কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাংয়ে আব্দুর রহমান (৩৫) নামে একজন বিকাশ এজেন্টের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার সকাল ৯ টার দিকে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রহমান সাবরাংয়ের নয়াপাড়া এলাকার মৃত মো. ইয়াছিনের ছেলে।
নিহতের ভাইরা ওমর ফারুক বলেন, গতকাল রোববার এলাকার লোকজন তার ভাইকে বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে লুডো খেলতে দেখেছে। রাতে বাড়ি না ফেরায় খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে খবর আসে রহমানের মরদেহ পড়ে আছে। তার স্ত্রী গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শনিবার রাতের কোনো এক সময় রহমানকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।’
প্রাথমিকভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য রহমানের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লার সানন্দা এলাকায় ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন, কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজউদ্দিন ভূঁইয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলের ওই এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে একজনকে দেখা যায়। এর ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।
সোয়া ৩টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সানন্দা এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম জানান, অপ্রতিমের সঙ্গে একটি আইফোন ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকা খুব ভালোভাবে চেনে এবং এখানেই বড় হয়েছে। সে একা চলাফেরা করতে পারে। তাই সাধারণভাবে পথ হারিয়ে তার নিখোঁজ হওয়ার কথা নয়।
অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমার ছেলেকে ফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছে।'
কুমিল্লাতে অপ্রতিমের দাফনের পর মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহনকৃত বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীসহ ১০ জন পাচারকারী আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ১টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিন কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন সন্দেহজনক ১টি বোটকে থামার সংকেত দিলে বোটটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আভিযানিক দল ধাওয়া করে বোটটিকে গভীর সমুদ্র থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। ওই বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২৪০ বস্তা (১২,০০০ কেজি) ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তা (৩৮০০ কেজি) রসুন ও ৯০ বস্তা (৪৫০০ কেজি) পেঁয়াজসহ বোটটি জব্দ করা হয়।
এ সময় বোটে থাকা ১ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকৃত আলামত এবং আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোকে সুপরিকল্পিতভাবে পঙ্গু ও বিপর্যস্ত করে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘এস.এস.সি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রগতির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখার হীন লক্ষ্যেই এমন ক্ষতিকর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল।
শিক্ষার গুণগত মান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হলেও বিগত বছরগুলোতে সেটিকে ভঙ্গুর প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তর করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া কিংবা খাতায় শুধু প্রশ্ন লিখে রেখেও ওপর মহলের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার নজির দেখা গেছে। কৃত্রিমভাবে বেশি নম্বর দেওয়া কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তীর্ণ করার মাধ্যমে ব্যক্তি বা জাতি কেউই লাভবান হতে পারে না। উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অতীতের ছেলেখেলারই পরিণতি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেধার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
নারী শিক্ষার প্রসারে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘নারী ক্ষমতায়নের প্রধান শর্ত শিক্ষা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামীতে বিএ এবং অনার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের কোনো পড়াশোনার খরচ লাগবে না, সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে।’ একই সঙ্গে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করার এই আয়োজনকে তিনি একটি ‘দৃষ্টান্তমূলক কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের এই অর্জন তোমাদের জীবন অধ্যায়ের নতুন সূচনা। সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম নিয়ে তোমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশের কাণ্ডারী হতে হবে।’ দলমত নির্বিশেষে ঢাকা-৩ আসনের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সুন্দর পাঠদানের পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-৩ আসন থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর এক আরোহীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামগামী ‘নিউ বলেশ্বর’ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী একটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রাইভেটকারের আরোহীরা মহাসড়কসংলগ্ন মায়ামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মজিবুর রহমান (৫৫), মোছা. শামীমা আক্তার (৪৫), সাবিহা চৌধুরী (৪৩) এবং প্রাইভেটকারের চালক সোহেল। চালক সোহেল ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রাইভেটকারটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় এবং মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এই কিশোরের মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর তা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হবে এবং পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার নিজ বাসা থেকে পায়ে হেঁটে বের হওয়ার পর থেকে অপ্রতীমের আর কোনো সন্ধান মিলছিল না। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম লিখেছিলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনের এই পাঞ্জাবিটা (নীল রঙের) ছিল গায়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’
তিনি সেখানে আরও উল্লেখ করেন, ‘নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নাই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে।’
উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের (১২০ ঘণ্টা) দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। প্রথম ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু অঞ্চলে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পরদিন রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ দিনও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
তৃতীয় দিন অর্থাৎ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও সিলেটের কিছু জায়গায় এবং দেশের বাকি বিভাগগুলোর দু-এক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির আভাস রয়েছে।
মঙ্গল ও বুধবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ দুই দিন খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে সারা দেশে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত আবহাওয়া চিত্রে সারা দেশে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বর্তমানে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান। তবে মৌসুমি বায়ু বর্তমানে দেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
প্রায় ৩৪ দিনের ব্যবধানে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ আবারও প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টায় মাজারের দানপাত্রগুলো থেকে টাকা বের করে দরগাহ মসজিদ সংলগ্ন বারান্দায় নিয়ে গণনার কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো উন্মুক্তভাবে মাজারের দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে।
মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থ গণনায় অংশ নিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষার্থী, মাজার কমিটির প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা। কার্যক্রম চলাকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সুদীর্ঘ সাতশত বছরের প্রথা ভেঙে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের চারটি ও জেলা প্রশাসনের চারটিসহ মোট আটটি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও দুটি সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন তহবিল থেকে সাবেক জেলা প্রশাসকের দেওয়া আরও ৫ লাখ টাকার চেক অন্তর্ভুক্ত করে সর্বমোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখায় মাজারের নিজস্ব হিসাবে জমা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ১১ জুলাই মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি সেবার ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ ধাতু, ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা ছাড়াও মার্কিন ডলার, ইউরো, সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপিসহ বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া সবশেষ গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় ধাপে দানবাক্সগুলো থেকে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও সোনা-রূপা উদ্ধার করা হয়।
নরসিংদীর শীলমান্দি এলাকায় নিজের কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে মো. হালিম মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ন্যক্কারজনক এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নরসিংদী সদরের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে একাধিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মামা মো: সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে নরসিংদী সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ) ভোরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী অঞ্চলের একটি মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে নরসিংদী মডেল থানার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন, নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর এম আল মামুন ও গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কায়েস সহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছরের অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও তার পরিবারের।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার। নিখোঁজের পর থেকে তাকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর রয়েছে।
অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনে এই পাঞ্জাবিটা ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন, সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘অপ্রতিমকে খুঁজতে পুলিশ কাজ করছে। তার সর্বশেষ অবস্থানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ অপ্রতিমের সন্ধান পেলে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ০১৭১৯-৬২৫৬৯০ অথবা মা ড. নাহিদা বেগমের ০১৯৭৪-৮৮৮৬৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে নিয়ে বিষাপানের করেছেন এক বাবা। এতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাবা সরফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো—রজনীলাইন গ্রামের সরফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। তাদের বাবা সরফত আলী (৩৫) বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। শুক্রবার রাতে সরফত আলী তিন সন্তানকে নিয়ে ঘরে ঘুমাতে যান। পরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি সন্তানদের নিয়ে কীটনাশক পান করেন বলে জানা গেছে।
বিষপানের পর সরফত আলী ময়মনসিংহে থাকা তার এক ফুফুকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান। পরে তার ফুফু বাড়িতে থাকা সরফত আলীর ছোট ভাই রহমত আলীকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে রহমত আলীসহ পরিবারের লোকজন দ্রুত বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করেন।
পরে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। সরফত আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজশাহীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এক নারীর সঙ্গে আটকের পর পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওই নারীর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে বিকেলে ওই নারীকেও ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ওই নারী যদি কোনো অভিযোগ করতেন, তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ছিল। তাঁর কোনো অভিযোগ না থাকায় মাহবুবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সঙ্গে থাকা নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন মাহবুব আলম। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
উল্লেখ্য, মাহবুব আলম ইতিপূর্বে চন্দ্রিমা ও দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সাবেক এক স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে।
বর্তমানে নওগাঁ জেলা পুলিশ থেকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তা বিনা ছুটিতে রাজশাহীতে এসে চন্দ্রিমা থানাধীন নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে ওই নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
শুক্রবার সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার নামের এক নারী ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত হন এবং নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন।
আন্নি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দরজায় আঘাত করলেও মাহবুব আলম ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং মাহবুব আলমসহ ওই নারীকে হেফাজতে নিয়ে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যান।
সাংবাদিকদের কাছে আন্নি আক্তার দাবি করেন, মাহবুব আলম বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে অভ্যস্ত এবং ওই নারীর সঙ্গেও তাঁর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিগত চার মাসের ব্যবধানে তিনবার তিনি তাঁদের একসঙ্গে পেয়েছেন বলেও জানান। সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে পূর্ববর্তী দুটি ঘটনার কথা তিনি কাউকে জানাননি।
পরবর্তীতে থানায় মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেশ করেন আন্নি আক্তার। সেখানে মাহবুব তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, ‘অভিযোগটি পুরোনো। এটি তদন্ত করে দেখা হবে। মাহবুব আলমকে নিয়ে রাজশাহীতে যা ঘটেছে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি মঞ্জুর ছিল না এবং কাউকে না জানিয়েই তিনি রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন, যা অনুমোদনহীন কর্মস্থল ত্যাগের শামিল ও অপরাধ।
তিনি আরও জানান, ‘মাহবুব আলম সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।’
সুগন্ধা নদীর পাড়ে সারি সারি নৌকা বাঁধা। নৌকায় তোলা জালও প্রস্তুত। ইলিশ ধরার মৌসুম শেষের দিকে। কিন্তু নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। দিনভর নদীতে ঘুরে যে পরিমাণ মাছ মিলছে, তাতে নৌকার জ্বালানি, জালের খরচ ও সংসারের ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের।
এর মধ্যে মাথার ওপর ঋণের বোঝা। নিয়মিত দিতে হচ্ছে এনজিওর কিস্তি। নৌকা ও জাল কেনা কিংবা মেরামতের জন্য মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকাও শোধ করতে হবে। সামনে আবার শুরু হবে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে ইলিশের মৌসুম এবার ঝালকাঠির জেলেদের জন্য স্বস্তির বদলে নিয়ে এসেছে দুশ্চিন্তা।
শুক্রবার সকালে সুগন্ধা নদীর পাড়ের পোনাবালিয়া ও দেউরি গ্রামে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। একই অভিযোগ নলছিটির মাটিভাঙ্গা এলাকার জেলেদেরও। তারাও বলছেন নদীতে জাল ফেললেও আগের মতো ইলিশ মিলছে না।
সদর উপজেলার দেউরি গ্রামের জেলে নুরু মিয়ার বয়স ৬৫ বছর। জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন তিনি। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশের ঝাঁক পাওয়া যায়, কোথায় জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি এসব তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতাও যেন কাজে আসছে না।
নুরু মিয়ার মতোই নদীতে মাছ ধরে সংসার চালান আকাববর মৃধা। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরেন তিনি। ইলিশের মৌসুম শুরুর আগে নৌকা ও জাল কেনা এবং মেরামতের জন্য ঋণ করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে আয় করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন। এরপর যা থাকবে, তা দিয়ে চলবে সংসার। কিন্তু মৌসুম শেষের দিকে চলে এলেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় সেই হিসাব এখন মিলছে না।
কাঠালিয়া-বেতাগী সীমান্তসংলগ্ন এলাকার জেলে আখের আলী বলেন, ‘তাদের এলাকায় ইলিশের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকায় জেলেরা সারা বছর এই সময়টির অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু এবার সেখানেও মাছ কম। একদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তি, অন্যদিকে মহাজনের দাদনের টাকা। মাছ কম পাওয়ায় এসব টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, সেটিই এখন তার বড় চিন্তা।’
প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে জাল ফেলেন কয়েকশ জেলে। এই কয়েক মাসের আয় দিয়েই পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, নৌকা ও জালের খরচসহ বছরের নানা ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেন তারা।
তবে চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
জেলেদের এই অভিযোগের সঙ্গে মৎস্য বিভাগের হিসাবেও কিছুটা মিল পাওয়া যাচ্ছে। ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাসে জেলায় যে পরিমাণ ইলিশ আহরিত হয়েছে, তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘অন্যান্য জেলার নদীতে এ বছর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পরেছে। কিন্তু সেই তুলনায় সুগন্ধা ও বিষখালীতে মিলছে না ইলিশ।’ নদীর পানিদূষণ ও পলিসংক্রান্ত কারণে এমনটা হতে পারে বলে ধারণা করছেন এই কর্মকর্তা।
এ অঞ্চলের জেলেদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়লে ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে। তখন একদিকে মাছ ধরার সুযোগ থাকবে না, অন্যদিকে নিয়মিত ঋণের কিস্তি ও দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ থাকবে।
সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ভুক্তভোগীর বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে পেশায় এসেছিলেন তিনি। তবে আদালত প্রাঙ্গণে অন্যের অধিকার রক্ষার জন্য লড়ে যাওয়া সেই বর্ষীয়ান আইনজীবীই এখন নিজের একমাত্র মেয়ের সামাজিক মর্যাদা ও দাম্পত্য অধিকার রক্ষায় দিশেহারা।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্ষীয়ান সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দীনের মেয়ে রেশমি সুলতানা (ছদ্মনাম)। চলতি বছরের মার্চে একই বারের নবীন সদস্য অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম জাবেদের (৩২) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিয়ে হয়। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে প্রায় ৪০০ জন বরযাত্রী আপ্যায়ন, স্বর্ণালংকার ও উপহারসামগ্রীসহ কনেপক্ষ খরচ করে প্রায় ৮ লাখ টাকা। বিয়ের কাবিননামার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ৫ লাখ টাকা ‘উসুল’ দেখানো হয়। তবে এই উসুলের হিসাব নিয়েই তৈরি হয় মূল দ্বন্দ্ব।
ভুক্তভোগী পরিবার ও আইনজীবী সমিতিতে দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় উসুল হিসেবে দেখানো ৫ লাখ টাকার কোনো স্বর্ণালংকার প্রকৃতপক্ষে কনেকে দেওয়া হয়নি। ‘ফিরা-ফিরি’ অনুষ্ঠানে তা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বরপক্ষ। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, কনেকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই আসবাবপত্র, দামি উপঢৌকন ও মোটা অঙ্কের যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে মানসিক নির্যাতনে কনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাও নিতে হয়।
কনে রেশমি সুলতানা (ছদ্মনাম) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে বাপের বাড়ি থেকে টাকা ও জিনিসপত্র আনার জন্য চাপ দেওয়া হতো। অস্বীকৃতি জানালেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো। আমাকে এক প্রকার জিম্মি করে ফেলা হয়েছিল।’
কনের বাবা অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন জানান, জুনিয়র সহকর্মী ও একই পেশার নবীন আইনজীবী হওয়ায় তিনি বরকে ভরসা করেছিলেন। কিন্তু গত ৩১ আগস্ট রাতে দাবি করা যৌতুক না পেয়ে তার মেয়েকে এক কাপড়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পেশাগত সমিতিতেও বিচার চেয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম জাবেদ বলেন, ‘সমিতিতে দায়ের করা অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কাবিননামায় উসুল না দেওয়ার দাবি সত্য নয়, আমার কাছে উসুল দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। তা ছাড়া আমি এখনো সংসার করতে আগ্রহী।’
আইনজীবী পরিচয়ের আড়ালে এমন আচরণকে পেশাগত নৈতিকতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে গত ৩ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মমিনুল হক বলেন, ‘একই বারের দুই আইনজীবীর পারিবারিক ও পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত। লিখিত অভিযোগটি হস্তগত হয়েছে। সমিতির গঠনতন্ত্র ও পেশাগত আচরণবিধি অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখে আগামী রোববার উভয় পক্ষকে তলব করে শুনানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার নেতা ও আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান মন্তব্য করেন, ‘আইন পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর সমাজের আস্থা সবচেয়ে বেশি থাকে। মানবাধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়, সে জন্য সমিতির মাধ্যমে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।’