রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

ট্রাকের ধাক্কায় নারী নিহত, আহত ৩

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর, ২০২৩ ১৫:৩৬

নাটোরে ট্রাকের ধাক্কায় সাথী খাতুন (২৫) নামে অটোভ্যানের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে তিনজন।

সোমবার সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের চাঁদপুর পাবনাপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সাথী রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ঝলমলিয়া এলাকার হিমেল হোসেনের স্ত্রী। তিনি নাটোর কিষোয়ান কোম্পানির শ্রমিক ছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সকালে একটি অটোভ্যান যোগে চারজন শ্রমিক কিষোয়ন কোম্পানিতে যাচ্ছিলেন। পথে চাঁদপুর পাবনাপাড়া এলাকায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক পেছন থেকে অটোভ্যানটি ধাক্কা দেয়। এসময় ভ্যানটি উল্টে যায়। এসময় ট্রাক রেখে চালক ও তার সহকারি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত চারজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাথী খাতুনের মৃত্যু হয়। আহত তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পবা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি জব্দ করে। চালক ও তার সহকারী পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’


নওগাঁয় সড়কের পাশ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২ মার্চ, ২০২৪ ১৬:২৪
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুরে সড়কের পাশ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাইগাঁ-পত্নীতলা সড়কের বিষ্ণুপুর মোড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, নিহত ওই ব্যক্তির নাম মন্টু হোসেন (৪৫)। উপজেলার জোয়ানপুর গ্রামের রকিব উদ্দিনের ছেলে তিনি।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহালের সময় শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিষয়:

নওগাঁয় আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছীতে আগুনে পুড়ে আলতাফ হোসেন (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত আলতাফ হোসেন উপজেলার গোড়শাহী মধ্য পাড়া গ্রামের মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে।

খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় এমপির প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতের কোনো এক সময় নিজ বসতবাড়ীতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত আলতাফ হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাবা আমাদের বাড়ির আঙিনার সামনে আলাদা একটি ঘরে বসবাস করত। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাৎ করেই বাবার ঘরে আগুন লাগা দেখতে পায় স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি চিৎকার শুরু করলে আমরা আগুন লাগার বিষয়টি দেখতে পাই। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নেভানো হয়। কিন্তু আগুন নেভানোর আগেই আমার বাবা আগুনে পুড়ে মারা যায়। এবং একইসাথে দুটি ছাগল পুড়ে গেছে। পাশাপাশি ঘরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী সৌরেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ খবর নিয়ে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্তি কণা মন্ডল বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এরই মধ্যে নিহতের পরিবারের মাঝে ৩০ হাজার টাকা সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। এবং কিছু শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে।’

বিষয়:

কচুরিপানায় আটকে ছিল মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর মালিরপাথর এলাকায় কচুরিপানার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। নিহত ব্যক্তি ছাই কালারের সেন্টু গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট পরিহিত ছিলেন। সাথে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র সূত্রে তার নাম-ঠিকানা জানা গেছে।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধলেশ্বরী নদীর মালিরপাথর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত মোহাম্মাদ কামাল হোসেন (৪৫) ফরিদপুরের বোয়ালমারি পৌরসভার পশ্চিম কামারগ্রাম এলাকার মোহাম্মাদ আলী আবজালের পুত্র।

তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। চেহারাও ছিল স্পষ্ট। এমনটা জানিয়েছে নৌ পুলিশ।

মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাজ্জাদ করিম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় থানা-পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করা গেলে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে।


‘বাবা, আমাদের বাঁচাও বলে চিৎকার করছিল আমার দুই মেয়ে’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের চরবাড়িয়া এলাকার হাজী কোরবান আলীর মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ফৌজিয়া আফরিন রিয়া এবং ঢাকার ভিকারুননিসা স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন আলিশা।

এ সময় কোরবান আলীর ভায়রা ভাই কুমিল্লা সদর উপজেলার বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে সিটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিমুও (১৮) মারা যায়।

শুক্রবার সকালে তিনজনের মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় নিয়ে আসে স্বজনরা। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ।

দুই মেয়ে হারিয়ে পাগল প্রায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কোরবান আলী। শুক্রবার দুপুরে কোরবান আলীর বাড়ি কুমিল্লা লালমাই উপজেলার চরবাড়িয়া গিয়ে দেখা যায় আত্মীয় স্বজনরা বিলাপ করছেন।

কোরবান আলী জানান, তার বড় মেয়ে ফৌজিয়া আফরিন রিয়া (২৩) মালেয়শিয়া ইসলামি ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ ফাইনাল পরীক্ষার্থী ছিল।

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সে আমার সাথেই বাংলাদেশে আসে। শনিবার তার মালেয়শিয়া ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।’

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠেন কোরবান আলী। তিনি জানান, ‘তার মেয়ে মালেয়শিয়া ফিরে যাবেন। তাই তারা দুবোন এবং আমার ভায়রা ভাইয়ের মেয়েসহ প্রথমে পিজা হাটে যায়। সেখানে কার্ড পাঞ্চ করে। আগুনের ঘটনা শুনে প্রথমে আমরা নিশ্চিত হই আমার মেয়েরা ভালো আছে। পরে হঠাৎ ফোন আসে। মেয়েরা চিৎকার করতে করতে বলে বাবা আমরা বেইলি রোডে কাচ্চি ভাইয়ে আছি। এখানে আগুন লাগছে। আমাদের বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিল। দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখি আমার দুই মেয়েসহ আমার ভায়রা ভাইয়ের মেয়ের মরদেহ পড়ে আছে। আমি এ শোক কেমনে সইবো।’

চাচা লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি প্রথমে যারা বেঁচে ছিলেন তাদের বিল্ডিং থেকে নামানো হচ্ছে। যখন জীবিতদের নামানো শেষ হয়েছে, তখন কলিজা মোচড় দিয়ে উঠে। আমার ভাতিজিরা আর বেঁচে নেই।’

বিষয়:

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবনে আগুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়নি।

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, চন্দনপুরা ও আগ্রাবাদের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এক্সেস রোড এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’

আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

বিষয়:

ঈদযাত্রায় রেলপথে থাকবে না ভোগান্তি, বাড়বে বগি

আপডেটেড ১ মার্চ, ২০২৪ ১৬:০৮
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেছেন, ‘আসন্ন ঈদযাত্রায় রেলপথে ভোগান্তি লাঘবে বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গসহ দেশের সব রেলরুটে ট্রেন ও বগি সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।’

শুক্রবার সকালে ট্রেনযোগে দুই দিনের সফরে ঢাকা থেকে রাজবাড়ী এসে রাজবাড়ী রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে রেলপথমন্ত্রী একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে শুধু অনলাইনে নয় স্টেশনেও পর্যাপ্ত টিকেট বিক্রি করা হবে। প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে ট্রেনে বসে এবং দাঁড়িয়েও গন্তব্যে যেতে পারবে মানুষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে যেসকল স্টেশনে স্টেশন মাস্টার নেই তাদের নিয়োগ কার্যক্রম ও চলমান আছে। অচিরেই সেই সমস্যার সমমাধান হবে।’

পরে রাজবাড়ীর সার্কিট হাউজে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিমকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

রাতে বাকবিতণ্ডা, সকালে মিলল মেস পরিচালিকার মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার ঘটনার আট ঘণ্টা পর এক মেস পরিচালিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার গায়ের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকায় ধারণ করা হচ্ছে তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

নিহত ওই মেস পরিচালিকার নাম মাবিয়া খাতুন (৫৫)। তিনি খুলনা জেলার তেরোখাদা উপজেলার ছাগলাদহ ইউনিয়নের হিন্দু কুশলা গ্রামের আব্দুল গাফফার মোল্লার স্ত্রী বলে জানা গেছে। গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে একটি বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন তিনি।

নিহতের স্বামী আব্দুল গাফফার মোল্লা জানান, ২০১৩ সালের দিকে জীবন জীবিকার তাগিদে তারা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় চলে আসেন। স্থানীয় আবুল কাশেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে একটি মেস পরিচালনা করতেন মাবিয়া খাতুন। বার্ধক্য জনিত কারণে অন্য কোনো কাজ করতে না পারায় স্ত্রীকে সহযোগিতা করতেন তিনি। ৩০-৪০ জন শ্রমিক তাদের মেসে খাবার খেতেন। তবে খাবার খেয়ে দীর্ঘদিন ধরে টাকা না দেওয়ায় বিল্লাল নামে এক শ্রমিকের সাথে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বাকবিতণ্ডা হয় মাবিয়ার। এ সময় বিল্লাল টাকা দিবেন না বলে জানিয়ে মাবিয়া খাতুনকে উল্টো দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনার কিছু সময় পরে পারিবারিক কাজকর্ম শেষ করে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। প্রতিদিন ভোরে মাবিয়া খাতুন মেসে রান্না করতে যান, তবে আজকে না যাওয়ায় মেসের লোকজন ভোর ৫টার দিকে তাকে ডাকতে আসে। এ সময় তাকে ঘরে না দেখতে পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুর করেন তিনি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাদের বসতঘরের অদূরে একটি শৌচাগারের পেছনে মাবিয়ার মরদহ দেখতে পান তারা। গামছা দিয়ে মরদেহটির মুখ প্যাচানো ছিল মাথায়-সহ গায়ের বিভিন্ন জায়গায় ইট জাতীয় কোন কিছুর আঘাত রয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশে খবর দেন তিনি। বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এ ঘটনার দোষীদের বিচার দাবি করেছেন তিনি।

ঘটনার পর থেকে বিল্লাল নামে ওই শ্রমিক পলাতক রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

বিল্লালের সহকর্মী প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘বিল্লাল হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতো। শুনেছি তার বাড়ি বরিশাল। এর বেশি কিছুই জানি না। তবে বিল্লালের স্বভাব চরিত্র ভালো ছিল না সে মাদকাসক্ত ছিল।’

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাজিব খান বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিষয়টি আমাদের কাছে হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।’


সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ নিহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট ব্যুরো

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালবাজার এলাকায় তিন গাড়ির সংঘর্ষে এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত নারী অটোরিকশার যাত্রী, অপরজন অটোরিকশাচালক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে লালাবাজার এলাকার কুশিয়ারা পেট্রোল পাম্পের অদূরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলইরগাঁওয়ের সোনা মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৪৩) ও অটোরিকশাচালক মুনসুর আলী (২৭)। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথের পীরেরবাজার বর্ণী গ্রামের ধনাই মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাচালক ও তার ৫ যাত্রী আহত হন। এর মধ্যে নাজমা বেগম ও মুনসুর আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালের নেওয়ার পর নাজমা ও মুনসুর মারা যান।

নিহত নাজমা বেগমের স্বামী সোনা মিয়া জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। সিলেটে ডাক্তার দেখিয়ে অটোরিকশাযোগে বিশ্বনাথ যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মারা গেছেন তিনি।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই জাফর ইমাম বলেন, ‘মরদেহ দুটি ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আর আহতরা ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

বিষয়:

টেকনাফ সীমান্তে আবারও গোলাগুলির শব্দ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৪৬
কক্সবাজার প্রতিনিধি

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের জেরে তিনদিন পর আবারও টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্তে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ওই দেশের অভ্যন্তরে বিমান থেকে গোলাবর্ষণ হতেও দেখেছেন অনেকে। এতে বাংলাদেশের সীমান্তবাসীদের ভেতর কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অন্যান্য বাসিন্দারা।

ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উনচিপ্রাং, কাঞ্জরপাড়া এবং হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলেরডেইলসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, নাফনদীর ওপারে অন্তত ২ থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার ও নাকপুরা এলাকা ঘিরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত চলছে। এতে গোলাগুলি ও মর্টারশেল বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে বাংলাদেশে।

তিনি আরও জানান, এসময় আকাশের অনেক উঁচু থেকে বিমান চক্কর দিতে দিতে মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘তিনদিন পর আবারও সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ভোর থেকে থেমে থেমে শুরু হয় গোলাবর্ষণের শব্দ।’

টেকনাফের উনচিপ্রাং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক তাহের নঈম বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি তিনদিন দিন ধরে একটু স্বাভাবিক ছিল। তিনদিন পর আবারও বিস্ফোরণের শব্দে নতুন আতংক তৈরি হয়েছে।’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কারও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের তৎপর রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি টেকনাফে-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ।

বিষয়:

স্ত্রীকে হত্যার পর আগুনে পোড়ানোর অভিযোগ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৪
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে গৃহবধূকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গায়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। রাতে নির্যাতনের পর বাড়ির পাশে কলাবাগানের ভেতর নির্জন স্থানে পুড়িয়ে মারা হয় গৃহবধূকে। এমন অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের গুতারবাজার এলাকার আনসার ক্যাম্পের পাশে কলাবাগানে ভেতর এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ মালেকা বানু (৩৫) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রী বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী।

স্বজনরা জানায়, সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও গৃহবধূর সন্ধান পায়নি। সকালে বাড়ির অদূরে কলাবাগানের ভেতর পুরো শরীর আগুনে পোড়ানো মৃতদেহ দেখতে পায়।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে অভিযুক্ত স্বামী।

নিহত গৃহবধূর ছোটভাই মো. সুজন মিয়া বলেন, ‘২০ বছর আগে বাচ্চু মিয়ার সাথে আমার বোন মালেকার বিয়ে হয়। সে দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য শারীরিক মানষিক নির্যাতন করতো। পনেরো দিন আগেও তাদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের জানানো হয় মালেকাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর রাতেও অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান করতে পারি নাই।

‘বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জানতে পারি বাড়ির অদূরে কলাবাগানে আগুনে পোড়ানো বোনের লাশ পরে আছে। এরপর আমরা কয়েকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আগুন পোড়ানে বিকৃত মরদেহ পরে আছে কলাবাগানে। বোনের স্বামীর বাড়ির অনন্য লোকজন জানায় মালেকা গায়ে আগুন দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। রাতে মালেকার সাথে স্বামী বাচ্চু তাকে অনেক মারধর করছে।’

‘কিন্তু আমার বোন মালেকা আমাদেরকে জানিয়েছে তার স্বামী বাচ্চু টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করছে। নির্যাতনের পর তার স্বামী বাচ্চু আমার বোনকে পুড়িয়ে মারে। পরে আত্মহত্যার নাটক সাজায়। আমার বোন সাত বছরের ছোট ছেলে রেখে শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না।’

তিনি আরও জানান, তার স্বামী তাকে নির্যাতন করে খুন করবে, জ্বালিয়ে মারবে এমন হুমকি সব সময় দিয়ে আসছে।

নিহত গৃহবধূর ছেলে মানিক মিয়া জানায়, বাবা মায়ের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হয়।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ওয়ার্ড সদস্য মো. আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর পোড়া বিকৃত মরদেহ দেখতে পাই। পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ওসি মো. শাহ্ জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ক্রাইম সিন সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেসন (পিবিআই) ও অপরাধ দমন বিভাগ (সিআইডি)’র পৃথক দল কাজ করছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কালিয়াকৈর সার্কেল আজমীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গৃহবধূর গায়ে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ঘটনাটি ভিন্নদিকে প্রবাহিত করা চেষ্টা চালাচ্ছে।’

বিষয়:

ভাসানচরে অগ্নিকাণ্ড: চমেক হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:১৫
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোমানা (৩) নামে অগ্নিদগ্ধ আরও এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত রোমানা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের আবদুস শুক্কুরের মেয়ে। এই নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যরা হলেন, জোবায়দা (২২) ও আমেনা খাতুন (২৪)।

ভাসানচর রোহিঙ্গা আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত শনিবার ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের মাঝে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণের করা হচ্ছিল। এর আগের দিন সকালে ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের সফি আলম (২৪) নতুন সিলিন্ডার নিতে তার ব্যবহৃত সিলিন্ডারের তলানিতে থেকে যাওয়া গ্যাস ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেন। এসময় পাশের কক্ষের আবদুস শুক্কুরের স্ত্রী আমিনা খাতুন এবং অপর কক্ষে আব্দুল হাকিমের মেয়ে রোমানা গ্যাসের চুলায় দেয়াশলায় জ্বালালে সফি আলমের ছেড়ে দেওয়া গ্যাস বাতাসে মিশে তাদের ৩, ৫, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর কক্ষসহ বারান্দায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন দগ্ধ হন।’

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘সাবধানতা অবলম্বন না করে অবহেলাজনিত তাচ্ছিল্যপূর্ণভাবে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ছেড়ে দেওয়ায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের মো. তৈয়বের ছেলে সফি আলমের বিরুদ্ধে ভাসানচর থানায় বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার একমাত্র অভিযুক্ত সফি আলমের দুই শিশুসন্তানও এঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তিনি নিজেও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তাকে ভাসানচর হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে এই মামলায় গ্রেপ্তার আদালতে পাঠানো হবে।’

বিষয়:

আশুলিয়ায় বাক্সবন্দি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৪৪
ঢাকা (সাভার) প্রতিনিধি

সাভারের আশুলিয়ায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি বাক্স থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার আজিজা হক মসিজদের পাশ থেকে ওই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ আহম্মেদ বলেন, ‘রাতের কোনো এক সময় কেউ মসজিদের পাশে একটি কার্টনের বাক্সে নবজাতকের ভ্রুণ ফেলে রেখে যায়। পরে সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে গর্ভপাতের পর মৃত অবস্থায় শিশুটিকে এখানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

বিষয়:

কোটালীপাড়ায় শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে সুকান্ত মেলা     

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শুক্রবার (১ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিন দিনব্যাপী কবি সুকান্ত মেলা। ইতোমধ্যে মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে মেলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করেছে। জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলাটি উদ্বোধন করবেন।

উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিক ভিটায় ৩দিন ব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও থাকবে বাংলাদেশের বিভিন্ন নামী-দামী শিল্পীর অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বসবে বই ও গ্রামীণ মেলা। এই মেলাকে ঘিরে উপজেলা ব্যাপী বইছে উৎসবের আমেজ। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী কবির বাড়িটি সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করছেন। অপরদিকে এই মেলাকে কেন্দ্র করে নবরুপে সেজেছে কবির বাড়ি ও এর আশপাশের এলাকা।

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, এ মেলাকে ঘিরে উপজেলা ব্যাপি বইছে উৎসবের আমেজ। উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা সকলে মিলে এ মেলার আয়োজন করেছি। আগামীতেও এ মেলা যাতে অব্যাহত থাকে সে জন্য আমরা কাজ করে যাবে।

কবি সুকান্ত স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক অশোক কর্মকার বলেন, ‘কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১১ বছর ধরে কবির পৈত্রিক ভিটায় আমরা মেলা করে আসছি। কবির জন্ম আগস্ট মাসে। আগস্ট মাস শোকের মাস থাকায় আমরা প্রতিবছর মার্চের প্রথম সপ্তাহে এ মেলার আয়োজন করে থাকি।’

শেখ হাসিনা আদর্শ সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কবি মিন্টু রায় বলেন, ‘প্রতি বছরই সুকান্ত মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশ বরণ্যে কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের আড্ডা বসে। আশা করছি এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না। এ মেলায় এসে কবি সাহিত্যিকরা তাদের প্রাণ খুলে কথা বলতে পারেন। তাদেরকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। এ জন্য আয়োজকদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মন্ডল বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা এই মেলায় বইয়ের স্টল দিয়ে থাকি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমরা বড় পরিসরে বইয়ের স্টল দিবো।’

পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান হাজরা বলেন, ‘আমি চাইবো সরকার কবির স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিশেষ করে কবির পৈত্রিক ভিটায় একটি পর্যটন কেন্দ্র ও একটি আধুনিক লাইব্রেরী গড়ে তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে কবিকে তুলে ধরবে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় সুধীজনদের সহযোগিতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন এ মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা মেলার সকল আয়োজন শেষ করেছি। আমি চাইবো প্রশাসন ও এলাকাবাসী যেন আগামীতে কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এ ধরনের গ্রামীণ মেলার আয়োজন করেন। এ ছাড়া কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আদর্শকে বর্তমান যুব সমাজের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমাদের আরো নানা মূখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালের ১৫ আগষ্ট কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য কলিকাতার কালীঘাটের মহিমা হালদার স্ট্রিটে মামা বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নিবারন ভট্টাচার্য্য। মাতা সুনীতি দেবী। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল- তার উল্লেখ যোগ্য কাব্যগ্রন্থ। কবির প্রতিটি কবিতায় অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বণিত হয়েছে।

বিষয়:

banner close