ছোট-বড় অসংখ্য টিলা নিয়ে সিলেট। এসব টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই টিলার নিচে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের পাহাড়টিলা ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণহানির শঙ্কাও বেড়েছে। গত শনিবারই সিলেটের অন্তত ৪টি স্থানে টিলাধসের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়েছে এক শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া টিলা ধসে অন্তত ৪টি ঘর ভেঙে গেছে।
শনিবার সিলেট সদর উপজেলার খাদিম চা বাগান এলাকায় টিলা ধসে এক শিশু মারা যায়। এ ছাড়া নবীগঞ্জে টিলা ধসে আহত হয়েছেন দশজন। আর জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলা ধসে তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে নগরের আখালিয়ায়ও। পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টি হয়েছে রোববারও। ফলে বেড়েছে টিলা ধসের শঙ্কাও।
সিলেটে কী পরিমাণ মানুষ টিলার পাদদেশে বসবাস করেন সরকারিভাবে এর কোনো তালিকা নেই, তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পরিবার টিলার পাদদেশে বসবাস করছে। মূলত কম ভাড়ায় কিংবা বিনা ভাড়ায় থাকতে পারার কারণেই দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। আবার কিছু গোষ্ঠী টিলা কাটা বা দখলে রাখার জন্য টিলার পদদেশে ঘর বানিয়ে ভূমিহীনদের কম ভাড়ায় বরাদ্দ দেয়।
যদিও ২০১২ সালে সিলেটের পাহাড়-টিলা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এক রায়ে টিলার ওপর ও পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
সিলেট নগরের হাওলাদারপাড়া এলাকার একটি টিলার নাম জাগো টিলা। উঁচু এই টিলার একেবারে কিনারা ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি ঘর। ওপরের ঘরগুলোর ঠিক নিচে, টিলার পাদদেশেও ঘর রয়েছে কয়েকটি। টিলার ওপরে ও ঢালে বসবাস করা সব পরিবারের বাসিন্দাই রয়েছেন ঝুঁকিতে। প্রাণের শঙ্কা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন এখানে।
জাগোটিলার ওপর ঘর বানিয়ে বাস করা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সরকারি টিলা। ভাড়া দিতে হয় না। তাই আমরা এখানে ঘর বানিয়ে থাকি।’
ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভয় তো আছেই। বৃষ্টি দিলে ভয় আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। জায়গা কেনার সামর্থ্য নেই। ঘর ভাড়া করাও অনেক খরচের। তাই ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিলার ওপরে ও পাদদেশে বসবাসকারী বেশিরভাগ লোকজনই এ রকম দরিদ্র। স্থানীয় প্রভাবশালীরা টিলা কাটা ও দখলের জন্য দরিদ্রশ্রেণির লোকজনদের বসিয়েছেন। আবার কম টাকায় পেয়ে টিলার পাদদেশে জমি কিনেও ঘর বানিয়েছেন অনেকে।
বাংলাদেশ পরিবশে আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসাব মতে, সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৪০০ পাহাড়-টিলা রয়েছে। এসব টিলার ওপর ও পাদদেশে অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে।
পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই বলেন, আমরা বছর তিনেক আগে একটা জরিপ চালিয়ে দেখেছিলাম জেলায় টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছেন। এখন এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।
তিনি বলেন, বসবাসের জন্য এসব টিলার অনেকাংশ কেটে ফেলায় টিলাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এগুলো ধসে পড়ে প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে।
অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটা, বৃক্ষ উজাড় ও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের ফলে বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ছে বলে মত এই পরিবেশকর্মীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, পীরমহল্লা ব্রাহ্মণশাসন জাহাঙ্গীরনগর, তারাপুর চা বাগান এবং নগরের উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। এ ছাড়া জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।
কী পরিমাণ লোক টিলার ওপর ও পাদদেশে বসবাস করেন এমন তথ্য নেই জানিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নে এ রকম টিলার পাদদেশে লোকজন বসবাস করেন। আমরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানদের দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।
ইউএনও বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যারা টিলার পাদদেশে বসবাস করেন তারা সরতে চান না। কাউকে জোর করে সারালেও কিছুদিন পর তারা আবার ফিরে আসেন।
তবে টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও প্রাণহানির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ২০১২ সালে আমাদের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে পাহাড়-টিলা সংরক্ষণ ও তার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষজনকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু ওই রায়ের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, কী পরিমাণ লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন তারও কোনো হিসেব নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। তাদের পুনর্বাসন বা টিলা সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নেই। বরং টিলা ধ্বংস করে অনেক প্রকল্প আছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বারবার এ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।
টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাকারীদের সরানো যায় না দাবি সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানেরও। তিনি বলেন, ‘টিলার ওপরে ও পাদদেশে যারা বসবাস করেনম চেষ্টা করেও তাদের অন্যত্র সরানো যায় না। এ বছরও আমরা সব ইউএনওর মাধ্যমে মাইকিং করিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছি। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।’
তিনি বলেন, এটা একটা বড় সমস্যা। তাদের কীভাবে সরানো যায় ও পুনর্বাসন করা যায়, এ নিয়ে ভাবছি। তাদের মধ্যে যদি কেউ ভূমিহীন থেকে থাকেন, তাহলে প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু ধসে পড়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে নিহত শিশুদের দাফন সম্পন্ন হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছেন প্রতিবেশীরা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে দাফন ও অন্যান্য খরচের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে পবিত্র ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনের ওই ভাসমান সেতুটিতে অতিরিক্ত মানুষের ভিড় তৈরি হয়েছিল। মানুষের ভার সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ সেতুটি ভেঙে পড়লে অনেকেই নদীতে পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড়রা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বেশ কয়েকজন শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং দীর্ঘ তল্লাশির পর একে একে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুরা হলো ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের মায়ামনি ও মিহাদ, ঝালুরচর এলাকার আব্দুল মোতালেব ও খাদিজা এবং বেলতলি এলাকার আবির হোসেন। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. ইউসুপ আলী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভূমি অফিসের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাদা কাফনে মোড়ানো মরদেহগুলো অশ্রুসিক্ত নয়নে গ্রহণ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ির পথে রওনা দেন স্বজনরা। শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহতরা হলেন— নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লাহর ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), সুধারাম থানার মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মোমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮), লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মো. সিরাজুল দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯), ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পিন্টুর মেয়ে লাইজু আক্তার (২৬), খাদিজা আক্তার (৬) ও মরিয়ম আক্তার (৪), সদর উপজেলার মো. মোকতার বিশ্বাসের ছেলে মো. জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার ওহাব শেখের ছেলে ফসিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম (৬২) এবং তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৫৫)।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষও নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার সব ব্যয় সরকার বহন করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ১৫ জন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত প্রলম্বিত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সময়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কঠিন সময়, আমাদেরকে স্বীকারই করতে হবে। একে তো অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সাথে সাথে এই যে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে, সেটার কারণে অর্থনীতির উপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ যদি চলতে থাকে চাপটা আরো বাড়তে থাকবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায় খুব সজাগ আছি। ইতোমধ্যে আমাদের জ্বালানি যে প্রকিউরমেন্ট—ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখনো অব্যাহত আছে; যাতে জ্বালানির অভাবে মিল-কারখানা, পাওয়ার সেক্টর বাধাগ্রস্ত না হয়। সেটা এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।’
আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আর্থিক চাপ বাড়বে। তবে এখন পর্যন্ত সরকার এই সংকটের আঁচ সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে দেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের হাতে নেই। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। এখনও পর্যন্ত সরকার যুদ্ধের চাপ জনগণের ওপর পড়তে দেয়নি, তবে ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সংযমী হতে হবে।’
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি জানান, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ভিন্ন ভিন্ন উৎস বের করেছে। আলাদা উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ কার্যক্রম এখনও চলমান আছে। ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়। এবারের ঈদে জ্বালানি নিয়ে সাধারণের ওপর কোনো চাপ পড়েনি। সবাই মুক্তভাবে ঈদ উদযাপন করেছে।’
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশকে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক শিক্ষক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও আইনের শাসনের বাংলাদেশ চাই।” পাশাপাশি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের অনেকের হাতের আঙুলে ভোটের কালি এখনো মুছে যায়নি। সেই কালি মোছার আগেই নির্বাচনের আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার অধিকাংশ পূরণের পথে আমরা এগিয়ে গেছে। আমরা বলেছিলাম, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মউকুফ করা হবে। আমরা আমাদের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে রেজোল্যুশন নিয়েছি বাংলাদেশের ১১ লাখর উপরে কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মউকুফ করে দিয়েছি, যার পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। আলহামদুলিল্লাহ এটা আমরা করে ফেলেছি অলরেডি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বলেছিলাম দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করব পর্যায়ক্রমে। আমরা ইতিমধ্যে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ৩৮ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করেছি। আগামী বাজেটের মধ্যেই আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারব বলে আশা করি।”
তিনি যোগ করেন, “‘আমরা বলেছিলাম খাল খনন কর্মসূচি পালন করব। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদ-নদী খাল খনন করে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। ১৬ মার্চ থেকে এই খাল খনন কার্যক্রম আমরা চালু করেছি।’”
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা বলেছিলাম ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবকদের মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করব। কারণ একজন মসজিদের ইমাম যখন ইমামতি করেন তার মাসিক বেতন চাল তোলাতুলি করে দিতে হয়। আমরা সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ইমামদের জন্য যে ব্যবস্থা ওটা চালু করেছি। এসবই আমাদের সামাজিক ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে নির্যাতিত পরিবারের তালিকা করলে ১৬ বছরে এক নম্বরে থাকবেন জিয়া পরিবার। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্যাতিতদের প্রতিচ্ছবি। ওয়ান ইলেভেন সময়ে তাকে পঙ্গু করা হয়েছিল, তার মাকে বন্দি করা হয়েছিল, তার ভাই বিদেশে মারা গেছেন। জিয়া পরিবারের চেয়ে নির্যাতিত কোনো পরিবার বাংলাদেশে কেউ ছিল না। প্রায় ১৭ বছর পরে তিনি দেশে ফিরে ১৭ মিনিট বক্তৃতা দিয়েছিলেন। ওনার বক্তৃতার মধ্যে কোনোদিন কোনো প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে ওঠেনি। প্রতিশোধের নেশায় ওনি মত্ত হননি।”
কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কৃষিমন্ত্রী, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে তিনি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যেসব এলাকায় রেল ক্রসিং রয়েছে সেখানে অটোমেটিক গেট নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনা করা হবে। আগামী দিনে যে বৈঠক হবে, সেখানে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই সমস্ত গেট গুলিকে আধুনিক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি স্থানে ট্রেন পৌঁছালে অটোমেটিক গেট বন্ধ হয়ে যায়। আজ এই এলাকায় গেট ম্যান না থাকার কারণে এত বড় দুর্ঘটনা হয়েছে। অটো করা থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না।
আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাইওয়ে এলাকার সব রেল গেট অটো সিস্টেম করার জন্য চেষ্টা করব।’
এ সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন পুরুষ, ২ নারী ও ৩ শিশু নিহত হন।
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নে ফিতরা প্রদানের নাম করে ভোটারদের মাঝে টাকা বিলানোর অভিযোগে দুই জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের ঘাঘরা-দরগারপাড় এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে জনপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা করে বিতরণ করা হচ্ছিল।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেন। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা অর্থ বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও তারা একে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বরং ফিতরার টাকা বলে দাবি করেন। তারা নিজেদের দোষ স্বীকার না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে মুচলেকা প্রদানের পর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তারা অভিযোগ করেছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট করে প্রভাব খাটানোর লক্ষ্যেই এমন তৎপরতা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের আকাশ আজ যেন মেঘের হালকা চাদরে ঢাকা, তবে ভারী বৃষ্টির কোনো তাড়া নেই এখনই। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী পাঁচ দিন বড় ধরনের বর্ষণের সম্ভাবনা কম থাকলেও কোথাও কোথাও হঠাৎ দমকা হাওয়া আর বজ্রসহ বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। আর এই স্বল্প বিরতির পর, পাঁচ দিনের শেষে বৃষ্টির প্রবণতা আবারও বাড়তে পারে।
রোববার (২২ মার্চ) সকালে ঢাকার বাতাসে ছিল শীতলতার ছোঁয়া, তাপমাত্রা নেমেছিল ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি। আজ দিনের তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সকালের বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল ৯০ শতাংশ, যেন ভেজা অনুভূতির আবরণে ঢাকা শহর। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আর্দ্রতা কমে গিয়ে আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক হবে, আর তাতে গরমের অস্বস্তিও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। আজ সূর্য ডুববে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্য উঠবে ভোর ৬টায়।
সারাদেশের আবহাওয়ার চিত্রে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে, আর দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের কিছু অঞ্চলে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে, যদিও তা হবে বিচ্ছিন্নভাবে।
আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে এসে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্কই থাকবে। রোববার ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, আর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দেশের অন্যত্র মেঘ আর রোদের মিশেলে দিন কাটবে।
২৩ মার্চ পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কিছুটা বাড়তে পারে। এদিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে, তবে অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া শুষ্কই থাকবে। ২৪ ও ২৫ মার্চ তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, যদিও এসব দিনে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে।
২৫ মার্চের পরের দিনগুলোতে আকাশ আবার নতুন করে ভিজে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। মাসের শেষভাগে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে, যেন অপেক্ষার পর একদিন হঠাৎই মেঘ নামবে আরও গভীর হয়ে।
ঢাকা থেকে পর্যটক নিয়ে বান্দরবান যাওয়ার পথে সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে গেছে। রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় ক্যাম্পাসের উত্তর পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসের সুপারভাইজারসহ অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য স্থানীয় সুয়ালক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ভেতর থেকে আমরা অনেক পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। বাসটিতে থাকা অধিকাংশ পর্যটক ছোটখাটো আহত হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাসের সুপারভাইজারসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হন।”
ঘটনার বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানান, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা মিলে আহত পর্যটকদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে আনা হয়। বাসটির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ সর্বমোট ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন এবং যাত্রীরা বান্দরবানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গতরাতে ঢাকা থেকে রওনা হন। বাসটিতে থাকা অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন পর্যটক ছোটখাটো আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।”
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়ে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। সকালে ঘটনাস্থলে রিলিফ ট্রেন পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত ঢাকা মেইল ট্রেনটি উদ্ধার করে এবং রেললাইনে আটকে থাকা বাস সরিয়ে নেওয়ার পর ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া গেটম্যানরা হলেন মেহেদী হাসান ও হেলাল উদ্দিন। এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে গেটম্যানের সঙ্গে ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে কর্মরত দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে গেটম্যান দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। একটি বিভাগীয় এবং অপরটি আঞ্চলিক। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।” একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে আরও রয়েছেন কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। প্রথমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েক ঘণ্টা পর তা স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। রোববার সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া অংশে যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে গিয়ে পথচারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া বাইপাস সড়কের ভাটিখাইন রাস্তার মাথা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস বাইপাস সড়ক অতিক্রমের সময় এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে বাসটি মহাসড়কের আইল্যান্ডে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও পটিয়া ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে বাসের সহকারী সোলেমান (৪৫)কে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়।
গুরুতর আহত চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে পথচারী আবুল কাশেম (৬৫) মারা যান। তিনি পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অরুপ চৌধুরী জানান, “আহতদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। আরো কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন মিনাক্ষি (৩৮), জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫), তাসপিয়া (৭), আবদুর রহিম (৯), মো. ইব্রাহীম (৫৫), প্রবীর শীল (৪২), শাওরিন সুলতানা (২৫), সুলতানা রাজিয়া (৫১), আকতার বেগম (৫৪), ওয়াজিদা (৯), সুবাইকা জান্নাত (২০), ইউনুস (৩৮), ইসলাম খাতুন (৭০), আবু হানিফ (৩৮), মিরাজুল হক (১৪), মাইমোনা (৭), প্রান্ত শীল (১৭), জাহান (৪০), আদিত্য বিশ্বাস (১৩) এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কক্সবাজার যাওয়ার পথেই পটিয়া বাইপাস সড়ক অতিক্রম করার সময় এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মহাসড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পথচারী ও অপরজন বাসের সহকারী।”
দুর্ঘটনার পর বাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি চালকদের অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, এম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছেন, আহত হয়েছেন পাঁচ জন।
রোববার (২২ মার্চ) ভোর চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনের কাজ চলছিল। এসময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এমতবস্থায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এঘটনায় বাস অ্যাম্বুলেন্স কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে বাসা, এম্বুলেন্স মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার, ও একজন যাত্রী নিহত হয়। ৫ জন আহত হয়। নিহতদের মরদেহ ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কারো নাম পরিচয় জানা যায়নি।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাসটি উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ অবস্থায় বাসটিকে হিঁচড়ে আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিয়ে যায় ট্রেনটি।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই বাসের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্স জানান, হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ জন আহত রোগী ভর্তি আছেন এবং আরো প্রায় ১৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেললাইনে উঠে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাত ২টা থেকে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরেছে বলে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৫ সালের ১৪ জুন এই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে শুক্রবার রাত থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরেই গ্যাস সংকটের কারণে একাধিক ইউনিট বন্ধ ছিল। ২০২৫ সালের ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট, ১৩ জুন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪ নম্বর ইউনিট এবং ১৪ জুন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৭ নম্বর ইউনিট উৎপাদন থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ২০১০ সালের জুনে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে টারবাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট উৎপাদনে আসে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিট চালু হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুটি ইউনিটও দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।