রোববার, ৩ মে ২০২৬
২০ বৈশাখ ১৪৩৩

দশক পার হলেও চালু হয়নি ১২ স্থলবন্দর

আন্তর্দেশীয় যোগাযোগ
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২০ অক্টোবর, ২০২২ ০৮:০৪
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২২ ০৮:০৪

তৌফিকুল ইসলাম

স্থলবন্দর ঘোষণার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে ১২টিই এখনো চালু হয়নি। এর মধ্যে কয়েকটির ক্ষেত্রে সময় পেরিয়েছে দুই দশক, আবার কোনোটির এক দশক। তারপরও অনেকগুলোতে নেই গুদামঘর, কার্যালয়, সংযোগ সড়ক কিংবা সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামো। এর মধ্যে কয়েকটিতে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। সরকারের চিন্তা, সবকিছু সমন্বয় করে ধীরে ধীরে চালু হবে এসব স্থলবন্দর।

দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে ২৩টিই ভারতের সঙ্গে যুক্ত, একটি মিয়ানমারের সঙ্গে। এর মধ্যে চালু থাকা বন্দরগুলোর মাধ্যমে আন্তর্দেশীয় যোগাযোগ বেড়েছে, বেড়েছে আমদানি-রপ্তানি। বাংলাদেশ সরকারও বিষয়টি ‍গুরুত্ব দিয়ে বন্দর ব্যবস্থাপনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে এনে কাজ করছে।

সীমান্ত দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সহজ করা এবং আন্তর্দেশীয় যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য সীমান্ত অঞ্চলে স্থলবন্দর তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। এই কার্যক্রমকে গতিশীল করে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি ও বন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বাস্থবক) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্তৃপক্ষের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি শুল্ক স্টেশনকে সরকার স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১২টি শুল্ক স্টেশন সচল আছে। আরও দুটি স্থলবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব এসেছে সম্প্রতি।

বন্দর পরিচালনায় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ‘বিল্ড, অপারেট অ্যান্ড ওন’ পদ্ধতিতে অর্থাৎ বেসরকারি অপারেটররা অবকাঠামো তৈরি করে ৫টি স্থলবন্দর চালাচ্ছে এবং বিনিময়ে আয়ের একটি অংশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে দিচ্ছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে ৭ স্থলবন্দর- বেনাপোল, বুড়িমারী, আখাউড়া, ভোমরা, নাকুগাঁও, তামাবিল এবং সোনাহাট। বেসরকারি অপারেটররা চালাচ্ছে বাংলাবান্ধা, সোনামসজিদ, হিলি, টেকনাফ ও বিবিরবাজার স্থলবন্দর।

জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্থলবন্দরগুলো দুই দেশের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। অনেকগুলো বন্দরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখানে কাস্টমসের একটি বিষয় রয়েছে। কিছু কিছু স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। আমরা আশা করছি, সবকিছু সমন্বয় করে ধীরে ধীরে সবগুলো স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু করতে পারব। ইতিমধ্যে রামগড়ের স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে, উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। দর্শনায় স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।’

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা ১২টি স্থলবন্দরের মধ্যে সোনাহাট ছাড়া অন্য সব স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারত ও মিয়ানমার যাতায়াত করে থাকেন।

এদিকে, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেনাপোল স্থলবন্দরে একটি আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল হয়েছে। বাস্থবকের অধীনে বেনাপোলসহ বুড়িমারী, নাকুগাঁও, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার, উন্নত টয়লেট ও বিনোদনের ব্যবস্থা আছে । তবে এসব সেবা প্রদানের বিনিময়ে যাত্রীদের নিকট থেকে নির্ধারিত ফি নেয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলপথে যাত্রী পরিবহন এখনো আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। বন্ধরব্যবস্থার আরও উন্নতি করা উচিত। যাত্রীদের বন্দরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এসব বিষয়ে উভয় দেশের নজর দেয়া উচিত।’

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ থাকা স্থলবন্দরগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এসব বন্দর বন্ধ আছে। এসব বন্দরের কাজে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটিতে উপস্থাপিত স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ‘বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট’ নামের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ।

কোন স্থলবন্দরের কী অবস্থা

সিলেটের শেওলা, সাতক্ষীরার ভোমরা, খাগড়াছড়ির রামগড় ও যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর উন্নয়নে ৬৯৩ কোটি ১৩ হাজার টাকার প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০১৭ সালে। কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয় আগামী জুন পর্যন্ত।

হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় গত জুনে। কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। ৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩৩ শতাংশ।

ময়মনসিংহের গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ গত জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায় জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়। মেয়াদ শেষে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪১ শতাংশ। বিলোনিয়া স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদও আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৪ শতাংশ।

বিরল স্থলবন্দর

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে আটটি রেলরুট বন্ধ হয়ে যায় তার মধ্যে একটি দিনাজপুরের বিরল থেকে ভারতের রাধিকাপুর রুট। এই রুটে রেল চলাচল শুরু হয়েছে। বিরল শুল্ক স্টেশনকে রেলরুট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বিরল স্থলবন্দর চালু করার জন্য রেলরুটের পাশাপাশি স্থলরুটও ঘোষণা করা প্রয়োজন। সূত্র বলছে, এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২০০২ সালে বিরল শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়।

দর্শনা স্থলবন্দর

দর্শনা শুল্ক স্টেশনকে রেলরুট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দর্শনা-গেদে রেল সংযোগ চালু হলেও এ স্থানে স্থলরুট চালু নেই। দর্শনা স্থলবন্দর চালু করার জন্য রেলরুটের পাশাপাশি স্থলরুটও ঘোষণা করা প্রয়োজন। এ বিষয়েও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিলোনিয়া স্থলবন্দর

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্তে ২০০৮ সালে স্থলবন্দরের ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু সীমানা জটিলতায় থেমে আছে স্থলবন্দরটির ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ। সেখানে আমদানি-রপ্তানি মালামাল সংরক্ষণ ও পার্কিং সুবিধার উন্নয়নের জন্য ৩৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার অবকাঠামো উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালে বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়। যে অংশ আন্তর্জাতিক সীমারেখায় অবস্থিত, সে অংশের কাজ বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। প্রায় চার বছরেও কোনো সমাধান মেলেনি।

রামগড় স্থলবন্দর

বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্টের আওতায় রামগড় স্থলবন্দরের জন্য ১০ একর জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভারতীয় অংশে পুরোপুরি কাজ শেষ হলেও বাংলাদেশ অংশে কাজ স্থবির। বাংলাদেশে একটি শুল্ক স্টেশন সাময়িকভাবে করা হলেও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা এখনো তৈরি হয়নি। আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ মিটারের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ জটিলতায় কাজ থমকে আছে।

টেগামুখ স্থলবন্দর

রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় টেগামুখ সীমান্ত অবস্থিত। এর বিপরীতে ভারতের মিজোরাম দেমাগ্রী/কাউয়াপুচিয়া সীমান্ত। রাঙামাটি জেলা সদর হতে টেগামুখ স্থলবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কি.মি. । এই স্থলবন্দরের উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সম্মতি না পাওয়ার কারণে স্থলবন্দর স্থাপনের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। এই পথে গবাদিপশু, মাছের পোনা, তাজা ফলমূল, গাছগাছড়া, বীজ, গম, পাথর, কয়লা, রাসায়নিক সার, চায়না ক্লে, কাঠ, টিম্বার, চুনাপাথর, পিঁয়াজ, মরিচ, রসুন, আদা, কোয়ার্টজ। আমদানি করা হবে ।

চিলাহাটি স্থলবন্দরদৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর

চিলাহাটি শুল্ক স্টেশন এবং চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হলেও বাংলাদেশ-ভারত কোনো অংশেই শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম না থাকায় দুটি স্থলবন্দর চালু করা সম্ভব হয়নি।

ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর

ঠিকাদার কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা জমির মূল্য কম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে করে কাজে বাধা প্রদান করে। ফলে বর্তমানে বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

শেওলা স্থলবন্দর

বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট-১ এর আওতায় শেওলা স্থলবন্দরের উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ২০২০ সালে নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় শেওলা স্থলবন্দরের জন্য ২২ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাল্লা স্থলবন্দর

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুহাট উপজেলার কেদারাকোর্ট সীমান্তে অবস্থিত। এর বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়মুড়া মহাকুমার খোয়াই নদীর তীরবর্তী অবস্থিত স্থলবন্দরটি । এই স্থলবন্দরে অবকাঠামো নেই।

সিলেটের ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর

সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ গ্রামের কালাসাধক মৌজায় অবস্থিত। এর বিপরীতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি পাহাড়ি জেলার চেরাপুঞ্জি মহকুমার ভোলাগঞ্জ সীমান্ত অবস্থিত। বন্দরের উন্নয়নের জন্য সাইট নির্বাচন ও জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলছে।

আরও দুটি স্থলবন্দরের প্রস্তাব

এর বাইরে আরও দুটি স্থলবন্দরের প্রস্তাব আছে। সেগুলো হলো, মেহেরপুরের মুজিবনগর স্থলবন্দর ও কুষ্টিয়ার প্রাগপুর স্থলবন্দর।

স্থলবন্দর নির্মাণ কাজের স্থবিরতা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যেকটা বন্দরকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বন্দরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় শুধু এর অর্থনৈতিক উপযোগিতা নয়, নিরাপত্তা অভিঘাতও আলাদাভাবে দেখতে হবে। তা ছাড়া যেসব বন্দর চালু হয়ে গেছে সেগুলো থেকে ইতিমধ্যে কী উপকারিতা পাওয়া গেছে তারও মূল্যায়ন প্রয়োজন। এতে করে ভবিষ্যতে নতুন বন্দর স্থাপনে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের সুবিধা হবে। দিনশেষে কানেক্টিভিটি আমাদের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’


নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ

* ৩০ লক্ষ বাচ্চা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত হবে * এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার * বাবার স্মৃতিবিজরিত বাসিয়া খালের পুনঃখনন উদ্বোধন * উন্নত করা হচ্ছে ঢাকা-সিলেট রুটের ‘সড়ক ও রেল’ পথ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট ব্যুরো

নতুন প্রজন্মের নেতেৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি চাই তোমরা খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশের হয়ে সারা পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব করবে। তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি সবাইকে খেলাধুলা করতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার তোমাদের পাশে আছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরাই। আমাদের সময় প্রায় শেষ। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, তোমাদেরকেই এগিয়ে নিতে হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন বড় খেলোয়াড় হবে, বড় মানুষ হবে, নেতা হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে। খুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের... আজকের এই নতুন কুড়ি স্পোর্টস অনুষ্ঠানের... চিফ গেস্ট কারা? এই যে গ্যালারিতে ছোট বন্ধুরা বসে আছো তোমরা হচ্ছে আজকের অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট।
গতকাল শনিবার বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন। সিলেট স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এরপর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।
এর আগে, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিকেলে ৫টা ৮ মিনিটে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে সারাদেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।
শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্য থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে। সারাদেশে ৩০ লক্ষ বাচ্চা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এসব বাচ্চাদের ভেতর থেকে প্রতিভাবানরা একদিন আমাদের দেশের জন্য বিদেশ থেকে স্বর্ণপদক জয় করবে, সুনাম বয়ে আনবে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থীসহ সারাদেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, তোমরাই এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কী পারবে?’
এই সময়ে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলেছে, ‘হ্যাঁ পারবো।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি তোমরা অবশ্যই সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।’
ছোট্ট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এই বাংলাদেশে তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।’
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে আসলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে আসলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর হবে আগের কথা, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে। একদিন আমরা বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম, স্পোর্টস নিয়ে আমরা কি কি করব? বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।’
বক্তব্য শুরুর আগে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাড়ি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আটর্স সহ মোট ৮টি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।
বক্তব্যের শেষে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রাখেন।
সিলেটের বাসিয়া খালের পুনঃখনন উদ্বোধন:
বাবা শহীদ প্রেডিসেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের এই বাসিয়া নদী সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত।
পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই যে বাসিয়ায় যে নদীটা আছে, এখানে যে খালটা— এটা সেই ৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খাল চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালটা আমরা আবারো কাটতে চাই।
বাসিয়া নদীর এই খাল আবারো কাটার কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল যদি আমরা কাটি, প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রথমত সরাসরি উপকার পাবে। এর বাইরে দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। যাদের জমি-জমা আছে এই খালের দুই পাশে, ফসল যে উৎপাদন হয়— প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।
তিনি আরো বলেন, শুধু এই খাল না, সারা বাংলাদেশে এরকম অনেক বাসিয়া খাল আমরা খনন করব। কারণ, আমরা যদি খালগুলো খনন করতে পারি, কৃষক ভাইদের জন্য সুবিধা হবে।
বিএনপির সরকার কৃষকবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন এসেছিলাম, তখন আমি বক্তব্যে বলেছিলাম— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কাজ শুরু করেছি টাঙ্গাইল থেকে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছি। তারপর এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব।
কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক, আমরা চাই গ্রামের মানুষরা ভালো থাকুক। গ্রামসহ সব মানুষই ভালো থাকুক। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। মেজরিটি মানুষ গ্রামে বসবাস করে, এজন্য এই মেজরিটি মানুষ যাতে দেশে ভালো থাকতে পারে সেটিই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। দেশের ৬০টি জায়গায় ইতোমধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় আমরা এই বাসিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে খাল খননের কাজ শুরু করলাম। এর মধ্যে দেশের অনেকগুলো জায়গায় প্রায় ৬০ টার মতো জেলায় এর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়ে গেছে। এই খাল খনন এবারই শেষ হবে না। এটা প্রায় ৪০ কিলোমিটার। তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করব।
তিনি বলেন, এই ২৩ কিলোমিটার খাল খনন করতে আমাদের দুটো শুকনো মৌসুম লাগবে। এই এখন শুরু হলো, কিন্তু এখন তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। এ বছর তো আর শেষ হবে না। কিন্তু এই বছর নভেম্বর থেকে আবার আমরা খাল খনন শুরু করবো। শুকনো মৌসুমটা শুরু হলে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা চেষ্টা করব এই ২৩ কিলোমিটার খাল সম্পূর্ণভাবে পুনঃখনন করতে। এর ফলে কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। একইভাবে এলাকার মানুষরা পানির সুবিধা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন নয়, এই খালের দুই পাশে ২৩ কিলোমিটারে আমরা ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করব। এর ফলে আমরা খালটাকেও ধরে রাখতে পারব। এলাকার মানুষরাও বসার জায়গা পাবে গাছের তলায়। পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব সেখানে বিভিন্ন ফলাদি গাছও রোপণ করতে, যাতে এলাকার মানুষ ফল-ফলাদি খেতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সরকারকে ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে, যেই সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। কারণ, আমাদের একমাত্র জবাবদিহিতা হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে, এই দেশের জনগণের কাছে। সেজন্যই আমরা সেই সকল কর্মসূচি পালন করতে চাই, সেই সকল কাজ আমরা করতে চাই— যেগুলোতে জনগণের উপকার হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা। এই সরকারের এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।’
দেশের বন্ধ কলকারখানা চালু হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি। এখন কাজ হচ্ছে, দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে, দেশে যে সকল কল-কারখানা বন্ধ আছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কল-কারখানাগুলো আমরা চালু করব।’
এ সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সিলেটের বাসিয়া নদীর এই খাল ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী এই বাসিয়া নদীটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এম এ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি ঊধ্ব©তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ উন্নত করা হচ্ছে:
গতকাল সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট রুটে সড়কের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি নির্বাচনী প্রচারের সময় এসে বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সিলেট-ঢাকা সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দেব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।’
তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদনী ঘাট এলাকায় এ সমাবেশ শুরু হয়।
সড়কপথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়। তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারব। একই সাথে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেয়া করতে পারবেন।
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সিলেটে শিল্প-কারখানা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম দিয়ে আমরা উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকেও গড়ে তুলতে পারব। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। তাইতো এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সকলের কাছে একটাই প্রত্যয়, একটাই স্লোগান ধারণ করতে হবে, তা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ সবার আগে বাংলাদেশ’।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।


জলাবদ্ধতায় কমলগঞ্জে ৫শ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫শ হেক্টরের বোরো ফসল এবং প্রায় ৫০ হেক্টরের মতো সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বোরো ফসলের আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণের পূবার্ভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উঠতি আধাপাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে না পেরে ঋণের জালে আটকা কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকায় উঠতি বোরো ধান নিমজ্জিত রয়েছে। পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও ফের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে ঢলে আবারও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পতনঊষারের কেওলার হাওরসহ নিম্নাঞ্চল এলাকায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া চারদিন ধরে অনেক স্থানে সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত থাকায় বিনষ্ট হয়ে পড়ছে।

কৃষক ফজলু মিয়া, আনোয়ার খাঁন, আকতার মিয়া ও ফটিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় গত পাঁচদিন ধরে কেওলার হাওর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ বোরো ফসল পানির নিচে থাকায় সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শমশেরনগর, পতনঊষার, আলীনগর, মুন্সিবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আরও এক হাজার হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া এসব এলাকার প্রায় শতাধিক হেক্টরের সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করেন তারা। আরও বৃষ্টিপাত হলে ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষকরা বলেন, কৃষি অফিস ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছে না। তারা সবসময় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এড়িয়ে যায়। অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ কেউ এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এসব কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মওসুমে কমলগঞ্জে ৫ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় এ পর্যন্ত ২৮০ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৩০৫ হেক্টরের বোরো ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চলতি মওসুমে ৯৫০ হেক্টর সবজি ক্ষেতের মধ্যে ৩৫ হেক্টর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও কিছুটা আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার আবহওয়া পূবার্ভাসে বলা হয়েছে সিলেট বিভাগসহ দেশের কয়েকটি বিভাগের কিছু কিছু স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এপ্রিল মাসে এখানে বৃষ্টিপাত হয় ৪৮৩ মিলিমিটার এবং ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৮০ হেক্টর বোরো ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩০৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৫ হেক্টরের সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।


সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুতের সাবস্টেশনে আগুন, আধা ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

আপডেটেড ১ মে, ২০২৬ ২২:৩২
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে ৩৫০ মেগাওয়াট ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) পাওয়ার প্ল্যান্টের ২৩০/১৩২ কেভি ট্রান্সফরমারে এই আগুন লাগে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্বস্তির বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রিড উপকেন্দ্রের ভেতর হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায় এবং এরপরই ট্রান্সফরমার থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে আদমজী ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা এসে কাজ শুরু করেন এবং বড় ধরনের বিপদ ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর পর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রিড উপকেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কারিগরি ত্রুটি বা অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রান্সফরমারে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, তদন্ত শেষেই এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


ময়মনসিংহে চলন্ত নাগরদোলা ভেঙে পড়ে ৫ শিশু-কিশোর আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ময়মনসিংহ নগরীতে চলন্ত নাগরদোলা ভেঙে পড়ে ৫ শিশু-কিশোর আহত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে নগরীর জয়নুল আবেদীন উদ্যানে এই ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবাইদুল ইসলাম ৫ জন হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সুত্র জানায়, বেশ কয়েকজনকে নিয়ে নাগরদোল ঘুরছিলো। হঠাৎ নাগরদোলাটি ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। এসব বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হলে তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পার্কে অবৈধ ভাবে এসব নাগরদোলা বসে ব্যবসা করে আসছিলো। কর্তৃপক্ষকে এগুলো অপসারন করার বারবার তাগিদ দিলেও দৈনিক চাঁদার কারনে সেগুলো অপসারন করেনি। যার কারনেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসময় পার্ক জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, নগরীর জয়নুল উদ্যানে নাগরদোলা ভেঙে পড়ে ৫ শিশু-কিশোর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের একজনোর অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবাইদুল ইসলাম বলেন, আহতরা সবার বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মাঝে হবে। তবে, আহদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।


চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাচাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিককে (৩৫) বসত বাড়ির সিঁড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে চাচাতো ভাই ইয়াসিন আরাফাত সুজন ও তার শ্যালক রাহাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাহাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

নিহত সিদ্দিক উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াজপুর গ্রামের চাপরাশি বাড়ির মৃত হাজি আমিন উল্লাহর ছেলে।

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গংগাহারী এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. রাহাত (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই এলাকার চিত্তনী বাড়ির মো. সোলোমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্দিক ঢাকার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বড় ভাইয়ের খাবারের দোকানে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। গত ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বসত ঘরের সিঁড়িতে বসে মোবাইল দেখছিল রাহাত। ওই সময় পূর্ব শক্রতা ও ওমান প্রবাসী সুজনের স্ত্রী নিয়ে বিরোধের জেরে সুজন ও তার শ্যালক রাহাতসহ ৪-৫ জনের একটি দল সিঁড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে মুখে গামছা পেঁচিয়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ এপ্রিল দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ২৭ এপ্রিল সুজন ও রাহাতের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি হানিফ চৌধুরীর ছেলে ইয়াসিন আরাফাত সুজন (৩৫) সিদ্দিকের মৃত্যুর পরপরই বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

র‍্যাব-১১ সিপিসি-৩ কোম্পানির কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর আরও বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর মহানগরীরর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


শ্রমিক দিবসে কুমিল্লায় সিএনজি চালকদের সড়ক অবরোধ, অতিরিক্ত ‘জিবি’ আদায়ের প্রতিবাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

মহান শ্রমিক দিবসে কুমিল্লার শাসন–বুড়িচং–মীরপুর সড়কে সিএনজি চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ‘জিবি’ (টোকেন ফি) আদায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার (১ মে) সকালে ভরাসার বাজার, নানুয়ার বাজার ও বুড়িচং উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শত শত চালক।

চালকদের অভিযোগ, শাসন গাছা সিএনজি স্টেশনে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সকালে হলুদ রঙের টোকেনের নামে ১৫ টাকার বিপরীতে ৩০ টাকা এবং দুপুরের পর লাল টোকেনের ক্ষেত্রেও একইভাবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। রাত ৮টার পর আরও বেশি হারে ‘জিবি’ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ সময় আন্দোলনরত চালকরা কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. জসিম উদ্দিন জসিমের গাড়ি ভরাসার বাজার এলাকায় থামিয়ে তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। তারা জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

বুড়িচং উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম বলেন, “চালকরা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অনিয়মের শিকার হচ্ছেন।”

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নজরে আনেন। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা ‘জিবি’ আগের হারে নির্ধারণ, অতিরিক্ত আদায় বন্ধ এবং ভাড়ার অনিয়ম দূর করার আশ্বাস দিলে চালকরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এবিষয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন জিবি যারা তুলে তারা বিএনপির কেউ না,জেলা পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে, এগুলো করতে দেওয়া হবে না।


খুলনায় মাশরুম মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় অঞ্চল পর্যায়ে খুলনা বিভাগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মাশরুম মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার (১ মে) খুলনা শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, সুস্থ থাকতে হলে মাশরুম খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। মাশরুমে অনেক গুণাবালী রয়েছে। মাশরুম চাষ করে অনেকে সংসারের খরচ জোগাচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে মাশরুম চাষে অনেকের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। অল্প জায়গায় মাশরুমের চাষ করা যায়, খরচ সামান্য এবং এতে ভিটামিন রয়েছে। মাশরুম চাষ করে নিজে উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।

তারা আরও বলেন, মাশরুম চাষ আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অমিয় সম্ভাবনার হাতছানি। বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, নারী ও বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে মাশরুম জাদুকরী। আপনি মাশরুম চাষ করেন বা নাই করেন, নিজের বাড়িতে খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম ও আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বিভাস চন্দ্র সাহা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্যা কবীর হোসেন, ফুলতলা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালমা সুলতানা, মাশরুম উদ্যোক্তা মোঃ আজিজুল ইসলাম ও রিপন কুমার রায় বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান শেষে মাশরুম মেলায় খুলনার বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণকারী ২২টি স্টলের প্রতিনিধিদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।


দ্রুত নিয়োগ পাচ্ছেন সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩০০ শিক্ষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর প্রতিনিধি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩০০ সহকারী শিক্ষককে খুব শিগগিরই শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে স্বীকার করেন যে, দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের কনফিউশন দূর করতে এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে সরকার সবদিক খতিয়ে দেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও আশার বাণী শুনিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, শুধু প্রাথমিক নয়, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমও শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।


দীর্ঘ এক বছর পর সচল হলো টেকনাফ স্থলবন্দর, মিয়ানমার থেকে কাঠ বোঝাই ট্রলার এলো স্থলবন্দরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হল। শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমার থেকে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থল বন্দরে পৌঁছার মধ্যে দিয়ে বনএরর কার্যক্রম সচল হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের মংডু এলাকা ট্রলারটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং দুপুর দেড় টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরের ঘাটে এসে পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেন বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড-এর টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী।তিনি জানান,“একটি কাঠের বোট বন্দরে পৌঁছেছে।”

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই সময় তিনি বন্দরের কার্যক্রম সচল করার ঘোষণা দেন।

ঘোষণার প্রেক্ষিতে বন্দর চালু হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিকদের নেতা (মাঝি) শামসুল আলম বলেন,“দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর একটি কাঠের বোট বন্দরে এসেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ফের চালু হওয়ায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”

জানা যায়, শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারের মংডুর হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। টেকনাফের ব্যবসায়ী মো. ফারুকের কাছে বোটটি এসেছে।

উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদী-এর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠের বোটের আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


কুষ্টিয়ায় হত্যা, রাজশাহী থেকে এজাহার ভুক্ত আসামী গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামিম (৬৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৩২) রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ১১ টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাজীব মিস্ত্রি ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে এবং তিনি মামলার ৩ নম্বর আসামি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া র‍্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‍্যাব-৫ রাজশাহী ও র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়ার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, পীর হত্যা, আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজিব কে আজকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এর আগে, গত রোববার ও সোমবার দিবাগত গভীর রাতে একই ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর ও ইসলামপুর এলাকা থেকে বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং দশম শ্রেণির ছাত্র আলঙ্গীর হোসেন (১৬)-কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান শামিমকে তাঁর আস্তানার ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনকে কুপিয়ে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পুলিশের কর্মকর্তা সহ দুজনের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় পুলিশের শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার (১ মে) ভোরে বন্দর উপজেলার চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে তিনজনকে আটক করা হয়।

আহত দুই জন হলেন, মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন অবস্থা গুরুতর হাওয়ায় তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে বন্দর থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়ে থানার ডিউটি অফিসার বন্দরের মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় দায়িত্বরত এএসআই মোঃ সোহেল রানাকে বিষয়টি অবগত করে। পরবর্তী এএসআই মোঃ সোহেল রানা সংগীয় ফোর্সসহ অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে বন্দর থানাধীন চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর রোডস্থ জনৈক গুলু মিয়ার বাড়ীতে গেলে পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জন দুস্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে কনস্টেবল

ফয়সাল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এসময় তার কাছ থেকে সরকারী শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। আর এএসআই সোহেল রানার ডান পায়ে হাটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে।

পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ও বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয় ।

পরবর্তীতে বন্দর থানা ও মদনগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ভোরে বন্দর চৌধুরী বাড়ী এলাকায় জনৈক গুলু মিয়া বাড়ীর ভাড়াটিয়া সোহান এর টিন সেট ঘরের পিছন থেকে ছিনতাই হওয়া শর্টগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে তিনজনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, পুলিশের অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে।


ফরিদপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেফতার তিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশু আইরিন আক্তার কবিতাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল। একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছে ঘাতক ইসরাফিল। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

ইসরাফিল ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়ার ইবাদত মৃধার ছেলে। নিহত শিশু কবিতা একই এলাকার বাকা বিশ্বাস এর মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেনীতে পড়ত।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় এক প্রেস বিফিং এ সদর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, শিশুটি নিখোঁজ এর পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার পিতা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্দেহভাজন আসামী ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।

তিনি জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল জানায়, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সে ইয়াবা সেবন করে। পরে সে ওই শিশু কবিতাকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাখুন্ডা আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশিক এর পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে ইসরাফিল শিশুটির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাশেই নাছিমা বেগম এর বাড়ির টয়লেট এর ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ট্যাংকি থেকে গন্ধ বের হলে নাসিমা ঢাকনা তুলে লাশ দেখতে পেয়ে ভীত হয়ে পড়ে। শিশু হত্যার দায় তাদের উপর চাপতে পারে এই ভয়ে নাসিমা তার ছেলে আমিন ও রহমান মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাড়ির অদুরে নিয়ে একটি কলা বাগানে ফেলে রাখে। ৩০ এপ্রিল কলা বাগানে কাজ করার সময় স্থানীয় দু'জন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল একাই শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে।

পুলিশ ঘাতক ইসরাফিলকে ও লাশ গোপন করার অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিনকে গ্রেফতার করেছে। নাসিমা একই এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদ এর স্ত্রী। প্রেস বিফিং এ কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাকা বিশ্বাস বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।


কিস্তি পরিশোধ না করার গৃহবধূ গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার অভিযোগে জান্নাতি খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জান্নাতি খাতুন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী এবং তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে জান্নাতি খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান এক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে প্রথমে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আজ দুপুরে আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতি খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক ইতিপূর্বে টিএমএসএসের নাটোরস্থ গুরুদাসপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় তিনি প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত হিসেবে জমা রাখেন এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে দিলেও তিনি কিস্তির মাধ্যমে ঋণের অর্ধেক টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তবে বাকি পাওনা অর্থ তাঁর পূর্বের গচ্ছিত জামানত থেকে সমন্বয় করার জন্য এনজিও কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ জানালেও সংস্থাটি তা প্রত্যাখ্যান করে জান্নাতি খাতুনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে জান্নাতি খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘৫০ হাজার টাকা ঋণের প্রায় ২৫ হাজার টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করেছি। অবশিষ্ট চাকরির জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সংস্থার সুপারভাইজারকে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা সেটা শুনে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।


banner close