সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৫১৭ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গেল ‘বার আউলিয়া’

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১২:৪৫

দীর্ঘ ছয় মাস পর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ৫১৭ জন পর্যটক নিয়ে ‘বার আউলিয়া’ নামের একটি জাহাজ। বুধবার সকাল ১০টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটি ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজটি যাত্রা করে। বেলা ১২টার পরে জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছবে।

বুধবার সকাল থেকে জেটি ঘাটে ভিড় করেন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা। এ সময় কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশসহ বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চট্রগ্রামের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা নয়ন শীল জানান, কোনো জাহাজ যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে সেজন্য আমরা তদারকি করছি। প্রথম দিন ৫১৭ জন যাত্রী নিয়ে ‘বার আউলিয়া’ জাহাজ সেন্টমার্টিন রওনা করে। এ জাহাজে সাড়ে আট শ যাত্রী ধারণের ক্ষমতা আছে।

ভ্রমণে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমির হামজা জানান, দ্বিতীয় বারের মতো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ঘুরতে এসেছি, খুব আনন্দ লাগছে। আমাদের দলে ২০ জন রয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সিনিয়র সহ-সভাপতি হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র নিয়ে প্রথম দিন আমাদের জাহাজ ৫১৭ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে রওনা দিয়েছে। সমুদ্রের পরিবেশ শান্ত দেখা গেছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনানা চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে ওই পর্যটকবাহী জাহাজে করে ৫০০ এর বেশি ভ্রমণকারী সেন্টমার্টিন দ্বীপে রওনা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ জাহাজগুলো চলাচল শুরু করেছে। পর্যটকদের যাতে সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

বিষয়:

২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ১৭:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২৪ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১২৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৪০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৭ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা আট হাজার ৭১৯ জন।

১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ হাজার ৫৮৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৬১৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৪৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


ঈদে পর্যটকের ঢলের অপেক্ষায়, হোটেল-রিসোর্টে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

চায়ের রাজধানী ও পাহাড়ি সৌন্দর্যে ঘেরা পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যটকের ঢলের অপেক্ষায় রয়েছে। টানা ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-রিসোর্ট ও বিনোদন স্পটগুলোতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।

তবে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের চিত্র একরকম নয়। গত কয়েক সপ্তাহে পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে এবং পর্যটকদের আগমনে আবারও চাঙা হবে স্থানীয় অর্থনীতি। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশি পর্যটকদের কাছেও শ্রীমঙ্গল দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণগন্তব্য হিসেবে পরিচিত। দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগান, হাওর, পাহাড়ি টিলা, রাবার ও লেবুবাগানের মনোরম পরিবেশ প্রতি বছরই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত রাধানগরসহ বিভিন্ন স্থানের হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং-রূপসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। চাইনিজ, থাই, বাংলা ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে মেনুতেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। অনেক প্রতিষ্ঠান ঈদ উপলক্ষে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণাও দিয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এখন প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে বেশি আগ্রহী। ফলে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, লেবুবাগান, রাবার বাগান, আনারস বাগান ও হাওরাঞ্চল ঘিরে পর্যটকের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। উপজেলায় রয়েছে অর্ধশতাধিক চা-বাগান এবং অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, ভাড়াউড়া চা-বাগান লেক, টি মিউজিয়াম, আদি নীলকণ্ঠ চা কেবিন, বধ্যভূমি-৭১, মণিপুরী ও খাসিয়া পল্লী, হরিণছড়া, পাইন বন, বিলাসছড়া লেক ও সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা।

পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গত কয়েক মাসে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও চাঁদের গাড়ি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে তারা নতুন আশার আলো দেখছেন।

হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। পাশাপাশি দেড় শতাধিক ইকো কটেজ ও পর্যটন আবাসন সুবিধা গড়ে উঠেছে। পর্যটননির্ভর এই খাতকে ঘিরে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিং শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে এবং ঈদের আগেই শতভাগ বুকিং পূর্ণ হবে বলে তারা আশা করছেন।

রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, শহরের হোটেল-রিসোর্টে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং রাধানগর এলাকার রিসোর্ট ও কটেজে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন বলেন, আগাম বুকিংয়ে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পূর্ণ হবে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের জন্য রিসোর্টগুলো বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে।

প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার আরোফিন হোসাইন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রুম ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে। তবে এবার প্রত্যাশিত সাড়া কিছুটা কম পাওয়া গেলেও ঈদের আগে শতভাগ বুকিংয়ের আশা রয়েছে।

লেমন গার্ডেন রিসোর্টের মালিক সেলিম মিয়া বলেন, রাধানগর ও ডলুবাড়ি এলাকার প্রায় সব রিসোর্টেই আগাম বুকিং শুরু হয়েছে এবং পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, এবার ট্যুর গাইডদের বুকিং কিছুটা কম। বিদেশি পর্যটক আগমনও কমেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঈদে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, যানজট নিরসন ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহর ও পর্যটন স্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।


রাউজানে মাঠ থেকে বৃদ্ধের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, ‘গণপিটুনিতে’ হত্যার দাবি পুলিশের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজানে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাইন্না পুকুরপাড়ের একটি খোলা মাঠ থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গতকাল রোববার গভীর রাতে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে গণপিটুনির কোনো ঘটনার কথা বলতে পারেননি বাইন্না পুকুরপাড় এলাকার লোকজন।

নিহত ব্যক্তির পরিচয়ও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৫ মে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বাইন্না পুকুরপাড় এলাকার একটি মাঠে এক বৃদ্ধের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন গ্রামবাসী।

ওই বৃদ্ধের দেহে অনেক আঘাতের চিহ্ন ছিল। দেহ ছিল রক্তাক্ত। পরে বেলা ১টার দিকে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

রাউজান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, গরু চুরি করতে এসেছেন, এমন সন্দেহে ওই অপরিচিত লোককে কিছু লোক গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে রেখেছিলেন।

পরে পুলিশ খবর পেয়ে দুপুরে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।


ঈদযাত্রা―ই হলো অন্তিম যাত্রা, সড়ক দুর্ঘটনায় নওগাঁয় শোকের মাতম

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ১৬:৪৪
মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দায় চলছে শোকের মাতম। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে দিশেহারা ৯টি পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দে যোগ দিতে কর্মস্থল নোয়াখালী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন একই এলাকার ৯ বন্ধু। বাসভাড়া ১৮০০ টাকা বেশি হওয়ায় উঠেছিলেন ট্রাকে। কিন্তু সেই ১৮০০টাকা বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকে করে তাদের যাত্রা যে জীবনের শেষযাত্রা হবে, তা কে জানতো!

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে এক ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ, যার মধ্যে রয়েছেন জেলার মান্দার সেই ৯ বন্ধু। উপজেলার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা আর শোকের ছায়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব দিকে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই রডবোঝাই ট্রাকটি উল্টে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে মোট ১৫ জন নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা হলেন মোঃ সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মোঃ আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ আব্দুল বারেক, মোঃ আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মোঃ সোহাগ, মোঃ শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াসও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল বাঁচানো, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করতো। ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই একসাথে বাড়ি আসছিল। বাসে ১৮০০ টাকা ভাড়া বেশি চাচ্ছিল, তাই একটু টাকা বাঁচাতে সবাই মিলে ট্রাকে উঠেছিল। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এই সামান্য টাকার জন্য তাদের সব শেষ হয়ে গেল।

একই ইউনিয়নের ৯ যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো মান্দা উপজেলায় কান্নার রোল পড়েছে। নিহতদের পরিবারে চলছে চরম আহাজারি। উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনেরা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন নারায়ণগঞ্জের ১১৩৫ পরিচ্ছন্নতাকর্মী

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ১৬:৩৪
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১ হাজার ১৩৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) সকালে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে সরকার। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই নগরবাসী একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। নগরবাসী যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঈদের দিন দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাসিক কর্মকর্তা আজগর হোসেন, ইসমাইল চৌধুরী, এ কে এম ফরিদুল মিরাজ, হেমায়েত উদ্দিন, আলমগীর হিরণ, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু ও মো. শামসুজ্জোহা সহ প্রমুখ।


পদ্মা সেতুতে স্বস্তির ঈদযাত্রা, নেই যানজট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে কোনো ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রী ও চালকদের মাঝে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহনগুলো সেতু দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেতু কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।

যদিও ঈদুল আজহার মাত্র তিন দিন বাকি রয়েছে, তবুও মাওয়া প্রান্তে এখন পর্যন্ত যানবাহনের বড় কোনো চাপ তৈরি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, সোমবার (২৫ মে) থেকে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা এবং যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঈদের ঠিক দুই-তিন দিন আগে যাত্রীদের ঢল নামে, তবে সেতুর টোল আদায়ের আধুনিক পদ্ধতির কারণে এবারও বড় কোনো দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই গাড়িগুলো পার হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর সাইট প্রকৌশলী আবু সাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ২৫ হাজার ৯৯৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ে সেতুর দুই প্রান্ত থেকে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৩ হাজার ২৭৯টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৬৮ লাখ ৬ হাজার টাকা টোল আদায় হয়। অন্যদিকে, জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১২ হাজার ৭২০টি যানবাহন পারাপার হয়, যেখান থেকে সংগৃহীত টোলের পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হাসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশের ৬টি বিশেষ টিম কাজ করছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং দুটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিকভাবে পুরো পথ মনিটরিং করছে। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরাও সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় করতে তারা মাঠে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সুবিধার্থে এবং যানজট এড়াতে টোল প্লাজাগুলোতে বাড়তি বুথ চালু রাখার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক এবং ভোগান্তিহীন রয়েছে।


জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দুই ঘণ্টা গোলাগুলি

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ১৬:০২
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে গভীর রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। রবিবার (২৪ মে) রাত ২টার দিকে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে এ হামলা চালানো হয়। পরে র‍্যাব সদস্যরা পাল্টা জবাব দিলে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব–৭-এর কমান্ডিং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে যৌথ বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে যৌথ বাহিনী এলাকাজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রমও চলছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত কিংবা কাউকে আটকের তথ্য জানানো হয়নি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। সরকারি খাসজমিতে অবৈধ বসতি গড়ে ওঠার পাশাপাশি পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকান ও মার্কেট।

ভূমি অফিস সূত্র জানায়, প্রায় তিন হাজার ১০০ একর আয়তনের এ এলাকায় দীর্ঘ চার দশক ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আধিপত্য রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দখলমুক্ত করতে না পারায় সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি একই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও তিন র‍্যাব সদস্য ও একজন সোর্স আহত হন। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হলেও মূল আসামিরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ ঘটনার পর যৌথবাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ হারায়। সরকার জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি, কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।


টাঙ্গাইলে নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড রাজেন্দ্র বাটি (ডেবরা) গ্রাম থেকে চিকলা বলাক্ষেত্র গ্রাম পর্যন্ত।

মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি নিহতদের বাড়ি মান্দা থানার বিভিন্ন গ্রামে। আমাদের কাছে তথ্যগুলো আসছে আমরা তা সংগ্রহ করছি। নিহতদের নাম, পরিচয় ও পেশা এখনো জানা যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

জানা গেছে, সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।


বরগুনায় ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে অভিযান চালিয়ে ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (২৪ মে) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে আমতলী পৌরসভার এ. কে. স্কুল চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মো. আমিনুর (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক আমিনুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. মোতাহার হাওলাদার।

এ সময় তার কাছ থেকে ৭৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত ইয়াবার জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু শাহাদাত মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, “এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হবে।”


টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত ১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহতদের সবাই ট্রাকের ওপরে যাত্রী হিসেবে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, ভোরের দিকে রড ও যাত্রী নিয়ে ট্রাকটি উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি রাস্তার পাশের খাদে উল্টে যায়। খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মধ্যে ৬ জনকে গুরুত্বর অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধারের পর মহাসড়কে বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে এক এলাকায় তিনটি স্থল মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বাগানের কাজ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক জাফর ইকবাল জানিয়েছেন।

মাইন বিস্ফোরণে মারা যাওয়া তিনজন হলেন অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়। বিস্ফোরণে মৃতদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গেছে।

ঘুমধুমের স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় তিনটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিস্ফোরণে শুরুতে এক বাগানচাষি গুরুতর আহত হন। সঙ্গীরা দৌড়ে তাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে আরেকজন গুরুতর আহত হন। আহত ওই দুজনকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকজন আহত হন। উপর্যুপরি তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় কাজ করতে যাওয়া লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পাড়ায় এসে সংবাদ দেয়। পাড়াবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, ভালুকিয়াপাড়াসহ সীমান্তের কাছাকাছি মানুষ সবাই শূন্যরেখা বজায় রেখে ফলের বাগানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। এটি তাদের জীবন-জীবিকা একমাত্র উপায়। গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। এখনো তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বনে সবজি খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে একজন নারী দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আগের দুজনের নিখোঁজ, পা হারানো ঘটনাসহ আজকের তিনজনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বলে বাবুল কান্তি জানিয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির দফাদার সৈয়দ আলম ও ঘুমধুমের গ্রাম পুলিশ রূপম বড়ুয়া জানিয়েছেন, ঘটনা ৪১ সীমান্ত পিলার এলাকায় হলেও যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি শূন্যরেখার ভেতরে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে এত শক্তিশালী স্থলমাইল কারা স্থাপন করেছে, তা তদন্ত হওয়া দরকার মনে করেন দফাদার সৈয়দ আলম। মৃতরা সবাই বাগানচাষি।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুম পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল মাইন বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লাশ তিনটি উদ্ধার করে রেজুপাড়া বিজিবির সীমান্তচৌকিতে আনা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, পাহাড়ি খেতে কাজ করছিলেন। এ সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন চাকমা সম্প্রদায়ের নাগরিক নিহত হয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, মাইন বিস্ফোরণে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


জমে উঠেছে পশুর হাট, মধ্যবিত্তের নজর ‘মাঝারি’ গরুতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। সময়ের হিসাব নিকাশে ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় পশুর হাটগুলোতে এখন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত। রাজধানীর গাবতলী, বসিলা, আফতাবনগরসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পশুবাহী ট্রাক এসে পৌঁছাচ্ছে। তবে হাটগুলোতে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে চিরাচরিত দরকষাকষি। এবারের হাটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—উচ্চবিত্ত বা বিলাসী ক্রেতাদের বড় গরুর প্রতি আগ্রহ থাকলেও, সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ মাঝারি আকারের গরুর দিকে।

হাটের সার্বিক চিত্র ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া: রাজধানীর প্রধান পশুর হাট গাবতলী ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ এবং রাজশাহী থেকে খামারিরা তাদের সেরা পশুগুলো নিয়ে এসেছেন। হাটের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও বেচাকেনার গতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিক্রেতারা। কুষ্টিয়া থেকে আসা খামারি মো. রহমত আলী জানান, ‘হাটে মানুষ আসছে প্রচুর, তবে বেশির ভাগই এখন দেখছেন আর দাম যাচাই করছেন। দুই-একদিন পর পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করছি।’

এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা চড়া। বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান হাবীব হাটে এসেছেন কোরবানির গরু কিনতে। তিনি বলেন, ‘এবার বাজেটের মধ্যে গরু মেলা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে যে গরুগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর আকার বেশ ছোট। মাঝারি সাইজের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে দেড় লাখ থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা।’

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং খামার ব্যবস্থাপনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণেই এবার পশুর দাম কিছুটা বাড়তি। তবে বিক্রেতাদের দাবি, হাটে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে, তাই শেষ মুহূর্তে দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই চলে আসবে।

মাঝারি গরুর বাজারে উপচে পড়া ভিড়: এবারের কোরবানির হাটে সবচেয়ে বেশি চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ৮০ থেকে ১৫০ কেজি মাংস হতে পারে—এমন মাঝারি আকারের গরুর। মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট এবং নগরের ফ্ল্যাট বাড়ির আবাসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এই আকারের গরুর চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। হাট ইজারাদারদের সূত্রে জানা গেছে, হাটে বড় ও রাজকীয় নামের গরুর দিকে মানুষের কৌতূহল ও ভিড় বেশি থাকলেও, প্রকৃত বিক্রি হচ্ছে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুগুলো। অনেক ক্রেতা আবার ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে হাটের শুরুর দিকেই পছন্দের মাঝারি গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন।

সীমান্তে কড়াকড়ি: দেশি খামারিদের সুরক্ষায় জোর: বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি এবং স্থানীয় খামারিদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল চোরাই পথে বিদেশি পশু আসা বন্ধ করা। দেশীয় খামারিদের লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে এবার সীমান্তে কড়া নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছে যাতে কোনোভাবেই অবৈধ পথে ভারতীয় গরু দেশের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে।

তবে কয়েকটি হাটে বিচ্ছিন্নভাবে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় খামারিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশেই এবার কোরবানির চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে বাইরের গরু বাজারে ঢুকলে দেশি খামারিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। সরকার অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে, চোরাচালান রোধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

জাল টাকা ও হাটের অনিয়ম রোধে কঠোর প্রশাসন: কোরবানির হাটের অন্যতম বড় আতঙ্ক হলো জাল টাকার চক্র এবং অজ্ঞানপার্টি বা মলমপার্টির খপ্পর। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সরল-সোজা খামারিরা প্রায়শই এই চক্রগুলোর শিকার হন। এই অনিয়ম ও অপরাধ রোধে এবার রাজধানীর প্রতিটি হাটে বিশেষ বুথ স্থাপন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্মার্ট ওয়াচ টাওয়ার ও সিসিটিভি: হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‍্যাবের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে।

জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ: বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি হাটে বিনামূল্যে জাল টাকা পরীক্ষা করার জন্য স্বয়ংক্রিয় মেশিনসহ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই টাকা লেনদেনের সময় এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।

হাসিল নিয়ে কড়াকড়ি: ইজারাদারদের নির্ধারিত হাসিলের অতিরিক্ত টাকা আদায় রুখতে হাটের বিভিন্ন পয়েন্টে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি চালু রয়েছে।

ডিজিটাল হাটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি: ঐতিহ্যবাহী শারীরিক হাটের পাশাপাশি এবারও বেশ সাড়া ফেলছে ডিজিটাল বা অনলাইন পশুর হাট। যাতায়াতের ভোগান্তি, কাদা-পানি এবং হাটের কোলাহল এড়াতে অনেক নগরবাসী অনলাইনেই ছবি ও ভিডিও দেখে লাইভ ওয়েটের (জীবন্ত ওজন) ভিত্তিতে গরু কিনছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো শতভাগ যাচাইকৃত এবং সুস্থ পশুর নিশ্চয়তা দিচ্ছে, যা কোরবানির বাজারকে আরও আধুনিক ও সহজ করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, উৎসবের আমেজে প্রস্তুত রাজধানী ঢাকার পশুর হাটগুলো। খামারিরা যেমন তাদের বছরান্তের খাটাখাটুনির ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন, তেমনি ক্রেতারাও চান তাদের সামর্থ্যের মধ্যে একটি সুস্থ ও সুন্দর পশু কোরবানি দিতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি, দেশি পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং কৃত্রিম সংকট রোধে সরকারের সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এবারের কোরবানির হাট ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।


উপাত্ত ছাড়া যেকোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক যুগে ডেটা বা উপাত্ত ছাড়া যেকোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত বা ধারণা মাত্র। সঠিক উপাত্ত ছাড়া যেকোনো জনসংযোগ বা প্রচার কৌশল ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে। তাই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের যেকোনো বার্তা তৈরিতে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তের ওপর নির্ভর করার আহবান জানান তিনি।

রোববার (২৪ মে) সকালে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের (পিআরও) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান যুগটি হচ্ছে নিখুঁত ডেটা বা উপাত্তের যুগ। আপনি মাঠ পর্যায়ে কী কাজ করছেন বা সরকারের বার্তা জনগণের কাছে কিভাবে পৌঁছাচ্ছে, তা কেবল মুখের কথায় বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নিশ্চিত করতে হলে তার পেছনে অবশ্যই অকাট্য উপাত্ত থাকতে হবে। উপাত্তহীন যেকোনো তথ্যকে সমাজ কেবল একজন ব্যক্তির মতামত হিসেবেই দেখবে, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা বস্তুনিষ্ঠ মূল্য নেই।’

জনসংযোগের আধুনিকায়নে ‘সাইকোগ্রাফি’ এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট উপাত্ত বের করা অত্যন্ত সহজ। একটি তথ্যে বা সংবাদে মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন- কয়টি লাইক, ডিসলাইক বা কী ধরনের মন্তব্য আসছে, সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে জনমতের নিখুঁত গ্রাফ তৈরি করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘এই বৈজ্ঞানিক উপাত্তকে কাজে লাগিয়েই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট বা নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলা করতে হবে।’

তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরো বলেন, নিজেদের দক্ষ ‘ডিজিটাল ফোর্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও সাফল্যকে উপাত্ত বা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারলে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যায়। উপাত্তভিত্তিক প্রচারণাই পারে বিভ্রান্তি দূর করে জনমনে সঠিক পারসেপশন বা ধারণা তৈরি করতে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম ও মো. ইয়াসীন উপস্থিত ছিলেন।


banner close