নেত্রকোনার মদন উপজেলার বুলবুল ইসলাম ও আরজু মিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি হাঁসের খামার করেন। খামার করে সফলতার স্বপ্নও দেখেন তারা; কিন্তু মুহূর্তেই খামারিদের স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে। শত্রুতার বিষে খামারের ১ হাজার ৪০০ হাঁস মারা গেছে।
সোমবার সকালে মদন উপজেলার শাহাপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে। খামারিদের অভিযোগ উঠেছে, মদন উপজেলার শাহাপুর গ্রামের শামছুদ্দিনের ছেলে নূর আহম্মদ (৩০) ও একই গ্রামের মৃত রোজ আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম হাঁসের খামারে বিষ মিশ্রিত খাবার দিয়েছে। আর সেই খাবার খেয়ে সোমবার সকালে খামারির ১ হাজার ৪০০ হাঁস মারা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মদন উপজেলার শাহাপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বুলবুল ইসলাম ও আরজু মিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গত এক মাস আগে ১ হাজার ৪৫০টি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে একটি খামার করেন। হাওরে আমন ফসল রোপণ হওয়ায় নিজ বাড়ির সামনে জালের বেড়া দিয়ে ফাঁকা জায়গায় হাঁসগুলো লালনপালন করেন তারা। ১৫ দিন আগে নূর আহম্মদ ও রবিউল হাঁসের খামারের পাশে তাদের মোটরসাইকেল রাখে। কিছুক্ষণ পর এসে দেখতে পায় মোটরসাইকেলটি পড়ে গেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খামার মালিক বুলবুল ইসলামের স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে তুলে নিয়ে মারধর করেন তারা। এ নিয়ে তাদের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সোমবার ভোরে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হাঁসের খামারে দেন নূর আহম্মদ ও রবিউল। সেই বিষ মিশ্রিত খাবারে খামারির হাঁস মারা গেছে। হাঁস মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নূর আহম্মদ বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
হাঁস খামারি আরজু মিয়া বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অফিসে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁসের খামার করেছি। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী নূর আহম্মদ ও রবিউল প্রায়ই খামারের পাশে মোটরসাইকেল রাখেন। একদিন মোটরসাইকেলটি পড়ে যায়। এতে তারা আমার ভাতিজাকে মারধর করেন। আমরা গাড়ি রাখতে নিষেধ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিষ মিশ্রিত খাবার দিয়ে আমাদের সব হাঁস মেরে ফেলেছে।’
আরও জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই অভিযুক্ত নূর আহম্মদ ও রবিউল ইসলাম পলাতক। তবে নূর আহম্মদের বোন সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই ৪/৫ দিন ধরে বাড়িতে নেই। আরজু ও বুলবুল মিয়ার হাঁস মরে যাওয়ায় আমার ভাইকে দোষ দিচ্ছে। তারা আমাদের মারধর করতে চাইছে।’
মদন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাইরান ইকবাল জানান, ‘আরজু মিয়া ও বুলবুল ইসলাম আমার অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁসের খামার করেছে। তাদের খামারের ১ হাজার ৪০০ হাঁস মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ল্যাবটেস্ট করার জন্য মারা যাওয়া হাঁসের সেম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তাওহীদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাস চাপায় স্বামী স্ত্রীসহ অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। শুক্রবার ( ৫ জুন ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগরা হেজুলতলা গ্রামের ফজিলা খাতুন (৪৫), তার স্বামী মোতালেব সরকার (৫৫) এবং অটোভ্যান চালক নরুল হক (২৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন নিহত দম্পতির মেয়ে তামান্না খাতুন (১৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে অটোভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিন জন নিহত হয়।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা এক্সপ্রেস বাসের সামনে গিয়ে পড়ে। মূহূর্তে বাসটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে তিন যাত্রী নিহত হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আহত হয় তামান্না খাতুন নামে এক যাত্রী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাড়ে ৭শ কেজি নকল কিটনাশক উদ্ধার করা হয়েছে। নকল কিটনাশক তৈরী ও মজুদের দায়ে এক নারীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের প্রামানিকপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
জানা যায়, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মহির উদ্দিনের ভাই প্রামানিকপাড়ার মো. ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৫৫) ও ছেলে নুর মোহাম্মদ নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকে নকট কিটনাশক তৈরী করে বিভিন্ন কোম্পানীর মোড়কে বাজারজাত করে আসছে। এই খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার আরেফিন সিদ্দিকের তথ্যানুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা অভিযান চালান।
এসময় ওই বাড়িতে নকল কিটনাশক তৈরী করা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় হাতে নাতে সাজেদা বেগম কে বালি, ইটের গুড়া ও রং দিয়ে নকল কিটনাশক তৈরী করা অবস্থায় পাওয়া যায়। একইসাথে ঘরে প্যাকেটজাতকৃত ৩০০ কেজি আর বস্তায় রাখা খোলা অবস্থায় সাড়ে ৪০০ কেজি নকল কিটনাশক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সাজেদা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট। আর জব্দকৃত নকল কিটনাশক নিয়ে আসে কৃষি বিভাগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ মূলত: মহির মেম্বারের প্রশ্রয়ে তার ভাতিজা অটোচালক নুর মোহাম্মদই এই কিটনাশক তৈরী করে বিক্রি করেন। অভিযানকালে সে বাড়িতে থাকলেও প্রশাসন শুধু তার মায়ের কথা অনুযায়ী জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ তাদের তৈরি নকল কিটনাশক ব্যবহার করে কৃষক প্রতারিত হচ্ছেন। এর সাথে সৈয়দপুরের প্রতিষ্ঠিত কিটনাশক ও সার ব্যবসায়ী জড়িত। প্রশাসন তথা কৃষি বিভাগ বিষয়টা জানলেও মূল হোতাদের ধরছেন না আর ধরলেও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। পাশাপাশি নকল কিটনাশকগুলো নদীতে ফেলে এবং মোড়কগুলো আগুনে পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জব্দকৃত কিটনাশকগুলেঅ বসুনিয়াপাড়া ব্রিজের নিচে খরখরিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্যাকেটকৃতসহ অব্যবহৃত অবস্থায় প্রাপ্ত মোড়কগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মুলত: আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এখানে সম্পূর্ণ নতুন করে নকল কিটনাশক তৈরী করা হচ্ছিল। আর এগুলো এখনো বাজারে যায়নি। তাই কৃষকের হাতেও যায়নি এবং কোন প্রকার ক্ষতিই হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নকল কিটনাশকে মূলত: কোন প্রকার রাসায়নিক বা কিটনাশকের কোন উপাদান নাই। শুধু বালু, ইটের গুড়া আর রং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাই এগুলো নদীতে ফেলায় কোন দূষণ হওয়ার আশঙ্কা নেই। সেকারণেই সেগুলো নদীতে ফেলে নষ্ট করা হয়েছে। পরিবেশ দূষনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্যাকেটগুলো মাটিতে পুঁতে রাখলে আরও বেশি ক্ষতি হতো।
অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, নকল কিটনাশক তৈরির দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনে একজন নারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত খোলা ও প্যাকেটজাত নকল কিটনাশক জব্দ করে কৃষি কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা এগুলো ধ্বংস করার কথা। তবে খোলা জায়গায় পলিথিনের মোড়ক পোড়ানো বা নকল কিটনাশক নদীতে ফেলা দেওয়া ঠিক হয়নি।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের (ঠেলে পাঠানোর) একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ—এমন অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে জড়ো করে যানবাহনে করে সীমান্তের কাছাকাছি এনে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি।
৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।
দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনো মেনে নেব না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমরাও সীমান্তবাসী হিসেবে বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করছি।’
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই তা সমর্থন করিনি। সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশ ইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জনবল বাড়ানো হবে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাট হতে আজ সকাল সারে ৯ টার দিকে এসবি পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির রেলিং ভেঙে নদীতে পরে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া হতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট - ১৫-৫৬৪৯।
করবী অক্সফাম নামের একটি ছোট ফেরিতে ওঠার সময় ওই বাসটি থেকে সকল যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয় বলে ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাসটিতে থাকা সহকারী (হেলপার) সাকিব হোসেন (২৭) দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পেরে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনের উপর পড়ে যায়। এতে তিনি কিছুটা আহত হন। কিন্তু চালক ঝন্টু আলী (৪৭) বাসটি সহ নদীতে পড়ে যান। তবে তিনি বাসের জানালা দিয়ে বেরিয়ে সাঁতরে উপরে উঠতে সক্ষম হন। তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় ২ ঘন্টা পর বেলা পৌনে ১২ টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে উপরে তুলতে সক্ষম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শুভ সেন জানান, তিনি ফেরি ঘাট দিয়ে লুজ যাত্রীদের পারাপারে নিয়োজিত মারুফ বিল্ডার্সের ম্যানেজার। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তিনি ৭ নং ঘাটের পন্টুনে দাড়িয়ে একজনের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় দেখতে পান এসবি পরিবহনের ওই বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়কের দিকে আসছে। তবে সেখানে নিয়োজিত নৌ-পুলিশ ও অন্যান্যরা বাসটি হতে যাত্রীদের নেমে যেতে বলেন। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে সোজা ফেরিতে উঠে যান। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সোজা গিয়ে ফেরির রেম বা ডালায় গিয়ে আঘাত করে। এতে ডালার তার ছিড়ে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম নিজের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে বলেন, "আমি ও আমার পরিবার সকাল ৭টার সময় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে এস বি পরিবহনের এই বাসে চড়েছিলাম। যদিও বাসটি তার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সব যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি মহান আল্লাহ্ পাক স্বয়ং পুলিশ পাঠিয়েছে যে আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দিতে।
আমরা নামার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের সামনে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা বেঁচে গেছি, কারণ ওই সময় বাসে চালক ছাড়া কোনো যাত্রী ছিলেন না।"
বাসটির সুপার ভাইজার আজমল হোসেন জানান, বাসটিতে মোট ৪০ জন টিকিট কাটলেও যাত্রী ওঠেন ৩৭ জন। তাদের নিয়েই ঢাকা যাচ্ছিলাম। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সকল যাত্রী নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রানহানির হাত থেকে আমরা বেঁচে যাই।
গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চালক ঝন্টু মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট হতে সকাল সোয়া ৭ টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ি। এর আগে বাসের ইন্জিন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিই। তারপরও ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাই। এ সময় হেলপার আমাকে সতর্ক করে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনে নেমে যায়। এ ছাড়া বাসের ভেতর আমি ছাড়া আর কোন লোক ছিল না। বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলেও সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে উপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হই। পরে স্হানীয়রা আমাকে টেনে তীরে তুলে। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ আমাদের দুজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
এদিকে দূর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ঘটনাস্হলে ছুটে আসেন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসি'র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মোঃ সালাউদ্দিন সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সেখানে উপস্হিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেয়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরিবহন সংশ্লিষ্ট সহ সকল যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করব এভাবেই ফেরিতে উঠা-নামার আগে বাস হতে সবাই নেমে যাবেন।
বেলা পৌনে ১২ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা' গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদের সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটিকে টেনে উপরে তুলতে সক্ষম হয়। তবে এর ভেতরে কোন মানুষ ছিল না বলে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ডুবিতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কের পৃথক দুটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা, শিশুসন্তান ও চালকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিয়াল্লিশহর এলাকা এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাড়িউড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশ্বর এলাকায়। কসবা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কাউসার মিয়া তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সরাইল বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি দ্রুতগামী মাছভর্তি পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে চালকসহ একই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অটোরিকশা চালক মাহবুব, যাত্রী জোসনা বেগম ও তার পাঁচ বছরের ছেলে আশরাফুলের মৃত্যু হয়। আহত কাউসার মিয়া ও তার চার বছরের মেয়ে আদিবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সকাল ৬টার দিকে সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাড়িউড়া বাজার এলাকায় প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. অলি মিয়া (৫৫), তিনি সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের বরইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সরাইল বিশ্বরোডগামী অটোরিকশাটিতে থাকা অলি মিয়া ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছে। তবে ঘাতক পিকআপ ভ্যানটির চালক ও সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এই দুটি দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১২৪ জন, বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী ৩২ জন, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের ১১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৪৮ জন এবং স্থানীয় যানবাহনের ৮ জন রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। জেলাভিত্তিক হিসাবে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় উচ্চ প্রাণহারের বিষয়টি সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ঈদকেন্দ্রিক যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ছাগল বিক্রির মাত্র ৩ হাজার টাকার কলহের জেরে মারুফা বেগম (৬০) নামে এক গর্ভধারিণী মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছয়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত বড় ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) পলাতক রয়েছে।
গত বুধবার (৩ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া এলাকায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে ওই বৃদ্ধার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার থেকে মারুফা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার (৩ জুন) তার ছোট ছেলে লাবিনের স্ত্রী ঘর গোছানোর সময় বিছানার তোশকের নিচে রক্ত এবং মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল দেখতে পান।
পরে পুলিশকে খবর দিলে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৩০-৩৬ ঘণ্টা আগে ওই বৃদ্ধাকে ভারি কোনো বস্তু দিয়ে কপালে ও চোখে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
পদ্মার ভাঙা-গড়ার খেলায় যে ধু ধু বালুচর একসময় নিঝুম পড়ে থাকত, সেই চরাঞ্চলই আজ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। পাবনার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের অন্ধকার ভেদ করে এখন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৬৪ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বিদ্যুৎ; যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে এনে দেবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় এই গ্রিন এনার্জি প্রকল্প এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
জানা গেছে, পাবনা সদর ও সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা দুটি বিশাল সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র (সোলার পার্ক) থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে ১৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর ভবানীপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডায়নামিক সান এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি টেক্সটাইল খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট (এসি), যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত এই সবুজ জ্বালানি অবকাঠামোতে রয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি সৌর মডিউল ও ৭৬০টি আধুনিক ইনভার্টার।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ১২১ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে নির্মিত এই কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।
প্ল্যান্টটির পরিচালক জহুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে ১০০ মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।
তিনি জানান, সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল এই কেন্দ্রটির বছরে প্রায় ১৯৩ দশমিক ৫ গিগাবাইট-আওয়ার পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এতে প্রতি বছর প্রায় ৯৩ হাজার ৬৫৪ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমবে। যা বাংলাদেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
অন্যদিকে, সুজানগর উপজেলার প্রত্যন্ত সাগরকান্দি চরে বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা আরেকটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে ৬৪ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
২০৫ একর জমিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার সোলার মডিউল ও ১১টি আধুনিক ইনভার্টার নিয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রটি ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে।
দেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিইপিজিসিএল) ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সমান অংশীদারত্বে গঠিত বাংলাদেশ-চায়না রিনিউঅ্যাবল এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. তানবীর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জের ৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এর পাশাপাশি নতুন এই পাবনা ৬৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও চালু হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবনযাত্রার মান দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময়কার অনাবাদি চর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাবনার এই দুটি সোলার পার্ক সেই লক্ষ্য অর্জনে এবং দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে, চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় এই গ্রিন এনার্জি প্রকল্প এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। পদ্মার ভাঙা-গড়ার খেলায় যে ধু ধু বালুচর একসময় নিঝুম পড়ে থাকত, সেই চরাঞ্চলই আজ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
বদলে যাওয়া চরাঞ্চল ও অবকাঠামো: সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি চালু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরো চিত্রই বদলে গেছে।
একসময় যেখানে সূর্যাস্তের পর জীবন থমকে যেত এবং কাঁচা রাস্তা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় ছিল না—আজ সেখানে পিচঢালা পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলছে ইঞ্জিনচালিত যানবাহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
সোলার পার্ককে কেন্দ্র করে চরের জমির দামও আকাশচুম্বী হয়েছে। কয়েক বছর আগেও হেমায়েতপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চর ভবানীপুরে কলা ও সবজি চাষই ছিল মানুষের একমাত্র অর্থনৈতিক ভরসা।
গত সপ্তাহে এই এলাকার স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও যে জমি বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ এবং কোথাও কোথাও ১২ লাখ টাকারও বেশি হয়েছে। গ্রামের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পই এর প্রধান কারণ।
এলাকায় দ্রুত কংক্রিটের বাড়ি ও স্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠছে। তবে কৃষিজমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগও বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক মাসুদ মোল্লা বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমার সাত বিঘা জমির মধ্যে পাঁচ বিঘা ছেড়ে দিতে হয়েছে।’
তিনি জানান, জমির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন এবং সেই অর্থ দিয়ে ছেলেদের জন্য দোকান করেছেন। কিন্তু কৃষিকাজ ছেড়ে দেওয়ার পর এখন নিজেকে কর্মহীন ও সারাজীবনের পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়।
আরেক প্রবীণ বাসিন্দা বারেক শেখ জানান, প্রকল্পের জন্য তার চার বিঘা জমিই অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গ্রামের শত শত কৃষকের জমি এই প্রকল্পে নেওয়া হয়েছে। এত বেশি আবাদি জমি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যবহার হওয়ায় চাষাবাদের জায়গা কমে গেছে। জমির দামও অনেক বেড়ে গেছে।’
সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দির বাসিন্দাদের পরিস্থিতি আরও জটিল। তাদের অনেকেই কয়েক দশক ধরে চরাঞ্চলের জমিতে চাষাবাদ করলেও এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।
তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমির বৈধ কাগজপত্র না থাকলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সরকারি মালিকানাধীন জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।
কুমিল্লা বিমানবন্দরসংলগ্ন ১৩ গ্রামের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধের পর তারা মহাসড়ক ছেড়ে দেন এবং পাশে মানববন্ধন করেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও পরিবহনচালকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকাবাসী জানান, কুমিল্লা বিমানবন্দরসংলগ্ন ১৩ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ কয়েক দশক ধরে ভূমির মালিকানা, কর আদায় ও চলাচলের রাস্তা ব্যবহারের অধিকার নিয়ে জটিলতার মধ্যে রয়েছেন। তারা দ্রুত এ সংকটের স্থায়ী সমাধান চান।
মানববন্ধনে বিতরণ করা একটি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য এলাকার ১৩ গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়। এতে প্রায় ৪২৩ একর জমি ছাড়তে বাধ্য হন স্থানীয় লোকজন। তবে ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নোটিশ দিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ের নির্দিষ্ট সীমার বাইরে নিজ নিজ জায়গায় পুনর্বাসন ও বসবাসের অনুমতি দেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সে সময় ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ১৯৯৯ সালে বিমানবন্দর এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের জন্য ১৪৫ দশমিক ৭৪ একর জমি হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০০২ সালে স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি অনুযায়ী তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ ওই ভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে স্থানীয় ব্যক্তিদের চলাচলের রাস্তা ব্যবহার ও বাড়িঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কর্মসূচি চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের সমস্যা সমাধান না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
আরেক বাসিন্দা মাহবুব মজুমদার বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে এই জমি আমাদের মালিকানাধীন। তাহলে আমরা কেন অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে কর দেব? আমরা সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চাই।’
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
মানববন্ধনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা এস এ বারী সেলিম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আখতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌধুরীসহ ১৩ গ্রামের কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।
কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিন বলেন, ‘ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের দাবিতে একদল লোক মানববন্ধন করছিলেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে নেমে গেলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও সদর দক্ষিণ মডেল থানা–পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা মানববন্ধন করছিলেন। একপর্যায়ে কেউ কেউ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’
খুলনা মহানগরীর এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধবিষয়ক সভা বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও কেসিসির ওয়ার্ড ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসক ডেঙ্গু সংক্রমণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। ১ হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন এবং ঈদ পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কাজে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবান জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সকল শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্যেকটি সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’ এ লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় পর্যায়ের ইমাম, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠনের জন্য ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন এবং নগরীতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় জানানো হয় মশার প্রজনন ধ্বংস করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরতি রাখা ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সবচেয়ে কার্যকর বলে জানানো হয়। এ ছাড়া বাড়ির আশপাশে বা ছাদে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব ও এসির পানি জমার পাত্র পরিষ্কার রাখা, দিনে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের হাফপ্যান্ট বা টি-শার্টের পরিবর্তে ফুলহাতা কাপড় পরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক না খাওয়া, প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথিরে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মোশাররফ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খানম, কেসিসির সচিব রেজা রশীদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মহিউদ্দিন মজুমদার, ইমাম পরিষদ-খুলনার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, জেলা ইমাম পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম নাজমুস সউদ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি সুজানা জলি ও সোনাডাঙ্গা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সভাপতি ক্যালভিন সঞ্জয় দোবে। সভা পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।
কক্সবাজারের উখিয়ায় ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ কাঁধে নিয়ে হাসপাতালে যান স্বামী। এ সময় জনতা স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলির বিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম পারভীন আক্তার (২৮)। তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ি এলাকার আবদুল গফুরের মেয়ে। কয়েক বছর আগে পারভীনের সঙ্গে পাগলির বিল এলাকার শামশুল আলমের ছেলে আবদুল আলমের বিয়ে হয়। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। পারিবারিক কলহের জেরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ নিহত পারভীনের শাশুড়িকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
নিহত পারভীনের ছোট বোন ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার বোনের স্বামী গভীর রাতে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে খেতে বসেন। এ সময় স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বোনকে ছুরিকাঘাত করেন স্বামী।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ত্রী পারভীন আক্তারকে আঘাত করার পর আবদুল আলম রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে কাঁধে তুলে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ততক্ষণে পারভীন মারা যান। উপস্থিত লোকজন তখন আবদুল আলমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ হাসপাতাল থেকে আলমকে থানায় নিয়ে যায়।
পারভীনের সংসারে তিন পুত্রসন্তান আছে জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘মূলত পারিবারিক কারণে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন স্বামী।’
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পারভীন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবদুল আলমের মাকে হেফাজতে আনা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
নাটোরে ৫ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। লম্পট ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে শহরের কানাইখালি এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সর্বস্তরের জনগণ।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার মদনহাট গ্রামে ফুচকা বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম ওই শিশুকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করে। গত বুধবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী ধর্ষকের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে একটি গাছের সাথে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শরিফুলকে আটক করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা থাকা শিশুটিকে দেখতে যান সরকার দলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দেন।
চরফ্যাশনে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি (গ্রিড) পুরোপুরি প্রস্তুত হলেও আলোর মুখ দেখছেন না স্থানীয় মানুষ। বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই সংস্থা—ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমন্বয়হীনতার কারণে ২৩০-৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন এই জিআইএস (গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার) উপকেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে তীব্র গরমে চরফ্যাশনজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং আরও প্রকট হয়েছে।
এদিকে উপকেন্দ্র প্রস্তুত থাকার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। উল্টো দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য বিতরণ সংস্থা দুটিকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাওয়ার গ্রিডের বরিশাল অনুবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিত উপকেন্দ্রটি গত ২৩ মে সফলভাবে কমিশনিং সম্পন্ন করেছে। এটি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চিঠিতে বলা হয়েছে, একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো লোড গ্রহণে গড়িমসি করছে। দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যুৎ গ্রহণ না করলে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংসংক্রান্ত কোনো দায় পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই উপকেন্দ্রটি চালু হলে চরফ্যাশন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ (স্বল্প ভোল্টেজ) ও বিদ্যুৎ ঘাটতির স্থায়ী সমাধান হবে। তবে গ্রিড প্রস্তুতের পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
চরফ্যাশন বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘শুনলাম নতুন গ্রিড প্রস্তুত হয়ে পড়ে আছে, অথচ আমরা দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ছাড়া ভুগছি। বিতরণ সংস্থাগুলোর অবহেলার কারণে যদি আমাদের কষ্ট পেতে হয়, তবে এত টাকা খরচ করে এই প্রকল্প করার মানে কী?’
গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে ওজোপাডিকো ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শাহ্ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের চিঠি আমরা পেয়েছি। আমাদের কারিগরি দল কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই এই সমস্যা কেটে যাবে।’
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক উপকেন্দ্র এভাবে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং ভোলার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে দ্রুত সব প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা নিরসন করে নতুন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।