গারো পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা নেত্রকোনা। সাদা-গোলাপি পাহাড়, নীল জলের পুকুর ও প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যভরা এই জেলায় ৫টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর মিলে নেত্রকোনা-১ সংসদীয় আসন। ধবধবে সাদা সিলিকন বালু, হাওর-বাঁওড় ও খনিজসম্পদ সমৃদ্ধ এলাকাটিতে এখন চলছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। এই আসনটি থেকে কোন দলে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, চায়ের দোকানগুলোতে তা নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়।
আসনটিতে সব দলেরই রয়েছে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আসনটিতে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও অনেক। ক্ষমতাসীন দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মানু মজুমদার।
এই দৌড়ে আরও আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহী, ছবি বিশ্বাস, শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল, নেত্রকোনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মহিদুর রহমান তালুকদার লিটন। এ ছাড়াও কলমাকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এরশাদুর রহমান মিন্টু, আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আতাউর রহমান খান আঁখিরসহ অনেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সরকার সমর্থক মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রায়ই নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, মোটরসাইকেলে শোভাযাত্রাসহ তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের নানান উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করছেন।
এলাকাবাসী জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ করার কথা জানিয়েছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও ২৮ অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার আগে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাসহ দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। তবে বর্তমানে ধরপাকড়ের ভয়ে তাদের বেশির ভাগই আত্মগোপনে আছেন।
বিএনপির কয়েকজন জেলা পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করে, তবে কে প্রার্থী হবেন তা এখনো অনির্ধারিত। তবে মনোয়নপ্রত্যাশী অনেক। এদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান মাসুদ, ঢাকা মহানগর আদাবর থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লুৎফুর রহমান খান ডিপটি। আছেন আরও কয়েকজন স্থানীয় মুখ।
জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পাটির সহসভাপতি গোলাম রব্বানীসহ আরও দু-একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রয়াত সাবেক এমপি জালাল উদ্দীন তালুকদারের ছেলে শাহ্ কুতুব উদ্দিন তালুকদার রুয়েল দৈনিক বাংলাকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জনসাধারণের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সব পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আমার নির্বাচনী এলাকায় বেশ ভালোভাবেই প্রচার করছি। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জালাল উদ্দীন তালুকদার সফল সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বাসী ও বিশ্বস্ত ছিলেন। তাই আমি আশা করছি, তার সন্তান হিসেবে আমাকে আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেবে কেন্দ্র।’
একই দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী রোটারিয়ান আতাউর রহমান খান আঁখির দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নেত্রকোনা-১ আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত। শিল্প, সাহিত্য, সমৃদ্ধ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনাময় এই পর্যটন অঞ্চলটিকে বাংলাদেশের মানচিত্রের একটি সমৃদ্ধশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি তৃণমূলে কাজ করে আসছি। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আমাকে এই আসনে নৌকার মনোনয়ন দিলে সব অপশক্তি এবং চক্রান্তের বিরুদ্ধে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে পারব।’
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর আদাবর থানার বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লুৎফুর রহমান খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তবে কেন্দ্র যদি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড নেত্রকোনা-১ আসনে আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে বিশ্বাস করি।’ তিনি নির্বাচিত হলে কলমাকান্দা-দুর্গাপুর সংসদীয় আসনকে আধুনিক ও মডেল এলাকায় রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমল খান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সাবেক এমপি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জালাল উদ্দীন তালুকদারের মৃত্যুর পর এ আসনে যারাই আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি হয়েছেন তাদের প্রত্যেকেরই পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ন্ত্রণে ছিল কলমাকান্দা-দুর্গাপুর সংসদীয় আসন। এখানে আওয়ামী লীগের দুর্দিনে ত্যাগী নির্যাতিত পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা উপেক্ষিত হয়েছেন। তাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানাচ্ছি, তৃণমূল পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য গণমানুষের কোনো নেতাকে যেন মনোনয়ন দেয়া হয়।’
দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ নারী নেতৃবৃন্দের জন্য আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম ‘সাউথ এশিয়া ইয়ং উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট একাডেমি’তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লার উদীয়মান নারী নেত্রী সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী।
সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (IDEA) এই ফেলোশিপের আয়োজন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন (UN Women)-এর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের তরুণ নারী নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।
ফেলোশিপটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্ব বিকাশ, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
এ প্রসঙ্গে সুমাইয়া বলেন, “আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আমার জন্য গৌরব ও সম্মানের। দেশের তরুণ নারীদের অবস্থান ও সক্ষমতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার এই দায়িত্ব আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব ইনশাআল্লাহ। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে সমৃদ্ধ করবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব গঠনে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করবে।”
সুমাইয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল গবেষক এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য-প্রযুক্তি সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মহানগর মহিলা দলের সহ-সভাপতি এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের তরুণ রাজনৈতিক ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সুমাইয়া ইতোমধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
এই ধরনের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণ নারীদের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতাকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরছে। সুমাইয়া বিনতে হোসাইনীর মতো নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ নারীরা আগামী দিনের পরিবর্তনের রূপকার হয়ে উঠবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের মানুষের।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। ৪ মাস ১৮ দিনে এই টাকা জমা পড়েছে মসজিদের ১৩ টি দানবাক্সে।
দিনভর গুনে দেখা গেছে, সেখানে জমা পড়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এ ছাড়াও পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে সকাল সোয়া ৭ টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর সকাল ৯ টার দিকে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে মেজেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। প্রায় পাঁচ শতাধিক গণনাকারীর অংশগ্রহণে গণনা চলে সন্ধ্যা ৮ পর্যন্ত।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহবায়ক মোঃ এরশাদুল আহমেদ রাত সোয়া ৮ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সকালে মসজিদটির ১১ টি দানবাক্স খুলে ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। এছাড়াও পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা। তখন ৪ মাস ১২ দিনে এই পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল মসজিদের দানবাক্সগুলোতে।
তখনকার সময়ে এই পরিমাণ অর্থ ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে।
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৪৫ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা, এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য গণনায় অংশ নিয়েছেন।
এই গণনায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আনাছ বলেন, আমরা সব সময় অধীর আগ্রহে থাকি কখন দানবাক্স খোলা হবে। পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত তিনি।
এছাড়াও দানবাক্সের টাকা গণনা দেখতে অনেকেই এসেছেন দূরদূরান্ত থেকে। তাদের মধ্যে একজন জাকারিয়া হোসাইন। তিনি এসেছেন হোসেনপুর উপজেলার সিদলা এলাকা থেকে। জাকারিয়া বলেন, পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেন। তবে এবার সরাসরি দেখতে মসজিদে ছুটে এসেছেন তিনি।
এই মসজিদে দান বা মানত করলে মনের মনে আশা পূরণ এমন বিশ্বাস থেকে দান করেন অনেকে। এমন বিশ্বাস থেকে পাগলা মসজিদে দান করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছিলেন নিলুফা রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পাগলা মসজিদে আসার ইচ্ছে ছিল তার। এবার সুযোগ পেয়ে মসজিদে এসে দান করেছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। দানবাক্স খোলা থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও থাকেন মসজিদ প্রাঙ্গণে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, পাগলা মসজিদে দানের টাকা থেকে বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা হয়ে থাকে। দানের টাকায় পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং এখানে বহুমুখী কাজ করা হবে। এখানে অনাথ–এতিমদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশনও থাকবে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দেবে এবং কাজ শুরু হয়ে যাবে।
এই মসজিদের বর্তমান আয়তন ৫ দশমিক ৫ একর। ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরও কিছু জায়গা কেনা হবে। এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জমা আছে।
ট্রেনের যাত্রী মা-মেয়েকে জুস পান করিয়ে অজ্ঞান করে খুলে নেন কানের দুল ও নাকের ফুল। এসময় পাশের যাত্রীরা ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে হাতেনাতে অজ্ঞান পার্টির মূল হোতা ফুল মিয়াকে (৫৫) আটক করেন। এসময় যাত্রীরা তাঁর কাছে থাকা জুস যাচাই করতে তাঁকে পান করালে তিনি অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েন। শনিবার (৩০ আগষ্ট) ভোরের দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উন নবী।
সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশ দুই ভুক্তভোগীসহ অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অজ্ঞান পার্টি চক্রের মূলহোতা ফুল মিয়া রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আব্দুল্লাহপুরের আব্দুস ছামাদের ছেলে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার করনাই এলাকার দক্ষিণ মালঞ্চ গ্রামের ইশনী রায়ের স্ত্রী কৌশিলা রায় (৫০) ও মেয়ে বীথি রানী (২৮)।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঝ’ বগির ৭৮, ৭৯ নম্বর সিটের যাত্রী কৌশিলা ও বীথি। তাঁরা দিনাজপুরের বিরামপুর স্টেশন থেকে সৈয়দপুরে আসছিলেন। পাশের সিটের যাত্রী ছিলেন অজ্ঞান পার্টি চক্রের মূল হোতা ফুল মিয়া। আলাপচারিতার একপর্যায়ে মা-মেয়েকে জুস পান করান তিনি। এতে ভুক্তভোগীরা অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁদের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেন ফুল মিয়া।”
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ-উন নবী জানান, দুই ভুক্তভোগীসহ অজ্ঞান পার্টির মূল হোতাকে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুপুরে কৌশিলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, “অজ্ঞান পার্টির মূল হোতা ফুল মিয়ার নামে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ভুক্তভোগী ও আসামির জ্ঞান এখনো ফেরেনি।
কুষ্টিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল বিড়ি, শুল্ক ফাঁকি দেওয়া বিদেশি সিগারেট এবং ভারতীয় কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৮৮ হাজার ১০০ টাকা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়।
বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় গত ২৮ আগস্ট ভেড়ামারা উপজেলার বারমাইল বাজার এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩৪২০ প্যাকেট অবৈধ নকল বিড়ি এবং বৈধ মূসক চালানপত্র (৬.৩) না থাকায় ২০০০ প্যাকেট বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১০০ টাকা।
পরদিন ২৯ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী আশ্রায়ন বিওপি এলাকার ভাগজোত ঘাটে বিজিবির আরেকটি বিশেষ অভিযানে ভারত থেকে আনা ৫০ কেজি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকা।
জব্দকৃত বিদেশি সিগারেট যাচাই করে মালিকপক্ষ থেকে মূসক বাবদ ১৮ হাজার টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক বাবদ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা—মোট ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা রাজস্ব আদায় করে সিগারেটগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নকল বিড়ি কাস্টমসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং কারেন্ট জাল ধ্বংসের জন্য ব্যাটালিয়নের সিজার স্টোরে সংরক্ষিত রয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান, পিএসসি বলেন, "সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।"
কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে, যেগুলোর গণনা চলছে।
জেলা শহরের ঐতিহাসিক মসজিদটিতে ১৩ টি দানবাক্স
আছে, যেগুলো সাধারণত তিন মাস পরপর খোলা হয়। এবার খোলা হয়েছে ৪ মাস ১৮ দিন পর। ধারণা করা হচ্ছে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে এবার।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে সকাল সোয়া ৭ দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সকালে মসজিদটির ১১ টি দানবাক্স খুলে ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা । এছাড়াও পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা। তখন ৪ মাস ১২ দিনে এই পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল মসজিদের দানবাক্সগুলোতে। তখনকার সময়ে এই পরিমাণ অর্থ ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে।
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৪৫ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা, এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য গণনায় অংশ নিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলে এবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন চলছে গণনার কাজ। তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং এখানে বহুমুখী কাজ করা হবে। এখানে অনাথ–এতিমদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশনও থাকবে।
এই মসজিদের বর্তমান আয়তন ৫ দশমিক ৫ একর। ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরও কিছু জায়গা কেনা হবে। এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জমা আছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দেবে এবং কাজ শুরু হয়ে যাবে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে তিনিসহ তাঁর পুলিশ সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন।
দানবাক্স খোলার পর গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে আসেন দূরদুরান্ত থেকে। তবে বেশি লোকজন আসেন প্রতি শুক্রবারে।
মসজিদটিতে নিয়মিত হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলের পাশাপাশি নানা ধরনের জিনিসপত্র দান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ।
হাজারো মানুষের উল্লাসে পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটিতে সর্ববৃহৎ ও ঐতিহাসিক জশনে জুলুস পবিত্র ঈদ-এ- মিলাদুন্নবী পালিত হয়েছে। এসময় শায়েররা গাড়ি বহর নিয়ে গাইতে থাকলেন ‘আজে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুস চলতেছে,আনন্দে উল্লাসে সারা জগৎ ভরেছে’ এমন মধুর কণ্ঠে হাম-নাত আর দরুদ মুখর পরিবেশে রাঙামাটিতে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহি জশনে জুলুস। জুলুসকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
জুলুসের পতাকা, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, তরুণের সাজে রাঙামাটি শহরের সড়ক ও মোড়গুলো। হামদ-নাত আর দরুদে মুখর পরিবেশে জুলুসে হাজারো মানুষের ঢল নামে। জুলুসে শিশু কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে একাকার হয়ে পড়ে শহরের রাজপথ। বাসাবাড়ির ছাদে শুধু মানুষ আর মানুষ। যেদিকে চোখ যায় শুধু পাঞ্জাবি টুপি পরিহিত মুসল্লিদের ভিড় ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বাদে জুমার নামাজের পরে রাঙামাটি জেলার গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে রিজার্ভবাজার জামে মসজিদ থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহি জশনে জুলুসের একটি বর্ণাঢ্য বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে হাজারো মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নানা রঙ-বেরঙের ব্যানার ফেস্টুন ও কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর, নারায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ (সঃ) ধ্বনিতে স্লোগান দিতে থাকে। এতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো শহর। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের বনরূপা জামে মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়। পরে বনরূপা জামে মসজিদে নবী করিম হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী নিয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং মিলাদ-ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে জুলুসের সমাপ্তি করা হয়।
এ সময় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি আব্দুল ওয়াজেদ, বনরূপা মসজিদের খতিব মাওলানা ইকবাল হোসাইন আল কাদেরী, কাঠালতলি জামে মসজিদের খতিব হাফেজ ক্বারী মাওলানা সেকান্দর হোসাইন আল ক্বাদেরী, বনরূপা জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা সুলতান মাহমুদ, রিজার্ভবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ছৈয়দ আবু নওশদ নঙ্গমী ।
কিশোরগঞ্জে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মাইজহাটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শরিফুল ইসলাম শরীফ (৪০) বাজিতপুর উপজেলার গজারিয়া এলাকার মৃত বকুল মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি অটোরিকশা চালক।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মারগুব তৌহিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, আজ সকালে দুর্ঘটনার শিকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কোন যাত্রী ছাড়াই কটিয়াদী থেকে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। এসময় মাইজহাটি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে সিএনজি চালক শরিফুল ইসলাম শরীফ মারা যায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মারগুব তৌহিদ জানান, অটোরিকশাটি খালি থাকায় এই ঘটনায় আর কেউ আহত নেই। অটোরিকশা ও ট্রাক আটক করা হলেও ট্রাকের চালক পলাতক। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
প্রধান উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণা করেছেন, এই রোডম্যাপ একটি সুষ্ঠ নির্বাচনকে ভন্ডুল করার জন্য নীল নকশা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের। আজ শুক্রবার সকালে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে মিলনায়তনে কুমিল্লার কালিবাজার ইউনিয়নের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চুড়ান্ত সংস্কারের সিদ্ধান্তে পৌঁছার আগেই প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। এবং বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। এর মাঝে বোধহয় তিনি কোন শক্তির কাছে মাথানত করে পরিকল্পিত নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দেশবাসী শঙ্কা পোষন করছে। অন্তর্বর্তী সরকার কমিটমেন্ট দিয়ে আসছিল তারা নিরপেক্ষ থাকবে, তারা সংস্কার করবে এবং বিচার দৃশ্যমান করবে। এবং নির্বাচন হবে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা তার ওয়াদা ভঙ্গ করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোন আপত্তি নেই। আমরা ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু একটি সুষ্ঠ অবাধ নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় সুরাহা হওয়া খুবই জরুরী। এরমধ্যে জুলাই চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু সেগুলো না করেই নির্বাচনের যে পথ নকশা ঘোষণা করা হয়েছে সেটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ভন্ডুল করার নীল নকশা বলে আমি মনে করি। আমরা এটা হতে দেব না। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশন কে বাধ্য করবো জুলাই চার্টার রিফান্ড ও পিআর এর মাধ্যমে নির্বাচন হতে হবে।
এছাড়াও আগের ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর দুইটার মধ্যে একটি নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত রোড ম্যাপ ঘোষণা করার নির্বাচন কমিশনের বড় ধরনের অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন ডাক্তার সৈয়দ আব্দুল মোঃ তাহের। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে দেশবাসীর প্রতি ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে আমীর মাহফুজুর রহমান এর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেট,উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন,সহকারী সেক্রেটারী আব্দুর রহিম,কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাসেম।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার ছোটআঁচড়া গ্রামে মিজানুর রহমান সর্দার (৪৩) নামে বিএনপি'র এক কর্মীকে কে বা কারা গরু কাটার ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে।
শুক্রবার (২৯ আগষ্ট) দিবাগত রাতে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত মিজানুর রহমান সর্দার বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের হানিফ আলী সর্দারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, মিজানুর বেনাপোল চেকপোস্টে একটি কসায়ের দোকানে গরু কাটা ঝোড়ার কাজ করে। প্রতিদিন সে ভোরে উঠে ওই কাজে যায়। আজ ও তার কসায়ের দোকানে কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল। জানা মতে এলাকায় কারো সাথে তার কোন ঝগড়া বিবাদ ছিল না। সে সবার সাথে মিলে মিশে থাকতো। সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি কে বা কারা বাড়ির গেটের সামনে উঠোনে গলা কেটে হত্যা করে রেখে গেছে।
নিহতের ভাই খায়রুল সরদার জানান, আমার ভাইয়ের সাথে কারো কোন শত্রুতা ছিল না । সে একটা কসায়ের দোকানে কাজ করে। প্রতিদিনের মতো আজও কাজে যাওয়ার কথা ছিল। রাত পৌনে তিনটার কে বা কারা তাকে ফোনে কল দিয়ে ডাকলে ভাই তার কাজে ব্যবহৃত ছুরি নিয়ে বাহিরে বের হন। পরে দেখি কে বা কারা গেটের ভিতরে তাকে গলা কেটে হত্যা করে চলে গেছে। বেনাপোল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আহাদ হোসেন জানান, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত মিজানুর রহমান আমাদের বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আমার জানামতে তার সাথে কারো কোন কলহ ছিল না। সে গরুর মাংসের দোকানে কাজ করতেন। তবে কি কারণে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হলো আমাদের জানা নাই।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রাসেল মিয়া ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান দূর্বৃত্তরা তাকে কেন গলা কেটে হত্যা করেছে এটা তদন্ত না করে কোন কিছু বলা সম্ভব না।থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান। ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।