সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
১৬ চৈত্র ১৪৩২

টিলার পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাস

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অনেক পরিবার। ছবি: দৈনিক বাংলা
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৩২

ছোট-বড় অসংখ্য টিলা নিয়ে সিলেট। এসব টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই টিলার নিচে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের পাহাড়টিলা ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণহানির শঙ্কাও বেড়েছে। গত শনিবারই সিলেটের অন্তত ৪টি স্থানে টিলাধসের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়েছে এক শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া টিলা ধসে অন্তত ৪টি ঘর ভেঙে গেছে।

শনিবার সিলেট সদর উপজেলার খাদিম চা বাগান এলাকায় টিলা ধসে এক শিশু মারা যায়। এ ছাড়া নবীগঞ্জে টিলা ধসে আহত হয়েছেন দশজন। আর জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলা ধসে তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে নগরের আখালিয়ায়ও। পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টি হয়েছে রোববারও। ফলে বেড়েছে টিলা ধসের শঙ্কাও।

সিলেটে কী পরিমাণ মানুষ টিলার পাদদেশে বসবাস করেন সরকারিভাবে এর কোনো তালিকা নেই, তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পরিবার টিলার পাদদেশে বসবাস করছে। মূলত কম ভাড়ায় কিংবা বিনা ভাড়ায় থাকতে পারার কারণেই দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। আবার কিছু গোষ্ঠী টিলা কাটা বা দখলে রাখার জন্য টিলার পদদেশে ঘর বানিয়ে ভূমিহীনদের কম ভাড়ায় বরাদ্দ দেয়।

যদিও ২০১২ সালে সিলেটের পাহাড়-টিলা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এক রায়ে টিলার ওপর ও পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

সিলেট নগরের হাওলাদারপাড়া এলাকার একটি টিলার নাম জাগো টিলা। উঁচু এই টিলার একেবারে কিনারা ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি ঘর। ওপরের ঘরগুলোর ঠিক নিচে, টিলার পাদদেশেও ঘর রয়েছে কয়েকটি। টিলার ওপরে ও ঢালে বসবাস করা সব পরিবারের বাসিন্দাই রয়েছেন ঝুঁকিতে। প্রাণের শঙ্কা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন এখানে।

জাগোটিলার ওপর ঘর বানিয়ে বাস করা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সরকারি টিলা। ভাড়া দিতে হয় না। তাই আমরা এখানে ঘর বানিয়ে থাকি।’

ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভয় তো আছেই। বৃষ্টি দিলে ভয় আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। জায়গা কেনার সামর্থ্য নেই। ঘর ভাড়া করাও অনেক খরচের। তাই ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিলার ওপরে ও পাদদেশে বসবাসকারী বেশিরভাগ লোকজনই এ রকম দরিদ্র। স্থানীয় প্রভাবশালীরা টিলা কাটা ও দখলের জন্য দরিদ্রশ্রেণির লোকজনদের বসিয়েছেন। আবার কম টাকায় পেয়ে টিলার পাদদেশে জমি কিনেও ঘর বানিয়েছেন অনেকে।

বাংলাদেশ পরিবশে আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসাব মতে, সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৪০০ পাহাড়-টিলা রয়েছে। এসব টিলার ওপর ও পাদদেশে অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই বলেন, আমরা বছর তিনেক আগে একটা জরিপ চালিয়ে দেখেছিলাম জেলায় টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছেন। এখন এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।

তিনি বলেন, বসবাসের জন্য এসব টিলার অনেকাংশ কেটে ফেলায় টিলাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এগুলো ধসে পড়ে প্রাণহাণির ঘটনা ঘটে।

অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটা, বৃক্ষ উজাড় ও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের ফলে বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ছে বলে মত এই পরিবেশকর্মীর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, পীরমহল্লা ব্রাহ্মণশাসন জাহাঙ্গীরনগর, তারাপুর চা বাগান এবং নগরের উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। এ ছাড়া জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার।

কী পরিমাণ লোক টিলার ওপর ও পাদদেশে বসবাস করেন এমন তথ্য নেই জানিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নে এ রকম টিলার পাদদেশে লোকজন বসবাস করেন। আমরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানদের দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।

ইউএনও বলেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যারা টিলার পাদদেশে বসবাস করেন তারা সরতে চান না। কাউকে জোর করে সারালেও কিছুদিন পর তারা আবার ফিরে আসেন।

তবে টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও প্রাণহানির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ২০১২ সালে আমাদের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে পাহাড়-টিলা সংরক্ষণ ও তার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষজনকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু ওই রায়ের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, কী পরিমাণ লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন তারও কোনো হিসেব নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। তাদের পুনর্বাসন বা টিলা সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ বা প্রকল্প নেই। বরং টিলা ধ্বংস করে অনেক প্রকল্প আছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বারবার এ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।

টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাকারীদের সরানো যায় না দাবি সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানেরও। তিনি বলেন, ‘টিলার ওপরে ও পাদদেশে যারা বসবাস করেনম চেষ্টা করেও তাদের অন্যত্র সরানো যায় না। এ বছরও আমরা সব ইউএনওর মাধ্যমে মাইকিং করিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছি। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।’

তিনি বলেন, এটা একটা বড় সমস্যা। তাদের কীভাবে সরানো যায় ও পুনর্বাসন করা যায়, এ নিয়ে ভাবছি। তাদের মধ্যে যদি কেউ ভূমিহীন থেকে থাকেন, তাহলে প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।

বিষয়:

বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গুরুতর আহত চট্টগ্রামের এসপি, হেলিকপ্টারে আনা হলো ঢাকায়

আপডেটেড ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১৪
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নাজির আহমেদ খান তাঁর সরকারি বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে নগরের সিআরবি এলাকায় অবস্থিত এসপির বাংলো বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসপিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, আজ বেলা দুইটার দিকে এসপিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর) ভর্তি করা হয়।

অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে বাথরুমে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এসপি। পরে বাসার কর্মচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর বাম পা মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে।

সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় রেফার করেন। এরপর তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।


বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে যমজ ভাইয়ের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার জিরুইন গ্রামে রবিবার (২৯ মার্চ) এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশুরা হলো পার্শ্ববর্তী বুড়িচং উপজেলার গিলাতলা গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আলী ও অলী, তাদের বয়স চার বছর।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দিন আগে আলী ও অলী তাদের মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি জিরুইন গ্রামে বেড়াতে যায়। রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সবার অগোচরে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।একপর্যায়ে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত টমাস বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় এখন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, চালক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী জেলা প্রতিনিধি

ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের পেছনে মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ট্রাকের মালিক বগুড়া সদর উপজেলার বুজুরুক মাজিরা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জিল্লুর হোসেন (৪৫)। নিহত চালকের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে মালবাহী ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রাকের মালিক জিল্লুর হোসেনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত জিল্লুরের জামাতা ইস্রাফিল হাসান বলেন, আমার শ্বশুর চট্টগ্রাম থেকে সরকারি চাল নিয়ে ঢাকার তেজগাঁও যাচ্ছিলেন। গাড়ির চালকের নাম জানা নেই। তবে গাড়িটি আমার শ্বশুরের মালিকানাধীন। উনার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় আনা হয়েছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডা. রায়হান হোসেন বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় জিল্লুর হোসেনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার ডান পায়ের একাধিক হাড় ভেঙে গেছে এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাজেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত ব্যক্তিকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।


শাহজালালে বিমানের শৌচাগারে মিলল ১৮ কেজি স্বর্ণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের শৌচাগারের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম এবং বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।

রোববার (২৯ মার্চ) বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাত ৯টায় দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। গোপন খবরের ভিত্তিতে বিমানবন্দর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে ফ্লাইটে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে বিমানের কার্গো হোল্ডের একটি শৌচাগারের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

জানা গেছে, বিমানের শৌচাগারের স্প্যানের ভেতর স্বর্ণ বা কোনো ধাতব জাতীয় বস্তু রাখতে হলে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে স্প্যানের নাটবল্টু খুলতে হয়।

সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শৌচারগারের নাটবল্টু খোলা কোনো যাত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ একজন যাত্রী বিমানবন্দর প্রবেশের সময় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন তল্লাশি করা হয়। এছাড়া বিমানে ওঠার আগে সর্বশেষ তল্লাশিতে তার হাত লাগেজে, শরীরে কোনো আগ্নেয়স্ত্র, দিয়াশলাই, কাঁচি, স্ক্রু ড্রাইভার, নেইল কাটার ও চাকু জাতীয় বস্তু পাওয়া গেলে তা জব্দ করে রাখেন বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীরা। ফলে যাত্রীর পক্ষে বিমানের টয়েলটের স্প্যান খোলা সম্ভব নয়।

গোয়েন্দা এ কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা ১৮ কেজি স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে বিমানের কোনো না কোনো কর্মী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত হলে শনাক্ত হবে এর নেপথ্যে থাকা চক্র।

এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টম হাউসের জয়েন্ট কমিশনার (জেসি) কামরুল হাসান সমকালকে জানান, বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে এসব স্বর্ণবার জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জড়িত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি।

বিমানবন্দর থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান, ৩৮ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় থানায় মামলা হলে তদন্তে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এখনো কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কেউ থানায় যোগাযোগও করেননি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের অপর এক কর্মকর্তা জানান, জব্দ করা স্বর্ণের বারগুলো নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে জমা রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বিমানবন্দর কর্তৃপকক্ষের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।


নওগাঁয় মাটির নিচে কাঠের বাক্স থেকে উদ্ধার হলো ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি গুলি 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছীতে ফসলের মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের দেউলিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের পটলের খেত থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জইদুল ইসলাম নামের এক বর্গাচাষি গতকাল রোববার সকালে আনছার চৌধুরীর ওই পটলের জমিতে জাল দেওয়ার জন্য খুঁটি বসাতে যায়। এরপর বর্গাচাষি জইদুল ইসলাম মাটির প্রায় এক ফুট নিচে শক্ত কিছু অনুভব করেন। পরে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়লে একটি ভাঙা কাঠের বাক্সের ভেতরে পুরোনো বুলেট দেখতে পান।

ঘটনাটি তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমকে জানান। পরে খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। তবে গুলিগুলো কতো আগের এবং কীভাবে সেখানে এসেছে এসব বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

খবর পেয়ে বদলগাছী থানার এসআই মোতাহার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সেখান থেকে ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেন।

বর্গাচাষি জইদুল ইসলাম জানান, তিনি জমিটি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করেন। সকালে বাঁশের খুঁটি বসানোর সময় মাটির নিচে কাঠের বাক্সে থাকা গুলি দেখতে পান। তার ধারণা, গুলোগুলো অনেক পুরোনো।

সেখানে উপস্থিত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্কাস চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান জানান, গুলির ধরণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে গুলিগুলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেখানে হয়তো থেকে গেছিলো গুলিগুলো।

বদলগাছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নজরুল ইসলাম জানান, সকালে দেউলিয়া গ্রামের মাঠে কাজ করছিল কয়েকজন কৃষক। এ সময় কোদাল দিয়ে মাঠি খুরতেই গুলি দেখতে পান তারা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলির ধরণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অনেক আগের এবং পুরনো। দীর্ঘসময় মাটির নিচে থাকায় এগুলোতে মরিচা ধরেছে। উদ্ধারকৃত গুলিগুলো বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকার টোল আদায়, ৪২ হাজার যানবাহন পারাপার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন ও দীর্ঘদিন ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করছে কর্মব্যস্ত ঘরমুখো মানুষ। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও বেড়েছে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ। এর মধ্যে গণপরিবহন বাস ছাড়াও বেশিভাগই ছিল খোলা ট্রাক, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চলাচল।

এনিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ একদিনে ৪২ হাজার ৩৭৪ টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৫০ টাকা।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিযাজ উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ এক দিনে ৪২ হাজার ৩৭৪টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৫০ টাকা।

এর মধ্যে টাঙ্গাইলের সেতু পূর্ব প্রান্তের উত্তরবঙ্গগামী লেন দিয়ে ১৮ হাজার ৩৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ সেতু পশ্চিম প্রান্তের ঢাকাগামী লেনে ২৪ হাজার ৩৩৮টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিযাজ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের পর কয়েক দিন ধরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও অতিরিক্ত যানবাহন চাপ বেড়েছে। কিন্তু সেতু পারাপার বা মহাসড়কে কোনো যানজট হয়নি। স্বাভাবিক গতিতেই যান পারাপার হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কে যানজট নিরসনে সেতু পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে মোটরসাইকেলসহ ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপন করা হয়েছে।’


পদ্মায় বাসডুবির যেসব কারণ, অভিযোগ আকাশ সমান 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি                                     

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলার চিত্র।

রেলিংবিহীন অরক্ষিত পন্টুন, অ্যাপ্রোচ সড়ক ঢালু ও খানাখন্দে ভরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে উঠতে যানবাহনগুলোর প্রতিযোগিতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ফেরিঘাটটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইতোমধ্যে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘বাস দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার চারজন, ঝিনাইদহের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, দিনাজপুরের একজন এবং ঢাকার আশুলিয়ার একজন। কোনো পরিবারের মা-ছেলে ও নাতির মৃত্যু হয়েছে, কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, আবার কোনো পরিবারে মা-মেয়ে, মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত হলে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।’

এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম। কমিটিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নদী পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে।

সরেজমিনে ৩ নম্বর ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, অত্যন্ত পুরোনো আকারে ছোট পন্টুনটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। লোহার রেলিং বা নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। এতে যাত্রী ও যানবাহনকে ফেরিতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়। অপর দুটি ঘাটেরও (৪ ও ৭ নম্বর ঘাট) একই চিত্র। ফেরিঘাটের মূল সড়ক থেকে পন্টুন পর্যন্ত সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়কগুলো বেশ ঢালু। তিনটি ঘাটেই সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। এতে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে যানবাহনগুলোতে ফেরিতে ওঠানামা করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। মাঝে মধ্যে এই সংযোগ সড়কে যানবাহন আটকে যাচ্ছে, কখনো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা গাজীপুরগামী এমআর পরিবহনের যাত্রী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পন্টুনে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী বা রেলিং নেই; থাকলে ওই বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যেত না। এত মানুষের প্রাণহানিও হতো না। অথচ এদের কত বাজেট থাকে, এদের গাফিলতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

২৫ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফোরিঘাটের পন্টুনে আটকে যায় তরমুজ বোঝাই একটি ট্রাক। এতে করে অল্পের জন্য রক্ষা পায় তরমুজসহ ট্রাকে থাকা ৩ জন।

দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে আসা ট্রাকচালক হামিদুর রহমান বলেন, ‘ফেরিতে ওঠানামার সড়কগুলো খাড়া ঢালু। লোড নিয়ে ফেরিতে গাড়ি ওঠানামা করতে অনেক সময় ব্রেক কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) করতে সমস্যা হয়। ব্রেক ফেল করলেই দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। ফেরিগুলোও পুরোনো।’ এগুলোর দিকে কারও নজর নেই। আমরা সব সময় এখান দিয়ে যাওয়ার সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’

সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পেছনে ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ঘাট পার হতে আসা যানবাহন পন্টুনে ওঠার আগের সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। এরপর ঘাটে আসা ফেরি থেকে সব যানবাহন নেমে যাওয়ার পর অপেক্ষায় থাকা যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গত বুধবার বিকেলে হাসনাহেনা নামের ফেরিটি ঘাটে এসে পৌঁছাতেই সংযোগ সড়ক থেকে চলতে শুরু করে বাসটি, যা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে।

সৌহার্দ্য পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেন বলেন, ‘দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে অনেক সময় বিআইডব্লিউটিসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা দায়িত্বে থাকেন। ঘাটের পরিস্থিতি না বুঝেই অনেক সময় নদী পাড়ি দিতে আসা ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে ফেরিঘাটে পাঠিয়ে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিকেও ৩ নম্বর ঘাটে পাঠিয়ে দেন। ঘাটে এসে তারা দেখেন, একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে চলা শুরু করেছে। উপায় না পেয়ে পন্টুনের মাথায় সংযোগ সড়কে পরের ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ছোট ফেরি এসে পন্টুনে ধাক্কা দিয়ে ভেড়ে। সংযোগ সড়ক ঢালু সড়ক হওয়ায় এবং পন্টুনের ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সরাসরি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।

স্ত্রী-সন্তান হারা রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেরি কর্তৃপক্ষের অনেক গাফিলতি আছে। ফেরিতে কতগুলো যানবাহন ধরবে সেটা তারা না দেখেই উপর থেকে বাসটিকে ডেকে নিচে নিয়ে আসে। অথচ বাসটি এসে ফেরির নাগাল পায়নি। তা ছাড়া অ্যাপ্রোচ সড়কের অবস্থা বেহাল। আমি চাই তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ বলেন, ‘পন্টুনগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। যারা ফেরি ও ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’ একই সঙ্গে ঘাটের জরাজীর্ণতা দূর করতে দ্রুত সমাধানের কথাও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণত গাড়িগুলো পন্টুনে আসার আগে থামে। এরপর সুবিধামতো ফেরিতে উঠে পড়ে। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় দেখা গেছে, হাসনাহেনা ফেরিটি প্রস্তুত ছিল না, তার আগেই চালকের ভুলে গাড়িটি পন্টুনে এসেছে। নিয়ম হলো, ফেরিতে থাকা গাড়িগুলো আগে নামবে, এরপর নতুন করে যানবাহন উঠবে।’

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন,

‘বাসটি ‘ব্রেক ফেল’ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীসহ অন্য কর্মীরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বুধবার দুর্ঘটনার আগে বাসটি ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ ছিল। বাসটি ব্রেক ফেইল করলে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক বাসযাত্রী এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে ত্রুটি ছিল। যে কারণে চালক বাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এরপরও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছেন। তদন্তের পর দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে।’

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, ‘এখন আর নিখোঁজের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। যদি নিখোঁজের খবর আসে, তাহলে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করা হবে।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘সরকার এর মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘাট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানান, নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার কাজ করবে।

তবে এই দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানির নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। স্বজন হারানোর বেদনা আর প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। পদ্মার বুকে ডুবে যাওয়া একটি বাস যেন উন্মোচন করে দিয়েছে বহুদিনের অব্যবস্থাপনা-যার মাশুল গুণতে হলো যাত্রীদের প্রাণ দিয়ে।

এখন দেখার বিষয়-তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কী কেবল ফাইলের ভেতরেই বন্দি থাকবে, নাকি সত্যি বদলাবে দৌলতদিয়া ঘাটের ভাগ্য। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর আদৌ কী বদলাবে ঘাটের চিত্র, নাকি এই কান্না আর ক্ষোভই হয়ে থাকবে পরবর্তী দুর্ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে।


যশোরে তেল মজুদ রেখেও বিক্রি বন্ধ, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

যশোরে জ্বালানি তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।

রবিবার (২৯ মার্চ) সদর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তেলের মজুদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। এ সময় শহরের মনিহার এলাকার যাত্রিক ফিলিং স্টেশন-এ ৮১৫ লিটার পেট্রল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ ঘটনাকে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে করিম, চলন্তিকা, প্রাইম, চয়নিকা, জালালউদ্দিন, আমিন এবং মনিহার এলাকার মনির উদ্দিন ফিলিং স্টেশনেও তদারকি করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে তেলের মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসাইন।

তিনি জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সরিষাবাড়ীতে ভেঙে যাওয়ার ৬ বছরেও জোড়া লাগেনি ব্রিজের পিলার ও স্প্যান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

৬ বছরেও জোড়া লাগেনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত শুয়াকৈর ব্রিজটির দুই প্রান্ত। ২০২০ সালের প্রবল বন্যায় পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় ৬ বছরেও জোড়া লাগেনি কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর এলাকায় নির্মিত এ ব্রিজটির পিলার ও স্প্যান। ফলে চলাচলের নানা দুর্ভোগ নিয়েই যাতায়াত করছে দুই উপজেলার ১৭ থেকে ২০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বর্ষাকালে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাঠের ব্রিজই এখন একমাত্র ভরসা স্থানীয়দের। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির মতোও ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে অতি দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে শুয়াকৈর-হুদুর মোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি। প্রায় ২ কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় এম এইচ এন্টারপ্রাইজ। ২০০৬ সালে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। নির্মাণের ১৪ বছরের মাথায় গত ২০২০ সালের ২১ জুলাই দুপুরে বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটির দুটি পিলারসহ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার প্রায় এক ফুট ঢেবে যায় এবং ওইদিন রাতেই ব্রিজের মাঝের অংশের ৭ নম্বর পিলার এবং ৬ ও ৭ নম্বর স্প্যানের ৪০ মিটার পানির তোড়ে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সেতুর মাঝামাঝি তিনটি স্প্যানসহ ৬০ মিটার ব্রিজ নদীতে এক রাতেই বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদী পারাপারে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় এ অঞ্চলের মানুষদের। ব্রিজটি নদীতে বিলীন হওয়ায় সাধারন মানুষে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বর্তমানে ভেঙে যাওয়া সেতুটির দুপাশের অংশ মূর্তিমান হিসেবে দাড়িয়ে আছে। সেতুটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ৬ বছর হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্দ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এতে চরম অনিশ্চিত হতাশা ও চলাচলে দুর্ভোগে পড়েন সরিষাবাড়ী উপজেলার চররৌহা, চরনান্দিনা, বড়বাড়ীয়া, বীর বড়বাড়ীয়া, হেলেঞ্চাবাড়ী, স্বাধীনা বাড়ী, চরহাটবাড়ী, সিধুলী, চুনিয়াপটল, সিংগুরিয়া, ডিগ্রি পাজবাড়ী, খন্দকারবাড়ী, চরছাতারিয়া, আদ্রা, শুয়াকৈর ও পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী, সদরাবাড়ী ও রায়েরছড়াসহ চরাঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।

শুয়াকৈর গ্রামের সামাদ মণ্ডল, আব্দুল মোতালেব, জয়তন বেওয়া, শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, বরণ মিয়া, সুমাইয়াসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের রাস্তা নেই, যাতায়াত করতে পারছি না। সবাই শুধু আশা দিয়ে যাচ্ছে। কেউ দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসছে না। ব্রিজটি ভাঙার পর থেকে আমাদের আর দুঃখের শেষ নেই। নিম্নমানের কাজ করার কারণেই ব্রিজটি ভেঙে গেছে। নদী পাড়াপারে চরম বাধা হয়ে দাড়িয়েছে এলাকার মানুষের। জনবহুল এ চরাঞ্চলের নারী-পুরুষরা নদী পারাপারে বিকল্প হিসেবে নৌকায় গাদাগাদি করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। নৌকায় পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় নদীর দুই পাড়ে। কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে না পারার কারণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ারও চরম বিঘ্নতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্রিজটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ছে দুই পাড়ের শত শত দরিদ্র রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, ‘ব্রিজটি সংস্কার করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিমের পক্ষ থেকে ও উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকাটি স্বাক্ষরিত হয়ে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের গিয়েছে। ব্রিজটি সংস্কার করার সকল প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপি বলেন, ‘৬ বছর ধরে ব্রিজটি ভাঙার কারণে মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যেই শুয়াকৈর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে ও এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত শুয়াকৈরবাসীসহ দুই উপজেলার একাধিক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে।’


মোংলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোংলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোংলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল উদ্ধার হয়।

রোববার (২৯ মার্চ) মধ্যরাতে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এ এই অভিযান চালানো হয়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। তেল সংরক্ষিত তিনটি ট্যাংক পরিমাপ এবং নথিপত্র যাচাই শেষে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অবৈধ তেল শনাক্ত করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা।

অবৈধভাবে মজুতকৃত তেলের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানান সাব্বির আলম সুজন

এ ঘটনায় ডিপো ম্যানেজার মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে তিনি অনুপস্থিত থাকায় দাপ্তরিক নথি ও হিসাব উপস্থাপন করেন অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর মো. ফারুক হোসাইন।

অন্যদিকে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদ জানান, ডিপোর তেলের হিসাবে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে। আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।


কাপাসিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জন আটক: প্রাইভেটকার, খেলনা অস্ত্র উদ্ধার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি 

গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের পাপলা চামুরখী মোড় থেকে একটি প্রাইভেটকার, খেলনা অস্ত্র, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করেছে।

থানার প্রেস রিলিজ মারফত জানা যায়, গত শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে কাপাসিয়া থানার এএসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশ সদর ইউনিয়নের বলখেলা বাজার এলাকায় টহলরত ছিলেন। ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে পার্শ্ববর্তী টহলরত এসআই মো. মিলন মিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে একযোগে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে তারা উল্লিখিত স্থান থেকে ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটককৃতরা হলেন- শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র মো. সাগর (২৪), টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার আইসড়া গ্রামের মৃত আ. আজিজ তালুকদারের পুত্র মশিউর রহমান জুয়েল (৩৫), জয়দেবপুর সদরের বরুদা এলাকার মৃত শহীদ জালাল উদ্দিনের পুত্র নওয়াব আলী (৬০), ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার রহিমপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র মো. সাব্বির (১৫)। তারা সবাই বর্তমানে গাজীপুর সদরের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে।

আটককৃতদের নিকট থেকে একটি পিস্তল সাদৃশ্য খেলনা পিস্তল, একটি শর্টগান সাদৃশ্য খেলনা শর্টগান, একটি চাপাতি, একটি কালো রঙের এক্সারসাইজ স্টিক, একটি মাস্টার চাবি, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ধূসর রঙের প্রাইভেট গাড়ি (নম্বর: ঢাকা মেট্রো- গ-১২-৬৪০২. জব্দ করা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর রহমান জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটককৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রি নং- ১৩৬৫ মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে তাদের গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


নওগাঁয় স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, ঘাতক স্বামী আটক 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত স্ত্রী আফসানা মিমি (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় রাতেই উপজেলার বকাপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন সাগরকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

আটক সাদ্দাম হোসেন উপজেলা সদর মধ্যবাজার গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুরে মধ্য বাজার এলাকার সাদ্দাম হোসেন তার স্ত্রীকে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত ১৬ মার্চ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা মিমিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহত গৃহবধূর স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


গোপালগঞ্জে ১৫ শত লিটার পেট্রোল মজুদ করায় গঙ্গা মটরসকে জরিমানা ও তেল বিক্রির নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সহিদ চৌধুরী, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের পাঁচুড়িয়ায় ১৫০০ লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে ‘গঙ্গা মটরস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২৮ মার্চ শনিবার দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন খান প্রিন্স।

জানা গেছে, পাঁচুড়িয়া বাজারে অবস্থিত গঙ্গা মটরস নামের ওই প্রতিষ্ঠানে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং অধিক মুনাফার আশায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হানা দেয় এবং অবৈধভাবে রাখা ১৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করে। আইন অমান্য করে এই বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

জরিমানা করার পাশাপাশি জনস্বার্থ বিবেচনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দকৃত পেট্রোল সরকার নির্ধারিত মূল্যে উপস্থিত সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে বিক্রির নির্দেশ দেন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়ার সুযোগ পেয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা মটরস মালিক অর্ণব শর্মা (৫৬) জানান তিনি অসুস্থ থাকার কারনে এক সপ্তাহ দোকান খুলতে পারেননি তাই তার দোকানে এ অবিক্রীত পেট্রোল মজুদ রয়েছে। তিনি অসৎ উদ্দেশ্য বা অধিক মুনাফার আশায় মজুদ করেন নি।


banner close