বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আমেরিকা আমাদের না গেলেও চলবে: কৃষিমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক শনিবার টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও বন বিভাগের দুটি ব্যারাক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৩ ২০:৪০

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি প্রয়োগের বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘আমেরিকায় কয়জন মানুষ যায়? তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কী করবে? আমাদের আমেরিকা না গেলেও চলবে।’

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত দোখলা রেস্ট হাউজে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও বন বিভাগের দুটি ব্যারাক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী তিন মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন গোটা পৃথিবীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কোনো দেশই এই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না। কোনো ষড়যন্ত্র করেই তারা এই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘দেশের একটি বড় দল এই জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন খুবই তৎপর রয়েছে। তারা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এদেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। এদেশের মানুষ যদি আবার প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দেয়, তাহলে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। যদি কোনো দেশ নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করে, তাহলে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবো।’

ভোটের আগে আমেরিকার ভিসানীতি প্রয়োগের ঘোষণার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকায় কয়জন মানুষ যায়? তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কী করবে। যারা গুলশান-বনানীর, বড় লোকের ছেলেরা, তারাই আমেরিকায় যায়। তারা না গেলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না। দু-একজন মন্ত্রী না গেলেও ক্ষতি হবে না। কিছু মানুষকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমাদের আমেরিকা না গেলেও চলবে। আমরা জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ভিসা নিয়ে আমেরিকা যেতে পারবো না, এটা আমাদের কোনো বিষয় না।’

আওয়ামী লীগের এ প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। অর্থনৈতিকভাবে যদি তারা স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয় আমরাও দেখবো কীভাবে মোকাবিলা করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমেরিকাসহ অনেক দেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বিপক্ষে ছিল।’

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত দেশে বনভূমি ২২ শতাংশ করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় ২৫ শতাংশ করতে চেষ্টা করছি।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন প্রমুখ।


কুবিতে শহীদ মিনারে আগে ফুল দেয়া নিয়ে শিক্ষকদের হট্টগোল

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে শিক্ষক নেতাদের ভেতর হট্টগোল হয়েছে।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার জন্য কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িকে অনুরোধ জানানো হলে হট্টগোল বাধান শিক্ষক সমিতির নেতারা।

এরইমধ্যে হট্টগোলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, মঞ্চের একপাশে উপাচার্য ও প্রক্টর বসে আছেন। তার পাশে বসে আছেন অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মিজানুর রহমান। একপর্যায়ে নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির নেতারা চারপাশে ঘিরে ধরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা জানতে চান, হলের ছাত্রদের আগে ফুল দিতে না দিয়ে না কেন পুলিশকে আগে সুযোগ দেওয়া হলো? এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আবু তাহের অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ককে ক্ষমা চাইতে বলেন।

এ প্রসঙ্গে সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আবু তাহের বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বড় বড় কর্মকর্তা রয়েছেন, হলের ছাত্ররা আছেন। আমাদের শিক্ষক-ছাত্ররা বিষয়টি জানালে আমি নিজেও সামান্য উত্তেজিত হই।’

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ সবসময় ডিউটিতে থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করেন, তাই তাদেরকে এক ফাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তারা ফুল দিয়ে ডিউটিতে চলে যেতেন। তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি।’


মাদারীপুরের বাক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে শিশু ধর্ষণের আসামি সুমন বেপারীকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে পিরোজপুর সার্কিট হাউস এলাকা হতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. মুকিত হাসান খাঁন এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, আসামি সুমন বেপারী এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় তিনি বলেন, তার দুলাভাই শংকরপাশা ইউনিয়নের মেম্বার। তিনি তার বাসায় বেড়াতে এসেছেন। পরে পুলিশ তার দুলাভাইয়ের ফোন নম্বর জানতে চাইলে তিনি নম্বর দিতে পারেননি। পরে পুলিশ তাকে আটক করে ওই মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই মেম্বার জানান, আসামি সুমন তার বাড়িতে বেড়াতে আসেননি। পরে পুলিশ আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে। এরপর পুলিশ মাদারীপুর থানায় যোগাযোগ করলে জানা যায়, আসামি সুমন মাদারীপুর জেলায় এক বাক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করে পালিয়ে এসেছেন।

পুলিশ আরও জানায়, এঘটনায় আসামি সুমনের নামে মাদারীপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে মাদারীপুর থানা থেকে আসা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অখিল রায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


চুয়াডাঙ্গায় ফসলি মাঠ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৫৪
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় একটি ফসলি মাঠ থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মজনু খাঁ ওরফে ফজলু মিয়া (২৮)।

আজ বুধবার সকালে উপজেলার কাবলেরচারা মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে সন্তোষপুর ও ধোপাখালী এই দুই গ্রামের মাঝে কাবলেরচারা নামক মাঠে এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নিহত ফজলু মিয়ার সঙ্গে থাকা তার ফুফাতো ভাই জব্বার আলীও নিখোঁজ রয়েছেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম জাবীদ হাসান বলেন, ‘নিহত ফজলু মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’


শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১০

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:৫১
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বাস ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ হলে ট্রলিটি পাশের একটি ক্ষেতে পড়ে যায়। আর বাসটি একটি বাড়িতে ঢুকে যায়।

উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের কুরুয়া এলাকায় বুধবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ট্রলির সহকারী হামিদুর রহমান (২৬)। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার বড়পোড়াগড় এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে। অপরজন পার্শ্ববর্তী জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে গোলাম ফারুক লিটন (৫০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস বকশিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ট্রলিটি পাশের একটি ক্ষেতে পড়ে যায়। আর বাসটি একটি বাড়িতে ঢুকে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে ট্রলির সহকারী হামিদুর রহমান মারা যান। আহত হন ট্রলির চালক ও বাসের যাত্রীসহ অন্তত ১০ জন। আহতদের মধ্যে গোলাম ফারুক লিটনকে শেরপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিক জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে পাঠায়। একাধিক আহত লোক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বিষয়:

সড়কে ইটভাটার মাটি

ঘটছে দুর্ঘটনা, মিলছেনা সুরাহা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:৫১
সালাহউদ্দিন শুভ, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার সড়ক পথ এখন বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আঞ্চলিক মহাসড়কে ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত মাটি রাস্তায় স্তূপাকারে পড়ে থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, মিলছেনা কোনো সুরাহা।

সাতটি উপজেলার মধ্যে বিশেষ করে রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখায় খোলা যানবাহনে মাটি পরিবহনের কারণে রাস্তার ওপর মাটি পড়ে থাকে, আর এসব মাটির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, প্রায় ৬০টির মতো ইটভাটা রয়েছে এ জেলায়। এরমধ্যে জেলা সদর, কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলায় সংখ্যায় বেশি। তবে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কুলাউড়া-মৌলভীবাজার, কুলাউড়া-বড়লেখা, ব্রাহ্মণবাজার ও রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে টানা হচ্ছে ইটভাটার মাটি। এসব রুটে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। শুকনো মৌসুমে এসব রুটে এই মাটি তেমন বিপজ্জনক না হলেও শীত মৌসুমে ভারী কুয়াশা ও বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে সড়কের ওপর পড়ে থাকা ওই মাটিগুলো কাদা হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়। এসব সড়কের চলাচল করা মোটরসাইকেল, বড় বড় ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রধান সড়কপথ দিয়ে ভাটাগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয় মাটি। মাটি বহনের জন্য ইঞ্জিনচালিত যান ট্রলি, ট্রাক্টর ও ট্রাক ব্যবহার করা হয়। এসব খোলা যানবাহনে মাটি বহনের কারণে রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে মাটি।

সালাহউদ্দিন নামে মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, মাটিবাহী যান থেকে রাস্তায় পড়ে যাওয়া মাটি শুকিয়ে ধুলা আর বৃষ্টি হলেই কাদায় পরিণত হয়। এতে সাইকেল চালাতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এগুলো দেখে না। যে যার মতো করে খোলা যানবাহনে এসব মাটি ও বালি নিয়ে চলাচল করছে। বছরজুড়েই সড়কগুলোতে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, ‘সড়ক কাদামুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চিঠি দেওয়া হবে। আশা করছি দ্রুত সময়ের ভিতরে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

এদিকে জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, ‘এসব বিষয় আমার জানা ছিল না, মাত্র জানতে পারলাম। অপরিকল্পিতভাবে মাটি পরিবহনের সময় সড়কের ওপর মাটি ফেলা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয়:

সাত টাকায় ব্যাগভর্তি সবজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে গরিব ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে সাত টাকায় ব্যাগভর্তি সবজি বিক্রি করছে ফাইট আনটিল লাইট নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ।

জেলার সদর উপজেলা, ফুলবাড়ী উপজেলা এবং রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এই সাত টাকার সবজি বিক্রির কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানান সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক আবদুল কাদের।

উদ্বোধনী দিনে ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে এক কেজি করে শিম, এক কেজি আলু, এক কেজি বেগুন, একটি ফুলকপি, দুই আঁটি করে ধনেপাতা, পালংশাক এবং একটি করে ডিম দেওয়া হয়। পুরো প্যাকেজটির বাজারমূল্য ৩০০ টাকার বেশি হলেও দরিদ্র মানুষ পেয়েছেন মাত্র সাত টাকায়।

সাত টাকার বাজার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সোহেলী পারভীন, ফুলবাড়ী উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুব হোসেন লিটু এবং ফুল সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আবদুল কাদের।

সাত টাকার বাজারে সবজি কিনতে আসা রানী আক্তার বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত দাম বাড়ায় কৃষক স্বামীর পক্ষে একসঙ্গে এত বাজার করা অসম্ভব। মাত্র সাত টাকায় ৩০০ টাকার কাঁচাবাজার পেলাম। পরিবারে চারজন সদস্য নিয়ে এই বাজার দিয়ে পাঁচ দিন নিশ্চিন্তে খাইতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সংগঠন রিলিফ দেয় নাই, তারা কম দামে বিক্রি করল আর হামরা কিনি নিলাম। কমদামে এত বাজার পেয়ে আমার খুব উপকার হইল।’

আরেকজন ক্রেতা রিনা রানী বলেন, ‘হামার স্বামীর কোনো আবাদি জমাজমি নাই, হাতের কামাই দিয়ে কোনো রকমে চাল কিনে ভাত খাই। বাজারে সবজির দাম চড়া, ভালোমন্দ সবজি, মাছ, ডিম খামো তার সামর্থ্য নাই। আজ সাত টাকা দিয়ে এক কেজি শিম, এক কেজি আলু, এক কেজি বেগুন, একটি ফুলকপি, এক কেজি বেগুন, দুই আঁটি ধনেপাতা, দুই আঁটি পালংশাক এবং একটি ডিম কিনেছি। আমার ছাওয়াটা ডিম পায়া খুব খুশি হবে।’

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ বলেন, ‘বেসরকারি সংগঠন ফুলের অর্থায়নে উপজেলার অভাবী মানুষ মাত্র সাত টাকায় ব্যাগভর্তি বাজার করার সুযোগ পেল। ফুল সংগঠন ত্রাণ না দিয়ে নামমাত্র টাকায় গরিব মানুষের বাজারের সুযোগ দিয়েছে। সংগঠনটির এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আবদুল কাদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে ফাইট আনটিল লাইট (ফুল) সংগঠন গরিব মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে আসছে। আমরা ত্রাণপ্রথা থেকে মানুষকে বেরিয়ে এসে সম্মানের সঙ্গে বাঁচার জন্য সাত টাকা করে নিচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের সংগঠন নাগেশ্বরী উপজেলা, ফুলবাড়ী উপজেলা, রাজারহাট উপজেলায় গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।’

বিষয়:

নেত্রকোনায় জমে উঠেছে উপজেলা নির্বাচন

চেয়ারম্যান পদে প্রচারে নেমেছেন হাফ ডজন প্রার্থী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সালাহ উদ্দীন খান রুবেল, নেত্রকোনা

জেলার নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পোস্টার, বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে সদর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ ছাড়া হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন মহলের আড্ডায় জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা গণসংযোগের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

তবে জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ অন্য দলের নেতারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় নেই।

জানা গেছে, আসন্ন নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান মানিক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আলম ফারাস হীরা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান খান অভ্র, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তুহিন আক্তার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম খান পাঠান বিমল, বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এ কে এম আজহারুল ইসলাম অরুণ প্রমুখ।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নেত্রকোনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আতাউর রহমান মানিক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চলতি মেয়াদে দৃশ্যমান কাজ করেছি। আগামী দিনে সদর উপজেলায় যেসব কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে চাই।’

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আলম ফারাস হীরা ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাবেক ছাত্রনেতা। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে একাধিকবার হামলা-মামলাসহ নির্যাতনের শিকার হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মজিবুল আলম ফারাস হীরার এ উপজেলার প্রতিটি এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। তার ক্লিন ইমেজও রয়েছে।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান খান অভ্র সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খানের ছেলে। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

মারুফ হাসান খান অভ্র দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মরহুম পিতা অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খানের রেখে যাওয়া অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করি।’

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেত্রকোনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম খান পাঠান বিমল তিন দশকের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দৈনিক বাংলাকে জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে জি এম খান পাঠান বিমলের পরিচিতি রয়েছে। তিনি একজন দক্ষ আওয়ামী সংগঠক হিসেবে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক তুহিন আক্তার বিগত ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী ও ২০১৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

তুহিন আক্তার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টানা তিন মেয়াদে নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে জনগণের পাশে রয়েছি। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নেত্রকোনা সদর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ আমার পাশে থাকবেন আশা করছি।’

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেত্রকোনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান। তিনি ১৯৭৮ সালে নেত্রকোনা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা শাখার সহ-সভাপতি, ১৯৯০ সালে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৯৯৫ সালে জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক ও ২০১৭ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এ কে এম আজহারুল ইসলাম অরুণ নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদেপ্রার্থী হওয়ায় সর্বত্রই আলোচনা রয়েছে।

এ কে এম আজহারুল ইসলাম অরুণ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নেত্রকোনা সদর উপজেলার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ভিশন উপজেলায় দৃশ্যমান করতে চাই।’

বিষয়:

হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুরের সাত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ভাষা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শাহরিয়ার শাকির, শেরপুর

হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুরের সাত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি। গারো, কোচ, হাজং, বানাই, বর্মণ, হদি ও ডালু সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির পথে।

এদের মধ্যে গারো ও কোচরা তাদের পরিবারে টিকিয়ে রেখেছে মাতৃভাষা। কিন্তু তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে বাংলা ভাষায়। কেননা, বিদ্যালয়গুলোতে এদের নিজ ভাষার দুয়েকটি পাঠ্যবই থাকলেও তা পড়ানোর জন্য নেই কোনো শিক্ষক। নিজস্ব ভাষা রক্ষার্থে তাদের দরকার প্রতিটি স্কুলে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষক ও একটি সাংস্কৃতিক একাডেমি।

বেসরকারি সংস্থা আইইডির আদিবাসী সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিসংখ্যানে উল্লেখ আছে, বর্তমানে শেরপুর জেলায় গারো ২৬ হাজার, বর্মণ ২২ হাজার, কোচ ৪ হাজার, হাজং ৩ হাজার, হদি ৩ হাজার ৫০০, ডালু ১৫০০, বানাই ১৫০ জনের বসবাস। শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তজুড়ে সাতটি সম্প্রদায়ের ৬০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এরমধ্যে গারো, বর্মণ, কোচ ও হদি সম্প্রদায়ের সংখ্যাই বেশি।

এক সময় সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতি থাকলেও, সময়ের সঙ্গে ভিন্ন এক সংস্কৃতিতে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ভুলতে বসেছে নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি। এদের একটি অংশ শিক্ষিত হচ্ছে আধুনিক শিক্ষায়; আর অল্প কিছু স্কুলে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের।

স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ক্লোডিয়া নকরেক কেয়া বলেন, ‘আমরা এক সময় আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলতাম। কিন্তু এখন বাংলাভাষায় কথা বলি। আমাদের আগের ঐতিহ্যগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। স্কুল, কলেজে আমাদের ভাষার কোনো চর্চাই নাই। আমরা শুনেছি, স্কুলে আমাদের ভাষার বই দেওয়া হয়েছে; কিন্তু কোনো শিক্ষক দেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের ভাষার শিক্ষক দেওয়ার জন্য।’

শিউলি মারাক বলেন, আমাদের ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের ভাষায় কথা বলতে চাই।

সুকেশ বলেন, ‘আমরা বর্মণ। অথচ আমরা বর্মণ ভাষায় কথা বলার পারি না। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। সরকার আমাদের ভাষার বই চালু করলে আমাদের ভাষাটা টিকে থাকত।’

শেরপুর আইইডি আদিবাসী সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পর আদিবাসী নেতা সুমন্ত বর্মণ বলেন, এক সময় শেরপুর জেলায় সব আদিবাসীদের নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি ছিল। এদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক একাডেমি না থাকায় জেলায় আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার পথে। তবে ইতোমধ্যে গারো ভাষা পাঠ্যবইয়ে লিপিবদ্ধ হয়েছে; কিন্তু স্কুলে বইয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষক সংকটের কারণে গারো ভাষার বইটা পড়ানো হচ্ছে না। আমরা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ভাষাভিত্তিক শিক্ষক তৈরি প্রচেষ্টা আছে সরকারের। আপাতত আমরা একটু সংকটে আছি।’

আর ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, শেরপুর জেলার সাত ধরনের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর জন্য ইতোমধ্যেই সাংস্কৃতিক একাডেমি স্থাপনের প্রস্তাব সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদের ভাষা সংরক্ষণের জন্য আমরা আমাদের যে জাতীয় গণ গন্থাগার আছে সেটির মাধ্যমে উদ্যোগ নিচ্ছি।

বিষয়:

উখিয়ায় নিখোঁজের ১৭ দিন পর জেলের লাশ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কক্সবাজারের উখিয়ায় নাফ নদী থেকে মোস্তাফিজুর রহমান (৪৭) নামে এক জেলের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া পালংখালী নাফ নদীর মোহনা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন এর ৯ নম্বর ওয়ার্ড বটতলী এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে ও দিনমজুর।

তার পরিবারের দাবি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত চলাকালে গত ১ ফেব্রুয়ারি বিজিপির সদস্যরা নাফ নদী থেকে মোস্তাফিজুরকে আটক করে নিয়ে যায়।

মোস্তাফিজুরের আত্মীয় জয়নাল আবেদীন বলেন, মোস্তাফিজুর নাফ নদীতে মাছ শিকার করে। সীমান্তে উত্তেজনা চলাকালে সে নদীতে মাছ শিকারে গেলে মিয়ানমার থেকে আসা একটি নৌকায় করে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা তার কোনো খোঁজ-খবর পাইনি। রোববার রাতে জেলেরা তার মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখে।

নিহতের ছোট ভাই মো. আমির হোসেন জানান, ১ ফেব্রুয়ারি সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন জেলে। একপর্যায়ে সশস্ত্র আরাকান আর্মির সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ওই দিন ঘটনাস্থলের আশপাশের থাকা অন্য জেলেরা বিষয়টি তাদের জানান।

আমির হোসেন আরও জানান, বিষয়টি বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জানানো হয়। নিখোঁজের পর থেকে নানাভাবে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অপহরণকারীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেনি। স্থানীয় চিংড়ি চাষিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রবিবার রাত ১১টার দিকে বিজিবির সহায়তায় পুলিশ বেড়িবাঁধে পড়ে থাকা অবস্থায় মোস্তাফিজের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।

পাংলখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাফরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে নাফ নদী থেকে কে বা কারা জেলে মোস্তাফিজুর অপহরন করে নিয়ে গিয়েছিল। এতদিন তার খোঁজ-খবর মেলেনি। রবিবার রাতে তাকে নদীতে ভাসতে দেখতে পান জেলেরা। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নাসির উদ্দিন মজুমদার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতাহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


মুন্সিগঞ্জে ১০ কোটি টাকার পানি শোধনাগার পড়ে আছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:৫৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়ে গত বছর শেষ করা হয়েছিল মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ভূপৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পের কার্যক্রম। কয়েক মাস পরীক্ষামূলকভাবে পানি শোধনের কাজও চলে। তবে প্রকল্পটি হস্তান্তর নিয়ে ঠিকাদার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে সোয়া ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারটি।

প্রকল্পের ঠিকাদার ও মুন্সিগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মুন্সিগঞ্জ শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় পানি শোধনাগার নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা। ২০১৯ সালের মে মাসে কাজ শেষে প্রকল্পটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তবে জমি নিয়ে জটিলতার কারণে ঠিকাদার কাজই শুরু করেন ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। পরবর্তী সময়ে আরও ১৩ মাস বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তবে নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে আরেক দফা বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সময় নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবশেষে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। সে বছর আগস্ট থেকে পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পরবর্তী তিন মাস সচল ছিল। তবে ঠিকাদারদের থেকে প্রকল্পের কাজ বুঝে না নেওয়ায় বন্ধ পড়ে আছে পানি বিশুদ্ধকরণ কার্যক্রম।

হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার সাকিব আহমেদ বলেন, ‘কয়েক মাস পানি শোধনাগারটি চালিয়েছিল। আমরা বিশুদ্ধ পানির পাব আশা করছিলাম। এখন আবার বন্ধ, তাহলে এত টাকা দিয়ে এটি করে লাভ কী?’

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, ৩৩০০ বগর্ফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত পানি শোধনাগারটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শোধনাগারটি পড়ে থাকায় পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কাঠামো ও পানিতে ভারী শ্যাওলা জমে আছে। পানিতে ব্যাঙ দৌড়াচ্ছে।

শোধনাগার দেখভালের দায়িত্বে থাকা পাহারাদার অনিল বর্মণ জানান, কয়েক মাস আগে পরীক্ষামূলক পানি ওঠানো হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ বুঝে না নেওয়ায় ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন। তাই হাউসের পানিতে ব্যাঙ, শ্যাওলা জন্মেছে।

পরিকল্পনা ছিল শোধনাগারটির মাধ্যমে পাশের ধলেশ্বরী নদী থেকে পানি উত্তোলন করে প্রতি ঘণ্টায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি বিশুদ্ধ করা হবে, যা সরবরাহ করা হবে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভায়।

হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, ৮–১০ বছর আগে নদী ও অগভীর নলকূপের পানি দিয়ে গৃহস্থালির কাজ চলত। কয়েক বছর ধরে ধলেশ্বরী তীরের সিমেন্ট কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণে নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। নলকূপেও ঠিকমতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। নলকূপে পানি উঠলেও অসহনীয় মাত্রায় আর্সেনিক থাকে। তাই পানি শোধনাগারটি পৌরবাসীর জন্য খুব প্রয়োজনীয়।

মুন্সিগঞ্জ নাগরিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক সুজন হায়দার বলেন, ‘প্রকল্পটি পৌরবাসীর কোনো কাজে লাগছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর খামখেয়ালিপনার নিরসন করে প্রকল্পের সেবা শহরবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পানি শোধনাগারটি শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

প্রকল্পটির কাজ করতে গিয়ে অনেক ভুগতে হয়েছে মন্তব্য করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ মাসুদুর রশিদ বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে কাজ বুঝে নিতে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও তারা জানিয়েছে পৌরসভা প্রকল্পটি নিতে চাইছে না। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরও প্রকল্পটি নিচ্ছে না। এমনিতেই এ কাজে দেড় কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। এক মাস পানি শোধন করতে এক লাখ টাকা খরচ হয়। তাই কাজ বন্ধ রেখেছি।’

ঠিকাদারের অভিযোগ, পৌরসভার কয়েকজন প্রভাবশালী এ কাজটি করতে চেয়েছিলেন। কাজটি তাঁরা না পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের সঙ্গে যোগসাজশ করে পৌর কর্তৃপক্ষ প্রকল্প বুঝে নিচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে মুন্সিগঞ্জ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী এস এম আবদুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি যৌথভাবে পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। পৌরসভা কাজটি বুঝে নিচ্ছে না, এ জন্য তারাও ঠিকাদারের কাছ থেকে নিতে পারছে না।

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সোহেল রানা বলেন, ‘কাজ নিম্নমানের ছিল। এ জন্য সাবেক মেয়র কাজটি বুঝে নেননি। তবে আমরা শিগগিরই পানি শোধনাগারের কাজটি বুঝে নেব। এ বিষয়ে আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে।’


প্রবাসী শ্বশুরকে আনতে যাচ্ছিলেন জামাই, দুর্ঘটনায় নিহত দু’জনেই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:৩০
বন্দর (নারায়নগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার সময় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় জামাই-শ্বশুরের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বন্দর উপজেলার কেওঢালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার বাড়িপাড়া গ্রামের মৃত রনি মেম্বারের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান (৫৫) ও কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার বারপাড়া গ্রামের মোবারক সিকদারের ছেলে মোহাম্মদ উল্যাহ সিকদার (৩৫)।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক জানান, এয়ারপোর্ট থেকে মালেশিয়া প্রবাসী শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদ উল্যাহ প্রাইভেটকার ভাড়া করে শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছিলেন। এসময় গাড়িটি কেওঢালা এলাকায় আসলে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপ দিলে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের পিলারে সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এঘটনায় মোহাম্মদ উল্যাহ সিকদার মারা যান ও সিদ্দিকুর রহমানের ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দুপুরে কাঁচপুর হাইওয়ে থানায় মোহাম্মদ উল্যাহ সিকদারের চাচা মজিদ সিকদার একটি মামলা দায়ের করেছেন।


ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

আপডেটেড ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:১৬
ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহে ট্রেনের তিনটি বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর জোড়া লাগিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি জামালপুরের তারাকান্দির উদ্দেশে ছেড়ে আসে। দুপুর সোয়া ১টার দিকে গফরগাঁও-আওলিয়া নগরের মাঝামাঝি বালিপাড়া এলাকা পর্যন্ত আসতেই চলন্ত অবস্থায় পেছন থেকে তিনটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘রেলওয়ের কর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিশ মিনিটের চেষ্টায় বগি জোড়া লাগালে এই পথে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

বিষয়:

এক কেন্দ্রে ৫৯ ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেটেড ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৩
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর সাপাহারের সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার সকালে আরবী ২য় পত্র পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ৫৯ জন ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রথমে তাদের আটক করা হলেও পরবর্তীতে আটককৃতদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই মাদ্রাসার প্রধানদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন।

ভূয়া পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো মাদ্রাসাগুলো হলো, সাপাহারের সিমুলডাঙা দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), বলদিয়াঘাট দাখিল মাদ্রাসা (সদ্য এমপিওভুক্ত), পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসা, দেওপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসা, তুলসিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আন্ধারদীঘি দাখিল মাদ্রাসা। এরমধ্যে সদ্য এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৩টি এবং ননএমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৫টি।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আরবী ২য় পত্র বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কিছু ভূয়া পরীক্ষার্থী এই কেন্দ্রে দিচ্ছেন সচিবের এমন নির্দেশে কক্ষ পরিদর্শকগণ খাতা স্বাক্ষর করার সময় বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কেন্দ্র সচিবকে জানান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে সাথে সাথেই তিনি কেন্দ্রে অভিযান চালান। এসময় শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, ছবিসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু যাচাই-বাছাই করেন। যাচাই-বাছাই শেষে এই ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন।

তারা আরও বলেন, এই কেন্দ্রে ৪০টি মাদ্রাসার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী এবারে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এরমধ্যে সিমুলডাঙা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন, পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ জন, দেওপাড়া সিংপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন, তুলসিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন, বলদিয়াঘাট দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন, আন্ধারদীঘি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন, মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন ভূয়া পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দিলেও প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এবিষয়ে কেন্দ্র সচিব মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘আমি গোপন সূত্রে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি। এরপর ইউএনও স্যার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার এসে কক্ষ পরিদর্শকদের সহায়তায় এই ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীদের সনাক্ত করেন। এরপর তাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং ওই ৮টি মাদ্রাসার প্রধানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই মামলা দায়ের করার বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন বলেন, ‘যাচাইয়ের পর ৫৯ জন ভূয়া পরীক্ষার্থী পাওয়ায় তাদের কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার করেছেন এবং ওই ৮টি প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সচিব নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়:

banner close