হোসেন রায়হান, পঞ্চগড়
সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ, সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করার সৌভাগ্য যাদের হয় না, তাদের জন্য এই শরতে রুপালি কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন দিয়েছে তেঁতুলিয়ায়। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকেই এখন দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রুপালি লাবণ্য।
হাত বাড়ালেই যেন ছুঁয়ে ফেলা যাবে হিমালয় পর্বতমালার এই সুউচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। তাই তো কাঞ্চনজঙ্ঘার সাক্ষাৎ পেতে ইতিমধ্যেই পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। হিমালয় পর্বতমালা থেকে ১৬৫ কিলোমিটার দূরে তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকেই তারা উপভোগ করছেন সুবিশাল কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ-মাধুর্য।
তেঁতুলিয়ায় দাঁড়িয়ে সোজা উত্তরে তাকালে চোখে পড়বে সুনীল আকাশ আর শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার মিতালি।
শরৎ ও হেমন্তের মেঘমুক্ত আকাশে প্রায় প্রতিদিনই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ ঘটে পর্যটকদের। তেঁতুলিয়া ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যায় সূর্যের বর্ণিল আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত এই শৃঙ্গ। তাই ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ডাকবাংলো এবং মহানন্দা তীরে বসে প্রকৃতিপ্রেমীদের আড্ডা। সন্ধ্যা নামার আগে ভিন্ন রূপের মহানন্দা হৃদয় কাড়ে পর্যটকদের। বাংলার বুক চিরে যে সূর্য ওঠে ভোরে, সন্ধ্যায় আবার সেই সূর্য ডুব দেয় প্রতিবেশী দেশের হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘার আড়ালে।
প্রতিদিন ভোরের আলো মেখে জাগতে শুরু করে কাঞ্চন। তারপর ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টাতে থাকে । নানা রং নিয়ে খেলা করে কাঞ্চনজঙ্ঘা। জেগে ওঠার শুরুতে টকটকে লাল। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কমলা, তারপর হলুদ, তারপর সাদা। হঠাৎ হঠাৎ হারিয়ে যায়। মেঘের আঁচলে লুকিয়ে পড়ে। মেঘ সরে গেলে আবার উঁকি দেয়। লুকোচুরির খেলা চলে সারা দিন। অপার সৌন্দর্য বিস্তার করে দাঁড়িয়ে থাকে এই মহামহিম। মনে হয় যেন হাসছে পাহাড়।
কাঞ্চনজঙ্ঘা ভারতের সিকিম ও নেপালজুড়ে অবস্থিত। এটি বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার বা ২৪ হাজার ১৬৯ ফুট।
কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে রয়েছে নানা রকমের লোককাহিনি। এর আশপাশের অঞ্চলটিকে বলা হয় পর্বত দেবতার বাসস্থান। দেবতার নাম কাঞ্চনজঙ্ঘা ডেমন। এটি এক রাক্ষস। অনেকে বিশ্বাস করে, অমরত্বের রহস্য লুকানো আছে এই শ্বেত শুভ্র শৃঙ্গের নিচে।
তবে সব সময় দেখা মেলে না কাঞ্চনজঙ্ঘার। মেঘ আর কুয়াশা মাঝে মাঝেই আড়াল করে রাখে তাকে। তখন অপেক্ষা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এ জন্য অনেকে বলে থাকেন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য কপালও লাগে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পঞ্চগড়ে পর্যটকের ভিড় হয় সবচেয়ে বেশি। পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্যুরিস্টদের আনন্দকে আমরাও উপভোগ করছি। তাই তাদের নিরাপত্তা ও থাকা-খাওয়ার বিষয়গুলো উপজেলা প্রশাসন মনিটর করছে। এ ছাড়া তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোসহ পর্যটন স্থানগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই আয়োজন চলমান।’
পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা পিপিএম বলেন, ‘তেঁতুলিয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের মাধ্যমে পর্যটকদের নানাভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। দেশের আর সব জায়গার চেয়ে পঞ্চগড়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা অনেক ভালো। বিগত ৫০ বছরেও এখানে প্রকাশ্যে কোনো সহিংসতা ঘটেনি।’
তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই জেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাই। ট্যুরিস্টদের সার্বক্ষণিক সহায়তা করা হচ্ছে, যেন তারা অনায়াসে সমতলের চা, মাল্টা, উচ্চফলনশীল আম, বিদেশি টিউলিপ বাগানসহ তেঁতুলিয়ার প্রাণ-প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন।’
কাঞ্চনজঙ্ঘার সাক্ষাৎ পেতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন তিন বন্ধু রফিকুল, সুমন ও সাখাওয়াৎ। নিজ দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই বিশাল পর্বতশৃঙ্গ স্বচক্ষে দেখে রীতিমতো আবেগাপ্লুত তারা। জানালেন, আরও উন্নত মানের হোটেল, মোটেল, পার্ক তৈরি হলে তেঁতুলিয়া সত্যিকারের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দাঁড়াতে পারবে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পুলিশ হিসেবে নয়, পর্যটকদের আত্মীয় ভেবে তাদের সঙ্গে থাকছি, সহায়তা করছি সব বিষয়ে।’
দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁয় চলতি মৌসুমে গত ২ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা জাতের সুস্বাদু আম। গুটি, নাগ ফজলি, হিমসাগর, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আমে সরগরম হয়ে উঠেছে বাজার। ক্রেতারাও নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী আম কিনছেন। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজারে কিছুটা মন্দাভাব বিরাজ করায় আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশ অনেক চাষি।
নওগাঁর বিস্তীর্ণ আমবাগান ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারে দামের অস্থিরতা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রপ্তানির পরিধি বাড়ানো এবং আম প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে দেশের এই বৃহৎ আম উৎপাদন অঞ্চলের কৃষকরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং আম অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে।
আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নওগাঁর মোকামগুলোতে আসতে শুরু করলে বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং আমের দামও বৃদ্ধি পাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে নওগাঁ জেলায় আমের আবাদ ছিল মাত্র ৬ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে। এক দশকের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার ১৮৬ হেক্টর জমিতে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০টি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। গত বছর জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলা থেকে বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে ২৮৪ টন আম্রপালি, খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছিল।
চাষিদের হিসাবে, এক বিঘা মাঝারি আকারের বাগান থেকে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ মণ আম উৎপাদন হয়। বর্তমানে জমির ইজারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিক, পরিবহন ও প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি আম মোকামে পৌঁছাতে গড়ে প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতি মণ আম ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি হলে অনেক ক্ষেত্রেই চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়।
নওগাঁর সাপাহারে দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের হাটে বর্তমানে হিমসাগর আম প্রতি মণ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, নাগ ফজলি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, গুটি আম ১ হাজার ২০০ টাকা, আম্রপালি ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা এবং ল্যাংড়া জাতের আম প্রায় ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে অধিকাংশ চাষিই প্রত্যাশিত লাভ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
সাপাহার উপজেলার পাকুড়ডাঙ্গা গ্রামের আমচাষি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে আম্রপালির বাগান করেছি। প্রতি বিঘায় সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক, পরিচর্যা ও আম সংগ্রহসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা থেকে ৫০ থেকে ৬০ মণ আম পাওয়ার আশা করছি। বর্তমান দরে বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।
একই উপজেলার সরদারপাড়া এলাকার চাষি আনিছুর রহমান বলেন, ‘এ বছর গাছে আমের পরিমাণ তুলনামূলক কম। গত বছর মৌসুমের শুরুতে আম্রপালি ১ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এ বছর দাম কিছুটা কম। ৩ হাজার টাকার নিচে আম্রপালি বিক্রি হলে উৎপাদন খরচ তুলতে কষ্ট হবে।’
বদলগাছী উপজেলার আমচাষি মোস্তাকিম বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে নাগ ফজলি চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ মণ আম পাওয়ার আশা করছি। বর্তমান বাজারদরে খুব বেশি লাভ নেই। তবে মৌসুমের শেষ দিকে দাম বাড়লে কিছুটা ভালো লাভ পাওয়া যাবে। রপ্তানি বাড়ানো গেলে চাষিরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।’
সাপাহার উপজেলা আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘সাপাহারের আমের হাটে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। কিন্তু বর্তমানে সার, কীটনাশক, জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন, ‘আমের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা গেলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন। বর্তমানে সীমিত পরিসরে হলেও কিছু রপ্তানিকারক সরাসরি বাগানিদের সঙ্গে কাজ করছেন। ফ্রুট ব্যাগিং করা আম বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এসব আমের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।’
জামালপুরে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড। অপর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অপরাধে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশপ্রাপ্তরা হলেন, আলাল সেক (৫৩) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে। অপর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজীব হোসেন (৩৮) একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে ২০০৮ সালের ২৬ মে আলাল সেক তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করে পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার (১৭ জুন) রায় ঘোষণা করেন বিচারক। আসামি আলাল সেক পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয়। রায়ে আলাল সেককে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে এ মামলায় আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় রাজীব হোসেন নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে একই আদালত।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে প্রতিবেশী রাজিব। ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর ডাক-চিৎকারে পরিবার ও স্বজনরা উপস্থিত হলে রাজীব হোসেন হাতেনাতে ধরা পরে। কিন্তু সে তাদের ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল বুধবার আসামি রাজীব হোসেনের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে তিনি প্রাচীন গৌড়ের বিভিন্ন প্রত্নস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সোনামসজিদ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।
সফরকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া সোনামসজিদ সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং স্থলবন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
প্রাচীন গৌড়ের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূতকে বিভিন্ন স্থাপনার ছবি তুলতে দেখা যায়। তিনি এলাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সফরকালে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, ৫৯ বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মাগুরায় ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় মাগুরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শেখ ইলিয়াস মিথুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক সঞ্জয় রায় চৌধুরী, মাসুম বিল্লাহ কলিন্স, শাহিন আলম তুহিন, ইমরান হোসেন, শিউলি আফরোজ সাথী, আলিমুজ্জামান উজ্জ্বল, ফয়সাল পারভেজ, জয়ন্ত জোয়ার্দার, শরীফ স্বাধীন, নাঈমুর রহমান, সুজন মাহামুদ, শাহিনুর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালীন সরকার মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়। ফলে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। ইতিহাসের সেই ঘটনাকে স্মরণ করে দেশের সাংবাদিক সমাজ প্রতি বছর ১৬ জুনকে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।’ অতীতের সে দুঃখজনক ঘটনার শিক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় মাগুরা প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
ধর্ষক ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এসব অপরাধীর পক্ষে কেউ সুপারিশ করতে এলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
মাদক ও ধর্ষণের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “ধর্ষক বা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না।” রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, “এদের দমনে যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা তদবির করেন, তবে সেই নেতাসহ তাদের একই মামলায় জড়িয়ে হাজতে পাঠানো হবে। আমার নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, রাষ্ট্রের শত চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়া এখন অসম্ভব।
প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সকাল ৯টায় অফিস করলেও অনেক জেলা-উপজেলায় কর্মকর্তারা সময়মতো উপস্থিত হন না, যা অনভিপ্রেত। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল মেধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং কোনো রাজনৈতিক তদবির সেখানে গ্রাহ্য হবে না। বিগত সময়ের মেগা প্রজেক্টগুলোতে অর্থ লোপাটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে অবিশ্বাস্যভাবে ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মতো দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় বর্তমান সরকার অনেক প্রকল্প স্থগিত করে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে।
মাদক চোরাচালানে ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে জামিন পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মডেলটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী এই বাজেটের বিরোধিতা কেবল বিরোধিতার খাতিরেই করা হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রী ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় নির্মিত একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা এবং শৈলকূপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মসূচিগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম কার্ড বিতরণের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে একটি আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, ১৯টি জেলায় বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা অঞ্চলেও এর উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যে কৃষক কার্ড এবং খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি তথ্য দেন।
বাজেট নিয়ে অতীতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন, আগে বাজেট দেওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল করতেন যে, ‘এ বাজেট গরিব মারার বাজেট, এ বাজেট মানি না’। তবে এবার বাজেটের বিরুদ্ধে এই মিছিল না হয়ে মিছিল হয়েছে- ‘মদের দাম বাড়ল কেন, বিড়ির দাম বাড়ল কেন?’ তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে করের চাপ কমানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কবরের মধ্যে জীবিত আছেন ভেবে ভোলা সদর উপজেলায় দাফনের ১৮ দিনের মাথায় মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা৷ যা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মরিয়ম ওই একই বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিনী তাসনুর বেগমের ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ২ মেয়ে ছিলেন।
সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে গত কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্রগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। এবং চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া দাফনের কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে,এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভীর জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।
স্থানীয় পাঞ্জেখানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছে এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদেরকে পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে,এটি অবাস্তব।
অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা মাটি দেন।
আরও জানা গেছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩-৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খুঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে,পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ধারণা করা হচ্ছে,যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন তারা।
প্রতিবেশী মো.লোকমান লাহারি বলেন,প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্রগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতো মরিয়ম। কুরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিল। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পাশ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুইদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন,পড়ে তাকে তার বাবা মা ডাক্তার দেখিয়েছিল। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হটাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছে। এর কিছুক্ষন পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়েছে।
পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো.কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে,আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। 'কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন সে মৃত অবস্থায় রয়েছে,কবর খোড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি'।
এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম,মো.নাজিম,সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন,আমরা শুনেছি সে নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধির ঘ্রাণ বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুড়েছে,বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম সে কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, 'সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল,এবং সন্দেহ দূর হয়েছে'।
এনিয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন,মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন সে কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোড়ার বিষয়টি আমি অবগত নই।
দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ স্মল রিচার্জ ভেসেল। এটি সমুদ্রের গভীরতা নিরূপণ, সমুদ্রতলের মানচিত্রায়ন, বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
এ ছাড়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, মেরিন স্যাম্পল কালেকশন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে, মৎস্য ও পরিবেশ গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এই সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাহাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল সমুদ্রে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রের মধ্যে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ সুনীল অর্থনীতি ভূমিকা পালন করবেন এই জাহাজের গবেষণায়। এমন সব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এই দেশে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে।’
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এর মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির চুক্তির আওতায় ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন, ২টি হাইস্পিড কেবিন বোট ও ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী, খুলনা শিপইয়ার্ড ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বুধবার দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা সংকেত জারির নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবহাওয়া অফিসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।”
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বিশেষ এলাকাগুলোর নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে নৌযান চলাচল ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে রেললাইনের পাশে থেকে নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার শাহাগোলা রেলস্টেশনের এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তাকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে বলে তাঁর স্বজনরা অভিযোগ করছেন।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশির এর ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তার মাথায় গুরুত্বর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি সরানো নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্দেশিকা মেনেই তোলা হচ্ছিল মাটি।
সামাজিক মাধ্যমে মাটি তোলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেতুর পিলার।
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মাটি ও বালু অপসারণ করা হচ্ছিল ওই এলাকায়- জানাল পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি জলাশয় পুনরুদ্ধারের জন্য প্রকল্পের অনুমোদিত পরিকল্পনার অংশ। ‘এতে সেতুর কাঠামোগত কোনো ঝুঁকি নেই’- দাবি কর্মকর্তাদের।
প্রকল্পের উপপরিচালক আমিনুল করিম জানান, ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলসেতুর ৭৬ থেকে ৯০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা আগে জলাশয় ছিল। ভায়াডাক্ট নির্মাণের জন্য সেখানে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করেছিল চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। এখন আগের জলাশয় পুনরুদ্ধারে কাজ চলছিল পরিবেশবান্ধব নির্দেশিকার আওতায়।
তার ভাষ্য, ‘এ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। ওই স্থানে জলাশয় রাখার পরিকল্পনা ছিল প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী। কাঠামোগত নিরাপত্তা বিবেচনায় পাইল ও পাইল ক্যাপের ভিত্তির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ভায়াডাক্ট। ফলে মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না।’
এ নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বললেন, ‘যারা মাটি কাটছিল, তারা দাবি করেছে- এ কাজের ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে প্রকল্পের নির্মাণকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এটি প্রকল্পেরই অংশ। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আপাতত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাজ বন্ধ রাখার।’
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, সংশ্লিষ্টরা কিছু অনুমতিপত্র দেখালেও তা সন্তোষজনক মনে হয়নি। পরে রেলওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আগের অনুমতিও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা যায়। এখন ওই স্থান থেকে আর মাটি তোলার সুযোগ নেই।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর মাটি অপসারণের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত ছিল রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের। তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর এখন অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমার দপ্তর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।’
পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া মিছিলে দা, ছুরি, কাস্তে, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো যাবে না। এ বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া মিছিলের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এসব নির্দেশনা জানালেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, পবিত্র আশুরার সব কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মিছিলে দা, ছুরি, কাস্তে, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো যাবে না।
তিনি আরও বলেছেন, হোসাইনী দালান ইমামবাড়া পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। যে কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুরো এলাকা ডগ স্কোয়াড ও ম্যানুয়ালি সুইপিং করা হবে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
সমন্বয় সভার শুরুতে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
প্রথম শ্রেণির মাদারীপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ ইরেজী অর্থবছরে ১১০ কোটি ৬৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৬০ টাকার চ্যালেঞ্জিং খসড়া বাজেট প্রণয়ন করে নাগরিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে পৌর প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানুর সভাপতিত্বে ও উপস্থানায় উক্ত খসড়া বাজেট প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘উন্নত পৌর নাগরিক সেবা প্রদানই তাদের মূল লক্ষ্য। বাজেটে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন, গুরুত্বপূর্ণ টেকসই অবকাঠামো এবং সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ড প্রকল্প (সিসিটিএফপি), আয়-ব্যয় খাতের হিসাব, মূলধন হিসাব, ২০২৪-২৫, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত ও সংশোধিত বাজেটের পর্যালোচনা, বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার হতে প্রাপ্ত অর্থের বিবরণী, বিভিন্ন দাতা সংস্থা হতে প্রাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পের আয়-ব্যয়, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, স্যানিটেশন-ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প, রাস্তাঘাট ও খেলাধুলার মাঠের উন্নয়ন, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিশুপার্ক, ঈদগাহ, কবরস্থান, ওয়াকওয়ে, অডিটোরিয়াম, কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়নসহ বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বৃক্ষরোপণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া, হাম-রুবেলা প্রতিরোধ, মশক নিধন, সুপেয় পানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ বাতির উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত সড়ক ব্যবস্থা, পুকুর-জলাশয় সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বাজেটের আয়-ব্যয়ের পর্যালোচনা, লক্ষ্যমাত্রা ও ট্যাক্স আদায়সংক্রান্ত উপস্থাপনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা মো. আসমত হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহমদ ফিরোজ ইলিয়াসসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদে সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাজী হুমায়ুন কবীর, সাবেক সিভিল সার্জন ও নিরাময় হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার মো. সরোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটু, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি)-এর জেলা শাখার সভাপতি খান মো. শহীদ, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি এনায়েত নান্নু, দৈনিক বাংলার সাংবাদিক শরীফ ফায়েজুল কবীর প্রমুখ।
প্রস্তাবিত খসড়া বাজেট উপস্থাপনের পর এর ওপর মতবিনিয়কালে বক্তারা বলেন, ‘বাজেটের আকার বড় হলেও এর বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে সঠিক কর্মপরিকল্পনা, নতুন-নতুন খাত তৈরি, ট্যাক্স হোল্ডার বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।’
তারা আরও বলেন, ‘পৌর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেন অথচ ট্যাক্স প্রদান করেন না এমন নতুন-নতুন খাত চিহ্নিত করে পৌর ট্যাক্সের আওতায় আনা উচিত।’