বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
২০ ফাল্গুন ১৪৩২

উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় হামুন

ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ২২:৩৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়

সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।

এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র‌্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।

চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।

মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’

দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।

আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’

কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’

মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল

মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।

নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।

বিষয়:

বন্যপ্রাণী রক্ষায় ১০ কিলোমিটার হেঁটে ব্যতিক্রমী প্রচারণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বন্যপ্রাণী সংরণে জনসচেতনতা বাড়াতে ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে সচেতনতা করার লক্ষ্যে প্রচারণা করেছেন পরিবেশকর্মী শফিকুল ইসলাম খোকন। তার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও বন উজাড়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতেই তিনি এ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বিষখালী নদী সংলগ্ন জিনতলা থেকে চরলাঠিমারা, হরিনঘাটা, পদ্মা হয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে রুহিতা পর্যন্ত এসে শেষ হয়। পথে তিনিসহ অংশগ্রহণকারীরা বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানান। ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে পথসভাও করেন তিনি। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৭ টায় জিনতলা থেকে শুরু করেন এ প্রচারণা।

তিনিয় বিভিন্ন স্লোগানে প্লাকার্ড দিয়ে প্রচারণা চালান। স্লোগানগুলো হলো-পাখি না থাকলে প্রাণ হারাবে প্রকৃতি, প্রকৃতির প্রাণ বন্যপ্রাণী-তাদের আমরা রক্ষা করি, বন ধ্বংস করলে, বন্যপ্রাণী ধ্বংস হবে, বন্যপ্রাণী রক্ষা হলে প্রকৃতি রক্ষা হবে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু দায়িত্ব নয়- একটি মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য, বন্যপ্রাণী রক্ষা করলে পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা হবে, প্রাণের অধিকার সবার- বন্যপ্রাণীও তার অংশীদার, শিকার নয়, সচেতনতা বাড়াই, আজ সংরক্ষণ, আগামীর নিরাপদ বন্যপ্রাণীর জীবন।

তার সহযোগী ছিলেন- মো. সোহাগ আকন, মাইনুল ইসলাম ও শোয়েব তাসিন। শফিকুল ইসলাম খোকন একজন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রায় আমরার (ধরা) পাথরঘাটা উপজেলা কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও শফিকুল ইসলাম খোকন দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জেলে অধিকার, জীবন ও জীবিকা নিয়ে কাজ করছেন।

সাথে থাকা সহযোগী সোহাগ আকন ও শোয়েব তাসিন বলেন, আমরা শফিকুল ইসলাম খোকনের কাজে অনুপ্রাণিত হই। সবসময়ই তিনি ভিন্ন এবং ব্যতিক্রমধর্মী বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকেন। তার দেখাদেখি আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করায় উদ্বুদ্ধ হয়েছি।

শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সবাই সচেতন হলে পরিবেশের ভারসাম্য রা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। তাই বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এমন প্রচারণায় এ অঞ্চল বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর কোলঘেঁষা হরিনঘাটা বনসহ বন বিভাগের একাধিক বনায়ন রয়েছে। এছাড়াও বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর পাথরঘাটার অংশে পুরোটাই বনায়ন। যে বনে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এখানকার বাসিন্দারা যাতে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন বা সোচ্চার হয় সে কারণেই এখানে প্রচারণা করছি। এটা আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে। আমি আশা করছি স্থানীয়রা বন নিধন বা বন্যপ্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকবে পাশাপাশি প্রতিহতও করবে।’

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আ. রশিদ রাঢ়ি বলেন, বাঘ যদি বনে না থাকে তাহলে যেমন বন থাকবে না তেমনি বন না থাকলে বন্যপ্রাণীও টিকবে না। বনের কাছের বাসিন্দাদের আগে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিহত করতে হবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলমসহ সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রায় উদ্বুদ্ধ করবে।


পদ্মার ঢেউ আর ইতিহাসের পলি: ঐতিহ্যের বাঁকে অনন্য পাবনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

উত্তর জনপদের প্রবেশদ্বার বলা হয় পাবনাকে। পদ্মা আর যমুনার পলিমাটিতে বেড়ে ওঠা এই জনপদ কেবল কৃষিতেই নয়, রাজনীতি, সাহিত্য আর স্থাপত্যের ঐতিহ্যে অনন্য। বাংলার মানচিত্রে পাবনা মানেই এক সমৃদ্ধ জনপদ, যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কয়েকশ বছরের পুরনো ইতিহাস।

পাবনার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। লোকশ্রুতি আছে, ‘পাবনী’ নামক এক প্রাচীন গঙ্গার শাখা থেকে এই নামের উৎপত্তি। আবার অনেকে মনে করেন, আদিবাসীদের ভাষা থেকে এর সৃষ্টি। তবে ১৮২৮ সালে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই পাবনা তার নিজস্ব মহিমায় বিকশিত হতে শুরু করে।

পাবনার ঐতিহ্যের কথা তুললেই সবার আগে চোখে ভাসে ব্রিটিশ প্রকৌশলবিদ্যার বিস্ময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ১৯১৫ সালে নির্মিত এই রেল সেতুটি আজও পদ্মার ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশেই রয়েছে লালন শাহ সেতু, যা আধুনিক ও প্রাচীন স্থাপত্যের এক দারুণ মেলবন্ধন। এছাড়া ঈশ্বরদীর পাকশীতে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন রেলওয়ে জংশন এবং বিভাগীয় কার্যালয় এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পাবনা শহর থেকে সামান্য দূরেই অবস্থিত জোড় বাংলা মন্দির, যা পোড়ামাটির কারুকাজের এক অনন্য উদাহরণ। এছাড়া চাটমোহরের শাহী মসজিদ মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর জানান দেয়। অন্যদিকে, পাবনার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে আছে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রম। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই আশ্রমটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

পাবনার রয়েছে এক ঈর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পটভূমি। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক নিবাস এই পাবনাতেই। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের দিকপাল প্রমথ চৌধুরী ও সাংবাদিকতার অগ্রদূত কাঙাল হরিনাথের স্মৃতিধন্য এই জেলা।

অর্থনৈতিকভাবেও পাবনা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ জেলাকে বলা হয় বাংলাদেশের ‘দুগ্ধ ভাণ্ডার’। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরের ঘি এবং দুগ্ধজাত পণ্য দেশজুড়ে সমাদৃত। এছাড়া পাবনার তাঁতের শাড়ি ও হোসিয়ারি শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে চলেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে পাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক পরিচিতি দিয়েছে।

পদ্মার ঢেউ আর তাঁতের খটখট শব্দে ঘেরা পাবনা কেবল একটি জেলা নয়, বরং বাঙালির বীরত্ব ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত জাদুঘর। এই জেলার ইতিহাস সংরক্ষণ করা বর্তমান প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাবনার এই পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিকশিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের প্রভাবে অকার্যকর দেড় হাজার নলকূপ

* ১০০ সেচ পাম্প অবৈধ স্থাপন * প্রায় দেড় হাজার নলকূপ অকার্যকর * ভোগান্তিতে প্রায় দুই লাখ মানুষ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকহারে নিচে নেমে গেছে। এতে ওই উপজেলার পাঁচটি এলাকার প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৪ জন মানুষ সুপেয় পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাষাবাদের জন্য সাব মারসিবল সেচ পাম্প দিয়ে অবৈধভাবে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে হস্তচালিত প্রায় দেড় হাজার নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কৃষকের ভাষায়, পার্শ্ববর্তী খালে পানি থাকায় ভূগর্ভস্থ থেকে সাব মারসিবল সেচ পাম্প দ্বারা উত্তলিত পানি কৃষি জমিতে ব্যবহার করছে।

উপজেলা বিএডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জিন্নাগড়, মাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভায় বেসরকারীভাবে ১০০ সাব মারসিবল সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প থেকে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন ৮ ঘণ্টায় গড়ে ৮ লাখ ৬ হাজার ৪০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হয়।

সুপেয় পানির সংকটে পড়া এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, আগে যেখানে হস্তচালিত টিউবওয়েল থেকে সহজেই সুপেয় পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে কয়েক মিনিট চাপ দিলেও পানি উঠছে না। কৃষিকাজ, মাছের ঘের এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনেকেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছেন। এসব পাম্প ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। গত কয়েক মাস থেকে এ সমস্যা প্রকট হয়েছে। অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাজার এলাকাতেও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে কৃষকরা তাদের বোরো আবাদের জন্য প্রতিনিয়ত সাব মারসিবল পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করছে। এ ছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গভীর নলকূপে শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছেন। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আশপাশের গভীর টিউবওয়েলগুলোতে পানি ওঠছে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের পক্ষে মোটরচালিত পাম্প ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

চর মাদ্রাজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমাদের বাড়ির টিউবওয়েলে সারা বছর পানি থাকত। এখন এক ফোটাও পনি ওঠছে না। পাশের বাড়িতে গভীর নলকূপে সাব মারসিবল পাম্প বসানোর পর থেকেই এই সমস্যা শুরু।’

একই অভিযোগ করেছেন জিন্নাগড় এলাকায় বাসবাসকারী গৃহিণী নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘বিলের মধ্যে অবৈধভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে পানি উত্তোলনের ফলে আমাদের নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ভোরে দূরের একটি নলকূপ থেকে পানি আনতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর। এমনকি অনেক সময় পুকুরের পানি পান করতে হচ্ছে এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনকারী জিন্নাগড় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক কেরানি বলেন, ‘খাল শুকিয়ে যাওয়ায় আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তলন করতে বাধ্য হয়েছি। বোরোর আবাদ বাঁচাতে সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছি।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্যমতে, একই এলাকায় একাধিক গভীর নলকূপ ও শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহারের কারণে অগভীর টিউবওয়েলগুলো অচল হয়ে পড়ছে। চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৭৩টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও ২২২টি অকেজো রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৮টি মেরামত করা হয়েছে। তবে হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য মতে ১০ হাজার ৭৩টি হলেও সরেজমিনে এর পরিমাণ প্রায় চারগুণ। এ উপজেলার ৬০ শতাংশ বাসিন্দা নিজস্ব অর্থায়নে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাসিন্দার নলকূপ অকেজো রয়েছে।

জিন্নাগড় ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি জামাল মোল্লা বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অনুমতি বা পরিবেশগত যাচাই ছাড়াই সাব মারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, ‘নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ পুকুর, খাল বা দূষিত উৎসের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘জানুয়ারির পর যখন সেচকাজের জন্যে পানি উত্তোলন শুরু হয় তখন পানির স্তর দ্রুত হারে নিচে নামতে থাকে। অবৈধভাবে স্থাপন করা সাব মারসিবল পাম্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করলে সুপেয় পানির সাম্প্রতিক সংকট থেকে সাধারণ মানুষ রেহায় পেত।’

উপসহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে স্থাপিত সাব মারসিবল পাম্পগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মাঠজুড়ে শুকনো পাতা, প্রকৃতির কারুকাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

উপকূলীয় জনপদ শরণখোলায় শীতের শেষে বনের শুকনো পাতায় এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক, বন-বাদাড় ও খোলা মাঠজুড়ে ঝরে পড়া পাতা এখন যেন প্রকৃতির নিজস্ব কারুকাজ।

বনের গাছপালা থেকে ঝরে পড়া শুষ্ক পাতা মাটির ওপর বিছিয়ে দিয়েছে সোনালি-বাদামি চাদর। সকালে সূর্যের আলো পড়লে সেই পাতার স্তর আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা বলছেন, শুকনো পাতার এই দৃশ্য গ্রামীণ পরিবেশে এক ধরনের নান্দনিক আবহ তৈরি করেছে।

চালরায়েন্দা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই এ সময় গাছের পাতা ঝরে পড়ে। তবে এবার যেন একটু বেশি মনে হচ্ছে। দেখতে খুবই ভালো লাগছে।’

পরিবেশবিদরা জানান, এই শুকনো পাতা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। প্রাকৃতিকভাবে পচে তা মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং নতুন গাছ জন্মাতে সহায়তা করে।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ঝরে পড়া এই পাতাগুলোই এখন শরণখোলার সৌন্দর্যের এক নীরব অলংকার হয়ে উঠেছে।


দর্জি দোকানে ভিড়, মজুরি বেড়ে দ্বিগুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই নতুন পোশাকের উচ্ছ্বাস। সেই উচ্ছ্বাসের রঙিন কাপড় এখন ছড়িয়ে আছে রূপগঞ্জের দর্জি দোকানগুলোতে।

কিন্তু রঙিন এই প্রস্তুতির ভেতরেই রয়েছে হিসাব-নিকাশের চাপ। আনন্দের উৎসব সামনে রেখে অনেক পরিবারের বাজেটের খাতায় এবার নতুন করে যোগ হয়েছে দ্বিগুণ সেলাই মজুরি।

ঈদকেন্দ্রিক উপজেলার অলিগলি, বাজার আর আবাসিক এলাকার ছোট-বড় দর্জি দোকানগুলোতে এখন যেন উৎসবের আমেজ। দোকানের ভেতরে ঝুলছে রঙিন কাপড়, টেবিলে ছড়িয়ে আছে মাপের খাতা, মেশিনের শব্দে মুখর চারপাশ। সকাল থেকে গভীর রাত, কোথাও কোথাও ভোর পর্যন্ত চলছে সেলাইয়ের কাজ। তবে এ ব্যস্ততার মাঝেই ক্রেতাদের কপালে নতুন ভাঁজ। কারণ নারীদের পোশাকের মজুরি আগের তুলনায় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অনেক দোকানে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

নারীদের সুতি থ্রি-পিস বানাতে যেখানে আগে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা নেওয়া হতো, এখন সেখানে গুণতে হচ্ছে ৬০০ টাকা। জর্জেটের থ্রি-পিসে, যা আগে ৬০০-৬৫০ টাকায় তৈরি হতো, এখন সেই মজুরি চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। উপজেলার মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, গোলাকান্দাইল, ভুলতা, গাউছিয়া, জাঙ্গির, চনপাড়া, নগরপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে কথা বলে দর্জি ও ভোক্তাদের কাছ থেকে ওঠে এসেছে এমন চিত্র।

চনপাড়া বাজারের একটি ছোট দর্জি দোকানে ঢোকতেই দেখা গেল, একপাশে তিনজন কর্মচারী মেশিনে ব্যস্ত, সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকজন নারী ক্রেতা মাপ দিচ্ছেন। দোকান মালিক আনিক সরদার বলেন, ‘ঈদের আগে চাপ তো থাকেই; কিন্তু এবার চাপটা বেশি। কর্মচারীদের ওভারটাইম দিতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে, সুতা-আনুষঙ্গিক জিনিসের দামও বেড়েছে। তাই মজুরি না বাড়িয়ে উপায় ছিল না।’

নগরপাড়া এলাকার আরেক দর্জি সুমন মিয়া বলেন, ‘আগে ৪০০ টাকায় সুতির থ্রি-পিস বানাতাম। এখন ৬০০ টাকার নিচে সম্ভব নয়। ঈদের পর আবার ৪০০ টাকা করে রাখব। জর্জেটের কাপড়ে কাজ বেশি তাই ১ হাজার ২৫০ টাকা নিচ্ছে। ঈদের পর সাড়ে ৬০০ টাকায় বানিয়ে দেব।’

নিগার সুলতানা অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা। কাপড় কিনতেই অনেক খরচ। তার ওপর সেলাইয়ে যদি ৬০০ টাকা লাগে, তাহলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চাপ হয়ে যায়। তবু ঈদ বলে কথা, বাচ্চাদের জন্য তো বানাতেই হবে।

জাঙ্গির এলাকায় গভীর রাতেও কয়েকটি দর্জি দোকান খোলা দেখা যায়। দোকানের ভেতরে ঝুলছিল ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা পোশাক। দর্জি রাতুল সরকার বলেন, ‘এখন প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত কাজ করছি। কাজের চাপ এত বেশি যে নতুন অর্ডার নিতে ভয় লাগে। খরচ বাড়ার কারণে মজুরি বাড়াতে হয়েছে।’

বাতেন মিয়া নামে আরেক দর্জি জানান, জর্জেট খুব পিচ্ছিল কাপড়। কাটতে-সেলাই করতে সময় বেশি লাগে। আগে ৬৫০ টাকায় কাজ করতাম। এখন ১ হাজার ৩০০ টাকা নিচ্ছি। না হলে খরচই ওঠবে না। ঈদের পর আগের দাম অর্থাৎ ৬৫০ টাকা করে রাখব।

কলেজছাত্রী আলমিনা রহমান বলেন, ‘একই ডিজাইনের সুতির থ্রি-পিস বানাতে আগে যেখানে ৩৫০-৪০০ টাকা লাগত, এখন সব দোকানেই ৬০০ টাকা চাইছে। বাজেট মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। তবু রেডিমেডে ঠিকমতো ফিটিং পাই না, তাই দর্জির কাছেই আসতে হয়।’

একটি বাসায় ভাড়া থাকেন শাহিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘রোজার আগে সুতির থ্রি-পিস ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বানিয়েছি। এখন সেই থ্রি-পিসের মজুরি চাচ্ছে ৬০০ টাকা। আগে এক এক দোকানে এক এক মজুরি চাইত, এখন সবাই একই মজুরি চাচ্ছে।’

দর্জি ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘হাতে এত কাজ যে নতুন অর্ডার নিলে সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া কঠিন। এখন কাজ নিলে বাড়তি শ্রমিক লাগবে, বাড়তি টাকা দেওয়া লাগবে। তাই মজুরি বেশি নিতে হচ্ছে। ঈদের পর আসলে আগের মজুরিতেই কাজ করে দেব।’

শেখ রবিউল আলম নামে আরেক দর্জি বলেন, ‘সুতির থ্রি-পিস বানাতে মজুরি লাগবে ৬০০ টাকা। জর্জেট হলে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিতে হবে। এখন মজুরি কম নেওয়ার সুযোগ নেই। পছন্দ হলে বানাবেন, না হলে চলে যাবেন। আমাদের কিছু করার নেই।’

বরপা এলাকায় একাধিক দর্জি দোকানে গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র। ভিড়, ব্যস্ততা, আর বাড়তি মজুরি নেওয়ার অভিযোগ। দর্জি নুরালম বলেন, ‘৪০০ টাকায় এখন সুতির থ্রি-পিস বানানো সম্ভব নয়। এখন বানাতে হলে ৬০০ টাকা লাগবে। ঈদের কয়েকদিন পর আসলে ৩৫০ টাকায় বানিয়ে দেব।’

এদিকে সেলাই মজুরির কারণে অনেকেই এখন রেডিমেড পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। কাজীপাড়ার বাসিন্দা আফরোজা খানম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বাসায় পরার জন্য দুটি থ্রি-পিসের কাপড় কিনেছিলাম। কিন্তু মজুরি চাচ্ছে দ্বিগুণ, তাই তৈরি করিনি। ৮০০ টাকা দিয়ে কাপড় কিনে, মজুরি ৬০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঠিক করেছি ঈদের পর তৈরি করব। এখন ঈদের জন্য ১ হাজার টাকার মধ্যে রেডিমেড একটা থ্রি-পিস কিনে নিব।’

একটি দর্জি দোকানের সামনে থেকে জুঁথি আক্তার বলেন, ‘আমার রেডিমেড থ্রি-পিস ঠিকমতো ফিট হয় না, তাই সব সময় বানানো থ্রি-পিস পরি। মজুরির খোঁজ নিতে এসেছিলাম। এবার ঈদ সামনে রেখে থ্রি-পিসের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। সবাই সুতি থ্রি-পিসের মজুরি চাচ্ছে ৬০০ টাকা। এত মজুরি দিয়ে বানানো সম্ভব নয়। তাই মার্কেট থেকে রেডিমেড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।


নীলফামারীতে গ্রাহকদের তেল প্রদানে কারচুপি ও অনুমোদনহীন শিশু খাদ্য উৎপাদনে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে গ্রাহকদের তেল কম দেওয়া ও অনুমোদনহীনভাবে শিশু খাদ্য তৈরি করায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ মার্চ) জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রায়হানের নেতৃত্বে এ আদালত পরিচালিত হয়। প্রসিকিউটর ছিলেন বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন।

অভিযানে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে জেলা শহরের বাদিয়ার মোড় এলাকার মুক্তা ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা এবং বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই শিশুখাদ্য ‘আইসললি’ তৈরি করায় অভিজাত গ্রুপকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, মেশিনে কারচুপির মাধ্যমে গ্রাহকদের তেল কম দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, অভিজাত গ্রুপ কোনো ধরনের বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই শিশুখাদ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করছিল।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রায়হান বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা নিয়মিত অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তেল পাম্পে মাপে কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেউ এক হাজার টাকার ডিজেল কিনলে প্রায় ১২ টাকা কম পাচ্ছেন। এভাবে প্রতিদিন শুধু ডিজেল বিক্রিতেই এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের ক্ষতি হচ্ছিল। অনুমোদনহীনভাবে শিশুখাদ্য উৎপাদনের দায়েও জরিমানা করা হয়েছে।

এসময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোবারক হোসেন, বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার জুলকার নাঈম, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আল-আমিন সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিল সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি যদি চাঁদাবাজ ও মাদককারীরা যদি তাদের এসব অপকর্ম হতে সরে না আছে তাহলে তাকে কঠিন পরিনতি ভোগ করতে হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। সেইসাথে বন্ধ করতে হবে অবৈধভাবে মাটি ও বালিকাটা।

তিনি বলেন, আমার নিজ দল, পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের মধ্যেও অনেকের মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আমি জানি। এমনকি যারা আমাকে আজ ফুল দিতে এসেছেন তাদের মধ্যেও কেউ কেউ মাদক কারবারি রয়েছে। আমি আজকে সকলকে সতর্ক করে দিয়ে যাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ী যে হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের অপকর্মের ফল আমি কাঁধে নিয়ে ভবিষ্যতে করুন পরিনতি ভোগ করতে রাজি নই।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে উপজেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

সভায় উপজেলার সকল সরকারি দপ্তরের প্রধানগন, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সকলকে সাথে নিয়ে আমি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ,কৃষি, সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন করতে চাই। তাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ঘুষ, দূর্ণীতি সহ সকল ধরনের লোভের উর্ধে থাকে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আমি দৌলতদিয়া- পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মান, পদ্মা ব্যারেজসহ রাজবাড়ী জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে ওয়ার্কশপ, দৌলতদিয়ায় আধুনিক নৌ-বন্দর এবং অন্যান্য উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আমরা কয়েকটি সেমিনার করেছি। সেই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে অবহিত করি। সেখানে চারটি মন্ত্রণালয়ে সভা হয়। সেই সভায় প্লানিং হয়ে বিগত সরকারের সময় পদ্মা ব্যারেজের বিষয়টি প্রি-একনেক হিসেবে পাশ হয়ে আছে। আগামী ৮ তারিখ একনেকের সভা আছে। আমি আশা করছি খুব দ্রুতই এটি পাশ হবে। পাশাপাশি যদি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয় তাহলে, এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এই এলাকার প্রত্যেকটি বালিকণা সোনায় পরিণত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাহিদুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্টের রাজবাড়ী জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম দুলাল, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ নিজাম শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা প্রমুখ।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গোয়ালন্দে এসে পৌছালে জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন, দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ হতে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।


শেরপুরে অদম্য নারী নাসরিন বেগম পেলেন বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পুরুস্কার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী-শ্রীবর্দি প্রতিনিধি

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অদম্য নারী পুরস্কার কার্যক্রমের আওতায়"নির্যাতনের দঃস্বপ্ন মুহে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত অদম্য নারী (জয়িতা) পুরস্কার-২০২৫ নাসরিন বেগম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত হয়েছেন।

নাসরিন বেগম ঝিনাইগাতী উপজেলার রামেরকুড়া গ্রামের মোহসিন আলীর মেয়ে। তিনি অনেক সংগ্রাম করে সফলতা অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার ( ৩রা মার্চ ) মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মমন্ত্রনালয় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আশরাফুল আলম নাসরিন বেগমকে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী ক্যাটাগরিতে সম্মাননা স্মারক প্রদা নকরেন।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আশরাফুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন,নাসরিন বেগম মেধা,শ্রম,দিয়ে সুন্দর ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আশাকরি সামনে আরও ভালো কিছু করবেন।


পরিবেশের ছাড়পত্র পেলেই আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু: ডিএনসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারের বলিয়ারপুরে অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য থেকে খুব শীঘ্রই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া গেলেই এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে। মঙ্গলবার দুপুরে ল্যান্ডফিলটি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে সিটি প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিশাল ময়লার স্তূপ থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু আইনি ও কারিগরি জটিলতার কারণে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি ঝুলে ছিল। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার জনগণের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ায় কোনো প্রকল্পেই আর দীর্ঘসূত্রতা রাখা হবে না। তিনি বলেন, জনগণ সরকারকে ভোট দিয়েছে তাঁদের কল্যাণে কাজ করার জন্য, তাই মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায় এমন কোনো কাজ সরকার করবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পটি দৃশ্যমান করার জন্য সিটি করপোরেশন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

আমিনবাজারের এই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটি চালু হলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ ও পরিবেশগত ভোগান্তির অবসান ঘটবে। প্রশাসক আরও জানান, ঢাকার ময়লার পাশাপাশি সাভার এলাকার ময়লা-আবর্জনাও এই প্রক্রিয়ার আওতায় এনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কি না, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে পুরো এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহেও এটি ভূমিকা রাখবে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তবে তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সিটির লক্ষ্য। সব মিলিয়ে পরিবেশের ছাড়পত্র পাওয়ার মাধ্যমে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের আমূল পরিবর্তনের প্রতীক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।


সিদ্ধিরগঞ্জে ভূমি অফিসে প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা সফর: ৯টাতেও খোলেনি তালা, অনুপস্থিত সব কর্মকর্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্থানীয় ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে সরকারি নিয়মের চরম অবহেলা প্রত্যক্ষ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বুধবার সকালে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ভূমি কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। তবে নির্ধারিত সময়ে অফিস চালু না হওয়ায় এবং কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অর্থাৎ অফিস শুরুর ঠিক পাঁচ মিনিট আগে ওই কার্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু অফিস শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা পেরিয়ে গেলেও তিনি দেখেন পুরো কার্যালয়টি তখনও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি অফিসের কোনো স্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারীকেও সেই সময়ে সেখানে দেখা যায়নি।

পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীকে প্রায় ৩০ মিনিট সময় কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করতে হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক ব্যক্তি এসে অফিসের তালা খুলে দিলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে ভেতরে প্রবেশের পরও দীর্ঘক্ষণ কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী ওই ভূমি অফিসেই অবস্থান করছেন এবং কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে প্রতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


জীবননগরে ইয়াবাসহ যুবক আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

জীবননগরে দুই পিস ইয়াবাসহ মো. আশিক (২১) নামে এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম রাসেল জীবননগর মকসেদ সুপার মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। মো. আশিক জীবননগর পৌরসভার তেঁতুলিয়ার গ্রামের আরিফ উদ্দীনের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে আশিককে দুই পিস ইয়াবাসহ আটক করে জীবননগর থানা-পুলিশ। পরে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম রাসেলকে খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আশিককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, ‘মাদকসহ আটকের পর ইউএনও স্যারকে খবর দেওয়া হয়। পরে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চলবে।’


ভাঙ্গুড়ায় বিয়ের ২৯ দিন পর স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন প্রেম, গোপনে দুজনে দেখা-শোনা। দুজনের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে বিবাহ। মাত্র ২৯ দিনের মাথায় স্বামীর বাড়িতে মিলল ফাতেমা খাতুন নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ। টের পেয়ে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের উত্তর মেন্দা গ্রামে গত সোমবার (২ মার্চ) বিকালে তার শয়নকক্ষে এ ঘটনা প্রেমের পর বিয়ে হঠাৎ করেই গৃহবধূর আত্মহত্যাকে ঘিরে রয়েছে রহস্য। তিনি ওই এলাকার ইমন হোসেনের স্ত্রী। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের উত্তর কলকতি গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কন্যা ফাতেমা খাতুন ভাঙ্গুড়া একটি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সুবাদে ইমনের সাথে পরিচয় ঘটে। এর পরে পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে ইমন ও ফাতেমার মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় দুজনেই দুজনের সাথে বিবাহ না দিলে তারা আত্মহত্যা করবে বলে উভয়েরই বাড়িতে হুমকি দিতে থাকে। দুজনের পরিবার বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে সম্মতিতে এ বছরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পরিবারিকভাবে বিবাহ দেন। এরপর থেকে ফাতেমা তার স্বামী ইমনের উত্তর মেন্দার বাড়িতে অবস্থান করত। ইমন পেশায় ভ্যানযোগে দুধ পরিবহন করেন এবং তার পিতামাতার সাথে উত্তর মেন্দায় বসবাস করেন।

ঘটনার দিন ইমনের মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। ইমন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বাড়িতেই অবস্থান করছিল। বিকালের রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। এরই ফাঁকে ফাতেমা খাতুন নিজ শয়ন ঘরের আড়ার সাথে গোলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ে। ইমনের ছোট ভাই জানালা দিয়ে বিষয়টি দেখে ডাকচিৎকার শুরু করে। তার ডাকচিৎকার শুনে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢালতে থাকে। এরপরও তিনি সুস্থ না হওয়ায় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাতেমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলে-মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করার এক মাসের মাথায় এক আত্মহত্যার মতো ঘটনা এলাবাসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে কী কারণে ফাতেমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো এমন প্রশ্নের কেউ উত্তর দিতে পারেনি। ফলে নববধূর হঠাৎ করে আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে রহস্যের জট উন্মোচন হচ্ছে না।

ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া এসআই রেজাউল করিম বলেন, হাসপাতাল মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।


পাবনায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর চুরি, পটুয়াখালীতে আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় সোনালী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ৩ লাখ টাকা কৌশলে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পটুয়াখালী থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো- মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রবি হাওলাদার (৫১), মো. ঝন্টু শেখ ওরফে ঝন্টু (৪৯) এবং মো. দেলোয়ার হোসেন (৬১)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাবনা অগ্রণী ব্যাংক রোডের সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে এক ভুক্তভোগী ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকাগুলো চুরি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পাবনা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে পটুয়াখালী থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

এই বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন জানান, ‘গ্রেপ্তাররা আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য। আমরা পরবর্তীতে আদালতের অনুমতিক্রমে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও লুন্ঠিত টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পটুয়াখালী পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।


banner close