মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

৫১৭ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গেল ‘বার আউলিয়া’

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১২:৪৫

দীর্ঘ ছয় মাস পর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ৫১৭ জন পর্যটক নিয়ে ‘বার আউলিয়া’ নামের একটি জাহাজ। বুধবার সকাল ১০টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটি ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজটি যাত্রা করে। বেলা ১২টার পরে জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছবে।

বুধবার সকাল থেকে জেটি ঘাটে ভিড় করেন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা। এ সময় কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশসহ বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চট্রগ্রামের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা নয়ন শীল জানান, কোনো জাহাজ যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে সেজন্য আমরা তদারকি করছি। প্রথম দিন ৫১৭ জন যাত্রী নিয়ে ‘বার আউলিয়া’ জাহাজ সেন্টমার্টিন রওনা করে। এ জাহাজে সাড়ে আট শ যাত্রী ধারণের ক্ষমতা আছে।

ভ্রমণে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমির হামজা জানান, দ্বিতীয় বারের মতো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ঘুরতে এসেছি, খুব আনন্দ লাগছে। আমাদের দলে ২০ জন রয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সিনিয়র সহ-সভাপতি হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র নিয়ে প্রথম দিন আমাদের জাহাজ ৫১৭ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে রওনা দিয়েছে। সমুদ্রের পরিবেশ শান্ত দেখা গেছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনানা চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে ওই পর্যটকবাহী জাহাজে করে ৫০০ এর বেশি ভ্রমণকারী সেন্টমার্টিন দ্বীপে রওনা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ জাহাজগুলো চলাচল শুরু করেছে। পর্যটকদের যাতে সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

নৌকাবাইচে চ্যাম্পিয়ন রৌমারীর ‘মায়ের দোয়া’, পেল সংবর্ধনা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার মানিকগঞ্জ জেলার বেউথা কালিগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামের মায়ের দোয়া নৌকাটিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রৌমারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্না দেবনাথের নির্দেশে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হাসান এ সংবর্ধনা প্রদান করেন।

মানিকগঞ্জের বেউথা কালীগঙ্গা নদীতে গত শনিবার উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন।

এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২২টি নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামের মায়ের দোয়া নামের নৌকাটি ১ কিলোমিটার ব্যবধানে প্রতিযোগিতার অন্যান্য নৌকাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।

প্রতিযোগিতা শেষে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বিজয়ী মায়ের দোয়া নৌকাকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও একটি মোটর সাইকেল পুরস্কার দেন। প্রথমবারের মতো নৌাকাবাইচে মায়ের দোয়া নৌকাটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নৈপুণ্য দেখিয়ে গৌরব অর্জন করে। এতে রংপুর বিভাগের তথা কুড়িগ্রাম জেলার গৌরব উজ্জ্বল করায় এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্না দেবনাথের নির্দেশে রৌমারী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

এতে নৌকাবাইচে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক সদস্য ও পরিচালকদের রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্দবেড় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আব্দুল কাদের সরকার, উপজেলা জামায়াতে আমির সাবেক অধ্যক্ষ হায়দার আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম খান হিরোসহ সাংবাদিকরা।


নির্বাচিত

ময়মনসিংহের সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল, ২১ মাসে ৩৭০ প্রাণহানি

# ত্রিশাল-ভালুকা ও ফুলপুর-তারাকান্দায় সবচেয়ে বেশি ঘটছে দুর্ঘটনা
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে যেন থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনই জেলার কোনো না কোনো সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনো বেপরোয়া গতি, কখনো চালকের অসতর্কতা, আবার কখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিযোগিতামূলক ওভারটেকিং, মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা। এসব কারণে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিআরটিএর তথ্য মতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১ মাসে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে ৩৭৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩৭০ জন নিহত এবং ৪১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা ও কর্মক্ষমতা হারানোর মতো সমস্যায় পড়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানিই ঘটাচ্ছে না, বরং অসংখ্য পরিবারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। কোনো পরিবার হারাচ্ছে উপার্জনক্ষম সদস্য, কোনো পরিবারকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হচ্ছে স্বজন হারানোর বেদনা। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠছে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা।

চলতি বছরের নয় মাসেই নিহত ১৫১ :

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে ১৫০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৫১ জন নিহত এবং ১৪২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে গড়ে প্রতি দুই দিনে প্রায় একজন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ত্রিশাল-ভালুকা অংশ :

ময়মনসিংহের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলা অংশে ৭০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ, অতিরিক্ত গতি এবং ওভারটেকিংয়ের প্রবণতার কারণে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা না মেনে দ্রুতগতিতে যান চালানো এবং সামনে থাকা যানবাহনকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ফুলপুর-তারাকান্দা সড়কেও বাড়ছে দুর্ঘটনা :

ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা অংশেও দুর্ঘটনার চিত্র উদ্বেগজনক। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এই দুই উপজেলা অংশে ৮০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং, সড়কের পাশে অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ছোট যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে।

নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার নিয়েও প্রশ্ন:

মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির থ্রি-হুইলার একই সড়কে চলাচল করায় তৈরি হচ্ছে গতি-বৈষম্য। অনেক সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির যান এসে ধীরগতির যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে।

এ ছাড়া যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে সামান্য অসতর্কতাতেই ঘটছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়া গতি। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে চালকের ক্লান্তি, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ট্রাফিক আইন অমান্য, ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেকিং এবং অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানছেন না। একই সঙ্গে মহাসড়কে একে অপরকে পেছনে ফেলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন।

প্রয়োজন কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ :

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু চালকদের সচেতন করাই যথেষ্ট নয়—সড়কের অবকাঠামো, যানবাহনের ফিটনেস, চালকের দক্ষতা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, স্পিড ব্রেকার বা প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল বন্ধ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং লাইসেন্সবিহীন বা অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত গতির যানবাহন শনাক্তে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।

ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে ২১ মাসে ৩৭০ জনের প্রাণহানি এবং চলতি বছরের মাত্র নয় মাসে ১৫১ জনের মৃত্যু দেখিয়ে দিচ্ছে, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি আর অবহেলার সুযোগ নেই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির এই মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত ও কঠোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।


নির্বাচিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ আহত ৩০

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়নের দামচাইল, খোলাপাড়া, সাদেকপুর ও হাংমাড়া মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন তারিফ (২০), সালমান (৪), বায়জিদ (১১), তারিন (১৬), আশরাফুল (১২), তসিবা (৯), রবিউল্লাহ (৪০), জামাল (৪৫), আব্দুল বাসার (৭০), নুর আলম (৪০), ইয়াসমিন (৩৫), তোফাজ্জল (১৭) ও সাফিয়া (৩২)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে একটি পাগলা কুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। একপর্যায়ে কুকুরটি নারী, পুরুষ ও শিশুদের কামড়াতে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন হাংমাড়া মসজিদের সামনে কুকুরটিকে ঘেরাও করে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

ঘটনার পর আহতদের দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জরুরি ভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ চালু করে। সেখানে আহতদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী র‍্যাবিক্স-ভিসি ও র‍্যাভিক্স-আইজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ওআরটিসি বিভাগের ইনচার্জ ফেরদৌসী বেগম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বিভাগ খোলা হয় এবং আহতদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করা হয়। অন্য আক্রান্তরা হাসপাতালে এলে তাদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান জানান, সাদেকপুর থেকে ফোনে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০ জনকে কুকুরে কামড়ানোর খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে। কুকুরে কামড়ালে বা আঁচড় দিলে আতঙ্কিত না হয়ে ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


নির্বাচিত

ভোলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু, আহত বাবা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাফা (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা ও মোটরসাইকেলের চালক মো. সোহেল (৪০)। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‎মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট সংলগ্ন বৈদ্যেরপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।‎

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালমোহন উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী মো. সোহেল তার শিশু কন্যা রাফাকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বোরহানউদ্দিন থেকে লালমোহনের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বৈদ্যেরপুল এলাকায় পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং বাবা-মেয়ে দুজনই গুরুতর আহত হন।‎

‎পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রাফাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আহত সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

‎‎বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাব আলী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

নওগাঁ সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর দুই সীমান্তে সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তৎপরতায় তাদের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে সাতজনই সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী ও ছয়জন পুরুষ রয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জেলার পত্নীতলা উপজেলার কড়িয়া এবং সাপাহার উপজেলার সোনাডাঙা সীমান্ত এলাকায় পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সকালে পত্নীতলা উপজেলার কড়িয়া সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবির একটি টহল দল। বিজিবির তৎপরতায় পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত হয়। পরে ওই তিনজনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়।

একই সময়ে সাপাহার উপজেলার সোনাডাঙা সীমান্ত এলাকাতেও চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি বিষয়টি জানতে পেরে সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয়। প্রাথমিকভাবে বিজিবি জানতে পেরেছে, ওই চারজন একই পরিবারের সদস্য।

দুই সীমান্তে সাতজন অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।

পত্নীতলা ১৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে পত্নীতলার কড়িয়া সীমান্ত এলাকায় তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তা প্রতিহত করে। একইভাবে সাপাহারের সোনাডাঙা সীমান্তে আরও চারজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। ওই চারজন একই পরিবারের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সাতজনই সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এদিকে একই দিনে জেলার দুই সীমান্তে একসঙ্গে সাতজনকে পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

দীর্ঘ আট মাস পর উৎপাদনে ফিরেছে যমুনা সার কারখানা

ছবি: যমুনা সার কারখানা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে যমুনা সার কারখানা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোররাত ৩টার দিকে সার উৎপাদন শুরু হয়েছে।

এর আগে গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর চালু হলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটে আবারও কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি, বলেন ফজলুল হক।

কারখানার ডিজিএম (অ্যাডমিন) দেলোয়ার হোসেন জানান, নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাসের আদর্শ চাপ প্রয়োজন ৪৬ এমএমসিএফ। তবে ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ থাকলেও উৎপাদন চালানো যায়।

‘এতদিন তিতাস কর্তৃপক্ষ ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ চাপে গ্যাস সরবরাহ করছিল। চাপ কম থাকায় প্রস্তুতি নিয়েও কারখানা চালু করা যায়নি,’ যোগ করেন তিনি।

দীর্ঘদিন পর সচল হওয়ায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কারখানার আশপাশের এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

যমুনা সার কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে।

দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে প্রতি মাসে কারখানাটিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়। মুনাফা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয়।

যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া অ্যান্ড ইউটিলিটি বিভাগের প্রধান ফজলুল হক বলেন, ‘বর্তমানে কারখানার সব কিছু সচল রয়েছে। আশা করছি, প্রতিদিন এক হাজার ২০০ থেকে ৪০০ টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’


নির্বাচিত

পঞ্চগড়ের সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান মুক্তা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়া মিলনবাজার এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে সদর থানা পুলিশের একটি দল তাকে হেফাজতে নেয়।

আটকের পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে পঞ্চগড় আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আদালত প্রাঙ্গণজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাঈমুজ্জামান মুক্তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন ইজিবাইক চালক আল আমিনকে গুম ও হত্যা এবং স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে। পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল মঙ্গলবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


নির্বাচিত

রামপালে দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) ক্ষমতার দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) কর্তৃক প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন ও বিউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট ৩ হাজার ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বিউবোর নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবে প্রস্তাবিত বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৬.১৮ টাকা।

বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১২ সালে বাগেরহাট জেলার রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিপিডিবি। জমিটি দু’টি ব্লকে বিভক্ত—ব্লক-এ ও ব্লক-বি। এর মধ্যে ব্লক-এ অংশে বাংলাদেশ-ভারত কয়লাভিত্তিক মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। ব্লক-বি অংশটি বর্তমানে বিপিডিবির অধীনে রয়েছে, যেখানে ভূমি উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

বিউবো জানায়, ‘ব্লক-বি’-এর ৯১৮.৫০ একর জমির মধ্যে ৭৬.৬৩ একর গ্রিন বেল্ট উন্নয়নের জন্য, ৩২.৮৭ একর বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণে, ৯৪ একর নিচু জমি এবং উত্তর-পশ্চিম পাশের প্রায় ৩০ একর জমি লেক হিসেবে রয়েছে। ফলে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪৪২ মেগাওয়াট (ডিসি) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ ৬৮৫ একর।

প্রাথমিকভাবে যৌথ উদ্যোগে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও, বিদ্যুতের বিশেষ বিধান আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২১) বাতিল হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়। পরবর্তীতে মে ২০২৫-এ তৃতীয় পক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করে ৬৮৫ একর জমিতে এই গ্রিড-সংযুক্ত কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, জমিতে অতিরিক্ত ভূমি উন্নয়নের প্রয়োজন না থাকায় নির্মাণ ব্যয় কম হবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যুতের ইউনিট খরচে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে ফেনীর সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বিপিডিবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রামপাল প্রকল্পের তুলনায় সোনাগাজী প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি দক্ষ হলেও এর নির্মাণ ব্যয় ও ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। সোনাগাজী প্রকল্পের ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ শতাংশ, যা রামপাল প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ।

রামপাল প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াটে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫.৬৬ কোটি টাকা। সোনাগাজী প্রকল্পে এই খরচ ৬.২৭ কোটি টাকা। অবকাঠামো নির্মাণ খাতে সোনাগাজীতে ব্যয় রামপাল প্রকল্পের দ্বিগুণেরও বেশি। এ ছাড়া ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণেও সোনাগাজী প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

ব্যয়বহুল নির্মাণ খরচের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্যের ওপর। রামপাল প্রকল্প থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬.১৮ টাকায় কেনার প্রস্তাব থাকলেও সোনাগাজী প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই ট্যারিফ ধরা হয়েছে ৮.৮৭ টাকা। অর্থাৎ সোনাগাজীর বিদ্যুতের দাম রামপালের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। সোনাগাজী প্রকল্প থেকে বার্ষিক ৩৮১.৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রামপালে এ লক্ষ্যমাত্রা ৩৫২.৪১ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী ডিজিটাল শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ, আইসিটি খাতে অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের ফলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান ২০২৩ অনুযায়ী, ২০৩০, ২০৪১ ও ২০৫০ সালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা যথাক্রমে ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট, ৫৮ হাজার ৫৯৭ মেগাওয়াট ও ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। অথচ এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট (২৩ জুলাই ২০২৫)।

দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এলেও উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করেছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ মোট উৎপাদনের তুলনায় এখনও খুবই সীমিত। ফলে এই খাতে দ্রুত বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা উইং-এর অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ বলেন, ‘রামপাল এলাকায় প্রস্তাবিত ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’

প্রকল্পটির প্রস্তাব ইতোমধ্যে ডিপিপি আকারে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

নূর আহমেদ বলেন, ‘সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। সেই তুলনায় ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি প্রায় দ্বিগুণ বড়, যা দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে। এই প্রকল্পের ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অন্য প্রকল্পের তুলনায় কম, যা এটিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।’


নির্বাচিত

তাঁতিবাজার থেকে পিচ্চি রাজাকে পালাতে সাহায্য করে এসআই প্রবীর

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালানোর সুযোগ করে দেন উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার বিশ্বাস। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ‘নাটক’ সাজানো হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এসব তথ্য জানান।

ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পলাতক আসামি পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক পিচ্চি রাজা ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা জজকোর্ট থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে ঢাকার তাঁতিবাজার এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ভ্যানটি থামানো হয়।

এ সময় প্রিজন ভ্যানের ইনচার্জ এএসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে আনেন। পরে খাইরুল বাশারকে পুনরায় ভ্যানে তোলা হলেও পিচ্চি রাজা ও প্রবীর কুমার আর ভ্যানে ওঠেননি।

পুলিশের ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রবীর কুমার ঘটনাস্থলে ফিরে এসে স্কোয়াড পার্টির সদস্যদের নিয়ে আসামি পালিয়ে যাওয়ার একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করেন।

সাক্ষ্যপ্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় প্রিজন ভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র কলা ভবনের সামনে এই মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এরপরই দেখছি, গণমাধ্যমের ওপর বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কারের বদলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। গণমাধ্যম ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

গত রোববারের (৪ অক্টোবর) হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভিডিও দেখলেই বোঝা যায়, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের মারধর করা হয়েছে। সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতেই সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা থেকেই গত রোববারের পরিস্থিতির সূত্রপাত।’ এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুন।


নির্বাচিত

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই

এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ঘুষ নিয়ে করা মন্তব্য যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।

সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে ইলিয়াস হোসেন এ বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাঁর ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। ওই সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি এ কথা বলেন।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তাঁর (এএসআই ইলিয়াস হোসাইন) সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তদন্তে ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘুষ ছাড়া তিনি মামলার তদন্তে আগ্রহ দেখান না।

এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, তিনি মামলার বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং ভয়ভীতি দেখান।

স্থানীয় লোকজনের আরও অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম তাঁর এলাকার ‘বড় ভাই’—এমন পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানায় ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে জানতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ এরপর তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তাঁর (এএসআই ইলিয়াস হোসাইন) সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।’


নির্বাচিত

বরিশালে ফেনসিডিলের মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি 

বরিশালে ফেনসিডিলের মামলায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) বরিশালের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেন আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরশিবা পণ্ডিতবাড়ির বাসিন্দা আজাহার আলী পণ্ডিতের ছেলে মো. শাহাদাৎ হোসেন পণ্ডিত (৪৭) এবং একই উপজেলার চরকপালবেড়া এলাকার আব্দুল বারেক হাওলাদারের ছেলে জলিল হাওলাদার (৪৬)।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ বলেন, ‘২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তৎকালীন র‍্যাব-৮-এর একটি দল নগরের নতুনবাজার এলাকায় তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে। সেই সময় ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাদাৎ ও জলিলকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী নগরের উত্তর আলেকান্দা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১৮৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।’

এ ঘটনায় তৎকালীন র‍্যাবের ডিএডি মশিউর রহমান বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে একই বছরের ৩ নভেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন এসআই আব্দুর রহমান মুকুল দুজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পাঁচজনের সাক্ষ্য-গ্রহণ শেষে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পলাতক আসামি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।


নির্বাচিত

সমেশপুরে ৫০ কোটি টাকার সবজি চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা ও পানি দেওয়া। কেউ চারা তুলছেন, কেউ ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা গাড়িতে তুলে দিতে। শীতের আগমুহূর্তে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরে এখন চলছে সবজির চারা বিক্রির ব্যস্ত মৌসুম।

ময়নামতি রানীর বাংলো পেরোলেই চোখে পড়ে এই কর্মব্যস্ততা। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকায় সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে সমেশপুরের চারা। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন চাষিরা।

ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে এখানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা চারা কিনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।

চারা উৎপাদনকারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায়। গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

আরেক চারা উৎপাদনকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় কাটছে।

চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বুড়িচংয়ে ধানের পর চারা উৎপাদন কৃষকদের অন্যতম বড় আয়ের উৎস। তবে কৃষি অফিস থেকে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ভালো বীজ ও মাটি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

চাষিরা জানান, মূল মৌসুমে সেচসংকট দেখা দিয়েছে। আবার বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে চারা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানসম্মত বীজ ও সার সংগ্রহ এবং মাটি পরীক্ষা নিয়েও নানা জটিলতা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার বলেন, চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো শুনেছেন। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সমেশপুরের চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সবজি উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ জনপদ।


নির্বাচিত

banner close