বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

হলফনামায় সম্পদের যে তথ্য দিলেন চট্টগ্রামের ৯ প্রার্থী

১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০২

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৫১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯ জন প্রার্থীর হলফনামায় দেখা গেছে, কারও কারও সম্পদ বেড়েছে, আয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। কারও স্ত্রী বিপুল সম্পদের মালিক। কারও কৃষিতে আয় বেড়েছে। কারও নগদ বেশি, কারও আছে ঋণ।

মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী।

তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, কৃষি খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া পান বছরে ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নগদ আছে নিজ নামে ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একটি নোহা গাড়ি আছে ১৪ লাখ টাকার, স্বর্ণ নিজের নামে ১০ হাজার টাকার ও স্ত্রীর নামে ১৫ হাজার টাকার। এ ছাড়া তার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আছে ১ লাখ টাকার। আসবাবপত্র আছে নিজের নামে ১ লাখ টাকার ও স্ত্রীর নামে ১০ হাজার টাকার।

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি এমএ পাসসহ পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তার হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তার হলফনামায় তিনি এ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৪২ টাকা, জাতীয় সংসদ থেকে প্রাপ্ত ভাতা দেখিয়েছেন ২৩ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ টাকা। এ ছাড়া গতবার আল্লামা ফজলুল হক ফাউন্ডেশন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৯ লাখ টাকার সম্মানী ভাতা দেখালেও এবার সে তথ্য নেই তার হলফনামায়। পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নিজের নগদ অর্থ না থাকলেও এবার দেখিয়েছেন নিজের নামে নগদ সঞ্চয় আছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪১ টাকা, স্ত্রীর নামে গত নির্বাচনে ৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ ছিল, এবার দেখিয়েছেন ২০ লাখ ২১ হাজার ২৪৬ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা গত নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে ১ কোটি টাকার বেশি। গত হলফনামায় তা ছিল ৬৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা, এবার রয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৪ টাকা, স্ত্রীর নামেও বেড়েছে ব্যাংকে জমা অর্থ। ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার অর্থ ছিল একাদশ সংসদের হলফনামায়, এবার তা ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৫ টাকা। আয় বেড়েছে অন্য খাতগুলোতেও। এবার তার নিজের নামে ব্যাংক ডিপিএস ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৪ টাকা, এফডিআর ২ কোটি ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ২২০ টাকা, স্ত্রীর নামে ডিপিএস ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮ টাকা, এফডিআর ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৬ টাকা। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া খাতে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬২ টাকা আয় দেখালেও এবারে এ খাতে আয় দেখাননি তিনি।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৭ টাকা। তিনি ও তার স্ত্রীর কাছে নগদ আছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। বাড়ি-দোকান ভাড়া বাবদ বছরে আয় করেন ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩২ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৯২ টাকা ও স্ত্রীর নামে নগদ টাকা রয়েছে ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩২ টাকা। তার নামে ব্যাংকে জমা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৪ টাকা। কোম্পানিতে শেয়ার রয়েছে নিজ নামে ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬০ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭৫ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৫ টাকা।

মাহফুজুর রহমান মিতা

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা। তার দেয়া হলফনামায় দেখা যায়, নিজের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আছে গাড়ি-বাড়ি। ঢাকার পূর্বাচলে তার নামে ২৩ লাখ টাকা দামের একটি ছয় কাটার ও একটি তিন কাঠার মোট দুটি প্লট রয়েছে। সব মিলিয়ে নিজ নামে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তবে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি। স্ত্রীর রয়েছে ৮৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ খাতে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ খাতে তার স্ত্রীরও রয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ২১ হাজার টাকা।

নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর বাৎসরিক আয় ৫০ লাখ টাকা। নিজেরসহ স্ত্রী ও দুই সন্তানের নামে আছে ছয়টি গাড়ি। হলফনামায় বলা হয়েছে, ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় হয় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে আয় আসে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে সম্মানী পেয়েছেন বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বাৎসরিক আয় প্রায় ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। নিজের নামে ব্যাংকে জমা ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৮৭৫ টাকা ও দুই ছেলের নামে রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৯০১ টাকা। নিজের নামে এফডিআর রয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ও ছোট ছেলের নামে ৫৮ লাখ ৬১৩ টাকার এফডিআর।

আব্দুল মোতালেব

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মোতালেব। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নির্বাচনে এসেছেন তিনি। তার দেয়া হলফনামায় ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ টাকা, বাড়ি-দোকান ও অন্যান্য বাবদ আয় ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ২০ হাজার ৬২৬ টাকা, পেশা থেকে (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন পরামর্শক ইত্যাদি) আয় ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে পান (পরিচালক ভাতা) বছরে ১৮ লাখ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্মানী পেয়েছেন ৭ লাখ ৭ হাজার ৫৮৭ টাকা। তার নিজের নামে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৪ হাজার ২০৭ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৯ টাকা।

খাদিজাতুল আনোয়ার সনি

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এ সদস্য এবার মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তার জমা দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, তার বসবাসকারী বাড়ির মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। তার বাৎসরিক আয় হিসেবে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্রে বছরে আয় হয় এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ২৬ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা ও অন্যান্য খাতে তার আয় ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১১৫ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজ নামে পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত চার একর জমি আছে যার মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আছে অকৃষি জমি যার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পাঁচলাইশে আছে তার আরেকটি ভবন, সেটিরও মূল্য চার কোটি টাকা।

আবু তৈয়ব

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব। জমা দেয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার পেশা ব্যবসা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে আছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩১০ টাকার সম্পদ। ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো খাতে আয় নেই। ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৭২৮ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা আছে ৮৫ হাজার ৩১০ টাকা।

সোলায়মান আলম শেঠ

চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়ামান আলম শেঠ। পেশায় ব্যবসায়ী এ নেতার হলফনামা অনুযায়ী বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৬২ হাজার ২২৪ টাকা। এ ছাড়া চাকরি থেকে আয় করেন ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ সঞ্চয় আছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে অকৃষি জমি পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত জমির মূল্য ১৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৭৯৮ টাকা, খাগড়াছড়িতে থাকা তার জমির মূল্য ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। তবে দুটি ব্যাংকে দায়দেনা আছে তার। সেই দায়-দেনার পরিমাণ ১০২ কোটি ৮৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬২ টাকা।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোন ভেদাভেদ নেই: প্রতিমন্ত্রী পুতুল 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

পূজা সারা বাংলাদেশের একটি উৎসব। এই দেশে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোনও ভেদাভেদ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে পূজা মণ্ডপে ডিও প্রদান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় প্রতিমন্ত্রী পুতুল আরও বলেন, দূর্গাৎসব বর্নিল ও আনন্দময় করার জন্য নানা ধরনের উদ্যাগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এছাড়াও পূজার উৎসবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোন ধরনের ছাড় নেই। কেউ কোন ধরনের সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে এবং দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামসুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবুসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নীলফামারীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি আনজারুল হক মিলনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. মমিনুর রহমান, সদর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহানুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সুদেব চন্দ্র, সহসাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও সহসভাপতি রোকসানা আক্তার প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে মাইকিংয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়। বরং স্বাস্থ্য সহকারীদের মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। এ ছাড়া তাঁদের পরিবহন খরচ ও এসিআর বিল দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বক্তারা অবিলম্বে ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

এ সময় সংগঠনের সদস্য মেহেরুন্নেসা, আফরোজা বিনতে আজিজ গ্লোরী, শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, ফজলুর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, আব্দুল্লাহ আল মুকিত সৌরভ, বিধান চন্দ্র রায়, নিরব চন্দ্র রায়সহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সুশিক্ষিত হয়ে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে হবে: সরমিন ইসলাম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২৮
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরে সদরের মস্তফাপুর ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণী ও বিএসএস (১ম বর্ষ) শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ​ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কলেজটির হলরুমে এ নবীনবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু মশক রোধে পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কলেজ চত্বরে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সরমিন ইসলাম ডেইজি নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনারা দেশ ও জাতির আগামীর প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ, আপনাদের খেলাধূলার পাশাপশি শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে, সফলতা কখনো মসৃণ পথে আসে না, সফল হতে হলে আপনাদের ভীষণভাবে পরিশ্রম করতে হবে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে ভালো রেজাল্টে অর্জন করে কেউ ডাক্তার হবেন, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা ডিসি-এসপি সহ মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক'।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আবার কেউ আমাদের মতো রাজনীতিতেও যুক্ত হয়ে দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবেন। এজন্য আপনাদের সুশিক্ষিত হতে হবে। এসময় কলেজটির অধ্যক্ষ হাসমাতুন নেছার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গভর্নিং বডির সদস্য এনায়েত হোসেন, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবুল বাশার মাতুব্বর সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গনমাধ্যম কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।


নির্বাচিত

বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী ও নাটোর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বারনই নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনরুজ্জীবিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। নদী খনন ও পুনরুদ্ধারের পর যাতে আবার দখল বা ভরাট করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স। এ বিষয়ে প্রতি মাসে সার্বিক প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ‘রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বারনই নদী দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও দূষণের শিকার। নদীর পানি এতটাই দূষিত যে, তা ব্যবহার করলে কিংবা নদী পারাপারের সময় মানুষের শরীরে ঘা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং নদীর পানিকে দূষণমুক্ত করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নদীটি খনন ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।

নদী খননের পর আবার দখল ও ভরাট ঠেকাতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অতীতে অনেক নদী ও খাল খননের পর আবারও দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বারনই নদীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সদস্যরা প্রতি ১৫ দিন পরপর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবেন। পাশাপাশি নদী ও খালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

ঘাগড়া ইউনিয়নে কেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মোস্তফা কামাল!

ছবি: মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

শরতের মৃদু বাতাস কিংবা চা-স্টলের ধোঁয়া ওঠা কাপ-কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত মিঠামইন উপজেলার ৪ নং ঘাগড়া ইউনিয়নে এখন সবখানেই এক পরিচিত আবহ। নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি, অথচ হাওরের মাঠে-ঘাটে, ঘাটে বাঁধা নৌকায় আর পাড়ার মোড়ে মোড়ে বইছে নির্বাচনী আগাম হাওয়া।

তবে এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন, তিনি এক পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষিত তরুণ মুখ-সমাজসেবক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। ভোটারদের মুখে মুখে ঘুরছে তাঁর নাম। কিন্তু প্রশ্ন জাগতেই পারে, কেন তাঁকে নিয়ে সাধারণ মানুষের এই তুমুল কৌতূহল? কে এই জনপ্রিয় মুখ?

​মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের জন্ম ঘাগড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভরা গ্রামে। জনসেবার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন পারিবারিকভাবেই। তার বাবা হাবিবুর রহমান সরকার ছিলেন ভরা গ্রামের ৩ বারের নির্বাচিত সফল ইউপি সদস্য। বাবার হাত ধরে বাল্যকাল থেকেই সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখের সাথী হওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পদের অপেক্ষা না করেই বিগত দুই বছর ধরে তিনি নিরলসভাবে ইউনিয়নের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছেন। উঠান বৈঠক, গণসংযোগ কিংবা মেঠোপথে হেঁটে হেঁটে সাধারণ মানুষের দুখ-কষ্টের কথা শুনছেন মোস্তফা কামাল। তার বিনীত আচরণ, সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং সহজেই মানুষের হৃদয়ে মিশে যাওয়ার দক্ষতা তাকে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে প্রিয় পাত্র করে তুলেছে।

​মাঠপর্যায়ে ঘাগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে ফুটে ওঠে তার মানবিক কাজের খণ্ডচিত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবীণ ভোটার জানান, যেকোনো কঠিন সময়ে বা বিপদে-আপদে তারা মোস্তফা কামালকে পাশে পেয়েছেন এবং নিঃস্বার্থভাবে তিনি অসহায়দের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সিহারা গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বি গোলাপ মিয়া জানান, দক্ষিণ হাটির মসজিদের উন্নয়ন কাজে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। এছাড়া চমকপুর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হারিছ ও মাওলানা খূর্শিদ জানান, সমাজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও তিনি সমান আন্তরিক। সম্প্রতি তিনি নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষকের বেতনের দায়িত্ব নিয়েছেন। চমকপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন শিকদারও বলেন, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় তিনি সবসময়ই আন্তরিক।

​একজন উচ্চশিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বের ভাবনা অন্য দশজনের চেয়ে কিছুটা আলাদাই হয়। মোস্তফা কামাল তার ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার উন্নয়ন ভাবনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-ইউনিয়নজুড়ে প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি, জরাজীর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও সহায়তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের করাল থাবা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার সুব্যবস্থা করা এবং তাদের কর্মমুখী ও দক্ষ যুবশক্তিতে রূপান্তর করা।

​নির্বাচনী তফসিল ঘনিয়ে এলে নতুন অনেক প্রার্থীই হয়তো মাঠে নামবেন এবং নির্বাচনী সমীকরণ আরও পরিবর্তন হবে। তবে বর্তমানের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও গণসংযোগের গতি বিচারে মাঠের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন মোস্তফা কামাল।


নির্বাচিত

মাগুরায় বর্ধিত পৌরকর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা পৌরসভার বর্ধিত পৌরকর প্রত্যাহার ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি দিয়েছে গণকমিটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরা পৌরসভার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে মাগুরা গণকমিটি।

গণকমিটি মাগুরা জেলার আহ্বায়ক এটিএম মহব্বত আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু ও মাগুরা জেলা বণিক সমিতির সভাপতি মুন্সী হুমায়ূন কবীর রাজা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাগুরা পৌরসভায় আগের বছরের তুলনায় কয়েকশত গুণ পৌরকর বাড়ানো হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে পৌরবাসীর সঙ্গে কোনো আলোচনা কিংবা আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র না থাকায় এ সময়ে কোনো নিয়মে কর বাড়ানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বর্ধিত পৌরকর স্থগিত ঘোষণা না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

বক্তারা আরো বলেন, পৌরকর পরিশোধ করেও নাগরিকেরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। শহরে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়কের বেহাল দশা, খানাখন্দ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণের জন্য আলাদা অর্থ দিতে হলেও শহর পরিষ্কারে আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নেই। বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য নদীতে ফেলে দূষণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ ছাড়াও শহরে নারী-পুরুষের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগারের অভাব, বিভিন্ন এলাকায় সড়কবাতি না থাকা এবং ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়লেও পৌর এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো না হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন বক্তারা।

তাদের ভাষ্য, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে পৌরকর বৃদ্ধি করা জনস্বার্থবিরোধী। এটি পৌরবাসীর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তাই অবিলম্বে বর্ধিত পৌরকর প্রত্যাহার এবং পৌরসভার সব এলাকায় মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধন শেষে গণকমিটির পক্ষ থেকে স্মারক লিপি তুলে দেয়া হয় পৌরসভার প্রশাসকের অফিসে।


নির্বাচিত

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৪৩

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে মারা গেছে ৮৬ জন।

এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর ‍উদ্যোগে নতুন ঘর পেল অসহায় লকাই বিশ্বাসের পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফরিদপুরে একটি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গাজিরটেকের চর সর্বান্দিয়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে অসহায় লকাই বিশ্বাসের পরিবারের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

একই অনুষ্ঠানে আরও ১০ অসহায় নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি পরিবারকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আর্থিক সহায়তা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা দেয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এসব সহায়তা উপকারভোগীদের দৈনন্দিন জীবনের সংকট মোকাবিলা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-৩ আসনে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোরদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২

* প্রতি ১০০ পদের মধ্যে ২৬টির বেশি পদেই নেই জনবল
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের মধ্যে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। যা অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ পদের মধ্যে ২৬টির বেশি পদেই জনবল নেই।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোট অনুমোদিত ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি পদের বিপরীতে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জনবল কর্মরত রয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সংখ্যা অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের জন্য তৈরি মন্ত্রণালয়ের এক নথিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যপত্রের সঙ্গে নথিটি দেওয়া হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। এসব পদে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, শাহজাহান চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু ও নূরুল ইসলাম বুলবুল।

শূন্যপদ পূরণের পরিকল্পনা সম্পর্কে নথিতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর ও সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে শূন্যপদ পূরণে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ হাজার ৬১টি পদ পূরণ করা হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও তাদের অধীন কার্যালয়গুলোতে অনুমোদিত পদ ৪১ হাজার ৭৫৫টি। এর বিপরীতে কর্মরত জনবল ২৭ হাজার ১৭৭ জন ও শূন্যপদ ১৪ হাজার ৫৭৮টি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জনবলের চিত্রেও শূন্যপদের তথ্য রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ৬২৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৫০৫ জন। শূন্য রয়েছে ১২৪টি পদ।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার জনবলকাঠামো হালনাগাদ করা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। নথিতে জনবলকাঠামো ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা হালনাগাদের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও হালনাগাদের কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরির মোট শূন্যপদের কতটি কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগে রয়েছে, এসব পদ পূরণে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে ও পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা কী—তা নথিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ নেই।

কমিটির সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘যেগুলো শূন্যপদ আছে, সেগুলো দ্রুত পূরণের জন্য কথা বলেছি। কিছু উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন সার্কিট হাউসের প্রকল্প ২০২৩ সালে শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি ১৫ শতাংশ, কোনোটি ৭ শতাংশ। এগুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রীর গতির সঙ্গে মিলছে না। সবাই যার যার মতো করে বলেছে।’

সূত্র জানায়, বৈঠকে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া বিশেষ বিসিএস নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, মেধাতালিকায় ১১৯তম হয়েও শিবিরসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজন প্রার্থীকে প্রথমে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কেন ও কোন মানদণ্ডে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চান তিনি। এ সময় প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি-সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনার প্রক্রিয়া কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়।

তবে আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো সুপারিশ কমিটি করেনি বলে সূত্র জানায়।

কমিটির সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিসিএসে নিয়োগে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কী কী যাচাই-বাছাই করা হয়, তা বৈঠকে জানতে চান জামায়াতের এমপি। তবে, জামায়াতের এমপির অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন ফখর উদ্দিন আহমেদ।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম ওই প্রজ্ঞাপনে ছিল না। তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দেননি ও আটজন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপস্থিত হননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ নিয়ে বিতর্কের পর ৫ অক্টোবর ৪৬ জনের মধ্যে ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের কাজে অসহযোগিতাকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। সরকারি কাজে ক্ষতিকর ভূমিকা না থাকলে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে না বলেও আলোচনায় মত উঠে আসে। ওএসডি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা ও অবস্থান বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে কমিটির সভাপতি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে কমিটির সামনে তুলে ধরতে হবে। কোনো বিষয় গোপন না করে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রাসঙ্গিক নথি ও বাস্তব পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, সমস্যা সমাধানে প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নন। কমিটিকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সবাইকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এলেও কমিটিতে সবার অভিন্ন পরিচয়—তারা জনগণের প্রতিনিধি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব প্রকল্পের কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিটি। একই সঙ্গে ‘সবার ওপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রমে অসহযোগিতা বা অবহেলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।


নির্বাচিত

সুন্দলপুরের গ্যাসে ঘুরে দাঁড়াতে পাড়ে জ্বালানি খাত

* সুন্দলপুর থেকে দিনে মিলতে পারে ৭০ লাখ ঘনফুট * আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ * অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গতি বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে নোয়াখালীর সেনবাগের সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ। প্রাথমিক হিসাবে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। কূপটির গ্যাস প্রবাহ, মজুত ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। পরীক্ষায় সম্ভাবনা নিশ্চিত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হবে নতুন জোগান, যা আমদানিনির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে।

দেশের গ্যাস খাতে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে সুন্দলপুরের এই সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে; অন্যদিকে পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে আসায় সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন কূপ অনুসন্ধান, বিদ্যমান ক্ষেত্রের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন মজুত শনাক্ত করার উদ্যোগ দেশীয় জ্বালানি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দলপুর-৪-এর মতো উদ্যোগের সুফল বাড়াতে হলে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি কূপ খননের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে অনুসন্ধান জোরদার, সম্ভাবনাময় কূপ দ্রুত উৎপাদনে আনা, পুরোনো কূপের সংস্কার এবং গ্যাস পরিবহনের অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে দেশীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে সুন্দলপুর-৪ কূপের খননকাজ শুরু হয় গত ২৮ জুলাই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) তথ্য অনুযায়ী, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, পরীক্ষা শেষ হলে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রাথমিক হিসাবে দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি জোগান যুক্ত হবে। তবে দেশের দৈনিক চাহিদা ও বিদ্যমান ঘাটতির তুলনায় এ পরিমাণ সীমিত। ফলে কূপটি উৎপাদনে গেলেও এককভাবে শিল্প, বিদ্যুৎ, সার ও আবাসিক খাতের গ্যাস সংকট দূর হবে না। এর গুরুত্ব হলো, দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এটি একটি নতুন সংযোজন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ভূগর্ভে গ্যাসের উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কূপের চাপ, গ্যাস প্রবাহের হার, ভূতাত্ত্বিক কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা যাচাইয়ের পরই এর প্রকৃত সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যাবে। পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে পরবর্তী উন্নয়ন ও উৎপাদন পরিকল্পনা নির্ধারণ সহজ হবে।

অনুসন্ধান বাড়লেই খুলবে নতুন সম্ভাবনা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

দেশের গ্যাস পরিস্থিতি বিশ্লেষণে তার বক্তব্যের মূল দিক হলো, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন মজুত আবিষ্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। পুরোনো ক্ষেত্রের উৎপাদন কমে আসার পাশাপাশি চাহিদা বাড়ায় নতুন উৎস অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ, অনুসন্ধান কার্যক্রমকে সুন্দলপুর-৪ বা অন্য কোনো একটি সম্ভাবনাময় কূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। ভূকম্পন জরিপ, অনুসন্ধান কূপ খনন, ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং সফল কূপকে দ্রুত উৎপাদনে নেওয়ার কাজ সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে। এতে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিকল্পনা আরও নির্ভরযোগ্য হবে।

স্থলভাগের কম অনুসন্ধান করা অঞ্চলগুলোর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য জরিপ এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে এসব সম্ভাবনার প্রকৃত চিত্র পাওয়া সহজ হবে। নতুন আবিষ্কারের পাশাপাশি আগে শনাক্ত করা সম্ভাবনাময় কাঠামোগুলো পুনর্মূল্যায়ন করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের গ্যাস ঘাটতি পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে আমদানিনির্ভর ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিমের বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একক কোনো উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তাৎক্ষণিক সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ ঘাটতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; দেশীয় অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জ্বালানির উৎস বহুমুখী করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের এসব মূল্যায়ন থেকে স্পষ্ট, আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বল্পমেয়াদে আমদানি সরবরাহের ঘাটতি সামলাতে সহায়তা করে। অন্যদিকে দেশীয় গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কার, বিদ্যমান ক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা দীর্ঘমেয়াদে আমদানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করে।

দেশীয় উৎপাদন বাড়লে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনাও সহজ হতে পারে। তবে এ সুফল নির্ভর করবে নতুন গ্যাসের প্রকৃত প্রাপ্যতা, উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন সক্ষমতা এবং খাতভিত্তিক চাহিদা ব্যবস্থাপনার ওপর।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, কৈলাসটিলা, সিলেট ও ভোলার গ্যাসক্ষেত্র। এসব ক্ষেত্রের কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে আসার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন কূপ খনন, বিদ্যমান কূপের সংস্কার এবং অবশিষ্ট মজুতের কার্যকর ব্যবহার জরুরি।

নোয়াখালীর সুন্দলপুর-৪ কূপটি সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের পরিচিত কাঠামোর অংশ। সে কারণে এটিকে সম্পূর্ণ নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা না করে বিদ্যমান এলাকার গ্যাস সম্ভাবনা যাচাই ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা যুক্তিযুক্ত। পরীক্ষায় প্রত্যাশিত প্রবাহ পাওয়া গেলে এ অঞ্চলের গ্যাস উৎপাদনে নতুন অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে ভোলায় গ্যাসের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবহন অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। কোনো গ্যাসক্ষেত্রে উত্তোলনযোগ্য মজুত থাকলেও প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও সরবরাহব্যবস্থা না থাকলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সেই গ্যাস পৌঁছানো কঠিন। তাই অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং জাতীয় গ্রিডে সংযোগকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে শুধু গ্যাসের মজুত শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; কোথায় কত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, কী পরিমাণ উত্তোলন করা সম্ভব এবং কোন অবকাঠামোর মাধ্যমে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো যাবে—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

১৫০ কূপের পরিকল্পনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ: দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সরকার ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার বা সংস্কারের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, ওই কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খনন ও সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত দৈনিক ৮ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি জানান। এই কর্মসূচির গুরুত্ব হলো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পাশাপাশি বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েও তুলনামূলক দ্রুত সরবরাহে অবদান রাখা সম্ভব। ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন কমে যাওয়া কোনো কোনো কূপের কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা গেলে নতুন করে অনুসন্ধান ও উন্নয়নের অপেক্ষা না করেই বাড়তি গ্যাস পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিটি কূপের ফলাফল তার ভূতাত্ত্বিক অবস্থা ও কারিগরি সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।

১৫০ কূপের কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন, খনন ও সংস্কারের মান নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনে আসা গ্যাস দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেলে দেশীয় সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টা আরও গতি পেতে পারে। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ব্যয়, উৎপাদন এবং সরবরাহের ফল নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।


নির্বাচিত

নীলফামারীতে বিচারক সংকটে থমকে আছে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার

* জামিনের আবেদনেও বাড়ছে ভোগান্তি * চার মাস ধরে নেই বিচারক, আলামত নষ্টের শঙ্কা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রায় চার মাস ধরে বিচারক নেই। এতে আদালতটির বিচার কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এবিএম গোলাম রসুলকে ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় অনীহার অভিযোগ উঠেছে। এতে নীলফামারী সদর, জলঢাকা ও সৈয়দপুর উপজেলার বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন মামলার বিচার ও সাক্ষ্য গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জিয়াউদ্দিন মাহমুদ গত ২৩ জুন জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন। এরপর নতুন বিচারক পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এবিএম গোলাম রসুলের ট্রাইব্যুনাল-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব পালনের কথা। তবে বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত বিচারকের কাছে জামিনের আবেদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিকার চাইতে গিয়ে তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আসা বিচারপ্রার্থী মো. আখতারুল আলম বলেন, ‘আমার জামাই ও ভাতিজা দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের জামিনের আবেদনের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ গেলে পেশকাররা ফাইল নেন না। তারা বলেন, ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্যার এসব জামিনের আবেদন দেখবেন না। জামিন হবে কি হবে না, সেটা পরের বিষয়। অন্তত আবেদনটি দেখার মতো কেউ নেই বলে তিনি জানান।’

নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় সাতারুপাড়ার মহির উদ্দিন বলেন, ‘ওই আদালতে বিচারক না থাকায় আমার ছেলের জামিন নিয়ে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত বিচারক আমাদের জামিনের ফাইল দেখতে চান না। অনেকবার চেষ্টা করার পর একদিন সবকিছু দেখে পরে তিনি জামিন দিয়ে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, ২ থেকে ১৮ই জানুয়ারী ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান খান পদায়ন হওয়ার আগ পর্যন্ত ১৮ দিন এবং ২০২৫ সালের ২১ রমজানে ছুটিতে বাড়ি যাওয়ায় ১৩ দিন, এরপর আবার হজে যাওয়ায় টানা ৪৩ দিন আদালতটিতে কোনো বিচারক ছিলেন না বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৩ জুন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনজন বিচারক বদলি হয়েছে। ওই সময়ও এবিএম গোলাম রসুল ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্বে থাকলেও ট্রাইব্যুনাল-১ এর কোনো বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অনেক বিচারপ্রার্থীকে ইদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বিনা বিচারে কারাগারে কাটাতে হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনোও ভারপ্রাপ্ত বিচারকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনীহার অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রাপ্তির পর বিচারকাজ পরিচালনার জন্য আমি প্রস্তুত থাকলেও এবিএম গোলাম রসুল স্যার কোনো ফাইলিং, জামিনের আবেদন, আপসের সাক্ষী বা অন্য কোনো সাক্ষী গ্রহণ করেন না। এক কথায়, তিনি বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেন না।’

পিপি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপ্রার্থীরা দূরদূরান্ত থেকে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। পরে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক আল মাসুদ চৌধুরীসহ সমিতির অনেকে ভারপ্রাপ্ত বিচারককে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানান। তবে ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক এবিএম গোলাম রসুল স্যার বিচার পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এবিএম গোলাম রসুল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। গণমাধ্যমে কথা বলতে হলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিতে হবে।’


নির্বাচিত

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, ২১ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুজন সারোয়ার, টঙ্গী(গাজীপুর)

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২-এর ওষুধ উৎপাদন কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটসহ মোট ২১টি ইউনিটের ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিজিবি ও পুলিশও সহযোগিতা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরিন জুনাইদ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী স্কুইব রোডসংলগ্ন কারখানাটির একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ ও রাসায়নিক মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের ভবনেও ছড়িয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে টঙ্গী, উত্তরা, গাজীপুর ও আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে ২০টি ইউনিট যুক্ত হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে অংশ নেয়। আগুন নেভানোর কাজে দ্রুত পানি সরবরাহে গাজীপুর সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করে।

আরও জানান, আগুনের খবর পাওয়ার পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরপর ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন আর নতুন কোনো ভবনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি জানান।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া দুপুর একটার দিকে

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন জানান, আগুন নেভানোর কাজে সিটি করপোরেশনের ইউনিট ও কর্মীরা অংশ নেন। অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন কাজ করেছে।

এদিকে, আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তার পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডে কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা নির্ধারণে পরবর্তী সময়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পর চেরাগ আলী এলাকায় যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


নির্বাচিত

এনজিও কার্যক্রমে সমন্বয় ও টেকসই উন্নয়নে কেশবপুরে মতবিনিময় সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে এনজিও সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা গত সোমবার (১২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)-এর কর্মকর্তা, প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পক্ষে সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম সংস্থার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন সংস্থা টি ১ জানুয়ারি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর, জয়েন্ট স্টক কোম্পানী, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির অনুমোদনক্রমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৮টি সুনির্দিষ্ট বিধিমালা মোতাবেক সংস্থাটি পরিচালিত হয়। সংস্থাটি দেশের তৃণমূল মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে এবং আমাদের প্রধান লক্ষ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাধান এনজিও’র সিনিয়র ম্যানেজার মুনছুর আলী, রিইব এনজিও’র সমন্বয়ক উজ্জ্বল, বাঁচতে শিখাও আসাদুজ্জামান, রিইব এনজিও সমন্বয়কারী লাবণী, মানবসেবা ও সামাজিক সংস্থার সহ-পরিচালক সাদেক হোসেন সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, এস আর যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক গোলাম কিবরিয়া,পি এম এ গফ্ফার, পরিচালক, যশোর জেলা প্রতিবন্ধী ও যুব উন্নয়ন সংস্থা মো. মোসলেম উদ্দীন, পরিচালক, মানব উন্নয়ন সংস্থা, গড়ভাঙ্গা, কেশবপুর, যশোর। সুফিয়া পারভীন, পরিচালক, কপোতাক্ষ মহিলা ও যুব উন্নয়ন সংস্থা, কেশবপুর, যশোর। সরকার রজা রুনা, (এরিয়া কোঅর্ডিনেটর), স্পিক আপ বাংলাদেশ (জিইপি), কেশবপুর অমরেশ কুমার মন্ডল (সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক), ব্যুরো বাংলাদেশ অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা উন্নয়ন কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

banner close