হঠাৎই রাজশাহীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খুন-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী গত তিন মাসে ১৬টি হত্যাকাণ্ড ও ১৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধ কার্যক্রম বাড়ায় রাজশাহীবাসী উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন। এসব অপরাধের পাশাপাশি আছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। যদিও পুলিশের দাবি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে নিরাপত্তা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জাতীয় নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল সময় বেছে নিয়ে অপরাধীরা তৎপর হয়ে উঠেছে।
রাজশাহীতে গত ২৯ অক্টোবর ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কাজেম আলী এবং পল্লি চিকিৎসক এরশাদ আলী দুলাল (৪৫)। সে দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাইভেট চেম্বার শেষে বাড়িতে ফেরার পথে বর্ণালীর মোড়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতের শিকার হন ডাক্তার কাজেম আলী। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার মৃত্যু হয়। নিহত চিকিৎসক কাজেম আলী চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ। নগরীর লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখতেন। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার চেম্বার শেষে বাড়িতে ফেরার পথে বর্ণালীর মোড়ে তার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় তার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ওই সন্ত্রাসীরা। আহত অবস্থায় রাস্তা থেকে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। এর আগে রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর সিটিহাট এলাকার একটি নির্জন রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় এরশাদ আলী দুলাল নামে আরেকজন পল্লি চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত এরশাদ পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের কিষ্টগঞ্জ গ্রামের সামির হাজির ছেলে। পল্লি চিকিৎসক দুলাল চেম্বার রোগী দেখার সময় মুখশধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে ধরে নিয়ে যায়। যার ভিডিও দোকানের সিসি ফুটেজে দেখা গেছে। পরে তাকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে, কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, কিষ্টগঞ্জ বাজারে দুলালের নিজস্ব একটি চেম্বার রয়েছে। সেখানেই তিনি রোগী দেখেন এবং ওষুধ বিক্রি করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুলালকে তার নিজের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে মুখোশধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত মাইক্রোতে করে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসী তাদের বাধা দিতে গেলে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে তারা। রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর নগরীর চন্দ্রিমা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিল দুলালের পরিবার। পরে রাতে দুলালের মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।
সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দুই চিকিৎসক হত্যার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হয়ে ১৭ দিন আইসিইউতে থেকে মারা যান রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী নিশাদ আকরাম রিংকু। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকায় ৭টি হত্যাকাণ্ড ও ৮টি ছিনতাই এবং জেলা পুলিশ এলাকায় ৯টি হত্যাকাণ্ড ও ৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধ বাড়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন।
রাজশাহীবাসী অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহীর সভাপতি ডা. এ বি সিদ্দিক বলেন, ‘রাজশাহীর মতো শান্তির নগরীতে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। এখন একা একা বাসা থেকে বের হতেও ভয় লাগে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।’
তবে পুলিশের দাবি দুই চিকিৎসক হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্য হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম বলেন, ৯টি হত্যাকাণ্ড ও ৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। বেশির ভাগ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ছাড়া বিট পুলিশের কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অপরাধ প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেতন করা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বিজয় বসাক বলেন, মেট্রোপলিটন এলাকায় ৭টি খুনের মধ্যে ৫টির আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি মামলা ইউডি মামলা থেকে খুনের মামলায় পরিণত হয়েছে। ৮ ছিনতাই মামলার অধিকাংশই শহরের প্রাণকেন্দ্র বোয়ালিয়া থানা এলাকায় হয়েছে। অধিকাংশ মামলাতেই আসামি গ্রেপ্তার ও মালপত্র উদ্ধার হয়েছে। দুই চিকিৎসক হত্যার মামলা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল সময় বেছে নিয়ে অপরাধীরা তৎপর হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী, সিভি সোসাইটি, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে দ্রুত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
পঞ্চগড় সুগার মিল বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান সরকারি চিনিকল। এই প্রতিষ্ঠানটি বিগত ১৯৬৫-৬৯ সালে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড় জেলা সদরের ধাক্কামারায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
লোকসানের কারণে দীর্ঘ ৪ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের শেষের দিকে অন্তর্বতীকালীন সরকার পঞ্চগড় সুগার মিলটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রোপণ মৌসুমে ৮টি আখকেন্দ্রে ৮৪৬ একর জমিতে আখ চাষ হয়।
২০২৫-২৬ চলতি মৌসুম ৮টি কেন্দ্রে আখ চাষ হয় ৯৭০ একর জমিতে আখ সংগ্রহ হয়েছে এবং কিছু জমির আখ এখনো রয়েছে। গত মৌসুমের থেকে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১২৪ একর জমিতে আখ চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী (পঞ্চগড় চিনিকল) মো. আব্দুর রহিম জানান, পঞ্চগড় জেলায় ৩১টি আখকেন্দ্র রয়েছে, তার মধ্যে ৮টি কেন্দ্র সচল রয়েছে, এসব কেন্দ্রের আখ ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে দেওয়া হয়, পঞ্চগড় সুগার মিল চালু করতে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার একর আখের জমি প্রয়োজন।
ইক্ষ উন্নয়ন সহকারী মো. সফিয়ার রহমান (মির্জাপুর কেন্দ্র) তিনি জানান, গত বছর ৭৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছিল এই মৌসুমে বৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ হেক্টর, এভাবে যদি আখ চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় কৃষকের তাহলে দ্রুত পঞ্চগড় সুগার মিল চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মো. আব্দুল লতিফ প্রধান (কৃষক) তিনি জানান, আমি ৪ একর জমিতে আখ চাষ করতাম, পঞ্চগড় সুগার মিল বন্ধ হওয়ায় সেই জমি চা চাষ শুরু করছি।
মো. ফজলুল করিম ৬নং ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের কৃষক তিনি জানান, ২ একর জমিতে আখ চাষ করতাম মিল চালু থাকাকালীন, মিল বন্ধ হওয়ার পর অন্যান্য আবাদ করি, যদি পুনরায় পঞ্চগড় সুগার মিল চালু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে আবারও আখ চাষ শুরু করব।
সুকান্ত রায় আটোয়ারী উপজেলার কৃষক তিনি জানান, আমি প্রায় ৩০ একর জমিতে প্রতি মৌসুমে আখ চাষ করতাম, পঞ্চগড় সুগার মিল বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে মরিচ চাষ শুরু করি, মরিচ চাষ করে আমি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হই। তাই পুনরায় মিল চালু হলেও আমি আর আখ চাষ করতে ইচ্ছুক না।
পঞ্চগড় সুগার মিল-সংলগ্ন মিলগেট বাজারের ব্যবসায়ী মো. একরামুল হক মুন্না বলেন, ‘যখন সুগার মিল চালু ছিল তখন এই বাজারে লক্ষ টাকা থেকে কোটি টাকার ব্যবসা হইত, বর্তমানে সুগার মিল বন্ধ হওয়ায় এই বাজারে ব্যবসা কয়েক বছর থেকে মন্দা যাচ্ছে।’
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান তিনি জানান, পঞ্চগড় সুগার মিল চালু করতে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার একর আখের জমি প্রয়োজন, সেখানে এই পর্যন্ত রয়েছে ৯৭০ একর জমি, অবশিষ্ট ২০৩০ একর থেকে ৩০৩০ একর জমি প্রয়োজন, তাহলে পঞ্চগড় সুগার মিল চালু করা সম্ভব।
প্রোটিনের বিকল্প ও সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে কালো সৈনিক পোকা নওগাঁ জেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মাছ ও হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে এ পোকার লার্ভা ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমাতে পারছেন চাষিরা। বর্তমানে জেলায় অন্তত ১০ জন উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে এ পোকা উৎপাদন করছেন। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে এ খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালো সৈনিক পোকার বিশেষত্ব হলো এটি উৎপাদনে আলাদা দানাদার খাদ্যের প্রয়োজন হয় না। পচনশীল ফলমূল, শাকসবজি, বাজারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন জৈব বর্জ্য ব্যবহার করেই লার্ভা উৎপাদন সম্ভব। ফলে একদিকে যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হয়, অন্যদিকে কম্পোস্ট তৈরিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে এ পোকা।
সাধারণত আলো-বাতাস চলাচল করে এমন জালের ঘেরা স্থানে পোকাগুলো রাখা হয়। প্রজননের পর কাঠের স্তর বা নির্দিষ্ট স্থানে ডিম পাড়ে। কয়েকদিন পর ডিম থেকে লার্ভা বের হলে তা আলাদা করে জৈব বর্জ্যের ওপর লালন করা হয়। পাঁচটি ধাপ পেরিয়ে প্রায় ১৫-১৬ দিনের মধ্যে লার্ভা মাছ ও মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে।
সীমান্তের জেলা নওগাঁর রানীনগর উপজেলার লোহাচুড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা নাহিদ আক্তার নয়ন প্রায় দেড় বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা ‘মৌসুমী’র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ বিষয়ে ধারণা পান। পরে নিজ উদ্যোগে খামার স্থাপন করে শুরু করেন কালো সৈনিক পোকা উৎপাদন।
তিনি জানান, প্রতি কেজি লার্ভা উৎপাদনে তার খরচ পড়ে প্রায় ১৫ টাকা, আর বিক্রি করছেন ৬০ টাকা কেজি দরে। নিজের পুকুরের মাছের চাহিদা মিটিয়ে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকার লার্ভা বিক্রি করছেন। এতে মাছের খাদ্য ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পাশাপাশি তার খামারে একজনের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।
মাছ চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, দানাদার ফিডের উচ্চমূল্যের কারণে বিকল্প খাদ্যের সন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে। কালো সৈনিক পোকার লার্ভা তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া গেলে তা লাভজনক হবে। তিনি শুনেছেন, এ খাদ্য ব্যবহারে মাছ ও মুরগির স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
নওগাঁ সদর উপজেলার তিলোকপুর ইউনিয়নের উলিপুর গ্রামের কৃষক আহসান হাবিব জানান, বাজারে ফিডের দাম ৬০-৬৫ টাকা কেজি হওয়ায় মাছ চাষ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছিল। ২০১৯ সালে ইউটিউবে ভিডিও দেখে পরিবেশবান্ধব এই পোকা উৎপাদনে আগ্রহী হন। শুরুতে ছোট পরিসরে মাসে এক থেকে দেড় মণ লার্ভা উৎপাদন করতেন। পরে ২০২৪ সালে আর্থিক সহায়তা পেয়ে খামার সম্প্রসারণ করেন। এখন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত লার্ভা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কালো সৈনিক পোকা উৎপাদন একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়তা করে, অন্যদিকে ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন হ্রাসেও ভূমিকা রাখে। জৈব বর্জ্য দ্রুত পচন প্রক্রিয়ায় এনে তা পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তোলে এ লার্ভা।
মৌসুমী সংস্থার ফিল্ড অফিসার সাইদুর রহমান জানান, মাছ চাষে খরচ কমানো ও স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করতে আগ্রহী চাষিদের এ পোকা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকল্পটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নওগাঁ সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. বায়েজিদ আলম বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বেকার যুবক-যুবতীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে এ খাতে যুক্ত হলে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যয়, পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প প্রোটিন উৎস হিসেবে কালো সৈনিক পোকা নওগাঁয় মাছ চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যথাযথ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে এ উদ্যোগ জেলার অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ)।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) রাতে মন্ত্রীর বাসভবনে ডিএমএফ নেতৃবৃন্দ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ভবিষ্যতে যেকোনো ইতিবাচক কার্যক্রমে ডিএমএফ’র পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ডিএমএফ প্রেসিডেন্ট মো. দেলোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি ডা. তৃণা ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আরেসুল ইসলাম রাসেল, প্রচার সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান শাওনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে উপস্থিত ছিলেন মাসউদ বিন আব্দুর রাজ্জাক।
ডিএমএফ প্রেসিডেন্ট মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ডিজিটাল মিডিয়ার উন্নয়নে ডিএমএফ সব সময় যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।’
ডিএমএফ সেক্রেটারি ডা. তৃণা ইসলাম বলেন, ‘নিউজ মিডিয়া ও ডিজিটাল মিডিয়ায় গুজব ও অপতথ্য রোধে ডিএমএফ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগে সংগঠনটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’
নওগাঁর বদলগাছীতে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উপজেলার মিঠাপুর হাই স্কুলের জায়গায় এই পুকুর খননের কাজ সৈকত নামের এক মাটি ব্যবসায়ীকে দিয়ে করে নিচ্ছে। আবার সেই মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। তাও আবার খেলার মাঠ ও রাস্তা নষ্ট করে।
ইউনিয়ন বিএনপির এই নেতা মিঠাপুর হাই স্কুলের সভাপতি হওয়ায় নিজেই অনুমতি দিয়ে করে নিচ্ছে, যা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তার ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে হঠাৎ এই পুকুর খননের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় এক একর জমিতে বিশাল গভীর করে শুরু করা হয়েছে পুকুর খননের কাজ। পুকুরটির দক্ষিণ পাশে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য রয়েছে পাকা রাস্তা আর উত্তরে রয়েছে মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। অপরদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র ৪ ফিট দূরেই খনন করা হচ্ছে এই পুকুরটি। খননের গভীরতা হতে পারে ১৫ থেকে ২০ ফুট। ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ বিপজ্জনক মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জানা যায়, যে জায়গাই পুকুরটি খনন করা হচ্ছে সেই জায়গাটি মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের। যেটি একটি ডোবার মতো হয়ে পড়ে ছিল দীর্ঘদিন থেকে। এই ডোবার পাশেই অবস্থিত মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে ছোট ছোট শিশুরা পড়াশোনা করে থাকে। আর সেই সকল শিশু শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই ওই ডোবাটি ভরাট করার উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্টরা। সেই কারণে দীর্ঘদিন পড়ে ছিল ডোবা হয়েই। কিন্তু গত জুলাই আন্দোলনের পর মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সাধারন সম্পাদক আনেয়ার হোসেন মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হন। আর এই সুযোগে আনোয়ার হোসেন ওই স্কুলের সাথে থাকা ডোবাটি খননের পাঁয়তারা শুরু করে। অবশেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সেখানে পুকুর খননের কাজ শুরু করেন। শুধু তাই নয়, সেই মাটি আবার ইটভাটায় বিক্রিও করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও অভিভাবকরা বলছেন, যেভাবে পুকুরটি খনন করা হয়েছে, তাতে ছোট শিশুরা যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। আমরা সবাই আতঙ্কে রয়েছি। তাই বিদ্যালয়ে আসা শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পুকুর খননটি বন্ধ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।
মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক দিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেন, পুকুর খনন শুরুর সময় স্কুলের প্রায় সকল শিক্ষকরা নিষেধ করে ছিলাম আনোয়ার হোসেন কে। কিন্তু কেউ কোনো কথা শোনেনি। এরপর সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেছি। তিনি আরো বলেন, স্কুলের সামনে পুকুর খনন করা হলে যে কোনো সময় শিশু শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, মাটি বিক্রি করা হচ্ছে না, শুধু পার বাঁধা হচ্ছে।
ছোট শিক্ষার্থীদের কথা স্বরণ করে দিয়ে জানতে চাইলে তিনি গর্বের সহিত বলেন, সেই চিন্তা আমার। আমি এখানকার স্থানীয় ছেলে। সভাপতি আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে। জমিজমা তো আমাদেরই। প্রতিষ্ঠান আমরা করেছি। ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব সকলের। আপনি আসেন সরাসরি কথা বলি।
তাহলে আপনি পুকুর খনন করবেন এমন প্রশ্নে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উগ্র মেজাজে বলেন, এলাকায় স্থানীয় জনগণ, স্কুল এবং ইউএনও মিলে প্রাইমারির যতটুকু লাগবে, তারপর আমরা দেখব। এবং উগ্র মেজাজে বলেন, আপনি ইউএনওর সাথে কথা বলেন।
তবে এর আগে ভেকু দিয়ে মাটি কাটছিল সৈকত। তিনি বলেন, সংস্কার করতে কিছু মাটি থেকে যায়। সেগুলো আমরা নিয়ে যাই। সেই মাটিগুলো ইটভাটা বা ভরাটের ক্ষেত্রে কাজে লাগে-সেটা আপনি ভালো করে জানেন। তবে প্রশাসনের কেউ অনুমতি দেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ খননের জন্য বলেছে।
মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত বলেন, ওই জায়গাটি আমাদের স্কুলের। সেখানে একটি ডোবা ছিল। আমাদের স্কুলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সেখানে সংস্কার করে পুকুর বানাবেন বলে খনন করছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। তিনি আরো বলেন ঐ জায়গায় পুকুর খনন হলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুকুর খনন কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
চাঁদপুরের কচুয়ায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটায় দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন- খাদিজা (৩০), মাহমুদুল (৩৫) এবং শিউলি আক্তার (৪০)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে খাদিজা (দগ্ধ ৩৫ শতাংশ), মাহমুদুল (দগ্ধ ৪ শতাংশ) এবং শিউলি আক্তারকে (দগ্ধ ২ শতাংশ) দগ্ধ অবস্থায় নিয়ে আমাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসা হয়েছে। পরে তাদের বার্ন ইনস্টিটিউটের অরেঞ্জ ইউনিটে ভর্তি দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে খাদিজা আক্তারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
ছোট ভাই এর বউ ও ছোট ভাইকে হত্যা চেষ্টা মামলায় বড় ভাইকে ১ বছরের সাজা। মামলা সূত্রে জানা যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের আকবর আলীর বড় পুত্র আবু বক্কার ছোট ভাইদের ভিটা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে ভিটা বাড়ির জমি জবরদখল করে নেয়। এতে বাধা প্রদান করেন অন্যান্য ছোট ভায়েরা, সেই হিংসার বসবতি হয়ে আবু বক্কর তার ছোট ভাই বউ আনোয়ারা খাতুন ও সহোদর ভাই আবু সাঈদকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে।
ওই ঘটনায় আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করতে গেলে আবু বক্কর এর বাধার মুখে মামলা করতে না পেরে, সাতক্ষীরা আদালতে মামলা করে, আবু বক্কর ও তার বউ মনোয়ারাকে আসামি করে। যার মামলা নং সি আর ৩৮৩/২৩ মামলা টি তদন্তের জন্য আদালত পি বিআইকে দায়িত্ব দেয়। পিবিআই তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে রিপোর্ট প্রদান করে এবং দীর্ঘদিন মামলা শুনানির পর সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ৩নং আদালত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রায় প্রদান করে আবু বকরকে ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়, এবং ২ নং আসামি মনোয়ারা খাতুনকে খালাস দেয়।
মামলার এজহারে আরো উল্লেখ ছিল যে ছোট ভাই আবু সাঈদকে হত্যার উদ্দেশে রড দিয়ে মাথায় বাড়ি মারে আবু বক্কর, এ সময় আবু সাঈদকে রক্ষা করতে তার ভাবী আনোয়ারা খাতুন এগিয়ে আসলে। আনোয়ারা খাতুনকে আবু বক্কর তার বউ মনোয়ারা খাতুন ব্যাপক মরধর করে লোহার রড দিয়ে এতে আবু সাঈদ এর ডান হাত ভেঙে যায়। এ রায় প্রদানকালীন সময় আসামি আবু বক্কর ও তার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মামলায় বাদী পক্ষে পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এবি এম সেলিম আর আসামি পক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ (৫)।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কাভার্ড ভ্যান-অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এতে গুরত্বর আহত হয়েছেন অন্তত সাত থেকে আট জন। গুরত্বর আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কের সাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার কুন্ডু।
নিহতরা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফ বাজিত গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে অটোরিকশা চালক আল আমিন মিয়া (৩০)। অপরজন গাইবান্ধা শহরের পুর্বপাড়ার নারায়ন চন্দ্রের ছেলে অটোরিকশার যাত্রী গৌতম চন্দ্র (৬০)। তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক জানাযায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, একটি কাভার্ড ভ্যান সাদুল্লাপুর থেকে গাইবান্ধার দিকে যাচ্ছিল। যানবাহনটি গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কের সাহানা ফিলিং স্টেশন এলাকায় পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোর চালকসহ দুজন নিহত হন এবং একটি শিশুসহ গুরত্বর আহত হন অন্তত ৭-৮ জন।
তিনি আরও জানান, ঠিক এই মুহূর্তে আমাদের সামনে দুটি ডেডবডি (মৃতদেহ) রয়েছে। এর বাইরে এই মুহুর্তে নিহতের খবর আমাদের কাছে নেই। আহতরা রংপুরসহ বিভিন্ন হসপিটালে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা সামগ্রিক তথ্য জানার চেষ্টা করছি। এ সময় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গণশুনানি করেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘সামিউল ট্রেডার্স’ নামের একটি ইজারাদার প্রতিষ্ঠান নাসিরাবাদ মৌজায় ইজারা নিলেও নির্ধারিত এলাকা ছেড়ে সাহেবনগর ও চরলাপাং মৌজার কৃষিজমি ও বসতভিটার পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্রের সহায়তায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নদীভাঙন বাড়ছে এবং অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গণশুনানিতে এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, নবীনগরে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না এবং যেকোনো মূল্যে অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করতে হবে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কৃষিজমি ধ্বংস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি প্রয়োজনে যৌথ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এমপির সরাসরি উপস্থিতি ও গণশুনানিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে চরলাপাং ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা পাবে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া চা-বাগানের নিরিবিলি পরিবেশে বাস করেন ৮১ বছর বয়সী ভেরোনিকা কেরকেটা এবং তার ৭৬ বছর বয়সী বোন খ্রিস্টিনা কেরকেটা। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ দুই বৃদ্ধা মনে হলেও, তাদের কাছেই গচ্ছিত আছে বাংলাদেশের একটি প্রাচীন জনগোষ্ঠীর হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি। তারা দুজনই বাংলাদেশে খাড়িয়া ভাষার শেষ ধারক ও বাহক। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই দুই বোনের মৃত্যুর পর এ দেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে অতি বিপন্ন ‘খাড়িয়া’ ভাষা।
এক সময় চা শিল্পাঞ্চলে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর অসংখ্য মানুষের মুখে এই ভাষা শোনা গেলেও এখন তা কেবলই স্মৃতি। বর্তমান প্রজন্মের খাড়িয়ারা সাদ্রি-বাংলা বা দেশোয়ালি মিশ্রিত ভাষায় কথা বললেও প্রকৃত খাড়িয়া ভাষা জানেন কেবল ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনা। ভেরোনিকা কেরকেটা দুঃখ করে বলেন, ‘পাঁচ বছর আগেও আমরা কয়েকজন ছিলাম যারা এই ভাষায় প্রাণ খুলে কথা বলতাম। এখন শুধু আমি আর আমার বোন। আমরা চলে গেলে এই ভাষা শোনার আর কেউ থাকবে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৯৮.২৭ শতাংশ মানুষ বাংলায় কথা বললেও চা-বাগানাঞ্চলের ২৯ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব বৈচিত্র্যময় ভাষা। তবে বৈজ্ঞানিক ভাষা সমীক্ষায় খাড়িয়াসহ বম, কোল, খাসি, মুন্ডারি এবং রেংমিতচার মতো ভাষাগুলোকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ ৪১টি শ্রমিক কলোনিতে প্রায় হাজারখানেক খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ থাকলেও মূল ভাষাটি হারিয়ে গেছে চর্চার অভাবে।
২০১৭ সালে ‘বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার’ এবং ‘উত্তরণ যুব সংঘ’-এর মাধ্যমে ভাষাটি টিকিয়ে রাখার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনা শিশুদের এই ভাষা শেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আর্থিক ও কাঠামোগত সংকটে সেই উদ্যোগ বেশিদূর এগোয়নি। উদ্যোক্তা পিওস নানোয়া জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই আদিম ভাষা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না করলে খাড়িয়া ভাষা কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রশাসন আন্তরিক। খাড়িয়া ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
একটি জাতির পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার ভাষায়। ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার বিদায়ের সাথে সাথে একটি ভাষার সমাধি রচিত হবে কি না, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। ভাষা গবেষকদের মতে, এখনই শব্দকোষ তৈরি বা রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এই ভাষা সংরক্ষণের শেষ সুযোগ।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের পাঁচ বছর পরেও চালু হয়নি। ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর একদিনও চালু করা হয়নি এ সরকারি প্রকল্পটি। ফলে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন পৌর এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় শোধনাগারটি এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়। পাম্প হাউস, ওভারহেড ট্যাংক ও রিজার্ভ ট্যাংকের চারপাশ ঝোঁপঝাড়ে ঢেকে গেছে। স্লুইচবোর্ড, মোটর, ফিল্টার, পাইপ, জেনারেটর, ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমারসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি বা বিকল হয়ে গেছে অনেক আগেই। পাম্প গ্যালারি ও মেইন কন্ট্রোলরুমে নেই প্রয়োজনীয় মেশিনারি। ভবনগুলোতে ফাটল ধরেছে, দরজা, জানালাও নষ্ট। অভিযোগ ওঠেছে কাজের শুরুতেই তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে মূল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি এবং কাজটি ওই মেয়রের নিজের লোকজন দিয়ে করাতে বাধ্য হয় প্রকৃত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যে কারণে কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করা হলেও সে সময় কেউ প্রতিবাদ করার সাহয় পায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে নিয়মিত চুরি ও যন্ত্রাংশ অপসারণ হলেও প্রশাসনের তেমন নজরদারি ছিল না। পৌরসভা থানা গ্রোথ সেন্টার প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শোধনাগারটির নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় ছিল-ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, পাম্প হাউস, ওভারহেড ট্যাংক, ৩০০টি পাইপ সংযোগ। পরবর্তীতে পৌরসভা নিজ উদ্যোগে আরও ২০০টি সংযোগ স্থাপন করে।
সব মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ ঘনমিটার পানি সরবরাহের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত এক ফোঁটা পানি সরবরাহ করা হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, শোধনাগারটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে তারা কোনো পানির পাম্পটি কোনোভাবে পরিচালনাতেও যেতে পারছে না।
এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজিব হাসান রাজু বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে কাজ সম্পন্ন করে পৌর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব হস্তান্তর করি। কিন্তু পৌরসভার নথি অনুযায়ী হস্তান্তর সংক্রান্তে কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রকল্পটি পেয়েছিল মনির ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তৎকালীন শাসক দলের কিছু নেতার অনৈতিক চাপ আর হস্তক্ষেপে কাজটি অন্যদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মূল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কাজটি যারা হাতিয়ে নেয়, তাদের মধ্যে জীবননগর রুপা কনস্ট্রাকশনেরও নাম ওঠে এসেছে।
জীবননগর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, ‘টেকনিক্যাল লোকবল না থাকায় সিস্টেম চালু করা যায়নি। শোধনাগার পরিচালনার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত অপারেটর ও টেকনিশিয়ান। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, প্রকল্প চালু হওয়ার আগেই যদি সব যন্ত্রাংশ চুরি বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে কাজটি কতটা মানসম্পন্ন ছিল?’
তারা আরও বলেন, ‘কয়েক মাস ট্রায়াল চালিয়ে হস্তান্তরের কথা ছিল তা হয়নি। এখন ভবন, কোয়ার্টার, পাম্প সব ভাঙা-অকেজো। কোটি কোটি টাকার পুরো স্থাপনাটি এখন পৌরসভার সুইপারদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।’
পৌরবাসীর দাবি, যন্ত্রাংশ দ্রুত মেরামত বা পুনঃস্থাপন, প্রকল্পে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত, শোধনাগার চালু করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে এমন অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ করা।
পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকা জীবননগর পানি শোধনাগার প্রকল্পটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং একটি মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রকৃত উদাহরণ। সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের অবহেলা-দুর্নীতির কারণে প্রকল্পটি এখন পুরোপুরি অচল। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কোটি টাকার অবকাঠামো পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে।
কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণি হলেও রাজবাড়ী গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকার বাজারের প্রধান সড়ক খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কের বেহাল দশা। ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসীরা বলছেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী।
এদিকে, সাবেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সহজে এ সকল সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।
জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার ৮ নম্বর ওযার্ডের বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় দুটি সড়কে ইটের খোয়া দিয়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। এতে করে যানবাহন ও জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের তোড়াইড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার প্রধান সড়কে অনেক খানাখন্দে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ যানবাহন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চালকরা খানাখন্দে পার হতে দ্রুত গতির যানবাহন আঁকাবাঁকা ভাবে পার হচ্ছে, এতে করে পেছনে থাকা মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
পৌরসভার এক বাসিন্দা জানান, বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অনেক রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে ওয়ার্ডবাসী ও চলাচলকারী জনসাধারণ। ভাঙা রাস্তায় যান চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই দ্রুত সড়ক সংস্কার করা জরুরি।
গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, ওয়ার্ডগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে সড়ক, এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগসহ সকল সমস্যা সহজে সমাধান করতে পারবেন। এতে করে যেমন পৌরবাসী উপকৃত হবেন তেমনি উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে যাবে।
আরেক কাউন্সিলর বলেন, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর কাউন্সিলরদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়মূলক কাজ থমকে গেছে। তাই দ্রুত পৌর নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এলাকার সকল সমস্যা সমাধান হবে।
গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, ইতোমধ্যে বাসস্ট্যান্ড থেকে তোড়াইড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের মেরামতের টেন্ডার হয়েছে, খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।
গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার যে সমস্ত সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে সেগুলো খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমাধান করা হবে এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার রোডের প্রধান সড়কে যে খানাখন্দ রয়েছে সেটি দ্রুত মেরামত করা হবে।
কেশবপুরে দীর্ঘদিনের ডাক্তার সংকট কাটছে একসঙ্গে ৮ চিকিৎসকের যোগদানে বদলাতে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবার চিত্র। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটিয়ে নতুন আশার আলো দেখছে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) একযোগে ৮ জন নতুন মেডিকেল অফিসার যোগদান করায় জনবহুল এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার গতি ও মান দুটোই বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসার এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নতুন চিকিৎসকদের যোগদানের ফলে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ উভয় সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসকের ঘাটতি ছিল। এতে করে জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত সেবাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। একসঙ্গে ৮ জন নতুন চিকিৎসকের যোগদানের ফলে এখন প্রতিটি বিভাগে দায়িত্ব বণ্টন সহজ হবে এবং রোগীরা আগের তুলনায় দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন। আমরা চেষ্টা করছি সবাই যেন নিজ নিজ বিভাগে নিয়মিত ও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।’
নতুন যোগদান করা চিকিৎসকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, নতুন যোগদানকারী ৮ জন চিকিৎসক হলেন- নিতুন মণ্ডল চক্ষু বিভাগ, মোয়াজ্জেম হোসেন অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি, কৃষ্ণা কর্মকার ডেন্টাল সার্জন, তন্ময় তনু সরকার মেডিসিন, জিহাদুল ইসলাম সার্জারি, তন্ময় বসাক পেডিয়াট্রিকস, শিমুল হালদার গাইনি ও ইমারজেন্সি শারমিন ইয়াসমিন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জন চিকিৎসক যোগদানের ফলে হাসপাতালে মোট চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ জনে। তবে এর মধ্যে তিনজন চিকিৎসক বর্তমানে ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত থাকায় বাস্তবে রোগীদের সেবায় যুক্ত চিকিৎসকের সংখ্যা কিছুটা কম। দীর্ঘদিনের সংকট ও ভোগান্তির চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে যশোর শহর কিংবা দূরবর্তী হাসপাতালে ছুটতে হতো।
এদিকে নতুন করে চিকিৎসক যোগ দিলেও তারা দীর্ঘদিন অবস্থান না করার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন যোগদানকারী চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ বিভাগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রমে গতি আসবে এবং রোগীরা তুলনামূলক দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলাবাসী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে শুধু চিকিৎসক নিয়োগ নয়, তাদের নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে একসঙ্গে ৮ জন চিকিৎসকের যোগদান কেশবপুরের স্বাস্থ্যসেবায় নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি এস এম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি আলহাজ সামিউল আযম ইমাম মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদ্য শপথ নেওয়া জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শ্যামনগর একটি উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ জনপদ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এখানকার মানুষ জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রেখেছেন।’ উপকূল রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি জাতীয় সংসদে জোরালো দাবি উত্থাপন করবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ নয়, টেকসই বাঁধ, খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থাই হতে পারে শ্যামনগরবাসীর প্রকৃত নিরাপত্তা।’
তিনি প্রেসক্লাব ভবনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সাংবাদিকরা সমাজের উন্নয়ন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো যুক্তিনির্ভর সমালোচনার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেন। বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে উল্লেখ করে তিনি প্রেসক্লাবের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।’
উপজেলাকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও অবকাঠামোগতভাবে সমৃদ্ধ মডেল উপজেলায় রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে শহরায়ন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং একটি আধুনিক বাসটার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ পাশাপাশি সরকারি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি ও মৎস্য খাতে টেকসই উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আব্দুল মজিদ, উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, উপজেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা। প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।