শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সিলেট-৫: নতুন মুখের খোঁজে আ.লীগ, আশায় জাতীয় পার্টিও

দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ১১:৫৬

বার্ধক্যজনিত কারণে এবার নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার। দলীয় মনোনয়নও সংগ্রহ করেননি রেড ক্রিসেন্ট বাংলাদেশ ও পূবালী ব্যাংকের সাবেক এ চেয়ারম্যান। ফলে এ আসনে এবার নতুন মুখ খুঁজছে আওয়ামী লীগ। দলের ৫ নেতাসহ এ আসনের প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭ জন।

এদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবার প্রার্থী হতে অনাগ্রহী থাকায় আশাবাদী হয়ে উঠেছে জাতীয় পার্টি। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এবার আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে আশাবাদী দলটির নেতারা।

মহাজোট গঠনের পর থেকেই সিলেট-৫ আসন নিয়ে চলছে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির টানাপোড়েন। গত নির্বাচনে মহাজোটের প্রধান দুটি দল ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারায় উন্মুক্ত রাখা হয় এ আসন। ফলে আওয়ামী লীগ থেকে হাফিজ আহমদ মজুমদার ও জাতীয় পার্টি থেকে মো. সেলিম উদ্দিন প্রার্থী হন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেতা মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজ মজুমদার বিজয়ী হন। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। মহাজোটের ব্যানারে প্রার্থী হয়ে সেবার নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সেলিম উদ্দিন।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বুধবার হাফিজ আহমদ মজুমদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তার ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানান, বার্ধক্যজনিত কারণে হাফিজ মজুমদার এবার নির্বাচন করতে আগ্রহী নন। এ কারণে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। তবে দলীয় হাইকমান্ড থেকে তাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন এই নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৭ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন-সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকার সিলেট বিভাগীয় আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোশতাক আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আল কবীর, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক কাওসার চৌধুরী। এ ছাড়া তাসলিমা খানম, মো. খসরুজ্জামান, ফখর উদ্দিন আলী আহমদ নামে আরও তিনজন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তারা রাজনীতিতে সক্রিয় নন বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে মাসুক উদ্দিন আহমদ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। পরে আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হলে প্রার্থী হন মো. সেলিম উদ্দিন। ফলে দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন মাসুক উদ্দিন। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও মাসুক উদ্দিন আহমদ মনোনয়ন চাইলেও শেষ পর্যন্ত নৌকার টিকিট পান রেডক্রিসেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার।

এবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান। এখানকার মানুষের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দল আমাকে মহানগরের দায়িত্ব দিলেও নিজ এলাকা কখনো ছেড়ে যাইনি। আশা করছি, দল ও এলাকার জন্য আমার দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. আহমদ আল কবীরও গেল দু’বার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামাগত উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

ড. আহমদ আল কবীর বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে এলাকার উন্নয়নে সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি। আরও বেশি কাজ করার সুবিধার্থে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। আশা করছি, দল ও দলনেত্রী মূল্যায়ন করবেন। ঢাকার সিলেট বিভাগীয় আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোশতাক আহমেদও এর আগে মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন। গদ সিটি নির্বাচনেও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

এদিকে এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন এবারও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী। সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তিনি। সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘এবার জোটগতভাবে হবে কি না, এটা দলের শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে মাঠে সক্রিয় রয়েছি। জোট হোক বা না হোক, সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করবে।’


নির্বাচিত

কালীগঞ্জে মাদক আইনে ৬ জনের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছয়জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার শাওরাইদ বাজার ও বালীগাঁও এলাকায় মাদক সেবনের অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বালীগাঁওয়ের আরাজ আলীর ছেলে ইব্রাহিম, ভাড়া মিয়ার ছেলে রমজা, সাটিয়া বাজারের মান্নানের ছেলে বিপিন, দপ্তরী কলোনির আমোদ আলীর ছেলে মানিক মিয়া, শোভানপুরের নঈমুদ্দিনের ছেলে আকিবুল ইসলাম এবং তাহমিনা বেগম।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম শেখ। বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সামসুন নাহার সিমু।


নির্বাচিত

তাড়াশে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দের পর ধ্বংস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মৎস্য আইন বাস্তবায়নে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নওগাঁ হাট থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

​উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বাজার মনিটরিং ও দেশীয় মাছ রক্ষায় পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাড়াশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হোসেন।

​অভিযানে নওগাঁ হাটে মৎস্য আইনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্রি করতে থাকা ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দীনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

লিভার ও হৃদরোগে আক্রান্ত কালামের বাঁচার আকুতি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা কালাম হোসেন (৪১), পিতা মৃত মির বক্স। প্রায় এক বছর ধরে লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসা জরুরি। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটে এখন মানবিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

একসময় মাইক্রোবাস চালিয়ে সংসার চালাতেন কালাম হোসেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে আর গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। শুধু ওষুধ কিনতেই প্রতি মাসে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পরিবার জানায়, অসুস্থ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আশায় দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হারান কালাম। পরে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শেষ সম্বল প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতক জমি আপন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালামের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও নেই বললেই চলে। আগামী দিনের খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। তবুও সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বর্তমানে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও কিছু মানবিক মানুষের সহায়তায় কোনোমতে চিকিৎসা ও সংসার চলছে।

কালাম হোসেন বলেন, আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।

এ নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, লিখিত দরখাস্ত পেলে সমাজসেবাসহ তিনটি দপ্তরের পর্যালোচনায় তার রোগ অনুযায়ী সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তার হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।

মানবিক সহায়তা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা কালাম হোসেনের বিকাশ/নগদ নম্বর: ০১৭১৭-১৩৮৮০৮-এ যোগাযোগ বা আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।

চিকিৎসার অর্থসংকটে প্রতিটি দিনই কালামের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবারটির মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।


নির্বাচিত

পিরোজপুরে ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও কর্মসূচি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে পিরোজপুরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা। ‘বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২০৩১)’ পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলার সর্বস্তরের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) বা অবিভাগীয় কর্মচারীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

‎‎​ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় আন্দোলনরত কর্মচারীরা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

‎‎​বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অবিভাগীয় (ইডি) ডাক কর্মচারীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন নিজাম, পিরোজপুর জেলা সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন এবং পিরোজপুর জেলা শাখার প্রধান অন্যতম নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ও স্মার্ট ডাকসেবার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও গ্রামীণ ও ইডি শাখার কর্মচারীরা যুগের পর যুগ চরম বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। ডাক বিভাগ সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বা রেভিনিউ দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের অবিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারে মাত্র ৪,০০০ থেকে ৪,৪৬০ টাকা নামমাত্র সম্মানী ভাতায় আমাদের পরিবার নিয়ে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও ডাকঘর বন্ধের কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

‎​স্মারকলিপিতে কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮,৫০০ শাখা ডাকঘরে কর্মরত ২৩,০২১টি পরিবার এই নামমাত্র সম্মানী ভাতায় চরম মানবেতর ও অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

‎​আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবিগুলো হলো: ‎​১. জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে অনতিবিলম্বে সকল ইডি কর্মচারীদের মূল সম্মানী ও ভাতা ন্যূনতম ৩ গুণ বৃদ্ধি করে ১৫,০০০ টাকা করতে হবে।

‎২. চাকরি জাতীয়করণ ও স্থায়ীকরণ করে ২৩,০২১ জন অবিভাগীয় কর্মচারীকে স্থায়ী বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা।

‎৩. সাময়িক গ্রেড নির্ধারণসহ জাতীয়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকারি বেতন কাঠামোর ১৫তম থেকে ২০তম গ্রেড অনুসরণ করে ন্যায্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা।

‎৪. উৎসব ও নববর্ষ ভাতা (বৈশাখী ভাতাসহ) রাষ্ট্রীয় সকল উৎসব ভাতা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

‎৫. কল্যাণ তহবিল গঠন করে ইডি কর্মচারীদের আপদকালীন চিকিৎসা সুবিধা এবং অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষায় ‘ইডি কর্মচারী কল্যাণ তহবিল’-এ সরকারি বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা।

‎৬. কাজের আধুনিকায়ন ও পোশাকসহ ডিজিটাল ডাকসেবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাজের পরিবেশ, স্মার্ট ডিভাইস এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক (ইউনিফর্ম) সরবরাহ করা।


নির্বাচিত

দেড়’শ বছরের পুরোনো মহেশপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবার সংকট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর পৌরসভা জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। প্রতিষ্ঠার দেড়’শ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই পৌরবাসীর। ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ও অকেজো সড়কবাতি, কাঁচা ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সংকটে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বছরের পর বছর পৌরকর পরিশোধ করলেও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তাদের।

জানা যায়, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহেশপুর পৌরসভা ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পৌরকর দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা বলতে তেমন কিছুই পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

মহেশপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘রাতে অনেক এলাকায় সড়কবাতি জ্বলে না। অন্ধকারে নারী ও শিশুদের চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর পৌরসভায় প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ হাজার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে রাত নামলেই পৌর শহরের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।

সুপেয় পানির সংকট নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।

১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘এটি জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। অথচ নাগরিক সুবিধার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।’

এ ব্যাপারে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সেবার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

গোয়ালন্দে জরাজীর্ণ ঘরে বিধবা ফুলজানের মানবেতর জীবনযাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দে (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফুলজান বিবি (৮৫)। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে ওই জরাজীর্ণ ঘরে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েন তিনি। এ বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারের কাছে একটি ঘর চেয়েছেন তিনি।

ফুলজান গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজ উদ্দিন পাড়া এলাকার মৃত গিরানি শেখের স্ত্রী। প্রায় দুই যুগ আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। তাঁর এক ছেলে

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নুর ইসলাম (৩২) শ্রমিকের কাজ করেন। ঘরটিতে মা, ছেলে, মেয়ে ও নাততি নিয়ে তারা বসবাস করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট্ট একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরের ভাঙা চকিতে অসহায়ভাবে শুয়ে আছেন বৃদ্ধা ফুলজান বিবি। ঘরে বেড়া নেই বললেই চলে। ঘরটিতে ভাঙাচোড়া টিন দিয়ে কোনমতে আটকানো আছে। রোদ-বৃষ্টি খুব সহজেই ঘরে প্রবেশ করে। ব্রেইন স্ট্রোক ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ ফুলজান বিবি কিছুই বুঝতে পারেনা। তার মেয়ে ও নাততি প্রতিদিনের মতো সকালেই ভিক্ষা করতে বেরিয়ে যায়। ফুলজান দু-একটি কথা বলেন, তা–ও অস্পষ্ট।

ফুলজানের ছেলে নুর ইসলাম বলেন, তিনি অসুস্থ, গরিব মানুষ। কোনরকম বিভিন্ন চায়ের দোকান ও অন্যান্য স্থানে শ্রমিকের কাজ করে বোন, ভাগ্নি ও মাকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে একটি চৌকিতে থাকেন। তিনি বিবাহ করেননি। সামান্য আয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়। এর মধ্যে মা ফুলজান বিবির ও বোন ভাগ্নির ভরণপোষণ তিনিই চালান। তাঁর থাকার ঘরটিও জরাজীর্ণ। ভাত জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে ঘর করে দেবেন কে ?

নুর ইসলাম আরও বলেন, তাঁর মা বয়স্ক ভাতা পাননা। তাঁদের আড়াই শতাংশ জমি আছে। সরকার থেকে ওই জমিতে একটি ঘর করে দিলে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন। তাই মায়ের জন্য একটি ঘর চেয়েছেন নুর ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র বৃদ্ধ ফুলজান বিবি খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর অসুস্থ ছেলে তাঁকে খুব কষ্টে ভরণপোষণ দেন। সরকারিভাবে একটি ঘর দিলে তাঁদের খুব উপকার হতো।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আমি শুনেছি তারা জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং শুনেছি তারা ভিক্ষা করেন। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি তাদের ভিক্ষুক পুনর্বাসন করে দিতে পারি নাকি। তবে খুব শিগগিরই তিনি ফুলজান বিবি ও তার জরাজীর্ণ ঘরটি দেখতে যাবেন।


নির্বাচিত

মাগুরায় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা শুরু 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা প্রতিনিধি ভারতের সাতজন ও মাগুরা সহ ১০ টি জেলার ৩৭ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে মাগুরা প্রেসক্লাবে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা ২০২৬ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান।

বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা দাবা খেলোয়াড় সংস্থার সভাপতি সৈয়দ নাজমুস সাদাত নদু, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রুবায়েত হোসেন খান।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় মাগুরা প্রেসক্লাব ও আকাই স্মৃতি সংসদের সহযোগিতায় এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে দাবা খেলোয়াড় সৃষ্টি করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেটিং পদ্ধতির খেলায় যোগ্য করে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

গুরুদাসপুরে চুরি-ডাকাতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৬
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। গত আড়াই মাসে একের পর এক দুর্ধর্ষ অপরাধের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি থানা কমপ্লেক্স ও সরকারি কোয়ার্টারের আশপাশেও ঘটছে এসব ঘটনা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানিয়েও মিলছে না প্রতিকার। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় উপজেলার আনন্দনগর এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধ এবং চুরি হওয়া ৬টি গরু উদ্ধার এবং পুলিশের কার্যকর ভূমিকার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গত আড়াই মাস আগে তার বাড়ি থেকে শেষ সম্বল ৬টি গরু চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। থানায় গেলে ওসি তাকে অপমান-অপদস্ত করে বের করে দেন।”

এসময় অন্য বক্তারা বলেন, গত আড়াই মাসে গুরুদাসপুরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে বর্তমান ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একজন দক্ষ ওসি নিয়োগেরও দাবিও জানান তারা।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর ওসি মো. মনজুরুল আলম বলেন, পুলিশ এগুলো নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে চুরি ছিনতাই নেই।


নির্বাচিত

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।”

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে চলমান সরকারি জরিপ কার্যক্রমের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান হাতে পাওয়ার পরপরই গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি খাতের পুনর্গঠনে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।” পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনসম্পৃক্ততা বজায় রাখার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “বিএনপি জনগণের সরকার এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।”

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকরিয়ার ছড়াকুল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন বেড়িবাঁধ, সড়ক ও জনবসতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি দুর্গত মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। মাঠ পর্যায়ে দ্রুত মেরামত ও কার্যকর ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান এবং চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নওগাঁ শহরে নেই গণশৌচাগার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নওগাঁ। তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পাবলিক টয়লেট নেই একটিও। টয়লেটের তীব্র সংকটে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নানা কাজে ঘরের বাইরে যাওয়া নারীদের। আর বাকিরা চক্ষুলজ্জা এড়িয়ে খোলা আকাশের নিচে সাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই অপর্যাপ্ত পানি পানের কৌশল নিয়েছেন। ফলে আছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

জানা যায়, ১৯৬৩ সালে নওগাঁ পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮০-তে দ্বিতীয় এবং ১৯৮৯ প্রথম শ্রেণীতে উন্নিত হয়। আয়তন প্রায় ৩৮ দশমিক ৩৬ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভার মোট ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস। আবার প্রতিদিন জেলার ১১টি উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে এই শহরের নানান কাজে আসেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ। কিন্তু এসব মানুষের জন্য নেই একটিও পাবলিক টয়লেট।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রথম শ্রেণীতে উন্নিত হওয়ার ৩৬ বছর পার হয়ে গেলেও সেবার মানে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কোন পাবলিক টয়লেট না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারীরা। টয়লেট না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে সড়কের পাশে মল-মূত্র ত্যাগ করছেন। এতে পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নারীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নওগাঁর ব্যস্ততম পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বাটার মোড়, তাজের মোড়, গোস্তহাটির মোড়, মুক্তির মোড়, কাজির মোড়, দয়ালের মোড়, কেড়ির মোড়, ডিগ্রি কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নেই কোন পাবলিব টয়লেট। পুরুষের প্রস্রাবের বেগ হলে যেখানে ড্রেন কিংবা পরিত্যক্ত জায়গা পায় তাতেই প্রাকৃতিক কাজ শেষ করে নিস্তার পায়। কিন্তু নারীদের পড়তে হয় চরম অসুবিধায়। অনেকে আবার কোন মসজিদেও নির্ধারিত টয়লেটে প্রাকৃতিক কাজ সাড়েন। তাতেও বিপত্তি! নামাজের ওয়াক্তে শুধু তালা খোলা হয় এ টয়লেটগুলোর।

সদর উপজেলার কাটখৈর থেকে শহরে আসা গৃহিণী সুলতানা ইয়াসমিন বলেন,‘ গ্রাম থেকে শহরে আসার আগেই প্রসাব-পায়খানার বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। শহরে গেলে এই বিষয়টা নিয়ে দু:শ্চিন্তায় থাকতে হয়। পুরুষরা যেখানে-সেখানে প্রসাব-পায়খানা করতে পারে। কিন্তু আমাদের নারীদের বিপাকে পড়তে হয়। দীর্ঘক্ষণ প্রসাব-পায়খানা চেপে রাখতে হয়।’

মহাদেবপুর উপজেলা থেকে আসা আরেক নারী উম্মে কুলসুম বলেন, ‘আমরা যখন বাইরে যাই আমরা চেষ্টা করি যতটা কম পানি ও খাবার গ্রহণ করা যায়। কারণ কাজের ফাঁকে প্রসাব-পায়খানা চাপ দিলে সমস্যায় পড়তে হয়। ‘অনেক সময় চেপে থাকতে হয় আবার অনেক সময় কাজ ফেলে রেখে বাড়িতে চলে যেতে হয়।’

পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা থেকে আসা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ব্যাক্তিগত কাজ শেষ করার পর টয়লেটের সমস্যায় পড়লে কোন উপায় না পেয়ে মসজিদে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি তালা দেওয়া। তাই বাধ্য হয়ে চেপে থাকতে হচ্ছে।’

পরিবেশকর্মী নাইস পারভীন বলেন, ‘নওগাঁ শহরে মতো জায়গায় কোন গণশৌচাগার নেই, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। শৌচাগারের সংকট সঙ্গে এমন অব্যবস্থা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তো বাড়াচ্ছেই, পাশাপাশি নারীদের দৈনন্দিন চলাফেরায় সৃষ্টি করছে দু:সহ পরিস্থিতি। আমরা চাই এই অবস্থার দ্রুত সমাধান হোক।’

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ‘আমাদের কিছু উন্নত ও নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি দ্রুত আমরা এ কাজ শুরু করবো।’

নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি.এম.এ. মমিন বলেন, ‘পাবলিক টয়লেট আসলেই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’


নির্বাচিত

দুপুরের মধ্যে দেশের ৮ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের আটটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী— খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক হতে ঘণ্টায় ৪৫ হতে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি এই এলাকাগুলোতে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন যে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে বেশ প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা হতে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী হতে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টির প্রভাবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।


নির্বাচিত

বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ৭টি জেলায় নিহত বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ইতোমধ্যে ১২ লাখের বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি জেলা হলো—কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলায় এখন পর্যন্ত পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। সর্বমোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে। দুর্গত এলাকার মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত মোট যে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে মোট ৩২ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৭ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যা ও পাহাড় ধসের বিভিন্ন ঘটনায় জেলাগুলোতে আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১ জন, বান্দরবানে ২ জন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫ জন) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আক্রান্ত জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।


নির্বাচিত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি দুই সহোদরের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি দুই সহোদর ভাই। গত বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টার দিকে প্রাইভেটকারযোগে রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

নিহত ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১) লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের বড় ছেলে ও মেজো ছেলে।

এ ঘটনায় তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গণিপুরে শোকের মাতম চলছে। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি তাদের বাবা আব্দুল মালেক নিশ্চিত করেছেন।

সজীব ও সুজনের সহকর্মীদের বরাত দিয়ে তাদের বাবা জানান, সজীব ও সুজন জেদ্দায় ব্যবসা করতো। তারা দুইজনই রিয়াদ শহরে ব্যবসায়িক মালামাল কিনতে যায়। ওই মালামল নিয়ে ফেরার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তাদের গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এসময় গুরুতর আহত হয়ে সজীব ও সুজন মারা যায়।

নিহতদের বাবা আব্দুল মালেক বলেন, আমার দুই ছেলে একসঙ্গে মারা গেছে। সবাই তাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করবেন।

তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তিনি।

এদিকে, দুই ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহত দুই ভাইয়ের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ঘটনাটি আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।


নির্বাচিত

banner close