রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক হোটেল কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া মার্কেটের হোটেল পট্টি এলাকার দরবার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জসিম (১৮) হবিগঞ্জের লাখাই থানার বড়বাড়ি এলাকার মৃত তাউজ মিয়ার ছেলে। বুধবার রাতের কোনো এক সময় গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোটেলটির মালিক মোবারক হোসেন বাদল জানান, গত দুই মাস ধরে জসিম তার হোটেলে কাজ করছিল।
জসিমের দুই সহকর্মী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতে কাজ শেষ করে তারা একসঙ্গে ঘুমাতে যান। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেলোয়ার নামের একজন সাঁটার খুলতে গিয়ে জসিমের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, তদন্ত শেষে আসল রহস্য জানা যাবে।
জীবিত পাখির মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিম দেয় উটপাখি এ তথ্য অনেকেরই জানা। তবে বাস্তবে সেই বিশাল ডিম কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার উড়তে-অক্ষম পাখি এমুর সবুজাভ-নীল রঙের ডিমও সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমু—দুই প্রজাতির পাখির ডিম দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে সম্প্রতি উটপাখির দুটি ও এমুর একটি ডিম সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ডিমগুলো কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি হাতে নিয়েও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। উটপাখির ধূসর রঙের একটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। অন্যদিকে এমুর সবুজাভ-নীলচে ডিমটিও আকারে বেশ বড় হওয়ায় সবার দৃষ্টি কাড়ছে।
পার্কে বর্তমানে দুটি উটপাখি ও দুটি এমু পৃথক খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে চলাফেরা করে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট এবং ওজন ৬৩-১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। একটি উটপাখির ডিমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান।
অন্যদিকে এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ উড়তে অক্ষম পাখির উচ্চতা সাধারণত ৫-৬ ফুট এবং ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। এমু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের বড় আকারের ডিম পাড়ে, যার ওজন সাধারণত ৫০০-৬০০ গ্রাম। উটপাখির ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দিলেও এমুর ক্ষেত্রে ডিমে তা দেওয়া এবং বাচ্চা লালনের দায়িত্ব মূলত পুরুষ পাখিই পালন করে।
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের উদ্যানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম রয়েছে। ফলে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে তারা আশাবাদী। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ডিমগুলো সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।’
কুড়িগ্রামের ঐতিহ্য এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শাপলা চত্বর সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে সংকোচিত করার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার এই শহীদ মিনার চত্বর। কুড়িগ্রামকে চেনার আইকনিক স্থাপনা। এর সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে। উন্নয়নের বিকল্প পথ না খুঁজে মুছে ফেলা হচ্ছে জেলা শহরের ঐতিহ্যকে।
কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের একটি অংশ অপসারণের কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরের জিরো পয়েন্টে এ কাজ শুরু হয়। তবে শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের সংযোগস্থল। প্রশাসনের ভাষ্য, মোড়টি চিকন হওয়ায় বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে। জনদুর্ভোগ নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যানজট নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের প্রায় ১৫ ফুট অংশ অপসারণ করা হবে। এতে মোড়টি প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তিনি আরো বলেন, শহীদ মিনার একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় জেলার সকল রাজনৈতিক দল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজ কেবল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে।
কাজ পরিদর্শনে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, শাপলা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে শহরের যানজটের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ অক্ষত রেখে শুধু অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা যায়। এতে শহরের কেন্দ্র স্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কাজ শুরুর সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাদের দাবি, শাপলা চত্বরসংলগ্ন রেলওয়ের খাসজমি এবং আশপাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করেও সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব ছিল।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি সামিউল হক নান্টু জানান, এঘটনা দুঃখজনক। কুড়িগ্রামের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুন: বিবেচনা করবার জন্য অনুরোধ জানাই জেলার সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে। রাস্তা সম্প্রসারিত করার অনেক বিকল্প পথ রয়েছে। শহীদ মিনারের মতো সেনসেটিভ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এ শহীদ মিনার স্হাপনের পিছনেও রয়েছে অনেক লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস বদলানো বা মুছে ফেলা উচিত হবে না।
রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি সুব্রতা রায় বলেন, শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করা গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের জমি অধিগ্রহণ বা দোকানপাট সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা যেত। তার ভাষ্য, শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করে সড়ক সম্প্রসারণ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বিএম কুদরত-এ-খুদার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টিতে সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কিছু চালক উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করলে চট্টগ্রামমুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কের উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মহাসড়কে আটকে পড়া লরী চালক আসাদুল ইসলাম জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
যানজটে আটকে থাকা বাসযাত্রী ঝর্ণা আক্তার জানান, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাড্র তিন কি.মি. পথ এসেছি। চট্টগ্রাম বাবার বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। তার সাথে দুই কন্যা রয়েছে। ভোর ৬ টায় ঢাকা থেকে বাসে উঠেন ঝর্ণা। কখন চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন সে চিন্তার তার কপালে ভাঁজ বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই আনিসুর রহমান জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংস্কার কাজ চলছে। সে জন্য সড়কে বাহনের ধীরগতি। পুলিশের এ কর্মকতা জানান, সংস্কার কাজ শেষ হলে যানবাহনের ধীর গতি কমবে। যানজটও কমবে।
বগুড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি খালের কচুরিপানার নিচ থেকে মো. মিলন (৩০) নামের এক সিএনজিচালকের বস্তাবন্দী ও গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে ঘাড় ভেঙে হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে তাড়াশ-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের বেড়খালি এলাকার একটি খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিলন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার রাঙ্গালিয়া গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ায় থেকে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে তাড়াশ-রানীরহাট সড়কের বেড়খালি খালের পানিতে একটি মরদেহ কচুরিপানার নিচে আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তাড়াশ থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের মরদেহের অবস্থা সম্পর্কে তাড়াশ থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম মোল্লা জানান, মরদেহটি উদ্ধারের সময় শরীর ফুলে গিয়েছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ঘাড় ভেঙে অত্যন্ত সুকৌশলে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েক দিন আগে মরদেহটি খালের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গত ২ আগস্ট বগুড়া থেকে হঠাৎই নিখোঁজ হন সিএনজিচালক মিলন। এর তিন দিন পর গত ৫ আগস্ট বগুড়া জেলা পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় তার চালিত সিএনজিটি উদ্ধার করে।
এদিকে স্বামীর নিখোঁজ ও মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নিহতের স্ত্রী ও শ্যালক ইতোমধ্যে তাড়াশ থানায় এসে পৌঁছেছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। খুব দ্রুতই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
এ সময় ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক এ.এস.এম. আনিছুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামান সহ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে.এম. কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, রোগীদের আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ, জরুরি বিভাগের সেবার মান বৃদ্ধি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, হাসপাতালকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জনসাধারণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা নিরাপত্তা ও সহজলভ্য, মানসম্মত ও সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে একই দিন সকাল ১টার দিকে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ শহরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল এবং ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতাল দুটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি রোগীদের উন্নত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেবার মান আরও বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ৪টি খাল খননের কাজ শেষ করে বরাদ্দের অব্যবহৃত ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৭ টাকা সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের ফলে বরাদ্দের মোটা অঙ্কের এই অর্থ বেঁচে যায় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ফলদার পাঁচতেরিল্ল্যা, গোবিন্দাসীর খুপিবাড়ী ও অলোয়ার ভারই এলাকায় ৩ হাজার ১৯৫ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৬৭ টাকা বরাদ্দ আসে। তার মধ্যে প্রায় ২৮শ মিটার খাল খনন সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে খরচ বাদে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয় উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ তালুকদার বলেন, ‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উদ্বৃত্ত নগদ টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা বিরল। খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং বর্ষার পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, ‘টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সার্বিক সহযোগিতায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচি কাজের সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সরকারি বরাদ্দের নির্ধারিত বাজেট থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলেই ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, ‘ভূঞাপুরে বিভিন্ন এলাকায় ৪টি খাল পুনঃখনন কর্মসূচি কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ও সঠিক তদারকির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত বরাদ্দের অর্থ থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুরে সোনালী আঁশ পাট ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে এখন কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন পুরুষের পাশাপাশি সমান তালে গৃহিনী কৃষাণীরা। চারিদিকে কৃষকেরা এখন প্রায় সবাই সোনীল আঁশ খ্যাত পাট এর পঁচানোক্রিয়ায়, আঁশ ছাড়ানো ও পাটখড়ি ঘরে তোলার কাজে মহাব্যস্ত।
মাদারীপুর সদর সহ শিবচর, রাজৈর, কালকিনি, ডাসার সহ মোট ৫ টি উপেজলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য সচারাচর চোখে পড়ছে। দামী এই সোনালী আঁশকে ঘিরে কৃষাণ- কৃষাণীরা এখন নানান স্বপ্ন বুনছেন। পাট কাটা, পানিতে জাক দিয়ে পঁচানো-ধৌতের ক্ষেত্রে পুরুষেরা ও পাটের আঁশ ছাড়ানো-শুকানো, মূল্যবান পাটখড়ি আহরণের ক্ষেত্রে নারীরা রয়েছেন এগিয়ে।
আবহাওয়া অনুকূল থাকা ও পোকামাকড়ের আক্রমন কম হওয়ায় মাদারীপুরে ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তারপরও যেনো কৃষকের মুখে যেনো হাসি নেই, তাদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাজ। তারা বলছেন- গতবারে পাটের দাম মনপ্রতি ৪১/৪২ শত টাকায় বিক্রি হয়ে লাভের মুখ দেখলেও এবারে তা' ৩৭/৩৮ শত টাকায় প্রতিমন বিক্রি হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন, এছাড়াও পুরোদমে পাট উঠে গেলে দাম আরও কমার আশঙ্কাও রয়েছে তাদের।
তবে সামনে দাম বাড়বে- এই আশায় অনেকে তড়িঘড়ি করে আবার পাট বিক্রি করছেন না, শুকিয়ে স্টকও করে রাখছেন অনেকে।
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে, ফলন ভালো হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গতবারকে ছাড়িয়ে যাবে।
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মোমিন খানকে (৫৫) বানোয়াট অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করে অপমান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মোমিন খানের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, গত ২৯ জুলাই স্থানীয় একটি সালিশের নামে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জুলাই রাতে সাহতা ইউনিয়নের হেলোচিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় মোমিন খান একটি মন্তব্য করেন। পরে ওই বক্তব্য বিকৃত করে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের পরদিন সালিশে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। উপস্থিত না হলে বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন, ২৯ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মধুপুর এলাকার আল-আরাফা মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সালিশে মোমিন খান উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এরপর সালিশের সিদ্ধান্তের নামে তাকে প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িতে ফেরার পরও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় মোমিন খান বারহাট্টা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও এর বিস্তার রোধকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার রাতে কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউজে আয়োজিত জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, মাদক নির্মূলে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং একটি বিশেষ ট্রাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে অপরাধীদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা আমরা প্রস্তুত করব। ট্রাস্কফোর্স কমিটি নির্মোহভাবে মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়িদের তালিকা তৈরি করবে। তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধে বিভিন্ন রুটে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমতলের পাশাপাশি নদীপথে বা সমুদ্রপথে মাদক চেরা চালান হচ্ছে, সে সমস্ত রুটে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ-উখিয়ার জেলে ও নৌযান নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাতে করে মাদক চোরা চালানকারীদের চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।’ এছাড়া টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা প্রতিরোধে দুটি বিশেষ ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রী তার সফরের অংশ হিসেবে পরদিন সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং একটি ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শেষে রাতেই তার রাজধানীতে ফেরার কথা রয়েছে।
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক ছিলেন। তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর র্যাবের একটি গোয়েন্দা দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আইনি কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রতিবেশী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাণের সুবাদে পরিচিত। তিনি ওই কিশোরীকে ভিডিওর মাধ্যমে ভাইরাল করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। গত ৩০ জুলাই রাতে প্রয়োজনীয় আলোচনার অজুহাতে তাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মূলত “হাই আই এম রিপন ভিডিও” এবং “আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব”—এর মতো সংলাপের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন এই ব্যক্তি। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ভিডিও নির্মাণের কথা বলে তিনি আগে থেকেই কিশোরীকে উত্যক্ত করতেন। ঘটনার দিন বাড়িতে অভিভাবকদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিশোরীকে জোরপূর্বক জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে তিনি উপস্থিত সবার সামনে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আপনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।” ওই সালিশে তাকে আর্থিক জরিমানা ও এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বর্তমানে বিষয়টি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওসমানীনগর থানাধীন কাশিকাপন এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদিন জানান, সকালের দিকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহণের একটি বাস এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহণের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহণের ৭ যাত্রী প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত ৩ বছরের এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহণের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
বর্তমানে দুর্ঘটনা এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৬৮ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমদকে আহ্বায়ক এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) আবুল মালেককে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল আলম সওদাগর।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে কমিটিকে অভিযোগে উল্লিখিত শিক্ষকদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই, সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিতকরণ, করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে উল্লিখিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমন এবং শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশক্রমে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত- কোনোটিই চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
একদিকে পিরোজপুরের ডুবি গ্রামের মেঠোপথে পরম যত্নে মাটি থেকে ‘নুন’ ছেঁকে আনার অর্ধশতকের ঐতিহ্যবাহী জীবনসংগ্রাম; অন্যদিকে কক্সবাজারের নীল জলরাশি ঘেঁষে আধুনিক প্রযুক্তির মেগা রিফাইনারি স্থাপনের কর্মযজ্ঞ। উপকূলীয় লবণ চাষিদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রমে গত বছর দেশে রেকর্ড ২৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি লবণ উৎপাদিত হয়েছে। অথচ মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়া ও সুবিধাভোগী আমদানিকারক সিন্ডিকেটের রক্তচক্ষুতে এই বিপুল সম্ভাবনা এতদিন থমকে ছিল। অবশেষে সেই কালো ছায়া সরিয়ে দেশের মাঠে উৎপাদিত রুপালি লবণেই নতুন করে আঁকা হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির মানচিত্র।
সমুদ্রের লোনা পানি শুকিয়ে লবণ তৈরির গল্প বাংলায় নতুন নয়। কিন্তু এই শিল্পকে ঘিরে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কারসাজি, ঐতিহ্যবাহী মাটি-লবণের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের সুবাতাস কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। কক্সবাজার থেকে পিরোজপুর, আর লাওসের পটাশিয়াম খনি থেকে উপকূলীয় টেকসই প্রযুক্তি—লবণ খাতে বয়ে আনছে অভাবনীয় পরিবর্তনের হাওয়া।
পিরোজপুরের মাটি-লবণের ইতিহাস :
সমুদ্রের পানি ছাড়াও যে ভেজা মাটি থেকে খাঁটি লবণ ছেঁকে আনা সম্ভব, পিরোজপুরের ডুবি গ্রামে না গেলে তা বিশ্বাস করা কঠিন। এই অভিনব পদ্ধতির উদ্ভাবন কোনো বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে হয়নি; এর নেপথ্যে রয়েছে ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের এক করুণ ইতিহাস।
১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় চারদিকে যখন হাহাকার, ঠিক তখনই দেশজুড়ে দেখা দেয় লবণের তীব্র সংকট। সেই সংকটকালে ছারছীনার একটি লবণ পরিশোধন কারখানার আশপাশে পড়ে থাকা লবণমিশ্রিত মাটি কুড়িয়ে এনে প্রথম লবণ ছেঁকে বের করার চেষ্টা করেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। নিছক বেঁচে থাকার সেই তাগিদ আজ পাঁচ দশক পর রূপ নিয়েছে আস্ত একটি গ্রামের মূল জীবিকায়।
বর্তমানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল থেকে লবণমিশ্রিত মাটি কিনে এনে পিরোজপুরের ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট উৎপাদন কেন্দ্র। কঠোর শারীরিক পরিশ্রম ও রসায়নের মূলনীতির এক অনন্য মিশ্রণ এই উৎপাদন প্রক্রিয়া।
মাটি-পানির দ্রবণ: চট্টগ্রাম থেকে আনা লবণাক্ত মাটি প্রথমে বড় চৌবাচ্চা বা ট্যাংকে পানির সাথে মেশানো হয়।
থিতানো ও ছাঁকন: থিতিয়ে আসা লবণাক্ত পানি আলাদা করে নেওয়া হয়।
বাষ্পীভবন: আলাদা করা দ্রবণ টানা ৬-৭ ঘণ্টা বড় উনুনে জ্বাল দেওয়া হয়, যতক্ষণ না পানি উবে গিয়ে পাত্রের নিচে স্ফটিক লবণের স্তর জমে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ: ঝুড়িতে রেখে পানি ঝরানোর পর
আয়োডিন মিশিয়ে তা বাজারে বিক্রির উপযোগী করা হয়।
ভোর ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুনের উত্তাপে এই হাড়ভাঙা খাটুনি চললেও প্রাপ্তির খাতাটি বড়ই করুণ। প্রতি কেজি লবণ উৎপাদনে একজন শ্রমিক পান মাত্র দেড় টাকা (১.৫০ টাকা) মজুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হলেও এই গ্রামের মানুষগুলো আঁকড়ে ধরে আছেন অভাবের দিনে জন্ম নেওয়া এই শিল্পকে।
সিন্ডিকেটের কালো থাবা ও কক্সবাজারের রিফাইনারি হাব:
পিরোজপুরের প্রান্তিক শ্রমিকরা যখন দেড় টাকার মজুরিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন, তখন জাতীয় পর্যায়ে লবণ খাতকে গ্রাস করে রেখেছিল এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রান্তিক চাষিদের শ্রমে রেকর্ড ২৪.৩৭ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য লবণ উৎপাদন হলেও সংকট তৈরি করা হতো ‘শিল্প লবণ’ নিয়ে।
ওষুধ, টেক্সটাইল ও চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের বিশুদ্ধ পরিশোধিত শিল্প লবণ। দেশে আধুনিক রিফাইনারি হাব না থাকার সুযোগে একশ্রেণির অসাধু আমদানিকারক ‘বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ সুবিধার অপব্যবহার করে শিল্প লবণের নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভোজ্য লবণ এনে খোলা বাজারে বিক্রি করত। এতে রাষ্ট্র যেমন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাত, তেমনি ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতেন দেশি চাষিরা।
২৮ বছরের অবসান ও বিসিকের মেগা প্রকল্প:
এই শোষণের অবসান ঘটাতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) হাতে নিয়েছে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে ১৫৪ থেকে ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে একটি আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মেগা রিফাইনারি চালু হলে লবণ খাতে সরাসরি দালালমুক্ত পরিবেশে কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে চাষিরা প্রতি মণে অন্তত ৩৩৭ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ন্যায্যমূল্য পাবেন। শিল্প লবণের জন্য বিদেশ নির্ভরতা শূন্যে নামবে, ফলে বছরে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার সাশ্রয় হবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত উচ্চমানের পরিশোধিত লবণ বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির পথ খুলবে। আধুনিক অবকাঠামোকে ঘিরে ১০ হাজার চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
ব্লু ইকোনমিতে চমক: একই মাঠে লবণ ও ‘আর্টিমিয়া’ চাষ
কক্সবাজারের উপকূলে শুধুই রিফাইনারি হাব নয়, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’তে এক বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের গবেষকরা। অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’-এর অর্থায়নে একদল গবেষক দেশে প্রথমবারের মতো উদ্ভাবন করেছেন আর্টিমিয়া ও লবণের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি।
আর্টিমিয়া কী ও কেন এটি সোনালী সুযোগ?
আর্টিমিয়া হলো অতি ক্ষুদ্র শৈবালভোজী এক প্রকার জলজ প্রাণী, যা সামুদ্রিক হ্যাচারিতে মাছ ও চিংড়ির পোনার জন্য ‘উচ্চমানের জীবন্ত খাবার’ (Live Feed) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে ৪০-৫০ টন আর্টিমিয়া আমদানি করতে হতো।
চবির গবেষকরা কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে গবেষণা চালিয়ে দেখিয়েছেন, একই মাঠে সঠিক লবণাক্ততা বজায় রেখে একই সাথে লবণ ও আর্টিমিয়া চাষ সম্ভব।
এর চমকপ্রদ সুবিধাগুলো হলো- আর্টিমিয়া প্রাকৃতিক ‘ফিল্টার ফিডার’ হিসেবে পানির বর্জ্য খেয়ে ফেলে। ফলে এই পানি থেকে উৎপাদিত লবণের স্ফটিক হয় অনেক বেশি পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ।
কৃষকরা লবণ বিক্রির পাশাপাশি দামি আর্টিমিয়া ও এর ডিম (সিস্ট) বিক্রি করে দ্বিগুণ আয় করতে পারবেন। উপকূলীয় নারীরা সহজেই এটি সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অংশ নিতে পারছেন। দেশের ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলের লবণমাঠে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিলে মৎস্য খাতের আর্টিমিয়া আমদানিনির্ভরতা পুরোপুরি দূর হবে।
বৈশ্বিক শিক্ষা: লাওস-ভিয়েতনাম পটাশিয়াম প্রকল্প
ভোজ্য ও শিল্প লবণের পাশাপাশি কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সারের জন্য ‘পটাশিয়াম লবণ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বড় উদাহরণ তৈরি করেছে ভিয়েতনাম ও লাওস। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘ভিনাকেম’ লাওসের খাম্মুয়ান প্রদেশে বিশাল পটাশিয়াম খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ আমাদের শেখায়—লবণ কেবল উপকূলীয় মেঠোপথের বাণিজ্য নয়; আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো গেলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির পরাক্রমশালী নিয়ামক হতে পারে।
পিরোজপুরের ডুবি গ্রামের মাটি থেকে বাঁচার তাগিদে শুরু হওয়া আদিম লড়াই, কক্সবাজারের আধুনিক বিসিক রিফাইনারি হাব আর সমুদ্রের জলে ভেসে থাকা চবি গবেষকদের আর্টিমিয়া—সবগুলো বিন্দু এক সুতোয় গাঁথলে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ লবণ খাতে আর পিছিয়ে নেই।
মাটি নিংড়ানো শ্রমিকের ঘাম, আধুনিক রিফাইনারি অবকাঠামো আর সুনীল অর্থনীতির বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেলবন্ধনে রচিত হচ্ছে এক স্বাবলম্বী বাংলাদেশের গল্প। সিন্ডিকেটের অশুভ ছায়া চিরতরে বিদায় করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বজায় রাখতে পারলে, বাংলাদেশ শুধু নিজের চাহিদা মেটাবে না; বরং বিশ্বে উচ্চমানের লবণ ও সামুদ্রিক উপাদান রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
এ প্রসঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মো. ওবায়দুল রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনো অজুহাতে খাবার লবণ আমদানি করতে দেওয়া হবে না। চাষিদের টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত লবণ থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের আমদানি করার অপচেষ্টা রোধে এবং প্রান্তিক লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান মনে করেন, লবণ শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদান।
তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে জাতীয় লবণনীতি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি লবণ উৎপাদনকে আধুনিকায়ন করা, অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহন দুর্ঘটনা রোধে লবণ পরিবহনে আধুনিক ঢাকনা ও প্যাকেজিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারের পুরো অর্থনীতি লবণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চাষিদের টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এ শিল্পে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনতে সচেষ্ট।’
স্থানীয় পর্যায়ের অর্থনীতিতে লবণের অবদান তুলে ধরে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থামিয়ে চাষিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও পরামর্শ দেন তিনি।
সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘লবণের জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হলে কৃষক ও শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক পরিবার এবং ৫৫ হাজার দক্ষ শ্রমিক সরাসরি লবণ উৎপাদনে যুক্ত। এ ছাড়া ৫ লাখেরও বেশি শ্রমিক এই খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। তাই এই খাতের পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন আবশ্যক।
চকরিয়ার প্রবীণ লবণচাষি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘লবণ তুলি আমরা, কিন্তু দাম ঠিক করে শহরের অফিসে বসে থাকা মধ্যস্বত্বভোগীরা। নিজস্ব সংরক্ষণাগার ও সরকারি নজরদারি থাকলে আমরা ঘামের সঠিক দাম পাব।’