মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
১৪ মাঘ ১৪৩২

উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় হামুন

ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ২২:৩৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়

সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।

এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র‌্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।

চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।

মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’

দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।

আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’

কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’

মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল

মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।

নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।

বিষয়:

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

আপডেটেড ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৭
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিনি ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শনে যান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।

ক্রিস্টেনসেনের ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শনের কথা জানিয়ে ফেইসবুকে একটি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।

মেয়রের পোস্টে বলা হয়, পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

এসময় শাহাদাত হোসেন রাষ্ট্রদূতকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।

পরিদর্শনের সময় ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয় দুজনের মধ্যে। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও বলেন বলে মেয়র তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম নগরীর বাদশা মিঞা সড়কে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের জন্য এই ওয়ার সিমেট্রি প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এ ওয়ার সিমেট্রি প্রতিষ্ঠা করে। যুদ্ধ চলাকালীন চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্র বাহিনী চতুর্দশ সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সেখানে স্থাপিত হাসপাতালটি ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চালু ছিল। এসময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় যারা মারা গিয়েছিল, তাদের সম্মানার্থে সমাধিসৌধ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এই সমাধিতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৪০০ মৃতদেহ সমাহিত করা হয়।


হালদা নদীতে অভিযানে ৩৫০০ মিটার জাল জব্দ

মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩জন অবৈধ মৎস্য শিকারীকে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২ ঘটিকা হতে ৪.৪৫ ঘটিকা পর্যন্ত হালদা নদীর মগদাই স্লুইচ গেট এলাকা হতে কালুরঘাট ব্রিজ (হালদা মোহনা) পর্যন্ত চলমান অভিযানে ৩ জন অবৈধ মৎস্য শিকারীকে হাতেনাতে আটক করে ৫০০ টাকা করে মোট ১৫০০ টাকা সতর্কতামূলক জরিমানা করা হয়।

এ সময় প্রায় ৩৫০০ মিটার ভাসাজাল ও ২০ টি বড়শি জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. রাহাতুল ইসলাম। অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিমসহ নৌ পুলিশের রামদাশহাট ফাঁড়ির এএসআই মোহাম্মদ রমজান আলীর নেতৃত্বে নৌ পুলিশের টিম ও হালদার পাহারাদাররা সহযোগিতা করেন।

পরে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযান সম্পর্কে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেন, হালদার মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে।


নওগাঁয় টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় একটি বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বিলভবানীপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মনতাসুর রহমানের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, অজ্ঞাত ওই নারীকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বাড়ির মালিক মনতাসুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় তার বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকির ভেতরে একটি নারীর মরদেহ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে দেরি হওয়ায় তিনি রাতে নওগাঁ সদর মডেল থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। পরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিয়ামুল হক বলেন, মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


৯ ঘণ্টা পর সচল ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে স্বাভাবিক হয়েছে ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচল। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও লাইন মেরামতের কাজ শেষ হলে এই রুটে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে ভৈরব বাজার জংশনের কাছে একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হলে সারাদেশের সঙ্গে এই অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল-২’ ট্রেনটি ভৈরব বাজার জংশন ছেড়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্টেশনের কেবিন মাস্টারের সংকেত পেয়ে ট্রেনটি জংশন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার অগ্রসর হতেই ইঞ্জিনের পরের চতুর্থ বগিটি লাইনচ্যুত হয়। এতে স্টেশনের আপ ও ডাউন উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারও যাত্রী। লাইন বন্ধ থাকায় এই রুটের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে একাধিক ট্রেন, ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হন যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পরপরই রাতে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও, মঙ্গলবার সকালে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বগিটি লাইন থেকে সরিয়ে নিলে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।


ভৈরবে ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত: ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনে যাত্রীবাহী ট্রেন ‘ঢাকা মেইল-২ (ডাউন)’ এর একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাত (মঙ্গলবার ভোর) ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ভৈরব স্টেশন থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে জয়েন্ট লাইনের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ফলে ভৈরব জংশন দিয়ে আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে ভৈরব স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে বিরতি শেষে রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। স্টেশন ছেড়ে মাত্র ১৫০ মিটার এগোতেই হঠাৎ বিকট শব্দে ইঞ্জিনের পেছনের চার নম্বর বগিটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। তবে ট্রেনের গতি কম থাকায় এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করার উদ্যোগ নেয়।

স্টেশন মাস্টার আরও নিশ্চিত করেছেন যে, লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন তলব করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় রিলিফ ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। আপাতত বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের স্টেশনেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।


ঝিনাইদহে ভোটার উব্ধুদ্ধকরণে ইমাম সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটের প্রচার ও ভোটার উব্ধুদ্ধকরণে ঝিনাইদহে জেলা ইমাম সম্মেলন হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের একটি পার্কে এ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক রিয়াজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

বক্তারা, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে বলেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে গণভোট সম্পন্ন করতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা খুৎবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন হয়ে দায়িত্বশীলভাবে ভোট প্রদানের পরামর্শ দেন। সম্মেলনে জেলার ৬ উপজেলার ৭০০ জন ইমাম অংশ নেয়।


সোনারগাঁয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম জলি বেগম (৪০)। সোমবার সকালে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুপুরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পর নিহতের স্বামী রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর এলাকায় আব্দুল আজিজের ভাড়াটিয়া রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ইসলাম কয়েকদিন ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে তার স্ত্রী জলি বেগমের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় মানসিক ভারসাম্যহীন রবিউল ইসলামকে আটক করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলার আতাইকুলা থানায় বনগ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে জলি আক্তার ও একই এলাকার আবির হকের ছেলে রবিউল ইসলাম উত্তর সোনাপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ মিয়ার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। হঠাৎ রবিউল ইসলাম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সোমবার বাড়ি ফাঁকা পেয়ে তার স্ত্রীকে গলা চেপে ধরে হত্যা করে।

সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।


রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা আনার অঙ্গীকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস’ এ প্রতিবাদ্য নিয়ে সোমবার সকালে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সদস্য জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ, বিশেষ অতিথি যশোর অঞ্চলের কর কমিশনার মাসুদ রানা, যশোর ভ্যাট কমিশনার মো. আব্দুল হাকিম, বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি শামছুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে রাজস্ব আহরণের কোনো বিকল্প নেই। সে কারণে সামর্থ্যবান প্রতিটি সেক্টর এবং ব্যক্তিকে করের আওতায় আনতে হবে। রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা আনতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে।


কাতারে চারতলা ভবন থেকে পড়ে কুলাউড়ার শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কাতারে কর্মরত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার এক প্রবাসী নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার কাতারের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে একটি বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত চারতলা ভবন থেকে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত প্রবাসীর নাম লিটন দাস (২৩)। তিনি কুলাউড়া উপজেলার ছকাপন এলাকার বাসিন্দা নান্টু দাসের ছেলে।

লিটন দাসের বন্ধু জামিল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কাজের সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে চারতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে যান লিটন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান। লিটনের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, সহকর্মী ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


সোনাইমুড়ীতে শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। নবম তম শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি ২০২৬ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বৌদ্ধ পরিষদ নোয়াখালী শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

সোমবার দুপুরে সোনাইমুড়ী পৌরসভার কৌশল‍্যারবাগ শহীদ জীবন কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার চত্বরে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হাতে কম্বল তুলে দেন আগত অতিথিরা।

নোয়াখালী বৌদ্ধ পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, শহীদ জীবন-কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক সৌরভ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী বৌদ্ধ পরিষদের সভাপতি, শহীদ জীবন-কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার কমিটির সভাপতি সংঘ সেবক বড়ুয়া।

নোয়াখালী বৌদ্ধ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কমিটি সোনাইমুড়ী উপজেলার সদস্য, মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত প্রবীর বড়ুয়া।

সংগঠক বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ, শহীদ জীবন-কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রিপন বড়ুয়া।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও শহীদ জীবন-কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার কমিটির সদস্যরা।


মাদককে ‘না’, তবু নবীন বরণেই স্পন্সর তামাক কোম্পানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসব, নিরাপত্তা আর শৃঙ্খলার বার্তা থাকলেও নবীনবরণ আয়োজনের অর্থায়ন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন। কারণ, এই আয়োজনের স্পন্সর তালিকায় রয়েছে একটি তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী সিগারেট কোম্পানি।

গত রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও, মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে তামাক কোম্পানির স্পন্সরশিপ কতটা সাংঘর্ষিক তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।

নবীনবরণ উপলক্ষে ক্যাম্পাস এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং প্রক্টোরিয়াল বডির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর থাকবে। অথচ মূল স্টেজের পাশেই ওপেনে মেয়েদেরকে দিয়ে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট সাথেই ফ্রি দিচ্ছে গ্যাস লাইট।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় সোনার বাংলা সার্কাস, লালন ও সাব-কনশাস। কিন্তু এসব আয়োজনের পেছনে অর্থায়ন নিয়ে সামনে আসে বিতর্কিত তথ্য। জানা যায়, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অন্যতম স্পন্সর হিসেবে যুক্ত রয়েছে রিয়াল ডায়মন্ড নামের একটি সিগারেট কোম্পানি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির উপস্থিতি মাদকবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।

ক্যাম্পাসের বাংলা বিভাগের একটা ছাত্র নাইম উদ্দিন জানান, একদিকে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে তামাক কোম্পানির স্পন্সর গ্রহণ এটি দ্বিচারিতার উদাহরণ। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এমন বার্তা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর। তামাকও এক ধরনের নেশাজাত পণ্য। সেটিকে পরোক্ষভাবে প্রমোট করার সুযোগ দেওয়া হলে জিরো টলারেন্স নীতির নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইলিয়াস হোসেন বলেন, স্পন্সর হিসেবে যাদের রাখা হয়েছে, সে বিষয়টি ওরিয়েন্টেশন কমিটি ভালোভাবে জানে। তবে ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে।

অন্যদিকে ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সানজিয়া সুলতানা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। এগুলো আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক স্যার দেখেছেন। স্পন্সর সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। স্পন্সরশিপের অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।


নেত্রকোনায় প্রকৌশলীর ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নেত্রকোণা সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেনের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দাপ্তরিক টেবিলে বসেই একজন ঠিকাদারের সঙ্গে ঘুষের টাকা নিয়ে দর কষাকষি করছেন তিনি। গত রোববার রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ঠিকাদার প্রকৌশলী ইমরান হোসেনকে ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডিল (৫০ হাজার টাকা) দিচ্ছেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বান্ডিলটি বারবার ঠিকাদারের দিকে ছুড়ে দেন। পরবর্তীতে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার পর তিনি তা গ্রহণ করেন এবং প্যান্টের পকেটে রাখেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘উত্তর বিশিউড়া এলাকার একটি রাস্তার কাজের বিল সংক্রান্ত বিষয়ে ওই ঠিকাদার টাকা দিচ্ছিলেন। কেউ বিষয়টি ভিডিও করছে তা আমি বুঝতে পারিনি। তবে অফিসে বসে এভাবে টাকা নেওয়া আমার ভুল হয়েছে।’ নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ: অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা সদরেই কর্মরত। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এক আদেশে তাকে জেলা পরিষদে বদলি করা হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি সদর উপজেলা কার্যালয়েই রয়ে গেছেন। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরান জানান, ভিডিওটির বিষয়ে তিনি অবগত এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনমনে প্রতিক্রিয়া: সরকারি অফিসে বসে প্রকাশ্যে এমন ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সমাজে ‘কাজ মানেই টাকা’ এমন এক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা এসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নেত্রকোনাবাসী।


ঝালকাঠিতে স্বর্ণালংকারের জন্য বন্ধুর মাকে হত্যা, যুবক আটক

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝালকাঠিতে নিলুফা ইয়াসমিন নামের পঞ্চাশোর্ধ এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে সজল খান নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক সজল নিহত নিলুফার ছেলের বন্ধু। নিলুফার নাক ও কানে ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার লুফে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সজল পুলিশের কাছে শিকার করেছে।

গত রোববার রাতে সজলকে আটকের পরে তার কাছ থেকে নিহত নিলুফার নাক ও কানের স্বর্ণালংকার এবং নিলুফার ব্যাবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিলুফা ইয়াসমিন খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক সজলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত রোববার মধ্যরাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।

সোমবার সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন নিহতের পরিবার ও এলাকার নারী-পুরুষ।

উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৬ টায় ঝালকাঠি পৌর খেয়াঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নিলুফা ইয়াসমিন নামের ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের নাকে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। কানের দুল ও নাক ফুল নেওয়ার জন্যই ওই নারীকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করে।


banner close