দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা বেড়ে চলেছে। ঢাকা-১৯ আসন তথা সাভারেও ইতোমধ্যেই অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী শুরু করেছেন জনসভা, পথসভা ও উঠোন বৈঠকের মতো প্রচারণামূলক কর্মসূচি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এই আসনটির একাদশ সংসদের সদস্য (এমপি)। তিনিও বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন।
শুক্রবার পূর্ব ঘোষণা অনুসারে জুমার নামাজ শেষে আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় প্রতিমন্ত্রীর একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ভেস্তে গেছে সেই কর্মসূচি।
জানা গেছে, বিকেল ৩টায় আশুলিয়ার গাজীরচট আকবর মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে নির্বাচনী পথসভার আয়োজন করা হয়। ধামসোনা ইউনিয়ন যুবলীগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয় এমপি ও প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের। কিন্তু হঠাৎ শুক্রবার সকালে আশুলিয়া থানা ও ধামসোনা ইউনিয়ন যুবলীগের পক্ষ থেকে ফেসবুকে অনুষ্ঠান না হওয়ার কথা জানানো হয়। বৈরী আবহাওয়া ও সভাস্থলে জলাবদ্ধতার কারণে অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
পানিতে টইটুম্বুর সভাস্থলের প্যান্ডেলসহ ছবি দিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন আশুলিয়া থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম ভূইয়া। এছাড়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতারাও একই পোস্ট করেন।
তারা লেখেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আশুলিয়া থানার অন্তর্গত ধামসোনা ইউনিয়ন যুবলীগের আজ বিকেলের অনুষ্ঠান ও পথসভা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময় নির্ধারণ করে জানানো হবে। সবাইকে ধন্যবাদ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
থানা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম ভূইয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গাজীরচট স্কুলে আজ বিকেল ৩টায় প্রোগ্রাম ছিল। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় প্রধান অতিথি ছিলেন। আমরাই আয়োজক ছিলাম। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। মাঠে হাঁটু পানি। তবে পানি নামারও সুযোগ নেই। পানি নিষ্কাশনের তো জায়গা নেই। এই বৃষ্টিতে আমাদের এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানি ঢুকছে।’
জলাবদ্ধতার কারণে খোদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর সমাবেশ স্থগিত হয়ে যাওয়া নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে। প্রতিমন্ত্রী তার এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো কাজ করেননি বলেও কেউ কেউ অভিযোগ তুলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীরচট এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির কারণে এলাকার অধিকাংশ রাস্তা তলিয়ে গেছে। অলিগলি ও অনেক বাসাবাড়িতে পানি উঠেছে। শুনেছি আজ গাজীরচট স্কুলে প্রতিমন্ত্রীর প্রোগ্রাম ছিল। বৃষ্টির কারণে মাঠে হাঁটু পানি জমে থাকার কারণে প্রোগ্রাম ক্যানসেল হয়েছে। শুধু জলাবদ্ধতার কারণেই আজ প্রতিমন্ত্রীর প্রোগ্রামটা হলো না। বিষয়টা মোটেই ভালো দেখায়নি।
গাজীরচট স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য এনামুল হক মুন্সি বলেন, ‘জলাবদ্ধতার সমস্যায় দীর্ঘ দিন ধরে ভুগছে গাজীরচট, ইউনিক ও জামগড়া এলাকার মানুষ। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত এই সমস্যার মধ্য দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করে আসছে।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে স্কুলের মাঠে করা প্যান্ডেল ছিঁড়ে গেছে। এছাড়া পানি জমে মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় সভায় স্থগিত করে পরবর্তী সময়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বগুড়া জেলা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চন্দনবাইশা-বগুড়ার ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। প্রতিনিয়ত বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের অতিরিক্ত বোঝাইয়ের চাপে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। গত কয়েক বছরে ভারিবর্ষণে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে পানি জমে সড়কটি এখন রীতিমতো যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করা হলে আসন্ন বর্ষায় সড়কটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে এবং দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার চর ও বীর এলাকার চন্দনবাইশা, কাজলা, কর্নিবাড়ী, কুতুবপুর,কামালপুর ইউনিয়নে ১৩টি পয়েন্টে বিট ও মোটা বালু বিক্রয় চলছে। সেসব এলাকার উত্তোলণকৃত বালু ড্রাম ট্রাকে করে নিজ জেলা ও বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত বোজাই বহণকারি ড্রাম ট্রাকে রাস্তায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে সৃষ্টি হয়েছে। চন্দনবাইশা থেকে বগুড়া পর্যন্ত সড়কটি জেলা শহরে যাতায়াতের অন্যতম সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার, ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ হাজারো মানুষ চলাচল করে।
সাম্প্রতিক সময়ে রৌহদহ, কড়িতলা, জোড়গাছা অংশে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভাঙাচোরা ও গর্তযুক্ত সড়কে হেঁটে চলাচল করাও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ হয়। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। পরে আবার মেরামত করা হলেও অল্পদিনের মাথায় সড়কটি আবারও নষ্ট হয়ে যায়। বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচলের ফলে রাস্তার ধুলো ময়লা ঘরের ভিতর ঢুকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রান্না করা খাবার, শয়ন ঘরের চাল ও বেড়ার টিন। রাতে ড্রাম ট্রাকের হর্ণের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের শব্দ দূষণে মস্তিস্কের ক্ষতি হচ্ছে। রোগীদের জন্য আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
ঘুঘুমারী গ্রামের কুদরত-ই-খুদা চাঁন বলেন, “বালুবাহী ট্রাকের কারণে সড়কটির যে অবস্থা, তাতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। চরের ৫টি ইউনিয়নের মানুষ জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
অটোরিকশা চালক হাসেম আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী তুলতে গেলে প্রতিদিনই গাড়ির ঝাঁকুনিতে যান্ত্রিক ত্রুটি হয়। মাঝেমধ্যে গর্তের কারণে গাড়ি থেকে যাত্রী পড়ে গিয়েও দুর্ঘটনা ঘটছে। শেখপাড়া গ্রামের সোহান শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জোড়গাছা গ্রামের তাজুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত বোঝাই বহনাকারী যানবহনের কারণে জোড়গাছার সোনাপুর, পূর্বপাড়া, মধ্যপাড়া ও পশ্চিমপাপড়া এলাকার সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঈদুল আযহার কয়েকদিন আগে ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (পশ্চিমপাড়া) এর সামনে সড়কে গরু বোঝাই ভটভটি উল্টে গিয়ে একজনের পা ভেঙে গরুতর আহত হয়। এছাড়া প্রতিনিয়ত সেখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ৭নং ওয়ার্ড সদস্য এবং চাঁদের আলো গ্রুপ অব কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক মহিদুল হাসান জানান, চন্দনবাশা-চেলোপাড়াগামী সড়কটি অতি পুরাতন হলেও এই সড়কে টেকসই সংস্কার হয়না। সড়কের কোথাও কোনো স্থানে ছোট-ছোট গর্ত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি সেটি সংস্কার করেন তাহলে বড় সড়কে গর্তের সৃষ্টি হতো না সরকারের অর্থেরও অপচয় কম হতো, কোনো দুর্ঘটনাও ঘটত না।
এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী তুহিন সরকার বলেন, এ ধরনের ভারী যানবাহন, বিশেষ করে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচলের জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়কটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় অসহায়, স্বল্প আয়ের ও চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি অপারেশন চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্যাম্পে প্রায় তিন হাজার রোগীর চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং পাঁচ শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোটারি ক্লাব অব মিডটাউনের উদ্যোগে এবং বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্রেড হলোস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোটারি ক্লাব অব মিডটাউনের সভাপতি রোটারিয়ান সোহাগ মিনা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা নয়, বরং মানবতার সেবা। রোটারি ক্লাব ও চিকিৎসকরা তাদের মেধা ও দক্ষতাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবতার সেবা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তিনি নিজ নির্বাচনি এলাকায় এসে এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
চিকিৎসা ক্যাম্পে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রায় তিন হাজার রোগীর চক্ষু পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া অন্যান্য রোগীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ ও চশমা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শামীম কবির, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ডাবলু, জিএম রফিকুল হাসান ও বদরুদ্দোজা বাবলু প্রমুখ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বছর এ বিষয়ে বিএআরআই এর থিম শ্লোগান ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে লড়াই, অভিযোজনই হোক কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ্ সাফল্য।
একজাতীয় গাছ না লাগিয়ে প্রকৃতিতে কার্যকর ও শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির মিশ্র উদ্ভিদ, মসলা ও ঔষধি এবং ফলদ গাছের বিভিন্ন চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিএআরআই-এর সম্মানিত মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মন্জুরুল কাদির এবং উদ্বোধন পরবর্তী বক্তব্যে ড. কাদির বলেন, বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অর্জন এবং মৌমাছির আবাসন সৃষ্টি করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।
তিনি বলেন, মৌমাছির আবাসন সৃষ্টির ফলে কৃষকরা মধু ও মোম আহরণ করে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধাও লাভ করতে পারেন। এছাড়া একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করে। অন্যদিকে এ উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলদ গাছ বৃদ্ধি পেয়ে মৌমাছির আদর্শ আবাসন সমৃদ্ধ করবে। এতে মৌমাছিরা গাছ থেকে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন নিশ্চিত করবে এবং বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফসল, বিশেষ করে ফল, সবজি, মসলা ও তেলবীজ পরাগায়নের জন্য মৌমাছির ওপর নির্ভরশীল। তাই গাছপালা বাড়লে মৌমাছির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে ফসলের ফলন ২০শতাংশ থেকে বহুগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (গবেষণা উইং) ড. ফারুক আহমেদ, পরিচালক (উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাউছার উদ্দিন আহম্মেদ, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ উইং) ড. মো. মোশারফ হোসেন মোল্লা প্রমূখ।
উল্লেখ্য, এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় বিএআরআই এর উদ্যোগে সারাদেশের ছয়টি কেন্দ্র, আঞ্চলিক কেন্দ্র ও স্টেশনসহ বিভিন্ন উপ-কেন্দ্রসমূহ ও তার আওতাধীন এলাকায় পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে সাড়ে সাত লাখ এবং সুচনা বছরে প্রায় ১.৩৩ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, মসলা ও ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ উৎপাদন, সংগ্রহ, বিতরণ, রোপণ ও পরিচর্যা করা হবে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চারটি কেন্দ্রে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি), আলিম ও কারিগরি (বিএম) শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চারটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ২৩৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ১৯৫ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৪০ জন। কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে মোট ৩৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৭ জন উপস্থিত ছিল এবং ৫ জন অনুপস্থিত। গঙ্গাচড়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫৬ জন উপস্থিত এবং ২২ জন অনুপস্থিত ছিল। কারিগরি (বিএম) কেন্দ্রের ২২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত ছিল ২ জন। অপরদিকে হাজী দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী ছিল ১৯৪ জন। এর মধ্যে ১৮৩ জন উপস্থিত এবং ১১ জন অনুপস্থিত ছিল।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য ব্যক্তিদের প্রবেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আওতায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।
পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বলেন, প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও স্বস্তি বিরাজ করছে। আগামী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের আবাদ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঞা। প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, শ্রীপুর ইউসিসিএর সভাপতি এস. এম. মাহফুল হাসান হান্নান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আমনের আবাদ বাড়ানো এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই রাখতে কৃষিকে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, কৃষিকাজে যেকোনো সমস্যায় কৃষকদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে হবে। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের হাতে বীজ ও সারের প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ১নং ওয়ার্ডের গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথ পাড়া বেড়িবাঁধ অভিমুখী ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের স্থানে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম (হ্যাচারি) নামে একটি প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করেছে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১ জুলাই) এ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা এলজিডি প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বকর, গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচির’ আওতায় গত ১২ মে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উজানচর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথপাড়া বেড়িবাঁধ অভিমুখী ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭২ টাকা।
এ ছাড়া উজানচর হাবিল মণ্ডল পাড়া কালামের বাড়ি থেকে ফৈজদ্দিন মাতব্বর পাড়া সলিম মাতুব্বরের বাড়ি পর্যন্ত ০ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার খাল ২৭ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ উদ্বোধন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় উজানচর বেড়িবাঁধ প্রকল্পে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জানা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই খালের ওপর গড়ে ওঠা বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম মালিককে বারবার নোটিশ করার পরও তারা স্থাপনা স্থানান্তর না করার কারণে আজকের এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি প্রকল্প হচ্ছে খাল খনন। জনদুর্ভোগ কমাতে ও পরিবেশ রক্ষায় খাল উদ্ধার অভিযানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা দীর্ঘ ১৫ বছরের নিরলস গবেষণায় সফলভাবে একটি নতুন রঙিন মাংস উৎপাদনকারী মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন।
এই নতুন জাত উন্নয়নের মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা। তিনি জানান, ভোক্তার চাহিদা ও খামারিদের অর্থনৈতিক লাভের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে বিভিন্ন প্যারেন্ট লাইন সংরক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে এই নতুন লাইন উন্নয়ন করা হয়েছে।
গবেষণা প্রকল্পটি প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।
অধ্যাপক মোল্যা বলেন, ‘গবেষণায় সেক্স-লিংক হোয়াইট লাইনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর সমজাতীয়তা বা হোমোজাইগোসিটি ৮৯ থেকে ৯৩.১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা একটি স্থায়ী জাত হিসেবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মুরগির পালকের রঙ নির্ধারণকারী এসওএক্স-১০ জিনের ডিলিশন শনাক্তে একটি সহজ পিসিআর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজনন কর্মসূচিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘জাতটির কিছু প্যারেন্ট লাইন ৬২ সপ্তাহে প্রায় ২০৫টি পর্যন্ত ডিম উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত সোনালি মুরগির একদিন বয়সি বাচ্চার ওজন যেখানে সাধারণত ২৬-২৮ গ্রাম হয়, সেখানে নতুন উদ্ভাবিত সংকর লাইনে বাচ্চার ওজন পাওয়া গেছে প্রায় ৩৮ গ্রাম। একদিন বয়সি বাচ্চার ওজনে প্রতি এক গ্রাম বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব বাজারজাতকরণের সময় প্রায় ৫০ গ্রাম অতিরিক্ত চূড়ান্ত ওজনে প্রতিফলিত হয়, যা খামারিদের বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করবে।’
এই গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর। প্রথাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা দূর করতে গবেষণা দল সরাসরি গ্রামে গিয়ে ১৫-২৫ জনের ক্লাস্টারভিত্তিক নারী খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব খামারিকে বাচ্চার পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদের খামারে মুরগির বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা উন্নত হয়েছে এবং মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। বাজার চাহিদার কারণে অনেক খামারি নির্ধারিত ৫০ দিনের পরিবর্তে ১০-১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই মুরগি পালন করছেন এবং প্রতি কেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।
ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে ড. মোল্যা জানান, ঢাকার একটি উন্নত গবেষণাগারে এই মুরগির মাংস পরীক্ষা করে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি। বাজারে দেশি মুরগির নামে চালিয়ে ক্রেতা প্রতারণার কোনো সুযোগ থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, দেশি মুরগির নাম ভাঙানো নয়, বরং উন্নত স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও শতভাগ নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা দিয়ে এটিকে বাজারে একটি স্বতন্ত্র রঙিন মাংসের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
উদ্ভাবনটির মাঠপর্যায়ে প্রসারের ওপর জোর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শুধু ল্যাবরেটরিতে জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না, সেই প্রযুক্তি ও সুফল খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন। এর মাধ্যমে খামারিরা লাভবান হবেন এবং দেশের নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের বন্ধ থাকা বিক্রয় কেন্দ্রটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণায় উৎপাদিত দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রিজাত সব পণ্য সরাসরি এই বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিতে হবে।’
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণাটির চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে নতুন উদ্ভাবিত এই মুরগির মাংস দিয়ে প্রস্তুত খাবার পরিবেশন করা হয়।
এক সময় জেলার ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এখানে হাঁটাহাঁটি, ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি ও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই মাঠের একাংশজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ, সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের একপাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান। চা, ফাস্টফুড, পান-সিগারেটসহ নানা ধরনের ব্যবসা চলছে সেখানে। দোকানগুলোর কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে গেছে। যেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হতো, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দুটি ক্রিকেট মাঠের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
বিকেলে মাঠে অনুশীলনে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায় হতাশা। একটি মাত্র ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে ভিড় ও সময় সংকট। অনেকেই বাধ্য হয়ে অনুশীলন না করেই ফিরে যাচ্ছেন।
সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড় আব্দুস সালাম বাবলা বলেন, “এই মাঠ থেকেই জেলার অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে। এতে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার।”
ক্রিকেট খেলোয়াড় সোহাগ আলী বলেন, “আগে দুটি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেত। এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোনো টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে।”
আরেক খেলোয়াড় বলেন, বড় মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।
এ নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন, “অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
ইসলামি সভ্যতা বিকাশে মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক অঞ্চলেই বিভিন্ন সময়ে শাসকদের হাত ধরে প্রচারিত হয়েছে ইসলাম ধর্ম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে নান্দনিক মসজিদ। ইসলামি স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যময় মসজিদগুলোর মধ্যে বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ অন্যতম।
ইতিহাসবিদদের মতে, তিনশ’ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে মসজিদটি। বাংলার শাসক ঈশা খাঁর জমিদারী আমলে তার পরবর্তী অধস্তন পুরুষ যারা জমিদারি করেছেন, তাদের মধ্যে দেওয়ান আয়েশা খানম তিনি বেলাবতে খাজনা আদায় করতে আসতেন। তিনি এখানে জনসাধারণের পানি পান করার জন্য কুয়া নির্মাণ করেছিলেন। তিনিই এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ৩ শত বছর আগে ৭টি গম্বুজের সমন্বয়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে কালের বিবর্তনে ফিকে হয়ে যায় সেই সৌন্দর্য। এরপর পুননির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। স্মৃতি ও শ্রুতির মিশেলে কালের স্বাক্ষী হয়ে আজো ইসলাম ধর্মের জ্যোতি ছড়াচ্ছে এই মসজিদটি।
লোকমুখে শোনা যায় এ মসজিদের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শোনা যেত। এরপর থেকে এ মসজিদটি ফজিলতের মসজিদ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। উক্ত মসজিদে বেলাবো উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা কুলিয়াচর ও মনোহরদী হতে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ পড়তে আসে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জুমার নামাজে মুসল্লির সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যেত। মসজিদটিকে নান্দনিক নতুনরূপে সাজানোর পরিকল্পনা করেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃতী সন্তান আবদুল কাদির মোল্লা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মসজিদটি ২০০৬ সালে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে থার্মেক্স গ্রæপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার অর্থায়নে পুননির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে মসজিদের পুননির্মাণ কাজটি শেষ হয়।
বর্তমানে মসজিদটিতে মুসল্লিদের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ২শত জন হলেও জুমার দিন কিংবা রমজান মাসে তারাবি নামাজের সময় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ অর্থাৎ ২০ থেকে ২২ হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদটিতে ইসলামিক স্থাপত্যের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। বিশাল গম্বুজ, উঁচু মিনার, সুন্দর কারুকার্য এবং প্রশস্ত প্রাঙ্গণ মসজিদটিকে একটি অনন্য রূপ দান করেছে। সামনের অংশে পুকুর এবং দক্ষিণ পাশে এতিমখানা ও মাদরাসা মসজিদকে দিয়েছে পরিপূর্ণ।
সৌন্দর্য বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থাপনাই নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। এখানে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্ম প্রচার করা হয়। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড, যেমন- দরিদ্রদের সাহায্য, অসহায়দের পুনর্বাসন ইত্যাদি কার্যক্রম এই মসজিদ থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে।
মসজিদটির সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এই মসজিদ দেখতে আসেন। এ ছাড়াও, মসজিদটি উয়ারী বটেশ্বরের মতো ঐতিহাসিক স্থানের নিকটবর্তী হওয়ায় পর্যটকদের জন্য এটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর নির্মাণশৈলী প্রাচীন ইসলামিক স্থাপত্যের চার খিলান কাঠামো মেনে তৈরি, যা এই মসজিদের বিশাল গম্বুজকে টিকে থাকার ব্যাপারে সুরক্ষা দিয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলেন, ইসলামিক স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যময় মসজিদগুলোর মধ্যে বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম। এই মসজিদটি ফজিলতের মসজিদ হিসেবেও এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। মসজিদের উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন এবং আমরা ব্যক্তিগতভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হিজলি গ্রামে ছাঁদ বাগানে আনার ফলের আবাদ করে বাজিমাত করেছে প্রবাস ফেরত যুবক মনোজিৎ বিশ্বাস। ফলন ভালো পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে আনার বাগান শুরু করেছেন তিনি।
জানা যায়, বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে শখের বশে বাড়ির ছাদে আনার চাষ শুরু করেন মনোজিত বিশ্বাস। ধীরে ধীরে সেই শখই পরিণত হয়েছে সফল একটি ছাদ বাগানে। বর্তমানে তার বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ ১১টি জাতের মোট ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে।
ঘুরে দেখা যায়, লালচে-গোলাপি আনারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। কোথাও পাকা ফলের ভার। কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা আনার আর লাল ফুলের মেলবন্ধনে পুরো ছাদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। যেন প্রকৃতি নিজেই এঁকেছে রঙিন এক ক্যানভাস। এবার গাছগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে আনার শোভা পাচ্ছে। ফলে ছাদ বাগানটি এখন লাল-সবুজের অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসছেন।
মনোজিত বিশ্বাস জানান, বিদেশে থাকাকালীন আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখে দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে অল্প কয়েকটি গাছ দিয়ে বাগান শুরু করলেও ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের আনার সংগ্রহ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ ও সময়মতো সেচ দেওয়ার ফলে এবারও ভালো ফলন পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আনার চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মনোজিত বিশ্বাসকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ধরনের উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।
রাজবাড়ী সদর খাদ্য গুদামের সামনে একটি ময়লার ভাগাড় থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে পৌরসভার বিনোদপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদর খাদ্য গুদামের সামনের ময়লার ভাগাড় থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতরে থাকা নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এক টোকাই ময়লার ভাগাড়ে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি খুলে ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো একটি নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
টোকাই হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি প্রতিদিনের মতো সকালে এখানে বিভিন্ন জিনিস কুড়াতে আসি। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখে সেটি খুলতেই কাপড়ে মোড়ানো একটি বাচ্চার মরদেহ দেখতে পাই। প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। পরে স্থানীয়দের জানাই। তারা এসে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক শেখ বলেন, ঘটনাটি যে ঘটিয়েছে সে একজন নরপশু। এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা রাজবাড়ী ঘটলো, মানুষ এতো নিচে নামতে পারে !
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, “সকালে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে।” তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা যেন ঘটিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তোষক ও কসটেপে মোড়ানো অবস্থায় এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানাধীন জামতলা এলাকার প্যারিসবাগের সামনে প্রধান সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি মো. মোতালেব হোসেন (৬১)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত ছলেমান মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় সুমন গার্মেন্টসের পূর্ব পাশে অবস্থিত সাজেদা মঞ্জিলে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিট থেকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মোতালেব হোসেনকে হত্যা করে তার মরদেহ তোষক ও কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে জামতলা প্যারিসবাগের সামনে প্রধান সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মো. ওয়াসিম খাঁন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহে উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মাহাবুব আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাট ক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষের অভিযোগে আল আমিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ১১টি বড় গাঁজার গাছসহ গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত আল আমিন ওই গ্রামের মৃত বাদশাহ মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আল আমিনের পাট ক্ষেতে অভিযান চালিয়ে গাঁজার গাছগুলো উদ্ধার এবং তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তিনি আরও জানান, আমি বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করেছি।