বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ পৌষ ১৪৩২

উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় হামুন

ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ২২:৩৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপকূল অতিক্রম শুরু করে হামুন। আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায়

সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীতে এর প্রভাব তেমন দেখা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস জানায়, হামুনের প্রভাবে উপকূলের ১৫টি জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। এ সময় বরগুনা, ভোলা, সন্দ্বীপ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এসব দুর্গত এলাকার ১৫ লাখ মানুষকে মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ৫ জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় গতকালই পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর নামিয়ে ৭ নম্বর এবং কক্সবাজারে ৬ ও মোংলায় ৫ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নদীবন্দরের সংকেতও।

এদিকে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তারও বেশি) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড় হামুন মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। খোলা হয়েছে মরিটরিং সেল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো। এ ছাড়াও ঝড় চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বরে ফোন করেও জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ১৬১৬৩ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল নম্বর হচ্ছে ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলবর্তী জেলাগুলোর সব ফায়ার স্টেশন থেকে গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার কাজ চালানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ব, ঘূর্ণিঝড় সময়কালীন এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সব কাজ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তর ঢাকায় খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। মনিটরিং সেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আরও জানানো হয়, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সব ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার স্টেশনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, প্রাথমিক চিকিৎসাকারী দল এবং একটি করে ওয়াটার রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স, চেইন স, হ্যান্ড স, রোটারি রেসকিউ স, স্প্রেডার, মেগাফোন, র‌্যামজ্যাক বা এয়ার লিফটিং ব্যাগ, ফাস্ট এইড বক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজসহ রাস্তাঘাট যান চলাচল উপযোগী করার কাজে ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে। এসব এলাকায় জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে। সব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রয়োজনে উপকূলবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও জনগণ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সারাক্ষণ সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে।

চট্টগ্রামে ১১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ে নগরবাসীকে তথ্য সরবরাহ ও জরুরি সেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চসিক।

মঙ্গলবার নগরীর দামপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ উপবিভাগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা জনগণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চসিকের কর্মীরা উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করেছে। দুর্গত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কাজ করছে রেসকিউ টিম।’

দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রেল রুমে ২৪ ঘণ্টা ০২৩৩৩৩৫৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেবা দেয়া হবে হবে বলে জানান তিনি।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ চসিকের বিভাগীয় সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৩৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু আছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীতে ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গতকাল সারা দিনই পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, থেমে থেমে দমকা হওয়া বইছিল। এদিকে ৭নং বিপৎসংকেত থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে কার্গো জাহাজসহ সব সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সভা করে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৬০০ টন চাল ও ১০ লাখ নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন।

আবাসিক হোটেল সি গোল্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমিন মুসল্লি বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে পর্যটকরা কুয়াকাটা ছাড়তে শুরু করেছেন। আবহাওয়া এমন থাকলে এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে না।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। গতকাল থেকেই আমরা মাইকিং করছি এবং তাদের নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করছি।’

কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উত্তাল ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র। বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘বিপৎসংকেতের ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং ও টহল জোরদার রয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’

মোংলায় সকালে প্রভাব পড়েনি, বিকেলে সাগর উত্তাল

মোংলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরে ৫ নম্বর সংকেত চললেও বন্দরে থাকা ১১টি দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক ছিল। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সব মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।

নোয়াখালীর সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর-চেয়ারম্যান ঘাটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর সংকেত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেতের আওতায় এনেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ঘাট থেকে স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বরগুনায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে আশ্রয় নিতে পারবেন।

বিষয়:

যশোরে দুটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদসহ ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে যশোরের দুটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান এই যাচাই-বাছাই শেষে যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ মোট সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে তথ্যের ঘাটতি থাকায় আরও চারজন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে তাদের তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, যেখানে বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির ও শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়নে ভোটারদের স্বাক্ষরে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের মনোনয়নপত্রের সিদ্ধান্ত বর্তমানে পেন্ডিং রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমানের মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছে।

অন্যদিকে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের আবেদনে ভোটার তথ্যে ত্রুটি থাকায় সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বিএনএফ প্রার্থী শামসুল হক এবং জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহকে তাদের তথ্য হালনাগাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদের মনোনয়ন বৈধ রয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন যে, আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে জেলার বাকি আসনগুলোর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে এবং যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা বিধি অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ পাবেন।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।


নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের মানবিক উদ্যোগে আপ্লুত সাধারণ মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বর্তমানে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য ও জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক আচরণের বাইরে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জনআস্থার এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি কেবল দাপ্তরিক কাজে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে আরও সুসংহত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র শীতের প্রকোপ বাড়লে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা যেমন—নীলফামারী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন, রাস্তার ফুটপাত, বাস টার্মিনাল এবং প্রত্যন্ত তিস্তার চরাঞ্চলে শীতার্ত মানুষের মাঝে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেছেন। মানবিক এই কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করছেন এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি সরাসরি তদারকি করছেন। কোনো জরুরি অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তিনি তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন, যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর জন্য একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের উচ্চপদে থেকেও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান যেভাবে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং সমস্যা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন, তা অত্যন্ত বিরল।

শহরের একজন বয়স্ক নাগরিক তসলিম উদ্দিন বাবু জেলা প্রশাসকের এই কর্মতৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান জেলা প্রশাসক কেবল এসিবলয়িত অফিসে বসে থাকেন না, বরং তিনি সাধারণ মানুষের কাতারে এসে তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হন। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, শিক্ষা সহায়তা এবং দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কার্যক্রমে তাঁর সরব উপস্থিতি পুরো জেলার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন অনন্য মানবিকতা প্রদর্শনের জন্য তিনি জেলাবাসীর কাছে ‘জনবান্ধব প্রশাসক’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান তাঁর কাজের দর্শন সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেকে প্রশাসক হিসেবে নয় বরং মানুষের সেবক হিসেবেই দেখতে পছন্দ করেন এবং নীলফামারীর প্রতিটি মানুষের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানই তাঁর দাপ্তরিক কাজের প্রধান অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই মানবিক ও সেবামূলক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নীলফামারী জেলা সারা দেশের জন্য একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।


বগুড়ায় খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় প্রিয় নেত্রীকে বিদায়

আপডেটেড ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বগুড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়েছে। বিকেলে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে মূল জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এই গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

কোনো পূর্ব আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ছাড়াই প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ে শামিল হতে বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষ আলতাফুন্নেছা মাঠে ভিড় জমান। জানাজায় উপস্থিত হাজারো মানুষ গগনবিদারী স্লোগান আর কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাঠ সংলগ্ন বাইতুল হাফিজ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল আজিজ এই জানাজায় ইমামতি করেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং প্রিয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই বগুড়া শহর ছিল কার্যত অচল। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে শুরু করে বড়গোলা, নিউ মার্কেট রানার প্লাজা হকার্স মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সম্পূর্ণ জনশূন্য চিত্র। ছোট-বড় দোকানপাট থেকে শুরু করে জেলা শহরের সমস্ত শপিং মল বিপণী বিতানগুলো ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে বন্ধ রেখেছেন।

জানাজা শেষে বগুড়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর শোক এখন বগুড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিরাজমান।


রোহিঙ্গাদের হৃদয়ে ‘মা’ খালেদা গেঁথে থাকবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত গোটা দেশ। সেই শোকের ছায়া পড়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতেও। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ভয়াবহ রোহিঙ্গা সংকটের সময় তার মানবিক ভূমিকা ও ক্যাম্প সফরের স্মৃতি নতুন করে আবেগে ভাসাচ্ছে হাজারো আশ্রিত রোহিঙ্গাকে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদে জোহরের নামাজের পর বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাদের উদ্যোগে পৃথক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

রোহিঙ্গা নেতারা জানান, চরম দুর্দিনে যখন বিশ্ব বিবেক অনেকটাই নীরব ছিল, তখন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া নিজে ক্যাম্পে এসে তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেছিলেন। সেই মানবিক সফর আজও রোহিঙ্গাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা তখন জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছিলাম, কোন আশার আলো ছিল না। সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া নিজে আমাদের দেখতে এসেছিলেন। একজন বড় নেত্রী হয়েও আমাদের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করেছিলেন- এটা আমরা কখনো ভুলব না।’

টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ছৈয়দ আলম বলেন, ‘তিনি শুধু ত্রাণ দেননি, তিনি আমাদের মর্যাদা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের ন্যায্য অধিকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। আজ তার মৃত্যুতে আমরা একজন মানবিক অভিভাবককে হারালাম।’

রোহিঙ্গা নারী নেত্রী আব্বাসী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বালুখালী ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি মোবারক নামের একটি শিশুকে কোলে নিয়েছিলেন। সেই দৃশ্য আজও আমাদের চোখে ভাসে। একজন মা যেমন সন্তানের কষ্ট বোঝেন, তিনিও তেমনভাবেই আমাদের কষ্ট বুঝেছিলেন।’

রোহিঙ্গা নেতারা স্মরণ করেন, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়া উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের দাবি তোলেন।

ওই সফরে রোহিঙ্গাদের জন্য মোট ৪৫ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে ছিল ১১০ টন চাল এবং ৫ হাজার শিশু ও ৫ হাজার সন্তানসম্ভবা নারীর জন্য বিশেষ খাবার। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল সরাসরি ৯ ট্রাক ত্রাণ বিতরণ করে।

রোহিঙ্গা নেতা হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘অনেক নেতা আমাদের নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজন সত্যিই আমাদের পাশে দাঁড়ান। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তেমনই একজন। আমরা কৃতজ্ঞ হৃদয়ে তার জন্য দোয়া করছি।’

রোহিঙ্গাদের ভাষায়, বেগম খালেদা জিয়ার মানবিক সফর ও সাহসী অবস্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়- এটি তাদের জীবনের এক অবিস্মরণীয় মানবিক স্মৃতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এই স্মৃতি বহন করবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং বলা হয়-আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার যানজট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতুর টোল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় একটি মালবাহী লরি বিকল হওয়ায় চট্টগ্রামগামী লেনে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। গভীর রাতের বিকল হওয়া লরির যানজট বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত সড়কে যানজটের প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। যানজট নিরসনে কাঁচপুর ও শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশের চেষ্টা চালায়। যানজটের আটকা পড়ে চট্টগ্রামগামী লেনে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা যায়, মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মালবাহী একটি লরি বিকল হয়। ওই সময়ে একটি লেনে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকল হওয়া লরিটি বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল শুরু হয়। যান চলাচল শুরু হলেও গতি ছিল ধীর। ফলে এ যানজট বিকেল ৩টা পর্যন্ত গড়ায়।

আসাদুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর ২টার দিকে মদনপুর পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। দুই ঘণ্টায় গন্তব্য পৌঁছানোর কথা থাকলেও ৫ ঘণ্টাও মনে হয় পারবেন না।

বাউশিয়া এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ জানান, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাঁচপুর সেতুর ঢালুতে ছিলেন। দুপুর পর্যন্ত তিনি মদনপুর পৌঁছাতে পারেননি। তা ছাড়া মহাসড়কের রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি ছিল। যানজটে আটকা পড়ে তিনি বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সায়দাবাদ থেকে ছেড়ে আসা হিমালয় পরিবহনের বাস চালক নুরুজ্জামান জানান, গভীর রাতে মহাসড়কে গাড়ি বিকল হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ বিকল হওয়া গাড়িটি সরিয়ে নিতে সময় নেওয়ার কারণে যানজট দীর্ঘ হয়।

কাভার্ড ভ্যানচালক মো. ইয়াসিন মিয়া জানান, রূপগঞ্জের রূপসী থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসে দীর্ঘ সময় যানজটে বসে থাকতে হয়েছে। যানজটে আটকে থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদির জিলানী জানান, মদনপুর এলাকায় একটি লরি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়। মহাসড়ক থেকে লরিটি দীর্ঘ সময়ের পর সরানোর কারণে দীর্ঘ হয় যানজট। লরি বিকলের কারণে অন্যান্য যানবাহন পারাপারের ধীরগতি হচ্ছিল। বেলা ১১টার দিকে লরি সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে যান চলাচলে ধীরগতি হয়।


সরিষাবাড়ীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরা জেলের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার উপর দিয়ে বহমান যমুনা, ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদীতে অবাদে চলছে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন। পেশাদার, অপেশাদার জেলে ও নদীর তীরবর্তী বাস করা সাধারণ মানুষরাও সহজে বেশি মাছ শিকারের আশায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। এতে করে দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্য।

একাধিক স্থানের স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন এই তিন নদীতে রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরতে আগ্রহী জেলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে জেলেরা নৌকায় ইজিবাইকে ব্যবহৃত বড় ব্যাটারি নিয়ে নেমে পড়েন নদীতে। নৌকায় থাকা ব্যাটারির সাথে একটি ইনভার্টার (ব্যাটারির বৈদ্যুতিক শক্তি কমবেশি করার যন্ত্র) যুক্ত করা হয়। সেই ইনভার্টার থেকে দুটি তার বের করে একটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং অপর তারটি একটি লোহার রডের সাথে যুক্ত করা হয়। রডের মাথায় রাখা হয় মাছ ধরার জন্য বিশেষভাবে বানানো জালি।

বিদ্যুতায়িত ওই রড ও জালি যখন নদীর পানিতে ফেলা হয় তখন জালির ৫-৭ ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকা মাছগুলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইলেক্ট্রিক শকের কারণে পানির উপরে ভেসে ওঠে। এ সময় ভেসে ওঠা মাছগুলো জালি দিয়ে নৌকায় তোলা হয়।

সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, কিছু জেলে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরার কারণে উপজেলার যমুনা, সুবর্ণখালী ও ঝিনাই নদীতে জাল ফেলে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক জেলে এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। আবার কেও কেও ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরছে। তবে বৈদ্যুতিক শকসহ অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবজানী ভৌমিক বলেন, ‘আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছি। চায়না জাল ও ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরার সরঞ্জাম পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।’


২০৬ সদস্যবিশিষ্ট নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নওগাঁ জেলা শাখার ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৬ মাসের জন্য অনুমোদিত কমিটিতে আরমান হোসেনকে আহ্বায়ক ও রাফি রেজওয়ানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদনান সাকিবকে মুখ্য সংগঠক ও মেহেদী হাসানকে মুখপাত্র করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদ্য মুখ্য সংগঠকের পদ পাওয়া সাদনান সাকিব।

সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলামের যৌথ স্বাক্ষরিত নোটিশে নওগাঁ জেলা শাখার ২০৬ সদস্য বিশিষ্ট এই আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন।

এদিকে আলোচিত মুখ ফজলে রাব্বিকে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে ৯ জনকে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ১ জন ও যুগ্ম সদস্য সচিব ১৬ জন, সিনিয়র সংগঠক ১ জন ও সংগঠক ২৩ জন, সিনিয়র সহমুখপাত্র ১ জন ও সহকারী মুখপাত্র ১২ জনকে এবং সদস্যপদে ১৩৮ জনকে রাখা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মুখ্য সংগঠক সাদনান সাকিব ও আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। কারণ গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম নওগাঁ জেলা শাখায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি দিয়েছে। আর আমরা যারা ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলাম তাদেরসহ অন্যান্য সহযোদ্ধা ভাইদের সাথে আলোচনা করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা মনে করি এতে কারও দ্বিমত নেই।’

তারা আরও বলেন, ‘আমাদের এই সংগঠন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটা প্ল্যাটফর্ম। আমরা আগে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, আগামীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব। কোনো রাজনৈতিক দলের অন্যায়ের কাছ মাথা নত করব না। সবসময় প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।’

সাদনান সাকিব ও আরমান হোসেন বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হবে সাধারণ জনগণের হয়ে কথা বলা। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা। সর্বোপরি একটা সুন্দর নওগাঁ গড়ে তোলা।’


নেত্রকোনায় শহীদ ক্যাডেট একাডেমির মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় শহীদ ক্যাডেট একাডেমির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের জেলা প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে নেত্রকোনা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট ১২২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করে শিক্ষার্থী সূর্য দত্ত। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শুধু মেধাবী হলেই চলবে না, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোনা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষকরা আহসান উল্লাহ, শফিউল আলম খান, জহিরুল ইসলাম, মামুন সিরাজি ও মুক্তাদির, মান্নান। বক্তারা শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।


প্রতিবন্ধিতা জয় করে সংসারের হাল ধরেছেন আব্দুর রহিম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

শারীরিক প্রতিবন্ধিত্ব নিয়ে সমাজের কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা অনুরূপ পন্থা অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে শুধু নিজেকে নয়, পরিবারের হাল ধরে স্বচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার মো. আব্দুর রহিম।

একটি দুর্ঘটনার কারণে তার দুই পা সম্পূর্ণ অচল। নেই কোন নিজেদের সম্পত্তি কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে জীবনের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও পিছিয়ে দিতে পারেনি। বরং প্রতিদিনের সংগ্রামই তাকে আরও শক্তিশালী করে তুললেও এখন তিনি কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত।

উপজেলার সামনে হোচিমিন পাইলট প্রিন্টিং হাউজে বসেই তিনি করে থাকেন ব্যানার, পোস্টার, লোগো, বিজনেস কার্ডসহ বিভিন্ন ডিজাইনের কাজ। আধুনিক সফটওয়্যারে দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তা ও নির্ভুল কাজে তিনি স্থানীয়ভাবে ইতোমধ্যেই পরিচিত একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। গ্রাহকদের সঙ্গে তার আচরণ, সময়মতো কাজ সরবরাহ এবং কাজের মান সবকিছুর সমন্বয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন সবার আস্থার জায়গা।

শরীরের দুই পা নিস্তেজ হলেও মনোবল তার অদম্য। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে শুরু করেন কর্মদিবসের প্রস্তুতি। হুইলচেয়ারের সাহায্যে তিনি চলাফেরা করেন। কর্মস্থলে আসেন সময় মতো কিন্তু বর্তমানে কিডনি সমস্যার থাকার কারণে ঠিকমত কর্মস্থলে আসতে পারছেন না।

প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহিমের বাবার কোন সম্পত্তি নেই, দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন, এখন তার কিডনিতে সমস্যা। সহায়তা পেলে তিনি সুস্থ হয়ে বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন ও অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।

জানা যায়, রহিমের বাবা মৃত ঘুতু মন্ডল ২০১২ সালে মারা যাওয়ার পর থেকেই সে সংসারের দায়িত্বভার কাঁধে নেন। নিজের কোন পৈত্রিক সম্পত্তিও নেই। নোটারির মাধ্যমে পাওয়া অন্যের চার শতক জায়গার উপরে তার মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে রহিমের বসবাস।

গত ২০০৫-২০১৫ সাল পর্যন্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কম্পিউটার অপারেটর অস্থায়ীভাবে চাকরি করতেন আব্দুর রহিম। দুই পা অচল হওয়ায় গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করলেও বর্তমানে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারের চিন্তা নিয়ে তিনি দিন পার করছেন। তার পেছনে প্রতিমাসে ঔষধ ছাড়া ডাক্তার ভিজিট ও রিপোর্ট বাবদ গুনতে হয় ৬ হাজার টাকা।

প্রতিবন্ধী আব্দুর রহিম বলেন, দুই পা অচল হয়ে জীবনযুদ্ধে লড়াই করা আমার জন্য সহজ ছিল না। আমার কর্মস্থলে হোচিমিন ভাই ও পাইলট ভাইয়ের মতো মানুষ আছে। তারা শুধু হামাক বেতনই দেন না বরং নানা সময় নানাভাবে আর্থিক সহায়তা ও মানসিক সমর্থন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

দোকানের স্বত্বাধিকারী পাইলট হোসেন বলেন, রহিম শুধু আমার কর্মী নয়, পরিবারের একজন সদস্য। অসুস্থতার মধ্যেও সে দায়িত্ব পালনে চেষ্টা করে। এটা আমাদের সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। আমরা সব সময় তাকে সম্মান করি ও পাশে থাকার চেষ্টা করি। সমাজের বিত্তবান মানুষরা যদি একটু সহযোগিতা করে, রহিমের মতো হাজারো রহিম আরও সাবলীল ভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

আক্কেলপুর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান বলেন, দুই পা অচল হওয়ার পরেও আব্দুর রহিমের জীবন সংগ্রাম সত্যিই প্রশংসনীয়। মানুষ ইচ্ছা ও চেষ্টা করলে কি না করতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আব্দুর রহিম। বর্তমানে তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।


থার্টিফার্স্ট নাইটে এবারও কক্সবাজারে থাকছে না উন্মুক্ত আয়োজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

আজ বুধবারের (৩১ ডিসেম্বর) সূর্যটি পশ্চিমাকাশে ‘ডুবে’ যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিদায় হবে ২০২৫ সালের। শুরু হবে নতুন বছরের সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষার পালা। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়ে পালন করা হবে থার্টিফার্স্ট নাইট।

তবে, বিগত বছর ছয়েকের মতো এবারও থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন নিয়ে সৈকতের বেলাভূমি বা উন্মুক্ত কোনো স্থানে আয়োজন থাকছে না কক্সবাজারে। কিন্তু পর্যটনের স্বার্থে নিয়ম রক্ষায় তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইজ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ, গ্রিন নেচার, সায়মন বিচ রিসোর্ট ও কক্স-টু-ডেসহ বেশ কিছু হোটেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনডোর প্রোগ্রাম আয়োজন করছে। তবে নিয়মরক্ষায় হোটেলের অতিথি, বিদেশি পর্যটক এবং বিশেষ মেহমান বাদে এসব অনুষ্ঠানে অন্যদের শরিক হওয়ার কোনো উপায় থাকছে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে অনেকে অনুষ্ঠান সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে পর্যটন নগরী কক্সবাজার লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বিগত দেড় দশক এমন চিত্রই দিয়েছে সৈকতের বেলাভূমি। এবারও থার্টিফার্স্ট এবং বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে কক্সবাজার সৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় অতিথি ও স্থানীয় মিলিয়ে কয়েক লাখ পর্যটক-দর্শনার্থীর সমাগমের আশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। তবে, কোনো আয়োজন না থাকায় এবারের থার্টিফার্স্ট নাইট বা নতুন বর্ষ বরণকেও ‘প্রাণহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান জানান, বেশ কয়েকটি হোটেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনডোর প্রোগ্রাম করার অনুমতি নিয়েছে।

ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) এবং কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে থার্টিফার্স্ট নাইট উৎসবের আগেই বিজয় দিবস, বড়দিন ও শীতকালীন ছুটিকে উপলক্ষ করে কক্সবাজার পর্যটকে ভরে গেছে। পর্যটকরা সমানতালে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, ইনানী, হিমছড়ি, চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথসহ পুরো জেলার পর্যটন স্পটে ভিড় জমাচ্ছেন। পর্যটক আকৃষ্ট করতে সাজানো রয়েছে সব স্থান। ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কয়েক লাখ পর্যটকের মিলন ঘটতে পারে। সৈকত তীরের প্রায় ৫০০ হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসে আগাম বুকিং আছে। এ ধারাবাহিকতা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

তারকা হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, ‘কক্সবাজারে বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশে আমরা শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ, থার্টিফার্স্ট নাইটসহ নানা দিবসকে পর্যটকদের কাছে উপভোগ্য করে তুলি। পর্যটক চাহিদার কারণে এবারও বলরুমে ইনহাউস গেস্টদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে পার্টির আয়োজন থাকছে। নিরাপত্তার কারণে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আয়োজন সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজের বিপণন ও রিজারভেশন প্রধান শামীম হাসান রনি জানান, অতীতের মতো নিয়ম রক্ষায় তারকা শিল্পীদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ অতিথিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে।

সেন্টমার্টিনের তরুণ ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে অতীতে ৭-৮ হাজার পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করতেন। তখন নতুন বছরকে বরণ ভালোই জমত। কিন্তু গত দুই বছরের মতো ধরাবাঁধা দুই হাজার পর্যটক আগমন করতে পারে। ফলে, নতুন বছর আমাদের জন্য বাড়তি কোনো বিনোদন আনছে না।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, থার্টিফার্স্ট নাইট ও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১০টি স্পটে তল্লাশি পোস্ট, সাতটি বিশেষ টিম, একাধিক মোবাইল ফোর্স নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোনো আতশবাজি, পটকা ফোটানো বা কোনো উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠানও করা যাবে না। পাশাপাশি রাত ১২টার পর উচ্চস্বরে মাইক কিংবা সাউন্ড বাজানো নিষেধ। এটা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য। অতীত সময়ের মতো বছরের শেষ সময় এবং থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে বিপুল পর্যটক উপস্থিতি মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তা বলয়ের ছক এঁকে আমরা মাঠে রয়েছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পর্যটকরা চাইলে গভীর রাত পর্যন্ত বিচে অবস্থান করতে পারবেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে থাকবে। বেশ কয়েকটি তারকা হোটেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভ্যন্তরীণ অতিথিদের জন্য অনুষ্ঠান করতে অনুমতি নিয়েছে।’


ঠাকুরগাঁও হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আরও বাড়ল নতুন বেড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকে। শীতকালে এর সংখ্যা এখন আরও কয়েকগুণে বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে ও দুর্ভোগ কমাতে সরকারি এই হাসপাতালে পেশেন্ট বেড প্রদান করেছে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শিশু ওয়ার্ডের জন্য এসব পেশেন্ট বেড হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহিন, হাসপাতালের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ডা. জয়ন্ত কুমার, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশু ওয়ার্ডের কয়েকটি বেড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসা নিতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর পৌরসভার উদ্যোগে শিশু রোগীদের জন্য মোট দশটি নতুন পেশেন্ট বেড সরবরাহ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি রোগী সেবা নিতে আসে। বিশেষ করে শীতকালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। শিশুদের জন্য বেডের ব্যবস্থা করায় পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

নতুন পেশেন্ট বেড যুক্ত হওয়ায় শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা আরও স্বাচ্ছন্দ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


বাগেরহাট-রামপালে পানিসংকট ও খাল দখলে কৃষি বিপর্যস্ত

সরকারি খাল ও খাস পুকুর অবমুক্তের দাবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট ও রামপাল উপজেলায় তীব্র পানিসংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারি খাল ও খাস পুকুর দখলের ফলে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ‎এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সরকারি খাল ও খাস পুকুর অবমুক্ত করার দাবিতে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাগেরহাট জেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। প্রায় ১৪০০ শতকে হজরত খানজাহান আলী (র.) এই অঞ্চলে কৃষি ও জনজীবনের উন্নয়নে অসংখ্য খাল, দীঘি ও জলাধার খনন করেছিলেন। এসব জলব্যবস্থা একসময় কৃষি উৎপাদন ও সুপেয় পানির প্রধান উৎস ছিল। তবে বর্তমানে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে অধিকাংশ খাল ও পুকুর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

‎বাগেরহাট উপকূলীয় জেলা হওয়ায় বাগেরহাট ও রামপালে লবণাক্ততার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি খাল ও পুকুর দখলের ফলে নদী ও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে পানির তীব্র সংকট। এর ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি অনাবাদী হয়ে পড়ছে। শুধু রামপাল উপজেলাতেই প্রায় ২৭ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমি বর্তমানে অনাবাদী।

‎সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ২৩১ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ হচ্ছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে। পতিত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৭০৭ হেক্টর এবং সারাবছর পানির নিচে থাকে প্রায় ১৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমি।

‎বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সরকারি পুকুর ও খাস পুকুর রাষ্ট্রের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি কিছু অসাধু ব্যাক্তিরা এই খাল ও পুকুর দখল করে মাছ চাষ করছে। আমি এগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত করব আর খাস পুকুগেুলো দখলমুক্ত করে নতুন প্রকল্প নিয়ে সংস্কার করে সুপেয় পানি নিশ্চিত করব।


রিপনের স্বপ্ন থেমে গেল, দেশে ফিরল নিথর দেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

কথা ছিল দেশে এসে বিয়ে করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বিয়ের অনুষ্ঠানের মেহমান ঠিকই এসেছেন, তবে নেই শুধু বিয়ের বর–কনে। যে ছেলেটি দুলাভাতির সাজে, দুহাতে লাগেজ নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ি ফেরার কথা ছিল- সে ফিরেছে নিথর দেহ হয়ে।

বন্ধুদের নিয়ে কত স্বপ্নের কথা বলেছিল- দেশে এসে বিয়ে করবে, সবাইকে নিয়ে আনন্দ করবে। কিন্তু সবকিছু থেমে গেল এক করুণ বাস্তবতায়। মরদেহবাহী গাড়ি যখন বাড়ির আঙিনায় ঢুকে পড়ল, তখন কান্নার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। ছোট-বড় সবার চোখে নেমে এলো অশ্রুধারা।

ঘরের বড় ছেলে হিসেবে পরিবারের হাল ধরতেই তিনি প্রবাস জীবনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ভাই–বোন, মা ও পরিবারকে নিয়ে ছিল অনেক স্বপ্ন, ছিল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। কিন্তু নিয়তির নির্মম ছোঁয়ায় সেই সব স্বপ্ন এক মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল- ভেঙে গেল একটি পরিবারের আশা-ভরসা।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছায় রিপনের মরদেহ। কফিন নামানোর সাথে সাথে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ঘরের বড় ছেলে, পরিবারের ভরসা- হঠাৎই অনন্ত যাত্রায় পাড়ি জমালেন।

রিপন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদণ্ডী গ্রামের শরীফপাড়ার সন্তান। জীবিকার তাগিদে প্রায় ১ বছর ৯ মাস আগে কাতারে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি ক্লিনার কোম্পানিতে কাজ করতেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন বড়- তাই পরিবারের হাল ধরার দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে।

গত ২৩ ডিসেম্বর কাতারের আল খোর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি। দুর্ঘটনার পর মরদেহ রাখা ছিল স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে। নানা আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে দেশে ফিরল তার নিথর দেহ।

রিপনের মৃত্যুতে গ্রামের প্রতিটি ঘরে নেমেছে শোকের ছায়া। ছেলে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তার মা- পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও শোকাহত।

এ গল্পটুকু যেন এক করুণ পুনরাবৃত্তি। কারণ রিপনের বাবা আবদুল গফুরও ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই বড় ছেলে হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রিপন। এবার সেই রিপনকেও হারাল পরিবার। জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।


banner close