কক্সবাজারে জমকালো আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিশ্ব পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল।
বুধবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশাল শোভাযাত্রা লাবণী পয়েন্ট হয়ে সুগন্ধা, পুনরায় লাবণী এসে শেষ হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরানের নেতৃত্বে এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম, ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল ইসলামসহ পর্যটন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো জেলা প্রশাসন এ আয়োজন করেছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিয়ে কক্সবাজারে পর্যটন স্পর্টগুলোর আকর্ষণ বাড়াতে এই মেলা বিরাট ভূমিকা পালন করবে।’
এ সময় পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের অপরূপ সৌন্দর্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে তাদের এমন আয়োজন। ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় রোড শো, বিকেল সাড়ে ৪টায় জেটস্কি শো ও সেমিনার হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঘুড়ি উৎসব, বিকেল সাড়ে ৪টায় সেমিনার, সাড়ে ৫টায় ম্যাজিক শো, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ফায়ার স্পিন, সন্ধ্যা ৭টায় লাইফ গার্ড রেসকিউ প্রদর্শনী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৯টায় ফানুস উৎসব ও রাত ১১টায় ডিজে শো রয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সার্ফিং প্রদর্শনী, বিকেল ৩টায় ঘুড়ি উৎসব, বিকেল ৪টায় বিচ ম্যারাথন, বিকেল ৫টায় সেমিনার, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে শো।
১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় সেমিনার ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২ অক্টোবর বিকেল ৪টায় বিচ ভলিবল, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৮টায় বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাত ১১টায় ডিজে শো।
৩ অক্টোবর বিকেল ৩টায় সেমিনার, বিকেল ৪টায় পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্র্যান্ড সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট, রাত সাড়ে ১১টায় ডিজে শো ও রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে আতশবাজি প্রদর্শনী রয়েছে।
এই পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল চলবে সপ্তাহব্যাপী। এর মধ্যে দেশের স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি সঙ্গীতমালায় গান করবেন জাতীয় পর্যায়ের তারকা মানের শিল্পীরা।
বাগেরহাটের শরণখোলায় মাথা গোঁজার এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বলেশ্বর নদীর পাড়ে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে চলেছেন ৪৩ বছর বয়সী রেকসোনা বেগম।
২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী সিডরের আগে থেকেই স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী তার বৃদ্ধা মা ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সাউথখালী ইউনিয়নের রায়েন্দা গ্রামে নদীর পাড়ে অস্থায়ী খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নদী ভাঙনের তীব্র ঝুঁকি ও চরম অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে তিনি নদীর পাড়ে ছোট একটি চায়ের দোকান চালান এবং মাঝেমধ্যে নদীতে রেনু পোনা ধরে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বর্তমানের লাগামহীন খরচের বাজারে সেই সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অশ্রুসজল চোখে রেকসোনা বেগম জানান, স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকে সব দায়িত্ব তার একার কাঁধে। আগে স্বামীর রেখে যাওয়া কিস্তির টাকা শোধ করতেই তার সব শেষ হয়ে গেছে, এখন নতুন করে ঘর তোলার মতো কোনো সামর্থ্য তার নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই সংগ্রামী নারীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১ কোটি ২১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি স্বর্ণের বারসহ মো. বাপ্পি (২৭) নামের এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুগডুগি গ্রামের কলোনিপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল যোগে বাপ্পি ওই এলাকা পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তাকে থামার নির্দেশ দেয়। সে নির্দেশ অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে ৬০০ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাপ্পি স্বীকার করেছে স্বর্ণগুলো ভারতে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল।
জব্দকৃত স্বর্ণ চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আসামিকে মোটরসাইকেলসহ দামুড়হুদা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে অধিকাংশ নামি-দামি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের রুম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়।
সবুজ চা বাগান, পাহাড় আর বনের মিতালিতে গড়া কমলগঞ্জ উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলো প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে মুখরিত থাকে লাখো পর্যটকের পদচারণায়। এবারও এমনটাই আশা করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাঝে সবচেয়ে নান্দনিক ও আকর্ষণীয় এই উদ্যান। বন্যপ্রাণী ও বিলুপ্তপ্রায় জীব ‘উল্লুক’ দেখার পাশাপাশি সবুজ প্রকৃতির মাঝে বুক ভরে শ্বাস নিতে প্রতিবারই এখানে ঢল নামে পর্যটকদের।
চা বাগানের বুক চিরে গড়ে ওঠা প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হ্রদের স্বচ্ছ পানি আর বিরল বেগুনি শাপলার সমাহার ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
এ ছাড়া মাধবপুর লেক থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত দেশের এক শ্রেষ্ঠ সন্তানের স্মৃতিসৌধ দেখতে ভিড় করবেন হাজারো দেশপ্রেমিক জনতা।
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিটের প্রায় ১৬০ ফুট উচ্চতার ‘হামহাম’ জলপ্রপাত দারুণ এক গন্তব্য। দুর্গম পাহাড় ও ছড়ার পানি পাড়ি দিয়ে এই জলপ্রপাত দেখতে ইতোমধ্যেই বুকিং দিয়েছেন তরুণ পর্যটকরা।
এ ছাড়াও বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ মণিপুরি সম্প্রদায়, মাগুরছড়া ও ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, শমশেরনগর বিমানবন্দরসংলগ্ন বধ্যভূমি, দৃষ্টিনন্দন বিএএফ শাহীন কলেজ এবং ব্রিটিশ আমলের তিলকপুর নীলকুঠি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
স্থানীয় ট্যুর গাইড মো. আহাদ মিয়া বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে মুখরিত থাকবে দর্শনীয় স্থানগুলো। ইতোমধ্যেই অনেকে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং গাইড বুকিং দিয়েছেন। আমরা পর্যটকদের বরণ করে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, মৌলভীবাজারের প্রধান প্রধান হোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশই শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এখানে পাঁচতারকা মানের দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, গ্র্যান্ডসুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম, লেমন গার্ডেন, নভেম ইকো রিসোর্ট, টি হ্যাভেন এবং বালিশিরা রিসোর্টসহ প্রায় ১০০টি হোটেল-মোটেল ও কটেজের অধিকাংশ রুমই ইতোমধ্যে বুক হয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ জানান, পর্যটকদের আগাম বুকিংয়ের যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আশা করা যাচ্ছে ঈদের ছুটিতে কোনো রুমই খালি থাকবে না। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ওসি কামরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় তারা শতভাগ প্রস্তুত।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘টানা ছুটির এই সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার থাকবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কমলগঞ্জ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি। এর পর্যটন স্পটসমূহ অতিথিদের বরণ করতে প্রস্তুত। ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।’
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় আমিনুল ইসলাম বাবু (২৭) নামের এক যুবকের কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে।
নিহত আমিনুল ইসলাম বাবু উপজেলার নাচনমহল গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন তালুকদারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৩ মে) রাত ৯টার দিকে আমিনুল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। রোববার (২৪ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামের কৃষ্ণকান্ত রায়ের বাড়ির পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে নলছিটি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নলছিটি থানার ওসি মো. আরিফুল আলম জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপের গভীর চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
মেঘনা নদীপথের ত্রাস ও শীর্ষ নৌডাকাত দ্বীন ইসলাম ওরফে ধীরাকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব নৌপুলিশ। রোববার (২৪ মে) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির ১ লাখ ৭০ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেলে তাকে কিশোরগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে ভোর ৫টার দিকে ভৈরব বাজারের ‘এনএম ব্রাদার্স’ নামের একটি বাদাম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকসহ ১০ জন কর্মচারী নৌকাযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাইশমৌজা বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৬টার দিকে তাদের নৌকাটি আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ডাকাত দল তাদের ওপর হামলা চালায়।
ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে বস্তায় থাকা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভৈরব নৌ পুলিশ দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাঝনদী থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ওই দিন দুপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক শামীম আহমেদ বাদী হয়ে ভৈরব নৌ থানায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা করেন।
মামলার এক সপ্তাহের মাথায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শীর্ষ ডাকাত ধীরাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ভৈরব নৌ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, দ্বীন ইসলাম ওরফে ধীরা মেঘনা নৌপথের অন্যতম শীর্ষ ডাকাত। তার নেতৃত্বেই মূলত এই নদীপথে বড় বড় ডাকাতি সংঘটিত হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে গত ১৬ মে বাদাম ব্যবসায়ীদের ৩৫ লাখ টাকা ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাবনার কোরবানির পশুর হাটে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘পাবনার সাদা সুলতান’ নামের এক বিশাল আকৃতির ষাঁড়। ধবধবে সাদা রঙের প্রায় ৬ ফুট উচ্চতা আর ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির ওজন দাবি করা হচ্ছে প্রায় ৪০ মণ (১ হাজার ৬০০ কেজি)। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা এই দানবীয় পশুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। বিশাল এই ষাঁড়টিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন খামারির বাড়িতে।
মায়ের অসুস্থতায় প্রবাস ছেড়ে খামারি ও সফল উদ্যোক্তা: ষাঁড়টির মালিক পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের হামিদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের ফারুক হোসেন সরদার। ২০০৩ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পরিবারের হাল ধরতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আট বছর ভালোই কাটছিল। কিন্তু ২০১১ সালে মায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে সবকিছু ফেলে দেশে ফিরে আসেন ফারুক।
দেশে এসে কর্মসংস্থানের তাগিদে ছোট পরিসরে শুরু করেন গরুর খামার। চার বছর আগে তার খামারের একটি গাভী থেকে এই সাদা বাছুরটির জন্ম হয়। তখন থেকেই পরম যত্নে সেটিকে বড় করতে থাকেন তিনি। বর্তমানে ফারুকের খামারে ২০টি গরু রয়েছে। পাশাপাশি তার একটি মাছ ও মুরগির খামারও রয়েছে।
রাসায়নিকমুক্ত সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পালন: খামারি ফারুক হোসেন সরদার বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফেরার পর দেশে কোনো কাজ ছিল না। শূন্য থেকে এই খামার গড়ে তুলেছি। এই ষাঁড়টিকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ভূষি, ছোলা, যব, গম ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। চার বছর ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করে একে বড় করেছি। এখন বিক্রির সময় মায়া লাগছে। তবে ভালো দাম পেলে বিক্রি করতে হবে। কোনো ক্রেতা যদি ১৫ লাখ টাকায় এটি কেনেন, তবে উপহার হিসেবে তাকে একটি খাসি ফ্রি দেওয়া হবে।’
ফারুকের এই সাফল্যে সমান অংশীদার তার স্ত্রী মুনতাহিনা আক্তার। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘চারটা বছর দিন-রাত একে সন্তানের মতো দেখভাল করেছি। এখন একটা গভীর মায়া পড়ে গেছে। ও যেখানেই যাক, যেন ভালো থাকে—এই দোয়াই করি।’
স্থানীয় প্রতিবেশী আবদুল্লাহ খান জানান, সাদা রঙের এত বড় এবং সুন্দর গরু এই এলাকায় এর আগে কেউ কখনও দেখেনি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ এটি দেখতে আসছে এবং পাইকাররাও দরদাম করছেন।
চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত পাবনায়: পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম জানান, খামারি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে ষাঁড়টি মোটাতাজা করেছেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি বাজারে ভালো দাম পাবেন। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পাবনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। এর বিপরীতে জেলার ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি—যা চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫টি গরু এবং ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফরিদপুরে অসহায়, দুস্থ, অসুস্থ ব্যক্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ। রোববার (২৪ মে) বেলা ১১টায় শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অনুদান বিতরণ করেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন ও নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম সানজিদা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল এবং যুবদল নেতা রুবেল হোসেন দুলালসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
সংসারের কাজের ফাঁকে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে ভাগ্যবদল করেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বয়াতিরহাট ছোটশিংগা গ্রামের গৃহিণী বনানী রানী। দীর্ঘ ১৬ বছরের কঠোর পরিশ্রমে তিনি আজ একজন সফল ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা।
চার সদস্যের দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় ১৬ বছর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহায়তায় মাত্র দুটি রিং ও এক মুঠো কেঁচো নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে বাজারজাতকরণে সমস্যা ও নানা সামাজিক কটূক্তির শিকার হয়ে কাজ বন্ধ রাখলেও তিনি দমে যাননি।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে নিজের পণ্যের প্রচার শুরু করলে সারের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এরপর কৃষি বিভাগ ও গণস্বাস্থ্যের সহায়তায় তিনি স্থায়ী খামার গড়ে তোলেন। গোবর ও কলাগাছ ব্যবহার করে তৈরি এই জৈব সার বিক্রি করে তিনি এখন বছরে প্রায় ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা আয় করছেন।
বনানী রানী জানান, নানা বাধা ও শত্রুতার শিকার হলেও আজ তার সার ছাদ বাগান ও কৃষকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। ভবিষ্যতে তিনি এই খামার আরও বড় করে দেশের বাইরেও সার রপ্তানি করতে চান।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মাগুরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) সকালে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বক্তারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমানে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কর্মক্ষমতাহীন ও দরিদ্র প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোর জন্য বর্তমান ভাতা একেবারেই অপর্যাপ্ত।’
বক্তারা আরও বলেন, সমাজের এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং কার্যকর পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচি জোরদার করার জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
যশোরের কেশবপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ রেকসোনা খাতুন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট ঘোষণা করেন।
বাজেট ঘোষণাকালে পৌর এলাকার নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আধুনিক পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ রেকসোনা খাতুন বলেন,
জনগণের প্রত্যাশা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবারের বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য পৌরসভা গঠনে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন,সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের মাধ্যমে পৌর এলাকার রাস্তা, ড্রেনেজ, আলো ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেশবপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেসকাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, উন্নয়ন তখনই টেকসই হয় যখন তা মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ায় সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল মোঃ ইনামুল হক বলেন নাগরিকদের কর প্রদানে সচেতনতা বাড়লে পৌরসভার নিজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোছাঃ রোকসানা খাতুন, বলেন,সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে বাজেট বাস্তবায়নে পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। নাগরিকদের কর প্রদানে সচেতনতা বাড়লে পৌরসভার নিজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, রাজস্ব আয় থেকে ৯ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়া এডিপি থেকে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, কোভিড-১৯ খাত থেকে ৩ কোটি টাকা এবং আইইউজিনাইপি প্রকল্প থেকে ৩৫ কোটি টাকা প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ১ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত থাকবে ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতের আমির সাইদুর রহমান সাইদ, পৌর জামায়তের আমির প্রভাষক মোঃ জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু এবং নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ বুলবুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পরিকল্পিতভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে কেশবপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে এনামুল হক (৩৮) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ২৩ মে শনিবার রাতে পৌর শহরের খোয়ারপাড় শাপলাচত্বর মোড়ে এ গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এনামুল শহরের সবজারখিলা মহল্লার মোবারক হোসেনের ছেলে। এর আগে শনিবার দুপুরে এনামুলের বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে শেরপুর শহরের সবজারখিলা মহল্লার অভিযুক্ত এনামুলের বাসায় ভাড়া ওঠেন গৃহবধূ ও তার স্বামী। আসবাবপত্রের দোকানে কাজের সুবাদে ওই গৃহবধূর স্বামী বাইরে থাকার সুযোগে এনামুল গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় মেসেঞ্জারে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে শনিবার দুপুরে এনামুল কৌশলে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তার মুখ চেপে ধর্ষণ করে। পরে গৃহবধূ তার স্বামী ও পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি জানান। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে সন্ধ্যার দিকে গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয়রা এনামুলকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
পরে এ ঘটনায় এনামুলের শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। একপর্যায়ে সদর থানার সামনেও গিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আট মাস আগে আমরা বিয়ে করেছি। কাজের সুবাদে পাঁচ মাস আগে সবজারখিলা এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠি। বাসায় ওঠার পর থেকেই বাড়ির মালিকের ছেলে এনামুল আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দেয়, লোভ দেখায়। পরে আমার ভাইকে এবং আমার স্ত্রীর মামাকে বিষয়টি জানালে সেটার সমাধানও হয়। তবে এরপর আবারও সে কু-প্রস্তাব দেয়। পরে শনিবার দুপুরে অতর্কিতভাবে কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে আমার স্ত্রীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। এর বিচার চাই আমি।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, এনামুলকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রূপগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতি। পশুর হাটের পাশাপাশি এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাই সরঞ্জাম ও মাংস কাটার উপকরণ বিক্রেতারা। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও বাজারের মোড়ে থরে থরে সাজানো দেখা যাচ্ছে হোগলা, প্লাস্টিক ও মাংস কাটার কাঠের খাটিয়া কিংবা গাছের গুঁড়ি।
ঈদকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিভিন্ন আকার ও দামের এসব পণ্যের পসরা বসেছে। বিক্রেতারা জানান, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে তেঁতুল কাঠের তৈরি খাটিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে গাছের গুঁড়ির চাহিদা। রূপগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের পাশে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে বসেছেন গাছের গুঁড়ির দোকান। তেঁতুল, নিম, করইসহ নানা ধরনের গাছের গুঁড়ি পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ তেঁতুল কাঠ। সাধারণত এক ফুট থেকে সোয়া ফুট দৈর্ঘ্যের এসব গুঁড়ি ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রেতা ইসলাম বলেন, “কোরবানির ঈদে খাটিয়া প্রয়োজন হয়। তাই এবার ৪০০ টাকায় একটি তেঁতুল কাঠের খাটিয়া কিনেছি।” আরেক ক্রেতা ছালেক জানান, আগে মূলত কসাইরাই এসব খাটিয়া ব্যবহার করতেন, তবে এখন সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার সুবিধার জন্য কিনে নিচ্ছেন।
উপজেলার একাধিক স-মিল মালিক জানান, সব গাছ দিয়ে ভালো গুঁড়ি তৈরি করা যায় না। তেঁতুল কাঠ সবচেয়ে শক্ত ও টেকসই হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। অন্য গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাংস কাটলে কাঠের গুঁড়া উঠে মাংসের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি সহজে নষ্ট হয় না এবং পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করলে বহুদিন ব্যবহার করা যায়।
তারা আরও জানান, আগের মতো এখন আর সহজে তেঁতুল গাছ পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও বেশি দামে কিনতে হয়। পরে স-মিলে এনে খণ্ড করে গুঁড়ি তৈরি করে বাজারজাত করা হয়।
মৌসুমি গুঁড়ি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা বলেন, ঈদকে ঘিরে গুঁড়ির কদর বেড়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের গুঁড়ি বিক্রি করছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি, যার দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
রূপগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা আওলাদ ভুঁইয়া বলেন, “গরু কেনা শেষ। শুধু গাছের গুঁড়ি কেনা বাকি ছিল। তেঁতুল কাঠ ভালো হওয়ায় ৩৫০ টাকায় একটি কিনলাম।” তিনি জানান, পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটতে গাছের গুঁড়ি অনেক বেশি কার্যকর।
নবগ্রাম থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে তেঁতুল গাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তেঁতুল কাঠের তৈরি গুঁড়ির দাম কিছুটা বেশি। তবে এখন মানুষ পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক সচেতন।
অন্যদিকে মুড়াপাড়া বাজারে হোগলা বিক্রি করছেন আসলাম মিয়া। তিনি জানান, এবার হোগলার দামও বেড়েছে। বিভিন্ন চরাঞ্চলে হোগলপাতা কম জন্মানোর কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে হোগলপাতা সংগ্রহ ও বুননের খরচ বেড়ে গেছে।
তার দোকানে বড় আকারের একটি হোগলা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং মাঝারি আকারের হোগলা প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদকে ঘিরে রূপগঞ্জে পশুর পাশাপাশি কোরবানির আনুষঙ্গিক সামগ্রীর এই জমজমাট বাজার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য এনে দিয়েছে।
১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালু আলমগীর হোসেনকে আটক করেছে আমতলী থানা পুলিশ। আজ রবিবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার খাকদোন গ্রামে গত সোমবার সকালে।এলাকাবাসী আলমগীর হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবী করেছেন। জানাগেছে, দুই বছর বয়সে ওই কিশোরীর মা মারা যান। এরপর থেকে ওই কিশোরী নানা বাড়ীতে বড় হয়। গত রবিবার রাতে খালু আলমগীর হোসেন শ্বশুর বাড়ীতে বেড়াতে আসে। সোমবার ১৮ মে সকালে ওই কিশোরীকে খালু আলমগীর জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। ওই বিষয়টি কিশোরী নানা বাড়ীর লোকজনকে জানায়। ঘটনা জেনে নানী আমতলী থানায় অভিযোগ দেন।
রবিবার রাতে পুলিশ তাকে তার বাড়ী থেকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রবিবার দুপুরে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অন স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। নানী বলেন, বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারিনি তাই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ওর কঠোর শাস্তি দাবী করছি। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী বলেন, নানা বাড়ীতে আমাকে একা পেয়ে খালু আলমগীর হোসেন জোরপুর্বক ধর্ষণ করেছে। আমি তার শাস্তি দাবী করছি। আমতলী থানার ওসি আবু শাহাদাত মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আইনী প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অন স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।