শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৫ মাঘ ১৪৩২

সিলেটে টিলাধসে প্রাণ গেল শিশুর

ভারী বৃষ্টির কারণে টিলার মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ছবি: দৈনিক বাংলা
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৩ ২০:৩৭

সিলটে সদর উপজেলার খাদিম চা বাগান এলাকায় টিলাধসে এক শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলাধসে তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। শনিবার ভোরের দিকে এসব টিলা ধসের ঘটনা ঘটে। ভারী বৃষ্টির কারণে টিলার মাটি নরম হয়ে ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার ভোরে খাদিম চা-বাগান বস্তি লাগোয়া টিলা ধসে অর্চনা ছত্রী (১১) নামের এক শিশু মারা যায়। সে ওই বাগানের বুলবুল ছত্রীর মেয়ে।

খা‌দিমনগর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আতাউর রহমান শামীম জানান, অর্চনাদের ঘরটি ছিল একটি টিলার পাদদেশে। ভারী বৃষ্টিতে ভোরে টিলা ধসে অর্চনাদের ঘরের ওপর পড়ে। এতে শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সকালে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নগরের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন সিপন বলেন, ‘এক শিশু মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে স্থানটি দুর্গম হওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।’

এদিকে গতকাল শনিবার ভোরে জৈন্তাপুর উপজেলার ৬ নম্বর চিকনাগুল ইউনিয়নে ২টি টিলা ধসে তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো আব্দুল ওয়াদুদ জানান, তার বাড়ির কাছে ভোরে একটি টিলা ধসে পড়ে। এরপর কিছু দূরের আরেকটি টিলা একই সঙ্গে তিনটি বাড়ির উপরে ধসে পড়ে। তবে ধসের আগে এসব ঘরের বাসিন্দারা দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ায় রক্ষা পান তারা। টিলা ধসে স্থানীয় লেদই পাত্র, সুদেন পাত্র ও রণ পাত্রের বাড়ি পুরো ভেঙে গেছে।

টিলা ধসের খবরে ঘটনাস্থলে যান জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম। তিনি খাদ্যসহায়তা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারকে সহায়তা প্রদান করেন। ইউএনও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়াও পাহাড়-টিলার নিকট ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মাইকিং করে জানানো হয়েছে।’

বিষয়:

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে নওগাঁয় সড়ক অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন ও সড়ক অবোরধ করে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মুক্তির মোড় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুক্তির মোড় প্রধান সড়কের একপাশ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার-ফ্যাস্টুন হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় ৩০মিনিট পর অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক আরমান হোসেনের সভাপতিত্বে সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক মেহেদী হাসান ও সংগঠক রাফিউল বারী রাজন, সহকারী মুখপাত্র নাইম হাসানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরেও দেশে আগ্রাসন বন্ধ হয়নি। ভারতীয় অপশক্তির সকল শেকড় উপড়ে ফেলা হবে ভারতীয় আগ্রাসনকে রুখে দিতে হবে। যেখানে পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার কথা সেখানে পক্ষপাত করে কর্মসূচীতে অন্যায় ভাবে হামলা করে গুলি চালিয়ে সাধারন ছাত্রদের মারধর করা হয়েছে। হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয় যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।


গজারিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরাঞ্চল গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে জামালপুর গ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা থেকে ভোর পর্যন্ত জামালপুর গ্রামে পরিচালিত এই অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানটি পরিচালিত হয় স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার ও পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘নৌডাকাত’ নয়নের ছেলে নীরবের বসত বাড়িতে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদরদপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনস্থ গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গুয়াগাছিয়া এলাকার ওই আস্তানায় হানা দেয় যৌথ বাহিনী। অভিযানে ১টি শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি এবং ৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কিশোর গ্যাং লিডার নীরবকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, নীরব ওই এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। সে কুখ্যাত ‘নয়ন ও পিয়াস’ ডাকাত দলের শীর্ষ নেতা নয়নের ছেলে। এলাকায় একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করত সে। তার বাবা ও সহযোগীদের অনুপস্থিতিতে নীরব এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।

​সেনা ক্যাম্পের অপারেশন অফিসার এক বিবৃতিতে জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাস, নাশকতা এবং মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে প্রদানের জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ‘সেনাবাহিনী উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম থানায় হস্তান্তর করার পর আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’


খুলনায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা জেলা প্রতিনিধি

খুলনা নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল রোডের মার্কেট এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে বাবুল মোল্লা (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে মাটিপট্টি বস্তি এলাকায় দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল মোল্লা ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত লালচান মোল্লার ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার বিকেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই বস্তির দুটি পরিবারের শিশুদের মধ্যে পানি ছেটানো নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি হয়। পরবর্তীতে শিশুদের সেই তুচ্ছ ঘটনাটি বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া বাঁধে। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়, কিন্তু সেই রেষ ধরে রাতে আবারও উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে কিল-ঘুষি ও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বৃদ্ধ বাবুল মোল্লা গুরুতর আঘাত পান। তিনি ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে রিমি এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিকেলেই প্রতিবেশীরা তাঁর বাবাকে মারধর করার পর বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেই সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর দাবি, পুলিশ যদি তখনই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিত, তবে রাতে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটত না এবং তাঁর বাবাকে প্রাণ হারাতে হতো না।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে পানি ছেটানোকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ও তুচ্ছ কলহ বলে মনে করা হচ্ছে। বিকেলে ঝগড়া মিটে যাওয়ার খবর পেলেও রাতে পুনরায় হাতাহাতির সময় বৃদ্ধ বাবুল মোল্লা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান। তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে। পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে এবং তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


কম্বল দিয়ে ভোট চাইতে গিয়ে জামায়াতের ৫ নেতা আটক, অর্থদণ্ড

আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪৬
মাগুরা জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাগুরায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন নেতাকর্মীকে আটক ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মাগুরা-২ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহর (এমবি বাকের) পক্ষে গভীর রাতে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে রোগীদের মাঝে কম্বল বিতরণ ও ভোট প্রার্থনা করার সময় তাঁদের আটক করা হয়। শুক্রবার সকালে মাগুরার ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারক আইয়বুর রহমান সিয়াম এক সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলেও জব্দকৃত ৩২টি কম্বল স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হুসাইন আহম্মেদ কাবুল ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মুকুলের নেতৃত্বে একদল কর্মী কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লায়’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বালিদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলী আকবার মোল্যাকেও তাঁরা কম্বল দিয়ে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যার ফলে হাসপাতালের শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।

খবর পেয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. শাহানুর জামান এবং মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রাথমিক তদন্তে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের প্রমাণ মেলায় ইউএনও’র নির্দেশে পুলিশ ৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং তাঁদের সাথে থাকা ৩২টি কম্বল ও প্রচারপত্র জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভোটারদের প্রলুব্ধ করার লক্ষ্যে এই ধরণের বিতরণ কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট আচরণবিধির পরিপন্থি।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহা. শাহনুর জামান গণমাধ্যমকে জানান, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারক আইয়বুর রহমান সিয়াম অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে আর্থিক জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যদি আইন অমান্য করে ভোটারদের উপহার সামগ্রী প্রদান বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের এই নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। বর্তমানে এলাকায় নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে স্থানীয় প্রশাসন।


যৌথ বাহিনীর অভিযানে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ৩৬৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে যৌথবাহিনী। গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৩৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ৫১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। রাজধানীর ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও শিল্পাঞ্চলে একাধিক পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের ইউনিটগুলো এই অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৫১টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩১ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ককটেল বোমা, দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার ৩৬৮ জনের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং ও চোরাকারবারিরা রয়েছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলা ও সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথবাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখলে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করার জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে।


চট্টগ্রামে অস্ত্র-মাদকসহ শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারী গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

দেশীয় অস্ত্র-মাদকসহ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মো. কামাল ওরফে পিচ্চি কামাল (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার কামাল লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ আহমদের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, কামাল পদুয়া ইউনিয়নের জামায়াতের যুব সংগঠনের সভাপতি এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

সাতকানিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযানে গ্রেপ্তার কামালকে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ইফানার নেতৃত্বে ক্যাপ্টেন সাব্বির আহম্মেদ সানি, লেফটেন্যান্ট সাদ ও লেফটেন্যান্ট মিথুনসহ ৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির একটি টহল দল মাদক কারবারি পিচ্চি কামালের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে তিন হাজারটি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে মো. রাকিব নামে আরেকজনের ঘর থেকে দেশীয় তৈরি একটি দোনলা বন্দুক ও একটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।


রোববার হাদি হত্যা তদন্তে জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে সরকার

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক  

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।

জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।


রোজার আগেই ভোগাচ্ছে মুরগি কাঁচামরিচ লেবু: স্বস্তি সবজি ও পেঁয়াজে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোজার বাকি আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকটা দিন; এর মধ্যেই ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগি ও কাঁচামরিচের দামও। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে সবজি ও পেঁয়াজের বাজারে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে বেশি চাহিদা থাকা লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে।

ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে এমন দাম বাড়ায় চাপ বাড়ছে পকেটে। কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোজা শুরুই হয়নি, এর মধ্যেই লেবুর দাম বাড়তি। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে অন্যান্য পণ্যের দামসহ খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।’

খুচরা বিক্রেতারা জানান, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই রোজার আগে লেবুর চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, এ সময় চাহিদা বেশি থাকে, সরবরাহও কমে যায়। তাই দাম একটু বাড়তি।

এদিকে, তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে সবজির বাজারে। প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।

পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজার করতে আসা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন মোটামুটি ঠিক আছে। যদি এমন থাকে, তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি।

তবে মুরগির বাজারে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা এবং লাল লেয়ার ৩০০ টাকা কেজি দরে।

বিক্রেতারা বলছেন, বিয়ে-শাদি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে। এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, এ সময় অনুষ্ঠান বেশি থাকে, চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দাম একটু বেশি।

রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা-যা গত বছর একই সময় ১১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬৫ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল।

পাশাপাশি প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সঙ্গে প্রতি কেজি মাঝারি আকারের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা। তবে গত বছরের তুলনায় চিনি কিনতে ক্রেতার কেজি প্রতি ২০ টাকা কম ব্যয় হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ১২৫ টাকা। আর গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডিপ্লোমা দুধ ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর রোজার আগে ৮৪০ টাকা ছিল।

রাজধানীর কাওরানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার শবেবরাতের আগে ও পরের দিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। তবে গত বছর রোজার আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তাই মনে শঙ্কা হচ্ছে সামনে কী হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের আইন প্রয়োগের বড় দুর্বলতা। এবার বাজারে যে পরিমাণ পণ্য সরবরাহ আছে, তাতে রোজায় দাম বাড়ার কথা নয়। আর গত বছরের তুলনায় কেন বেশি দাম, সে বিষয়ে তদারকি করতে হবে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের চেয়ে এবার নিত্যপণ্যের গড় আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি। এই সরবরাহ পরিস্থিতি ও পণ্যমূল্যের স্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এ বছরের রমজান স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গজারিয়া প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধসহ আহত ২

পুলিশ ক্যাম্পের জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়ায় হামলা দাবি আহতের স্বজনদের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন গুলিবিদ্ধসহ দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতের একজন গুয়াগাছিয়ায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, জামালপুর গ্রামের মৃত আহমেদ দেওয়ানের ছেলে কাইয়ুম দেওয়ান (৪২) এবং তার আত্মীয় ও বাউশিয়া ইউনিয়নের পুড়াচক বাউশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম প্রধানের ছেলে শরীফ প্রধান (৪১)। আহতদের মধ্যে কাইয়ুম দেওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত কাইয়ুমের ছোট ভাই মাইনুদ্দিন দেওয়ান জানান, কাইয়ুম দেওয়ান নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করেন। শুক্রবার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। আসর নামাজ শেষে বাবার কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার পথে চিহ্নিত নৌ-ডাকাত নয়ন, পিয়াস ও শাহাদাতসহ তাদের সহযোগীরা কাইয়ুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মাইনুদ্দিনের দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, ‘গুয়াগাছিয়ায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য আমার বড় ভাই কাইয়ুম দেওয়ান বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নৌ-ডাকাত বাহিনীর সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে। প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই সন্ত্রাসীরা এলাকায় নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হামলার সাহস পাচ্ছে।’

আহত শরীফ প্রধান অভিযোগ করে বলেন, "হামলার সময় পাশেই পুলিশ ক্যাম্প ছিল, কিন্তু তারা এগিয়ে আসেনি। মসজিদের মাইকে সাহায্য চাইলেও ডাকাতদের ভয়ে কেউ আমাদের বাঁচাতে আসেনি।"

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুন নাহার জানান, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। কাইয়ুম দেওয়ানের পায়ে গুলি জাতীয় কিছুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত শরীফকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, "ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


 ফেনীতে প্রার্থীর অনশনের মুখে এসিল্যান্ডকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনী-২ আসনের গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা অনশনে থাকার পর তাঁর দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই ঘোষণার পর ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া নিজে পানি খাইয়ে তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার অনশন ভাঙান।

জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া নিশ্চিত করেছেন যে, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং প্রার্থীকে হুমকির অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেছিলেন তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী মাঠ সবার জন্য সমান নয় এবং প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের হয়রানি করছেন।

দাবি আদায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি কোনো একক ব্যক্তির বিজয় নয়—এটি গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম, সাহসী ভূমিকা এবং সত্যের পক্ষে অবস্থানের সম্মিলিত বিজয়।’ এই অর্জনের জন্য তিনি ফেনী জেলার সচেতন নাগরিক এবং দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করার জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে জনগণের অধিকার রক্ষায় এই লড়াই অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন।


গাইবান্ধায় চোখের পলকে ৫ গরুর মৃত্যু, গ্রামজুরে আতঙ্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার একটি চরাঞ্চলে মুহূর্তের ব্যবধানে পাঁচটি গরু মারা যাওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। চোখের সামনে একের পর এক গরুর মৃত্যু দেখে হতবাক হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তার পরিবার।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার দত্ত।

এরআগে ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লার চর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ওই গ্রামের কৃষক মোস্তাক মিয়ার গোয়ালঘরে বাঁধা পাঁচটি গরু হঠাৎ ছটফট করতে শুরু করে এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও গাইবান্ধার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই গ্রামের কৃষক মোস্তাক মিয়ার গরুগুলোকে প্রতিদিনের মতো সেদিনও গরুগুলোকে ভুট্টার ঘাস খাওয়ানো হয়েছিল। এরপর গোয়ালঘরে বেঁধে রাখা হলে আচমকাই একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একে একে আরও চারটি গরু ছটফট করতে থাকে। পরিবারের লোকজন পানি খাওয়ানোসহ বিভিন্নভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সব গরুই মারা যায়।

কৃষক মোস্তাক জানান, ‘আমার ঘরে নয়টি গরু ছিল। গরুর বাছুরগুলো অন্য জায়গায় বাঁধা ছিল বলে বেঁচে গেছে। কিন্তু চোখের সামনে পাঁচটি গরু মারা যাওয়া সহ্য করার মতো নয়। এতে তার আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকেই গোপালপুর চরজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার অনেক খামারি জানান, তারাও নিয়মিত ভুট্টার ঘাস গরুকে খাওয়ান। ফলে খাদ্যজনিত কোনো বিষক্রিয়া হলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার দত্ত বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে এখনও অবস্থান করছেন। গরুগুলোর মুখ দিয়ে ফেনা এবং পেট ফুলে গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ন্ত কাঁচা ভুট্টার ঘাস খাওয়ার কারণে গরুগুলো ‘নাইট্রেট পয়জনিং’-এ আক্রান্ত হয়েছে। ভুট্টা গাছের নরম ডাঁটা ও পাতায় কখনো কখনো অতিরিক্ত নাইট্রেট জমে যায়, যা গবাদিপশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে।

এসময় চরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি ভুট্টার টগবগে কাঁচা ঘাস খাওয়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একই সাথে ইউরিয়া সারের ব্যবহার হয়েছে এমন জমির ঘাস কিছুটা রোদে শুকিয়ে খাওয়ানোরও পরামর্শ দেন।


নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজ নারী উদ্যোক্তার মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এলাকায় কামরুন নাহার ইতি নামে এক নারী উদ্যোক্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ‘পরী বিউটি পার্লার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই পার্লারের টয়লেটের ভেতর থেকে পুলিশ তাঁর মৃতদেহটি উদ্ধার করে। মৃত কামরুন নাহার ইতি গত ২৭ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন এবং এ ঘটনায় তাঁর ভাই ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

বিউটি পার্লারের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দিলে দরজা ভেঙে মরদেহটি বের করা হয়। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম এ প্রসঙ্গে বলেন, “ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে না।” নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অধিকতর নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতির স্বামী আনোয়ার হোসেন সেন্টুকে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আমতলীতে মাদক কারবারি আটক, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী এলাকা থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার বাড়ি থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট এ জেড এম জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে আমতলী থানা পুলিশের সমন্বয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোপখালী এলাকার নিজ বসতঘর থেকে মনির শরীফ (৪৫) নামের ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত সাত্তার শরীফের ছেলে। এ সময় তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩ পিস ইয়াবা ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, আটক মনির শরীফের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

পরবর্তীতে আটক আসামি ও উদ্ধার আলামতসমূহ রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


banner close