শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

হলফনামায় সম্পদের যে তথ্য দিলেন চট্টগ্রামের ৯ প্রার্থী

১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০২

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯ জন প্রার্থীর হলফনামায় দেখা গেছে, কারও কারও সম্পদ বেড়েছে, আয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। কারও স্ত্রী বিপুল সম্পদের মালিক। কারও কৃষিতে আয় বেড়েছে। কারও নগদ বেশি, কারও আছে ঋণ।

মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী।

তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, কৃষি খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া পান বছরে ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নগদ আছে নিজ নামে ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একটি নোহা গাড়ি আছে ১৪ লাখ টাকার, স্বর্ণ নিজের নামে ১০ হাজার টাকার ও স্ত্রীর নামে ১৫ হাজার টাকার। এ ছাড়া তার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আছে ১ লাখ টাকার। আসবাবপত্র আছে নিজের নামে ১ লাখ টাকার ও স্ত্রীর নামে ১০ হাজার টাকার।

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি এমএ পাসসহ পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তার হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তার হলফনামায় তিনি এ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৪২ টাকা, জাতীয় সংসদ থেকে প্রাপ্ত ভাতা দেখিয়েছেন ২৩ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ টাকা। এ ছাড়া গতবার আল্লামা ফজলুল হক ফাউন্ডেশন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৯ লাখ টাকার সম্মানী ভাতা দেখালেও এবার সে তথ্য নেই তার হলফনামায়। পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নিজের নগদ অর্থ না থাকলেও এবার দেখিয়েছেন নিজের নামে নগদ সঞ্চয় আছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪১ টাকা, স্ত্রীর নামে গত নির্বাচনে ৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ ছিল, এবার দেখিয়েছেন ২০ লাখ ২১ হাজার ২৪৬ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা গত নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে ১ কোটি টাকার বেশি। গত হলফনামায় তা ছিল ৬৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা, এবার রয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৪ টাকা, স্ত্রীর নামেও বেড়েছে ব্যাংকে জমা অর্থ। ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার অর্থ ছিল একাদশ সংসদের হলফনামায়, এবার তা ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৫ টাকা। আয় বেড়েছে অন্য খাতগুলোতেও। এবার তার নিজের নামে ব্যাংক ডিপিএস ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৪ টাকা, এফডিআর ২ কোটি ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ২২০ টাকা, স্ত্রীর নামে ডিপিএস ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮ টাকা, এফডিআর ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৬ টাকা। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া খাতে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬২ টাকা আয় দেখালেও এবারে এ খাতে আয় দেখাননি তিনি।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৭ টাকা। তিনি ও তার স্ত্রীর কাছে নগদ আছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। বাড়ি-দোকান ভাড়া বাবদ বছরে আয় করেন ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩২ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৯২ টাকা ও স্ত্রীর নামে নগদ টাকা রয়েছে ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩২ টাকা। তার নামে ব্যাংকে জমা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৪ টাকা। কোম্পানিতে শেয়ার রয়েছে নিজ নামে ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬০ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭৫ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৫ টাকা।

মাহফুজুর রহমান মিতা

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা। তার দেয়া হলফনামায় দেখা যায়, নিজের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আছে গাড়ি-বাড়ি। ঢাকার পূর্বাচলে তার নামে ২৩ লাখ টাকা দামের একটি ছয় কাটার ও একটি তিন কাঠার মোট দুটি প্লট রয়েছে। সব মিলিয়ে নিজ নামে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তবে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি। স্ত্রীর রয়েছে ৮৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ খাতে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ খাতে তার স্ত্রীরও রয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ২১ হাজার টাকা।

নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর বাৎসরিক আয় ৫০ লাখ টাকা। নিজেরসহ স্ত্রী ও দুই সন্তানের নামে আছে ছয়টি গাড়ি। হলফনামায় বলা হয়েছে, ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় হয় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে আয় আসে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে সম্মানী পেয়েছেন বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। নিজের নামে ব্যাংকে জমা ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৮৭৫ টাকা ও দুই ছেলের নামে রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৯০১ টাকা। নিজের নামে এফডিআর রয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ও ছোট ছেলের নামে ৫৮ লাখ ৬১৩ টাকার এফডিআর।

আব্দুল মোতালেব

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মোতালেব। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নির্বাচনে এসেছেন তিনি। তার দেয়া হলফনামায় ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ টাকা, বাড়ি-দোকান ও অন্যান্য বাবদ আয় ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ২০ হাজার ৬২৬ টাকা, পেশা থেকে (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন পরামর্শক ইত্যাদি) আয় ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে পান (পরিচালক ভাতা) বছরে ১৮ লাখ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্মানী পেয়েছেন ৭ লাখ ৭ হাজার ৫৮৭ টাকা। তার নিজের নামে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৪ হাজার ২০৭ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৯ টাকা।

খাদিজাতুল আনোয়ার সনি

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এ সদস্য এবার মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, তার বসবাসকারী বাড়ির মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। তার বাৎসরিক আয় হিসেবে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্রে বছরে আয় হয় এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা ও অন্যান্য খাতে তার আয় ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১১৫ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজ নামে পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত চার একর জমি আছে যার মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আছে অকৃষি জমি যার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পাঁচলাইশে আছে তার আরেকটি ভবন, সেটিরও মূল্য চার কোটি টাকা।

আবু তৈয়ব

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব। জমা দেয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার পেশা ব্যবসা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে আছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩১০ টাকার সম্পদ। ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো খাতে আয় নেই। ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৭২৮ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা আছে ৮৫ হাজার ৩১০ টাকা।

সোলায়মান আলম শেঠ

চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়ামান আলম শেঠ। পেশায় ব্যবসায়ী এ নেতার হলফনামা অনুযায়ী বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৬২ হাজার ২২৪ টাকা। এ ছাড়া চাকরি থেকে আয় করেন ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ সঞ্চয় আছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে অকৃষি জমি পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত জমির মূল্য ১৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৭৯৮ টাকা, খাগড়াছড়িতে থাকা তার জমির মূল্য ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। তবে দুটি ব্যাংকে দায়দেনা আছে তার। সেই দায়-দেনার পরিমাণ ১০২ কোটি ৮৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬২ টাকা।


নির্বাচিত

গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা।ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে পুলিশের হামলার অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এর আগে, প্রতিষ্ঠানটির সামনের সড়কের দু’পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-

১. মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

২. কলেজের সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্মেলনে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দাবি পূরণে প্রশাসন থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশি অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটার অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি, মধ্যরাতে পুলিশি হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে হাতুড়িপেটা ও এক নারী শিক্ষার্থীর চুল এবং হিজাব ধরে টানাটানিরও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।


নির্বাচিত

সেন্টমার্টিন রুটে যুক্ত হলো আরও দুই জাহাজ, যাচ্ছেন দেড় হাজার পর্যটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রশাসনিক ও পরিবেশগত অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে আরও দুটি নৌযান যুক্ত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে চলতি মৌসুমের প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে ‘এমভি কর্ণফুলী’ ও ‘এমভি টেকনাফ’। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উদ্বোধনী দিনে ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা ‘এমভি বারো আউলিয়া’ রাতেই ফিরে আসে। দ্বিতীয় দিনে এই তিনটি জাহাজে করে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হন; যার মধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন যাত্রী ছিলেন।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, অনুমোদিত এই তিনটি জাহাজ আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে পর্যটক পরিবহন করবে। জাহাজ তিনটির সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপে দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক গমনের অনুমতি থাকায় যাত্রীচাপ বিবেচনায় ভবিষ্যতে জাহাজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও প্রশাসনিক ছাড়পত্র ও পরিবেশগত শর্ত পূরণের প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর এই জাহাজ চলাচল শুরু হয়।

এদিকে ঘাটে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সমুদ্রযাত্রার সুযোগ পেয়ে ভ্রমণপিপাসুরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারি নিয়ম মেনে চলার অঙ্গীকার করেন। তবে টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে অনেক পর্যটক ক্ষোভ ও হতাশা জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সাধ্যের কথা চিন্তা করে নৌভাড়া পুনরায় পর্যালোচনা করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণকারীরা।

সেন্টমার্টিনের ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থান ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার একগুচ্ছ কঠোর শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হচ্ছে এবং পরিচয় নিশ্চিতের জন্য কিউআর কোডযুক্ত টিকিট ও ট্রাভেল পাস নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া রাতে সৈকত এলাকায় যেকোনো ধরনের আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা ও বারবিকিউ পার্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, সৈকতে মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চালানো এবং প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, সামুদ্রিক কাছিম কিংবা ঘাস-শৈবালের ক্ষতি করার ওপর জারি রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নিয়ম জারি করলেই হবে না, বরং দ্বীপের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব বিধিমালার নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।


নির্বাচিত

টেকনাফে ‘মানবপাচারকারীদের’ সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, আহত সেনা সদস্যের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ‘সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের’ সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির সময় এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এক বার্তায় বলেছে, উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে এ ঘটে।

নিহত মো. তিতাস শেখ (২৭) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন।

ঘটনার বর্ণনায় আইএসপিআর বলেছে, গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।

এ তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল আনুমানিক বিকাল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

এ সময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে- গোলাগুলির একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আইএসপিআর জানায়, অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চারটি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া, মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়।

আইএসপিআর জানায়, তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

এ ঘটনার বিষয়ে ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পাহাড়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানো হয়।

“এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।”


নির্বাচিত

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা

* স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল
কেশবপুরে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর)প্রতিনিধি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অবহেলিত জনপদের অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাঁকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাহসী নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

প্রয়াত এই জননেতার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) কেশবপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাবু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কুতুবউদ্দিন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবীর বিশ্বাস ও হুমায়ূন কবির সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মকবুল হোসেন মুকুল ও আলমগীর হোসেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক আবু নাঈম, যশোর জেলা মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নূর নাহার নুরী, ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম হোসেন, হাসানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উবাইদুল হক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান আনিছ, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবুল রানা বাবু, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী বিশ্বাস, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজ ও পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম। স্মরণসভা শেষে প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

মাঠ পুনরুদ্ধারের অষ্টম দিনেও উত্তাল শেকৃবি, দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাঠ ফিরে পেতে মামলা করার অগ্রগতি জানতে চান তারা। পাশাপাশি দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বানের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে অষ্টম দিনের মতো জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ, উপউপাচার্য প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর আবুল বাশার, প্রক্টর প্রফেসর ড. আরফান আলী ও মাঠ সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিন অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত হন।

শিক্ষার্থীরা মামলা করার অগ্রগতি জানতে চাইলে অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘কাজ তো চলমান। আমরা ফার্মগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। জমিটি দ্য বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউটের ছিল। আমাদের কনসার্ন ছাড়াই এটি গণপূর্তের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই আগে মিস কেস করে রিট করতে হবে।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে মাঠ পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।


নির্বাচিত

সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

বাগেরহাটে এক পথসভায় কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন কোনও শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনও নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। অথচ একটি মহল বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে দেশে যে শিল্পকারখানাগুলো গড়ে উঠেছে, সেগুলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মা-বোন ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ করেন। এই শিল্পকারখানাগুলো দেশের সম্পদ, মানুষের সম্পদ।’

‘বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখেছি, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, কোনও শ্রমজীবী ভাই-বোন কিংবা শ্রমিক কখনও শিল্পের ক্ষতি করতে পারেন না’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারাই এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে, সরকার সে বিষয়ে অবগত। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন।’

বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।


নির্বাচিত

খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রী গ্যালারির চারদিকে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে ছুটে যান।

এ সময় তাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদরা। তারা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের এই প্রাণবন্ত মুহূর্তে স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


নির্বাচিত

বরেন্দ্রে সেচ সম্প্রসারণে পদ্মার পানি ব্যবহারে নতুন উদ্যোগ

* ১৭ হাজার গভীর নলকূপ সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * সেচের উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে: মন্ত্রী আমিন উর রশিদ
রাজশাহীতে বিএমডিএ এর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সানোয়ার আরিফ, রাজশাহী ব্যুরো

বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মা নদীর পানি ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। প্রকল্পটির প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী গোদাগাড়ীর হাটপাড়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে পল্টুনের মাধ্যমে পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে সরমংলা খাল পরিদর্শন করে কৃষক ও বিএমডিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।

এরপর কলিপুর-৩ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী। সেখানে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে সেচের কাজে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।

পদ্মা নদীর পানি কৃষিকাজে ব্যবহারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সরকার একটি বড় প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রকল্পটির প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি অনুমোদন পাবে। বাস্তবায়িত হলে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়বে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি নদীর পানিতে থাকা পলি কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় প্রায় ১৭ হাজার গভীর নলকূপকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। সেচের কাজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হলে বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।

এর আগে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান সংস্থার চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ী উপজেলায় বিএমডিএর ৭১৬টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এ ছাড়া ১১৮ কিলোমিটার খাল ও খাড়ি পুনঃখনন, ৪৬২টি পুকুর পুনঃখনন এবং ৪১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষক প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সেচ কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন ৭৬ হাজার ৩৪৫ জন কৃষক।

সরমংলা খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯ কিলোমিটার। খালটির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা নদী থেকে পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে দুটি পাম্প।

অন্যদিকে, গোদাগাড়ীর কলিপুর-৩ সৌর সেচ প্রকল্পে স্থাপন করা হয়েছে ৪৫টি সৌর প্যানেল। ১৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর পাম্পের মাধ্যমে ২৬৪ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এতে উপকৃত হচ্ছেন ৭৪ জন কৃষক। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সেচের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

এ সময় বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজিরুল ইসলাম, মো. আব্দুল লতিফ, মো. শিবির আহমেদ, মো. তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি ও বিএমডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ময়মনসিংহে বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন

* সড়ক ঘেঁষে ও সরকারি জায়গা দখল
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

দিন দিন বড় হচ্ছে ময়মনসিংহ নগরী। বাড়ছে জনসংখ্যা, গড়ে উঠছে নতুন নতুন বহুতল ভবন, আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। কিন্তু নগরীতে ভবনের সংখ্যা ও উচ্চতা বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা। ফলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সংকীর্ণ সড়ক, যানজট এবং নাগরিক দুর্ভোগ দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জায়গায় সরু রাস্তার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। কোথাও কোথাও ভবন নির্মাণের সময় চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। আবার কিছু ভবন সড়কের একেবারে ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারি রাস্তা ও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে আগে থেকেই সংকীর্ণ সড়কগুলো আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ নগরীতে এক থেকে ছয় তলা পর্যন্ত ভবনের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৫৭১টি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ২২৮টিতে। একই সময়ে সাততলার বেশি উচ্চতার ভবনের সংখ্যা ২৭০টি থেকে বেড়ে ৫৪১টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে নগরীতে ভবন নির্মাণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটছে। কেউ কেউ অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে ভবনের আয়তন বাড়াচ্ছেন। আবার পাশাপাশি ভবন নির্মাণের সময় নির্ধারিত দূরত্ব না রাখায় এক ভবনের সঙ্গে অন্য ভবন প্রায় মিশে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরু রাস্তার পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও ভবনের নির্মাণসামগ্রী সড়কে রাখায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ভবনের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্যও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ শুধু নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে না, বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলাকেও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সংকীর্ণ রাস্তা ও ভবনের মধ্যবর্তী পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভবন নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা রাখা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগর পরিকল্পনা বিভাগও নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজের বিষয়ে নজরদারির কথা জানিয়েছে।


নির্বাচিত

সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু, প্রথম দিন গেল ৮৩৭ পর্যটক

অপেক্ষার অবসান, সেন্টমার্টিনের পথে ৮৩৬ পর্যটক
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে প্রবাল দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয় প্রথম জাহাজ ‘এমভি বার আউলিয়া’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সমুদ্রযাত্রার সুযোগ তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের পাশাপাশি স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝেও।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে সাতটার দিকে জাহাজটি উপকূল ছাড়লেও ভোর ৬টা থেকেই নুনিয়ারছড়া ঘাটে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় জমতে থাকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাহাজের সাইরেন বাজতেই ঘাট এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে যাত্রার প্রথম দিনেই টিকিটের অতিরিক্ত দাম ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী।

এদিকে জাহাজ চলাচলের প্রথম দিন থেকেই দ্বীপের সার্বিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। নুনিয়ারছড়া ঘাটে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ এবং কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা সমন্বিত দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যটকদের সাথে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে বহনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং এগুলো নির্ধারিত স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পর্যটকদের সচেতন করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা দ্বীপের পরিবেশবান্ধব নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জানান, কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে গমন, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি কিংবা রাতে সৈকতে পার্টি আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, ‘পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটে নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ডবক্সও পর্যটকদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে জাহাজ মালিকদের কাছে রাখা হয়েছে।’ পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, প্রথম দিনে মোট ৮৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং সরকারের পরিবেশবিষয়ক সকল নির্দেশনা পর্যটকদের যথাযথভাবে অবগত করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আজ ৮৩৭ যাত্রী নিয়ে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান হতে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তিনটি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম দিন শুধু এমভি বার আউলিয়া যাত্রা করেছে এবং শুক্রবার থেকে বাকি দুটি জাহাজ এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। অনুমোদিত এই তিন জাহাজের মোট ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন; যার মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার আসন ৮৫০টি, কর্ণফুলির ৭৩২টি এবং টেকনাফের ৭১৬টি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকালে জাহাজগুলো কক্সবাজার ছাড়বে এবং দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক পরিবহনের কথা থাকলেও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিলম্বের কারণে তা পিছিয়ে ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হলো। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, পর্যটকদের পূর্বনির্ধারিত টিকিটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজকে চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি নিয়মানুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন ভ্রমণ উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক যাতায়াত ও রাতযাপন করতে পারবেন। দ্বীপে প্রবেশের জন্য ১০০ টাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফি প্রদানসহ ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসংবলিত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সাথে প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, শামুক ও শৈবালসহ যেকোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্টকারী কার্যকলাপের ওপর জারি রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।

বিষয়:

নির্বাচিত

কটিয়াদীতে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত

ছবি: শাহরিয়ার জামান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামানকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত শাহরিয়ার জামানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

এদিন রাত পৌনে ১০টার দিকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তিনি জানান, বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গচিহাটা বাজারে গিয়েছিলেন শাহরিয়ার জামান। এ সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান তিনি।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ছয়টি শৈত্যপ্রবাহের আভাস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শরৎকাল এলেও এখনো গরম কমেনি। মূলত, এই সময় কিছুটা শীতের আমেজ থাকে। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশের মানুষ শৈত্যপ্রবাহ দেখতে পারে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দেশের ওপর দিয়ে ছয়টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।


নির্বাচিত

দৌলতপুর খাদ্যগুদামে দুদকের অভিযান, মৃত চেয়ারম্যানের নামে চাল গ্রহণের অভিযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল চুরি ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খাদ্যগুদামের নথিতে প্রায় দেড় বছর আগে মারা যাওয়া ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মৃত নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে ১০৭ বস্তা, ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের সময় এ অসংগতি ধরা পড়ে। মৃত ব্যক্তির নামে সরকারি চাল গ্রহণের তথ্য সামনে আসায় খাদ্যগুদামের চাল বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির খাদ্য বিতরণের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিতে অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক কর্ম কর্তা।

দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ বলেন, বুধবার দুপুরে আমরা দৌলতপুর খাদ্যগুদামে অভিযান চালাই। অভিযানকালে খাদ্যগুদামের নানা বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিপত্রে অসংগতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপনগর ইউনিয়নের দুস্থ মহিলাদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণসংক্রান্ত নথি যাচাই করতে গিয়ে মৃত চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে চাল গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। নথিতে ১০৭ বস্তা বা ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল গত ১৩ অক্টোবর গ্রহণের উল্লেখ রয়েছে। অথচ তিনি প্রায় দেড় বছরের অধিক সময় আগে মারা গেছেন। ফলে তাঁর নামে কীভাবে চাল গ্রহণ দেখানো হয়েছে, কারা ওই চাল গ্রহণ করেছেন এবং চালের প্রকৃত গন্তব্য কোথায়—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসছে।

এর আগে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল বিতরণ ও সংরক্ষণে অনিয়ম এবং চাল চুরির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে খাদ্যগুদামের চাল বিতরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।

সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে মঙ্গলবার সকালে এক আদেশে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৃত ব্যক্তির নামে সরকারি চাল গ্রহণের তথ্য, খাদ্যগুদামের নথিপত্রে একাধিক অসংগতি এবং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের ঘটনায় দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামের সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুদকের তদন্তে এসব অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

banner close