ফেনীর সোনাগাজী ও চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সীমান্তবর্তী কলমি চর এলাকায় ফেনী নদীতে বালু তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মীরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকনসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মীরসরাই উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পৌরমেয়র রেজাউল করিম খোকন ছাড়াও এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা অশোক সেন ও শহীদুল ইসলাম দুখু।
আহতদের মধ্যে দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এবং অন্যজনকে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে শহীদুল ইসলাম দুখু ছাড়া বাকি দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চমেক হাসপাতালে কর্মরত জেলা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার হাসপাতালে মেয়রসহ দুজনের ভর্তি হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ফেনীর ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গ্রুপের সদস্যদের গুলিতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ফাজিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক রিপন সে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মুজিবুল হক রিপন বলেন, ‘আমি এখানের বৈধ ইজারাদার। আমার গ্রুপের কেউ মেয়রের ওপর হামলা কিংবা গুলির ঘটনায় জড়িত নয়। বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র গুলি করতে করতে ফেনী সীমান্তে ঢুকে পড়লে স্থানীয়রা বাধা দেয়। আর তখনই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
মীরসরাইয়ের ওসমানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল হক জানান, বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে মেয়র ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর গুলি চালায় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে।
মেয়র রেজাউল হক খোকনের সমর্থক আবদুর রহিম জানান, বালু তোলা পরিদর্শনে গেলে তারা অতর্কিত হামলার শিকার হন। প্রতিপক্ষের অতর্কিত গুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, যে পক্ষই বালু তোলে, ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা। নদীর দুই পাড়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে এলাকায় ঢুকে গেছে। তারা বালু বিক্রি করে টাকা পায়। আর আমরা পানিতে ভাসি।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন বলেন, ‘মুহুরী প্রকল্পে মেয়র ও তার দুই সহযোগীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হন। মেয়রের অবস্থা গুরুতর।’
আর সোনাগাজী মডেল থানার ওসি খালেদ হোসেন জানান, মেয়র খোকন ও রিপন চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। তবে চারটি বোট (নৌকা) জব্দ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে নতুন আইন পাসের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী শক্তির ভূমিকা একটি প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় পৌর শ্রমিক দল আয়োজিত মহান মে দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি পাস হওয়া ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন আইন- ২০২৬’ এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানেই জামায়াতের তৎকালীন অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, বিলটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রতিবাদ না করায় তাদের সেই সময়কার ভূমিকা তারা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের নৈতিক অবস্থানের ওপর প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, “তাদের পূর্বসূরীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করেনি- সেইটা বলার আর কোনো নৈতিক দায়িত্ব জামায়াতের নেই। কেন নেই? এই সংসদে আমরা একটা আইন পাস করেছি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন আইন- ২০২৬। সেই আইনের মধ্যে একটা সংজ্ঞা আছে। ধারা ২ এর উপধারা ১০ এ বলা আছে। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নিজামী ইসলামী পার্টির বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলো তারাই মুক্তিযোদ্ধা।”
মন্ত্রী আরও জানান, এই আইনটি পাসের সময় এনসিপি লিখিতভাবে সরকারের পক্ষ অবলম্বন করেছিল এবং জামায়াতের নীরবতা মূলত সম্মতিরই বহিঃপ্রকাশ। এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি গত পরশুদিন সংসদে বলেছি। গতকাল আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- এরপর আর এই সাবজেক্টে আর কথা হবে না। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি- এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়েছে পার্লামেন্টে এই বিল পাশের মধ্য দিয়ে।”
শৈলকূপা পৌর শ্রমিক দলের এই সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান তুর্কি প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের গুরুতর জখম করার পাশাপাশি একটি সরকারি শটগান ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তবে পরবর্তীকালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বন্দর থানার অন্তর্গত পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকার হাবিবনগরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল ফয়সালের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকজনের ছিনতাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সিফাত ওরফে টুটুল, শাহারিয়া তানভীর ও আবু সুফিয়ান ওরফে চমক নামের তিন ব্যক্তি নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ জানালে থানা থেকে বিষয়টি এএসআই সোহেল রানাকে তদন্ত করতে বলা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোহেল রানা সঙ্গীয় ফোর্সসহ হাবিব নগর রোডের গুলু মিয়ার বাড়িতে প্রাথমিক তদন্তে গেলে ওত পেতে থাকা ১৪-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কনস্টেবল ফয়সালের পেট ও হাতের আঙুলে কুপিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত করে এবং সরকারি শটগানটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় এএসআই সোহেল রানার পায়েও কোপ দেয় দুর্বৃত্তরা।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর রাতভর সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ভোরবেলা শটগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’ বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
ইতালিতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বড় ভাই। শুধু তাই নয়, হত্যার পর ভিডিও কলে দেশে থাকা স্বজনদের ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহও দেখিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ইতালির স্থানীয় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। নিহত ও অভিযুক্ত উভয়ই মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির উত্তেজিত হয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়ন ফকিরের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভিডিও কলে তিনি নিহত ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ স্বজনদের দেখান এবং নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
এ দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ইতালির স্থানীয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেফতার করে।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ইতালির একটি মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহটি দেশে পাঠানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল হক ডাবলু বলেন, “ঘটনাটি ইতালিতে ঘটেছে। প্রবাসী নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি ওয়ান শুটারগান এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে র্যাব-১১। শুক্রবার সকালে সংস্থাটির কম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার নাঈম উল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম দিকের পিলারের খাদ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছয়টি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ওয়ান শুটারগান ও একটি শর্টগানের গুলির পাশাপাশি অস্ত্র নির্মাণের বিপুল উপকরণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
র্যাবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে বালুরগদি সংলগ্ন পিলারের নিচে একটি সন্দেহভাজন প্লাস্টিকের ব্যাগ পড়ে থাকার গোপন খবর পায় আভিযানিক দল। তাৎক্ষণিকভাবে র্যাবের টহল দল সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যাগটি উদ্ধার করে এবং তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করে। পরবর্তীতে এসব আলামত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লা মহানগরীর আওয়ার লেডি অব ফাতেমা গার্লস হাই স্কুলের সামনে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ইমরান হোসেন রুবেল (২৮) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন অভিভাবকরা। পরবর্তীতে তাকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের পাঠদান শেষে ছুটির সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আটক রুবেল জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জয়মঙ্গলপুর এলাকার আব্দুল হান্নানের পুত্র এবং পেশায় তিনি একজন ট্রাকের হেলপার বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা যখন প্রধান ফটক দিয়ে বের হচ্ছিল, তখন রুবেল এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। বিষয়টি উপস্থিত অভিভাবকদের নজরে এলে তারা তাকে ধরে ফেলেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা রুবেলকে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। ঘটনার ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, “আটককৃত যুবক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বখাটেদের উৎপাত রোধে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে।”
দীর্ঘ ৬০ দিনের বিরতি কাটিয়ে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন মৎস্য অভয়াশ্রমে পুনরায় মৎস্য আহরণ শুরু হয়েছে। জাটকা সংরক্ষণের কঠোর নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে জেলেরা বুকভরা আশা নিয়ে জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে নামলেও শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বৈরী আবহাওয়ার কারণে। প্রবল বৃষ্টি আর উত্তাল নদীর মাঝে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না মেলায় জেলেদের মনে হতাশা বিরাজ করছে।
গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দুই মাসের এই নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। সরকারি এই বিধি-নিষেধের সময়সীমা পার হওয়ার পরপরই নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে চাঁদপুরের উত্তর প্রান্তের ষাটনল থেকে দক্ষিণের চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত নদীসীমায় নেমে পড়েন কয়েক হাজার মৎস্যজীবী।
তবে শুক্রবার সকাল থেকেই চাঁদপুর অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৃষ্টির তোড়ে নদী উত্তাল থাকলেও জালে ধরা পড়ছে না রূপালি ইলিশ। দীর্ঘ দুই মাস কর্মহীন থাকার পর জেলেরা হাসিমুখে জীবনসংগ্রামে ফিরলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
মৎস্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাটকা রক্ষা কর্মসূচির সুফল হিসেবে মাছ বড় হলেও এখনই নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। মূলত বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলেই নদীতে বড় ইলিশের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ইলিশের আকাল থাকলেও অন্যান্য প্রজাতির কিছু মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। জেলেরা এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছেন যখন নদী শান্ত হবে এবং রূপালি ইলিশে ভরে উঠবে তাদের শূন্য নৌকা।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী— পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো এবং বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক দিন দেশের সব বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশুকে হামে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ভ্যাক্সিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই, শুক্রবার (১ মে) দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছর হাম প্রতিরোধে শিশুদের কোনো ভ্যাক্সিনেশন হয় নাই। আমরা জরুরিভিত্তিতে তা শুরু করি। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আমেরিকা যৌথভাবে যদি হেল্প না করত, তাহলে দেশের এই মানচিত্র আজকে অন্যরকম হতে পারত। আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতো।
তিনি আরও বলেন, আগামী মাসের পাঁচ তারিখে সারাদেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল। আমি সেটা ১৪ দিন এগিয়ে এনেছি। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। আমরা ২০ এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।
বর্তমানে টিকাদানের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ আমরা কাভার করে নিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। এরইমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ হয়ে গেছে। হামের টিকা কার্যক্রম শুরু করা প্রথম ৩০টি উপজেলায় এখন একটাও হামের রোগী নেই।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৮৭ জন কন্যা ও ১৩৩ জন নারীসহ মোট ২২০ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন কন্যা ও ২৬ জন নারীসহ মোট ৫৮ জন। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ জন কন্যাসহ ১৭ জন। আর ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ৩ জন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ জন কন্যাসহ ১২ জন ধর্ষণ-চেষ্টার শিকার হয়েছেন। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৬ জন কন্যাসহ ১৬ জন। এর মধ্যে ৩ জন কন্যাসহ ৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, ১ জন্য কন্যাসহ ৩ জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন এবং সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২ জন কন্যাসহ ৫ জন।
এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে ১৬ জন কন্যা ও ৪১ জন নারীসহ মোট ৫৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। ৪ জন কন্যা ও ১৫ জন নারীসহ ১৯ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ ঘটনার শিকার হয়েছেন ২ জন। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪ জন, এর মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যার শিকার হয়েছেন ২ জন।
পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ জন। ১ জন কন্যাসহ ২ জন গৃহকর্মী নির্যাতন এবং ১ জন কন্যাসহ ২ জন গৃহকর্মী হত্যার ঘটনার শিকার হয়েছেন। ৪ জন কন্যাসহ ১৩ জন আত্মহত্যার শিকার হয়েছেন, এর মধ্যে আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার হয়েছেন ২ জন কন্যা। ৫ জন কন্যাসহ ৬ জন অপহরণের চেষ্টার ঘটনার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া অপহরণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৩ জন কন্যা। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৪ জন। এ ছাড়া ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী হিম্মতপুর এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ১৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর একটি টহলদল গতকাল রাতে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী হিম্মতপুর নামক স্থানে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় একটি যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক সিজারমূল্য ১,১৪,৪০,০০০/- (এক কোটি চৌদ্দ লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা।
জব্দকৃত এসব মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট জমা প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ফরিদপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর রেললাইনের পাশে একটি কলাবাগান থেকে আইরিন আক্তার কবিতা নামের সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা এলাকার রেললাইনের পাশে একটি কলাবাগান থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
আইরিন আক্তার উপজেলা সদরের গেরদা ইউনিয়নের বুকাইল আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও রিকশাচালক বাকা মিয়ার মেয়ে। সে বুকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২৪ এপ্রিল রাত আটটার দিকে আইরিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিল। এরপর তার স্বজনরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে এবং আইরিনের বাবা বাকা মিয়া কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল সকালে গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে দুর্গন্ধ পায় স্থানীয়রা। পরে রেললাইনের পাশে একটি কলাবাগানে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
শিশুর মরদেহটি উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহে পচন ধরেছে। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
কুমিল্লা নগরীর আওয়ার লেডি অব ফাতেমা স্কুলের সামনে এক শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে ইমরান হোসেন রুবেল (২৮) নামের এক বখাটেকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে স্কুল ছুটির পর এ ঘটনা ঘটে। আটক রুবেল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জয়মঙ্গলপুর এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকের হেলপার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার সময় রুবেল এক ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়। এ সময় উপস্থিত অভিভাবকরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসে। অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজারের চা-শিল্প এখন চরম সংকটের মুখে। টানা পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার চা উৎপাদন ব্যবস্থা। বিশেষ করে সরকারি পাঁচটিসহ বিভিন্ন চা-বাগানের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কাঁচা চা পাতা পচে নষ্ট হওয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানাগুলোর চাকা ঘোরেনি গত পাঁচ দিন ধরে। বাগানগুলোতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ কেজি কাঁচা চা পাতা মজুদ রয়েছে, যা থেকে অন্তত ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় এই বিপুল পরিমাণ পাতা পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে যেমন চা শিল্প বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় কেবল সরকারি বাগানগুলোই নয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানগুলোর অবস্থাও একই। কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় হাজার হাজার চা শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা তাদের জীবনযাত্রায় গভীর সংকট তৈরি করেছে।
পাত্রখলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ খাঁন বলেন, ‘এপ্রিলের শুরু থেকেই লোডশেডিং ছিল, তবে ২৬ এপ্রিল থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন দিনে মাত্র ১-২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাবে কারখানার চাকা স্থবির হয়ে আছে। আমার বাগানেই প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা মাচায় পড়ে নষ্ট হওয়ার পথে।’
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চা শ্রমিকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, দিনমজুরের ওপর তাদের সংসার চলে। পাঁচ দিন ধরে কাজ না থাকায় ঘরে খাবার জোগানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের মাধবপুর ইউনিটের ইনচার্জ মো. রহমতউল্লা বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, পুরো উপজেলাতেই বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঝড়ে গাছপালা পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং শ্রমিকদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।