কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়
সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।
এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।
চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।
মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’
দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।
আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’
কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’
মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল
মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।
চার বছর পর পর ফিরে আসা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেও। চায়ের আড্ডা, প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানো, গায়ে জার্সি চড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক আর রাত জেগে খেলা দেখার আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রিয় দল নিয়ে তাদের পছন্দ ও যুক্তি ভিন্ন হলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং বিশ্বকাপ ঘিরে উচ্ছ্বাসে সবাই একই সুতোয় গাঁথা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ সমর্থক ও লিওনেল মেসির ভক্ত। বিগত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পর এবারও দলটিকে অন্যতম ফেভারিট মনে করেন তিনি। তাসফিয়া বলেন, 'এবারের বিশ্বকাপটি আমার কাছে একটু বেশি আবেগের, কারণ হয়তো এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তবে শুধু মেসির কারণেই নয়, আমাদের পরিবারে আর্জেন্টিনা সমর্থনের একটি ঐতিহ্য রয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ হলে উত্তেজনার পারদ অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, ট্রফির চেয়েও খেলোয়াড়দের মাঠের বিনয় এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান মনে করেন, বিশ্বকাপের সৌন্দর্য কেবল ট্রফি জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, 'বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো মানুষের মধ্যে আনন্দ আর ঐক্যের এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করা। প্রিয় দল জিতলে আনন্দের সীমা থাকে না, আবার হারলে মন খারাপ হয়। কিন্তু ফুটবল আমাদের ধৈর্য ধরতে, অপেক্ষা করতে আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা না ছাড়তে শেখায়।'
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের চিরন্তন রেষারেষি প্রসঙ্গে রাতুল জানান, 'মেসি নাকি নেইমার এই নিয়ে যে নির্ভেজাল তর্ক-বিতর্ক চলে, সেটাই মূলত বিশ্বকাপের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে এই রেষারেষির মধ্যেও পারস্পরিক সম্মান থাকা উচিত। আমাদের নীতি হওয়া উচিত মাঠে লড়াই, মাঠের বাইরে শ্রদ্ধা।'
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আফিয়া জামান নিজেকে ব্রাজিলের সমর্থক দাবি করলেও নিয়মিত ফুটবল খেলা দেখেন না। তবে বিশ্বকাপের সময়কার সার্বিক পরিবেশ তাকে দারুণভাবে টানে। আফিয়া বলেন, 'বাংলাদেশে বিশ্বকাপ মানেই এক উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রিয় দলের জার্সি পরে ঘুরে বেড়ানো, ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে থেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ, আর সবাই মিলে একসাথে চিৎকার করে খেলা দেখা এই অনুভূতিগুলো সত্যিই অতুলনীয়।'
তিনি আরও বলেন, 'বন্ধু-বান্ধব, পরিবার বা সহপাঠীদের সাথে দল নিয়ে যে তর্ক চলে, সেটাই আসল মজা। দিনশেষে এটি কেবল একটি খেলা নয়, বরং সবাই মিলে আনন্দ করার এবং সম্পর্কগুলোকে আরও মজবুত করার একটি বড় সুযোগ।'
অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন মুজাহিদের ফুটবল দর্শন একটু ভিন্ন। তিনি জার্মানির কড়া সমর্থক। মুজাহিদের চোখে ফুটবল মানে কোনো একক ব্যক্তির নৈপুণ্য নয়, বরং একটি সুসংগঠিত দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, 'জার্মান ফুটবল মানেই হচ্ছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, জ্যামিতিক কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যকার চমৎকার বোঝাপড়া।' জার্মান দলের খেলার ধরন ব্যাখ্যা করে মুজাহিদ বলেন, 'গেগেনপ্রেসিং এর মতো আধুনিক রণকৌশল এবং মাঠের প্রতি ইঞ্চি জায়গাকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগানোর যে দক্ষতা তারা দেখায়, তা সত্যিই বিস্ময়কর। ফুটবল আসলে নিয়মের খেলা। সঠিক পরিকল্পনা ও দলগত প্রচেষ্টা থাকলে সাফল্য আসবেই।'
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত থেকে স্পষ্ট, সমর্থনের রং ভিন্ন হলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসায় তারা সবাই এক ও অভিন্ন। ভৌগোলিক দূরত্ব বা দলের ভিন্নতা ভুলে তরুণ সমাজ মেতে ওঠে অভিন্ন উল্লাসে। তাই শেষ পর্যন্ত ট্রফি কোন দলের হাতে উঠবে, সেটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই বিশ্বকাপ ঘিরে তরুণদের প্রাণচঞ্চল অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে ওঠা মানবিক সংযোগ।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টা অতি ভারি বৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২১ জুন) সকালে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, “সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি (ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে।”
একই সাথে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তাও প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় প্রশাসনের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হ্যান্ডকাপসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয় মাদক কারবারীরা। শনিবার বিকেলে উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খানের নেতৃত্বে দৌলতদিয়া এশিয়া বোডিং এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় আশীষ চন্দ্র শীলকে গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। তিনি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বেলিশ্বর গ্রামের আনন্দ চন্দ্র শীলের ছেলে। তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করা হয়।
অপরদিকে দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী বেবীর ছেলে ফয়সাল (২৪) কে মাদক ও টাকা সহ গ্রেফতার করে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়। এ সময় হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপসহ সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ছিনিয়ে নেয়। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন আহত হন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, পোড়াভিটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুজন আসামিকে মাদকসহ আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একজনকে ভ্রাম্যমান আদালত সাজা দেন। অপরজনকে হ্যান্ডকাপ পরানোর পর মাদক ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা করে ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাস্থলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন আহত হন। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোর অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
শনিবার (২০ জুন) শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, সকাল ৭টার দিকে চার শিশু, ১১ নারী ও পাঁচ পুরুষসহ মোট ২০ জনকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয় এবং সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেয়।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সমঝোতার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শূন্যরেখার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ওই ২০ জনকে বিএসএফের ১১৯ ব্যাটালিয়নের সুখদেবপুর ক্যাম্পের মাধ্যমে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন বলেন, পুশ ইনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন। তারা বিজিবির প্রতি সমর্থন জানান এবং ঘটনার প্রতিবাদ করেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা গ্রামবাসীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশও সহযোগিতা করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বাদশাহ জানান, ঘটনার একপর্যায়ে বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যরা কয়েক গজ দূরত্বে মুখোমুখি অবস্থান নেন। বিএসএফ সদস্যরা বিজিবিকে সরে যেতে বললেও বিজিবি সদস্যরা দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন, ‘এক পা-ও সরব না।’ পরে প্রথমে পুশ ইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায় বিজিবি।
শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়। বিকেলে সীমান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসে এর আগে জেলার গোমস্তাপুর সীমান্তে তিন দফায় ৪৪ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিএসএফ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশজুড়ে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় ৪ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এ সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী পাঁচ দিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৫ দিনে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী ৩ দিন গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদীগুলোর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। সেই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ দিনে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এই অবস্থায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম ও কংস নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ভুগাই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ দিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি এই সময়ে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় এসব নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও খোয়াই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি যাদুকাটা, মনু ও ধলাই নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ৩ দিনে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে সেলোনিয়া গোমতী, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ৩ দিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন চালু কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা ও সুধী সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আগস্টের মধ্যে ঢাকা-পাবনা একটা রেল চালু করতে চলেছি। লোকোমোটিভ ইতোমধ্যে প্রস্তুত আছে। আমাদের কোচ আসছে। আগামী মাসে আমরা কিছু কোচ পেয়ে যাব এবং কোচ পেলেই প্রথমেই আমরা দুটি লাইন চালু করছি। একটা হচ্ছে ঢাকা-পাবনা। পরবর্তীটা ঢাকা-খুলনা।
তিনি বলেন, আমি খুলনার মানুষ। আমি মনে করেছি ঢাকা-পাবনার অগ্রাধিকারটা অনেক বেশি। কারণ সাফারিংটাও তাদের বেশি। তো নিশ্চয়ই পাবনারটা আগে হচ্ছে, তারপরে খুলনারটা চালু হচ্ছে।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য ও জনসেবার স্বার্থে পরিবহন খাতকে সুশৃঙ্খল করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের সহযোগিতা পাচ্ছে সরকার। পরিবহন সেক্টরের শৃঙ্খলা দরকার। এখন সে শৃঙ্খলাটা কীভাবে হবে, পরিবহন সেক্টরের সাথে যারা যুক্ত আছে তাদেরকে নিয়েই করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোও বর্তমান বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে উত্তরণ চায়। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি। তারাও একটা আমূল পরিবর্তন চায়, একটা শৃঙ্খলা চায়, একটা জবাবদিহিতার মধ্যেও থাকতে চায়।
সরকার একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বহুমাত্রিক (মাল্টিমোডাল) যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস একটি মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেটা আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত এবং স্বীকৃত, সেটি হয়তো বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হতে চলেছে।
পাবনার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি বলেন, একটা ডিপিপি প্রণয়ন বলেন—এগুলো একটা প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ। সেটি ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং অনুসরণ করে চলছে। নিশ্চয়ই যেহেতু পাবনাবাসীর দাবি একটা বৃহত্তর জনস্বার্থে, সামষ্টিক স্বার্থে। ডেফিনেটলি এটা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। আমি যেহেতু যোগাযোগ ব্যবস্থাপনাটা দেখছি—রেল, সড়ক এবং নৌ। সেখানে নৌ এবং সড়ক দুটোরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সেটা সমন্বয় করে ইতোমধ্যে আমরা অগ্রসর করছি। আমার বিশ্বাস দ্রুততম সময়ের মধ্যেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার গ্রহণ করবে।
এ সময় পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুফী উল্লাহসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় কূপে পড়া একটি ছাগল উদ্ধার করতে নেমে একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গারো জনপদ জলই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বাবা বাবুল হাদিমা (৪৮), ছেলে নেইমার ম্রং, বাবুল হাদিমার শ্যালক রতন নকরেক (২৬) ও ভগ্নিপতি গাব্রিয়েল সাংমা (৪২)।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক এ খবরটি নিশ্চিত করেন।
গারো আদিবাসী নেতা ইউজিন নকরেক জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল বাড়ির নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগলটি তোলার জন্য বাবুল হাদিমার স্কুলপডুয়া ছেলে নেইমার প্রথম কূপে নামে। কিন্তু তার সাড়াশব্দ না পেয়ে কূপে নামেন রতন। একপর্যায়ে তারও সাড়া না মেলায় কূপে নামেন গাব্রিয়েল। কিন্তু এদের কারও কোনো সাড়া না পাওয়ায় সবার শেষে নামেন বাবুল হাদিমা। তিনিও কূপ থেকে না উঠলে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ হয়।
গ্রামের সুসাং সাংমা জানান, এরপর মধুপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার দুই ঘণ্টা পর কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এলাকার ইউপি সদস্য হাসমত আলী জানান, পুরোনো কূপে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেখানে সম্ভবত গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
মুন্সীগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি।
সফরের শুরুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাজারে দুই তলা বিশিষ্ট গ্রামীণ মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি গজারিয়া উপজেলার আওতাধীন ব্র্যাক অফিস–ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের চেইনেজ ০ থেকে ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে মন্ত্রী মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ইসলামপুর এলাকার কাঠেরপুল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সেতুটির বর্তমান অবস্থা, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সেখানে একটি সেতু প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
এরপর মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউজে জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সকলের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে ‘I Have a Plan’ ঘোষণা করেছিলেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। তিনি তার পিতা-মাতার দেখানো পথে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।
মুন্সীগঞ্জবাসীর উদ্দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ এবং দেশের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের কতিপয় সংসদ সদস্য।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের সতর্কতা, সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ৫ম তলার ২১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনের ব্যাগ থেকে সুকৌশলে একটি মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে চোর চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে টহলরত আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ধাওয়া করেন।
আনসার সদস্যদের দ্রুত ও সাহসী ধাওয়ার মুখে চক্রের কয়েকজন সদস্য অন্ধকার ও ভিড়ের সুযোগে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুরাতন ভবনের ৫ম তলার গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে মোঃ সোহেল মিয়া (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হন আনসার সদস্যরা। প্রাথমিক তল্লাশিতে তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, মোবাইল ফোনটি চক্রের অন্য এক সদস্যের কাছে ছিল, যিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিকে আনসার সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে সদর থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন পিসি মোঃ ফারুক হোসেন। অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন আনসার সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন এবং মোঃ নজরুল ইসলাম। তাদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের ফলে চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তারা জানান, আনসার সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসেবায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব
পালন করে যাচ্ছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চোর চক্রের সদস্য আটক করার এ ঘটনাটি বাহিনীর সতর্কতা, সাহসিকতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন এবং এই তিন মাসে তিনি যে অভূতপূর্ব কাজ করেছেন, অন্য কেউ ক্ষমতায় থাকলে তিন বছরেও তা করতে পারত না।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর বিএনপির প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের স্মরণে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর শোকসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে যে পরিমাণ জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে, তার নজির পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই দীর্ঘ সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে জিয়া পরিবার এবং গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং জেলা-উপজেলা লেভেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছেন গোপালপুর ও ভূঞাপুরের মানুষ।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আরও বলেন, বর্তমানে দেশ এবং দল দুই জায়গাতেই নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং চক্রান্তের মাধ্যমে দলের ভেতর বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁরা সবাই জিয়া পরিবারের লোক এবং দলের সবাইকে তিনি নিজের পরিবারের সদস্য মনে করেন। তাই যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়া স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াসসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
চট্টগ্রাম মহানগরে পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় পর্যায়েও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। এর আগে গত বুধবার তিনি চকবাজার থানায় জিডিটি করেন, যেখানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি অভিযোগ করেন বলেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় নগরের হোটেল দ্য পেনিনসুলায় এনসিপির কমিটি গঠনসংক্রান্ত জরুরি আলোচনার কথা বলে সাদিয়া আফরিনের আমন্ত্রণে তিনি হোটেলের ১৫ তলার রুফটপ বারে যান। সেখানে এস এম সুজা উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রথমে তাকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রিংকস গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে সাদিয়া আফরিন সেখান থেকে চলে গেলে এস এম সুজা উদ্দীন তাকে নিজের পাশে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন এবং তাঁর সাথে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তাঁর আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক ছিল উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, তিনি এই কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এস এম সুজা উদ্দীন ও সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল দ্য পেনিনসুলার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করতে অলরেডি হোটেলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ তদন্তের স্বার্থে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।
দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, তার সব আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান সরকারের তিন মাসে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা বিগত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।
শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই মার্কেট ভবনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভবেরচর আধুনিক ভবনের উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের ২ হাজার মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। আর এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন ৭ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। আধুনিক যুগে এসেও একটি মাত্র সেতুর অভাবে ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের ভরসা এখনো একটি সাঁকোই। প্রতিশ্রুতি এসেছে বহুবার, কিন্তু এ সাঁকোর জায়গায় সেতু আর হয়নি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ৭ গ্রামের মানুষ।
সেতুর অভাবে বছরের পর বছর এ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেই চলাচল করেছেন তারা। বর্ষা এলেই সেই সাঁকোও পানির নিচে ডুবে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। চিকিৎসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা, মাঠের ফসল আনা-নেওয়া ও বাজার-সদাই এসব কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। এতে তারা অসহায় হয়ে আছেন।
সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গোলনগর এবং সনমান্দী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদীর দুই তীরের মানুষের যোগাযোগের জন্য নেই কোনো পাকা সেতু। ফলে দৌলরদী, গোলনগর, কুমারচর, জোয়ারদী, মুছারচরসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে সাঁকোটি ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ে। তাই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নারী, রোগী সবারই একমাত্র ভরসা নড়বড়ে এই সাঁকো। তখন তাদের চলাচল পুরোপুরি নির্ভর করে নৌকার ওপর। এদিকে এলাকাবাসী বলছে, এখানে সেতু না থাকায় এ সাত গ্রামের মানুষের সাথে কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না। এতে বিপাকে পড়ে মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে সাঁকোর বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভেঙেও পড়েছে। ফলে সাঁকো দিয়ে আর চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন নৌকায় করে নদী পারাপার করছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
দৌলরদী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই সাঁকো। এখন আমার বয়স ৫০ বছরের বেশি। কিন্তু এত দিনে একটি সেতুও হলো না। নির্বাচন এলেই সবাই প্রতিশ্রুতি দেন, পরে আর কোনো খোঁজ থাকে না।
কুমারচর এলাকার কলেজ ছাত্র সিফাত ও মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কলেজে যাতায়াত করতে হয়। কয়েক দিন আগে আমাদের এক সহপাঠী সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছে। এখন বর্ষার কারণে সাঁকো ডুবে যাওয়ায় নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে ক্লাসে যেতে পারি না। পরীক্ষার সময় এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক সুরুজ আলী জানান, ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হয়। অনেক সময় মাথায় বা কাঁধে মাল বহন করে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।
গোলনগর গ্রামে ৬০ বছরের সোলায়মান মিয়া জানান, সাদিপুর ও সনমান্দি ইউনিয়নের এ জায়গা একটি সেতু না থাকায় আমরা এখন খুবই কষ্টে আছি। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো সেতু না থাকায় আমাদের গ্রামসহ সাত গ্রামের মানুষের সাথে দুরের কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাঁকো পারাপারের সময় বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কেউ হাত-পা ভেঙেছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। তবু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। দুই ইউনিয়নের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, তিন যুগ ধরে যে সেতুর অপেক্ষা, সেই অপেক্ষা আর কত দীর্ঘ হবে? প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়া হাজারো মানুষের এখন একটাই দাবি-আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।