মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
৯ চৈত্র ১৪৩২

‘মানুষের মাংস খাওয়া’র গুজব কারা কেন ছড়াল

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৫
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৩৪

সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক। এ বিষয়ে বানায়োট গল্প, ফটোকার্ড ও ভিডিওসহ নানা ধরনের কনটেন্ট ফেসবুক-টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে ওই কলেজছাত্রকে খুনের পর অভিযুক্তরা তার ‘মাংস রান্না করে খেয়েছে’ দাবি করে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে ‘মানুষখেকো’ হিসেবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ওই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। ছড়িয়ে পড়া এসব গুজব ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই ধরনের গুজব ও পাহাড়ে বসবাসকারী গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের গুজব কারা কেন ছড়িয়েছে তা খুঁজে বের করতে সাইবার টিম মাঠে নেমেছে।

গুজবের কারণে নৃগোষ্ঠীর লোকদের হেনস্তার অভিযোগ
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবাধে চলাচল করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই গুজবের ফলে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা নীলা চাকমা। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে থাকতে হয়। রাউজানের ওই কলেজছাত্র খুনের পর শহরে বসবাস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলা চাকমা বলেন, ‘নিজ এলাকার বাইরে ভাষাসহ নানা কারণে আমরা বুলিংয়ের শিকার হই। এখন মানুষের মাংস খাওয়ার আরেকটা ট্যাগ যুক্ত হলো। এই যে রিকশাওয়ালা মামা, সবজিওয়ালা, দোকানদাররা বলতেছে, আমি খুবই অনিরাপত্তায় ভুগী। যেমন কয়েকদিন আমি এক বান্ধবীর সঙ্গে অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে ফেরার পথে একজন আমাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছে। আমি প্রতিবাদ করায় উনি আমার সঙ্গে মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয় নিয়ে আসছেন।’

“আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো থাকতে পারতেছি না। নিউজফিডে ২০টা নিউজ থাকলে তার মধ্যে ১০টা আমাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক। মেসেঞ্জারে বন্ধুরা বন্ধুরা বলতেছে, ‘তোরা তো এই খাস, তোদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।’ এমনকি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মানুষও আছেন এই তালিকায়।”

এমনই আরেকজন ভুক্তভোগীর নাম অভি চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। অভি চাকমা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘রাউজানের ওই ঘটনার পর যখন ফেসবুকে আমরা মানুষের মাংস খাই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, এর কয়েকদিন পর ক্লাস থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে দুজন মেয়ের সঙ্গে দেখা। দেখে দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনে হয়েছে। ওরা আমাদের দেখে এমনভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে, যেন আমরা বোধহয় জ্যান্ত মানুষ খেয়ে ফেলি। তারা আবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, রাউজানের ওই ঘটনার পর পাহাড়ি দেখলেই তাদের ভয় লাগে। তখন কথাটা আমি শুনে যাওয়ায় তাদের বলেছি, কয়েকজন অপরাধ করলেই তা পুরো জনগোষ্ঠীর দায় হতে পারে না। তাছাড়া মানুষের মাংস খাওয়ার বিষয়টাও গুজব।’

চট্টগ্রাম শহরে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার স্বপন চাকমা নামের আরও একজনের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। শহরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার কনডেন্স মিল্ক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। স্বপন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার সময় রাস্তাঘাটে মানুষজন আমাদের দেখলে বলে, ‘তোমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়?’ এমনকি ফ্যাক্টরির ভেতর আমাদের সুপারভাইজারও বলে আমাদের চাকমারা নাকি মানুষের মাংস খায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

যেভাবে ছড়াল মানুষের মাংস খাওয়ার গুজব
ঘটনার শুরু গেল ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম শিবলী সাদিক হৃদয়। তিনি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চ পাড়ার মুহাম্মদ শফির ছেলে। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মরদেহ উদ্ধারের ১৪ দিন আগে ওই খামার থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাকে।

পুলিশ জানায়, হৃদয়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে আরও ছয়জন কাজ করতেন। তারা সবাই পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ঘটনার মাসখানেক আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হৃদয়ের। খামার মালিক সেসময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দিলেও ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। সেই ক্ষোভ থেকে ২৭ আগস্ট রাতে হৃদয়কে অপহরণ করে আট কিলোমিটার দূরের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যান তারা। পরে স্বজনদের ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা শফি বান্দরবানে গিয়ে অপহরণকারীদের কথা মত দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আসেন। এর আগে ৩১ আগস্ট সর্বশেষ তাদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণ দেওয়ার পর ‘হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি বাসায় চলে যাবেন’ বলে অপহরণকারীরা স্বজনদের জানালেও বাসায় ফেরেননি তিনি। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বজনরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুইচিংমং মারমা (২৪) ও অংথুইমং মারমা (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমংচিং মারমা (২৬) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড় এলাকা থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

এই ঘটনার পরপরই নিহত হৃদয়ের দেহাবশেষের ছবি এবং নিহত ও অভিযুক্তদের একটি যৌথ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির ক্যাপশনে ‘হত্যাকারীরা হৃদয়কে হত্যার পর তার মাংস রান্না করে খেয়ে হাড় পাহাড়ে ফেলে দিয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কনটেন্ট ক্রিয়টরদের অনেকেই এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে থাকেন। কেউ কেউ ফটোকার্ড তৈরি করেও তা শেয়ার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে শুধু ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিকতর অনুসন্ধান পদ্ধতিতে (অ্যাডভান্স সার্স সিস্টেম) যাচাই করে এই গুজব ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো সংক্রান্ত সহস্রাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। এসব পোস্টের মধ্যে অধিকাংশের বক্তব্য আপত্তিকর হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সারা বিশ্বের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে। এতে গুজবটি এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ছড়িয়েছে যে দায়িত্বশীল অনেকেই বিশ্বাস করে তা নিয়ে কথা বলেছেন।

গুজবটি ‘সত্য’ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
এই গুজবটি বাস্তব দাবি করে তা নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের প্রথম অংশে তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের শিকার এক কিশোরের মাংস রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রথম ৪৩ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত দুই-তিনদিন আগে রাউজানের একটি ছেলেকে অপহরণ রাঙামাটির কাউখালিতে এনে তার মাংস পর্যন্ত তারা কেটে কেটে রান্না করে খেয়েছে। এটা দুঃখ জনক রাঙামাটিবাসীর জন্য। এই ধরনের ঘটনা যেন পরবর্তী আর না হয়, আমরা আবেদন জানাব সরকারের কাছে। এই সমস্ত এগুলো, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আসলে মানুষ কোনো অবস্থাতে, যে কোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে। সবাইকে বলব, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ- মানুষের মাংস রান্না করে খাওয়া, এটা কতবড় অপরাধ! আমি বলার, মুখের ভাষাই পাচ্ছি না, কী বলব আমি!’

পরের ১ মিনিটে পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য পরে যোগাযোগ করলে বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ব্যস্ততার অজুহাতে তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও রাজি হননি মুসা মাতব্বর।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘সম্প্রীতির রাঙামাটি’ নামের এক ফেসবুক পেজ। এই ফেসবুক পেজের মালিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভারের রাঙামাটি প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক বাংলা। তিনি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ দিন আগে নির্বাচন নিয়ে আমরা চার থেকে পাঁচটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের মধ্যে একজন ওনাকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমার কাছে র-ভিডিও (মূল ভিডিও) আছে।’

যা বললেন মরদেহ উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা
শিবলী সাদিক হৃদয় হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন তিনজন। জবানবন্দী দেয়া তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেউই হৃদয়ের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বলে দাবি পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় অভিযানিক দলে ছিলেন রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রান্না করে তার মাংস খাওয়ার বিষয়টা ভুয়া। এসবের ভিত্তি নেই। এই বিষয়ে আমরা নিজেরাই তো কিছু পাইনি। ব্লগাররা ভাইরাল হওয়ার জন্য এটা ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের সাইবার টিম মাঠে নামছে। আমাদের স্যারও (ওসি) এটা নিয়ে কথা বলেছেন। যারা এসব ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়ে। তিনি আমাদের কনস্টেবল। যেহেতু ভাষার একটা সমস্যা আছে, আমরা ওনার সহযোগিতায় কাজগুলো করছি।’

প্রায় একই কথা বলেন রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িতরা নিহতের মাংস রান্না করে খেয়েছে- এরকম কোনো তথ্য আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। যারা এগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-তারা কোথায় পেলেন!’

‘অপহরণের ১৪ দিন পর আমরা দেহাবশেষ পেয়েছি। যে এলাকা থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করেছি, এর আশেপাশের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর নেই। এটা হলো পাহাড়ি গভীর জঙ্গল। যেহেতু জনবসতি নেই, বিভিন্ন প্রাণি থাকতে পারে জঙ্গলে।’

‘সেসব প্রাণীও হয়ত এভাবে মরদেহ পেলে খেয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া আমরা তো জানি যে, মানুষ যখন মারা যায়, তিন দিনের মধ্যে লাশের পচন শুরু হয়। তো মরদেহটি পাওয়া গেছে খুনের ৮ থেকে ১০ তিন পর। তাই আমাদের ধারণা শেয়ালে বা কোনো প্রাণি খেয়ে ফেলছে, নয়তো পচে গেছে’ যোগ করেন তিনি।

তবে জবানবন্দী দেয়া তিনজনের একজন ওই এলাকায় একদিন রাতে মুরগিসহ ভাত রান্না করে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যেহেতু তারা সেখানে ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবে মুরগি-ভাত রান্না করে তারা এক রাতে খেয়েছে।’

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যা বললেন
পুলিশ ও হৃদয়ের স্বজনদের কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। এর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর। মাঝের ১১ থেকে ১২ দিন মরদেহটি গভীর পাহাড়ি জঙ্গলেই ছিল। সাধারণত মরদেহের পচন শুরু হয় পরিবেশ, তাপমাত্রা, ঋতু, মরদেহের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। রাঙ্গামাটির ওই পাহাড়ি গভীর জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ দিনে একটা মরদেহের কী অবস্থা হতে পারে তা জানতে চাওয়া হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. কাশেমের কাছে। তিনি বলেন, ‘মরদেহের মাংস পচে যাবে। কিছু মাংসসহ হাড় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিছু মাংস শরীরে সংযুক্ত থাকতে পারে।’

তবে গভীর জঙ্গলে একটা মরদেহ পড়ে থাকলে বিভিন্ন প্রাণী তা খেয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা তার।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলতে পারে। তবে তা কোনো প্রাণী খেয়েছে নাকি কোনো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে তা জানতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে মরদেহটা পরীক্ষা করতে হবে। মোটামুটি পচে গেলেও তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।’

এই গুজবকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা
বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ প্রায়। তাদের অধিকাংশেরই বাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘মানুষের মাংস খাওয়া’ গুজবকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা একটা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। এটা যারা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, এতে নিরীহ লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এভাবে করা- এটা একটা গভীর চক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। যা-ই করুক, অতীতেও এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

মাঠে নামছে সাইবার পুলিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার পুলিশ সেন্টার) খন্দকার তৌহিদ হাসান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা হলে আমরা সাধারণত বিটিআরসির মাধ্যমে এই ধরনের গুজবের লিংকগুলো বন্ধ করে দেই। তাছাড়া এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শনাক্তের পর আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’


উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল সড়ক, পরিচালক-প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করল প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পাড়ঘেঁষা একটি নবনির্মিত সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে নির্মাণকাজে চরম গাফিলতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তিনি প্রকল্পের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেনসিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক কে এম হারুনুর রশীদ এবং প্রকৌশলী শামছুর রহমান। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী নিজেই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে তাদের বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি হস্তান্তর করেন।

তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই সড়কটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই ধসে যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী জানান যে জনগণের টাকায় নির্মিত উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগও এই ধসের একটি কারণ হতে পারে।

সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি দুটি প্যাকেজের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল) বাস্তবায়ন করছিল। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, যার মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি টাকার উপরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে সন্দেহ থাকলেও যথাযথ তদারকির অভাবেই কোটি টাকার এই প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসী স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।


ঈদের ছুটিতে গুলশানে বাড়ি দখলের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর গুলশানে একটি বাড়ি দখলের অভিযোগে বির্তকের মুখে পড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আলী আহম্মেদ মাসুদকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে ডিএমপির মানবসম্পদ বিভাগে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রেনিং) হিসেবে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গুলশান ১ নম্বর এলাকার ১২৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকের দাবি অনুযায়ী, গুলশান জোনের এসি আলী আহম্মেদ মাসুদসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মদদেই এই অঘটন ঘটেছে এবং উল্টো ভুক্তভোগীদেরই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ এই শাস্তিমূলক বদলির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আলী আহম্মেদ মাসুদকে বদলি করা হলেও এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এসি মাসুদসহ জড়িত অন্য সকল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


রুমায় মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান: কবে-কোথায় ? জানাল কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রুমা প্রতিনিধি

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় শুরু হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব “মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে’ । ১৩ এপ্রিল নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় দেয়ার মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য রেলি আয়োজন করা হবে। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঐতিহ্যবাহী “মৈত্রী পানি বর্ষণ” অনুষ্ঠান।

একে অপরের ওপর পানি ছিটানোর মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করা। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে এবং নতুন বছরকে শুভভাবে বরণ করা যায়। এ কারণে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে প্রায় সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবটি উদযাপন করা হয়ে থাকে।

কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উক্যসিং মারমা জানান, বিভিন্ন পাড়ার যুব-যুবতী রা তাদের নিজেদের মতো আলাদা আলাদা করে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় পাড়ার যুবক-যুবতীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে এ বছরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী—১৫ এপ্রিল: ছাইপো পাড়া, পান্তলা পাড়া ও বটতলী পাড়া।

১৬ এপ্রিল: ক্রাউদাং পাড়া ও রুমাচর পাড়া।

১৭ এপ্রিল: পলিকা পাড়া ও হাতিমাথা পাড়া।

১৮ এপ্রিল: বিকেল ৩টায় রুমা সদরের বালুচরে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে’র সমাপনী অনুষ্ঠান।

সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১ টায় (২৩ মার্চ) মারমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ভবনে কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজিত যুবক যুবতীদের এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক ওক্যসিং মারমা এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রমা প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মার্মা। আরো বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উক্যমং মারমা, মংমিন মেম্বার, পিপলু মার্মা, উতিংওয়াং মতি ও উসাইমং মার্মা।

সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অংচোওয়াং মার্মা। সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ সমাপনির দিনে সকল পাড়া থেকে যুবসমাজকে কেন্দ্রীয় মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকে ঘিরে রুমা উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নানা বয়সের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে অংশ নেবেন এই আনন্দঘন আয়োজনে। মূলত এ মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব মারমা সম্প্রদায় হলেও অনুষ্ঠানটি আনন্দ উপভোগ্ ও অংশগ্রহণ করে সকল সম্প্রদায়ের। পরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়ে থাকে।

তাই অনুষ্ঠানটির সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপন করতে উপজেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজন সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সংশ্লিষ্টরা।


গাইবান্ধায় জ্বালানি সংকটে পাম্প বন্ধ, জরুরি বৈঠকে স্থানীয় প্রশাসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

তীব্র জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা জেলার স্বাভাবিক জনজীবন এবং যান চলাচল। জেলার সাতটি উপজেলার মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বর্তমানে সবকটি পাম্পই বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলাজুড়ে প্রতিদিন প্রায় হাজার লিটার পেট্রোল, হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ আসার কারণে এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে।

সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকরা সোমবার দুপুর তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি জরুরি বৈঠকে বসেছেন। সেখানে সংকটের মূল কারণ এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ তিনদিন ধরে এস কাদির অ্যান্ড সন্স রহমান ফিলিং স্টেশনের মতো প্রধান পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত তেল না থাকায় কোনো কোনো পাম্পে শুরুতে জনপ্রতি ১০০-২০০ টাকার সীমিত তেল বিক্রি করা হলেও বর্তমানে মজুদ শূন্য হয়ে পড়ায় সেগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই আকালকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উত্তেজনা সহিংসতার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডে তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই পাম্প কর্মচারী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে প্রতি লিটার জ্বালানি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের জেলা থেকে মোটরসাইকেলের চাপ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুদের প্রবণতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

ভুক্তভোগী চালক স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। জেলাজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাম্প মালিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে পাম্প চালু করা সম্ভব নয়, কারণ সীমিত সরবরাহ নিয়ে তেল বিক্রি করতে গেলে পুনরায় জনরোষ সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে পর্যটকদের ঢল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন উৎসবমুখর। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাতের এই চাঙ্গাভাব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের বিস্তৃত চা বাগান থেকে শুরু করে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত সবখানেই এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর এবং হামহাম জলপ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে এবারের ঈদ মৌসুম গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক জহির রায়হান বলেন, "এখানকার চা বাগানের সবুজ আর শান্ত পরিবেশই আমাদের বারবার টেনে আনে।" তবে ভিড় নিয়ে কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আল আমিন। লাউয়াছড়া উদ্যানে আলাপকালে তিনি বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা জায়গার সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকলেও, অতিরিক্ত ভিড় ও কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে।"

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো মণিপুরী পল্লী ভ্রমণে আসা আলী হোসেন ও নাসরিন আক্তার দম্পতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, "মণিপুরী সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা আমাদের দারুণ লেগেছে। এটি সাধারণ পর্যটন কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আমরা সবখানে বেশ নিরাপদ বোধ করেছি।"

শ্রীমঙ্গলের ছোট রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং থাকলেও বড় মানের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং রেকর্ড করা হয়েছে। টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ-এর ব্যবস্থাপক মো. সোহেল আহমেদ জানান, দীর্ঘ মন্দার পর এই পর্যটক সমাগম তাদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, "পর্যটকরা শুধু প্রধান স্পট নয়, বরং আদিবাসী গ্রাম এবং ব্যক্তিগত রিসোর্টগুলোর প্রতিও বেশ আগ্রহী।" তবে পর্যটন উদ্যোক্তা সেলিম আহমেদের মতে, রমজানের শেষে পর্যটক ফিরতে শুরু করলেও বড় রিসোর্টগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ বুকিং হয়নি।

ঈদের ছুটিতে শ্রীমঙ্গল শহরে তীব্র যানজট পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলেছে। এ ছাড়া অনেক পর্যটক জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়লে পর্যটনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতি ঘটবে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ছুটির পুরো সময়জুড়ে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


তেল সংকট, মূল্যবৃদ্ধিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সতর্কবার্তা

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

তেল সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সামনে সময় আরও কঠিন হতে পারে এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশেও পড়ছে।

সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাবে তেলের দামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তেল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ লেগেছে, সেকারণে তেলের সরবরাহ কম। কিন্তু পাম্প ভাঙচুর করা সমীচিন নয়। মবকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেব না।’

রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একটি দলের নেতারা এবার বেহেশতে নিতে পারল না. আমরা কাজ করে বেহেশতে যাব। ধর্মকে ব্যবহার করা যায়না। এ দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করেনা৷ আমরা কাজ করতে এসেছি। কাজ করে যাব।’

কৃষি খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গম ঝড়-বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। আলু বৃষ্টিতে শুয়ে পড়েছে। আমাদের কৃষকের ভাগ্য এটাই। এসব সমস্যা আমরা বুঝি। নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কৃষি ঋণ মওকুফের। আমরা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সাহায্য হবে এমন কাজগুলো করছেন। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে। সারা দেশে কয়েক কোটি মহিলাকে কার্ড দেয়া হবে। এটার মাধ্যমে তারা সহযোগিতা পাবে। আমাদের সব প্রজেক্ট গুলো সম্পন্ন করা হবে। গোটা দেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।


শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন এমপি হাজী মুজিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমানো পর্যটকদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শুনলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।

গত রবিবার দিনব্যাপী তিনি দুই উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটক, দর্শনার্থী ও দূরপাল্লার গাড়ি চালকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন।

ভ্রমণে আসা পর্যটকরা এমপির এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে আসা পর্যটক ইতি বড়ুয়া বলেন, ‘দেশের কোনো সংসদ সদস্যকে এভাবে সরাসরি পর্যটন স্পটে এসে দর্শনার্থীদের খোঁজ নিতে আগে কখনও দেখিনি। শ্রীমঙ্গলে এসে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হলো। তিনি নিজে এসে আমাদের সাথে কথা বলেছেন, এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

একই অনুভূতি প্রকাশ করেন কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক ইশরাত জাহান ইমা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে এসেছি। বধ্যভূমি পরিদর্শনের সময় হঠাৎ এমপি সাহেব আমাদের কাছে এসে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না জানতে চান। পরে আমরা পরিবারের সবাই তাঁর সাথে ছবি তুলেছি। এটি আমাদের ভ্রমণের অন্যতম একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ সম্পর্কে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ আমার নির্বাচনী এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চল। এখানে ঈদের ছুটিতে সারা দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ বেড়াতে আসেন। এলাকাবাসীর পাশাপাশি আগত অতিথিদের খোঁজ নেওয়াও আমার দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি।’

তিনি আরও জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের সহযোগিতায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সুপেয় পানি বিতরণসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করছেন।

টুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের এসআই বাসু কান্তি জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন সরাসরি উপস্থিতি পর্যটকদের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বাড়ছে তাপমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আকাশে বসন্তের হালকা অস্থিরতা। মেঘ-রোদ্দুরের খেলায় কোথাও স্বস্তি, কোথাও আবার বৃষ্টির মৃদু পূর্বাভাস। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হঠাৎ দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্কই থাকবে।

এই সময়টাতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, প্রায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। রাতের বাতাসেও উষ্ণতার হালকা ছোঁয়া থাকবে।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে নতুন করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় একই ধরনের দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অন্যত্র মেঘ-রোদের মিশেলে আবহাওয়া থাকবে শান্ত ও শুষ্ক।

সব মিলিয়ে, ঋতুর এই সন্ধিক্ষণে দেশের আবহাওয়ায় উষ্ণতার প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির স্পর্শ এনে দেবে স্বস্তির ক্ষণিক পরশ।


গায়েহলুদের দিন সড়কে প্রাণ গেল বরের, দুই পরিবারে শোকের মাতম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাটোরের বড়াইগ্রামে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। গায়েহলুদের দিন সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লু (২৯)। রোববার (২২ মার্চ) সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি কলোনি এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুলফিকার পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির ছোট ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে বর ও কনে—উভয় পরিবারেই এখন চলছে শোকের মাতম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২২ মার্চ) সকালে জুলফিকারের নিজের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানের পায়েস রান্নার জন্য দুধ আনতে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে দাশুড়িয়া থেকে নাটোর যাচ্ছিলেন। পথে নাটোর হাইওয়ে গড়মাটি কলোনি রোডে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী অন্তরা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ের কথা ছিল এবং আগের দিনই কনের গায়েহলুদ সম্পন্ন হয়েছিল।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চণ্ডীপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামে বিয়ের জন্য সাজানো প্যান্ডেল ডেকোরেটরের লোকজন ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বাড়িতে তালা ঝুলছে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি আনন্দময় সামাজিক অনুষ্ঠান এভাবে শোকে পর্যবসিত হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


বরগুনায় ইকোনমিক জোন হলে আমূল পরিবর্তন সম্ভব : চিফ হুইপ

বরগুনার ক্রোক খাল ও শাখা খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা -২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 বরগুনা প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগ সরকার ৩২ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, যা দিয়ে দেশের সাতটি বাজেট করা যেত। এ কথা বলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বরগুনা -২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি।

রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টায় বরগুনার ক্রোক খাল ও শাখা খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

চীফ হুইপ বলেন, বরগুনায় একটি ইকোনমিক জোন স্থাপন করা গেলে এ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন সম্ভব। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে চায়, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে কাজ করেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। দেশের সম্পদ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বরগুনার সব খাল পর্যায়ক্রমে পুনঃখনন করা হবে। খাল খননের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা এখন এক ফসলি জমিতে তিন ফসল ফলাতে পারবে, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের যুবসমাজকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে।

এসময়ে অন্যান্যের মধ্যে বরগুনা-১ আসেনর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মাহমুদুলুল হোসাইন অলি উল্লাহ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হান্নান প্রধান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহিন, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম বাবুল হাওলাদার, কেএম সফিকুজ্জামান মাহফুজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


খাল খনন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রী রাজিবের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

নৌ পরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার ঝালকাঠির রাজাপুরে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ তুলাতলা খাল খনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল দখলকারীদের কেবল শক্তি প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিকভাবে বয়কট এবং জনসচেতনতার মাধ্যমেই মোকাবিলা করা সম্ভব। দেশের প্রতিটি খাল উদ্ধার করে মানুষের ব্যবহারোপযোগী করার মাধ্যমে পূর্বের জীবন-জীবিকার ধারা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খাল খনন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রাজিব আহসান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, খালের উপরিভাগ পরিষ্কার বা 'শেভ' নয়, বরং প্রকৃত খনন নিশ্চিত করতে হবে। কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি স্থানীয় জনগণকে তদারকির আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, খনন কাজ শেষে তা সঠিকভাবে হয়েছে কি না তা পরিমাপ করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলজিইডির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এলজিইডি সূত্র জানায়, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি কৃষি কাজ ও নৌ-যাতায়াতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খনন কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় কৃষকরা সেচ সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকেও মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


নেত্রকোনায় বাড়ির সীমানা ঘিরে বিরোধ, সংঘর্ষে কৃষক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মদনে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মঞ্জু মিয়া নামের ৬৫ বছর বয়সী এক কৃষক নিহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মঞ্জু মিয়া ওই গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী শান্তু মিয়ার সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে তার বিরোধ চলছিল, যা রোববার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালালে মঞ্জু মিয়া গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে সালেক মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিবেশী আমীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মিলে তার বাবার ওপর হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দেবাংশু দে জানিয়েছেন, মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


সুনামগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল গাছের সাথে ধাক্কা, নিহত ১ আহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে ঈদের আনন্দে ঘুরতে যাওয়ার পথে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জ- দিরাই সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাগলী এলাকায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম সাফিকুল ইসলাম (২৮), তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়ের মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাফিকুল ইসলাম নামের তরুণ দুই বন্ধুকে নিয়ে শান্তিগঞ্জের নিজ গ্রাম থেকে মোটরসাইকেল করে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্র শিমুল বাগানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিল। পথে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের গাগলী এলাকায় এসে তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সফিকুলের হাড় ভেঙে গাছের ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। এবং তার সাথে থাকা দুই বন্ধুর মধ্যে সাইদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং গুলজার আহমদকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমজাদ হোসেন বললেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনজনের মধ্যে হাসপাতালে আসার আগেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আরেকজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ অলি উল্যাহ বলেন, ' গাগলী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও দুই জন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি।


banner close