৩৬ বছরের পুরোনো ২৯ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন পৌর বাসিন্দাদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করার মাঠগুলোতে গড়ে উঠেছে বড় বড় অট্টালিকা। কোনো কোনো মাঠে বসানো হয়েছে কাঁচাবাজার। আবার অনেক মাঠের জায়গার মালিকরা প্লট আকারে বিক্রি করে দিয়েছেন তাদের ব্যক্তিগত জায়গা।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে হারিয়ে গেছে ১৬টি খেলার মাঠ। আরও কয়েকটি খেলার মাঠ হারাতে বসেছে। কারণ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে যে কয়টি খেলার মাঠ এখনো রয়েছে সেগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরজুড়ে মাঠগুলো বাণিজ্য মেলাসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে। তাদের অভিযোগ, উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার সুযোগ না পাওয়ায় ধীরে ধীরে আসক্ত হচ্ছে মোবাইল ফোনে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) গবেষণায় জানা গেছে, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম এক ঘণ্টা করে খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন।
টেকসই নগরায়ন সংক্রান্ত জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন-হ্যাবিটেটের তথ্য অনুযায়ী, হাঁটার দূরত্বে খেলার মাঠ থাকা উচিত। অতিঘন নগর এলাকায় প্রতি অর্ধবর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা বিবেচনায় ন্যূনতম একটি করে খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে খেলার মাঠের জায়গায় বসতভিটা গড়ে উঠেছে। এই ওয়ার্ডের থানাপাড়া এলাকার রেঞ্জার মাঠ, সবুজ সেনা মাঠ, থানাপাড়া ইস্টার্ন ক্লাব মাঠের (বাবুর্চির মাঠ) জায়গায় এরই মধ্যে বসতি গড়ে উঠেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডে ৩টি খেলাধুলার ক্লাব থাকলেও তাদের কোনো খেলার মাঠ নেই।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরবাড়ির মাঠটি মালিকানা দ্বন্দ্বে এলাকার শিশু-কিশোরদের ওই মাঠে খেলাধুলা প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে বর্তমানে শিশু-কিশোররা ওই মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পেলেও ভবিষ্যতে ওই মাঠের জায়গা প্লট আকারে বিক্রির আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জা মাঠ ও হাউজিং মাঠে নিকট অতীতে ওই এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করত। এ ছাড়া সকাল ও বিকেলে স্বাস্থ্য সচেতন লোকজন শরীরচর্চা করত এই মাঠ দুটিতে। বর্তমানে মাঠগুলোতে বসতি গড়ে উঠেছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ পাড়ার বালুর মাঠে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল ইমারত। একই এলাকার পানির ট্যাংকের মাঠে এখন আর শিশু-কিশোরদের প্রবেশাধিকার নেই।
একই চিত্র ১১ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় মাঠে। গড়ে উঠেছে বসতি; খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট কারীবাড়ী খেলার মাঠ ও কেওছার মাঠের এখন আর অস্তিত্ব নেই। এ ছাড়া নজরুল সেনা মাঠের জায়গায় গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান।
এই ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে একসময় টাঙ্গাইল শহরের এলাকার শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় ব্যস্ত থাকত। বর্তমানে এই মাঠের অধিকাংশ জায়গাজুড়ে বসেছে ট্রাকস্ট্যান্ড। ফলে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মাঠটি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য এখন আর ব্যবহার করতে পারছে না।
১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলতলী এলাকার বালুর মাঠে এখন গড়ে উঠেছে বসতি ও বিভিন্ন ধরনের ফল ও গাছের বাগান। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোদালিয়া মাঠটি এখন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাডেমিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানান বাসিন্দারা।
শহরের নামকরা একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে। সে জানায়, বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত বন্ধুদের সঙ্গে পৌর উদ্যানে আড্ডা দিই। একসময় আমার ওয়ার্ডে তিনটি খেলার মাঠ থাকলেও বর্তমানে কোনো খেলার মাঠ নেই। খেলাধুলার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকটা বাধ্য হয়েই পৌর উদ্যানে এসে আড্ডা দিই।
সরকারি সৈয়দ মহাব্বত আলী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘পৌর শহরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকার ফলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা ধীরে ধীরে আসক্ত হচ্ছে মোবাইল ফোনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল আসক্তি থেকে রক্ষা করার জন্য পৌর এলাকায় শিশু পার্ক ও খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। পৌর শহরে যে কয়টি খেলার মাঠ এখনো অবশিষ্ট আছে, সেগুলো রক্ষা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, ‘ব্যক্তিমালিকানাধীন মাঠগুলোর ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের করণীয় কিছু নেই, তবে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, জেলা পরিষদ মাঠ ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কিছু জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই মাঠগুলো পরিষ্কার করে আবার খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাউজিং স্টেটে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি খেলার মাঠ তৈরি করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।’
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠকে যত দ্রুত সম্ভব খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে পৌর মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করেছি। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য টাঙ্গাইল পৌর শহরের অদূরে দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুরে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেন বলেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরির প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।’
চোরের আস্তানা থেকে উদ্ধার হয়েছিল পাঁচটি গরু। কিন্তু উদ্ধার হওয়ার পরও শেষ হয়নি তাদের দুর্ভোগ। মালিকের সন্ধান না মেলায় গরুগুলোর ঠাঁই হয়েছে নওগাঁর রানীনগর থানার প্রাঙ্গণে। তবে সেখানে অবহেলায় নয়, বরং পরম যত্ন আর মমতায় চলছে তাদের লালন-পালন। আর এরই মধ্যে থানার শেড ঘরেই নতুন অতিথির আগমন একটি গাভী জন্ম দিয়েছে ফুটফুটে এঁড়ে বাছুর। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় এলাকায় যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডলের মানবিক উদ্যোগও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে থানার প্রাঙ্গণেই রয়েছে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গরু। চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে নিয়মিত খাবার, পরিচর্যা ও দেখভালের ব্যবস্থা করেছেন থানার ওসি। শুধু তাই নয়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মা ও বাছুরসহ সবগুলো গরুই সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে নওগাঁর রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত ডাটা বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রথমে শনাক্ত করা হয় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত এক কুখ্যাত চোরকে।
এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। পরে র্যাবের সহযোগিতায় নাটোরের নলডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নওগাঁর কুখ্যাত গরু চোর আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম চোরাই গরু রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ১৫ জুলাই ভোর রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অসিতকে আটক করার পর তার গোয়ালঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি চোরাই গরু। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি ছিল গর্ভবতী।
এরপর গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান শুরু করে পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মালিকের সন্ধান না মেলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুগুলোকে রানীনগর থানা প্রাঙ্গণে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেই থেকে থানার আঙিনাতেই চলছে তাদের নতুন জীবন।
এদিকে কিছুদিন পর গর্ভবতী গাভীটি একটি এঁড়ে বাছুর জন্ম দিলে থানার পরিবেশেও যেন যোগ হয় ভিন্ন এক আবহ। পুলিশ সদস্যদের ব্যস্ততার মাঝেই মা ও বাছুরের যত্নে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নজর। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া তৈরি হয়।
রানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, ‘গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় রাখা হয়েছে। গরুগুলোর যাতে কোনো ধরনের কষ্ট না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গাভী বাছুর জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে মা ও বাছুরসহ সবগুলো গরুই সুস্থ আছে।’
তিনি জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহে আদালতের কাছে গরুগুলো প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির অনুমতি চাওয়া হবে। আদালতের অনুমতি পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থের মধ্য থেকে গরুগুলোর এতদিনের লালন-পালনের ব্যয়ও নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক অদ্ভুত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিয়ে ভেঙে গেছে। বিয়ের ভোজে বরপক্ষের জন্য সাজানো বড় থালায় (খদরে) খাসির মাংস না থাকায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ে না করেই কনের বাড়ি ত্যাগ করেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। বর জুনায়েদ পার্শ্ববর্তী কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কনেপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আনন্দঘন পরিবেশে আত্মীয়স্বজনসহ কনের বাড়িতে পৌঁছালে জুনায়েদকে ফুল দিয়ে সাড়ম্বরে বরণ করে নেওয়া হয়। গেট ও বরণ অনুষ্ঠান শেষে বরকে আপ্যায়নের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসানো হয়। অন্যান্য অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার পর বরের জন্য বিশেষ থালায় খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু খাবারের মেন্যুতে খাসির মাংস অনুপস্থিত থাকায় জুনায়েদ হঠাৎ বেঁকে বসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, খাসির মাংস ছাড়া তিনি ভোজন করবেন না এবং এই অবস্থায় বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কনেপক্ষের মুরুব্বি ও আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে অনেক অনুনয়-বিনয় ও বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে কোনো উপায় না দেখে এবং নিজের জিদ বজায় রেখে তিনি একাই কনের বাড়ি থেকে চলে যান। কনের পিতা শফিক মিয়া অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আমরা সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ অভিহিত করে বলেন, সামান্য খাবারের বিষয় নিয়ে এমন অনমনীয় আচরণ কারও কাম্য নয়। একটি সুন্দর সম্পর্কের এমন অপমৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাড়ির আঙ্গিনায় রাখা একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের মজুমদারহাট এলাকায় এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি ঘটে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয় এবং গত ৪ আগস্ট তাঁদের কোলজুড়ে এক পুত্রসন্তান আসে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফাতেমার কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। তিনি কখনও দাবি করেন যে কেউ তাঁকে আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে, আবার কখনও দাবি করেন ‘শিশুটিকে জিনে নিয়ে গেছে’। তাঁর এমন অসংলগ্ন কথাবার্তায় পরিবারের লোকজন তল্লাশি শুরু করলে এক পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য রাখা একটি ড্রামে নবজাতকটির নিথর দেহ পাওয়া যায়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা বেগম তাঁর সন্তানকে ড্রামের পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নবজাতকটি সারাদিন কান্নাকাটি করত এবং তাঁকে ঘুমাতে দিত না, যার ফলে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই অমানবিক পথ বেছে নেন। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যম-কে বলেন, ‘নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই নবজাতকের পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।’ এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শারাফাত চৌধুরী মাল্টি-পারপাস হলে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাইয়ের কণ্ঠস্বর: তারুণ্য, প্রত্যয় ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং উপাচার্য (মনোনীত) আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানান।
অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কিংবদন্তী ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত। এছাড়াও উল্লেখিত বিষয়ের ওপর বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ সানজাদ শেখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর (মনোনীত) অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক। বক্তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন এবং তরুণ সমাজকে প্রগতি ও দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জনাব ববি হাজ্জাজ বলেন, ১৮ জুলাই কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সামনে আমি আন্দোলনে ছিলাম। ৫ আগস্টের মাত্র তিন দিন পরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ক্লাস শুরু করে। আমি অবাক হয়েছি আপনাদের এই তৎপরতা দেখে। আমি নিজে দেখেছি ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্পাস দখলে নিয়েছিল। ভবন ভাঙচুর করে ছিল। এই ভগ্নদশা থেকে এত জলদি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানো বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। যেটা কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় করে দেখিয়েছে।
প্রতিষ্ঠার মাত্র এক দশকেই বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার মানের কারণে অনেক দূর এগিয়েছে বলে প্রশংসা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়াও ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইন সায়েন্স চালু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত বলেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে যা যা করণীয় বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড তাই করবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি রূপরেখা আহ্বান করেছেন তিনি।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক বলেন, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে হবে। সবশেষে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) একমাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ সংঘাতের মধ্যে একটিরও দৃশ্যমান বিচার করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিচারকার্যে প্রশাসনের এই ব্যর্থতার কারনেই শিক্ষার্থীরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে বারবার। একমাসে পৃথক চারটি ঘটনায় আটটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে সংঘাতে জড়িয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও সংঘর্ষের সাথে জড়িত বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত ৩০ দিনে ইংরেজি-অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান-আইন, গণিত-গণযোগাযোগ ও বাংলা-ইতিহাস এই আটটি বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আরেকটি সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাগুলোতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও অদৃশ্য কারণে তদন্ত কার্যক্রম আগায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তদন্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিন্তু রিপোর্টই দিতে গড়িমসি করছেন তদন্ত কমিটি। একটি সূত্র জানিয়েছে গঠিত কমিটি নানা বাহানায় সময় বৃদ্ধি করে প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমান সৌরভ বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে এসকল সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো যেত। শাস্তি নিশ্চিতে হলে সবার কাছে একটি মেসেজ যেত, যাতে করে এ সকল সংঘর্ষ আর ঘটত না। ঘটলেও সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ত না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রশাসনের উচিত সুস্থ তদন্তে অপরাধীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের আইনে নিয়ে এসে শাস্তি নিশ্চিত করা।
গত ১৫ আগস্ট রাতে ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব ও উত্ত্যক্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটে। রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষে দুই বিভাগের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা যায়। এ সময় আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর এবং চালককেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এই সংঘর্ষে থেকে।
গত ৫ আগস্ট ‘অদম্য জুলাই’ মিছিলে বহিরাগত অভিযোগে শিবির-ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলামের পায়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও ঘটনাস্থলে আহত হন। এসংঘর্ষের উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিবির ও ছাত্রদলের সাথে বসলেও দৃশ্যমান কোনো বিচার বা পদক্ষেপ নেয়নি।
এর আগে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিজয়-২৪’ হলে ডেকে নিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইনামুল হকের ওপর ইতিহাস বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী হামলা করে। হলের দ্বিতীয় তলার করিডোরে এই ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় ইনামুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অংকন এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবসহ ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাকিবও ইনামুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় প্রক্টর অফিসে। ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও কমিটি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
এরও আগে ২০ জুলাই ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার দিন পূর্ববিরোধের জেরে আইন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিভাগ দুটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায়ও কোনো বিচার করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একদিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঐ সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহে জন্য সাংবাদিকদের উপস্থিত হলে তারাও হামলার স্বীকার হন। সংঘর্ষটির তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন শান্ত, ইতিহাসের সাথে বাংলা বিভাগের জুনিয়র দ্বারা সিনিয়র সংঘর্ষ হলো তখন ঐটার বিচারহীনতায় পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথে আইন বিভাগ, গণিত সাথে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ও অর্থনীতির সাথে ইংরেজী বিভাগের সংঘর্ষ এভাবে ধারাবাহিক ভাবে ডিপার্টমেন্ট বাই ডিপার্টমেন্ট চলতেই আছে। যদি অতীতের ঘটনার সুস্থ ভাবে বিচার হতো তাহলে এতো দূর পর্যন্ত গড়াতো না, যেটা আমি মনে করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো.মেহেদী হাসান বলেন, যেসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে আমরা তাদের বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে বসেছি। এই সংঘর্ষের পিছনে আমাদের মনে হয়েছে তাদের অস্বাভাবিক আচরণের পিছনে মাদকাসক্তি থাকতে পারে। আমরা পুলিশের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদের হেল্প করতে চেয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে সবগুলো তদন্ত কমিটি আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে করে ফেলেছি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট শৃঙ্খলা কমিটিতে জমা দিবে। তদন্ত কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটির সিন্ধান্ত হবে সিন্ডিকেটে। সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিন্ধান্ত গ্রহণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে, বিচার নিশ্চিত কারার আশ্বস্ত করেছেন উপাচার্য।
প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, সংস্কার কমিশনে যাতে ভূত-টুত না থাকে সে বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য একটু সময় লাগছে। তবে, দ্রুতই কমিশন গঠন হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র শাপলায় এই মতবিনিময় সভা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করার জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে যে কথা বলা আছে সরকার সেই পয়েন্ট থেকে সরে আসেনি। বরং সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেটাও আমরা লক্ষ্য করেছি। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করতে যাচ্ছি।
সভায় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ করেছি। এখন আমরা ওয়ার্কিং গ্রুপ করব। তারা একটা ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ড্রাফট তৈরি করবেন। তারপর আমরা এটা মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করব।
এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ার পর এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নের আওতায় আসবে এবং কোনগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা হবে না—নীতিমালায় তা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতিটি খাতা পুনরায় পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, ২০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের খাতা পুনরায় দেখা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের নিষ্পত্তি করে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে হবে। বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে গেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায়ও বিলম্ব হতে পারে বলে তিনি জানান।
আবেদনগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে মিলন বলেন, বর্তমানে যারা আবেদন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে টেবুলেশন শিট ও নিরীক্ষার বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। যেসব খাতায় গুরুতর সমস্যা বা অসঙ্গতি পাওয়া যাবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের মাধ্যমে খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ চালু করা হয়েছিল। তবে এবারের অভিজ্ঞতায় বিপুলসংখ্যক আবেদন আসায় এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
খাতা পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে পরীক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতিও যাচাই করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। কোনো পরীক্ষক খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না, নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
সরকারের নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নযোগ্য হবে এবং কোন ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ করা হবে না—তা স্পষ্ট করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়নের কারণে কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে সম্ভাব্য দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর লক্ষ্য থাকবে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কারখানায় তালা ঝুলছে দীর্ঘদিন ধরে—অথচ কাগজপত্রে সেই ভূতুড়ে মিলের পেতেই চালান হয়ে গেল বিপুল পরিমাণ সরকারি গম! নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বন্ধ একটি ফ্লাওয়ার মিলের নামে ১০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দিয়ে তা হরিলুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অচল মিলে সরকারি সম্পদ বরাদ্দের খবর চাউর হতেই নরসিংদী খাদ্য দপ্তরে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, চলছে একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপানোর মহোৎসব।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় তালিকাভুক্ত চারটি ফ্লাওয়ার মিলের মাধ্যমে গম ভাঙিয়ে সমপরিমাণ ফলিত আটা সরকারি গুদামে জমা নিয়ে থাকে। এই তালিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠান কারারচরের ‘মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিল’। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় চলতি বছরের ৭ জুন থেকেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগে ঈদুল আজহার সময় থেকেই কারখানাটির সমস্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
অথচ এই সম্পূর্ণ অচল ও বিদ্যুৎহীন মিলটির অনুকূলে গত ১৩ জুলাই প্রায় ১৯ লাখ টাকা বাজারমূল্যের ১০০ মেট্রিক টন ওএমএস-এর গম বরাদ্দ দেওয়া হয় (বিলি আদেশ বা ডিও নং-০১০৪৫৩, সিডিভি নং-২৬২৭-০০০৩২৮৫৬৮৪)। বরাদ্দপত্রে স্বাক্ষর করেন নরসিংদী সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান্নাতি ময়না এবং ডিও গ্রহণ করেন মিল মালিক মো. মিরাজ আলম ভূঁইয়া। সচল অন্য তিনটি মিল থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বার্থে একটি বিদ্যুৎহীন বন্ধ কারখানায় এত বড় চালান পাঠানো হলো, তা নিয়ে জনমনে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করলে বিপাকে পড়ে জেলা খাদ্য দপ্তর। অনিয়ম ও থলের বিড়াল আড়াল করতে ২৬ জুলাই তড়িঘড়ি করে একটি আদেশ জারি করা হয় (স্মারক নং-১৩.০১.৬৮০০.০০০.০০০.৫৭.০০০৯.২৫.৬২৮)। উক্ত আদেশে মেরাজ ফ্লাওয়ার মিলের নামে থাকা অবশিষ্ট ৭৬.৬০০ মেট্রিক টন গমের উপবরাদ্দ বাতিল করে বাকি তিনটি সচল মিলের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। একই সাথে প্রশাসনিক দায় এড়াতে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি।
সরেজমিনে কারারচরস্থ মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে ভুতুড়ে অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। মিল মালিক মো. মিরাজ আলম ভূঁইয়া দাবি করেন, ‘আমার মিলে বিদ্যুৎ না থাকায় আমি অন্য মিল থেকে গম পেষন করে সরকারি গুদামে জমা দিয়েছি।’ তবে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজস্ব মিলের বাইরে অন্য কোথায় গম ভাঙানো হলো এবং আদৌ পুরো ১০০ টন গম পেষন হয়েছে নাকি কালোবাজারে বিক্রি করে হিসাব মেলানো হয়েছে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পুরো কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে চাইলে দায় এড়িয়ে যান নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না। কাগজপত্র আমার কাছে আসলে আমি শুধু স্বাক্ষর করি, বাকি সব কাজ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান্নাতি ময়না অবশ্য জানান, মিল বন্ধের বিষয়ে মালিক আমাদের আগে অবহিত করেননি। তদন্তে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সত্যতা মিলেছে, তবে বরাদ্দকৃত ১০০ মেট্রিক টন গমের আটা তারা গুদামে জমা দিয়েছেন।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি খাদ্যশস্য তুলে নেওয়ার ঘটনাটি কোনো সাধারণ ভুল নয়; এটি কর্মকর্তা ও মিল মালিকের সুপরিকল্পিত আর্থিক দুর্নীতি। সরকারি গম নিজস্ব মিলে না ভাঙিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ধরনের গম চোরাচালানের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে তিন যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৭৮২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। একই সময় লাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট। জব্দ সিগারেটের বাজারমূল্য ৩৬ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং আইফোনের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। তিন যাত্রী—ফেনীর ছাগলনাইয়ার মঈনুল আবেদীন, আব্দুল মান্নান ও ফেনী সদরের নুরুল আলম রিয়াদ—এর ব্যাগেজ থেকে ৭৮২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন পাওয়া যায়। পাশাপাশি মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হয় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আটক পণ্য কাস্টমসের হেফাজতে গেলেও তিন যাত্রীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একদিনের এই ঘটনা তাই শুধু ‘৩৬ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ’-এর খবর নয়। গত প্রায় এক দশকের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মেলালে এটি শাহ আমানত বিমানবন্দরকে ঘিরে বিদেশি সিগারেট চোরাচালানের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্যাটার্নেরই নতুন উদাহরণ।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকেই শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেটের বড় চালান আটকের খবর নিয়মিত এসেছে।
২০১৭: ডিসেম্বরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ২৫৮ কার্টন (মূল্য ১৫ লাখ টাকা) এবং সেপ্টেম্বরে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে ২৬০ কার্টনে ৫২ হাজার শলাকা সিগারেট (মূল্য ২০ লাখ টাকা) জব্দ করা হয়।
২০১৯: আগস্টে দুবাই থেকে আসা তিন যাত্রীর কাছ থেকে ৮১৪ কার্টন এবং শারজাহ থেকে আসা বিভিন্ন যাত্রীর নামে আনা ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার সিগারেট আটক হয়। নভেম্বরে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের ২৯ জন যাত্রীর কাছ থেকে ৭ হাজার ১৮৩ মিনি কার্টন (মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা) উদ্ধার করা হয়। অর্থাৎ, একাধিক যাত্রীকে ব্যবহার করে বড় চালান ভাগ করে আনার প্রবণতা দেখা যায়।
২০২০: জানুয়ারিতে ৫১২ কার্টন, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০ কার্টন ও ৯টি সোনার বার, এবং সেপ্টেম্বরে ৯৫ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
২০২১: আগস্টে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে এক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকেই ২৫২ কার্টন মন্ড, ডানহিল ও ৩০৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট পাওয়া যায়।
২০২২: জুলাইয়ে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৪০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া এপ্রিলে ১৩৭ কার্টন এবং নভেম্বরে ফ্ল্যাই দুবাইয়ের ফ্লাইটে ১১০ কার্টন ও অন্য চালানে ৮ লাখ ৮০ হাজার শলাকা সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
২০২৩: স্বর্ণের বার, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের পাশাপাশি দুবাইয়ের এক যাত্রীর কাছে ২ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়—যা মূলত ‘ব্যাগেজ পার্টি’ নেটওয়ার্কের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
২০২৪: ফেব্রুয়ারিতে এয়ার আরাবিয়ার ফ্লাইটে ৭৩৫ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২৪৫ কার্টন ছিল পরিত্যক্ত।
২০২৫: জুলাইয়ে দুবাই থেকে আসা ৩ যাত্রীর কাছ থেকে ৫৭০ কার্টন সিগারেট ও ৩০টি মোবাইল (মূল্য ৬০ লাখ টাকা) জব্দ করা হয়।
২০২৬: বছরের শুরু থেকেই একের পর এক চালান ধরা পড়ছে—জানুয়ারিতে ৪৪০ কার্টন, ফেব্রুয়ারিতে ২৭০ কার্টন ও ১৫টি মোবাইল, মার্চে ৪২৯ কার্টন, এপ্রিলে ৬৩০ কার্টন ও ৫টি স্মার্টফোন, মে মাসে মোট ৩,০৪৩ কার্টন (দুটি চালানে), জুনে ১,৭০০ কার্টন (৬৯৬টি পরিত্যক্ত), জুলাইয়ে ২৩৫ কার্টন এবং ১৭ আগস্টে মোট ১,৮০২ কার্টন (১,০২০টি পরিত্যক্ত) সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
দুবাই-চট্টগ্রাম, শারজাহ-চট্টগ্রাম, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবুধাবি-চট্টগ্রাম ও মাসকাট-চট্টগ্রাম রুট চোরাচালানের প্রধান উৎস হিসেবে বারবার উঠে এসেছে।
বড় বাণিজ্যিক কার্গো হিসেবে না এনে প্রবাসীদের লাগেজে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে আনা হয়, যাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে।
বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ার আশঙ্কায় বা কাস্টমস এড়িয়ে যেতে লাগেজ ফেলে রেখে কেটে পড়ে বাহকরা। এর ফলে পণ্যের সঙ্গে বাহকের সরাসরি যোগসূত্র অস্বীকার করার সুযোগ তৈরি হয়। সিগারেটের সঙ্গে দামি স্মার্টফোন, প্রসাধনী ও স্বর্ণ একত্রে পাচার করা হয়।
কোটি টাকার পণ্য আটক হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহকদের (যাত্রীদের) কেবল মৌখিক সতর্কতা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
যারা শুধু বাহক বা প্রবাসে সামান্য টাকার বিনিময়ে ব্যাগ বহন করেন, তারা ধরা পড়লেও পেছনে থাকা মূল অর্থদাতা, সিন্ডিকেট বা দেশীয় আমদানিকারকরা সব সময় আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজ, লাগেজ ট্যাগ, প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্ট এবং ফ্লাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে পরিত্যক্ত লাগেজের প্রকৃত মালিক বা মূল নেটওয়ার্ক পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো গভীর তদন্তের অভাব দৃশ্যমান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাহ আমানত বিমানবন্দরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান কার্যকর—বারবার চালান আটক হওয়া তারই প্রমাণ। তবে এক দশক ধরে একই ঘটনা ঘটার কারণ হলো তদন্ত কেবল পণ্য জব্দ ও যাত্রী শনাক্ত/সতর্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এই চোরাচালান বন্ধ করতে হলে বাহকের বদলে মূল হোতা এবং পণ্যের চালানের বদলে অর্থের লেনদেন ধরে তদন্ত চালানো জরুরি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মোহাম্মদ রাজন (৩৫) নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারাগার সূত্র জানায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারারক্ষী মোহাম্মদ রাজীব জানান, রাজন কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি হিসেবে বন্দি ছিলেন। তার কয়েদি নম্বর ৯২৩০/এ। তার বাবার নাম মৃত নুরুল ইসলাম। তবে কোন মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
সংসদে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং সরব ভূমিকার পর এবার আন্দোলনকে রাজপথে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। সংসদের ভিতরের প্রতিবাদ কতটা জনমানসে প্রভাব ফেলেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে তা কতটা সাড়া জাগাতে পেরেছে, এবার সেই হিসাবই কষতে চাইছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এ লক্ষ্যে বুধবার (১৯ আগস্ট) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছে। কিন্তু সংসদের বাইরে সেই আন্দোলনের প্রতিফলন কতটা দেখা গেছে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, শুধু সংসদে সরব থাকলেই হবে না। সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে রাজপথেও ধারাবাহিক আন্দোলন প্রয়োজন।
এই লক্ষ্যেই ছাত্রসমাজকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২২ আগস্ট রাহুল গান্ধী মহারাষ্ট্রের পুনেতে কংগ্রেসের ছাত্রদের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এর আগে উত্তরাখণ্ড, বিহার এবং প্রয়াগরাজে একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্রের মতে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আগামী দিনেও এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কংগ্রেসের হিসাব, ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি নীতি নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তার প্রভাব রাজপথে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, চাকরি, পরীক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়োগের মতো বিষয়কে সামনে রেখে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে আরও একটি রাজনৈতিক ইস্যুকে সামনে আনতে চাইছে কংগ্রেস। অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির অর্থ নিয়ে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। উত্তরপ্রদেশে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। ফলে অযোধ্যাকে ঘিরে যে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি।
রামমন্দিরের প্রণামির অর্থ নিয়ে অভিযোগকে হাতছাড়া করতে নারাজ সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় রাখার সম্ভাবনাই এখন প্রবল। ফলে অযোধ্যার এই অভিযোগকে সামনে রেখে দুই দলই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও জোরদার করতে চাইছে। কংগ্রেসের পরিকল্পনা শুধু উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ডসহ হিন্দি বলয়ের বিভিন্ন রাজ্যে বিষয়টি নিয়ে কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলের লক্ষ্য, স্থানীয় অভিযোগ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনকে যুক্ত করা। তবে সামনে রয়েছে উৎসবের মরশুম। ফলে কখন, কোথায় এবং কীভাবে কর্মসূচিগুলো করা হবে, তা নিয়েই এখন কংগ্রেসের অন্দরে আলোচনা চলছে। আগামীকাল বুধবারের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সংসদের ভিতরের প্রতিবাদকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা। শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, সেই সমালোচনাকে জনআন্দোলনে পরিণত করতে পারলেই তার রাজনৈতিক সুফল মিলবে। তাই সংসদের লড়াইয়ের পর এবার রাজপথে নিজেদের শক্তি কতটা বাড়াতে পারে কংগ্রেস, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
বিশ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে যৌতুক না পেয়ে গরম পানি ঢেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. সানাউল্লাহের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য জানান। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- আলী হোসেন, মিন্টু মিয়া, নুর ইসলাম, শহিদুল্লাহ, মো. কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম ও আ. খালেক।
এদিন কারাগারে আটক সানাউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর সানাউল্লাহর সঙ্গে রুবিনা আক্তার পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামি সানাউল্লাহ যৌতুক চেয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে যৌতুক না পেয়ে ২০০৬ সালের ২ মে গরম পানি দিয়ে তাকে পুড়িয়ে দেন। পিংকির ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় পিংকির বাবা কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মো. গোলাম মোস্তফা সানাউল্লাহকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। অপর আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। মামলার বাদী এতে নারাজি দাখিল করেন। পরে সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (১৭ আগস্ট) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস ভোলার ব্যবস্থাপনায় ভোলার সদর থানাধীন ১১নং ভেদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ২৯৬ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’