সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

কমে যাচ্ছে খেলার মাঠ

টাঙ্গাইল পৌরসভার বিভিন্ন মাঠে খেলাধুলার জন্য নেই পর্যাপ্ত জায়গা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ১৪:২২
শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত
শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ১৪:২১

৩৬ বছরের পুরোনো ২৯ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন পৌর বাসিন্দাদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করার মাঠগুলোতে গড়ে উঠেছে বড় বড় অট্টালিকা। কোনো কোনো মাঠে বসানো হয়েছে কাঁচাবাজার। আবার অনেক মাঠের জায়গার মালিকরা প্লট আকারে বিক্রি করে দিয়েছেন তাদের ব্যক্তিগত জায়গা।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে হারিয়ে গেছে ১৬টি খেলার মাঠ। আরও কয়েকটি খেলার মাঠ হারাতে বসেছে। কারণ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে যে কয়টি খেলার মাঠ এখনো রয়েছে সেগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরজুড়ে মাঠগুলো বাণিজ্য মেলাসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে। তাদের অভিযোগ, উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার সুযোগ না পাওয়ায় ধীরে ধীরে আসক্ত হচ্ছে মোবাইল ফোনে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) গবেষণায় জানা গেছে, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম এক ঘণ্টা করে খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন।

টেকসই নগরায়ন সংক্রান্ত জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন-হ্যাবিটেটের তথ্য অনুযায়ী, হাঁটার দূরত্বে খেলার মাঠ থাকা উচিত। অতিঘন নগর এলাকায় প্রতি অর্ধবর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা বিবেচনায় ন্যূনতম একটি করে খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে খেলার মাঠের জায়গায় বসতভিটা গড়ে উঠেছে। এই ওয়ার্ডের থানাপাড়া এলাকার রেঞ্জার মাঠ, সবুজ সেনা মাঠ, থানাপাড়া ইস্টার্ন ক্লাব মাঠের (বাবুর্চির মাঠ) জায়গায় এরই মধ্যে বসতি গড়ে উঠেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডে ৩টি খেলাধুলার ক্লাব থাকলেও তাদের কোনো খেলার মাঠ নেই।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরবাড়ির মাঠটি মালিকানা দ্বন্দ্বে এলাকার শিশু-কিশোরদের ওই মাঠে খেলাধুলা প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে বর্তমানে শিশু-কিশোররা ওই মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পেলেও ভবিষ্যতে ওই মাঠের জায়গা প্লট আকারে বিক্রির আলোচনা চলছে।

তিনি জানান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জা মাঠ ও হাউজিং মাঠে নিকট অতীতে ওই এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করত। এ ছাড়া সকাল ও বিকেলে স্বাস্থ্য সচেতন লোকজন শরীরচর্চা করত এই মাঠ দুটিতে। বর্তমানে মাঠগুলোতে বসতি গড়ে উঠেছে।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ পাড়ার বালুর মাঠে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল ইমারত। একই এলাকার পানির ট্যাংকের মাঠে এখন আর শিশু-কিশোরদের প্রবেশাধিকার নেই।

একই চিত্র ১১ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় মাঠে। গড়ে উঠেছে বসতি; খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট কারীবাড়ী খেলার মাঠ ও কেওছার মাঠের এখন আর অস্তিত্ব নেই। এ ছাড়া নজরুল সেনা মাঠের জায়গায় গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান।

এই ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে একসময় টাঙ্গাইল শহরের এলাকার শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় ব্যস্ত থাকত। বর্তমানে এই মাঠের অধিকাংশ জায়গাজুড়ে বসেছে ট্রাকস্ট্যান্ড। ফলে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মাঠটি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য এখন আর ব্যবহার করতে পারছে না।

১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলতলী এলাকার বালুর মাঠে এখন গড়ে উঠেছে বসতি ও বিভিন্ন ধরনের ফল ও গাছের বাগান। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোদালিয়া মাঠটি এখন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাডেমিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানান বাসিন্দারা।

শহরের নামকরা একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে। সে জানায়, বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত বন্ধুদের সঙ্গে পৌর উদ্যানে আড্ডা দিই। একসময় আমার ওয়ার্ডে তিনটি খেলার মাঠ থাকলেও বর্তমানে কোনো খেলার মাঠ নেই। খেলাধুলার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকটা বাধ্য হয়েই পৌর উদ্যানে এসে আড্ডা দিই।

সরকারি সৈয়দ মহাব্বত আলী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘পৌর শহরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকার ফলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা ধীরে ধীরে আসক্ত হচ্ছে মোবাইল ফোনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল আসক্তি থেকে রক্ষা করার জন্য পৌর এলাকায় শিশু পার্ক ও খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। পৌর শহরে যে কয়টি খেলার মাঠ এখনো অবশিষ্ট আছে, সেগুলো রক্ষা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, ‘ব্যক্তিমালিকানাধীন মাঠগুলোর ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের করণীয় কিছু নেই, তবে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, জেলা পরিষদ মাঠ ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কিছু জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই মাঠগুলো পরিষ্কার করে আবার খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাউজিং স্টেটে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি খেলার মাঠ তৈরি করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।’

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠকে যত দ্রুত সম্ভব খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে পৌর মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করেছি। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য টাঙ্গাইল পৌর শহরের অদূরে দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুরে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেন বলেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরির প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।’

বিষয়:

কোস্ট গার্ডের অভিযানে আড়াই লাখ ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বহিঃনোঙরে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক কারবারি আটক। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রামের বহিঃনোঙর সমুদ্র এলাকায় সোমবার মধ্যরাত ৩ টায় অপারেশন সমুদ্র প্রহরায় নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া ও আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বোটকে থামার সংকেত প্রদান করা হলে বোটটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে বোটটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ওই বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ দুইজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাচারের চেষ্টা করছিল। কোস্ট গার্ডের দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মাদকের এই বৃহৎ চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে। ওই সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।

জব্দকৃত ইয়াবা, বোট ও আটককৃত মাদক কারবারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


দৌলতপুরে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ব্র্যাক ব্যাংকের পেছনে থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মিলন বেপারিকে দৌলতপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া বিকেএস উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে ব্রাক ব্যাংকের পেছনে থেকে মিলন বেপারিকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, মিলনের বেপারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আসামিকে মানিকগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নরসিংদীর পলাশে গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মারা গেছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইব্রাহিম আল মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজীর ছেলে এবং তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ফকির বাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। একদিকে ছিলেন বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানি এবং অন্যদিকে ছিলেন মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীন। এই পূর্বশত্রুতার জেরে গত ১ আগস্ট রাতে ফকির বাড়ি এলাকার একটি মুদি দোকানে মাসুম ও তার সহযোগীরা অবস্থান করার সময় প্রতিপক্ষ বিজয় ও সবুজের নেতৃত্বে একদল লোক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। এই সশস্ত্র হামলায় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে ছাত্রদল নেতা মাসুম পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।

মুদি দোকানে চালানো এই আকস্মিক হামলায় মাসুম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা অন্যরাও গুরুতর আহত হন। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কোপে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ অন্তত ১০ জন মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গুলিবিদ্ধ মাসুমের অবস্থার আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে নিবিড় চিকিৎসায় রাখা হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ ৯ দিন পর সোমবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, হামলার ঘটনার পরপরই নিহত মাসুমের ভগ্নিপতি বাদী হয়ে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে এবং জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাসুমের মৃত্যুর খবরকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেন নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।


সিংগাইরে খানাখন্দ-কাদাপানিতে বেহাল গুরুত্বপূর্ণ চার সড়ক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোস্তাক আহমেদ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)

সংস্কারের অভাবে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন বেহাল। কোথাও পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় গর্ত, কোথাও জমেছে কাদা-পানি। আবার কোথাও সংস্কারকাজ শুরু হলেও নানা অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে প্রকল্প। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থায় যাতায়াতে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

জামশা ইউনিয়নের বাংগালা বাজার-মাটিকাটা প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হলেও অভিযোগের মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলী। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

কাজ শুরুর পর সড়কের দুই পাশের এজিংয়ে পুরোনো ইটের সঙ্গে নতুন ইট ব্যবহার করে ব্রিক স্যালভেজ করার অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) গেলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

সিংগাইর-মানিকনগর-সিরাজপুর সড়কের মানিকনগর থেকে সিরাজপুর অংশের প্রায় ১১ কিলোমিটারও বেহাল। অধিকাংশ জায়গায় পিচ, ইট, বালু ও সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মানিকনগর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশের সংস্কার হলেও মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত অংশের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ।

সিংগাইর সদর থেকে সাভারে যাতায়াতের বিকল্প ও বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত ভূমদক্ষিণ-খাসেরচর-ভাটিরচর সড়কটিও কয়েক বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল। প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ ও বড় গর্ত। বিশেষ করে খাসেরচর বাজার থেকে ভাটিরচর পর্যন্ত অংশ প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, সাহরাইল-শোল্লা সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল মোল্লাবাড়ি থেকে শোল্লার খতিয়া ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত। পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বেহাল অবস্থায় কৃষকদের ফসল পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরও।

সড়কটির নিয়মিত ব্যবহারকারী মোস্তফা কামাল ফখরুল, ইসমত আরা ও সোলাইমান দেওয়ান বিকাশ বলেন, ‘এটি পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অন্যতম একটি সড়ক। অথচ সড়কের বেহাল দশার কারণে আমরা মারাত্মক সমস্যায় ভুগছি।’

সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম সামদানী বলেন, ‘ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে যেসব কাজ বন্ধ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের টেন্ডার ও চুক্তি বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্ধ প্রকল্পগুলো পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তি লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


পুকুরের ময়লা পানি মুখে দাঁড় করিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘পরিচয় পর্ব’ ও ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরিচয়পর্বের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, জোর করে নাচানো, ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বসিয়ে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে ছবি ও ভিডিও ধারণের নির্দেশ দেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপের কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি। বেশিরভাগই বিভাগের সভাপতির হস্তক্ষেপে সমাধান করে দেয়। এদিকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।

ওরিয়েন্টেশনের দুই দিন পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে বিভিন্নভাবে হয়রানির করা হয়েছে বলে অভিযোগ ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের। প্রথম ধাপে ক্লাস শেষে ছেলে-মেয়ে সবাইকে কক্ষে বসিয়ে রাখা হতো। পরিচয় দিতে সামান্য ভুল হলেই গালিগালাজ ও অপমান করা হতো। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে ৭০-৮০ বার পর্যন্ত পরিচয় দিতে বাধ্য করা, কখনো রাত ১টা বা দেড়টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে জিয়া মোড়ে ডেকে তাদের লাইব্রেরির ছবি তোলা, ল্যাম্পপোস্ট গণনা এবং ভুল হলে পুনরায় পাঠানোসহ বিভিন্ন ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়। ক্লাস প্রতিনিধিকে হলের নাম ভুল বলায় সব ছাত্রী হলের সামনে সেলফি তুলতে বাধ্য করা হয় এবং পরে আরেক শিক্ষার্থীসহ তাকে জোর করে নাচানো হয়। রাত দেড়টায় তাদের ছাড়া হয়। পরবর্তীতে সিনিয়রদের ডাকে না যাওয়ায় দুই দিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ১৭ শিক্ষার্থীকে ‘মীর মুগ্ধ সরোবরে’ ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হয়।

কুষ্টিয়া শহর ও পার্শ্ববর্তী শ্রীরামপুরে নিয়ে ছেলে-মেয়ে উভয় নবীন শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এক শিক্ষার্থীকে পুকুরের ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং অন্যজনকে ১০ ধরনের হাসি দিতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া অশ্লীল বাক্য বলিয়ে ভিডিও ধারণ ও সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে তা প্রকাশ করতে বাধ্য করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি- এক নারী শিক্ষার্থীকে এক সিনিয়রের সঙ্গে দেখা করতে বলা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে, ‘সিনিয়ররা ডাকলে দেখা করো না, কথা শোনো না, পরে রেপ হলে কী করবা’—এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে বিরোধের জেরে নবীনদের ক্লাসে গালিগালাজ ও অপমান করায় কয়েকজন কেঁদে ফেলেন। আল-ফিকহ্ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে আপত্তিকর মন্তব্যের পর বিষয়টি আপস হলেও, একই বর্ষের ৩ জন এক নবীনকে ধূমপানে বাধ্য করা, রাত ১টা পর্যন্ত আটকে রাখা ও ছাত্রী বন্ধুদের ফোন করে চা খেতে ডাকার নির্দেশ দেন।

পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরিচয়পর্বের নামে তাদের গালিগালাজ, রাতে ডেকে নেওয়া ও মোবাইল পরীক্ষা করা হতো। এ ছাড়া ফাইন্যান্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, আইন ও ফার্মেসি বিভাগেও পরিচয়পর্বের নামে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত অভিযোগ না দিতে অভিযুক্তদের পক্ষে সহপাঠী জিসানের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং সিনিয়রদের নাম না দিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জানান নবীন শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্তরা ব্যাচের অন্যদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে চেনাতেই নবীনদের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো, ল্যাম্পপোস্ট গণনাসহ বারবার পরিচয় নেওয়া ও কড়া ভাষায় বকাঝকা করা হয়েছে।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিভাগের সব শিক্ষক মিলে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট প্রস্তুতি করে জমা দিয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিটি বিভাগে একজন শিক্ষককে র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্যুরিজম বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের হাতে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সভা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিল পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নবীনদের ‘পরিচয় শেখানোর’ নামে যেকোনো কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। এত প্রচারণার পরও সংশ্লিষ্টতা পেলে ছাড় দিবে না প্রশাসন।’

ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ না এলেও কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার’ বা ফরমাল পরিচয় শেখানোর কোনো নিয়ম নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনো র‍্যাগিং ইস্যুতে জিরো টলারেন্স। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের কাছে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্টরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


জেলায় জেলায় সফলতার জোয়ার, কোথাও বিপর্যয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও গৌরবময় অর্জনের চিত্র দেখা গেছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস ও শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফলের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তবে এই মেধা ও সাফল্যের পাশাপাশি দেশের কিছু প্রান্তে দেখা গেছে শিক্ষাব্যবস্থার করুণ চিত্র—যেখানে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাসের মুখ দেখতে পায়নি। সার্বিক ফলাফলেই ফুটে উঠেছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বৈচিত্র্য ও কিছু অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ।

নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলে শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা

সালমা সুলতানা, নরসিংদী: নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস বরাবরের মতো এবারও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে দেশসেরা ফল লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মোট ৩৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং শতভাগ পাসের পাশাপাশি ৩৮২ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা ও প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন জানান, সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সমন্বয় এবং কঠোর পরিশ্রমই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

সাফল্যের ধারায় ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ

মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী: কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ এবারও তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জনই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। কঠোর শৃঙ্খল, নিয়মিত অধ্যয়ন ও আধুনিক পাঠদান পদ্ধতিকে এই অর্জনের পেছনে মূল কারণ বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল এস এম ফয়সল। উল্লেখ্য, ফেনী জেলায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৭২.৬২ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,১৩৯ জন।

মাগুরায় সেরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা: জেলায় ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস এবং ৪২ জন জিপিএ-৫ পেয়ে জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে মাগুরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯৬.৮২ শতাংশ (৮৭ জন জিপিএ-৫) এবং মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পাসের হার ৭৮.৭৩ শতাংশ (৬৮ জন জিপিএ-৫)। সভাপতি পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমকে এই ফলাফলের ভিত্তি হিসেবে আখ্যা দেন।

ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের গৌরবময় সাফল্য

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর: জেলার ঐতিহ্যবাহী আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় চলতি বছরও চমৎকার ফলাফল বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে পাসের হার ৯০.১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক এই সাফল্যের জন্য প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও কঠোর তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়

প্রবীর মহন্ত, বগুড়া: জেলায় প্রতিবারের মতো এবারও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারে শীর্ষে উঠে এসেছে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়; যেখানে ২১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করার পাশাপাশি ১৮৪ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাস ও ৩৪৩ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পাবলিক স্কুল থেকে ৩৫৭ জনের মধ্যে শতভাগ পাস ও ২৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বগুড়া জিলা স্কুলে ২২৪ জনের মধ্যে ২২৩ জন পাস (১৭৫ জন জিপিএ-৫) এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪১৮ জন পাস (৩২৪ জন জিপিএ-৫) করেছে। বগুড়া জেলায় মোট পাসের হার ৭২.৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪,৪৭৮ জন।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল

মো. আল আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ): উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় দেখা গেছে। উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ জন এবং মজর আলী আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুপস্থিতি, মোবাইলে আসক্তি এবং অ-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনজনিত ক্ষোভকে এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার এসএসসিতে ৪৬.৯৪ শতাংশ এবং দাখিলে ৩৮.২১ শতাংশ।

ভাঙ্গুড়ায় মাগুড়া মাদ্রাসায় ১৯ জনই অকৃতকার্য

মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা): উপজেলার মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি, অর্থাৎ পাসের হার শূন্য শতাংশ। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী সংকট এবং শিক্ষকদের পাঠদানে অনীহাকে স্থানীয়রা দায়ী করছেন। একই উপজেলার লতিফা-আয়শা দাখিল মাদ্রাসা থেকেও ২০ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী, যা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


মাগুরায় অপহৃত  ১৩ বছরের শিশু উদ্ধার, আটক ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

অপহরণ অভিযোগের মাত্র ৯ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ বছর বয়সি এক শিশুকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)। এ ঘটনায় রবিউল মোল্যা (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে মাগুরা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর থানাধীন বরুনাতৈল গ্রামের জারিয়া আক্তার গত রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কান্নারত অবস্থায় পুলিশ সুপার, মাগুরার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে অভিযোগ করেন, তার ১৩ বছর বয়সি শিশুকন্যাকে অপহরণ করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার, মাগুরা অপহৃত শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে দায়িত্ব দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহ্ শিবলী সাদিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান পিপিএমের নির্দেশনায় সিসিআইসি, মাগুরার এসআই (নি.) অজয় দাসের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের একপর্যায়ে সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর রাত ৩টার দিকে মাগুরা জেলা ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের অভিযোগে মাগুরা সদরের বরুণাতৈল গ্রামের বাদশা মোল্যার ছেলে রবিউলকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার শিশু ও আটক ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বোয়ালখালীতে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছিল আমনের বীজতলা। এতে চলতি মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কৃষকরা। পরে সরকারি প্রণোদনা ও নিজেদের উদ্যোগে নতুন করে বীজতলা তৈরি করেন তারা। এখন সেই বীজতলার চারা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪৯ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে।

আহলা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও পোপাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আমনের চারা রোপণ চলছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকদের ব্যস্ততা। কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। পানিতে ভেজা জমিতে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে এবার ভালো ফলনের আশায় তারা মাঠে নেমেছেন। তবে চাষাবাদের বাড়তি খরচ নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ।

জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলের কৃষক খোরশেদ আলম তিন কানি (১২০ শতক) বর্গা জমিতে আমন চাষ করছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রতি কানি জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার টাকা। এবার একই কাজে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা। প্রতি কানি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা থাকলেও তার ধারণা, ৬০ আড়ির বেশি ফলন পাওয়া কঠিন হবে।

একই এলাকার কৃষক সুবল দে পাঁচ কানি (২০০ শতক) বর্গা জমিতে সাদা পানজা ধানের চারা রোপণ করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি কানি জমিতে প্রায় ৫০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা করছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় চাষ করে লাভ হচ্ছে না। বরং লোকসান হচ্ছে।’ এরপরও অন্য কোনো কাজ না জানায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি বন্যায় উপজেলার প্রায় ৪৮ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নতুন করে বীজতলা তৈরিতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকরা আবার আমন চাষে ফিরতে পেরেছেন।’


জামালপুরে ট্রাকে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, জজের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা রডবোঝাই ট্রাকে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় একেএম ছামিউল হক (২৮) নামে এক সহকারী জজের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

একেএম ছামিউল হক জামালপুর জজ আদালতের সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নেত্রকোনার সদর উপজেলার সাতপাই ছেটগাড়া গ্রামের একেএম ফজলুল হকের ছেলে। তিনি প্রাইভেটকারে করে ঢাকার লালমাটিয়া থেকে জামালপুর ফিরছিলেন।

পুলিশ জানায়, রডবোঝাই ট্রাকটির একটি চাকা ফুটো হয়ে গেলে চালক ও হেলপার ট্রাকটি সড়কের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় পেছন থেকে প্রাইভেটকারটি ট্রাকটিতে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই সহকারী জজ ছামিউল হক নিহত হন। গুরুতর আহত হন চালক ইদ্রিস আলী।

জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


ঝিনাইদহে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঝিনাইদহে ১৫শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি বিভাগের আয়োজনে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জুনাইদ হাবীব, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মীর রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, খরিপ-২ মৌসুমে সরকারের কৃষি প্রণোদনার আওতায় সদর উপজেরার বিভিন্ন গ্রামের ১৫শ কৃষকের প্রত্যেককে ২০ কেজি রাসায়নিক সার, ১ কেজি পেঁয়াজ বীজ, ১ কেজি বালাইনাশক ও ২ কেজি পলিথিন রোল দেওয়া হয়।


চাকসুতে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস চালুর দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি, ভিসির আশ্বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাস চালুর দাবিতে অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। আন্দোলনকারীদের দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয় নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় চাকসু। এতে ‘ভয়েজ অব স্টুডেন্ট’ নামের সংগঠনের সভাপতি আশিকুর রহমানকে সংহতি প্রকাশ করতে দেখা যায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

চাকসুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন উপাচার্য।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাস চালু করার জন্য, উপাচার্য আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাই আমরা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছি। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।


কলাপাড়ায় অর্থ আত্মসাতের মামলায় ব্যাংক ম্যানেজার গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা বাজার আউটলেট শাখার গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় শাখা ব্যবস্থাপক মো. রাহাত ইসলামকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত রোববার (৯ আগস্ট) পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারের আল- আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাখিমারা বাজারের ওই ব্যাংক আউটলেটের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় রাহাত ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে একই শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রকাশের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে তারা ব্যাংক ঘেরাও, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফোরকান মিয়া বলেন, ‘পাখিমারা বাজারের আল- আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট শাখার গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাহাত ইসলামকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


জনশূন্য ফসলি জমিতে অনিয়মের পাহাড়, দায় এড়াচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

১ কোটি ৩ লাখ টাকার চার ব্রিজ এখন ‘আবর্জনার ভাগাড়’
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

জনবসতিহীন মাইলের পর মাইল বিস্তৃত ধানখেত। কোনো যাতায়াতের রাস্তা নেই, নেই কোনো বাড়িঘর। অথচ এই অনাবাদি ও ফসলি জমির মাঝেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে কোটি টাকার চারটি পাকা ব্রিজ! চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাউজান উপজেলার ৯ নম্বর পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় গেলেই চোখে পড়বে এই অদ্ভুত দৃশ্য।

সরকারি অর্থের এমন অপচয়ের পর প্রায় আট বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই ব্রিজগুলো এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার পচা ভাগাড়ে। দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

৩ লাখ টাকার কাজে ১ কোটি ৩ লাখ টাকার ব্যয়

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই চার কূলহীন ব্রিজ নির্মিত হয়। প্রতিটি ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট, প্রস্থ ১৫ ফুট। একটি ব্রিজ থেকে অন্যটির দূরত্ব আনুমানিক মাত্র ২০০ ফুট! খরচ ধরা হয় ২৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। চারটি ব্রিজে সর্বমোট অপচয় হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভিত্তিপ্রস্তর রূপকথা

২০১৯ সালের ১৪ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এই চার ব্রিজের নির্মাণকাজের সূচনা হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য (বর্তমানে কারাবন্দী) এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী জাঁকজমকপূর্ণভাবে ব্রিজগুলোর উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়রা জানান, ভিত্তিপ্রস্তরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নাম ব্যবহার করা হলেও মূলত এটি ছিল এক চতুর প্রতারণা।

নেপথ্যে 'আবাসিক প্রকল্প' ও দখলের পাঁচতারা ছক

চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি কোনো অফিস বা জনস্বার্থের জন্য এসব ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল্যবান এই কৃষি জমিগুলোকে জোরপূর্বক হাউজিং বা আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করার পাঁচতারা পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের। সরকারি টাকায় ব্রিজ বানিয়ে পরে কৃষকদের জমি দখলের পাঁচতারা ছক কষা হয়েছিল। সে সময় কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নেমে আসত হুমকি-ধমকি ও নির্যাতন।

'ক্ষমতাশালীদের কথা শুনতে বাধ্য ছিলাম': দায়সারা মন্তব্য পিআইওর

প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৎকালীন রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (বর্তমানে হাটহাজারীতে কর্মরত) নিয়াজ মোর্শেদ দায়সারা জবাব দেন। তিনি বলেন, সে সময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ বা একতীয়ার আমাদের ছিল না।

অন্যদিকে, নির্মাণকালে বিতর্কিত এই সরকারি প্রকল্পের জন্য কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা জানান, সে সময় তিনি রাউজানে কর্মরত ছিলেন না, তাই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়কসংলগ্ন বিশাল ধানখেতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই চার ব্রিজের ওপরে ও নিচে এখন ময়লার স্তূপ। চারপাশের আবর্জনা পচে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। চৌমুহনী বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্গন্ধ সহ্য করে চলাচল করতে হচ্ছে।

হাতে গোনা কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থে কোটি টাকার ওপর সরকারি অর্থ এভাবে জলে ফেলা এবং পরিবেশ নষ্ট করার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


banner close