মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

দাফনের ২৩ দিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

ছবি: দৈনিক বাংলা
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৮ অক্টোবর, ২০২৩ ১৭:৩৭

ঢাকার সাভারে দাফনের ২৩ দিন পর আদালতের নির্দেশে জামাল হোসেন গোলদার নামে এক ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

রোববার দুপুরের দিকে সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাসেল ইসলাম নূরের উপস্থিতিতে পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের আলবেদা বাইতুন নূর জামে মসজিদের সামাজিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জামাল হোসেন (৫৫) সাভার পৌর এলাকার দক্ষিণ রাজাশন ঘাসমহল কাইজ্জারটেক এলাকার মৃত ফরিদ আহমেদ গোলদারের ছেলে। তিনি ঢাকার গাবতলী এলাকায় ইঞ্জিন ওয়েলের ব্যবসা করতেন এবং রাজাশন এলাকার রিয়াদ ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে বাসা থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ রাজাশন সাইনবোর্ড এলাকার ফোরকান হাকিমের বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন জামাল। পরে তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় স্ট্রোকজনিত কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই জামাল হোসেনের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়।

এ ঘটনায় জামালের ভাই ইমরান হোসেন গোলদার বাদী হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন দক্ষিণ রাজাশন এলাকার আব্দুল হামিদ মাওলানার ছেলে ফোরকান হাকিম (৪৮), লোকমান হাকিম (৫১), গোফরান হাকিম (৪৫) ও ভোলা জেলার রুইতা গ্রামের আজিজ সিয়ালীর ছেলে কাঞ্চন সিয়ালী ওরফে দ্বীন মোহাম্মদ (৫৫)।

মামলার বাদী ইমরান হোসেন গোলদার বলেন, ‘গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে জানতে পারি আমার ভাই ফোরকানের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখতে পাই আমার ভাই জামাল হোসেন বাড়ির উঠোনে ফোরকানের কোলে উলঙ্গ ও অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। আমাদের দেখে ফোরকান তখন আমার ভাইকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন। এ সময় আমার ভাইয়ের মাথায় ও দুই হাঁটুতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কেন জানতে চাইলে ফোরকান অসংলগ্ন কথা বলেন। তাৎক্ষণিক আগে থেকে ডেকে আনা একটি প্রাইভেটকারে করে আমার ভাইকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ইমরান হোসেন আরও বলেন, ‘ফোরকান হাকিমের কাছে আমার ভাইয়ের দুই লাখ টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা চাইলে বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। প্রতিশোধ নিতে ফোরকান হাকিম পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জামাল হোসেনকে হত্যা করেছেন। পরে সাভার মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশের পরামর্শে আদালতে আমরা মামলা করি।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল্লাহ বিশ্বাস জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ইমরান হোসেন। পরে মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সাভার আমলী আদালতে রুজু হলে বিচারক কবর থেকে মরদেহ তোলার নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ তুলে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাসেল ইসলাম নূর বলেন, ‘মৃত্যুর সময় থানায় কোনো কিছুই জানানো হয়নি। তদন্তের স্বার্থে ২৩ দিন পর মরদেহ উত্তোলন করা হলো।’

বিষয়:

নামজারি খতিয়ানের জটিলতা, সোনাইমুড়ীতে কমেছে জমি রেজিস্ট্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জমি ক্রয়-বিক্রয় একেবারে নেই বললেই চলে।ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে এ অফিসে প্রতি সপ্তাহে ১৫০/২০০ দলিল রেজিস্ট্রি হত। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত যোগদান করার পর দলিল রেজিস্ট্রি কমেছে। তিনি প্রতিটি নামজারি নথি কারণে-অকারণে বাতিল করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। হেবা ঘোষণা,ওসিয়ত নামা ও দানপত্র দলিল সম্পাদন হয়। আর নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় সাব কবলা দলিল প্রতি সপ্তাহে ১৫/২০ টি হয়ে থাকে।এতে জমির মালিকরা ক্রয় বিক্রয় করতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহারাব হোসেন স্বপন বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনের পরই এ সমস্যা নিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের এসিল্যান্ডের কাছে তারা যান। তহসিল অফিসে খাজনা পরিশোধ করতে ভোগান্তি ও সরকারি রিসিটের চেয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। নামজারি খতিয়ান করতে তহসিল অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে পূর্বের চেয়ে তিনগুন টাকা ঘুষ দিতে হয়সহ জমির মালিকদের ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। অযথা নামজারি খতিয়ানের নথি বাতিল করে দেয়ার তথ্য তুলে ধরলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জমির মালিক জানান,নামজারি খতিয়ানের জন্য অনলাইনে আবেদন করলেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন তহশিলদারকে নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ দিতে হয়। এরপর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিটি টেবিলে টাকা দিতে হয়। আর না হয় ফাইল নড়েনা। নথি এসি ল্যান্ডের টেবিলে গেলে তিনি কাগজপত্রের ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে বাতিল করে দেন।এতে পড়তে হয় মহা বিপাকে।

সোনাইমুড়ী নকল নবিশ সমিতির সভাপতি আমানুল্লাহ বলেন, নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি তেমন না হওয়ায় দলিলের নকল সরবরাহ কমেছে। পূর্বে প্রতি সপ্তাহের ৫০০ থেকে ৭০০ দলিলের নকল সরবরাহ করা হতো। এখন সপ্তাহে ১০০ থেকে ১৫০ দলিল সরবরাহ করা হয়। এতে সরকার বিপুল অংকের অর্থ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলার জগজীবনপুর গ্রামের জমির মালিক স্বপন জানান,তার ওয়ারিশ সনদ জ্বাল করে অন্যেরা নামজারি করে নিয়েছে। তিনি আপত্তি দেয়ার ৬ মাসেও তা কোন নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির রেজাউল তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে।

সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার সিরাজুল হক বলেন, পূর্বের তুলনায় এখন দলিল রেজিস্ট্রি কম হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় ইটভাটার ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রিমন হোসেন (৩০) নামে এক কোচিং সেন্টারের শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিমন হোসেন সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে শিক্ষক রিমন হোসেন প্রাইভেট পড়ানোর উদ্দেশে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে আড়চা গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় কাদিমপুর নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা বিবিসি ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কের কীর্ত্তিপুর গ্রামের শশীর মোড়ে অবস্থিত বিবিসি ইটভাটায় গিয়ে চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আঞ্চলিক মহাসড়কে তারা অবস্থান নিয়ে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানায়। পরে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার আশ্বস্ত করলে অবরোধ তুলে নেয় উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ইটভাটার কর্মীরা পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন- ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন- ট্রাক্টরের চাপায় শিক্ষক রিমন হোসেন মারা যান। ঘটনার পর ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কোটালীপাড়ায় আগুনে পুড়ল মাদ্রাসা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে তালিমুল কোরআন নূরানি মহিলা মাদ্রাসা পুড়ে ছাই হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির পাঠদান চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে।

কোটালীপাড়া ফায়ারসার্ভিস স্টেশন অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং সেখানে গিয়ে একঘন্টার চেস্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। ততক্ষণে উনশিয়া তালিমুল কোরআন নুরানি মহিলা মাদ্রাটির একটি টিনের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসাটি যেহেতু অনাবাসিক সেক্ষেত্রে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রাথমিক পর্যায় বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নীলফামারীতে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা ও তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর উপ-পরিচালক মোছাদ্দিকুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ড. হাফেজ মাওলানা রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ।

এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা। সঠিকভাবে যাকাত আদায় ও বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। তারা যাকাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিত্তবানদের যথাযথ হিসাব করে যাকাত প্রদান এবং প্রকৃত হকদারদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।


সৈয়দপুরে সেমাই কারখানায় অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সেমাইয়ের বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে ভেজাল ও অনিয়ম রোধে অভিযান জোরদার করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন সেমাই কারখানায় পরিচালিত এ অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রংপুর বিভাগ ও নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করে র‌্যাব-১৩ এবং আনসার সদস্যরা।অভিযানে অনুমোদনহীন রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার, খাদ্যপণ্যে ব্যবহার অনুপযোগী আয়োডিনযুক্ত লবণ মজুদ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া পণ্যের মোড়কে ঘোষিত উপাদানের সঙ্গে বাস্তব উপাদানের অসামঞ্জস্য এবং নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে সৈয়দপুরের নিয়ামতপুর এলাকার রসনি সেমাই কারখানাকে ৩০ হাজার টাকা, তাজ ফুড প্রোডাক্টস সেমাই কারখানাকে ৬০ হাজার টাকা এবং নাজ ফুড প্রোডাক্টস সেমাই কারখানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে আইন মেনে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মোড়কের তথ্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ঈদকে ঘিরে যেন ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হয়, সেই লক্ষ্যেই চলছে এই নজরদারি। সচেতনতা আর কঠোর তদারকিই পারে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষিত রাখতে।


নিখোঁজ শিশুর মরদেহ মিলল টয়লেটের ট্যাংকিতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি (কাঁঠালতলা) এলাকায় বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পানির ভেতরে থাকায় মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল।

শিশুটির নাম আশরাফুল ইসলাম। তার বাবা মো. শাহীন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই। পরিবারের সদস্যরা ঘর ও আশপাশে খোঁজ করেও শিশুটির সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেছিলেন, বোরকা পরা তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের হাতে একটি শিশু ছিল। ওই বক্তব্যের পর এলাকায় শিশু চুরির আশঙ্কা জোরালো হয়।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ জানান, নিখোঁজের পর থেকেই তদন্ত চলছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।


বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে হরিনঘাটা বন কেন্দ্রের বিট কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে হরিনঘাটা বন এলাকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি ও মানবন্ধন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএসের ফিসনেট প্রকল্পের উদ্যোগে আলোচনা সভায় হরিনঘাটা বিটের বিট কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্রের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মো. সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলম, দুলল মিয়া, রেজাউল ইসলাম, ফিসনেট প্রকল্পের আরাফাত রহমান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করতে হলে আগে মানুষকে সচেতনতার বিকল্প নেই। আগে আমাদের সচেতন হতে হবে , বনের ও বন্যপ্রাণীর বিষয়ে গুরুত্ব বুঝতে হবে। মানুষের জন্য, মানুষের জীবিকার জন্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় আমাদের বন্যপ্রাণী হত্যা, নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।


নন্দীগ্রামে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মুদির দোকান মালিককে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মুদির দোকান মালিককে জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার নন্দীগ্রাম হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রয় না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন।

সেসময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে নিউ ফকির স্টোরের মালিক শফিকুল ইসলাম (৪৯) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন খাদ্য পরিদর্শক আবু মুসা সরকার। সহযোগিতায় ছিলেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। দন্ডপ্রাপ্ত মুদির দোকানদার শফিকুল ইসলাম নন্দীগ্রাম পূর্বপাড়ার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, প্রত্যেক দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। আর কোনোভাবেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম ক্রেতাদের নিকট থেকে নেওয়া যাবে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।


কমলগঞ্জে সমাজসেবা কার্যালয়ে সেবা নিয়ে অসন্তোষ, ৪ বছরেও মিলছে না বিধবা ভাতার বরাদ্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিধবা ভাতার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অনেক অসহায় নারী দীর্ঘ ৪ বছর আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও আজ অবধি তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি এই সুবিধা। ভুক্তভোগীরা বারবার সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘বরাদ্দ নেই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে সরকারের এই মানবিক কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। চার বছর আগে ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু প্রতিবার গেলে অফিস থেকে বলা হয় বরাদ্দ আসেনি। আমাদের মতো গরিবের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।’ এছাড়া বয়স্কভাতার জন্য আরও এক ভোক্তভোগী জানান, গত বছরের ২০২৫সালে আবেদন করেছি। এখনো কোনো খবর হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা খাতের বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বরাদ্দ সংকটের দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘুরানো হচ্ছে। এই অচলাবস্থা কবে নিরসন হবে এবং কবে থেকে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ এই সেক্টরের অনিয়ম ও গাফিলতি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যোগ্য ও প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভাতার আওতায় আনা হোক।

কমলগঞ্জ সমাজ সেবার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া জানান, বরাদ্দ না থাকার কারণে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তবে এই বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগকারীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষনায় আমদানি করা রুই মাছের চালান আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেনাপোল প্রতিনিধি। যশোরের বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক থেকে মিথ্যা ঘোষনা দিয়ে আমদানি করা রুই মাছের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস সদস্যরা।

সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে মাছের চালানটি আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকালে মাছটি নিলামে বিক্রি করা হয়।

পণ্যচালানটির আমদানি কারক ঢাকার সাজ্জাত এন্টার প্রাইজ এবং বন্দর থেকে ছাড় করনের কাজে নিয়োজিত ছিল সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আলেয়া এন্টার প্রাইজ।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা দিয়ে রুই মাছ আমদানি করা হয়েছে। পরে মাছবাহী ট্রাকে অভিযান চালিয়ে ১০ প্যাকেজে ৬০০ কেজি রুই মাছ আটক করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকি বাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রেরক: রাশেদ রহমান, বেনাপোল যশোর।


উপনির্বাচনের কারণে বগুড়া সফরে যাচ্ছেন না তারেক রহমান

আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:১৪
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ১০ মার্চ বগুড়া সফরের কথা থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সোমবার (২ মার্চ) রাতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের ১০ মার্চের কর্মসূচি বাতিল হয়েছে। পরে কর্মসূচি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচন; সে কারণে প্রধানমন্ত্রী ভোটের আগে কর্মসূচি নেননি। পরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি পাব।’

এর আগে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছিল। সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহও শুরু হয়। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডেও কমিটি করা হয়েছে।

প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

‘ফ্যামিলি কার্ডের’ জন্য প্রতি পরিবারের একজন নারী নিবন্ধিত হবেন। একটি ওয়ার্ডে যত পরিবার যোগ্য বিবেচিত হবে, তাদের সবাইকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়ার কথা রয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস ‘পাইলটিং’ কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিও।


সীতাকুণ্ডে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই শিশু ইরার মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু ইরা আর নেই। সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা যমে-মানুষে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানল দ্বিতীয় শ্রেণির এই ছোট্ট শিক্ষার্থী।

এর আগে গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গহীন জঙ্গলে এক বীভৎস দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। তাঁরা দেখেন, একটি ছোট শিশু জঙ্গল থেকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় টলমল পায়ে হেঁটে রাস্তার দিকে আসছে। শিশুটির এমন অবস্থা দেখে তৎক্ষণাৎ সেখানে কর্মরত এক্সক্যাভেটর চালক ও স্থানীয় দুই যুবক রবিউল ও আরিফ তাকে উদ্ধার করেন। তাঁরা দ্রুত নিজেদের একটি ট্রাকে করে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছিলেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি ক্ষীণ কণ্ঠে নিজের পরিচয় দিয়েছিল। সে জানিয়েছিল, তার নাম ইরা (৭), সে কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ইরা আরও জানিয়েছিল, তার নিজের এলাকারই এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে ফুসলিয়ে ইকোপার্কের গহীন জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে দেখলে সে চিনতে পারবে বলেও ইশারায় নিশ্চিত করেছিল। তবে ঘাতকের নাম বলার আগেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে কুমিরা থেকে অপহরণ করে বা অন্য কোনোভাবে সেখানে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। ঘাতককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতো একটি সংরক্ষিত এলাকায় এমন অপরাধের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিস্পাপ এই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি, অতিষ্ঠ নগরবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশার আক্রমণ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট এমনকি মসজিদেও স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফগার মেশিনের দেখা নেই। নালা-নর্দমা ও ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় মশার বংশবিস্তার বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এই ওয়ার্ডে অবস্থিত নগরীর ‘ফুসফুস’খ্যাত ধর্মসাগর দীঘি। সন্ধ্যার পর কর্মজীবী মানুষ বিশ্রাম নিতে দীঘির পাড়ে এলেও মশার যন্ত্রনায় বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারছেন না। ব্যাংকার ইনজামামুল হক সৈকত বলেন, “সারা দিনের ধকল শেষে একটু প্রশান্তির জন্য ধর্মসাগরপাড়ে আসি। কিন্তু গত এক মাস ধরে শুধু এখানে নয়, নগরীর কোথাও বসা যায় না। প্রতি মিনিটে অসংখ্য মশা কামড় দেয়।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলম জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম দেখেননি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল খান বলেন, ‘ড্রেন পরিষ্কারের কাজ নেই, মশা তাড়ানোরও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। মহা যন্ত্রণায় আছি আমরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি কর্পোরেশনের দুই কর্মকর্তা জানান, ফগার মেশিনে মূলত কেরোসিন স্প্রে করা হচ্ছে; কার্যকর কীটনাশক ব্যবহার না করায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। এতে প্রতিদিনই মশা বাড়ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, এভাবে মশার বিস্তার অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়বে। গত বছর যে হারে ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এ বছর মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুন বলেন, মশা নিধনে কোনো কার্যক্রম নেই, এটি সঠিক নয়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্প্রে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে লোকবলের অভাব রয়েছে, এটাও সত্য।

স্প্রেতে ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


banner close