কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়
সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।
এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।
চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।
মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’
দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।
আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’
কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’
মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল
মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।
বাংলাদেশে যে কথা কেউ সাহস করে বলে না, সংসদে গিয়ে সেই সত্য কথাই বলতে চান বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
শনিবার বিকেলে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তফসিল ঘোষণার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা।
পথসভায় ফজলুর রহমান বলেন, “সংসদে যাওয়ার অর্থ হলো সত্য কথা বলার একটি বাতি সবসময় জ্বালিয়ে রাখা।” ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মানুষ তাঁকে ভোট দিলে তিনি নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করবেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, উত্তরে ধনপুর থেকে দক্ষিণে বাঙালপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত হাওরাঞ্চলকে একটি ‘সোনার সংসার’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ভৈরবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ফজলুর রহমান। সেদিন তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থতার কারণে তিনি এতদিন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। সুস্থ হয়ে শনিবার ঢাকা থেকে সরাসরি পথসভায় যোগ দেন তিনি।
সভায় বক্তব্যে ফজলুর রহমান সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, দেশের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশকে ‘চোর-বাটপারের দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা লজ্জাজনক। তিনি বলেন, “ঘরের মালিক যদি নিজের সন্তানদের চোর বলে, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াত কিন্তু দুই নম্বর দল। এই পৃথিবীতে একটি মাত্র মুনাফেকের দল আছে, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে, তাদের নাম জামায়াত।”
হেফাজতে ইসলামের আমিরের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “হেফাজত ইসলামের আমির বলেছেন, কাফের ক্ষমতায় গেলে ইসলাম আবার ফিরে আসতে পারে, কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে আর ইসলাম ফিরে আসবে না।”
নিজের বয়সের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, তাঁর বয়স এখন ৭৮ বছর। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আর কোনো মুক্তিযোদ্ধার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভোটাররা চাইলে তাঁর জীবনের শেষ সময়ে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দিয়ে সম্মানিত করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন ভূঞা, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, বিএনপি নেতা আলমগীর সিকদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল, মিঠামইন বণিক সমিতির সভাপতি শাহীরিল আলম তপন, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রাজধানী ঢাকায় বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম মো. শামসুল ইসলাম (৫৫)। তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় অভিযুক্ত আইনজীবীর নিজস্ব চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, মামলার তারিখ জানার জন্য তিনি চেম্বারে গেলে আইনজীবী প্রথমে তার শরীরে স্পর্শ করে বলেন, “তুমি কি চাও না তোমার মামলাটা দ্রুত শেষ হোক?” এরপর তিনি অফিস থেকে বের হতে চাইলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। ব্যবসা সংক্রান্ত মামলায় আগে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। পরে অভিযুক্ত আইনজীবী মো. শামসুল ইসলামের মাধ্যমে গত বছরের ২৪ জুন আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এরপর থেকে ওই আইনজীবীর মাধ্যমেই প্রতি মাসে মামলার হাজিরা দিচ্ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক রয়েল হোসেন আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য কয়েকদিন ধরে ভুক্তভোগী নারী হোয়াটসঅ্যাপে অভিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান।
গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে ভুক্তভোগী নারী আবারও মামলার তারিখ জানতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী পরে যোগাযোগ করতে বলেন। একই দিনে রাতে আবার ফোন করলে তাকে বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় চেম্বারে যেতে বলেন। রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী সেখানে গেলে দেখেন, আইনজীবী একা বসে ফোনে কথা বলছেন।
মামলার তারিখ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আইনজীবী জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মামলার হাজিরা আছে। এরপর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হতে গেলে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে অভিযুক্ত আইনজীবী ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, “উনি (শামসুল ইসলাম) ওয়ারীতে আমাদের একই এলাকায় থাকেন। সে কারণে তাকে কাকা বলে ডাকতাম। তার মাধ্যমে আমার ব্যবসা সংক্রান্ত মামলার জামিন করাই। পরে মামলার তারিখ জানাতে টালবাহানা করছিলেন। ওইদিন অফিসে গেলে তিনি জোর করে ধর্ষণ করেন। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর শুক্রবার পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবীরা ওকালতনামা দাখিল করেন। তবে আদালত জামিন শুনানি না করেই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশু জিআর শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা রয়েল হোসেন বলেন, “আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়মানুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী আলামতসহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বন্দর এলাকা। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অপারেশনাল ধর্মঘট। লিজ বাতিলের দাবিতে শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে বন্দর প্রশাসনও গ্রহণ করেছে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে এক ধরণের থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। কর্মসূচি সফল করতে ভোর থেকেই শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। এতে কনটেইনার খালাস ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরণের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে রায় দেওয়ার পর দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা এই আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, এনসিটি বন্দরের একটি অত্যন্ত লাভজনক ও কৌশলগত সম্পদ, যা বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলে জাতীয় স্বার্থ ও দেশীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এদিকে, ধর্মঘট মোকাবিলায় ও বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল বিভাগীয় প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করতে। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বা দাপ্তরিক কাজ ফেলে আন্দোলনে যোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বন্দর এলাকায় কড়া নজরদারি বজায় রাখছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, "আমরা দেশের সম্পদ রক্ষার স্বার্থেই এই কর্মসূচি পালন করছি। গত তিন মাস ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু আমাদের কথা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।" আন্দোলন আরও জোরালো করতে আগামীকাল রোববারও (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সকল অপারেশনাল ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), যারা আগামীকাল বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থান এবং প্রশাসনের মারমুখী মেজাজের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আগামীকাল দাপ্তরিক কাজও বন্ধ রাখার আহ্বানে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও শ্রমিকরা তাদের লিজ বাতিলের এক দফা দাবিতে এখনও অটল রয়েছেন।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পাটকাঠি শিবপুর এলাকায় বালুবোঝাই একটি দ্রুতগামী ড্রাম ট্রাক দুটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যানকে চাপা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই স্থানীয় এনায়েতপুর ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা পেশায় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন—নূরপুর গ্রামের সঞ্চু উরাও (৪৮), বিপুল পাহান (২২), বীরেন (৫০) এবং উজ্জ্বল পাহান (২৪)। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সামন্ত (৩০) নামে এক ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়েছেন, তাকে স্থানীয় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। একই গ্রামের এই চারজন মানুষের অকাল মৃত্যুতে নূরপুর গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে নূরপুর গ্রাম থেকে দুটি চার্জার ভ্যানে কাঁচা হলুদ ও বেগুন বোঝাই করে মহাদেবপুর হাটে যাচ্ছিলেন কয়েকজন কৃষক ও ব্যবসায়ী। ভ্যান দুটি যখন পাটকাঠি শিবপুর এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা নজিপুরগামী একটি বালুভর্তি ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যান দুটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু ঘটে।
মহাদেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘাতক ড্রাম ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মূলত ঘন কুয়াশা কিংবা বেপরোয়া গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকার উত্তেজিত জনতা ঘাতক চালকের দ্রুত বিচার ও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনায় মূল হোতা মো. চাঁন মিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান যে, অপহরণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গাইবান্ধা জেলা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে মুগদা হাসপাতালের গেটের বাইরে শিশুটির মা যখন তৃষ্ণা মেটাতে পানি কিনতে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই সুযোগে অটোরিকশাচালক চাঁন মিয়া শিশুটিকে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সন্তানের সন্ধান না পেয়ে শিশুটির মা মুগদা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সূত্র ধরে র্যাব আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে মূল হোতা ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গাইবান্ধা থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে। র্যাব জানিয়েছে যে অপহৃত শিশুটিকে ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বর্তমানে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে এক মর্মান্তিক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় নামাজরত অবস্থায় শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা পূর্বপাড়া সংলগ্ন গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ছেনুয়ারা বেগম (২১) নামের ওই পুত্রবধূকে আটক করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, দিন পাঁচেক আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় ছেনুয়ারা বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে এসে সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলেও নেপথ্যে প্রতিশোধের পরিকল্পনা আঁটছিলেন।
শুক্রবার দুপুরে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা জীবিকার তাগিদে সাগরে মাছ ধরতে গেলে বাড়ির পরিবেশ জনশূন্য হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ছেনুয়ারা বেগম তাঁর শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমকে নামাজরত অবস্থায় গলায় ধারালো দা দিয়ে আঘাত করে মরণঘাতী জখম করেন। আহত মনোয়ারা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে শামলাপুর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পুত্রবধূ রক্তমাখা অস্ত্রটি ঘরের চালে লুকিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাকে ধরে ফেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে জানান, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আটক আসামি ছেনুয়ারা বেগমকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’ বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইবাদতরত অবস্থায় এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চলা ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো’তে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য ও স্মার্টফোনের পাশাপাশি দেখা মিলছে আকারে ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির। পরিবেশবান্ধব এবং কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ‘ডুয়েন স্যাং হো’ মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়িটি এরই মধ্যে দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। গত বুধবার এই শুরু হয় এক্সপো। প্রদর্শনীর ইনোভেশন জোনে নিজেদের বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শন করছেন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ৪ দিনের এ প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। আজ শনিবার শেষ হবে এ প্রযুক্তি মেলা। এই প্রদর্শনীতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অনলাইনে অথবা প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে নিবন্ধন করতে হবে।
চীনে তৈরি গাড়িটির বাংলাদেশি পরিবেশক জ্যাজি টেক কানেক্টরের কর্মকর্তারা জানান, আকারে ছোট গাড়িটি টু-ডোর (দুই দরজার) বাহন হলেও এতে অনায়াসেই ৪ জন যাত্রী বসতে পারবেন। শহরের জ্যাম এবং সরু রাস্তায় চলাচলের জন্য গাড়িটি অত্যন্ত উপযোগী। আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ম্যাকফারসন ফ্রন্ট সাসপেনশন এবং পেছনের দিকে কম্পোজিট শক-অ্যাবজরবিং সাসপেনশন। গাড়িটির দাম ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। তবে গাড়িটি কিনতে আরও ২ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
একবার পূর্ণ চার্জে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম গাড়িটিতে ২০০০ ওয়াট থেকে ৩ হাজার ৬০০ ওয়াটের শক্তিশালী মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। ইলেকট্রিক পাওয়ার স্টিয়ারিং থাকায় জ্যামের মধ্যে গাড়িটি সহজে চালানো যায়। ১২ ইঞ্চির ভ্যাকুয়াম টায়ারযুক্ত গাড়িটির চারটি চাকাতেই ব্যবহার করা হয়েছে ডিস্ক ব্রেক এবং ব্রেক অ্যাসিস্ট সিস্টেম।
প্রদর্শনীতে আসা এক দর্শনার্থী জানান, শহরে কম দূরত্বে যাতায়াতের জন্য গাড়িটি বেশ কার্যকর। দাম কম হওয়ায় ছোট পরিবারের জন্য গাড়িটি সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। আকর্ষণীয় রং ও আকারের পাশাপাশি গাড়িটিতে বেশ কিছু আকর্ষণীয় সুবিধাও রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যস্ততম এই এলাকায় ভূঁইয়া পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে। তবে বাসটি খালি থাকায় এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় বাসটি রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ বাসটির ইঞ্জিনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তেই তা আগুনে রূপ নেয়। খবর পেয়ে উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় ৪৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম বলেন, বাসটি পার্কিং করা থাকলেও সেটির ইঞ্জিনের সুইচ চালু অবস্থায় ছিল। চালক ও তার সহকারী ইঞ্জিন চালু রেখেই পাশের একটি দোকানে চা পান করতে নেমেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু থাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিল না এবং চালক-সহকারী নিচে থাকায় তারা অক্ষত আছেন।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। বাসের ভেতরের অংশ আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আশেপাশের দোকানপাট বা অন্যান্য যানবাহনে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
দিনের ব্যস্ত সময়ে উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসে আগুনের ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনের শিখা বাসের জানালা দিয়ে বের হচ্ছিল এবং কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে লোকালয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে বনাঞ্চলের বানর। খাবারের সন্ধানে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করছে বানরগুলো। গত ৪/৫ দিন ধরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার, গাছ বয়ড়া, কোড়ানীপাড়া এলাকাগুলোতে ঘুড়তে দেখা যাচ্ছে এসব বানরদের। বনজঙ্গলে বানরের খাবার তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় আশে-পাশের লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে এ প্রাণীগুলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪/৫ দিন ধরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে দেখা মিলছে এসব বানরের। ধারণা করা হচ্ছে শীতের কারণে বনাঞ্চলে ফল ও খাদ্য সংকটের কারণে খাদ্যের সন্ধানে অথবা কলার ট্রাকে করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চল অথবা শেরপুরের বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে চলে আসে বানরগুলো। কখনো ফল গাছে, কখনো বা ঘরের চালে কিংবা বহুতল ভবনের ছাদে সকাল থেকে বিকেল এভাবেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বানরগুলো। সুযোগ পেলেই বাসা-বাড়িতে ঢুকে রান্না করা খাবার এবং কাঁচা সবজি ও ফলমূল নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় খাবার না পেয়ে বাসা-বাড়িতেও হানা দিচ্ছে তারা। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবার কেউ কেউ ডেকে খাবারও দেন। অনেকের রান্নাঘরের সামনে, ছাদে, বাউন্ডারি দেয়ালের ওপর খাদ্যের জন্য বসে থাকতে দেখা যায় বানরদের।
স্থানীয় ইকরামুল হক লালন, আঁখি বেগম বলেন, বানর সারাক্ষণ উৎপাত করে। প্রতিনিয়তই বাসার দেয়ালের ওপর ঘুরে বেড়ায়। ছাদে লাগানো ফল, সবজি খেয়ে ফেলে এবং নষ্ট করে। বাচ্চারা ভয় পেয়ে চিৎকার করে। তবে এদেরও বাঁচাতে হবে, খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের ফরেস্ট রেঞ্জার মোশারফ হোসেন বলেন, খাবারের সংকটের কারণে বানরগুলো লোকালয়ে যেতে পারে। তবে কোন বনাঞ্চল থেকে গিয়েছে সেটা বলা সম্ভব না। বিষয়টি নিয়ে সরিষাবাড়ী বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বানরগুলোকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শেরপুর বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, খাবারের সংকট হলে বানরগুলো বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে যায়। তবে কেউ খাবার না দিলে বানরগুলো আবার বনে ফিরে যাবে। আর তাছাড়া এখান থেকে গিয়ে বানরগুলোকে পাওয়া যাবে না ধরাও যাবে না। তারা এক জায়গায় থাকে না। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে ও তাদের খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের চড়ুইমারী একটি মেহগনি গাছের বাগান থেকে ইমরান হোসেন ওরফে কালু (২২) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কালু দাপুনিয়া ইউনিয়নের খোড়কা উপুরপাড়া গ্রামের ইকরাম হোসেনের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইমরান ওরফে কালুসহ কয়েকজন যুবক গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই মেহগনি বাগানের ভেতরে মাদক সেবন করছিলেন। মাদক নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে কালুকে তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে তিনি মারা যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে অন্য বন্ধুরা পালিয়ে যায় বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্বজনরা।
পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নাজমুস সাকিব (৩৯) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম ঈসা খান ঘাঁটির সৈনিক। এ সময় আহত হন ইকরাম হোসেন (২৯) নামের আরেকজন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, নিহত নাজমুস সাকিব চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকার মৃত আবু হানিফের ছেলে। নিহত সাকিব ও আহত ইকরাম মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিল। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় পটিয়া বাইপাসের শেয়ানপাড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
র্যাবের একটি টহল টিম আহত ইকরামকে উদ্ধার করে পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ওসি হারুনুর রশিদ জানান, বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। আরেকজন আহত হয়েছেন। তারা দুজনই নৌবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে কর্মরত। তারা দুজন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিল। মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাস নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে।
কুমিল্লা জেলায় সংঘটিত বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ২ কোটি টাকার চেক বিতরণ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড।
জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজা হাসান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুমিল্লা জেলার মোট ৪৬টি পরিবারকে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬টি পরিবারের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং আহত ১০টি পরিবারকে মোট ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে নিহত ও আহত পরিবারগুলোর মাঝে মোট ২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিআরটিএ’র জেলা সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আলম, মোটরযান পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম, রাজস্ব কর্মকর্তা লিটা কুমার দে, বিআরটিএ’র বিভাগীয় পরিচালক (চট্টগ্রাম) মো. মাসুদ আলম, পরিচালক (অডিট ও আইন), সদর কার্যালয় ঢাকা, কুমিল্লা হাইওয়ে রিজনের ডিআইজি মো. শাহিনুর আলম খান, মালিক সমিতির সভাপতি মো. কবির হোসেন, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এই আর্থিক সহায়তা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
শেরপুরে শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে শাহীনুল ইসলাম (৪৩) নামে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১১টায় শহরের গৃর্দানারায়ণপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহীনুল পার্শ্ববর্তী জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের টেবিরচর গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে ও এক ছেলে সন্তানের জনক। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি মানসিক সমস্যা থেকে আত্মহত্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাঢ সাত মাস আগে শেরপুর সদর থানায় যোগদান করেন এএসআই শাহীনুল ইসলাম। সদর থানার সামনেই রাস্তার অপর পাশে একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওঠেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে স্ত্রী মাকসুদা পারভীন সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। শাহীনুল দুপুর দুইটার দিকে ডিউটি শেষে থানা থেকে বাসায় ফিরলেও স্ত্রীর ফোন ধরছিলেন না। পরে তিনি স্বজনদের নিয়ে রাতে বাড়িতে ফিরে দেখেন শাহীনুলের কক্ষ ভেতর থেকে আটকানো। পরে অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় স্বজনদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শাহীনুলকে ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।
তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম জানান, শাহীনুলের কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিল। তিনি নিয়মিত মানসিক ডাক্তার দেখাতেন এবং ঔষধ খেতেন।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা বলেন, খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিবারের লোকজনের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।