‘ত্যাজ্য’ করতে চাওয়ায় বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ফারুক রাজিবের (৩৫) বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার পূর্ব আলকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বৃদ্ধের নাম আবদুল মমিন (৬৫)। এ ঘটনায় বৃদ্ধের মেয়ে পানু আক্তার বাদী হয়ে রাতেই পরশুরাম মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ফারুক ও তার শ্যালক আবদুল মজিব সুমনকে (৩২) গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ফারুক পেশায় একজন দলিল লেখক। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি পরশুরাম উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। বাবা-মা থাকতেন গ্রামের বাড়িতে। বাবা আবদুল মমিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল ছিল না ফারুকের।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফারুক তার শ্যালক আবদুল মজিবকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। আবদুল মমিন তখন ঘরের ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফারুক এসে তার বাবার ঘরে ঢোকেন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আবদুল মমিন ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে (ফারুক) ত্যাজ্যপুত্র করবে বলে জানায়। এ কথা শুনে ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে লাকড়ি দিয়ে তার বাবাকে বেধড়ক পেটায়। এতে গুরুতর জখম আবদুল মমিন।
পেটানোর পর ফারুক তার মাকে শিখিয়ে দেন ‘বাড়িতে ডাকাতের হামলায় তার বাবা আহত হয়েছে’ বলে অন্যদের জানাতে। এরপর ফারুক ও তার শ্যালক আবদুল মজিব দ্রুত বাড়ি থেকে চলে যান।
এদিকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আবদুল মমিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মারা যান তিনি।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, রাতেই অভিযুক্ত ফারুক ও তার শ্যালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা। হামলার বিচার দাবি করে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষকেরা বলেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় উপাচার্যের নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।
শিক্ষকদের দাবি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সংঘটিত ওই হামলায় ডিন, অধ্যাপক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের অনেককে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, ড. আবদুল মালেক, ড. মো. আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন ও কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত গতকাল সোমবার বেলা ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাসার, সহযোগী অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, কৃষিবিদ ড. হাসিব মোহাম্মদ তুষার, টিএসসি পরিচালক আবুবকর সিদ্দিক, পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম রাতুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিসহ অনেকে।
নওগাঁর পত্নীতলায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। গত রোববার (১১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আমবাটি ডাবল ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে মতিউর (৪৫) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল (৪৫)।
পত্নীতলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মতিউর এবং নাজমুল বাড়ি থেক একটি প্রাইভেটকারে করে হিলির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রাইভেটকারটি নজিপুর-ধামুইরহাট আঞ্চলিক সড়কের আমবাটি ডাবল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মতিউর ও নাজমুল গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পত্নীতলা থানার ওসি মোহাম্মদ নিয়ামুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (গাকৃবিশিস)। এ লক্ষে গত রোববার (১০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, সম্প্রতি বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বহু সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সিনিয়র অধ্যাপক রয়েছেন, যারা প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। এমন বাস্তবতায় বহিরাগত কাউকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষকরা উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা, বিভাজন ও অরাজক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, যা একটি অনন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ শিক্ষক সমিতির অন্যান্য সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষকবৃন্দ।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের কৃষি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার এক গর্বিত আলোকবর্তিকা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক অঙ্গনেও নিজেদের অনন্য সক্ষমতা ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও পরীক্ষিত শিক্ষকগণের মূল্যায়ন হওয়াটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ‘নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের (এনআইওএইচসি) ২৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশন্স ) এবং ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটি ও নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বিশ্বের অন্য মেরিটাইম রাষ্ট্রসমূহের ন্যায় জাতীয় পর্যায়ে একটি স্বতন্ত্র হাইড্রোগ্রাফিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে 'ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফার' প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফার বাংলাদেশের সামগ্রিক হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন ও জবাবদিহিমূলক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাণিজ্যিক ও অন্য সমুদ্রগামী জাহাজসমূহের নিরাপদ নেভিগেশন এবং সাগরে চলাচল নিশ্চিতের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে। সেই সাথে সুনীল অর্থনীতি কার্যক্রম ও উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ বিভিন্ন হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, অর্জিত সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়। পাশাপাশি উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয়, কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ সহায়তা বিষয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ১৫টি আঞ্চলিক কমিশনের মধ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন’ অন্যতম। আন্দামান সাগর থেকে এডেন উপসাগর পর্যন্ত উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই সম্মেলনে কমিশনের সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ সহযোগী রাষ্ট্র অস্ট্রোলিয়া, ফ্রান্স, ওমান, মরিশাস, সেশেলস, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে।
এছাড়াও পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সুদানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং হাইড্রোগ্রাফিক সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা যোগদান করে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের জন্য নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফি কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (আইএইচও) পরিচালক এবং নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক, সামরিক ও অসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চোরাশিকারীদের কবল থেকে চরদুয়ানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইটি জীবিত হরিণ উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা। হরিণ দুটি সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়া বিশেষ ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার সুরজিত চৌধুরীর নেতৃত্বে বনরক্ষীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে) সকালে পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাববাড়ীয়া এলাকায় অভিযান চালায়।
বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা হাজীবাড়ী মসজিদের কাছে পুকুরে হরিণটিকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। অপর হরিণটি উদ্ধার হয়েছে একই দিন বেলা দুইটার দিকে কালিয়ারখাল এলাকায়। বনরক্ষীদের দেখে শিকারীরা পালিয়ে যায়।বনরক্ষীরা হরিণটি দুটিকে উদ্ধার করে জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। একটি হরিণ কিছুটা আহত থাকায় সেটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শরীফুল ইসলাম বলেন, চরদুয়ানী এলাকায় উদ্ধার করা হরিণ দুইটি শিকারীরা সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো। পায়ে কিছুটা আহত একটি হরিণকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুইটি হরিণ সোমবার বেলা তিনটার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগ অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকালে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এইঅনদান বিতরণ করেন ফরিদপুর সদর -৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে অনেক হতদরিদ্র মানুষ আছে যারা সামান্য সহযোগিতা পায়না। দুস্থ, দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। আমরা ৫ বছর সময় পেয়েছি জনগণের সেবা করার। ইনশাআল্লাহ কাউকে আমাদের কাছে আসতে হবে না। আমরা সবাই মিলে জনগণের সেবা করবো।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, ফরিদপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, আমি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১০০ টাকার অতিরিক্ত বিল আদায় এবং নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (পিসিএসপি) উদ্দেশ্যে এই বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি লাঘব এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না। এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বিল নিতে হবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতির বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের স্বার্থে ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। 'দিনের বর্জ্য দিনেই' অপসারণ নিশ্চিত করাকে এই সভার অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিবেশগত দিকের ওপর জোর দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা যাবে না। যদি কোনো বাসা থেকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা না রেখে যত্রতত্র ফেলা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বাড়ির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পোশাকের পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিকদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার জন্যও সভায় আহ্বান জানানো হয়। প্রশাসক স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি ব্যবসায়িক সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো দ্বিধা করবে না বলেও তিনি সর্তক করেন।
পরিশেষে সভায় জানানো হয় যে, একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগরী গড়তে ডিএসসিসি সব সময় বদ্ধপরিকর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে এবং জনস্বার্থে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে প্রশাসকের এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের দহকোলা গ্রামে ধানের জমির পানি এক জমি থেকে অন্য জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দহকোলা গ্রামে আলিমদ্দি ও জাহিদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পৃথক দুটি সামাজিক দল রয়েছে। গত শুক্রবার (৮ মে) জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থক সঞ্জয়ের ধানের জমির পানি আলিমউদ্দিন সমর্থক রবেন মণ্ডলের জমিতে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জেরে শনিবার (৯) সন্ধ্যায় সঞ্জয়কে মারধরের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১১ মে) সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়|
ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আবুল বাসার জানান, জমির পানি অন্য জমিতে যাওয়া নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে| পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে| অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
জয়পুরহাটের লতিরাজ কচুর লতি একসময় কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক বা 'ভাগ্যবদলকারী' ফসল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। একসময় এটি বিদেশেও রপ্তানি হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বিলুপ্তির পথে রয়েছে এটি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উন্নত জাতের চারা সরবরাহ না করলে এই ঐতিহ্যবাহী ফসলটি পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা।
জানা যায়, সকাল হলেই পাঁচবিবি উপজেলার বটতলীতে জমে উঠে লতির হাট। এই লতির হাটের জন্য এই স্থানের নাম হয়ে উঠেছে লতিহাটি। তবে বাজারের সঠিক ব্যবস্থা ও পণ্য সংরক্ষণের সঠিক জায়গা না থাকায় এখন এই বাজার হারাচ্ছে তার গৌরব। এর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে জয়পুরহাটের গর্ব লতিরাজ কচু।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে কচুর লতি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রণোদনা না পাওয়ায় অনেকেই এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বাজারে কচুর লতির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং পণ্য সংরক্ষণেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কচুর লতি চাষে এখনই কার্যকর কোন উদ্যোগ না নিলে জয়পুরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী ‘লতিরাজ’ একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হবে।
এ বিষয়ে কৃষিবিদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে কচুর লতি আবারও জয়পুরহাটের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান। এছাড়া একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পাঁচবিবি উপজেলায় তিন মৌসুমে কচুর লতি চাষ হয়। আমাদের এ বছরের লক্ষ্য মাত্রা ৯৩০ সেক্টর জমি। কচুর লতি চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আর বাজার সংক্রান্ত যে সমস্যাটি রয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে পিটুনিতে ৩জন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গ্রামজুড়ে। এখন গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহাড়া দিবেন নাকি গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে থাকবেন-এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগছেন গ্রামের মানুষ।
ঘটনাস্থল ঘুরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিয়মিত খামার ও বাড়ি বাড়ি থেকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। চোরচক্রের হানায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন পশু খামারিসহ অসহায় কৃষক পরিবার।
এই অবস্থার মধ্যেই গত শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি গরু চোর চক্র পিকআপ ভ্যান নিয়ে উপজেলার ইউনিয়নের বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাক দিলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। আর ধাওয়া খেয়ে চোরচক্র পিকআপ ভ্যান যোগে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করলে রাস্তায় গতি রোধ করেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে তারা রোববার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে রাস্তায় গাছ ফেলে দুই চোরকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
চোরচক্রের বাকি সদস্যরা দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসময় তারা ওই পিকঅ্যাপ ভ্যান থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাস উদ্ধার করেন। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চোরচক্রের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে আগুনে ওই পিকঅ্যাপ ভ্যানটির অধিকাংশ পুড়ে যায়। অপরদিকে পাশের তালচালা এলাকা থেকে এক গরু চোরকে আটক করে পিটুনি দেয় এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা ও ফুলবাড়িয়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুত্ব আহত তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিম হোসেন, আজাহারুল ইসলাম ও কৃষ্ণ বর্মণ নামে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতে কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০০ জনের নামে মামলা করেন। গতকাল সোমবার সকালে ওই মামলার বিষয়টি জানাজানি হলে গরু চুরি আতঙ্কের সঙ্গে চোর সন্দেহে তিনজনকে হত্যা মামলায় শুরু নতুন করে যুক্ত হয় গ্রেপ্তার আতঙ্ক।
এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ৩জনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে মাগুরা জেলায় বোরো ধানের পাশাপাশি মিনিকেট ও সুবর্ণলতা ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। ধান কাটা ও মাড়াই করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকট এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে পাকা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।
তেল সংকটে সময়মতো জমিতে পানি না দিতে পারলেও যে ফলন হয়েছে তাতে কৃষকরা সন্তুষ্ট। ভালো ফলনে মুখে হাসি ফুটলেও বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকরা।
জানা গেছে, মণপ্রতি ধানের দাম ১ হাজার টাকা, আর একজন শ্রমিকের অর্ধেক বেলার মূল্য ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। আবার টাকা থাকলেও ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিকের পাশাপাশি নেই প্রয়োজন মতো ধান কাটার মেশিনও। ফলে বৃষ্টির ভয়ে সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কায় ভুগছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর মাগুরায় প্রায় ৩৯ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
সময়মতো সার-বীজ পাওয়ায় অধিকাংশ জমিতে ধানের ফলন ভালো হলেও মাগুরা সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের শেখপাড়া মাঠের কৃষকরা জানান ভিন্ন কথা।
শেখ পাড়ার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে ধান লাগাইছি। গতবারের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হইছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম আর ধান কাটার জন্যি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও জনপ্রতি মজুরি দিতি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা তাও আবার অর্ধেক বেলা, সাথে তিন বেলা খাবার দিতে হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ মণ ধান হয়। বিধাপ্রতি ধান কাটতে শ্রমিক লাগে ৪-৫ জন। আবার এর সাথে যাতায়াতের খরচ আছে অনেক। আমার ১৬-১৭ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকেও অনুদান পাইনি। এত কষ্ট করেও সব খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ৭-৮ মণের টাকা থাকে। সামনে আবার বৃষ্টির সিজিন এসে যাচ্ছে। এখন সময়মতো ধান ঘরে তুলতি না পারলি আরও লস হয়ে যাবে।’
সময়মতো সার-কীটনাশক পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে একই এলাকার কৃষক বাহারুল বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করিছি। তাতে যে খরচ হইছে তা বাদ দিয়ে অল্প কিছু লাভ থাকবে। তয় এ বছর লাভ করতি পারব কি না জানিনে। হঠাৎ দুইদিন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি উঠে গেছে। এখন মেশিন দিয়েও ধান কাটা যাচ্ছে না। আবার পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাব রইছে। পানিতে নেমে কোনো শ্রমিক ধান কাটতে চায় না। তাই নিজেদের জমির ধান নিজেরাই কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করতিছে অনেকে। আবার সময়মতো যদি কৃষি বিভাগ থেকে আমরা সার ও কীটনাশক পেতাম তাহলি খরচটাও একটু কম হতো। ব্লক সুপারভাইজারের দায়িত্ব মাঠ ঘুরে হতদরিদ্র কৃষকদের নাম লিখে নিয়ে যাওয়া তাদেরকে সার কীটনাশক দেওয়া। কিন্তু উনি মাঠে আসে না, যারা একটু প্রভাবশালী শুধু তাদের নাম লিস্ট করে। আমরা সময়মতো কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি। এখন যদি আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় তাহলি আমাগের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
মঘী ইউনিয়নের কৃষক শাহিন বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টি নেমে পড়ায় ধানের জমিতে পানি উঠে গেছে অনেক ধান কাদাপানির সাথে মিশে আছে। সেগুলো বারবার উল্টিয়ে রোদে দিয়ে শুকাতে সময় লেগে যাচ্ছে। দ্রুত এগুলো শুকিয়ে, কেটে ঘরে তুলতে না পারলে আমরা বিছালি বিক্রি করতে পারব না। ১ হাজার বিছালির দাম ২ হাজার টাকা। এই বিছালি বিক্রি করে আমরা একটু লাভ করতাম। মাঠে পানি উঠে যাওয়ায় ধান কাটার মেশিনও নামানো যাচ্ছে না। সময়মতো আমরা তেল পাইনি, পাইলে ফলন আরও ভালো হতো। তারপর আবার শ্রমিকের অভাব। সব মিলায়ে নানা দুশ্চিন্তায় আছি। এখন ঘন বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে ধান কেটে ঘরে তুলতি পারব কি না সেটা নিয়েও আশঙ্কা আছে।’
জেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, মাগুরায় ৩৯ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সময়মতো কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব রকম উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে সবাইকে তো একবারে কৃষি উপকরণ দেওয়া সম্ভব না। আমাদের উপকরণের তুলনায় কৃষকদের সংখ্যা বেশি থাকায় অনেক কৃষক এই সেবা থেকে বাদ পড়েছে। এ বছর যারা বাদ পড়েছে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তাদেরকে কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বলেছেন, দীর্ঘদিন পর একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। এই গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত শনিবার বিকেলে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জন্মস্থান চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার লালিয়ারহাটে আগমন উপলক্ষে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও আংশিক বায়েজিদ) আসনের বিএনপি পরিবার ও সর্বস্তরের জনসাধারণ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষে কাজ করছেন। দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ এবং নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।
হাটহাজারীর অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাকিলা ফারজানা বলেন, “আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম ঐতিহাসিক দিন। আমার মরহুম পিতা, এই আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের উত্তরসূরি হিসেবে এই অর্জন জনগণের আস্থার প্রতিফলন।” পিতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “বাবার ত্যাগ ও সততা আমার পথচলার প্রেরণা। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমি আমৃত্যু মানুষের সেবা করে যেতে চাই।”
এর আগে বিকেলে লালিয়ারহাটে পৌঁছালে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক সাকিলা ফারজানাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তিনি তাঁর পিতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি নিজ বাসভবনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা-এ গরু চুরি সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দিতে গিয়ে এখন তারা নতুন করে হয়রানির আশঙ্কায় রয়েছেন।
নিহতরা হলেন ঢাকার মিরপুর-এর সেলিম হোসেন (৩৮), গাজীপুরের শ্রীপুর-এর আজাহারুল ইসলাম (৩৫) এবং সিলেটের সিলেট সদর-এর কৃষ্ণ কান্ত (৪৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছিলেন। শনিবার গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যানে করে উপজেলার বাগচালা এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয় এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর কালিয়াকৈর থানা-র অধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্প-এর ইনচার্জ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে নিরীহ গ্রামবাসী যেন হয়রানির শিকার না হন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও একই দাবি জানিয়ে বলেছেন, আইনের প্রয়োগে যেন নিরপরাধ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।