কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়
সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।
এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।
চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।
মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’
দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।
আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’
কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’
মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল
মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর কলেজ এলাকার একটি ইটভাটার পুকুর থেকে নাসিমা খাতুন (১৪) নামের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই এলাকার ইকো ব্রিকসের পুকুর থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। কিশোরী নাসিমা খাতুন উপজেলার সলেমানপুর গ্রামের মৃত নাজমুল মীরের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, কোটচাঁদপুর-কালীগঞ্জ সড়কের ইকো ব্রিকস’র পুকুরে এক কিশোরীর লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে পরিচয় শনাক্ত করলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্বজনরা জানায়, গত বুধবার সকালে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।
কোটচাঁদপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পিরোজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নতুন এই ভবনের পাইলিং স্থাপন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু সাঈদ।
দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি সংকটে থাকা এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ৬ তলা বিশিষ্ট এই মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বর্তমানে বিশালাকার হাইড্রোলিক মেশিনের সাহায্যে ভবনের ‘পাইল ফাউন্ডেশন’ স্থাপনের কাজ চলছে।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান ও উপর্যুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা এই আধুনিক ভবনটি নির্মাণ করছি। এটি জেলার শিক্ষা প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে আমরা কাজের সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করছি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় একটি আধুনিক রূপ পেতে যাচ্ছে। এই ভবনটি হবে জেলার অন্যতম নান্দনিক শিক্ষা কাঠামো।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত ড্রয়িং ও ডিজাইন অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পাইলিং কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভবনের মূল কাঠামো দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবর তালুকদার বলেন, ‘৬ তলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাব ও লাইব্রেরি সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
রাতের আঁধারে রূপগঞ্জের কৃষি জমিতে চলে ভেকুর তান্ডব। দেড় বছর ধরে এই জনপদে উন্নয়নের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে একদল বালু ও মাটিখেকো চক্র। করটিয়া, আঙ্গারজোড়া, ইসলামপুর, রানীপুরা, বিরাব ও আতলাপুরে এই চক্র তৎপরতা চালিয়ে জিম্মি করে ফেলেছে কৃষকদের।
রূপগঞ্জের বাতাসে ভেসে বেড়ায় ভেকুর কর্কশ শব্দ আর অবৈধ ড্রাম ট্রাকের ধুলা। তিল তিল করে গড়ে ওঠা কৃষকের স্বপ্ন আর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসন প্রকল্পের ভরাট করা বালু-সবই এখন প্রভাবশালী রাক্ষুসে চক্রের দখলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোলাবর দুটি আবাসন প্রকল্পের জন্য ফেলা কোটি কোটি টাকার বালু রাতারাতি গায়েব হয়েছে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে| পাশাপাশি কৃষকের জমির মাটিও লুটে নেয়া হচ্ছে| সূত্র বলছে, সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১০টি ভেকুতে কেটে প্রায় ৬০০ ড্রাম ট্রাক মাটি বালু লুট করা হচ্ছে। লুষ্ঠিত এসব মাটির মূল্য পাঁচ কোটি টাকার বেশি। স্থানীয় প্রশাসন মাঝমধ্যে লোক-দেখানো অভিযান চালালেও এই অপরাধকান্ডের মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভরাট করা বালু ভেকু দিয়ে তুলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বাইরের ইটভাটায় ও স্থানীয় বালুর গদিগুলোতে। করটিয়া এলাকার চা-বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যা অওনের পরে পরেই টেরাক (ট্রাক) টেরাক বালু নেয়। দিনো কম। রাইতো বেশি।’ স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিজমিও রেহাই পাচ্ছে না লুটেরাদের হাত থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক জানান, বর্তমানে প্রতি রাতে ৪৫০ থেকে ৬০০ ড্রাম ট্রাক বালু পাচার হয়। প্রতি ট্রাক বালুর দাম দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। সে হিসাবে মাসে পাচার করা হচ্ছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু। এক ভেকুচালক বলেন, ‘আমরা নির্দেশ মাইনাই চলি।
রিকশাচালক আতাউর বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষগো ভাই। তয় ধুলার লেইগ্যা গাড়ি চালান যায় না। সন্ধ্যা তাইলে বালু চুরির গাড়ির লাইন নামে।’ রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা করে ফেলে।
জমির হোসেন নামে এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের জমি থেকে মাটি নিয়া জমিই শেষ কইরা দিছে। এখন আমরা কই যামু? আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিচার দিয়াও প্রতিকার পাচ্ছি না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় তিন প্রভাবশালী ‘মাটিখেকো’। তাদের অধীনে রয়েছে শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী। তারা রাতে পাহারা দিয়ে পুরো অপারেশন নির্বিঘ্ন রাখে| কটিয়াদি এলাকায় বসে এই চক্রের মূল হোতারা পুরো কাণ্ড পরিচালনা করে।
গত বছরের ২২ মে ভুক্তভোগী মোজাফফর হোসেন ভূইয়া রূপগঞ্জ থানায় মাটি চুরির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। সেখানে আসামি করা হয় করটিয়ার বাসিন্দা কবির মিয়া (৫৫), তারেক (২২), শামীম (৩৫) ও আরিফ (২৬): রানীপুরার বাচ্চু ওরফে চাল বাচ্চু (৫২), ইমন (২৮); কুরাইল আতলাপুরের সুমন (৩২), গুতুলিয়ার হুমায়ূন কবীর জুয়েল (৪৪), পূর্বের গাাঁওয়ের মুহিত মোয়া (৪২), সেলিম মোল্লা (৫২), কেরাব চৌধুরীপাড়ার আশ্রাফুল, ইসমাইল (৪০)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু ও মাটি উত্তোলন চলতে থাকনে রূপগঞ্জের ভৌগোলিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে| সৃষ্টি হতে পারে বড় ধরনের ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়| সব মিলিয়ে ‘উন্নয়নের’ নামে চলা এই লুটপাট রূপগঞ্জকে ঠেলে দিচ্ছে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, আমি নতুন এসেছি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
পটুয়াখালীর বাউফলের ধুলিয়া লঞ্চঘাটে একটি শিশুকে লঞ্চে রেখে চলে গেছেন এক ব্যক্তি। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বন্ধন-৫ লঞ্চে ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক ব্যক্তি তার সন্তান পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে লঞ্চে রেখে বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট ধরে লঞ্চটি ধুলিয়াঘাটে অবস্থান করলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। বর্তমানে শিশুটি ‘বন্ধন-৫’ লঞ্চে নিরাপদে রয়েছে বলে জানা গেছে।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিশুটিকে কেউ চিনে থাকলে দ্রুত ‘বন্ধন-৫’ লঞ্চে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যোগাযোগ: ০১৬৮৫৪৩৬১৫৪।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা বাজারে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অবৈধ মজুদ রাখার দায়ে মেসার্স সংকর সাহা এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স রাজিব ট্রেডার্স নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, এদিন সকালের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামছুজ্জামান আসিফের নেতৃত্বে ঠাকুরাকোণা বাজারে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে মেসার্স সংকর সাহা এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স রাজিব ট্রেডার্সে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা বিপুল পরিমাণ ডিজেলের সন্ধান পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ করার অপরাধে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয় এবং ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া, অভিযানে আনুমানিক ৩১ হাজার লিটার ডিজেল সরকারের অনুকূলে জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত ডিজেলের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা।
নেত্রকোনা জেলায় নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বা অন্য কোনো পণ্য মজুদ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং মজুদকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মোবাইল কোর্টের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বগুড়াবাসীর। আগামী ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। ওই দিন অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করার কথা আছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর বগুড়ায় এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর। এই সফরে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
এ নিয়ে বুধবার বগুড়া সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ২০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়া সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন। তার সফর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কর্মকর্তারা সার্কিট হাউজে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও ছিলেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বগুড়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জজ কোর্টে গিয়ে অনলাইনে বেলবন্ড প্রদান কার্যক্রম এবং বার সমিতির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করবেন। পরে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া গাবতলীর বাগবাড়িতে পৈতৃক ভিটায় গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন এবং খাল কাটা কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে বিকাল সাড়ে ৩টায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেধে বগুড়া ত্যাগ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে বগুড়া সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করেন। এ সময় বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জনসভা ও যেখানে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন সেগুলো সাজানো হচ্ছে।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ আমরা কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ২০ এপ্রিল বগুড়া সফরের বিষয়টি জানান। সফরকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়নের বাগবার জিয়াবাড়ি পরিদর্শন করবেন।’
বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আরও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে তিনি বগুড়ায় আসছেন। তার আগমন ঘিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।’
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভা ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা এবং ২১টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। ১৮৭৬ সালে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নগরী ও বাণিজ্যকেন্দ্র বগুড়া শহর পরিচালনার জন্য পৌরসভা গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর আয়তন ১.২৫ বর্গ মাইল এবং মাত্র ৭ হাজার জনসংখ্যা ছিল। ১৯৮১ সালের ১ আগস্ট এটি ক শ্রেণিতে উন্নীত হয় এবং এর আয়তন ১৪.৭৬ বর্গ কিমি করা হয়। ২০০৬ সালে আয়তন বেড়ে ৬৯.৫৬ বর্গ কিমি হয়। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বগুড়া পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ৪, ০০, ৯৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১০,০৯৩ জন এবং নারী ১৯০,৮৯০ জন। পৌর এলাকায় মোট হোল্ডিং রয়েছে ৯৩ হাজার ৩৫১টি।
সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করল জাতি। চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ছিল নানা অনুষ্ঠান। এসবের মধ্যে ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, হালখাতা, পুতুল নাচ, ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানো ও লোকজ মেলা। দৈনিক বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
ঢাকা: সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে ধারণ করে রাজধানীর রমনা বটমূলের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয় ছায়ানট। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ভীক সমাজের দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। গানটি পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, ঐশ্বর্য সমাদ্দার, প্রিয়ন্তু দেব ও সমুদ্র শুভম।
অনুষ্ঠানে মোট ২৪টি পরিবেশনা ছিল, যার মধ্যে আটটি ছিল সম্মেলক সংগীত এবং ১৪টি একক গান ও আবৃত্তি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে সকাল নটায় বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার শুরুর দিকে ছিল অশ্বারোহী। তারপর পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, প্রক্টরিয়াল টিম, সবশেষে শোভাযাত্রার প্রধান ব্যানার। শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় উপস্থিত হন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য, প্রক্টর ও শিক্ষকরা। এছাড়া ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে সকাল থেকেই পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’ প্রতিপাদ্যে বর্ষবরণ পর্ষদের আয়োজনে দিনব্যাপী উৎসব ও মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল ৯টায় দেশাত্মবোধক ও বৈশাখী গানের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে একসঙ্গে কণ্ঠ মেলান শিল্পীরা, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে দেয় নববর্ষের আমেজ। রাজধানী ছাড়াও বর্ণিল আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষকে বরণ করা হয়। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা রকমের আয়োজন করা হয়।
বরগুনা: বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরগুনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন আয়োজনে মেতে ওঠেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
সকালে বরগুনা শহরের শিমুলতলায় সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ’ শিরোনামে গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া একইভাবে জেলার পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হয়।
রাজশাহী : ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’-সময়োপযোগী এ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রঙিন পোশাক ও বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে জড়ো হন। ব্যানার-ফেস্টুন ও বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যের নানা উপকরণে সাজানো শোভাযাত্রাটি নগরজুড়ে সৃষ্টি করে এক উৎসবমুখর আবহ।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
পরে সেখানে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বর্ষবরণের গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
বান্দরবান : বান্দরবানে নববর্ষ উৎসব ঘিরে ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজন। এসময় বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বান্দরবান ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু।
এসময় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় বাঙালি সম্প্রদায় ছাড়াও পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী- পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশগ্রহণ করে।
লক্ষ্মীপুর: আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্মীপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে বেলুন উড়িয়ে বাংলা নববর্ষ এবং তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন।
নেত্রকোনা: ঐতিহাসিক মোক্তার পাড়া মাঠের মুক্ত মঞ্চে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ এসো এসো সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনায় পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র শিক্ষক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সমাজের নানা শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করে।
সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী বর্ষবরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে।
এছাড়াও জেলা শহরে মিতালী সংঘ, প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী, মধুমাছি কচি-কাঁচার মেলা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল, নেত্রকোনা জেলা শাখা সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক পৃথক স্থানে র্যালি, গ্রামীন খেলাধুলা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করে।
ময়মনসিংহ: আনন্দ শোভাযাত্রা ও দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে উদযাপন করেছে ময়মনসিংহের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। মোরগ, ঘোড়া, পায়রা, টেপা পুতুল, ইলিশ পালকি, জেলে, কামার-কুমার কিংবা কৃষক সাজে এতে অংশ নেয় অনেকেই। প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশনে উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং সিটি প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকানসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ যোগ দেন। এরপর নগরীর ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় থেকে আলাদা আরেকটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। শোভাযাত্রাটি জয়নুল আবেদিন উদ্যানে গিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ থেকে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়।
এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ বর্ণিল সাজে অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় ফারুকী পার্ক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাঠিখেলা, মোরগ লড়াইসহ নানা অনুষ্ঠান হয়।
এতে অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফসহ আরও অনেকে। এদিকে ফারুকী পার্ক চত্বরে বসে দিনব্যাপী লোকজ মেলা। এছাড়া শহরের শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্বরে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ: নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টায় গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে সেখানে এসো হে বৈশাখ গান গেয়ে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া শিশু একাডেমির আয়োজনে চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের নেতৃত্বে বের করা হয় বৈশাখীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত কুমার দেবনাথ।
নওগাঁ: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে নওগাঁয় নতুন বছরকে বরণ করা হয়েছে। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের এটিম মাঠ থেকে বের করা হয় একটি আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন শোভাযাত্রায়।
শেরপুর: অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় শেরপুরে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয় বাঙালির জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ। বৈশাখী শোভাযাত্রা পুলিশ বাদকদলের ব্যান্ডের তালে তালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, পালকি, হাতপাখা, একতারা, নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুনসহ গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। পরে ডিসি উদ্যানে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
এসময় জেলা পরিষদ প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাঁকন রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা, পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
গত বছরে প্রবল বৃষ্টিপাতে ভেঙে পড়া জীবননগরের ৪টি ব্রিজ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মেরামত করা হয়নি। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কোনোরকম সংস্কার করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন পথচারীরা। সাইকেল, মোটরসাইকেল ও পাখিভ্যান পার হলেও ভারি যানবাহনগুলো ব্রিজের উপর দিয়ে পারাপার করতে পারছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে ওই এলাকার ২৫-৩০টি গ্রামের মানুষ।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ভারি বৃষ্টিপাতে জীবননগর উপজেলার সিংনগর বাওড়ের বাঁধ ভেঙে পানির প্রবল স্রোতে ভৈরব নদীতে থাকা ৪টি ব্রিজ ভেঙে পড়ে। সিংনগর, উথলী গ্রামের আচামিতে ব্রিজ, সন্তোষপুর ব্রিজ ও মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ে। এর মধ্যে মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজটি ভেঙে পড়ে চলাচল বন্ধ আছে। বাকি তিনটি ব্রিজ স্থানীয়দের সহযোগীয় কিছুটা মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারীভাবে ব্রিজ সংস্কারের জন্য এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সিংনগর গ্রামের আহাদ আলী বলেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে আছে।
সাধারণ পথচারীদের যাতায়াত ও মালামাল আনা নেওয়া করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য ঘরে তুলতে ও বাজারজাত করতে কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ব্রিজটি সংস্কার করার জন্য মানববন্ধনসহ অনেকের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
সন্তোষপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বলেন, ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পরে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু নিজ উদ্যোগে কিছু ইট ও খোয়া দিয়ে সংস্কার করে দিয়েছিল। তারপর থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই ব্রিজের উপর দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে।
মনোহরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই গ্রামের মানুষ ব্রিজটি ব্যবহার করে মাঠের ফসল ঘরে আনে ও বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করে। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে পড়ে যাওয়ার কারণে আর চলাচল করা যায় না। সাধারণ মানুষ পানির মধ্যে দিয়ে হেটে ব্রিজের ওপারে তাদের কৃষিজমিতে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, ব্রিজগুলো ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেকের ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হয়। এ বছরে বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে ব্রিজের বাকি অংশগুলো ভেঙে গেলে গৃহবন্দি হয়ে পড়বে ২৫-৩০ টি গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুমের আগে ব্রিজগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
যেন প্রাণের উৎসব, উৎসবে আনন্দে মাতোয়ারা হাজারো দর্শক। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায় পালন করছেন মাহা সাংগ্রাই রি লং পোয়ে বা সাংগ্রাই জল উৎসব। তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটানোর মাধ্যমে সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়েমুছে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিংম্রং বৌদ্ধবিহার মাঠে সাংগ্রাই জল উৎসব উদ্যাপন কমিটির আয়োজনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রাই জল উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটি মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে এখানে সকল ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠীর মিলন ঘটেছে। এ দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।’
সাংগ্রাই জল উৎসব উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমা সভাপতিত্ব করেন। পরে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশনার পাশাপাশি মাঠের একপাশে মারমা তরুণ-তরুণীরা জল খেলায় মেতে ওঠেন। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংগ্রাই মহা শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সাংগ্রাই জল উৎসবে অংশ নিতে আসা মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা বলেন, ‘আজ আমরা সাংগ্রাই উৎসবে এসেছি জল ছিটাতে। পুরাতন বর্ষকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে। এটা আমাদের প্রাণের উৎসব।’
ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি খাতে নেমে এসেছে গভীর সংকট। এক সময় জেলার মাংসের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা শত শত খামার এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারি ও শ্রমিকরা।
জেলার পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দদের দাবি এ খাতে সম্ভাবনার আলো দেখেছিলেন প্রায় ৯০০ প্রান্তিক খামারি। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে, কেউ জমি বিক্রি করে, আবার কেউ ধার-দেনা করে গড়ে তুলেছিলেন মুরগির খামার। প্রান্তিক এসব খামারির দাবি—জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মাংসের চাহিদা তারা পূরণ করতেন। কিন্তু এখন সেই খাতেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।
জেলার অর্ধেকের বেশি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেড পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।
লোকসানে ক্ষতিগ্রস্থ খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক ঋণ পেতে নানা জটিলতা, বাজার নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা এবং বড় বড় কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে মুরগির বাচ্চা ও ফিডের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
বর্তমানে যেসব খামার এখনও চালু আছে, সেগুলোও টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে। খামারি ও কর্মচারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও শঙ্কা।
খামারি সুজন ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামে মোট ২৫ জন খামারি ছিলো। নানা জটিলতায় এখন মাত্র ৫ জন খামারি কোনরকমে খামার টিকিয়ে রেখেছেন। আমাদের জন্য নতুন পরিকল্পনা না গ্রহণ করলে এবং ঋণ সহায়তা না দিলে আমরা টিকে থাকতে পারবোনা।
ঠাকুরগাঁও পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পোল্ট্রি খাতের এই সংকট আরও গভীর হতে পারে, যা প্রভাব ফেলবে সার্বিক মাংস সরবরাহ ব্যবস্থায়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা:ডা: ইজহার আহমেদ খান স্বীকার করে বলেন, জেলার প্রান্তিক খামারিরা ভালো নেই তারা নানা অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। তারা যেন আবারও বন্ধ খামার গুলো চালু করতে পারে সেজন্য প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর তাদের পাশে থাকবে এবং ঋণ জটিলতা নিরসনে কাজ করবে।
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বারিধারা সোসাইটির উদ্যোগে দিনব্যাপী এক বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বারিধারা লেক সাইড পার্ক প্রাঙ্গণজুড়ে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ, যেখানে লাল-সাদার আবহ, ঢোলের তালে তালে ছন্দ আর মানুষের উচ্ছ্বাস মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্থানীয় শিল্পী এবং বারিধারা সোসাইটির সদস্যরা দলগতভাবে বৈশাখী গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানের সুরে পুরো আয়োজন যেন একসঙ্গে নতুন বছরের আহ্বানে সাড়া দেয়। শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, যা ছোটদের মধ্যে উৎসবের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ঐতিহ্যবাহী ঢোলের বাজনা ও লোকজ উপস্থাপনাও অনুষ্ঠানে এনে দেয় গ্রামীণ বাংলার আবহ।
এই আয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত থেকে এই আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই প্রাণবন্ত প্রকাশ সত্যিই অনন্য। তার বক্তব্যে উঠে আসে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির গুরুত্ব।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। কানাডা থেকে আসা এক অতিথি জানান, দেশের সংস্কৃতি ও শেকড়ের টানেই তারা বারবার ফিরে আসেন। পহেলা বৈশাখের মতো উৎসব তাদের কাছে শুধু আনন্দের নয়, বরং আত্মপরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুষ্ঠানে প্রবীণ ও নবীনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে সবাই নতুন বছরের জন্য দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনজুড়ে ছিল দেশীয় খাবারের সমাহার। পান্তা-ইলিশ, ভর্তা, পিঠাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করতে দেখা যায় অতিথিদের। খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বৈশাখের আনন্দ ভাগ করে নেন সবাই।
সব মিলিয়ে বারিধারা সোসাইটির এই উদ্যোগ ছিল বাঙালিয়ানার এক প্রাণবন্ত প্রকাশ। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে সংস্কৃতিচর্চাকে আরও এগিয়ে নেবে।
খালের পাড়ে পড়ে আছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। দেখতে সচল মনে হলেও এর ইঞ্জিন নেই। চুরি হয়েছে প্রয়োজনীয় অন্য যন্ত্রাংশও। নদীপথে অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ২০২২ সালে এই অ্যাম্বুলেন্স চালু হয়। তবে উদ্বোধনের চার বছরে একবারের জন্যও রোগী আনা–নেওয়ায় এর ব্যবহার হয়নি।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারসংলগ্ন সেন্টার খালের পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সটি। উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ২০২২ সালে ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামের এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় তিন লাখ টাকা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সটি কেনা হয়। তবে ২০২২ সালে এটির উদ্বোধন করা হলেও তখন চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যার কারণে পড়ে থাকা নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটির অনেক যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায়।
জানতে চাইলে চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জু বলেন, চালকসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে শুরু থেকেই অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা যায়নি। ফলে চরাঞ্চলের মানুষ কার্যত চিকিৎসাসেবার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের সেবা না পাওয়ায় নানা সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল চর আবদুল্যাহে এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় একটি পরিবার। সকাল থেকে পেটের তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছিল এলাকার শিশু মো. মামুন। আশপাশের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রের ওষুধেও ব্যথা কমেনি। এরপর প্রতিবেশীরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে চার ঘণ্টায়ও হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ছোট একটি নৌকা মেলে। সেটি দিয়েই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ মামুনের অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। কথা বলা তো দূরের কথা, কোনো সাড়াশব্দও ছিল না। এ নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় ছিল। কিন্তু যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। এরপর ভোগান্তি পেরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে অনেকটা সুস্থ রয়েছে।
মামুনের বাবা জাকির হোসেন নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, ‘নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি কখনোই মানুষের কাজে আসেনি। এক দিনের জন্যও কোনো রোগীকে বহন করতে দেখলাম না।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রামগতির চর আবদুল্যাহ ও চরগজারিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি চরে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাদের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি নৌপথনির্ভর। বর্ষা মৌসুমে এক গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রামের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে রামগতি যেতে হলে ট্রলার ভাড়া গুনতে হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণে শুরু থেকেই ব্যর্থ হয়েছে এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের উদ্যোগ। এ কারণে চরাঞ্চলের মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নৌ-অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার না হলেও প্রথমে এটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যবহার করতেন। পরে সমালোচনার মুখে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটি উদ্ধার করে সেন্টার খালে ফেলে রাখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। কেন এটি এত দিন অকার্যকর রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। চরাঞ্চলের মানুষ যাতে জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার নাটঘরের কুড়িঘর স্কুল মাঠে এ আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নান্নু মিয়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মহিউদ্দিন আহামেদ মহিন। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসরাফ হোসেন রাজু।
এ ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতারা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
লাঠিখেলা প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লাঠিয়াল দল অংশ নেয়। তারা দারুণ দক্ষতা, রণকৌশল ও শৈল্পিক নৈপুণ্যের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালদের চমৎকার কসরত, আক্রমণ-প্রতিরোধের কৌশল এবং দলগত সমন্বয় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। পুরো মাঠ জুড়ে করতালি আর উল্লাসে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মোবাইলে এই ঐতিহ্যবাহী খেলার দৃশ্য ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করছে।
উল্লেখ্য, এক সময় গ্রামবাংলায় আত্মরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে লাঠিখেলার ব্যাপক প্রচলন ছিল। জমিদারি আমলে লাঠিয়াল বাহিনী গ্রামীণ নিরাপত্তা রক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। তবে সময়ের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্যবাহী খেলা অনেকটাই বিলুপ্তির পথে চলে গেছে।
হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে লাঠিখেলার মতো প্রাচীন সংস্কৃতি আবারও গ্রামবাংলায় নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।