বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ ফাল্গুন ১৪৩২

বিসিএস জটে পিএসসি

আপডেটেড
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:১৮
হাসান মেহেদী
প্রকাশিত
হাসান মেহেদী
প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর, ২০২২ ০৯:৪০

হাসান মেহেদী

বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে জটে পড়েছে পিএসসি। একসঙ্গে চারটি বিসিএস পরীক্ষা আটকে গেছে। ফলে মন্ত্রণালয়, দপ্তর ‍ও অধিদপ্তরে প্রথম শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।

জনপ্রশাসন সূত্র বলছে ৪৩ হাজারের বেশি পদ শূন্য পড়ে আছে।

চাকরির মেয়াদ শেষে প্রতিদিনই কর্মকর্তারা অবসরে যাচ্ছেন, কিন্তু বিসিএসের মাধ্যমে প্রতিবছর সেসব পদ পূরণ করতে পারছে না সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। শূন্য পদগুলোতে আটকে থাকা ৪ বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে অন্তত ১৬ হাজার পদ পূরণ করা যাবে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৪ বছর পার হলেও ৪০তম বিসিএসের নিয়োগ শেষ করতে পারেনি পিএসসি। ৩ বছর ধরে আটকে আছে ৪১তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া, যেটির লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আর দুই বছরে ৪৩তম বিসিএস পৌঁছেছে লিখিত পরীক্ষা পর্যন্ত। গত এক বছরে ৪৪তম বিসিএস সবেমাত্র পার করেছে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা।

এই ৪টি বিসিএসের বাইরে একমাত্র ব্যতিক্রম ৪২তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা। যেটিতে প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার কারণেই তা এক বছরে শেষ করতে পেরেছে পিএসসি।

পিএসসির তথ্য মতে, গত ৫ বছরে ৫টি বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৪২তম (বিশেষ) বিসিএস ছাড়া একটিরও নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। ফলে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা লাখো চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী মাসে ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ১২ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে চান তারা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতি বছরই সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছেন বিসিএস কর্মকর্তারা। কিন্তু প্রতিবছর বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে নতুনদের নিয়োগ না হওয়ায় বর্তমানে প্রথম শ্রেণির ৪৩ হাজার ৩৩৬টি পদ ফাঁকা রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ১ হাজার ২৪৮টি; দপ্তর ও অধিদপ্তরে ২০ হাজার ৩৫৫টি; বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে ৬৭৪টি; স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে প্রথম শ্রেণির পদে ২১ হাজার ৫৯টি পদ ফাঁকা রয়েছে।

এই বিষয়ে ৪০তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত একজন প্রার্থী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্নাতক সম্পন্ন করার পর চাকরির বাজারে আমার প্রথম সফলতা ছিল ৪০তম বিসিএস। এই একটি বিসিএসই চার বছর কেটে গেল। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। গত ৩০ মার্চ ৪০তমের চূড়ান্ত ফল দেয়ার সাড়ে ৬ মাস গত হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন পাচ্ছি না। এর মাঝেই ৪১তম ও ৪৩তম বিসিএসের লিখিত ফলসহ ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও ঝুলে আছে। এদিকে নন-ক্যাডার সুপারিশ নিয়েও একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে এক বছরে বিসিএসের নিয়োগ সম্পন্ন করার যে লক্ষ্য পিএসসি হাতে নিচ্ছে, সেটির সফলতা নিয়েও আমাদের মতো চাকরিপ্রত্যাশীরা সন্দিহান।

বাড়ে আবেদনের সময়

বিসিএস আবেদনে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর প্রথমপর্যায়েই একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়। আবেদনকারীদের কোনো একটি পক্ষ থেকে দাবি জানালেই সময় বাড়িয়ে দেয় পিএসসি। ফলে শুরুতেই হোঁচট খায় নিয়োগ প্রক্রিয়া। গত ৫ বছরে প্রায় সবকয়টি বিসিএসেই আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। ৪৩তম বিসিএসে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্মান শেষবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা না হওয়ায় ৩ দফা ও ৪৪তম বিসিএসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা আটকে যাওয়ায় এক মাস আবেদনের সময় বাড়ানো হয়। এখনো এসব বিসিএসের প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে।

পিএসসি কর্মকর্তারা বলছেন, ‘করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকা, আবেদনের সময় বাড়ানো, শিক্ষকরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়ন না করার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লেগে যাচ্ছে। পিএসসি সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব। তাই শিক্ষার্থীরা দাবি জানালে সেটাকে আমলে নিয়ে পরীক্ষার সুযোগ দিতে হয়। আবার পিএসসির আলাদা কোনো পরীক্ষক নেই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে খাতা দেখাতে হয়। ফলে শিক্ষকরা নিজেদের কাজের ফাঁকে এই কাজগুলো করে থাকেন। সে কারণে পরীক্ষার কাজ দ্রুত শেষ করা যায় না। আবার অনেক সময় শিক্ষকরা সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন না করেই জমা দেন। সে সব খাতা আবার কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাই করে ফল প্রকাশ করতে হয়।’

এসব বিষয়ে নিয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জানতে চাইলে সরকারি কর্ম কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আনন্দ কুমার বিশ্বাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কোনো কাজই আটকে নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ চলছে। করোনাসহ নানা জটিলতায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে। কিন্তু কমিশন নতুন করে একটা পরিকল্পনা করেছে যেখানে আগামী এক বছরের মধ্যে একটা বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। ৪৫তম বিসিএসকে মডেল হিসেবে ধরে আমরা এই সময়সীমা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’

পরীক্ষকদের ভুলের স্বীকার ৪১তম বিসিএস

৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। লিখিত পরীক্ষার ৯ মাস পেরোলেও এখন পর্যন্ত ফল প্রকাশ করতে পারেনি পিএসসি। ৩১৮ পরীক্ষকের অবহেলার কারণে এই দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

নিয়ম অনুযায়ী, একজন পরীক্ষক খাতা মূল্যায়ন করার পর তার মূল্যায়ন সঠিক হয়েছে কি না, সেটি যাচাইয়ের জন্য ওই খাতা দ্বিতীয় ধাপে একজন নিরীক্ষক পুনরায় পরীক্ষা করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করার সময় নিরীক্ষক দেখেন, যেখানে যেমন নম্বর দেয়ার কথা ছিল, তা দেয়া হয়েছে কি না আবার নম্বর যোগ করতে কোথাও ভুল হয়েছে কি না। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে তবেই ফল চূড়ান্ত করা হয়।

পিএসসি বলছে, পরীক্ষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়ন শেষ করতে পারেনি। পুনর্নিরীক্ষণের সময় দেখা গেছে কোনো কোনো পরীক্ষক সব প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন না করেই খাতা জমা দিয়েছেন। কেউ কেউ নম্বরের যোগফলে ভুল করেছেন। এসব কারণে ফের ওই সব খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠিয়ে মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। ত্রুটি রয়েছে এমন ৩১৮ শিক্ষককে পিএসসিতে ডেকে এনে ফল সংশোধন করতে হচ্ছে। এদের মধ্যে আবার কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে ঠিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে সময় বেশি লাগছে। তবে নির্ভুল পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ করতে এই সময় নেয়া হচ্ছে।

এই বিষয়ে পরীক্ষানিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আনন্দ কুমার বিশ্বাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ গুছিয়ে এনেছি। কমিশন বললেই সে অনুযায়ী আমরা বাস্তবায়ন করব।’

৪০তম নন-ক্যাডার নিয়োগে জটিলতা

৪০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে ক্যাডার পদে সুপারিশ পায়নি এমন ৮ হাজার ১৬৬ প্রার্থী পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। নিয়মানুযায়ী, এতদিন একটি বিসিএসের ‍চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নন-ক্যাডারের আবেদন নেয়া হতো। তা পরের বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যত চাহিদা আসত সেখান থেকে নিয়োগ দেয়া হতো। কিন্তু পিএসসি এখন ৪০তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ শুরুর আগেই অন্যান্য বিসিএসের নন-ক্যাডারের পদ সংরক্ষণ করার কথা ভাবছে। এমন আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রার্থীরা। এ কারণে নন-ক্যাডারের নতুন নিয়ম বাতিল করে আগের নিয়মে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

উল্লেখ্য, চাকরির মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে দিন দিন বিসিএসের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের। একেকটা বিসিএসে ৩ থেকে ৪ লাখেরও বেশি প্রার্থী আবেদন করছেন। যেই সংখ্যক প্রার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায়ে উত্তীর্ণ হচ্ছেন সীমিত পদের কারণে সেই সংখ্যক প্রার্থীকে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। ফলে নন-ক্যাডার পদেও বেড়েছে প্রতিযোগিতা।

২০১০ সাল থেকে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডারে প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগ দেয়া শুরু করে পিএসসি। এর পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে বিসিএসের মাধ্যমে দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে ৩০ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে ৪০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নন-ক্যাডার পদে ৯ম, ১০ম, ১১তম ও ১২তম গ্রেডে আবেদন চায় পিএসসি। কিন্তু নন-ক্যাডারে পিএসসি অন্য বিসিএসের জন্য পদ সংরক্ষণ করতে চাওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়ে নন-ক্যাডারে নিয়োগের জন্য অপেক্ষমাণ প্রার্থী সানজিদ সৈকত দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পিএসসি বিধির কথা বলে নন-ক্যাডারে নিয়োগ সংকুচিত করছে। এটা আসলে শুভংকরের ফাঁকি। কারণ বিধি আগেও ছিল। নতুন নিয়মের দোহাই দিয়ে নন-ক্যাডারে চাকরি বিষয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক।’

ভেরিফিকেশনে আটকে যায় নিয়োগ

পিএসসি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করার পর গেজেটের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত কোনো মন্ত্রণালয় নিয়োগ দিতে পারে না।

সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সম্পর্কে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সবকয়টি সংস্থার তথ্য যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেয়া হয় না। ফলে পিএসসি তাদের পরীক্ষাপর্ব শেষ করলেও ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়ার কারণেও নিয়োগে দেরি হচ্ছে। অনেক সময় বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও মামলা, বিরোধী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাসহ নানা কারণে গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ে যাচ্ছেন প্রার্থীদের অনেকেই।

৩৩ থেকে ৩৮তম পর্যন্ত ৬টি বিসিএসে নিয়োগে পিএসসির সুপারিশ এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব বিসিএসে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। কিন্তু তাদের মধ্যে ১৮ হাজার ২২২ জন নিয়োগ পান। ৬১৫ জন প্রার্থী নিয়োগ পাননি।

তবে গত দুই বছরে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ দিতে ৩৯তম ও ৪২তম দুটি বিশেষ বিসিএস হয়েছে। এই বিসিএসে পিএসসির সুপারিশ ও জনপ্রশাসনের গেজেটে কাউকে বাদ দেয়া হয়নি।


সাতক্ষীরায় ভাই বউ ও ছোট ভাইকে হত্যা চেষ্টার দায়ে বড় ভাইয়ের ১ বছরের সাজা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

ছোট ভাই এর বউ ও ছোট ভাইকে হত্যা চেষ্টা মামলায় বড় ভাইকে ১ বছরের সাজা। মামলা সূত্রে জানা যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের আকবর আলীর বড় পুত্র আবু বক্কার ছোট ভাইদের ভিটা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে ভিটা বাড়ির জমি জবরদখল করে নেয়। এতে বাধা প্রদান করেন অন‍্যান‍্য ছোট ভায়েরা, সেই হিংসার বসবতি হয়ে আবু বক্কর তার ছোট ভাই বউ আনোয়ারা খাতুন ও সহোদর ভাই আবু সাঈদকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে।

ওই ঘটনায় আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করতে গেলে আবু বক্কর এর বাধার মুখে মামলা করতে না পেরে, সাতক্ষীরা আদালতে মামলা করে, আবু বক্কর ও তার বউ মনোয়ারাকে আসামি করে। যার মামলা নং সি আর ৩৮৩/২৩ মামলা টি তদন্তের জন্য আদালত পি বিআইকে দায়িত্ব দেয়। পিবিআই তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে রিপোর্ট প্রদান করে এবং দীর্ঘদিন মামলা শুনানির পর সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ৩নং আদালত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রায় প্রদান করে আবু বকরকে ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়, এবং ২ নং আসামি মনোয়ারা খাতুনকে খালাস দেয়।

মামলার এজহারে আরো উল্লেখ ছিল যে ছোট ভাই আবু সাঈদকে হত্যার উদ্দেশে রড দিয়ে মাথায় বাড়ি মারে আবু বক্কর, এ সময় আবু সাঈদকে রক্ষা করতে তার ভাবী আনোয়ারা খাতুন এগিয়ে আসলে। আনোয়ারা খাতুনকে আবু বক্কর তার বউ মনোয়ারা খাতুন ব‍্যাপক মরধর করে লোহার রড দিয়ে এতে আবু সাঈদ এর ডান হাত ভেঙে যায়। এ রায় প্রদানকালীন সময় আসামি আবু বক্কর ও তার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মামলায় বাদী পক্ষে পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এবি এম সেলিম আর আসামি পক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ (৫)।


গাইবান্ধায় মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কাভার্ড ভ্যান-অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এতে গুরত্বর আহত হয়েছেন অন্তত সাত থেকে আট জন। গুরত্বর আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কের সাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার কুন্ডু।

নিহতরা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফ বাজিত গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে অটোরিকশা চালক আল আমিন মিয়া (৩০)। অপরজন গাইবান্ধা শহরের পুর্বপাড়ার নারায়ন চন্দ্রের ছেলে অটোরিকশার যাত্রী গৌতম চন্দ্র (৬০)। তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক জানাযায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, একটি কাভার্ড ভ্যান সাদুল্লাপুর থেকে গাইবান্ধার দিকে যাচ্ছিল। যানবাহনটি গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কের সাহানা ফিলিং স্টেশন এলাকায় পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোর চালকসহ দুজন নিহত হন এবং একটি শিশুসহ গুরত্বর আহত হন অন্তত ৭-৮ জন।

তিনি আরও জানান, ঠিক এই মুহূর্তে আমাদের সামনে দুটি ডেডবডি (মৃতদেহ) রয়েছে। এর বাইরে এই মুহুর্তে নিহতের খবর আমাদের কাছে নেই। আহতরা রংপুরসহ বিভিন্ন হসপিটালে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা সামগ্রিক তথ্য জানার চেষ্টা করছি। এ সময় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।


নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের গণশুনানিতে এমপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গণশুনানি করেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘সামিউল ট্রেডার্স’ নামের একটি ইজারাদার প্রতিষ্ঠান নাসিরাবাদ মৌজায় ইজারা নিলেও নির্ধারিত এলাকা ছেড়ে সাহেবনগর ও চরলাপাং মৌজার কৃষিজমি ও বসতভিটার পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্রের সহায়তায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নদীভাঙন বাড়ছে এবং অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

গণশুনানিতে এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, নবীনগরে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না এবং যেকোনো মূল্যে অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করতে হবে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কৃষিজমি ধ্বংস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি প্রয়োজনে যৌথ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এমপির সরাসরি উপস্থিতি ও গণশুনানিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে চরলাপাং ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা পাবে।


মৌলভীবাজারে খাড়িয়া ভাষার অতন্দ্র প্রহরী ২ বোন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া চা-বাগানের নিরিবিলি পরিবেশে বাস করেন ৮১ বছর বয়সী ভেরোনিকা কেরকেটা এবং তার ৭৬ বছর বয়সী বোন খ্রিস্টিনা কেরকেটা। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ দুই বৃদ্ধা মনে হলেও, তাদের কাছেই গচ্ছিত আছে বাংলাদেশের একটি প্রাচীন জনগোষ্ঠীর হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি। তারা দুজনই বাংলাদেশে খাড়িয়া ভাষার শেষ ধারক ও বাহক। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই দুই বোনের মৃত্যুর পর এ দেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে অতি বিপন্ন ‘খাড়িয়া’ ভাষা।

এক সময় চা শিল্পাঞ্চলে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর অসংখ্য মানুষের মুখে এই ভাষা শোনা গেলেও এখন তা কেবলই স্মৃতি। বর্তমান প্রজন্মের খাড়িয়ারা সাদ্রি-বাংলা বা দেশোয়ালি মিশ্রিত ভাষায় কথা বললেও প্রকৃত খাড়িয়া ভাষা জানেন কেবল ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনা। ভেরোনিকা কেরকেটা দুঃখ করে বলেন, ‘পাঁচ বছর আগেও আমরা কয়েকজন ছিলাম যারা এই ভাষায় প্রাণ খুলে কথা বলতাম। এখন শুধু আমি আর আমার বোন। আমরা চলে গেলে এই ভাষা শোনার আর কেউ থাকবে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৯৮.২৭ শতাংশ মানুষ বাংলায় কথা বললেও চা-বাগানাঞ্চলের ২৯ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব বৈচিত্র্যময় ভাষা। তবে বৈজ্ঞানিক ভাষা সমীক্ষায় খাড়িয়াসহ বম, কোল, খাসি, মুন্ডারি এবং রেংমিতচার মতো ভাষাগুলোকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ ৪১টি শ্রমিক কলোনিতে প্রায় হাজারখানেক খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ থাকলেও মূল ভাষাটি হারিয়ে গেছে চর্চার অভাবে।

২০১৭ সালে ‘বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার’ এবং ‘উত্তরণ যুব সংঘ’-এর মাধ্যমে ভাষাটি টিকিয়ে রাখার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনা শিশুদের এই ভাষা শেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আর্থিক ও কাঠামোগত সংকটে সেই উদ্যোগ বেশিদূর এগোয়নি। উদ্যোক্তা পিওস নানোয়া জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই আদিম ভাষা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না করলে খাড়িয়া ভাষা কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রশাসন আন্তরিক। খাড়িয়া ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

একটি জাতির পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার ভাষায়। ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার বিদায়ের সাথে সাথে একটি ভাষার সমাধি রচিত হবে কি না, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। ভাষা গবেষকদের মতে, এখনই শব্দকোষ তৈরি বা রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এই ভাষা সংরক্ষণের শেষ সুযোগ।


পাঁচ বছর পরেও চালু হয়নি ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার

২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হয় জীবননগরের এ প্রকল্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের পাঁচ বছর পরেও চালু হয়নি। ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর একদিনও চালু করা হয়নি এ সরকারি প্রকল্পটি। ফলে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন পৌর এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় শোধনাগারটি এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়। পাম্প হাউস, ওভারহেড ট্যাংক ও রিজার্ভ ট্যাংকের চারপাশ ঝোঁপঝাড়ে ঢেকে গেছে। স্লুইচবোর্ড, মোটর, ফিল্টার, পাইপ, জেনারেটর, ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমারসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি বা বিকল হয়ে গেছে অনেক আগেই। পাম্প গ্যালারি ও মেইন কন্ট্রোলরুমে নেই প্রয়োজনীয় মেশিনারি। ভবনগুলোতে ফাটল ধরেছে, দরজা, জানালাও নষ্ট। অভিযোগ ওঠেছে কাজের শুরুতেই তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে মূল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি এবং কাজটি ওই মেয়রের নিজের লোকজন দিয়ে করাতে বাধ্য হয় প্রকৃত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যে কারণে কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করা হলেও সে সময় কেউ প্রতিবাদ করার সাহয় পায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে নিয়মিত চুরি ও যন্ত্রাংশ অপসারণ হলেও প্রশাসনের তেমন নজরদারি ছিল না। পৌরসভা থানা গ্রোথ সেন্টার প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শোধনাগারটির নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় ছিল-ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, পাম্প হাউস, ওভারহেড ট্যাংক, ৩০০টি পাইপ সংযোগ। পরবর্তীতে পৌরসভা নিজ উদ্যোগে আরও ২০০টি সংযোগ স্থাপন করে।

সব মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ ঘনমিটার পানি সরবরাহের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত এক ফোঁটা পানি সরবরাহ করা হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, শোধনাগারটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে তারা কোনো পানির পাম্পটি কোনোভাবে পরিচালনাতেও যেতে পারছে না।

এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজিব হাসান রাজু বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে কাজ সম্পন্ন করে পৌর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব হস্তান্তর করি। কিন্তু পৌরসভার নথি অনুযায়ী হস্তান্তর সংক্রান্তে কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রকল্পটি পেয়েছিল মনির ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তৎকালীন শাসক দলের কিছু নেতার অনৈতিক চাপ আর হস্তক্ষেপে কাজটি অন্যদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মূল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কাজটি যারা হাতিয়ে নেয়, তাদের মধ্যে জীবননগর রুপা কনস্ট্রাকশনেরও নাম ওঠে এসেছে।

জীবননগর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, ‘টেকনিক্যাল লোকবল না থাকায় সিস্টেম চালু করা যায়নি। শোধনাগার পরিচালনার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত অপারেটর ও টেকনিশিয়ান। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, প্রকল্প চালু হওয়ার আগেই যদি সব যন্ত্রাংশ চুরি বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে কাজটি কতটা মানসম্পন্ন ছিল?’

তারা আরও বলেন, ‘কয়েক মাস ট্রায়াল চালিয়ে হস্তান্তরের কথা ছিল তা হয়নি। এখন ভবন, কোয়ার্টার, পাম্প সব ভাঙা-অকেজো। কোটি কোটি টাকার পুরো স্থাপনাটি এখন পৌরসভার সুইপারদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।’

পৌরবাসীর দাবি, যন্ত্রাংশ দ্রুত মেরামত বা পুনঃস্থাপন, প্রকল্পে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত, শোধনাগার চালু করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে এমন অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ করা।

পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকা জীবননগর পানি শোধনাগার প্রকল্পটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং একটি মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রকৃত উদাহরণ। সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের অবহেলা-দুর্নীতির কারণে প্রকল্পটি এখন পুরোপুরি অচল। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কোটি টাকার অবকাঠামো পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে।


খানাখন্দে ভরা গোয়ালন্দ পৌরসভা বাজার সড়ক, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণি হলেও রাজবাড়ী গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকার বাজারের প্রধান সড়ক খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কের বেহাল দশা। ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসীরা বলছেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী।

এদিকে, সাবেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সহজে এ সকল সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।

জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার ৮ নম্বর ওযার্ডের বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় দুটি সড়কে ইটের খোয়া দিয়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। এতে করে যানবাহন ও জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের তোড়াইড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার প্রধান সড়কে অনেক খানাখন্দে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ যানবাহন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চালকরা খানাখন্দে পার হতে দ্রুত গতির যানবাহন আঁকাবাঁকা ভাবে পার হচ্ছে, এতে করে পেছনে থাকা মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

পৌরসভার এক বাসিন্দা জানান, বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অনেক রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে ওয়ার্ডবাসী ও চলাচলকারী জনসাধারণ। ভাঙা রাস্তায় যান চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই দ্রুত সড়ক সংস্কার করা জরুরি।

গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, ওয়ার্ডগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে সড়ক, এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগসহ সকল সমস্যা সহজে সমাধান করতে পারবেন। এতে করে যেমন পৌরবাসী উপকৃত হবেন তেমনি উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে যাবে।

আরেক কাউন্সিলর বলেন, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর কাউন্সিলরদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়মূলক কাজ থমকে গেছে। তাই দ্রুত পৌর নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এলাকার সকল সমস্যা সমাধান হবে।

গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, ইতোমধ্যে বাসস্ট্যান্ড থেকে তোড়াইড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের মেরামতের টেন্ডার হয়েছে, খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।

গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার যে সমস্ত সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে সেগুলো খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমাধান করা হবে এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার রোডের প্রধান সড়কে যে খানাখন্দ রয়েছে সেটি দ্রুত মেরামত করা হবে।


সংকট উত্তরণে এবার কেশবপুরে যোগদান করছেন আট চিকিৎসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুরে দীর্ঘদিনের ডাক্তার সংকট কাটছে একসঙ্গে ৮ চিকিৎসকের যোগদানে বদলাতে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবার চিত্র। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটিয়ে নতুন আশার আলো দেখছে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) একযোগে ৮ জন নতুন মেডিকেল অফিসার যোগদান করায় জনবহুল এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার গতি ও মান দুটোই বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসার এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নতুন চিকিৎসকদের যোগদানের ফলে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ উভয় সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসকের ঘাটতি ছিল। এতে করে জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত সেবাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। একসঙ্গে ৮ জন নতুন চিকিৎসকের যোগদানের ফলে এখন প্রতিটি বিভাগে দায়িত্ব বণ্টন সহজ হবে এবং রোগীরা আগের তুলনায় দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন। আমরা চেষ্টা করছি সবাই যেন নিজ নিজ বিভাগে নিয়মিত ও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।’

নতুন যোগদান করা চিকিৎসকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, নতুন যোগদানকারী ৮ জন চিকিৎসক হলেন- নিতুন মণ্ডল চক্ষু বিভাগ, মোয়াজ্জেম হোসেন অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি, কৃষ্ণা কর্মকার ডেন্টাল সার্জন, তন্ময় তনু সরকার মেডিসিন, জিহাদুল ইসলাম সার্জারি, তন্ময় বসাক পেডিয়াট্রিকস, শিমুল হালদার গাইনি ও ইমারজেন্সি শারমিন ইয়াসমিন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জন চিকিৎসক যোগদানের ফলে হাসপাতালে মোট চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ জনে। তবে এর মধ্যে তিনজন চিকিৎসক বর্তমানে ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত থাকায় বাস্তবে রোগীদের সেবায় যুক্ত চিকিৎসকের সংখ্যা কিছুটা কম। দীর্ঘদিনের সংকট ও ভোগান্তির চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে যশোর শহর কিংবা দূরবর্তী হাসপাতালে ছুটতে হতো।

এদিকে নতুন করে চিকিৎসক যোগ দিলেও তারা দীর্ঘদিন অবস্থান না করার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন যোগদানকারী চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ বিভাগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রমে গতি আসবে এবং রোগীরা তুলনামূলক দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলাবাসী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে শুধু চিকিৎসক নিয়োগ নয়, তাদের নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে একসঙ্গে ৮ জন চিকিৎসকের যোগদান কেশবপুরের স্বাস্থ্যসেবায় নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।


শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এমপিকে সংবর্ধনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি এস এম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি আলহাজ সামিউল আযম ইমাম মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদ্য শপথ নেওয়া জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শ্যামনগর একটি উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ জনপদ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এখানকার মানুষ জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রেখেছেন।’ উপকূল রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি জাতীয় সংসদে জোরালো দাবি উত্থাপন করবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ নয়, টেকসই বাঁধ, খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থাই হতে পারে শ্যামনগরবাসীর প্রকৃত নিরাপত্তা।’

তিনি প্রেসক্লাব ভবনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সাংবাদিকরা সমাজের উন্নয়ন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো যুক্তিনির্ভর সমালোচনার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেন। বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে উল্লেখ করে তিনি প্রেসক্লাবের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।’

উপজেলাকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও অবকাঠামোগতভাবে সমৃদ্ধ মডেল উপজেলায় রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে শহরায়ন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং একটি আধুনিক বাসটার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ পাশাপাশি সরকারি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি ও মৎস্য খাতে টেকসই উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আব্দুল মজিদ, উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, উপজেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা। প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।


মাগুরার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন জোয়ার, যোগদান করছেন ২৪ চিকিৎসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ মাগুরা প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে মাগুরাবাসী। জেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের ২৪ জন নতুন চিকিৎসক জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন এই ক্যাডার কর্মকর্তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।

​দীর্ঘদিন ধরে মাগুরার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চিকিৎসক স্বল্পতায় ভুগছিল, ফলে সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে ছুটতে হতো।​

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জেলার ৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করবেন।​

সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন চিকিৎসকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং পেশাদারত্বের সাথে সাধারণ মানুষের সেবা করার আহ্বান জানানো হয়।

​২৪ জন দক্ষ চিকিৎসকের একযোগে যোগদানের ফলে এখন থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ ঘরের কাছেই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও জরুরি চিকিৎসা পাবেন।

​নতুন এই চিকিৎসকদের আগমনে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সেবার চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। এখন থেকে সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

মাগুরার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়োগ জেলার স্বাস্থ্য খাতে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


গোপালপুরে জবাই করা সেই ঘোড়ার মাংস বিক্রি হতো গাজীপুর ও ঢাকার সাভারে

৪ কসাইকে গণপিটুনির পর পুলিশে দিয়েছে গ্রামবাসী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চরের ভিটা গ্রামে রাতের আঁধারে ৮টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করার সময় গ্রামবাসীরা চার কসাইকে আটকের পর গণপিটুনির পুলিশে দিয়েছে। এ সময় ৪টি জীবিত ঘোড়া আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। আটক কসাইরা হলেন- ঢাকার আশুলিয়ার তৈয়বপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে আমিনুর, জামগড়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে সুমন, সাভারের আবু তাহেরের ছেলে ফরহাদ এবং রংপুরের কাউনিয়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে সুমন।

ধোপাকান্দি ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এবং পঞ্চাশ গ্রামের বাসিন্দা ফারুখ হোসেন জানান, চরের ভিটা গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর সদর উপজেলার তুলসিপুর হাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘোড়া কিনে বাড়িতে আনত। আর ঘোড়া বেচাকেনার আড়ালে জবাই করা ঘোড়ার মাংস পাইকারি দরে ঢাকার গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন মার্কেটে চালান দিত। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর ট্রাকে করে ১২টি কেনা ঘোড়া বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর মঙ্গলবার ভোর রাতে বাড়ির নির্জন গোশালায় ৮টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করে। এর মধ্যে দুটি ঘোড়ার পেটে বাচ্চা ছিল। অপর চারটি ঘোড়া জবাই করার প্রস্তুতিকালে গ্রামবাসীরা টের পেয়ে হাফিজুরের বাড়ি ঘেরাও করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পালের গোদা হাফিজুরসহ ৮ দুর্বৃত্ত পালিয়ে যায়। চারজনকে বিপুল মাংস এবং ৪টি জীবিত ঘোড়াসহ আটক করা হয়। গোপালপুর থানা এসআই আব্বাস উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এরা সংঘবদ্ধ চক্র। জবাই করা মাংস গ্রামবাসীর হাওলায় রাখা হয়, আটক চার ঘোড়া থানা হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।


৬৮ লাখ টাকার সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক, চার গ্রামের কৃষকের ভোগান্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

কোনো সংযোগ সড়ক না করেই নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুরিয়া গ্রামের বিল-সংলগ্ন খালের ওপর একটি সেতু কালভার্ট নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

২০২১-২২ অর্থ বছরে এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তিন গ্রামের কৃষকের।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুরিয়া গ্রামের বিল-সংলগ্ন খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু কালভার্ট নির্মাণ করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে কাজটি সম্পন্ন করেন মেসার্স আব্দুর রউফ শেখ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৬ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মুসুরিয়া গ্রামের খালের ওপর প্রায় ১৫ ফুট উঁচু একটি সেতু। সেতুর দুই পাশেই কোনো সংযোগ সড়ক নেই। সেতু-সংলগ্ন বাসিন্দা উজ্জল হাজরা বলেন, ‘বিরিজ (ব্রিজ) এহোন আমাগে গলার কাটা হয়ে দারাইছে। বিরিজি গরুর গাড়ি ওঠে না। মাথায় বুঝা নিয়ে উঠতি গিলি হোচট খাতি হয়।’

স্থানীয়রা বলেন, ‘বিলের আশপাশের প্রায় চারটে গ্রামের কৃষক খাল পার হয়ে জমিতে ফসল লাগানো থেকে শুরু করে তা বাড়ি আনতে হয়। সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে কৃষকরা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছিল। বিল থেকে ধানসহ নানা ফসলাদি আনা-নেওয়া করতে কৃষকের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পাউবোর অধীনে ২০২১ সালের শেষের দিকে সেতুর কাজ শুরু করলেও শেষ হয় ২০২২ সালে প্রথম দিকে । কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষকরা এই উঁচু সেতু দিয়ে ধান বোঝাই গরুর গাড়ি আনা-নেওয়া করতে পারছে না।’

নিরঞ্জন গোপাল (৭৫) বলেন, ‘সেতু নির্মাণের আগে চার গ্রামের কৃষকরা বিলির ভেতর থেকে গরুর গাড়িতে করে ধানসহ নানা ফসল নিয়ে যেত। সেতু নির্মাণের পর দুই পাশে রাস্তা করে না দেওয়ার জন্য অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কম সময়ে বিল থেকে গ্রামে আসতে আর কোনো পথ নেই। বৃষ্টির সময় আমাদের ফসলাদি নিতে অনেক কষ্ট পেতে হয় । উপায় না পেয়ে বৃষ্টির আগে আমরা সেতুর দুই পাশে মাটি কেটে দিয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিয়ে তা ধুয়ে গেছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল সেন বলেন, ‘সেতুটি তার কার্যকালে নির্মাণ করা হয়নি।’

এ বিষয়ে তিনি খুব জানে না। তবে পুরোনো কর্মকর্তাদের কাছে শোনেছেন ২০২১-২২ অর্থ বছরে এ ধরনের বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ করা হয়।’


চকরিয়ায় বালু উত্তোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ৩ সাংবাদিক আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিভিন্ন এলাকায় চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার হারবাংয়ে ছড়াখাল ও মাতামুহুরী নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে রাত-দিন বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে তিন সাংবাদিক সরেজমিনে গেলে তাদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে বালুদস্যু নাজেম উদ্দিন।

হামলায় আহত কালের কণ্ঠ চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, দৈনিক সংবাদের চকরিয়া প্রতিনিধি জিয়াবুল হক, আমার দেশ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ভাণ্ডারির ডেপা এলাকায় এঘটনা ঘটে। কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায় ওই এলাকার নাজিম উদ্দীনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আমরা গিয়ে দেখি পার্বত্য অববাহিকার হারবাং ছড়া খালে মাটি কেটে বিরানভূমি করে রেখেছে এই বালুদস্যু। এ সংবাদ প্রকাশের জন্য ছবি ভিডিও করতে গেলে আমরা হঠাৎ আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নাজিম উদ্দীনসহ ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী। তাদের ধাক্কাধাক্কি করে ছড়া খালে ফেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাংবাদিক জিয়াবুরের হাতের হাড্ডি ভেঙে যায়। আমার মাথায় আঘাত করে ও সাংবাদিক ইকবাল ফারুকের হাতে আঘাত করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাশবিক নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের জিম্মি করে বালু খেকো নাজিমের বাড়িতে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলবে বলে ৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখে।’

আহত সাংবাদিক জিয়াবুল বলেন, ‘রোজা রেখে আমার মুখে বালি ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতন করতে করতে আমার ডান হাতের হাড্ডি ভেঙে ফেলে। ইফতারের সময় গড়িয়ে যায় এদিকে হাতের যন্ত্রণায় নিরুপায় হয়ে আকুতি-মিনতি করেও রক্ষা পাইনি। ৩ ঘণ্টা মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করে পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার করে। তবে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে দেননি হামলাকারীরা। পার্শ্ববর্তী উপজেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে রাত ৪টা বাজে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হারবাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভাণ্ডারির ডেবা এলাকার ছড়াখালে শ্যালো মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাতদিন বালু উত্তোলন করে আসছে নাজেম উদ্দিন নামের এক বালুখেকো। এসব বালু রাতের আঁধারে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে নাজেম উদ্দিন। স্থানীয়রা এসব নিয়ে কথা বলতে ভয় পায়। ট্রাকে করে বালু পাচারের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা। ভেঙে যাচ্ছে ছড়া খালের পাড়। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। শ্যালো মেশিনের আওয়াজে ঘুমোতে পারছে না এলাকার সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, নাজেম উদ্দিন ওই ছড়াখাল থেকে সরকারিভাবে বালু তোলার অনুমতি পায়। কিন্তু সে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে। যা সরাসরি ইজারা শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এলাকার রাস্তা-ঘাট নষ্ট করে বিরানভূমিতে পরিণত করেছে ওই এলাকা।

বালুখেকোদের হামলায় আহত সাংবাদিক ইকবাল ফারুক বলেন, ‘বালুখেকো নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে হারবাং ছড়াখাল থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে গত রোববার বিকালে ঘটনাস্থলে যায়। আমরা যাওয়ার সাথে সাথে কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের ওপর হামলা করে আহত অবস্থায় প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সাংবাদিক জিয়াবুলের একটি হাতে গুরুতর জখম হয়ে ভেঙে যায়। আমাদের মাথায় ও হাতে-পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

এদিকে সাংবাদিকদের হামলায় ঘটনাটি জানাজানি হলে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোর দাবি জানান কর্মরত সাংবাদিকরা। তবে হামলার প্রায় ২০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো অপরাধীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়টি কেউ অবগত করেনি। লিখিত বা মৌখিকভাবেও কেউ জানায়নি।’ আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলায়ার বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হাত তোলা চরম অন্যায়। এটা কোনোভাবে কাম্য না। আমি এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পাঠাব। বিষয়টি আমি দেখছি।’


শ্রীমঙ্গলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এমপি হাজী মুজিব, জনগণের ভোগান্তির কারণ হওয়া যাবে না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনও ইসলাম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাজী মুজিব বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তর জনগণের টাকায় পরিচালিত। আমরা জনগণের সেবক- কোনোভাবেই জনগণের ভোগান্তির কারণ হওয়া যাবে না।

তিনি সেবা প্রত্যাশীদের যেন অযথা হয়রানি বা বিলম্বের শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের অধিকার রক্ষা করাকে তিনি তার প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, রাজনৈতিক দলের নেতারা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


banner close