শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নওগাঁয় গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৯ নভেম্বর, ২০২৩ ১৪:১৭
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৩ ১৪:১৫

নওগাঁর বদলগাছীতে দুজন গাঁজা কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৫। মোটরসাইকেলের ছিটের নিচে লুকিয়ে রাখা এক ১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজাসহ ধরা পড়ে তারা।

আজ বুধবার ভোরে উপজেলার চকতাল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ঝাড়ঘড়রিয়া এলাকার সোহেল রানা (৩৪) ও শাহপুর এলাকার রিপন (৩৫)।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ফাঁড়ি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোহেল রানা একজন পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী। আর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক কিনতেন রিপন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করে অর্থ যোগাতেন তিনি। এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর গোয়েন্দা দল সোহেল রানার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা শুরু করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোরে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলের ছিটের নিচে লুকিয়ে রাখা গাঁজা বহনকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বদলগাছী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিষয়:

৪৩ জনকে নিয়ে উল্টে গেল পিকনিক বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:১৫
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ৪৩ আরোহী নিয়ে একটি পিকনিক বাস উল্টে গেছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের এলাকাধীন ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া নামক স্থানের স্টিল ব্রিজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম।

স্থানীয়রা জানান, স্টিল ব্রিজের সামনে একটি পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপরে উল্টে যায়। এতে ওই বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১৩ জন যাত্রী আহত হন। এসময় সড়কের উভয় পাশে যানজট লাগে। বাসের যাত্রীরা সকলেই চট্টগ্রাম মহানগর হতে কাপ্তাইয়ে পিকনিক করতে যাচ্ছিলেন।

ওসি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বাসে ৪০ থেকে ৪৩ জনের মতো যাত্রী থাকতে পারে। আহত হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কাপ্তাই নৌবাহিনী হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালের নেয়া হয়েছে।’


চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে চাঁপাইনবাগঞ্জ পৌরসভার বটতলাহাট মালোপাড়া এলাকায় রাস্তাপারাপারের সময় বালুবাহী ট্রাকে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান খায়রুন নেসা (৬৫) নামে এক নারী।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ সড়কের শিবতলা মোড়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে ৮ বছর বয়সী রাফি নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মিন্টু রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আইনী প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।


আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাজ্জাদ হোসেন শিমুল, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য রাসেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রাসেল উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি পরমতলা গ্রামের মৃত সফিকুল ইসলাম (সফু) মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার পরমতলা গ্রামের মোহাম্মদ আলী চট্টগ্রামে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘর না থাকায় তিনি চট্টগ্রামে বস্তিতে বসবাস করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়া হচ্ছে শুনে মুরাদনগর গ্রামের বাড়িতে আসেন এবং ইউপি সদস্য রাসেল মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাসেল ঘর দেওয়ার কথা বলে মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেন। এরপর ঘর দেব, দিচ্ছি বলে রাসেল মুন্সী এক বছর ধরে নানান তাল-বাহানা করে আসছেন।

অবশেষে আশ্রয়ণের ঘর না পেয়ে গত ৩০ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোহাম্মদ আলী।

টাকা লেনদেনের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাসেল মুন্সি বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি। মোহাম্মদ আলী আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণের ঘর দেওয়ার নামে রাসেল মেম্বারের টাকা নেওয়ার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

অন্যদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের টাকা না দেওয়ায় নিলুফা আক্তারকে ঘর বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে ধামঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে।

নিলুফা আক্তার বলেন, ‘আমি ঘরের জন্য টাকা দিতে না পারায় আমার নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও ঘর পাইনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি ভূমিহীন অসহায় পরিবার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির যতগুলো আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দিয়েছেন, প্রতিটি ঘর থেকে ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। টাকা ছাড়া কাউকে কোনো ঘর তিনি দেননি। এ বিষয়ে আব্দুল কাদিরের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মুরাদনগর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাসরিন সুলতানা নীপা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


কোটালীপাড়ায় পরীক্ষামূলক বার্লি চাষ

হতে পারে গমের বিকল্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া

গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জেলাগুলোতে গমের বিকল্প খাদ্য হিসেবে বার্লি চাষের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড)।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অবস্থিত বাপার্ড এ বিষয়ে নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে বাপার্ড তাদের একাডেমির কৃষি প্লটে পরীক্ষামূলকভাবে বার্লি চাষের ওপর প্রায়োগিক গবেষণা শুরু করেছে।

বাপার্ডের যুগ্ম পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ তোজাম্মেদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি বার্লি-৫, বারি বার্লি-৬, বারি বার্লি-৭, বারি বার্লি-৮ ও বারি বার্লি-৯ এই ৫ জাতের বার্লি আরসিবিডি পদ্ধতিতে ছোট আকারে ২০টি প্লটে বিভিন্ন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ট্রায়াল দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই ট্রায়ালে আমরা সফল হয়েছি। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খায়, কোন জাতটিতে পোকা-মাকড় রোগ-ব্যাধি কম এবং ফলন বেশি হয় আমরা সে জাতটি বেছে নেব। এই জাতের বার্লি চাষাবাদে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করব।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের কৃষিকে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত কৃষি থেকে কৃষকদের নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

বাপার্ডের পরিচালক (কৃষি) মো. মাহমুদুন্নবী বলেন, বার্লি কিছুটা লবণাক্ততা সহনশীল ফসল। রবি মৌসুমে বার্লির চাষ করা হয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে শীতকাল কম স্থায়ী হয়। এই শীতকালে অন্যান্য ফসল কম হলেও বার্লির চাষ ভালো হয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বার্লির চাষ বাড়ানো সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি এ অঞ্চলে বার্লিনির্ভর অনেক শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু ও মাটি বার্লি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কারণ বার্লি রবি মৌসুমের ফসল। এই বার্লি অনুর্বর জমিতেও চাষ করা যায়। ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই চাষিরা বার্লি ঘরে তুলতে পারেন। এটি চাষাবাদে খরচও কম। তাই বার্লি চাষে কৃষকদের এগিয়ে আসা উচিত।

বাপার্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বোরহানুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের বিলুপ্ত প্রজাতির ফসলগুলো গবেষণার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ পালনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বার্লি চাষের জন্য আমরা প্রায়োগিক গবেষণা শুরু করেছি। ইতোমধ্যে অনেকটা সফলও হয়েছি। আমরা আমাদের সফলতা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেব।’


দেবীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি সেতুর নিচ থেকে আঞ্জুয়ারা বেগম (৫৯) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠি হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের পাবনাল সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, মৃত আঞ্জুয়ারা ঠাকুরগাঁও সদরের গড়েয়া নাপাঘাট গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আঞ্জুয়ারা মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী ও ভবঘুরে ছিলেন। সকালে স্থানীয়রা মাঠে কাজ করতে গিয়ে সেতুর নিচে ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে থানায় নেয়। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্যে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

বিষয়:

ঘাটাইলে গ্যারেজ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নাহিদ হাসান (২৩) নামে এক গ্যারেজ মিস্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার জামুরিয়া ইউপির বীর ঘাটাইল এলাকার একটি মোটর সাইকেল গ্যারেজের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাহিদ উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউপির পোয়াকোলাহা গ্রামের ধলা মিয়ার ছেলে। তিনি মেসার্স মনির ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ নামে একটি গ্যারেজের মিস্ত্রী ছিলেন।

স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সকালে ভেকুর কাজ করছিলাম। নাট খোলার জন্য একটি যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। নাহিদের গ্যারেজ বন্ধ দেখে দোকানের কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করি। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হঠাৎ খেয়াল করে দেখি গ্যারেজের একটি শার্টার একটু ওঠানো। শার্টার পুরোটা উঠিয়ে নাহিদের কাছে গিয়ে ডাক দিলে সাড়া মেলেনি। শরীরে হাত দিয়ে ধাক্কা দিলে শরীর শক্ত লাগে। এরপর আশেপাশের লোকদের ডাক দিলে তারা এসে দেখেন নাহিদ মারা গেছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।’

গ্যারেজ মালিক মনির হোসেন ব্যবসার কাজে চট্টগ্রাম অবস্থান করছেন। তার বড় ভাই মনসুর আলী বলেন, ‘নাহিদ তিনমাস ধরে এই গ্যারেজে কাজ করছেন। ঘটনাস্থলে দেখা যায় মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাস ও নম্বর প্লেট পড়ে আছে। স্থানীয়দের ধারণা রাতের কোনো এক সময় চোর মোটরসাইকেল চুরি করে নেয়ার সময় নাহিদ দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হতে পারে।’

ঘাটাইল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু না। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বিষয়:

নবীনগরে ট্রাক্টর উল্টে চালকসহ নিহত ২, আহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৪৫
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে ট্রাক্টর উল্টে খাদে পড়ে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন ও আহত হয়েছেন একজন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের বড়হিত মৌড়ের পূর্ব পাশ এলাকায় নবীনগর-রাধিকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় আহত ব্যক্তি ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের মো. আলামিন মিয়ার ছেলে মো. রাকিব মিয়া (১৫)।

নিহতরা হলেন, উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়ন ব্রাহ্মণহাতা নারুই গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (১৫) ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়ন রুটি খামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে এনামুল হোসেন (৩৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে উপজেলার বড়হিত মৌড়ের পূর্ব পাশে একটি ট্রাক্টর বেপরোয়া গতিতে শিবপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাক্টরটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে যায়। চালক ও তার সহকারী ঘটনাস্থলে নিহত হন। গুরুতর আহত হন ট্রাক্টরচালকের আরেক সহকারী। স্থানীয়রা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে। আহত ব্যক্তিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আক্কাছ আলী রুবেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মাদারীপুরের বাক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে শিশু ধর্ষণের আসামি সুমন বেপারীকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে পিরোজপুর সার্কিট হাউস এলাকা হতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. মুকিত হাসান খাঁন এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, আসামি সুমন বেপারী এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় তিনি বলেন, তার দুলাভাই শংকরপাশা ইউনিয়নের মেম্বার। তিনি তার বাসায় বেড়াতে এসেছেন। পরে পুলিশ তার দুলাভাইয়ের ফোন নম্বর জানতে চাইলে তিনি নম্বর দিতে পারেননি। পরে পুলিশ তাকে আটক করে ওই মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই মেম্বার জানান, আসামি সুমন তার বাড়িতে বেড়াতে আসেননি। পরে পুলিশ আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে। এরপর পুলিশ মাদারীপুর থানায় যোগাযোগ করলে জানা যায়, আসামি সুমন মাদারীপুর জেলায় এক বাক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করে পালিয়ে এসেছেন।

পুলিশ আরও জানায়, এঘটনায় আসামি সুমনের নামে মাদারীপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে মাদারীপুর থানা থেকে আসা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অখিল রায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


চুয়াডাঙ্গায় ফসলি মাঠ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৫৪
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় একটি ফসলি মাঠ থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মজনু খাঁ ওরফে ফজলু মিয়া (২৮)।

আজ বুধবার সকালে উপজেলার কাবলেরচারা মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে সন্তোষপুর ও ধোপাখালী এই দুই গ্রামের মাঝে কাবলেরচারা নামক মাঠে এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নিহত ফজলু মিয়ার সঙ্গে থাকা তার ফুফাতো ভাই জব্বার আলীও নিখোঁজ রয়েছেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম জাবীদ হাসান বলেন, ‘নিহত ফজলু মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’


শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১০

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:৫১
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বাস ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ হলে ট্রলিটি পাশের একটি ক্ষেতে পড়ে যায়। আর বাসটি একটি বাড়িতে ঢুকে যায়।

উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের কুরুয়া এলাকায় বুধবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ট্রলির সহকারী হামিদুর রহমান (২৬)। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার বড়পোড়াগড় এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে। অপরজন পার্শ্ববর্তী জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে গোলাম ফারুক লিটন (৫০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস বকশিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ট্রলিটি পাশের একটি ক্ষেতে পড়ে যায়। আর বাসটি একটি বাড়িতে ঢুকে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে ট্রলির সহকারী হামিদুর রহমান মারা যান। আহত হন ট্রলির চালক ও বাসের যাত্রীসহ অন্তত ১০ জন। আহতদের মধ্যে গোলাম ফারুক লিটনকে শেরপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিক জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে পাঠায়। একাধিক আহত লোক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বিষয়:

সাত টাকায় ব্যাগভর্তি সবজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে গরিব ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে সাত টাকায় ব্যাগভর্তি সবজি বিক্রি করছে ফাইট আনটিল লাইট নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ।

জেলার সদর উপজেলা, ফুলবাড়ী উপজেলা এবং রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এই সাত টাকার সবজি বিক্রির কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানান সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক আবদুল কাদের।

উদ্বোধনী দিনে ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে এক কেজি করে শিম, এক কেজি আলু, এক কেজি বেগুন, একটি ফুলকপি, দুই আঁটি করে ধনেপাতা, পালংশাক এবং একটি করে ডিম দেওয়া হয়। পুরো প্যাকেজটির বাজারমূল্য ৩০০ টাকার বেশি হলেও দরিদ্র মানুষ পেয়েছেন মাত্র সাত টাকায়।

সাত টাকার বাজার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সোহেলী পারভীন, ফুলবাড়ী উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুব হোসেন লিটু এবং ফুল সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আবদুল কাদের।

সাত টাকার বাজারে সবজি কিনতে আসা রানী আক্তার বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত দাম বাড়ায় কৃষক স্বামীর পক্ষে একসঙ্গে এত বাজার করা অসম্ভব। মাত্র সাত টাকায় ৩০০ টাকার কাঁচাবাজার পেলাম। পরিবারে চারজন সদস্য নিয়ে এই বাজার দিয়ে পাঁচ দিন নিশ্চিন্তে খাইতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সংগঠন রিলিফ দেয় নাই, তারা কম দামে বিক্রি করল আর হামরা কিনি নিলাম। কমদামে এত বাজার পেয়ে আমার খুব উপকার হইল।’

আরেকজন ক্রেতা রিনা রানী বলেন, ‘হামার স্বামীর কোনো আবাদি জমাজমি নাই, হাতের কামাই দিয়ে কোনো রকমে চাল কিনে ভাত খাই। বাজারে সবজির দাম চড়া, ভালোমন্দ সবজি, মাছ, ডিম খামো তার সামর্থ্য নাই। আজ সাত টাকা দিয়ে এক কেজি শিম, এক কেজি আলু, এক কেজি বেগুন, একটি ফুলকপি, এক কেজি বেগুন, দুই আঁটি ধনেপাতা, দুই আঁটি পালংশাক এবং একটি ডিম কিনেছি। আমার ছাওয়াটা ডিম পায়া খুব খুশি হবে।’

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ বলেন, ‘বেসরকারি সংগঠন ফুলের অর্থায়নে উপজেলার অভাবী মানুষ মাত্র সাত টাকায় ব্যাগভর্তি বাজার করার সুযোগ পেল। ফুল সংগঠন ত্রাণ না দিয়ে নামমাত্র টাকায় গরিব মানুষের বাজারের সুযোগ দিয়েছে। সংগঠনটির এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আবদুল কাদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে ফাইট আনটিল লাইট (ফুল) সংগঠন গরিব মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে আসছে। আমরা ত্রাণপ্রথা থেকে মানুষকে বেরিয়ে এসে সম্মানের সঙ্গে বাঁচার জন্য সাত টাকা করে নিচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের সংগঠন নাগেশ্বরী উপজেলা, ফুলবাড়ী উপজেলা, রাজারহাট উপজেলায় গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।’

বিষয়:

নেত্রকোনায় জমে উঠেছে উপজেলা নির্বাচন

চেয়ারম্যান পদে প্রচারে নেমেছেন হাফ ডজন প্রার্থী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সালাহ উদ্দীন খান রুবেল, নেত্রকোনা

জেলার নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পোস্টার, বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে সদর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ ছাড়া হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন মহলের আড্ডায় জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা গণসংযোগের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

তবে জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ অন্য দলের নেতারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় নেই।

জানা গেছে, আসন্ন নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান মানিক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আলম ফারাস হীরা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান খান অভ্র, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তুহিন আক্তার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম খান পাঠান বিমল, বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এ কে এম আজহারুল ইসলাম অরুণ প্রমুখ।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নেত্রকোনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আতাউর রহমান মানিক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চলতি মেয়াদে দৃশ্যমান কাজ করেছি। আগামী দিনে সদর উপজেলায় যেসব কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে চাই।’

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আলম ফারাস হীরা ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাবেক ছাত্রনেতা। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে একাধিকবার হামলা-মামলাসহ নির্যাতনের শিকার হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মজিবুল আলম ফারাস হীরার এ উপজেলার প্রতিটি এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। তার ক্লিন ইমেজও রয়েছে।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান খান অভ্র সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খানের ছেলে। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

মারুফ হাসান খান অভ্র দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মরহুম পিতা অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খানের রেখে যাওয়া অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করি।’

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেত্রকোনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম খান পাঠান বিমল তিন দশকের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দৈনিক বাংলাকে জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে জি এম খান পাঠান বিমলের পরিচিতি রয়েছে। তিনি একজন দক্ষ আওয়ামী সংগঠক হিসেবে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক তুহিন আক্তার বিগত ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী ও ২০১৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

তুহিন আক্তার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টানা তিন মেয়াদে নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে জনগণের পাশে রয়েছি। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নেত্রকোনা সদর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ আমার পাশে থাকবেন আশা করছি।’

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেত্রকোনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান। তিনি ১৯৭৮ সালে নেত্রকোনা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা শাখার সহ-সভাপতি, ১৯৯০ সালে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৯৯৫ সালে জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক ও ২০১৭ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এ কে এম আজহারুল ইসলাম অরুণ নেত্রকোনা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদেপ্রার্থী হওয়ায় সর্বত্রই আলোচনা রয়েছে।

এ কে এম আজহারুল ইসলাম অরুণ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নেত্রকোনা সদর উপজেলার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ভিশন উপজেলায় দৃশ্যমান করতে চাই।’

বিষয়:

হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুরের সাত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ভাষা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শাহরিয়ার শাকির, শেরপুর

হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুরের সাত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি। গারো, কোচ, হাজং, বানাই, বর্মণ, হদি ও ডালু সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির পথে।

এদের মধ্যে গারো ও কোচরা তাদের পরিবারে টিকিয়ে রেখেছে মাতৃভাষা। কিন্তু তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে বাংলা ভাষায়। কেননা, বিদ্যালয়গুলোতে এদের নিজ ভাষার দুয়েকটি পাঠ্যবই থাকলেও তা পড়ানোর জন্য নেই কোনো শিক্ষক। নিজস্ব ভাষা রক্ষার্থে তাদের দরকার প্রতিটি স্কুলে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষক ও একটি সাংস্কৃতিক একাডেমি।

বেসরকারি সংস্থা আইইডির আদিবাসী সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিসংখ্যানে উল্লেখ আছে, বর্তমানে শেরপুর জেলায় গারো ২৬ হাজার, বর্মণ ২২ হাজার, কোচ ৪ হাজার, হাজং ৩ হাজার, হদি ৩ হাজার ৫০০, ডালু ১৫০০, বানাই ১৫০ জনের বসবাস। শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তজুড়ে সাতটি সম্প্রদায়ের ৬০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এরমধ্যে গারো, বর্মণ, কোচ ও হদি সম্প্রদায়ের সংখ্যাই বেশি।

এক সময় সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতি থাকলেও, সময়ের সঙ্গে ভিন্ন এক সংস্কৃতিতে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ভুলতে বসেছে নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি। এদের একটি অংশ শিক্ষিত হচ্ছে আধুনিক শিক্ষায়; আর অল্প কিছু স্কুলে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের।

স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ক্লোডিয়া নকরেক কেয়া বলেন, ‘আমরা এক সময় আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলতাম। কিন্তু এখন বাংলাভাষায় কথা বলি। আমাদের আগের ঐতিহ্যগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। স্কুল, কলেজে আমাদের ভাষার কোনো চর্চাই নাই। আমরা শুনেছি, স্কুলে আমাদের ভাষার বই দেওয়া হয়েছে; কিন্তু কোনো শিক্ষক দেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের ভাষার শিক্ষক দেওয়ার জন্য।’

শিউলি মারাক বলেন, আমাদের ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের ভাষায় কথা বলতে চাই।

সুকেশ বলেন, ‘আমরা বর্মণ। অথচ আমরা বর্মণ ভাষায় কথা বলার পারি না। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। সরকার আমাদের ভাষার বই চালু করলে আমাদের ভাষাটা টিকে থাকত।’

শেরপুর আইইডি আদিবাসী সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পর আদিবাসী নেতা সুমন্ত বর্মণ বলেন, এক সময় শেরপুর জেলায় সব আদিবাসীদের নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি ছিল। এদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক একাডেমি না থাকায় জেলায় আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার পথে। তবে ইতোমধ্যে গারো ভাষা পাঠ্যবইয়ে লিপিবদ্ধ হয়েছে; কিন্তু স্কুলে বইয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষক সংকটের কারণে গারো ভাষার বইটা পড়ানো হচ্ছে না। আমরা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ভাষাভিত্তিক শিক্ষক তৈরি প্রচেষ্টা আছে সরকারের। আপাতত আমরা একটু সংকটে আছি।’

আর ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, শেরপুর জেলার সাত ধরনের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর জন্য ইতোমধ্যেই সাংস্কৃতিক একাডেমি স্থাপনের প্রস্তাব সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদের ভাষা সংরক্ষণের জন্য আমরা আমাদের যে জাতীয় গণ গন্থাগার আছে সেটির মাধ্যমে উদ্যোগ নিচ্ছি।

বিষয়:

banner close