মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শখের পেঁপের বাগান থেকে মহসিনের লাখ টাকা আয়

নিজের শখের পেঁপে বাগানের যত্ন নিজেও নেন মহসিন। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৫৫

গাছে থরে থরে ঝুলে আছে সবুজ পেঁপে। বাগানে চলছে পরিচর্যা ও পেঁপে সংগ্রহের কাজ। ঠিক যেন ছবির মতো। এমন দৃশ্য দেখা গেল কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায়। সেখানে রেড লেডি জাতের পেঁপে চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক মো. মহসিন। শখের বসে করা এই পেঁপে বাগান এখন তার লাখ টাকার আয়ের উৎস।

কৃষি উদ্যোক্তা মহসিন জানান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। তারপর ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রবাসে পাড়ি জমান। দশ বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। মনোযোগ দেন কৃষিতে। তার মাছের ঘেরসহ মুরগি ও গরুর খামারও রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মহসিনের পেঁপে বাগানটি। ৬০ শতক জমি চাষে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে এক লাখ টাকার বেশি পেঁপে বিক্রি করেছেন তিনি। আশা করছেন, আরও ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন।

সকাল সকাল পেঁপে সংগ্রহ করে জমির আইলেই বিক্রি করছেন তিনি। কাঁচা পেঁপে বিক্রি করেন না। পাকা পেঁপে পাইকারি প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে।

কৃষি উদ্যোক্তা মো. মহসিন বলেন, ‘দশ বছর আগে দেশে এসেছি। মুরগি ও গরুর খামার করেছি। শখের বসে গত দুই বছর ধরে পেঁপে চাষ করছি। এখানে আমি সফল মনে করি নিজেকে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে কৃষিতে কোনো লোকসান নেই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, ‘মহসিন একজন শিক্ষিত উদ্যোক্তা। তার বাগানটি আমরা পরিদর্শন করেছি। বাগানটির অবস্থা ভালো। আমাদের উপসহকারী কর্মকর্তাকে তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন প্রয়োজনমতো। তাদের মতো উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে বাণিজ্যিক কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, ‘পেঁপে ফল ও সবজি দুইভাবেই খাওয়া যায়। এর পুষ্টিমানও অনেক। কুমিল্লায় ১৫ হেক্টরের বেশি জমিতে পেঁপের চাষ হচ্ছে। আমরা মহসিন সাহেবের মতো উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কাজ করে চলছি। শিক্ষিত উদ্যোক্তার মাধ্যমে বাণিজ্যিক কৃষিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া যায়।’

বিষয়:

মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি জহির হিজরা গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মাদক ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে হিজরাদের অন্তর্কোন্দলের জেরে এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী নামে এক যুবককে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পর রবিবার (১৭ মে) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহির হিজরাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১ সিপিসি-২। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১ সিপিসি-২ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ১৮ মে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা এলাকা থেকে র‍্যাব-৬ এর সহযোগিতায় জহির হিজরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মাহী হিজরাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় দোলা হিজরা নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী হিজরা বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের ছেলে। গত ১৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মধ্যবাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বরাতে বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, বুড়িচং সদর ইউনিয়নের সরকারি একটি জায়গায় কয়েকজন হিজরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে এনামুল হক শিশির হিজরা না হয়েও ‘মাহী’ পরিচয়ে তাদের সঙ্গে বসবাস করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও অন্তর্কোন্দল চলছিল।

ঘটনার দিন সকালে এনামুল হক শিশিরের সঙ্গে কয়েকজন হিজরার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে তিনি মারা যান।

ওসি লুৎফর রহমান আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর দোলা নামে এক হিজরাকে আটক করা হয়েছে।


কুলাউড়ায় অবৈধ পার্কিং ও অস্থায়ী দোকানের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যানজট নিরসন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও পশুর হাটে জাল টাকা ঠেকাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম, থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যা, কুলাউড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একেএম শাহজালাল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহবায়ক মো. রেদওয়ান খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আব্দুল লতিফ, জমিয়তে উলামা ইসলামের মো. নেজাম উদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কুলাউড়া শহরের যানজট প্রতিরোধে সড়কের পাশে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া বাজার এলাকায় মালামাল লোডিং-আনলোডিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হবে। ঈদের পর অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

এ ছাড়া ঈদের বাজারকে কেন্দ্র করে চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।


চবিতে অস্ত্র হাতে শিক্ষার্থী, কঠোর ব্যবস্থার দাবি চাকসুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম ভূইয়া, চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহ আমানত হলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক ব্যক্তির বের হওয়ার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অস্ত্রধারীর স্পষ্ট ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরের পর থেকে হল প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই কার্যক্রম শুরু করে দীর্ঘ সময়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুনরায় ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে অস্ত্রধারীর স্পষ্ট ভিডিও পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস সাঈদ বিন হাবিব তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—

অস্ত্রধারী ব্যক্তি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হলে তাকে অবিলম্বে হল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নির্মূলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলে বিশেষ অভিযান (রেইড) পরিচালনা করতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী বলেন," আমরা সিসিটিভির ফুটেজ পেয়েছি অতি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অপরাধীকে সনাক্ত করব। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকুক।"

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার এবং আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।




পাবনায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে যুবক গ্রেফতার, ট্রাক্টর জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজ আলী, পাবনা জেলা প্রতিনিধি 

পাবনায় অবৈধভাবে বালু পরিবহন ও উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় বালু বোঝাই একটি ট্রাক্টর-ট্রলি জব্দ করা হয়।

গত রাতে পাবনা সদর থানাধীন চরতারাপুর কোলচুরি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মোঃ মারুফ ইসলাম (২৪)। সে জেলার সুজানগর উপজেলার রায়পুর খেতরপাড়া গ্রামের মোঃ কোমল মন্ডলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, পাবনার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলাজুড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার একটি দল চরতারাপুর কোলচুরি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে বালু পরিবহন ও উত্তোলনের অভিযোগে মারুফকে আটক করা হয় এবং তার হেফাজতে থাকা বালুবাহী ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়।

পাবনা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জেলাজুড়ে অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।


পাবনায় জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজ আলী, পাবনা জেলা প্রতিনিধি 

পাবনা জেলা পুলিশের বার্ষিক ও নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাঁকজমকপূর্ণ মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ সভা এবং অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) দিনব্যাপী পৃথক পৃথক ভেন্যুতে এসব কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

আজ সকাল ৮টায় পাবনা জেলা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ ও আকর্ষণীয় মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। প্যারেডে সুসজ্জিত কন্টিনজেন্টের অভিবাদন গ্রহণ ও সালাম পরিদর্শন করেন পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ ছুফি উল্লাহ। জেলা পুলিশের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সুজানগর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ।

প্যারেড পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার উপস্থিত অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে কঠোর শৃঙ্খলা মেনে, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

এরপর সকাল ১০টায় পুলিশ লাইন্সের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এএসআই আব্দুল জলিল মিলনায়তনে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় বিগত মাসের কল্যাণমূলক প্রস্তাবসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে তা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে তিনি পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও ফোর্সদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।

দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, মাদক উদ্ধার, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অপরাধ সভায় পুলিশ সুপার জেলার সকল সিনিয়র কর্মকর্তা, প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), তদন্ত কেন্দ্র, ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ইনচার্জদের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে ওয়ারেন্ট তামিল, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং অপরাধী গ্রেপ্তারে আরও বেশি তৎপর হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

সভায় বিদায়ী এপ্রিল মাসের সফল কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে (শ্রেষ্ঠ অফিসার, শ্রেষ্ঠ থানা, ওয়ারেন্ট তামিল ও অস্ত্র উদ্ধার) ৫ জন পুলিশ অফিসারকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া পিআরএল (অবসর উত্তর ছুটি) গমনকারী ২ জন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

কর্মসূচিগুলোতে পাবনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ এবং পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


কোরবানি পশু প্রস্তুতে ব্যস্ত রাউজানের খামারিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এম. রমজান আলী, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজান উপজেলায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকে। চাহিদার প্রেক্ষিতে শতভাগ প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাইয়ে কোরবানির গরু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রতিটি খামারে ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে।

রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, রাউজানে মোট খামারের সংখ্যা ৪৫৯টি। তন্মধ্যে গরুর খামার ৪১৮টি, মহিষের খামার ১৭টি, ছাগলের খামার ২৪টি। এরমধ্যে রেজিস্ট্রেশনকৃত গরুর খামারের সংখ্যা মাত্র ২৫টি। খামারগুলোতে মোট ষাঁড় ২২ হাজার ৩০৮টি, বলদ ৯ হাজার ৬৯৬টি, মহিষ ২ হাজার ৫৮৭টি, গাভী ১ হাজার ৫২৪টি।

গত বছর রাউজানে ১৭ হাজার ৬৮৩টি ষাঁড়, ৭ হাজার ৪৫৯টি বলদ, ৮৪৭টি গাভী, ২ হাজার ৩৬৭টি মহিষ, ১০ হাজার ১২৯টি ছাগল, ২ হাজার ১৬৩টি ভেড়া কোরবানি দেওয়া হয়।

রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হিংগুলা এলাকার শান্তিনগরে বারাকা এগ্রো পরিদর্শনে দেখা যায়, বিশাল শেডের ভেতর দুই সারিতে গরুগুলো রাখা হয়েছে। গরম থেকে স্বস্তি দিতে প্রতিটি গরুর মাথার উপর বৈদ্যুতিক পাখা স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন ভেদে দেওয়া হয়েছে স্ট্যান্ড ফ্যানও।

খামারের পাশের বিলজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক ঘাস। সেখান থেকে এনে একটি কাটার যন্ত্র দিয়ে ঘাস কাটছেন শ্রমিকেরা। স্তূপ করে রাখা আছে শুকনো খড়। কেউ কেউ গরুগুলোকে গোসল করাচ্ছেন আবার কেউ কেউ খামার পরিষ্কার করছেন।

বিভিন্ন খামার পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে এ বছর ৫ মণ থেকে শুরু করে ২৩ মণ পর্যন্ত ৬০টি বিক্রয়যোগ্য গরু প্রস্তুত রয়েছে। ২০টি বিক্রি হওয়ার পর বর্তমানে ৪০টি গরু রয়েছে। সর্বোচ্চ ২৩ মণ ওজনের গরুও আছে।

ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতকল্পে গরুর ওজন পরিমাপের জন্য ডিজিটাল স্কেল বসিয়েছেন। ২৩ মণ ওজনের গরুটির দাম হাঁকিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসু বলেন, “খামারিদের গরুর চিকিৎসা সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। রাউজানে খামারগুলোতে কোরবানির গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিছু কিছু খামারি প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গৃহস্থালি গরুর মতো পালন করছেন। তা ছাড়া বাইরে থেকে মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু আনতে শুরু করেছেন। চাহিদার তুলনায় গরু বেশি হবে বলে ধারণা করছেন তিনি।”


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ মো.সাইফুল ইসলাম, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে কুমিল্লামুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও চালকেরা।

​হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ছয়টার দিকে মেঘনা-গোমতী সেতুর কাছাকাছি স্থানে একটি কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কাভার্ড ভ্যানটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায় এবং ট্রাকের সামনের অংশ গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে চালক ভেতরে আটকে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় চালককে উদ্ধার করেন। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে কার্যত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে গজারিয়া অংশের ১৩ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যানজট নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, তপ্ত গরমে বাসের ভেতর নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা নিদারুণ কষ্টে সময় পার করছেন। দীর্ঘ সময় একই স্থানে দাঁড়িয়ে আছে শত শত যানবাহন।

​চট্টগ্রামগামী ট্রাকচালক আমির আলী বলেন, "সকাল সাতটায় মেঘনা সেতু পার হওয়ার পরই জ্যামে পড়েছি। এখন সকাল সাড়ে নয়টা বাজে এখনো দাউদকান্দি পৌঁছাতে পারিনি।"

​কুমিল্লাগামী বাসচালক নবী হোসেন বলেন, "স্বাভাবিক সময়ে মেঘনা সেতু থেকে দাউদকান্দি যেতে ১০ মিনিট সময় লাগে। অথচ আজ দেড় ঘণ্টা ধরে জ্যামে বসে আছি এখনো দাউদকান্দি সেতু পার হতে পারিনি।"

​গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ জানান, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল শুরু হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।#


ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ তৈরির দায়ে যুবকের অর্থদন্ড ও কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো.মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ তৈরি অপরাধে আব্দুর রশিদ (২৩) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৮মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের লিটন হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল দুধ তৈরি করছেন। পরে এই ভেজাল দুধ ও ননি উঠানো নিম্নমানের দুধ মিশ্রণ করে চিলিং সেন্টারে সংরক্ষণ করেন। এরপর সেটা দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকযোগে বাজারজাত করেন। সয়াবিন তেল (কোয়ালিটি), কস্টিক সোডা ও চিনি মিশিয়ে এসব ভেজাল দুধ তৈরি করেন।

ভাঙ্গুড়ায় গত এক বছরে অন্তত ১০ জন নকল দুধ কারবারিকে জেল ও জরিমানা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় এনএসআই এর সহযোগিতায় সোমবার রাতে এই অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় লিটনের ফ্যাক্টরিতে ১০০ লিটার সয়াবিন তেল (কোয়ালিটি) জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেনারি সার্জন ডা. শারমিন আক্তার, উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম ও থানার এস আই এরশাদ আলী উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, জনস্বার্থে এমন অভিযান নিয়মিত চলবে।


নগরীর পানি নিষ্কাশনে খালগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকা জরুরি: কেসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১৯ মে, ২০২৬ ১০:৩৩
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো 

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগার লবি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগর ভবনে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রশাসক সংসদ সদস্যকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে উভয় জনপ্রতিনিধি খুলনাঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
কেসিসি প্রশাসক বর্ষ মৌসুমে মহানগরীর জলাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরে বলেন, মহানগরীর অভ্যন্তরীণ খালগুলির অধিকাংশই ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীতে মিশেছে। মহানগরীর পানি দ্রুত নিষ্কাশনে উল্লিখিত খালসমূহের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসক ডুমুরিয়া উপজেলার খালসমূহের পানি প্রবাহ স্বাভারিক রাখতে সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন। সংসদ সদস্য এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেন।

কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্লা কবিরুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মাহবুবুর রহমান, রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক আব্দুর রব আকুঞ্জি, রুদাঘরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আমান উল্লাহ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


নতুন ভিসি নিয়োগ বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে ডুয়েটে অচলাবস্থা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজিপুর জেলা প্রতিনিধি

নতুন ভিসি নিয়োগ বাতিলসহ ৩ দফা দাবিতে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ব্লকেট কর্মসূচি পালন অব্যাহত রেখেছেন। আন্দোলনকারীরা ডুয়েটের ফটক বন্ধ করে দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এতে ডুয়েটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ব্লকেট কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ডুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে নতুন ভিসি ড. মুহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার পাশাপাশি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক বলে মনে করছে তারা।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালের ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগ এবং গতকালের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যারা জড়িত তাদের সবার বিচার করা।

সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সব কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ডুয়েট ক্যাম্পাসে খণ্ড খণ্ড মিছিল এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। ক্যাম্পাসের ফটক বন্ধ করে দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে গেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন। আন্দোলনের অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ছাড়া শুধু শিক্ষক এবং সাংবাদিকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন তারা। সব ক্লাস ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচল অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে।

দুপুর সারে ১২টার দিকে ডুয়েটে চলমান নতুন ভিসি নিয়োগবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় নতুন ভিসি নিয়োগ বাতিল না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে তারা ঘোষণা দেন।

এদিকে ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ খসরু মিয়া সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, আমাদের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগ করা হোক। এখন যেহেতু সরকারিভাবে ভিসি নিয়োগ হয়েছে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতির সভাপতি জানান, ছাত্রদের আন্দোলনও যৌক্তিক। গত রোববার দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২১ ছাত্র আহত হয়েছেন, যেটা আমাদের কাম্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পেছনে কিছু শিক্ষকদের উসকানি আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘না। এই অচল অবস্থা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর পরই তা প্রত্যাখ্যান করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশ। রোববার ড. মো. ইকবাল ডুয়েট ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন—এমন সংবাদে আন্দোলনরত ছাত্ররা ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নতুন ভিসি সমর্থিত ছাত্ররা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভিসি ড. মো. ইকবাল ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করে পাশেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


এনসিপি-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: চট্টগ্রামে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

গ্রাফিতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সোমবার সকালে সিএমপির জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও আশপাশ এলাকায় যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ থাকবে।

সিএমপির পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) টাইগারপাস কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় গ্রাফিতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

চসিক মেয়রের মিডিয়া সেল থেকে টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার সড়কে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময় ও একই স্থানে ‘জুলাইযোদ্ধা’ ব্যানারে আরেকটি গ্রাফিতি কর্মসূচির ঘোষণা দেয় এনসিপি-সমর্থিত একটি পক্ষ। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরি হয়।

এ সময় ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের পিলারে আঁকা আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নের ওপর সাদা ও হলুদ রং লাগানোর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ নিয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে চসিকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কোনো গ্রাফিতি অপসারণ করা হয়নি; কেবল পোস্টার সরানো হয়েছে।

পরে এনসিপির নেতা-কর্মীরা চসিক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও পুনরায় গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি পালন করেন। একই সময়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও সেখানে অবস্থান নিলে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা থেকে পরে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।


গোপালপুরে সড়কের ইট উধাও, অভিযোগের তীর ইউপি সদস্যের দিকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের ইটের রাস্তা নির্মাণের এক বছর না পেরোতেই সেই রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ইউপি সদস্য সরকারি সড়কের ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণ করেছেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম আয়েশা বেগম। তিনি ওই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) মোতাবেক (উপজেলা পরিষদ ওয়ারী) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (১ম ও ২য় পর্যায়) পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার গ্রামীণ সড়ক বা হালটে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।

গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পাশেই প্যারাজানি বিল। সেখানে সহস্রাধিক একরে বোরো ও রোপা আবাদ হয়। বিলে হালচাষ এবং সেখান থেকে ফসল ঘরে আনার জন্য সড়কটি একমাত্র অবলম্বন। এলাকাবাসির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন গ্রামীণ সড়কটি মেরামত ও ইটের সলিং করে।

প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজেই। আর কাজের ঠিকাদারি পান তার স্বামী তোফাজ্জ্বল হোসেন। কিন্তু দুই মাস আগে ইউপি সদস্য ও তার স্বামী দুজনে মিলে দিন দুপুরে রাস্তার সকল ইট তুলে রিকশা-ভ্যানে করে বাড়ি নিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা হবে। তাই ইট তুলে খোয়া বানানো হবে। পরে সেই ইট দিয়ে তারা বাড়িতে পাকা বাথরুম বানায়। এদিকে ইট তুলে নেয়ায় চলতি বর্ষায় রাস্তার মাটি ধসে পড়ছে। ফলে মাঠ থেকে কৃষকরা বোরো ধান বাড়ি নিয়ে আসতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল জানান, স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলা সরকারি টেহায় ইচ্ছামতো ইটের রাস্তা বানাইছে। আবার তারাই দিন দুপরে রাস্তার ইট তুইলা নিয়া বাড়িতে গোছলখানা আর পাকা পায়খানা দিছে। এরা প্রভাবশালী। কিছু কইতে গেলেই মাইরতে আসে। তাই সবাই চুপচাপ হইয়া আছে।’ গত রোববার ওই ইউপি সদস্যের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজের সাইনবোর্ডটি বাথরুমের পাশে পড়ে রয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যের স্বামী এবং ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি ওই অর্থবছরে ওই ইউনিয়নের ৪টি গ্রামীণ সড়ক সলিং করার কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট থেকে যায়। সেই ইট দিয়ে বাড়িতে পাকা বাথরুম বানিয়েছেন। বরাদ্দ দেওয়া বাড়তি সরকারি ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কি না প্রশ্নে জানান, উপজেলা প্রশাসন তো কখনও ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের কী সমস্যা?

ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম জানান, গ্রামের কিছু দুষ্টু লোক রাতের আধাঁরে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম বানানোর প্রশ্নই আসে না। ইট চুরির ঘটনা প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি প্রশ্নে জানান, রাস্তাটি পুনঃসংস্কার করার জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউপি সদস্যকে মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিজের টাকায় ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উপকূলজুড়ে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে আকন্দ ফুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

গ্রীষ্মের আবহে উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলার বিভিন্ন সড়ক ও বেড়িবাঁধজুড়ে ফুটতে শুরু করেছে আকন্দ ফুল। সাদা ও হালকা বেগুনি রঙের এই বুনো ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে। বিশেষ করে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধে জন্ম নেওয়া আকন্দ গাছগুলো যেন প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের এই সময়টাতে আকন্দ গাছে বেশি ফুল ফুটে। কোনো ধরনের বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছ উপকূলীয় প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য। সকাল কিংবা বিকালে চলাচলের সময় পথচারীরা আকন্দ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

চালরায়েন্দার বাসিন্দা খোকন হাওলাদার বলেন, ‘আগে এই ফুলকে তেমন গুরুত্ব দিতাম না। এখন রাস্তার ধারে এত ফুল ফুটতে দেখে খুব ভালো লাগে। মনে হয় প্রকৃতি নিজেই উপকূলকে সাজিয়ে তুলেছে।’

উদ্ভিদপ্রেমী ও স্থানীয় শিক্ষক ইলিয়াস মিলন বলেন, ‘আকন্দ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি একটি ভেষজ গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন কাজে এর ব্যবহার রয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব দেশীয় উদ্ভিদের গুরুত্ব অনেক।’

প্রকৃতির আপন নিয়মে বেড়ে ওঠা আকন্দ ফুল এখন উপকূলের পথঘাটে ছড়িয়ে দিচ্ছে নীরব সৌন্দর্য। গ্রীষ্মের এই সময়টাতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠা আকন্দ গাছ যেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে এনে দিচ্ছে এক প্রশান্ত অনুভূতি।


banner close