সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।
গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’
“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”
এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’
চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”
যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।
গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’
পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’
যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।
মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’
প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’
‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’
‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।
তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’
তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’
এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’
মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা, আপনারা কোন দল করেন আমি জানতে চাই না। কিন্তু আপনাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন জনগণের উপকারে আসে। আপনাদের পকেট যেন ভারি না হয়। তাহলে কিন্তু জেলে যেতে হবে, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। আপনারা যেন উন্নয়নের নামে লুটপাটে ব্যস্ত না হয়ে যান। ওই দিন শেষ হয়ে গেছে। এটা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। আমাদের নেতা তারেক রহমানের দলে এখানে লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই, দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি কাউকে করতে দেব না। পরিষ্কার কথা বলতে চাই।’
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন আসবে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, আর সিলমারার নির্বাচন হবে না। সংসদ নির্বাচনে সেটা প্রমাণ হয়েছে। আমাকে কি সিল মেরে এমপি বানিয়েছেন? না ভোটে? আমাকে ভোটে বানিয়েছেন। অতএব, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভোটে হবে। কোনো সিল হবে না। তাই আপনাদের বলব, ভালো লোকদের নির্বাচিত করবেন। কোনো রকমের হুমকি-ধামকির নির্বাচন হবে না। আপনারা ভালো মানুষকে প্রত্যেকটি জায়গায় নির্বাচিত করবেন।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে দাঁড় করিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে এমন সমৃদ্ধ করেছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি শুরু হয়েছিল। তিনি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে এমন সম্মানিত জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, তাকে চীন বীরোচিত সম্মান দিয়ে চীনে নিয়ে গিয়েছিল। চীন থেকে তিনি একা ফিরে আসেননি, স্বীকৃতি নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।’
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল, মানুষ এবং কুকুর একসঙ্গে যখন খাবার খেত, মানুষ মারা গেলে কলাপাতা দিয়ে দাফন করা হতো, কাফনের কাপড় পাওয়া যেত না, সেই দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য তিনি কোরিয়াতে লোক পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ইরির আবাদ এনেছিলেন। এক বিঘা (৫৬ শতাংশ) জমিতে, প্রতি শতাংশ জমিতে এক মণ ধান উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সরকার আজ দেশের শাসক নয়, দেশের সেবক হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। দেশের সেবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিদ্যুতের চরম সংকটের সময় প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে এসি চালাননি, এসি চালাতে দেননি। আমাদের দপ্তরেও এসি চালাইনি, এসি চালাতে দেননি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনী জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৫টায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোডস্থ ফেনী বড় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সূচনা করা হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক অবদান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জিয়াউর রহমান এর জীবন নিয়ে আলোচনা করেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি, ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক, আনোয়ার পাটোয়ারী, ইয়াকুব নবী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, পৌর বিএনপির আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্য সচিব এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূইয়া, ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান পিপুলসহ বিএনপি ও এর অংগসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের ভিটিকান্দি এলাকায় লাশবাহী গাড়ির ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চট্টগ্রামগামী লেনে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম আশরাফুল আলম ইমন (২৫)। তিনি ঢাকার মুগদা এলাকার শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে। তাদের পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর গ্রামে হলেও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পরিবার নিয়ে তারা মুগদা এলাকায় থাকতেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় চট্টগ্রামগামী লেনে একটি লাশবাহী গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ইমন মারা যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমরা ঘাতক গাড়িটিকে আটক করেছি তবে চালক কৌশলে পালিয়ে গেছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একইসঙ্গে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন মোস্তাক মিয়া। তিনি বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এটি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের অর্থ।” একই বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, “হাসনাত আবদুল্লাহও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “তারা বৈষম্যবিরোধী ও সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডে সেই সমন্বয়ের প্রতিফলন দেখা যায়নি।”
সরকারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোস্তাক মিয়া বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সারা দেশের ন্যায় ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির কার্যালয়সহ উপজেলার সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। দুপুর দেড় টায় শিকারিটোলাস্থ বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে মডেল থানা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।
এছাড়া উপজেলার হযরতপুর, রোহিতপুর, কলাতিয়া, বাস্তাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
এসময় কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আমরা যারা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুগামী- অনুসারী। আমাদের দায়িত্ব অন্য যে কোন দলের লোকের চাইতে বেশী। একটা দল স্বাধীনতা স্বাধীনতা করতেছে, কিন্তু স্বাধীনতার জন্য তেমন কিছুই করেনি। স্বাধীনতার ঘোষণাও দেয়নি। আরেকটা দল সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। অতএব বাংলাদেশে কোন দল যদি উন্নয়ন করতে পারে, তারাই পারবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, ঘোষণা দিয়েছে। যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেনি। তাই দেশের উন্নয়নে আমাদেরকেই সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।
পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেছেন।
দাগনভূঞা আতাতুর্ক মিজান মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা যুবদলের নেতা নাসির উদ্দীন খোন্দকার সহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
সভা পরিচালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির বাবু। সভা শেষে প্রায় ৫ হাজার গরীব-দুঃস্থ লোকের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকাসক্ত দুই নাতীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ভৈরব রেলওয়ের থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে
নিহত বৃদ্ধ নারী কুলিয়ারচর উপজেলার খরকমারা এলাকার মৃত জিল্লু মিয়ার স্ত্রী মুর্তুজা বেগম (৬৫)। আজ শনিবার বেলা দুপুরের দিকে কুলিয়ারচরে খরকমারা রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম মিল্লাত হোসেনের বাড়িতে বসবাস করছিলেন মর্তুজা বেগম। তিনি মেয়ে ও তিন নাতীদের নিয়ে থাকেন। মর্তুজা বেগম দীর্ঘদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। নিহতের মেয়ে জাহানারা বেগম (৩৮) ও তার দুই ছেলে রাকিব মিয়া (১৮) ও সাকিব মিয়া (১৫) টাকার জন্য প্রায় সময় তাকে অত্যাচার করত । ২৯ মে রাতেও টাকার জন্য মাদকাসক্ত দুই নাতী তাকে মারধর করেছে। এদিকে নানী নাতীদের ঝগড়া ও হট্টগোলে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী নিহত মর্তুজা বেগম ও তারা নাতীদের বাড়ি ছেড়ে দিতে চাপ দিতে থাকে। এরই জেরে অসহায় নারী মর্তুজা বেগম কোন সুরাহা না পেয়ে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার রেলওয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এবিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের নিহতের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানতে পারি বৃদ্ধের ভিক্ষার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকসেবন করতো দুই নাতী। যদি না দিতো তাহলে তাকে মারধোর করতো। এই ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা জানা যাবে বলে তিনি জানান।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বাধীনতার ঘোষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে শোক যাত্রা কালো ব্যাজ ধারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত সহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার (৩০ মে) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীর নেতৃত্বে একটি শোক যাত্রা বের হয়। শোক যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। যাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক উন্মোচিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরের সামনে সমবেত হয়।
পরে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রনায়কের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুন নাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি ও এস্টেট অফিস প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সিনিয়র অফিসার মাসুদুল হক তালুকদার, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুল, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক মো. আব্দুল মজিদ, জনসংযোগ দপ্তর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাহেদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
এসময় অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সংকটময় সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।”
অডিয়ো বার্তার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। কর্মকর্তাদের পক্ষে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম রিপু ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ইউনিট ইবির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর সুবিধাজনক সময়ে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা-সহ আরও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি ইতিহাস ও একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল অর্থনৈতিক সততা। এ ধরনের সৎ রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনায়ক এ দেশে খুব কমই এসেছেন।
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের দ্বিতীয় বড় গুণ ছিল প্রশাসনিক দক্ষতা এবং তৃতীয় গুণ ছিল তাঁর দূরদর্শিতা। তিনি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারতেন। তবে মানুষের প্রতি অতিরিক্ত আস্থাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখেই তিনি স্বল্প নিরাপত্তায় চলাফেরা করতেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসের মূল্য জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সংকটময় সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ওই ঘোষণা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, সামরিক কর্মকর্তা হয়েও জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে রাজনৈতিক দল গঠন ও নির্বাচনী রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এ কারণে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় সততা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন , জিয়াউর রহমানের মতো নেতৃত্ব দেশের জন্য একটি আদর্শ উদাহরণ।
সভায় ফজলুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. মনির উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জুয়েল।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন।
দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তিন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল এবং পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে। এই সময়ে ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার এবং সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং আগামীকাল রোববার সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একটি অননুমোদিত রুটির কারখানা বা বেকারির সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল ভবনের ভেতরে এমন কারখানার উপস্থিতি এবং সেখানকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটিতে কোনো ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াই দুটি বড় ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে ওই বেকারিটি চালানো হতো। কারখানার ভেতরে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা পাওয়া গেছে যা অত্যন্ত অনুচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বেকারিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকে ক্ষতিকারক কোনো গ্যাস নির্গত হয়েছিল কি না, এখন তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত কমিটির সদস্য সংখ্যা আরও তিন জন বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী ৩ জুন এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি হাসপাতালের দুজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের কাছ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ ও চালু করাকে কেন্দ্র করে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ডটিতে ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক ভর্তি ছিল। রাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগায় একজন মা নার্সকে এসি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখার পর পুনরায় তা চালু করা হলে, মুহূর্তের মধ্যেই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি এবং বুধবার সকালে ছয় নবজাতকেরই মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে গত বুধবার (২৭ মে) রাতে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ছয় নবজাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী এক নবজাতকের পরিবার।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মতো টেবিলে বসে আমাদের স্বাধীনতা আসেনি। সৎ ও সাহসী জাতি বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় অলংকার হলো সততা। আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নিপীড়নে গৃহহীন হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়েছেন অনেকে। বহু নেতাকর্মী জেলে ছিলেন। তাই দলের অভ্যন্তরীণ সব ভেদাভেদ ভুলে জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা বিএনপি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ এমপি, দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এমপি এবং নজরুল ইসলাম মণ্ডল এমপি