ছোট-বড় অসংখ্য টিলা নিয়ে সিলেট। এসব টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই টিলার নিচে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের পাহাড়টিলা ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণহানির শঙ্কাও বেড়েছে। গত শনিবারই সিলেটের অন্তত ৪টি স্থানে টিলাধসের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়েছে এক শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া টিলা ধসে অন্তত ৪টি ঘর ভেঙে গেছে।
শনিবার সিলেট সদর উপজেলার খাদিম চা বাগান এলাকায় টিলা ধসে এক শিশু মারা যায়। এ ছাড়া নবীগঞ্জে টিলা ধসে আহত হয়েছেন দশজন। আর জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলা ধসে তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে নগরের আখালিয়ায়ও। পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টি হয়েছে রোববারও। ফলে বেড়েছে টিলা ধসের শঙ্কাও।
সিলেটে কী পরিমাণ মানুষ টিলার পাদদেশে বসবাস করেন সরকারিভাবে এর কোনো তালিকা নেই, তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পরিবার টিলার পাদদেশে বসবাস করছে। মূলত কম ভাড়ায় কিংবা বিনা ভাড়ায় থাকতে পারার কারণেই দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। আবার কিছু গোষ্ঠী টিলা কাটা বা দখলে রাখার জন্য টিলার পদদেশে ঘর বানিয়ে ভূমিহীনদের কম ভাড়ায় বরাদ্দ দেয়।
যদিও ২০১২ সালে সিলেটের পাহাড়-টিলা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এক রায়ে টিলার ওপর ও পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
সিলেট নগরের হাওলাদারপাড়া এলাকার একটি টিলার নাম জাগো টিলা। উঁচু এই টিলার একেবারে কিনারা ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি ঘর। ওপরের ঘরগুলোর ঠিক নিচে, টিলার পাদদেশেও ঘর রয়েছে কয়েকটি। টিলার ওপরে ও ঢালে বসবাস করা সব পরিবারের বাসিন্দাই রয়েছেন ঝুঁকিতে। প্রাণের শঙ্কা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন এখানে।
জাগোটিলার ওপর ঘর বানিয়ে বাস করা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সরকারি টিলা। ভাড়া দিতে হয় না। তাই আমরা এখানে ঘর বানিয়ে থাকি।’
ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভয় তো আছেই। বৃষ্টি দিলে ভয় আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। জায়গা কেনার সামর্থ্য নেই। ঘর ভাড়া করাও অনেক খরচের। তাই ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিলার ওপরে ও পাদদেশে বসবাসকারী বেশিরভাগ লোকজনই এ রকম দরিদ্র। স্থানীয় প্রভাবশালীরা টিলা কাটা ও দখলের জন্য দরিদ্রশ্রেণির লোকজনদের বসিয়েছেন। আবার কম টাকায় পেয়ে টিলার পাদদেশে জমি কিনেও ঘর বানিয়েছেন অনেকে।
বাংলাদেশ পরিবশে আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসাব মতে, সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৪০০ পাহাড়-টিলা রয়েছে। এসব টিলার ওপর ও পাদদেশে অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে।
পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই বলেন, আমরা বছর তিনেক আগে একটা জরিপ চালিয়ে দেখেছিলাম জেলায় টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছেন। এখন এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।
তিনি বলেন, বসবাসের জন্য এসব টিলার অনেকাংশ কেটে ফেলায় টিলাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এগুলো ধসে পড়ে প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে।
অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটা, বৃক্ষ উজাড় ও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের ফলে বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ছে বলে মত এই পরিবেশকর্মীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, পীরমহল্লা ব্রাহ্মণশাসন জাহাঙ্গীরনগর, তারাপুর চা বাগান এবং নগরের উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। এ ছাড়া জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।
কী পরিমাণ লোক টিলার ওপর ও পাদদেশে বসবাস করেন এমন তথ্য নেই জানিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নে এ রকম টিলার পাদদেশে লোকজন বসবাস করেন। আমরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানদের দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।
ইউএনও বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যারা টিলার পাদদেশে বসবাস করেন তারা সরতে চান না। কাউকে জোর করে সারালেও কিছুদিন পর তারা আবার ফিরে আসেন।
তবে টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও প্রাণহানির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ২০১২ সালে আমাদের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে পাহাড়-টিলা সংরক্ষণ ও তার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষজনকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু ওই রায়ের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, কী পরিমাণ লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন তারও কোনো হিসেব নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। তাদের পুনর্বাসন বা টিলা সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নেই। বরং টিলা ধ্বংস করে অনেক প্রকল্প আছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বারবার এ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।
টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাকারীদের সরানো যায় না দাবি সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানেরও। তিনি বলেন, ‘টিলার ওপরে ও পাদদেশে যারা বসবাস করেনম চেষ্টা করেও তাদের অন্যত্র সরানো যায় না। এ বছরও আমরা সব ইউএনওর মাধ্যমে মাইকিং করিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছি। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।’
তিনি বলেন, এটা একটা বড় সমস্যা। তাদের কীভাবে সরানো যায় ও পুনর্বাসন করা যায়, এ নিয়ে ভাবছি। তাদের মধ্যে যদি কেউ ভূমিহীন থেকে থাকেন, তাহলে প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
গত মে মাসে সারাদেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৬৬টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩০৫ জন এবং নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৭৮ জন সাংবাদিক।
শুক্রবার (৫ জুন) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মে-২০২৬-এর মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সংগঠনটি জানায়, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় কমেছে। মে মাসে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২৮৯ জন আহত হলেও, এপ্রিলে ৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৬ জন এবং আহত হয়েছিলেন ৫৩৩ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনা আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল, রাজনৈতিক বিরোধ এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। এছাড়া রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার অন্তত আটটি ঘটনায় ১৩৪টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এইচআরএসএস জানায়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্মীয় অবমাননা ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অভিযোগে সংঘটিত ৬৬টি গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৮ জন লাঞ্ছিত এবং ৯ জন হুমকির মুখে পড়েছেন। একজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং দুটি মামলায় আট সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।
সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। মে মাসে ১০টি সভা-সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি বা পরোক্ষ বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৪১ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ১১টি ঘটনায় ছয়জনকে আটক এবং সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে কারাগারে অন্তত সাতজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক ছিল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন ১৪ জন। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।
শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ৫৭টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় আরও ৪১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে এইচআরএসএস জানায়, মে মাসে ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের ৫৭ জনই শিশু ও কিশোরী। ১৭ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৭৬ জন নারী ও শিশু।
এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ৬৩ জন নারী নিহত, ৩১ জন আহত এবং ৪৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন নারী।
শিশু নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ২১৫ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনের সার্বিক মূল্যায়নে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করে না। অতীতের মতো গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ নিয়ন্ত্রণের কোনো মানসিকতা সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সিএমউজের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনস্থ কার্যালয় উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণ, অধিকার বাস্তবায়ন এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সফলতায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অতীতে সাংবাদিক কল্যাণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সাংবাদিকদের অবদান অপরিসীম। তিনি স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাবাহিতায় সাংবাদিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছিলেন। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই সাংবাদিকদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল অঞ্চলের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সাংবাদিককে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। চলতি বছরে যারা সুযোগ পাবেন না, তাদের আগামী বছর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উদ্বোধকের বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ও সংবাদমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেমন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন, তেমনি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের পথ সুগম করেন। দীর্ঘদিন ধরে যারা সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন, তাদের সবাইকে একটি বৃহত্তর সাংবাদিক পরিবারের অংশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থে বিভেদ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে প্রকৃতি। ওপরে তপ্ত সূর্য, নিচে তপ্ত বাতাস—সব মিলিয়ে হাঁসফাঁস জনজীবন। আর এই তীব্র গরমে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে কচি তালের শাঁস। জেলা সদরসহ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তার মোড় ও পর্যটন এলাকাগুলোতে এখন দারুণ কদর বেড়েছে মৌসুমি এই ফলের। গরমে একটুখানি স্বস্তি ও তৃষ্ণা মেটাতে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ভিড় করছেন তালশাঁসের অস্থায়ী দোকানগুলোতে। এতে করে গরমের তীব্রতায় যেমন বেড়েছে এই ফলের চাহিদা, তেমনি বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিনে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলা শহরের সিলেট রোড, শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট রোড এবং কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেকসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে ভ্যানগাড়ি ও ফুটপাতে অস্থায়ী স্টল সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলছে এই কচি তালশাঁস বিক্রি। তীব্র গরমে ক্লান্ত পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ ক্ষণিকের স্বস্তির খোঁজে এখানে এসে ভিড় করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয় এই ব্যবসা। গ্রামাঞ্চল থেকে সরাসরি আস্ত তাল পাইকারি দরে কিনে এনে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে কেটে কেটে বিক্রি করা হয়। একটি তালে সাধারণত ৩ থেকে ৪টি শাঁস পাওয়া যায়। স্থান ও আকারভেদে তালের শাঁসের দামে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে; খুচরা মূল্যে প্রতি শাঁস ২০ থেকে ৪০ টাকা। আস্ত তাল ছোট হলে ৩০ টাকা এবং বড় হলে ৫০ টাকা। বিক্রেতারা গ্রামের গৃহস্থদের কাছ থেকে আকার ও তালের সংখ্যাভেদে একটি গাছের ফল ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় কিনে থাকেন। পাইকারিতে প্রতি পিস তাল ১০ থেকে ২০ টাকায় কেনা পড়ে।
শ্রীমঙ্গল শহরের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘গরম বাড়ার পর থেকে বিক্রি অনেক বাড়ছে।’ উকিলবাড়ি রোড এলাকার আরেক বিক্রেতা জমসেদ আলী জানান, প্রতিদিন তিনি ২০০ থেকে ২৫০টি তাল বিক্রি করছেন। অন্যদিকে, জেলা শহরের সেন্ট্রাল রোডের বিক্রেতা আব্দুস সামাদ জানান, পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে প্রতিদিন তার ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে।
কৃত্রিম বা রাসায়নিকযুক্ত পানীয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও সতেজ এই ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখন সবচেয়ে বেশি। মৌলভীবাজারে ঘুরতে আসা বিভিন্ন পর্যটকরা তালশাঁস খেয়ে বলেন, ‘গরমের এই সময়টায় প্রায় প্রতিদিনই তালশাঁস খাই, পরিবারের জন্যও কিনে নিয়ে যাই।
রিকশাচালক শহিদ মিয়া বলেন, ‘দুপুরের কড়া রোদে রিকশা চালাইয়া যখন জান যায় যায় অবস্থা, তখন দুই-তিনটা তালের শাঁস খেলে শরীরটা অনেক ঠাণ্ডা হয়, কলিজা জুড়ায়।’ গৃহিণী নাজমিন আক্তার ও ব্যবসায়ীর শাহেদুল ইসলাম জানান, কৃত্রিম কোমল পানীয় থেকে শিশুদের জন্য এই ফল অনেক নিরাপদ। এর ভেতরের মিষ্টি পানি ও নরম শাঁস শিশুদের শরীরকে সতেজ ও ঠাণ্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গরমের এই সময়ে কৃত্রিম পানীয় বর্জন করে বেশি বেশি প্রাকৃতিক ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁস কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার সাজেদুল কবির বলেন, ‘তালের শাঁসে প্রচুর জলীয় অংশ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা এই তীব্র গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ এবং বি-কমপ্লেক্স। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তশূন্যতা কমায় এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।’
স্থানীয় বিক্রেতাদের প্রত্যাশা, গরমের এই তীব্রতা আরও কিছুদিন বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে তালশাঁসের চাহিদা ও বিক্রি আরও বাড়বে। জ্যৈষ্ঠের এই ফল একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ক্লান্তি দূর করে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপার্জনে যোগ করেছে এক নতুন গতি।
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী সব ধরনের মৎস্য আহরণের ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পটুয়াখালীতে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর এক যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা জব্দ করেছে।
কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে পটুয়াখালী সদর থানায় টোল প্লাজাসংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া একটি সন্দেহভাজন যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায় যৌথ দল। এ সময় বাসটি থেকে আনুমানিক ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৪,০০০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ এবং ১,৮০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে বাসের ড্রাইভার ও হেল্পারদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পটুয়াখালী উপজেলা মৎস্য প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জব্দকৃত সমস্ত মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা এবং গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বাড়ায় সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না পাওয়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, অতিরিক্ত ভাড়া এবং ট্রেনের বিলম্বের কারণে শ্রমজীবী ও কর্মজীবী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড্ডার মোড় এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়।
যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তের কড্ডার মোড় এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীরা দীর্ঘ সময় গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। বাস ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেকে বিকল্প পরিবহনের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে ভাড়ার অস্বাভাবিক চাপও তাদের সমস্যায় ফেলেছে।
চন্দ্রা এলাকার একটি গার্মেন্টে কর্মরত যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সকাল থেকে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও তিনি এখনো গাড়ি পাননি। তিনি বলেন, ‘ট্রাকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া চাইছে, বাসে ৭০০-৮০০ টাকা। কিন্তু ব্যাগ থাকায় অনেক বাস নিতে চাইছে না।
একই স্থানে প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার কথা জানান আরেক যাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, ‘মিরপুর যাওয়ার জন্য সকাল থেকে বসে আছি। এখন ভাড়াটা বিষয় না, সিটই পাওয়া যাচ্ছে না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে কড্ডার মোড় এলাকায় শত শত যাত্রী একই ধরনের দুর্ভোগে পড়েন।
যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর থেকে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও গতি ছিল ধীর।
যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ঢাকায় পৌঁছাতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে, সেখানে এবার যাত্রা অনেক দীর্ঘ হয়ে পড়েছে। পাবনার বেড়া থেকে ঢাকাগামী যাত্রী খাইরু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকাল ৯টায় রওনা দিয়ে যমুনা সেতু পার হলাম বিকেল ৪টার দিকে। এখনো ঢাকায় পৌঁছানোর সময় নিশ্চিত নয়।’
ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া ও দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় সাময়িক যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে এবং যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রেলপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুর রহমান বলেন, ‘ঢাকাগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। কিছু ট্রেন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করছে।’
জামতৈল স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী শামছুল আলম জানান, ট্রেন ধরতে দুপুরের পর থেকে স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বিলম্বের কারণে ঢাকায় পৌঁছানোর সময় নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে দুর্ঘটনাকবলিত দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাসটির মূলত যে ফেরিতে ওঠার কথা ছিল, সেটিতে না উঠে সেটি দ্রুতগতিতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরির ঢালায় সজোরে আঘাত করে। এর ফলে ফেরির ঢালা ভেঙে বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। ঘাটে বা ফেরি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না, তা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই খতিয়ে দেখছে। তবে প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান কোনো অব্যবস্থাপনা বা ত্রুটি তাঁদের নজরে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী একটি বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনার কারণেই ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে আজ একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বাসে অনেক সময় অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশু যাত্রী থাকার কারণে তাদের নামানো বেশ কষ্টসাধ্য হলেও প্রশাসন এই নিয়মটি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস থেকে শতভাগ যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে পার করার এই নিয়মটি কঠোরভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে।
নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাসের চালক ও হেলপার সুস্থ হয়ে উঠলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের অসতর্কতা কিংবা ফিটনেসের কোনো সমস্যা ছিল কি-না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে তদন্ত কমিটিগুলো দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবে।
দেশজুড়ে যখন মধুমাসের ফল লিচুর সুবাস ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই পাবনার ঈশ্বরদীর লিচু চাষিদের চোখে-মুখে চরম বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছিল এবং চাষিরা লাভের বড় স্বপ্ন বুনেছিলেন।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তীব্র তাপপ্রবাহ আর অনাবৃষ্টি সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছে। কড়া রোদের কারণে গাছে থাকা লিচুর চামড়া পুড়ে কালচে ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
সারাদেশের মধ্যে দিনাজপুরের পরেই লিচুর জন্য বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদী। বর্তমানে এই উপজেলায় রসালো বোম্বাই লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের ধুম চলছে। ঈশ্বরদীর বৃহৎ লিচুর হাট জয়নগরে গিয়ে দেখা যায়, পাকা টকটকে রসালো লিচুর ডালি নিয়ে সারি সারি চাষি বসে আছেন। তবে বাজারের এক কোণায় লক্ষ্য করা গেছে রোদে চামড়া পুড়ে যাওয়া কালচে লিচুর স্তূপ।
হাটে যেখানে ভালো মানের সেরা বোম্বাই লিচু প্রতি হাজার ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে এই বিবর্ণ লিচুর দাম মিলছে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।
লিচু চাষি নাজমুল হোসাইন ও আব্দুল্লাহ আল কাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে লিচু শুধু কালচে হচ্ছে না, গাছ থেকে ঝরেও পড়ছে। এই দাগি লিচুর কোনো ক্রেতা নেই, বাধ্য হয়ে খরচের টাকা তুলতে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর প্রমানিক বলেন, ‘হঠাৎ এই তীব্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা বাজারে লিচুর আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
‘নিজের আঙিনা নিজে পরিষ্কার রাখি’‘সুন্দর ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ি’ —এই প্রতিপাদ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পিরোজপুরে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে পিরোজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা হয়। কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পুকুরটির ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জনসাধারণের কাছে এটি ‘হুজুরের বাড়ির পাশের পুকুর’ হিসেবে পরিচিত। পৌরসভা এলাকার কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় বহু মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় জলাশয়টি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় আমরা পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এটি পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি”।
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ দূষণ রোধে আমাদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বড় শক্তি। নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলার সবকটি পুকুর পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করবো”।
পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জেলা পরিষদ প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।তারা বলেন এই পুকুরটি পরিষ্কার হলে প্রায় এক হাজার পরিবার পুকুরের পানি ব্যবহার করে উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ অভিযানের আওতায় পিরোজপুর জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন মোট ১১২টি পুকুর পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও পরিষ্কার করা হবে।
একসময় মনের ভাব প্রকাশ করা এবং যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। আর সেই চিঠি আদান প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ছিল লাল রঙের পোস্ট বাক্স। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই দেখা যেত ডাক বিভাগের এসব পোস্ট বাক্স। মানুষ প্রিয়জনের খোঁজ খবর নিতে সুখ দুঃখের কথা ও জরুরী বার্তা পৌঁছে দিতে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পোস্ট বাক্স ব্যবহার করত। মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল চিঠি।
আর সেই হাতে লেখা চিঠি হলুদ খামে ভরে আঠা লাগিয়ে মুখ বন্ধ করে ফেলা হত লাল রঙের পোস্ট বাক্সে। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারে চিঠি লেখার প্রচলন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে আগের মত পোস্ট বাক্স এখন আর দেখা যায় না। যা দুই একটা দেখা যায় সেগুলোর করুন অবস্থা।
চিঠির আদান-প্রদান মানব সভ্যতার খুবই প্রাচীন একটি যোগাযোগ পদ্ধতি। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়া এবং মিশর অঞ্চলে লিখিত বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। তখন মাটির ফলক, প্যাপিরাস বা অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে চিঠির প্রচলন শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে সংগঠিত ডাক ব্যবস্থার সূচনা হয় প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। প্রাচীনকালে বাংলায় এবং ভারতীয় উপমহাদেশে কবুতরের পায়ে চিঠি বেঁধে বার্তা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা ছিল যার নাম ছিল "পাইরা ডাক " ব্যবস্থা।
পরবর্তীতে মানুষের প্রয়োজনে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পোস্ট বাক্সকে বেছে নেওয়া হয়। আধুনিক ডাক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রায় ২৫০০ বছর আগে। বর্তমানে সেটাও এখন বিলীনের পথে। আগে পোস্ট বাক্সে হাত দিলে থরে থরে উঠে আসতো চিঠি। একজন পোস্টম্যান কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে সাইকেলে করে চিঠি গুলো পৌঁছে দিতেন ঘরে ঘরে। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের আমূল পরিবর্তন হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি লেখার সেদিনগুলি।
তাইতো কালের সাক্ষী হয়ে অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনো দাঁড়িয়ে আছে মাগুরা সদরের প্রধান ডাক ঘরের সামনে লাল পোস্ট বাক্স টি। আবার কিছু কিছু এলাকায় ডাক বাক্স সংরক্ষণ করা হয়েছে ঐতিহ্যের স্বারক হিসেবে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় পোস্ট বাক্স ছিল মানুষের আবেগ অনুভূতি প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। ডাক পিয়োনের অপেক্ষায় দিন গুণতেন অনেকেই। বর্তমান প্রজন্মের কাছে পোস্ট বাক্সের গুরুত্ব কমে গেলেও এটিকে দেশের ডাক ব্যবস্থার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা মনে করেন, পুরনো পোস্ট বাক্স গুলো সংরক্ষণ করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের পুরাতন যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং অতীতের স্মৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে পারবে।
মাগুরার প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মুকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রযুক্তির কারণে এখন চিঠি লেখা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অফিসিয়ালি কিছু চিঠি কাউন্টারে জমা হয় কিন্তু পোস্ট বাক্সে সাধারণ চিঠি আসার কথা থাকলেও তেমন একটা আসে না।
মাগুরা প্রধান ডাকঘরের একাউন্টেন্ট কামরুজ্জামান জানান, এখন বেশি রেজিস্ট্রি চিঠি আসে। সাধারণ চিঠি আসে না। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মনের ভাব আর আগের মতো প্রকাশ হয় না।আগে যেমন মানুষ অনেকদিন পর পর চিঠির মাধ্যমে একে অপরের খবর নিত এখন আর সেগুলো হয় না। হাতে হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় আগের মত মানুষে মানুষে সেই আন্তরিকতা এখন আর খুব একটা দেখা যায় না।
বর্তমানে শিশুদের কাছে ডাক বাক্স সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা বলতে পারেনা এটা কি। তাই স্থানীয়দের দাবি, হারানো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মাগুরার ডাকবাক্স সহ অন্যান্য জায়গার ডাকবাক্স গুলো নতুন করে সংরক্ষণ করা হোক। যেন নতুন
প্রজন্মরা এটা দেখে যোগাযোগ ব্যবস্থার পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে।
এনসিপি নেতা ও নোয়াখালী -৬ (হাতিয়া) আসনের সাংসদ হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা আব্দুল গাফফারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের পৈতৃক বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল স্থানীয় সাগরিয়া বাজারে এ হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান,রিফাত ও মাহিম সেইফ হোমে ছিল। তখন আমিই হান্নান মাসউদকে সেইফ করছি। তখন তাদের সব গুলো ভিডিও থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করছি। তার কারণে হান্নানের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সাথে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি। ৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন এতে আমি বাধা দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে আমি রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসুদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদকে তার অনুসারীদের আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানাই। তিনি বলেন, তার ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শুনেনা। তারা যা করার করুক।
ছাত্রদল নেতা গাফফার অভিযোগ করে আরও বলেন, সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে, প্রধান ফটকে হামলা করে। পরবর্তীতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভয়ে আছে। মা-বাবা বলছে আমি যেন আর কোন বক্তব্য না দেয়। আবারও তারা বাড়িতে হামলার আশঙ্কা করছে।
হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিজ বলেন, ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে এটা এনসিপির নেতাকর্মি করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মিরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সে গুলো ট্যাকেল দিয়ে উঠতে পারিনা। আমি আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব। পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক করা হয়েছে। যাতে করে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক কি করতে পারে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার, ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মারছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার অংশ বিশেষ ভেঙ্গে যায়। কে মারছে কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাস চাপায় স্বামী স্ত্রীসহ অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। শুক্রবার ( ৫ জুন ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগরা হেজুলতলা গ্রামের ফজিলা খাতুন (৪৫), তার স্বামী মোতালেব সরকার (৫৫) এবং অটোভ্যান চালক নরুল হক (২৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন নিহত দম্পতির মেয়ে তামান্না খাতুন (১৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে অটোভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিন জন নিহত হয়।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা এক্সপ্রেস বাসের সামনে গিয়ে পড়ে। মূহূর্তে বাসটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে তিন যাত্রী নিহত হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আহত হয় তামান্না খাতুন নামে এক যাত্রী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাড়ে ৭শ কেজি নকল কিটনাশক উদ্ধার করা হয়েছে। নকল কিটনাশক তৈরী ও মজুদের দায়ে এক নারীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের প্রামানিকপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
জানা যায়, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মহির উদ্দিনের ভাই প্রামানিকপাড়ার মো. ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৫৫) ও ছেলে নুর মোহাম্মদ নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকে নকট কিটনাশক তৈরী করে বিভিন্ন কোম্পানীর মোড়কে বাজারজাত করে আসছে। এই খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার আরেফিন সিদ্দিকের তথ্যানুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা অভিযান চালান।
এসময় ওই বাড়িতে নকল কিটনাশক তৈরী করা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় হাতে নাতে সাজেদা বেগম কে বালি, ইটের গুড়া ও রং দিয়ে নকল কিটনাশক তৈরী করা অবস্থায় পাওয়া যায়। একইসাথে ঘরে প্যাকেটজাতকৃত ৩০০ কেজি আর বস্তায় রাখা খোলা অবস্থায় সাড়ে ৪০০ কেজি নকল কিটনাশক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সাজেদা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট। আর জব্দকৃত নকল কিটনাশক নিয়ে আসে কৃষি বিভাগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ মূলত: মহির মেম্বারের প্রশ্রয়ে তার ভাতিজা অটোচালক নুর মোহাম্মদই এই কিটনাশক তৈরী করে বিক্রি করেন। অভিযানকালে সে বাড়িতে থাকলেও প্রশাসন শুধু তার মায়ের কথা অনুযায়ী জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ তাদের তৈরি নকল কিটনাশক ব্যবহার করে কৃষক প্রতারিত হচ্ছেন। এর সাথে সৈয়দপুরের প্রতিষ্ঠিত কিটনাশক ও সার ব্যবসায়ী জড়িত। প্রশাসন তথা কৃষি বিভাগ বিষয়টা জানলেও মূল হোতাদের ধরছেন না আর ধরলেও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। পাশাপাশি নকল কিটনাশকগুলো নদীতে ফেলে এবং মোড়কগুলো আগুনে পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জব্দকৃত কিটনাশকগুলেঅ বসুনিয়াপাড়া ব্রিজের নিচে খরখরিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্যাকেটকৃতসহ অব্যবহৃত অবস্থায় প্রাপ্ত মোড়কগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মুলত: আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এখানে সম্পূর্ণ নতুন করে নকল কিটনাশক তৈরী করা হচ্ছিল। আর এগুলো এখনো বাজারে যায়নি। তাই কৃষকের হাতেও যায়নি এবং কোন প্রকার ক্ষতিই হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নকল কিটনাশকে মূলত: কোন প্রকার রাসায়নিক বা কিটনাশকের কোন উপাদান নাই। শুধু বালু, ইটের গুড়া আর রং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাই এগুলো নদীতে ফেলায় কোন দূষণ হওয়ার আশঙ্কা নেই। সেকারণেই সেগুলো নদীতে ফেলে নষ্ট করা হয়েছে। পরিবেশ দূষনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্যাকেটগুলো মাটিতে পুঁতে রাখলে আরও বেশি ক্ষতি হতো।
অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, নকল কিটনাশক তৈরির দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনে একজন নারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত খোলা ও প্যাকেটজাত নকল কিটনাশক জব্দ করে কৃষি কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা এগুলো ধ্বংস করার কথা। তবে খোলা জায়গায় পলিথিনের মোড়ক পোড়ানো বা নকল কিটনাশক নদীতে ফেলা দেওয়া ঠিক হয়নি।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের (ঠেলে পাঠানোর) একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ—এমন অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে জড়ো করে যানবাহনে করে সীমান্তের কাছাকাছি এনে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি।
৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।
দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনো মেনে নেব না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমরাও সীমান্তবাসী হিসেবে বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করছি।’
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই তা সমর্থন করিনি। সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশ ইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জনবল বাড়ানো হবে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’