শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
২১ চৈত্র ১৪৩২

কে হচ্ছেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নৌকার মাঝি

রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর, ২০২৩ ১৩:৫৮

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? এমন আলোচনা এখন শহরজুড়ে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ পরিবারেই থাকবে, নাকি এ পরিবারের বাইরে চলে যাবে, কিংবা সৈয়দ পরিবারে থাকলে পরিবারের কাকে দেয়া হবে মনোনয়ন, সে প্রশ্ন এলাকার সর্বত্র।

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের কন্যা ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যে দক্ষতা, ইমেজ ও সুনামের সঙ্গে কাজ করে দলকে মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন, সে তুলনায় বর্তমানে জনগণের প্রত্যাশার কিয়দংশও পূরণ করতে পারছেন না তার বোন সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, এমন অভিযোগ খোদ দলের নেতা-কর্মীদেরই। দলীয় কর্মকাণ্ডেও তেমন অংশগ্রহণ নেই, এমন অভিযোগ হরহামেশাই শোনা যায়।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, সদর আসনের এমপি শুরু থেকেই নেতা-কর্মীদের পাশ কাটিয়ে চলছেন। আজ পর্যন্ত সদরের ১১টি ইউনিয়নের কোনো একটি কমিটিকে নিয়ে তিনি মিটিং করতে পারেননি।

সদরের কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পরিবারের প্রতি সবারই দুর্বলতা রয়েছে। তবে বর্তমান এমপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা কষ্টে আছি। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করব।’

দলকে সুসংগঠিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সৈয়দ আশরাফের ইমেজ ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন জাকিয়া নূর লিপি এমপি। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারে একাধিক প্রার্থী- এটা ঠিক আছে, কিন্তু নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।’

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কৃষিবিদ মসিউর রহমান হুমায়ুন। তিনি এলাকার গরিব অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহায়তা এবং বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পাশে থাকেন। তা ছাড়া তৃণমূলে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কর্মীদের প্রতিনিয়ত সুসংগঠিত রেখেছেন তিনি।

মশিউর রহমান হুমায়ুন বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফ ভাই আমাদের নেতা ছিলেন, তিনি থাকাবস্থায় কিশোরগঞ্জ-১ আসনে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে সরকারের রুটিন উন্নয়ন ছাড়া তেমন কিছুই হয়নি। সর্বোপরি বলতে গেলে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সাধারণ মানুষ অসহায়, তাদের ভালো কোনো বন্ধু নেই, তারা কারও কাছে গিয়ে সম্মান পায় না, কথা বলতে পারেন না।’

মশিউর রহমান হুমায়ুন আরও বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি মানেই মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। আমি যেহেতু ওই এলাকার মাটি ও মানুষের সন্তান, তাই আমারও একটা স্বপ্ন আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে এ এলাকার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেন তা হলে আপনারা ভালো কিছু দেখতে পাবেন ইনশাআল্লাহ। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছি- এলাকার উন্নয়ন এবং জনসাধারণের কল্যাণে।’

এ ছাড়া প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলামও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এবং দলকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে দলের অনেকে শাফায়াতকেই ভাবতে শুরু করেছেন।

সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনোনয়ন জমা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দেবেন।’

এ ছাড়া সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চাচাত ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্রিগেড ও মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তিনি।

আশফাকুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আমাকে পছন্দ করে। গত ৩০ মে সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ৯৯টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগ যৌথসভা করে তাকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। এমনকি হোসেনপুর উপজেলার নেতা-কর্মীরাও তার পক্ষে কাজ করছেন।’

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক উপকমিটির সদস্য অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ সাদী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেজো ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জজ কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট ফারুক উজ্ জামান টিপু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক এম এ হান্নান মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাসেল আহমেদ তুহিন দীর্ঘদিন ধরে এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক, মিটিং-মিছিল ও সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন।

অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ সাদী বলেন, ‘আমি আশা করছি দলের সভানেত্রী একজন ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সৈয়দ পরিবারের প্রতি এ আসনের মানুষের দুর্বলতা রয়েছে। তবে একই পরিবার থেকে তিনজন প্রার্থী হওয়ায় এ বিষয়টি জনমনে অনিশ্চিয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কী মনোনয়ন সৈয়দ পরিবারের বাইরে চলে যাচ্ছে? কেউ কেউ বলছেন এমপি হতে সৈয়দ পরিবার তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জাকিয়া নূর লিপি সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে তার ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম ও চাচাত ভাই সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুকে কখনো একমঞ্চে দেখা যায়নি। তারা বরাবরই আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করে থাকেন।

জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এনায়েত করিম অমি বলেন, ‘হুমায়ুন ভাই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপরেও খানিকটা সময় পেলেই ছুটে আুসেন কিশোরগঞ্জের গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের কাছে এবং নিয়মিত তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকছেন। কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার হৃদ্যতা রয়েছে। তিনি যেমন সাধারণ মানুষকে ভালোবাসেন, সাধারণ মানুষও তাকে মনেপ্রাণে পছন্দ করেন।’

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিলকিস বেগম বলেন, মসিউর রহমান হুমায়ুন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতো মানুষ এমপি হলে উন্নয়নের পাশাপাশি সদর ও হোসেনপুরের সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে।

বিষয়:

নওগাঁর পোরশায় ডাকাতি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ডাকাত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সড়ক অবরোধ করে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত মালামাল এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর থানার দোগাছী (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে গোলাম মোস্তফা শ্যামল (৫৫), মহাদেবপুর থানার শিবরামপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬), এবং সাপাহার থানার খোট্টাপাড়া গ্রামের মৃত কালু মন্ডলের ছেলে আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা থানার সরাইগাছী-খাট্টাপাড়া সড়কের ফকিরের মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর রশি টানিয়ে সড়ক অবরোধ করে ডাকাতরা। এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়া তিনজন আরোহী ডাকাতদের কবলে পড়েন। কিছুক্ষণ পর আরও একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন আরোহীকেও একইভাবে জিম্মি করা হয়। পরে তাদের পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়।

ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি সড়কপথে চলাচলের সময় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগবিতণ্ডা, যুবককে কুপিয়ে জখম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে মেহেদী হাসান (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কাজিরহাট থানার বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আহত মেহেদী হাসান ওই ইউনিয়নের চরমাধব রায় গ্রামের মো. মাসুদ রানার ছেলে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- একই গ্রামের তিন ভাই রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল।

জানা গেছে, টিসিবির পণ্য ক্রয়ের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে একই গ্রামের রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল তাকে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় আহত যুবকের বাবা মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাজিরহাট থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

মাসুদ রানা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বিদ্যানন্দপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। ওই সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মেহেদীর সঙ্গে রমজান ও রাশেদের কথা-কাটাকাটি হয়। সন্ধ্যায় মেহেদী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভূমি অফিস এলাকায় পৌঁছালে রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল মিলে তার পথ আটকান। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মেহেদীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। মেহেদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে এবং অভিযুক্ত রাশেদ, কাউসার ও ফয়সালকে আটক করে। খবর পেয়ে কাজিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।’

কাজিরহাট থানার পরিদর্শক দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার যুবকদের শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’


বাগেরহাটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা পেলেন ৫ হাজার মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী মডেল উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প হয়েছে শুক্রবার (৩ এপ্রিল)। দিনভর এ চক্ষুশিবিরে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ সময় রোগীদের চাহিদামতো ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া চোখের ছানি ও নেত্রনালি অপারেশনের জন্য রোগী বাছাই করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় নিয়ে চোখের অপারেশন করিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান আয়োজকরা। বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে খুশি দরিদ্র ব্যক্তিরা।

সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য এ প্রত্যয় নিয়ে আমরা এই আয়োজন করেছি। অন্ধত্ব প্রতিরোধ করুন—এ স্লোগানে আমাদের এই চক্ষু ক্যাম্প। এই জনপদের প্রতিটি মানুষ যারা বৃদ্ধ হয়েছেন, যৌবনে তারা জীবন-জীবিকা ও সমাজ-সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে অনেক ভূমিকা রেখেছেন। তাদের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতা আছে, দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদের তাদের পাশে থাকা উচিত। এ মানুষগুলো যাতে সুন্দরভাবে দেখতে পান, সে ব্যবস্থা করার জন্যই আমাদের এই আয়োজন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা রামপালে নিয়মিত বিনামূল্যে চক্ষুক্যাম্পের আয়োজন করেছি। এ সময়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষের চোখের অপারেশন এবং লক্ষাধিক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন থাকবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিনসহ দলের নেতা-কর্মী ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।


বনদস্যু আতঙ্কে থমকে আছে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হলেও বনদস্যুদের আতঙ্কে কার্যত থমকে গেছে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম। পহেলা এপ্রিল থেকে মৌসুম শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ থেকে প্রথম দিনে কোনো মৌয়াল বা নৌকা বনে প্রবেশ করেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক দস্যু বাহিনীর অগ্রিম চাঁদা দাবির কারণে অনেক মৌয়াল প্রস্তুতি নিয়েও বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তারা মধু সংগ্রহ থেকে বিরত থাকছেন। এতে করে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মধু ও মোম আহরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. খলিলুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত মাত্র ৮টি নৌকার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) ইস্যু করা হয়েছে। যেখানে গত বছর একই সময়ে বিএলসির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০টি এবং মৌসুমের প্রথম দিনেই ২০টি নৌকায় দুই শতাধিক মৌয়াল বনে গিয়েছিলেন। এ বছর দস্যু আতঙ্কে একটি নৌকাও শরণখোলা থেকে বনে প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাস গ্রহণ করলে মৌয়ালদের নৌকাবহরকে বনরক্ষীদের এসকর্ট দিয়ে বনে প্রবেশ করানো হবে।

অন্যদিকে, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস জানান, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে মোট ৩২টি নৌকার বিএলসি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন ১৭টি নৌকায় দেড় শতাধিক মৌয়াল বনে প্রবেশ করেছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতার কারণে এ বছর মৌয়ালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ঝুঁকি এড়াতে মৌয়ালদের দলবদ্ধভাবে মধু সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ ভোলা নদীসংলগ্ন ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর কমপার্টমেন্ট এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন পেশাদার মৌয়াল রয়েছেন। প্রতিবছর তারা মধু সংগ্রহে অংশ নিলেও এ বছর দস্যু আতঙ্কে পরিস্থিতি ভিন্ন। চলতি মৌসুমে ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শুধু রাজস্ব ঘাটতিই নয়, মৌয়াল পরিবারগুলোও বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।


গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের শেষ কোথায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ গারো পাহাড়ে বিচরণ রয়েছে বন্যহাতির। একই সাথে গারো পাহাড়ের ঢালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের বসবাস। দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে গারো পাহাড়ে পাশাপাশি হাতি ও মানুষের বসবাস। হাতির আক্রমণে মানুষের মৃত্যু, আবার হাতি হত্যাও এই অঞ্চলের মানুষের নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এবং নেত্রকোনা ও জামালপুর পাহাড়ি এলাকায় হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকলেও নেই স্থায়ী সমাধান।

সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ২৫-৩০টির একটি হাতির পাল গারো পাহাড়ে প্রবেশ করে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া আর বিএসএফের বাধায় হাতিগুলো আর ফিরে যেতে পারেনি। সবশেষ গত দুই বছরে আরো অর্ধশতাধিক হাতি শাবকের জন্ম হয়ে গারো পাহাড়ে বর্তমানে হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই শতাধিক।

একসময় পাহাড়ে যথেষ্ট খাদ্য থাকলেও বর্তমানে খাবার সংকটে পড়েছে বন্যহাতির দল। প্রতিনিয়তই মানুষের পাহাড় দখলের কারণে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ে খাবার না পেয়ে লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যহাতির দল। নিজেদের খাদ্য সংগ্রহে নষ্ট করছে মানুষের ফসল, গাছপালা, বসতবাড়ি। হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা পড়ছে মানুষ। ফসল রক্ষায় মানুষের দেওয়া বৈদ্যুতিক তারে জরিয়ে মৃত্যু হচ্ছে হাতিরও।

১৯৯৬ সালে প্রথম শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকাজুড়ে থাকা ৫০ গ্রামে শুরু হয় বন্যহাতির তাণ্ডব। এসব পাহাড়ি গ্রামে গারো, হাজং, কোচ, বানাই বর্মন, হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতিগোত্র মিলে লক্ষাধিক লোকের বসবাস। এরা সিংহভাগ শ্রমজীবী ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এসব অঞ্চলে ক্রমেই হাতির আক্রমণ বেড়ে চলছে। আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটছে এসব এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় দেড় শতাধিক হাতির পাল দিনে গভীর অরণ্যে থাকে। সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে নেমে আসে লোকালয় ও ফসলি জমিতে। কৃষকরা ক্ষেতের ফসল ও জানমাল রক্ষার্থে রাত জেগে পাহারা দিয়েও রক্ষা করতে পারেন না সোনার ফসল। ঢাকঢোল পিটিয়ে, পটকা ফুটিয়ে, মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু যতই হাতি তাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে ততই হাতির পাল পালাক্রমে তাণ্ডব চালাচ্ছে ঘরবাড়িতে।

পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের বাসিন্দা উকিল উদ্দিন, এরশাদ আলম ও বাদশা মিয়াসহ স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে ভীষণ ঝামেলা পোহাতে হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের বেশির ভাগ জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত। যা শত্রু সম্পত্তি ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত জমি রেকর্ডীয় না হলে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয় না।

শেরপুর জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগ জানায়, ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ৪২ জন মানুষ মারা গেছে। আহত হয়েছে কয়েকশ মানুষ। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে ৩৩টি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, হাতি মানুষের দ্বন্দ্বে জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে তারা। ১০ জন করে সদস্য নিয়ে ২৫টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করেছে বন বিভাগ। হাতির আক্রমণে কেউ নিহত হলে ৩ লাখ, আহত হলে ১ লাখ ও ফসল নষ্ট হলে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, ‘হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। হাতির খাদ্যের সংকট না হয় এবং লোকালয়ে যেন না আসে সে জন্য বিপুল পরিমাণে কলাগাছসহ বিভিন্ন গাছ পাহাড়ে রোপণ করা হচ্ছে।

হাতি তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণী। একটি হাতি দিনে ১৫০ কেজি ঘাস এবং ১৯০ লিটার পানি পান করে। এ কারণে খাদ্য ও পানীয়ের জন্য বড় একটা এলাকা হাতিকে ঘুরে বেড়াতে হয়। হাতিকে রক্ষা করতে না পারলে একটা সময় এই ধীর প্রজননের প্রাণীটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খানের ভাষ্যমতে, হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত দিন দিন বাড়ছে, কারণ মানুষ আবাসস্থল দখল করে নিচ্ছে। হাতি রক্ষায় প্রথমে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থলগুলো সুরক্ষিত করতে হবে। যেসব জায়গায় হাতি চলাচল করে সেসব জায়গায় মানুষের বসতি কমিয়ে মসলা জাতীয় ফসলের চাষ করতে হবে।


বরগুনায় হামের প্রকোপ বেড়েছে, আক্রান্ত ২৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনা জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ৯৮ জনের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জেলা সদরসহ আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি করে এবং বেতাগীতে ১টি করে আলাদা শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় বর্তমানে ৩০টির বেশি শয্যা প্রস্তুত থাকলেও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা যায়, বরগুনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে হাম সন্দেহে নতুন করে ৩ জন বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। সংক্রমণের মাত্রা নির্ধারণে ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, গত এক মাস ধরে জেলায় এই প্রকোপ চলছে এবং প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ২০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। গুরুতর রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, খাবারে অনীহা এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। অনেক ক্ষেত্রে মুখে ক্ষতও দেখা দিচ্ছে।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শিশুদের নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


ফেনীর সাদিয়া মার্কিন আকাশের দায়িত্বে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি  

ফেনী পৌরসভার রামপুর আহম্মেদ আলী পাটোয়ারী বাড়ির কৃতি সন্তান সাদিয়া আফরোজ তুরাগ প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান নারী হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান নারী, যিনি লাল সবুজের পতাকাকে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন।

সাদিয়া আফরোজ তুরাগ ফেনী শহরের রামপুর আহম্মেদ আলী পাটোয়ারী বাড়ির সমাজসেবক ও আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত হারুন উর রশিদ ও তাবেন্দা হারুনের মেয়ে।

মেয়ের এমন সাফল্যে গর্বিত বাবার আবেগময় ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু দেওয়া হলো:

আজ আমাদের জীবনের এক অত্যন্ত গর্বের দিন। আলহামদুলিল্লাহ।

আমাদের মেয়ে সাদিয়া আফরোজ তুরাগ যুক্তরাষ্ট্রের FAA (Federal Aviation Administration) এর Air Traffic Controller হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের জানা মতে, তুরাগ ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়ে যে এই সম্মানজনক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেল।

শুধু তাই নয়, তুরাগ তার পড়াশোনায় গোল্ড মেডেল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। সেই দিন থেকেই আমরা বাবা-মা হিসেবে তার জন্য অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি, এই স্বপ্ন শুধু আমাদের নয়, তার নিজের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য আর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির ফল।

এই জায়গায় পৌঁছানোর জন্য তুরাগ অনেক পরিশ্রম করেছে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। একজন বাবা ও মা হিসেবে আমরা তার জন্য খুবই গর্বিত এবং কৃতজ্ঞ।

সবার কাছে আমাদের মেয়ের জন্য দোয়া চাই, যেন সে সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বের সাথে তার কাজ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।


কুমিল্লায় হাসপাতালে একসাথে তিন সন্তান প্রসব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কুমিল্লার সিডি প্যাথ হাসপাতালে একসাথে তিন সুস্থ নবজাতকের সফল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ও তিন নবজাতকই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এটি ছিল একটি জটিল ও সংবেদনশীল ডেলিভারি, যা অত্যন্ত দক্ষতা, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। সফল এই ডেলিভারিটি সম্পন্ন করেন হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহানারা সুলতানা মজুমদার (লুনা) এবং তার সহযোগী দক্ষ নার্সিং টিম।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মা ও নবজাতকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট টিম অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং নার্সিং টিমের সেবায় মা ও নবজাতকরা সুস্থভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করেছেন।

এমন একটি আনন্দঘন মুহূর্তের অংশ হতে পেরে সিডি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ গর্ব প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মা ও তিন নবজাতকের সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।


সামাজিক ব্যাধি রোধে সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই: কায়সার কামাল

নেত্রকোনায় সরকারি সফরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সামাজিক ব্যাধি রোধে সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জনতা কালচারাল একাডেমির বার্ষিক পরীক্ষা সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি আরও বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিচর্চায় সম্পৃক্ত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে মাদকসহ নানা সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকবে। আর এ জন্য শিশুদের মধ্যে মানবিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা গড়ে তুলতে হবে। এটা পারলেই তারা কিশোর বয়সেই সঠিক পথে চলতে শিখবে এবং একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা কেবল ভূখণ্ড বা পতাকার জন্য নয়; বরং অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণে এখনো অনেক পথ অতিক্রম করা বাকি রয়েছে।

কলমাকান্দার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ উপজেলাকে অবহেলিত অবস্থা থেকে বের করে একটি মডেল এলাকায় রূপ দিতে হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দল, মত বা ধর্ম নয়—মানুষের মেধা ও মননই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম এবং জনতা কালচারাল একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আফরোজা বেগম শিমু।

অনুষ্ঠান ছাড়াও ডেপুটি স্পিকার সরকারি সফরে নিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।


দেশে তেল আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, তেলের আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল শহরের মাহমুদুল হাসান চাঁদ বাজার পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আগাম তিন মাসের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাজার বন্ধ রাখা এবং মন্ত্রী ও সচিবদের ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৭ বছরে শুধু উন্নয়নের বুলি শোনা গেছে, তবে বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।”

মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সেই বাস্তব চিত্র এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে সড়ক ও বাজার উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা।


হাজারীবাগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, মুখে ‘বিষাক্ত দ্রব্য’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, তার মুখে বিষাক্ত কোনো পদার্থের গন্ধ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাইদুল আমিন ওরফে সীমান্ত (২৫)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় মেসে বসবাস করতেন তিনি।

সীমান্তের চাচা রুহুল আমিন জানান, হাজারীবাগের একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন সীমান্ত। তার রুমমেট জানান, রাত ৯টার পর সীমান্ত তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়। পরে বাসার মালিক দরজা ভেঙে সীমান্তকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, "সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে ধারণা করছি ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন এই কাজটি করেছে তা কিছুই বলতে পারবো না।"

নিহতের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।


ছাদে পানির ট্যাংকে ৮০০ লিটার ডিজেল মজুত, জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকে অবৈধভাবে ডিজেল সংরক্ষণ করার দায়ে বশির আহমেদ ওরফে বশির সেরাং (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ভুইয়ারহাট এলাকায় তার নিজ বাড়িতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সুবর্ণচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আকিব ওসমান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন উপস্থিত ছিলেন।

তল্লাশির সময় বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে অবৈধভাবে মজুত রাখা প্রায় ৮০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বশির সেরাংকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে তেল জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত বশির সেরাং দাবি করেন, তার একটি মাছ ধরার নৌকা রয়েছে। নৌকা চালানোর জন্যই তিনি এই তেল সংগ্রহ করে বাড়িতে রেখেছিলেন। চুরির আশঙ্কায় নৌকায় না রেখে বাড়িতে সংরক্ষণ করা হয় বলে জানান তিনি।

পরে জব্দ করা ডিজেল চর হাসান ভুইয়ারহাট বাজারে লাইসেন্সপ্রাপ্ত তেল ব্যবসায়ীদের কাছে ডিপো মূল্যে তাৎক্ষণিক নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

ইউএনও আকিব ওসমান বলেন, "অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও সংরক্ষণের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।"


কুড়িল-রামপুরা যানজট কমাতে হচ্ছে নতুন বাইপাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কের অসহনীয় যানজট কমাতে একটি নতুন বাইপাস সড়ক সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর ১০০ ফিট সড়ক থেকে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হয়ে সানভ্যালী আবাসিক প্রকল্পের ভেতর দিয়ে আফতাবনগর হয়ে রামপুরা পর্যন্ত ডাবল লেনের একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রস্তাবিত এই সড়কপথটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার।

প্রকল্পটির ব্যয় কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়নে তিন পক্ষ মিলে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, অতিরিক্ত অর্থ খরচ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা হবে। প্রকল্পটিকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশের কাজ করবে রাজউক। দ্বিতীয় অংশের দায়িত্বে থাকবে উত্তর সিটি করপোরেশন এবং বাকি অংশের কাজ শেষ করবে সানভ্যালী হাউসিং সোসাইটি।

পরিদর্শন শেষে রাজউক চেয়ারম্যান জানান, বাইপাস সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করতে প্রাথমিকভাবে একটি ব্রিজ এবং ডাবল লেনের সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রুটটি সচল হলে কুড়িল থেকে রামপুরা এবং বনশ্রী এলাকার ট্রাফিক চাপের বড়ো একটি অংশ এই বাইপাস দিয়ে চলে যাবে।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক বলেন. প্রধানমন্ত্রীর সব অঙ্গীকারকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে চাই। তাই যানজট নিরসনে আফতাবনগর বাইপাস সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থ যেন অযথা ব্যয় না হয়, তাই সমন্বয় করে কাজটি করা হবে। প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও নেওয়া হবো।

সড়কটি নির্মিত হলে বাড্ডার মূল সড়কের ওপর গাড়ির চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে মনে করেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার। পরিদর্শনকালে তিনি এই রুটের যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি দিক ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বিকল্প সংযোগ সড়কটি চালু হলে পূর্ব ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং বিশেষ করে অফিসগামী মানুষের দীর্ঘ সময়ের যানজট ভোগান্তি লাঘব হবে।


banner close