বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টিলার পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাস

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অনেক পরিবার। ছবি: দৈনিক বাংলা
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৩২

ছোট-বড় অসংখ্য টিলা নিয়ে সিলেট। এসব টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই টিলার নিচে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের পাহাড়টিলা ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণহানির শঙ্কাও বেড়েছে। গত শনিবারই সিলেটের অন্তত ৪টি স্থানে টিলাধসের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়েছে এক শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া টিলা ধসে অন্তত ৪টি ঘর ভেঙে গেছে।

শনিবার সিলেট সদর উপজেলার খাদিম চা বাগান এলাকায় টিলা ধসে এক শিশু মারা যায়। এ ছাড়া নবীগঞ্জে টিলা ধসে আহত হয়েছেন দশজন। আর জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলা ধসে তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে নগরের আখালিয়ায়ও। পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টি হয়েছে রোববারও। ফলে বেড়েছে টিলা ধসের শঙ্কাও।

সিলেটে কী পরিমাণ মানুষ টিলার পাদদেশে বসবাস করেন সরকারিভাবে এর কোনো তালিকা নেই, তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পরিবার টিলার পাদদেশে বসবাস করছে। মূলত কম ভাড়ায় কিংবা বিনা ভাড়ায় থাকতে পারার কারণেই দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। আবার কিছু গোষ্ঠী টিলা কাটা বা দখলে রাখার জন্য টিলার পদদেশে ঘর বানিয়ে ভূমিহীনদের কম ভাড়ায় বরাদ্দ দেয়।

যদিও ২০১২ সালে সিলেটের পাহাড়-টিলা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এক রায়ে টিলার ওপর ও পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

সিলেট নগরের হাওলাদারপাড়া এলাকার একটি টিলার নাম জাগো টিলা। উঁচু এই টিলার একেবারে কিনারা ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি ঘর। ওপরের ঘরগুলোর ঠিক নিচে, টিলার পাদদেশেও ঘর রয়েছে কয়েকটি। টিলার ওপরে ও ঢালে বসবাস করা সব পরিবারের বাসিন্দাই রয়েছেন ঝুঁকিতে। প্রাণের শঙ্কা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন এখানে।

জাগোটিলার ওপর ঘর বানিয়ে বাস করা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সরকারি টিলা। ভাড়া দিতে হয় না। তাই আমরা এখানে ঘর বানিয়ে থাকি।’

ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভয় তো আছেই। বৃষ্টি দিলে ভয় আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। জায়গা কেনার সামর্থ্য নেই। ঘর ভাড়া করাও অনেক খরচের। তাই ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিলার ওপরে ও পাদদেশে বসবাসকারী বেশিরভাগ লোকজনই এ রকম দরিদ্র। স্থানীয় প্রভাবশালীরা টিলা কাটা ও দখলের জন্য দরিদ্রশ্রেণির লোকজনদের বসিয়েছেন। আবার কম টাকায় পেয়ে টিলার পাদদেশে জমি কিনেও ঘর বানিয়েছেন অনেকে।

বাংলাদেশ পরিবশে আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসাব মতে, সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৪০০ পাহাড়-টিলা রয়েছে। এসব টিলার ওপর ও পাদদেশে অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই বলেন, আমরা বছর তিনেক আগে একটা জরিপ চালিয়ে দেখেছিলাম জেলায় টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছেন। এখন এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।

তিনি বলেন, বসবাসের জন্য এসব টিলার অনেকাংশ কেটে ফেলায় টিলাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এগুলো ধসে পড়ে প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে।

অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটা, বৃক্ষ উজাড় ও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের ফলে বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ছে বলে মত এই পরিবেশকর্মীর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, পীরমহল্লা ব্রাহ্মণশাসন জাহাঙ্গীরনগর, তারাপুর চা বাগান এবং নগরের উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। এ ছাড়া জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।

কী পরিমাণ লোক টিলার ওপর ও পাদদেশে বসবাস করেন এমন তথ্য নেই জানিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নে এ রকম টিলার পাদদেশে লোকজন বসবাস করেন। আমরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানদের দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।

ইউএনও বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যারা টিলার পাদদেশে বসবাস করেন তারা সরতে চান না। কাউকে জোর করে সারালেও কিছুদিন পর তারা আবার ফিরে আসেন।

তবে টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও প্রাণহানির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ২০১২ সালে আমাদের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে পাহাড়-টিলা সংরক্ষণ ও তার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষজনকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু ওই রায়ের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, কী পরিমাণ লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন তারও কোনো হিসেব নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। তাদের পুনর্বাসন বা টিলা সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নেই। বরং টিলা ধ্বংস করে অনেক প্রকল্প আছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বারবার এ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।

টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাকারীদের সরানো যায় না দাবি সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানেরও। তিনি বলেন, ‘টিলার ওপরে ও পাদদেশে যারা বসবাস করেনম চেষ্টা করেও তাদের অন্যত্র সরানো যায় না। এ বছরও আমরা সব ইউএনওর মাধ্যমে মাইকিং করিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছি। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।’

তিনি বলেন, এটা একটা বড় সমস্যা। তাদের কীভাবে সরানো যায় ও পুনর্বাসন করা যায়, এ নিয়ে ভাবছি। তাদের মধ্যে যদি কেউ ভূমিহীন থেকে থাকেন, তাহলে প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।

বিষয়:

বুধবার সৌদির সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের ১৬ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন হবে

আপডেটেড ২৭ মে, ২০২৬ ০৩:০১
নিজস্ব প্রতিনিধি

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের তিনটি উপজেলার ১৬টি গ্রামে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।

জেলাটির সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার এসব গ্রামের সুরেশ্বরী ও কুতুববাগী তরিকার অনুসারী মুসল্লিরা প্রতি বছরের মতো এবারও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় এবং কোরবানি সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ইতিমধ্যে শেষ মুহূর্তের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি পরিবারগুলোতে কোরবানির পশু কেনার কাজও শেষ হয়েছে।

বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ আব্দুল করিম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শরিয়ত সম্মতভাবে সৌদি আরবের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন এবং এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই আগাম ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মাঝে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।


আকাঙ্ক্ষিত পর্যটক মিলবে কি? ঈদের আগে বুকিং সংকটে মৌলভীবাজারের পর্যটন পল্লী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে পর্যটকদের ঢল নামে। সবুজ চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত আর বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোর চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় এবার ম্লান হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এবং সড়ক ও রেলযোগাযোগের বেহাল দশার কারণে এবার ঈদ মৌসুমে পর্যটক সমাগম আশঙ্কাজনক হারে কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


সাধারণত ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এক মাস আগেই এখানকার হোটেল-রিসোর্টগুলোর প্রায় শতভাগ অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ঈদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন, তারা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ভ্রমণ স্থগিত করছেন।

শ্রীমঙ্গলের নভেম ইকো রিসোর্ট, বালিশিরা, চাওমিন এবং কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ও অরণ্য নিবাস রিসোর্টের মতো জনপ্রিয় থাকার জায়গাগুলোতে প্রতি ঈদে বুকিংয়ের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। তবে এবার এখনও সিংহভাগ কক্ষই খালি।

রাধানগর পর্যটন কল্যান পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নিসর্গ নিরব ইকো কটেজ এর মালিক কাজী সামছুল হক বলেন, "ঈদ একেবারে সন্নিকটে , অথচ এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। তবে ঈদের ছুটি চলাকালীন শেষ মুহূর্তে আরও কিছু বুকিং হতে পারে বলে আশা করছি।"

পর্যটক কমে যাওয়ার এই ধাক্কা শুধু হোটেল-রিসোর্টেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ট্যুর গাইডদের ওপরও। শ্রীমঙ্গল রাধানগরের চামুং রেস্টুরেন্টের মালিক তাপস দাস জানান, ঈদে পর্যটকদের কারণে তাদের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবার পর্যটক কমলে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। কারণ এই ঈদ মৌসুমের আয়ের ওপরই বছরের একটি বড় অংশের ব্যবসা নির্ভর করে।

ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন মন্দার পেছনে শুধু হাম আতঙ্কই একমাত্র কারণ নয়, এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনুন্নত অবকাঠামো ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজ এবং পর্যটন এলাকার সংযোগ সড়কগুলোর খারাপ অবস্থার কারণে সড়কপথে ভ্রমণ কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। ঢাকা-সিলেট রেলপথে চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেক কম। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় বিদেশী পর্যটকের আগমন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরের ব্যবস্থাপক সেলিম আহমেদ এবং পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইড অপারেটর এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও যানজটের কারণে দেশী-বিদেশী পর্যটকেরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

পর্যটক আগমন কম হওয়ার শঙ্কা থাকলেও, যারা আসবেন তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে মাঠে থাকবে। এছাড়া দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আশেপাশের সড়কগুলোতে যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে পর্যটন পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকরা আবারও চায়ের রাজধানীতে ফিরে আসবেন এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের পর্যটন শিল্প।


শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে ১০ বছর বয়সি দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১০টার দিকে মেডিক্যাল কলেজের সেন্ট্রাল মসজিদের সামনের দিঘি থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত মো. আরাফাত মল্লিক (১০) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চৈতা রঘুনাথপুর এলাকার বিপ্লব মল্লিকের ছেলে ও ঢাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র এবং মৃত আকাশ (১০) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা মো. বেল্লাল এর ছেলে ও বরিশাল নগরের ভাটারখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মৃত আকাশের চাচা মাসুদ জানান, মৃত আকাশ তাদের সাথে বরিশাল নগরের বান্দরোডস্থ চরের বাড়ি এলাকায় বসবাস করেন। দুপুরে পরিবারের সবার অজান্তে বাসা থেকে বের হয়, এরপর রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে আকাশের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাই।
অপরিদেক আরাফাত মল্লিক মামা সুরুজ জানান, আরাফাত বাবা মায়ের সাথে ঢাকায় থাকেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে গতকাল ঢাকা থেকে বরিশালে তার (মাম) বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। দুপুরে আকাশের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়। এরপর খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারি দুপুরে তারা গোসলের জন্য মেডিক্যাল কলেজের দীঘিতে আসছিল। এরপর সেই দিঘি থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার নজরুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘির ঘাটলাতে আসেন তারা। এরপর ডুবুরি শাহিনের নেতৃত্বে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর স্বজনরা মরদেহ বুঝে নিয়েছেন।


ঈদযাত্রায় স্থবির ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ৪০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কের এই বিশাল অংশে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।

মহাসড়কের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুর থেকে উত্তরাঞ্চলগামী বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জটলা। এর ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলো ছুটি হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকসহ সাধারণ যাত্রীদের ঢল নামে। এর ওপর দিনের বেলা মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার যাত্রী সড়কে আটকা পড়লে এক পর্যায়ে যানবাহনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। সন্ধ্যার পর থেকে যখন বড় বাস ও মালবাহী ট্রাকগুলো একযোগে সড়কে নামতে শুরু করে, তখন থেকেই যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্তও যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে মির্জাপুর থেকে কালিয়াকৈর অংশে যানজটের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করায় মহাসড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে প্রায় ২০ লাখ মানুষ গাজীপুর ছাড়ছেন, যার ফলে যানবাহনের এই বিশাল চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। যানজট নিরসনে এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ না কমা পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম।


ছাগলনাইয়ায় ড্রাম ট্রাক ও নোহার ভয়াবহ সংঘর্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী (ছাগলনাইয়া) প্রতিনিধি

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে মঙ্গলবার (২৬ মে) একটি বালু বোঝাই ড্রাম ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ভোর ৫টার দিকে সংঘটিত এই মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন চালকসহ ভেতরে থাকা তিন আরোহী। তারা সবাই সামান্য আঘাত পেলেও বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ড্রাম ট্রাকটির চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


বাসাইলে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ৮টার দিকে বাসাইল-ভাতকুড়া আঞ্চলিক সড়কের বিয়ালা পূর্বপাড়া ব্র্যাক অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসাইল-ভাতকুড়া সড়কের বিয়ালা পূর্বপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও সিএনজির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাহন দুটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেল আরোহী ও সিএনজি যাত্রীসহ মোট ৫ জন গুরুতর আহত হয়।

​দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

​অপর তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে তাদেরকেও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

​শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


পটুয়াখালীতে ১৪ লক্ষ টাকা মূল্যের সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা জব্দ, আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ হতে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

উক্ত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) ও মৎস্য অধিদপ্তর সমন্বয়ে আজ ২৬ মে ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় পটুয়াখালী সদর থানাধীন টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি পিকআপ তল্লাশি করে প্রায় ১৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ৭৫০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ ও ১৩০০ কেজি জাটকাসহ পিকআপ, চালক ও ২ জন হেল্পারকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিষিদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা পরিবহনের অপরাধে চালক এবং হেলপারদ্বয়কে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত মাছ পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পটুয়াখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্থানীয় মাদ্রাসা, গরীব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি পশু কুরবানি দেয়া হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি গবাদিপশু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কুমিল্লা মহানগরের নেউরা পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী জানান যে, কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রান্তিক চাষি ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একেবারে প্রান্তিক চাষি থেকে শুরু করে ক্রেতা পর্যন্ত কোরবানির পশুর ক্রয়-বিক্রয় যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়, সে জন্য সরকার সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”

মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আরও উল্লেখ করেন যে, কোরবানির পশু লালন-পালন বর্তমানে দেশের লাখো পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস এবং এটি একটি শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করছে। হাটের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন রয়েছে যারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করছে। এছাড়া জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন এবং চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় তদারকি অব্যাহত থাকবে।

পরিদর্শনকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু), জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। ঈদের আগমুহূর্ত পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারেন।


ঈদ-উল-আযহায় জননিরাপত্তায় বিশেষ সতর্ক অবস্থানে র‍্যাব-৫

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ২০:৫৫
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে এবং ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‍্যাব-৫, রাজশাহী। রাজশাহী মহানগরীসহ দায়িত্বপূর্ণ পাঁচটি জেলায় (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ এবং জয়পুরহাট) বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টায় সিটি হাটে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন র‍্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার মোঃ মাহমুদুর রহমান, পিএসসি।

তিনি বলেন ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষ যেন ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির কবলে না পড়েন, সেজন্য রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, সিটি হাট মোড়, নওহাটা ব্রিজ এবং বেলপুকুর বাইপাস এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে র‍্যাব।

তিনি আরেও জানান সিটি হাটসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পশুর হাটগুলোতে ছিনতাই, জাল টাকা লেনদেন ও চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও বর্তমান গরম আবহাওয়া ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় সিটি হাটে আগতদের জন্য র‍্যাব-৫ এর উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‍্যাব।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে র‍্যাবের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। গুজব শনাক্ত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৫ এর অধিনায়ক বলেন, “শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আসন্ন ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ঈদকেন্দ্রিক ছুটিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় র‍্যাব-৫ সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ র‍্যাব ক্যাম্প বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।


সাত বছরের শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মাহিগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস দেওয়ার কথা বলে পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বদিয়ার জামান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জের কলাবাড়ি এলাকায় চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেতে নির্যাতনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে বদিয়ার জামান দ্রুত পালিয়ে যান। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক রাতেই মাহিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান যে, “মামলার পরপরই মাহিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে একটি দল অভিযানে নামে।” পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছাড়লেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিঠাপুকুর উপজেলার রাধাবল্লভপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তার বদিয়ার জামান পেশায় একজন শ্রমিক এবং তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকলেও মাঝে মাঝে রংপুরে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ মতে, ওই ব্যক্তি এলাকায় লম্পট হিসেবে পরিচিত এবং তার একাধিক বিবাহের তথ্য পাওয়া গেছে। কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, “গ্রেপ্তার আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” ভুক্তভোগী পরিবার যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য পুলিশ আদালতে অতি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে


শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে ভৈরবের গরুর হাট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গরুর হাট। আর মাত্র একদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহর তালার সন্তুষ্টির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে ভৈরবের পশুর হাটগুলিতে ভীঁড় করছেন ক্রেতরা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে ভৈরব শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু সংলগ্ন বৈশাখী মেলার মাঠে আয়োজিত সবচেয়ে বড় পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভৈরব শহরের বাসিন্দারা কোরবানির জন্য পশু কিনতে বাজারে ভীঁড় করছেন। তারা তাদের সাধ্যের মধ্য পছন্দের পশু কিনতে দরদাম করছেন। কেউ পছন্দের পশু কিনে বাজার থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন৷ আবার কেউ পরিবারের স্বজনদের সাথে নিয়ে পশু কিনতে বৃষ্টি ভেজা কাঁদার মধ্যে ছুটছেন তারা।

এসময় কথা হয় স্থানীয় ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মো.শাহেদ আহমেদ বলেন, আমরা যারা শহরে বসবাস করে থাকি তারা তো ঈদের আগের দিনই কোরবানীর পশু কিনতে হয়। কারণ বেশি আগে কিনলে গরু রাখা ও লালন পালন করার মত পর্যাপ্ত জায়গা ও লোকজন না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই আজকে হাটে এসেছি দেখছি দরদাম করছি যদি কথাবার্তায় গরুর দাম ঠিক হয়ে যায় তাহলে কিনে নিয়ে যাবো।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, কোরবানীর জন্য পশু কিনতে দামের কথা চিন্তা না করাই ভালো। কারণ আল্লাহতালাকে সন্তুষ্টির জন্য আমরা কোরবানী দিয়ে থাকি। তবে প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানী দিয়ে থাকেন। এবছর বাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাড় গরু কিনেছি।

কালীপুর এলাকার খামারী মাহবুব মিয়া বলেন, ভৈরবের গরু বাজারে শেষ মুহুর্তের ভালো বেচাকেনা হয়ে থাকে। আজকে বিকালের পর হাটে ভালো গরু বেচাকেনা হয়েছে। আমার খামারের ১০টি গরু বিক্রি করেছি। এখনো আরো গরু বিক্রির বাকী রয়েছে। আশা করছি কালকের মধ্যে সকল গরু বিক্রি হয়ে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া থাকায় হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

নিহত ফিরোজ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী-কন্যা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদীতে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলো উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৯) ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাঁদের শিশুকন্যা জান্নাত আক্তার।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছিলেন ফিরোজ মাহমুদ। বাটাজোর এলাকায় যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় তিনজন।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো.

মিজানুর রহমান জানান, পেছন দিক থেকে ধাক্কা লাগায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে।


ছদ্মবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করলো র‍্যাব

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ১৮:০৯
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছদ্দবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধারসহ জাকির হোসেন (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্প সদস্যরা। সে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমানের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সড়ক পথে মাদকের একটি বড় চালান আসছে। তারই সুত্র ধরে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার জাকির হোসেন নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারির বসতবাড়িতে ছদ্দবেশে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। পরে মাদক কারবারির দোকান ঘরের ভিতরে খুঁড়খুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ৫ বস্তা (১১৬ কেজি) মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক কারবারি জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।

এবিষয়ে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তপন সরকার জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গরুর হাটসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সড়কপথে একটি চক্র সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা ছদ্দবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা নজরদারিতে কুখ্যাত মাদক কারবারি জাকির হোসেনের দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তায় ১১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কারবারিকে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে তিনি জানান।


banner close