ছোট-বড় অসংখ্য টিলা নিয়ে সিলেট। এসব টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই টিলার নিচে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের পাহাড়টিলা ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণহানির শঙ্কাও বেড়েছে। গত শনিবারই সিলেটের অন্তত ৪টি স্থানে টিলাধসের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়েছে এক শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া টিলা ধসে অন্তত ৪টি ঘর ভেঙে গেছে।
শনিবার সিলেট সদর উপজেলার খাদিম চা বাগান এলাকায় টিলা ধসে এক শিশু মারা যায়। এ ছাড়া নবীগঞ্জে টিলা ধসে আহত হয়েছেন দশজন। আর জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলা ধসে তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে নগরের আখালিয়ায়ও। পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টি হয়েছে রোববারও। ফলে বেড়েছে টিলা ধসের শঙ্কাও।
সিলেটে কী পরিমাণ মানুষ টিলার পাদদেশে বসবাস করেন সরকারিভাবে এর কোনো তালিকা নেই, তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পরিবার টিলার পাদদেশে বসবাস করছে। মূলত কম ভাড়ায় কিংবা বিনা ভাড়ায় থাকতে পারার কারণেই দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। আবার কিছু গোষ্ঠী টিলা কাটা বা দখলে রাখার জন্য টিলার পদদেশে ঘর বানিয়ে ভূমিহীনদের কম ভাড়ায় বরাদ্দ দেয়।
যদিও ২০১২ সালে সিলেটের পাহাড়-টিলা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এক রায়ে টিলার ওপর ও পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
সিলেট নগরের হাওলাদারপাড়া এলাকার একটি টিলার নাম জাগো টিলা। উঁচু এই টিলার একেবারে কিনারা ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি ঘর। ওপরের ঘরগুলোর ঠিক নিচে, টিলার পাদদেশেও ঘর রয়েছে কয়েকটি। টিলার ওপরে ও ঢালে বসবাস করা সব পরিবারের বাসিন্দাই রয়েছেন ঝুঁকিতে। প্রাণের শঙ্কা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন এখানে।
জাগোটিলার ওপর ঘর বানিয়ে বাস করা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সরকারি টিলা। ভাড়া দিতে হয় না। তাই আমরা এখানে ঘর বানিয়ে থাকি।’
ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভয় তো আছেই। বৃষ্টি দিলে ভয় আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। জায়গা কেনার সামর্থ্য নেই। ঘর ভাড়া করাও অনেক খরচের। তাই ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিলার ওপরে ও পাদদেশে বসবাসকারী বেশিরভাগ লোকজনই এ রকম দরিদ্র। স্থানীয় প্রভাবশালীরা টিলা কাটা ও দখলের জন্য দরিদ্রশ্রেণির লোকজনদের বসিয়েছেন। আবার কম টাকায় পেয়ে টিলার পাদদেশে জমি কিনেও ঘর বানিয়েছেন অনেকে।
বাংলাদেশ পরিবশে আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসাব মতে, সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৪০০ পাহাড়-টিলা রয়েছে। এসব টিলার ওপর ও পাদদেশে অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে।
পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই বলেন, আমরা বছর তিনেক আগে একটা জরিপ চালিয়ে দেখেছিলাম জেলায় টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছেন। এখন এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।
তিনি বলেন, বসবাসের জন্য এসব টিলার অনেকাংশ কেটে ফেলায় টিলাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এগুলো ধসে পড়ে প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে।
অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটা, বৃক্ষ উজাড় ও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের ফলে বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ছে বলে মত এই পরিবেশকর্মীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, পীরমহল্লা ব্রাহ্মণশাসন জাহাঙ্গীরনগর, তারাপুর চা বাগান এবং নগরের উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। এ ছাড়া জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।
কী পরিমাণ লোক টিলার ওপর ও পাদদেশে বসবাস করেন এমন তথ্য নেই জানিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নে এ রকম টিলার পাদদেশে লোকজন বসবাস করেন। আমরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানদের দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।
ইউএনও বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যারা টিলার পাদদেশে বসবাস করেন তারা সরতে চান না। কাউকে জোর করে সারালেও কিছুদিন পর তারা আবার ফিরে আসেন।
তবে টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও প্রাণহানির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ২০১২ সালে আমাদের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে পাহাড়-টিলা সংরক্ষণ ও তার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষজনকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু ওই রায়ের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, কী পরিমাণ লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন তারও কোনো হিসেব নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। তাদের পুনর্বাসন বা টিলা সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নেই। বরং টিলা ধ্বংস করে অনেক প্রকল্প আছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বারবার এ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।
টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাকারীদের সরানো যায় না দাবি সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানেরও। তিনি বলেন, ‘টিলার ওপরে ও পাদদেশে যারা বসবাস করেনম চেষ্টা করেও তাদের অন্যত্র সরানো যায় না। এ বছরও আমরা সব ইউএনওর মাধ্যমে মাইকিং করিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছি। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।’
তিনি বলেন, এটা একটা বড় সমস্যা। তাদের কীভাবে সরানো যায় ও পুনর্বাসন করা যায়, এ নিয়ে ভাবছি। তাদের মধ্যে যদি কেউ ভূমিহীন থেকে থাকেন, তাহলে প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
মায়ের কোলে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে পাঁচ বছরের জান্নাতুল মাওয়া আফরা। কখনো মায়ের মুখের দিকে, কখনো ঘরে আসা মানুষের দিকে তাকাচ্ছে। প্লে শ্রেণির এই শিশুটি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি, যে বাবা প্রতিদিন হাত ধরে তাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, সন্ধ্যা হলেই যার ফেরার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকত, সেই মানুষটি আর কখনো ফিরবেন না।
আফরার বাবা দিদারুল আলম (৩২) চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী শারমিন আক্তার ও একমাত্র কন্যাকে নিয়ে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।
শারমিন আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। মেয়ে আফরার পরীক্ষা থাকায় দিদারুল কিছুটা দেরিতে কাজে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাশতা শেষে তিনি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তখন দিদারুল বলেছিলেন, 'তুমি যাও, মেয়ের পরীক্ষা শেষ করে আসো। আমি বাসায় আছি।' এটাই ছিল তাদের শেষ স্বাভাবিক কথা।
স্কুলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর একটি ফোন পান শারমিন। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তখনও তিনি ধারণা করেছিলেন, স্বামী বাসায় আছেন। পরে জানতে পারেন, দিদারুল ইতোমধ্যে কারখানায় গিয়েছিলেন এবং বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন।
খবর পেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ছুটে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, দিদারুলের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে সব চেষ্টা চালানো হলেও বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্বামীর শেষ মুহূর্তের স্মৃতি তুলে ধরে শারমিন বলেন, 'শেষবার শুধু বলেছিল, আমাকে মাফ করে দিও। আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো। তখন বুঝিনি, এটাই ওর শেষ কথা।'
ছয় বছরের সংসারে আফরাই ছিল তাদের একমাত্র সন্তান। দিদারুল চার বোনের একমাত্র ভাই। মা আগেই মারা গেছেন। বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় আগুন ও বিস্ফোরণে ১১ শ্রমিক দগ্ধ হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে দিদারুল আলমের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
দিদারুল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বদন আলীর বাড়ির বাসিন্দা এবং রুহুল আমিনের ছেলে। পরিবারের চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি।
আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি, কোথায় চলে গেলিরে তুই! আমার বুকে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না আমার সোনার ছেলে। রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর পদক বুকে নিয়ে এভাবেই আহাজারি করছেন সাদিকের মা।
সাদিকের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আমার বুকের ধন সাদিক ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। সাদিকের সাথে আমার তিন দিন আগে কথা হয়েছিল। সামনে সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলে জানিয়েছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে আমাকে ডাকবে না, আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকব। আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে আমি তা মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক মেজো। ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পাওয়া সাদিক চমৎকার ফুটবলও খেলতেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক। নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন তিনি। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার কাজ। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন।
গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমিসহ গোয়ালন্দের অনেক ফুটবল দলের গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। সাদিক একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো ছেলে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুম্মার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ বাড়িতে এনে সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রকৃতভাবে তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান কুড়িগ্রামে। প্রতি বছর জলবায়ুর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে জেলার কৃষকরা। এসব ক্ষতি মোকাবিলায় জেলার কৃষকরা এখন জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতিতে অমৌসুমি বা বারোমাসি ফসল চাষাবাদ করে ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ঝাড়খোলা গ্রামের কৃষক জামান মিয়া অমৌসুমি বা বারোমাসি তরমুজ চাষ করেছেন। মাত্র ২৫ শতক জমিতে পলিটানেল পদ্ধতিতে ব্যবহার করে তিনি সাড়ে ৩ শতাধিক তরমুজের চারা রোপণ করেছেন। জমির চারপাশে নাইলন জালের বেড়া এবং পলিটানেল পলিথিনের সুড়ঙ্গাকার ছাউনি দিয়েছেন। এর মধ্যে জিআই তার ও বাঁশের তৈরি মাচাসহ ফেরোমন, বিষটোপ ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করেছেন। যা কৃষিতে গ্রিনহাউসের মতো কাজ করে। এটি ফসলকে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, অতিবৃষ্টি এবং তাপমাত্রাসহ ক্ষতিকারক পোকামাকড় এবং পাখির আক্রমণ থেকে গাছ ও ফল রক্ষা করে। এ ছাড়া ছত্রাকজনিত রোগের প্রভাবও হ্রাস পায়। পলিটানেলের ভেতরে আর্দ্রতা সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে বাষ্পীভবন কমে যায় এবং মাটিতে জলের অপচয় অনেক কম হয়। নিয়ন্ত্রিত ও অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে এবং উন্নত মানের ফসল উৎপাদন করার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কম হয়।
সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের খালিশা কালোয়া গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান ১৫ শতক জমিতে ৩ শতাধিক বারোমাসি তরমুজ চাষ করেছেন। যা দেখতে ছোট, লম্বাটে, ডিম্বাকার, কালো খোসা, ভেতরে টকটকে লাল শাঁসযুক্ত তরমুজ। তরমুজগুলো অসময়ে ওঠার কারণে বাজারে চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। দিন দিন অমৌসুমি তরমুজ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জেলায়। ছোট আকারের বারোমাসি তরমুজের বেশ কয়েকটি জাতের বীজ এ দেশে এখন পাওয়া যাচ্ছে। এসব জাতের মধ্যে হাইব্রিড চায়না, থাইল্যান্ড, সুইট বেবিু, সুইটকর্ন ইত্যাদি। এসব জাত বছরের যেকোনো সময় চাষ করা যায়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ জাতের তরমুজের চারা লাগানো যায়। বিঘায় ১২০০ থেকে ১৪০০টি চারা লাগানো যায়। এ ছাড়া বারোমাসি তরমুজ চাষের জন্য বিঘাপ্রতি জৈব সার বা ভামিং কম্পোস্ট ২০০ কেজি, ইউরিয়া ৪০ কেজি, টিএসপি ৪০ কেজি, এমওপি ৪০ কেজি, জিপসাম ২০ কেজি, জিংক সালফেট ১ কেজি ও বোরণ সার দেড় কেজি। সব সার বেড তৈরির সময় বেডের মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
কৃষক গোলজার বলেন, ‘আমি মে মাসের শুরুতে এই তরমুজের চারা রোপণ করেছি। এতে আমার বাঁশের মাচা, শ্রমিক, সারসহ প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই প্রথম দফায় আমি ৭০টি তরমুজ তুলেছি। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ৩-৪ কেজি ওজন হয়েছে, দুই হাজার টাকা দরে মণ বিক্রি করেছি। সামনে আরও দুইবার এই তরমুজ তুলতে পারব। সামনে আরও দুইবার ফলন তোলার পাশাপাশি কোনো খরচ না করে পুনরায় দুবার তরমুজ রোপণ করা যাবে। এতে করে বছরে তিনবার তরমুজ এবং একবার সবজি চাষ করা যাচ্ছে।’ ফলে এক জমিতে একাধিকবার আবাদ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
জামান মিয়া বলেন, ‘জেলার আবহাওয়ার এখন ঠিক নেই। অতিবৃষ্টি আর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আবাদে সমস্যা হচ্ছে। এমনও হয় আবাদ নষ্ট হয়ে যায়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবার পলিটানেল ব্যবহার করে প্রথমবার তরমুজ চাষ করতেছি। পলিটানেল ব্যবহারের ফলে অতিবৃষ্টি ও অতিতাপ নিয়ন্ত্রণ হয়। এ ছাড়া জৈব সার, মালচিং পদ্ধতি, বাঁশের তৈরি মাচা, জিআই তার, নাইলনের জাল, ফেরোমন, হলুদ ফাঁদ, বিষটোপ ব্যবহার করে বারোমাসি তরমুজ আবাদ করছেন।
কৃষাণি জেসমিন আরা এবং খাদিজা বলেন, ‘অমৌসুমি বা বারোমাসি তরমুজ আবাদ করে কৃষকরা বছরে ৩ থেকে ৪ বার ফসল ফলিয়ে খাদ্য নিজেদের চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হচ্ছেন।’
আরডিআরএস, বাংলাদেশ রংপুর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের জমি যেন সারা বছর উৎপাদনমুখী হয় সে জন্য আরডিআরএস ও পল্লী-কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক-কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। এই কার্যক্রম জেলায় ছড়িয়ে দিতে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।’
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মেহিদী হাসান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ভূরুঙ্গামারী এবং উলিপুর ৩৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। অমৌসুমি বা বারোমাসি তরমুজ চাষ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আমরা কৃষক বিভাগ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি।’
অভাবের সংসারে একসময় দিনমজুর হিসেবে অন্যের বাড়িতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন হাজিমুল ইসলাম। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে আজ তিনি সফল উদ্যোক্তা। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ঠেলাপীর এলাকার উত্তর সোনাখুলী ডাঙ্গাপাড়ার এই উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠিত ‘আরিফুল হস্ত শিল্প’-এ তৈরি পরিবেশবান্ধব বাঁশ ও বেতের পণ্য এখন দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি বায়ারদের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারেও পৌঁছাচ্ছে।
হাজিমুল ইসলামের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি সংগ্রামের। দীর্ঘদিন অন্যের অধীনে সিলিং তৈরির কাজ ও দিনমজুরি করলেও নিজের কিছু করার স্বপ্ন ছিল। অর্থের সংকট সেই স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। স্মার্টফোনে ইউটিউব দেখে বাঁশের বিভিন্ন পণ্য তৈরির কৌশল রপ্ত করেন তিনি। পরে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে কয়েকটি পানির মগ তৈরি করেন। সেই মগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরই আসে ক্রেতাদের সাড়া। সেখান থেকেই শুরু হয় তার উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা।
ক্রমেই চাহিদা বাড়তে থাকলে ছোট উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করে গড়ে তোলেন ‘আরিফুল হস্ত শিল্প’। বর্তমানে সেখানে আধুনিক ডিজাইনের বাঁশের মগ, ট্রে, ল্যাম্পশেড, ফুলদানি, শোপিস, ফল ও সবজি রাখার ঝুড়ি, ঘর সাজানোর বিভিন্ন সামগ্রী এবং বাঁশের তৈরি সোফাসেটসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প তৈরি হচ্ছে।
অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা নিয়মিত অর্ডার দিচ্ছেন। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের পর্যটন এলাকাগুলোতেও এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া বায়ারদের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে এসব পরিবেশবান্ধব পণ্য।
হাজিমুল ইসলামের এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের জীবনই বদলে দেয়নি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে আরও ১৫ জন নারী-পুরুষের। কারখানায় কাজ করে এখন অনেক পরিবারের জীবনযাত্রায় এসেছে সচ্ছলতা।
কারখানার শ্রমিক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আগে সংসারে সবসময় অভাব ছিল। এখন এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় করছি। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসারেও সহযোগিতা করতে পারছি।’
শ্রমিক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ার পর বাঁশের কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছিল। এখন আবার এই কারখানায় কাজ করে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারছি।’
আরেক শ্রমিক ববিতা রানি রায় বলেন, ‘এই কাজের আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের খরচ চালাতে অনেক সহায়তা হচ্ছে।’
উদ্যোক্তা হাজিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আগে অন্যের বাড়িতে সিলিং তৈরির কাজ করতাম। পরে ইউটিউব দেখে বাঁশের মগ তৈরি শুরু করি। আল্লাহর রহমতে আজ আমার পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে, এমনকি ইউরোপেও রপ্তানি হচ্ছে। মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমার সঙ্গে আরও ১৫টি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। সরকারি প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা হলে উৎপাদন ও রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’
নীলফামারী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক নূরেল হক বলেন, ‘হাজিমুল ইসলামের উদ্যোগটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিসিকের পক্ষ থেকে তাকে এক লাখ টাকা বিনাসুদে ঋণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারখানার শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।’
স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে হাজিমুল ইসলামের এই উদ্যোগ এখন গ্রামীণ ক্ষুদ্র শিল্পের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে এমন উদ্যোগ দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গত ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ৪ দিনের অতিবৃষ্টিতে খুলনা জেলায় মাছ চাষ ও সবজি চাষে প্রায় ১১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। খুলনা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ায় জেলার মৎস্য চাষ ও কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকায়। আকস্মিক এই বন্যায় তলিয়ে গেছে শত শত ঘের ও ফসলি জমি, যা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে স্থানীয় চাষিদের।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান জানান, খুলনা জেলার ৯টি থানায় ৪ দিনের অতি বৃষ্টিতে মোট ৮টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি দিঘলিয়াতে হয়েছে ৪টি। মোট খতিগ্রস্ত পুকুর, দিঘি ঘেরের সংখা ১,৪৬২টি।
তিনি আরও জানান, এই চার দিনে মোট ক্ষতির আর্থিক হিসাব প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যার ৬০ শতাংশই চিংড়ি চাষিদের ক্ষতির পরিমাণ।
খুলনা বিভাগের চিংড়ি চাষের কেন্দ্র স্থল ডুমুরিয়াতে প্রায় ৬৫০টি ঘেরে মাছ চাষিদের ক্ষতি হয়েছে সব থেকে বেশি, যার পরিমান ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সাদা মাছ চাষিদের ক্ষতি ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ও চিংড়ি চাষিদের ক্ষতি ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর অবকাঠামো গত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ টাকার মতো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মেদ মিনা জানান, জেলায় এ মুহূর্তে আউশ ও রোপা আমন ধানের চাষ হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি, তরমুজ, মরিচ, পান ও ধইঞ্চার ও চাষের তথ্য আছে তাদের কাছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জুলাই (১৪ তারিখ পর্যন্ত) জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪২৪ মিমি, যা গত বছর ৩৬০ মিমি ছিল।
আগাম প্রস্তুতি না নেওয়া হলে সামনের দিনগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোঃ নূরনবী ভুঁইয়া। এছাড়াও একই ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ও মহিলাদলের নেত্রীদের স্ব স্ব ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন।
রূপগঞ্জ ইউনিয়নের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে নূরনবী ভুঁইয়া রূপগঞ্জ ইউনিয়নের সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ সময় তিনি বলেন, নতুন প্রশাসক হিসেবে আমার কাজ হচ্ছে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যদের কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়ব। এদিকে নতুন প্রশাসক হওয়ার খবর পেয়ে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নূরনবী ভুঁইয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করেছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন হিসাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হলেন, মুশুরী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ভুঁইয়ার ছেলে মোঃ নূর নবী ভুঁইয়া।
ইউপি সদস্য হিসেবে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, ১নং ওয়ার্ডে মোঃ ওবায়দুল হক ইয়াজুল, ২নং ওয়ার্ডে তৈয়বুর রহমান, ৩নং ওয়ার্ডে মোঃ সফিউদ্দিন মোল্লা, ৪নং ওয়ার্ডে মোঃ শরীফ মিয়া, ৫নং ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডে মোঃ মামুন হোসেন ভূঞা,৭নং ওয়ার্ডে সাইদুর রহমান, ৮নং ওয়ার্ডে মোঃ বাচ্চু মিয়া, ৯নং ওয়ার্ডে মোঃ আল আমিন মাসুদ প্রমূখ।
একই প্রজ্ঞাপনে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য হিসেবে মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মহিলা দল নেত্রী সেলিনা আক্তার, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে পিতলগঞ্জের বাসিন্দা মহিলাদল নেত্রী হাসনারা বেগম, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে মুশুরী গ্রামের বাসিন্দা মহিলাদল নেত্রী রুমি আক্তারকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলমের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর মিঠামইন হেলিপ্যাড ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রায় লক্ষাধিক শোকার্ত মানুষ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাদ এশা কিশোরগঞ্জ শহীদী মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মিঠামইন হেলিপ্যাড ময়দানে আয়োজিত এই জানাজায় বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সেক্রেটারি মাজারুল ইসলাম, জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান জিএস শরিফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় এই নেতার শেষ বিদায়ে পুরো এলাকায় এক শোকাবহ ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীর আলম। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের দামুড়হুদা উপজেলা সদর ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অদূরে ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরের দিকে সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত সড়কে গাছ ফেলে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসসহ কয়েকটি যানবাহনে ডাকাতি চালায়।
দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়কের ওপর গাছ ফেলে। প্রথমে তারা দামুড়হুদা দশমী গ্রামের নছর আলীর ছেলে ভ্যানচালক জুয়েলের পথরোধ করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে ডাকাতরা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে।
মেহেরপুরের গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, একই এলাকার রামনাম পশ্চিম পাড়ার মো জিনারুল ইসলাম, সেন্টু মিয়া, আরিফুল ইসলাম ,জিহাদ আলী, একই এলাকার হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী মেহেরনিগা, মুন্নাতের স্ত্রী হামিদা খাতুন, আবু হুরাই, আলিফ হোসেন, ও মহির উদ্দিন এবং নাম না জানা আরো অনেকে। আহতরা অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, বারো জনকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। গত সপ্তাহতেও তিনজনকে কামড় দিয়েছে। দুটি কুকুর এক সাথে লোকজনের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল।
একপর্যায়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। স্থানীয়রা পরে একহয়ে কুকুর দুটিকে মেরে ফেলেছে। আহতরা বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মেন্দা কুঠিপাড়া এলাকায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাদক সেবনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মেন্দা কুঠিপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আরমান হোসেন (২২)-কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিজানুর রহমান জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছয়জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার শাওরাইদ বাজার ও বালীগাঁও এলাকায় মাদক সেবনের অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বালীগাঁওয়ের আরাজ আলীর ছেলে ইব্রাহিম, ভাড়া মিয়ার ছেলে রমজা, সাটিয়া বাজারের মান্নানের ছেলে বিপিন, দপ্তরী কলোনির আমোদ আলীর ছেলে মানিক মিয়া, শোভানপুরের নঈমুদ্দিনের ছেলে আকিবুল ইসলাম এবং তাহমিনা বেগম।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম শেখ। বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সামসুন নাহার সিমু।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মৎস্য আইন বাস্তবায়নে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নওগাঁ হাট থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বাজার মনিটরিং ও দেশীয় মাছ রক্ষায় পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাড়াশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হোসেন।
অভিযানে নওগাঁ হাটে মৎস্য আইনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্রি করতে থাকা ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দীনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা কালাম হোসেন (৪১), পিতা মৃত মির বক্স। প্রায় এক বছর ধরে লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসা জরুরি। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটে এখন মানবিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।
একসময় মাইক্রোবাস চালিয়ে সংসার চালাতেন কালাম হোসেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে আর গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। শুধু ওষুধ কিনতেই প্রতি মাসে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিবার জানায়, অসুস্থ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আশায় দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হারান কালাম। পরে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শেষ সম্বল প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতক জমি আপন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালামের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও নেই বললেই চলে। আগামী দিনের খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। তবুও সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বর্তমানে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও কিছু মানবিক মানুষের সহায়তায় কোনোমতে চিকিৎসা ও সংসার চলছে।
কালাম হোসেন বলেন, আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।
এ নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, লিখিত দরখাস্ত পেলে সমাজসেবাসহ তিনটি দপ্তরের পর্যালোচনায় তার রোগ অনুযায়ী সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তার হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।
মানবিক সহায়তা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা কালাম হোসেনের বিকাশ/নগদ নম্বর: ০১৭১৭-১৩৮৮০৮-এ যোগাযোগ বা আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।
চিকিৎসার অর্থসংকটে প্রতিটি দিনই কালামের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবারটির মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।