বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে দুটি অভিযান হয়েছে। আরও অভিযান চালানো হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সহযোগিতা ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারে না। বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি সংগঠন জঙ্গিদের সহযোগিতা করছে। ওই সংগঠনের সহযোগিতায় জঙ্গিরা দুর্গম পাহাড়ে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। কমান্ডার মঈন আরও জানান, ‘নতুন একটি জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কথিত হিজরতের নামে যারা বাসা থেকে বের হয়েছে, তাদের যারা বের করেছে এবং যারা ভোলা, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, এমন দলের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ র্যাব কর্মকর্তা জানান, মূলত গ্রেপ্তার হওয়াদের তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব পার্বত্য এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। তারা বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ৫৫ জনের মতো জঙ্গি সদস্য অবস্থান করছে। তারা সেখানে আস্তানা বানিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শিগগিরই তাদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই অভিযানের অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে।’
র্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার মঈন বলেন, ‘এলাকাটি বেশ দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের পর্যটকরা অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ঘোরাফেরা করেন। যেহেতু অভিযান চলমান, এ কারণে হয়তো জেলা প্রশাসন ও লোকাল প্রশাসন পর্যটকদের সাময়িক সময়ের জন্য যাতায়াত বন্ধ করেছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে আরও তথ্য জানাতে পারব।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশিক্ষণের ভিডিও ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সহযোগিতা ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারে না। সে জন্য আমরা বলেছি, বিচ্ছিন্নতাবাদী কিছু সংগঠনের তথ্য আমরা পেয়েছি, যারা জঙ্গিদের সহযোগিতা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি র্যাবের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা নিয়ম মেনে অভিযান পরিচালনা করছি।’
বিচ্ছিন্নতাবাদী নতুন সংগঠন কুকি-চীন বা কেএনএফ (কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাদের কার্যক্রমকে পুরো বিষয়টি আমরা গুজব বলছি না। তবে কিছু গুজব। আর যেসব ফেসবুক পেজে কনটেন্টগুলো ছড়ানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। আমাদের অভিযানের বিষয়ে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো ভুল তথ্য। এগুলো কোনো প্রতিষ্ঠিত পেজ না। এগুলো গুজব ছড়ানোর জন্য খোলা হয়েছে। তবে যে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি আমাদের দেশের না।’
দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম চলছে কি না জানতে চাইলে র্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী ছোট ছোট কিছু গ্রুপ সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি মনে হয় সঠিক না। আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করছে। আমরা আগেই বলেছি, বিচ্ছিন্নতাবাদী যারা আছে, তাদের সহযোগিতা ছাড়া জঙ্গিরা দুর্গম এলাকায় টিকতে পারবে না। এখানে নানা বিষয় রয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।’
জমি রেজিস্ট্রি বিষয়ে একই ব্যক্তিসংক্রান্ত এফিডেভিটে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদত-১-এর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বিরর আহম্মেদের নামের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। একই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসংক্রান্ত এফিডেভিট করতে গিয়ে এই জালিয়াতির ঘটনাটি ধরে পরে। এর আগে স্বাক্ষর জাল করে একই আদালতে ‘একই ব্যক্তি মর্মে’ একটি এফিডেভিট সম্পাদন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সদর আমলী আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর সিআর-১৩৫/২৬। মামলার আসামিরা হলেন- পলাশবাড়ি উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর গ্রামের মানিকুল্ল্যার ছেলে সাকোয়াত ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান।
জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকালে অভিযুক্ত সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান অত্রাদালতের এজলাসে বেঞ্চ সহকারীর কাছে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এফিডেভিট করতে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। বেঞ্চ সহকারী তাদের উপস্থাপন করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান একই বিষয়ে তারা (একই ব্যক্তি মর্মে) একই ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সম্পাদিত আরও একটি এফিডেভিটের ফটোকপিও দাখিল করেছেন।
পরবর্তীতে ২নং আসামি আসাদুজ্জামান বেঞ্চ সহকারীর কাছে সাকোয়াত হোসেনের একই ব্যক্তি মর্মে সম্পাদিত এফিডেভিটের মূলকপি দাখিল করেন। পরে সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ওই সম্পাদিত এফিডেভিটে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের যে স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে তা ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের নয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, শুধু তাই নয় এফিডেভিটে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ গাইবান্ধার সিল ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদ গত ১৫ জুলাইয়ের আগে কখনো পলাশবাড়ী উপজেলার এফিডেভিট সম্পাদনের দায়িত্বে ছিলেন না।
অথচ তাদের সম্পাদিত এফিডেভিটটি গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখের সম্পাদিত এফিডেভিটে সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া সেখানে গত ১৬ জুনের ৬২৩/২নং স্মারক হিসেবে এফিডেভিটটি এন্ট্রি করা হয়েছে। কিন্তু তৎক্ষণাৎ ওই আদালতের এফিডেভিটের প্রকৃত রেজিস্ট্রার যাচাই করে দেখা যায় রেজিস্ট্রারে এখনো ৬২৩/২৬নং স্মারক এখনো এন্ট্রিই হয় নাই। প্রকৃত রেজিস্ট্রারে সর্বশেষ ৫ মের স্মারক পাওয়া যায় ৪৫০/২৬।
ফলে ওই এভিডেভিটটি জাল ও সৃজিত করা হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরে সকল বিষয়গুলো যাচাই করে বোঝা যায় অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের সহযোগিতায় ১নং ও ২নং অভিযুক্ত পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণামূলকভাবে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর জাল করেছেন এবং আদালতের সিলমোহর জালিয়াতির মাধ্যমে একটি মিথ্যা ও জাল এফিডেভিট প্রস্তুত করেছেন।
এ ছাড়া এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এফিডেভিটে যে ইংরেজি শব্দের সিল ব্যবহার করা হয়েছে তা তৈরি করা। কারণ অত্র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১নং এ এফিডেভিটে যে সিল ব্যবহার করা হয় সে সিলটি বাংলায়।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বলেন, ‘জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির স্যারের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় এভিডেভিট করতে আসা বাব ও ছেলের নামে সদর আমলী আদালতে মামলা করা হয়েছে। আশা করি পুলিশি তদন্তে জড়িতরা শনাক্ত হবে এবং আইনানুগ তাদের বিচার হবে।’
দীর্ঘ ২৩ বছর পর মাগুরা জেলা বণিক সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। এ সময় জেলা বণিক সমিতির সাধারণ ব্যবসায়িকসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘দীর্ঘ ২৩ বছর পর এই নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালটের মাধ্যমে গোপন কক্ষে ১ হাজার ৯২৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।’
নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ও মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত, বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা, আপিল আবেদন নিষ্পতির শেষ সময় ৮ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ টা, চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা। নির্বাচনের প্রচারণা শুরু ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা। ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা।
শেষে নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচনের আচরণবিধি সকলের মাঝে পড়ে শুনান। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
শহরের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, দীর্ঘ ২৩ বছর পর মাগুরা জেলা বণিক সমিতির নির্বাচন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়াতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আমরা চাই একটি গ্রহণযোগ্য অবাধ, সুন্দর নির্বাচন। যার মাধ্যমে তৈরি হবে একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচিত কমিটি। যে কমিটি ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে কাজ করবে।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয় ও সচেতন নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা খাতে চাই সুশাসন’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টিআইবি’র সহযোগিতায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি খান মো. শহীদের সভাপতিত্বে ও ‘সনাক’ (ইয়েসগ্রুপ) এর আহ্বায়ক সাংবাদিক আঞ্জুমান আরা জুলিয়ার সঞ্চালনায় বুধবার (২ সেপ্টম্বর) সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ৩য় তলার হলরুমে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত স্টেকহোল্ডার, সামাজিক সংগঠন, এনজিওকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের নাগরিকের সমন্বয়ে উন্মুক্ত আলোচনা সভা, প্রশ্নপর্ব, মতামত ও প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল, বিশেষ অতিথি ছিলেন (আরএমও) ডা. অখিল চন্দ্র সরকার, ড্যাবের নেতা ডা. মো. লুৎফর রহমান, পরিবার-পরিকল্পনা অফিস মাদারীপুরের উপপরিচালক ডা. মতিউর রহমান, ‘সনাক’ এর জেলা কমিটির সহসভাপতি এনায়েত নান্নু, প্রফেসর (অব.) মকবুল হোসেন, আন্না আক্তার, সদস্য (স্বাস্থ্য বিভাগ, সনাক) ফরিদা ইয়াসমিন লাকি, কুমার লাভলু, টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. এনায়েতুল্লাহ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক বাংলা প্রতিনিধি শরীফ ফায়েজুল কবীর, সাংবাদিক অজয় কুন্ড, সাগর হোসেন তামিম, শাহাদাত হোসেন জুয়েলসহ অন্যান্য সাংবাদিক ও সুধীরা।
অনুষ্ঠানে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটের সেবার মান নিয়ে কিছু সন্তোষ ও অসন্তোষ বিষয়াদির আলোকপাত হয় এবং সেবার মান আরও বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা, এক্সরে ইউনিট, শিশু ফিডিং কর্নার, গাইনি বিভাগ, হাম ও ডেঙ্গু কর্নার, ডায়রিয়া ইউনিট, আইসিইউ বিভাগ, মাতৃমঙ্গল বিভাগ, নার্স পরিষেবাসহ অন্যান্য বিষয়াদি প্রাধান্য পায়।
সভাপতি সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “টিআইবি’র প্রতিবেদনে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ভালো বলেনি, এই খাতের উন্নতি দরকার, আমরা মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও শতভাগ সেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে তিনি ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতন হবার আহ্বান করেন।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও লাগামহীন নগরায়ণের চাপে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। ফলে শিশু-কিশোরদের মাঠে দৌড়ঝাঁপের সুযোগ কমছে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কৃত্রিম টার্ফের মাঠ। গত দুই বছরে কুমিল্লা নগরী ও আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ৯টি টার্ফ। এসব মাঠে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। এতে নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি মাদক ও বাজে আড্ডা থেকে দূরে থাকছে তরুণ প্রজন্ম। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর নুরপুর এলাকার কিংস এরিনা টার্ফের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নুর হোসেন নোমান জানান, ৬-৭ জন মিলে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে টার্ফটি গড়ে তুলেছেন। প্রতি মাসে আয় হয় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ থাকে।
শহরতলির চানপুর এলাকার খন্দকার এসএ স্পোর্টস টার্ফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিয়মিত এখানে খেলতে আসেন। প্রতিটি ম্যাচের সময় এক ঘণ্টা। দিনে প্রতি ম্যাচের জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং রাতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়।’
নগরীর রেসকোর্স এলাকায় প্রায় তিন বছর আগে প্রথম টার্ফ নির্মাণ করা হয়। শুরু থেকেই সেখানে খেলোয়াড়দের ভিড় রয়েছে। টার্ফটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এটি গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এখানে খেলতে আসেন। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্যও বাড়ছে।
খোলা মাঠের সংকটের মাঝেই বিকল্প হয়ে উঠেছে কৃত্রিম টার্ফ। অল্প জায়গায় সিনথেটিক ঘাস বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ছোট পরিসরের মাঠ। সেখানে ফুটবলসহ নানা ধরনের খেলায় মেতে উঠছেন বিভিন্ন বয়সি মানুষ। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিনোদন ও শরীর চর্চার এ নতুন ব্যবস্থা।
ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, ‘কুমিল্লা নগরীতে আগের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে। একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনে খোলা জায়গা ছিল। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাঠ ছিল, যেখানে সকাল-বিকেল খেলাধুলা হতো। কিন্তু নগরায়ণের চাপে সেসব জায়গা ভরাট করে গড়ে উঠেছে সুউচ্চ ভবন।
ব্যাংকার ইনজামামুল হক সৈকত ও তার সহকর্মী অর্নিবান দে জানান, অফিস শেষে সপ্তাহে এক-দুদিন তারা টার্ফে খেলেন। এতে কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিকভাবে সতেজ হওয়া যায়।
আইনজীবী কালিপদ দেবনাথ ও তার বন্ধু ওমর ফারুক জানায়, খেলার মাঠের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা টার্ফের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে খেলাধুলার পাশাপাশি ভালো সময় কাটানোর সুযোগও হচ্ছে।
শহরতলির নোয়াপাড়া এলাকার একটি টার্ফে খেলতে আসা দুই বন্ধু বিজয় মণ্ডল ও রুদ্রদেব চন্দন জানায়, নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ভালো থাকে এবং কাজে গতি আসে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন তারা টার্ফে খেলেন। সুযোগ হলে সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে আসেন।
কুমিল্লায় গত দুই বছরে গড়ে ওঠা ৯টি টার্ফে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ছাড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া দিয়ে এসব মাঠে খেলছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সি মানুষ। উদ্যোক্তারা বলছেন, দিন দিন এই খাতে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিটি টার্ফে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ঘণ্টার জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। নিয়মিত বুকিং থাকায় ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. এমদাদুল হক এমদু বলেন, ‘টার্ফে খেলেই হয়তো জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে না। তবে টার্ফের জনপ্রিয়তা শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখছে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শরীর চর্চাও হচ্ছে। একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে এ ধরনের খেলাধুলা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।’
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্পোর্টস ক্লাব আয়োজিত ‘CUB Indoor Sports Carnival 2026’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সিটি ক্যাম্পাসের শারাফাত চৌধুরী মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত, চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত), বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. হাসানুজ্জামান, প্রোক্টর ও চেয়ারম্যান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, এবং বেনজীর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত), স্কুল অব বিজনেস-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
CUB Indoor Sports Carnival 2026 ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি প্রাণবন্ত ক্রীড়া আয়োজন। বিভিন্ন ইনডোর ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, শৃঙ্খলা ও দলগত সক্ষমতার পরিচয় দেন। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্মানিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও ট্রফি তুলে দেন এবং তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সকল অংশগ্রহণকারীকে তাদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের জন্য প্রশংসা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে ক্রীড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, ক্রীড়াচর্চা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই ভূমিকা রাখে না; বরং এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘CUB Inter Department Football League 2026’-এর জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান। আসন্ন আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জার্সি উন্মোচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি, দলগত চেতনা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজনের সমন্বয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছে।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ স্পোর্টস ক্লাব শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্ব, দলগত কাজ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।
সকল বিজয়ী ও রানার্স-আপ, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, আয়োজক, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং সম্মানিত অতিথিদের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে CUB Indoor Sports Carnival 2026-এর এই আয়োজন সফল ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;
নওগাঁ প্রতিনিধি: ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’এই স্লোগানকে সামনে রেখে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নওগাঁয় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের নওজোয়ান মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন কেড়ির মোড় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা ও আলোচানা সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর ই আলম মিঠু ও শফিউল আজম ভিপি রানা, খাইরুল আলম গোল্ডেন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি দেওয়ান মোস্তাক আহম্মেদ রাজা, পৌর বিএনপি সভাপতি ডা. মিজানুর রহমানসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
পাবনা প্রতিনিধি: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনায় এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (এমপি) বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়; এটি এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক। জনগণের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দলীয় পতাকা ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রাটি বের হয়।
এসময় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ও বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এড. নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোসেন বখত চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটে কালাইয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির পায়রা অবমুক্ত এবং দোয়া-মোনাজাতের পর বৃক্ষরোপণের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কালাই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গভীরভাবে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন মো. আব্দুল বারী। তিনি দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও দেশ গঠনে দলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।
এসময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম, পৌর বিএনপির আব্বায়ক সোহেল তালুকদার ও যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল আলিম, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৭টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার দল। আমাদের প্রিয় মা, মাটি ও মানুষের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়ে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন।
কর্মসূচিতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহমুদা হাবিবা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বনশিল্প উন্নয়ন করপোশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার, মহিলাদল নেত্রী রোকসানা পারভিন টুকটুকি, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক প্রমুখ।
পিরোজপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রোজপুর শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক পথসভায় মিলিত হয়।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমতের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলুসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
বগুড়া প্রতিনিধি : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বগুড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্ত, খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে জেলা বিএনপি। এদিন সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরু হয়।
সকালে মহানগরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় শাখারিয়া ডাঙা এলাকার একটি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর বাদ জোহর বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে উপজেলা সড়কে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। পরে সমাবেশে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপি সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেছে।
পরে আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর: ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে র্যালিটি ফরিদপুর পৌরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ.এফ.এম. কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে র্যালী ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে. কিবরিয়া স্বপন, জেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এ.বি সিদ্দিকী মিতুল, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে.এম জাফর, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায়, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সহসভাপতি প্রভাষক আলা উদ্দীন আলা, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শেখ শহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, নুরুজ্জামান চৌধুরী, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সামসুল আলম বুলবুল, আব্দুল হালিম অটল, যুবনেতা মেহেদী হাসান হিমেল ও ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
নাজমুল আলম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় হতে
বিএনপির সব অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীকে নিয়ে বিরাট র্যালি ও শোভা যাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন চত্বরে এসে শেষ হয়। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যুগ্ম আহবায়ক রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ মো. আজিজুর রহমান, চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা বিএনপির আহবায়ক, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু যুগ্ম আহবায়ক নুর আলম খান হিরো, যুগ্ম আহবায়ক মনজুরুল ইসলাম মন্জু ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী প্রমুখ।
দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য র্যালিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন প্লেকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মুহু মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিথিলের নগরীতে পরিণত হয় আরিচাঘাট টার্মিনাল এলাকা।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্র শেষে আরিচা ঘাট এলাকায় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র কমিটির সদস্য সত্যেন কান্ত পন্ডিত ভজন, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু বেপারী, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী মিজানুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক আক্তার হোসেন, জেলা যুবদলের সদস্য মোসলেম উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল,শিবালয় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী ও যুগ্ম আহবায়ক ফরিদুর রহমান ফরিদ প্রমুখ।
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে ও গড়কান্দা এলাকায় পৃথকভাবে এই আয়োজন করা হয়।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী।
উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নুরুল আমীন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান লিটন, এম.এ রায়হান, আমিনুল ইসলাম জিন্নাহ, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান, শহর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তালুকদার রিপন প্রমুখ।
সোনারগাঁ ( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা ও বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালী বের করা হয়। সোনারগাঁ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিব, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক রুমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাহিম প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালীটি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করেন।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: বাবা খাবেন, বাবার ব্যবসা করবেন, আর বিএনপি করবেন; তা হবে না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে বিএনপি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষাউপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু, পৌরসভা বিএনপির সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান গিয়াস, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান ভুট্টো, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার জুলহাস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন কফিল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন প্রমুখসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নাটোর-৩, সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আজগর খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর-৩ সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম রেজা মোল্লা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শের আলী সবুজ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ও পিয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল করিম বিশ্বাস, শহীদ সরকার মঙ্গল, প্রফেসর আতাউল, খন্দকার লস্কর, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, জিয়ারুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান আজমল হক, সাবেক কৃষকদল নেতা হারুন অর রশিদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত দুই যুগ ধরে সগৌরবে একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণা বিস্তারে ভূমিকা রেখে চলছে ডুয়েট।
তিনি বলেন, ‘যুগোপযোগী টেকসই উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠতম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বদরবারে জ্ঞানে, দক্ষতায় ও মানবতায় অনন্য করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘বন্ধনে অটুট ডুয়েট’ প্রতিপাদ্যে ডুয়েটের ২৩ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য শিক্ষক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও কেক কেটে দিবসটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
পরে বর্ণাঢ্য র্যালি সহকারে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে গবেষণাকর্মে উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ডীনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল শিক্ষক বনাম ডুয়েট এলামনাই রশি টানাটানি ও প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, সাবেক শিক্ষার্থীদের ডুয়েট বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্মৃতিচারণ এবং বাদ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল ডুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘ডুয়েটের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা হিসেবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করার প্রয়াসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।
পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে ২০০৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটি, ঢাকা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামাল-আল-হাসান, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহফুজ আলম।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
ফরিদপুরের বরেণ্য চিকিৎসক, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র ডা. মো. জাহেদ মেমোরিয়াল শিুশু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মো. জাহেদের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর)।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর মুসলিম মিশন এতিমখানার মসজিদে আজ বাদ ফজর পবিত্র কোরআন শরীফের খতম, কালেমা শরীফের খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় আলীপুর গোরস্থানে তার কবর জিয়ারত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে ডা. মো. জাহেদ মেমোরিয়াল শিুশু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মাঝে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনা করা হবে। বাদ আসর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ডা. মো. জাহেদ ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ফরিদপুর চক্ষু হাসপাতাল, ফরিদপুর মুসলিম মিশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজী মন্দির পরিদর্শন করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ফুলের তোড়ায় এবং আদিবাসীদের নৃত্যের তালে তাকে বরণ করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, রাজদেবোত্তর ট্রাস্টি (মন্দির পরিচালনা কমিটির) রনজিৎ সিংহসহ অন্যরা।
পুলিশ বাহিনীর গার্ড অব অর্নার শেষে মন্দির চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কোনো কথা বলতে সম্মত হননি তিনি।
পারস্যের প্রকৌশলীদের সহায়তায় টেরাকোটা মন্দিরটি প্রায় পৌনে তিনশত বছর আগে ১৭৫২ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন মহারাজা প্রাণ নাথের পৌষ্যপুত্র রাজা রামনাথ। ওই সময় থেকে মন্দিরে রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহকে ঘিরে মন্দিরটি হয়ে উঠেছে সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রার্থনার তীর্থ স্থানে। প্রথা মেনে বিগ্রহে প্রদীপের ভক্তি জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
ঐতিহাসিক কান্তজী মন্দির পরিদর্শন শেষে একই সময়ে একই কারিগরদের হাতে নির্মিত নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শন করেছেন তিনি।
এদিকে আজ বুধবার ঢেপা নদী পথে নৌবিহারে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ পৌঁছাবে শহরের রাজবাড়ী মন্দিরে।
ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে রাফিদ শিকদার (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১০-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তপন সরকার।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সুবাদে রাফিদ বিভিন্ন সময় যোগাযোগ ও কথাবার্তা বলতেন। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক চাপের পাশাপাশি টাকা না দিলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। ভুক্তভোগী তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলেও তিনি তার দাবি অব্যাহত রাখেন।
র্যাব আরও জানায়, গত ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রাফিদ পুনরায় ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আগে ধারণ করা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠান। পরে এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-১০-এর অধিনায়কের কাছে অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১০-এর সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার লালবাগ থানাধীন আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি রাফিদ শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাফিদ শিকদার নিউমার্কেট থানাধীন এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বাসিন্দা। পরে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে তৈরি করা হয়েছিল কিশোর গ্যাং। সেই ক্লাবে কেউ যোগদান না করলে দেখানো হতো ভয়ভীতি, এমনকি করা হতো গুলি। সেই সাথে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এবং মানুষকে মারধর করে আসছিল।
এমনইভাবে নিজেদেরকে কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে এলাকায় জানান দিচ্ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুরুকবাড়িয়া এলাকার সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ। আর এভাবেই তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল।
কিন্তু তাদের সেই আশায় গুড়েবালি দিয়েছেন নওগাঁ জেলা পুলিশ। এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরব নামে এক কিশোরকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফায়ার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সদ্য কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজকে। সেই সাথে তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে গত সোমবার রাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বগুড়ার শেরপুর এলাকায় হোটেল ফুড ভিলেজে ঢাকাগামী একতা বাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকার সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ বেশ কিছুদিন যাবৎ এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে কিশোর গ্যাং তৈরি করেছিল। সেই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তারা এলাকার স্থানীয় কিশোরদের ভয়ভীতি দেখাতো। এমনকি তাদের দলে যোগদান না করলে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফায়ারিংও করত। সেই সাথে তারা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এবং মানুষকে মারধর করে আসছিল।
এই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুলতান এবং পারভেজ গং তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফায়ার করে।
ঘটনার পর মান্দা থানা পুলিশ সেখান থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে এবং তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ক্ষমতা জানান দিতে ২৬ আগস্ট রাতেও তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পুনরায় ফায়ার করে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে মান্দা সার্কেল অফিসার এএসপি শাওনের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা, মান্দা ও রানীনগর থানার সমন্বয়ে একটি চৌকসদল গঠন করা হয়। এবং সন্ত্রাসীদের ডাটা বিশ্লেষণ করে সমন্বিতভাবে রানীনগর এবং আত্রাই থানার সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরবর্তীতে সুলতান ও পারভেজকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের নিকট অস্ত্র থাকার কথা তারা স্বীকার করে।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সন্ত্রাসী সুলতান এবং পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানার বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলা, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। তারা হত্যা মামলায় দুজনে আট মাস জেলেও ছিল।’
এসপি আরও বলেন, ‘নওগাঁ জেলা পুলিশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায়, জেলা পুলিশ এই জেলায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করবে।’
টানা তিন মাসের দীর্ঘ সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে অবশেষে উন্মুক্ত হলো বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশাধিকার বন্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকেই নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে নামছেন সুন্দরবন উপকূলের হাজার হাজার জেলে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আবারও ফিরছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
তবে বনে ফেরার এই আনন্দের মাঝে ঘন কালো মেঘ হয়ে নেমে এসেছে জলদস্যু বাহিনীর বেপরোয়া তাণ্ডব ও চাঁদা আদায়। বনে প্রবেশের আগেই দস্যুদের দাবি করা চাঁদা পরিশোধ করতে গিয়ে উপকূলজুড়ে নেমে এসেছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
সরেজমিনে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জসংলগ্ন গাবুরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বনজীবীরা তাদের নৌকা ও জাল প্রস্তুত করে বনমুখী হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে প্রতিটি জেলের চোখ-মুখে স্পষ্ট তাণ্ডবের ছাপ। বনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরা অঞ্চলকেন্দ্রিক বর্তমানে অন্তত তিনটি জলদস্যু বাহিনী তাদের এলাকা ভাগ করে বনজুড়ে রাজত্ব চালাচ্ছে। তারা হলেন, ‘বড় জাহাঙ্গীর’, ‘দয়াল-নানা ভাই ওরফে ডন আনারুল’ এবং ‘মঞ্জু ও দুলাভাই বাহিনী’। এই তিন বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ জন সশস্ত্র সদস্য রয়েছে, যারা সুন্দরবনের ভেতরে নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
দস্যুদের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী সুন্দরবনে ঢোকার আগেই প্রতিটি দস্যু বাহিনীকে নৌকা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। ফলে বন বিভাগের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেতে একটি নৌকাকে তিন বাহিনী মিলিয়ে দিতে হচ্ছে মোট ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। আর কোনো জেলে চাঁদা না দিয়ে বনে নামার দুঃসাহস দেখালে তাকে জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ মুক্তিপণ।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য রেজিস্টার্ড বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০টি। প্রতি নৌকায় দুই থেকে তিনজন করে জেলে ধাপে ধাপে বনের নদী-নালায় প্রবেশ করবেন। সেই হিসাবে সব মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার জেলের জীবিকা নির্ভর করছে এই সুন্দরবনের ওপর। তবে দস্যুদের ভয়ে উপকূলে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বনজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঋণের টাকা নিয়ে দস্যুদের পকেট ভারী করে তবেই তাদের জীবিকার তাগিদে বনে নামতে হচ্ছে।
তবে বনজীবীদের নিরাপত্তা ও বনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এ ছাড়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দস্যুদের অপতৎপরতা রুখতে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি বন বিভাগের ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ টিম ও বনকর্মীরা সুন্দরবনের গহীনে নিয়মিত টহল জোরদার রাখবে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া মেনে বন বিভাগ থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে জেলেদের বনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বনের ভেতরে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে জেলেদের সজাগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার কিংবা হরিণ শিকারের মতো অপরাধে কেউ জড়িত হলে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেধা ও সম্ভাবনাকে উৎসাহিত করতে সীতাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলহাজ গোলাম হোসেন স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা ৮০ জন শিক্ষার্থী এ বছর বৃত্তি পেয়েছে।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেএএম সংস্থার উদ্যোগে এ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে পরীক্ষা চলে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।
পরীক্ষা শেষে বিকালে একই বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় পরিচিতি পর্ব, শিক্ষা সেমিনার ও সুধী সমাবেশের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেএএম সংস্থার উপদেষ্টা, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘একটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বা বৃত্তি অর্জনই শিক্ষার্থীর সাফল্যের চূড়ান্ত পরিচয় নয়। মেধাকে জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতিতে প্রবীণ শিক্ষাবিদদের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর এস এম নছরুল কদির। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় পাস করা কিংবা ভালো ফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বিশ্বমানের শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জ্ঞান-অভিজ্ঞতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের তরুণরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পাবে।’
সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নজির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘অবসর গ্রহণের সঙ্গে একজন শিক্ষাবিদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অবসান ঘটে না।’
অনুষ্ঠানে সীতাকুণ্ডের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মাস্টার মোবারক হোসেনের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাক্তার কমল কদর, ছালে আহমদ সলু প্রমুখ।