কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়
সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।
এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।
চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।
মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’
দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।
আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’
কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’
মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল
মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের অজুহাতে গ্রাহকের পকেট থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি আড়াই হাজার কোটি টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৭০০ টাকার বেশি। ফলে আয় না বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যয়ের নতুন নতুন খাত। এতে চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা মধ্যবিত্তের। তারা বলছেন, যেখানে আগে গ্যাসের দাম ১২০০-১৩০০ টাকা, মাঝে মাঝে ১৫০০ টাকার বেশি হতো, সেখানে এখন এক সিলিন্ডারের দাম ২২০০ টাকা। আবার দোকানগুলোতে টাকা বেশি দিলেই সিলিন্ডার মিলছে, কম দিলে পাওয়া যাচ্ছে না। এতটা ক্ষতিগ্রস্ত আগে কখনো হতে হয়নি।
রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা মাহফিয়া বেগমের বাসায় সংযোগ থাকলেও প্রায়ই থাকে না গ্যাস। এতে মাসে ১০৮০ টাকা গ্যাস বিলের পাশাপাশি কিনতে হয় এলপিজিও। কিন্তু এখন সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক দামের কারণে ব্যয় বাড়ছে চক্রবৃদ্ধি হারে।
তিনি বলেন, লাইনের গ্যাসের জন্য অহেতুক দিতে হচ্ছে ১১০০ টাকা। আর সিলিন্ডার গ্যাসের দাম তো ডাবল হয়ে গেছে। আমরা কোন দিকে যাব? আয়ের তুলনায় তো খরচ বেড়ে গেছে। রাজধানীর কল্যাণপুরের বাসিন্দা শামসুন নাহার ও তার প্রতিবেশীদের একই অভিজ্ঞতা।
সিলিন্ডার নৈরাজ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। রাজধানীর হাতিরপুলের ব্যবসায়ী মো. সেলিমের মাত্র ১০ দিনে এলপি গ্যাসের পেছনে বাড়তি ব্যয় ৯ হাজার টাকা। অন্যদেরও ব্যবসা চালাতে হিমশিম অবস্থা। তিনি বলেন, ছোট তিনটি সিলিন্ডারে ৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে, বড় সিলিন্ডারে ৬ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি খাবারের দাম বাড়াতে পারছি না। এতে এক টাকাও আমাদের লাভ হচ্ছে না।
অন্য ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি। তারা জানান, সিলিন্ডারও ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এখন পুরোটাই লস। কারণ গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে ১২ কেজি এলপিজি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা বেশি। আর ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের জন্য বাড়তি নেয়া হচ্ছে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বাজারে থাকা সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের মধ্যে বর্তমানে মাসে দুইবার রিফিল হচ্ছে সোয়া কোটি সিলিন্ডার। সে হিসেবে প্রতি সিলিন্ডারে এক হাজার টাকা বাড়তি নেয়া হলেও মাসে গ্রাহকের পকেট থেকে লুটে নেওয়া হচ্ছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।
সংকটকে অজুহাত করে গ্রাহকের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পেছনে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম. শামসুল আলম বলেন, এখন শুধু এলপিজি বাজার না, এলপিজি ব্যবসায়ীরা সরকারকেই নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও। এটা কি ভয়াবহ পরিস্থিতি না? ভোক্তা অধিদফতর কী করছে? এমন অবস্থায় রাষ্ট্র কোথায়? কোনো সভ্য সমাজ কি এমন কিছু অনুমোদন করতে পারে?
এলপি গ্যাস নিয়ে চলমান নজিরবিহীন নৈরাজ্যের মাঝেও সব পক্ষ নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবুও নিরুপায় গ্রাহকরা ভোগান্তিতে, কারণ দিনশেষে বাড়তি দামের বোঝা তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অতি প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
অনেকটা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করলেও খুব ঠাণ্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জনকে খুন করেছেন মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কমিউনিটি সেন্টার থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এ তথ্য দেন।
আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন। সাইকো টাইপের (মানসিক বিকারগ্রস্ত) এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন। তার পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যেককেই শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তিনজনের লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর লাশ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সম্রাট হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন।’
সাভার থানার পরিদর্শক অপারেশন হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আরও এক ভবঘুরে নারীকে কমিউনিটি সেন্টারে দেখা যায়। সম্রাট তাকেও ওই রাতে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।’
হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। একেক দিন একেক রকম পোশাক পরতেন। তিনি কিছুটা অগোছালো কথাবার্তা বলতেন, এ কারণে সবাই তাকে পাগল মনে করতেন। আসলে তিনি পাগল নন।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘রিমান্ড মঞ্জুর হলে থানায় এনে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আরও কোনো হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ্ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন তারা।
এ সময় তাদের হাতে ‘জাস্টিস ফর সাজিদ; হত্যার ১৮৬তম দিন আজ আর কত অপেক্ষা? সাজিদ ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে? প্রশাসনের হেলাফেলা মানিনা মানব না; কার ভয়ে প্রশাসন চুপ?” ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সাজিদ হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংস্কৃতি মঞ্চ, নেত্রকোনার আয়োজনে প্রিয় গুণীজনের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা সংস্কৃতিজন মোজাম্মেল হক বাচ্চু, নেত্রকোনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিমসহ বিশিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কনক পণ্ডিত ও সঞ্চালনায় ছিলেন- সুলতানা রাজিয়া। আলোচনা শেষে সংস্কৃতি মঞ্চ, নেত্রকোনার পক্ষ থেকে তৃণমূল নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের জন্য-নারী উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী আফরোজা আক্তার লিজাকে ও বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য-কবি ও কথাসাহিত্যিক ইভান অনিরুদ্ধকে-২০২৫ পুরস্কার ও সংবর্ধনায় ভূষিত করা হয়। আলোচনার শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক গান ও নিত্য পরিবেশন করা হয়। এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। গত দুই বছরে নিবন্ধিত বিয়ের তুলনায় তালাকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, নগরীতে প্রতিদিন গড়ে নয়টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এসব বিচ্ছেদের আবেদনে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এগিয়ে রয়েছেন।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসার জীবনে আস্থা ও সহনশীলতার অভাব, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়ার প্রতি ঝোঁক এবং পরকীয়ার মতো বিষয়গুলো সংসার ভাঙনের বড় কারণ হয়ে উঠছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়েও মনোমালিন্য তৈরি হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত তালাকের পথে গড়াচ্ছে বহু পরিবার।
বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, দাম্পত্য জীবনে আস্থা হারিয়ে তিনি একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারে কলহ ও অবিশ্বাস তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। যদিও পরে তিনি বেঁচে ফেরেন, তবে তার অভিজ্ঞতা বর্তমান সামাজিক সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বিয়ে হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। যৌতুকের চাপ, শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধে ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক। এক তরুণী জানান, পরিবারের অমতে প্রেমের বিয়ে করেছিলেন তিনি। শুরুতে সব ঠিক থাকলেও পরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। এক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি।
নারীদের অভিযোগ, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে সংসারে অশান্তি বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত দুই বছরে বরিশালে মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি বিয়ের মধ্যে ভেঙেছে ৩ হাজার ৫টি সংসার। ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৭টি। আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও নারী নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অধিকাংশ অভিযোগের পেছনে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতা।
সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে সরে আসা এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়াই এই সংকটকে তীব্র করছে। তারা বলছেন, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তালাকের ক্ষেত্রে নারীদের আবেদন তুলনামূলক বেশি। ২০২৫ সালে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে র্যাব-৭-এ কর্মরত ডিএডি মো. মোতালেব নামের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
নিহত মোতালেব মূলত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে নিয়োজিত ছিলেন। অভিযানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে আরও কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “র্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযানে যান। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”
দীর্ঘ চার দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি স্থাপন ও দুর্ধর্ষ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে একটি শক্তিশালী বাহিনী গড়ে উঠেছে, যারা নিজস্ব পরিচয়পত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও সেখানে প্রায়ই সংঘবদ্ধ সশস্ত্র বাধার সৃষ্টি করা হয়। এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’ ও ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’ নামক দুটি প্রভাবশালী সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। ইয়াসিন মিয়া, কাজী মশিউর ও গাজী সাদেকের মতো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিশাল বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে আসছে। বর্তমানে ঘাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ওই এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক তল্লাশি ও যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যাতে আগের মতো আর কোনো স্বৈরাচার মানুষকে গুম, খুন যেন না করতে পারে এ জন্যই ‘হ্যাঁ-না’ ভোট। আর সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটটা এ সরকারের জন্য অপরিহার্য হয়েছে। সংস্কারের জন্য এ সরকার এসেছে। সংস্কার এ সরকারের একটা ম্যান্ডেট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদারে অংশ হিসেবে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলায় কর্মরত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক এ কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জয়পুরহাট সিভিল সার্জন মো. আল মামুন, তথ্য কর্মকর্তা ইব্রাহিম মোল্লা, জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সাধারণ মানুষের মাঝে গণভোটের সচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার করতে নানা দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়।
এদিকে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দোগাছিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট ২০২৬ ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিবিষয়ক এক উঠান বৈঠক আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সংযোগ সড়ক ছাড়াই চরে নির্মাণ করা হয়েছে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ। সড়ক না থাকায় ব্রিজটি কাজে আসছে না চরাঞ্চলের মানুষের।
উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ঘুইষ্ণার চরে নির্মিত এ গার্ডার ব্রিজটি এখন পরিত্যক্ত। গাফিলতির অভিযোগে ১ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পরে আছে নির্মাণসামগ্রী, মরিচা ধরছে রডগুলোতে। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও বাস্তব অগ্রগতির ঘাটতি, সংযোগ সড়ক না থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাতায়াতের কোনো সড়ক না থাকায় এই চরাঞ্চলের কুলপাল, কাজল গ্রাম, কুমারপাড়া, বারিকান্দি পার্শ্ববর্তী কাজীপুর উপজেলার পানিবাড়ী, ৬নং চর ও লক্ষীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষদের চলাচলে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষকে নৌকাযোগে চলাচল করতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/ কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আওনা ইউনিয়নের আওনা-ঘুইষ্ণার চর এলাকার যমুনা নদীর শাখা অংশের জন্য ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ১১৪ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুইটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এবিএম ফয়সাল কনস্ট্রাকশন’। বর্তমানে একটি ব্রিজের কাজ শেষ হলেও অন্যটির নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে। এ চরাঞ্চলে যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকলেও সেখানে কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইটি গার্ডার ব্রিজ, যা কোনো কাজেই আসছে না এই এলাকার জনসাধারণের। এভাবে সরকারি অর্থ অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকল্পের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান এলাকাবাসী।
চরাঞ্চলের বাসিন্দা বৃদ্ধ খবির উদ্দিন, আমেনা বেওয়া, শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম, মনা, আখিসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বর্ষার সময় এই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে থাকে, তখন নৌকা ছাড়া কোথাও চলাচল করা যায় না, ব্রিজের আগে এই চরাঞ্চলে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা জরুরি। যেখানে রাস্তাই নাই সেখানে ব্রিজ দিয়ে কী হবে? আমাদের এই ব্রিজ পর্যন্ত আসতে আরও দুইটি নদী নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। যেখানে আগে ব্রিজ প্রয়োজন ছিল, সেখানে না করে জনমানবহীন স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।
অপরদিকে ঘুইষ্ণাচর গুচ্ছ গ্রাম (আশ্রয়ন প্রকল্প) জন্য নির্মাণাধীন অন্য গার্ডার ব্রিজটির ছাদে রড বাঁধা অবস্থায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে রয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ে নেই কোনো অগ্রগতি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী। রডে মরিচা ধরছে, যা নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে মেসার্স এবিএম ফয়সাল কন্সট্রাকশন এর ঠিকাদার মো. মকবুল হোসেন বলেন, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে খুবই কষ্টকর ও ব্যায়বহুল। তবে ব্রিজের কাজ অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল বলেন, এটা ২০২২-২৩ অর্থ বছরের কাজ। তৎকালিন কর্মকর্তা পরিদর্শনপূর্বক স্থান নির্ধারণ করেন। বর্তমানে সেই কাজটিই চলমান রয়েছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে একটি ব্রিজের দুপাশে সংযোগ সড়ক নিমাণ করার কাজ শুরু হয়েছে। অন্যটিতেও সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় গভীর রাতে এক অসহায় কৃষকের স্বপ্ন ও জীবিকার ওপর নির্মম আঘাত হানা হয়েছে। ফলন্ত অবস্থায় থাকা ৩ শতাধিক কলাগাছ কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গালঘাট গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাকিম এ ঘটনায় বদলগাছী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের আব্দুল হাকিম ও টিটুর মধ্যে জমি ও কলা বাগানকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে টিটু পক্ষের লোকজন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হাকিমের কলা বাগানে অনুপ্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩ শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলে।
সকালে বাগানে গিয়ে কাটা গাছগুলো দেখতে পান হাকিম ও তার পরিবারের সদস্যরা। মুহূর্তেই বাগানজুড়ে নেমে আসে কান্না আর হতাশার ছায়া। চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায় তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর ভবিষ্যৎ জীবিকার শেষ আশাটুকু।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাকিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই কলা বাগানটাই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। গাছগুলো আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি করার কথা ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে আমাদের সর্বনাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা শুধু গাছ কাটার ঘটনা নয়, এটি একজন কৃষকের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, কৃষকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে হাটহাজারী উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া প্রযুক্তি গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত ৪০ জন কৃষক–কৃষাণির মাঝে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় ওই প্রযুক্তি গ্রামের মোট ৪০ একর কৃষিজমিতে পরিচালিত প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উপকরণ সরবরাহ করা হয়।
বিতরণকৃত কৃষি উপকরণের মধ্যে ছিল- ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সালফেটসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড় দমনে ব্যবহৃত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক। পাশাপাশি পরীক্ষণ প্লট চিহ্নিত করার জন্য সাইনবোর্ডও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এলএসটিডি প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. আমিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘বোরো মৌসুমে সঠিক বয়সের চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আগাছা দমন এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক ও উচ্চফলনশীল ধানের সর্বোচ্চ ফলন অর্জন সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক ধান চাষাবাদ প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ধান উৎপাদনকে টেকসই করা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এ সময় হাটহাজারী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, মো. জহিরুল ইসলাম ও নুরুল আবসার উপস্থিত ছিলেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম এলাকার কৃষকদের আধুনিক ধান চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করবে। উল্লেখ্য, এর আগে এই পরীক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছিল।’
রাঙামাটির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। বিকেল চারটায় রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সুকুমার দেওয়ানের নেতৃত্বে এই যোগদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
এনসিপির রাঙামাটি সদর ও জুরাছড়ি উপজেলার এই বিশাল সংখ্যক নেতা-কর্মীর দলবদল প্রসঙ্গে সুকুমার দেওয়ান জানান, ‘রাঙামাটি সদর উপজেলা ও জুরাছড়ি দুই উপজেলা থেকে আমাদের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।’ তবে বিষয়টি সম্পর্কে এনসিপির রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘যোগদানের বিষয়টি শুনেছি। কারা যোগদান করেছেন, তা সঠিকভাবে জানি না, তবে সুকুমার দেওয়ানের নাম শুনেছি।’
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবাগতদের স্বাগত জানান রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। তিনি দলটির প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের বিকল্প নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরে এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তাঁরা সর্বাত্মক সহায়তা করবেন।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনসহ স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। এনসিপি ছেড়ে আসা এই নেতা-কর্মীরা আগামী দিনে বিএনপির পতাকাতলে থেকে দেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নদী পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে শহরের নবগঙ্গা নদীর ক্যাসেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ৩ দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। সেসময় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসিন উদ্দিন, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজন এ অভিযান চলবে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। শহরের ক্যাসেল ব্রিজ ত্রিমোহনা থেকে চাকলাপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত নদীর দুই পাড় পরিস্কার, কচুরিপানা অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ মাগুরায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর উদ্যোগে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে হচ্ছে।
প্রথম দিনের কর্মসূচিতে সকাল ৯টায় নিবন্ধন ও পরিচয় পর্বের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুভসূচনা হয়। পরে ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: সরকার, প্রশাসন ও সাংবাদিকতা’—বিষয়ক আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, জনগণের ভোটাধিকার, নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন প্রশিক্ষক হিসাবে শারমীন রিনভী নির্বাচন রিপোর্টিং বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সভাপতি ইআরএফ।
প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বিশেষত নির্বাচন কাভারেজে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পিআইবির প্রশিক্ষক শাহ আলম সৈকত, তথ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সজীব, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরন।
প্রশিক্ষণে মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার ৫০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেয়।