সবার সঙ্গে কাগজপত্র। কেউ এসেছেন নাম সংশোধনের জন্য। আবার কেউবা এসেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে। ফাইলপত্র নিয়ে এদিক-ওদিক ছুটছেন তারা। তবে কোনো সেবাই পাচ্ছেন না কেউ। মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে চত্বরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিন সকাল থেকে সব ধরনের কাজ বন্ধ করে শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। ফলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফাইলপত্র নিয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা। দাবি আদায় না হলে এ কর্মসূচি আরও দুইদিন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
চাঁদপুর থেকে কুমিল্লায় এসেছেন আলী হোসেন। তিনি সার্টিফিকেটে নাম সংশোধন প্রয়োজন। তবে কর্মবিরতি চলায় শিক্ষাবোর্ডে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে।
আলী হোসেন বলেন, আমার চাকরির মৌখিক সাক্ষাৎকার আছে। জাতীয়পরিচয় পত্রের নামের মিল না থাকলে চাকরিটা হবে না। এখানে এসে দেখি কর্মবিরতি চলছে। চাইলেই চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন কুমিল্লায় আসা সম্ভব না। এখন আমি কী করবো বুঝতে পারছি না।
কয়েকজন শিক্ষককে দেখা গেল চিন্তিত। তারা এসেছেন কলেজের ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্ব নিরসনে বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে। তবে কর্মবিরতি চলায় তাদের কাজও সম্পন্ন হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন, সুপার নিউমারারি পদে পদোন্নতি, অধ্যাপক পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীতকরণ, অর্জিত ছুটি প্রদান এবং ক্যাডার কম্পোজিশনের সুরক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিয়োগবিধি বাতিল, শিক্ষা ক্যাডারের তফসিলভুক্ত পদ থেকে শিক্ষা ক্যাডার বহির্ভূতদের প্রত্যাহার, জেলা উপজেলায় শিক্ষা ক্যাডার নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রশাসন সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় পদসৃজন, পদসৃজনে জটিলতা কাটানোসহ বিভিন্ন দাবিতে ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর সারা দেশে একযোগে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা কর্মবিরতির ডাক দেন। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে কর্মবিরতি শুরু হয়।
কর্মসূচির ধারাবিকতায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির আহ্বানে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ইউনিটের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় এ কর্মবিরতি।
কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল নাছের, সচিব প্রফেসর নূর মোহাম্মদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান, কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারি, বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আজহারুল ইসলাম, উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক মোহাম্মদ কামরুজ্জামানন, উপ-কলেজ পরিদর্শক বিজন কুমার চক্রবর্তী, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ) ড. মো. শফিকুল ইসলাম, উপ-সচিব (প্রশাসন) এ কে এম সাহাব উদ্দিন, উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহিদুল হক উপ-সচিব (একাডেমিক) মোহাম্মদ সাফায়েত মিয়া, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চমাধ্যমিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতিতে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে শিক্ষা ক্যাডার। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সময়মতো পদোন্নতি না হওয়ায় অনেকে ১০ বছর যাবত এক পদেই রয়েছেন, এ মুহূর্তে এমন পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন ৭ হাজার কর্মকর্তা। সময়মতো পদোন্নতি না হওয়ায় অনেকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেই অবসরে যাচ্ছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সহযোগী অধ্যাপক পদে ৬৯০ জনের পদোন্নতি হয়েছে, অথচ এই পদে ৩ হাজারের মতো কর্মকর্তা পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য। দাবিগুলো পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবরও সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলবে।
আগামী দিনে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এই রাষ্ট্র ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
শনিবার (৩০ মে) বেলা ১১টায় সরকারি ভৈরব কেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে এসব কথা বলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো.শরীফুল আলম।
এসময় তিনি আরো বলেন, আজকে আমরা যদি মনে করি রাস্তা অনেক পরিস্কার না এটা সঠিক নয়। ষড়যন্ত্রকারী বসে নেই যারা পরাজিত শক্তি তারা আবারও মাথা ছাড়া দিয়ে উঠছে। আপনাদের অনেকেই অনেকের সাথে সখ্যতা আছে। রাতের আধারে অনেকেই অনেক ভাবে ঘুরাফেরা করছে। তারা কি গত ১৭ বছরে আপনাদের কোন ভাবে ছাড় দিয়েছে। কোন মামলা থেকে বাঁচিয়েছে। আজকে কেন আপনাদের এদের প্রতি এতো দরদ। তাদের কোন সখ্যতা করবে না তাহলে আমাদের ত্যাগী নেতারা যারা রক্ত দিয়ে দেশকে দ্বিতীয়বার ফ্যাসিবাদের কাছ থেকে মুক্ত করছে তাদের আত্মা কষ্ট পাবে। আমরা কোন ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়ানি করতে চাইনা। তবে তাদের বিরুদ্ধে সর্তক থাকতে হবে। তা না হলে আমাদের বড় ধরণের খেসারত দিতে হবে।
ভৈরব উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো.রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো.আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো.শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মো.মুজিবর রহমান প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল শেষে ১ হাজার ১শত হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু “শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার”এই স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা-এ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাসাইল পৌরসভার প্রশাসক মো: ইকবাল হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদ-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌরসভা এলাকা ও স্থানীয় বাজারগুলোতে আজ আমরা জোরালোভাবে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পন্ন করেছি।
কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আমরা ঈদের পরদিনই সফল হয়েছি। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এই কার্যক্রম আগামী সপ্তাহগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আটকে শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির অত্যন্ত বেদনাদায়ক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে উপজেলার ভাংবাড়ীয়া পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাসভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি এলাকায় সবার অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখ ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে নিজ বাড়িতে পাকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের অংশ (বা আঁটি) তাঁর শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং ছটফট করতে করতে তিনি নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৫৫ বছর।
এদিকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভাংবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় প্রতিবেশীকে এভাবে আকস্মিক ও মর্মান্তিক উপায়ে হারাতে হবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়াকে সিলেট বিভাগের অন্যতম মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে কুলাউড়ার একটি স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এই উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হতে পারে।
ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে ব্যক্তিগত সফরে কুলাউড়ায় এসে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের শহরস্থ বাসভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কুলাউড়ার সঙ্গে আমার অনেক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে কুলাউড়ার প্রতি তার আবেগ ও টান দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের মধ্যে রাজনৈতিক চর্চা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে কুলাউড়ার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এখানে বাম রাজনীতির পাশাপাশি বিএনপিও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কুলাউড়ার সংগঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন, যার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তারেক রহমান।
কুলাউড়ার চার লেন সড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এ বছরের মধ্যেই এসব কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, বিভিন্ন শর্ট কোর্স চালু এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। শিগগিরই প্রবাসী কার্ডও চালু হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কুলাউড়া সিলেট বিভাগের একটি মডেল উপজেলা হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুলাউড়াকে অনুসরণ করবে অন্য এলাকাগুলো। এ সময় সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম কুলাউড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করতে মন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহবায়ক মো. রেদোয়ান খান, বহির্বিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফোরাম কুলাউড়ার সভাপতি প্রফেসর ড. সাইফুল আলম চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়ায় গড়াই নদে নিজের মাত্র চার মাস বয়সী অবুঝ শিশুসন্তানকে ফেলে দিয়ে এক মায়ের নিজেও নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নদে মাছ ধরায় নিয়োজিত স্থানীয় জেলেরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যমুনা (২২) নামের ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, চার মাসের শিশু হাদিকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল চারটার দিকে কুষ্টিয়া শহর-সংলগ্ন কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ টিম নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে নদে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ওই শিশুর মাকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলিমের সঙ্গে যমুনার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত পারিবারিক কলহ ও মানসিক দূরত্ব চলছিল। এই কলহের জের ধরে মাত্র দুই দিন আগে যমুনা তার চার মাসের সন্তানকে নিয়ে কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুর বেলতলা গ্রামে নিজের বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান।
এরপর শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে এসে হরিপুর সংযোগ সেতুর ওপর থেকে হঠাৎ করেই নিজের সন্তানকে নিচে চলন্ত নদীতে ফেলে দেন এবং মুহূর্তের মধ্যে নিজেও নদের পানিতে ঝাঁপ দেন।
কুষ্টিয়ার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরদেশ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা মাছ ধরা নৌকার মাঝিরা তৎপরতা চালিয়ে ওই নারীকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করেন। তবে শিশুটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে স্থানীয় অভিজ্ঞ ডুবুরি টিমের সহযোগিতায় নিখোঁজ শিশু হাদিকে উদ্ধারে গড়াই নদে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধার কাজে গতি আনতে এবং পেশাদার সহায়তার জন্য ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দলকে খুলনা থেকে তলব করা হয়েছে, যারা ইতিমধ্যে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী বাবা আবদুল আলিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের চার মাসের সন্তানটি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ার বাইরে অন্য কোনো বড় শহরে যাওয়ার কথাও চূড়ান্ত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি গতকাল ফোনে তার স্ত্রী যমুনাকে বাবার বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু যমুনা তার কথায় সাড়া দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেননি।
এরপর বিকেলে হঠাৎ করেই লোকমুখে জানতে পারেন যে, নিজের ছেলেকে নদীতে ফেলে দিয়ে তার স্ত্রী নিজেও নদে ঝাঁপ দিয়েছেন। কেন এমনটা ঘটল, তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। থানায় এনে তাকে ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে ওই নারী মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়ায় পুলিশের কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিচ্ছেন না; থানা হাজতে বসে তিনি কেবল অঝোরে কেঁদে চলেছেন। নদে নিখোঁজ হওয়া চার মাসের শিশুটিকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মাদারীপুরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) টি,এম শহীদুল্লাহ রাজার জানাযার নামাজে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অফ অনার' প্রদানের মাধ্যমে তাকে চিরবিদায় জানালো মাদারীপুরের সর্বস্তরের মানুষ।
শুক্রবার (২৯ মে) জুমা'র নামাজ শেষে মাদারীপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে তার জানাযার নামাজ সম্পন্নের পরে তাকে শহরের ডাঃ তোতা সড়কের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে তিনি বিগত ২১শে মে/'২৬ ইং তারিখে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
পরবর্তীতে তার লাশ বিমানযোগে বাংলাদশে আসে। তার মৃত্যুতে মাদারীপুরে সকল মুক্তিযোদ্ধাসহ সবার মাঝে শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। ব্যক্তি জীবনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম রাজা তালুকদার একজন হাস্যোজ্বল ও সদালাপি মানুষ ছিলেন।
দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবীত পরপোকারী এই মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানসহ আমেরিকায়ও বসবাস করতেন। তার জানাযার নামাজে অংশগ্রহন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাতের আঁধারে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৯মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কোদালিয়া-হোসেনপুর পাঁকা সড়কে শৈলজানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. জোবায়েদ (২৫) উপজেলার চরপলাশ গ্রামের মো. আলতাব উদ্দীনের ছেলে। তিনি পোল্ট্রি খামারি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, জোবায়েদ রাত ৭টার দিকে কোদালিয়া বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে কোদালিয়া-হোসেনপুর পাকা সড়কের শৈলজানি এলাকায় পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন রাস্তার ওপরে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তাকে কে বা কারা কী কারণে কুপিয়ে হত্যা করেছে তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ কিশোরগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার দীর্ঘ প্রায় ৫ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গৌড়প্রসাদ দাশ পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকারী দল লাইনচ্যুত ওয়াগনটি সফলভাবে লাইনে ফিরিয়ে আনার পর রেলযোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট থেকে আখাউড়াগামী একটি তেলবাহী খালি ট্রেনের (ওয়াগন) একটি বগি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রেললাইনে লাইনচ্যুত হয়। বগিটি লাইনের বাইরে চলে যাওয়ায় সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রেলযোগাযোগ তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন (হাইড্রোলিক টুলব্যান) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ৮টার দিকে বগিটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন রেলওয়ের প্রকৌশলী ও কর্মীরা।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইন এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আটকা পড়া ট্রেনগুলো একে একে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাইনুদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটপাতা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মাইনুদ্দিনের বাবা নেছারউল্লাহর সঙ্গে একই এলাকার ফয়জুল্লাহ গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে মাইনুদ্দিনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাইনুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকায় নজরদারি জোরদার করেন।
এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটপাতা গ্রামের বজলুর রহমান (৫৫) নামে একজন কে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
নিহতের বাবা নেছারউল্লাহ দাবি করেছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিকল্পনা করেই মাইনুদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ সমান্তরালভাবে শুরু হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। শুক্রবার (২৯ মে) লালমনিরহাট সদর উপজেলার বেগম কামরুননেছা ডিগ্রি কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিস্তা প্রকল্প ঘিরে নানা মহলে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মাসেতুও হবে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজও হবে এবং তা একযোগেই শুরু হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।’
শিক্ষা খাতের সংস্কার ও অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করেনি, শুধু দুর্নীতি করেছে। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছেন।’ নতুন প্রজন্মের জন্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ সময়ের শিক্ষার্থীরা মোবাইলে জুয়া, গেমস আর বিনোদন দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এতে শিক্ষার যেমন ক্ষতি হয় কারো কারো জিবনও ধ্বংস হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের প্রয়োজন রয়েছে তবে এটির সঠিক ব্যবহার করতে হবে।’
‘এসো স্মৃতির অঙ্গণে, মিলি প্রীতির বন্ধনে’—এই স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণায় কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। স্মৃতিচারণা, বিশেষ সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মমিনুল হক এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেনসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।
বাগেরহাটের শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রায়হান উদ্দিন সুমন সরদার (৪২) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া-সিংবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন সরদার ধানসাগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা সদরের পাঁচরাস্তা মোড়ে অবস্থিত জেনারেল গ্রামীণ হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাবার শেষে ঘরে অবস্থান করছিলেন তিনি। এসময় হঠাৎ চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. অন্তরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের লাউয়াছড়া উদ্যান এলাকার ২৯৪/৮ নম্বর পিলারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা খালি তেলবাহী ৯৬২ নম্বর ডাউন ট্রেনটি বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে। এ সময় ট্রেনে ডিউটিরত আরএনবি (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরাগ বকুল দাস হঠাৎ ট্রেনের চাকায় ধোঁয়া দেখতে পান। তিনি কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ট্রেনের লোকোমাস্টারকে (চালক) জানান। লোকোমাস্টার দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। তবে ততক্ষণে ট্রেনের একটি ওয়াগনের (বগি) চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গৌড়প্রসাদ দাশ পলাশ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "ট্রেনটিতে কোনো তেল ছিল না, এটি খালি ওয়াগন নিয়ে ফিরছিল। আরএনবি সদস্যের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ট্রেনটি থামানো সম্ভব হলেও একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, এই দুর্ঘটনার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ আপাদত বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পরপরই কুলাউড়া ও আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনকে খবর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। লাইনচ্যুত ওয়াগনটি লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইন মেরামত শেষে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন সচল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী মহানগরীতে কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অপসারণ করে নতুন রেকর্ড গড়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার এ সফলতায় নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরঅনুশাসন এবং পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঈদের দিনেই মাঠে নামেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। রাসিক প্রশাসকের ঘোষণা ছিল—“৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিচ্ছন্ন হবে রাজশাহী।” নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেয় রাসিক।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুরে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাসিক প্রশাসক। এছাড়া বিকেলে বুলনপুর এসটিএস, রুয়েট সংলগ্ন এসটিএস, রাবি এসটিএসসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।
রাসিক প্রশাসকের গতিশীল নেতৃত্বে ১,২৭০ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে দ্রুততার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। এ কাজে প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরঞ্জাম ও জনবল সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা থেকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে সিটি কর্পোরেশনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)-এ স্থানান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে রাজশাহী নগরী পরিচ্ছন্ন হয়েছে। বিকাল ৪ টা থেকে এসটিএস থেকে বর্জ্য ভাগারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই কাজটি রাত ২ টার মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
এ অর্জনে নগরবাসী, পরিচ্ছন্নকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই নির্ধারিত সময়ের আগেই মহানগরী পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা এভাবেই দিনরাত্রী কাজ করে যাব।
এদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার এ সফলতায় নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতা খুব প্রশংসনীয় ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরী পরিষ্কার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
উপশহর এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার দেওয়ার উদ্যোগটি খুবই ভালো লেগেছে। এতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয়েছে।”
লক্ষ্মীপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “ঈদের দিনেই প্রশাসক নিজে মাঠে থেকে কাজ তদারকি করেছেন, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এত দ্রুত বর্জ্য অপসারণ হওয়ায় দুর্গন্ধ বা ভোগান্তি হয়নি।”
উল্লেখ্য, এবার প্রথমবারের মতো রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে নগরীর প্রায় ৮২ হাজার হোল্ডিংয়ের প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য ৩টি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এছাড়া গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য বড় ২টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ১ কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য ১টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার প্রদান করা হয়। যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।