সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২

গাড়ি চলার প্রস্তুতিতে বঙ্গবন্ধু টানেল

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজ শেষ দিকে। এখন চলছে টানেলের দুই টিউবের ভেতরকার ডেকোরেশসহ অন্যান্য কাজ। ছবি: সংগৃহীত
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর, ২০২২ ০৮:৫৫

তৌফিকুল ইসলাম

নদীর তলদেশে তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজ প্রায় শেষ। কাজের অগ্রগতি ৯২ শতাংশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন এই টানেলের দুটি টিউবের নির্মাণকাজ শেষ। টানেলের মধ্য দিয়ে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া যাচ্ছে। টানেল দুটি এখন প্রস্তুত হচ্ছে গাড়ি চলাচলের জন্য। টানেলের ভেতরের ভ্যান্টিলেশন, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ডেকোরেশনের কাজও চলছে।

পদ্মা সেতুর পর সবার নজর এখন এই টানেলের দিকে। টানেলের কাজ শেষ করার জন্য দিন-রাত কাজ করছেন দেশি-বিদেশি শ্রমিকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, অনেকটাই বাস্তব। এই টানেল চালু হলে চার লেনের পথ ধরে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে চলবে যানবাহন। করোনার ধাক্কা, বিদেশি জনবলসংকট, বর্ষা মৌসুমের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে এখন শেষের পথে দেশের প্রথম নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজ। ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ মডেলের টানেলটি ডিসেম্বরে চালুর জন্য তোড়জোড় চলছে। আর এটি চালু হলে প্রথমবারের মতো টানেল যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানেলের শেষ মুহূর্তের কাজের মধ্যে আছে আধুনিক লাইটিং ও লাউডস্পিকার। এ ছাড়া ভূমিকম্প, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও পানি প্রতিরোধী করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বের অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি। মূল দুই টিউবের মাঝখানে তিনটি সংযোগ টিউবের কাজও চলছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এক টিউব থেকে অন্য টিউবে যাওয়ার জন্য এই সংযোগ টিউব ব্যবহার করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি অনেক চ্যালেঞ্জিং। এ ছাড়া নদীর তলদেশে হওয়ায় যেকোনো সময় পানি জমার আশঙ্কা থেকে টানেলের মধ্যে বসানো হচ্ছে ৫২টি সেচ পাম্প।

সার্বিক কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের প্রকল্প পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টানেলের মূল কাজ শেষ। এখন ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। এর ভেতরে সিভিল, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক কাজ একসঙ্গে চলছে।’ তিনি বলেন, ‘দুটি টিউবের মধ্যে প্রথমটির কাজ বেশি হয়েছে। দ্বিতীয় টিউবের কাজ কিছুটা কম হয়েছে। টানেলের আর মাত্র আট ভাগ কাজ বাকি। তবে কাজে এখনো চ্যালেঞ্জ আছে। সবকিছু সেট করার পর দেখতে হবে ঠিকঠাক কাজ করছে কি না। কারণ, টানেলের মধ্যে অনেক টেকনিক্যাল বিষয় আছে। সুতরাং টানেলে গাড়ি চলার আগ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার।’

টানেলের প্রবেশ পথ শুরু হয়েছে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমির পাশ থেকে। নদীর তলদেশ দিয়ে তা চলে গেছে আনোয়ারার দিকে। নদীর তলের এই মূল পথের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। এর বাইরে পতেঙ্গা প্রান্তে ৫৫০ মিটার এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই পথের দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার। বর্তমানে যে পথ পেরোতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে, টানেল হলে লাগবে মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিট । টানেল ধরে যাওয়া যাবে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত।

টানেলের নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাকি ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে চীন সরকার। চীনের কমিউনিকেশন ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

তবে প্রকল্পের এই ব্যয় আরও বাড়বে বলে প্রকল্প দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। ডলারের দাম বেড়েছে। এদিকে টানেলের নিরাপত্তার জন্য নতুন করে স্ক্যানার মেশিন বসানো হচ্ছে। এসব কারণে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডলারের দাম বাড়ার কারণে ব্যয় বাড়বে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকা। স্ক্যানার মেশিনের জন্য বাড়বে ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা।

ব্যয় বৃদ্ধির প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি না হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধির সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যয় বাড়ছে এটি নিশ্চিত।

টোল নির্ধারণ হয়নি

বাংলাদেশে আগে কখনো টানেল ছিল না। ফলে টানেলের টোল হার নির্ধারণ করার বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য নতুন। টোল নির্ধারণে কমিটি হয়েছে। সেই কমিটি কাজ করছে।

তবে সেতু কর্তৃপক্ষ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রথম পাঁচ বছর এতে টোল আদায় করবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চীনের কমিউনিকেশন ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)।

টোল নির্ধারণ নিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পাশের দেশ ভারতে সড়কের ভাড়া ও টোল সবকিছুই কম। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যাতিক্রম। সরকার বিনিয়োগ করে, সেটা উসুল করার জন্য জনগণের ওপর বাড়তি টোলের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। তাই কর্ণফুলী টানেলের টোল এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত, যা জনগণের ওপর বোঝা না হয়।’

টানেল নির্মাণের আগে ২০১৩ সালে করা সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানেল চালুর পর এর ভেতর দিয়ে বছরে ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সে হিসাবে দিনে চলতে পারবে ১৭ হাজার ২৬০টি গাড়ি। ২০২৫ সাল নাগাদ টানেল দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২৮ হাজার ৩০৫টি যানবাহন চলবে। যার মধ্যে অর্ধেক থাকবে পণ্যবাহী যানবাহন। ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিদিন গড়ে ৩৭ হাজার ৯৪৬টি এবং ২০৬৭ সালে ১ লাখ ৬২ হাজার যানবাহন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে।

এই বিষয়ে বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক মনে করেন, ‘টানেলের টোল একটি ব্রিজের মতোই হওয়া উচিত।’ তবে টানেল পরিচালনায় প্রতিদিন অনেক টাকা খরচ হবে। পরিচালনার সব ব্যয় টোলের মাধ্যমে আদায় করা উচিত হবে না বলে মনে করেন বুয়েটের এই অধ্যাপক।

সব ধরনের যানবাহন চলবে না টানেলে

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানেলের টেকনিক্যাল অনেক বিষয় আছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকবে। টানেলে প্রবেশের আগে বিশেষ ধরনের স্ক্যানারের মধ্য দিয়ে পার হতে হবে যানবাহনকে। এ ছাড়া টানেলের মধ্যে থাকছে না হেঁটে চলাচলের সুযোগ। মোটরসাইকেল চলাচলের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে বাইসাইকেল চালানো যাবে না। দাহ্য পদার্থবাহী ট্রাক ট্রেইলার টানেলের মধ্য দিয়ে না চলাচলের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব সেতু বিভাগের কাছে দিতে পারে বলে জানা গেছে।

টানেল ঘিরে বাড়বে শিল্প-যোগাযোগ-পর্যটন

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানেল চালু হলে কর্ণফুলী নদী পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিট। বেঁচে যাওয়া সময় দেশের অর্থনীতির গতি বাড়াবে। তা ছাড়া টানেলের সড়ক ধরে চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ পর্যন্ত গড়ে উঠবে নতুন শিল্প এলাকা। একই সঙ্গে আছে বিশাল পর্যটনের সম্ভাবনা।

এই টানেল নির্মাণের কাজ শেষ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন হবে এবং পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে মনে করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

চীনের সবচেয়ে বড় ও জনবহুল নগরী সাংহাই পরিচিত ওয়ান সিটি টু টাউন হিসেবে। দেশটির এই শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্রকে দুই ভাগে ভাগ করেছে চ্যাং জিয়াং নদীর উপনদী হুয়াংপু, যে নদীতে নির্মিত টানেল যুক্ত করেছে দুই পাড়কে। সাংহাই সমুদ্রবন্দর বর্তমান বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর, সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দরগুলোর একটিও। আর সাংহাইয়ের মতো ভৌগোলিক অবস্থা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং কর্ণফুলী নদীর ওপারের আনোয়ারা উপজেলার।

এই টানেল চালু হলে কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে সাংহাইয়ের মতো ওয়ান সিটি টু টাউন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী গাড়িগুলোকে আর শহরে ঢুকতে হবে না। চট্টগ্রাম শহরের আউটার রিং রোড হয়ে টানেলের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ফলে চট্টগ্রাম নগরে যানবাহনের চাপ কমে যাবে। টানেলকে ঘিরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের আরও বিকাশ ঘটবে।


 ‘খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ’

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৫
ইবি প্রতিনিধি

স্লোগানকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা হয়।

র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, নিরাপদ খাদ্যে তার সমতুল; ভেজালমুক্ত খাদ্য, সুস্থজাতি, নিরাপদ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য; ভেজালকে ‘না’ বলুন, নিরাপদ খাদ্য বেছে নিন; জাঙ্ক ফুড বর্জন করি, স্বাস্থ্যকর জীবন গড়ি; খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. এ. এস. এম আয়নুল হক আকন্দ। এ ছাড়া বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীও ছিলেন।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন করা হয়। এ বছর ‘নিরাপদ খাদ্য হোক সবার জন্য সুস্থতার নিয়ামক’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনগণের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি জাতির সুস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ভেজালমুক্ত, ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত খাদ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগ—এই তিন স্তরের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আজকের এই আয়োজন। নিরাপদ খাদ্য বলতে শুধু ভেজালমুক্ত খাবার নয়, বরং সঠিক স্যানিটেশন ও হাইজেন মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত।’

এ ছাড়া তিনি জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে HACCP, GMP ও ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। তিনি ভেজাল খাদ্যের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সীতাকুণ্ডে রিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রির লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডে রিকশার গ্যারেজ থেকে এক মিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আব্দুর রহমানের রিকশা গ্যারেজ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিকশা মিস্ত্রির নাম সবুজ (২৫)।

নিহত রিকশা মিস্ত্রি সবুজের মাথায় ধাতব পদার্থের আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ । সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মহিনুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহত রিকশা মিস্ত্রি সবুজের মাথায় আঘাতের চিহ্ন থেকে হত্যা হিসেবে বিবেচনা করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।


কেশবপুরে এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৫৩
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুরে মাসিক এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এ সভা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর সহকারী কমিশনার ভূমি কাজী মেশকাতুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, কেশবপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি সকল এনজিওকে নিয়মিত মাসিক সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানান।

দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জরুরি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শিক্ষার নিশ্চয়তা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষাসেবা পৌছে দিতে এনজিওদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

সভায় মানবসেবা ও সামাজিক সংস্থা-এর পরিচালক জুবায়ের হাসান রাকিব সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। সংস্থাটি ২০২১ সালে কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের পাড়ে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংস্থার স্লোগান: ‘আমরা মানুষের সেবা করি– আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য’। তারা বন্যার্তদের সহায়তা, অসহায় শিশুদের শিক্ষা, নারী পাচার প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং দরিদ্র কৃষকের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাধান এনজিও’র সিনিয়র ম্যানেজার মুনছুর আলী, রিইব এনজিও’র সমন্বয়ক খালিদ হাসান, সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, এস আর যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, মায়া পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মিলন হোসেন, ভাব-এর ফিল্ড অফিসার কামরুজ্জামান রাজু, পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির বুলবুল ইসলামসহ বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তারা।


৭ দফা দাবিতে নওগাঁয় সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবিতে নওগাঁয় বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি করেছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারিরা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

এদিকে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরের ২ ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি খাস জমির বন্দোবস্ত কাজ করার জন্য রাজস্ব শাখায় আসেন। আজকে সেই কাজের শেষ তারিখ। কিন্তু তিনি সকালে এসে দেখেন সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন করছেন। কেউ অফিসে নেই।

আদালতে সেবা নিতে আসা রহিদুল সরকার বলেন, ‘দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি ছিল তার। তাই সকল কাগজপত্রাদি ঠিক করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এসে দেখেন কোন কর্মচারী তার অফিসে নেই। আজকে শুনানী না হয় তাহলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।’

এ সময় আন্দোলকারীরা বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু এ সরকার পে-স্কেল দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে সরকারি কর্মচারীরা যে বেতন পায় দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার বিভিন্ন দাবি মেনে নিলেও কর্মচারীদের পে-স্কেল দিচ্ছে না। তাই এবার সরকারি কর্মচারীরা দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং বেতন বৈষম্য দূরীকরণ করেই ঘরে ফিরবে। দ্রুত দাবি না মানলে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণার হুশিয়ারি দেন তারা।

আন্দোলকারীরা হাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘নো পে-স্কেল নো ইলেকশন। আমরা কোন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করব না। আমরা কোন ভোট দেবো না। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।’

আরেক আন্দোলনকারী নাহিদ আল-সালাম বলেন, ‘আমাদেরকে আশ্বাসের নামে মুলা দেখানো হচ্ছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার কমিশন গঠন করেও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তাহলে কেন এ সরকার কমিশন গঠন করলো। ৫ আগস্টের পর বৈষম্য দূর করার জন্য আপনাদেরকে বসানো হয়েছে। আবারো যদি বৈষম্য করেন তাহলে একইভাবে টেনেহেঁচড়ে নামাবে মানুষ।’

আন্দোলকারীদের ৭ দফার মধ্যে আছে, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি।


বারি―র নতুন মহাপরিচালক ড. আতাউর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

স্বনামধন্য কৃষি বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জারিকৃত আদেশ বলে তিনি বারি’র মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর আগে ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বারি’র পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি নিয়মিতভাবে

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।

তিনি জাপানের কিউসু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপ যোগদানের উদ্দেশ্যে নেপাল, ভারত, ভূটান, জাপান, থাইল্যান্ড, অস্টেলিয়া ও মালেশিয়া ভ্রমণ করেছেন।

এছাড়াও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সায়েন্টিফিক জার্নালে নিয়মিতভাবে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৬৭ সালে দিনাজপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ২ সন্তানের জনক।


নবীনগরে বিতর্ক প্রতিযোগিতা: দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

দুর্নীতি প্রতিরোধে পারিবারিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদের পুরনো হলরুমে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা হয়। এবারের বিতর্কের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য’।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিযোগিতায় লটারির মাধ্যমে পক্ষ ও বিপক্ষ দল নির্ধারণ করা হয়। এতে পক্ষে অংশগ্রহণ করে বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অংশ নেয় নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর আগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ক ও খ গ্রুপের বাছাই পর্ব হয়।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি আবু কামাল খন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুপ্রকারের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব মোহাম্মদ হোসেন শান্তি।

শুরুতেই উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, মোশাররফ হোসেন ও আশিষ কুমার গুহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্বাস উদ্দিন হেলাল।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন।


ভেড়ামারায় কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কৃষি প্রযুক্তি মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃমি সাম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম। এতে আরোও ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডা. গাজী আশিক বাহার, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমদাদুল হক বিশ্বাস প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা বলেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে বুধবার পর্যন্ত। ৩ দিন ব্যাপী এই মেলায় সরকারি দপ্তর ছাড়াও কৃষি উদ্যোক্তাদের স্টল স্থান পেয়েছে। এসব স্টলে কৃষি ও কৃষকের ফসল উৎপাদনের জন্য আধুনিক সব প্রযুক্তি ছাড়াও কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত ও হাইব্রীড জাতের নানা ফসল প্রদর্শন করা হয়েছে।


ঝিনাইদহে দক্ষতা উন্নয়নে সেমিনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বেকার যুবদের কর্মসংস্থান ও তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ঝিনাইদহে দিনব্যাপী চাকরি মেলা ও সেমিনার হয়েছে। ঝিনাইদহ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে দিনব্যাপী কলেজ ক্যাম্পাসে এ মেলা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। কলেজ অধ্যক্ষ আনিচুর রহমান মৃধা শৈলকুপা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আল আলাউদ্দিন, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমানসহ অন্যরা ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী মেলায় বেসরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার ২০টি স্টলে বেকার যুবদের জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ ও সরাসরি ভাইভা গ্রহণ করা হয়। চাহিদা অনুযায়ী যুবদের চাকরি দেওয়া হবে। এবার এই মেলা থেকে ২ শতাধিক যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের আশা।


ত্রিশাল ভূমি অফিস বদলে যাওয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

এক সময় যে অফিসের নাম শুনলে সাধারণ মানুষের চোখে ভেসে উঠত দালালদের দৌরাত্ম্য আর নথিপত্রের পাহাড়! সেই ত্রিশাল উপজেলা ভূমি অফিস এখন বদলে যাওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনিয়ম আর পুরোনো সংস্কৃতি ভেঙে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। পরিবর্তনের এই কারিগর আর কেউ নন বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান। তার সাহসী ও জনবান্ধব পদক্ষেপের ফলে ত্রিশাল ভূমি অফিস এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।

তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তার কঠোর অবস্থানের কারণে অফিসের বারান্দা থেকে উধাও হয়েছে দালালদের আনাগোনা। এখন সেবাগ্রহীতারা কোনো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। বিশেষ করে ই-নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় তিনি যে গতি এনেছেন, তা উপজেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি এখন এই অফিসের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন ‘গণশুনানি’। এখানে কেবল অভাব-অভিযোগ শোনা হয় না, বরং আইনি জটিলতা নিরসনে তাৎক্ষণিক সমাধানও দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসিল্যান্ড নিজেই সাধারণ মানুষের পাশে বসে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন। এই সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার ফলে অফিসের কর্মচারীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কাজের দায়বদ্ধতা। ফলে অনৈতিক লেনদেনের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থান ও জনস্বার্থ রক্ষা শুধু অফিস কক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়। তার নেতৃত্বে গত কয়েক মাসে ব্রহ্মপুত্র নদ ও ফসলি জমি রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে চালিয়ে একের পর এক ঝটিকা অভিযান। এছাড়া সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় নিত্যপণ্যের বাজার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন শৃঙ্খলা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আগে যেখানে একটি কাজের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হতো, এখন সেখানে অত্যন্ত সম্মানের সাথে দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসন হচ্ছে জনগণের সেবক। আমার লক্ষ্য সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। ভূমিসেবাকে শতভাগ স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’


এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে উত্তাল চট্টগ্রাম বন্দর: কাল সর্বাত্মক অবরোধের ডাক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুড়িং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনে নেমেছে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদে বিশাল কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বন্দর এলাকায় সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত বন্দরের স্বার্থ রক্ষা এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সোমবার বিকেলে আগ্রাবাদ বাদামতলের আক্তারুজ্জামান সেন্টার চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত অভিযোগ করেন, গত সাত মাস ধরে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার পক্ষে যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো শ্রমিকদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ১৬ জন শ্রমিককে স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বদলি করে এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন থামানো যাবে না। তারা অবিলম্বে ১৬ শ্রমিকের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারার চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সিমেন্স হোস্টেল ও ইসহাক ডিপো পয়েন্টে বন্দর অবরোধের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে বলে তারা সতর্ক করেন। একই সাথে টানা তিন দিন সফলভাবে কর্মবিরতি পালন করায় সাধারণ শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে জাতীয় এই সম্পদের ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, বিএফটিইউসি এবং টিইউসিসহ বিভিন্ন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মঙ্গলবারের এই অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।


পদ্মা নদীতে ‘শাহ মখদুম’ ফেরিতে অগ্নিকাণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ফেরিঘাটে অবস্থানরত ‘শাহ মখদুম’ নামের একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফেরিটি ঘাটে অবস্থানকালে হঠাৎ এর সাইলেন্সার পাইপের ভেতর থেকে তীব্র বেগে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে আগুন বের হতে থাকায় সেখানে উপস্থিত যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় দ্রুত ফেরিতে থাকা যানবাহনগুলোকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে বা পল্টুনে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণ কাজ শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আব্দুল বাসাত খান জানান, দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ঘাটে শাহ মখদুম ফেরিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে ফেরিটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানান, ফেরির সাইলেন্সার পাইপের ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে ধোঁয়া থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতির কারণে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো গেছে এবং ফেরিটি বড় কোনো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মূলত যান্ত্রিক কোনো বড় ত্রুটি নয়, বরং রক্ষণাবেক্ষণজনিত অসাবধানতা থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


গোপালগঞ্জে ৩৯৭ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৫টিই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জেলায় নির্বাচনী উত্তাপ ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার মোট ৩৯৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৫টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ জেলার মাত্র ১২টি কেন্দ্রকে সাধারণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে ৩৮৫টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। একই সাথে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হবে এবং নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা রুখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা টহল দেবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।

জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে যে ১২টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কেড়াইলকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘিয়ারঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কোটালীপাড়া উপজেলার কুরপালা ও পুণ্যবতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মুকসুদপুর উপজেলার মধ্যে প্রভাকরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাড়লগাতী কে. এম. উচ্চ বিদ্যালয় ও শিমুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কাশিয়ানী উপজেলার গিরিশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও পিঙ্গুলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বীণাপানি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, নাগরিকরা যাতে কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা শঙ্কার সম্মুখীন না হয়ে সশরীরে কেন্দ্রে এসে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা। মূলত একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।


ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্যের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বসতঘর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলির (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাজার পাড়ার হাইস্কুল সড়কের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অনন্য ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন। এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে।

অনন্য গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি ও রাধারানী ভট্টাচার্যের সন্তান। তাঁর বাবা প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক প্রভাষক এবং মা রাধারানী কোটচাঁদপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দুই শিক্ষক দম্পতির সন্তান হিসেবে অনন্য নিজেও ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী, যার অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনন্য পড়াশোনার প্রয়োজনে ঢাকায় থাকতেন। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে তিনি ঢাকা থেকে কোটচাঁদপুরে নিজের বাড়িতে ফেরেন। রাতে পরিবারের সবার সাথে স্বাভাবিকভাবেই খাবার খেয়ে তিনি তাঁর শোবার ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কক্ষের দরজা না খোলায় তাঁর মা রাধারানী ভট্টাচার্য অনন্যকে নাশতা খাওয়ার জন্য ডাকতে যান। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পান, অনন্য সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়নায় ঝুলছেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

সন্তানের এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা রাধারানী ভট্টাচার্য। তিনি জানান, অনন্য বাড়ি ফেরার পর তাঁর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বিষয় নিয়ে তাঁর মন খারাপ ছিল বলেও পরিবারের কেউ জানতেন না। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের সহায়তায় ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর প্রয়াণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


banner close