রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


নির্বাচিত

ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রাফিক্স ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, বিমানবাহী রণতরিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা এবং ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার ঘটনায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষমতা মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং আরেকটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছেন, সপ্তাহান্তেও হামলা হতে পারে। অন্যদিকে, কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার সময় নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তোলা হচ্ছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের বোমা হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মজুত করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, রণতরিতে দূর থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের উপযোগী বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা হচ্ছে।

রণতরিতে বিরল এক সফরের সময় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক শেলবি হলিডে বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদের বাক্স স্তূপ করে রাখতে দেখেছেন। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী অস্ত্র লোড করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সামরিক বাহিনী নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। এসব অস্ত্র ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার উপযোগী।

বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা। সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। তবে নতুন করে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রচলিত সামরিক স্থাপনাগুলো আগের হামলাতেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে হামলা চালানো হলে তার প্রভাব ক্রমেই বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পড়তে পারে। এতে সংঘাতের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দ্রুতই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। তবে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে, নাকি নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি এবং রণতরিতে অস্ত্র মজুতের খবর নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।


নির্বাচিত

উৎপাদনের অপেক্ষায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর (পাওয়ার স্টার্টআপ) লক্ষ্যে ইউনিটটি সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উচ্চপর্যায়ের একটি রুশ প্রতিনিধিদল। এ সময় তারা রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের প্রথম ক্রিটিক্যাল পর্যায় ও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রুশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রীয় করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। এতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন এবং অপারেটিং সংস্থা এনপিসিবিএলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে এবং অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে করণীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। ইউনিট-১ এর বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পেলেই আমরা সি স্টেজে প্রবেশ করে পাওয়ার স্টার্টআপের দিকে যাব।

জাহেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রক্রিয়ার সফল অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে ২৫ অক্টোবর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে পরবর্তী ধাপে উত্তরণের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করছে।


নির্বাচিত

ইলিশ ধরা বন্ধ, সরকারি চাল না পেয়ে দুর্ভোগে জেলেরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি

নির্ধারিত সময়ের সতের দিন অতিবাহিত হলেও ভোলার লালমোহনের ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলেদের বরাদ্দকৃত মৎস্য ভিজিএফ চাল এখনো পায়নি। ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেনি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, তালিকা প্রস্তুত এবং সমন্বয়হীনতার কারণে এখনো চাল বিতরণ করা হয়নি, তবে দ্রুত সমেয়র মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রতি বছর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার এই বাইশ দিন সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রিও আইনত দণ্ডনীয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এই উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও জেলেদের জন্য সময়টি কঠিন মুহূর্ত।

জেলেরা এই বাইশ দিন জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। এ সময় জেলেদের জন্য সরকার ২৫ কেজি চাল দিয়ে থাকেন। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। জেলেদের দাবি তালিকাভুক্ত হয়েও প্রকৃত জেলে হিসেবে চাল পান না তারা। লালমোহন উপজেলায় মোট ২৪ হাজারেরও বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও চাল বরাদ্দ হয়েছে ২১০০০ হাজার জেলের জনের জন্য।

উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহমেদ আখন্দ জানান, চাল বিতরণের জন্য অফিস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বারবার তাগিদ দেওয়া হয়। তবে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

চাল বিতরণেও বরাবরই অসচ্ছতার অভিযোগ থাকে। তবুও নদীতে নিষিদ্ধ সমেয়র আগেই বরাদ্দকৃত চাল পাবেন এমনটাই আশা করেছিলেন জেলেরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ প্রান্তে, তবুও জেলেদের হাতে এখনো চাল পৌঁছেনি। নির্ধারিত সময়ে চাল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন জেলেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এ সময় ধারদেনা করে তাদের চলতে হয়। এতে করে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে।

উপজেলার মেঘনা পাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি, রুবেল মাঝিসহ কয়েকজন মাঝি জানান, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকে। এ সময় সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা আমাদের। সঠিক সময়ে চাল না পাওয়ার কারণে আমাদের ঋণ আরও বাড়ছে এবং অনেক কস্টের মধ্যে দিন কাটছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে পারছে না জেলে পরিবারগুলো। এদিকে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা ধারদেনা করে শোধ করতে হয়।

সূত্র জানা যায়, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের সমন্বয় এবং তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক ইউনিয়নে জেলেরা এখনো সরকারি সহায়তার চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যানরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, মৎস্য অফিস থেকে তালিকাসম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ইউনিয়নের চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য বলেছি।


নির্বাচিত

স্বাধীনতার পর প্রথমবার প্রশস্ত হচ্ছে সিংড়ার ১৬ কিমি সড়ক

সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম সড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরু সড়ক দিয়ে চলাচলে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নকাজ শেষ হলে এসব ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমবে।

চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর বলেন, ‘১৯৭১ সালের পর প্রথমবার সড়কটি প্রশস্ত হচ্ছে। কাজটি শেষ হলে মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’

সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, ‘সড়কটির নির্মাণকাজে ওয়েট মিক্স ম্যাকাডাম (ডব্লিউএমএম) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট অনুপাতে খোয়া, বালি ও পানি মিশিয়ে সড়কে বিছানো হয় এবং যন্ত্রের সাহায্যে চাপ দিয়ে শক্ত করা হয়। এতে কারিগরি মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হলে সড়কটি টেকসই হবে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ‘অনুমোদিত নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, ‘সড়কটির উন্নয়ন শেষ হলে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’


নির্বাচিত

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি

শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন।

ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক জানান, ভূমিমন্ত্রী মহোদয় আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন। রক্তশূন্যতার সমস্যাটা ঠিক হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে সেগুলো আজ করা হবে। আশা করছি দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠবেন। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছিল, সেটি কেটে গেছে। এখন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়েছেন ও কথা বলছেন।

এদিকে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় তারা ভূমিমন্ত্রীর আশু রোগমুক্তি কামনা করছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে দেশের মানুষ: মীর শাহে আলম

বগুড়ার এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। মাঝেমধ্যেই এমন হুমকি দেওয়া হয় যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়, সত্যকেও চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যতই প্রচেষ্টা চালাক না কেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, এই ঐতিহাসিক সত্য কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’

পাশাপাশি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি সারা জীবন আপসহীন থেকেছেন।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি তুলনা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিন ঢাকায় অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হয়েছিলেন তাকে স্বাগত জানাতে। অথচ উল্টো চিত্র দেখা গেছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে, যাকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল।

তার মতে, এই দুটি ঘটনাই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে জনগণের প্রকৃত ভালোবাসা ও সমর্থন কোন দিকে রয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা বেহেশতের নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে চাই। আর জামায়াত পারে বেহেশতের লোভ দেখাতে।’

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলটি বড় বড় বুলি আওড়ালেও মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা কখনো বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই ধর্মীয় কর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২ হাজার মানুষকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন।


নির্বাচিত

‘প্রেমিকের সঙ্গে কক্সবাজারের হোটেলে উঠতে পারবে না অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলগুলোতে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রেমিকের সঙ্গে অবস্থানের জন্য রুম ভাড়া দেওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে ইদানীং দেখা যায় ছোট ছোট মেয়েরা তাদের প্রেমিকদের হাত ধরে আপনাদের হোটেলে চলে আসে। তারা তো আন্ডার এজ (অপ্রাপ্ত বয়স্ক) তাদের এখনো একা হোটেলে থাকার বয়স হয়নি। আপনারা তাদেরকে এনআইডি ছাড়া অবস্থান করতে দেন, এটা আইনত অনেক বড় অপরাধ। এর ফলে নানা ধরনের অঘটন ঘটছে। কেউ পথে-ঘাটে প্রাণ হারাচ্ছেন, আবার কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

কক্সবাজারকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কক্সবাজারে হতে দেওয়া যায় না। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, কেউ মা-বাবার সঙ্গে এলে থাকতে পারবেন। তবে প্রেমিকের সঙ্গে এলে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া হোটেলে থাকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এরপরও এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ১৩ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজারে 'তানজু আক্তার' নামে তার কথিত প্রেমিক রাজুর সঙ্গে একটি হোটেলে অবস্থান করেন এবং যেখানকার নিবন্ধন খাতায় বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর।


নির্বাচিত

বল প্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে পুলিশকে দুর্বল মনে করে মানুষ: আইজিপি

খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে মানুষ দুর্বল মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সমাজে মাদককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কাজ করছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।

আইজিপি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে জনগণের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা সুইমিং প্রাঙ্গণে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) মো. আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বোরহান উদ্দিন অন্তর এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


নির্বাচিত

দেড়শ বছরেও অটুট তাড়াশের ঐতিহাসিক তিন গম্বুজ মসজিদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে সময়ের গল্প, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভদ্রাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তিনটি গম্বুজ, চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনি, পুরু দেয়াল আর দেয়ালজুড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ। সব মিলিয়ে মসজিদটি যেন অতীতের স্থাপত্যশৈলীর এক জীবন্ত নিদর্শন। উপজেলার বারুহাঁস গ্রামের ঐতিহাসিক চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদটি দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহন করে চলেছে স্থানীয় ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জমিদারি আমলের স্মৃতি। প্রতিদিনই এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭৫ সালে বারুহাঁসের জমিদার দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে জমিদার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যে নির্মাতার নাম দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারবাড়ির সামনে নির্মিত মসজিদটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে পরিবারের পুরোনো বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান। চারপাশে ভদ্রাবতী নদী ও খালের পরিবেশ স্থাপনাটির সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

মসজিদটির বিশেষ আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ, আটটি পিলারের ওপর নির্মিত তিনটি বড় মিনার এবং পাঁচটি ছোট মিনার। কাঠের তৈরি তিনটি দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে দেয়ালের নান্দনিক অলংকরণ ও কারুকাজ। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত পুরু দেয়াল এবং পুরোনো নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

প্রায় চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। তিন সারিতে প্রায় ৬০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরে খোলা বারান্দায় রয়েছে আরও দুই সারিতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। ইমামের জন্য আলাদা মেহরাব ও মিম্বার না থাকলেও মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে একটি কাঠের মিম্বার, যার ওপর দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দেন ইমাম। দেড় শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি বলে জানান জমিদার পরিবারের সদস্যরা। তবে স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন মসজিদটিতে ইমামতি করেছেন বারুহাস গ্রামের মো. খলিলুর রহমান। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তার ছেলে আবদুস সবুর ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এই মসজিদ আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী। এমন মসজিদে ইমামতি করতে পারা সৌভাগ্যের।

মসজিদের মুয়াজ্জিন ৮০ বছর বয়সি আবদুল লতিফ খন্দকার। তার বাবা দৈয়ম আলী খন্দকারও এ মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে মসজিদটি স্থানীয় মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

মসজিদের বর্তমান ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন বলেন, ৩১ বছর ধরে এই মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছি। জুমার নামাজের দিন মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরীর নাতি মো. শাহনেওয়াজ খান চৌধুরী নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তিনি বলেন, মসজিদের মূল কাঠামো ঠিক রেখে পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু কাজ করা হয়েছে। মসজিদটি জমিদার পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতনসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহের জন্য জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী ১০ বিঘা জমি ওয়াক্ফ করে গেছেন।

কর্মসূত্রে পরিবারের অনেক সদস্য এলাকায় থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন কিংবা বার্ষিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা এলাকায় আসেন। তার মতে, মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর বেশ মিল রয়েছে।

জমিদার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য বিশাল খান চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকে মসজিদের ভবন যেভাবে দেখেছি, এখনো সেভাবেই আছে। টুকটাক সংস্কার হলেও দেড়শ বছর পরও মসজিদটির কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই অনেকে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার অনেক দূরের মানুষও এখানে নামাজ পড়তে আসেন।

গবেষক-লেখক ও খুলনার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিম বলেন, দেড়শ বছরের পুরোনো মসজিদটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর সঙ্গে এর স্থাপত্যশৈলীর বেশ মিল পাওয়া যায়। জমিদারবাড়ি ও মসজিদ ঘিরে প্রবহমান ভদ্রাবতী নদী স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এগুলো পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা অতীতের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

ইউএনও আরও বলেন, বারুহাঁসের ঐতিহাসিক ইমামবাড়ী তথা তিন গম্বুজ মসজিদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয় ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করার অভিযোগে আবু হুরায়রা খালেদ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। গ্রেফতারকৃত আবু হুরায়রা খালেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে আবু হুরায়রা খালেদ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে আসছিল। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সে ও তার সহযোগী চক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। অভিযানে সিংড়া থানার বালুয়া বাসুয়া গ্রাম থেকে আবু হুরায়রা খালেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ধারায় মামলা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাশেদ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার রংপুরের টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে। প্রতারনার জন্য আবু হুরায়রা খালেদ একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের ৫ সিদ্ধান্ত

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অংশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ মতবিনিময় সভা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. খায়রুল ইসলাম, বিআরটিএ’র ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মোবারক হোসেন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক লিটনসহ হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, তিন চাকার গাড়ী ও বাইক দুর্ঘটনার অন্যতমন কারন একারনে তিন চাকার গাড়ীগুলিকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। রুট পারমিট ছাড়া কোন গাড়ীকে সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন চালককে গাড়ী দেওয়া যাবে না। হেল্পারগণ যাতে গাড়ী চালাতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সড়কের ত্রুটি মুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে হবে।


নির্বাচিত

ভাগ্নের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হামলা, বৃদ্ধ মামার মৃত্যু

ফজলে আলী হাজারী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাগ্নের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলায় বৃদ্ধ মামা ফজলে আলী হাজারীর (৬০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে আলী চরকাদিরা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বটতলী এলাকার বাসিন্দা।

মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর হামলায় অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রধরে প্রায় দুই বছর আগে ফজলে আলীর ভাগ্নে দেলোয়ার মাহমুদের সঙ্গে বটতলী এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে জেরিন আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছু দিন পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হলে ফেনীতে কর্মরত সাবেক স্বামী দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে (জেরিনকে) নিয়ে আবেগময় একটি পোস্ট দেয়। এ নিয়ে জেরিনের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জেরিনের স্বজনরা বটতলী বাজারে মামা ফজলে আলীর কাছে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় ফজলে আলী বিষয়টি দেলোয়ার বাড়ি ফিরলে সমাধানের কথা জানান। কিন্তু এরই মধ্যে জেরিনের স্বজনরা ফজলে আলীর ওপর আকস্মিক হামলা করেন। তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ফজলে আলীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতিতে সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে মো. ফয়সাল জানান, সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেরিনের খালাতো ভাই মো. মাহফুজের নেতৃত্বে স্বজনরা হামলা চালিয়ে তার বাবাকে মেরে ফেলেছেন। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করার অপচেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এজন্য আইনী পদক্ষেপের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এদিকে অভিযুক্ত মাহফুজসহ অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

banner close