কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়
সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।
এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।
চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।
মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’
দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।
আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’
কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’
মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল
মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতের নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা সমাবশে করেন। সমাবেশে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্নি, ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক শিমু আক্তার, জগন্নাথ হল সংসদের ভিপি পল্লব চন্দ্র বর্মনসহ বিভিন্ন হলের ছাত্র প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন শামীম আহসান।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে- যে ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের অন্যায়, সব ধরনের চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, জামায়াত নেতার এই বক্তব্য শুধু ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করেনি, বরং দেশের নারী সমাজের মর্যাদা ও সংগ্রামকে অস্বীকার করার শামিল।
সমাবেশে ডাকসুর বর্তমান ভিপি ও জিএসের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে ডাকসু নেতৃত্ব বারবার নীরব ভূমিকা পালন করছে। জামায়াত নেতার এই মন্তব্যের পরও ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা বিবৃতি না আসায় তারা তীব্র সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা শামীম আহসানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ভবন সম্পর্কে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসানের একটি বক্তব্যের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অর্বাচীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এতে বলা হয়, তার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। এ ধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহসান। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর পক্ষে তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না জানা সত্বেও তার এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে শামীম আহসান কারণ দর্শানোর লিখিত জবাব দেন এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার মুচলেকা দেওয়ার পরপরই তিনি ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন।
বাগেরহাটের রামপালে মৈত্রী সুপার তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তারা সবাই ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) থেকে প্রেষণে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মকর্তা ছিলেন। অনুমতি ছাড়াই গত শনিবার সকালে তারা কর্মস্থল ছেড়ে দেশে ফিরে যান।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম বলেন, গত শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে তাদের পাওয়া না যাওয়ায় তারা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, অনুমতি ছাড়াই ভারতীয় ওই কর্মকর্তারা চলে গেছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানান। যদিও বিদ্যুৎকেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। এ ধরনের কোনো ঝুঁকি কখনোই ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
দেশ ত্যাগ করা কর্মকর্তারা হলেন তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার প্রতিম ভর্মন, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও এন সুরায়া প্রকাশ রায়; সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কেশবা পালাকি ও পাপ্পু লাল মিনা; ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, সুরেন্দ্র লম্বা ও অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।
তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নাশতার টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের না পেয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে জানা যায়, কাউকে না জানিয়ে তারা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। পরে প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারীকে বিষয়টি জানালে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।
তবে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু আছে। এর আগে ওই কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিয়ে কখনও কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ দেশ ত্যাগ করায় বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন সংক্রান্ত সংবাদে ভিন্নমত প্রকাশ এবং ব্যাখ্যা দিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।
রোববার জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাখা দেওয়া হয়।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তার স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দীর স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দী অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে-যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি-এ ধরনের তথ্যও অসত্য। কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারাফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জুয়েলের স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুতে তাদের লাশ দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না মেলায় লাশ কারাগারে আনা হয় দেখানোর জন্য।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে আসতে দেওয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর অবস্থায় পড়েছিল স্বর্ণালীর নয় মাসের সন্তান নাজিম।
ঝিনাইদহে আদালতে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি করেছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আলিম। আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে বাদী অভিযোগ করেছন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে বিদ্রূপমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন মুফতি আমির হামজা।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়েও মন্তব্য করেছেন আসামি আমির হামজা। তার মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আরাফাত রহমান কোকো একজন জাতীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একজন সম্মানিত নাগরিক ছিলেন। তাদের নাম, পরিচয় ও মর্যাদা বিকৃত করে জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়া স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে বাদী মামলার বিবরণে উল্লেখ করেছেন।
বিকৃত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান মামলার বাদী আব্দুল আলিম।
শুনানি শেষে আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৬ এপ্রিল।
আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নওগাঁ আগমন উপলক্ষে সমাবেশের স্থান পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রোববার (দুপুর ২টা) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত নওগাঁ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে নওগাঁ শহরের ঐতিহ্যবাহী এটিম মাঠকে সমাবেশের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে নওগাঁ শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী সফর করবেন। এরপর তিনি নওগাঁ এবং সবশেষে বগুড়া সফর করবেন। তার আগমনকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সমাবেশে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং দেশের জনগণের কাছে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আমরা আশা করছি, নওগাঁর এই সমাবেশটি জনস্রোতে সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু ও শফিউল আজম রানা, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ডা. শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলামসহ জয়পুরহাট জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও প্রকৃত গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’ তিনি আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, গণতান্ত্রিক উত্তরণে নির্বাচনের ভূমিকা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ব্যতীত তা টেকসই হবে না। ড. মজুমদারের ভাষায়, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।’
গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।’ তিনি দেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান কালো টাকা, দুর্বৃত্তায়ন এবং ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রীকরণকে গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।’
সংলাপে ড. বদিউল আলম মজুমদার রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব গণতন্ত্র চর্চা ও নির্বাচন কমিশনকে প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি নাগরিক সমাজকে তোষামোদি পরিহার করে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার সুজন নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদাকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের কাচারিঘাট আউলিয়াবাদ এলাকায় গোপনে কম্বল বিতরণকালে তাকে এই দণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হরিণ প্রতীকের এই প্রার্থী জনৈক ফারুক মোল্লার বাড়িতে লোক সমাগম ঘটিয়ে কম্বল বিতরণ করছিলেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
খবর পেয়ে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ৪ (১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে তিনি এই জরিমানা কার্যকর করেন। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘যিনি কম্বল বিতরণ করছেন তিনি এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হরিণ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি কম্বল বিতরণ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে তাকে সতর্ক করা হয়। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন সব প্রার্থীর জন্য সমান। কোনো প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা, কম্বল বিতরণ বা আর্থিক আদান প্রদানের যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বরগুনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে জহিরুল ইসলাম নামে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ধাতব যন্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে মো. ইব্রাহীম খলিল (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে তাঁর কক্ষে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার বাঁশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম খলিল প্রায় ১৪-১৫ ইঞ্চির একটি সেলাই রেঞ্জ নিয়ে জেলা প্রশাসকের ফাঁকা কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় জেলা প্রশাসকের সিএ মো. জহিরুল বিষয়টি লক্ষ করে সেখানে গেলে হামলার শিকার হন। আহত মো. জহিরুল ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, "আমি আমার কক্ষে কাজ করছিলাম। সেখান থেকে বের হয়ে দেখি কেউ একজন ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করছেন। স্যার যেহেতু অফিসে নেই, এ কারণে স্যারের রুমে গিয়ে দেখি হামলাকারী ওই ছেলে ভেতরে আছেন। পরে কী কারণে রুমে ঢুকেছে জানতে চেয়ে তাকে রুম থেকে বের হতে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সেলাই রেঞ্জটি দিয়ে আঘাত করে আমাকে আহত করে।"
হামলার শব্দ শুনে অফিসের অন্য স্টাফরা এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। ঘটনার সাক্ষী গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক মো. জুয়েল রানা জানান, "সকালে অফিসে এসে কাজ করছিলাম। পরে রুমের বাইরে আমিনুল নামে এক স্টাফের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তিকে যেতে দেখে জানতে চাই কী কারণে আসছেন। পরে সে আমাকে বলে ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এ সময় স্যার অফিসে নাই জানিয়ে তাকে আগামী কালকে আসতে বলি। এরপর সে চলে যাওয়ার কীছুক্ষণ পরেই হামলার শিকার জহিরুল স্যার আমাকে ডাকতে থাকেন। পরে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে দেখি জহিরুল স্যারের ওপর হামলা করা হচ্ছে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আমাদের রুমে নিয়ে আসি। পরে অফিসের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, "আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় একজন ব্যক্তি আনুমানিক বয়স ৩০-৩৫ হবে সে হঠাৎ ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করে। তার কাছে একটি অব্যবহৃত সেলাই রেঞ্জ পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে এবং কী উদ্দেশ্যে আসছে বিষয়টি এখন তদন্তধীন আছে। আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে।" কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিচে ছিল। পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা ছিল। অফিসে প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষ আসেন। এছাড়াও গণশুনানিতে অনেক মানুষ আসেন। এ কারণেই তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে হয়তো ওই লোক ভিতরে চলে এসেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন এবং সে ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিরাপত্তার জন্য দুই তিন স্তরের ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।" বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবককে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আজ রবিবার সকালে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটের দিকে এই কম্পন অনুভূত হয়। দিনের শুরুতে আকস্মিক এই কম্পনে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও এর মাত্রা মৃদু থাকায় বড় কোনো ভীতির সঞ্চার হয়নি।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও অগ্ন্যুৎপাত বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৪। তাদের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঠাকুরগাঁও জেলা সদর থেকে আনুমানিক ৩৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে। তবে এই ভূমিকম্পের গভীরতা বা ডেপথ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি অগভীর বা স্যালো ডেপথের ভূমিকম্প ছিল।
সকালবেলার এই মৃদু প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, ফাটল বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কম্পনটি খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হওয়ায় এবং মাত্রা কম থাকায় অনেকেই হয়তো এটি অনুভব করতে পারেননি, তবে যারা অনুভব করেছেন তারা সামান্য দুলুনি টের পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
অগ্রণী ব্যাংক ফরিদপুর অঞ্চল শাখার উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিনব্যাপী ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে এ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যেমন খুশি তেমন সাজো, ১০০ মিটার দৌড়, ৫০ মিটার দৌড়, মিউজিকের তালে তালে বালিশ ছোড়া, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, মোরগ লড়াই, লৌহ গোলক নিক্ষেপ, রশি টানাটানিসহ বিভিন্ন রকমের বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ শেষে রেফেল ড্র ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং সন্ধ্যায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ফরিদপুর অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মোহাম্মদ মহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ফরিদপুর সার্কেলের মহাব্যবস্থাপক সুপ্রভা সাঈদ। এ সময় অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ফরিদপুর সার্কেলের উপমহাব্যবস্থাপক সাবিনা সুলতানা, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি গোপালগঞ্জ অঞ্চলের উপমাব্যবস্থাপক মো. মশিউল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি মাদারীপুর অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপকসহ অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী সড়কটি অপ্রশস্ত-সরু। যানবাহনের তুলনায় এর প্রশস্ততা স্বল্প। কিছু অংশে ভাঙাচোরাও। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যানবাহনচালক ও যাত্রীদের। সড়কটি ভাঙা অংশ সংস্কার ও প্রশস্তকরণ করে রৌমারী থেকে দেওয়ানগঞ্জ জামালপুর হয়ে ঢাকা পথে সচরাচর বাস সার্ভিস চালু এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি হলেও বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেই। এতে হতাশায় ভুগছেন উত্তরাঞ্চলের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকদের দাবি, সড়কটি প্রশস্ত করা হলে দুর্ঘটনা কমবে এবং যাতায়াতে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। তারা দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করে বাস সার্ভিস চালু করে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন।
সড়কটির শোকগাঁথা : পচিশ বছর আগের কথা। দেওয়ানগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ছিলনা। পোল্যাকান্দিতে ব্রহ্মপুত্র নদদ্বারা এ উপজেলা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। তখন উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নসহ রাজিবপুর, রৌমারী উপজেলার মানুষকে দেওয়ানগঞ্জ সদর কিংবা জামালপুর হয়ে ঢাকা যেতে হলে ব্রহ্মপুত্র নদ নৌকায় পাড়ি দিতে হতো। উত্তর অংশের কয়েক লক্ষাধিক মানুষের জীবন ছিল মানবেতর। পিছিয়ে ছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ উন্নয়নের বিভিন্ন সূচক। উত্তরাঞ্চলে ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। ছিল না স্বাস্থ্যসেবার জন্য আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ছিল না কর্মসংস্থানের সুযোগ। আধুনিক ও উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে উত্তরজনপদের জীবন ছিল চরমভাবে অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ।
এদিকে, বিগত বিএনপি সরকার আমলে তৎকালীন এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সময় ব্রহ্মপুত্র নদে পোল্যাকান্দিতে দীর্ঘ সেতু নির্মিত হয়। স্থাপিত হয় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাল্টে যেতে থাকে উত্তর জনপদের জীবনমান। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নাগরিক জীবনের সকল সূচকে। আধুনিকতা ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে ওই অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায়। বাড়তে থাকে তাদের নাগরিক সুবিধা। নতুন নতুন সৃষ্টি হয় কর্মসংস্থানের। প্রসার ঘটতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যের। উন্নয়ন হয় হাট-বাজারের। উত্তরাঞ্চলবাসীদের উপজেলা সদর তথা জেলা ও রাজধানীতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পোহাতে হয় না নদীপারাপারের দুর্ভোগ। লাঘব হতে থাকে দুর্দশা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রৌমারী থেকে রাজিবপুর হয়ে দেওয়ানগঞ্জের পাথরেরচরের উপর দিয়ে একটি হাইওয়ে সড়ক নির্মিত হয়েছে। সড়কটি বকশীগঞ্জ হয়ে ঢাকার দিকে চলে গেছে। সড়কটি উত্তরাঞ্চলবাসীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উপযোগীতা বয়ে আনলেও এ ক্ষেত্রে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জনপদ দেওয়ানগঞ্জ রয়েছে যাতায়াতে সহজলভ্যতা ও উন্নয়নের আড়ালে। দেওয়ানগঞ্জ হয়ে জামালপুর ঢাকাগামী উপযোগী সড়ক নির্মিত হয়নি। পাথরেরচর থেকে তারাটিয়া বা কাউনিয়ারচর থেকে সানন্দবাড়ী হয়ে তারাটিয়া অপ্রশস্ত ভাঙাচোরা সড়ক রয়েছে। তাতে ছোটখাটো যানবাহন চলাচল করলেও ভারী যানবাহনের চলাচলের ক্ষেত্রে সড়কটি উপযোগী নয়। বিগত সরকার আমলে সড়কটির দেওয়ানগঞ্জ জিরো পয়েন্ট থেকে ঝালরচর এবং ঝালরচর থেকে তারটিয়া পর্যন্ত কিছুটা প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ হয়েছে। তাতেও কিছু অংশের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। নতুন প্রশস্তকৃত সড়কটিও যানবাহনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ সড়কে প্রতিনিয়ত ইজিবাইকসহ ভারী যানবাহন চলাচল করে। যানবাহনের তুলনায় সড়কটি যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী পথচারী ও যানবাহন চালক।
ওই সড়কে তারাটিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি, ঝালরচর বাজারের উত্তর পাশে একটি ও সানন্দবাড়ী চরমাদারের পাশে একটি মোট তিনটি ব্রিজ অত্যন্ত অপ্রশস্ত। ব্রিজ তিনটিতে দুটি ভারী যানবাহন ক্রসিং করতে পারে না। ক্রসিংয়ের ক্ষেতে একটি যানবাহনকে ব্রিজের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচলে দুর্ঘটনার শঙ্কায় ভুগেন যাত্রী ও যানবাহনের চালক। প্রতিদিন এ ঝুঁকি বাড়ছেই। ওই স্থানে প্রশস্ত ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসী পথচারী ও যানবাহনচালকদের থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। দাবি ওঠলে বারংবার ‘করা হবে’ বলে সাফাই গেয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। পরে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীদের। ব্রিজ তিনটি প্রশস্ত করে নির্মাণ করা না হলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঝালরচরের ইজিবাইক চালক আবু হানিফের ভাষ্য, রাস্তা অপ্রশস্ত ও ভাঙাচোরার কারণে সদরের অটোচালকগণ সরাসরি সানন্দবাড়ী যেতে চান না। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাত হয়। ভেঙে ভেঙে যেতে হয়। সড়কটি প্রশস্তকরণসহ ভাঙা অংশ সংস্কার করা হলে সরাসরি সানন্দবাড়ী, কাউনিয়ারচর, বাঘারচর, রাজিবপুর ও রৌমারীতে যানবাহন চলাচল করতো। তাতে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ লাঘব হতো।
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজজিদ আহম্মেদ বলেন, ওই সড়কের দেওয়ানগঞ্জ থেকে তারাটিয়া পর্যন্ত সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। সড়কটি দেওয়ানগঞ্জ থেকে রৌমারী পর্যন্ত আরো প্রশস্তকরণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে রোডস এন্ড হাইওয়েতেও চাহিদা পাঠানো হবে।
কাঠের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী ব্রিজ দিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী ব্রিজ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ ব্যবহার করছে এলাকাবাসী। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কাঠের তৈরি এই ব্রিজটি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজ গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের হাবিবউল্লা মাঝি বাড়ি জামে মসজিদসংলগ্ন বাসিরদোন খালের উপর নির্মিত।
জানা যায়, খালটির দুই পাড়ে প্রায় ১৫০ পরিবার বসবাস করে। গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই খাল পারাপারের জন্য ৫ বছর আগে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করে এই খালের ওপর একটি অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করে। শুরুতে এটি তুলনামূলকভাবে চলাচলের উপযোগী থাকলেও সময়ের ব্যবধানে কাঠের ব্রিজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিজের মাঝখানে কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে, অনেক জায়গায় কাঠ ও বাঁশ ভেঙে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এই ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, নারী ও বৃদ্ধরা পারাপার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এলাকাবাসীর দাবি, এই ব্রিজটি না থাকলে কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, রোগী পরিবহন এবং দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। জরুরি সময়ে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান অনেকেই।
স্থানীয় ফয়জুল্লাহ মাঝি বলেন, ‘এই খালটির ওপর প্রথমে একটি সাঁকো ছিল এবং যাতায়াত করতে কষ্ট হতো। পরবর্তীতে আমরা স্থানীয়রা মিলে ৫ বছর আগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করি। কোন অসুস্থ রোগীকে তাৎক্ষণিক আনা নেয়া করা যায় না। এমনকি কোন ধরনের যানবাহন চলতে পারে না। সরকারের কাছে একটি ব্রিজের দাবি করছি।’
ব্যাবসায়ী শাহিন বলেন, ‘আমি বাসিরদোন বাজারের একজন ব্যবসায়ী। প্রতিদিনই সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কাঠের ব্রিজের ওপর দিয়ে সাইকেল চালাতে পারি না। এই খালটির ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজনির্মাণ করা এটা আমাদের এখন প্রাণের দাবি। দীর্ঘদিন এই ব্রিজটি না হওয়াতে আমাদের যাতায়াতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’
মসজিদের ইমাম মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি হাবিবউল্লা মাঝি বাড়ীর জামে মসজিদের একজন ইমাম। বাসিরদোন খালটির ওপর একটি সাঁকো ছিল। পরবর্তীতে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে স্থানীয়রা একটি ব্রিজনির্মাণ করে। এমনকি এই এলাকার অসুস্থ রোগীদের কাঁধে নিয়ে ব্রিজটি পার হয়ে তারপর গাড়িতে উঠাতে হয়। তবে এলাকা বাসির দাবি যাতে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ হয়।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি.এম ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধিনে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যর গ্রামিণ সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এরই ধরাবাহিকতায় চরফ্যাশন উপজেলায় পূর্বে কার্যক্রম চলমান ছিল, তবে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে চালু হলে এখানে ব্রিজ নির্মাণ করার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
দস্যু আতঙ্ক, প্রাণহানির ভয় ও অনিশ্চিত জীবনের কারণে সুন্দরবনের হাজারো বনজীবি পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন। এক সময় এই বনজীবিরাই বনের গভীরে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা, কাঁকড়া ও গোলপাতা আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দস্যুদের উৎপাত, মুক্তিপণ আদায়, অপহরণের ঘটনায় বনের জীবিকা এখন হয়ে উঠেছে মৃত্যু ঝুঁকি। ফলে জীবনের নিরাপত্তা খুঁজে তারা ঝুঁকছে বিকল্প জীবিকার দিকে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা পদ্মপুকুর আটুলিয়া কাশিমাড়ী বুড়ি গোয়ালিনী মুন্সিগঞ্জ ঈশ্বরীপুর রমজান নগর ও কৈখালী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ টি গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল কিন্তু বর্তমানে বনদস্যু আতঙ্কে সুন্দরবনের যেতে অপারকতা প্রকাশ করছে। কারণ বনদর্শদের দাবি কৃত অপহরণের টাকা পরিশোধ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় সে কারণে তারা খুঁজছে বিকল্প পেশা।
ছোট কাল থেকে সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন জেলে নুরুজ্জামান গাজী কিন্তু বনদস্যু আতস্কে এখন আর বনে যায়না তিনি, এলাকায় তেমন কর্মসংস্থান ও না থাকায় পরিবার নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা শহরে। মোবাইলে কথা হয় নুরুজ্জামান সাথে এসময় তিনি বলেন, জীবনের অর্ধেক সময় পার করেছে বনে মাছ ধরে। কিন্তু বনদস্যুর ভয়ে পেশা ছেড়ে ঢাকা শহরে একটি ফ্যাক্টারিতে শ্রমিকের কাজ করে কোন মতে দিন পার করছি।
গতকাল সকালে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ডে ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জম নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় বনজীবি সাফিকুল ইসলামের, তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে এখন আর সুন্দরবনে মাছ- কাঁকড়া ধরতে যেতে পারিনা। তাদের মুক্তিপন দিয়ে যে টাকা ইনকাম হয় তাতে সংসার চালানো খুব কষ্ট সার্ধ হয়ে পড়ছে। এলাকায় তেমন কোন কাজ কর্ম না থাকায় বাধ্য হয়ে বরিশালে দিন মুজুরী হিসাবে ধান কাটার কাজে যাচ্ছি।
আরেক বনজীবি বনজীবি আব্দুল করিম (রবি)বলেন, বনে গেলে জানি না বেঁচে ফিরবো কি না। দস্যুরা বন্দুক ঠেকিয়ে টাকা চায়, না দিলে বেদম মারে, অপহরণ করে। একবার কাঁমুক্তিপণ দিতে হয়েছে, এরপর আর বনে যাই না এখন ইট ভাটায় কাজ করি।
সাম্প্রতিক সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া আহরণ করতে যাওয়া ২ বনজীবি আঃ সাত্তার ও রমজান আলী বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহীনির হাতে আটক হন। শুধু আটক হয়ে শেষ হয়নি তাদের উপর চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন।তারা দুজনই চিকিৎসাধীন আছে।
তার উপর করা নির্যাতনের বর্ননা দিয়ে রমজান বলেন, আমি আগে থেকে তাদের(বনদস্যুদের) চাওয়া অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করে বনে গিয়েছি কিন্তু তারা আমাকে খুব মারধর করেছে, আমার মাজা (কোমরে) সহ সারা শরীরে লাঠি দিয়ে প্রচুর মারে,এক পর্যায়ে আমি হুস হারাই। পরে আর কিছু বলতে পারিনা পরবর্তীতে আমি একদিন পরে আমার সহকর্মীরা আরো মুক্তিপন দিয়ে আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। একই বর্ননা আঃ সাত্তারের ও তিনি বলেন, আমাকেও তাদের নৌকায় তুলে নিয়ে প্রচুর মারে, একপর্যায়ে রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে তখন রাত ১ টার দিকে তাদের (বনদস্যুদের) নৌকা থেকে পালিয়ে বনের গহীনে চলে আসি। শরীরে প্রচুর ব্যাথার যন্ত্রনা আর পেটে ক্ষুধা নিয়ে
রাতভর হেটে পরেরদিন সন্ধার একটু আগে একটি ফরেষ্ট ক্যাম্পে এসে উঠি। কিন্তু তারা বনদস্যু ভেবে আমাকে আশ্রয় দিতে চায়নি, কিন্তু যখন তাদের ফোন দিয়ে বাড়িতে কথা বলিয়ে দিয়েছি তখন তারা আমাকে আশ্রয় দেয়। পরে তাদের সহযোগীতায় আমার বাড়ির লোকজন গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
জেলেরা জানান, আত্মসমর্পণকারী অনেক বাহিনী আবার দস্যুতায় ফিরেছে। বিশেষ করে পশ্চিম সুন্দরবনে মজনু বাহিনী, শরীফ বাহিনী, দয়াল বাহিনী, রবিউল বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী, আবদুল্লাহ বাহিনী, মঞ্জুর বাহিনী, মাসুম বিল্লাহ ভাগনে বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে
বন বিভাগ জানায়, ২০১৬ থেকে কয়েক ধাপে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন দস্যু ৪৬২টি অস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪ গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়।
আরও জানা যায় বনদস্যুতার উৎপাতে জেলেরা আগের মতো বনে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যাচ্ছেনা।বদলাচ্ছে পেশা যে কারণে বন থেকে সরকারের যে রাজস্ব আদায় হতো তা অর্ধেকের ও কমে নেমে এসেছে। গত ১ মাসে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ স্টেশন থেকে ৩৬০ টি নলীয়ান থেকে৩১০ টি বানিয়াখালী থেকে২৫০টি কোবাদক থেকে ৩৫০টি (পাশ) নিয়ে জেলেরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে। যেটা অন্য সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেন বনদস্যু নির্মূলে উদ্যোগ গ্রহণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা অত্যান্ত জরুরী।