মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক ১৪৩৩

৫১৭ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গেল ‘বার আউলিয়া’

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১২:৪৫

দীর্ঘ ছয় মাস পর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ৫১৭ জন পর্যটক নিয়ে ‘বার আউলিয়া’ নামের একটি জাহাজ। বুধবার সকাল ১০টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটি ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজটি যাত্রা করে। বেলা ১২টার পরে জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছবে।

বুধবার সকাল থেকে জেটি ঘাটে ভিড় করেন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা। এ সময় কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশসহ বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চট্রগ্রামের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা নয়ন শীল জানান, কোনো জাহাজ যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে সেজন্য আমরা তদারকি করছি। প্রথম দিন ৫১৭ জন যাত্রী নিয়ে ‘বার আউলিয়া’ জাহাজ সেন্টমার্টিন রওনা করে। এ জাহাজে সাড়ে আট শ যাত্রী ধারণের ক্ষমতা আছে।

ভ্রমণে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমির হামজা জানান, দ্বিতীয় বারের মতো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ঘুরতে এসেছি, খুব আনন্দ লাগছে। আমাদের দলে ২০ জন রয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সিনিয়র সহ-সভাপতি হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র নিয়ে প্রথম দিন আমাদের জাহাজ ৫১৭ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে রওনা দিয়েছে। সমুদ্রের পরিবেশ শান্ত দেখা গেছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনানা চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে ওই পর্যটকবাহী জাহাজে করে ৫০০ এর বেশি ভ্রমণকারী সেন্টমার্টিন দ্বীপে রওনা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ জাহাজগুলো চলাচল শুরু করেছে। পর্যটকদের যাতে সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

বরাদ্দ জটিলতায় আটকে নিরাপদ পানির প্রকল্প, দুর্ভোগে গ্রামবাসী

* আড়াই কোটি টাকার নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকল্পের শুরুতে ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে ৩৩০টি বাড়ি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮০টিতে। তবে প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ বাড়েনি। ফলে পুরো কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও নিরাপদ পানি পাচ্ছেন না উপকারভোগীরা। প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এই ঘটনা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের চরমাদার গ্রামের।

জানা গেছে, চরমাদার গ্রামের ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ নেয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল। দেড় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে পাঁচ মাস দেরি করে বিএম ট্রেড নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে চরআমখাওয়ার চরমাদার গ্রামে। চরমাদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে বসানো হয়েছে ওভারহেড ট্যাংক বা উচ্চ জলাধার। দেখা যায়, উচ্চ জলাধার থেকে চারপাশের ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপ সংযোগ ও প্লাটফর্ম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অসমাপ্ত রয়েছে মটর বা পাম্প বসানোসহ কারিগরি কাজ। ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রকল্পটি চালু হলে আয়রণমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে তারা । প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকারভোগীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে কমিটি করা হবে। এই কমিটির অধীনে পরিচালিত হবে প্রকল্পটি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটির চুক্তি মোতাবেক ওই এলাকার ৫০টি বাড়িতে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ৩৩০টি বাড়ি বৃদ্ধি করে ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য সংযোগ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বেড়ে গেলেও বাড়তি ৩৩০ বাড়িতে সংযোগ স্থাপন বাবদ প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় করা হয়নি। সে কারণে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করে ৩০ শতাংশ কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির বাকি ৩০ শতাংশের কাজ সমাপ্ত করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দিয়ে ইতোমধ্যে চার থেকে পাঁচটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা আমলে নিচ্ছে না। প্রকল্পের অতিরিক্ত কাজের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় না করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত কাজ করবে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

চরমাদার গ্রামের উপকারভোগী আক্কাস আলী বলেন, ‘পানির লাইনের কাজ মেলা দিন থেকে বন্ধ হইছে। কাজ বাকি আছে কিন্তু করছে না। চালু হলে আমরা নিরাপদ পানি পাইতাম। রোগবালাই হইতো না। আমাগোর দাবি, পানির লাইনডা যেন তাড়াতাড়ি হয়।’

উপকারভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজি মো. শাসছুল হক জানান, এলাকায় একটা পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি তা চালু হচ্ছে না। পানির লাইন চালু হলে গ্রামবাসী আয়রণমুক্ত নিরাপদ পানি পেত। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি।

উপকারভোগী নুর নাহারের ভাষ্য, গিরামে (গ্রামে) পানির লাইন হইল কিন্তু আমরা সুবিধা পাইলাম না। আমাগো কলের পানিতে আয়রণ আছে। পানির লাইন চালু হইলে আমরা আয়রণমুক্ত পানি পাইতাম। আমরা ফ্রেশ পানির জন্য লাইন নিছি। কিন্তু তিন বছর পার হইলেও আমরা আয়রণমুক্ত পানি পাইলাম না।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম ট্রেডের প্রকৌশলী শহিদ মিয়া জানান, তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অন্য একটি প্রকল্পের কাজে ব্যস্ত ছিল। এখন সে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রকল্পটির অসমাপ্ত কাজ চলতি মাসেই শুরু করা হবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবলু মিয়া বলেন, ‘তারা ওই প্রকল্পে অতিরিক্ত কাজ করেছেন। ৫০টির পরিবর্তে চাহিদা অনুযায়ী ৩৮০টি পরিবারে পানি সরবরাহের সংযোগ দিয়েছেন। এ জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। বাজেটটি নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস থেকে পাস হয়েছে। এখন সেটি প্রকল্প পরিচালকের অফিসে রয়েছে। সেখান থেকে বাজেটটি অনুমোদিত হবে। তবে তারা বলেছে, কাজ শেষ করতে বাড়তি কাজের ব্যয় সমন্বয় করবেন। আশা করা যাচ্ছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুর রহমানের ভাষ্য, অতিরিক্ত কাজের জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। তাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। বাজেটটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ খুব শিগগির শুরু করবে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

অটোভ্যান ছিনতাইয়ে কিশোরকে হত্যা, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২

* সখিপুরে কিশোর হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন
টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলার মূলহোতা শাহীন (৩০) ও হাবিব গ্রেফতার। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবুজ (১৪) নামে এক কিশোর চালককে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সখিপুরের বহেরাতৈল ইউনিয়নের আন্দিগ্রাম এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে ওই কিশোরের মাথার খুলি, চুল ও হাড়সহ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, মামলার মূলহোতা শাহীন (৩০) ও হাবিব (৩৫)। তাদের মধ্যে হাবিবকে ১৯ অক্টোবর বিকেলে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শাহীনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী ভিকটিমের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানায় অতিরিক্ত ডিআইজি, এসআরবি ১৪ এর অধিনায়ক মো: মাসুদ রানা।

তিনি জানান, সখিপুর উপজেলার মিলপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তারপরই গত ২৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর থানার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দুই সহযোগী হাবিব ও শাহীন পালিয়ে যান বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরে সবুজের বাবা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় গত ১৫অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, কিশোর সবুজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে মূলহোতা শাহীনের অবস্থান শনাক্ত ও ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধারে সখিপুরের বহেরাতৈল এলাকার আন্দিগ্রামের গভীর জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের কারণে প্রথম দফায় অভিযান সফল হয়নি।

সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী একই এলাকার গভীর জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ, মাথার খুলি, চুল, হাড়, পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিকটিমের অটোভ্যান ছিনতাই করতেই তাকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত হাবিবকে সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার এবং মামলার আলামত উদ্ধারের পর তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

হাওরের পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা তদারকিতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিশেষ দল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম ​(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও উদযাপনের শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসনের গঠিত বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম (টিম নং-০৫)।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী হাওরাঞ্চলের দুর্গোৎসবের বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন তদারকি দলটির সদস্যরা। পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপনের বিষয়ে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করেন। একই সাথে মণ্ডপে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে কাজ করার জন্য পূজা পরিচালনা কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

​অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদুল আহমেদের আহ্বায়কে গঠিত এই বিশেষ ভিজিল্যান্স টিমে সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট মোঃ আব্দুল আলীম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুবার রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ বদরুদ্দোজা, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক।

​পরিদর্শনকালে ভিজিল্যান্স টিমের সাথে সার্বিকভাবে যুক্ত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মজনু মিয়া, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তৌহিদ মিয়া, সহকারী প্রোগ্রামার আনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

এসময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও পুণ্যার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ফেনী জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে আহবায়ক, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ সেলিমকে সদস্য সচিব নির্বাচিত। সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে আহবায়ক, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ সেলিমকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে।

উক্ত কমিটিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়ন কান্তি রক্ষিত, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী সেন্টু মজুমদার, জেলা জজ আদালতের অফিস সহকারী মো. শাফায়াত হোসাইনকে যুগ্ম আহবায়ক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয় এর উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ফেনীর সহকারী স্টেশন মাস্টার শাহিদ হাসান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের রিডার সহকারী রবিন চন্দ্র সাহা, পুলিশ হাসপাতালের কম্পাউন্ডার বেলায়েত হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফেনীর সিএইচসিপি মো. আব্দুস সাত্তার, গণপূর্ত বিভাগ, ফেনীর অফিস সহকারী আরশাদ হোসেনকে সদস্য মনোনীত করা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটি ফেনী জেলা আহবান কমিটির অনুমোদন প্রদান করে।

নবগঠিত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব বলেন, আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন এবং সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুখে দুখে পাশে থাকবো। এ জন্য ফেনী জেলার সকল সম্মানিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

বিষয়:

নির্বাচিত

সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি

সরকারপ্রধানকে হঠাৎ কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৬
নীলফামারী প্রতিনিধি

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভাগীয় নগরী রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে বিশেষ একটি ফ্লাইটে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির পূজামণ্ডপের উদ্দেশে যাত্রাকালে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় ও সেলফি তোলেন এবং তাদের হাতে ফুটবল ও ক্রিকেট ব্যাটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী উপহার হিসেবে তুলে দেন। সরকারপ্রধানকে হঠাৎ কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, রংপুরে যাওয়ার পথে কলেজের সামনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দেখে প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকেই বাস থামান এবং শিক্ষার্থীদের সময় দেন। পরে তাদের খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান করেন তিনি। অধ্যক্ষ আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত প্রসারে দুটি নতুন ছাত্রাবাস ও একটি মিলনায়তন নির্মাণের দাবি লিখিত আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়েছে।

দিনের সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানে সৈয়দপুর এসে সড়কপথে রংপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে আকাশপথে রাজশাহী পৌঁছাবেন তিনি। রাজশাহীর নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে রাতেই আকাশপথে ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে তাঁর।


নির্বাচিত

সৈয়দপুরে প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর তিন বিভাগীয় সফর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৫
অনলাইন ডেস্ক

শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরবর্তীতে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় পথের দুই ধারে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছার জবাবে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের স্থানীয় ধর্মসভা তথা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করবেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে আকাশপথে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

দুপুর দেড়টার দিকে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ শেষে সেখানকার ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর রাজশাহী সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে বেলা ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

রাজশাহীর কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সন্ধ্যায় বন্দরনগরীর রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাময়িক বিরতি শেষে রাতেই আকাশপথে রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে তাঁর।


নির্বাচিত

নাটোরে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত

মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই একটি ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৩০ জন যাত্রী।

মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বরগুনা থেকে রাজশাহীগামী ‘আরপি পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে পাবনাগামী বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই ৯ জন প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা আহত ও নিহতদের নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠান। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আটজনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও প্রক্রিয়ার জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিচয় শনাক্তে কাজ করছেন।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ভোরবেলা হওয়ায় চালক হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের অনেকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।


নির্বাচিত

কমছে না কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অপরাধ ঠেকাতে সারাদেশে হচ্ছে কমিটি

* নেতৃত্বে থাকছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি
প্রতীকী ছবি। কিশোর গ্যাং
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারি ও হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত দেড় মাসে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেড় হাজারের বেশি কিশোর গ্রেপ্তারের তথ্য এসেছে বিভিন্ন সূত্রে। এরপরও পাড়া-মহল্লায় তাদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এ পরিস্থিতিতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সদস্য-সচিব করে এসব কমিটি গঠন করা হবে। তবে কমিটির সদস্যসংখ্যা, কার্যপরিধি ও কাজ শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অভিযানের পরও উদ্বেগ: সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। কুমিল্লায় কয়েক দফার অভিযানে দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নন; বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাই গ্রেপ্তারের সামগ্রিক সংখ্যাকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

অভিযানের পরও অপরাধের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ শিশু উন্নয়নকেন্দ্রগুলোর ওপর বাড়তি চাপ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের টঙ্গীতে ছেলেদের শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৬৯৩ জন এবং যশোরের পুলেরহাট কেন্দ্রে ১৫০ আসনের বিপরীতে ৩০৩ জন অবস্থান করছে। এসব কেন্দ্রে কিশোরদের পরিচর্যা, কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

মূল পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জরুরি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শুধু কিশোরদের গ্রেপ্তার করলে সমস্যার শিকড় দূর হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গ্যাং গড়ে ওঠে। এসব দলের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য, শিক্ষার ঘাটতি, বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব কিশোরদের অপরাধী চক্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দলবদ্ধ পরিচিতি, প্রভাব দেখানোর আকাঙ্ক্ষা এবং তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ আশ্রয়ও তাদের আকৃষ্ট করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবণতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই অপরাধে জড়িত কিশোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের অপরাধে ব্যবহার করা প্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে কিশোরদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা, পরিবারভিত্তিক তদারকি, কাউন্সেলিং ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদার মতে, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, কমিটিতে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি সমাজসেবা বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, সরকারের নতুন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে কমিটি গঠনই চূড়ান্ত সমাধান নয়। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করা গেলে এ উদ্যোগের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর পূজার উপহার নিয়ে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দয়াগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব উপহার তুলে দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

​অনুষ্ঠানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের ৬৮০টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার এবং একই সাথে দুটি সম্প্রদায়ের পূজা উদযাপন কমিটিকে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘ওসমানী উদ্যানে ‘‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানকালে দুর্গাপূজার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসককে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা তড়িৎ দয়াগঞ্জের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাসে উপস্থিত হয়েছি।’

​প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পরিচয় তারা বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তাদের অন্য কোনো পরিচয়ে সামাজিকভাবে বা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যাবে না। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী কোনো জাতিগত বা সামাজিক বিভেদে বিশ্বাস করেন না; শহীদ প্রেসিডেন্টের ‘‘সকল নাগরিকের সমান অধিকার’’ আদর্শেই বর্তমান সরকার বিশ্বাসী। অতীতে কোনো মন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসে সরাসরি কথা বলেননি, যা বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।’

​বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্যতা সম্পন্ন ও সক্ষম বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োগের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ডিএসসিসি কর্তৃক প্রস্তাবিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। সরকার ও সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামাজিক সুবিধা ও উৎসবের সুযোগ সুনিশ্চিত করে তাদের সাথে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তিনি ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

​সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি স্থানে ২টি এবং অপর স্থানে ১৭টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান আবাসনটির জরাজীর্ণ অবস্থা দূর করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

​ডিএসসিসি প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য বিমা এবং কর্মকালীন সময়ে দুর্ঘটনাবশত কোনো কর্মী নিহত হলে তার পরিবারকে এককালীন ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান এবং একটি মন্দির নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, সাবেক কাউন্সিলর হাজী মকবুল ইসলাম খান টিপুসহ তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের নেতারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ ৮০ রিসোর্ট, ২০টি সংকটাপন্ন এলাকায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকা। সড়ক ঘেঁষে বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘সি ফুড ক্যাফে অ্যান্ড রিসোর্ট’। এক মাস আগে দোতলা ক্যাফের নির্মাণ শেষ হয়। এখন রিসোর্ট তৈরির কাজ চলছে।

সি ফুড ক্যাফের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বিচ আনাইয়া ফুড জাংশন অ্যান্ড রিসোর্ট’। এ রিসোর্টের কাঠামোর কিছু অংশে ইটের দেওয়াল। বাকি পুরো অংশ বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে সি ফুড ক্যাফে ও বিচ আনাইয়ার মতো ৮০টি রিসোর্ট চোখে পড়েছে।

গত শনিবার ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ নামে এমনই এক রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। অনুমতি না থাকায় এই রিসোর্টকে পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১৩ মে জরিমানা করেছিল। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পুলিশ জানায়, পুরো কক্সবাজার জেলার ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ আছে। এর মধ্যে ১২০টির মতো সব ধরনের নিয়ম মেনে চলছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সব সংস্থার ছাড়পত্র নেই।

স্থানীভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেরিন ড্রাইভের ৮০ রিসোর্টের বেশির ভাগই গড়ে উঠেছে ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে। এখনো কোনো কোনোটির নির্মাণকাজ চলছে। এসব রিসোর্টের বেশির ভাগেরই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই। এগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম চোখে পড়েনি। এ ছাড়া অন্তত ২০টি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ)।

হিমছড়ির সি ফুড ক্যাফের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, কোনো রকম সরকারি অনুমতি ছাড়াই বাবুল নামে এক ব্যক্তি রিসোর্টটি নির্মাণ করছেন। যোগাযোগ করলে বাবুল বলেন, ‘শিগগিরই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতির জন্য আবেদন করব।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভে প্রশাসনের নাকের ডগায় একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রিসোর্ট করেছে। কেউ টাকা লেনদেন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে হাত করে এসব স্থাপনা গড়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিচ আনাইয়াসহ কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৩৬ রিসোর্টকে গত ৯ মাসে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২ রিসোর্টের প্রতিটিকে বিভিন্ন সময়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। পেভেল স্টোন সি রিসোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– সি সল্ট ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সানসেট বিচ ক্যাফে, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাফে, সি স্টোন ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সি ফিশ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, কোরাল স্টেশন ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, বিচ আনাইয়া ফুড জংশন অ্যান্ড রিসোর্ট, রিয়ান ফুড রেস্তোরাঁ, সাওয়ারূ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, ক্যাপ্টেন কক্স বিচ ক্যাফে, বিচ সালসা রেস্টুরেন্ট, সাম্পান বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, জাহাজপুরা ক্যাসেল, বিচ ভিউ রেস্টুরেন্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, জিডি সমুদ্র বিলাস, মায়াবী বিচ রিসোর্ট, টাইটান হোটেল, হোটেল জানা ডাডা, হোটেল সুইট সাদাফ।

নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বে হিল গোল্ড স্যান্ডস গ্রুপ, বে ফ্রুট রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সাম্পান রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, আরনিক রিসোর্ট, ছুটি রিসোর্ট, হোটেল ইনানী লং বে, ওশান পাল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং ফিরোজ আহমদ, মোজাম্মেল হক, কাশেম আলী ও শহীদুল হকের মালিকানাধীন নামবিহীন চারটি নির্মাণাধীন ভবন।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ‘কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে শুধু টুপটুপ রিসোর্টই নয়; পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া নির্মিত কিংবা নির্মাণাধীন সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৩৬ রিসোর্টকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। ২২টিকে জরিমানা করা হয়েছে। পেভেল স্টোন সি রিসোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারে রিসোর্ট নির্মাণে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ১৭টি লাইসেন্স নিতে হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সিভিল এভিয়েশনের ছাড়পত্র। কিন্তু কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে নির্মিত অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টের সরকারি দপ্তরের অনুমতি কিংবা ছাড়পত্র নেই।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে বর্তমানে শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট আছে। কিন্তু আমাদের সংগঠনের সদস্যভুক্ত হোটেল রয়েছে ৪০ থেকে ৪৫টি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, সংগঠনের সদস্যভুক্ত হোটেলগুলো যেন সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। তবে শনিবার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ নামে যে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেটি আমাদের সংগঠনের সদস্যভুক্ত নয়।’

কক্সবাজারের ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে চল্লিশটির মতো প্রতিষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের সব ধরনের নিয়ম মেনে কার্যক্রম চলছে। বাকি হোটেল-মোটেল সব ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস কোনো প্রতিষ্ঠানকে শুধু নোটিশ দিয়ে সতর্ক করতে পারে। অভিযান বা জরিমানা করার এখতিয়ার নেই। গত জুলাই মাসে টুপটুপ রিসোর্টকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।’

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভ সড়কে তারকা মানের কয়েকটি আবাসিক হোটেলের ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র রয়েছে। তবে নামে-বেনামে গড়ে ওঠা অধিকাংশ রিসোর্টের ছাড়পত্র নেই। তবে কয়টি রিসোর্টের ছাড়পত্র নেই– এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।’


নির্বাচিত

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড, শোকে স্তব্ধ পরিবার; খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু

সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে চলছে মাতম। পরিবারের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই গত বুধবার নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকলেও কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই পরিবারের সদস্যদের। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম।

নজরুল ইসলাম (২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামের আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে। চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় নজরুলকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি। একদিকে ছেলেকে হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান নজরুল। সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন নজরুল।

নজরুলের পরিবারের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত তথ্য কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবারকে জানানো হয়নি। গত বুধবার গণমাধ্যমের খবর থেকে তারা নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাননি নজরুল।

নজরুলের মা রহিমা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, নজরুলের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েন তার ফুফু আবেদা বেগম। গত বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলে কী কারণে জেলে ছিল, তা এখনো জানি না। হঠাৎ ফেসবুকে তার মৃত্যুর খবর দেখতে পাই। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। যাওয়ার ছয় মাস পর থেকেই সে জেলে ছিল। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। এখন ঋণদাতারাও চাপ দিচ্ছেন।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলে যদি বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড পেয়ে থাকে, তাহলে এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। মরদেহ দেশে এলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।’


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত রাজশাহী: ভূমিমন্ত্রী মিনু

রাজশাহীতে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী আসছেন। তার আগমন ঘিরে রাজশাহীতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তার আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সফরে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’ দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

রাজশাহীবাসির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণা করা। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে নেতাদের পক্ষ থেকে।


নির্বাচিত

পাবনায় ১১ থানায় যানবাহনের স্তূপ, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

* ২০ হাজারের বেশি যানবাহন পড়ে আছে বছরের পর বছর * মামলা নিষ্পত্তি ও নিলামে ধীরগতি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ১১টি থানার চত্বরে বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে ২০ হাজারের বেশি জব্দ করা যানবাহন। রোদ-বৃষ্টি ও ধুলাবালুর মধ্যে অযত্নে পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশার মতো মূল্যবান সম্পদ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব যানবাহনের মূল্যও কমছে। অন্যদিকে, মামলা নিষ্পত্তি ও নিলাম প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে একদিকে থানার জায়গা আটকে থাকছে, অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে সম্ভাব্য রাজস্ব।

সরেজমিনে পাবনা সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানা চত্বরে সারি সারি যানবাহন পড়ে রয়েছে। দেখে মনে হয়, এটি যেন পরিত্যক্ত যানবাহনের ভাগাড়। একই চিত্র জেলার ঈশ্বরদী, সুজানগর, বেড়া, আমিনপুর, সাঁথিয়া, আতাইকুলা, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর থানায়ও। বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা এসব যানবাহনের অনেকগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে।

পাবনা কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি থানায় মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ২০ হাজারের বেশি যানবাহন রয়েছে। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলায় জব্দ করা যানবাহনের পাশাপাশি এসবের মধ্যে রয়েছে চোরাই ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহন।

পাবনা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সেলিম রেজা বলেন, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগায় জব্দ করা যানবাহনগুলো নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি এসব যানবাহন রাখার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষিত জায়গাও নেই। ফলে থানাগুলোকে খোলা আকাশের নিচে যানবাহন রাখতে হচ্ছে।

আইনি জটিলতার কারণে অনেক যানবাহনের মালিকও সেগুলো ফেরত নিতে পারছেন না। আবার মামলা নিষ্পত্তির পরও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি হলে যানবাহনগুলো পড়ে থাকছে। এতে যানবাহনের বাজারমূল্য কমার পাশাপাশি থানার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাও দখল হয়ে থাকছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় জায়গার সংকট তৈরি হচ্ছে।

দ্রুত নিলামের পরামর্শ আইনজীবীদের: পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাবু বলেন, মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে যেসব যানবাহন নিলামে বিক্রির উপযোগী, সেগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সম্পদের অপচয় কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল বলেন, জব্দ করা যানবাহন নিয়ে থানা প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মামলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় যানবাহনগুলো পড়ে থাকছে। এর মধ্যে অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া মামলার যানবাহন আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলামে বিক্রি করা গেলে ধীরে ধীরে এ জট কমানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।

সব থানাকে নির্দেশ পুলিশের: পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ বলেন, জেলার ১১টি থানাই তিনি পরিদর্শন করেছেন। প্রতিটি থানায় বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন রয়েছে। এসব যানবাহন থানা চত্বরে বিশৃঙ্খলভাবে পড়ে থাকায় জায়গার অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি যানবাহনগুলোও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেসব মামলার আলামত আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলো আদালতের নির্দেশনা ও প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করে নিলামে বিক্রি করা গেলে সরকার রাজস্ব পাবে। একই সঙ্গে থানার জায়গাও অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। জব্দ করা যানবাহন নিষ্পত্তির বিষয়ে জেলার সব থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জব্দ করা যানবাহনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা গেলে সরকারি সম্পদের অপচয় কমবে। একই সঙ্গে থানাগুলোর জায়গার সংকট নিরসন এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা যানবাহনের জট কমানো সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

banner close