ছোট-বড় অসংখ্য টিলা নিয়ে সিলেট। এসব টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই টিলার নিচে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের পাহাড়টিলা ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণহানির শঙ্কাও বেড়েছে। গত শনিবারই সিলেটের অন্তত ৪টি স্থানে টিলাধসের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়েছে এক শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া টিলা ধসে অন্তত ৪টি ঘর ভেঙে গেছে।
শনিবার সিলেট সদর উপজেলার খাদিম চা বাগান এলাকায় টিলা ধসে এক শিশু মারা যায়। এ ছাড়া নবীগঞ্জে টিলা ধসে আহত হয়েছেন দশজন। আর জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলা ধসে তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে নগরের আখালিয়ায়ও। পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টি হয়েছে রোববারও। ফলে বেড়েছে টিলা ধসের শঙ্কাও।
সিলেটে কী পরিমাণ মানুষ টিলার পাদদেশে বসবাস করেন সরকারিভাবে এর কোনো তালিকা নেই, তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পরিবার টিলার পাদদেশে বসবাস করছে। মূলত কম ভাড়ায় কিংবা বিনা ভাড়ায় থাকতে পারার কারণেই দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। আবার কিছু গোষ্ঠী টিলা কাটা বা দখলে রাখার জন্য টিলার পদদেশে ঘর বানিয়ে ভূমিহীনদের কম ভাড়ায় বরাদ্দ দেয়।
যদিও ২০১২ সালে সিলেটের পাহাড়-টিলা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এক রায়ে টিলার ওপর ও পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
সিলেট নগরের হাওলাদারপাড়া এলাকার একটি টিলার নাম জাগো টিলা। উঁচু এই টিলার একেবারে কিনারা ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি ঘর। ওপরের ঘরগুলোর ঠিক নিচে, টিলার পাদদেশেও ঘর রয়েছে কয়েকটি। টিলার ওপরে ও ঢালে বসবাস করা সব পরিবারের বাসিন্দাই রয়েছেন ঝুঁকিতে। প্রাণের শঙ্কা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন এখানে।
জাগোটিলার ওপর ঘর বানিয়ে বাস করা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সরকারি টিলা। ভাড়া দিতে হয় না। তাই আমরা এখানে ঘর বানিয়ে থাকি।’
ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভয় তো আছেই। বৃষ্টি দিলে ভয় আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। জায়গা কেনার সামর্থ্য নেই। ঘর ভাড়া করাও অনেক খরচের। তাই ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিলার ওপরে ও পাদদেশে বসবাসকারী বেশিরভাগ লোকজনই এ রকম দরিদ্র। স্থানীয় প্রভাবশালীরা টিলা কাটা ও দখলের জন্য দরিদ্রশ্রেণির লোকজনদের বসিয়েছেন। আবার কম টাকায় পেয়ে টিলার পাদদেশে জমি কিনেও ঘর বানিয়েছেন অনেকে।
বাংলাদেশ পরিবশে আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসাব মতে, সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৪০০ পাহাড়-টিলা রয়েছে। এসব টিলার ওপর ও পাদদেশে অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে।
পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই বলেন, আমরা বছর তিনেক আগে একটা জরিপ চালিয়ে দেখেছিলাম জেলায় টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছেন। এখন এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।
তিনি বলেন, বসবাসের জন্য এসব টিলার অনেকাংশ কেটে ফেলায় টিলাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এগুলো ধসে পড়ে প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে।
অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটা, বৃক্ষ উজাড় ও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের ফলে বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ছে বলে মত এই পরিবেশকর্মীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, পীরমহল্লা ব্রাহ্মণশাসন জাহাঙ্গীরনগর, তারাপুর চা বাগান এবং নগরের উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। এ ছাড়া জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।
কী পরিমাণ লোক টিলার ওপর ও পাদদেশে বসবাস করেন এমন তথ্য নেই জানিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নে এ রকম টিলার পাদদেশে লোকজন বসবাস করেন। আমরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানদের দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।
ইউএনও বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যারা টিলার পাদদেশে বসবাস করেন তারা সরতে চান না। কাউকে জোর করে সারালেও কিছুদিন পর তারা আবার ফিরে আসেন।
তবে টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও প্রাণহানির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ২০১২ সালে আমাদের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে পাহাড়-টিলা সংরক্ষণ ও তার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষজনকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু ওই রায়ের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, কী পরিমাণ লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন তারও কোনো হিসেব নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। তাদের পুনর্বাসন বা টিলা সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নেই। বরং টিলা ধ্বংস করে অনেক প্রকল্প আছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বারবার এ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।
টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাকারীদের সরানো যায় না দাবি সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানেরও। তিনি বলেন, ‘টিলার ওপরে ও পাদদেশে যারা বসবাস করেনম চেষ্টা করেও তাদের অন্যত্র সরানো যায় না। এ বছরও আমরা সব ইউএনওর মাধ্যমে মাইকিং করিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছি। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।’
তিনি বলেন, এটা একটা বড় সমস্যা। তাদের কীভাবে সরানো যায় ও পুনর্বাসন করা যায়, এ নিয়ে ভাবছি। তাদের মধ্যে যদি কেউ ভূমিহীন থেকে থাকেন, তাহলে প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের নাদিম ‘শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করেছেন।
মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত জরুরি সেবা ক্যাটাগরিতে তানসিভ জুবায়েরসহ ছয় চিকিৎসককে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পুরস্কার তুলে দেন।
তানসিভ জুবায়ের (৩৫) ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর ৩৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ সালের ২ মে সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক।
তানসিভ জুবায়ের ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেওয়ার পর অর্থাৎ ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালে এক বছরের ব্যবধানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে রোগী বেড়েছে ১২ শতাংশ, অন্তঃবিভাগে ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৩৫ ভাগ এবং নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বেড়েছে ৭৩ শতাংশ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। মূলত মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করা এবং সরকারের বিশেষ নির্দেশনাগুলো সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে জরুরি সেবা ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মনোনীত ৬ জন চিকিৎসককে শ্রেষ্ঠত্বের ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
তানসিভ জুবায়ের নাদিম প্রতিক্রীয়া জানিয়ে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যেকোনো সম্মাননা কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। আসলে আমি বিশেষ কিছু করেছি তা বলা যাবে না। তবে সীমিত সাধ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করছি মাত্র। তবে এখানেই থেমে গেলে হবে না, আমাকে আরও এগিয়ে যেতে হবে।’
দেশের ছয় বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল এবং কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শনিবার রাতে বলেন, ‘যদি কালবৈশেখী ঝড় হয় এবং তার তীব্রতা বেশি থাকে, তাহলে এসব অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি হবে স্বাভাবিকভাবেই। এছাড়া ভারী বর্ষণ কিংবা শিলাবৃষ্টি হলেও নানারকম ক্ষতি হতে পারে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল শনিবার রাতের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেখলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহী ও রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে; এছাড়া দেশের কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি।
সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় পৃথক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
ধর্মপাশায় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুই জন। শনিবার দুপুরে পৃথক স্থানে পৃথক বজ্রপাতে তারা নিহত হয়। হবিবুর উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।
অন্যদিকে তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) জামলাবাজ গ্রামে একটি হাঁসের খামারের সামনে বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি ওই খামারে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নূর মোহাম্মদ (২৪) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামে বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাগনার হাওরে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলার চরনাচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের একজন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম লিটন মিয়া। তিনিও হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে শিকার হন।
ওই পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে টানা দুদিনব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার টনা লক্ষ্মীয়া ও হাপানিয়া গ্রামের মধ্যে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে পাকুন্দিয়া পৌর সদরের টান লক্ষ্মীয়া ও হাপানিয়া গ্রামের মধ্যে লক্ষ্মীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। খেলায় দুই পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলে রাত পর্যন্ত। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আজ শনিবার দুপুর থেকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়ে চলে বিকাল পর্যন্ত।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে থানার ওসি ও একাধিক পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভোলা সদর উপজেলায় নিজ বসতঘরে ঢুকে নাছিমা বেগম (৩৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার ৭ বছর বয়সী শিশু পুত্র আবির গুরুতর আহত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনগত মধ্যরাতে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাছিমা বেগম প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন নাছিমা বেগমের স্বামী আল আমিন। স্বামী প্রবাসে থাকায় ছোট ছেলে আবিরকে নিয়ে নির্মাণাধীন বসতঘরে একাই বসবাস করছিলেন তিনি।
ঘটনার রাতে মা ও ছেলে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে। পরে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাছিমা বেগম নিহত হন এবং তার ছেলে আবির গুরুতর আহত হয়।
শনিবার সকাল প্রায় ৭টার দিকে ঘরের ভিতরে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে নাছিমা বেগমের মরদেহ ও আহত শিশুটিকে দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা আবিরকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলউৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের বর্ষবরণের আয়োজন। উৎসব ঘিরে পুরো শহরে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার, যেখানে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিত হয়ে অংশ নেন এক বর্ণিল আয়োজনে। রাঙামাটির চিংহ্লামং মারী স্টেডিয়ামে কড়া গোধূলির রোদ রাঙিয়ে দিয়েছে পাহাড়ের ভাঁজ। আর সেই রাঙা দিনে উৎসবের রঙে মেতেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’ উপলক্ষে পুরো রাঙামাটি শহরজুড়ে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার।
সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই মৈত্রী পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে যাবে গত বছরের সব। মঞ্চে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি রঙিন পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। এ ছাড়া শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। গতকাল শুক্রবারের এই উৎসবের আয়োজকরা বলছেন, উৎসবের মাধ্যমে সবার মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করা। তারা মনে করেন, জলকেলি বা সাংগ্রাই কেবল মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়, বরং এটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে মৈতী ও একতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ—সব বয়সি মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মহামিলনমেলায়। আয়োজকদের মতে, সাংগ্রাই শুধু মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধনের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, ‘পার্বত্যাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা জরুরি। কিছু জনগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে, তাদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সংস্কৃতিকে ধারণ ও সম্মান করার মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি। এই উৎসব এখন সকল সম্প্রদায়ের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি।’
মাসসর জলউৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পাইচিং মং মারমা বলেন, ‘পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে সকলের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করাই এই জলউৎসবের মূল উদ্দেশ্য।’
দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বন্ধ থাকা ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি এখন কেবলই স্মৃতি। এক সময়ের কর্মচঞ্চল এই রেললাইনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, ভূ-সম্পত্তি দখল এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অথচ এই পথটি পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
জানা যায়, ফেনী জেলার পিছিয়ে পড়া উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠির জেলা সদরের সাথে যাতায়াতের পাশাপাশি ত্রিপুরার বিলোনিয়া হয়ে বাংলাদেশের বিলোনিয়া দিয়ে ফেনী থেকে আসামের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ১৯২৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত ২৮ কি.মি. রেলপথ স্থাপনের জন্য ২৫ গ্রামের ২৭৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনের যোগাযোগ শুরু হয়। এ রেলপথে বন্ধুয়া দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবক্স মুন্সির হাট, নতুন মুন্সির হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনীয়াসহ ৮টি রেল স্টেশন স্থাপন করা হয়।
একসময় এই রেলপথটি ছিল এ এলাকার শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র মাধ্যম। স্বাধীনতার পর এ রেলপথের পাশে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কমতে থাকে এ রেলপথে যাত্রী ও আয়। লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার অজুহাতে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট রেল কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে রেলপথ ও সব স্টেশন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে স্থায়ী ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রেলের মূল্যবান স্লিপার, পাথর এবং লোহার পাত চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই। বন্দুয়া, দৌলতপুর, চিথলিয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম স্টেশনগুলোর ভবন এখন লতাপাতায় ঢাকা। কোনো কোনো স্টেশনের ইটও খুলে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকায় সবগুলো স্টেশানের বেহাল দশা। বন্ধ এ রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনগুলোর অবকাঠামো এখন ধবংসের পথে। এসব স্টেশনে বসছে মাদকের বেচাকেনা আর বখাটেদের নিয়মিত আড্ডা। স্টেশনগুলো দখলে নিয়েছে ভাসমান শ্রমিকরা।
স্থানীয় ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীর হাটের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, রেলের বিশাল ভূ-সম্পত্তির অধিকাংশ ইতোমধ্যে প্রভাবশালীরা দখল করে নানা ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এ রেলপথের দুপাশে বহু গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সব মিলিয়ে ফেনী-বিলোনীয় রেলপথের কোটি কোটি টাকার সম্পদ এখন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া বেশ কিছু রেললাইন উদ্ধারও করা হয়। এসব ঘটনায় লাকসাম জিআরপি থানাসহ আশাপাশের কয়েকটি থানায় মামলা হয়েছে অন্তত ৮টি।
চালু অবস্থায় এই রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্যাংওয়ে ও গ্যাং খালাসী থাকলেও রেলপথটি বন্ধ হওয়ার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন স্থানে বদলী করা হয়।
ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি শুধু স্থানীয়দের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হতে পারে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকার তাদের অংশের বিলোনিয়া পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন সম্প্রসারণ করেছে। বাংলাদেশের এই ২৮ কিলোমিটার অংশ সংস্কার ও পুনরায় চালু করা হলে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের মালামাল সরাসরি উত্তর-পূর্ব ভারতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফেনীর উত্তরাঞ্চলের (ফুলগাজী-পরশুরাম) মানুষের কর্মসংস্থান ও যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিগত বছরগুলোতে এই রেলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে একাধিকবার সমীক্ষা (Survey) চালানো হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এই লাইনটি সংস্কারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ এখনো শুরু হয়নি।
স্থানীয় পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা আবু ইউসুফ মিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বছরের পর বছর শুধু আশার কথা শুনি। সরকার যদি দ্রুত এই রেলপথটি উদ্ধার না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের নাম মুছে যাবে।
ফেনী রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রেলের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবে এই রুটটি পুনরায় চালু করার বিষয়টি সম্পূর্ণ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী ইমরান ইমন বলেন, বন্ধ রেলপথটি পুনরায় চালু হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের পাশাপাশি বিলোনীয়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত দুদেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।
সীমান্তবর্তী এই অবহেলিত জনপদের মানুষের দাবি—রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আবারও যেন ‘ঝকঝক’ শব্দে কেঁপে ওঠে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ফেনীর উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) সুজন ভট্টাচার্য্য বলেন, ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনটি ১৯৯৭ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটা চালু হয়েছিল ১৯২৯ সালে। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাতাশ কিলোমিটার। এ লাইনটিতে তখন ৮-৯ টি স্টেশন চালু ছিল। বর্তমানে লাইনটি বন্ধ আছে। যেহেতু এখানে একটি বৃহৎ স্থলবন্দর আছে পণ্য আনা-নেয়ার ব্যাপারে সাধারণ জনগণ অবশ্যই উপকৃত হতে পারে। এটি চালু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা অবশ্যই জনগণের চাওয়া পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে। এটা সরকারি একটা বিষয়, সরকারের উদ্যোগের বিষয়। জনগণ যদি চায় তাহলে এটা আবার পুনরায় চালু হতে পারে। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনটি অনেক পুরোনো একটি লাইন। দীর্ঘদিন আগে এটি বন্ধ হয়ে গেছে। এবার নির্বাচনের সময় আমরা মানুষকে বলেছি যে এই লাইনটা আমরা চালু করতে চাই। আমরা এ লাইনটি চালু করার জন্য কাজ করবো। কিন্তু ইতোমধ্যে এলাকার কিছু মানুষ বলছেন যে এটি চালু না করে বরং অন্য উন্নয়ন কাজ করতে। কারণ তারা বলছে যে রেললাইন করলে নাকি এটা লোকসান প্রজেক্ট। তারপরও আমরা যেহেতু প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমরা এখনো আছি। রেললাইনতো করবো মানুষের জন্য। মানুষ যদি মনে করে এটার প্রয়োজন আছে তাহলে করবো। যদি মনে করে এটার এখন প্রয়োজন নাই পরে তাহলে পরে করবো আগে অন্য উন্নয়ন কাজগুলো করবো।
রাজবাড়ী দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে দুই জেলের জালে সাড়ে ২৮ কেজি ও ১৮ কেজি ওজনের দুটি কাতল মাছ ধরা পড়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে দৌলতদিয়া মৎস্য আড়তে রেজাউল মন্ডল ও আনু খা’র আড়ত থেকে মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ বিশাল আকৃতির কাতল মাছ দুইটি কিনে নেন।
শাহজাহান জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে জেলে এরশাদ হলদার ও জীবন হলদার তাদের সহযোগীদের নদীতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় পৃথক স্থানে জাল ফেলেন। পরে ভোরের দিকে জাল টেনে তুলতেই দেখেন তাদের দুই জনের জালে একটি করে বড় দুটি বিশাল আকৃতির কাতল ধরা পড়ে। পরে মাছ দুটি বিক্রির জন্য সকালে মৎস্য আড়তে আনলে উন্মুক্ত নিলামে উঠলে সাড়ে ২৮ কেজি ওজনের কাতলটি ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে মোট ৬২ হাজার ৭০০ ও ১৮ কেজির কাতলটি ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ২৮ হাজার ৮০০ সহ মোট ৯১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন।
তিনি আরও জানান, মাছ দুটি বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্নস্থানে অনলাইনে যোগাযোগ করছি। কিছু লাভ পেলেই বিক্রি করে দিবো।
গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদারের লক্ষ্যে ঝিনাইদহে এক সমন্বয় সভা হয়েছে। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর কুমার দাশ, স্থানীয় সরকারের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুন্সী ফিরোজা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলকিস আফরোজ প্রমুখ। এ সময় প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার রহিদুল ইসলাম, উপজেলা সমন্বয়কারী এবং প্রোগ্রাম ও ফিন্যান্স সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ঝিনাইদহ জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গ্রাম আদালতে মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের আউটরিচ কার্যক্রমের সঙ্গে গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রচার-প্রচারণা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
নাটোরের বড়াইগ্রামের তরুণ প্রকৌশলী কাসমিম আহমেদ ফারহান ‘মার্সেনারি’ নামে একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক কার তৈরি করেছেন। মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ৬০-৬৫ কি.মি. পথ পাড়ি দিতে সক্ষম এই গাড়িটির গতি ঘণ্টায় ৭০ কি.মি. এবং এটি ৬ জন যাত্রী ধারণ করতে পারে।
জানা যায়, নাটোরের বড়াইগ্রামের মাঝগ্রামের তরুণ কাসমিম আহমেদ ফারহান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে নিজ উদ্যোগে মার্সেনারি নামে একটি ইলেকট্রিক ক্রস ওভার কার তৈরি করেছেন। এখন গ্রামের মেঠোপথ ধরে ছুটে চলতে দেখা যায় গাড়িটিকে। গাড়িটির আবিস্কারক ফারহান তার তৈরি করা গাড়িটির নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।
সাশ্রয়ী প্রযুক্তি: গাড়িটি মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ৬৫-৭০ কিলোমিটার চলতে পারে, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে একটি বিশাল সাফল্য।
উন্নত গিয়ার সিস্টেম: এটি দেশে প্রচলিত সাধারণ ই-কারের চেয়ে আধুনিক। এতে ‘ডুয়েল পাত ফোর স্পিড গিয়ার বক্স’ রয়েছে, যার মাধ্যমে ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এবং ডিরেক্ট ড্রাইভ—উভয় মোডেই চালানো সম্ভব।
গতি ও ক্ষমতা: গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার এবং এতে ৬ জন যাত্রী বসার সুবিধা রয়েছে।
মেকানিক্যাল দক্ষতা: ফারহান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হওয়ায় তার কারিগরি জ্ঞানকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন।
ফারহানের দাবি, মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুত খরচে গাড়িটি ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার চলতে পারে-যা বর্তমান জ্বালানি সংকটে সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি অটোমোবাইল সেক্টরে কাজ করে নিজের প্রকল্পকে আরও উন্নত করতে চান তিনি। এক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি তার। স্থানীয়রা বলছেন, ফারহানের তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে অল্প বিদ্যুৎ খরচে চলতে সক্ষম। কম খরচে তৈরি এমন একটি গাড়ি যদি সরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা যায়। তবে তা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। ফারহানের তৈরি ইলেকট্রিক ক্রস ওভার কার বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।
ফারহানের মতো তরুণ উদ্ভাবকদের যদি সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে।
কৃষি কার্ড দেশের কৃষি খাতকে স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে যিনি প্রধানমন্ত্রী আছেন, তিনিও মরহুম জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তাদের সেই আদর্শ ও বিশ্বাস ধারণ করেন যে- ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৪৫৮ কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমিন উর রশিদ বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিপ্রেমী সরকার। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই কৃষি কার্ড। এই কার্ড দেশের কৃষি খাতকে আরও স্বাবলম্বী করে তুলবে এবং কৃষকের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করবে। কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা দ্রুত ও সরাসরি সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই কার্ড দেশের কৃষি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি প্রণোদনা পাঠানো হবে। মোট ৫টি শ্রেণিতে (ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়) এই কার্ড দেওয়া হলেও নগদ প্রণোদনা বা টাকা পাচ্ছেন মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা। তবে কার্ডধারী কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও বিমা সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে প্রাক্-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফার মধ্যে কৃষি কার্ডের কথা ছিল। অনেকে সমালোচনা করেছিলেন যে নির্বাচনের পর এটি কার্যকর হবে না। কিন্তু ভোটের কালির দাগ মোছার আগেই সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন শুরু করে। এখন কৃষি কার্ড বিতরণ করে নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কৃষিঋণ মওকুফ ও সারের ভর্তুকি দেওয়া শুরু করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ক্ষমতায় আসার পরপরই কৃষকদের স্বার্থে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, এ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষক, আর তাদের অর্থনীতি চাঙা হলেই দেশের অর্থনীতি চাঙা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবেন কৃষকেরা। তাই কার্ডটি যত্ন করে রাখবেন।’
মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কৃষকের ওপর অন্যায় করে এখন আর কেউ পার পাবে না। এ দেশ ১২ মাসের ফসলের দেশ; কৃষি শক্তিশালী হলে আমাদের আর কারও কাছে ভিক্ষা করার বা ঋণের জন্য হাত পাতার প্রয়োজন হবে না।’
অনুষ্ঠানে কৃষি কার্ড পেয়ে স্থানীয় গাজীপুর গ্রামের কৃষাণী সালমা আক্তার বলেন, ‘আমার ঘাম আর পরিশ্রমের একটা মূল্য আছে। আমি শুধু একজন গৃহিণী না, আমি দেশের খাদ্য উৎপাদনকারী একজন কৃষক। এই কার্ড যেন আমার পরিচয়পত্র হয়।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু), জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া প্রমুখ।
কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক তিনটি অভিযানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর আওতাধীন বিভিন্ন বিওপি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব না হলেও মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৬ এপ্রিল আনুমানিক দুপুর ১টা ২০ মিনিটে উদয়নগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আতারপাড়া খেয়াঘাটে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৮৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ১৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
এরপর ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে জামালপুর বিওপির শকুন্তলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ দশমিক ৬০০ কেজি গাঁজা এবং ৩৪ বোতল ট্রিপোলিডাইন হাইড্রোক্লোরাইড ও কোডেইন ফসফেট সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১৯ হাজার ২০০ টাকা।
একই দিন ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে চিলমারী বিওপির শান্তিপাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযানে ২০ বোতল মদ, ১ হাজার ৫০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ৪৯০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ও চোরাচালান রোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। জনস্বার্থে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘটিত ঘটনায় কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বাউরবাগ এলাকার একটি কবরস্থানে ৬-৭ সদস্যের একটি ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করলে ডাকাতরা গুলি ছোঁড়ে। এতে তাদেরই সদস্য সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় আতিককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আটক আতিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ এপ্রিল সিলেটের সিলামসহ হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়া (৪০) ও আশরাফ হোসেন আশরাফুল ওরফে আশাই (২৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।
একই দিন ভোরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ন্তি এলাকার একটি কলা বাগান থেকে দেশীয় তৈরি আরও একটি পাইপগান ও একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট দুটি পাইপগান, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়েরের নেতৃত্বে এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম অভিযানটি পরিচালনা করে।
সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১১টি এবং আতিকের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। আহত আতিক বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।