সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় হামুন

ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ২২:৩৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়

সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।

এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র‌্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।

চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।

মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’

দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।

আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’

কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’

মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল

মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।

নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।

বিষয়:

মাদারীপুরে সাংবাদিকদের সাথে নতুন পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

দেশব্যাপি লটারীর মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের পদায়নের পরে মাদারীপুরে এহতেশামুল হক পুলিশ সুপার পদে সদ্য যোগদান করেন। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। রোববার মাদারীপুর জেলা পুলিশ সম্মেলন কক্ষে নবাগত পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক জেলায় কর্মরত সর্বস্তরের সাংবাদিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে তিনি এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করেন। মত বিনিময় সভায় মাদারীপুরের বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নবাগত পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক নিজের পরিচয় প্রদান করে মাদারীপুরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও সন্ত্রাস সহ বেআইনি কার্যদি বন্ধের লক্ষ্যে এবং সর্বোপরী দেশ ও জাতির স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মাদারীপুর জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ওকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। প্রশ্নপর্বে সাংবাদিকদের মধ্য থেকে অনেক সাংবাদিকরা মাদারীপুরের কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম, মানবপাচার, সন্ত্রাস, ট্রাফিক বিভাগকে অবৈধ যান বন্ধসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশ বিভাগকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অ্যান্ড মিডিয়া) জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন, মাদারীপুর সদর থানার ওসি আদিল হোসেন সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা।


রংপুর-নীলফামারীর সকল রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর এক বাস শ্রমিক নেতাকে মারধরের প্রতিবাদে রংপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির অধীনে পরিচালিত নীলফামারীর সব রুটে বাস পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। রোববার সকাল থেকেই রংপুর-নীলফামারী-সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ-জলঢাকা-ডিমলা-ডোমারসহ জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকাগামী বাসসহ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা সমিতির গাড়ি আগের মতোই চলছে।

শ্রমিক ইউনিয়নের সূত্র জানায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন উপকমিটির দপ্তর সম্পাদক সফিকুল ইসলামের সঙ্গে ন্যায্য পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে রংপুর বাস মালিক সমিতির কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে মারধর করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হওয়া সফিকুল বিষয়টি শ্রমিক ইউনিয়নকে জানান। এর পরই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত রংপুর মালিক সমিতির অধীন থাকা সব বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন।

হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নীলফামারী ও আশপাশের রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে ভ্যান, অটোরিকশা কিংবা প্রাইভেটকারসহ বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে কিন্তু ভোগান্তির সাথে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।

জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শ্রমিকদের ওপর হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাস পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। রংপুর মালিক সমিতির কোন বাস নীলফামারীর রুটে চলতে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘দুই জেলার মালিক সমিতির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমি রংপুরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে।


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর ফুসফুস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খানকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, তিনি ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

এএফপি আরও জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সেজন্য একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংস্থাটি তাঁর একাধিক স্বাস্থ্য জটিলতার কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে রয়েছ—হৃদরোগ, লিভার ও কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের জটিলতা, বাত এবং চোখের অসুস্থতা।

লন্ডন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান জাতির কাছে মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও আছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো সেটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত নয়। স্পর্শকাতর বিষয়টিতে বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, খালেদা জিয়া ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এএফপি’কে উদ্ধৃত করে গালফ নিউজ একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। দ্য ডন নিউজ এবং আরব নিউজ তার অবনতিশীল স্বাস্থ্য নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আরব নিউজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বেগম জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’।

ভারতের এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে—‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি’।

এ ছাড়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু এবং হিন্দুস্তান টাইমসও এ খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

এদিকে, শনিবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক ব্রিফিংয়ে ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, বেগম জিয়ার অবস্থা গত তিন দিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে এবং অনুমোদন পাওয়া মাত্র তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা ও বিএনপি নেতারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতার জন্য জাতির কাছে দোয়া চেয়েছেন। সূত্র: বাসস


চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনের দাবিতে অবরোধ, যানজটে চরম ভোগান্তি

সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ না হলে আন্দোলন দিগুণ হবে: ইব্রাহীম ফারুক সিদ্দিকী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ বিন হোছাইন, চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার)

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেন করার দাবিতে চকরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে কড়া অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ চকরিয়ায় প্রধান সমন্বয়কারী ইব্রাহীম ফারুক সিদ্দিকী আগামী সাত দিনের মধ্যে মহাসড়কের দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম না দেখলে এরচেয়ে আরও দিগুণ হয়ে আন্দোলনে নামার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। রোববার চকরিয়া পৌরশহরের মাতামুহুরি ব্রিজে সড়ক অবরুদ্ধ করে অবস্থান করেন আন্দোলনকারীরা। ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরুদ্ধ থাকার পর জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ ফারুকসহ চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ারের অনুরোধে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলনের চকরিয়ার প্রধান সমন্বয়কারী ইব্রাহীম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার টাঙানো, সংশ্লিষ্ট মহলে স্মারকলিপি প্রদানসহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। সরকারকে আমরা অনেকভাবে বুঝিয়েছি এটা একটি মরণফাঁদ। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ২৭ নভেম্বরের মধ্যে যদি দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম না দেখি তাহলে আমরা রাজপথে নেমে যাব। আমরা সে কথার ভিত্তিতে চকরিয়ার রাজপথে নেমেছি। আজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু না হলে আমরা আরও দিগুণ আকার ধারণ করব।

তিনি আরও বলেন এই আন্দোলন শুধু আমাদের জন্য নয়। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের শহর কক্সবাজারে সারাদেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক আসে এই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে। তাদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আমাদের এই আন্দোলন।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চকরিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে দীর্ঘ যানজট দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন কক্সবাজারমুখী পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা।

বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দুই লেনের হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যটন নগর কক্সবাজারের কারণে এই সড়কে সব সময় যানবাহনের চাপ থাকে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। এছাড়া সরু মহাসড়ক হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরি সেতু এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সেতু এলাকায় অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের একটি দল তাদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সরবেন না বলে জানান তারা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ারের অনুরোধে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

এ সময় চকরিয়া-পেকুয়া আসনের এমপিপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ করে বলেন, গত ৫৪ বছরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে কক্সবাজারের সাথে চকরিয়ার যে বৈষম্য হয়েছে আজ সেটির বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এই দক্ষিণ চট্টগ্রাম। এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মহাসড়ক কেন দুই লেন হবে? অনতিবিলম্বে দুই লেন থেকে ছয় লেনে উন্নিত করার দাবি জানিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অবরোধ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান তিনি।

চকরিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এখন ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়নের কাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান: চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে রবিবার সকাল ১০টা থেকে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় জনতা। ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই ব্লকেডের কারণে মহাসড়কজুড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট এবং জনভোগান্তি।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের অনুরোধে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেছেন এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক। দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের দাবিতে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চকরিয়া, রওশনহাটসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন নামে একটি সংগঠন। রবিবার লোহাগাড়া উপজেলার বটতলি মটর স্টেশনের পুলিশ বক্সের সামনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন বাস্তবায়ন কমিটির একাংশ। পরে স্থানীয় জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।


১৬ শতক জমির বিরোধে ঝরল ভাই-বোনসহ তিনজনের প্রাণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ১৬ শতক জমির দখলকে কেন্দ্র করে একই বংশের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ উভয় পক্ষের তিনজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন নারীসহ অন্তত আটজন। রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাইলাটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষ হলো- নূর মোহাম্মদ ও মানিক মুন্সি (আপন ভাই) এবং তাদের চাচাতো ভাই আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান (আপন ভাই)। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- আলতাফ হোসেন (৫৫), তার চাচাতো ভাই মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদুল হক (৪২) এবং মানিক মুন্সির বোন কুলসুম বেগম (৫০)। এ ঘটনায় নিহত আলতাফের ছেলে মোফাজ্জল হোসেনকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাইলাটারী গ্রামের মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ এবং আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান প্রায় এক বছর আগে যৌথভাবে একই দাগের ১৬ শতক জমি কেনার উদ্দেশ্যে মালিককে টাকা দেন। কিন্তু কোনো পক্ষই জমির দলিল করে নেয়নি। জমিটি দখলে নেয় মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ পক্ষ। এ নিয়ে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান পক্ষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।

রোববার বেলা ১১টার দিকে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান লোকজন নিয়ে জমিটি দখল নিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদুল হক ও বোন কুলসুম বেগম। গুরুতর আহত আলতাফ হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। আহত ব্যক্তিরা হলেন- মানিক মুন্সি (৬০), নূর মোহাম্মদ, নিহত এরশাদের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম মঞ্জু (৩৫), জোবায়দুর (৪৫), সফিকুল ইসলাম (২৫), মর্জিনা বেগম (৪২), আজিজার রহমান (৪০) ও পারুল বেগম (৩২)। তাদের চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাগেশ্বরী থানার ওসি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর একজনকে আটক করা হয়েছে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুকুরের পাহারাদারকে চোখ উপড়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং চোখ তুলে এক পুকুর পাহারাদারকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর মাঠের একটি পুকুরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তোজাম্মেল হক (৬৫) উপজেলার পারদিলালপুর গ্রামের মৃত আলির ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় পুকুর পাহারাদার মো. তোজ্জামেল হককে অজ্ঞাতরা হত্যা করে ফেলে রাখে।

স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার রাতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি পুকুরের পাশে একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

জানা যায়, নিহত পুকুর পাহারাদার বিলাল হাজির মুসলিমপুর এলাকার একটি পুকুরের নাইটগার্ড হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। নিহতের শরীরে ধারালো কাটা অস্ত্রের চিহ্ন আছে এবং বাম চোখ উপড়ে ফেলেছে হত্যাকারীরা।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দীর্ঘদিনের শত্রুতা বা চুরি-সংক্রান্ত কোনো ঘটনার জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।


পূর্বগুজরা মধুমতি কেজি স্কুলের বিদায় সংবর্ধনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

‘শিক্ষা আমার অধিকার, সুযোগ নয়,’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে-রাউজান পূর্বগুজরা দক্ষিণ বড়ঠাকুর পাড়াস্থ মধুমতি কেজি স্কুলের ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পাঠ, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান গত শনিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও সিনিয়র শিক্ষক প্রদীপ দাশের সঞ্চালনায় স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিষদের চেয়ারম্যার শিক্ষাবিদ রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলার এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট এম. তাজুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন, পরিচালক সাইদুল আলম, রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক এম. রমজান আলী, এ.কে.এম জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল ছালাম রায়হান, সিনিয়র শিক্ষক সৌরভ বড়ুয়া, রুমানা আকতার, ফাতেমা বেগম, সুবর্ণা বড়ুয়া, নাছরিন আকতার, জাবের উদ্দীন পারভেজ, এমেলী বড়ুয়া, সুভ্রামনি বড়ুয়া, পংকজ বড়ুয়া। শিক্ষার্থী তাছিন আহমেদ ফারিয়া, আনিশা আফরিন। অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)

গোপালগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোটালীপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। গত শনিবার বিকালে তিনি কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজ, উমাচরণ পূর্ণচন্দ্র সার্বজনীন উচ্চবিদ্যালয়, রাধাগঞ্জ সার্বজনীন দাখিল মাদ্রাসা, মান্দ্রা রাধাগঞ্জ ইউনাইটেড ইনস্টিটিউশন, উত্তর কোটালীপাড়া রামমোহন উচ্চবিদ্যালয়, সোনাইলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম তারেক সুলতান, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক, উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম, থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জসীম উদ্দিন শেখ। উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন সকালে পরিদর্শন করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, ২৭নং ঘোপেরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোষের ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৩নং তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৯নং পাকুড়তিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৬নং ডুমরিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র।

এর আগে কয়েক দফায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিয়া তানজিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রূলী বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতাউর রহমান, গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ্ আলম এবং সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার অনিমেষ কুমার বসুকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান সদর উপজেলার সোনাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবয়রা ঘোনাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, ১০১নং উত্তর গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতপাড় দীননাথ গয়ালী চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, ৫৮নং বড় ডোমরাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুঠামান্দ্রা উচ্চবিদ্যালয়, উলপুর পূর্ণচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০নং লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী খোরশেদ সপ্তপল্লী উচ্চবিদ্যালয়, ২২নং পুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং বড়ফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১নং সুকতাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।


কুষ্টিয়ায় যুবক খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে জনি ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির মা হাসু খাতুন বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় গত শনিবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেন। এর আগে শনিবার উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার একটি কবরস্থানের পাশ থেকে পুলিশ জনির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জনি ওই ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি জামালপুর গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, জনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক কারবারি সোহানের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সোহানের লোকজন জনিকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পিঠে একাধিক সেলাই দিতে হয়। হামলার ভয়ে জনি শুক্রবার রাতে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অবস্থান করেন। শনিবার দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পিরোজপুরে সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎‎পিরোজপুর প্রতিনিধি

‎‎পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ‎‎শনিবার পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে বিকেল তিনটায় উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎‎সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দিন ভূইয়া জনি।

‎‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা.) এস এম আল আমিন, পিরোজপুর সদর থানা উপপুলিশ পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো. জহিরুল হক, পিরোজপুর প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক এস এম তানভীর আহমেদ প্রমুখ।

‎‎উক্ত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদ (১১-২০ গ্রেড) এর সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা।


অবশেষে সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেল বাকসু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেয়েছে। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় বাকসু গঠনতন্ত্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ইংরেজি নাম হবে –‘Barishal University Central Students’ Union (BUCSU) এবং এর বাংলা নাম হবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের কালক্ষেপণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে পাস করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট অনুমোদিত গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষামন্ত্রালয়ে পাঠানো হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।


শ্রীবরদীতে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় শেরপুরের শ্রীবরদীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার রাতে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ওসহযোগী সংগঠন এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রহিম দুলালের আহ্বানে এ দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলালসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কোরআনখানি, মিলাদ ও বাংলাদেশের অভিভাবক গনতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন করে সফল সিংড়ার জাহিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামে নতুন এক সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন। এই জাতের হাঁসের প্রতিটির ওজন হয় গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য এই হাঁসের ডিম ও মাংসের বাজারে এখন ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর এই হাঁস পালন করেই সিংড়ার দুই যুবক সালা-দুলাভাই জাহিদ মাহমুদ ও আবু হাসান গড়ে তুলেছেন চলনবিল হেচারি সিংড়া নামে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামের তরুণ খামারি জাহিদ মাহমুদ কয়েক বছর আগেও ছিলেন ঋণগ্রস্ত। জীবনের নানা সংকটে জর্জরিত অবস্থায় একসময় তার মাথায় আসে হাঁস পালনের চিন্তা। সে ভাবনাটিই তার জীবনে ঘুরে দেয় সফলতার চাকা।

খামারি জাহিদ জানান, তখন আমার প্রায় ৮ লাখ টাকার ঋণ ছিল। একদিন প্রবাসী দুলাভাই হাসান আলীর সঙ্গে কথা বলি। তিনি উৎসাহ দেন এবং তিনি টাকা দিয়ে ১০০টি বেলজিয়াম হাঁস কিনে দেন। সেখান থেকেই শুরু।

চার বছর আগের সেই ছোট উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে তাদের খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০টি। হাঁসের পাশাপাশি এখন তারা বাচ্চা উৎপাদনও শুরু করেছেন। বছরে তাদের মোট আয় ২৪ লাখ টাকারও বেশি।

জাহিদ আরও বলেন, আমরা এখন প্রতিমাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করি। ডিম, বাচ্চা ও হাঁস বিক্রি করেই এ আয় হয়। আমি হাঁস পালন করে সব ঋণ শোধ করেছি, এখন নিজেই অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি করেছি।

এ খামারে প্রতিটি হাঁস ৪৫ দিনের মধ্যেই ৩ কেজি ওজনের হয়। ফলে স্বল্প সময়েই বিক্রিযোগ্য হয়ে ওঠে। তারা জানায়, একটি হাঁসের ডিমের দাম ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত, আর একটি বাচ্চা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।

খামারটিতে এখন কাজ করছেন ৪জন স্থানীয় যুবকও। এতে শুধু জাহিদ ও হাসান নন, আশপাশের অনেক বেকার তরুণও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন হাঁস পালনে।

খামারি আবু হাসান জানান, স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন শুরু করা যায়। নিয়মিত যত্ন, সঠিক খাবার ও ভ্যাকসিন প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায়। হাঁসগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফলে খুব অল্প সময়েই লাভ পাওয়া সম্ভব।

জাহিদ বলেন, একসময় মানুষ বলত হাঁস পালনে ভবিষ্যৎ নেই, এখন তারা নিজেরাই জানতে আসে হাঁস পালন কেমন লাভজনক ব্যবসা। আমরা চাই, আরও তরুণ এগিয়ে আসুক এই খাতে। আমরা প্রথমে ভাবিনি এত দ্রুত উন্নতি হবে। কিন্তু হাঁসের ডিম ও মাংসের চাহিদা এখন অনেক। অনেকেই আমাদের কাছ থেকে হাঁসের জাত সংগ্রহ করে পালন শুরু করেছেন।

সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের আমরা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। হাঁস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা, পরামর্শ ও ভ্যাকসিন আমরা বিনামূল্যে প্রদান করি। উপজেলায় বর্তমানে বেলজিয়াম জাতের একটি বড় খামার রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।


banner close