বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩

আরসার দুই শীর্ষনেতাসহ আটক ৪, অস্ত্র-গোলাবারুদ জব্দ

র‌্যাবের হাতে আটক আরসার চারজন। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৭:৫০

মিয়ানমারের রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) শীর্ষ নেতা ও গান কমান্ডার রহিমুল্লাহ প্রকাশ মুছাসহ চারজনকে আটক করেছে র‌্যাব-১৫। এসময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে র‌্যাব-১৫ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া উপজেলার তেলখোলা-বরইতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় কেজি ৫৩ গ্রাম বোমাসদৃশ বিস্ফোরক দ্রব্যসহ মো. শফিক (২৮) ও মো. সিরাজ (৩০) নামে দুজনকে আটক করে র‌্যাব। তাদের দেয়া তথ্যমতে, ওই এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ এর অন্যতম কমান্ডার ও আরসার জিম্মাদার রহিমুল্লাহ ওরফে মুছা এবং ক্যাম্প-৪ এর আরসার অন্যতম কমান্ডার শামছুল আলম ওরফে মাস্টার শামসুকে (২৯) আটক করা হয়। সেখান থেকে ৪৩ কেজি ৩১০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটারগান, চারটি পিস্তলের বুলেট, তিনটি ওয়ান শুটারগানের বুলেট এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করে র‌্যাব।

আটক শফিক ও সিরাজ দুজনেই বাংলাদেশি। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে তারা জানান, আরসার শীর্ষ নেতারা বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্প ও তার পাশের এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তারা এসব কাজ করার জন্য পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য চোরাচালান করছিলেন। আটক কৃষক শফিক ও টমটমচালক সিরাজ বিস্ফোরক দ্রব্য কৌশলে সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে মিয়ানমার থেকে নিয়ে এসে নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতেন এবং সুবিধাজনক সময়ে আরসার সন্ত্রাসীদের কাছে সরবরাহ করতেন।

আটক হওয়া অপর দুজন রহিমুল্লাহ ও শামছুল আলম মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করে তারা সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে ক্যাম্প ও স্থানীয়দের খুন, অপহরণ ও গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতেন। চাঁদা না পেলে অপহরণ করে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনসহ মুক্তিপণ আদায় করতেন। পরে মুক্তিপণ না মিললে খুন করে গহীন পাহাড়ে অথবা জঙ্গলে মরদেহ গুম করে ফেলতেন।

আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী রহিমুল্লাহ ২০১৭ সাল থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। মিয়ানমারে থাকা তার আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবার চালান নিয়ে এসে নিজে এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতেন। ২০১৮ সালের দিকে আরসা নেতা খালেদের মাধ্যমে তিনি সন্ত্রাসী সংগঠনটিতে যোগ দেন। আরসার সন্ত্রাসী গ্রুপের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে অস্ত্র, গোলাবারুদ সরবরাহ, অপহরণ, খুন, ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারে গোলাগুলিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতেন।

র‌্যাব জানায়, রহিমুল্লাহ মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র ও বোমা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে সেখানে পারদর্শিতা অর্জন করে আরসার গান কমান্ডার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ এর জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া আরসার অন্যান্য সদস্যদের বোমা তৈরি ও অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি।

র‌্যাবের ভাষ্যে, রহিমুল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন—তিনি ক্যাম্পের হেডমাঝি আজিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ড, সাব মাঝি জাফর হত্যাকাণ্ড, এপিবিএন পুলিশের ওপর হামলা, ক্যাম্পে মাদরাসায় হামলা করে ছয়জন শিক্ষক ও ছাত্রকে হত্যা, জসিম হত্যাকাণ্ড, শফিক হত্যাকাণ্ড, মৌলভী সামশুল আলম হত্যাকাণ্ড, নুর হাসিম ও নূর হাবা হত্যাকাণ্ড, সাবমাঝি আইয়ুব হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

র‌্যাব আরও জানায়, আটক আরেক আরসা কমান্ডার শামছুল আলম ২০১২ সালে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসেন। পরে ২০১৯ সালে মৌলভী জাবেদের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আরসায় যোগ দেন। সংগঠনটিতে যোগ দেয়ার পর তিনি অস্ত্র চালানো ও রণকৌশল প্রশিক্ষণ নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এর অন্যতম কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি বিভিন্ন সময়ে আরসার শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় টার্গেট কিলিং, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং মুক্তিপণ না পেলে হত্যা করে মরদেহ গুম করে ফেলতেন।

এছাড়া ক্যাম্পে হেডমাঝি হোসেন ও কামাল হত্যাকাণ্ডেও তিনি জড়িত ছিল বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার ও উখিয়া থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনি জেল খেটেছেনও বলে জানা যায়।

আটক চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন।

বিষয়:

অনিশ্চয়তায় ২৯৫ বিদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক   

রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থী। ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ বন্ধ থাকায় তাদের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সমাধানের খোঁজে দুই অধিদপ্তরে ধরনা দিয়েও কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১১ জুন আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন স্থগিত করে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর।

হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় ক্লিনিক্যাল ক্লাস বন্ধ হয়ে যায় আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের ইন্টার্নশিপ কোথায় হবে তাও নির্ধারিত হয়নি।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশন নিয়ে একাডেমিক ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারলেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সেই পথও বন্ধ।

বিপাকে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা: কলেজের মোট ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৬ জন ইন্টার্ন এবং ২০৯ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী। তাদের প্রায় সবাই ভারতীয়।

ভারতের মেডিকেল সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, বিদেশে পড়া শিক্ষার্থীদের একই কলেজের অধীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোথাও ইন্টার্ন করলে দেশে ফিরে ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা নাও মিলতে পারে।

ভারতের কাশ্মির থেকে আসা রেজা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশন নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। আমাদের কারিকুলাম অনুযায়ী এই হাসপাতাল থেকেই পড়াশোনা শেষ করতে হবে। আমি আট বছর ধরে এখানে আছি। পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে। এখন যদি আমাদের পড়াশোনা আটকে যায়, তাহলে এই ডিগ্রি আমার কোনো কাজে আসবে না।’

অধিদপ্তর থেকে হতাশ হয়ে ফিরলেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা: নিজেদের শিক্ষাজীবনের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। ডিগ্রির বৈধতার জন্য আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের অনুমতি চান তারা।

বিষয়টির সুরাহার জন্য সোমবার স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরে যান বিদেশি শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দুই অধিদপ্তরের কোনো মহাপরিচালকের দেখা মেলেনি। ফলে হতাশ হয়েই ফিরতে হয় তাদের।

আরেক শিক্ষার্থী খুজাইমা বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কোথাও থেকে সাড়া পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি। এখন যদি তারা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেন, তাহলে আমরা আরও সমস্যায় পড়ে যাব। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি তাদের জানাতে এসেছি।’

মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের গ্যাঁড়াকলে বিপাকে শিক্ষার্থীরা: বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘শুনেছি তারা এসেছিল। তবে আমার অন্য একটি প্রোগ্রাম থাকায় বাইরে ছিলাম। আর হাসপাতাল খুলবে কি না তা মহাপরিচালকই বলতে পারবেন।’

একই কথা জানান অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।

স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘একটি অবহেলার ঘটনায় আইন অনুযায়ী অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছে। সেটি পুনরায় খোলার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। তাদের আপিলের সুযোগ রয়েছে, সেই সময় এখনো আছে। যদি তারা আপিল করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আদ্‌-দ্বীন কর্তৃপক্ষ একদিকে স্বাস্থ্য সচিব বরাবর আবেদন করেছে, অন্যদিকে আদালতে রিট করেছে। এতে বিষয়টি জটিলতার দিকে গেছে।’

বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদনের বিষয়ে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এটি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলতে পারবে, তারা কী করবে।’

আদ্‌-দ্বীন কর্তৃপক্ষের অবস্থান: নিবন্ধন ফেরত পেতে এক মাসের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকলেও সেই পথে যেতে রাজি নয় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ জুন মানবিক বিবেচনায় হাসপাতাল খুলে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল নয়, আমরা মানবিক দিক বিবেচনায় হাসপাতাল চালু করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করছি, রোগীদের কথা মাথায় রেখে তারা বিষয়টি দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি। আশা করি সপ্তাহ দু-একের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। সরকার যেসব সংস্কারের কথা বলেছে, সেগুলো সম্পন্ন হওয়ার পথে। আশা করছি, দ্রুত খুলে যাবে।’

এর আগে গত ১৪ জুন শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চেয়ে আদ্‌-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

দুশ্চিন্তা দেখছে না স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর। আমরা কলেজ বন্ধ করিনি। কলেজের সঙ্গে যেহেতু শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার বিষয়টি রয়েছে, সে জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কাজেই এখনই দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পরিস্থিতি কোনদিকে যায় সেটি দেখতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেহেতু হাসপাতাল থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ কী করছে তা আমরা জানতে চাই। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ার কিছু নেই।’


কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা সেই কবির হোসেন মারা গেছেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন আর নেই।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

কবির হোসেনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।


নবাবপুর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড: আনসার সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) দক্ষিণ জোনের আওতাধীন শাহবাগ থানার নবাবপুর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

গত সোমবার (২২ জুন) রাতে নবাবপুর টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এবি ব্যাংকের একটি এসিতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, পিসি মোক্তার হোসেন, এপিসি শাহীন মিয়া এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে তারা ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে মাইকিং করে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তি ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন, নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সহায়তা করেন এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই আনসার সদস্যদের দ্রুত উপস্থিতি, সতর্কতামূলক মাইকিং এবং নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের কারণে আগুন পার্শ্ববর্তী দোকান ও অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তারা আনসার সদস্যদের সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকে দিকনির্দেশনায় বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। নবাবপুর টাওয়ারের এ ঘটনাটি তাদের দায়িত্বশীলতা, সাহসিকতা এবং জননিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


হালুয়াঘাটে দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুমন আহম্মেদ, হালুয়ঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সততা, নৈতিকতা এবং সুশাসনের চর্চা জোরদার করার লক্ষ্যে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত হালুয়াঘাট উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বাস্তবায়নে সোমবার (২২ জুন) উপজেলার ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ রফিক উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব ফয়সাল আহমেদ। মডেরেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সময় নিয়ন্ত্রক ও সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাব্বিকুল আলম, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর, হালুয়াঘাট, গুলে জান্নাত সেতু, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, হালুয়াঘাট, মাহমুদুল হাসান সুমন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সুধীজন ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিতর্ক প্রতিযোগীতায় ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার করে গড়ে তুলতে পারলেই সুশাসন ভিত্তিক উন্নত রাষ্ট্র নির্মাণ করা সম্ভব। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিকভাবে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করতে গুরুত্বারোপ করেন। দুর্নীতির কুফল, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সর্বমোট ৫১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করেন।ইউনিয়ন পর্যায়ে বিজয়ী দল ও পৌরসভার বিজয়ী দল নিয়ে (সর্বমোট ১৩ টি দল) উপজেলা পর্যায়ে বিতর্ক আয়োজন করা হয়।

আয়োজনে অংশগ্রহনকৃত সকল শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে বই, গাছ, মাটির ব্যাংক উপহার দেয়া হয়েছে।

উক্ত উপহার গুলো নৈতিক গুনাবলী অর্জনে সহায়ক হবে।বই পড়ার মাধ্যমে অধ্যবসায়ী, গাছ রোপনের মাধ্যমে যত্নশীল ও মাটির ব্যাংক তার সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি করতে সহায়ক হবে।


মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

ইসমাইল শিকদার মাদ্রাসার ছাত্র। তার বয়স ৯ বছর। শিশুটির দুই চোখের নিচে জমাট বেঁধে আছে রক্ত। মাথার পাশে, সারামুখে এমনকি গলার নিচেও লালচে হয়ে ফুলে আছে। ফুটফুটে মুখটির বীভৎস অবস্থা দেখে শিউরে উঠছেন সবাই। শিশুটিকে বেত দিয়ে পিটিয়ে এ দশা করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক।

এ ঘটনায় ওই শিশুটির বাবা ওমর ফারুক শিকদার বাদী হয়ে রোববার দিবাগত গভীর রাতে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মাদ্রাসা পরিচালক হাফেজ আবদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন।

গত ১৭ জুন রাতে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়া এলাকার নুরুল কোরআন তাহফিজ একাডেমিতে শিশু ইসমাইলকে বেধরক মারপিট করায় চোখে আঘাত গুরুতর হলেও ওই দিন পরিবারকে সংবাদ দেওয়া হয়নি।

একদিন পর খবর পেয়ে শিশুটির বাবা তাকে উদ্ধার করলেও প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে।

ডাক্তার বলেন, ‘শিশুটির গুরুত্বপূর্ণ একটি রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখের নিচে, মুখে ও গলার নিচে রক্ত জমাট বেঁধেছে। প্রাথমিক ওষুধে কাজ না হলে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।’

সরকারি কলেজের (সাবেক জয় বাংলা কলেজ) পাশে ইসমাইল শিকদারের বাড়ি। মুদী দোকানি বাবা ওমর ফারুক শিকদারের একমাত্র সন্তান ইসমাইল। কোরআনে হেফজ করতে গত বছর শিশুটিকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।

জানা গেছে গেছে, আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দুই তলা ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে বছর দুয়েক আগে নুরুল কোরআন তাহফিজ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে চালু এই মাদ্রাসায় হেফজ, নাজেরা ও শুনানি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। সেখানে ২০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সবার বয়স ৮ থেকে ১৭ বছরের ভেতরে।

পরিচালক আবদুর রহমান ওই ঘটনার পর থেকে পলাতক। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ।

হাফেজ মাসুদ জানান, ঘটনার পরদিন আবদুর রহমানের কাছে শোনেছেন, শিশুটি খুব দুষ্টুমি করত। পড়া না পারায় তাকে বেত দিয়ে মারা হয়।

একপর্যায়ে শিশুটির মাথা দেওয়ালে গিয়ে লাগে। কিন্তু রাতে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। পরদিন সকালে চোখ ও মাথায় রক্ত জমাট বাঁধা দেখে সবাই ভয় পেয়ে যায়। ফ্রিজ থেকে বরফ দেওয়া হয়।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা ওই মাদ্রাসায় যাই। শিশুটির বাবা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে।’


কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে ঘরে আটকে অগ্নিসংযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
    ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু পুড়ে ছাই

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মাদকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্ত্রীকে ঘরে তালাবদ্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দুটি বসতঘর, একটি গাভী ও বাছুর, ধান-চাল এবং ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। আহত স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের গাবরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন (২৫) ওই গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, মাদকের টাকা চেয়ে স্ত্রী শিউলী আক্তারের (২০) কাছে দাবি করেন আলমগীর। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিউলীকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিউলীর চিৎকার শোনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। তবে এর আগেই আগুনে দুটি বসতঘর, একটি গাভী ও বাছুর, প্রায় ১৫ থেকে ২০ মণ ধান, চাল এবং ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

দগ্ধ শিউলী আক্তারকে উদ্ধার করে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম রুহিত বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদকের টাকার বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।’

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


পঞ্চগড়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ হাজার টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৪ নং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনির হাট বাজারে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি দোকান থেকে তিন বস্তা কারেন্ট জাল জব্দ করেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মৎস্য অফিস।

সেই সাথে একটি দোকানদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ আদায় করেছে। গত সোমবার বিকেলে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে বাজারের কয়েকটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় বাজারের একটি ফাঁকা জায়গায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসিফ আলীর নেতৃত্বে জব্দকৃত জাল ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এসময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিতভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দোয়ারির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি।

এসব অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের পোনা, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধ্বংস হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মৎস্য উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। তাই মৎস্য আইন বাস্তবায়নে আমরা কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছি না। জনস্বার্থে এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

একইসঙ্গে জেলেদের সচেতন করতে প্রচারণামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দোয়ারি ব্যবহারের ফলে নদী-নালা, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের মৎস্যসম্পদ হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। এ কারণে সরকার মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এসব অবৈধ জাল উৎপাদন, মজুত, বিক্রয় ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।


নরসিংদীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছাত্রদল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদী পৌর শহরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ। নরসিংদী পৌর শহরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন তিনি।

নরসিংদী বড় বাজারের বেশ কিছু ব্যবসায়ীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রাতে নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে রাহাত নামে এক চাঁদাবাজকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের নির্দেশ ‘যেখানে চাঁদাবাজ সেখানেই প্রতিরোধ’।

বিগত বেশ কিছুদিন যাবৎ নরসিংদী বড় বাজারে কুখ্যাত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ রাহাত গংদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ নরসিংদী বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার ব্যবসায়ী গুলজার হোসেনকে চাঁদাবাজ রাহাত চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। এই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ দেড় মাসেও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অবশেষে গত সোমবার সন্ধ্যায় ব্যবসায়ীরা দ্বারস্থ হয় ছাত্রনেতা সিদ্দিকুর রহমান নাহিদের কাছে। ঘটনা জেনে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই চাঁদাবাজ রাহাতকে চাপাতিসহ আটক করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আটকের পর চাঁদাবাজ রাহাতকে কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে বাজারে প্রদক্ষিণপূর্বক র‌্যাব সদস্যের হাতে তুলে দেয়।

এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ীসহ জনতার উদ্দেশ্যে নরসিংদী জেলা ছাত্রদল এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ বলেন, ‘নরসিংদীর বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজ রাহাতকে ছাত্রদলের নেতাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে চাপাতিসহ আটক করি।’

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও অনিয়মের সঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের প্রশ্রয় না দিয়ে আইনের হাতে তুলে দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছেন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ।


নবায়নযোগ্য জ্বালানি বান্ধব নগরী গড়তে কেসিসি প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি কার্যকরভাবে চালু এবং খুলনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি-বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, খুলনা’। গত সোমবার সন্ধ্যায় কেসিসি ভবনে সংগঠনের নেতারা এই স্মারকলিপি পেশ করেন।

স্মারকলিপিতে জানানো হয়, ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জায়গার ওপর নির্মিত ২০ কিলোওয়াটের সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গত ১৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। মাত্র ১০-১২ লাখ টাকা সংস্কার ব্যয়ে এটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। এ ছাড়া পার্কের ছাদ, হাঁটার পথ এবং পুকুরের অংশবিশেষ ব্যবহার করে মোট ৩৮১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব—যার আর্থিক মূল্য ২০ বছরে প্রায় ৫১ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রাথমিক ব্যয় হবে মাত্র ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এই বিনিয়োগ ৫ বছরেই উসুল সম্ভব। ১. দ্রুততম সময়ে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি চালু করা। ২. পার্কের ছাদ, পুকুর ও হাঁটার পথে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ৩. নগর ভবন ও বড় ভবনগুলোয় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মালিকদের প্রণোদনা দেওয়া। ৪. খুলনাকে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য-বান্ধব নগরী করতে সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ এর দাবি ও যৌক্তিকতা স্মারক লিপিতে তুলে ধরা হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খুলনার যুগ্ম আহ্বায়ক রেহানা আখতার, এনামুল হক নবাব, সদস্য গৌরাঙ্গ নন্দী, অধ্যাপক আবুল ফজল, শামীমা সুলতানা শিলু, আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, হিমালয়, এম এম ইমরান হোসেন ও সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির ববি।


ভাটি বাংলার আধ্যাত্মিক বাতিঘর সুলতানশী ও অষ্টগ্রাম হাবেলী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)
    *কারবালার স্মরণে শতবর্ষী শোকানুষ্ঠান

বাংলার পললভূমিতে যুগ যুগ ধরে মিশে আছে আধ্যাত্মিক সাধনা আর ঐশী প্রেমের সুবাস। বিশেষ করে ভাটি অঞ্চলের নদী-নালা আর হাওরের বিশালতায় জন্ম নিয়েছেন এমন অনেক সাধক, যারা একাধারে শাসন করেছেন পার্থিব সাম্রাজ্য, আবার অন্য হাতে বিলিয়েছেন আধ্যাত্মিকতার আলো। এমনই এক দেদীপ্যমান ইতিহাস বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক সুলতানশী হাবেলী এবং কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাবেলী। মধ্যযুগীয় মহাকবি সৈয়দ সুলতান (রহঃ)-এর বংশধরেরা কীভাবে আধ্যাত্মিকতার চাদরে জড়িয়ে রেখেছিলেন এই অঞ্চলকে, তা আজও এক বিস্ময়কর অধ্যায়।

মহাকবি ও মধ্যযুগীয় প্রখ্যাত সাধক সৈয়দ সুলতান (রহ.)-এর স্মৃতিকে অম্লান করে আজও দাঁড়িয়ে আছে সুলতানশী হাবেলী। তার তিন পুত্রের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ শাহ জিকরিয়া (রহ.)। এই বংশেরই ক্রমান্বয় ধারায় সৈয়দ শাহ আহমদ (রহ.), সৈয়দ শাহ ফাত্বাহ (রহ.), সৈয়দ শাহ আছির (রহ.), সৈয়দ শাহ নাজির (রহ.) এবং সৈয়দ শাহ নাতির (রহ.)-এর পর জন্ম নেন আধ্যাত্মিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরত সৈয়দ শাহ সাবের (রহ.)। পিতা সৈয়দ নাতির (রহ.)-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানেই শাহ সাবের (রহ.)-এর শিক্ষা-দীক্ষা ও তরিকতের পথের অনুশীলন পূর্ণতা পায়। বাহ্যিকভাবে তিনি ছিলেন বিশাল এক অঞ্চলের প্রখ্যাত জমিদার, কিন্তু তার অন্তর ছিল পার্থিব মোহমুক্ত। তার সরল জীবনযাপন এবং অগাধ জ্ঞান সর্বস্তরের মানুষকে আকৃষ্ট করত। তিনি নিজ পিতার কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেই তরিকতের পথে অগ্রসর হয়েছিলেন।

সাংসারিক জীবনে হযরত সৈয়দ শাহ সাবের (রহ.) কিশোরগঞ্জ জেলার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত অষ্টগ্রাম দেওয়ান বংশের আদি পুরুষ দেওয়ান মনোয়ার খাঁ প্রকাশ আজদর খাঁ বংশের সুযোগ্য কন্যা এবং নয় কোষা জমিদার চাঁন বিবি ও দেওয়ান নূর হায়দর দম্পতির একমাত্র সন্তান জিন্নৎচাঁন বিবিকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে গ্রহণ করেন।

এই দম্পতির ঔরসে তিন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। সৈয়দ আব্দুল করিম আল-হোসাইনী চিশতী (রহ.) ওরফে আলাই মিয়া, সৈয়দ আব্দুল রহিম আল-হোসাইনী চিশতী (রহ.) ওরফে মলাই মিয়া এবং সৈয়দ আব্দুল আজিম আল-হোসাইনী চিশতী (রহ.) ওরফে জলাই মিয়া। পরবর্তীকালে বড় সন্তান সৈয়দ আব্দুল করিম আল-হোসাইনী চিশতী (রহ.) ওরফে আলাই মিয়া এবং তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা সৈয়দ আব্দুল আজিম আল-হোসাইনী চিশতী (রহ.) ওরফে জলাই মিয়া সুলতানশী থেকে তাদের মাতুলালয় অষ্টগ্রামের নয় কোষা জমিদার বাড়ি তথা অষ্টগ্রাম হাবেলিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

১২১৪ বঙ্গাব্দে ঐতিহাসিক সুলতানশী হাবেলীতে এই মহান সাধক জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মাতামহী নয় কোষা জমিদার চাঁন বিবির কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় উত্তরাধিকার সূত্রে বিশাল জমিদারি পরিচালনার গুরুভার তার দৌহিত্র সৈয়দ আব্দুল করিম (রহঃ) ওরফে আলাই মিয়া সাহেবের ওপর অর্পিত হয়। তিনি পাক-পাঞ্জাতনের প্রতি গভীর অনুরক্ত থেকে সর্বদা ঐশী প্রেমে বিভোর থাকতেন।

নিভৃতে শাহাদাতে হোসাইন (রা.)-এর প্রেম বিলাতে তিনি ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুদ্র পরিসরে মহররমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। সেই থেকে শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠান আজ দীর্ঘ পথ পেরিয়ে প্রায় ১৯১ বছরের প্রাচীন এক অনন্য ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। ১৩০৯ বঙ্গাব্দের ১৮ বৈশাখ, (২২ মহরম) এই মহান বুজুর্গ নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করে অনন্তলোকের পথে যাত্রা করেন। ঐতিহ্যবাহী অষ্টগ্রাম হাবেলীতেই তার পবিত্র মাজার শরিফ অবস্থিত। তার ওফাতের পর এই আধ্যাত্মিক ও শোকের ধারাকে সচল রাখেন তার ভ্রাতুষ্পুত্র মাওলানা সৈয়দ আবদুল হেকীম আল-হোসাইনী (রহ.)। পরবর্তীতে মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমেদ আল-হোসাইনী চিশতী (রহ.)-সহ বংশের পরবর্তী উত্তরসূরিদের হাত ধরে আজ ১৯১ বছর যাবত অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও ভাবগাম্ভীর্য্যরে সাথে উদযাপিত হয়ে আসছে মহররমের এই শোকানুষ্ঠান ও বাৎসরিক উরস শরিফ। এই শোকানুষ্ঠান ও আধ্যাত্মিক ধারাটি কেবল এই অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি আবহমান বাংলার এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। পবিত্র এই দশ দিনে নিভৃতে শাহাদাতে হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর প্রেম ও ভক্তি নিবেদন করেন ভক্তরা। ১০ মহররম বা আশুরার দিনে এই শোকের আবহ রূপ নেয় এক আবেগঘন পরিবেশে। ইমাম হোসাইন (রা.) এবং পাক-পাঞ্জাতনের প্রতি গভীর অনুরক্ত এই বংশের বর্তমান উত্তরসূরি ও স্থানীয়দের যৌথ উদ্যোগে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। ভোগ-বিলাস বিসর্জন দিয়ে ত্যাগের পথে হাঁটার যে শিক্ষা কারবালা আমাদের দেয়, অষ্টগ্রাম হাবেলীর এই ১০ দিনের আশুরা উদযাপন যেন প্রতি বছর সেই শাশ্বত আধ্যাত্মিক বাণীকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

সুলতানশী থেকে অষ্টগ্রাম এই দুই হাবেলীর ইতিহাস কেবল দুটি জমিদার বাড়ির গল্প নয়, এটি মূলত ভোগ বিসর্জন দিয়ে ত্যাগের পথে হাঁটার গল্প। প্রতি বছর অষ্টগ্রাম হাবেলীতে পবিত্র আশুরা ও ২২শে মহরম যে উরস শরিফ মহাসমারোহে উদযাপিত হয়, তা আজও ভক্ত-আশেকানদের মনে করিয়ে দেয় সেই শাশ্বত আধ্যাত্মিক বাণী ও কারবালার ত্যাগের মহিমা। এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা আমাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসের স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি।


নওগাঁ জেলায় সাড়ে তিন লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে নওগাঁয় মতবিনিময় ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা মো. আমিনুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক টিএমএ মমিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. মো. ইসকেন্দার হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনির আলী আকন্দ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মো. আজমসহ অন্যরা।

এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলার প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জেলার ১১টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় ২ হাজার ৪৬০টি টিকাকেন্দ্রে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে মোট ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৮ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক, এফডব্লিউএ, এফপিআই, সিএইচসিপি ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে। যেখানে ৬-১১ মাস বয়সি ৩৪ হাজার ৭৬৫ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সি ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৯৩ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শতভাগ বাস্তবায়নে কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আপসের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডগুলো মাইকিং ও মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে ভিটামিন ‘এ’-এর প্রচার করা হবে।


কুমিল্লায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ(মঙ্গলবার) কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুল ইসলাম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলীনুর বশীর। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। যারা গুজব ছড়ায় তারা জাতির শত্রু। শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং নির্ধারিত দিনে সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিনিধিরা। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, কার্যক্রম, শিশুদের বয়সভিত্তিক ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ পদ্ধতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয়।


উন্নত গবেষণার লক্ষ্যে চিড়িয়াখানা থেকে সাভারে স্থানান্তরিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাভার প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি কাড়া আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে এখন সাভারে। তবে কোনো প্রথাগত প্রদর্শনী নয়, বরং উচ্চতর গবেষণার উদ্দেশ্যে বিরল ‘অ্যালবিনো’ প্রজাতির এই প্রাণীটিকে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশেষ বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে মহিষটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত বিশেষ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত রোববার জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ মহিষটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএলআরআই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। প্রাণীটির শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ জিনগত গবেষণার লক্ষে প্রতিষ্ঠানটির মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেবকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ড. গৌতম কুমার দেব এ বিষয়ে জানান, “যেহেতু মহিষটি দীর্ঘদিন চিড়িয়াখানার মতো জনাকীর্ণ পরিবেশে ছিল, তাই সুরক্ষার স্বার্থে তাকে আগামী ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। এই সময়ে মহিষটি কোনো ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কি না, তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে এবং তাকে রোগমুক্ত রাখার বিষয়টিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর এর শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে গবেষণার মূল কাজ শুরু হবে।”

এই বিচিত্র মহিষটির আকস্মিক আলোচনায় আসার নেপথ্য কাহিনী অত্যন্ত চমকপ্রদ। গত ঈদুল আজহার আগে নারায়ণগঞ্জের ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ এটি লালন-পালন করা হচ্ছিল। সেখানে খামার মালিকের ভাই মহিষটির মাথার অদ্ভুত কেশবিন্যাস দেখে কৌতুকবশত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে এর নামকরণ করেন। প্রাণীটির সাদাটে অবয়ব এবং ট্রাম্পের ন্যায় চুলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে বিবিসি ও সিএনএনের মতো বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই মহিষটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে স্থান পায়।

ঈদের ঠিক আগে নারায়ণগঞ্জের ওই খামার থেকে মহিষটিকে ক্রয় করে কেরানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান মনিরুজ্জামান নামক এক ব্যক্তি। তবে এই ‘সেলিব্রেটি’ প্রাণীকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক জনতার অস্বাভাবিক ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় মালিককে। পরবর্তীতে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপে পুলিশ মহিষটিকে উদ্ধার করে প্রথমে কেরানীগঞ্জ থানায় এবং পরে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেয়। এবার সাধারণ মানুষের প্রদর্শনী শেষে বিজ্ঞানের নতুন গবেষণার অনুষঙ্গ হয়ে মহিষটির চূড়ান্ত ঠাঁই হলো সাভারে।


banner close