিতে প্রবেশের পর ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল।’

ডিসি ইলিয়াস কবির আরও দাবি করেন, পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারও ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন।’

ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, ‘এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন।’

প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই বাড়ি থেকে আটক ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে এই কর্মকর্তা জানান, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী

গর্ভবতী নারী আঁখি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

‘গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি’ সম্প্রতি এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। এতে ফুটে ওঠে গর্ভবতী নারী আঁখির অসহায়ত্ব। সেখানে বলা হয়- ওই নারী তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন। তার স্বামী অসুস্থ। অভাবের তাড়নায় তিনি অনাগত সন্তানকে ‘বিক্রি’ করতে চান। পরে প্রকাশিত সংবাদটি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিনই তিনি মানবিকভাবে বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পরই আঁখি ও তার পরিবারের সন্ধান করা হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আঁখির স্বামী দীর্ঘদিন ধরে রোগে আক্রান্ত। স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে পরিবারটি ঋণের বোঝায় জর্জরিত। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের অসহায় চেষ্টা থেকেই আঁখি তার গর্ভের সন্তান ‘বিক্রি’ করার মতো কঠিন ও হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে বাধ্য হন।

বিষয়টি জানার পর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আঁখি ও তার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্তান প্রসবের সমস্ত খরচ বহনসহ কর্মসংস্থানেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।


নির্বাচিত

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস; বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মাদারীপুরের রাজৈর থানার বদরপাশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় সোহাগ ফকিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর রাজৈর থানা-পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের সময় সোহাগ ফকিরের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোনসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ইঞ্জিন বিকল, সোয়া ৩ ঘণ্টা পর ছাড়ল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ইঞ্জিন বিকল হয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সোয়া তিন ঘণ্টা আটকে থাকার পর ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়।

এর আগে, বিকেল ৪টায় ট্রেনটির ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করতে পারেনি ট্রেনটি। এতে স্টেশনে আটকে থেকে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার খলিলুর রহমান।

তিনি জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি প্ল্যাটফর্মে সোয়া তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করা হয়।


নির্বাচিত

দুর্নীতি বন্ধে আগে নেতাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

দেশে কার্যকরভাবে দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সবার আগে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নেতাদের নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্থানীয় শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতি নির্মূলের প্রথম শর্ত হলো যারা মুখে দুর্নীতি বন্ধের কথা বলছেন, সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সততা নিশ্চিত করা; তা না হলে এ সংক্রান্ত যাবতীয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

সভায় শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসিকতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শিক্ষকদের জন্য দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে শিক্ষকদের গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে শিক্ষকদেরই সময়োপযোগী ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার টাকা-পয়সার লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিদের স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কর্তৃক প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা অসৌজন্যমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না।

তবে কেবল ব্যবস্থাপনা কমিটি নয়, শিক্ষকদেরও নিজেদের পেশাগত দায়িত্বশীলতার বিষয়ে সতর্ক করেন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা লুটপাটে জড়ান, তবে সেটিও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। শৈলকুপার এই মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে কথিত দুই ‘জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার মূলপাইততন গ্রামের মো. রাজিব (২৮) এবং একই থানার ফুলকাচিয়া গ্রামের মো. সুমন (২৬)। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বোরহানউদ্দিনের কুঞ্জেরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে দীর্ঘ আট মাস প্রযুক্তিগত তদন্ত চালিয়ে এই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলামের পরিচিত এক ব্যবসায়ী বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে চক্রটি। এরপর জরুরি আর্থিক প্রয়োজনের কথা জানিয়ে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পূর্বপরিচয়ের সূত্রে বিশ্বাস করে রশিদুল ওই দিন দুপুরে আটটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে দফায় দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর বিজয় বাবুর মূল অফিসে যোগাযোগ করে রশিদুল নিশ্চিত হন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ঘটনার পর রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তার ছাড়াই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব পায় ফরিদপুর পিবিআই। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মাজিদুল হক খান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন, এই চক্রের সদস্যরা সারাদেশেই সক্রিয়। বিশেষ করে টাকা সংগ্রহের জন্য চক্রটি সুমন নামের এক পা হারানো শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে ব্যবহার করত। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালানোর আড়ালে ক্রাচে ভর দিয়ে বিভিন্ন এলাকার বিকাশ ও নগদ ক্যাশ আউট পয়েন্ট থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি, যেন শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্থানীয়রা সহজে সন্দেহ না করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, চক্রটির প্রতারণার কৌশল ছিল বহুবিধ ও সুপরিকল্পিত। গভীর রাতে তারা বিশেষ করে নারীদের ফোন করে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিত এবং ফোনের পাশে অদ্ভুত শব্দ বাজিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করত। এরপর পরিবারের সদস্য হারানো বা চরম বিপদের আতঙ্ক তৈরি করে তা থেকে উদ্ধারের নামে ভয় দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামকরা তান্ত্রিক ও কবিরাজ সেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কঠিন বা গোপন রোগমুক্তি, প্রেমে সফলতা এবং পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই নিশ্চিত করেছে যে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম আরও জানান, এই প্রতারক চক্রে মোট পাঁচজন সক্রিয় সদস্য জড়িত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও চক্রের বাকি তিন সদস্যের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

আগামী গ্রীষ্মের আগেই তিন-চার হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

যশোর জেলা বিএনপি অফিসে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ইতিবাচক সাড়ার কারণে আগামী গ্রীষ্মের আগেই এ খাত থেকে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জনগণের আগ্রহের প্রেক্ষিতে সরকারও নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে, যার ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে দেশের প্রথম কোনো রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে যশোর জেলা বিএনপি অফিসে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত নীতি মেনে যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে ৬ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে, যা দেশের কোনো রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপিত এই প্যানেলের ব্যবহারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুবিধা রয়েছে এবং আগামী ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে এর খরচ উঠে আসবে। এই উদ্যোগ দেখে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পর্যায়ক্রমে সেচ পাম্পগুলোকেও সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। এর ফলে ডিজেল ও সাধারণ বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close