আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯ জন প্রার্থীর হলফনামায় দেখা গেছে, কারও কারও সম্পদ বেড়েছে, আয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। কারও স্ত্রী বিপুল সম্পদের মালিক। কারও কৃষিতে আয় বেড়েছে। কারও নগদ বেশি, কারও আছে ঋণ।
মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী।
তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, কৃষি খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া পান বছরে ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নগদ আছে নিজ নামে ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একটি নোহা গাড়ি আছে ১৪ লাখ টাকার, স্বর্ণ নিজের নামে ১০ হাজার টাকার ও স্ত্রীর নামে ১৫ হাজার টাকার। এ ছাড়া তার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আছে ১ লাখ টাকার। আসবাবপত্র আছে নিজের নামে ১ লাখ টাকার ও স্ত্রীর নামে ১০ হাজার টাকার।
আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি এমএ পাসসহ পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তার হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তার হলফনামায় তিনি এ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৪২ টাকা, জাতীয় সংসদ থেকে প্রাপ্ত ভাতা দেখিয়েছেন ২৩ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ টাকা। এ ছাড়া গতবার আল্লামা ফজলুল হক ফাউন্ডেশন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৯ লাখ টাকার সম্মানী ভাতা দেখালেও এবার সে তথ্য নেই তার হলফনামায়। পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নিজের নগদ অর্থ না থাকলেও এবার দেখিয়েছেন নিজের নামে নগদ সঞ্চয় আছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪১ টাকা, স্ত্রীর নামে গত নির্বাচনে ৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ ছিল, এবার দেখিয়েছেন ২০ লাখ ২১ হাজার ২৪৬ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা গত নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে ১ কোটি টাকার বেশি। গত হলফনামায় তা ছিল ৬৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা, এবার রয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৪ টাকা, স্ত্রীর নামেও বেড়েছে ব্যাংকে জমা অর্থ। ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার অর্থ ছিল একাদশ সংসদের হলফনামায়, এবার তা ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৫ টাকা। আয় বেড়েছে অন্য খাতগুলোতেও। এবার তার নিজের নামে ব্যাংক ডিপিএস ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৪ টাকা, এফডিআর ২ কোটি ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ২২০ টাকা, স্ত্রীর নামে ডিপিএস ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮ টাকা, এফডিআর ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৬ টাকা। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া খাতে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬২ টাকা আয় দেখালেও এবারে এ খাতে আয় দেখাননি তিনি।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৭ টাকা। তিনি ও তার স্ত্রীর কাছে নগদ আছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। বাড়ি-দোকান ভাড়া বাবদ বছরে আয় করেন ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩২ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৯২ টাকা ও স্ত্রীর নামে নগদ টাকা রয়েছে ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩২ টাকা। তার নামে ব্যাংকে জমা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৪ টাকা। কোম্পানিতে শেয়ার রয়েছে নিজ নামে ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬০ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭৫ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৫ টাকা।
মাহফুজুর রহমান মিতা
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা। তার দেয়া হলফনামায় দেখা যায়, নিজের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আছে গাড়ি-বাড়ি। ঢাকার পূর্বাচলে তার নামে ২৩ লাখ টাকা দামের একটি ছয় কাটার ও একটি তিন কাঠার মোট দুটি প্লট রয়েছে। সব মিলিয়ে নিজ নামে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তবে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি। স্ত্রীর রয়েছে ৮৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ খাতে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ খাতে তার স্ত্রীরও রয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ২১ হাজার টাকা।
নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর বাৎসরিক আয় ৫০ লাখ টাকা। নিজেরসহ স্ত্রী ও দুই সন্তানের নামে আছে ছয়টি গাড়ি। হলফনামায় বলা হয়েছে, ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় হয় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে আয় আসে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে সম্মানী পেয়েছেন বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। নিজের নামে ব্যাংকে জমা ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৮৭৫ টাকা ও দুই ছেলের নামে রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৯০১ টাকা। নিজের নামে এফডিআর রয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ও ছোট ছেলের নামে ৫৮ লাখ ৬১৩ টাকার এফডিআর।
আব্দুল মোতালেব
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মোতালেব। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নির্বাচনে এসেছেন তিনি। তার দেয়া হলফনামায় ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ টাকা, বাড়ি-দোকান ও অন্যান্য বাবদ আয় ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ২০ হাজার ৬২৬ টাকা, পেশা থেকে (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন পরামর্শক ইত্যাদি) আয় ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে পান (পরিচালক ভাতা) বছরে ১৮ লাখ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্মানী পেয়েছেন ৭ লাখ ৭ হাজার ৫৮৭ টাকা। তার নিজের নামে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৪ হাজার ২০৭ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৯ টাকা।
খাদিজাতুল আনোয়ার সনি
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এ সদস্য এবার মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, তার বসবাসকারী বাড়ির মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। তার বাৎসরিক আয় হিসেবে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্রে বছরে আয় হয় এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা ও অন্যান্য খাতে তার আয় ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১১৫ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজ নামে পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত চার একর জমি আছে যার মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আছে অকৃষি জমি যার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পাঁচলাইশে আছে তার আরেকটি ভবন, সেটিরও মূল্য চার কোটি টাকা।
আবু তৈয়ব
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব। জমা দেয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার পেশা ব্যবসা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে আছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩১০ টাকার সম্পদ। ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো খাতে আয় নেই। ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৭২৮ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা আছে ৮৫ হাজার ৩১০ টাকা।
সোলায়মান আলম শেঠ
চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়ামান আলম শেঠ। পেশায় ব্যবসায়ী এ নেতার হলফনামা অনুযায়ী বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৬২ হাজার ২২৪ টাকা। এ ছাড়া চাকরি থেকে আয় করেন ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ সঞ্চয় আছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে অকৃষি জমি পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত জমির মূল্য ১৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৭৯৮ টাকা, খাগড়াছড়িতে থাকা তার জমির মূল্য ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। তবে দুটি ব্যাংকে দায়দেনা আছে তার। সেই দায়-দেনার পরিমাণ ১০২ কোটি ৮৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬২ টাকা।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের দোসর ও নলতা ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী ব্যক্তি স্বার্থে জনগণের বহু বছরের চলাচলের রাস্তার অংশ নিজের জায়গা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। পূর্বে সরকারি উদ্যোগে সেখানে ইটের সোলিং নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান সরকারি বরাদ্দে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মার্কেট নির্মাণের সময় রাস্তার কিছু অংশ দখল করে আহমদ আলী এতে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। পরে রাস্তা নির্মাণ শুরু হলে নিজের স্বার্থ রক্ষায় তিনি এটিকে ব্যক্তিগত জমি দাবি করতে থাকেন।
সেলিম হোসেন বলেন, জনগণের জন্য রাস্তা তৈরি হয়েছে এতে আমাদের সবার সুবিধা। কিন্তু আহম্মদ মেম্বর ব্যক্তি স্বার্থে এটিকে নিজের জায়গা বলে দাবি করছেন।
মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. কবির হোসেন বলেন, সে কখনো কারো ভালো চায় না। জনগণের সুবিধার কাজেও বাধা সৃষ্টি করছে।
নুরুজ্জামান বলেন, এ রাস্তা হলে জনগণের সুবিধা, আমাদের সবার সুবিধা। আমাদের চাওয়া ছিল রাস্তা হোক। ওনার নিজের জমির জায়গা তো আছেই, তারপরও রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধ করছেন।
স্থানীয় এক হোটেল মালিক বলেন, এ রাস্তা হলে আমাদের সবার সুবিধা হবে। কিন্তু মেম্বরের কী সমস্যা তা আমার জানা নেই।
কাজলা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী আমলে বিচার করার নামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে রায় দিতো। আমার কাছেও ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় আমার শালিশ করেনি।
আরেক ভুক্তভোগী কাজলা গ্রামের নাজমুল বলেন, আমি রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় আহম্মদ মেম্বর আমাকে কার্ড দেয়নি।
এ বিষয়ে নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, এটি জনগণের বহু বছরের চলাচলের রাস্তা। রাস্তার জায়গা দখল করে উনি ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করছিল যাহা মানুষের সমস্যা হতো কিন্তু জনগণের স্বার্থে সরকারি অর্থায়নে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন রাস্তার জায়গা দখল করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আহম্মদ আলীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। আজ শনিবার সকালে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসা সেবা, জরুরি বিভাগ এবং বিভিন্ন চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা ও কার্যকারিতার খোঁজখবর নেন। তিনি হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। পরে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের শয্যাপাশে যান, তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সরকারি ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে পাচ্ছেন কি না তা সরাসরি রোগীদের কাছ থেকে শোনেন।
ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী, ত্রিশাল থানার ওসি মুনসুর আহম্মদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুঁইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি কালভার্টের নিচ থেকে প্রদীপ তেলি (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের মীরবক্সপুর এলাকার একটি কালভার্টের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়। নিহত প্রদীপ তেলি গাজীপুর চা বাগানের অনিল তেলীর পুত্র।
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মীরবক্সপুর এলাকায় মুফতি আব্দুর রহমানের বাড়ির সামনে একটি কালভার্টের নিচে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- প্রদীপ তেলি মদ্যপ অবস্থায় কালভার্টের পাশে বসেছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়।
সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে ৭ দিন শিকলবন্দী হয়ে জিম্মী থাকার পরে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ী ফিরেছেন ১১ জেলে। গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১ জেলেকে অপহরণ করে। অপহরণের তিন দিনের মাথায় অপর বনদস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সাথে গুলি বিনিময় করে শরীফ বাহিনী এই ১১ জেলেকে তাদের কব্জায় নিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখে।
জিম্মী দশা থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) শুক্রবার রাতে জানান, তিনিসহ অপর ১০ জেলেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী গত ৩ মে রাতে সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণ করে তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখে। ৫ মে শরীফ বহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সাথে গুলি বিনিময় করে জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবল থেকে তাদের ছিনিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখে। অবশেষে মুক্তিপণ পেয়ে শরীফ বাহিনী তাদের ১১জনকে শুক্রবার ভোর রাতে নৌকায় করে এনে তাদের সুন্দরবনের ধানসাগর আড়য়াবের নদীর মোহনায় সুন্দরবনে নামিয়ে দিয়ে যায়। প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার হেটে তারা বাড়ী পৌছায়। জাহাঙ্গীর বাহিনী তাদের বেদম মারধর করেছে বলে জেলে রুবেল জানান।
ফিরে আসা অপর জেলেরা হচ্ছে, উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছগির (৩২),রাকিব (২৩) লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), , হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩) এবং পাথরঘাটার পদ্মাস্লুইস এলাকার রুবেল (২৫), ও খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।
নিরাপত্তার স্বার্থে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ জেলেদের একজন মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, দস্যুরা প্রথমে জেলেদের জনপ্রতি ১ লাখ টাকা দাবী করে। পরে দর কষাকষি করে জন প্রতি ৭০ হাজার মুক্তিপণের টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করার পরে দস্যুরা জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে । সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবার বিপদে পড়বে এই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না বলে ঐ জেলেদের মহাজনরা জানান।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার খবর তার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
শান্ত ও নিবিড় সবুজে ঘেরা পরিবেশ, পাশে বয়ে চলা শান্ত জলধারা আর মাথার ওপর সুবিস্তৃত খোলা আকাশ—এমন এক নান্দনিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে এক অনন্য রেস্টুরেন্ট। যেখানে সাধারণ রেস্টুরেন্টের মতো মাটিতে নয়, বরং বিশালাকার একটি বটগাছের ডালে বসেই চা, কফি ও মুখরোচক নানা খাবার উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন ভোজনরসিকরা।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজার সংলগ্ন ঘোড়দহ গ্রামে এই ব্যতিক্রমী ‘বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট’ গড়ে তোলা হয়েছে। বিশাল একটি বটগাছের ওপর কাঠের মজবুত মাচা তৈরি করে নির্মিত এই রেস্টুরেন্টটি ইতোমধ্যে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে একটু শান্তির খোঁজে আসা মানুষ এখানে এসে সহজেই প্রকৃতির মাঝে বিলীন হতে পারছেন।
এই অভিনব উদ্যোগটি নিয়েছেন এলাকার দুই কলেজপড়ুয়া তরুণ কনক হোসেন ও আবির হাসান। তাদের এই সৃষ্টিশীল চিন্তা ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে ভিড় জমাচ্ছেন। রেস্টুরেন্টটিতে ওঠার জন্য গাছের সঙ্গে বিশেষ কাঠের সিঁড়ি যুক্ত করা হয়েছে। মাচায় বসে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, কোকিলের ডাক ও স্নিগ্ধ বাতাস গ্রাহকদের এক ভিন্ন জগৎ উপহার দিচ্ছে। দর্শনার্থীরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
ঢাকা থেকে আগত পর্যটক রাকিব হাসান বলেন, “এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো পাইনি। গাছের ওপর বসে চা খাওয়া সত্যিই অসাধারণ। প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে মনে হচ্ছে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।” উদ্যোক্তা কনক হোসেন জানান, মানুষকে ভিন্নধর্মী ও শান্তিময় অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁরা এটি নির্মাণ করেছেন। অন্য উদ্যোক্তা আবির হাসান ভবিষ্যতে এখানে একটি মিনি পার্ক গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে হরিণাকুণ্ডু সড়কের পাশেই এই নান্দনিক স্থানটির অবস্থান।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড (কাল্ব)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের কুটুম কমিউনিটি সেন্টারে সংগঠনটির ১৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করা হয়।
সংগঠনটির সদর উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি খুরশিদ মোহাম্মদ সালেহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাল্ব-এর ট্রেজারার নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাল্ব-এর ‘গ’ অঞ্চলের ডিরেক্টর অধ্যক্ষ শেখ সহিদুল ইসলাম এবং মাগুরা-নড়াইল-ঝিনাইদহ জেলার শাখা ব্যবস্থাপক শাহরাজুল হক।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুই শতাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। সভায় বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও বার্ষিক বিবরণী পেশ করা হয়। এর পাশাপাশি সংগঠনের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং সদস্যদের সার্বিক কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মাহবুব হোসেন (সকু) অপহরণ করে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর মামলা দায়ের হলেও অভিযুক্তরা এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে, ৪নং আসামি গ্রেফতার হলেও প্রধান আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ মাহবুব হোসেন (৩৮), উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।তার ছোট ভাই পূর্বে ৬ শতক জমি বিক্রি করলেও পরবর্তীতে সেটি পুনরায় জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এজাহার উল্লেখ বলা হয়, গত (৮ এপ্রিল২৬) তারিখে রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে মাহবুব হোসেন বাড়ির সামনে রাস্তায় মোবাইলে কথা বলার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল লোক তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তাকে জোর করে ১ নং অভিযুক্ত সাদ্দামের বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়, ফলে তার দুই পায়ের হাঁটু ও বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, হামলাকারীরা তার কাছ থেকে জোরপূর্বক বাড়ির চাবি ও নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাকে ভয় দেখিয়ে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টাও করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাহবুব হোসেনকে প্রায় ৬ ঘন্টা আটকে রাখা হয়। পরে তার স্ত্রীর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হসপিতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনার পর থানায় এজাহার দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত ৪নং আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও রহস্য জনক ভাবে প্রধান আসামীদের গ্রেফতার করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দিবালোকে এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাদের ধরছে না। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে আদমদিঘী থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান বলেন, একজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বাকি আসামীদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের দিক থেকে ‘পুশইন’ করে পাঠানো ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর।
হস্তান্তরকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের রাহুল তালুকদার (৩০), খালিয়াজুড়ী উপজেলার যোগীমারা গ্রামের যুবরাজ সরকার (৪০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাঙাধর গ্রামের হাবুল দাস (৫০), তার স্ত্রী সুমিত্রা দাস (৪৫), মেয়ে অনামিকা দাস (১৮) ও ভূমি দাস (৭), ছেলে হেমন্ত দাস (১৭), হামতপুর গ্রামের গোপাল দাস (২৮), সদর উপজেলার বক্তারগাঁও গ্রামের মো. আল আমিন (৩৭) এবং তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২০)।
এসআই ফরহাদ মাতব্বর জানান, শুক্রবার সকালে মুরইছড়া সীমান্তসংলগ্ন চা-বাগান এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ৪৬ ব্যাটালিয়নের মুরইছড়া ক্যাম্পের টহল দল। পরে তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে এবং পরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি তাদের কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করে। খবর পেয়ে রাতে স্বজনরা থানায় এসে পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুরে দেশদিগন্ত টিভি কাপ মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও অনলাইন পোর্টাল ‘দেশদিগন্ত’র সম্পাদক নিজামুর রহমান টিপুর সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ইউনাইটেড আলীপুরের উদ্যোগে আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে টুর্নামেন্টের এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলায় অল ফ্রেন্ডস সুলতানপুর ও আমুলি স্পোর্টিং ক্লাব অংশগ্রহণ করে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অল ফ্রেন্ডস সুলতানপুর ১-০ গোলে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান হেলাল, সাবেক আহবায়ক খোরশেদ আলী চৌধুরী, আকলিমুর রাজা চৌধুরী, অনু মিয়া, উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব সালমান হোসাইন, শেখ আতিকুর রহমান টুকু, কানিহাটি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান আহমেদসহ আরও অনেকে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে “হাল্ট প্রাইজ বাংলাদেশ ন্যাশনাল রাউন্ড ২০২৬”। শুক্রবার (৮ মে) দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কুয়েটের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন সংগঠন স্পেকট্রামের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৬০টি দল অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে দল ‘ডেনিম রিভাইভ’ ।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সামাজিক সমস্যার সমাধানমুখী উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা মনোভাবই আগামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। হাল্ট প্রাইজের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও বৈশ্বিক সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” তিনি আরও বলেন, কুয়েট সবসময় উদ্ভাবন, গবেষণা ও সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিকারী উদ্যোগকে উৎসাহিত করে এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেধা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. এম. এম. এ. হাসেম।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে কুয়েটের পরিচালক (ছাত্র-কল্যাণ) ড. মো. হাসান আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ ও দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্পেকট্রামের মডারেটর ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, হাল্ট প্রাইজ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি তরুণদের চিন্তা, উদ্ভাবন ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। তিনি আয়োজন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এছাড়া বক্তব্য দেন স্পেকট্রামের কো-মডারেটর ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক আসেফ শাহরিয়ার। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন প্রতিযোগিতার ইতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ইস্পাহানি এবং সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক। বিকেল ৩টায় মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজ বিরতির পর জাতীয় পর্বের চূড়ান্ত আয়োজন শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জুনায়েদ আল রাইয়ান ও নুজহাত সিনথিয়া সাবা।
বক্তারা জানান, হাল্ট প্রাইজ বিশ্বের বৃহত্তম শিক্ষার্থীভিত্তিক সামাজিক উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতা, যা জাতিসংঘের কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিচালিত হয়। প্রতিবছর বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতার বৈশ্বিক বিজয়ী দল পায় ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সিড ফান্ড।
বাংলাদেশ পর্বে অংশগ্রহণকারী ৬০টি দলের মধ্য থেকে বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা ৮টি দল ফাইনাল রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়। ফাইনালে জায়গা পাওয়া দলগুলো ছিল— সাইলেন্ট স্কলার, অন্নছায়া, শুরক্ষা টেক্স, নিউরোচেইন, ডেনিম রিভাইভ, টাইলাস, রিব্রিক ও জুটেরা। প্রতিটি দল চার মিনিটের পিচিং এবং চার মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মধ্যে ছিলেন জাগ সিস্টেম লিমিটেডের সিইও বাহাউদ্দিন আরাফাত, কৃষি স্বপ্ন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সৈয়দ জুবায়ের হাসান, নেক্সটজব লিমিটেডের সিবিও শোয়েব হাসান, ভিএফএম ভেঞ্চারস লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহফুজ রহমান সিএমএ, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর সল্যুশন কনসালট্যান্ট এমডি মিফতাহ উদ্দিন, নুপোর্টের সিইও ফাহিম সালাম এবং গ্রামীণ ডিজিটাল হেলথকেয়ার সল্যুশনের সিইও ড. আহমেদ আরমান সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।
শেষে বিচারকদের সিদ্ধান্তে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয় দল ‘ডেনিম রিভাইভ’ -এর নাম। বিজয়ী দল এখন বৈশ্বিক ইনকিউবেশন প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
পুরস্কার বিতরণ শেষে অতিথি, বিচারক, আয়োজক ও প্রতিযোগী দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত গ্রুপ ফটোসেশনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন স্থাপত্য। নাম তার ‘মসজিদকুড়’ মসজিদ । পোড়ামাটির পাতলা ইট আর চুন-সুরকির গাঁথুনিতে নির্মিত নয় গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি প্রায় ছয় শ’ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও অম্লান।
উপজেলার নাম অনেকের কাছে অপরিচিত হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে ‘মসজিদকুড় মসজিদ’ এক অতি পরিচিত নাম। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন এই প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দেখতে।
নয় গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার এই মসজিদটি প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতœতাত্ত্বিক পরিমাপে এর প্রতিটি পাশের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ৭৬ মিটার এবং ভেতরের অংশের দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ১৯ মিটার। মসজিদের ভেতরে চারটি ইটের তৈরি স্তম্ভ আছে, যেগুলোর প্রতিটিতে দুটি করে পাথর বসানো। এই স্তম্ভগুলো মসজিদের ভেতরের অংশকে নয়টি সমবর্গক্ষেত্রে ভাগ করেছে, যার ওপরের অংশ গম্বুজ দিয়ে আচ্ছাদিত। কিবলামুখী দেয়ালে রয়েছে একটি চমৎকার অর্ধবৃত্তাকার মিহরাব।
মসজিদকুড় গ্রামের বাসিন্দা আবু তায়েব সানা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ছোটবেলায় এই মসজিদে আমরা আরবি পড়তে আসতাম। এই মসজিদের নামেই আমাদের গ্রামের নাম। একসময় মানুষ এখানে মানত করে হাঁস-মুরগি বা ছাগল ছেড়ে দিত, তবে এখন তা বন্ধ।” তিনি আরও জানান, প্রচ- গরমেও মসজিদের ভেতরটা আশ্চর্যরকম শীতল থাকে।
মসজিদটিতে কোনো শিলালিপি না থাকায় এর সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তবে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যরীতির সঙ্গে এর গভীর সাদৃশ্য থাকায় ধারণা করা হয়, এটি হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর সময়েই নির্মিত।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৪১৮ থেকে ১৪৩৩ সাল পর্যন্ত বাংলার সুলতান ছিলেন জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ। ধারণা করা হয়, সেই সময়ে খানজাহান আলী (রহ.) যশোরের মুড়লী পর্যন্ত এসে তাঁর কাফেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। তাঁর এক সহচর বোরহান খাঁ ওরফে বুড়া খাঁ ও তাঁর ছেলে ফতে খাঁর নেতৃত্বে একটি দল সুন্দরবন সংলগ্ন এই আমাদী এলাকায় আস্তানা গেড়েছিলেন। গবেষকদের ধারণা, তাঁদের উদ্যোগেই ১৪৪৫ সালের দিকে মসজিদকুড় মসজিদটি নির্মিত হয়।
বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে রয়েছে। মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “বিগত দুই বছর ধরে আমি এখানে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছি। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এটি দেখতে ভিড় করেন।”
রমজান মাসে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। কপোতাক্ষ নদের পাড়ে শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন শৈলী পর্যটকদের আজও মুগ্ধ করে চলেছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড এন্ড রেগুলেশন্স বিভাগের উপপরিচালক (বাইল্যাটেরাল নেগোসিয়েশন) মো. ওয়াদিদুজ্জামান আজ ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
জানা যায়, কিডনি প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতা লাভের পর্যায়ে থাকাকালীন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মো. ওয়াদিদুজ্জামানের মৃত্যুতে বেবিচক পরিবারের সদস্যরা মর্মাহত ও গভীরভাবে শোকাহত।
বেবিচক এর পক্ষ থেকে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং মহান আল্লাহর নিকট তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারকে এ অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি প্রদানের জন্য দোয়া করা হয়েছে।
জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে খুলনা মহানগরের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৮ মে ) খুলনা সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। পরে সন্ধ্যায় খুলনা বসুপাড়া বাঁশতলা বরকতিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এতিম শিক্ষার্থীদের সাথে দোয়া ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেহেনা ঈসা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিয়াজ আহমেদ তুহিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশ, দেশপ্রেম, নৈতিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে একটি মানবিক ও আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব। বর্তমান প্রজন্মকে মেধা ও মননের বিকাশে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের আঁকা বিভিন্ন চিত্রে ফুটে ওঠে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ, প্রকৃতি, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের নানা দিক। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন খুলনা মহানগরের নেতৃবৃন্দ— মোহাম্মদ আলী, জুবায়ের মোর্শেদ, আবু সাঈদ, মাহবুবুল আলম, শফিকুল হোসেন শান্ত, বনানী সুলতানা ঝুমু, আশরাফুল রহমান মিলন, গাজী হাসান রুমি, মোঃ ফারহাদ হোসেন, মিজানুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা বসুপাড়া বাঁশতলা বরকতিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এতিম শিক্ষার্থীদের সাথে দোয়া ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এ সময় নেতৃবৃন্দ এতিম শিশুদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের কল্যাণে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এ আয়োজন শিশু-কিশোরদের মাঝে আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনার নতুন মাত্রা যোগ করে। অংশগ্রহণকারী অভিভাবক ও অতিথিরা এমন আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।