শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সেতু নেই, সাঁকোই ভরসা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সেতু না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছে ১৫ গ্রামের মানুষ। ছবি: দৈনিক বাংলা
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৪১

‘বংশাই নদে সেতু হয়নি। সেতু না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন ১৫ গ্রামের মানুষ। দুর্ভোগ সহ্য করে এলাকাবাসী বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে কাঠের সাঁকো দিয়ে এই নদ পারাপার হচ্ছেন। সেতু না হওয়ায় এলাকার রাস্তাসহ অন্য কোনো উন্নয়নও তেমন হয়নি।’ এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন পল্লিচিকিৎসক সেন্টু তালুকদার।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের গাংগাইর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বংশাই নদের তীরঘেঁষেই তার বাড়ি। তার মতো হাজারো মানুষের দাবি ধলাপাড়া-গাংগাইর এলাকায় বংশাই নদে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করার।

সরেজমিন দেখা যায়, বংশাই নদে খেয়া নৌকার পরিবর্তে একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। উঁচু-নিচু হওয়ায় বয়স্ক মানুষ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। নিরুপায় হয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত হচ্ছেন পারাপার।

উপজেলার ধলাপাড়া ও দেওপাড়া ইউনিয়নের গাংগাইর, সরাশাক, আমজানি, বাদে-আমজানি, গোলাবাড়ি, মলাজানি, জুগিয়াটেংগর, নয়ারহাট, সরিষাআটা, শরাতৈল, বর্গাসহ ১৫টি গ্রামের মানুষকে যাতায়াত করতে হয় বংশাই নদ পার হয়ে। এলাকার সরাসাক গ্রামে রয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাংগাইর গ্রামে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া ধলাপাড়া বাজার, মসজিদ-মাদ্রাসা, কলেজ ও মাধ্যমিক বালক এবং বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বংশাই নদী পার হয়ে লেখাপড়া করতে যেতে হয়।

দেশ স্বাধীনের ৫২ বছর পার হলেও স্থানীয়রা বংশাই নদের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণে দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, দ্রুত এখানে একটি পাকা ব্রিজ করে দেয়া হোক। তাহলে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘ সময়ের দুর্ভোগ দূর হবে।

সরাশাক গ্রামের শিক্ষার্থী রাজিব সাহা বলেন, বংশাই নদে সেতু না থাকায় গ্রামে পাকা সড়ক হয়নি। বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকায় পারাপার হতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, ফসল পরিবহনসহ উপজেলা সদরে যেতে হয় এই নদী পার হয়ে। ভরা বর্ষায় খেয়া নৌকাডুবি এবং শুকনোয় কাঠের সাঁকো পার হতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

একই গ্রামের নূরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও বংশাই নদে সেতু নির্মিত হয়নি। অথচ প্রতিদিন ১৫টি গ্রামের শত শত মানুষকে এই নদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আমি সরকারের কাছে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।

দক্ষিণ ধলাপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

খেয়াঘাটের মাঝি দুলাল মিয়া বলেন, প্রায় ২৬ বছর ধরে নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করছি। এ জন্য বছরে সবার কাছ থেকে নির্দিষ্ট টাকা এবং ধান নিয়ে থাকি। বর্ষা মৌসুমে খেয়া থাকলেও শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করি। তবে এখানে একটি সেতু হলে আমাদের কষ্ট অনেক লাঘব হবে।

ধলাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, দীর্ঘদিনের এ সমস্যা নিরসনে সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও এমপি মহোদয়কে অবগত করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি হবে।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, বংশাই নদে ব্রিজের অভাবে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের কথা তিনি অবহিত আছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে কার্যকরী উদ্যোগ নেবেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে বাস ডাকাতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের দামুড়হুদা উপজেলা সদর ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অদূরে ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরের দিকে সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত সড়কে গাছ ফেলে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসসহ কয়েকটি যানবাহনে ডাকাতি চালায়।

দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়কের ওপর গাছ ফেলে। প্রথমে তারা দামুড়হুদা দশমী গ্রামের নছর আলীর ছেলে ভ্যানচালক জুয়েলের পথরোধ করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

পরে ডাকাতরা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে।


নির্বাচিত

গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১২

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, একই এলাকার রামনাম পশ্চিম পাড়ার মো জিনারুল ইসলাম, সেন্টু মিয়া, আরিফুল ইসলাম ,জিহাদ আলী, একই এলাকার হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী মেহেরনিগা, মুন্নাতের স্ত্রী হামিদা খাতুন, আবু হুরাই, আলিফ হোসেন, ও মহির উদ্দিন এবং নাম না জানা আরো অনেকে। আহতরা অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, বারো জনকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। গত সপ্তাহতেও তিনজনকে কামড় দিয়েছে। দুটি কুকুর এক সাথে লোকজনের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল।

একপর্যায়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। স্থানীয়রা পরে একহয়ে কুকুর দুটিকে মেরে ফেলেছে। আহতরা বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।


নির্বাচিত

ভাঙ্গুড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মেন্দা কুঠিপাড়া এলাকায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাদক সেবনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মেন্দা কুঠিপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আরমান হোসেন (২২)-কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিজানুর রহমান জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।


নির্বাচিত

কালীগঞ্জে মাদক আইনে ৬ জনের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছয়জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার শাওরাইদ বাজার ও বালীগাঁও এলাকায় মাদক সেবনের অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বালীগাঁওয়ের আরাজ আলীর ছেলে ইব্রাহিম, ভাড়া মিয়ার ছেলে রমজা, সাটিয়া বাজারের মান্নানের ছেলে বিপিন, দপ্তরী কলোনির আমোদ আলীর ছেলে মানিক মিয়া, শোভানপুরের নঈমুদ্দিনের ছেলে আকিবুল ইসলাম এবং তাহমিনা বেগম।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম শেখ। বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সামসুন নাহার সিমু।


নির্বাচিত

তাড়াশে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দের পর ধ্বংস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মৎস্য আইন বাস্তবায়নে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নওগাঁ হাট থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বাজার মনিটরিং ও দেশীয় মাছ রক্ষায় পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাড়াশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হোসেন।

​অভিযানে নওগাঁ হাটে মৎস্য আইনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্রি করতে থাকা ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দীনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

লিভার ও হৃদরোগে আক্রান্ত কালামের বাঁচার আকুতি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা কালাম হোসেন (৪১), পিতা মৃত মির বক্স। প্রায় এক বছর ধরে লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসা জরুরি। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটে এখন মানবিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

একসময় মাইক্রোবাস চালিয়ে সংসার চালাতেন কালাম হোসেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে আর গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। শুধু ওষুধ কিনতেই প্রতি মাসে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পরিবার জানায়, অসুস্থ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আশায় দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হারান কালাম। পরে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শেষ সম্বল প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতক জমি আপন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালামের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও নেই বললেই চলে। আগামী দিনের খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। তবুও সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বর্তমানে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও কিছু মানবিক মানুষের সহায়তায় কোনোমতে চিকিৎসা ও সংসার চলছে।

কালাম হোসেন বলেন, আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।

এ নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, লিখিত দরখাস্ত পেলে সমাজসেবাসহ তিনটি দপ্তরের পর্যালোচনায় তার রোগ অনুযায়ী সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তার হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।

মানবিক সহায়তা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা কালাম হোসেনের বিকাশ/নগদ নম্বর: ০১৭১৭-১৩৮৮০৮-এ যোগাযোগ বা আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।

চিকিৎসার অর্থসংকটে প্রতিটি দিনই কালামের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবারটির মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।


নির্বাচিত

পিরোজপুরে ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও কর্মসূচি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে পিরোজপুরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা। ‘বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২০৩১)’ পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলার সর্বস্তরের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) বা অবিভাগীয় কর্মচারীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

‎‎​ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় আন্দোলনরত কর্মচারীরা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

‎‎​বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অবিভাগীয় (ইডি) ডাক কর্মচারীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন নিজাম, পিরোজপুর জেলা সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন এবং পিরোজপুর জেলা শাখার প্রধান অন্যতম নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ও স্মার্ট ডাকসেবার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও গ্রামীণ ও ইডি শাখার কর্মচারীরা যুগের পর যুগ চরম বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। ডাক বিভাগ সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বা রেভিনিউ দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের অবিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারে মাত্র ৪,০০০ থেকে ৪,৪৬০ টাকা নামমাত্র সম্মানী ভাতায় আমাদের পরিবার নিয়ে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও ডাকঘর বন্ধের কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

‎​স্মারকলিপিতে কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮,৫০০ শাখা ডাকঘরে কর্মরত ২৩,০২১টি পরিবার এই নামমাত্র সম্মানী ভাতায় চরম মানবেতর ও অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

‎​আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবিগুলো হলো: ‎​১. জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে অনতিবিলম্বে সকল ইডি কর্মচারীদের মূল সম্মানী ও ভাতা ন্যূনতম ৩ গুণ বৃদ্ধি করে ১৫,০০০ টাকা করতে হবে।

‎২. চাকরি জাতীয়করণ ও স্থায়ীকরণ করে ২৩,০২১ জন অবিভাগীয় কর্মচারীকে স্থায়ী বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা।

‎৩. সাময়িক গ্রেড নির্ধারণসহ জাতীয়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকারি বেতন কাঠামোর ১৫তম থেকে ২০তম গ্রেড অনুসরণ করে ন্যায্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা।

‎৪. উৎসব ও নববর্ষ ভাতা (বৈশাখী ভাতাসহ) রাষ্ট্রীয় সকল উৎসব ভাতা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

‎৫. কল্যাণ তহবিল গঠন করে ইডি কর্মচারীদের আপদকালীন চিকিৎসা সুবিধা এবং অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষায় ‘ইডি কর্মচারী কল্যাণ তহবিল’-এ সরকারি বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা।

‎৬. কাজের আধুনিকায়ন ও পোশাকসহ ডিজিটাল ডাকসেবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাজের পরিবেশ, স্মার্ট ডিভাইস এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক (ইউনিফর্ম) সরবরাহ করা।


নির্বাচিত

দেড়’শ বছরের পুরোনো মহেশপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবার সংকট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর পৌরসভা জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। প্রতিষ্ঠার দেড়’শ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই পৌরবাসীর। ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ও অকেজো সড়কবাতি, কাঁচা ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সংকটে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বছরের পর বছর পৌরকর পরিশোধ করলেও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তাদের।

জানা যায়, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহেশপুর পৌরসভা ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পৌরকর দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা বলতে তেমন কিছুই পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

মহেশপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘রাতে অনেক এলাকায় সড়কবাতি জ্বলে না। অন্ধকারে নারী ও শিশুদের চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর পৌরসভায় প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ হাজার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে রাত নামলেই পৌর শহরের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।

সুপেয় পানির সংকট নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।

১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘এটি জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। অথচ নাগরিক সুবিধার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।’

এ ব্যাপারে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সেবার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

গোয়ালন্দে জরাজীর্ণ ঘরে বিধবা ফুলজানের মানবেতর জীবনযাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দে (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফুলজান বিবি (৮৫)। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে ওই জরাজীর্ণ ঘরে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েন তিনি। এ বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারের কাছে একটি ঘর চেয়েছেন তিনি।

ফুলজান গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজ উদ্দিন পাড়া এলাকার মৃত গিরানি শেখের স্ত্রী। প্রায় দুই যুগ আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। তাঁর এক ছেলে

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নুর ইসলাম (৩২) শ্রমিকের কাজ করেন। ঘরটিতে মা, ছেলে, মেয়ে ও নাততি নিয়ে তারা বসবাস করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট্ট একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরের ভাঙা চকিতে অসহায়ভাবে শুয়ে আছেন বৃদ্ধা ফুলজান বিবি। ঘরে বেড়া নেই বললেই চলে। ঘরটিতে ভাঙাচোড়া টিন দিয়ে কোনমতে আটকানো আছে। রোদ-বৃষ্টি খুব সহজেই ঘরে প্রবেশ করে। ব্রেইন স্ট্রোক ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ ফুলজান বিবি কিছুই বুঝতে পারেনা। তার মেয়ে ও নাততি প্রতিদিনের মতো সকালেই ভিক্ষা করতে বেরিয়ে যায়। ফুলজান দু-একটি কথা বলেন, তা–ও অস্পষ্ট।

ফুলজানের ছেলে নুর ইসলাম বলেন, তিনি অসুস্থ, গরিব মানুষ। কোনরকম বিভিন্ন চায়ের দোকান ও অন্যান্য স্থানে শ্রমিকের কাজ করে বোন, ভাগ্নি ও মাকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে একটি চৌকিতে থাকেন। তিনি বিবাহ করেননি। সামান্য আয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়। এর মধ্যে মা ফুলজান বিবির ও বোন ভাগ্নির ভরণপোষণ তিনিই চালান। তাঁর থাকার ঘরটিও জরাজীর্ণ। ভাত জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে ঘর করে দেবেন কে ?

নুর ইসলাম আরও বলেন, তাঁর মা বয়স্ক ভাতা পাননা। তাঁদের আড়াই শতাংশ জমি আছে। সরকার থেকে ওই জমিতে একটি ঘর করে দিলে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন। তাই মায়ের জন্য একটি ঘর চেয়েছেন নুর ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র বৃদ্ধ ফুলজান বিবি খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর অসুস্থ ছেলে তাঁকে খুব কষ্টে ভরণপোষণ দেন। সরকারিভাবে একটি ঘর দিলে তাঁদের খুব উপকার হতো।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আমি শুনেছি তারা জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং শুনেছি তারা ভিক্ষা করেন। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি তাদের ভিক্ষুক পুনর্বাসন করে দিতে পারি নাকি। তবে খুব শিগগিরই তিনি ফুলজান বিবি ও তার জরাজীর্ণ ঘরটি দেখতে যাবেন।


নির্বাচিত

মাগুরায় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা শুরু 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা প্রতিনিধি ভারতের সাতজন ও মাগুরা সহ ১০ টি জেলার ৩৭ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে মাগুরা প্রেসক্লাবে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা ২০২৬ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান।

বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা দাবা খেলোয়াড় সংস্থার সভাপতি সৈয়দ নাজমুস সাদাত নদু, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রুবায়েত হোসেন খান।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় মাগুরা প্রেসক্লাব ও আকাই স্মৃতি সংসদের সহযোগিতায় এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে দাবা খেলোয়াড় সৃষ্টি করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেটিং পদ্ধতির খেলায় যোগ্য করে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

গুরুদাসপুরে চুরি-ডাকাতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৬
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। গত আড়াই মাসে একের পর এক দুর্ধর্ষ অপরাধের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি থানা কমপ্লেক্স ও সরকারি কোয়ার্টারের আশপাশেও ঘটছে এসব ঘটনা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানিয়েও মিলছে না প্রতিকার। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় উপজেলার আনন্দনগর এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধ এবং চুরি হওয়া ৬টি গরু উদ্ধার এবং পুলিশের কার্যকর ভূমিকার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গত আড়াই মাস আগে তার বাড়ি থেকে শেষ সম্বল ৬টি গরু চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। থানায় গেলে ওসি তাকে অপমান-অপদস্ত করে বের করে দেন।”

এসময় অন্য বক্তারা বলেন, গত আড়াই মাসে গুরুদাসপুরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে বর্তমান ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একজন দক্ষ ওসি নিয়োগেরও দাবিও জানান তারা।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর ওসি মো. মনজুরুল আলম বলেন, পুলিশ এগুলো নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে চুরি ছিনতাই নেই।


নির্বাচিত

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।”

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে চলমান সরকারি জরিপ কার্যক্রমের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান হাতে পাওয়ার পরপরই গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি খাতের পুনর্গঠনে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।” পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনসম্পৃক্ততা বজায় রাখার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “বিএনপি জনগণের সরকার এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।”

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকরিয়ার ছড়াকুল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন বেড়িবাঁধ, সড়ক ও জনবসতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি দুর্গত মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। মাঠ পর্যায়ে দ্রুত মেরামত ও কার্যকর ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান এবং চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নওগাঁ শহরে নেই গণশৌচাগার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নওগাঁ। তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পাবলিক টয়লেট নেই একটিও। টয়লেটের তীব্র সংকটে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নানা কাজে ঘরের বাইরে যাওয়া নারীদের। আর বাকিরা চক্ষুলজ্জা এড়িয়ে খোলা আকাশের নিচে সাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই অপর্যাপ্ত পানি পানের কৌশল নিয়েছেন। ফলে আছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

জানা যায়, ১৯৬৩ সালে নওগাঁ পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮০-তে দ্বিতীয় এবং ১৯৮৯ প্রথম শ্রেণীতে উন্নিত হয়। আয়তন প্রায় ৩৮ দশমিক ৩৬ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভার মোট ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস। আবার প্রতিদিন জেলার ১১টি উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে এই শহরের নানান কাজে আসেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ। কিন্তু এসব মানুষের জন্য নেই একটিও পাবলিক টয়লেট।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রথম শ্রেণীতে উন্নিত হওয়ার ৩৬ বছর পার হয়ে গেলেও সেবার মানে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কোন পাবলিক টয়লেট না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারীরা। টয়লেট না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে সড়কের পাশে মল-মূত্র ত্যাগ করছেন। এতে পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নারীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নওগাঁর ব্যস্ততম পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বাটার মোড়, তাজের মোড়, গোস্তহাটির মোড়, মুক্তির মোড়, কাজির মোড়, দয়ালের মোড়, কেড়ির মোড়, ডিগ্রি কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নেই কোন পাবলিব টয়লেট। পুরুষের প্রস্রাবের বেগ হলে যেখানে ড্রেন কিংবা পরিত্যক্ত জায়গা পায় তাতেই প্রাকৃতিক কাজ শেষ করে নিস্তার পায়। কিন্তু নারীদের পড়তে হয় চরম অসুবিধায়। অনেকে আবার কোন মসজিদেও নির্ধারিত টয়লেটে প্রাকৃতিক কাজ সাড়েন। তাতেও বিপত্তি! নামাজের ওয়াক্তে শুধু তালা খোলা হয় এ টয়লেটগুলোর।

সদর উপজেলার কাটখৈর থেকে শহরে আসা গৃহিণী সুলতানা ইয়াসমিন বলেন,‘ গ্রাম থেকে শহরে আসার আগেই প্রসাব-পায়খানার বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। শহরে গেলে এই বিষয়টা নিয়ে দু:শ্চিন্তায় থাকতে হয়। পুরুষরা যেখানে-সেখানে প্রসাব-পায়খানা করতে পারে। কিন্তু আমাদের নারীদের বিপাকে পড়তে হয়। দীর্ঘক্ষণ প্রসাব-পায়খানা চেপে রাখতে হয়।’

মহাদেবপুর উপজেলা থেকে আসা আরেক নারী উম্মে কুলসুম বলেন, ‘আমরা যখন বাইরে যাই আমরা চেষ্টা করি যতটা কম পানি ও খাবার গ্রহণ করা যায়। কারণ কাজের ফাঁকে প্রসাব-পায়খানা চাপ দিলে সমস্যায় পড়তে হয়। ‘অনেক সময় চেপে থাকতে হয় আবার অনেক সময় কাজ ফেলে রেখে বাড়িতে চলে যেতে হয়।’

পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা থেকে আসা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ব্যাক্তিগত কাজ শেষ করার পর টয়লেটের সমস্যায় পড়লে কোন উপায় না পেয়ে মসজিদে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি তালা দেওয়া। তাই বাধ্য হয়ে চেপে থাকতে হচ্ছে।’

পরিবেশকর্মী নাইস পারভীন বলেন, ‘নওগাঁ শহরে মতো জায়গায় কোন গণশৌচাগার নেই, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। শৌচাগারের সংকট সঙ্গে এমন অব্যবস্থা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তো বাড়াচ্ছেই, পাশাপাশি নারীদের দৈনন্দিন চলাফেরায় সৃষ্টি করছে দু:সহ পরিস্থিতি। আমরা চাই এই অবস্থার দ্রুত সমাধান হোক।’

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ‘আমাদের কিছু উন্নত ও নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি দ্রুত আমরা এ কাজ শুরু করবো।’

নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি.এম.এ. মমিন বলেন, ‘পাবলিক টয়লেট আসলেই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’


নির্বাচিত

banner close