মিয়ানমারের রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) শীর্ষ নেতা ও গান কমান্ডার রহিমুল্লাহ প্রকাশ মুছাসহ চারজনকে আটক করেছে র্যাব-১৫। এসময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে র্যাব-১৫ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া উপজেলার তেলখোলা-বরইতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় কেজি ৫৩ গ্রাম বোমাসদৃশ বিস্ফোরক দ্রব্যসহ মো. শফিক (২৮) ও মো. সিরাজ (৩০) নামে দুজনকে আটক করে র্যাব। তাদের দেয়া তথ্যমতে, ওই এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ এর অন্যতম কমান্ডার ও আরসার জিম্মাদার রহিমুল্লাহ ওরফে মুছা এবং ক্যাম্প-৪ এর আরসার অন্যতম কমান্ডার শামছুল আলম ওরফে মাস্টার শামসুকে (২৯) আটক করা হয়। সেখান থেকে ৪৩ কেজি ৩১০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটারগান, চারটি পিস্তলের বুলেট, তিনটি ওয়ান শুটারগানের বুলেট এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করে র্যাব।
আটক শফিক ও সিরাজ দুজনেই বাংলাদেশি। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে তারা জানান, আরসার শীর্ষ নেতারা বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্প ও তার পাশের এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তারা এসব কাজ করার জন্য পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য চোরাচালান করছিলেন। আটক কৃষক শফিক ও টমটমচালক সিরাজ বিস্ফোরক দ্রব্য কৌশলে সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে মিয়ানমার থেকে নিয়ে এসে নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতেন এবং সুবিধাজনক সময়ে আরসার সন্ত্রাসীদের কাছে সরবরাহ করতেন।
আটক হওয়া অপর দুজন রহিমুল্লাহ ও শামছুল আলম মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করে তারা সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে ক্যাম্প ও স্থানীয়দের খুন, অপহরণ ও গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতেন। চাঁদা না পেলে অপহরণ করে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনসহ মুক্তিপণ আদায় করতেন। পরে মুক্তিপণ না মিললে খুন করে গহীন পাহাড়ে অথবা জঙ্গলে মরদেহ গুম করে ফেলতেন।
আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী রহিমুল্লাহ ২০১৭ সাল থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। মিয়ানমারে থাকা তার আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবার চালান নিয়ে এসে নিজে এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতেন। ২০১৮ সালের দিকে আরসা নেতা খালেদের মাধ্যমে তিনি সন্ত্রাসী সংগঠনটিতে যোগ দেন। আরসার সন্ত্রাসী গ্রুপের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে অস্ত্র, গোলাবারুদ সরবরাহ, অপহরণ, খুন, ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারে গোলাগুলিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতেন।
র্যাব জানায়, রহিমুল্লাহ মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র ও বোমা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে সেখানে পারদর্শিতা অর্জন করে আরসার গান কমান্ডার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ এর জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া আরসার অন্যান্য সদস্যদের বোমা তৈরি ও অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি।
র্যাবের ভাষ্যে, রহিমুল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন—তিনি ক্যাম্পের হেডমাঝি আজিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ড, সাব মাঝি জাফর হত্যাকাণ্ড, এপিবিএন পুলিশের ওপর হামলা, ক্যাম্পে মাদরাসায় হামলা করে ছয়জন শিক্ষক ও ছাত্রকে হত্যা, জসিম হত্যাকাণ্ড, শফিক হত্যাকাণ্ড, মৌলভী সামশুল আলম হত্যাকাণ্ড, নুর হাসিম ও নূর হাবা হত্যাকাণ্ড, সাবমাঝি আইয়ুব হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, আটক আরেক আরসা কমান্ডার শামছুল আলম ২০১২ সালে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসেন। পরে ২০১৯ সালে মৌলভী জাবেদের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আরসায় যোগ দেন। সংগঠনটিতে যোগ দেয়ার পর তিনি অস্ত্র চালানো ও রণকৌশল প্রশিক্ষণ নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এর অন্যতম কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি বিভিন্ন সময়ে আরসার শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় টার্গেট কিলিং, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং মুক্তিপণ না পেলে হত্যা করে মরদেহ গুম করে ফেলতেন।
এছাড়া ক্যাম্পে হেডমাঝি হোসেন ও কামাল হত্যাকাণ্ডেও তিনি জড়িত ছিল বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার ও উখিয়া থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনি জেল খেটেছেনও বলে জানা যায়।
আটক চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১ হাজার ১৩৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে সরকার। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই নগরবাসী একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। নগরবাসী যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঈদের দিন দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাসিক কর্মকর্তা আজগর হোসেন, ইসমাইল চৌধুরী, এ কে এম ফরিদুল মিরাজ, হেমায়েত উদ্দিন, আলমগীর হিরণ, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু ও মো. শামসুজ্জোহা সহ প্রমুখ।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে কোনো ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রী ও চালকদের মাঝে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহনগুলো সেতু দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেতু কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
যদিও ঈদুল আজহার মাত্র তিন দিন বাকি রয়েছে, তবুও মাওয়া প্রান্তে এখন পর্যন্ত যানবাহনের বড় কোনো চাপ তৈরি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, সোমবার (২৫ মে) থেকে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা এবং যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঈদের ঠিক দুই-তিন দিন আগে যাত্রীদের ঢল নামে, তবে সেতুর টোল আদায়ের আধুনিক পদ্ধতির কারণে এবারও বড় কোনো দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই গাড়িগুলো পার হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পদ্মা সেতুর সাইট প্রকৌশলী আবু সাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ২৫ হাজার ৯৯৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ে সেতুর দুই প্রান্ত থেকে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৩ হাজার ২৭৯টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৬৮ লাখ ৬ হাজার টাকা টোল আদায় হয়। অন্যদিকে, জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১২ হাজার ৭২০টি যানবাহন পারাপার হয়, যেখান থেকে সংগৃহীত টোলের পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হাসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশের ৬টি বিশেষ টিম কাজ করছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং দুটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিকভাবে পুরো পথ মনিটরিং করছে। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরাও সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় করতে তারা মাঠে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সুবিধার্থে এবং যানজট এড়াতে টোল প্লাজাগুলোতে বাড়তি বুথ চালু রাখার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক এবং ভোগান্তিহীন রয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে গভীর রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। রবিবার (২৪ মে) রাত ২টার দিকে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে এ হামলা চালানো হয়। পরে র্যাব সদস্যরা পাল্টা জবাব দিলে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব–৭-এর কমান্ডিং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে যৌথ বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে যৌথ বাহিনী এলাকাজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রমও চলছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত কিংবা কাউকে আটকের তথ্য জানানো হয়নি।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। সরকারি খাসজমিতে অবৈধ বসতি গড়ে ওঠার পাশাপাশি পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকান ও মার্কেট।
ভূমি অফিস সূত্র জানায়, প্রায় তিন হাজার ১০০ একর আয়তনের এ এলাকায় দীর্ঘ চার দশক ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আধিপত্য রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দখলমুক্ত করতে না পারায় সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি একই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও তিন র্যাব সদস্য ও একজন সোর্স আহত হন। এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হলেও মূল আসামিরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এ ঘটনার পর যৌথবাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ হারায়। সরকার জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি, কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড রাজেন্দ্র বাটি (ডেবরা) গ্রাম থেকে চিকলা বলাক্ষেত্র গ্রাম পর্যন্ত।
মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি নিহতদের বাড়ি মান্দা থানার বিভিন্ন গ্রামে। আমাদের কাছে তথ্যগুলো আসছে আমরা তা সংগ্রহ করছি। নিহতদের নাম, পরিচয় ও পেশা এখনো জানা যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
জানা গেছে, সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে অভিযান চালিয়ে ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৪ মে) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে আমতলী পৌরসভার এ. কে. স্কুল চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মো. আমিনুর (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক আমিনুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. মোতাহার হাওলাদার।
এ সময় তার কাছ থেকে ৭৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত ইয়াবার জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু শাহাদাত মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, “এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হবে।”
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহতদের সবাই ট্রাকের ওপরে যাত্রী হিসেবে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, ভোরের দিকে রড ও যাত্রী নিয়ে ট্রাকটি উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি রাস্তার পাশের খাদে উল্টে যায়। খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মধ্যে ৬ জনকে গুরুত্বর অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধারের পর মহাসড়কে বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে এক এলাকায় তিনটি স্থল মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বাগানের কাজ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক জাফর ইকবাল জানিয়েছেন।
মাইন বিস্ফোরণে মারা যাওয়া তিনজন হলেন অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়। বিস্ফোরণে মৃতদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গেছে।
ঘুমধুমের স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় তিনটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিস্ফোরণে শুরুতে এক বাগানচাষি গুরুতর আহত হন। সঙ্গীরা দৌড়ে তাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে আরেকজন গুরুতর আহত হন। আহত ওই দুজনকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকজন আহত হন। উপর্যুপরি তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় কাজ করতে যাওয়া লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পাড়ায় এসে সংবাদ দেয়। পাড়াবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন।
ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, ভালুকিয়াপাড়াসহ সীমান্তের কাছাকাছি মানুষ সবাই শূন্যরেখা বজায় রেখে ফলের বাগানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। এটি তাদের জীবন-জীবিকা একমাত্র উপায়। গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। এখনো তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বনে সবজি খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে একজন নারী দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আগের দুজনের নিখোঁজ, পা হারানো ঘটনাসহ আজকের তিনজনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বলে বাবুল কান্তি জানিয়েছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ির দফাদার সৈয়দ আলম ও ঘুমধুমের গ্রাম পুলিশ রূপম বড়ুয়া জানিয়েছেন, ঘটনা ৪১ সীমান্ত পিলার এলাকায় হলেও যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি শূন্যরেখার ভেতরে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে এত শক্তিশালী স্থলমাইল কারা স্থাপন করেছে, তা তদন্ত হওয়া দরকার মনে করেন দফাদার সৈয়দ আলম। মৃতরা সবাই বাগানচাষি।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুম পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল মাইন বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লাশ তিনটি উদ্ধার করে রেজুপাড়া বিজিবির সীমান্তচৌকিতে আনা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে থানায় হস্তান্তর করা হবে।
কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, পাহাড়ি খেতে কাজ করছিলেন। এ সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন চাকমা সম্প্রদায়ের নাগরিক নিহত হয়েছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, মাইন বিস্ফোরণে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। সময়ের হিসাব নিকাশে ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় পশুর হাটগুলোতে এখন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত। রাজধানীর গাবতলী, বসিলা, আফতাবনগরসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পশুবাহী ট্রাক এসে পৌঁছাচ্ছে। তবে হাটগুলোতে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে চিরাচরিত দরকষাকষি। এবারের হাটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—উচ্চবিত্ত বা বিলাসী ক্রেতাদের বড় গরুর প্রতি আগ্রহ থাকলেও, সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ মাঝারি আকারের গরুর দিকে।
হাটের সার্বিক চিত্র ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া: রাজধানীর প্রধান পশুর হাট গাবতলী ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ এবং রাজশাহী থেকে খামারিরা তাদের সেরা পশুগুলো নিয়ে এসেছেন। হাটের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও বেচাকেনার গতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিক্রেতারা। কুষ্টিয়া থেকে আসা খামারি মো. রহমত আলী জানান, ‘হাটে মানুষ আসছে প্রচুর, তবে বেশির ভাগই এখন দেখছেন আর দাম যাচাই করছেন। দুই-একদিন পর পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করছি।’
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা চড়া। বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান হাবীব হাটে এসেছেন কোরবানির গরু কিনতে। তিনি বলেন, ‘এবার বাজেটের মধ্যে গরু মেলা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে যে গরুগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর আকার বেশ ছোট। মাঝারি সাইজের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে দেড় লাখ থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং খামার ব্যবস্থাপনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণেই এবার পশুর দাম কিছুটা বাড়তি। তবে বিক্রেতাদের দাবি, হাটে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে, তাই শেষ মুহূর্তে দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই চলে আসবে।
মাঝারি গরুর বাজারে উপচে পড়া ভিড়: এবারের কোরবানির হাটে সবচেয়ে বেশি চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ৮০ থেকে ১৫০ কেজি মাংস হতে পারে—এমন মাঝারি আকারের গরুর। মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট এবং নগরের ফ্ল্যাট বাড়ির আবাসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এই আকারের গরুর চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। হাট ইজারাদারদের সূত্রে জানা গেছে, হাটে বড় ও রাজকীয় নামের গরুর দিকে মানুষের কৌতূহল ও ভিড় বেশি থাকলেও, প্রকৃত বিক্রি হচ্ছে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুগুলো। অনেক ক্রেতা আবার ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে হাটের শুরুর দিকেই পছন্দের মাঝারি গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন।
সীমান্তে কড়াকড়ি: দেশি খামারিদের সুরক্ষায় জোর: বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি এবং স্থানীয় খামারিদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল চোরাই পথে বিদেশি পশু আসা বন্ধ করা। দেশীয় খামারিদের লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে এবার সীমান্তে কড়া নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছে যাতে কোনোভাবেই অবৈধ পথে ভারতীয় গরু দেশের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে।
তবে কয়েকটি হাটে বিচ্ছিন্নভাবে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় খামারিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশেই এবার কোরবানির চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে বাইরের গরু বাজারে ঢুকলে দেশি খামারিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। সরকার অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে, চোরাচালান রোধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জাল টাকা ও হাটের অনিয়ম রোধে কঠোর প্রশাসন: কোরবানির হাটের অন্যতম বড় আতঙ্ক হলো জাল টাকার চক্র এবং অজ্ঞানপার্টি বা মলমপার্টির খপ্পর। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সরল-সোজা খামারিরা প্রায়শই এই চক্রগুলোর শিকার হন। এই অনিয়ম ও অপরাধ রোধে এবার রাজধানীর প্রতিটি হাটে বিশেষ বুথ স্থাপন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্মার্ট ওয়াচ টাওয়ার ও সিসিটিভি: হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে।
জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ: বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি হাটে বিনামূল্যে জাল টাকা পরীক্ষা করার জন্য স্বয়ংক্রিয় মেশিনসহ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই টাকা লেনদেনের সময় এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।
হাসিল নিয়ে কড়াকড়ি: ইজারাদারদের নির্ধারিত হাসিলের অতিরিক্ত টাকা আদায় রুখতে হাটের বিভিন্ন পয়েন্টে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি চালু রয়েছে।
ডিজিটাল হাটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি: ঐতিহ্যবাহী শারীরিক হাটের পাশাপাশি এবারও বেশ সাড়া ফেলছে ডিজিটাল বা অনলাইন পশুর হাট। যাতায়াতের ভোগান্তি, কাদা-পানি এবং হাটের কোলাহল এড়াতে অনেক নগরবাসী অনলাইনেই ছবি ও ভিডিও দেখে লাইভ ওয়েটের (জীবন্ত ওজন) ভিত্তিতে গরু কিনছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো শতভাগ যাচাইকৃত এবং সুস্থ পশুর নিশ্চয়তা দিচ্ছে, যা কোরবানির বাজারকে আরও আধুনিক ও সহজ করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, উৎসবের আমেজে প্রস্তুত রাজধানী ঢাকার পশুর হাটগুলো। খামারিরা যেমন তাদের বছরান্তের খাটাখাটুনির ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন, তেমনি ক্রেতারাও চান তাদের সামর্থ্যের মধ্যে একটি সুস্থ ও সুন্দর পশু কোরবানি দিতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি, দেশি পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং কৃত্রিম সংকট রোধে সরকারের সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এবারের কোরবানির হাট ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক যুগে ডেটা বা উপাত্ত ছাড়া যেকোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত বা ধারণা মাত্র। সঠিক উপাত্ত ছাড়া যেকোনো জনসংযোগ বা প্রচার কৌশল ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে। তাই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের যেকোনো বার্তা তৈরিতে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তের ওপর নির্ভর করার আহবান জানান তিনি।
রোববার (২৪ মে) সকালে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের (পিআরও) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান যুগটি হচ্ছে নিখুঁত ডেটা বা উপাত্তের যুগ। আপনি মাঠ পর্যায়ে কী কাজ করছেন বা সরকারের বার্তা জনগণের কাছে কিভাবে পৌঁছাচ্ছে, তা কেবল মুখের কথায় বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নিশ্চিত করতে হলে তার পেছনে অবশ্যই অকাট্য উপাত্ত থাকতে হবে। উপাত্তহীন যেকোনো তথ্যকে সমাজ কেবল একজন ব্যক্তির মতামত হিসেবেই দেখবে, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা বস্তুনিষ্ঠ মূল্য নেই।’
জনসংযোগের আধুনিকায়নে ‘সাইকোগ্রাফি’ এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট উপাত্ত বের করা অত্যন্ত সহজ। একটি তথ্যে বা সংবাদে মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন- কয়টি লাইক, ডিসলাইক বা কী ধরনের মন্তব্য আসছে, সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে জনমতের নিখুঁত গ্রাফ তৈরি করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘এই বৈজ্ঞানিক উপাত্তকে কাজে লাগিয়েই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট বা নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলা করতে হবে।’
তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরো বলেন, নিজেদের দক্ষ ‘ডিজিটাল ফোর্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও সাফল্যকে উপাত্ত বা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারলে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যায়। উপাত্তভিত্তিক প্রচারণাই পারে বিভ্রান্তি দূর করে জনমনে সঠিক পারসেপশন বা ধারণা তৈরি করতে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম ও মো. ইয়াসীন উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে ২৩ মে সকাল ৮টা থেকে ২৪ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে এদের মধ্যে ১২৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম সংক্রমণে অন্তত ৮৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে হামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ নিয়ে আরও ৪৪২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
ডিজিএইচএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত সময়কালে সারাদেশে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৮ হাজার ৬২২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যমতে, দেশব্যাপী এ পর্যন্ত মোট ৬৩ হাজার ৮১৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৬ হাজার ২১৪ জন রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে আক্রান্ত অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হোসেন মাহমুদ বলেছেন, জ্বালানি ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই গ্যাস অনুসন্ধানের চুক্তি করা হবে। এই দরপত্রের মাধ্যমে সমুদ্রে তেল বা গ্যাস পাওয়া গেলে, তা দেশের উন্নয়নের বড় নিয়ামক হবে। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে রোববার (২৪ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা তিনি বলেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সবকিছু করা হচ্ছে। দরপত্রে অংশ নিতে ইচ্ছুক অনেকে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। এবারের দরপত্র বেশ অংশগ্রহণমূলক হবে।
গত বছরের দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে আছে এবং বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ নেবে বলে তিনি আশা করেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতি আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদেশি কোম্পানির আগ্রহ বাড়াতে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) ২০২৬ সংশোধন করে কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিনিয়োগ আকর্ষণে এবার কী চমক থাকছে, এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘চমক হলো বিএনপি সরকার।’
অতীতে কয়েকটি কোম্পানি কাজ শুরু করেও শেষ না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে, তা বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিনের একটা জট খুলল। দেশের সম্পদ মাটির নিচে রেখে আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়েছে। সমুদ্র বিজয়ের নামে অনেক লাফালাফি হলেছে, কিন্তু সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণের কথা ভুলে গিয়েছিল। যাদের সঙ্গে সমুদ্র বিজয় হয়েছে, তারা গ্যাস আবিষ্কার করে ব্যবহার করছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় জ্বালানি খাত বেহাল ছিল। এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজ জ্বালানি খাতের জন্য একটি আনন্দের দিন। ছয়টি জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করে আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সব দূতাবাসেও পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, অতীতের দরপত্রে যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি ছিল, সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই জ্বালানি খাতে যে সব ঝুঁকি আছে, তা দূর করা হবে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর সাতটি কোম্পানি দরপত্র সংগ্রহ করলেও কেউই জমা দেয়নি। এরপর কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মতামত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে গত এক বছর গবেষণা করা হয়েছে। এরপর পিএসসি সংশোধন করা হয়েছে।
বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ আরও বেড়েছে। কয়েক বছর আগে থেকে এই চাপ বাড়তে শুরু করে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই (জুলাই-এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানসহ দাতাদের ঋণ শোধের পরিমাণ ৩৮০ কোটি ডলার।
রোববার (২৪ মে) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই–এপ্রিলের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গেছে, ওই ১০ মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে এসেছে ৪২৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা প্রকল্পের অনুকূলে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। এর হিসাব ইআরডি করে থাকে।
কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পার হতে পারে।
ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) বিদেশি ঋণের আসল ২৪৭ কোটি ডলার ও সুদ ১৩৩ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৩৮৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে ও ৩৯ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৪২৬ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। গত এপ্রিলে বিদেশি ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পর রিফাত শেখ (১৬) নামের এক পর্যটক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত রিফাত কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার মোহাম্মদ খায়রুল শেখের ছেলে এবং স্থানীয় গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৩ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ৫ বন্ধুর একটি দল গুলিয়াখালী বীচে বেড়াতে আসে। বিকেল চারটার দিকে তারা সাগরে সাঁতার কাটতে নামলে হঠাৎ জোয়ারের তীব্র স্রোতে ৫ জনই ডুবতে শুরু করে। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বোট চালকেরা দ্রুত এগিয়ে এসে ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও রিফাত নিখোঁজ হয়।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে শনিবার (২৩ মে) বিকেল থেকেই ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে, তবে রাতে বৈরী আবহাওয়া ও অন্ধকারের কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে রোববার (২৪ মে) ভোরে পুনরায় অভিযান চালিয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে রিফাতের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সমুদ্র সৈকতে প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।