কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়
সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।
এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।
চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।
মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’
দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।
আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’
কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’
মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল
মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।
তিস্তা নদী ভাঙে, আবার চর জাগায়। সেই চরই হাজারো নদীভাঙা মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়। বছরের পর বছর নদীগর্ভে ঘরবাড়ি হারিয়ে আবার নতুন জেগে ওঠা চরে ঘর তুলে, ফসল ফলিয়ে কোনোমতে জীবন চালিয়ে আসছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের হাজারো পরিবার। কিন্তু এবার সেই চর ঘিরেই দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা।
দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্যারাগন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্যারাগন অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেড দুগ্ধ খামার ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদনের জন্য গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের দুটি মৌজায় ১ হাজার ১১৮ দশমিক ৬৭ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে লিজ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছে। আবেদনটি সামনে আসতেই চরাঞ্চলে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাজারো পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রতিবেদকের হাতে আসা প্যারাগন গ্রুপের আবেদনের কপি থেকে জানা যায়, গত ৫ মে ২০২৬ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক আবেদনে গঙ্গাচড়া উপজেলার দুটি মৌজায় যথাক্রমে ৪৮২ একর ও ৬৩৬ দশমিক ৬৭ একর জমি লিজ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
আবেদনে বলা হয়, ওই জমিতে ঘাস ও ভুট্টা চাষ, আধুনিক দুগ্ধ খামার সম্প্রসারণ এবং গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন করা হবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকায় জমির প্রকৃতি ও অবস্থান যাচাই করতে গেলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।এরপর থেকেই শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।
চরবাসীর অভিযোগ, যে জমিকে খাসজমি বলা হচ্ছে, সেই জমিতেই তারা কয়েক যুগ ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। নদীভাঙনে একাধিকবার ঘরবাড়ি হারিয়েও তারা এলাকা ছাড়েননি। নদী শুকিয়ে চর জেগে উঠলেই সেখানে ধান, ভুট্টা, চিনাবাদাম, সরিষা, বিভিন্ন সবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন করে সংসার চালিয়ে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে গত ৬ জুন নদীপাড়ে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেন। পরে ৮ জুন রংপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত এলাকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। এখানে রয়েছে সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি মাদ্রাসা, ২৫টি মসজিদ, তিনটি মন্দির এবং পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার। এই জনপদের অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। জমি ইজারা দেওয়া হলে শুধু কৃষিজমিই নয়, মানুষের বসতভিটা, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং পুরো সামাজিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়বে বলে দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, উন্নয়নের নামে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চরাঞ্চলের বিশাল এলাকা ইজারা দেওয়া হলে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নদীকেন্দ্রিক জনজীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই অবিলম্বে ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ, স্থানীয় মানুষের জমির অধিকার নিশ্চিত এবং পুরো বিষয়টি তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।
মহিপুর গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহেদুজ্জামান মাবু বলেন, এখানে শুধু খাসজমি নেই, মানুষের বসতবাড়ি আছে, ফসলি জমি আছে, স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ ও হাটবাজার আছে। মানুষের মতামত ছাড়া এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা হলে চরবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবে। স্থানীয় বাসিন্দা রওশন আরা বলেন, এই চরের মাটিতেই আমাদের ঘর, এই মাটিতেই আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ। জমি হারালে শুধু ফসল নয়, আমাদের পুরো জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, চরের মানুষ নদীভাঙনের পরও এলাকা ছেড়ে যায়নি। জেগে ওঠা চরে চাষাবাদ করেই তারা বেঁচে আছে। এই জমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনো কোনো জমি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা শুধু জমির প্রকৃতি, খাসজমির পরিমাণ এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশের জমি বর্তমানে তিস্তা নদীর মধ্যে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, এটি এখনো আবেদন পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসন শুধু তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। স্থানীয় মানুষের উদ্বেগও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা সরকারের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনেই হবে।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, প্যারাগন গ্রুপের আবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে চরবাসীর মানববন্ধন ও স্মারকলিপির বিষয়টিও অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে চরাঞ্চলের মানুষের দাবি, উন্নয়নের বিরোধিতা নয়, বরং তাদের অস্তিত্ব ও জীবিকার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
চরবাসীরা বলছেন, নদী আমাদের ঘর নিয়েছে, জমি নিয়েছে কিন্তু চর জেগে উঠলে আমরা আবার দাঁড়িয়েছি। এবার যদি সেই চরও চলে যায়, তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ থাকবে না।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুঝাত তাসনীম আওনের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ.বি.এম. ফয়জুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, পরিবেশবিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন কুখ্যাত ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে ধরা দেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের কাছ থেকে ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে দস্যুদের হাত থেকে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকেও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আত্মসমর্পণকারিরা হলেন, বাগেরহাটের মোংলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি ও জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” চলমান রয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং ৪১ জন অপহৃতকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ছোট সুমন বাহিনীর ৭ সদস্য ইতিপূর্বেই আত্মসমর্পণ করেছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও আত্মসমর্পণকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত জেলেকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন।
কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্দীন (এনডি, পিএসসি, বিএন) বলেন, “সুন্দরবনের সকল সক্রিয় দস্যুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যথায়, অপরাধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকার পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
এতে মখাবিল, শ্রীপুর, ভান্ডারীগাঁও,বনগাঁও গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া কমলগঞ্জ –আদমপুর সড়কটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ পথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টায় বন্যা কবলিত এলাকা পরির্দশন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ করেই বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবল স্রোতের পানি আশপাশের গ্রামে প্রবেশ করে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। নিচু এলাকার বসতবাড়ি, আঙিনা ও গ্রামীণ সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙনের বিষয়টি অবগত হয়েছি। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের পাশে প্রশাসন সার্বক্ষণিক থাকবে বলেও তিনি জানান।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আগেই সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কাজ করার সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে নির্ধারিত পরিসরে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে যতটুকু এলাকায় কাজ করা গেছে, কেবল সেই অংশেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধিত অটোরিকশায় চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে। এসব প্লেটে অন্তত আট ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে, ফলে জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসক জানান, অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে নগরীতে যানজট ও দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী এসব অটোরিকশার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে অনেকেই আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই অটোরিকশার সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। রাজনীতি মূলত সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার অভ্যাসও গড়ে তোলা প্রয়োজন। মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধিত অটোরিকশায় চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে। এসব প্লেটে অন্তত আট ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে, ফলে জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসক জানান, অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে নগরীতে যানজট ও দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী এসব অটোরিকশার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে অনেকেই আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই অটোরিকশার সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। রাজনীতি মূলত সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার অভ্যাসও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পাহাড় ধসে আটজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পৃথক দুটি পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। এর আগে গত দুই দিনে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। মোট নিহতে সংখ্যা দাঁড়াল ২১ জনে।
উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে স্থানীয়দের দাবি, নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৩ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদ্রাসার ওপর পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মুহূর্তেই শুরু হয় আতঙ্ক।
নিহত ৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা। নিহত বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় কয়েক ডজন শিক্ষার্থী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। কারও মতে সেখানে ৩০ থেকে ৫০ জন, আবার কয়েকটি সূত্রের দাবি ৮০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত শিশু উপস্থিত ছিল। তবে ঠিক কতজন ভেতরে ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাহাড় ধসের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকেই কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ জনকে নিরাপদে বের করে আনার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে। উদ্ধারকারীদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় কয়েকজন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক আটজন শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছেন।’
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে হতাহতদের চূড়ান্ত কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পৃথক দুটি পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। আহত অন্তত দুজন। বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিকট শব্দে ধসে পড়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একাংশের মাটি। আর তাতে চাপা পড়ে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ঘরের ১০ বছর বয়সি শিশু সামিয়া। আহত হয় আরও অন্তত ২ জন। ঘটনার পরই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করা হয় নিহত ও আহতদের। এর আগে, সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ৬নং সমাজে কাঁচা ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে মৃত্যু হয় ১০ মাস বয়সি আরেক শিশুর।
এর আগে গত দুই দিনে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৮১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলায় পাহাড় ধসে মোট ১১ জনের মৃত্যু হলো। নিহতদের মধ্যে আটজনই রোহিঙ্গা।
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুনামগঞ্জের সুরমা, রক্তি, যাদুকাটা, বোলাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ ছাড়া, রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, দেশের ৪ বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বুধবার (৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলায় এসব নদীর পানি কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩ দিন এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়াও আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
পূবার্ভাসে আরও বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল ছিল। তবে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ফুঁসছে মুহুরী-কহুয়া-সিলোনীয়া নদী, ফেনীতে বন্যার শঙ্কা:
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার শঙ্কায় লাখো মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরই মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। অনেক সময় গভীর রাতে হঠাৎ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু, আমনের বীজতলা, মৎস্য ঘের ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবারও নদীর পানির তীব্রতা দেখে তীরবর্তী মানুষের রাত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অঞ্চলটিতে বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক নদীর বাঁধ ও পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদ-নদীর পানি:
ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের সুরমা, রক্তি, যাদুকাটা, বোলাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে পাওয়া তথ্যানুযায়ী সুরমা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে ৩৩ ও ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার মধ্যনগর উপজেলার মহেশখলা এলাকায় ১০২ মিলিমিটার ও দিরাই উপজেলা সদর এলাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্ট বিপৎসীমার ১.০৮ মিটার নিচ দিয়ে ৬.৭১ মিটারে প্রবাহিত হয়েছে।
ছাতক উপজেলার সদর এলাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ০.৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও তিন দিন অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় সুরমা ও অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি:
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বান্দরবানে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এই টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। নদীর তীরবর্তী বসতঘর এবং শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
অন্যদিকে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়ে লামা-আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কের রেপারপাড়া ও শীবাতলীসহ একাধিক স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়দের ভ্যানগাড়ি ও নৌকায় করে পারাপার হতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং জরুরি সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া নদীতীর, পাহাড়ের পাদদেশ ও প্লাবিত সড়কে চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি স্রোত স্বাভাবিক না হওয়ার পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।’
জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল বন্ধ:
টানা ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী চার জোড়া ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এগুলো হলো সৈকত এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, প্রবাল এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস।
টানা বর্ষণে নগরের মুরাদপুর এলাকার সুন্নিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন স্থানে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ষোলশহর-জান আলীহাট সেকশনে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রেন চলাচল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগরীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ থেকে বাস টার্মিনালটি কাঁচপুরে স্থানান্তরের একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রকল্পটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড’ বাস্তবায়ন করবে। আগামী চার মাসের মধ্যে টার্মিনালের কাজ শেষ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় প্রস্তাবটিতে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ‘কাঁচপুর বাস টার্মিনালের শেড নির্মাণ, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ’ কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাঁচপুরে প্রস্তাবিত টার্মিনালটি আগামী চার মাসের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে স্থায়ী টয়লেট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেয়।
প্রস্তাবিত কাঁচপুর বাস টার্মিনালের শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দেয়।
প্যাকেজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর আওতায় ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্ম ঢালাই ও টাইলস স্থাপন, শেডের ছাদের জন্য ১৫ হাজার ৫৭৩ কেজি প্রোফাইল শিট স্থাপন, ১২০টি টিকিট কাউন্টার নির্মাণ, ৩২টি টয়লেট নির্মাণ এবং টিকিট কাউন্টার ও চারপাশে পার্টিশনসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৯ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য রয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
বুধবার (৮ জুলাই) সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ ঘিরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আরও কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনা। এর একদিন আগে জিয়ারাত জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পৃথক এক সংঘর্ষে নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশটি বহু বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC)-এর গুরুত্বপূর্ণ রুট। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে প্রদেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই। সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সচিব বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সচিব আরো বলেন, গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালিত হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত প্রদান করেন।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর-এর অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা একটি বিশাল অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ। উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন কুরমা বন বিটের কুরমা খাসিয়া পুঞ্জিসংলগ্ন ছোট পিকল এলাকায় এ অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ৩ দশমিক ২৯ হেক্টর (প্রায় ৮ একর) বনভূমি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি আনুমানিক এক হাজার পানের চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ পান চাষের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংরক্ষিত বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভূমি গ্রাসকারীদের হাত থেকে বনভূমি ফিরিয়ে আনতে তাদের এই নিয়মিত কার্যক্রম।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩.২৯ হেক্টর বনাঞ্চল অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করেছি। বনের পরিবেশ ধ্বংস করে যারা এই বাগান গড়ে তুলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে একটি পিওআর (POR) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে কুরমা বিট কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা, বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সঙ্গীয় বনরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বনের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ চাষাবাদ ও দখলদারিত্ব উচ্ছেদে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রায় এক বছর বাংলাদেশে অবস্থানের পর কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের শিকার হওয়া এক শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিককে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তাদের বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং বিজিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত যাওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, এক যুবক, এক কিশোর ও এক শিশু। দীর্ঘদিন পর নিজ দেশে ফিরতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারই থানার ছয় বাসিন্দাকে বাংলাদেশি পরিচয়ে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন দুই নারী, দুই শিশু ও দুই পুরুষ।
পরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশ্রয় নেন। গত বছরের ২০ আগস্ট সদর থানা পুলিশ তাদের শহরের আলীনগর এলাকা থেকে আটক করে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠায়।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে গত ১২ ডিসেম্বর বিচারক স্থানীয় জিম্মাদার ফারুক হোসেনের জিম্মায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
সেদিন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন ও তার শিশু সন্তানকে সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে গ্রহণ করে বিএসএফ। তবে তার স্বামীসহ বাকি চারজনকে গ্রহণ না করায় তারা বাংলাদেশেই অবস্থান করছিলেন। অবশেষে প্রায় এক বছর পর বুধবার (৮ জুলাই) তাদেরও ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।