টাঙ্গাইল সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবদুর রাজ্জাকের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে টাঙ্গাইল ছাত্রদলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
ভিডিওতে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখা যায় ২৭ বছর বয়সী আবদুর রাজ্জাককে।
সদস্য সচিব রাজ্জাক সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা গ্রামের বাসিন্দা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে অনেকে মন্তব্য করেন যে, দল যেখানে বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিওকলে ব্যস্ত।
ভাইরাল হওয়া ছাত্রদল নেতা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এটি একটি চক্র। প্রথমে আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, তারপর বিবস্ত্র হয়ে আমার সঙ্গে ভিডিও কলেও কথা বলেছে। পরে সেগুলো স্ক্রিন রেকর্ড করে আমার কাছে টাকা চেয়েছে ওই মেয়ে। এটাও বলেছে আমি যদি টাকা না দেই আমার ভিডিও ভাইরাল করে দেবে। আমি টাকা দেইনি দেখেই এখন তারা সেই ভিডিও ভাইরাল করছে।’
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব আবদুল বাতেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। রাজ্জাক যেটা করেছে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে কেন্দ্রের সবার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। তবে খুব অচিরেই বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে তারা যে সিদ্ধান্ত দেয়। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা ও মাটিডালী এলাকার সীমান্তবর্তী করতোয়া নদীর তীরের জঙ্গলঘেরা একটি দুর্গম এলাকায় গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে জেলা ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে কথিত সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানা উচ্ছেদ করেছে। এ সময় চক্রের প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, মাদক, নগদ টাকা এবং নির্যাতনে ব্যবহারের অভিযোগ থাকা একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক শকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর তীরে একটি কারখানার পেছনের নির্জন এলাকায় তাঁবু ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আস্তানায় অবস্থান করে একটি চক্র বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। চক্রটি মাদক কারবারির পাশাপাশি অপহরণ করে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত বলে পুলিশের দাবি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় চক্রের কথিত প্রধান রকি, তার সহযোগী রাকিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে আরও পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য করতোয়া নদী সাঁতরে পালিয়ে যান বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ধারালো চাপাতি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকারও জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ফেনসিডিলসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তারা এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদানকে ইরানবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হুতিদের থেকে আসা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং এই সম্পর্ককে কেবল হজের মতো ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না।
ঢাকা ও রিয়াদের এই যৌথ সম্পর্ক বর্তমানে একটি বড় কৌশলগত সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনে নৈতিক ও আত্মিক অবস্থান থেকে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একই সাথে ইরানের সাথেও নিয়মিত কূটনৈক আলোচনা বজায় রাখছে। তাই হুতিদের সংকট মোকাবেলায় গঠিত জোটে যুক্ত হওয়া মানেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আক্রান্ত করা—এমন ভাবার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতু ভেঙে ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর পড়েছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডের চালক, সুকানি, সহকারী ও ১৭ জন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। রোববার (২ আগস্ট) শ্রমিক কাশেম মিয়া বলেন, ‘বাল্কহেড থেকে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পেলেও মুঠোফোন, টাকা, ব্যাগে থাকা পোশাক, ঘুমানোর চাদরসহ বিভিন্ন সামগ্রীর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।’
বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী বলেন, ‘তিনি ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ৪০ হাজার ইটবোঝাই করে ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে শনিবার ভোরে রওনা দেন। সন্ধ্যায় খিরাই নদ দিয়ে দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া বেইলি সেতুর নিচে পৌঁছালে বিকট শব্দে সেতুটি ভেঙে বাল্কহেডের ওপর পড়ে। এ সময় বাল্কহেডে থাকা সবাই সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে ২৫ লাখ টাকায় কেনা বাল্কহেডের ওপর সেতু ভেঙে পড়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বর্ষা ও বৃষ্টিতে বেইলি সেতুর পাটাতনগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই নষ্ট হওয়া পাটাতন দেবে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটত।’
সেতু ভেঙে যাওয়ার পর এই সড়কে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দাউদকান্দি উপজেলা ছাড়াও চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার একাধিক গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৮টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলার বিভিন্ন পদমর্যাদায় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। মাস্টার প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন।
প্যারেড পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
মাস্টার প্যারেডে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ লাইন্স নীলফামারীর রিজার্ভ ইন্সপেক্টর (আরআই) মো. মোফাজ্জল হোসেন সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) এ কে এম ওহিদুন্নবী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের মোটরযান শাখা ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নতুন আদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর ফলে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের রিচার্জের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী বিইআরসি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি—পিডিবি, আরইবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকো—প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
এ ছাড়া সঞ্চালন খাতেও ব্যয় বেড়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর সঞ্চালন ব্যয় বিবেচনায় হুইলিং চার্জ ভারিত গড়ে প্রতি ইউনিট ৩১.৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮.৮৬ পয়সা করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে সঞ্চালন খরচ বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ।
সর্বশেষ শুল্ক হার অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি সর্বনিম্ন ৬৯ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩ টাকা ৬৪ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এই বৃদ্ধির হার গ্রাহকের ব্যবহারের ধরন ও ক্যাটাগরির ওপর নির্ভরশীল—অর্থাৎ আবাসিক, শিল্প বা কৃষি খাতের গ্রাহক এবং মাসিক ইউনিট ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী বিলের বৃদ্ধি ভিন্ন হবে।
নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ায় সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে, বিশেষত গ্রীষ্মকালে যেসব পরিবার নিয়মিত এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, গিজারসহ উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে, তাদের বিল তুলনামূলক বেশি বাড়বে। শুধু গৃহস্থালি খাতই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন খরচেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যার ফলে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যে পরোক্ষ প্রভাব দেখা দিতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানি খরচ এবং বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন যে মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো বাহ্যিক চাপ ছিল না এবং বাজেট বিবেচনায় রেখে দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে; দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে তা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে পৃথক অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তিনি জানান।
(নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি) নেসকো পঞ্চগড়, নির্বাহী প্রকৌশলী সত্যজিৎ দেবশর্মা তিনি জানান, দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে দ্রুত সময়ে টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমরা প্রিপেইড মিটার নিয়মিত চেক করে দেখি বেশি টাকা কাটে না, প্রিপেইড মিটার গ্রাহকরা দাম বৃদ্ধি হওয়ার বিষয়ে অবগত নেই, তাই প্রিপেইড মিটারের প্রতি অভিযোগ রয়েছে।
নানা আয়োজনে মাগুরা স্বরলিপি সংগীত নিকেতনের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা অডিটরিয়ামে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সনদপত্র বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি।
আলোচনা সভায় সংগঠনের সহসভাপতি এম এ হাকিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের প্রতিনিধি এনডিসি মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাশ, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক অ্যাড. কাজী সিরাজ উদ্দিন মিহির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, স্বরলিপি সংগীত নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ সুকুমার পাল।
আলোচনা শেষে অতিথিরা ২০২৫ সেশনে সংগীত, চিত্রাঙ্কন ও নৃত্য বিভাগে উত্তীর্ণ ৮৫ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। পরে স্বরলিপি সংগীত নিকেতনের প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন ।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মইয়ার হাওরে নৌকা ডুবে নিখোঁজ চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে হাওরের রোয়ারকারা এলাকায় ভেসে ওঠে দুইজনের মরদেহ। তারা হলেন, জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত জগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেব নাথ (৩৭) ও একই এলাকার মৃত অনিল দেব নাথের ছেলে অধীর দেবনাথ (৩৫)।
এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) দিনভর অভিযানে পাওয়া যায় নিখোঁজ সত্যেন্দ্র নাথ সতী (৬৫) ও অরুণ দেবনাথের (৪৫) মরদেহ। এসব নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে। উপজেলার মইয়ার হাওর পাড়ের বালুচল এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যান ৯ জন। তাদের বাড়ি পূর্ব ভবানীপুর এলাকায়। ভোররাত সাড়ে ৩টার সময় সেখান থেকে ফেরার পথে মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় ডুবে যায় নৌকাটি। পাঁচজন সাঁতারে তীরে উঠলেও খোঁজ মেলেনি চারজনের।
শনিবার দিনভর সুনামগঞ্জ ও সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের অভিযানে পাওয়া যায় দুজনের মরদেহ। অন্য দুজনের দেহ ভেসে ওঠে রোববার (২ আগস্ট)। পরে থানা পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা জোরদার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাজীপুরে ‘মৌলিক সাংবাদিকতা ও নৈতিক প্রতিবেদন’বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল হল রুমে জেলা প্রশাসন, গাজীপুর ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় গাজীপুরে কর্মরত প্রায় ৮০ জন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার হাতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্যপদের সনদ তুলে দেন। এ সম্মাননা গ্রহণ করে আবেগাপ্লুত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। সাংবাদিক সমাজের এই সম্মান ও ভালোবাসা আমি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব। আপনারা আমাকে সত্যিই ঋণী করে ফেলেছেন।’
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে শিশু অধিকার, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।’
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন সবুজ, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আবদাল আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।
কর্মশালার প্রশিক্ষণ পর্ব পরিচালনা করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দেবাশীষ রঞ্জন সরকার সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা, নৈতিক প্রতিবেদন তৈরির কৌশল, তথ্য যাচাই, শিশু সুরক্ষা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহবিষয়ক আইন এবং গণমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, ফরিদপুরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বেলুন, পায়রা উড়িয়ে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, রেঞ্জ কর্মকর্তা তাওহীদ হোসেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ তাবরিজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, কোতয়ালী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুলঅ হাসান চৌধুরী রঞ্জন সহ বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে আজ এই ফলদ ও বনজ বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই উদ্যোগ চলমান থাকবে। পর্যায়ক্রমে আমরা প্রতিটি উপজেলায় এই বৃক্ষ মেলার আয়োজন করব। এর পাশাপাশি, প্রতিটি ইউনিয়নে তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপকভাবে বৃক্ষ রোপণের কোনো বিকল্প নেই। তারা সবাইকে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।
পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে স্টল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মাদারীপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি, পরিকল্পনা তৈরি এবং স্বনির্ভরতা অর্জনে রাজস্ব বৃদ্ধির উপায় চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে 'স্টেকহোল্ডার ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম' অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উক্ত প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন পৌর প্রশাসক (উপ-সচিব) মোছাঃ জেসমিন আক্তার বানু। বিশ্ব ব্যাংক এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর সার্বিক সহযোগিতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'এস,এফ আহমেদ অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস' এই কর্মশালার আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় সরকার কারিগরি ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো সংস্কার (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাজমুস শাদাত, ডেপুটি টিম লিডার সায়মা আক্তার সহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ প্যানেল।
অনুষ্ঠানে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান, টেকসই উন্নয়ন এবং এজন্য করণীয় সম্পর্কে স্টেকহোল্ডারদের নিকট থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত নেয়া হয়। পৌরসভার নির্বাহী কর্মকতা খন্দকার আবু আহম্মদ ফিরোজ ইলিয়াসের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
উক্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণারী সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম কর্মী, ব্যবসায়ী, বেসরকারী সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বলেন, একটি আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে সঠিক পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত রাজস্ব আয়ের বিকল্প নেই।
এছাঠাড়াও, পৌরসভার অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মাদারীপুরের জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন, মশক নিধন এবং পৌর কর আদায় সহজীকরণ বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান ও গঠনমূলক মতামত প্রদান করেন।
পরে পরামর্শক দল উপস্থিত সকলের মতামত ও সুপারিশসমূহ নোট আকারে লিপিবদ্ধ করে তা' মূল উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম)-এর উদ্যোগে ‘নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও মানবিক পেশাজীবী গড়ে তুলতে এ ধরনের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন করলেই হবে না, বরং বাস্তবমুখী জ্ঞান, গবেষণা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন এবং মাস্টার্স প্রোগ্রামের জুলাই ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রোগ্রামের জানুয়ারি ২০২৬ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী। এ সময় আইডিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনজুম তাসনুভা, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করেন আইডিএমের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে জানুয়ারি ২০২৬ সেমিস্টারের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।
এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীরা আইডিএমে তাদের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষক-সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে আইডিএমের শিক্ষক, কর্মকর্তা, নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্মাণের সাত বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে রংপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। গত শনিবার (১ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বার ও অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।
আরিফ আহমদ বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়, জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের মধ্যে সকল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।’
আরিফ আহমদ বলেন, ‘হাসপাতালে আসবাবপত্রের জন্য এরই মধ্যে টেন্ডার হয়েছে। এখন স্যাম্পল যাচাই-বাছাই চলছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে পারব। প্রধানমন্ত্রী দু’এক মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এর আগেই হাসপাতালের সকল কাজ শেষ হবে। এরপর অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।’
এ সময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত সাত বছর আগে রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির মধ্যে নির্মাণ করা হয় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। এটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকার সেই কাজটি করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং করপোরেশন। ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ করা হয়। এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল জনবল সংকট-অর্থ বরাদ্দে আটকা রংপুরের শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শিরোনামে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
নবনির্মিত এই হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছর করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ভবনটিকে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৭ বর্গফুট। এ ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলাভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার। সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন দেড় হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। আছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। দুইতলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টার। নিচে দুটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও নির্মাণ করা হয়েছে একটি ভবন।
শিশু হাসপাতালের মূল ভবনের প্রথম তলায় ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড এবং কেবিন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রার সময় আরও কমিয়ে আনা এবং কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বর্তমানে এই রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শন শেষে শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম স্টেশনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে থেকে চার জোড়া ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করছে। যাত্রীর চাহিদা বিবেচনায় এই সংখ্যা পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ট্রেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, নাকি ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করবে, তা এখনো জানা যায়নি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রেলওয়ে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনা। এ বিষয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমে আসবে।
রেলের জমিতে নতুন করে কোনো ইজারা দেওয়া হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান ইজারাগুলোরও পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নেই, সেসব ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে রেলের নিজস্ব জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, রেলপথে সময়নিষ্ঠ সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। রেলের বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রীসেবা উন্নত করা হবে। ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা দেরিতে চলাচল কেন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সুফল যাত্রীরা দেখতে পাবেন।
আইকনিক রেলস্টেশন নিয়ে যা বললেন
এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার পৌঁছে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় তিনি বলেন, আইকনিক রেলস্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়া যায় কি না, ভাবছে সরকার। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
দুপুরে চকরিয়া স্টেশন পরিদর্শনের সময়ও প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি খাতে পরিচালনার জন্য দেওয়া হলে সেটি কতটা কার্যকর ও জনবান্ধব হবে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি কক্সবাজারমুখী রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের সার্বিক অবস্থা, পরিচালনব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মানও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বন উজাড়ের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে যেসব গাছ লাগানো হয়েছিল, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথাও ঘাটতি থাকলে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে তা পূরণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে, স্থানীয় সংসদ সদস্য, রেল, বন বিভাগ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেললাইন নির্মাণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দরপত্রে দলীয়করণ বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।