সাভারের আশুলিয়ায় ইতিহাস পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে যাত্রীবেশে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে ইতিহাস পরিবহনের (ঢাকা মেট্টো- ব ১৫- ৩২৯৫) একটি বাস চন্দ্রা থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বাসটি নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় পৌছলে দৃর্বৃত্তরা যাত্রীবেশে বাসে উঠে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন বাসের আগুনের দ্রুত নিভিয়ে ফেললে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদরুজ জামান বলেন, পুড়ে যাওয়া বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাসে কেউ যাত্রীবেশে আগুন লাগিয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ ও প্রকৃতিরক্ষাসহ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) খুলনা বয়রাস্থ মেট্রো পুলিশ লাইন্স হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জে জে এস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অতিথিরা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বেশি করে বৃক্ষরোপণ এবং পরিচর্যা করতে হবে। সুন্দর পৃথিবী গড়তে আমাদের নগরায়ণের পাশাপাশি সবুজায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় নিজে সচেতন হতে হবে, অন্যকে সচেতন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।’ তারা আরও বলেন, ‘নেশা জাতীয় দ্রব্য মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য ক্ষতি তাই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জে জে এসের নির্বাহী পরিচালক মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা খাতুন, সমাজসেবক এমডি সহিদুল আলম, কাজী আমিনুল ইসলাম বাহার ও উজনের নির্বাহী পরিচালক
মনসুর আলম চৌধুরী। স্বাগত বক্তৃতা করেন মেট্রো পুলিশ লাইন্স হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক বৈদ্য নাথ দাশ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. শেখ অলিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বাগেরহাটে গোয়েন্দা পুলিশের টিম অভিযান চালিয়ে গরু চোরের সিন্ডিকেটের তিন সদস্যসহ উদ্ধার করেছে ১১ গরু। এ সময় চোরাই করা গরু বহনকারী পিকআপ জব্দ করা হয়। প্রথমে আটককৃত ২ চোরের তথ্যানুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার কাটেংগা গ্রাম থেকে এই চোরাই গরুর সরদার আরিফ মোল্লাকে আটক করা হয়।
এ সময় আটক আরিফ মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১১টি গরু ও ১টি পিকআপ। আটকৃতরা খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানায়।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার নাসের রিকাপদার এ দিন দুপুরে তার কার্যালয়ে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাগেরহাটে সাম্প্রতিক সময়ে গরু চোরের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এরপর পুলিশ নজরদারি করতে থাকে।
গরু চোরের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হলে তার দেওয়া তথ্য মতে খুলনার তেরোখাদার থেকে আরিফ মোল্লাকে ১১ গরুসহ আটক করা হয়।’ আটককৃতরা হলেন- বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার সুকুর শেখের ছেলে নাহিদ শেখ, ফকিরহাট উপজেলার আবু সাঈ শেশের ছেলে ইমরান শেখ ও খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার কাটেংগা গ্রামের ধুনা মোল্লার ছেলে আরিফ মোল্লা।
বরগুনার পাথরঘাটায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ১টি ড্রেজারসহ ৫ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বরগুনার পাথরঘাটা থানাধীন দুলাল ড্রকসংলগ্ন পাথরঘাটা খাল এলাকায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাথরঘাটা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ১টি ড্রেজারসহ ৫ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।’
জব্দকৃত ড্রেজার ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিআইডব্লিউটিএ বরগুনার নিকট হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বালুখেকোদের হাত থেকে নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি এবং বসত-ভিটে রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাসানপুরে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট সামছুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।
সভাপতির বক্তব্যে সামছুন নাহার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিয়মিত তদারকি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. আশরাফুজ্জামান, শাহানা পারভীন, শুভাশীষ দত্ত ও গোবিন্দ দাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. তহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা আব্দুল বারিক বিশ্বাস, অভিভাবক তরিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, ঝর্না দাম, রেশমা খাতুন, ইরা রানী, রত্না খাতুনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে বর্ণ দাম, দ্বিতীয় জিমিয়া খাতুন এবং তৃতীয় তাহসিন জামান সিয়াম। সপ্তম শ্রেণিতে প্রথম মোছা. মুসফিকা, দ্বিতীয় রিয়াদ হাসান এবং তৃতীয় জুয়েল রানা। অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম মো. রিফাত হোসেন, দ্বিতীয় বনলতা দাস এবং তৃতীয় মো. ফাইম হোসেন। নবম শ্রেণিতে প্রথম মাহামুদুল হাছান, দ্বিতীয় এসএম তামিম ইসলাম এবং তৃতীয় তানমিন আক্তার মিম। দশম শ্রেণিতে প্রথম মোহনা জামান, দ্বিতীয় অপূর্ব পাল এবং তৃতীয় শাওন রেজা।
সুনামগঞ্জে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল হকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বুড়িস্থল এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত ২৬ জুলাই বুড়িস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির পাঁচ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত সাইফুল হক প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের বাইরে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে অপরাধীকে আটক করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় সোপর্দ করে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ তারা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বুড়িস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যুৎ রঞ্জন দাশ। যুবদল নেতা আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শামসুদ্দিন, সহকারী শিক্ষক নাঈমা সুলতানা, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তিনটি গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের সোনারকান্দী, ভটেরকান্দী ও নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সবাইকে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) প্রতিরোধী টিকাও দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন সোনারকান্দী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, মো. লিটন, ফয়সাল, শিশু আব্দুল্লাহ, ভটেরকান্দী জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মিজানুর রহমান, মিনহাজুল ইসলাম, আব্দুল হাই, এক বৃদ্ধ নারী (অজ্ঞাত) এবং নয়াপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনসহ ১৫ জন।
এদিকে হঠাৎ করে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ওই তিন গ্রামের লোকজনের মধ্যে চরম শিয়াল আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে একের পর এক পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা মানুষকে কামড়ে দেয়। শিয়ালগুলো হঠাৎ করে বিভিন্ন বাড়ি ও সড়কে ঘুরে বেড়িয়ে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আক্রমণ করে। এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি শিয়াল এসে আমার পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি ঘটে। পরে স্বজনরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
আরেক আহত মো. লিটন বলেন, ‘শিয়ালগুলো খুবই হিংস্র ছিল। একজনকে কামড়ে দৌড়ে গিয়ে আবার অন্যজনের ওপর হামলা করছিল। সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। পরে স্থানীয়রা মিলে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।’
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব বলেন, ‘শিয়ালের কামড়ে আহত সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
কয়েকদিনের টানাবর্ষণ ও উজানের পানির চাপে নাটোরের গুরুদাসপুর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই ও নন্দকুজা নদীর পানি আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। এ পানি চলনবিলাঞ্চলে প্রবেশ করায় সেখানও পানি টইটুম্বুর। এতে চলনবিলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম ও মাছ ধরার প্রধান মাধ্যম ডিঙি নৌকার চাহিদা, তৈরি ও কেনা বেচায় ধুম পরেছে।
সরেজমিনে চলনবিলাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নৌকার মোকাম গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষাকে ঘিরে নৌকা তৈরির কারিগররা ব্যস্তসময় পার করছেন। ভৌগোলিক সুবিধা ও কাঠের সহজলভ্যতার কারণে হাটের দক্ষিনাংশে অন্তত ১৫ থেকে ১৮টি কারখানায় সারা দিন হাতুড়ি, লোহা, করাত ও প্লেনশিট কাটার মেশিনের শব্দে মুখরিত কর্ম এলাকা।
শিমুল, ইউক্যালিপটাস, মেহগিনি, কাঁঠাল, আম, বট ও নিমগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি নৌকাগুলো সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে সড়কের ধারে। ক্রেতারা এসে আকার, কাঠের মান ও কারিগরির ভিত্তিতে পছন্দের নৌকা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
জানগেছে, সপ্তাহের দুই দিন শনি ও মঙ্গলবারে এ হাটে বিক্রি হয় শত শত নৌকা। নৌকা কেনা বেচায় নিয়োজিত ব্যবসায়ী, মিস্ত্রি ও ক্রেতার হাকডাকে মুখরিত নৌকা হাটি। নৌকা ক্রয়ে সুফল পাচ্ছেন পানিবন্দি চলনবিলের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে কর্মহীন কৃষক ও জেলেদের মাছ ধরার প্রধান উপকরণ নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কারিগররা। অন্যদিকে মহাজনরা আগে থেকে প্রয়োজনীয় কাঠ সংগ্রহ করে বর্ষার অপেক্ষায় থাকে নৌকা বিক্রির পসড়া সাজিয়ে।
সাধারণ ডিঙি নৌকা ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায় এবং প্লেনসিটযুক্ত বিভিন্ন আকারের নৌকা ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারখানার মালিক ইয়ারুল, শামীম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মনিরুল, আমিরুর বলেন, কাঠ, লোহা, প্লেনশিটসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাভ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমের চাহিদা পূরণে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কারিগর আলাউদ্দীন,পরিতোষ, আব্দুল মজিদ ও মাসুদ মোল্লা জানান, গত বছর পানি কম থাকায় নৌকার বিক্রি ছিল অনেক কম। এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত নৌকা তৈরি করছেন তারা। নৌকা প্রতি মজুরি এক হাজার টাকা। এ হাটে শিমুল, আম, মেহগিনি, ইউক্যালিপটাস কাঠের নৌকার কদর বেশি।
পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া গ্রামের আক্কেল, তাড়াশ উপজেলার লালুয়া মাঝিরা গ্রামের মোতালেব হোসেন, গুরুদাসপুরের রুহাই গ্রামের হাসিনুর, চাটমোহর উপজেলার চরনবীন গ্রামের সাইদ জানান, তারা বিলপাড়ের কর্মজীবী মানুষ। বর্ষা মৌসুমে তাদের হাতে কাজ থাকে না। আবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়ত করতে হয় নৌকায়। মাছ ধরে বাড়তি আয় ও পারাপারের জন্যই তারা ডিঙি নৌকা কিনতে এসেছেন। তাদের অভিযোগ গত বছরে তুলনায় এবার নৌকার দাম বেশি।
ব্যবসায়ী শিবলু ফকির জানান, এবছর চলনবিলে আগাম পানি প্রবেশ করায় নৌকার চাহিদা বাড়ছে। সাধারণ মানের ১০-১২ হাত নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ১২-১৫ হাত নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। আর প্লেনশীটের তৈরি নৌকা ক্রয় করতে ক্রেতাদের গুনতে হবে বাড়তি আরও ৩ হাজার টাকা। প্রতিটি নৌকা ৫০০ টাকা লাভে তারা বিক্রি করছেন। গত বছরের তুলনায় শ্রমিক, কাঠ ও নৌকা তৈরির প্লেশিটের দাম কাড়তি। এ কারণে নৌকাও বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এ হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম নিঠু বলেন, চাঁচকৈড় হাটের নৌকার সুনাম চলনবিলজুড়ে। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটবারে গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি নৌকা বিক্রি হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন বাজারেও কমবেশি নৌকা বিক্রি হয়।
গুরুদাসপুর উপজেলা ফার্নিচার পট্টি মালিক সমিতির সভাপতি শামীম বলেন, ‘চাঁচকৈড় হাটের দক্ষ কারিগরদের তৈরি ডিঙি নৌকার সুনাম দির্ঘ দিনের। মঙ্গল ও শনি হাটবার ছাড়াও অন্যদিনগুলিতে চলনবিলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসেন ডিঙি নৌকা কিনতে। তুলনামূলক কম দামে মানসম্মত নৌকা কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি থাকেন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বোস নামক দীঘিটি দূষণের কবলে ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকার জনসাধারণের। শতবর্ষী দীঘিটি উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামে অবস্থিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ৩.১০ একরের উপরে অবস্থিত এই দীঘি সম্পূর্ণ কচুরিপানায় ভরে আছে। ভরা বর্ষা মৌসুমে দীঘিতে পানি নেই বললেই চলে। যেটুকু পানি আছে দেখতে কালো তৈল বর্ণ। না য়ায গোসল করা, না যায় হাত মুখ ধৌত করা। সরকারি দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে মসজিদ, গ্রাম্য বাজার, পানি শোধনাগার।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের জায়গায় অবস্থিত এই জলাশয় এখন মশা এবং বিষাক্ত সাপের বিচারণ স্থল।
স্থানীয় গাজী টি স্টোরের স্বত্বাধিকারী আইয়ুব গাজী বলেন, ‘এই জলাশয়ের পানি দিয়ে চা তৈরি করতাম। দূষিত হওয়ায় এখন করা সম্ভব হয় না।’
মতিয়ার সরদার বলেন, ‘আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ এখান থেকে রান্না করার কাজে পানি নিতে আসতো। এখন তারা জার (কেনা পানি) কিংবা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এজন্য একদিকে অর্থের অপচয় সেই সাথে অধিকাংশ টিউবওয়েলর পানিতে আর্সেনিক থাকায় স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষের দৈনন্দিন কাজে জলাশয়ের পানির প্রয়োজন অপরিহার্য।
স্থানীয় ১০৬ বছর বয়স রজব আলী গল্দার বলেন,‘পার্শ্ববর্তী খলিশখালী গ্রামের প্রভাবশালী জমিদার গোপাল বোস এলাকার সুপেয় পানি সংকট লাঘবের জন্য দীঘিটি খনন করেন। সেই থেকে জলাশয়টির নাম বোস দীঘি। ১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তি হলে পূর্ব বাংলা সরকার দীঘিটি সরকারি বলে ঘোষণা করে। এই সুদীর্ঘ সময়ে দীঘির কোন সংস্কার করা হয় নাই। ফলে ভরাট ও দূষণের কারণে আজ মৃত অবস্থা।
মাগুরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জি এম শাহীন আলম বলেন, ‘সস্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সরেজমিনে দীঘিটি পরিদর্শন করেন।’
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি সর্ম্পকে তিনি অবগত আছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দীঘিটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে কৃষক কার্ড হালনাগাদের লক্ষ্যে চলমান তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মামুনুর রহমান।
হালনাগাদ ডাটাবেজের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনা ও সরকারি সেবা প্রকৃত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কান্দি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে ১২৮০ কৃষক পরিবারের চলছে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) দিনব্যাপী মাচারতারা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন কৃষিবিদ ড. মামুনুর রহমান। পর্যবেক্ষণকালে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা ও এর সুফল সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দোলন চন্দ্র রায় এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কৃত্তিবাস পান্ডে।
জানা যায়, কান্দি ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত মাচারতারা, গজালিয়া, আমবাড়ী, হিজলবাড়ী, ভেন্নাবাড়ী, তালপুকুরিয়া ও বানারঝোড় গ্রামের মোট ১ হাজার ২৮০টি কৃষক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও কৃষক কার্ড হালনাগাদের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
ইতোমধ্যে ধারাবাশাইল ব্লকের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ওই ব্লকে ১ হাজার ৪০২ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জানা গেছে, সারা দেশে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকদের এই স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে শাল্লা উপজেলায়ও এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নগদ অর্থ, কৃষকদের ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, ন্যায্যমূল্যে সেচ, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়, আবহাওয়া বার্তা ও বাজারের তথ্য প্রাপ্তি, চাষকৃত ফসলের চিকিৎসাসহ এসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন স্মার্ট কৃষক কার্ডধারীরা।
নওগাঁর রাণীনগরে কাজের আগেই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে প্রাথমিকের ক্ষুদ্র মেরামত বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। টাকাগুলো উত্তোলনের পর শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে।
কাজ সম্পন্ন না করেই সম্প্রতি ২ জুন উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত ও সংস্কার কাজের দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দের মোট ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত কোন কোন বিদ্যালয়ে এখনো চলছে মেরামত সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজ। আর কোন কোন বিদ্যালয়ে তরিঘরি করে কাজ শেষ করা হয়েছে। এতে করে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে পিইডিপি-৪ এর আওতায় রাণীনগর উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত-সংস্কার কাজসহ মানোন্নয়নের জন্য দেড় লাখ টাকা করে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী- কাজ সম্পন্ন করে সরকারি কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু এই বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম উপজেলায় থাকাকালীন সময়ে ১০টি বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত-সংস্কার কাজসহ মানোন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া টাকা আগেই কাজ সম্পন্নের ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে উত্তোলন করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম অবসরে চলে যাওয়ার দিন গত ২ জুন উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকাগুলো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রেবেকা সুলতানা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।
জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন কোন বিদ্যালয়ে জুন মাসে কাজ শুরু করে তরিঘরি করে জুন মাসেই কাজ শেষ করা হয়েছে। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ে এখনো কাজ চলমান রয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, কাজের আগেই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা উত্তোলন করা স্বচ্ছতার অভাব ও অনিয়ম-দুর্নীতির শামিল।
জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা চন্দন কুমার প্রামানিক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা কাজ সম্পন্নের বিল ভাউচার জমা দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা শিক্ষা অফিসের শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। কাজ হয়েছে না হয়নি সেই জবাব শিক্ষা কর্মকর্তাই দেবে।
কাজের আগে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে অবসরে যাওয়া শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. রেবেকা সুলতানা বলেন, বরাদ্দের টাকাগুলো শিক্ষা অফিসের পিইডিপি-৪ এর অ্যাকাউন্টে রয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত যে বিদ্যালয় কাজ সম্পন্ন করেছে, তাদের কাজ দেখে বিল দেওয়া হয়েছে। আর যারা এখনো কাজ সম্পন্ন করেনি কাজ সম্পন্ন করলে তাদের বিল দেওয়া হবে।
মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত আইফোনসহ ৩৫টি হারানো মোবাইল ফোন এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম।
পুলিশ জানায়, ২০২৬ সালের জুন মাসসহ বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ৩৫টি মোবাইল ফোন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খাইরুল হাসান, পিপিএমসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ‘জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার, অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, ফেসবুকসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি, অনলাইন জুয়া দমন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।’
হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ও প্রতারণার অর্থ ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাইবার অপরাধ দমন এবং হারানো সম্পদ উদ্ধারে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাগুরা জেলা পুলিশ।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৯ জুলাই) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অর্থটি সরকারি তহবিলে জমা দেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) অধীনে সাটুরিয়া ও বালিয়াটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চন্দ্রখালী খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত কাজ শতভাগ সম্পন্ন করতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ টাকা। ফলে বরাদ্দের অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ টাকা। অবশিষ্ট ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১১ মে বিকালে গাজীখালী নদীসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। নির্ধারিত কাজ শেষ করে অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
”ক্লিন নড়াইল-ড্রিম নড়াইল”। এটি শহরের ময়লা-অবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রকল্পের একটি প্লাটফর্ম। এই প্রকল্পের দুগর্ন্ধে এলাকার মানুষ এখন বিরক্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্প সম্পন্ন করতে অন্যত্র সরিয়ে নিতে এলাকার মানুষ দাবি জানিয়েছেন। তারা ময়লা-আবর্জনা দুগন্ধ থেকে বাচতে চায়।
নড়াইল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে স্থাপিত নড়াইল পৌরসভা। ৮০ দশকে দ্বিতীয়শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হয়েছে। দেরিতে হলেও নড়াইল পৌর এলাকা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গড়ে তোলা হয় ‘ক্লিন নড়াইল, ড্রিম নড়াইল’ নামে একটি প্রকল্প। যার কাজ হলো শহরের প্রতিটি বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে একটি নির্দ্দিষ্ট স্থানে জমা করা। বি আই আর ডি (বোর্ড ফর ইন্টিগ্রেটেড রুলার ডেভেলপমেন্ট) নামে একটি বেসরকারি সংস্থাকে কাজটি করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা যৌথভাবে এ কাজ দেখভাল করার কথা।
নাগরিকদের প্রয়োজনের তাগিদে যে কথা সেই কাজ । ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকেই কাজ শুরু হয় । কাজের শুরুতে জেলা প্রশাসন নড়াইল-যশোর সড়কের নতুন বাস টার্মিনালের সামনের গর্তে ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। বি আই আর ডি, এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করে। ময়লা-আবর্জনা বহনের জন্য ১৩টি ভ্যানগাড়ি ব্যবহার করা হয়। টার্মিনালের সামনের গর্তে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে আশপাশের বাসিন্দাসহ টার্মিনালে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের রাত যাপনে দুর্বিসহ হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর তদারকিতে শহরের রাস্তা প্রশস্ত করণ কাজ শুরু হলে ওই গর্ত থেকে ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসন নড়াইল-যশোর সড়কের সীতারামপুর সেতুর পশ্চিম পাশ বেছে নিয়ে জমি অধিগ্রহণ করে সেখানেই ময়লা আবর্জনা ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ময়লার দুগর্ন্ধে সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দাদেরও একই অবস্থা শুরু হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে,নড়াইল-যশোর সড়কের সীতারামপুর এলাকায় পৌর ভাগাড় বানিয়ে সেখানে শহরের যত ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। গ্রামবাসির অভিযোগ সেতুর পশ্চিম পাশে ময়লা-আবর্জনা আর পূর্বপাশে শুকরের মলমূত্রের দুগর্ন্ধে কৃষি জমিতে কাজ করা যায় না। মাছের ঘেরে খাবার দিতে অসুবিধা হচ্ছে। কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনসহ খাল-বিলে মাছ মারা ও ধরা যায় না। তাদের দাবি ভাগাড় এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এলাকার মানুষকে মুক্ত বাতাসে বসবাস করার সুযোগ করে দিন।
সীতারামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন,যারা এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার অনুমতি দিয়েছেন তারা হয়তো সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখেননি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেমন করে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড় বানিয়ে দিলেন বোধগম্য হয় না । তিনি দাবি করেন,দ্রুত এখান থেকে ময়লার ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে এলাকার মানুষকে মুক্ত বাতাসে বসবাস করার সুযোগ করে দেবেন ।
মুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য অজিত কবিরাজ বলেন, এখানে ময়লার ভাগাড় করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি । নড়াইল-যশোর সড়কের সীতাররামপুর গ্রামের মাছের ঘের সংলগ্ন ভাগাড় বানিয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। যে কারণে এলাকাবাসীর বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন,ময়লার দুগর্ন্ধে এলাকার কৃষক ও মৎস্যচাষীদের কাজ করতে চরম অসুবিধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে । অন্য কোন ফাকা স্থান বেছে নিয়ে সেখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় নির্মাণে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
জানতে চাইলে নড়াইল পৌর প্রশাসক মো.নাজমুল হুদা বলেন এ বিষয়ে এলাকাবাসি অথবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কেউ কোন আবেদন করেনি। আবেদন পেলে বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। তাছাড়া অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে অন্যত্র ফাকা স্থান দেখে ভাগাড় নির্মাণে পরিকল্পনা করা হতে পারে।