রোববার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
২২ চৈত্র ১৪৩২

হলফনামায় সম্পদের যে তথ্য দিলেন চট্টগ্রামের ৯ প্রার্থী

১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০২

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯ জন প্রার্থীর হলফনামায় দেখা গেছে, কারও কারও সম্পদ বেড়েছে, আয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। কারও স্ত্রী বিপুল সম্পদের মালিক। কারও কৃষিতে আয় বেড়েছে। কারও নগদ বেশি, কারও আছে ঋণ।

মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী।

তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, কৃষি খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া পান বছরে ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নগদ আছে নিজ নামে ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একটি নোহা গাড়ি আছে ১৪ লাখ টাকার, স্বর্ণ নিজের নামে ১০ হাজার টাকার ও স্ত্রীর নামে ১৫ হাজার টাকার। এ ছাড়া তার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আছে ১ লাখ টাকার। আসবাবপত্র আছে নিজের নামে ১ লাখ টাকার ও স্ত্রীর নামে ১০ হাজার টাকার।

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি এমএ পাসসহ পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তার হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তার হলফনামায় তিনি এ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৪২ টাকা, জাতীয় সংসদ থেকে প্রাপ্ত ভাতা দেখিয়েছেন ২৩ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ টাকা। এ ছাড়া গতবার আল্লামা ফজলুল হক ফাউন্ডেশন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৯ লাখ টাকার সম্মানী ভাতা দেখালেও এবার সে তথ্য নেই তার হলফনামায়। পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নিজের নগদ অর্থ না থাকলেও এবার দেখিয়েছেন নিজের নামে নগদ সঞ্চয় আছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪১ টাকা, স্ত্রীর নামে গত নির্বাচনে ৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ ছিল, এবার দেখিয়েছেন ২০ লাখ ২১ হাজার ২৪৬ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা গত নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে ১ কোটি টাকার বেশি। গত হলফনামায় তা ছিল ৬৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা, এবার রয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৪ টাকা, স্ত্রীর নামেও বেড়েছে ব্যাংকে জমা অর্থ। ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার অর্থ ছিল একাদশ সংসদের হলফনামায়, এবার তা ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৫ টাকা। আয় বেড়েছে অন্য খাতগুলোতেও। এবার তার নিজের নামে ব্যাংক ডিপিএস ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৪ টাকা, এফডিআর ২ কোটি ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ২২০ টাকা, স্ত্রীর নামে ডিপিএস ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮ টাকা, এফডিআর ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৬ টাকা। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া খাতে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬২ টাকা আয় দেখালেও এবারে এ খাতে আয় দেখাননি তিনি।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৭ টাকা। তিনি ও তার স্ত্রীর কাছে নগদ আছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। বাড়ি-দোকান ভাড়া বাবদ বছরে আয় করেন ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩২ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৯২ টাকা ও স্ত্রীর নামে নগদ টাকা রয়েছে ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩২ টাকা। তার নামে ব্যাংকে জমা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৪ টাকা। কোম্পানিতে শেয়ার রয়েছে নিজ নামে ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬০ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭৫ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৫ টাকা।

মাহফুজুর রহমান মিতা

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা। তার দেয়া হলফনামায় দেখা যায়, নিজের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আছে গাড়ি-বাড়ি। ঢাকার পূর্বাচলে তার নামে ২৩ লাখ টাকা দামের একটি ছয় কাটার ও একটি তিন কাঠার মোট দুটি প্লট রয়েছে। সব মিলিয়ে নিজ নামে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তবে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি। স্ত্রীর রয়েছে ৮৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ খাতে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ খাতে তার স্ত্রীরও রয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ২১ হাজার টাকা।

নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর বাৎসরিক আয় ৫০ লাখ টাকা। নিজেরসহ স্ত্রী ও দুই সন্তানের নামে আছে ছয়টি গাড়ি। হলফনামায় বলা হয়েছে, ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় হয় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে আয় আসে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে সম্মানী পেয়েছেন বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। নিজের নামে ব্যাংকে জমা ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৮৭৫ টাকা ও দুই ছেলের নামে রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৯০১ টাকা। নিজের নামে এফডিআর রয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ও ছোট ছেলের নামে ৫৮ লাখ ৬১৩ টাকার এফডিআর।

আব্দুল মোতালেব

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মোতালেব। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নির্বাচনে এসেছেন তিনি। তার দেয়া হলফনামায় ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ টাকা, বাড়ি-দোকান ও অন্যান্য বাবদ আয় ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ২০ হাজার ৬২৬ টাকা, পেশা থেকে (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন পরামর্শক ইত্যাদি) আয় ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে পান (পরিচালক ভাতা) বছরে ১৮ লাখ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্মানী পেয়েছেন ৭ লাখ ৭ হাজার ৫৮৭ টাকা। তার নিজের নামে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৪ হাজার ২০৭ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৯ টাকা।

খাদিজাতুল আনোয়ার সনি

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এ সদস্য এবার মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, তার বসবাসকারী বাড়ির মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। তার বাৎসরিক আয় হিসেবে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্রে বছরে আয় হয় এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা ও অন্যান্য খাতে তার আয় ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১১৫ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজ নামে পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত চার একর জমি আছে যার মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আছে অকৃষি জমি যার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পাঁচলাইশে আছে তার আরেকটি ভবন, সেটিরও মূল্য চার কোটি টাকা।

আবু তৈয়ব

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব। জমা দেয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার পেশা ব্যবসা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে আছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩১০ টাকার সম্পদ। ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো খাতে আয় নেই। ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৭২৮ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা আছে ৮৫ হাজার ৩১০ টাকা।

সোলায়মান আলম শেঠ

চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়ামান আলম শেঠ। পেশায় ব্যবসায়ী এ নেতার হলফনামা অনুযায়ী বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৬২ হাজার ২২৪ টাকা। এ ছাড়া চাকরি থেকে আয় করেন ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ সঞ্চয় আছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে অকৃষি জমি পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত জমির মূল্য ১৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৭৯৮ টাকা, খাগড়াছড়িতে থাকা তার জমির মূল্য ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। তবে দুটি ব্যাংকে দায়দেনা আছে তার। সেই দায়-দেনার পরিমাণ ১০২ কোটি ৮৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬২ টাকা।


বগুড়ায় ১২ ঘন্টায় দুই নারী খুন, জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপর পুলিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

পৃথক ঘটনায় বগুড়ার শিবগঞ্জে দুইদিনে দুই নারী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র সাড়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুই হত্যার ঘটনা ঘটে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের জাবারীপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির সময় ননদের ধাক্কায় ভাবী মোমেনা বেগম (৬৮) এর মৃত্যুর হয়। নিহত মোমেনা বেগম ওই এলাকার বাবু সরকারের স্ত্রী।

জানা যায়, একই এলাকার মোমেনা বেগমের পরিবারের সঙ্গে ননদ জোলেখা ও তার স্বামী বেলাল হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন মোমেনা বেগম। প্রতিপক্ষ বেলাল হোসেন ও তার স্ত্রী জোলেখার আঘাতে মোমেনা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নে মহব্বত নন্দীপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন শাহানাজ বেগম (৭০)। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী।

নিহতের ভাতিজা সুজন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা শাহানাজ বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় তারা স্থানীয় দাড়িদহ বাজারে ছিলেন। বাড়িতে লোক ঢোকার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখেন শাহানাজ বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, দুটি হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শাহানাজ বেগম হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে জাবারীপুরে মোমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুটি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচন কমিশন অনিয়মের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু ফজল মোঃ সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যে কোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। ভোটের দিন কিংবা তার আগে বা পরে যে কোনো পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ এলে তা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো ঘটনা আমরা দেখতে চাই না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ অবহেলা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রবিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সেলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ভোট কারচুপি বা কোনো ধরনের অনিয়ম করার চিন্তাও যেন কেউ না করে। এমন কোনো চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের অসতর্কতা বা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একটি ছোট ভুল পুরো নির্বাচনকে বিতর্কে ফেলে দিতে পারে। এজন্য দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবু ফজল মোঃ সানাউল্লাহ বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শাহজাহান, নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম, আনসার বাহিনীর রাজশাহী রেঞ্জের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, ৪০ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট তানভীর আহমেদ তমাল, রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


ঝিনাইগাতীতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সাথে স্টার সানডে’র শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন মাহমুদুল হক রুবেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘স্টার সানডে’ উপলক্ষে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ধানের শীষের মনোনীত জননন্দিত নেতা মো. মাহমুদুল হক রুবেল। রোববার (৫ই এপ্রিল ) দিনভর তিনি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের গির্জা ও খ্রিষ্টান পরিবারগুলোর সাথে এই আনন্দ ভাগ করে নেন।

সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ধানের শীষের এমপি পার্থী জনাব, মাহমুদুল হক রুবেল ও তাঁর একমাত্র কন্যা রুবাইদা হক রিমঝিম মরিয়মনগর এলাকার উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর পক্ষ থেকে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা তাঁদের মাঝে প্রিয় নেতাকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে তিনি পর্যায়ক্রমে মরিয়ম নগর,বড় গজনী, ছোট গজনী, বড় গজনী (প্রাইমারি স্কুল গির্জা), ডেফলাই, গান্ধীগাঁও, নকশি, বাঁকাকুড়া ও সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের গির্জা সহ ১৯টি গির্জা পরিদর্শন করেন এবং এসব এলাকায় বসবাসরত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সাথে ‘স্টার সানডে’র কেক কাটেন এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার বিনিময় করেন। মাহমুদুল হক রুবেল "দৈনিক বাংলাকে"বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। প্রতিটি উৎসবে আমরা একে অপরের পরিপূরক। এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে আমি অতীতেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের পাহাড়ি জনপদে পাহাড়ি-বাঙালি যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে, মাহমুদুল হক রুবেলের এই ঝটিকা সফর তা আরও মজবুত করবে। দিনশেষে বিকেলে তিনি গজনী অঞ্চলের বিভিন্ন গির্জায় প্রার্থনা সভায় অংশগ্রহণকারী খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে সফর সমাপ্ত করেন। সংবাদটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।


ফুয়েল কার্ডের জন্য বিআরটিএ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাইকারদের ভীড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

ফুয়েল কার্ডের জন্য পঞ্চগড় বিআরটিএ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাইকারদের সকাল থেকে উপচে পড়া ভীড় চোখে পরার মত।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক হল রুমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বর্তমান সময় বিবেচনা করে তেল সংকট নিরসন করতে যাদের গাড়ির বৈধ্যরেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও টেক্স টোকেন রয়েছে তাদের মাঝে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে ৫টি উপজেলায়।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন স্যারের নির্দেশনায় ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বাইকারদের মধ্যে, যাদের গাড়ির বৈধ্য রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন রয়েছে যাচাই করে তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে, তিনি আরও জানান ক্রাইসিস বৈশ্বিক এবং পাবলিক আতংকিত হয়ে ক্রাইসিস তৈরি করছে।

সহকারী পরিচালক বিআরটিএ, পঞ্চগড় সার্কেল, পঞ্চগড় তন্ময় কুমার ধর এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টার করার পরও উনাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

নবিজতুল্লাহ নবিজ বাইকার তিনি জানান যে, বিআরটিএ তে ফুয়েল কার্ডের জন্য গত ২ এপ্রিল সকালে এসে ফাইল জমা দেই কিন্তু উপচে পড়া ভীড়ের জন্য বিকালে এসে ফুয়েল কার্ড নিতে হয়।

পঞ্চগড় ফিলিং স্টেশন ও করতোয়া ফিলিং স্টেশন এর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে উনারা জানান যে, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না।


কুমিল্লায় তিন বাসে আগুন

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৫৫
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত তিন বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাস তিনটি পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডে ‘রয়েল কোচ’ নামের তিনটি এসি বাস বিকল হয়ে পড়ায় বাসস্ট্যান্ডে এনে রাখা হয়। রোববার দুপুরে হঠাৎ বাস তিনটিতে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণের আগেই বাস তিনটির সিটসহ লোহার অবকাঠামো ছাড়া সব কিছু পুড়ে যায়।

জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকল বাস তিনটিতে নিয়মিত মাদকের আসর বসানো হয়। বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের চালক এবং হেলপাররা এ মাদকের আসরে জড়িত। রোববার দুপুরে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে একটি বাস থেকে ৫ জন মাদক সেবন করে বের হয়ে আসেন। তারা বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লাইটার বিস্ফোরণ ঘটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ অনুসন্ধান চলছে। মাদকসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।


তেল পেতে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা, রমনা পাম্পে গাড়ির এক কিলোমিটার সারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেল নিতে রাজধানীর মৎস্যভবন এলাকায় অবস্থিত রমনা পেট্রোল পাম্পের চারপাশে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে সড়কে লম্বা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। লাইনের শেষ প্রান্তটি গিয়ে পৌঁছেছে পাম্পের অদূরে গণপূর্ত ভবনের গেটের সামনে। এই দীর্ঘ সারি ঘুরে পাম্পের সামনে পৌঁছাতে গাড়িচালকদের সময় লাগছে অন্তত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রমনা পেট্রোল পাম্প এলাকা ঘুরে এবং চালকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেগুনবাগিচা সড়ক হয়ে শিল্পকলার সামনে দিয়ে মৎস্যভবন হয়ে রমনা পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত মোট দূরত্ব এক কিলোমিটার।

সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত ভবনের সামনে থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাম্পে প্রবেশের জন্য আলাদাভাবে রশি দিয়ে লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি লাইনে একসঙ্গে দুটি করে মোটরসাইকেল প্রবেশ করতে পারছে। পাশাপাশি একটি করে প্রাইভেটকার ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল প্রতি ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কিছু সময় পরপরই বাইরের দিক থেকে কেউ না কেউ এসে লাইনে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে সামনে ও পেছনের অপেক্ষমাণ চালকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

পাম্পের ভেতরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শামিম হোসেন বলেন, আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে থেকে লাইন ধরেছিলাম। সেখান থেকে গলি পথ দিয়ে শিল্পকলার সামনে হয়ে এখানে আসতে আমার আড়াই ঘণ্টা লেগেছে। দিনের এতটা সময় যদি তেল নিতেই লাগে, তাহলে অন্য কাজ করব কখন? তাও আবার মাত্র ৫০০ টাকার তেল দিচ্ছে।

গণপূর্ত ভবনের গেটের সামনে লাইনের শেষ প্রান্তে থাকা নোয়া গাড়ির চালক সিহাবুর রহমান বলেন, আমি তো এখনই এসে লাইনে দাঁড়ালাম। এই এক কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে কত সময় লাগবে, তা বলতে পারছি না। তবে এখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, এটাই বড় কথা। শুধু পাম্পে পৌঁছানোর আগেই তেল শেষ না হয়ে গেলেই হয়।

এদিকে পাম্পের কর্মীরা জানান, আজ সকাল ৯টা থেকে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পাম্পের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পাম্পের সব কর্মী কাজ করছেন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।


কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুনে নিহত  ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় শনিবার (৪ এপ্রিল) একটি টিনশেড গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুড়ে অঙ্গার হওয়ার কারণে মরদেহগুলো শনাক্ত করা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের লিঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কারখানার ভেতরে আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বর্তমানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দুপুর ১টা ১১ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ১টা ১৬ মিনিটে প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টাফ অফিসার ও মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেছেন, ‘আমরা দুপুর ১টা ১১ মিনিটের দিকে রাজধানীর কদমতলীতে গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুপুর ১টা ১৬ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বেলা আড়াইটার দিকে কারখানাটির আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে ভেতরে ধোঁয়া ছিল। তাই ৩টার পর ফায়ার ফাইটাররা কারখানার ভেতরে কেউ আছে কিনা তা অনুসন্ধানে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখান থেকে একে একে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে।’

তিনি আরও বলেন, কিন্তু লাশগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে, প্রাথমিকভাবে দেখে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


জ্বালানি সংকটে ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর দুই কারখানা বন্ধের মুখে

আপডেটেড ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:০৫
ভোলা প্রতিনিধি

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর দুটি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‎শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলার খেয়াঘাট সড়কে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে নিজ কারখানার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিল ও জেকে ট্রেডার্সের মালিক মো. জামাল উদ্দিন খান।

‎তিনি জানান, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মজুদ থাকা সব ডিজেল শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের জ্বালানি মজুদ নেই। জামাল উদ্দিন খান বলেন, “আমাদের নিকটবর্তী নদীঘাট থেকে গুদামে গম পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন চালাতে ডিজেল দরকার, কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে উৎপাদিত ময়দা, ভূষি ও মুড়ি ভোলার দক্ষিণ আইচা থেকে ইলিশা ফেরিঘাটসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

‎তিনি আরও বলেন, “আজ থেকেই যদি ডিজেল সরবরাহ না পাই, তাহলে চরফ্যাশন, লালমোহনসহ বিভিন্ন উপজেলায় পণ্য পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাবে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে এবং বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করতে হতে পারে।”

‎সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে খোঁজ নিয়েও ডিজেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শিল্প প্রতিষ্ঠান দুটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

‎এসময় প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।


রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কোতোয়ালি এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রাসেল (৩১) নামে যুবদলের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানার নয়াবাজার পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ রাসেল কোতোয়ালি থানা যুবদলের সদস্য। তিনি রাজধানীর শ্যামপুরের আরসিং গেট এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

রাসেলের বন্ধু রিপন দাস জানান, রাতে নয়াবাজার পার্ক এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গুলি তার বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে রাসেলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতে নয়াবাজার এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকের বাম পাশে গুলির আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্বজনরা তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।


নওগাঁর পোরশায় ডাকাতি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ডাকাত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সড়ক অবরোধ করে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত মালামাল এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর থানার দোগাছী (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে গোলাম মোস্তফা শ্যামল (৫৫), মহাদেবপুর থানার শিবরামপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬), এবং সাপাহার থানার খোট্টাপাড়া গ্রামের মৃত কালু মন্ডলের ছেলে আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা থানার সরাইগাছী-খাট্টাপাড়া সড়কের ফকিরের মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর রশি টানিয়ে সড়ক অবরোধ করে ডাকাতরা। এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়া তিনজন আরোহী ডাকাতদের কবলে পড়েন। কিছুক্ষণ পর আরও একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন আরোহীকেও একইভাবে জিম্মি করা হয়। পরে তাদের পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়।

ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি সড়কপথে চলাচলের সময় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগবিতণ্ডা, যুবককে কুপিয়ে জখম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে মেহেদী হাসান (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কাজিরহাট থানার বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আহত মেহেদী হাসান ওই ইউনিয়নের চরমাধব রায় গ্রামের মো. মাসুদ রানার ছেলে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- একই গ্রামের তিন ভাই রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল।

জানা গেছে, টিসিবির পণ্য ক্রয়ের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে একই গ্রামের রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল তাকে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় আহত যুবকের বাবা মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাজিরহাট থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

মাসুদ রানা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বিদ্যানন্দপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। ওই সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মেহেদীর সঙ্গে রমজান ও রাশেদের কথা-কাটাকাটি হয়। সন্ধ্যায় মেহেদী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভূমি অফিস এলাকায় পৌঁছালে রাশেদ, কাউসার ও ফয়সাল মিলে তার পথ আটকান। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মেহেদীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। মেহেদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে এবং অভিযুক্ত রাশেদ, কাউসার ও ফয়সালকে আটক করে। খবর পেয়ে কাজিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।’

কাজিরহাট থানার পরিদর্শক দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার যুবকদের শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’


বাগেরহাটে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা পেলেন ৫ হাজার মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী মডেল উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প হয়েছে শুক্রবার (৩ এপ্রিল)। দিনভর এ চক্ষুশিবিরে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ সময় রোগীদের চাহিদামতো ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া চোখের ছানি ও নেত্রনালি অপারেশনের জন্য রোগী বাছাই করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় নিয়ে চোখের অপারেশন করিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান আয়োজকরা। বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে খুশি দরিদ্র ব্যক্তিরা।

সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য এ প্রত্যয় নিয়ে আমরা এই আয়োজন করেছি। অন্ধত্ব প্রতিরোধ করুন—এ স্লোগানে আমাদের এই চক্ষু ক্যাম্প। এই জনপদের প্রতিটি মানুষ যারা বৃদ্ধ হয়েছেন, যৌবনে তারা জীবন-জীবিকা ও সমাজ-সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে অনেক ভূমিকা রেখেছেন। তাদের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতা আছে, দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদের তাদের পাশে থাকা উচিত। এ মানুষগুলো যাতে সুন্দরভাবে দেখতে পান, সে ব্যবস্থা করার জন্যই আমাদের এই আয়োজন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা রামপালে নিয়মিত বিনামূল্যে চক্ষুক্যাম্পের আয়োজন করেছি। এ সময়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষের চোখের অপারেশন এবং লক্ষাধিক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন থাকবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিনসহ দলের নেতা-কর্মী ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।


বনদস্যু আতঙ্কে থমকে আছে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হলেও বনদস্যুদের আতঙ্কে কার্যত থমকে গেছে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম। পহেলা এপ্রিল থেকে মৌসুম শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ থেকে প্রথম দিনে কোনো মৌয়াল বা নৌকা বনে প্রবেশ করেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক দস্যু বাহিনীর অগ্রিম চাঁদা দাবির কারণে অনেক মৌয়াল প্রস্তুতি নিয়েও বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তারা মধু সংগ্রহ থেকে বিরত থাকছেন। এতে করে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মধু ও মোম আহরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. খলিলুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত মাত্র ৮টি নৌকার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) ইস্যু করা হয়েছে। যেখানে গত বছর একই সময়ে বিএলসির সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০টি এবং মৌসুমের প্রথম দিনেই ২০টি নৌকায় দুই শতাধিক মৌয়াল বনে গিয়েছিলেন। এ বছর দস্যু আতঙ্কে একটি নৌকাও শরণখোলা থেকে বনে প্রবেশ করেনি।

তিনি আরও জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাস গ্রহণ করলে মৌয়ালদের নৌকাবহরকে বনরক্ষীদের এসকর্ট দিয়ে বনে প্রবেশ করানো হবে।

অন্যদিকে, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস জানান, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে মোট ৩২টি নৌকার বিএলসি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন ১৭টি নৌকায় দেড় শতাধিক মৌয়াল বনে প্রবেশ করেছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতার কারণে এ বছর মৌয়ালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ঝুঁকি এড়াতে মৌয়ালদের দলবদ্ধভাবে মধু সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ ভোলা নদীসংলগ্ন ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর কমপার্টমেন্ট এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন পেশাদার মৌয়াল রয়েছেন। প্রতিবছর তারা মধু সংগ্রহে অংশ নিলেও এ বছর দস্যু আতঙ্কে পরিস্থিতি ভিন্ন। চলতি মৌসুমে ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শুধু রাজস্ব ঘাটতিই নয়, মৌয়াল পরিবারগুলোও বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।


banner close