শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
১৩ চৈত্র ১৪৩২

উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় হামুন

ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ২২:৩৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়

সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।

এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র‌্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।

চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।

মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’

দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।

আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’

কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’

মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল

মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।

নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।

বিষয়:

বাগেরহাটের চিতলমারীতে পুলিশ পরিচয়ে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার শিবপুর গ্রামে পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আমির হামজা মুন্সীকে (২৩) গুলি করে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র যুবক। নিহত আমির হামজা পড়াশোনার পাশাপাশি খুলনার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের মতে, বিকাল ৪টার দিকে হেলমেট পরিহিত ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা নিজেদের পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে হামজাকে ধাওয়া করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে পাশের খালের পাড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ঘাতকরা তার মাথায় গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নিহতের বাবা রুহুল আমিন মুন্সী এবং চাচা বাচ্চু মুন্সী এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা ধারণা করছেন, খুলনায় কর্মরত থাকাকালীন কোনো পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পরপরই চিতলমারী থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

উল্লেখ্য যে, বাগেরহাটের এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই প্রথম কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নয়। এর আগে গত ১৪ মার্চ মোল্লাহাটে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং তারও সাত দিন আগে অপর এক ব্যবসায়ী কর্মচারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল।

একের পর এক এমন সহিংস ঘটনায় স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ, একই পরিবারের চার জনসহ নিহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছে। চট্টগ্রামমুখী লেনে দ্রুতগামী একটি স্টারলাইন পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক জামাল হোসেন প্রাণ হারান। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ঝরনা বেগম, মেয়ে লাবিবা আক্তার এবং শিশু পুত্র সাইফের মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আব্দুল মমিনের আরেক ছেলে আবরার হোসেন বর্তমানে কুমিল্লা সেনানিবাসের ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন জানিয়েছেন, ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি থানায় আনা হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং পলাতক চালক ও সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের এই সন্ধ্যায় এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মহাসড়কে দ্রুতগতি নিয়ন্ত্রণে তদারকি আরও জোরদার করা হবে।


লঞ্চের তলা ছিদ্র, বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের জুরাছড়ি-রাঙামাটি নৌপথে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের তলা ছিদ্র হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী। সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার পাগুজ্যেছুরি এলাকায় পৌঁছালে লঞ্চটি পানির নিচে থাকা একটি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়, যার ফলে দ্রুত লঞ্চের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।

এই আকস্মিক ঘটনায় লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে চালকের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় লঞ্চটি দ্রুত তীরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় এবং সেখানে সকল যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অন্য একটি নৌযানের ব্যবস্থা করে যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চটিকেও রাঙামাটি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে নিশ্চিত করেছেন, পানির নিচে লুকিয়ে থাকা গাছের সাথে সংঘর্ষই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। সৌভাগ্যবশত, সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন।


সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেফালী সুলতানা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং সিনিয়র শিক্ষক কাজি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শিক্ষার্থী আব্দুল মহসিন আহনাফ এবং গীতা পাঠ করেন মাধব রায়। অনুষ্ঠান শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির।

সিনিয়র শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন ও ফৌজিয়া আক্তার-এর যৌথ সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক কাজল মালাকার, বিপ্লব নন্দী, মাহমুদুর রহমান, সুপ্রভা সরকার, সুলতানা রোকেয়া পারভীন, মো: আশফাকুর রহমান, মোহাম্মদ মাসুক মিয়া, মো: এমদাদুল ইসলাম, অসীম কুমার সিংহ, মহিম লাল নাথ, দিলরুবা বেগম, সহকারী শিক্ষক রফিকুন্নার, তানজিমা জামান, নুসরাত জাহান কান্তা, সৌরভ দাস, দিবা শাখার সিনিয়র শিক্ষক আবুল খায়ের, মো: শওকত হোসেন, মীর্জা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, আবু নছর মোহাম্মদ সুফিয়ান, আক্তার হোসেন, মুক্তা তালুকদার, মোছাম্মৎ হালিমা খাতুন, বাদন চন্দ্র বর্মণ, সহকারী শিক্ষক কুমারী শিল্পী রানী কর, বিভাস রঞ্জন দাস, মোহাম্মদ; সাইদুল হক, জাহিদুল হক প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই চিত্রাঙ্কন ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন সভাপতি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


যানজট নিরসনই প্রথম অগ্রাধিকার: ৬ মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশ্বাস- কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিন প্রতিনিধি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে একগুচ্ছ যুগোপযোগী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ঈদ-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রথমেই যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, কুমিল্লা নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে যানজট। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঈদের আগেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এখন থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে।

নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষে খাল খনন বিষয়ে কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল খননই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ইতোমধ্যে নগরের ছয়টি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাস্তা সংস্কার, আলোকসজ্জা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পাবলিক টয়লেট স্থাপন এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে সচেতনতা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে এবং টেন্ডার সিন্ডিকেট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরের পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ১০ জন নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে।

অতীত কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এর আগেও তিনি নগরবাসীর সেবায় কাজ করেছেন এবং চানপুর খাল খননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া এবার ঈদ উপলক্ষে ৪৪৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্থ যোগ করে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করেছেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন।

মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে মানুষ মশারি ছাড়াই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।

শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে কুমিল্লা নগরের দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাই। তবে এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”


আমার একমাত্র সোনার ছেলেকে ছেড়ে কিভাবে থাকবো, স্বজনদের আহাজারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

আমান সোনার ছেলে চলে গেলো। আমার চাঁদের মতন ছেলেকে ছেড়ে আমি কি করে থাকবো? সেই ছেলে নাই হয়ে গেছে। আমার একমাত্র ভাইটাও চলে গেলো। আমার মা টাকেও হারিয়ে ফেললাম। এভাবে কান্নাজড়িত কন্ঠে আর্তনাদ করছে দৌলতদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের স্বজন ডাঃ ইসরাত জাহান রুবা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজবাড়ী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের আহাজারি দেখা যায়।

একই পরিবারের নিহত তিনজনরা হলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর ৮ নং ওয়ার্ড লালমিয়া সড়ক এলাকার মৃত মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), রেহেনা আক্তারের ছোট ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫) ও রেহেনা আক্তারের নাতি রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কেবিএম মুসাব্বির ও ডাঃ ইশরাত জাহান রুবার ছেলে তাজবীর (৭)। নিহত আহনাফ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ শিক্ষার্থী ছিলো।

নিহত আহনাফ এর বড় বোন ও নিহত তাজবীরের মা ডাঃ ইশরাত জাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কেমনে করে বাঁচবো তোরে ছাড়া (তাজবীর), আমি কেনো আগের দিন আমার বাচ্চাটারে নিয়ে গেলাম না, তাহলে আমার বাচ্চাটা বেঁচে যেত। আমার ছোট ভাইটাও চলে গেলো।

তিনি বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। আমার বাচ্চা আসতেছে এজন্য আমি বাসায় রান্না করছিলাম।

আমি কিছুই জানতাম না।সন্ধ্যায় আমাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু আমাকে ফোন দিয়ে জানায় আমার মা আর নেই। আমার ছোট ভাই ও আমার বাচ্চার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।পরে জানতে পারলাম আমার ছোট ভাই ও আমার একমাত্র সন্তানও মারা গিয়েছে। সন্তানের লাশ রাতে শনাক্ত করেছিলাম, আর ছোট ভাইয়ের লাশ আজ সকালে পেয়েছি। আমার মা এর লাশ রাতেই গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেয়েছিলাম।

তিনি সন্তান ও ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ঈদের ছুটি শেষ করে যখন ঢাকা যায় তখন আমার ছেলে বলছিলো মা সাবধানে যেও। আমি তখন বললাম রাতে কার কাছে ঘুমাবা তুমি, সে বলল মামার কাছে ঘুমাবো। আমার ছেলের মামাও নেই....আমার ছেলেও নেই এখন। দুজন মিলে নাই হয়ে গেছে আমার জীবন থেকে। আমার এত ভালো ভাই আমার, আমাদের এত সুন্দর সংসার, আমরা দুই বোন ডাক্তার।

নিহত শিশু তাজবীরের চাচা আতাউল গণি মুক্তাদির বলেন, আমার ভাতিজারা ঢাকায় মিরপুরে থাকে। ওর বাবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে সে সুদানে রয়েছে। আমার ভাতিজার মা একজন চিকিৎসক। আনার তাজবীর ইংলিশ মিডিয়ামে প্লে শ্রেণীতে পড়ে। আমার ভাতিজা ঈদের ছুটিতে রাজবাড়ীতে এসেছিল দাদা বাড়ি ও নানা বাড়িতে ঈদ করতে। ঈদ শেষ করে গতকাল বিকেলে আমার ভাতিজা তার নানী, খালা ও মামার সাথে ঢাকায় ফিরছিলো। তাদের বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এতে তাজবীরের খালা বেঁচে ফিরে আসলেও বাকিরা মারা গেছে। আমার ভাতিজা আমাদের বংশের প্রদীপ ছিলো। আমরা তাকে হারিয়ে ফেললাম।


মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস: কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদরে সংর্বধনা ও আলোচনা সভা

আপডেটেড ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫১
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতনিধি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জরে কোটালীপাড়া উপজলো প্রশাসনরে আয়োজনে বীর মুক্তযিোদ্ধা ও শহীদ মুক্তযিোদ্ধা পরবিাররে সদস্যদরে সংর্বধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠতি হয়ছে।

বৃহস্পতবিার (২৬ র্মাচ) দুপুর ১২টায় কোটালীপাড়া শল্পিকলা একাডমেী প্রাঙ্গনে আয়োজতি এ অনুষ্ঠানে সভাপতত্বি করনে উপজলো নর্বিাহী অফসিার সাগুফতা হক।

অনুষ্ঠানরে শুরুতইে উপজলো নর্বিাহী অফসিার সাগুফতা হক প্রশাসনরে অন্যান্য র্কমর্কতাদরে নিয়ে উপস্থতি বীর মুক্তযিোদ্ধা ও শহীদ মুক্তযিোদ্ধা পরবিাররে সদস্যদরে ফুল দয়ে উষ্ণ অর্ভ্যথনা জানান।

উপজলো পল্লী উন্নয়ন অফসিার আবু তাহরে হলোলরে সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখনে কোটালীপাড়া থানার অফসিার ইনর্চাজ মো: রয়িাদ হোসনে, উপজলো বএিনপরি সভাপতি এস এম মহউিদ্দনি, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার দাড়য়িা, পৌর বএিনপরি সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়য়িা এবং বীর মুক্তযিোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জবদে আলী তালুকদার, আতয়িার রহমান মোল্লা, মোদাচ্ছরে হোসনে ঠাকুর, নরন্দ্রেনাথ বাড়ৈ আলাউদ্দনি তালুকদার ও শখে আব্দুল মান্নান।

আলোচনা সভায় মুক্তযিোদ্ধারা আবগেঘন কণ্ঠে তাদরে রণাঙ্গনরে স্মৃতচিারণ করনে। তারা বলনে, “১৯৭১ সালে জীবনরে ঝুঁকি নয়ি আমরা যে স্বাধীনতা ছনিয়ি এনছে, তা ছলি একটি র্মযাদার্পূণ, বষৈম্যহীন ও মানবকি রাষ্ট্র গঠনরে স্বপ্ন। আজ সইে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে নতুন প্রজন্ম—এটাই আমাদরে সবচয়ে বড় র্অজন।”

আলোচনা সভা শষে উপজলো প্রশাসনরে উদ্যোগে ৩’শ ৫১ জন মুক্তযোদ্ধাকে উপহার সামগ্রী তুলে দওেয়া হয়।


নির্মানাধীন পাওয়ার গ্রিডে পাহাড়ারদের বেঁধে রেখে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার খোর্দ কাচুটিয়া এলাকায় নির্মানাধীন পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নিরাপত্তা প্রহরীদের বেঁধে রেখে সেখান থেকে থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকার দল।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৭টা থেকে গভীররাত পর্যন্ত গ্রিডে কর্মরত চারজন পাহাড়ারকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে ওই মালামাল লুট করা হয় । খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেনদ পুলিশ।

পাওয়ার গ্রিডে কর্মরত প্রকৌশলী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ভাষ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মূল ফটকে শব্দ হলে পাহারাদার শফিকুল ইসলাম গেট খুলে দেন। এসময় ওত পেতে থাকা ৩৫-৪০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা সেখানে থাকা চারজন পাহারাদারকেও অস্ত্রের মুখে এক জায়গায় জড়ো করে।

ডাকাত দল পাহারাদারদের হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে রাখে। প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা পর গ্রিড থেকে গাড়ি বের হয়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ আর কোনো শব্দ না পেয়ে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পাহারাদার সোহাগ অনেক চেষ্টার পর তার বাবা শফিকুলের বাঁধন খুলে দিতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে শফিকুল বাকিদের মুক্ত করেন।

দুষ্কৃতকারীরা তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়েছিল। পাহারাদাররা ঘরের পর্দার স্ট্যান্ড ব্যবহার করে কৌশলে ছিটকিনি খুলে রাত সাড়ে ৪টার দিকে বের হতে সক্ষম হন। এরপর তারা অন্যের ফোন ব্যবহার করে ৯৯৯-এ কল করেন এবং ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের বিষয়টি অবহিত করেন।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গ্রিড থেকে ৩৬৮টি ব্যাটারি (মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা) এবং ২ হাজার মিটার তামার তার (মূল্য প্রায় ৫৩ লাখ টাকা) সহ সর্বমোট ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ৩৫ থেকে ৪০জনকে আসাসী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে পুলিশ।


বিজয় দিবসে বরিশালে উন্মুক্ত যুদ্ধজাহাজ বানৌজা অদম্য, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশালে সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধজাহাজ বানৌজা অদম্য প্রদর্শন করা হয়েছে। এ আয়োজন ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যুদ্ধজাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্ধারিত চার ঘণ্টার মধ্যে হাজারো মানুষ জাহাজে প্রবেশ করে কাছ থেকে পরিদর্শনের সুযোগ পান।

দুপুরের পর থেকেই যুদ্ধজাহাজটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। কাছ থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, যুদ্ধজাহাজ সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন আমাদের জন্য গর্বের।

হাটখোলা এলাকার অভিভাবক নিজাম উদ্দিন বলেন, শিশুদের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি। জাহাজটি ঘুরে দেখতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।

যুদ্ধজাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, বানৌজা অদম্য সমুদ্রে আন্তঃ ও বহিঃশত্রু মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই বিজয় দিবসে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনী চলাকালে জাহাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌসদস্যরা দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন অংশ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নৌবাহিনী সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

জানা গেছে, বানৌজা অদম্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ২৬ পিসিএস শ্রেণির অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এটি খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হয়ে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হয়। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫০.৪০ মিটার এবং প্রস্থ ৭.৫ মিটার। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল।

নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে জাহাজটি দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান এবং জাটকা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


মহান স্বাধীনতা দিবস: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান ধর্মমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নবনির্মিত উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.বি.এম. সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অসহায় ও নিম্নবিত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।


রাজেশ্বর গ্রামে শতবর্ষ ছুঁইছুঁই সম্প্রীতির গঙ্গাস্নান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজেশ্বর গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান উৎসব। প্রায় ৯৫ বছর ধরে কুলু বংশের নিজস্ব জমিতে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয়দের কাছে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক।

প্রতিবছরের মতো এবারও সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গঙ্গাস্নান দেখতে ও অংশ নিতে রাজেশ্বর গ্রামে ভিড় জমায়। একসময় এই উৎসবে বহু দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটলেও বর্তমানে সে তুলনায় উপস্থিতি অনেকটা কমেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

উৎসবকে ঘিরে আগে মাটির পুতুলসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সামগ্রীর দোকান বসতো, যা ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্রও অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।

পুষ্প রানী কুলু বলেন, “এই গঙ্গাস্নান আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসছে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই আয়োজন। আগে অনেক বেশি লোকসমাগম হতো, মেলা জমজমাট থাকতো। এখন সেই পরিবেশ কিছুটা কমে গেছে, তবুও আমরা ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।"

পূজারী দুলাল চক্রবর্তী বলেন, “এটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির একটি মিলনমেলা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন, একসঙ্গে প্রার্থনা করেন। এই আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"

আয়োজক ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই গঙ্গাস্নান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। তারা আশা করছেন, যথাযথ উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো উৎসবের জৌলুস ফিরে আসবে।


পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা: শোষণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে যথাযথ মর্যাদায় ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বক্তারা একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

‎​বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী,জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ শহীদুল হক।

‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ সাঈদী বলেন, "আজ আমরা যে স্বাধীন পরিচয় নিয়ে কথা বলছি, তার সবটুকুই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান। আপনারা লাল-সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছিলেন বলেই আমরা আজ আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছি"। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই একই চেতনা ধারণ করে বর্তমান প্রজন্ম জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

‎​সভায় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসন আমলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আজ যে নতুন পরিবেশ ফিরে পেয়েছে তা কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই এখনকার মূল লক্ষ্য।

‎​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত,জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোঃ জহিরুল হক,বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান মল্লিক (বীরপ্রতীক),বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মুনান,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নুরুজ্জামান বাবুল এর গর্বিত সন্তান গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও শেষে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


সাতক্ষীরার তালায় ‘সেচ পানির’ তীব্র সংকট, বিপাকে কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

তীব্র সেচ পানির সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষক। চলতি মৌসুম বৃষ্টিপাত না হওয়া হুমকির মুখে ইরি-বোরো চাষাবাদ। একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে অন্যদিকে ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক।

ইরি-বোরো চাষী ইবাদুল সরদার বলেন, ‘আমার সেচ পাম্পে পানি ওঠছে না। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাটির ১৫ হাত নিচে পাম্প বসিয়ে সেচের পানি উত্তলোন করছি।

মনজুরুল গোল্দার বলেন,"পানির স্তর কুড়ি হাত নিচে নেমে গেছে। কোন কোন বিলে ৩০ থেকে ৪০ হাত নিচে নেমেছে। ফলে অতিরিক্ত ডিজেল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পানি ওঠছে না।’

জব্বার শেখ বলেন, বৃষ্টি না হওয়া ধানের রোগ বালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ধান খাটো হওয়া,মরা শীষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিঘা প্রতি উৎপাদন কমে আসে। সেই সাথে ছত্রাক জনিত রোগ ব্লাষ্ট লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

মোসলেম খা বলেন, ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ৯ বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ করেছি। ধানের শীষ বের হচ্ছে। মৌসুম শেষ করতে আমার ২০ থেকে ৩০ কেজি ডিজেল লাগবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে তালা সদর অবস্থিত মের্সার মিলিনিয়াম উইরেকা ফিলিং ষ্টেশনের কর্মচারী বলেন,"জেলায় সীমিত পরিসরে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।"

তবে খোলা বাজারে লিটার প্রতি ২০ -৩০ টাকা বেশি দামে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। তালা উপজেলা কৃষি কর্রকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন,"চলতি মৌসুমি ২০ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকের এই সংকট নিরসনে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


banner close