বরগুনার পাথরঘাটায় পূজা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অপহরণের শিকার কিশোর হাসিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনদের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণও চেয়েছিল অপহরণকারীরা। স্বজনরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার সকালে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে কাকচিড়া ইউনিয়নের শিংড়াবুনিয়া বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল্লাহ আল নোমানসহ আরও ৯ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নোমানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় হাসিবের বাবার নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরির পরিপ্রেক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে র্যাব, পুলিশ ও ডিবি অনুসন্ধান চালায়। বারবার স্থান ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করায় ঘাতক নোমানকে আটক করতে বেগ পেতে হয়। তবে তাকে আটকের আগে হাসিবকে খুন করার বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হাসিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। র্যাব ৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সোহেল জানান, তথ্য পেয়ে অপহৃত হাসিবকে জীবিত উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তারা। তবে তা সম্ভব হয়নি। হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রের করা হবে। হাসিব পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরঘাটা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। গত শুক্রবার রাতে পূজা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে অপহরণ করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে ফোন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ৫ দিন বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিনপটিক অবস্থায় জানিয়েছে, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এমন আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে আগামী পাঁচ দিন টানা ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের সব কটি বিভাগেই কম-বেশি বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে স্পষ্ট করেছে।
আবহাওয়ার এই বিশেষ বার্তায় অঞ্চলভিত্তিক বৃষ্টিপাতের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে প্রথম ৩ দিন এবং পরবর্তী দুই দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে দেশের কোথাও কোথাও বর্ষণের তীব্রতা বাড়লেও কিছু অঞ্চলে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী ও নীলফামারী জেলাসহ সমগ্র খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছুকাল অব্যাহত থাকতে পারে।
তাপমাত্রার ওঠানামার বিষয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে শনিবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার ও সোমবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমতে পারে।
এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বর্ধিত দিনগুলোর আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিন পার হওয়ার পরও দেশে বৃষ্টিপাতের এই বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হবে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা অসাধু চক্রের তৎপরতার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মপরিবেশ যেন আন্দোলন বা বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একদলীয় রাষ্ট্র বা একদলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। এক সময় সবাই আওয়ামী লীগ করতো, এখন অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হচ্ছে—এটা আমরা বুঝতে পারি, আমরা জানি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার দেশের ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরি করেছে। পৃথিবীতে এমন চুরির নজির নেই, শুধু বাংলাদেশেই এটা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ, শিক্ষা বোর্ড সচিব নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’উপলক্ষে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে পিরোজপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে টাউন ক্লাব মাঠে আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (এমপি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী (এমপি), জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাদক শুধু একটি জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। আমাদের তরুণ সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি। এই প্রজন্মকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। কেবল প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়, যদি না আমরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সচেতন হই। প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের বন্ধু-বান্ধব ও চলাফেরার বিষয়ে অধিকতর যত্নশীল হতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “আমরা পিরোজপুরকে একটি আদর্শ ও মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সমাজের শত্রু, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি।”
অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সভায় বক্তারা পিরোজপুর জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার ২৬ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশজুড়ে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯৭৬ জনের শরীরে হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সরাসরি হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জনের শরীরে এবং বাকি ৮৬৯ জনের মধ্যে এই রোগটির নানা স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সপ্তাহের শুক্রবার পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ৫২২ জনের শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সাথে এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে সরাসরি হামের জীবাণু শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারি এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট ৮১ হাজার ২৮৩ জন আক্রান্ত রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে তাঁদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ওয়ান বাই ওয়ান রিলিজ বা ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৬১৩ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে সন্তানদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার এবং সময়মতো হামের টিকা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘরে ঢুকে মা ও তার তিন মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শাহিনুরের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলাটি করেছেন। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর-সার্কেল) আবদুর রাশেদ জানিয়েছেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পৃথক দুটি মামলা হয়েছে এবং পুলিশ, সিআইডি ও র্যাব যৌথভাবে এর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ একমাত্র ছেলে ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকার একটি বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদার ধারালো দা নিয়ে ওই বাসায় ঢুকে গৃহবধূ শাহীনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তারকে (৯) এলোপাতাড়ি কোপায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার মারা যান। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকি দুই ছোট মেয়ে শিফা ও ইকরাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (৩০) নিহত হয়। নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার বাসিন্দা অন্তর রায়পুর শহরে ফল বিক্রি করতো। তবে এই পরিবারের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক ছিল এবং কেন সে এমন নৃশংসতা চালাল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জন শোনা গেলেও পুলিশ সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছে। এদিকে নিহত অন্তরের লাশ এখনো সদর হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে, তার মরদেহ নিতে এখন পর্যন্ত কোনো স্বজন বা পরিচিত কেউ এগিয়ে আসেনি।
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো রায়পুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একমাত্র বোন ও মা-কে হারিয়ে ছেলে শিফাত হোসেন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের ধানহাটা এলাকায় নিহত চারজনের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে তাদের মরদেহ কুমিল্লার হোমনার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
যশোরের বেনাপোল বন্দরে কাগজ পত্র বিহীন একটি খোলবাহী পণ্য চালানের ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯ টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নাম্বার শে ইয়ার্ড থেকে কাস্টমস এ পণ্যবাহী ট্রাকটি জব্দ করে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ট্রাক (নং- WB-25K-8415) গত ২৩ জুন রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ পণ্য ৩১ নাম্বার ইয়াডে ঢোকার আগেই অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) এলাকায় প্রবেশ করলে বন্দর ট্রাকটি আটকায়। পরে কাস্টমসকে অবহিত করলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নীট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ টন ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে খালি ৫০ বস্তায় অন্যকোন পন্য ছিল। যা সেডে ঢোকার আগে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পণ্য পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি কৌশল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নাম ব্যবহার করেছে জানা গেছে। তবে সিঅ্যান্ডএফের পক্ষ থেকে তাদের নাম ব্যবহার করার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে অবগত করেছেন।
সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত আছে কি না, তাও অনুসন্ধান করছে কর্তৃপক্ষ।
আধুনিক ও যান্ত্রিক যানবাহনের দাপটে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। একসময় উপজেলার গ্রামীণ জনপদে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই গাড়ি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখন উপজেলার দু-একটি এলাকায় মাঝেমধ্যে ঘোড়ার গাড়ি দেখা গেলেও তা যেন কেবলই অতীতের স্মৃতি বহন করছে।
ইতিহাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাচীনকালে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে রাজকীয় যাতায়াত এবং পরবর্তী সময়ে গ্রাম বাংলার কৃষি কাজে ঘোড়ার গাড়ি ছিল মানুষের নিত্যসঙ্গী। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলা, হাটে-বাজারে পণ্য নেওয়া কিংবা দূর-দূরান্তে যাত্রী পরিবহনে এই গাড়ির জুড়ি ছিল না। একসময় এই ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন উপজেলার অনেক পরিবার, অর্জন করেছিলেন আর্থিক সচ্ছলতাও। কিন্তু বর্তমানে ইঞ্জিনচালিত নসিমন, করিমন, ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলারের সহজলভ্যতার কারণে ঐতিহ্যবাহী এই বাহনটি তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।
পাশাপাশি, বর্তমান সময়ে ঘোড়া লালন-পালনের খরচও আকাশচুম্বী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগের মতো চারণভূমি বা পর্যাপ্ত ঘাস না থাকায় ঘোড়াকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন মালিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরাজি সাজিয়াড়া গ্রামের ঘোড়ার গাড়ি চালক মোঃ লতিফ শেখ, হাফিজুর রহমান শেখ বলেন, "বাপ-দাদার আমল থেকে এই পেশায় আছি। একসময় ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে সংসার খুব ভালোভাবেই চলতো। মাঠের ধান, পাট, সবজি হাটে নিয়ে যেতাম। এখন সব জায়গায় পাকা রাস্তা আর ইঞ্জিন গাড়ি হওয়ায় আমাদের কেউ ডাকে না। তার ওপর ঘোড়ার খাবারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এলাকায় আগের মতো ঘাস পাওয়া যায় না, মাঠ-ঘাট সব ভরাট হয়ে গেছে। ঘোড়া বাঁচিয়ে রাখাই এখন কঠিন, তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।"
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল কবির বলেন: "ঘোড়ার গাড়ি এই অঞ্চলের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। তবে নগরায়ণ ও যান্ত্রিকীকরণের ফলে এটি সংকুচিত হয়ে আসছে। উপজেলায় এখন হাতে গোনা কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা এই ঘোড়াগুলোর চিকিৎসাসেবা ও ভ্যাকসিনের বিষয়টি নিয়মিত দেখাশোনা করি। যদি কোনো খামারি বা মালিক ঘোড়া পালনে সমস্যায় পড়েন, তবে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা সবসময় প্রদান করা হবে।"
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন: "কালের বিবর্তনে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে, ঘোড়ার গাড়ি তার মধ্যে একটি। যান্ত্রিক পরিবহনের যুগে এর অর্থনৈতিক উপযোগিতা কমলেও, পর্যটন বা বিশেষ উৎসব-পার্বণে এর একটি ভিন্ন আবেদন রয়েছে। ঘোড়া পালনকারীদের টিকিয়ে রাখতে এবং এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি যেকোনো সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।"
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন: "ঘোড়ার গাড়ি আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডুমুরিয়া থেকেও এটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যা সত্যি বেদনার। আমরা চাই না এই ঐতিহ্য পুরোপুরি হারিয়ে যাক। ঘোড়ার গাড়ির সাথে জড়িত যেসব পরিবার এখনো এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান বা এই পেশাকে টিকিয়ে রাখার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।"
ঐতিহ্যের অন্তিম প্রহর স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার বিশেষ উদ্যোগ না থাকলে আগামী প্রজন্মের কাছে ঘোড়ার গাড়ি কেবলই রূপকথার গল্প বা আলোকচিত্রের ফ্রেমে বন্দি একটি বিষয়ে পরিণত হবে। গ্রামীণ এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা।
মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে আবারো তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের রাধাগোবিন্দপুর ধলা সীমান্তে সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ দুজনকে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের মুখে বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়।
ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার শিশির কুমার সরকার বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার বুড়িপোতা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গেট খুলে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করে।
বিজিবি ও গ্রামবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের প্রবেশ করতে পারেনি।পরে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে আলোচনার পর ওই তিনজনকে ফেরত নেয় বিএসএফ।
বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
তিন বছর আগে পদ্মা ও মধুমতি নদীর ওপর সেতু নির্মিত হয়েছে। দেশের মেগা প্রকল্পে নির্মিত সেতুর দুটির ওপর দিয়ে যানবাহনও চলাচল শুরু হয়েছে। সড়ক চালুর পর ঢাকা-কোলকাতা ভায়া নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে যানবাহনের প্রচন্ড চাপও বেড়েছে। ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় মাত্রাতিরুক্ত সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,গত তিন বছরে এই মহাসড়কে ৭৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে । এতে ৪৫ জন নিহত এবং ১৫২ জন আহত হয়েছেন। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে আশেপাশের কয়েকটি জেলার কয়েক লাখ মানুষকে। যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মেগা প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পেতে ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল অংশটি দ্রুত প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাস মালিক ও শ্রমিকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পরমোকছেদপুর, ভাটিয়াপাড়া-নড়াইল-যশোর ভায়া বেনাপোল সড়কের প্রায় ১২০ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত সরু। এই সরু সড়কেই এখন দিন-রাত চলছে তীব্র যানজট ও প্রতিযোগিতা। যানবাহনগুলো ক্রসিং কিংবা ওভারটেকিং করার সময় সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় চাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বা অন্য গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ছে।
ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে প্রাণহানি, অন্যদিকে পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেকে। স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ১২০ কিলোমিটার সড়ক অবিলম্বে চার লেনে বা পর্যাপ্ত প্রশস্ত না করলে দুর্ঘটনা কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালুর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৭ জুন পর্যন্ত (গত তিন বছরে) নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কে ছোট-বড় মোট ৭৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্পটেই কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৪৫ জন। আর গুরুতর আহত হয়ে ১৫০ জন পঙ্গু হাসপাতালের শয্যায় কিংবা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগের স্বার্থে এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবি।
পরিবহনচালক সুজন শিকদার বলেন,ওভারটেকিং কিংবা ক্রসিংয়ের সময় সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে অথবা অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সড়কটির এই অংশ চার লেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না।
নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাংধারণ সম্পাদক মো.আলী হাসান বলেন, পদ্মা ও মধুমতি সেতুর কারণে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় সেই সুযোগ-সুবিধা অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পথচারিরা ভোগান্তিতে পড়েন, রাস্তায় চলাচলকারি জনগণ ও আমাদের শ্রমিক ও যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে এই রাস্তা প্রশস্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, নড়াইল জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক হলো ঢাকা-বেনাপোল ভায়া ভাটিয়াপাড়া-নড়াইল সড়কটি। বর্তমানে এটি মাত্র ২৪ ফিট চওড়া।
তিনি বলেন, হঠাৎ করে ব্যস্ততা ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সাময়িক সুরক্ষার জন্য আমরা সড়ক সংলগ্ন পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যাল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার আয়োজন করেছি। তবে আশার কথা হলো, চলতি বছরের শেষের দিকেই আমরা এই সড়কটি স্থায়ীভাবে প্রশস্ত করণের কাজ শুরু করতে পারব।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা-মাওয়া-নড়াইল-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের কালনা এলাকায় মধুমতি নদীতে দেশের প্রথম ছয় লেনের ‘মধুমতি সেতু’ উদ্বোধন করা হয়।
এরপর থেকেই ঢাকা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাগুরা,ঝিনাইদহ,কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রীবাহী পরিবহণ, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন নড়াইল রুট ব্যবহার করছে। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়কগুলো আধুনিক ও প্রশস্ত হলেও ভেতরের মূল সড়কটি আগের মতোই সরু রয়ে গেছে।
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গোলাবাড়ি থেকে টিক্কারচর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে স্থাপিত দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরির অভিযোগ উঠেছে। ফলে রাতের বেলায় অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি, আর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে গোমতী নদীর বেরিবাঁধ এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় প্রায় পাঁচ শতাধিক সোলার লাইট। গোলাবাড়ি থেকে টিক্কারচর হয়ে পালপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কে আলোর ব্যবস্থা হওয়ায় রাতের বেলায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ পান পাঁচথুবী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে একের পর এক সোলার লাইট চুরি হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা ধাপে ধাপে প্রায় দুই শতাধিক সোলার লাইট খুলে নিয়ে গেছে। কোথাও শুধু লাইট, আবার কোথাও খুঁটিসহ পুরো স্থাপনাই তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে সন্ধ্যা নামতেই সড়কের বড় একটি অংশ ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সোলার লাইট চালু থাকাকালে রাতের যাতায়াত ছিল নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক। কিন্তু এখন অন্ধকারের সুযোগে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির আশঙ্কা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
জালুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর সোলার লাইটগুলো বেশি চুরি হয়েছে। তখন তদারকি কম থাকায় চোরেরা সুযোগ পেয়েছে।
সুবর্ণপুর গ্রামের প্রবাসী ব্যবসায়ী সোহেল অভিযোগ করেন, “গোমতীর উত্তর পাশের বেরিবাঁধ দিয়ে মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে সোলার লাইটগুলো চুরি করা হয়েছে। কোথাও শুধু লাইট, কোথাও আবার পুরো খুঁটিসহ নিয়ে গেছে।
কুমিল্লা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী হোসনেয়ারা আক্তার বলেন, সন্ধ্যার পর এই সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরতে খুব ভয় লাগে। আগে আলো থাকায় সমস্যা হতো না, এখন চারদিকে অন্ধকার।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দাবি, ভ্রাম্যমাণ মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের একটি চক্র এসব চুরির সঙ্গে জড়িত।
পাঁচথুবী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী তানভীর আহম্মেদ রাহুল বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে দুর্বৃত্তরা লাইটগুলো চুরি করেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই ভ্রাম্যমাণ মাদকসেবীরা এসব সোলার লাইট খুলে বিক্রি করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।
তিনি জানান, সম্প্রতি এলাকাবাসী এক চোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত চুরি হওয়া সোলার লাইট উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং নতুন লাইট স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন অবগত হয়েছি। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চুরি হওয়া সোলার লাইট উদ্ধার এবং দ্রুত পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিকে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সিন্ডিকেট সভার এজেন্ডা ও পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশের বাইরে একজন সেকশন অফিসারকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপনীয় শাখায় কর্মরত। পদোন্নতির সময় তিনি ওশানোগ্রাফি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সম্প্রতি পদোন্নতি সংক্রান্ত নির্বাচনি বোর্ডের কার্যবিবরণী, সিন্ডিকেট সভার এজেন্ডা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নথি পর্যালোচনা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
নথি অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির জন্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনি বোর্ডের সভায় ৬৩ জন প্রার্থী অংশ নেন। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে ৪৯ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়।
তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনি বোর্ড সভায় সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং বর্তমান রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তবে কার্যবিবরণীতে সুপারিশপ্রাপ্ত ৪৯ জনের তালিকায় মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের নাম ছিল না।
এর দুই দিন পর, ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৬তম সিন্ডিকেট সভার ৩১ নম্বর এজেন্ডায় ওই ৪৯ কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং সিন্ডিকেট তা অনুমোদন করে। এজেন্ডাভুক্ত তালিকাতেও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের নাম ছিল না।
কিন্তু সিন্ডিকেট সভা শেষ হওয়ার প্রায় ১০-১৫ দিন পর প্রকাশিত সিদ্ধান্তপত্রে দেখা যায়, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা ৪৯ থেকে বেড়ে ৫০ জন হয়ে গেছে। সেখানে পূর্বের তালিকায় ৭ নম্বর স্থানে নতুন করে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের নাম যুক্ত করা হয়। ফলে তালিকার পরবর্তী কর্মকর্তাদের ক্রমিক নম্বরও পরিবর্তিত হয়।
পদোন্নতি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, “আমি পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা দিয়েছি, পাশ করেছি, আমার পদোন্নতি হয়েছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। এমনিতে আমি স্ট্রোকের রোগী।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “তিনি একজন যোগ্য কর্মকর্তা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায়ও ভালো করেছেন। ভুলক্রমে নির্বাচনি বোর্ডের কার্যবিবরণী থেকে তার নাম বাদ পড়ে যায়। পরে সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”
সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, “সিন্ডিকেটের এজেন্ডার বাইরে কাউকে সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করা নীতিবহির্ভূত। তবে দেলোয়ার হোসাইনের বিষয়ে তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) আমাকে জানিয়েছিলেন যে তার প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা ছিল এবং ভুলক্রমে নাম বাদ পড়েছে। সে কারণে পরে আমি আর আপত্তি করিনি।”
তবে চ্যান্সেলর মনোনীত সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, “সিন্ডিকেটের এজেন্ডার বাইরে কাউকে সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আমি অবগত নই। এমন কিছু হয়ে থাকলে আগামী সিন্ডিকেট সভায় আমি বিষয়টি অবশ্যই উত্থাপন করব।”
এ বিষয়ে তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “দেলোয়ার হোসাইনের পদোন্নতির সব যোগ্যতা ছিল। পরীক্ষায়ও ভালো করেছে। সম্ভবত টাইপিংজনিত ভুলে তার নাম বাদ পড়ে যায়। পরে বিষয়টি নজরে আসলে অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের সম্মতি নিয়ে তাকে পদোন্নতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”
তবে এ ধরনের পদক্ষেপকে নিয়মবহির্ভূত ও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী। তিনি বলেন, “নির্বাচনি বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে সিন্ডিকেট এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। যদিও সিন্ডিকেটের কিছু অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতারও সীমারেখা আছে। এখানে সেই সীমারেখা অতিক্রম করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
তিনি বলেন, “সিন্ডিকেট সভার বাইরে কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হলে তা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাছাড়া নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হলে সেখানে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সন্দেহ তৈরি হয়।”
মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন কার্যক্রম নিষিদ্ধ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। এর আগে তিনি ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি, চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং হাটহাজারী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জয়পুরহাট জেলা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে জয়পুরহাটে মাদকবিরোধী বন্ধন,বর্ণাঢ্য র্যালী, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০ টায় শহরের রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে যদি বন্ধন, আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাইমেনা শারমীন এর সভাপতিত্বে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জয়পুরহাট জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাকিল আহমেদ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিপুল কুমার, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মাসুদ রানা প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব-উন-নবী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ গোলজার হোসেন, জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড.আব্দুল মোমেন ফকির, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড.শাহিনুর রহমান শাহিন,জিপি এ্যাডঃ ছালামত হোসেন, ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সুধীজন এবং বিভিন্ন দপ্তর প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সুজানগর ও পাবনা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মঞ্জু শেখ উপজেলার আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা। মঞ্জু শেখ সক্রিয় বিএনপি কর্মী ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের জোতকাকুড়িয়ার কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালেও ওই এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে দুই গ্রুপের লোকজন চরে বালুর পরিস্থিতি দেখতে গেলে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখের মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, "চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বালু খেকোরা পদ্মার চর থেকে অবৈধভাবে বালু তুলতে গিয়েছিল। আমার ভাতিজাসহ স্থানীয়রা এতে বাঁধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মঞ্জুকে হত্যা করে। সে আমাদের দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিল। আমরা অবিলম্বে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান জানান, বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।