বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

হলফনামায় সম্পদের যে তথ্য দিলেন চট্টগ্রামের ৯ প্রার্থী

১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০২

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯ জন প্রার্থীর হলফনামায় দেখা গেছে, কারও কারও সম্পদ বেড়েছে, আয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। কারও স্ত্রী বিপুল সম্পদের মালিক। কারও কৃষিতে আয় বেড়েছে। কারও নগদ বেশি, কারও আছে ঋণ।

মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী।

তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, কৃষি খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া পান বছরে ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নগদ আছে নিজ নামে ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একটি নোহা গাড়ি আছে ১৪ লাখ টাকার, স্বর্ণ নিজের নামে ১০ হাজার টাকার ও স্ত্রীর নামে ১৫ হাজার টাকার। এ ছাড়া তার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আছে ১ লাখ টাকার। আসবাবপত্র আছে নিজের নামে ১ লাখ টাকার ও স্ত্রীর নামে ১০ হাজার টাকার।

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি এমএ পাসসহ পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তার হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তার হলফনামায় তিনি এ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৪২ টাকা, জাতীয় সংসদ থেকে প্রাপ্ত ভাতা দেখিয়েছেন ২৩ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ টাকা। এ ছাড়া গতবার আল্লামা ফজলুল হক ফাউন্ডেশন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৯ লাখ টাকার সম্মানী ভাতা দেখালেও এবার সে তথ্য নেই তার হলফনামায়। পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নিজের নগদ অর্থ না থাকলেও এবার দেখিয়েছেন নিজের নামে নগদ সঞ্চয় আছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪১ টাকা, স্ত্রীর নামে গত নির্বাচনে ৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ ছিল, এবার দেখিয়েছেন ২০ লাখ ২১ হাজার ২৪৬ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা গত নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে ১ কোটি টাকার বেশি। গত হলফনামায় তা ছিল ৬৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা, এবার রয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৪ টাকা, স্ত্রীর নামেও বেড়েছে ব্যাংকে জমা অর্থ। ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার অর্থ ছিল একাদশ সংসদের হলফনামায়, এবার তা ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৫ টাকা। আয় বেড়েছে অন্য খাতগুলোতেও। এবার তার নিজের নামে ব্যাংক ডিপিএস ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৪ টাকা, এফডিআর ২ কোটি ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ২২০ টাকা, স্ত্রীর নামে ডিপিএস ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮ টাকা, এফডিআর ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৬ টাকা। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া খাতে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬২ টাকা আয় দেখালেও এবারে এ খাতে আয় দেখাননি তিনি।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৭ টাকা। তিনি ও তার স্ত্রীর কাছে নগদ আছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। বাড়ি-দোকান ভাড়া বাবদ বছরে আয় করেন ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩২ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৯২ টাকা ও স্ত্রীর নামে নগদ টাকা রয়েছে ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩২ টাকা। তার নামে ব্যাংকে জমা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৪ টাকা। কোম্পানিতে শেয়ার রয়েছে নিজ নামে ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬০ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭৫ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৫ টাকা।

মাহফুজুর রহমান মিতা

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা। তার দেয়া হলফনামায় দেখা যায়, নিজের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আছে গাড়ি-বাড়ি। ঢাকার পূর্বাচলে তার নামে ২৩ লাখ টাকা দামের একটি ছয় কাটার ও একটি তিন কাঠার মোট দুটি প্লট রয়েছে। সব মিলিয়ে নিজ নামে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তবে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি। স্ত্রীর রয়েছে ৮৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ খাতে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ খাতে তার স্ত্রীরও রয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ২১ হাজার টাকা।

নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর বাৎসরিক আয় ৫০ লাখ টাকা। নিজেরসহ স্ত্রী ও দুই সন্তানের নামে আছে ছয়টি গাড়ি। হলফনামায় বলা হয়েছে, ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় হয় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে আয় আসে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে সম্মানী পেয়েছেন বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। নিজের নামে ব্যাংকে জমা ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৮৭৫ টাকা ও দুই ছেলের নামে রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৯০১ টাকা। নিজের নামে এফডিআর রয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ও ছোট ছেলের নামে ৫৮ লাখ ৬১৩ টাকার এফডিআর।

আব্দুল মোতালেব

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মোতালেব। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নির্বাচনে এসেছেন তিনি। তার দেয়া হলফনামায় ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ টাকা, বাড়ি-দোকান ও অন্যান্য বাবদ আয় ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ২০ হাজার ৬২৬ টাকা, পেশা থেকে (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন পরামর্শক ইত্যাদি) আয় ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে পান (পরিচালক ভাতা) বছরে ১৮ লাখ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্মানী পেয়েছেন ৭ লাখ ৭ হাজার ৫৮৭ টাকা। তার নিজের নামে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৪ হাজার ২০৭ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৯ টাকা।

খাদিজাতুল আনোয়ার সনি

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এ সদস্য এবার মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, তার বসবাসকারী বাড়ির মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। তার বাৎসরিক আয় হিসেবে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্রে বছরে আয় হয় এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা ও অন্যান্য খাতে তার আয় ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১১৫ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজ নামে পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত চার একর জমি আছে যার মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আছে অকৃষি জমি যার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পাঁচলাইশে আছে তার আরেকটি ভবন, সেটিরও মূল্য চার কোটি টাকা।

আবু তৈয়ব

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব। জমা দেয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার পেশা ব্যবসা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে আছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩১০ টাকার সম্পদ। ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো খাতে আয় নেই। ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৭২৮ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা আছে ৮৫ হাজার ৩১০ টাকা।

সোলায়মান আলম শেঠ

চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়ামান আলম শেঠ। পেশায় ব্যবসায়ী এ নেতার হলফনামা অনুযায়ী বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৬২ হাজার ২২৪ টাকা। এ ছাড়া চাকরি থেকে আয় করেন ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ সঞ্চয় আছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে অকৃষি জমি পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত জমির মূল্য ১৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৭৯৮ টাকা, খাগড়াছড়িতে থাকা তার জমির মূল্য ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। তবে দুটি ব্যাংকে দায়দেনা আছে তার। সেই দায়-দেনার পরিমাণ ১০২ কোটি ৮৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬২ টাকা।


নানা আয়োজনে দেশজুড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গত বুধবার দেশজুড়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, র‌্যালি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের জোরালো দাবি জানান। দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো;

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান:

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গত বুধবার বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।

তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।

জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। এছাড়া আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব।

তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবেই অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।

খুলনা ব্যুরো জানান : খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে শিববাড়ি জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী, বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই শহিদ শেখ সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই শহিদ পরিবার, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী।

সভায় প্রধান অতিথি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বৈষম্যহীন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারা এ গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুবসমাজ জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা সংশোধনের চেষ্টা করা হবে। তবে কেউ যদি অন্যায় বা অনৈতিক কর্মান্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি সকল স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। সভায় পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শহীদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের পিতা শেখ আজিজুর রহমান, মাথা নূরনাহার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, নিহত পরিবারের সদস্যগণ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিববাড়ি মোড়, শহীদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ খুলনা সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র/প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাদ যোহর মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শহিদ হাদিস পার্ক ও শিবাবাড়ি মোড়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত চলচ্চিত্র বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার সরকারি-বেসরকরি-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য উন্মুত্ত রাখা ও বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুরে সকল সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আলোকসজ্জা এবং গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়।

খুকৃবিতে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত :

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হয়েছে।

গত বুধবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল ৯টায় রচনা প্রতিযোগিতা, সকাল ১০টায় জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল ১১টায় কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এর পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও এতিমখানায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

বিকেল ৩টায় অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এর অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহামেদ কামাল উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধা হাসিব রহমান অভিকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর থেকে জানান : ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিস্থ ‘স্বপ্ন ছোঁয়া কমিউনিটি সেন্টারে’ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ৩৬শে জুলাই স্মরণসভা ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর সৌজন্যে ‘ডেঙ্গু জ্বরের ব্যবস্থাপনা’ (Management of Dengue Fever) বিষয়ক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (শামীম)-এর সভাপতিত্বে এবং ডা. এ.এফ.এম.কামাল এর সঞ্চালনায় গত বুধবার রাত ৯ টায় জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

‘৩৬ জুলাই এর শক্তি, প্রেরণার অঙ্গীকার, স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের পথচলা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ডেঙ্গুরোগের চিকিৎসা ও সচেতনতাবিষয়ক সায়েন্টিফিক সেমিনার। সেমিনারে ‘কী-নোট স্পিকার’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান মো. আরিফ।

তিনি ডেঙ্গুজ্বরের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং এর সঠিক ও সময়োপযোগী রোগ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার উপস্থাপিত নির্দেশিকা ও স্লাইড অনুযায়ী, ডেঙ্গুরোগীর সঠিক রোগ নির্ণয়, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং রোগীর সমস্যাভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে ‘কর্পোরেট স্পিকার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ রাফসান বিনতে আশরাফ। সেমিনারে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত প্রায় দেড় শতাধিক ডাক্তার অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত চিকিৎসকগণের সাথে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বর্তমান রূপ ও চিকিৎসকদের করণীয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।

এর পর ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার আয়োজনে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম, ডা. আলী আকবর হালদার, ডা. মৃধা মো. শাহিনুজ্জামান, ডা. নুরুল ইসলাম রানা, ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ডা. এনামুল হক, ডা. সাকি খান, ডা. আল আমিন সারোয়ার, ডা. নিসাত চৌধুরী ও ডা. তানজিল আবির ।আলোচনা সভায় বক্তারা বিগত ১৭ বছর ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের অমানবিক ও নানামুখী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। ড্যাব নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে স্বৈরাচারী শাসনের কারণে পেশাগত ক্ষেত্রে তারা চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। পরে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এছাড়াও ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে আলোচনা সভা : জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার বেলা ১১টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর কাজী নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আবদুল হালিম।

এসময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ওবায়দুর রহমান, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর নুরুল ইসলাম খান, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক রাশিদুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হক, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাহিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম মামুনুর রহমান সহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জুলাই যোদ্ধাদের আত্মার মাত্রা কামনায় দোয়া ও দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

এর আগে সকাল ১০ টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

পরে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য, ছাত্র নেতৃবৃন্দ পক্ষ থেকে বক্তব্য, জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য, শিক্ষকবৃন্দের মধ্য হতে বক্তব্য, অতিথিদের বক্তব্য এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান: গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পুর্তি উপলক্ষে ঝিনাইদহে গণসমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। গত বুধবার বিকেলে শহরের পায়রা চত্বরে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আজম মো. আবুবকর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, সহকারী সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর ড.হাবিবুর রহমান, হরিনাকুন্ডু উপজেলা আমীর বাবুল হোসেন, শৈলকূপা উপজেলা আমীর মতিউর রহমান, শহর আমীর অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন, গান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ড. মনোয়ার হোসেন, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব সামছিল আরেফিন কায়সার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান: দিবসটি উপলক্ষে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। গত বুধবার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা নায়েবে আমির মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ, এনসিপির আহ্বায়ক সম্রাট হোসেন এবং জুলাই যোদ্ধা মেরাজ হোসেন ও মাশরাফি। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এই আন্দোলনের মূল প্রেরণা। তারা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রেখে দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের অধিকার, আত্মমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস তুলে ধরতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহনশীলতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের মূল শিক্ষা হলো জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকার। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যাতে ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে। তিনি শিক্ষার্থী ও তরুণদের শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, সেবামুখী প্রশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি, গুজব প্রতিরোধ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জুলাই যোদ্ধা মেরাজ হোসেন ও মাশরাফি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় আরও সুদৃঢ় হবে।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন পালন করা হয়েছে। গত বুধবার উপজেলা পরিষদের হল রুমে দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ, থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মুন্তাজিম প্রমুখ। পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শাহ আলম সরকার, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া রহমান ইতি, জমিয়ত ইসলামের সাধারন সম্পাদক মাওঃ নেজাম উদ্দিন, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব গিয়াস মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহ সুলতান আহমদ টিপু, সদস্য সচিব মো. সাইফুর রহমান, যুগ্ন আহবায়ক মাসুদ রানা, কুলাউড়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মৌসুম সরকার, জাসাস উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সালমান হোসেন, কুলাউড়া কলেজ ছাত্রদলের আহব্বায়ক হাবিবুর রহমান টিপু, যুগ্ন আহবায়ক শামীম আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমান নিশান, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান খান, জুলাই যোদ্ধা শেখ বদরুল হোসেন রানা, ছায়েম আহমদ, লিংকন আহমদ প্রমুখ।

পরে কুলাউড়া শিশু একাডেমির আয়োজনে উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আবুল বাসারের সঞ্চালনায় শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর উপস্থাপনায় বিদ্যালয়ের হল রুমে আলোচনা সভায় অংশ নেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন সহ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক -শিক্ষিকা বৃন্দ।

পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন। সভাশেষে সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মোঃ ছদরুল আলমের পরিচালনায় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল।

কুলাউড়ার অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ঃ অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস দিবস পালন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক এরশাদ হোসাইন, ফণীভূষণ চন্দ, সঞ্জয় দেবনাথ, শফিকুল ইসলাম জুয়েল, নূর ইসলাম, জয়রাজ উল্ল্যা, মীরা শর্মা, আবুল কাশেম, নজরুল ইসলাম, অজয় মালাকার, সাজু, সুস্মিতা গোয়ালা।

সিনিয়র শিক্ষিকা আফিয়া বেগমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারজান, তাসনিমা আহমেদ, সাবিহা জুমায়রা আল সফর।

সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। পরে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান: মৌলভীবাজারেও পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

কর্মসূচির শুরুতে সকালে মৌলভীবাজারস্থ ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত থেকে বীর শহীদদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের এক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বীর শহীদদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান: ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে। এ উপলক্ষে বুধবার সারাদিনব্যাপী শহরে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণমিছিলটি জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আবদুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন আখতার শাহীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা (৩০৭) আসনের এমপি বিলকিস ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপি নেতা আলহাজ শওকত চৌধুরী,জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাজ্জাদের পিতা বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি কাজী একরামুল হক, শফিকুল ইসলাম জনি, জিয়াউল হক জিয়া, সি. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক,এম এ পারভেজ লিটন, মনোয়ার হোসেন মন্টু, প্রচার সম্পাদক আবু সরকার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন,

বিএনপি নেতা জুয়েল চৌধুরী, আনিসুল হক চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বক্তারা এসময় বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার,দেশপ্রেম ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এমপি বিলকিস ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার প্রেরণা দেয়। দেশ গঠনে তরুণ সমাজকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগের আদর্শে বৈষম্যহীন,গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সাঁথিয়া(পাবনা) প্রতিনিধি জানান: পাবনার সাঁথিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বুধবার বিকেলে গণর‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।র‌্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালি শেষে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কেএম মাহবুব মোর্শেদ জ্যোতির সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১আসনের বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামসুর রহমান। ।

আরোও বক্তব্য দেন,উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল বারী সান্টু,সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী,হারুন অর রশিদ মজনু, ইদ্রিস আলী মুন্সি, পৌর বিএনপির সাংঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল রাসেল,সাবেক আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বন্দে,সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, শামসুজ্জামান নান্নু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ইলিয়াস আহম্মেদ বিপ্লব, ধোপাদহ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কামুরুজ্জামান সেলিম, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান: ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাউজানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভায় সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির, রাউজান থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ কামাল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসু, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মিন্টু বড়ুয়া, উপজেলা মাধ্যমিক সুপারভাইজার সজল চন্দ্র চন্দ, রাউজান প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী সরোয়ার খান মনজু এবং উরকিরচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরমান হোসাইন। সভায় বক্তারা বলেন, ২৪ শের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জনগণের অধিকার এবং দেশ গঠনে নাগরিক দায়বদ্ধতার চেতনাকে সন্মুন্নত রেখে নতুন বাংলাদেশকে এই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য ও উন্নয়নের সকলে একযোগে কাজ করে নতুন বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান: কুমিল্লার মুরাদনগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বুধবার সকালে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, আমজাদ আলী তসু ও শহীদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, নবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন, ধামঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং জুলাই যোদ্ধা মীর জাহিদ হাসান সম্রাট ও নাহিদুল ইসলাম নাঈম।

বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর-বাঙ্গরা) আসনের ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের আশু সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

অঅনুষ্ঠান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির হাফেজ আমিনুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল মাস্টার, জাসাসের আহ্বায়ক আবুবকর, কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্য আলাউদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম মুন্সী, বিএনপি নেতা ওমর ফারুক সোহাগ, ওমর আলী, ইকবাল হোসেন, নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

​সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান: ​ঐতিহাসিক ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলোচনা এবং শহীদদের স্মরণে এক দোয়া মাহফিল করেছে ‘চাঁদের আলো গ্রুপ ’।

​বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চাঁদের আলো গ্রুপের প্রধান কার্যালয় জোড়গাছা মধ্যপাড়ায় হলরুমে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

গ্রুপের আঞ্চলিক শাখা ব্যবস্থাপক মনজুরুল হকের সভাপতিত্বে ও এরিয়া ম্যানেজার জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদের আলো গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. মহিদুল হাসান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব জাগরণ। এই নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচার, সাম্য ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় ‘চাঁদের আলো’-র মতো সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’

​উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির আর.এম.ও মনজুরুল হক, এরিয়া ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন। এছাড়া ‘চাঁদের আলো সমিতির’ শাখা ব্যবস্থাপক ও ফিল্ড অফিসার উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে আহত বীরদের দ্রুত সুস্থতা ও শহীদ পরিবারগুলোর যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ভৈরব ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তিরা দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করে দেশের বর্তমান সরকারকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা যাচ্ছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার বিচারের জন্য সরকার কাজ করছে তাই সেই বিচার কার্যকে বাধাগ্রস্ত করতেই ষড়যন্ত্র করছে। গত বুধবার বিকালে ভৈরব শহরের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

এসময় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে দেশে ছাত্র-জনতা জুলাই আন্দোলন না হলে দেশে থেকে ফ্যাস্টিট সরকারের পতন হতো। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছেন। আমরা জনগণের সেই অধিকার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছি। তাই বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাস্টিট হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে ছোড়া গুলিতে নিহত শহিদদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। তাই আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সকল সুশীল ও সাংবাদিকদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতেই পরাজিতরা দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্রের লিপ্ত রয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো.শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান ও স্থানীয় জুলাই যোদ্ধাগণসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সিংগাইর(মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান: জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বধুবার সকাল সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জুলাই শহীদ তুহিন স্মৃতি স্তম্ভে এবং ধল্লা ইউনিয়নে অবস্হিত জুলাই শহিদ সাদ মুরাদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো.মাজহারুল ইসলামসহ জুলাই যোদ্ধা সংসদ উপজেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাগণ। পরে বেলা ১১টার দিকে এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহারের সভাপতিত্বে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো.মাজহারুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মো.কিশোর আহমেদ, সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম রাব্বানী, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. আলাউদ্দিন, জেলা খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি আশরাফ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সফিউদ্দিনসহ জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


কটিয়াদীতে তিতাসের পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ, ৫ কোটি টাকা ক্ষতির মামলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম মিলন নামের এক ইউপি সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ওই ইউপি সদস্যের ছত্রচ্ছায়া এবং তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধ গ্যাস সংযোগের একটি চক্র গড়ে ওঠে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাজহারুল ইসলাম মিলন। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, তদন্তে স্থানীয় একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গত ৩ আগস্ট রাতে দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কাজিরচরে একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন মসূয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন। তার সহযোগিতায় জমি ভাড়া, শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা এবং কারখানার কার্যক্রম শুরু হয়।

সূত্রটি জানায়, কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ স্থানীয় খোকন মিয়ার বাড়িতে থাকতেন। সেই থাকার ব্যবস্থাও করে দেন ইউপি সদস্য মিলন।

তবে তিতাস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ মামলায় উল্লেখিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে দুটি জমির মালিকের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের চুক্তি থাকলেও মামলায় একজনের নাম রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনকভাবে মামলা থেকে বাদ পড়েছে ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন ও তার ফুফাতো ভাই সুলতান উদ্দিনের নাম।

স্থানীয়রা জানান, কারখানার মালিকদের সঙ্গে প্রথম চুক্তিটি করেছিলেন কাজিরচর গ্রামের সুলতান উদ্দিন। পরে তার মাধ্যমে আরেকটি চুক্তি করেন তার চাচাতো ভাই সুমন মিয়া। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাজনা মহাল এলাকার দেলোয়ার হোসেনকে। অপর আসামি করা হয়েছে কাজিরচর গ্রামের সুমন মিয়াকে। তবে প্রথম চুক্তিকারী সুলতান উদ্দিনের নাম মামলায় নেই।

স্থানীয়দের দাবি, যেসব জমির নিচ দিয়ে অবৈধ গ্যাসলাইন নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মাজহারুল ইসলাম মিলন, সুলতান উদ্দিন ও সুমন মিয়ার জমিও রয়েছে। তাদের দাবি, জমির মালিকদের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া এভাবে মাটি খুঁড়ে গ্যাসলাইন স্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই তারা বিষয়টি জানতেন এবং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চুনাপাথরের কারখানার আড়ালে তিতাসের মূল পাইপলাইনে ছিদ্র করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস আগে পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিলেও তা গোপন রেখে মেরামতের চেষ্টা করা হয়। তাদের দাবি, তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লিকেজ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলেও এখনো পুরোপুরি লিকেজ বন্ধ করতে পারেনি। যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতাম এখানে একটি চুনাপাথরের কারখানা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে কাজ হওয়ায় কেউ বিস্তারিত বুঝতে পারেনি। পরে বর্ষায় নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা কাজ শুরু করে। তবে এখনো পুরোপুরি লিকেজ বন্ধ হয়নি। প্রায় দেড় মাস আগে লিকেজের ঘটনা ঘটলেও গত ১৫ দিন ধরে আরও বেশি গ্যাস বের হচ্ছে।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘জমির মালিকেরাই কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না। কয়েকদিন আগে বিষয়টি জানতে পারি। তবে এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলনও আমাকে কিছু জানাননি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি। তার নির্দেশে প্রয়োজনীয় চুক্তিপত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানাটির কোনো ট্রেড লাইসেন্সও নেওয়া হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের কেউ জড়িত থাকলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিতাস গ্যাসের কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘লিকেজের খবর পাওয়ার পরই মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিতাসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, ‘তদন্তে স্থানীয় একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


হোগলপাতিয়ায় অবৈধ ড্রেজারের আগ্রাসন, নিঃস্ব অর্ধশত পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে নদীর তীরবর্তী তলদেশ থেকে বালু ও মাটি কেটে নেয়ায় প্রায় অর্ধশত পরিবার তাদের ভিটেমাটি, বাড়িঘর ও ফসলি জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে রাতের আধারে বালু ও মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া ও চরহোগলপাতিয়ার আড়িয়ালখাঁ নদীর তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহকালে এমন দৃশ্য বাস্তবে দেখা গেছে।

সেখানকার ভুক্তভোগী অনেকগুলো পরিবার জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত দুই-তিনটি ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার লাগিয়ে বালু-মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল। প্রশাসন ও মানুষের চোখে ধোঁকা দিতে দিনের বেলায় উক্ত ড্রেজার মেশিন ও বালুমাটি টানা বোটগুলো অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়। কে বা কারা এগুলো কেটে নিচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেখানকার ভূক্তভোগীরা বলেন, ‘আমাদের ঘাড়ে কয়টি মাথা যে, আমরা ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী এসব অবৈধ ড্রেজার মালিকদের নাম বলে দিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করতে পারব? বরং নাম বলে দিলে আমাদের জীবনটা পর্যন্ত চলে যেতে পারে, আমাদের মেরে ফেলতে পারে’।

তারা আরও বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় দুই-তিনটি ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু কাটার কাজ এবং সেগুলো রাতের আঁধারেই ২৫/৩০টি ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে মাদারীপুর সদর সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জানান, চরহোগলপাতিয়ার চৌকিদার মাসুদ হাওলাদার, তার ভাই তৈয়ব হাওলাদার সহ পার্শ্ববর্তী মুজাম সরদার ও তাদের সাঙ্গ-পাঙ্গদের নেতৃত্বে এই ড্রেজার পরিচালিত হয়, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পাওয়া যাবে ড্রেজারমালিক গডফাদারদের পরিচয়।

ইতিমধ্যে অনেকের ঘরবাড়ি বহুবার ভাঙ্গণের মুখে পড়াসহ ফসলি জমি, কলাবাগান, আপেলকূল বাগান, সব্জির বাগান সহ দামী সব গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। ভিটামাটি হারিয়ে অনেকে অন্যত্র বাড়ীঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে আ. ছোবহান তালুকদার, ইউনুছ হাওলাদার, কুতুব আকন, এনামুল আকন, মোসলেম হাওলাদর, শহীদুল আকন সহ অন্যান্যরা জানান, এর আগেও তারা বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনকে জানিয়েছে কিন্তু প্রতিকার পায়নি। তারা আরও বলেন, অবৈধ এসব ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ না হলে যে কোনো সময় তাদের বর্তমান বাড়ীঘর সহ বাকী জমিজমাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এহেন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তারের কাছে একাধিক সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘বিষয়টি তাদের নজরেও এসেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এতদসংক্রান্ত মানবিক এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ব্যাপারে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহলকে তাকে সহযোগিতার অনুরোধ জানান।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বপ্নপূরণ অনুশ্রীর, মিলল হারমোনিয়াম উপহার

সচিবালয়ের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুশ্রীকে হারমোনিয়াম উপহার দেন। ছবি : পিএমও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে স্বপ্নপূরণ হলো রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশ্রী রায়ের।

অনুশ্রী রায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব নবনিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এবার জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতায় দেশের গানে প্রথম এবং নজরুল সংগীতে তৃতীয় স্থান লাভ করে অনুশ্রী।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুশ্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি হারমোনিয়াম উপহার দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ কথা জানান।

তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে পদক গ্রহণের সময় অনুশ্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর একজন কর্মকর্তার হাতে একটি চিঠি তুলে দেয়।

চিঠিতে ক্ষুদে এই শিক্ষার্থী সংগীতচর্চার প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে সংগীতচর্চায় সহযোগিতার জন্য একটি হারমোনিয়াম ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথাও জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী চিঠিটি পড়ে অনুশ্রী ও তার পরিবারকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দে আত্মহারা ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী জানায়, ‘কখনো বিশ্বাসই করতে পারিনি যে, আমার চিঠি প্রধানমন্ত্রী পড়বেন এবং সাক্ষাতের জন্য ডাকবেন।’

অনুশ্রী জানায়, ‘আমার সংগীতচর্চার জন্য একটি হারমোনিয়াম খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমার পরিবারের পক্ষে সেটি কেনার সামর্থ্য ছিল না। তাই চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের দিন সেসব লিখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছিলাম। তবে সেই চিঠি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতেও দিতে পারিনি; তাঁর একজন কর্মকর্তার হাতে দিয়েছিলাম। ভাবিনি, প্রধানমন্ত্রী আমার চিঠি পাবেন এবং পড়বেন। যখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একজন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন) আমাদের ফোন করে জানালেন যে প্রধানমন্ত্রী আমার লেখা সেই চিঠি পড়েছেন এবং আমাদের সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন, তখন যেন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এরপর আজ আমাদের অবাক করে দিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

অনুশ্রী জানায়, এ সময় স্নেহভরে তার সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার সংগীতচর্চার খোঁজ-খবর নেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তার সংগীতসাধনায় উৎসাহ দিতে চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাওয়া সেই হারমোনিয়ামও উপহার হিসেবে তার হাতে তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে একটি দেশাত্মবোধক গানও শোনান অনুশ্রী।

সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ায় অনুশ্রীর বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, ‘তার মেয়েকে প্রধানমন্ত্রী ডেকে উৎসাহ দেবেন; এটা তারা কখনো কল্পনাও করেননি।’

অনুশ্রীর বাবা বলেন, বিভিন্ন সময় মেয়েকে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গল্প বলতেন। এরপর থেকেই অনুশ্রীর বিশ্বাস জন্মায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখলে হয়তো তাঁর কাছ থেকেও সাড়া পাওয়া যাবে। সেই বিশ্বাস থেকেই জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এসে সে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি চিঠি লেখে। কিন্তু সেই চিঠি যে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছাবে, তা জানতেন না। আর সেই চিঠি প্রধানমন্ত্রী পড়বেন; সেটাও ছিল অবিশ্বাস্য। আজ তারা কতটা খুশি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁর কাছ থেকে হারমোনিয়াম উপহার পেয়ে অনুশ্রী ও তার পরিবার গভীর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উৎসাহ তার সংগীতচর্চায় আরও অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং ভবিষ্যতে দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন পূরণে তাকে এগিয়ে যেতে সাহস দেবে বলে জানায় তার পরিবার।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাবিউল ইসলাম রাকিব নামে এক নিরাপত্তাকর্মী। রাকিব রাজধানীর কুড়িল-বিশ্বরোড এলাকায় একটি বেসরকারি ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন।

রাকিব জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের ভক্ত। তখন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। সেই আকক্সক্ষার কথা জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঢাকা ছাড়বেন না। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাকিব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার এলাকার দীর্ঘদিনের একটি জনদাবির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। নদী পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

রাকিব গত ৭ মাস ধরে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার নুরুল্লাহপুর শিকদারবাড়ি এলাকায়।

সূত্র: বাসস


বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, নতুন বাহিনীর খসড়া আইন প্রকাশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর একটি প্রাথমিক খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়াটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে জাতীয় সংসদে পাস হলে বিদ্যমান র‌্যাবের আইনি ভিত্তি পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে এবং নতুন এই বাহিনীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যার সুনির্দিষ্ট লোগো, পতাকা ও পোশাক থাকবে।

শুধু পুলিশ নয়, সেনা বা অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও ন্যূনতম দুই বছরের জন্য সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিটে নিয়োগ দেওয়া যাবে। সদস্যদের ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার এবং মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার, সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্ত করার মৌলিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রমের সুবিধার্থে নতুন এই বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানবাধিকার বা আইন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠাবে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা, ঘুষগ্রহণ, মাদকাসক্তি বা অস্ত্র অপব্যবহারের মতো অপরাধে জড়িত সদস্যদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে কঠোর বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুস্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে র‌্যাবের যাবতীয় জনবল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, তহবিল ও চলমান মামলার আইনি দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে এসআরবির অধীনে হস্তান্তরিত হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে গঠিত হয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত র‌্যাবের বিতর্কিত ভাবমূর্তি দূর করে একটি স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী পুনর্গঠনের কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে সরকারের এই পদক্ষেপকে বিবেচনা করা হচ্ছে।


সুখবর পেল বিএনপির ৬ নেতা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবেদনের প্রেক্ষিতে নড়াইল জেলার ছয়জন নেতার দলীয় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বহিষ্কৃত নেতাদের পুনরায় বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ আগের রাজনৈতিক অবস্থান ফিরিয়ে দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতিপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

অব্যাহতি পাওয়া এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন নড়াইল সদর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম।

এছাড়া লোহাগড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিলু শরীফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মশিয়ার রহমান সান্টু এবং নড়াইল সদর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম পলাশের ওপর থেকেও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের পর নিজ নিজ পদ ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নড়াইলের এই স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীরা।


অভিনব কায়দায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সরদার গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

নানা কৌশল অবলম্বন করে নড়াইলের আন্তজেলা ডাকাত দলের সরদার আরোজ আলী শেখকে গ্রেপ্তার করেছে কালিয়া থানা পুলিশ। গত বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে পরিকল্পিত এক অভিযানে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুচতুর ডাকাত দলের সরদার আরোজ আলী পুলিশের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর, কালিষা, খুলনার দিঘলিয়া, গোপালগঞ্জের সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি, অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তাকে গ্রেপ্তারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকশ দল গত দুই সপ্তাহ ধরে জোকারচর এলাকায় কখনো ভ্যানচালক, কখনো কৃষক, কখনো জামাকাপড় বিক্রেতা, কখনো মুদি দোকানী সেজে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

জানতে চাইলে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.ইদ্রিস আলী বলেন,তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। অস্ত্রধারী এই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি চৌকশ দল বেশ কিছুদিন ধরে নানা ধরণের অভিনব কৌশল করে তাকে নজরদারিতে রেখেছিল। তারা কখনো ভ্যানচালক, কখনো কৃষক, কখনো জামাকাপড় বিক্রেতা, কখনো মুদি দোকানী সেজে নজরদারি করে। পরিশেষে বুধবার দিবাগত রাতে তাকে জোকারচর গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।


নীলফামারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলা উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক, জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নীলফামারী জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী।

জেলা পরিষদের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের রাজস্ব বরাদ্দের আওতায় ডোমার ও ডিমলা উপজেলার মোট ২৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা ৭ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া চলাচলের সুবিধার্থে দুইজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির হাতে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দক্ষ, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্মই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


পটুয়াখালীর বাউফলে খাল পরিষ্কার অভিযান, স্বস্তিতে ৪ গ্রামের কৃষক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষিজমি চাষাবাদের উপযোগী করতে খাল পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে সমাজসেবক ইব্রাহীম হাওলাদারের উদ্যোগে এ খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তারা খাল থেকে জমে থাকা আগাছা, ময়লা-আবর্জনা ও পলি অপসারণ করেন।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন খালটি অপরিষ্কার থাকায় অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলতা ও ঝিলনা গ্রাম এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হোগলা ও কুম্ভখালী গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা জমিতে চাষাবাদ করতে পারছিলেন না।

স্থানীয় কৃষক সবুজ মল্লিক বলেছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার মধ্যে আছি। এ কারণে বীজতলা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অনেক কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। আমরা স্থানীয়রা বিষয়টি ইব্রাহীম ভাইকে জানাই। তিনি দ্রুত খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। এতে আমরা কৃষকরা অনেক খুশি।

উদ্যোক্তা সমাজসেবক ইব্রাহীম হাওলাদার বলেছেন, কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খালটি পরিষ্কার হলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিজমিতে সহজে পানি নামবে এবং কৃষকরা পুনরায় চাষাবাদ করতে পারবেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, খালটি পরিষ্কার হওয়ায় চার গ্রামের কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


তুরস্কে ক্যান্সার গবেষণায় উজ্জ্বল বাকৃবির ড. তালিমুর রেজা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে কাজ করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী ড. আবু মুসা মো. তালিমুর রেজা। বর্তমানে তিনি তুরস্কের Gebze Technical University-এর Department of Molecular Biology and Genetics-এ সহকারী অধ্যাপক এবং Non-coding RNAs Lab-এর প্রধান গবেষক। তার গবেষণার মূল বিষয় Non-coding RNA, বিশেষ করে transfer RNA (tRNA) এবং ক্যান্সার চিকিৎসায় এর সম্ভাব্য ব্যবহার। তুরস্কের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক গবেষণাগারে তিনি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করছেন।

প্রচলিতভাবে ক্যান্সার চিকিৎসায় নির্দিষ্ট জিন বা প্রোটিনকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও ড. তালিমুর রেজার গবেষণার ধারণা ভিন্ন। তার দল অনুসন্ধান করছে, ক্যান্সার কোষের প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট anticodon tRNA-এর প্রাপ্যতা সীমিত করা গেলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না।

তার মতে, ক্যান্সার একটি জটিল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। তাই কোন ধরনের ক্যান্সার কোন tRNA-এর ওপর বেশি নির্ভরশীল, তা শনাক্ত করে সেই সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি এখনো গবেষণাধীন একটি ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় চিকিৎসা কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তার গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো suppressor tRNA। এটি nonsense mutation-এর কারণে মাঝপথে থেমে যাওয়া প্রোটিন সংশ্লেষণ সম্পন্ন করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে p53-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ক্যান্সার চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

ড. তালিমুর রেজার গবেষণার যাত্রা শুরু হয় Polish Academy of Sciences-এ। সেখানে Polish National Science Centre-এর অনুদান লাভের পর তিনি তুরস্কে যোগ দেন এবং বর্তমানে TÜBİTAK 1001-সহ একাধিক গবেষণা তহবিলের সহায়তায় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার গবেষণাগারে মলিকুলার বায়োলজি ও টিস্যু কালচারের পৃথক ইউনিট রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণা সুবিধায় লাইভ অ্যানিমাল ইমেজিং, মাস স্পেকট্রোমেট্রি ও আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো ব্যবহার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

গবেষণার পাশাপাশি তার জীবনদর্শনও ব্যতিক্রমী। তিনি বলেন, নিরাপদ ও গতানুগতিক পেশাজীবন কখনোই তাকে আকৃষ্ট করেনি। নতুন পরিবেশ, নতুন ধারণা এবং নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই নিজেকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। বিদেশে গিয়ে সেখানেই নিজের অবস্থান তৈরি করার সিদ্ধান্তকেই তিনি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখেন।

বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, গবেষণায় সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার সংখ্যা অনেক বেশি। তার ভাষায়, প্রায় ৯৯ শতাংশ গবেষণাই প্রত্যাশিত ফল দেয় না। তবে সেই ব্যর্থতাই নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং নতুন জ্ঞানের পথ খুলে দেয়।

তিনি মনে করেন, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং সমাজে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখার মানসিকতা নিয়েই গবেষণায় আসা উচিত। একই সঙ্গে একাধিক গবেষণাগারে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন, ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া এবং ৩০ বছরের আগেই পিএইচডি সম্পন্ন করার পরামর্শও দেন তিনি।

গবেষণাগারের বাইরেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছেন ড. তালিমুর রেজা। বাংলাদেশে Miyawaki পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র পরিসরে বনায়ন, সাধারণ পাঠকের জন্য জেনেটিক্সবিষয়ক "Your DNA, Your Decisions" বই রচনা এবং নিজ গ্রামে Good Citizen Community Madrasa প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগে কাজ করছেন। আগামী দশকে tRNA therapeutics-কে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে দেখতে চান তিনি। একই সঙ্গে এমন কিছু রেখে যেতে চান, যা তার অনুপস্থিতিতেও মানুষের উপকারে আসবে। তার বিশ্বাস, জ্ঞান তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিতে পারে।


বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

* কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিরসন, ভূতুড়ে বিল বন্ধ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, কুমিল্লা মহানগরী। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিস রোজি আক্তারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তোফিক, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান, খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল, ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মু. কামারুজ্জামান সোহেল, মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক জাকির হোসেন, কাজী নজির আহম্মেদ, মোহাম্মদ হোসাইন এবং মাওলানা লুৎফুর রহমান খান মাসুমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপি প্রদান-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি ও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তারা ভূতুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের শিকার হচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভূতুড়ে বিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।


মাগুরায় বিদ্যুতের লোডশেডিং চরম দুর্ভোগে মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং মাগুরার গ্রাহকদেরকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মহিতুল ইসলাম জানান, জেলায় ২ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। সেখানে প্রতিদিন ৫০ মেগাওয়াট দিয়ে দিনরাত মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন ঘন্টা লোডশেডিং হয়েছে। তবে বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত কোন লোডশেডিং নেই বললেই চলে।

পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মিলন লস্কর ও আড়কান্দি গ্রামের সুজন কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি সপ্তাহে দিনে রাতে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ লোডশেডিং ছিল। তবে গতকাল একটু ভালো ছিল।

অন্যদিকে পৌর এলাকার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ঘোষ জানান, জেলায় তাদের ৪৩ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং এর পরিমাণ বেশি ছিল। তবে বুধবার থেকে আজকে লোডসেডিং কমে গেছে।

পারলা এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক জোহরা খাতুন জানান, গত ৪-৫ দিন বিদ্যুৎ কখন আসে কখন যায় কিছু বুঝতে পারছিনা। অধিকাংশ সময় থাকেনা।

কলেজ সড়কের চা বিক্রেতা কেরামত আলী জানান, লোডশেডিং এর কারণে চা বিক্রি কমে গেছে। দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

সাতদোহা পাড়ার দিপালী রানী জানান, বাড়িতে আমরা মাত্র তিনজন মানুষ। সবাই সারাদিন বাইরে থাকি চাকরির জন্য, তারপরেও এত বিল আসে কেন বুঝতে পারছি না। সারাদিন লাইট, ফ্যান সবকিছুই অফ থাকে তা শর্তেও ২০০০ থেকে ২৫ শো টাকা বিল আসে।এভাবে বিল বাড়তে থাকলে আমাদের মত সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

লোডশেডিং নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ মনোয়ার হোসেন খান জানান, ইতিমধ্যে বিদ্যুতের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বুধবার থেকে মাগুরা জেলার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে সিলিন্ডার গ্যাস তিন থেকে ৪০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হলেও পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।


অষ্টগ্রামে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পূর্বদুল ইউনিয়নের এলখাল গ্রামের বাসিন্দা মৃত ই্য়াকুব আলীর পুত্র মফিজ আলী (৬৫) ও ফরিদপুরের বোয়ালী উপজেলার চরপাড়া গুনবাহ গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইউনুস সিকদার উরফে ইউসুফ সিকদারের পুত্র সোহেল রানা উরফে হাফিজার (২৮)।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (০৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার পূর্বঅষ্টগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর ইকুরদিয়া ঘাট সংলগ্ন আসাদুজ্জামান এর খাবার হোটেলের সামনে পাকা রাস্তার ওপর অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘ দিন ধরে মাজারে অবস্থান করে মাদক পাচার করে আসছিল। কখনো তারা পাগল বা ভিক্ষুক, আবার কখনো লেংড়া (শারীরিক প্রতিবন্ধী) সেজে মানুষকে বিভ্রান্ত করে অত্যন্ত সুকৌশলে এই মাদক ব্যবসা ও পাচার চালিয়ে আসছিল।

এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৮, তারিখ- ০৫ আগস্ট, ২০২৬) রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


banner close