শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

সিলেট-৫: নতুন মুখের খোঁজে আ.লীগ, আশায় জাতীয় পার্টিও

দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ১১:৫৬

বার্ধক্যজনিত কারণে এবার নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার। দলীয় মনোনয়নও সংগ্রহ করেননি রেড ক্রিসেন্ট বাংলাদেশ ও পূবালী ব্যাংকের সাবেক এ চেয়ারম্যান। ফলে এ আসনে এবার নতুন মুখ খুঁজছে আওয়ামী লীগ। দলের ৫ নেতাসহ এ আসনের প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭ জন।

এদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবার প্রার্থী হতে অনাগ্রহী থাকায় আশাবাদী হয়ে উঠেছে জাতীয় পার্টি। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এবার আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে আশাবাদী দলটির নেতারা।

মহাজোট গঠনের পর থেকেই সিলেট-৫ আসন নিয়ে চলছে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির টানাপোড়েন। গত নির্বাচনে মহাজোটের প্রধান দুটি দল ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারায় উন্মুক্ত রাখা হয় এ আসন। ফলে আওয়ামী লীগ থেকে হাফিজ আহমদ মজুমদার ও জাতীয় পার্টি থেকে মো. সেলিম উদ্দিন প্রার্থী হন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেতা মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজ মজুমদার বিজয়ী হন। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। মহাজোটের ব্যানারে প্রার্থী হয়ে সেবার নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সেলিম উদ্দিন।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বুধবার হাফিজ আহমদ মজুমদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তার ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানান, বার্ধক্যজনিত কারণে হাফিজ মজুমদার এবার নির্বাচন করতে আগ্রহী নন। এ কারণে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। তবে দলীয় হাইকমান্ড থেকে তাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন এই নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৭ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন-সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকার সিলেট বিভাগীয় আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোশতাক আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আল কবীর, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক কাওসার চৌধুরী। এ ছাড়া তাসলিমা খানম, মো. খসরুজ্জামান, ফখর উদ্দিন আলী আহমদ নামে আরও তিনজন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তারা রাজনীতিতে সক্রিয় নন বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে মাসুক উদ্দিন আহমদ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। পরে আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হলে প্রার্থী হন মো. সেলিম উদ্দিন। ফলে দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন মাসুক উদ্দিন। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও মাসুক উদ্দিন আহমদ মনোনয়ন চাইলেও শেষ পর্যন্ত নৌকার টিকিট পান রেডক্রিসেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার।

এবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান। এখানকার মানুষের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দল আমাকে মহানগরের দায়িত্ব দিলেও নিজ এলাকা কখনো ছেড়ে যাইনি। আশা করছি, দল ও এলাকার জন্য আমার দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. আহমদ আল কবীরও গেল দু’বার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামাগত উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

ড. আহমদ আল কবীর বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে এলাকার উন্নয়নে সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি। আরও বেশি কাজ করার সুবিধার্থে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। আশা করছি, দল ও দলনেত্রী মূল্যায়ন করবেন। ঢাকার সিলেট বিভাগীয় আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোশতাক আহমেদও এর আগে মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন। গদ সিটি নির্বাচনেও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

এদিকে এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন এবারও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী। সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তিনি। সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘এবার জোটগতভাবে হবে কি না, এটা দলের শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে মাঠে সক্রিয় রয়েছি। জোট হোক বা না হোক, সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করবে।’


পাত্রী পছন্দ না হওয়ার পাত্রের দুলাভাইকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:৫৯
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে পাত্রের দুলাভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে জেলার মোল্লাহাট উপজেলার আংড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নিহত আজিজুল হক (৪৫) খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার ইছামতি গ্রামের শাহাদাত মোল্লার ছেলে। মোল্লাহাট উপজেলার আংড়া গ্রামে শাহদাত মুন্সির মেয়ের সঙ্গে দফাদার মোহাম্মাদ আলী গাজীর ছেলে হাফিজুর রহমান গাজীর বিয়ের কথা হয়েছিল। এদিন পাত্রপক্ষ পাত্রীকে দেখতে তাদের বাড়িতে যায়। কিন্তু ছেলের মেয়ে পছন্দ না হওয়ায় তারা ফিরে আসার সময় তাদের ওপর হামলা করে পাত্রীপক্ষ। এতে পাত্রের দুলাভাই আজিজুল নিহত হন।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আশরাফুল আলম বলেন, 'মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'


রামুতে ৭১ রোহিঙ্গা আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের রামুতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পের বাইরে বেড়াতে আসার অভিযোগে ৭১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক রোহিঙ্গাদের সবাই যুবক ও মধ্যবয়সী পুরুষ।

পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কে ( কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক) রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অস্থায়ী তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, 'ঈদ উপলক্ষে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরাপত্তায় পুলিশ নানাভাবে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এই তৎপরতার অংশ হিসেবে শুক্রবার দুপুরে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের পুলিশের একটি অস্থায়ী তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে। এক পর্যায়ে বিকাল পর্যন্ত টেকনাফ দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশী করে ৭১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়।'

আটকদের দাবি, ঈদ উপলক্ষে তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল।

তবে এ ব্যাপারে আটক এসব রোহিঙ্গারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতির স্বপক্ষে কোন ধরণের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

ওসি বলেন, 'সন্ধ্যায় এসব রোহিঙ্গাদের রামু থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এরপর রাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক আটক রোহিঙ্গাদের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকাস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ( আরআরআরসি ) কার্যালয়ের অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।'

পরে সেখান থেকে এসব রোহিঙ্গাদের স্ব স্ব ক্যাম্পে ফেরত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলে জানান আবু তাহের দেওয়ান।


চট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী ৪ জন নিহত 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও পটিয়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ কিশোর ও ২ তরুণ নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ২ কিশোর নিহত ও ১ কিশোর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতরা হলো- মো: আব্দুল্লাহ (১৭) এবং মো: মোস্তাকিম (১৩)। আহত হয়েছে মো. রাহাত (১৩)। তারা ৩ জন পরস্পর পরস্পরের খালাতো ভাই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কের নাজিরহাট পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মধ্য দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে কিশোর একটি মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক পার হওয়ার সময় পিছন থেকে দ্রুত গতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ধাক্কা দেয়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেয়ার পর একজন এবং চট্টগ্রামে নেয়ার পথে ১ জনসহ মোট ২ জন মারা যান।

এছাড়াও এ ঘটনায় গুরুতর আরও একজন হলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফ এলাকার মো: জানে আলমের ছেলে মো: রাহাত (১৬)। সম্পর্কে তারা আপন খালাতো ভাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরেফিন আজিম বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় ৩জন রোগী মেডিক্যাল এ নিয়ে আসা হয় তন্মধ্যে একজন মৃত ছিল। অন্য ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম নেয়ার পথে আরও একজন মারা গেছে শুনেছি।

নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সেকেন্ড অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল এবং বাস দুর্ঘটনায় ২জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় বাস এবং মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। বাস চালককে আটক করা যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকার মোঃ ওসমানের পুত্র মোঃ হৃদয় (২২) ও একই এলাকার ফোরকান বাদশার পুত্র মোঃ ইমরান (২০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন পটিয়া হাইওয়ে থানার এসআই আবদুর রশীদ জানান, যাত্রীবাহী লোকাল বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং নিহত দুইজনের লাশ হাইওয়ে থানা হেফাজতে রয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের পটিয়া উপজেলার মনসার টেক মেম্বারের দোকানের সামনে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, মোটরসাইকেল আরোহী দুইজন শান্তির হাট এলাকা থেকে বোয়ালখালীর দিকে যাচ্ছিল। এসময় পটিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাসের সঙ্গ মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী দুইজন ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।


মুন্সীগঞ্জ নদীতে নিখোঁজ ঢাকা ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুজনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ঢাকা ব্যাংকের এক কর্মকর্তাসহ দুজনের মরদেহ আজ শুক্রবার উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

ঘটনাস্থলের অদূরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রাত সাড়ে আটটার দিকে ব্যাংক কর্মকর্তা জুয়েল রানা ও রিয়াদ আহমেদ রাজু নামের দু'জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এখনও নিখোঁজ রয়েছে রিয়াদ আহমেদ রাজুর ছেলে রামিন আরিদ (১৬)।

উদ্ধার হওয়া দুজনের মধ্যে জুয়েল ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তা ছিলেন, তবে তার পদবি জানা যায়নি। জুয়েলের ভাইরা রিয়াদ আহমেদ রাজুর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। দুজনই ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতেন।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, জুয়েল, রাজু ও রামিন টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেসনাল এলাকায় তাদের স্বজন আলম মোল্লার বাড়িতে বেড়াতে যান। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ট্রলারে করে ৩০ থেকে ৩৫ জন দিঘীরপাড় ইউনিয়নের ধানকোড়া এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে ঘুরতে বের হন। ওই সময় তারা বেশ কয়েকজন ট্রলার থেকে গোসল করতে নামেন।

গোসল করার সময় রামিন নদীর স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে তার বাবা ও খালু তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম ও নৌ পুলিশ। পরে ঢাকার ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

টঙ্গিবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। ঢাকা থেকে ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে একজন।’

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার চর আবদুল্লাহ নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল হাসনাত জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের টিম উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে।


'যোগ্যরাই টিকে থাকে; তাই মানব সম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য'

শুক্রবার মনোহরগন্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক ঈদ-পুনর্মিলনী সভায় বক্তব্যে বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:০৪
বাসস

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, মানুষের সক্ষমতা ও রুচি উন্নত হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। যোগ্যরাই টিকে থাকে তাই মানব সম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য।

আজ শুক্রবার কুমিল্লার মনোহরগন্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে এক ঈদ পুনর্মিলনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সমাজে সবাইকে সৎ আচরণ অনুশীলন করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করলে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। মন্ত্রী বলেন, দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবারের উপজেলা নির্বাচন প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা কাজের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করতে পেরেছে, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, মানুষকে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দিয়ে এ সময় বলেন, আওয়ামী ও সহযোগী সংগঠনের যে কেউ চাইলে প্রার্থী হতে পারেন তবে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কোথাও একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষেদগার থেকে বিরত থাকতে হবে।

সভায় আরও বক্তৃতা করেন মনোহরগন্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, সহ সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, যুবলীগের আহবায়ক দেওয়ান জসিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সেলিম কাদের চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান শামীম।


খাগড়াছড়িতে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:৫৪
প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি 

খাগড়াছড়িতে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চেঙ্গী, ফেনী ও মাইনী নদীতে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক ও প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব। ফুল বিঝুকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকে নদীর পাড়গুলো হাজারো তরুণ-তরুণীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী, কিশোরী-ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা হল্লা করে ফুল তুলে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে নদী-খালে ফুল উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরের শুভ কামনায় নিজেদের পবিত্রতা কামনা করে। এছাড়া ফুল দিয়ে ঘরের প্রতিটি দরজার মাঝখানে মালা গেঁথে সাজানো হয়।

আজ শুক্রবার চাকমা সম্প্রদায় ফুল বিজু পালন করছে। আগামীকাল শনিবার মূল বিজু আর পরের দিন ১৪ এপ্রিল বোরবার পহেলা বৈশাখ বা গজ্জাপয্যা পালন করবে। এ সময় ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন। একইসঙ্গে শনিবার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের হারিবৈসু, বিযুমা, বিচিকাতাল। অপর দিকে রোববার খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাইং উৎসবে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি বা পানি খেলা ও জেলা প্রশাসনে উদ্যোগে হবে বর্ষবরণের র‌্যালী। এ উৎসবে আনন্দের আমেজ ছড়ায়। চেঙ্গী নদীতে চাকমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে ফুল উৎসর্গদের সামিল হয়েছেন অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও। বৈসাবি উৎসব দেখতে এসেছে অঙ্কে পর্যটকও।

১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈসাবি’ নামে এ উসব পালন করে আসছে। যা সময়ের ব্যবধানে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে ‘বৈসাবি’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে ‘ত্রিপুরা ভাষায় বৈসু, মারমা ভাষায় সাংগ্রাই এবং চাকমা ভাষায় বিজু’ নামে এ উৎসব পালন হয়ে থাকে। এ তিন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষার নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয়।

চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি,আসাম, চাক ও রাখাইনসহ ১৩ ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা-সংস্কৃতি ও অবস্থানকে বৈচিত্র্যময় করে করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিন থেকে ‘বৈসাবি’ উৎসব পালন করে থাকে। ‘বৈসাবি’ উৎসবের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মধ্যে শান্তি- সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় হোক এই প্রত্যাশা সকলের।


ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন গতকাল ঈদের দিনের তুলনায় আজ শুক্রবার কয়েকগুণ বেশি পর্যটনের আগমন ঘটেছে সুন্দরবনে। ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দেশের দূরদূরান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারসহ সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। আগামী ছুটির দিনগুলোতে আরও বেশি পর্যটক বাড়বে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে। ঈদের দিন শুধু বনের করমজল পর্যটন স্পটে সহস্রাধিক লোক হলেও পরদি আড়াই হাজারের মত দর্শনার্থী ভ্রমণে যায়।

দেশের যেকোন জায়গা থেকে মোংলায় আসার পর মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করমজলেই ভিড় সবচেয়ে বেশি ভ্রমণপিয়াসীদের। এছাড়াও বনের হাড়বাড়ীয়া, কটকা, কচিখালী ও আন্ধারমানিকসহ অন্যান্য স্পষ্টে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। এই ছুটিতে বড় বড় বিলাসবহুল লঞ্চে সুন্দরবন ভ্রমণ করছেন নানা দেশের নানা বয়সী পর্যটকেরা। সুন্দরবন ঘুরতে আসা রাজশাহীর শিক্ষার্থী শামসুননাহার ডারিন ও মিজানুর রহমান মিজু বলেন, এর আগে কখনও সুন্দরবনে আসা হয়নি, এবারই প্রথম এসেছি। না আসলে বুঝাই অসম্ভব সুন্দরবন আসলেই কতো সুন্দর। খুব ভাল লাগছে, বন্ধু-বান্ধব মিলে ভীষণ আনন্দ করছি।

সিলেটের মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মিজবাহ উদ্দীন ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অলিপ গোলদার বলেন, সুন্দবনে এসে হরিণ, কুমির, বানর, কচ্ছপ দেখলাম। সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে ছাতার মত বিস্তৃত বনের বিভিন্ন গাছপালা দেখে প্রাণ ভরে গেছে। কি সবুজ সজিব শীতল পরিবেশ, মনে হয় নির্মল এক অক্সিজেনের কারখানায় এসেছি।

ঢাকা থেকে পরিবারসহ মোস্তফা জামান তার পরিবার নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু সুন্দবনের মতো এতো আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারকে আগে কখনও দেখিনি। যত দেখছি ততোই মন জুড়াচ্ছে, ভাবছি এতোদিনে কেন আসলাম না। আমি বলবো যারা সুন্দরবনে আসেননি তারা সুন্দরের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন, যেমন আগে আমরাও ছিলাম।

কুয়েট শিক্ষার্থী আবির হোসেন বলেন, সুন্দরবনের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে তার সুষ্ঠু ব্যবহার করা গেলে তাতে উপকূলের মানুষের মঙ্গল হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে ঘুরতে এসে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদাণের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনের সংখ্যা বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটির দিনেও পর্যটকদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে হঠাৎ এবারের ঈদে পর্যটকদের আগমন বিগত সময়ের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে টানা ৫দিনের ছুটি ও বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকার বিষয়টি বলে মনে করছেন বনবিভাগ।


চট্টগ্রামে অয়েল মিলে অগ্নিকাণ্ড

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ১২:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি অয়েল মিলে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।।

শুক্রবার সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জারটেক এলাকায় অবস্থিত ওই মিলে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়৷

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

তিনি জানান, সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখনও তা পুরোপুরি নির্বাপণ হয়নি।


সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা: মাস্টার-ম্যানেজারসহ আটক ৫

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১১ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:৫৫
জবি প্রতিনিধি

রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে লঞ্চ দুর্ঘটনার ঘটনায় জড়িত দুই লঞ্চের মাস্টার-ম্যানেজারসহ আটক ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আটককৃতরা হলেন- এম ভি ফারহান-৬ লঞ্চের দুই জন মাস্টার ও একজন ম্যানেজার এবং এম ভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের দুই জন মাস্টার।

বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আটক করা হয়েছে বলে দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন নৌ-পুলিশের ঢাকা জোনের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, সদরঘাটে লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রী নিহতের ঘটনায় ফারহান লঞ্চের দুই চালক ও ম্যানেজার এবং এমভি তাসরিফের দুই চালকসহ মোট পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ দুর্ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আটককৃতরা হলেন, এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. মিজানুর রহমান (৪৮) ও দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার মো. মনিরুজ্জামান (২৪) এবং এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. আব্দুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার মো. সেলিম হাওলাদার (৫৪) ও ম্যানেজার মো. ফারুক খাঁন (৭৬)।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানাধীন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ১১ নম্বর পন্টুনের সামনে ঢাকা থেকে ভোলাগামী এমভি তাশরিফ-৪ ও এমভি টিপু নামে দুটি লঞ্চ রশি দিয়ে পন্টুনে নোঙর করা ছিল। লঞ্চ দুটির মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় এম ভি ফারহান-৬ লঞ্চটি এম ভি টিপু-১৩ কে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে এম ভি টিপু-১৩ ধাক্কা দেয় এম ভি তাসরিফ-৪-কে। এ সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়।

ছিঁড়ে যাওয়া সেই দড়িটিই পন্টুনের আশপাশে থাকা পাঁচজনকে সজোরে আঘাত করে। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত তাদের ঘোষণা করেন।

মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে কর্মরত প্রধান ডোম মোহাম্মদ মিলন শেখ জানান, পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়েছে মাথায় আঘাত লেগে।

এদিকে লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে দড়ির আঘাতে পাঁচজনের প্রাণ যাওয়ার পর ধুয়েমুছে স্বাভাবিক করা হয়েছে সদরঘাটের প্লাটুন। এ দুর্ঘটনায় সদরঘাট সাময়িক থমকে গেলেও দেড় ঘণ্টা পরেই শুরু হয়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। দুর্ঘটনায় জড়িত এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের যাত্রীদের এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চে তুলে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিএ'র ক্রয় ও সংরক্ষণ পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম কমিটির আহ্বায়ক, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আজগর আলী এবং বন্দর শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেন কমিটির সদস্য। কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যানের নিকট প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ হতে প্রতি মৃত ব্যক্তির নমিনির কাছে দাফন-কাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

বিষয়:

বান্দরবানে যৌথবাহিনীর অভিযানে কেএনএফ এর ৩ সহযোগী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১১ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:৩২
বাসস

বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা, টাকা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় কেএনএফ এর ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক অভিযানে তাদের রুমা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো রুমা উপজেলার ইডেন পাড়ার বাসিন্দা লাল রিন ত্লোয়াং বম (২০), ভান নুয়াম থাং বম (৩৭) এবং ভান লাল থাং বম (৪৫)।

স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২এপ্রিল বান্দরবানের রুমা সোনালী ব্যাংকে হামলা, টাকা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় দায়েরকৃত ৫টি মামলায় কেএনএফএর সহযোগী হিসেবে যৌথবাহিনীর সদস্যরা এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে যাচাই বাচাই শেষে বিকেলে রুমা থানা থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গ্রেপ্তারকৃতদের বান্দরবান চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়।

সূত্র জানায়, পরে বান্দরবান চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হোছাইনের আদালত আসামি ৩জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর এই পর্যন্ত ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে এই পর্যন্ত ৫৮জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালী সদর ও কবিরহাট উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন মারা গেছে সদর উপজেলায়, আর একজন মারা গেছেন কবিরহাট উপজেলায়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সুবর্ণচরের চর জুবলীর মো. নেসার (৪৫), চর জব্বরের মো. সাবিক (২০)। আর আহত ব্যক্তি হলেন মধ্যম বাগ্গার মো. আলী (৪০)।
গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে তিনটার মধ্যে ঘটনা দুইটি ঘটে। কবিরহাট উপজেলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষুব্ধ হয়ে একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া সদর উপজেলার দুর্ঘটনায় একজন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের হেরেংহি রোডের মাথায় মান্নানগর-চর জব্বর সড়কে দুইটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন ট্রাকের এক সহকারী। আহত ব্যক্তিদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে বিকেল তিনটার দিকে কবিরহাট উপজেলার ভূঁইয়ার হাট বাজার এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় সাত বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছেন। শিশুটির নাম মো. জোবায়ের হোসেন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক বলেন, একটি ট্রাক চর জব্বারের দিক থেকে মান্নান নগরের দিকে আসছিল। আরেকটি ট্রাক চর জব্বারের দিকে যাচ্ছিল ট্রাক দুইটির হেরেংগি রোডের মাথায় সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন মারা যায় এবং একজন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাক দুইটি জব্দ করেছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন বলেন, কবিরহাটে পিকআপ ভ্যানে চাপা দেওয়ার ঘটনায় চালককে আটক করা হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে মারুফ হোসেন নামে এক মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলার তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি বাজারের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধার হওয়া মারুফ হোসেন তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে ও স্থানীয় হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র।
আটককৃতরা হলেন- তাড়াশ উপজেলার ঝুরঝুরি গ্রামের মৃত তফেরের ছেলে মো. আবুল হাশেম হাসু (৪৮), মোশারফ হোসেনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫), নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আল আমিন হোসেন (২২), রফিক হোসেনের ছেলে মো. ওমর ফারুক ও সাইদুর রহমানের ছেলে কাওছার হোসেন।
আটককৃত আসামিদেরকে তাড়াশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধার অভিযান চলাকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মারুফ হোসেন বিপিএম জানান, গত ৫ এপ্রিল তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি বাজার থেকে মাদরাসা ছাত্র মারুফ হোসেন নিখোঁজ হয়। ঘটনার পরের দিন তাড়াশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও র‌্যাব-১২ হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ করেন নিখোঁজ ছাত্রের বাবা। অভিযোগ পাওয়ার পর দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হোসেনকে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
র‌্যাব-১২ অধিনায়ক মারুফ হাসান বিপিএম আরও জানান, মাদরাসা ছাত্র কিশোরকে অপহরণ করার পর থেকে তার বাবার নিকট মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল, এমনকি তাকে হত্যা করার পরও মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বিশেষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।


পাবনায় এক ট্রাক ড্রাইভারকে পিটিয়ে হত্যা, নারী আটক 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি
পরকীয়া প্রেমের জেরে পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকায় আব্দুর রউফ (৫০) নামের এক ট্রাক ড্রাইভারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
আজ ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ভোরে আতাইকুলার জোরাদহ গ্রামে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রউফ আতাইকুলা থানার মধুপুর গ্রামের মৃত মোসলেম প্রামানিকের ছেলে। নিহতের ছোট ভাই আইয়ুব আলী জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে তার ভাইকে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত ১০টার দিকে তার মোবাইল সেটটিও বন্ধ পাওয়া যায়। আজ সকালে মানুষের কাছ থেকে খবর পান জোয়ারদহ গ্রামের একটি লিচু বাগানে তার মৃতদেহ পড়ে আছে।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরকিয়ার জেরে রউফকে হত্যা করা হতে পারে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে রউফের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রউফের বলে সনাক্ত করে।
তিনি আরও জানান, নিহত ব্যাক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নারীকে আটক করা হয়েছে।


banner close