এবারের নির্বাচনে অনেক ভোট পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড এ কে আব্দুল মোমেন। এতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার দুপুরে সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমাদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোমেন বলেন, কে আসলো না আসলো সেটা বিষয় না, জনগণ সঙ্গে আছে কি না সেটাই দেখার বিষয়।
সিলেট-১ আসনে এবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান মোমেন। গত নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর এ কে আব্দুল মোমেন আরও বলেন, বিএনপির আন্দোলনের নমুনা হলো রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে আগুন জ্বালানো। এতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।
এ সময় তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে অনেক ভোট পড়বে, তাতেই নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা আসবে।
তিনি দেশের মানুষকে নির্বিঘ্নে উৎসমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।
এর আগে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন সিলেট-১ আসনের বর্তমান সাংসদ ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মন্ডলভোগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. বজলুর রহমান (৬০)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তাঁর ছেলে জুবায়ের (২৫) পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বজলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর ছেলে জুবায়েরের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে জুবায়ের ছুরি দিয়ে বাবাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। জুবায়ের পেশায় অটোরিকশাচালক।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন বজলুর রহমানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হক উজ্জ্বল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়।
একপর্যায়ে ছেলে বাবাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে চাল ও ডালের দাম অনেকটা বেড়েছে। বিশেষ করে দেশি (ছোট দানা) মসুর ডালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে নতুন চাল আসার প্রাক্কালে পুরোনো চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। এদিকে, রমজানের আরও দেড় মাস বাকি থাকলেও বেড়ে যাচ্ছে মাংস ও ডিমের দাম। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ডিমের দাম বাড়ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। আর গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা দায়ী করছে ভারতীয় গরু না আসাকে। তবে, শাকসবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে বেড়েছে ছোট দানার মসুর ও মুগ ডালের দাম। উভয় ধরনের ডালের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। তবে মোটা মসুরের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে হয়েছে ৯০ টাকায়। বাজারে চা-এর দামও বেড়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়ে ৮৩ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে ৮৫ থেকে ৮৬ টাকা হয়েছে।
একইভাবে বেড়েছে নাজিরশাইল চালের দামও। ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে, যা সপ্তাহখানেক আগে ৩ থেকে ৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা হয়েছে।
বছরের এই সময়ে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসার কথা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সাধারণত প্রতিবছর এসব চাল বাজারে আসার পরে পুরোনো চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বাড়ে। কিন্তু এবার নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরোনো চালের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা দোকানে নতুন চাল বিক্রি হতে শুরু করবে। বিক্রেতাদের আশঙ্কা, নতুন চাল আসার পরে পুরোনো চালের দাম আরও বাড়তে পারে।
গত সপ্তাহের চেয়ে ডজন প্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। আগে বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা; শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কিনতে হয়েছে ১২০ টাকায়। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পুরান ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ডিম কম পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য দাম বাড়ছে। এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। যা দুদিন আগেও ৭৫০ টাকায় বিক্রি হতো। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রায়সাহেব বাজারের মাংস বিক্রেতা জালাল বলেন, ‘বর্ডার দিয়ে ইন্ডিয়ান গরু না আসার কারণে দাম বাড়ছে। বাংলাদেশের গরু কম। দাম কমাতে হলে ইন্ডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে হবে।’
ওই বাজারে মাংসের দরদাম করতে থাকা একজন ক্রেতা বলেন, মাংস খুব কম কিনি। কারণ, দাম আগের থেকেই বেশি। আজকে শুক্রবার, এ জন্য ভাবছি একটু মাংস খাই। কিন্তু, দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে গেলো। এ দেশে দাম শুধু বাড়ে, কমে না।
ডিম ও মাংসের দাম বাড়লেও আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে মাছ, বড় জাতের রুই মাছ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, হাইব্রিড কৈ মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে, বরাবরের মত নাগালের বাইরে রয়েছে দেশি মাছের দাম। প্রতি কেজি দেশি শোল মাছ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা করে। প্রতি কেজি দেশি কৈ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, চাষের মাছের দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বাজারে এখন নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশীয় পুরোনো পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৬৫-৭০ টাকা। আর দেশি পুরোনো পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি; প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল ও লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া শিম ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় মিলছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও করলা ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজারের দেশি গাজরের কেজি ৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ৪০ টাকা ও ছোট সাইজের প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাকা টমেটোর কেজি এখনো ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় মিলছে। বাজারে মটরশুঁটির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে ১০০ টাকায় নেমেছে।
ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তৈরি পোশাক খাত। দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি এই খাতের রপ্তানি পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। নতুন বাজারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, চিলি, ভারত, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক এবং অন্য দেশেও রপ্তানি কমেছে। তবে চীন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বাজারে বেড়েছে।
ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশ হলো— বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া এবং সুইডেন। এদিকে, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া এবং কিছু ছোট দেশগুলোতে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি সামান্য হ্রাস (-০.১০ শতাংশ) রেকর্ড করা হয়েছে, যা বড় বাজারের জন্য সতর্কবার্তা। কানাডা ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তা মোট হ্রাসের চাপকে ভারসাম্য করতে যথেষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, শুধু ২৬টি দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কেনা কমায়নি, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫), রপ্তানি প্রত্যাশিত গতিতে বৃদ্ধি পায়নি।
রপ্তানি উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ পোশাক ব্যবসায়ি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯,৩৬৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬৩ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দাম কমানোর চাপ— সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শ্রম বাজার এবং রপ্তানিকারকদের আয়— সবকিছুর ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জুলাই-ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ইইউতে রপ্তানি হয়েছে ৯,৪৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক। তবে আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় রপ্তানি আয় ৪.১৪ শতাংশ কমেছে।
বড় বাজারগুলোতে যেমন- জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও বেলজিয়ামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে— জার্মানি: ২৪৬৮ থেকে ২১৮৭ মিলিয়ন (-১১.৪ শতাংশ), ফ্রান্স: ১০৯১ থেকে ৯৭২ মিলিয়ন (-১০.৮৯ শতাংশ), ডেনমার্ক: ৫৫৭ থেকে ৪৯৮ মিলিয়ন (-১০.৫৪ শতাংশ), বেলজিয়াম: ২৯৫ থেকে ২৬৮ মিলিয়ন (-৯.২২ শতাংশ)। তবে সব দেশে পতন হয়নি। কিছু বাজারে উল্টো বাড়তি রপ্তানিও দেখা গেছে। যেমন- স্পেন: ১৬৯৯ থেকে ১৮০৪ মিলিয়ন (+৬.১৮ শতাংশ), নেদারল্যান্ডস: ১০৫৭ থেকে ১০৭৭ মিলিয়ন (+১.৮৫ শতাংশ), পোল্যান্ড: ৭৯০ থেকে ৮৬৪ মিলিয়ন (+৯.৪৩ শতাংশ)।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় বাজারে ক্রেতারা সংবেদনশীল। অর্ডার দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু দাম কমানোর চাপও আছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ইউরোপীয় বাজারে সতর্কতা অবলম্বন এখন অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল মালিক সমিতি (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কয়েক মাস ধরে আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহার সারা বিশ্বের রপ্তানি বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও, যেখানে আমাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ধাক্কা খাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত ও চীনসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ওই বাজারে রপ্তানি করতে পারছে না, তারা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে অর্ডার নেওয়ার জন্য মূল্য কমিয়ে প্রতিযোগিতা করছে। ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা একই ধরনের পণ্যের অর্ডার নিতে পারছেন না। তবে ভারত সরকার তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ সহায়তা দিচ্ছে। সম্প্রতি তারা ৭ হাজার কোটি রুপির নতুন সহায়তা অনুমোদন করেছে।
হাতেম যোগ করেন, অপরদিকে আমাদের সরকার আইএমএফ কর্মসূচি ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের যুক্তি দেখিয়ে রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। যে সামান্য সহায়তা অবশিষ্ট ছিল, তার মেয়াদও ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে সরকারকে নবায়নের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, যা রপ্তানিকারকদের টিকে থাকতে সহায়তা করবে। না হলে স্পিনিং মিল বন্ধ এবং একের পর এক গার্মেন্টস বন্ধ হওয়া রপ্তানি খাতের জন্য মারাত্মক সংকেত।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বিশ্ববাজারে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাময়িকভাবে বাংলাদেশের রফতানি মন্দা দেখা দিয়েছে। তবে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং নতুন বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারে চাহিদা বাড়াতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে যারা গুলি করেছেন, তারা তার পরিচিত বলে এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যে উঠে এসেছে। মুছাব্বির কিলিং মিশনে ৫ জন অংশ নেয়। তারা পেশাদার ও ভাড়াটে শুটার।
প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডটি ‘পরিকল্পিত’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারে স্টার হোটেলের পাশের গলিতে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।
বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, র্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছেন এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে।
সুরতহাল প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোছাব্বিরের পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চি পরিমাণ ছিদ্র। ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে একটা ছিদ্র। বাম পায়ের হাঁটুতে ছিল জখম। ধারণা করা হচ্ছে, গুলি লাগার পর তিনি পড়ে গিয়ে পায়ের হাঁটুতে আঘাত পান।
প্রত্যক্ষদর্শী মন্টু বলেন, গুলির আওয়াজ শোনার দুই-তিন সেকেন্ড পরে মুসাব্বির ভাই দৌড় মারছে। দৌড়ের মধ্যে ভাই বলতেছিলেন, ‘তোরা করলিডা কি আমারে?’। এই কথা বলতে বলতে একটু সামনে মোড়ে মুদি দোকানের সামনে গিয়ে পড়ে যায় ভাই।’
দৌড়ে গিয়ে মুছাব্বিরকে ধরেন মন্টু। তিনি তাকে বলেন, ‘আমাকে তোরা মেডিকেলে নে।’
এর পরে আর কথা বলেননি মুছাব্বির।
পাশের দোকান থেকে পানি নিয়ে মোছাব্বিরের মাথায় পানি দেন মন্টু। কিছুটা পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। তবে পানি পান করতে পারছিলেন না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি, ফার্মগেটে গ্যারেজ দখল ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে সামনে রেখে এই হত্যা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্নকে সামনে রেখেই চলছে তদন্ত।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূলত দুটি মোটিভ কাজ করেছে–স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারওয়ান বাজারের দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিলিং মিশনে মোট পাঁচজন অংশ নেয়। গলির ভেতরে অস্ত্রধারী তিনজন সরাসরি গুলি চালায় এবং স্টার হোটেলের সামনে মূল সড়কে আরও দুজন মোছাব্বিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। এরা পেশাদার ভাড়াটে শুটার এবং কেউই স্থানীয় নন বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
ঘটনার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আব্দুল মজিদ মিলন ও যুবদলের সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিলনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ফারুককে এখনো আটক রাখা হয়েছে। অন্যদিকে র্যাব রনি ও মন্টু নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং তেজগাঁও থানা পুলিশও জিজ্ঞাসাবদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া তেজগাঁও থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব আবদুর রহমানকেও এ ঘটনায় খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই আবদুর রহমান ও তার অনুসারীরা পলাতক বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ট্রেন চলন্ত অবস্থায় দেশে চোরাগোপ্তা হামলা, গুলি, হত্যা, বিস্ফোরণ, মব সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই গুলি করে অন্তত চারটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে জনসংযোগে হামলা, গুলি হয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল পথে এগুচ্ছে।
এদিকে, ঢাকার অপরাধ জগতের বড় সন্ত্রাসী বা তাদের সহযোগীদের কাছ থেকে তেমন কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আবার যারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অস্ত্র ভাড়া দেয়, তাদের থেকেও উদ্ধারের ঘটনা খুব বেশি নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৩টি এখনো উদ্ধার হয়নি। অবৈধ অস্ত্রও নির্বাচনে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আবার সরাসরি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা হামলা না হলেও মব সন্ত্রাসের ঘটনা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধের অভাব তৈরি করেছে। যেমন গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে মোটরসাইকেলের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ‘মব’ তৈরি করে আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিন শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সবশেষ রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকার অদূরে তেজতুরী বাজারে বুধবার রাতে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরে এনসিপির এক কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি করে তার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি ঘরে বিস্ফোরণে দুই যুবক নিহত হন। পুলিশ বলছে, ককটেল তৈরির সময় এই বিস্ফোরণ হয়। এসব ককটেল নির্বাচনী প্রচারে হামলা বা নাশকতার জন্য তৈরি হচ্ছিল কি না, সে সন্দেহও রয়েছে।
এর আগে ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
১৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে লক্ষ্মীপুরে দরজায় তালা লাগিয়ে ও পেট্রল ঢেলে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে আগুনে পুড়ে ওই নেতার সাত বছর বয়সি এক মেয়ের মৃত্যু হয়। দগ্ধ হন বিএনপি নেতাসহ তার আরও দুই মেয়ে।
গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামের রাউজানে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একইদিন সন্ধ্যায় যশোরের মনিরামপুরে এক বরফ কল ব্যবসায়ীকে গুলি করে এবং রাত ৯টায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় আরেক ব্যবসায়ীকে বাড়ির ফটকে গুলি হত্যা করা হয়েছে।
এসব ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এসব ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারাটা ভোটের আগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘিরে। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করা হয়। এ ঘটনার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে হত্যার অন্তত আটটি ঘটনা ঘটেছে।
ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু হয়। ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে ১৫ হাজার ৯৩৬ জন গ্রেপ্তার হন। তবে এই অভিযানেও চিহ্নিত, পেশাদার ও বড় সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের সংখ্যা খুবই কম। তা ছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। এই সময়ে মোট অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ২৩৬টি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র বলছে, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার মধ্যেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই ১৩ ডিসেম্বর সারা দেশে ইসির মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশনা দেয় ইসি। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন, চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে ইসি।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ দুভাবে কাজ করছে। নির্বাচনের আগে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সে জন্য পেশাদার অপরাধী গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার এবং নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নিয়ে ভোটের দিনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্কাউট অ্যান্ড গাইড ফেলোশীপের উদ্যোগে নীলফামারীতে ৩ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতায় সদরের পলাশবাড়ী ডিগ্রি কলেজ মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ স্কাউট অ্যান্ড গাইড ফেলোশিপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্রি. জে. সামছুল আলম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শীতে সবচেয়ে কষ্টে থাকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, স্কাউট অ্যান্ড গাইড ফেলোশিপ সমাজসেবার কাজে সবসময় যুক্ত থাকে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এসময় শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম কমিটির আহবায়ক রাসেল রহমান শিমুল, নির্বাহী সদস্য মোস্তফা কামাল অপু, প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, সাদেক হোসেন সনি, আশিকুর রহমান, শহীদ জাহান, পলাশবাড়ী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মো. আব্দুর রহিম, সহকারী অধ্যাপক হ্রষিকেশ রায় সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় দোয়া পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ইউট্যাব-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মাতা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কেননা তিনি এমন একজন নেত্রী, যিনি এই দেশের জন্য তার সব কিছু হারিয়েছেন। তিনি হারিয়েছেন তার স্বামী, সন্তান ও বাড়ি। তিনি জেলের খাটে শুয়েছেন। সে সময় তিনি চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন যে তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসা না করালে, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এরপরও তিনি বাংলাদেশের বাইরে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বাইরে আমার এক ইঞ্চি জমি নাই, এক ইঞ্চি মাটি নাই। এই দেশের মাটিই আমার জায়গা, এই দেশের মানুষই আমার সন্তান।
ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই রকম একজন দেশপ্রেমিক নেত্রীর আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের লড়াইয়ের জন্য, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। আপসহীন নেত্রী হিসেবে তিনি আখ্যায়িত হয়েছেন।
আজ তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসা দেখে যেতে পারলেন না। এটা আমাদের কষ্ট।
ইউট্যাব-এর প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা আশা করি, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন। আমরা প্রার্থনা করি ও আশা করি তার স্বপ্ন বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের ডেমোক্রেসি ফিরে আসবে এবং আগামী দিনে বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে না।
এ সময় ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মা নিজ হাতে সিগনেচার করে ২০১২ সালে ইউট্যাব অনুমোদন দিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু।
তিনি তখন বুঝতে পেরেছিলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী একটি শিক্ষক সংগঠন হওয়া উচিত। কারণ আমাদের দলে নানা মতের লোক ছিলেন, কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। তিনি সেটি অনুমোদন করেছিলেন ২০১২ সালে, এরপর ইউট্যাবের যাত্রা শুরু হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঘোড়াশাল কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের টিএন্ডটি বাজার এলাকায় টঙ্গী পূর্ব থানার সর্বস্থরের জনগনের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান দিপু, টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামের আমির নজরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ৪৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আবু ইউসুফ, ৪৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহ সেক্রেটারি ইমরান হোসেন, এনসিপি নেতা তুষার, আশিক, আরিফ হাওলাদারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।
এসময় বক্তারা বলেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের ব্যর্থতা। অবিলম্বে হাদীর হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে জাতি এই সরকারকে কখনোই ক্ষমা করবে না।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন তিনি একটি আদর্শের প্রতিক। হাদির আত্মত্যাগ বীর বাঙ্গালি কখনো মুছে যেতে দেবে না।
ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংগঠনগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক—ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)। সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ক্ষুদ্রঋণবান্ধব নয় কিংবা এটি মুনাফাভিত্তিক উদ্যোগ—এ ধরনের আশঙ্কার সঙ্গে অধ্যাদেশের মূল দর্শনের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বরং এই আইন পাস হলে ক্ষুদ্রঋণ খাতের কাঠামো আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।
সিডিএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে-ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।
সিডিএফের মতে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে—এ বিষয়টি অধ্যাদেশের খসড়াতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। খসড়ার ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংকটি সামাজিক ব্যবসার নীতিতে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের অতিরিক্ত কোনো লভ্যাংশ নিতে পারবেন না। ফলে এটিকে মুনাফাভিত্তিক বা ব্যক্তিমালিকানার উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো—ব্যাংক হলে ক্ষুদ্রঋণের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে কি না। এ বিষয়ে সিডিএফ বলছে, প্রস্তাবিত ব্যাংকের লক্ষ্য মুনাফা নয়; বরং দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। ব্যাংকটির কার্যক্রম হবে বহুমাত্রিক—এর আওতায় ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স সেবা, রেমিট্যান্স, দেশি-বিদেশি অনুদান ও ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি কৃষি খাতেও ঋণের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।
আরেকটি বড় বিতর্কের জায়গা হলো—এনজিও ও ব্যাংকের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ। এ প্রসঙ্গে সিডিএফের বক্তব্য, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক আইন কার্যকর হলেও কোনো এনজিওকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে রূপান্তর করা হবে না। কোনো সংস্থা চাইলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের কার্যক্রম ব্যাংকের আওতায় আনতে পারবে। তবে যে অংশ ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, তা সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে এবং তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। অন্যদিকে এনজিও অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অধীনে। ফলে একই কাঠামোয় দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই ওঠে না।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রেলওয়ে সড়ক এলাকার একটি গোডাউনে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ভেজাল খাদ্যসামগ্রী জব্দ করেছে ২০ বিজিবির জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। শুক্রবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) একটি বিশেষ টহলদল পাঁচবিবি সদর উপজেলার জামে মসজিদ সংলগ্ন রেলওয়ে সড়ক মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি গোডাউন তল্লাশি করে সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এসবের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৫ টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানে জেনসি, টাচ, জেট টেন, রেইনবো, একে এল ওয়ান, হিট ফ্রুট, এইচ গ্রেফ, আর আগুন, সিকরসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েক হাজার বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন ললিপপ, জেল জুস, স্যালাইন, কৃত্রিম ফ্লেভার, ড্রিংকস, জেলো জুস ও বিভিন্ন প্রকার চিপস উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে গোডাউন স্বত্বাধিকারী নাজমুল হোসেন সরকার বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জয়পুরহাট (২০ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী জানান, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র ও গ্রেপ্তারদের নিয়ে খালিয়ারচর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তথ্য জানান ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের।
এর আগে, ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর, মধ্যারচর ও কদমিরচরসহ একাধিক এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বাড়িতে তল্লাশি চালান।
অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে— পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি শটগানের কার্তুজ, আটটি ককটেল, ৩৮৮টি রামদা, সাতটি চাপাতি, একটি বড় ছোরা, ছয়টি ছোট ছোরা, ১৩টি দা, দুটি কুড়াল, ছয়টি হকিস্টিক, টেটা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বড় টর্চলাইট, একটি ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র এবং নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন হলেন— মোহাম্মদ স্বপন, পারভেজ, মতিন, জাকির ও রিংকু মিয়া।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র ও গ্রেপ্তারদের নিয়ে খালিয়ারচর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের বলেন,
“সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আস্তানার নিয়ন্ত্রণ নিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযানে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্য এবং স্থানীয় থানা পুলিশের ১০ জন সদস্য অংশ নেন। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটে ১০ জন ওঠায় লিফট বিকল হয়ে নিচে নেমে যায়। এতে বরসহ ১০ জন বরযাত্রী লিফটের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ভবনের দেয়াল ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকার খান টাওয়ারে অবস্থিত হোটেল শেরাটনে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে হোটেলটির চারতলা থেকে দোতলায় নামতে ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটে বরসহ ১০ জন ওঠেন।
অতিরিক্ত ওজনের কারণে লিফটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে যায় এবং প্রান্তসীমায় গিয়ে থেমে পড়ে। এতে লিফটের ভেতরে থাকা সবাই আটকা পড়েন। এ সময় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
লিফটটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় সেটি ছিঁড়ে পড়েনি। লিফটের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ইন্টারকমের মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রথমে লিফটটি ওপরে তোলার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হলে নিচতলার লিফটসংলগ্ন দেয়াল ভেঙে একে একে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উদ্ধারকাজ শেষ হয়। এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আতিকুর রহমান (৪০), মিনহাজ ইবনে ফারুক (৩০), জোনায়েদ তারেক (৩৫), মোনতাছির (২৫), ইয়াহিয়া তানভীর (২০), এমদাদ (৪০), হুমায়ুন কবির (৩০), রাইছুস সালেহীন (৩৫), রেজওয়ানুল হক (৩৯) ও জারিফ (৩২)।
তাঁদের মধ্যে বর হলেন জোনায়েদ তারেক। তাঁরা সবাই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তেকোটা গ্রামের বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরপক্ষের লোকজন দূরের হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে তাঁরা কিশোরগঞ্জ শহরের হোটেল শেরাটনে অবস্থান নেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের পুরানথানায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
পরে মধ্যাহ্নভোজের জন্য হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আমিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। লিফটে আটকে পড়া ১০ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
হোটেল শেরাটনের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন খান বলেন, লিফটে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ মানুষ ওঠায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। লিফটটি আধুনিক হওয়ায় ধীরে নিচে নেমে গিয়ে থেমে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবাহী একটি বাস অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে উল্টে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী লেনে সিডিএম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এ দুর্ঘটনায় পড়ে। ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কে উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে দুইজন শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—
শিশু হোসাইন (১৬ মাস), নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাসের যাত্রী ছিলেন।
মোটরসাইকেল আরোহী মো. শামীম হোসেন (৩৮) ও তার ছেলে নাদিফ হোসেন (৭)। তারা দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নই গ্রামের বাসিন্দা এবং জুমার নামাজ আদায়ের জন্য পাশের বানিয়াপাড়া দরবার শরীফের মসজিদে যাচ্ছিলেন।
বাসে নিহত নারী যাত্রীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
নিহত শিশুর মা শাপলা বেগম জানান, দুর্ঘটনার সময় হোসাইন তার কোলে ছিল। বাসটি উল্টে গেলে শিশুটি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। পরে বাসে আগুন ধরে গেলে চোখের সামনেই সন্তানকে পুড়ে মারা যেতে দেখেন তিনি। এ ঘটনার পর জ্ঞান হারান শাপলা বেগম। জ্ঞান ফেরার পর বারবার সন্তানের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকেন।
এদিকে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শামীম হোসেন ও তার ছেলে নাদিফ। তাদের মৃত্যুসংবাদ শুনে থানায় এসে শামীমের ভাই রিয়াজ উদ্দিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বাসটি বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছিল। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে চালককে না দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। এরপর অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে বাসটি উল্টে যায় এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের পর বাসের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার এসআই সন্দ্বীপ সাহা জানান, অতিরিক্ত গতি ও হার্ড ব্রেকের কারণে বাসটি উল্টে সড়কের সঙ্গে ঘর্ষণে আগুন লাগতে পারে।
ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘাতক বাসচালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
দুর্ঘটনার পর বানিয়াপাড়া থেকে গৌরিপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।