শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
২০ চৈত্র ১৪৩২

গোসলখানায় বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ গেল ২ গৃহবধূর

জেলার মানচিত্র
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর, ২০২৩ ২১:৩৩

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে গোসলখানায় গোসল করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের টেপাটারি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের বাবলু মিয়ার স্ত্রী ফিরোজা বেগম (২৬) ও বাবলুর ছোট ভাই একাব্বর আলীর স্ত্রী নিলুফা বেগম (২৩)।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির গোসলখানায় গোসল করতে যান ফিরোজা বেগম। এ সময় তিনি গোসলখানার বেড়ার সঙ্গে লেগে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুতায়িত হয়ে চিৎকার দেন। চিৎকার শুনে গৃহবধূ নিলুফা বেগম এগিয়ে আসলে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই গৃহবধূর মৃত্যুর খবরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তাদের পরিবারের লোকজন ঢাকায় থাকেন। তারা ঢাকা থেকে আসলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।


গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের শেষ কোথায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ গারো পাহাড়ে বিচরণ রয়েছে বন্যহাতির। একই সাথে গারো পাহাড়ের ঢালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের বসবাস। দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে গারো পাহাড়ে পাশাপাশি হাতি ও মানুষের বসবাস। হাতির আক্রমণে মানুষের মৃত্যু, আবার হাতি হত্যাও এই অঞ্চলের মানুষের নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এবং নেত্রকোনা ও জামালপুর পাহাড়ি এলাকায় হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকলেও নেই স্থায়ী সমাধান।

সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ২৫-৩০টির একটি হাতির পাল গারো পাহাড়ে প্রবেশ করে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া আর বিএসএফের বাধায় হাতিগুলো আর ফিরে যেতে পারেনি। সবশেষ গত দুই বছরে আরো অর্ধশতাধিক হাতি শাবকের জন্ম হয়ে গারো পাহাড়ে বর্তমানে হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই শতাধিক।

একসময় পাহাড়ে যথেষ্ট খাদ্য থাকলেও বর্তমানে খাবার সংকটে পড়েছে বন্যহাতির দল। প্রতিনিয়তই মানুষের পাহাড় দখলের কারণে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ে খাবার না পেয়ে লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যহাতির দল। নিজেদের খাদ্য সংগ্রহে নষ্ট করছে মানুষের ফসল, গাছপালা, বসতবাড়ি। হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা পড়ছে মানুষ। ফসল রক্ষায় মানুষের দেওয়া বৈদ্যুতিক তারে জরিয়ে মৃত্যু হচ্ছে হাতিরও।

১৯৯৬ সালে প্রথম শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকাজুড়ে থাকা ৫০ গ্রামে শুরু হয় বন্যহাতির তাণ্ডব। এসব পাহাড়ি গ্রামে গারো, হাজং, কোচ, বানাই বর্মন, হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতিগোত্র মিলে লক্ষাধিক লোকের বসবাস। এরা সিংহভাগ শ্রমজীবী ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এসব অঞ্চলে ক্রমেই হাতির আক্রমণ বেড়ে চলছে। আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটছে এসব এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় দেড় শতাধিক হাতির পাল দিনে গভীর অরণ্যে থাকে। সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে নেমে আসে লোকালয় ও ফসলি জমিতে। কৃষকরা ক্ষেতের ফসল ও জানমাল রক্ষার্থে রাত জেগে পাহারা দিয়েও রক্ষা করতে পারেন না সোনার ফসল। ঢাকঢোল পিটিয়ে, পটকা ফুটিয়ে, মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু যতই হাতি তাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে ততই হাতির পাল পালাক্রমে তাণ্ডব চালাচ্ছে ঘরবাড়িতে।

পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের বাসিন্দা উকিল উদ্দিন, এরশাদ আলম ও বাদশা মিয়াসহ স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে ভীষণ ঝামেলা পোহাতে হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের বেশির ভাগ জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত। যা শত্রু সম্পত্তি ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত জমি রেকর্ডীয় না হলে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয় না।

শেরপুর জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগ জানায়, ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ৪২ জন মানুষ মারা গেছে। আহত হয়েছে কয়েকশ মানুষ। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে ৩৩টি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, হাতি মানুষের দ্বন্দ্বে জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে তারা। ১০ জন করে সদস্য নিয়ে ২৫টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করেছে বন বিভাগ। হাতির আক্রমণে কেউ নিহত হলে ৩ লাখ, আহত হলে ১ লাখ ও ফসল নষ্ট হলে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, ‘হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। হাতির খাদ্যের সংকট না হয় এবং লোকালয়ে যেন না আসে সে জন্য বিপুল পরিমাণে কলাগাছসহ বিভিন্ন গাছ পাহাড়ে রোপণ করা হচ্ছে।

হাতি তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণী। একটি হাতি দিনে ১৫০ কেজি ঘাস এবং ১৯০ লিটার পানি পান করে। এ কারণে খাদ্য ও পানীয়ের জন্য বড় একটা এলাকা হাতিকে ঘুরে বেড়াতে হয়। হাতিকে রক্ষা করতে না পারলে একটা সময় এই ধীর প্রজননের প্রাণীটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খানের ভাষ্যমতে, হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত দিন দিন বাড়ছে, কারণ মানুষ আবাসস্থল দখল করে নিচ্ছে। হাতি রক্ষায় প্রথমে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থলগুলো সুরক্ষিত করতে হবে। যেসব জায়গায় হাতি চলাচল করে সেসব জায়গায় মানুষের বসতি কমিয়ে মসলা জাতীয় ফসলের চাষ করতে হবে।


বরগুনায় হামের প্রকোপ বেড়েছে, আক্রান্ত ২৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনা জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ৯৮ জনের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জেলা সদরসহ আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি করে এবং বেতাগীতে ১টি করে আলাদা শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় বর্তমানে ৩০টির বেশি শয্যা প্রস্তুত থাকলেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা যায়, বরগুনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে হাম সন্দেহে নতুন করে ৩ জন বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। সংক্রমণের মাত্রা নির্ধারণে ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, গত এক মাস ধরে জেলায় এই প্রকোপ চলছে এবং প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ২০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। গুরুতর রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, খাবারে অনীহা এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। অনেক ক্ষেত্রে মুখে ক্ষতও দেখা দিচ্ছে।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শিশুদের নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


ফেনীর সাদিয়া মার্কিন আকাশের দায়িত্বে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি  

ফেনী পৌরসভার রামপুর আহম্মেদ আলী পাটোয়ারী বাড়ির কৃতি সন্তান সাদিয়া আফরোজ তুরাগ প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান নারী হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান নারী, যিনি লাল সবুজের পতাকাকে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন।

সাদিয়া আফরোজ তুরাগ ফেনী শহরের রামপুর আহম্মেদ আলী পাটোয়ারী বাড়ির সমাজসেবক ও আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত হারুন উর রশিদ ও তাবেন্দা হারুনের মেয়ে।

মেয়ের এমন সাফল্যে গর্বিত বাবার আবেগময় ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু দেওয়া হলো:

আজ আমাদের জীবনের এক অত্যন্ত গর্বের দিন। আলহামদুলিল্লাহ।

আমাদের মেয়ে সাদিয়া আফরোজ তুরাগ যুক্তরাষ্ট্রের FAA (Federal Aviation Administration) এর Air Traffic Controller হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের জানা মতে, তুরাগ ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়ে যে এই সম্মানজনক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেল।

শুধু তাই নয়, তুরাগ তার পড়াশোনায় গোল্ড মেডেল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। সেই দিন থেকেই আমরা বাবা-মা হিসেবে তার জন্য অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি, এই স্বপ্ন শুধু আমাদের নয়, তার নিজের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির ফল।

এই জায়গায় পৌঁছানোর জন্য তুরাগ অনেক পরিশ্রম করেছে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। একজন বাবা ও মা হিসেবে আমরা তার জন্য খুবই গর্বিত এবং কৃতজ্ঞ।

সবার কাছে আমাদের মেয়ের জন্য দোয়া চাই, যেন সে সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বের সাথে তার কাজ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।


কুমিল্লায় হাসপাতালে একসাথে তিন সন্তান প্রসব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কুমিল্লার সিডি প্যাথ হাসপাতালে একসাথে তিন সুস্থ নবজাতকের সফল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ও তিন নবজাতকই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এটি ছিল একটি জটিল ও সংবেদনশীল ডেলিভারি, যা অত্যন্ত দক্ষতা, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। সফল এই ডেলিভারিটি সম্পন্ন করেন হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহানারা সুলতানা মজুমদার (লুনা) এবং তার সহযোগী দক্ষ নার্সিং টিম।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মা ও নবজাতকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট টিম অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং নার্সিং টিমের সেবায় মা ও নবজাতকরা সুস্থভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করেছেন।

এমন একটি আনন্দঘন মুহূর্তের অংশ হতে পেরে সিডি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ গর্ব প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মা ও তিন নবজাতকের সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।


সামাজিক ব্যাধি রোধে সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই: কায়সার কামাল

নেত্রকোনায় সরকারি সফরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সামাজিক ব্যাধি রোধে সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জনতা কালচারাল একাডেমির বার্ষিক পরীক্ষা সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি আরও বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিচর্চায় সম্পৃক্ত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে মাদকসহ নানা সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকবে। আর এ জন্য শিশুদের মধ্যে মানবিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা গড়ে তুলতে হবে। এটা পারলেই তারা কিশোর বয়সেই সঠিক পথে চলতে শিখবে এবং একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা কেবল ভূখণ্ড বা পতাকার জন্য নয়; বরং অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণে এখনো অনেক পথ অতিক্রম করা বাকি রয়েছে।

কলমাকান্দার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ উপজেলাকে অবহেলিত অবস্থা থেকে বের করে একটি মডেল এলাকায় রূপ দিতে হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দল, মত বা ধর্ম নয়—মানুষের মেধা ও মননই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম এবং জনতা কালচারাল একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আফরোজা বেগম শিমু।

অনুষ্ঠান ছাড়াও ডেপুটি স্পিকার সরকারি সফরে নিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।


দেশে তেল আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, তেলের আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল শহরের মাহমুদুল হাসান চাঁদ বাজার পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আগাম তিন মাসের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাজার বন্ধ রাখা এবং মন্ত্রী ও সচিবদের ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৭ বছরে শুধু উন্নয়নের বুলি শোনা গেছে, তবে বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।”

মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সেই বাস্তব চিত্র এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে সড়ক ও বাজার উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা।


হাজারীবাগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, মুখে ‘বিষাক্ত দ্রব্য’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, তার মুখে বিষাক্ত কোনো পদার্থের গন্ধ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাইদুল আমিন ওরফে সীমান্ত (২৫)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় মেসে বসবাস করতেন তিনি।

সীমান্তের চাচা রুহুল আমিন জানান, হাজারীবাগের একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন সীমান্ত। তার রুমমেট জানান, রাত ৯টার পর সীমান্ত তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাসার মালিক দরজা ভেঙে সীমান্তকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, "সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে ধারণা করছি ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন এই কাজটি করেছে তা কিছুই বলতে পারবো না।"

নিহতের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।


ছাদে পানির ট্যাংকে ৮০০ লিটার ডিজেল মজুত, জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকে অবৈধভাবে ডিজেল সংরক্ষণ করার দায়ে বশির আহমেদ ওরফে বশির সেরাং (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ভুইয়ারহাট এলাকায় তার নিজ বাড়িতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সুবর্ণচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আকিব ওসমান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন উপস্থিত ছিলেন।

তল্লাশির সময় বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে অবৈধভাবে মজুত রাখা প্রায় ৮০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বশির সেরাংকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে তেল জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত বশির সেরাং দাবি করেন, তার একটি মাছ ধরার নৌকা রয়েছে। নৌকা চালানোর জন্যই তিনি এই তেল সংগ্রহ করে বাড়িতে রেখেছিলেন। চুরির আশঙ্কায় নৌকায় না রেখে বাড়িতে সংরক্ষণ করা হয় বলে জানান তিনি।

পরে জব্দ করা ডিজেল চর হাসান ভুইয়ারহাট বাজারে লাইসেন্সপ্রাপ্ত তেল ব্যবসায়ীদের কাছে ডিপো মূল্যে তাৎক্ষণিক নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

ইউএনও আকিব ওসমান বলেন, "অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও সংরক্ষণের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।"


কুড়িল-রামপুরা যানজট কমাতে হচ্ছে নতুন বাইপাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কের অসহনীয় যানজট কমাতে একটি নতুন বাইপাস সড়ক সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর ১০০ ফিট সড়ক থেকে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হয়ে সানভ্যালী আবাসিক প্রকল্পের ভেতর দিয়ে আফতাবনগর হয়ে রামপুরা পর্যন্ত ডাবল লেনের একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রস্তাবিত এই সড়কপথটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার।

প্রকল্পটির ব্যয় কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়নে তিন পক্ষ মিলে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, অতিরিক্ত অর্থ খরচ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা হবে। প্রকল্পটিকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশের কাজ করবে রাজউক। দ্বিতীয় অংশের দায়িত্বে থাকবে উত্তর সিটি করপোরেশন এবং বাকি অংশের কাজ শেষ করবে সানভ্যালী হাউসিং সোসাইটি।

পরিদর্শন শেষে রাজউক চেয়ারম্যান জানান, বাইপাস সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করতে প্রাথমিকভাবে একটি ব্রিজ এবং ডাবল লেনের সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রুটটি সচল হলে কুড়িল থেকে রামপুরা এবং বনশ্রী এলাকার ট্রাফিক চাপের বড়ো একটি অংশ এই বাইপাস দিয়ে চলে যাবে।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক বলেন. প্রধানমন্ত্রীর সব অঙ্গীকারকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে চাই। তাই যানজট নিরসনে আফতাবনগর বাইপাস সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থ যেন অযথা ব্যয় না হয়, তাই সমন্বয় করে কাজটি করা হবে। প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও নেওয়া হবো।

সড়কটি নির্মিত হলে বাড্ডার মূল সড়কের ওপর গাড়ির চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে মনে করেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার। পরিদর্শনকালে তিনি এই রুটের যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি দিক ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বিকল্প সংযোগ সড়কটি চালু হলে পূর্ব ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং বিশেষ করে অফিসগামী মানুষের দীর্ঘ সময়ের যানজট ভোগান্তি লাঘব হবে।


যশোরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য খাল পুনখননের দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) প্রিতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল, যা একসময় এ অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, আজ দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা পরবর্তীতে একটি সফল গণউদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পায়। ভিত্তি পোস্তরে এখনো লেখা আছে "আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার " মেজর জিয়াউর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালটি খননের আগে উত্তর শার্শার পাচটি বড় বিলের পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হতো না। ফলে প্রায় ২২ হাজার একর জমি বছরের বেশিরভাগ সময় পানির নিচে ডুবে থাকত এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। খালটি চালু হওয়ার পর বিলগুলোর পানি সহজে বেতনা নদীতে নেমে যেতে শুরু করে। এতে করে জমি আবাদযোগ্য হয়ে ওঠে এবং কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি খালের পানি ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থাও উন্নত হয়, যা এ অঞ্চলে বোরো ধানের চাষ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সময়ের ব্যবধানে খালটি এখন তার সেই গৌরব হারিয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালের বিভিন্ন অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে না বললেই চলে, আর বর্ষাকালেও পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে কৃষকরা আবারও আগের মতো সমস্যার মুখে পড়ছেন। খালের পাড়ে স্থাপিত ঐতিহাসিক ফলক ও ভবনগুলোর অবস্থাও একইভাবে জরাজীর্ণ। ফলকের লেখা মলিন হয়ে গেছে, আর খালের পাশে থাকা পুরনো ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময় যেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম ও কৃষকদের সমাবেশ হতো, সেখানে এখন আগাছা আর নীরবতা।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, খাল খননের সময় মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ ছিল, তা আজও তাদের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। তাদের মতে, এই খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম ছিল না, এটি ছিল এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি প্রতীক। ১১৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল বারেক মন্ডল জানান, আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমাদের এলাকায় কৃষি জমি থাকলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে চাষাবাদ ঠিকমতো হত না। ফসল ঠিকমত না হওয়াযর কারণে প্রতিটা পরিবারের মধ্যে অভাব অনটন লেগেই থাকতো।

১৯৭৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের এলাকায় আসেন। আমাদের এখানকার মানুষের সাথে আলোচনা করেন কিভাবে ফসল ফলানো যায় এবং খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনা যায়। আলোচনা একপর্যায়ে উঠে আসে খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে আমাদের এখানে ভালো ফসল ফলবে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসবে। সে অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে উলাশি যদুনাথপুর থেকে খাল খননের কাজ শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তখন কোদাল দিয়ে নিজে মাটিতে কোপ দিয়ে খান খননের কাজ উদ্বোধন করেন। এই খাল খনন কাজ হয় স্বেচ্ছাস্রমের মাধ্যমে । সে সময় কোন পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি । আমাদেরকে রুটি আর গুড় খেতে দিত । আমরা বিনা পারিশ্রমিকেই খাল-কাননের কাজ শুরু করি। এই খাল ৪ কিলোমিটার লম্বা। এই খাল মিশেছে শার্শার বেতনা নদীতে।

খাল খলনের পর পানি নিষ্কাশরের সুব্যবস্থা হওয়ায় আমাদের এখানে ফসলাদি ভালো হতে লাগলো এবং আমাদের এলাকার খাদ্য অভাব দূর হয়ে যায় । আমাদের এলাকায় এই খাল 'জিয়া 'খাল নামে পরিচিত। সে সময় জিয়াউর রহমান খাল খনন উদ্বোধন করার পর আমার ভাইয়ের মাথার একটি টোকাও নিয়ে যান। আজ সেই খাল শুকিয়ে গেছে। এই খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না হওয়ায় এখন প্রতিবছর আমাদের বর্ষা মৌসুমে ফসল ডুবে যায়। এজন্য পুনরায়খালটি কাটানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। বর্ষা মৌসুমী পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা হলে ফসলাদই ভালো হবে।

উলাশী গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষের উপকারের জন্য তৎকালীন সরকার প্রধান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন করলে ও সেই খাল এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। এই খাল দিয়ে এখন আর পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। গ্রামের মানুষ তাদের ঘরবাড়ির ময়লা আবর্জনা ও বাজারের সকল ময়লা আবর্জনা এই খালেই এখন ফেলছে। ময়লা আবর্জনা খালে ফেলার কারণে খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরে এই খাল কোন সরকার আর সংস্কার করেনি।

যেহেতু আবারও খাল খননের কাজ শুরু করেছেন জিয়াউর রহমানের ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য আমাদের দাবি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন প্রথম খাল খননের কাজ এখান থেকেই শুরু করেন তাই আমরাও চাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যেন এখান থেকেই খাল খননের কাজ শুরু করবেন। শার্শা উপজেলা একটি কৃষি প্রধান এলাকা। এই এলাকায় জিয়ার খালটি পুনরায় খনন করলে আমরা আবারও কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারব।

শার্শা উপজেলা যুবদল নেতা এমদাদুর রহমান ইমদা জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান আমাদের দেশের এখন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবার পথেই হাঁটতে শুরু করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে খাল খননের কাজ উদ্বোধন করেছেন। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের এই উপজেলার উলাশী জিয়া খাল পুনরায় খননের কাজ শুরু করবেন।


আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা, সমন জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সমন জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভূঁইয়া এই সমন জারি করেন। সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার ওরফে রফিক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হুমায়ুন কবির কর্নেল। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার বলেন, ‘জ্বালানিমন্ত্রীকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলায় সকালে হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন। আমি এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী।’

উল্লেখ্য, একই অভিযোগে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গত ৩০ মার্চ সিরাজগঞ্জের আদালতে ১০০ কোটি টাকার মানহানির আরেকটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার বাদী জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নাজমুল ইসলাম।


পাবনায় পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ আন্তঃজেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা জেলা পুলিশের আয়োজনে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ‘রাজশাহী রেঞ্জ আন্তঃজেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে বেলুন উড়িয়ে এই টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার জাহিদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এই টুর্নামেন্ট জেলা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ দল বনাম সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ দল। দুই দলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মশিউর রহমান মন্ডল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল ইসলাম। এছাড়াও পাবনা পুলিশ লাইন্সের আরআইসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারী দলসমূহের খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজশাহী রেঞ্জের বিভিন্ন জেলা পুলিশ দলের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্ট কয়েক দিনব্যাপী চলবে। প্রতিযোগিতামূলক এই আয়োজনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে দলগুলো তাদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।


শিক্ষক রুনা হত্যার বিচার দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিহতের স্বজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের মজমপুর গেটে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হয়ে হয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। শুধু ফজলুকে (প্রধান আসামি) গ্রেফতার দেখিয়ে অন্য আসামিদের পার করে দিচ্ছে প্রশাসন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও সহযোগিতা করছেন না। খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’

পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে দাবিদাওয়া পেশ করেন পুলিশ সুপারকে। পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে এলাকা ত্যাগ করেন তারা।

নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার বড় মেয়ে তাইবা বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নিহতের স্বামী বলেন, ‘আমরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি, উনারা আশ্বস্ত করছেন। কিন্তু আমাদের মনে হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অসহযোগিতা করছেন। দ্রুত বিচার না পেলে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামির ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত জিজ্ঞেসাবাদ শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে। অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারেও তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা তার নিজ অফিস কক্ষে খুন হন। এসময় ওই কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনহাজিরার কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দু’জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলু রহমানের চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি তিন আসামি সমাজ কল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এখনো অধরা রয়েছে।


banner close