কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়
সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।
এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।
চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।
মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’
দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।
আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’
কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’
মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল
মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।
নতুন সরকার গঠনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ আটকে গেল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান কর্মকর্তারা। তারা পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবি করেন। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা হলেও ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন হয়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে দিনভর উত্তেজনা চলে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস আদেশে জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বা ঘরোয়া বৈঠকে, জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকসংক্রান্ত বা নীতিমালার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন না।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, পর্ষদের জরুরি সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ আগে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সভার মূল উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যাকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বর্তমান গভর্নর অতীতে সেই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। কাউন্সিলের মতে, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতার মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
এছাড়া গভর্নরের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্রে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের পরামর্শক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত ব্যক্তিকে কার্ড ইস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কাউন্সিল আরও জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না। পাশাপাশি ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বর্তমান রাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সময়ে এমন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আইন ও প্রথা—উভয়েরই লঙ্ঘন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে একটি একচেটিয়া বাজার তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ৭৩ জন জেলেকে ফেরত এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মিয়ানমারের সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তাদের টেকনাফের জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের ফেরত আনতে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল আজ দুপুরে একই ঘাট থেকে নাফ নদীর শূন্যরেখার উদ্দেশে রওনা দেয়। নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মি তাদের হস্তান্তর করে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে জেলেদের দেশে এনে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের আলোচনার ফলেই জেলেদের ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। আরাকান আর্মির দাবি, জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে এখনো আটক থাকা অন্যান্য জেলেদের ফেরাতে বিজিবির পক্ষ থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ফেরত আসা জেলে নূরুল আলম বলেন, ‘ছয় মাস পর নিজ দেশে ফিরতে পেরে খুব খুশি লাগছে। মিয়ানমারে এখনও শতাধিক জেলে রয়েছে। মাছ শিকার করে ফেরার পথে নাইক্ষ্যংদিয়া ও বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে আমাদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। আমাদের মারধর করা হয়েছে, অনেক সময় না খাইয়ে রাখা হয়েছে। আমার মতো অন্যদেরও নির্যাতন করা হয়েছে।’
বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে এই ৭৩ জনকে ফেরত আনা হলো।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার একটি ভুট্টা খেত থেকে স্বাধীন বাবু (১৬) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের ধানঘরা (কাউয়াভাসা) গ্রামের একটি ভুট্টা খেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত স্বাধীন বাবু পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার নরহরিপুর গ্রামের ওবায়দুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা ভুট্টা খেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেককে খবর দেন। পরে তার মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে বিরামপুর থানা থেকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিরামপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, স্বাধীন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকার বিভিন্ন কবরস্থান, ভুট্টা খেত, রাস্তা, ঈদগাহ ও উঁচু স্থানে রাত যাপন করতেন এবং তিন-চার দিন পর বাড়ি ফিরতেন। গত রোববার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভুট্টা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলায় মো. সাঈদ হাসান সেতু (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-১৪ এর ৩নং কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন জানান, অভিযুক্ত সাঈদ হাসান সেতু ধর্ষণের শিকার নারীর পূর্ব পরিচিত ও সম্পর্কে চাচাতো বোনের স্বামী। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আসা-যাওয়া করত ও কুপ্রস্তাব দিত।
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে অভিযুক্ত সেতু গত ২৫ মার্চ রাতে ওই নারীর শোয়ার ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন পন্থায় একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করলে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়। এই ঘটনায় ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় অভিযুক্ত দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে অভিযুক্তকে গেপ্তারের পর ফুলপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার কবরস্থানে ওসমানীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ১৭ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন।
এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
অনুষ্ঠান শেষে তার রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গৌরব ও মর্যাদার সঙ্গে প্রতি বছর এ দিনটি পালন করে থাকে।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মো. শাকিল মৃধা (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন-সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাকিল মৃধা আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুস সোবাহান মৃধার ছেলে। তিনি ঢাকা–বাউফল–দশমিনা রুটে চলাচলকারী পরিবহনের আদাবাড়িয়া কাউন্টারের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় দফাদার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর ফেরেননি শাকিল। সোমবার (১৬ ফেব্রয়ারি) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশের একটি পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও শীতের পোশাক পরিহিত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। স্বজনরা এসে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে পূর্ব বিরোধের জেরে হালিমা বেগম নামে এক নারীকে এসিড নিক্ষেপে শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দগ্ধ হালিমা বেগম উপজেলার নাজিরপুরের মৃত শুকুন আলীর স্ত্রী। ভুক্তভোগী নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য চামেলি বেগমের বিরোধ চলছিল।
এ ঘটনার জেরে নজরুল ও তার সহযোগীরা প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শেষরাতে চামেলি বেগমের মা হালিমা বেওয়া (৬০) বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে নজরুল ও তার সহযোগীরা ওই তরুণী মনে করে তাকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকার শোনে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভাটিয়ারী স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থান নেন তাদের একটি টিম। একটি কাভার্ড ভ্যান দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় দামি থ্রি-পিচ, শাড়ি ও ১ হাজার ২৯৮ কাটুন ব্র্যান্ড সিগারেট উদ্ধার করেন তারা।
উদ্ধারকৃত মালপত্রের মূল্য অনুমানিক প্রায় ৯ কোটি টাকা বলে কোস্ট গার্ডের দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যানচালককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তবে গাড়ি ও মালপত্র জব্দ করে কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে ডিউটি অফিসার জানিয়েছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে এক ফিসারিতে জেলেরা মাছ ধারার সময় জালে ওঠে এক শিশুর মরদেহ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটা থেকে শিশু আব্দুল্লাহ হেল ফুয়াদ (৯) কে পাওয়া যাচ্ছিল না। দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে ফিসারিতে মাঝ ধরার সময় জালে উঠে আসে শিশুটির মরদেহ। পরিবারের ধারণা খেলা করার সময় ফিসারির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র ছেলে হারিয়ে শিশুটির পরিবার প্রায় পাগল। হৃদয়বিধারক এ ঘটনায় এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনের ছোট ভাই হুমায়ন কবিরের ছেলে আব্দুল্লাহ হেল ফুয়াদ। মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সুবাদে ময়মনসিংহ শহরে পরিবারের সাথে বসবাস করে। গত দুই দিন আগে আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আসে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজাখুজি করেন পরিবারের লোকজন। দুপুর প্রায় সাড়ে ১২ টায় বাড়ির পাশে তাদের ফিসারিতে জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধারার সময় জালে উঠে আসে শিশু ফুয়াদের লাশ। দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ন কবিরের তিন মেয়ে এক ছেলে। সবার ছোট ফুয়াদ। অনেকটা চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। গত দুই দিন আগে ময়মনসিংহ থেকে বাবা-মায়ের সাথে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর থেকে গ্রামের শিশুদের সাথে খেলাধুলায় মত্ত ছিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফুয়াদসহ পরিবারের সবাই ময়মনসিংহ চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১০ টা থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুজি করেন। না পেয়ে পরিবারের ধারণা ছিল শিশুদের সাথে কোথাও খেলা করছে না হয় বাড়ির পাশে একটি মোড়ের দোকানে গিয়েছে। দুপুরে জেলেরা মাছ ধরার সময় জালে উঠে আসে ফুয়াদের মরদেহ।
নিহত শিশুর চাচা সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রাকিব বলেন, পরিবারের সবাই গত দুদিন আগে ময়মনসিংহ থেকে বাড়িতে আসে, গতকাল সোমবার চলে যাওয়ার কথা ছিল। দুপুরে বাড়ির পাশে ফিসারিতে মাছ ধারার জালে মরদেহ উঠে আসে। ধারনা করা হচ্ছে খেলা করতে করতে কোন এক সময় পানিতে পরে তলিয়ে মৃত্যু হয়।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন বলেন, দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে মৃত অবস্থায় এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারছি, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকলে বিনা ময়না তদন্তে লাশ দিয়ে দেওয়া হবে।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল বা বানরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (এআরভি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে সরকারি সরবরাহের কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ভুক্তভোগী। এমনকি হাসপাতালের বাইরে ফার্মেসিগুলোতেও চড়া দাম দিয়ে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। সরকারি সেবা নেই, অজুহাত ‘সাপ্লাই সংকট’ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র উল্টো।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলেই দায়িত্বরতরা সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন যে সরকারি সরবরাহ নেই। ফলে অসহায় রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন অথবা দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বারবার ‘সাপ্লাই নেই’ এমন গতানুগতিক অজুহাত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বাইরের ফার্মেসিতেও হাহাকার হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা যখন বাইরের ওষুধের দোকানে ছুটছেন, সেখানেও মিলছে না সমাধান। শহরের বড় বড় ফার্মেসিগুলো ঘুরেও মিলছে না ইনজেকশন। অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, কিছু দোকানে গোপনে এই ভ্যাকসিন থাকলেও তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দরিদ্র রোগীদের পক্ষে এই চড়া দাম দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকা সদর উপজেলার এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘কুকুরে কামড়ানোর পর দৌড়ে হাসপাতালে আসলাম। ডাক্তার বলল সরকারি ভ্যাকসিন নাই। বাইরে কিনতে গেলাম, সেখানেও নাই। এখন বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়লে এর দায় কে নেবে? আমরা গরিব মানুষ বলেই কি আমাদের কোনো মূল্য নেই?’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম এবং সেন্ট্রাল ড্রাগ স্টোর (সিএমএসডি) থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সরবরাহ পাওয়ার সাথে সাথেই সেবা চালু করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেন। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যু নিশ্চিত। নেত্রকোনা জেলায় ইদানীং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বাড়ায় কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের এই ভয়াবহ সংকট পুরো জেলার জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং বাড়ানো হোক।
বগুড়ায় অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে ৭৮ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাজিয়া জাহান (৪০) নামে গৃহবধূর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা করা হয়েছে। দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান সম্প্রতি এ মামলা করেন। গতকাল সোমবার বিকালে দুদক কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাজিয়া জাহান যমুনা ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার বরখাস্ত সাবেক ব্যবস্থাপক সাওগাত আরমানের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রধান কার্যালয় নির্দেশ দেয়। নাজিয়া জাহান গত ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।
সম্পদ বিবরণী যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের নামে ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যমানের স্থাবর সম্পদ এবং ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬১ টাকা মূল্যমানের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে নাজিয়া জাহান দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন।
এভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দিয়ে তিনি দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
অপরদিকে সম্পদ বিবরণী যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের নামে মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ঋণ/দায়ের স্বপক্ষে কোনও রেকর্ডপত্র দেখাতে পারেননি। ঋণ/দায় ব্যাংকিং চ্যানেল কর্তৃক সমর্থিত না হওয়ায় তার নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা।
এ ছাড়া যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ফলে পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৬১ হাজার ২৬১ টাকা। আয়কর নথি পর্যালোচনায় তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ১২৪ টাকা।
তাই নাজিয়া জাহান জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ১৩৭ টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ-দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান গতকাল সোমবার বিকালে জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর সম্প্রতি তিনি নিজ কার্যালয়ে ওই আসামির বিরদ্ধে মামলা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার পর তদন্ত শেষে চার্জশিট ও বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
রোজার আগেই কুড়িগ্রাম ও হিলির বাজারে লাগামহীন হয়ে ওঠেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। গত দুই দিনে লেবু, রসুন, শসা, গাজর, বেগুন ও আদাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আলুর দাম রয়েছে নাগালের মধ্যে। জেলা শহরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে জানা যায়, রোজার আগেই লেবুর দাম বেড়ে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। গত দুই দিনের ব্যবধানে শুকনা মরিচ, রসুন, আদা এবং সয়াবিন তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আলুর স্বল্পমূল্যে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বেড়েছে বেগুন, গাজর ও শসার দাম। পেঁয়াজের দামও কিছুটা বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মোকামে দাম বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে ভোক্তাদের চাপে পড়তে হচ্ছে। রমজানে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোকামগুলোতে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের।
শহরের জিয়া বাজারের পাইকারি আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই দিনে শুকনা মরিচের দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলা শহরের জিয়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর জানান, রসুন, শুকনা মরিচ, আদা, বেগুন, গাজরসহ বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। দাম বড়লেও খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভ বাড়েনি। তারা বেশি দামে কিনছেন বলে বেশি দামেই বিক্রি করছেন। কিন্তু তাদের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের ব্যবধান আগের মতোই আছে।
পৌর বাজারের ব্যবসায়ী ওলিল বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে যে লেবু প্রতি পিস কিনেছিলাম ৫ টাকা, এখন সেই লেবুর পিস হইছে ১২ টাকা। দুই দিন আগে রসুন ৯০ টাকা কেজি কিনছি। এখন কিনছি ১৬০ টাকা। বেগুন ছিল ২৫ টাকা, এখন ৫০ টাকা কিনতে হচ্ছে। শসার কেজি ছিল ৪০ টাকা, এখন ৫০ টাকা। গাজর ছিল ২০ টাকা, এখন কিনতে হচ্ছে ৩২ টাকা। করলাসহ আরও কয়েকটা শবজির দামও বেড়েছে। রোজার জন্য লেবুসহ সব জিনিসের দাম বাড়ছে। আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি। কয়েক রোজা গেলে হয়তো দাম আবার কমতে পারে।’
এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে লিটার প্রতি পাঁচ টাকা। বোতলজাত তেলের দাম বাড়ারও গুঞ্জন চলছে। সবমিলে এবারের রমজানেও নিত্যপণ্য নিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তির কোনো লক্ষণ মিলছে না।
তবে রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য উপকমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় বাজারগুলোতে দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের দামের তালিকা টানিয়ে দেওয়াসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিক্রির সময় খাদ্যদ্রব্য নিরাপদ রাখতে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউএনওরা বাজারগুলোতে মূল্য তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেবেন।’
সরবরাহ কমের অজুহাতে রমজান শুরুর আগেই দিনাজপুরের হিলিতে লেবু ও শসার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। হঠাৎ দাম বাড়াই বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দোকানেই লেবুর দেখা মিলছে না। দু’একটি দোকানে থাকলেও দাম বাড়তি। একইভাবে সব দোকানেই শসার দাম বেশি। দুদিন আগে যে লেবুর হালি ২০-৩০ টাকা বিক্রি হয়েছিল, তা এখন বেড়ে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আকারে বড় লেবুর দাম কেউ কেউ ৭০-৮০ টাকা হালি বিক্রি করছেন। শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন আগের মতোই ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ২০ টাকা কেজি, শিম ২০ টাকা কেজি, টমেটো ৪০ টাকা কেজি, আলু ১৫-১৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে আসা নির্মল কুমার বলেন, ‘বাড়িতে অনুষ্ঠান থাকায় লেবু লাগবে। কিন্তু বাজারে এসে দাম শোনে অবাক হয়েছি। এক হালি লেবু চাচ্ছে ১০০ টাকা। এটি কী মেনে নেওয়ার মতো। জীবনে এত দাম দিয়ে লেবু কিনে খাইনি। তারপরও এখন যেহেতু লাগবেই সেহেতু ১২০ টাকায় দুই হালি নিয়েছি।’
আরেক ক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, ‘দুদিন আগেই বাজার থেকে লেবু কিনে নিয়ে গেলাম ২০ টাকা হালি। অথচ সেই লেবু আজ কিনতে এসে দাম শুনি ৬০ টাকা হালি। আরেকটু বড়গুলোর দাম আরও বেশি। রমজান শুরু না হতেই বাজার অস্থির। কমবেশি সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এটা তো চিন্তার বিষয়।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘কেউ যেন কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। বিশেষ করে রমজানকেন্দ্রিক যেসব পণ্যের চাহিদা থাকে সেগুলোর দাম বাড়াতে যাতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখছি। এরপরও কারও বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৫ পাওয়ার জেল এবং ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার।
বিজিবি জানায়, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) ও র্যাব-৯ এর সমন্বয়ে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাধীন কাজলসার ইউনিয়নের রায়গঞ্জ এলাকার আটগ্রাম পেট্রোবাংলা পয়েন্টের রায়গ্রাম যাত্রী ছাউনির পেছনে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫ পাওয়ার জেল এবং ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিজিবি ও র্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলো জিডি মূলে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।