বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ পৌষ ১৪৩২

বিএনপি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই বোঝে না: বাহাউদ্দিন নাছিম

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সোমবার সাতক্ষীরা শহরের পিটিআই সংলগ্ন পিএন হাইস্কুলের ফুটবল ময়দানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:৪২

বিএনপি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই বোঝে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি বলেছেন, তারা আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে।

সোমবার সাতক্ষীরা শহরের পিটিআই সংলগ্ন পিএন হাইস্কুলের ফুটবল ময়দানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাছিম এসব কথা বলেন।

বিএনপি ও জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের কোনো মানবিকতা নেই। মনুষ্যত্ববোধ নেই। এরা খুনি। একাত্তরের রাজাকার ও পঁচাত্তরের খুনিদের আদর্শে বিশ্বাসী। ওরা বন্দুকের জোরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। বিএনপি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই বোঝে না।’

নাছিম বলেন, ‘যাদের নেতা একজন সন্ত্রাসী। যারা এতিমের টাকা মেরে খায়, তারা আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। আগামী নির্বাচন ভন্ডুল করলে, ষড়যন্ত্র করলে বিএনপি-জামায়াতকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র কাজী ফিরোজ হাসান। উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে ফজলুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসির উদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সায়েম, উপ-প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম সজিব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং দৈনিক ভোরের পাতা ও দ্য ডেইলি পিপলস্ টাইমের সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসান, শেখ সাহিদ উদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু প্রমুখ।


কুষ্টিয়া দৌলতপুরে সরিষা চাষে কৃষকের মুখে আনন্দের বন্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মার চর যেন রূপ নিয়েছে হলুদ ফুলের গালিচায়। চারদিকে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা পরিবেশ, ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জনে প্রকৃতি সেজেছে এক অপূর্ব রূপে। শীতের কুয়াশা ভেদ করে রোদের ঝিলিকে দোল খাচ্ছে সরিষার হলুদ ফুল- যা একদিকে যেমন চোখ জুড়াচ্ছে, তেমনি কৃষকের মনে জাগাচ্ছে আশার আলো।

চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারি ইউনিয়নের পদ্মার চরে মোট ৭৮৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এছাড়া পুরো উপজেলা জুড়ে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬০৮ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও এ বছর মোট ২ হাজার ৫৫৭ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরিষা চাষে উৎসাহ দিতে এ মৌসুমে উপজেলার প্রায় ২ হাজার ২০০ জন কৃষককে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার ফলে এবার প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ দশমিক ৫৮ টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষি অফিস আরও জানায়, চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে কৃষকের গড় খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ১১০ টাকা। ফলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ভালো লাভের মুখ দেখবেন কৃষকরা।

পদ্মার চরের স্থানি কৃষক রফিক সরকার জানান, খরচ ও সময় কম লাগে। পদ্মার চরের উর্বর জমি ও অনুকূল পরিবেশ সরিষা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

এদিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পোয়ালবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল কাশেম জানান, সরিষা চাষেরর জন্য তিনি সরকারের সহায়তা পেয়েছেন। ভালো ফলনের আশা তার।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার রেহেনা পারভিন বলেন, গত বছরের তুলোনায় ফলোন বেশি হওয়ায় লাভবান হবেন সরিষা চাষিরা।

এদিকে দৌলতপুরের পদ্মার চরে সরিষার হলুদ হাসি শুধু প্রকৃতিকে নয়, কৃষকের জীবনেও এনে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার।


গোয়ালন্দে আবাসিক-বাণিজ্যিক এলাকায় বৈদ্যুতিক তারের জট, দুর্ঘটনার শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে বেশিরভাগ ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিতে বিদ্যুত সঞ্চালনের তার ঝুলে আছে। সড়ক, বাসা-বাড়ি, মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে বিপজ্জনক এসব হাই-ভোল্টেজ লাইনের নিচে দিয়ে দিনে-রাতে আতঙ্কে পথ চলেন পথচারীরা। এতে পথচারী ও অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দার মাঝে দুর্ঘটনার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গোয়ালন্দ বাজার রোড সহ বিভিন্ন স্থানে খুঁটিতে রয়েছে হাইভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তার। কোথাও আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ির ছাদ কিংবা জানালার পাশেই বিদ্যুতের লাইন ছুঁই ছুঁই করছে। পৌরসভার জনবহুল এই বাজার এলাকার বিদ্যুতের খুঁটির সাথে যেন তার নুয়ে পড়ছে। এতে মার্কেটের দোকানিরা দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন রিদয় সুপার মার্কেট ঘেঁষে দ্বিতীয় তলায় সাথে তারের জঞ্জালপূর্ণ খুঁটি থেকে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার বড় মসজিদ সংলগ্ন আলআমিন লাইব্রেরির পাশেই রয়েছে আরও একটি জঞ্জালপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি।

জরাজীর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন ছুঁই ছুঁই করা পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভবনের মালিক জানান, বিদ্যুত বিভাগ এগুলো দেখেও কোন ব্যবস্থা নেননা। আমরা বারবার বলার পরও কাজ হয়না। এ জন্য অভিযোগ করাই ছেড়ে দিয়েছেন তারা।

ওজোপাডিকো গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ সরবরাহর (ভারপ্রাপ্ত) আবাসিক প্রকৌশলী তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ভবন নির্মাণের পর এ ধরনের লাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক যাচাই-বাছাই করার কথা। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে লাইন টানা হতে পারে। বিদ্যুত আইনে হাইভোল্টেজের সঞ্চালন লাইনের নিচে কোন ঘরবাড়ি বা স্থাপনা থাকতে পারবে না, ডানে ও বামে কমপক্ষে ১০ ফুট ফাঁকা থাকতে হবে। অনেক আবাসিক এলাকায় নতুন নতুন বাসা হওয়ায় লাইনগুলোর সঙ্গে বাসার দূরত্ব কমে যাচ্ছে। তাছাড়া বাজার সহ আশপাশে বিভিন্ন খুঁটিতে বৈদ্যুতিক তারের জঞ্জালের বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, জরাজীর্ণ খুঁটি ও তারের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে অবগত করা হবে যেন তারা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করে। এদিকে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোয়ালন্দ পান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ক্রোকারিজের দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিন ব্যবসায়ীর প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা।


নীলফামারীর মানবিক ‘জেলা প্রশাসক’ মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বর্তমানে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে এক জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মাঠ পর্যায়ের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী ভূমিকা রেখে জনআস্থার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকা যেমন নীলফামারী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন, ফুটপাত, বাসটার্মিনালে অবস্থানরত, তিস্তার চরাঞ্চলে বসবাসকারী শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হঠাৎ পরিদর্শন, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন অগ্রগতি তদারকি এবং জরুরি অভিযোগের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের উচ্চ পদে থেকেও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন, সমস্যা শোনেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগও নেন। শহরের একজন বয়স্ক নাগরিক তসলিম উদ্দিন বাবু বলেন, ‘ওনি শুধু অফিসে বসে থাকেন না, মানুষের মধ্যে আসেন। এমন জেলা প্রশাসক আগে পাইনি।’ এছাড়া, বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা এবং দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যক্রমে তার সক্রিয় উপস্থিতি জেলার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি পেয়েছেন ‘জনবান্ধব প্রশাসক’ উপাধি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, ‘আমি প্রশাসক হিসেবে নয়, মানুষের সেবক হিসেবেই কাজ করতে চাই। নীলফামারীর প্রতিটি মানুষের সমস্যা ও উন্নয়নই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা-এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নীলফামারী উন্নয়ন ও মানবিক প্রশাসনের উদাহরণ হিসেবে সারাদেশে প্রশংসিত হবে।


ঝিনাইদহে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকটে সেবা বঞ্চিত মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষজন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন।

জানা যায়, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ৬৭ টি ইউনিয়নের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে সরকার। এক বছর আগেও এসব ক্লিনিক থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথাসহ সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকে মাত্র ২ থেকে ৩ প্রকার ওষুধ রয়েছে, আবার কোথাও একেবারেই ওষুধ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। ওষুধ নিতে এসে দিনের পর দিন ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আজ কয়েক মাস ধরে এখানে এসে ওষুধ পাচ্ছি না। আগে তো সবরকম ওষুধ পাওয়া যেত। এখন আসলে শুধু কথা বলেই পাঠিয়ে দিচ্ছে।

রাশিদা খাতুন নামের আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, আমার ছোট ছেলেটার জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছে। আগেও এখান থেকে ফ্রি ওষুধ নিছি। আজ এসে শুনি ওষুধ নেই। গরিব মানুষের জন্য এই ক্লিনিক, কিন্তু এখন তো কোন উপকারই পাচ্ছি না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হলে তো ৪-৫’শ টাকা লাগবে।

কালুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রভাইডার মাজেদুল হক বলেন, আমাদের কাছে রোগী আসে, কিন্তু দেওয়ার মতো ওষুধ নেই। এতে রোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, আমরাও বিব্রত হচ্ছি। এখন রোগী আসলে শুধু স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমাদের তো কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ একদম কমে গেছে। কবে নাগাদ ঠিক হবে তাও সিওর বলা যাচ্ছে না। আশা করছি দ্রুতই ওষুধ সরবরাহ ঠিক হলে এই সংকট কেটে যাবে।


দিনাজপুর ফল আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিষেক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর ফল আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অভিষেক অনুষ্ঠান শহরের কালিতলা পৌর নিউমার্কেট অফিস রুমে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা ও দিনাজপুর ট্রাক ট্যাংলরি রেজি (২৪৫) সাধারণ সম্পাদক মো. সাদাকাতুল বারী সাদা, সংগঠনের উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শফি রুবেল, সংগঠনের উপদেষ্টা ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ দিনাজপুর ফল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. রাজু, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিম, ফল আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মোকারম হোসেন মুকুল ও মো. রুস্তম আলী।

অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনের প্রতি যদি কারও আন্তরিকতা বা টান না থাকে তাহলে সে প্রতিষ্ঠান প্রাণ পায় না। যার কারণে অনেক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হয়ে যায়। নিউমার্কেট তথা বাহাদুর বাজার অনেক প্রাচীনতম একটি বাজার। এ বাজারের ঐতিহ্য আগের তুলনায় অনেকটা হারিয়ে গেছে। তাই বাজারের ওই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ক্রেতা সাধারণের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে। পণ্যের মান বাড়াতে হবে এবং ন্যায্য মূল্য থাকতে হবে।

ওই অভিষেক অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের শপথ বাক্যপাঠ করান দিনাজপুর সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সাধুরাম রবিদাস, সহযোগী হিসেবে ছিলেন একই দপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মো. আলমগীর মিয়া।

নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা হলেন- সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ, সহসভাপতি মো. জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মো. বিপ্লবসহ সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মো. মমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক মো. আসাদ, প্রচার সম্পাদক মো. সুমন, নির্বাহী সদস্য আতাবুর রহমান, আব্দুল কাদের, মো. শাহিন ও মো. মাসুদ। এ সময় বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সমিতির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নেত্রকোনায় পুলিশের নির্বাচনী ২২তম ব্যাচের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত তিন দিনব্যাপী ‘নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের ২২ তম ব্যাচ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোর্সে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। নেত্রকোনা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন কানাই লাল সরকার, কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার), আইটিসি, নেত্রকোনা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন ‘জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে হলে আমাদের দক্ষতা, আইনানুগ আচরণের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি, ভোটকেন্দ্র-সম্পর্কিত নিরাপত্তাব্যবস্থা, জনসম্পৃক্ততা, সংকট মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করবেন। আপনাদের সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বই জনগণের আস্থা অর্জনের প্রধান হাতিয়ার।’ তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের কৌশল, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, জনসংযোগ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদান ও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা কৌশল বিষয়ে বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রশিক্ষকরা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


ফরিদপুরে পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ১২৩তম জন্মদিন উদযাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

‘এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজিয়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’ ফরিদপুরে নানা আয়োজনে পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ১২৩তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। পল্লীকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও ফরিদপুর জসীমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে ফরিদপুর শহরতলীর অম্বিকাপুর কবির সমাধিস্থলে সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসন, ফরিদপুর জেলা পুলিশ, ফরিদপুর প্রেসক্লাব, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ, ফরিদপুর জেলা শিক্ষা অফিস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আনসার উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও জসিম ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. কামরুল হাসান মোল্লা, ফরিদপুর পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম এ সামাদ, ফরিদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার বিষ্ণুপদ ঘোষাল, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাঞ্জলির পরে পল্লীকবির আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য পল্লীকবি জসীম উদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর সদর উপজেলায় কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে তার নানার বাড়ি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

পল্লীকবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর প্রভৃতি। তার সাহিত্যকর্ম বাংলার গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছে, যা তাকে ‘পল্লীকবি’ উপাধি এনে দিয়েছে। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।


নতুন বছরের সূর্যকে স্বাগত জানাতে স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রতিনিয়ত খুব ভোরে জিরো পয়েন্টে কিছুসংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও শুনশান নীরবতায় থাকে কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট। তবে নতুন বছরের প্রথম দিন এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোররাত থেকেই নতুন বছরের প্রথম দিনের নতুন সূর্য উদয় উপভোগ করতে সৈকতের বিভিন্ন স্পটে ভিড় জমিয়েছে পর্যটকরা।

বিশেষ করে সৈকতের জিরো পয়েন্ট, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি, চরগঙ্গামতি ও লাল কাঁকড়ার চড়ে পর্যটকদের বাড়তি আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে সূর্য উদয় উপভোগ করতে না পারলেও ঘন কুয়াশায় আবদ্ধ শিশিরে ভেজা এসব পর্যটন স্পট দেখে অনেকটা উচ্ছ্বসিত হন পর্যটকরা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) কুয়াকাটা তিন নদীর মোহনা, লেম্বুরবন ও শুঁটকি পল্লীতে বসে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া সূর্য অস্তের দৃশ্য উপভোগ করে অনেকটা মুগ্ধ হন তারা। তবে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যেকোনো অপ্রীতিকার ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি ট্যুরিস্ট পুলিশসহ প্রশাসন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক, আরমান জানান, আমি গতকালকে (বুধবার) শেষ বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপবোগ করেছি, আজ (বৃহস্পতিবার) প্রথম বছরের প্রথম সূর্য উপভোগ করলাম, তবে কুয়াশার কারণে সূর্যমামাকে স্পষ্ট দেখতে না পারলেও পরিবেশটি খুবই মনোরম ও আনন্দের। আবার আসব ইনশাআল্লাহ।’

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল মাস্টার বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় এ বছর পর্যটক কম। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন, আমার প্রানের নেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোখে কম। তার শোকে আজ সারাদেশ শোকাহত।’

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, ‘বছরের শেষ আর নতুন বছরর পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আমরা সকল প্রশাসন প্রস্তুত।’


জয়পুরহাটে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট

হাসপাতালে সরবরাহ বন্ধ, ফার্মেসিতেও মিলছে না ভ্যাকসিন
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গত ১৬ দিন ধরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ফার্মসিগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হওয়া রোগীরা ভ্যাকসিন না পাওয়ায় ভোগান্তির পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা।

রোগীদের অভিযোগ, বেশকিছু দিন ধরে কুকুর ও বিড়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে। পথ চলতে গেলেই কুকুর-বিড়াল মানুষ ও গবাদি পশুর উপর আক্রমণ করছে। ভ্যাকসিনের জন্য হাসপাতালে যাওয়া হলে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নাই। অথচ বেশকিছু দিন আগেও হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সব ডোজ দেওয়া হতো। এখন সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিদিন লোকজন হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। ফার্মেসিতেও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না ভ্যাকসিন। দোকানিরা বলছে, ভ্যাকসিন সরবরাহ নাই, পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও দুই একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে, দাম নিচ্ছে দ্বিগুণ।

তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরবরাহ না থাকলে আমাদর করার কি আছে? যতদিন ছিল, ততদিন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা বলছেন, ফ্যাক্টারিতে ভ্যাকসিনের কাঁচামাল না থাকায় আপাতত সরবরাহ বন্ধ আছে। তবে, খুব দ্রুত সরবরাহ হবে।

এরকম কয়েকজন ভুক্তভোগী রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জেলার বিভিন্ন ফার্মসিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে সরকারিভাবে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ আছে। আগে বিভিন্ন পৌরসভায় ভ্যাকসিন দেওয়া হত, এখন সেটাও বন্ধ করা হয়েছে। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন কোম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে ছাড়পত্র হাতে ধরে দিয়ে ফার্মেসিতে ক্রয় করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগীরা জীবন রক্ষা করতে এক ফার্মেসি থেকে আরেক ফার্মেসিতে ছুটাছুটি করছেন। তবে, দুই একটি ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও তারা সুযোগ বুঝে তা চড়া দামে রোগীদের কাছে বিক্রি করছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে। সংকট নিরসন বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েও ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। গত অক্টাবর মাসে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের যা পরিমাণ চাহিদা ছিল নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দ্বিগুন পরিমাণ চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে, গত ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জলাতঙ্ক রোগীর পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরমধ্যে ডিসেম্বর মাসের ভ্যাকসিন এখনও হাসপাতাল পৌঁছায়নি। এজন্য রোগীদের বাহির থেকে ভ্যাকসিন কিনে পুশ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল দ্বিতীয় ডোজের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন সদর উপজলার হিচমি গ্রামের মো. আল-আমিন। তিনি বলেন, প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন হাসপাতালে না পেয়ে অনেক কষ্টে এক ফার্মেসির দোকান থেকে ৯০০ টাকায় সংগ্রহ করেছি। এখন দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিতে আসলে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। এখন ভ্যাকসিন করা নিয়ে চিন্তায় পড়ছি।

গত শনিবার রাতে কুকুরের কামড়ে আহত হয় কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার বাসিন্দা আলাল হোসেন (২৮)। তিনি বলেন, পরের দিন রোববার সকালে ভ্যাকসিন দিতে জয়পুরহাট জেনারল হাসপাতাল গিয়ে ভ্যাকসিন পাইনি। ডাক্টার প্রেসক্রিপশন দিয়ে বলে ফার্মসি থেকে কিনে নিয়ে করেন। পুরো জয়পুরহাট জুড়ে কোন ফার্মসিতে ভ্যাকসিন পাইনি। বাধ্য হয়ে বগুড়া থেকে এমআরপির চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে পুশ করেছি।

আক্কলপুর থেকে আসা রোগী বেলাল হোসেন (৪০) বলেন, বাজারে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর আঁচড় দেয়। সকালে সদর হাসপাতালে আসি। এখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নাই। চিকিৎসকরা জানান, বাহিরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে নিয়ে পুশ করতে।

জয়পুরহাট শহরের সওদাগর ফার্মসির স্বত্বাধিকারী বাবু সওদাগর বলেন, কোনো কোম্পানিরই ভ্যাকসিন সাপ্লাই নাই। যাদের কাছে আছে, হয়তো তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে আমার জানা নই।

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাসের জয়পুরহাট প্রতিনিধি (সেলস প্রমোশন অফিসার) জাহিদ হোসেন বলেন, ফার্মেসিগুলোতে ভ্যাকসিনের ব্যাপক অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। ডিপোতে সরবরাহ না থাকায় তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কাঁচা মালের সংকটের কারণে ভ্যাকসিনের সংকট তৈরি হয়েছে।

জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়ল বলেন, হাসপাতালে এখন একেবারে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে। রোগীর চাপ সামলাতে একটি ভ্যাকসিন চারজনকও ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। যখন একবারে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, তখন বাহির থেকে সংগ্রহ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযাগও করা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিনের সংকট নিরসন হবে।

জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. মো. আল-মামুন বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে কোনো ভ্যাকসিন মজুত নেই। যখন ভ্যাকসিন মজুত ছিল প্রতিদিন গড় ২৫০-৩০০ রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। এরমধ্যে অধিকাংশই রোগী প্রশাসন পরিবারের। তাদের পোষ্য প্রাণীর আচঁড় দেওয়ায় তারা ভ্যাকসিন নিতে আসেন। প্রশাসনের ব্যক্তিদের বলা হয়েছে, আপনারা পোষ্য প্রাণী পালন করলে নিজ থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রাখবেন। একারণে প্রকৃত আক্রান্ত রোগীরা ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না। আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি ভাবে হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ হবে।


যশোরে দুটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদসহ ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে যশোরের দুটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান এই যাচাই-বাছাই শেষে যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ মোট সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে তথ্যের ঘাটতি থাকায় আরও চারজন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে তাদের তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, যেখানে বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির ও শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়নে ভোটারদের স্বাক্ষরে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের মনোনয়নপত্রের সিদ্ধান্ত বর্তমানে পেন্ডিং রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমানের মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছে।

অন্যদিকে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের আবেদনে ভোটার তথ্যে ত্রুটি থাকায় সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বিএনএফ প্রার্থী শামসুল হক এবং জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহকে তাদের তথ্য হালনাগাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদের মনোনয়ন বৈধ রয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন যে, আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে জেলার বাকি আসনগুলোর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে এবং যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা বিধি অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ পাবেন।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।


নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের মানবিক উদ্যোগে আপ্লুত সাধারণ মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বর্তমানে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য ও জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক আচরণের বাইরে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জনআস্থার এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি কেবল দাপ্তরিক কাজে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে আরও সুসংহত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র শীতের প্রকোপ বাড়লে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা যেমন—নীলফামারী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন, রাস্তার ফুটপাত, বাস টার্মিনাল এবং প্রত্যন্ত তিস্তার চরাঞ্চলে শীতার্ত মানুষের মাঝে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেছেন। মানবিক এই কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করছেন এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি সরাসরি তদারকি করছেন। কোনো জরুরি অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তিনি তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন, যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর জন্য একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের উচ্চপদে থেকেও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান যেভাবে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং সমস্যা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন, তা অত্যন্ত বিরল।

শহরের একজন বয়স্ক নাগরিক তসলিম উদ্দিন বাবু জেলা প্রশাসকের এই কর্মতৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান জেলা প্রশাসক কেবল এসিবলয়িত অফিসে বসে থাকেন না, বরং তিনি সাধারণ মানুষের কাতারে এসে তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হন। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, শিক্ষা সহায়তা এবং দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কার্যক্রমে তাঁর সরব উপস্থিতি পুরো জেলার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন অনন্য মানবিকতা প্রদর্শনের জন্য তিনি জেলাবাসীর কাছে ‘জনবান্ধব প্রশাসক’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান তাঁর কাজের দর্শন সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেকে প্রশাসক হিসেবে নয় বরং মানুষের সেবক হিসেবেই দেখতে পছন্দ করেন এবং নীলফামারীর প্রতিটি মানুষের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানই তাঁর দাপ্তরিক কাজের প্রধান অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই মানবিক ও সেবামূলক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নীলফামারী জেলা সারা দেশের জন্য একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।


বগুড়ায় খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় প্রিয় নেত্রীকে বিদায়

আপডেটেড ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বগুড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়েছে। বিকেলে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে মূল জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এই গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

কোনো পূর্ব আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ছাড়াই প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ে শামিল হতে বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষ আলতাফুন্নেছা মাঠে ভিড় জমান। জানাজায় উপস্থিত হাজারো মানুষ গগনবিদারী স্লোগান আর কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাঠ সংলগ্ন বাইতুল হাফিজ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল আজিজ এই জানাজায় ইমামতি করেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং প্রিয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই বগুড়া শহর ছিল কার্যত অচল। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে শুরু করে বড়গোলা, নিউ মার্কেট রানার প্লাজা হকার্স মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সম্পূর্ণ জনশূন্য চিত্র। ছোট-বড় দোকানপাট থেকে শুরু করে জেলা শহরের সমস্ত শপিং মল বিপণী বিতানগুলো ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে বন্ধ রেখেছেন।

জানাজা শেষে বগুড়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর শোক এখন বগুড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিরাজমান।


রোহিঙ্গাদের হৃদয়ে ‘মা’ খালেদা গেঁথে থাকবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত গোটা দেশ। সেই শোকের ছায়া পড়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতেও। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ভয়াবহ রোহিঙ্গা সংকটের সময় তার মানবিক ভূমিকা ও ক্যাম্প সফরের স্মৃতি নতুন করে আবেগে ভাসাচ্ছে হাজারো আশ্রিত রোহিঙ্গাকে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদে জোহরের নামাজের পর বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাদের উদ্যোগে পৃথক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

রোহিঙ্গা নেতারা জানান, চরম দুর্দিনে যখন বিশ্ব বিবেক অনেকটাই নীরব ছিল, তখন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া নিজে ক্যাম্পে এসে তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেছিলেন। সেই মানবিক সফর আজও রোহিঙ্গাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা তখন জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছিলাম, কোন আশার আলো ছিল না। সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া নিজে আমাদের দেখতে এসেছিলেন। একজন বড় নেত্রী হয়েও আমাদের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করেছিলেন- এটা আমরা কখনো ভুলব না।’

টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ছৈয়দ আলম বলেন, ‘তিনি শুধু ত্রাণ দেননি, তিনি আমাদের মর্যাদা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের ন্যায্য অধিকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। আজ তার মৃত্যুতে আমরা একজন মানবিক অভিভাবককে হারালাম।’

রোহিঙ্গা নারী নেত্রী আব্বাসী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বালুখালী ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি মোবারক নামের একটি শিশুকে কোলে নিয়েছিলেন। সেই দৃশ্য আজও আমাদের চোখে ভাসে। একজন মা যেমন সন্তানের কষ্ট বোঝেন, তিনিও তেমনভাবেই আমাদের কষ্ট বুঝেছিলেন।’

রোহিঙ্গা নেতারা স্মরণ করেন, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়া উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের দাবি তোলেন।

ওই সফরে রোহিঙ্গাদের জন্য মোট ৪৫ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে ছিল ১১০ টন চাল এবং ৫ হাজার শিশু ও ৫ হাজার সন্তানসম্ভবা নারীর জন্য বিশেষ খাবার। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল সরাসরি ৯ ট্রাক ত্রাণ বিতরণ করে।

রোহিঙ্গা নেতা হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘অনেক নেতা আমাদের নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজন সত্যিই আমাদের পাশে দাঁড়ান। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তেমনই একজন। আমরা কৃতজ্ঞ হৃদয়ে তার জন্য দোয়া করছি।’

রোহিঙ্গাদের ভাষায়, বেগম খালেদা জিয়ার মানবিক সফর ও সাহসী অবস্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়- এটি তাদের জীবনের এক অবিস্মরণীয় মানবিক স্মৃতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এই স্মৃতি বহন করবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং বলা হয়-আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।


banner close